Home Blog Page 493

গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিউইয়র্কের ব্যস্ততম এলাকাগুলো অনেকটাই ফাঁকা

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ইমিগ্রেশন ক্র্যাকডাউন শুরুর পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে নিউইয়র্কের কর্মব্যস্ত অনেক এলাকা অনেকটাই ফাঁকা হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নথিপত্রহীন অভিবাসীরা গা ঢাকা দিয়েছে। অনেকেই কাজে যাচ্ছেন না। ফলে নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারিতে কাজের লোকের অভাব দেখা দিয়েছে।
সাপ্তাহিক ছুটির দিন এবং প্রতিদিন বিকাল হলে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা কুইন্স, ব্রুকলিন ও ব্রঙ্কস বরোর বিভিন্ন এলাকায় ভিড় লেগেই থাকতো। কিন্তু ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পর এসব এলাকায় আড্ডা অনেকাংশে কমে গেছে। এমনকী এসব এলাকার ফুটপাতে বিভিন্ন দোকানপাট ছিল, তা আর দেখা যাচ্ছে না।
নিউইয়র্কের স্প্যানিশ অধ্যুষিত জ্যাকসন হাইটস ও রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ এলাকায় সাইডওয়ার্ক দিয়ে হাঁটা যেত না। ফুটপাত ছিল অবৈধ ববসায়ীদের দখলে। পুরো এলাকা লোকে লোকারণ্য থাকতো। কিন্তু গত দুদিন ধরে এসব এলাকা এক প্রকার ফাঁকা। এই এলাকার দোকানপাটগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ছে না।
রুজভেল্ট অ্যাভিনিউ এবং ৮২ স্ট্রিটের একজন ব্যবসায়ী জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে তার দোকানে বেচাকেনা একেবারেই কমে গেছে। সবার ভেতর এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জ্যাকসন হাইটসে একটি রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার জানান, তাদের রেস্টুরেন্টে কর্মীরা গত এক সপ্তাহ ধরে কাজে আসছে না। কেউ ফোনও ধরছে না। তিনি বলেন, এখন লোকের অভাবে রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
নাম না প্রকাশের শর্তে ব্রঙ্কসের বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টের কর্ণধার বাপসনিউজকে বলেন, তার রেস্টুরেন্টের অধিকাংশ কর্মী বাংলাদেশি স্টুডেন্ট। কিন্তু ধরপাকড়ের খবরে তারা আতঙ্কিত হয়ে আর কাজে আসছেন না। ফলে তিনি অনেকটা বেকায়দায় পড়েছেন।
জ্যামাইকায় বাংলাদেশি মালিকানাধীন একটি গ্রোসারি মালিক এ প্রতিবেদককে জানান, তাদের গ্রোসারিতে ভারী কাজের জন্য স্প্যানিশরা ছিল। কিন্তু ধরপাকড়ের ভয়ে তারা অনুপস্থিত। এ কারণে নিজেই কাজ করছেন।
একটি সূত্র জানায়, গত তিন-চার বছরে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন, যাদের বেশিরভাগেরই ছাত্রত্ব নেই। তারা স্বল্প বেতনে বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট ও গ্রোসারিতে কাজ করতেন। কিন্তু গ্রেপ্তার আতঙ্কে তারা নিরাপদে থাকার চেষ্টা করছেন।
এদিকে নিউইয়র্ক স্যাঙ্কুয়ারি সিটি হলেও অবৈধ অভিবাসী ধরপাকড় বন্ধ নেই। গত তিন দিনে বিপুলসংখ্যক মানুষকে সিটির বিভিন্ন বরো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
২৮ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকালে নিউইয়র্ক সিটিতে অভিযান পরিচালনার সময় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোম উপস্থিত ছিলেন। শনিবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটির প্রধান হিসেবে নিশ্চিত হওয়ার পর নোম মঙ্গলবার একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। সেখানে দেখা যায় এজেন্টরা নিউইয়র্ক সিটির একটি অজানা স্থানে একজন ব্যক্তিকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
নোম তার পোস্টে লেখেন, ‘নিউইয়র্ক সিটিতে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ (আইসিই) অভিযান শুরু করেছেন। অপহরণ, হামলা এবং চুরির অভিযোগ থাকা এক অপরাধী বিদেশিকে আটক করা হয়েছে। ধন্যবাদ আইসিই। এ ধরনের অপরাধীদের রাস্তায় আর থাকতে দেওয়া হবে না।’
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) নিউইয়র্ক ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, তারা নিউইয়র্কের এফবিআই অফিস এবং অন্যান্য ফেডারেল সংস্থার সাথে একত্রে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন বাস্তবায়ন এবং অপরাধী বিদেশিদের সম্প্রদায় থেকে সরিয়ে জননিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায়’ উন্নত লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান শুরু করেছে।
ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (ডিইএ) সামাজিক মাধ্যমে অভিযানের একটি ছবি শেয়ার করেছে এবং জানিয়েছে যে অভিযানের ফলে অপহরণ, হামলা এবং চুরির অভিযোগে একজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।আইসিই প্রতিদিন তাদের গ্রেপ্তার সংখ্যার আপডেট শেয়ার করছে। সোমবার আইসিই ১ হাজার ১৭৯টি গ্রেপ্তার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
নোমের নিউইয়র্ক সিটিতে উপস্থিতি এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের কয়েকদিনের মধ্যেই হলো। এজেন্সিটি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং গণপ্রত্যাবাসনের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে।
গত সপ্তাহে অফিস গ্রহণের পর থেকে, ট্রাম্প অভিবাসন নিয়ে একাধিক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: শরণার্থী ভর্তি প্রোগ্রাম বন্ধ করা, জন্মগত নাগরিকত্বের সমাপ্তি এবং কিছু কার্টেলকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মনোনীত করা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর প্রয়ানে প্রবাসীদের শোক

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর উকিলপাড়া নিবাসী,সবার পরিচিত ঘনিষ্টজন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সাবেক সহ সভাপতি ও নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা ,আমেরিকায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশী নাগরিকদের অন্যতম ভরসাস্থল ও নিবেদিত সমাজসেবী নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী (৭৪)এর পরলোক গমন করেছেন গত শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল আড়াইটায় আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,১ পুত্র ও ১ কন্যাসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী আত্মীয় স্বজন রেখে গেছেন। খবরে বাপসনিউজ ।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) বাদ যোহর নিউইয়র্কের জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার প্রাঙ্গনে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নিউইয়র্কের একটি স্থানীয় কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয় বলে বাপসনিউজকে নিশ্চিত করেছেন তাঁর ছোট ভাই যুক্তরাজ্যস্থ প্রবাসী সাংবাদিক ইমানুজ্জামান চৌধুরী মহী।

পারিবারিক সূত্র জানায়,দীর্ঘদিন যাবৎ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত অবস্থায় গত ৪ জানুয়ারি শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডস্থ গুড সামারিটান ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি এক সপ্তাহ যাবৎ লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। এর আগে একাধারে দু’বার তার হৃদন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হবার উপক্রম হওয়ার পাশাপাশি তিনি ব্রেইনষ্ট্রোকেও আক্রান্ত হন।

নুরুজ্জামান চৌধূরী শাহী জীবদ্ধশায় মুক্তিযুদ্ধে বালাট সাবসেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা,স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি,পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও নিউইয়র্ক সিটি আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তবে ১৯৯৬ সাল থেকে ২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত তিনি ও তার পরিবারবর্গ এবং আত্মীয় স্বজনরা স্বদেশে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ন্যূনতম সুযোগ সুবিধা ভোগ করেননি। ভোগবাদের বিরুদ্ধে ত্যাগের রাজনীতিতে দেশে ও বিদেশে তিনি ছিলেন একজন মডেল ব্যক্তিত্ব।

উল্লেখ্য সুনামগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের সুরমা ৪ নং জামান হাউজের স্থায়ী বাসিন্দা নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহী ১৯৫১ সালের ৩রা মার্চ জন্মগ্রহন করেন। সুনামগঞ্জের প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ রাজগোবিন্দ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণি পাশ করে সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। পরে সুনামগঞ্জের সরকারী জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে বিএ ক্লাসে অধ্যয়নকালে তিনি মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। এ সময় তার সম্পাদনায় ও প্রকাশনায় বুলেটিন নামে একটি পত্রিকা প্রকাশিত হয়। দেশ স্বাধীনের পর তিনি সুনামগঞ্জ মহকুমা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন। একাধারে ২ বার মহকুমা ছাত্রলীগের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধবিধবস্ত সুনামগঞ্জ পূণর্গঠনে আপন মামা সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদ আবদুল হাইয়ের নেতৃত্বে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন। ৭৫ এর পটপরিবর্তনের সময় ও সামরিক আমলে তিনি দীর্ঘদিন সিলেটে কারাবরন করেন। ১৯৭৮ সালের আগস্ট মাসে তিনি প্রথমে নেদারল্যান্ডে পরে পশ্চিম জার্মানে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন। ১৯৮৩ সালে জার্মান থেকে আমেরিকায় পাড়ি জমান। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরেই তাঁর জীবনের বাকী সময় অতিবাহিত হয়। রাজনীতির পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতেও তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তিনি সর্বপ্রথম ঢাকা থেকে রাজনীতিবিদ মাহমুদ আলী সম্পাদিত সাপ্তাহিক নওবেলাল ও দৈনিক পূর্ব পাকিস্তান পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে জাতীয় দৈনিক পূর্বদেশ ও সাপ্তাহিক পদক্ষেপ পত্রিকার সাথে জড়িত ছিলেন। তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া সম্পাদিত দৈনিক ইত্তেফাক,শেখ ফজলুল হক মনির সম্পাদিত বাংলার বাণী ও কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরী সম্পাদিত জয়বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় অবদান রাখেন। একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে হিসেবে তিনি তাঁর মামার প্রতিষ্ঠিত সুনামগঞ্জ মহকুমা আর্টস কাউন্সিলের প্রতিটি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে বলিষ্ট সংগঠকের ভূমিকা পালন করেন।

তাঁর কন্যা ফেরদৌসী জামান সুমী বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটি অফিসের সিনিয়র আইনজীবী ও পুত্র আশফাকুজ্জামান চৌধুরী সোহান আমেরিকার নবম বৃহত্তর লো-ফার্ম “ভি লুইস ব্রিসভয়েস”এ কর্মরত আছেন।

আমেরিকার প্রবাসী সুনামগঞ্জীদের অন্যতম ভরসাস্থল নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর মৃত্যুতে বিদেশের পাশাপাশি সুনামগঞ্জ শহরেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুধীজনের বক্তব্য এ শুন্যতা পূরণ হবার নয়। তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনাসহ শোকাহত পরিবার পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন সারা সুনামগঞ্জবাসী।

পৃথক পৃথক বিবৃতিতে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ শেরগুল আহমেদ,সাধারণ সম্পাদক মাছূম হেলাল, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার সাধারণ সম্পাদক হাসান চৌধুরী,রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান পীর ও সাধারণ সম্পাদক এমরানুল হক চৌধুরীসহ সুনামগঞ্জের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের কর্মকর্তাবৃন্দ,সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবের আজীবন সদস্য নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর মৃত্যুতে সুগভীর শোকপ্রকাশ ও তাঁর শোকাহত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পক্ষ থেকে নুরুজ্জামান চৌধুরী শাহীর প্রয়ানে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন এক যৌথ বিবৃতিতে প্রবাসী নেতৃবৃন্দের মাঝে
ড.নুরান নবী,এম এ সালাম,ড.প্রদীপ রন্ধন কর,হাজী শফিকুল আলম,ড.বামন দাস বসু,সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন,রমেস চন্দ‍্য নাথ,এম ফজলুর রহমান,আখতার হোসেন, সৈয়দ বসারত আলী, মাহবুবুর রহমান, ডা. মোহাম্মদ আলী মানিক ,নিজাম চৌধুরী,আইরিন পারভীন,মাহবুবুর রহমান মিলন,ওসমান গনি,বিশ্বজিত সাহা,সুহাস বড়ুয়া হাসু,সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ,দেওয়ান বজলুর রহমান, এ্যাডভোকেট শাহ মো: বখতিয়ার আলী, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, জালাল উদ্দিন রুমী, জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী, ড. আরেফ চৌধুরী রুবেল, ইসলাম উদ্দিন পংকি,নুরুল ইসলাম বাংগালি,আবদুস শহিদ নান্নু,নূর আলম চৌধুরী, শিরিন আক্তার দীবা, মুজাহিদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান টুকু,এম এ করিম জাহাঙ্গীর, ফরিদ আলম,শহীদ হাসান, ডা. আব্দুল বাতেন, মহিউদ্দিন দেওয়ান, আব্দুল হাসিব মামুন, আব্দুর রহিম বাদশাহ, চন্দন দত্ত, মিসবাহ আহমমেদ,এ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান মামুন, জাকারিয়া চৌধুরী,কাজী কয়েস আহমেদ, আবুল মনসুর খাঁন, ডেনী চৌধুরী, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, ওহিদুর রহমান মুক্তা,শরাফ সরকার, মুজিবুল মাওলা, মোস্তফা কামাল পাশা,আজিজুর রহমান সাবু, আসাফ মাসূক,আতাউল গণি আসাদ, আলী হোসেন গজনবী, সামসূল আবেদীন,আকতার আহমেদ চৌধুরী,কামাল উদ্দিন,আমীনূল ইসলাম কলিন্স, রেজাউল করিম চৌধুরী, নূর নবী চৌধুরী, শাহান চৌধুরী,হারুন আহমেদ, রফিকুল ইসলাম পাটোয়ারী,আলাউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মীর নিজামুল হক,মইনুল হোসেন,নূরুল আফসার সেন্টু, নুরুল আমিন কোতোয়াল,নূরে আলম চৌধুরী,শামীমা তরফদার সূইটি, খোরশেদ খন্দকার,গাজী মো: আলী লিটু, আজহারুল ইসলাম লিটন, ইকবাল কবির, আব্দুল হামিদ,মোহাম্মদ মহসিন রিপন, রফিকুল ইসলাম খাঁজা, “
কায়কোবাদ খাঁন, সূজন আহমেদ সাজু,এম আনোয়ার, হোসেন সোহেল রানা, কাজী আজিজুল হক খোকন, জুয়েল আহমেদ, এম এ আলম বিপ্লব,মো: তৌহিদ রুহেল চৌধুরী,আবুল কাশেম, টিটু রহমান, আনোয়ার হোসেন,কবি এবিএম সালেহঊদদীন মো:নাসির, বীর মুক্তিযোধা আব্দুল মুকিত চেীধুরী ,বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ,বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আকবার রিচি,বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমাইল খান আনসারি,বীর মুক্তিযোদ্ধা খুরশিদ আনোয়ার বাবলু , বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসাইন, মুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ম মিজানুর রহমান চৌধুরী বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা জুয়েল মোহাম্মদ জামাল , বীর মুক্তিযোদ্ধা মুন্সি বশির উদ্দিন ,আক্তার হোসেন, জামাল হোসেন, শাহিদুল ইসলাম,ইলিয়ার রহমান,সুবল দেবনাথ, বীর মুক্তিযোদ্ধা জালালউদ্দিন জলিল, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাকির হোসেন হিরু ভূইয়া,আশরাফ উদ্দিন , মোল্লা মাসুদ, ইঞ্জি:মিজানুল হাসান, দেলোয়ার মোল্লা, টি মোল্লা, উৎফত মোল্লা, জেসমিন আক্তার কহিনুর,আয়েশা আক্তার রুবি,আব্দুল মোসাবির,দেওয়ান সাহেদ চৌধুরী,নুরে আলম জিকু,হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন,সিবুল মিয়া, নাদের আলী মাষ্টার,রহিমুজ্জামান সুমন, রিণ্টু লাল দাস, ফরিদা আরভি, আতাউর রহমান তালুকদার, হেলেমউদ্দিন, ইফজাল চৌধূরী, জামাল বস্ক, আলীমউদ্দিন, শারমিন তালুকদার, রাহিমুল হুদা, রুমানা আখতার ,ইঞ্জি: হাসান,মনজুর চৌধূরী,শেখ জামাল হোসেন, মো:মাঈনুদ্দিন, মিজানুর চৌধূর,হুমায়ন আহমেদ চৌধুরী,আরিফুর রহমান আরিফ,ফজলুল কদের চৌধুরী আদর, কামাল হোসেন মিঠু,দেলওয়ার মানিক,জাহাংগীর কবির,গোলাম ফারুক,তারেকুল হায়দার চৌধুরী,মোঃনাজের,নাজিম উদ্দিন,নবী চৌধুরী,শাহজাহান চৌধুরী,এরশাদ ওয়ারেস,মোঃফুরকান.মাসুদ সিরাজী,মহিউদ্দিন খোকন,ইয়াসমিন ফাত্তাহ ঝরনা ও রুমো চৌধুরী প্রমুখ সহসপ্রবাসের বিভিন্ন শ্রেণীপেশার গন মানুষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের ফ্যাশন হাউস ‘সিগনেচার কালেকশন’-এর প্রথম শাখা উদ্বোধন

হাকিকুল ইসলাম খোকনঃ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের খ্যাতনামা ফ্যাশন হাউস “সিগনেচার কালেকশন” যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে গত রবিবার এই প্রথম শাখা খুলেছে l এটি বাংলাদেশের বাইরে তাদের প্রথম আউটলেট Iখবর বাপসনিউজ ।

বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে একটি জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৯০-০৩,ম‍্যরিক বুলবাড ,জ্যামাইকা-এ অবস্থিত আউটলেটটি সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এর যাত্রা শুরু করে। “সিগনেচার কালেকশন” এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও মিজ ফারজানা ইসলাম রুমকি কেক কেটে উদযাপনের সূচনা করেন।

উদ্বোধনী দিনে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক মনোরমভাবে সজ্জিত এই শাখায় ভিড় জমান এবং আকর্ষণীয় ছাড়ের সুবিধা নিয়ে বিভিন্ন ধরণের দেশী-বিদেশী পোশাক, মূলত: সালোয়ার-কামিজ এবং শাড়ি, ক্রয় করেন। এই ছাড় আরও ছয় দিন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন “সিগনেচার কালেকশন”-এর সিইও রুমকি।

7e5574ae 6c63 4517 8f19 d3cfa45b2cd6

২০১৭ সালে বাংলাদেশে “সিগনেচার কালেকশন” আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শুরুর পর দেশে এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি আউটলেট খুলেছে l এর চারটি ঢাকায় এবং একটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

সিগনেচার কালেকশনে’র সিইও রুমকি বলেন, বিদেশের মাটিতে প্রথম আউটলেট খুলতে পেরে আমরা খুবই গর্বিত ও আনন্দিত। তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, বিশেষ করে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত নিউইয়র্কে, এবং বাংলাদেশি পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে তারা এই শাখা খুলেছেন।রুমকি জানান, এর আগে তারা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে তাদের পণ্য নিয়ে মেলার আয়োজন করেন এবং এসব মেলা থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। তিনি তাদের এই উদ্যোগকে সফল করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিকট আন্তরিক সহযোগিতা ও দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

রুমকি বলেন বাংলাদেশি অধ্যুষিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরগুলির পাশাপাশি অন্যান্য দেশে তাদের আউটলেট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে l তিনি আরও বলেন দেশে এবং বিদেশে তাদের ৮.৫০ লাখ অনলাইন ফলোয়ার রয়েছেন, যারা প্রতিনিয়ত আমাদের উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছেন l

বৈষম্যহীন দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না : শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল হিসেবে উল্লেখ করে দলটির আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বৈষম্যহীন, মানবিক, দুর্নীতি দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না পর্যন্ত আমরা থামব না।’

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে তিনটায় চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের টাউন মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াত আমির বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মজলুম দল। সাড়ে ১৫ বছর জামায়াতের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দেয়া হয়েছে, হাজার নেতাকর্মীকে খুন করা হয়েছে। ক্রসফায়ারের নামেও হত্যা করা হয়েছে। হাট-ঘাট, মসজিদ-মাদরাসা, এমনকি মন্দিরেও লুটপাট চালিয়েছে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা। কিন্তু ৫ আগস্ট ছাত্রজনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা পালিয়ে গেছে। দুর্নীতিবাজ সবাই পালিয়েছে। তাই বৈষম্যহীন, মানবিক, দুর্নীতি দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না পর্যন্ত আমরা থামবো না। অর্থাৎ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থামবে না।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে প্রতি ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে তারা দেশের জ্ঞানী, শিক্ষিত, মার্জিত ও অভিজ্ঞ মানুষদের হত্যা করেছে। হাজারো মানুষকে নির্যাতন করেছে। তারা শত শত মানুষকে গুম করেছে, খুন করেছে। মানুষের ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে। তারা দেশের সম্পদও লুট করেছে। তারা উন্নয়নের বুলি শুনিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘পর পর তিন তিনটি নির্বাচনে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। জুলাই-আগস্টে আমাদের সন্তানেরা বিপ্লব ঘটিয়ে ২৪-এ স্বাধীনতা এনেছেন। ফলে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। দেশের মানুষের সামনে দাঁড়ানোর মতো সৎসাহস শেখ হাসিনার ছিল না। যে কারণে তিনিসহ তার দোসররা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। যারা আমাদের সন্তানদের ওপর গুলি চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছিল জনগণ তাদেরকে একদফা দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে।’

ছাত্র-জনতার অবদানকে স্মরণ করে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে এই জাতি দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দেবে, ইনশাআল্লাহ। তরুণ-যুব সমাজ চাঁদাবাজমুক্ত, দখলবাজমুক্ত ও পেশীশক্তিমুক্ত নতুন দেশ চায়। আমরাও সাম্যের বাংলাদেশ চাই। এই প্রজন্ম বুকের রক্ত দিয়ে নতুন স্বাধীনতা এনে দিয়েছে। প্রয়োজনে আমরাও রক্ত দিয়ে হলেও এই স্বাধীনতা ধরে রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

এ সময় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমরা কারো টাকার কাছে নিজেদের ভোট বিক্রি করব না। ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচনকেন্দ্রিক সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে। আগামী নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ। কালোটাকা ও পেশীশক্তির কাছে আমরা মাথানত করব না। যারা কালোটাকা দিয়ে ভোটের মাঠে আসবে, তাদেরকে ‘না’ বলে দিতে হবে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ‘বিগত সাড়ে ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা ২৬ লাখ কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে। এসব টাকা জাল ফেলে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বের করে দেশে ফেরত আনতে হবে। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের খুঁজে খুঁজে এনে ওই কাশিমপুর জেলে পাঠাতে হবে। তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

সভাপতির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন বলেন, ‘মানুষের মৌলিক চাহিদা কিভাবে পূরণ করা যায় সেটা জাতির সামনে কিভাবে পেশ করা যায় তারই এক মাইলফলক হয়ে থাকবে জেলা জামায়াতের আজকের সম্মেলন। মানবতার কল্যাণে জামায়াত কাজ করবে এবং করে আসছে। মানুষের ভোটাধিকার ও স্বাধীনতা, ভাতের অধিকার, সার্বভৌমত্ব অধিকার ফেরানোর জন্য কাজ করছে।’

চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো: জাহিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের অন্যতম সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসেন, যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য খন্দকার আলী মোহসিন, যশোর জেলা শাখার আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল, ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম, কুষ্টিয়া জেলা আমির মাওলানা অধ্যাপক আবুল হাশেম, মেহেরপুর জেলা আমির মাওলানা তাজ উদ্দীন খাঁন, চুয়াডাঙ্গা জেল জামায়াতের সাবেক আমির আনোয়ারুল হক মালিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, জেলা জামায়াতের জয়েন্ট সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল প্রমুখ।

কর্মী সম্মেলনটি পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান।

উল্লেখ্য, বিগত ২০ বছরে চুয়াডাঙ্গাতে কর্মী সম্মেলন হয়নি। চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সকল কর্মপরিষদের সদস্যরা, জেলার পাঁচটি থানার অধিনে সাংগঠনিক আটজন জামায়াতের থানা আমির, স্থানীয় জামায়াত নেতারাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী এ কর্মী সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ ২৫০০ জনের সাজা মওকুফ করলেন বাইডেন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শুক্রবার অ-হিংসাত্মক মাদক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজা ভোগ করছেন এমন প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনের সাজা মওকুফ করেছেন। হোয়াইট হাউস একে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক ক্ষমা প্রদানের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, বাইডেন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, যাদের সাজা মওকুফ করা হয়েছে, তারা বর্তমানে যে শাস্তি পেতেন তার তুলনায় ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ সাজা’ ভোগ করছিলেন।

তিনি এ পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক ভুল সংশোধনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, শাস্তির বৈষম্য সংশোধন এবং যোগ্য ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ প্রদানের জন্য একটি উদ্যোগ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

বাইডেন বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমি এখন পর্যন্ত মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ব্যক্তিগত ক্ষমা ও সাজা মওকুফ প্রদান করেছি।’ এছাড়া তিনি নব-নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে আরো কিছু ক্ষমা বা সাজা মওকুফের ইঙ্গিত দেন।

বাইডেন গত মাসেও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনের সাজা মওকুফ করেন এবং ৩৯ জনকে ক্ষমা করেন।

ডিসেম্বরে ক্ষমাপ্রাপ্তদের মধ্যে ছিলেন বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন, যিনি অস্ত্র ও কর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য কারাদণ্ডের মুখোমুখি ছিলেন।

বাইডেন একইসাথে কিছু সহযোগী এবং সাবেক কর্মকর্তাদের জন্য সার্বিক ক্ষমা প্রদানের বিষয়ে বিতর্ক করছেন বলে জানা গেছে, কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্ভাব্য ‘প্রতিশোধমূলক’ উদ্যোগের কারণে তারা লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।

ডিসেম্বরে, বাইডেন ফেডারাল ডেথ রো-তে থাকা ৪০ জন বন্দীর মধ্যে ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ডও মওকুফ করেন।

তিনজন এই সিদ্ধান্তের বাইরে ছিলেন : ২০১৩ সালের বোস্টন ম্যারাথন বোমা হামলাকারীদের একজন, ২০১৮ সালে ১১ জন ইহুদি উপাসককে হত্যাকারী বন্দুকধারী ও ২০১৫ সালে ৯ জন কৃষ্ণাঙ্গ চার্চগামীকে হত্যাকারী এক শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী।

ট্রাম্প ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে তিনি ক্ষমতা গ্রহণের পর ফেডারেল মৃত্যুদণ্ড পুনরায় কার্যকর করবেন, যা বাইডেনের শাসনামলে স্থগিত ছিল।
সূত্র : এএফপি

দুর্নীতির মামলায় ইমরান খানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড

পাকিস্তানের একটি আদালত শুক্রবার দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে দেশটির কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী সাবেক তারকা ক্রিকেটার ইমরান খানকে ১৪ বছর দিয়েছে। একইসাথে তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে দিয়েছে সাত বছরের কারাদণ্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের বার্তাসংস্থা এপি নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ইমরান খান ক্ষমতায় থাকাকালীন পাচার করা অর্থের বিনিময়ে একজন রিয়েল এস্টেট টাইকুনের কাছ থেকে জমি উপহার হিসেবে গ্রহণ করেন।

প্রসিকিউটররা জানান, ইমরান খান ব্যবসায়ী মালিক রিয়াজকে ১৯০ মিলিয়ন ব্রিটিশ পাউন্ড (২৪০ মিলিয়ন ডলার) পাচারকৃত অর্থ থেকে অন্য একটি মামলায় জরিমানা পরিশোধের অনুমতি দিয়েছিলেন, যা ২০২২ সালে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানে ফেরত দিয়ে জাতীয় কোষাগারে জমা দেয়।

তবে ইমরান খান তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি ২০২৩ সালে গ্রেফতারের পর থেকে জোর দিয়ে বলে আসছেন যে এসব অভিযোগ তাকে ক্ষমতায় ফিরে আসতে বাধা দেয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীদের একটি ষড়যন্ত্র।

২০২২ সালের এপ্রিলে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এর আগে তিনি তিনটি পৃথক রায়ে দুর্নীতি, সরকারি গোপনীয় তথ্য প্রকাশ এবং বিবাহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন এবং যথাক্রমে ১০, ১৪ এবং সাত বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
সূত্র : এপি নিউজ

হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে ভারতের উদ্বেগ

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান সম্প্রতি বৈঠক করেছেন।

এটি ছিল লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের পাকিস্তানের রাজধানী সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। এ সময় তিনি পাকিস্তানের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তার সাথেও সাক্ষাৎ করেন।

মঙ্গলবার জেনারেল আসিম মুনির ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের এই বৈঠক সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা উভয় দেশকে ‘ভ্রাতৃপ্রতীম জাতি’ হিসেবে বর্ণনা করে।

পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ আলাদা হওয়ার পর গত ৫৪ বছরের বেশিরভাগ সময় ধরে ঢাকা ও ইসলামাবাদ তাদের সম্পর্ককে এভাবে দেখেনি।

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনামলে দু’দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরো গভীর হয়। গণবিক্ষোভের পর আগস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

কিন্তু হাসিনার বিদায়ের পর থেকে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ একে অপরের আরো ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দৃশ্যত তা এমন এক সময়, যখন উভয় দেশের রাজনীতিতে ভারত-বিরোধী মনোভাব বিরাজ করছে, যা ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে ঐতিহাসিক শত্রুতাকে ছাপিয়ে গেছে।

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী জানায়, আসিম মুনির এবং এস এম কামরুল হাসান সামরিক সম্পর্ক জোরদার করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন এবং এই অংশীদারিত্বকে যেকোনো বহিরাগত বাধা থেকে মুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাদের বৈঠকটি ছিল দু’দেশের মধ্যে উচ্চ-স্তরের বিনিময়ের ধারাবাহিকতার একটি।

গত মাসে মিসরের রাজধানী কায়রোতে এক আন্তর্জাতিক শীর্ষ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে দেখা করেন। সেপ্টেম্বরে জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদেও তারা দেখা করেছিলেন।

এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী মাসে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১২ সালের পর এটিই প্রথম এ ধরনের সফর। বিশ্লেষকরা বলছেন যে এতে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তন হতে পারে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ১৯৭৪ সালে ভারতের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় পাকিস্তান বাংলাদেশের স্বাধীনতা গ্রহণ করে। তবে ইসলামাবাদ এবং ঢাকার মধ্যে অমীমাংসিত সমস্যাগুলো রয়েই যায়। এর মধ্যে ছিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান যুদ্ধে পাকিস্তানের নৃশংসতার জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া, বাংলাদেশ থেকে উর্দুভাষী মানুষদের প্রত্যাবাসন করা, যারা পাকিস্তানি হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেয় এবং ১৯৭১ সালের আগের সম্পদের দু’দেশের মধ্যে ভাগাভাগি চায়।

শেহবাজ শরিফের সাথে কায়রোতে সাক্ষাতের সময় মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানকে দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা অনুসারে, মুহাম্মদ ইউনূস পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, ‘বিষয়গুলো বারবার উঠে এসেছে। আসুন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো চিরতরে সমাধান করি।’

শেহবাজ শরিফ উত্তরে বলেন যে তিনি ‘অমীমাংসিত বিষয়গুলো’ খতিয়ে দেখবেন।

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ কুরেশি আল জাজিরাকে জানান, হাসিনার ‘স্বৈরাচারী’ সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির দীর্ঘ সমর্থনের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েন ঢাকার নতুন প্রশাসনকে তাদের পদক্ষেপ পুনর্বিবেচনা করতে প্ররোচিত করেছে।

গত মাসে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ‘বিচারিক প্রক্রিয়ার’ জন্য নয়াদিল্লির কাছে হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানায়। হাসিনার বিরুদ্ধে তার শাসনামলে একাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে, যার মধ্যে তার ক্ষমতাচ্যুতির আগের সপ্তাহগুলোতে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়নের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ভারত সরকার এখনো এই অনুরোধের কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

অন্যদিকে, ভারত বারবার বাংলাদেশের হিন্দুদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, যারা বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৮ শতাংশ এবং আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সমর্থক। নয়াদিল্লি অভিযোগ করেছে যে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।

তবে বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা বলেছে যে ভারতীয় গণমাধ্যমের মিথ্যা তথ্য দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে।

আশরাফ কুরেশি জানান, ভারত হাসিনাকে নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত। তিনি বলেন, ‘ভারত হাসিনাকে সহজে হস্তান্তর করতে পারে না। কারণ এটি এই বার্তা যাবে যে ভারত তাদের সমর্থনকারী যে কাউকে ত্যাগ করতে সম্মত হতে পারে।’

তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার ওয়াল্টার ল্যাডভিগ পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক বিনিময়ের তাৎপর্যকে অতিরঞ্জিত করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

উভয়েই একমত যে বাংলাদেশের ভৌগোলিক এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভারত-বিরোধী অবস্থানকে অসম্ভব করে তোলে, যদিও আরো স্বাধীন নীতির দিকে পরিবর্তন আসতে পারে। আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতি পুনর্গঠনের জন্য উল্লেখযোগ্য নীতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নতুনভাবে সাজানোর প্রক্রিয়ার মধ্যেই পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। এর পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আফগানিস্তানের তালেবান শাসকদের সাথে ভারতের উল্লেখযোগ্য যোগাযোগও ঘটেছে।

সম্প্রতি তালেবানের সাথে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক পাকিস্তানকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। পাকিস্তান কয়েক দশক ধরে তালেবানকে পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করার সময় এর নেতাদের আশ্রয় দিয়ে আসছে।

কিন্তু গত বছর পাকিস্তানে হামলার পর তালেবানের ওপর ইসলামাবাদের প্রভাব মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানকে (টিটিপি), যা পাকিস্তানি তালেবান নামেও পরিচিত, এর জন্য দায়ী করে।

লাডউইগ মনে করেন যে গণঅভ্যুত্থানের ফলে সাময়িকভাবে হোঁচট খেলেও বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে তা ইসলামাবাদকে আরো ভালো সম্পর্কের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের যত বেশি অর্থনৈতিক অংশীদার থাকবে, ততই তাদের জন্য মঙ্গলজনক। এটা ইসলামাবাদের জন্য সম্পর্ক উন্নত করার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।’

ল্যাডউইগ বিশ্বাস করেন যে বাণিজ্য এমন একটি ক্ষেত্র যেখানে আগামী দিনে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় পাকিস্তান সরকার একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে এবং সম্পর্ক উন্নত করার সম্ভাবনা অনুভব করছে।’

সূত্র : আল-জাজিরা

সানার সঙ্গে বিবাহবার্ষিকী পালন করলেন শোয়েব মালিক

পাকিস্তানি অভিনেত্রী সানা জাভেদের সঙ্গে ২০২৪ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন শোয়েব মালিক। স¤প্রতি দুজন বিবাহবার্ষিকী পালন করেছেন। কাতারের দোহায় দুজন নিভৃতে দিনটি উদযাপন করে প্রকাশ করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
১৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে সানা তার ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন মুহূর্তগুলো। তিনি খাবারের ছবি পোস্ট করেন, যার পেছনে শোভা পাচ্ছিল সকালের দোহা শহর। তিনি লিখেন, ‘অ্যানিভার্সারি ব্রেকফাস্ট’।
২০২৪ সালের ২০ জানুয়ারি নিজেদের বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আনেন সানা ও শোয়েব মালিক। নিজেদের বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ সঙ্গে জুড়ে দেন কুরআনের একটি বাক্য, ‘এবং আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি জোড়ায় জোড়ায়।’
শোয়েব মালিকের সানা জাভেদকে বিয়ে করার খবরটা শিরোনামে চলে এসেছিল। কারণ এর ঠিক আগেই নানা গুঞ্জনকে সত্যি প্রমাণ করে সানিয়া মির্জার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করেন। গণমাধ্যমে ‘পাওয়ার কাপল’ আখ্যা পেয়ে যাওয়া ক্রিকেটার শোয়েব আর টেনিস তারকা সানিয়ার ঘরে ছিল একটি পুত্রসন্তান, ইজাহান মির্জা মালিক।
শোয়েব সে সম্পর্ক থেকে সরে এলেও সানিয়া তার মাতৃত্বের দায়িত্ব পালন করছেন ভালোভাবে। ইজাহানের দেখভালের পাশাপাশি পেশাদার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। যার ফলে নিয়মিতই তাকে ভারত আর দুবাইয়ে যাওয়া আসা করতে হচ্ছে।
ওদিকে শোয়েব তার নতুন সংসার শুরু করেছেন সানার সঙ্গে। সে সম্পর্কের এক বছর হয়েও গেল স¤প্রতি।
শোয়েব তার ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে আছেন এখন। জাতীয় দল থেকে ব্রাত্য হয়ে পড়েছেন। তবে দেশি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলে বেড়াচ্ছেন এখনও। সবশেষ চ্যাম্পিয়ন্স টি-টোয়েন্টি কাপে তিনি খেলেছেন স্ট্যালিয়ন্সের হয়ে।

রাগটা বুঝি শুধু তামিমেরই হয়

শিরোনাম কেড়ে নেওয়ার ‘রোগ’টা সাকিব আল হাসানের ছিল এতদিন। কখন কি সব উটকো কাজ করে বসতেন, সেটারও কোনো ঠিক ঠিকানা ছিল না। যে কারণে তাকে শাস্তিও পেতে হয়েছে বহুবার।
সাকিব আল হাসান নেই এবারের বিপিএলে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তিনি আর দেশে ফিরতে পারছেন না। যে কারণে চিটাগং কিংসের হয়েও খেলা হচ্ছে না তার। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সাকিবের সে স্বভাবটা এখন তামিম ইকবালকে পেয়ে বসেছে রীতিমতো। তামিম হরহামেশাই এখন ‘শিরোনাম’ কেড়ে নিচ্ছেন, এবং সেটা নেতিবাচক কারণে।
‘হরহামেশা’ কথাটা কিন্তু এমনিতেই বলা হয়নি এখানে। তামিমের এই নেতিবাচক কারণে শিরোনামে আসাটা গেল এক সপ্তাহে হলো দ্বিতীয় বারের মতো। ৯ জানুয়ারি রংপুরের বিপক্ষে তার দল ফরচুন বরিশাল সিলেট পর্বে সবশেষ বিপিএল ম্যাচটা খেলেছিল। এরপর ১৬ জানুয়ারি নিজেদের পরের ম্যাচে তামিমের দল মাঠে নেমেছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে। এই টানা দুই ম্যাচেই তামিমকে মেজাজ হারাতে দেখা গেছে।
শুরুটা হয়েছিল রংপুর রাইডার্সের অ্যালেক্স হেলসের সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে। হেলসের কথায় তামিম রেগে গিয়ে বলেছিলেন, ‘এ রকম করছ কেন? কিছু বলার থাকলে মুখে বলো। বি আ ম্যান।’ এরপর হেলসও কিছু একটা বলেছিলেন তাকে। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টা রূপ নেয় বিবাদে। পরে দুই দলের সদস্যদের মধ্যস্থতায় বিষয়টার সুরাহা হয়।
এরপর হেলস জানিয়েছিলেন, সেখানে তামিম তাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেছিলেন। একটি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাতকারে ইংলিশ বিশ্বকাপজয়ী বলেন, ‘আমি তাকে কিছুই বলিনি। ২০২১ সালে আমি বিয়ার পানের জন্য (ক্রিকেটে) ২১ দিন নিষিদ্ধ হয়েছিলাম, সেই প্রসঙ্গ নিয়েও সে (তামিম) কথা বলেছে। আমাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যা খুবই লজ্জার ব্যাপার।’
সেদিন এই ঘটনার পর তামিম শাস্তির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ম্যাচ রেফারি নিয়ামুর রশিদ রাহুল তাকে দাঁড় করান কাঠগড়ায়। সেখানে তাকে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট শাস্তি দেওয়া হয়। তামিমও পরে বিষয়টা মাথাপেতে নিয়েছিলেন।
এরপর প্রথমবারের মতো তামিমের দল মাঠে নামে গত বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি)। ঢাকার বিপক্ষে এই ম্যাচে আবারও শিরোনামে চলে আসেন তিনি। এদিক ফিফটি করে বরিশালের হয়ে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডটা নিজের করে নেন। এই ফিফটির পথে তামিম ঢাকার সাব্বির রহমানের সঙ্গে রেগে গিয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ছিলেন আরেকটু হলেই।
গতকাল ম্যাচে বরিশাল ইনিংসের নবম ওভারে ঘটে ঘটনাটা। চতুরঙ্গা ডি সিলভার করা ওই ওভারের দ্বিতীয় বলটা তামিম লং অনে পাঠিয়ে তুলে নিয়েছিলেন একটি রান। তবে সাব্বিরের ফিল্ডিং নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেন তামিম। বাউন্ডারি লাইনে সাব্বির বলটা হাতে নিতে পারেননি ঠিকঠাক। তা চলে আসে সামনে।
সেটাই তামিমের কাছে বেখাপ্পা মনে হয়। ক্রিকেটীয় পরিভাষায় যাকে ‘ফেইক ফিল্ডিং’ হিসেবে ধরা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাটার বিভ্রান্ত হয়ে রানের জন্য ক্রিজ ছাড়েন, আর তাতে রান আউটের সুযোগ তৈরি হয়। তামিমেরও তেমন কিছুই মনে হয়েছিল।
আর তাই সাব্বিরকে তিনি বলে বসেন, ‘বেশি লাগতে যায়ো না সাব্বির, বেশি লাগতে যায়ো না!’ এখানেই ক্ষান্ত হননি তামিম। সঙ্গে আরও কিছু বলেছিলেন যা ঠিক স্পষ্ট শোনা যায়নি।
প্রতিক্রিয়ায় ‘ব্যাড বয়’ সাব্বির তেড়ে আসছিলেন তামিম ইকবালের দিকে। বিষয়টা মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসেন থিসারা পেরেরা। সাব্বিরকে থামান তিনি। ফিল্ড আম্পায়াররাও এগিয়ে আসেন। ফলে বিষয়টা আর বড় কিছুতে রূপ নেয়নি।
এখানেই শেষ নয়, বরিশালের এই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হন তামিম। তবে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি কাণ্ড করে ফেলেছেন আরো একটা, এবং এটাও ওই ‘রাগ’ সম্পর্কিতই।
৪৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসের সুবাদে তামিম পান ম্যাচসেরার পুরস্কার। তবে পুরস্কারটা যখন তুলে দেওয়ার সময় হলো হাতে, তখন তামিমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তার পুরস্কারটা নিতে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে তার যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি যেতে পারেননি। পরে সঞ্চালক বললেন, ‘তামিম এখানে নেই, তার বদলে আছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।’
পরে বরিশাল সূত্র নিশ্চিত করে, আসলে কারণটা তামিমের বিরক্তি। তিনি যখন ওখানে ছিলেন, তখনও পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আসেননি বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ। তার আসতে কিছুটা সময় লেগেছে। তামিম তাতেই অধৈর্য হয়ে রেগেমেগে সে জায়গা ছেড়ে চলে যান ড্রেসিং রুমে।
তামিম অবশ্য মাঠের ক্রিকেট দিয়েও শিরোনাম কেড়ে নিচ্ছেন। প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ৮০০০ টি-টোয়েন্টি রান করেছেন। ৬ ইনিংসে ২২২ রান করে তিনি আছেন শীর্ষ রান সংগ্রাহক হওয়ার দৌড়েও। তবে অক্রিকেটীয় যেসব কারণে তিনি ‘খবর’ হচ্ছেন তা সেসব ঢেকে দিচ্ছে পুরোপুরি। আর একটা বার্তাও দিচ্ছে– রাগটা বুঝি স্রেফ তারই হয়, আর কারো নয়!

পালটা-পালটি দাবির পর এবার যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করলেন নেতানিয়াহু

পালটা-পালটি দাবির পর অবশেষে হামাসের সঙ্গে দোহায় যুদ্ধবিরতি এবং জিম্মি মুক্তির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, এ নিয়ে শুক্রবার নিরাপত্তাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে। ওই বৈঠকে চুক্তির ওপর ভোটাভুটি হবে।
শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
বুধবার (১৫ জানুয়ারি) হামাস ও ইসরাইলের যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তির চুক্তির কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও কাতার। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, হামাস চুক্তির শর্ত পরিবর্তন করতে চাচ্ছে। আলোচনা শেষ মুহূর্তে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতার চুক্তির ঘোষণা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পর নেতানিয়াহুর এই বিবৃতি আসে। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভা বৈঠক করবে না যতক্ষণ হামাস পিছু না হটে।
তবে নেতানিয়াহুর এই দাবি উড়িয়ে দেয় হামাস। তবে গোষ্ঠীটি নিশ্চিত করে, তারা স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলি প্রত্যাহার না হলে বাকি জিম্মিদের মুক্তি দেবে না।
টাইমস অব ইসরাইল জানিয়েছে, হামাসের সঙ্গে সাক্ষরিত চুক্তি পাশ করতে আগামীকাল শনিবার রাতে মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। নেতানিয়াহুর মুখপাত্র ব্যাখ্যা করে বলেছেন, চুক্তি বিরোধীতাকারীদের হাইকোর্টে পিটিশন দাখিলের জন্য ২৪ ঘণ্টার সময় দেওয়া জরুরি। আর শুক্রবার বিকেলে বৈঠক করলে, সাব্বাথ পালনকারী ধর্মীয় সদস্যরা পর্যাপ্ত সময় পাবেন না। তবে নেতানিয়াহু শুক্রবার এই বৈঠক করতে পারলে, শনিবার সরকারিভাবে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তি পাশ হবে।
সাব্বাথ ইহুদি ধর্মের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় দিবস মনে করা হয়, যা প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পালন করা হয়। এই সময়ে ইহুদিরা কাজকর্ম থেকে বিরত থাকেন এবং বিশেষভাবে প্রার্থনা, বিশ্রাম ও পরিবারের সাথে সময় কাটানোর মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন। সাব্বাথ পালন করার সময়, ধর্মীয় নিয়ম অনুসারে কোনও কাজ করা নিষিদ্ধ।
তবে এ ক্ষেত্রে জিম্মিদের জীবন রক্ষার্থে সাব্বাথ লঙ্ঘনের ধর্মীয় নিয়ম কেন প্রযোজ্য নয়, তা স্পষ্ট নয়। দোহা থেকে আলোচক দলের ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলেও, শুক্রবার সন্ধ্যার আগে কেন নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা এবং পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক সম্ভব নয়, তা বলা হয়নি।
শনিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক হলে পিটিশন দাখিলের ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা রোববার পর্যন্ত বাড়বে। এর ফলে চুক্তি কার্যকর হতে সোমবার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। যা মুক্তির জন্য নির্ধারিত প্রথম তিন জিম্মিকে অতিরিক্ত এক দিন অপেক্ষা করতে হবে।
নেতানিয়াহুর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার খবর পেয়ে আলোচক দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অবশিষ্ট ৯৮ বন্দির পরিবারকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া নেতানিয়াহু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
এতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইল রাষ্ট্র যুদ্ধের সমস্ত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। একইসঙ্গে আমাদের সকল বন্দির, জীবিত এবং মৃতÑ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করাও অন্তর্ভুক্ত।