Home Blog Page 494

কঙ্গনার ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি বাংলাদেশের পর কোথায় নিষিদ্ধ

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে বাধাবিঘ্ন দূর করে অবশেষে মুক্তি পাচ্ছে বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ছবি ‘ইমার্জেন্সি’। শুক্রবার ছবিটি মুক্তি পাচ্ছে। আর ‘ইমার্জেন্সি’ ছবিটি নিজেই পরিচালনা, চিত্রনাট্য ও প্রযোজনা করেছেন অভিনেত্রী। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর চরিত্রেও অভিনয় করেছেন কঙ্গনা রানাউত। এদিকে ‘ইমার্জেন্সি’ মুক্তির আগেই বাংলাদেশে প্রদর্শনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এবার ছবিটি প্রদর্শনের নিষিদ্ধ ঘোষণা এসেছে এসজিপিসির পক্ষ থেকে। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভাগবত মানের কাছে ‘ইমার্জেন্সি’র ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির অনুরোধ জানিয়েছে এসজিপিসি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে একটি পোস্টও শেয়ার করে নিয়েছে এসজিপিসি।
এসজিপিসির সভাপতি চিঠি লিখে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ রেখেছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে লেখা হয়েছে অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ছবি ‘ইমার্জেন্সি’র ওপর শিরোমণি গুরুদ্বার পরবান্ধক কমিটির আপত্তি রয়েছে। ছবিতে ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে এবং এই ছবি শিখ সমপ্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এসজিপিসির পক্ষ থেকে পাঞ্জাবে এ ছবির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার দাবি করা হয়েছে।
সেই পোস্টে আরও লেখা হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি মারফত জানানো হয়েছেÑ ছবিটি মুক্তি পেলে শিখ স¤প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ ছড়াবে। তাই রাজ্যে এ ছবিকে নিষিদ্ধ করা সরকারের দায়িত্ব। এ ছবি মুক্তি পেলে শিরোমণি সমপ্রদায় তীব্র বিরোধিতা করবে।
এর আগে ‘ইমার্জেন্সি’ নিষিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশেও। ইন্দিরা গান্ধীর সময় ১৯৭৫ সালে ভারতে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছিল, যা রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল ভারতকে। এ ছবিটিতে ভারতের রাজনীতি ও সমাজনীতির একটা অন্ধকার দিক ফুটে উঠেছে। এ ছাড়া ছবিতে দেখানো হয়েছে ইন্দিরা গান্ধী কীভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশকে মুক্তিযুদ্ধে সাহায্য করেছিল। সেই সময় পাকিস্তান-বাংলাদেশের যুদ্ধে যাতে ভারত না জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে ক্রমাগত চাপ আসছিল, কিন্তু ইন্দিরা গান্ধী তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে, লাখ লাখ শরণার্থীকে ভারতে জায়গা দেওয়ার থেকে অর্থনৈতিক স্তরে ভারতের পক্ষে সরাসরি পাকিস্তানের মোকাবিলা করা ভালো।
এদিকে বেশ কিছু দিন ধরে উত্তাল বাংলাদেশ। এখনো যে অবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে তা বলা যায় না। তা ছাড়া ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনাও দেখা দিয়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বাংলাদেশে ছবিটির মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সূত্রে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশে ‘ইমার্জেন্সি’ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের সঙ্গেও জড়িত। তাই ছবিটি নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি কর হয়েছে। অনেকের মতে, ‘ইমার্জেন্সি’র অনেক বিষয়বস্তু দুই দেশের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার নানা দিককে প্রভাবিত করবে।’ এ সময় দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই নাকি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বতীকালীন সরকারের এমন সিদ্ধান্ত।
এর আগে ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি মুক্তির আগে একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী-প্রয়োজক কঙ্গনা রানাউত। আবার সেই প্রদর্শনী দেখানো হয় নাগপুরে। অভিনেত্রী এ ছবিটি দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গড়কড়িকে। ছবিটি দেখার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে মন্ত্রী লিখেছিলেনÑ ভারতের ইতিহাসের কালো অধ্যায়কে সততার সঙ্গে উৎকৃষ্টভাবে উপস্থাপন করার জন্য মন থেকে পরিচালক এবং ছবির সব অভিনেতাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ভারতের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় তুলে ধরা হয়েছে এ ছবিতে। সবাইকে এ ছবি দেখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউতের ‘ইমার্জেন্সি’ ছবি নিয়ে বেশ কিছু আপত্তি জানিয়েছিল শিরোমণি অকালি দল। যার ফলে সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেতে প্রচুর কাঠখড় পোড়াতে হয় তাকে। ছবিটি থেকে বেশ কিছু দৃশ্য বাদও দিতে হয়েছে অভিনেত্রীকে। সব মিলিয়ে প্রথম পরিচালনা করতে গিয়ে ভালোই বেগ পেতে হয়েছে কঙ্গনাকে। তাই আগামী দিনে আর রাজনৈতিক কোনো ছবি নির্মাণ করবেন না বলে জানিয়েছে অভিনেত্রী।

আইসিইউতে সাইফ, সন্ধ্যায় ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে যান শর্মিলা

মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালের আইসিইউতে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তিনি বিপদসীমার বাইরে রয়েছেন। কিন্তু মায়ের মনে সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা কখনো কমে না। তাই বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ছেলেকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর।
সকাল থেকেই হাসপাতালের বাইরে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপ ছিল। পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও সাইফকে দেখতে গিয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান, অভিনেতা রণবীর কাপর প্রমুখ। সন্ধ্যায় হাসপাতালের সামনে সাদা গাড়ি থেকে নামতে দেখা যায় সাইফ আলির মা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরকে। ফটোসাংবাদিকদের ক্যামেরায় সেই মুহূর্ত বন্দি হয়েছে। শর্মিলার পরনে ছিল সাদা সালোয়ার-কামিজ। গায়ে জড়ানো ছিল কালো শাল। তবে গাড়ি থেকে নেমেই সরাসরি হাসপাতালের ভেতরে চলে যান বর্ষীয়ান অভিনেত্রী।
এর আগে বৃহস্পতিবার লীলাবতী হাসপাতালে সাইফকে নিয়ে যাওয়া হলে জানা যায়, তার শরীরের দুটি জখম গুরুতর। তার মেরুদণ্ডে বিঁধে রয়েছে ভাঙা ছুরির ফলা। প্রায় আড়াই ঘণ্টায় দুটি অস্ত্রোপচারের পর অভিনেতাকে বিপদমুক্ত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। সাইফ হাসপাতাল থেকে কবে ছাড়া পাবেন, সে প্রসঙ্গে এখনো কোনো কিছু জানায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সাইফের ওপর হামলার পর প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন কারিনা

বলিউড অভিনেতা নবাব সাইফ আলি খান নিজের বাড়িতে গত বুধবার গভীর রাতে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে স্ত্রী অভিনেত্রী কারিনা কাপুর নীরব। বৃহস্পতিবার সাইফকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। তারপর আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচার। উৎকণ্ঠায় কেটেছে অভিনেত্রীর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানালেন কারিনা কাপুর খান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি দীর্ঘ পোস্টে কারিনা লিখেছেনÑ আজকের দিনটা আমাদের পরিবারের জন্য সত্যিই কঠিন একটা দিন এবং এখনো আমরা পরপর একেকটি ঘটনাকে বোঝার চেষ্টা করছি। এই কঠিন সময়ে আমি বিনীতভাবে সংবাদমাধ্যম এবং পাপারাজ্জিদের ভুয়া খবর ও গুজব থেকে দূরে থাকতে বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এরই সঙ্গে কারিনা তার পোস্টে তাদের নিয়ে মানুষের কৌতূহলকে সম্মান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেনÑসর্বদা নজরদারি আবার আমাদের নিরাপত্তা শিথিল করতে পারে। তাই আমাদের পরিবারকে এ মুহূর্তে একটু একা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছি। সেটি পরিবার হিসাবে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এই কঠিন ও সংবেদনশীল সময়ে তাদের পাশে থাকার জন্য ভক্ত-অনুরাগীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন কারিনা কাপুর।
উল্লেখ্য, গত বুধবার রাতে সাইফ আলি খানের ওপর যখন হামলা হয়, তখন কারিনা বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তার দিদি অভিনেত্রী কারিশমা কাপুরের বাড়িতে ছিলেন। কিন্তু স্বামীর আক্রান্ত হওয়ার খবর পেতেই তিনি দ্রæত পরিবারের সঙ্গে মিলিত হন।

চাপের মুখে পদত্যাগ করলেন টিউলিপ সিদ্দিক

অবশেষে অর্থমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার সরকারের সিটি মিনিস্টার ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক।

বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সাথে আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে বারবার প্রশ্ন ওঠায় চাপের মুখে পদত্যাগ করেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও বিবিসি।

টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনীতিবিষয়ক মিনিস্টার (ইকোনমিক সেক্রেটারি) ছিলেন। দেশটির আর্থিক খাতে দুর্নীতি বন্ধের দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে।

মূলত, টিউলিপ সিদ্দিক ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার মন্ত্রিসভার সদস্য, তিনি ইকনোমিক সেক্রেটারি টু দি ট্রেজারি অ্যান্ড সিটি মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার কাজ যুক্তরাজ্যের অর্থবাজারের ভেতরের দুর্নীতি সামাল দেয়া। কিন্তু বাংলাদেশে এখন তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, যেখানে তিনি এবং পরিবারের চার সদস্যের বিরুদ্ধে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, টিউলিপ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে এতে তিনি উল্লেখ করেছেন, তার বিরুদ্ধে যে তদন্ত হয়েছে সেখানে, মিনিস্ট্রিয়াল ওয়াচডগের উপদেষ্টা লরি ম্যাগনাস মন্ত্রিত্বের নীতি ভঙ্গের কোনো প্রমাণ পাননি। এছাড়া নিজের সকল আর্থিক বিষয়াবলীর ব্যাপারে তদন্তকারীকে তথ্য দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন টিউলিপ।

মন্ত্রী থাকলে সরকার তার কাজে মনযোগ দিতে পারবে না উল্লেখ করে টিউলিপ বলেছেন, ‘এ কারণে আমি আমার মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, পেনসনমন্ত্রী এমা রেনল্ডস টিউলিপের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

গত সপ্তাহে টিউলিপ সিদ্দিককে বরখাস্ত করতে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির প্রধান কেমি ব্যাডেনোচ। যদিও হ্যাম্পস্টেড এবং হাইগেটের ৪২ বছর বয়সী এমপি টিউলিপ দাবি করেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি।

এছাড়া, টিউলিপ সিদ্দিককে দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায় দেশটির দুর্নীতিবিরোধী জোট ইউকে অ্যান্টি-করাপশন কোয়ালিশন।

সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি মুখপাত্র বলেছেন, ‘স্যার কেয়ার স্টারমার তার মন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা ধরে রেখেছেন। যদিও টিউলিপকে বরখাস্ত করতে নতুন করে চাপের মুখোমুখি হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে টিউলিপের পারিবারিক সম্পর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ওপর এই চাপ তৈরি হয়েছে।’

উল্লেখ্য, আর্থিক দুর্নীতির এক মামলায় বাংলাদেশে টিউলিপ সিদ্দিক ও তার খালা শেখ হাসিনাসহ পরিবারের আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাজ্যের এই মন্ত্রী ব্যাপক চাপে আছেন। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

৪২ বছর বয়সী টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৩ সালে বাংলাদেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে রাশিয়ার সাথে একটি চুক্তিতে মধ্যস্থতা করেছিলেন, যেখানে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়েছিল।

দুই কক্ষ বিশিষ্ট সংসদ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে যাচ্ছে আজ বুধবার। এতে ক্ষমতা কাঠামো, সংসদের ধরনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাবনা থাকছে।

গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাষ্ট্র সংস্কারের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে দেশটিতে। সেই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সংস্কারে ছয় বিশিষ্ট নাগরিককে দায়িত্ব দেয়ার ঘোষণা দেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

পরবর্তীতে ৭ অক্টোবর ‘বিদ্যমান সংবিধান পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করে সংস্কারের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রস্তুত করতে’ অধ্যাপক আলী রীয়াজকে প্রধান করে নয় সদস্যের সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

তিন মাস ধরে সাধারণ নাগরিক, রাজনৈতিক দল ও অন্যান্য অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত সংগ্রহ করে কমিশন। প্রায় এক লাখ লোকের মতামত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। সেই সাথে তারা বিভিন্ন দেশের সংবিধানও পর্যালোচনা করেন।

এসবের ভিত্তিতে পাঁচ খণ্ডের প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

প্রথম খণ্ডে রাখা হয়েছে সুপারিশ এবং সুপারিশগুলোর যৌক্তিকতা। বিভিন্ন পর্যায় থেকে প্রাপ্ত মতামত রাখা হয়েছে বাকি চার খণ্ডে।

সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, সংস্কারের প্রস্তাবনা তৈরি করার ক্ষেত্রে ক্ষমতার এককেন্দ্রীকরণ রোধ, ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন, জবাবদিহিতা, রাষ্ট্র পরিচালনায় সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার মত বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়েছেন তারা।

তিনি বলেন, ‘কিছু মতভেদ থাকলেও সংস্কারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ব্যাপারেও আমি আশাবাদী।’

কমিশনের সংস্কার প্রস্তাবের পাঁচটি মূল দিক তুলে ধরা হয়েছে এ প্রতিবেদনে।

ক্ষমতার ভারসাম্য: শুধু দুই ব্যক্তি বা অফিসের নয়
বাংলাদেশের সংবিধান এ পর্যন্ত ১৭ বার সংশোধন করা হয়েছে। দ্বাদশ সংশোধনীর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা বদলে সংসদীয় সরকার পদ্ধতি পুনরায় প্রবর্তন করা হয়।

কিন্তু, সংসদীয় ব্যবস্থার বদলে ধীরে ধীরে ব্যবস্থাটি নিছক প্রধানমন্ত্রী শাসিত ব্যবস্থায় রূপ নেয় বলে মনে করেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

“প্রধানমন্ত্রী দলের প্রধান হিসেবে দল চালান, সংসদের নেতা হিসেবে তিনি সংসদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী হন এবং এমন প্রধানমন্ত্রী, তিনি যা বলবেন রাষ্ট্রপতিকে তা শুনতেই হবে, এর অন্যথার কোনো জায়গা নেই,” বলেন আলী রীয়াজ।

সংবিধানের মধ্যেই ‘ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্রের পথ’ রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবিধান প্রধানমন্ত্রীকে যে ‘একচ্ছত্র আধিপত্য ও ক্ষমতা’ দিয়েছে, সেই ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার কথা বিভিন্ন পক্ষ থেকে বেশ কিছুদিন ধরেই বলা হচ্ছিল।

অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতায় ভারসাম্য আনার কথা বলে আসছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘তবে, সংস্কার কমিশন ভারসাম্য আনতে চাইছে ‘প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর’ মধ্য দিয়ে। শুধু দুইজন ব্যক্তি বা দু’টি অফিসের মধ্যে ক্ষমতা বাড়িয়ে কমিয়ে নয়। আমাদেরকে বিবেচনা করতে হবে যে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে পারি কি না। জাতীয় স্বার্থের প্রয়োজনে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে নিয়োগ দেয়ার পদ্ধতি কি তৈরি করা যায়?’

দেশ পরিচালনায় রাষ্ট্রের তিন অঙ্গের (আইন সভা, নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগ) মধ্যে সমন্বয় সাধনের কথাও বলেন তিনি।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে যে ধরনের কাঠামো দাঁড় করানোর কথা প্রস্তাবনায় থাকছে বলে জানা গেছে, তাতে অন্য দুই বিভাগের সাথে আইনসভার সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষকে সম্পৃক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

এতে নির্বাহী প্রধান তথা সরকার প্রধানের এককভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা হ্রাস পেয়ে সেটা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভাগ হয়ে যাবে।

সংসদ: দুই কক্ষ, পাঁচ শতাধিক আসন, নারী আসনেও ভোট
বর্তমানে বাংলাদেশের এক কক্ষ বিশিষ্ট সংসদে নারীদের জন্য ৫০টি সংরক্ষিত আসনসহ মোট ৩৫০টি আসন রয়েছে।

দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট সংসদের প্রস্তাবনা আসতে যাচ্ছে তা একরকম অনুমান করা যাচ্ছিল। কেননা, বর্তমানে ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলোর প্রায় সবাই দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের পক্ষে।

সংসদের নিম্নকক্ষের আসন সংখ্যা বেড়ে চারশো হওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে। এর সঙ্গে উচ্চকক্ষে আরো ১০৫টি আসন যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

নিম্নকক্ষের ৪০০ আসনের ১০০টি নারী আসন। তবে, কেবল দলের মনোনয়নে নয়, তাদেরও সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে হবে। আসন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যখন স্বাধীন হয় তখন সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। এখন আঠারো কোটি মানুষ, তাদের প্রতিনিধিত্বের জায়গা করতে হবে। আরো ছোট ছোট কনস্টিটুয়েন্সি (নির্বাচনি এলাকা) তৈরি করতে পারলে মানুষ সরাসরি ইন্টারঅ্যাক্ট করতে পারবে।’

উচ্চকক্ষে আনুপাতিক পদ্ধতিতে সদস্য নির্ধারণ করা হবে। সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার অনুযায়ী উচ্চকক্ষে আসন পাবে দলটি। সবার প্রতিনিধিত্বের একটা পথ তৈরি হবে। কত শতাংশ মানুষ তাদের ভোট দিয়েছে, সেই বিবেচনা থেকে যদি প্রতিনিধিত্ব থাকে তাহলে সকলের ভয়েসটা থাকবে,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

‘সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব যেন থাকে, সে ব্যাপারেও একটা ধারণা দেয়া হবে। উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের মধ্যে ক্ষমতার এক ধরনের ব্যালান্স (ভারসাম্য) থাকবে। তারা নিঃসন্দেহে একটা ভূমিকা পালন করবে।’

এতে খরচ বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে কথিত নির্বাচনে কত হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলো। আজ যদি আগামীর জন্য দেশের প্রয়োজনে কিছু অর্থ ব্যয় করি, সেটা ভবিষ্যতের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য ব্যয় করা হবে।’

৭০ অনুচ্ছেদ
বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম আলোচিত অংশ ৭০ অনুচ্ছেদ।

এতে বলা হয়েছে – ‘কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী মনোনীত হয়ে কোনো ব্যক্তি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তিনি যদি নিজ দল থেকে পদত্যাগ করেন, অথবা সংসদে নিজ দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন, তাহলে সংসদে তার আসনটি আসন শূন্য বলে বিবেচিত হবে।’

নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দেয়ার সুযোগ না থাকায় সংসদ সদস্যের মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয় বলে মনে করেন অনেকে। অনুচ্ছেদটি থাকা না থাকার প্রশ্ন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

৭০ অনুচ্ছেদের বিষয়ে সুস্পষ্ট সুপারিশ থাকছে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে।

তবে, সুপারিশে কী থাকছে সে ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সরাসরি উত্তর দেননি কমিশন প্রধান আলী রীয়াজ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামগ্রিক চিত্রটা বোঝার চেষ্টা করুন, আমরা একটা জবাবদিহিতার অবস্থা তৈরির প্রচেষ্টা করছি, সেই প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিলেই সত্তর অনুচ্ছেদের ভূমিকা কী হবে, সেটা বুঝতে পারবেন।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা
বাংলাদেশের বিচার বিভাগ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়েছিল ২০০৭ সালে। লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রভাব মুক্ত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।

কিন্তু, বিগত দিনে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, বিচার বিভাগ আদতে স্বাধীন নয়, সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ীই পরিচালিত হয়। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে’ সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদনে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয় তৈরির সুপারিশ করতে যাচ্ছে। সরকার তথা নির্বাহী বিভাগের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে প্রস্তাবনা রাখা হচ্ছে।

‘বিচার বিভাগে আর্থিক বরাদ্দ সরাসরি কনসোলিডেটেড ফান্ড (স্বতন্ত্র তহবিল) থেকে নিয়ে আসার প্রস্তাব থাকছে। যাতে করে এখন যেমন আইন মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হতে হয়, সেটা স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি, তা আর করতে না হয়,’ বলেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

স্থানীয় সরকার
বাংলাদেশে প্রায় এক দশক ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয় প্রতীকে হয়ে আসছিল।

স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নের সংসদ সদস্যদের তহবিল বরাদ্দসহ তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো হয়েছিল।

এসব কারণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার নির্ভর হয়ে পড়েছে বলে মনে করেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ।

‘তাদের বাজেট পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নির্বাহী বিভাগ এতটাই নিয়ন্ত্রণ করে যে স্থানীয় সরকারের পক্ষে কিছু করা সম্ভব হয় না। তদুপরি সংসদ সদস্যরা সমস্ত উন্নয়ন কাজের দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছিল। এটা তো তাদের (সংসদ সদস্য) দায়িত্ব নয়,’ বলেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, স্থানীয় সরকারগুলো শক্তিশালী করা ছাড়া আপনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারবেন না। এ কারণে, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার প্রস্তাবনা থাকছে।

অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘উল্টো তাদের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের একটা পথ তৈরি করতে হবে।’

সূত্র: বিবিসি।

খালেদা জিয়া এখন ‘অনেকটা বেটার’ : মির্জা ফখরুল

যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বেসরকারি খাতের স্বাস্থ্য-সেবায় ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ হাসপাতাল ‘দ্য লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন রয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেখানে চিকিৎসা-সেবা শুরুর সাত দিনের-মাথায় তার শারীরিক অবস্থা ‘অনেকটা বেটার’ বলে জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে দলীয় শীর্ষ নেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের সর্বশেষ অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘লন্ডন ক্লিনিকে’ চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়া ‘অনেকটা বেটার’ আছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারাও পত্র-পত্রিকায় খবর দিচ্ছেন, আমরাও খবর নিয়েছি, উনি (বেগম খালেদা জিয়া) মানসিক এবং শারীরিক উভয় দিক থেকেই আলহামদুলিল্লাহ আগের চাইতে অনেকটা বেটার (ভালো)।’

বিএনপি চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের সেন্ট্রাল-ওয়েস্টস্থ বিশেষায়িত হাসপাতাল লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন।

বেগম খালেদা জিয়া কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির পাঠানো একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডন যান। অত্যাধুনিক স্বাস্থ্য-সেবা সম্বলিত এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি গত ৭ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টায় বিএনপি চেয়ারপারসন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করে। কাতারের দোহায় যাত্রা-বিরতিসহ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পরের দিন ৮ জানুয়ারি লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ১০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা ৫৫ মিনিট) হিথ্রো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে পৌঁছায়। সেখান থেকে তাকে সরাসরি লন্ডন ক্লিনিকে নেয়া হয়। তার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে হাসপাতালে নেন। বেগম খালেদা জিয়ার পুত্রবধূ অর্থাৎ তারেক রহমানের সহধর্মিনী ডা. জুবাইদা রহমানও এ সময় সাথে ছিলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া তার বড় ছেলে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, বড় ছেলের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, ছোট ছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান, নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান (তারেক রহমানের মেয়ে) এবং জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানের (দু’জনেই আরাফাত রহমান কোকোর মেয়ে) সার্বক্ষণিক সান্নিধ্যে মানসিকভাবেও প্রশান্তিতে রয়েছেন।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি ছেলের বাসায় রান্না করা খাবার খাচ্ছেন। সকাল ও বিকেলের নাস্তাও বাসা থেকে দেয়া হচ্ছে। ছেলে তারেক রহমান নিজেই খাবার নিয়ে হাসপাতালে যাচ্ছেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সফরসঙ্গী, ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং বেগম খালেদা জিয়ার সফরসঙ্গী চিকিৎসক দলের সদস্য ডা. এনামুল হক চ্যেধুরী এবং যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতারা লন্ডনে স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে এবং বিভিন্ন সময়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের মাধ্যমে ঢাকার সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ভিডিও বার্তায় এসব তথ্য তুলে ধরেন।

৭৯ বছর বয়সী বেগম সখালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিসসহ নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছেন। ২০১৮ সালে একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর তার অসুস্থতা আরো বেড়ে যায়। তিনি জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও পড়েন কয়েকবার। এ জন্য রাজধানী ঢাকার একটি হাসপাতালে দীর্ঘ সময় তাকে চিকিৎসাধীনও থাকতে হয়েছে।
সূত্র : বাসস

বাবরের মুক্তিতে বাধা নেই

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।

খালাসপ্রাপ্ত অপর চারজন হলেন- মহসিন তালুকদার, এ কে এম এনামুল হক, রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী ও নূরুল আমিন।

এছাড়া ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। আর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে কমিয়ে আসামী আকবর হোসেন, লেয়াকত হোসেন, হাফিজুর রহমান ও শাহাবুদ্দিনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আর মৃত্যুর কারণে যে চারজনকে এই মামলা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তারা হলেন- আব্দুর রহিম, মতিউর রহমান নিজামী, দ্বীন মোহাম্মদ ও হাজী আব্দুস সোবহান।

এই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্তদের আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) এ রায় দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী। সাথে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো: আসিফ ইমরান জিসান। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। এছাড়া আসামিপক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান। আসামি নূরুল আমিনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট সাধন কুমার বণিক।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল চট্টগ্রামের সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে একটি ও অস্ত্র আইনে পৃথক আরেকটি মামলা হয়।

২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রামের বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ চোরাচালান মামলায় রায় দেন। বিচারিক আদালতের সে রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অন্যদিকে, অস্ত্র আইনে করা পৃথক মামলায় একই আসামীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

বিচারিক আদালতের এই রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে, কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।

মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি শেষে গত ১৮ ডিসেম্বর বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত এ হাইকোর্ট বেঞ্চ চোরাচালান মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহসিন উদ্দিন তালুকদার, সিইউএফএল’র সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) কে এম এনামুল হক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত শিল্পসচিব নুরুল আমিনকে খালাস দেন। এছাড়া সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামী মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অ্যাবেট করে তাদেরকে খালাস দেন হাইকোর্ট। তবে এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুর রহিম মৃত্যুবরণ করায় মামলা থেকে অ্যাবেট করলেও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট।

এছাড়া চোরাচালান মামলায় হাইকোর্টের রায়ে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। আর মৃত্যুদণ্ড থেকে ডিজিএফআই’র সাবেক পরিচালক (নিরাপত্তা) অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার সাহাবুদ্দিন আহমেদ, এনএসআই’র সাবেক উপ-পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত মেজর লিয়াকত হোসেন, এনএসআই’র সাবেক মাঠ কর্মকর্তা আকবর হোসেন খান, চোরাচালানি হিসেবে অভিযুক্ত হাফিজুর রহমান, অস্ত্র খালাসের জন্য শ্রমিক সরবরাহকারী দীন মোহাম্মদ ও ট্রলার মালিক হাজী আবদুস সোবহানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট।

সূত্র : বাসস

আগামী নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করতে চাই : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে সরকার এযাবৎকালের সেরা করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এটি গণতন্ত্রের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

রোববার ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি একথা বলেন।

প্রধান উপদেষ্টা নরওয়ের প্রতি বাংলাদেশকে এশিয়ায় নরওয়েজিয়ান পণ্যের আঞ্চলিক বিতরণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার এবং বাংলাদেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এদেশে আরো বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

তিনি নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে বলেন, ‘নরওয়ের পণ্য এশিয়ায় বিতরণের জন্য বাংলাদেশকে একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করুন, যাতে আপনাদের নরওয়ে থেকে লোক আনতে না হয় এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো যায়।’

অধ্যাপক ইউনূস উদাহরণ হিসেবে বিদেশে নরওয়েজিয়ান টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের প্রথম উদ্যোগ গ্রামীণফোনের কথা উল্লেখ করেন, যা বিগত বছরগুলোতে টেলিনর পরিবারের সবচেয়ে লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত গুলব্রান্ডসেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। যেখানে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নরওয়ের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করা হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ় সমর্থন জানিয়েছেন।’

রাষ্ট্রদূত জানান, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের মানবাধিকার রক্ষা এবং পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসন বলেন, নরওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে জাহাজ নির্মাণ শিল্প এবং সবুজ জ্বালানি রূপান্তর খাতে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে নরওয়ের সহায়তা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠায় নরওয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে। তাই, রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।’

রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন আরো বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যু, আন্তর্জাতিক কর ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ে বৈশ্বিক ফোরামগুলোতে নরওয়ে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অবি মিশন মারিয়ানে রাবে নেভেলস্রুদ ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে নরওয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসঙ্ঘ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সূত্র : বাসস

ইতিহাস গড়া জয়ে ঘুরে দাঁড়ালো ঢাকা

বিপিএল ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের পুঁজি গড়ার দিনে ইতিহাস গড়া জয় পেল ঢাকা ক্যাপিটালস। টানা ছয় হারের ধাক্কা সামলে আসরে প্রথম জয় তুলে নিল রাজধানীর দল। সেই সাথে বাঁচিয়ে রাখলো প্লে অফের সম্ভাবনা।

রোববার দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ঢাকা ক্যাপিটালস ও দুর্বার রাজশাহী। সিলেটে আগে ব্যাট করে ১ উইকেটে ২৫৪ রান তুলে ঢাকা। জবাবে ১৫ দশমিক ২ ওভারে ১০৫ রানে গুটিয়ে যায় রাজশাহী। ঢাকার জয় ১৪৯ রানে।

১৪৯ রানের জয় বিপিএল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে ২০১৩ সালের বিপিএলে চট্টগ্রাম ১১৯ রানে জিতেছিল সিলেটের বিপক্ষে। এই জয়ের নায়ক লিটন দাস। ব্যাট হাতে ৫৫ বলে ১২৫ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে নিজের প্রথম শতক স্পর্শ করার দিনে তানজিদ তামিমকে নিয়ে গড়েন ১১৮ বলে ২৪১ রানের জুটি। যা স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সেরা এ বিপিএলে সবার সেরা জুটি।

লিটন দাস ও তানজিদ তামিম, ঢাকার এই দুই ব্যাটার আজ হয়ে উঠেন রাজশাহীর ত্রাস। সিলেটে মুখোমুখি লড়াইয়ে আগে ব্যাট করতে নেমে দু’জনেই তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি। যা বিপিএলে প্রথম।

রাজশাহীর বোলারদের রীতিমতো তুলোধুনো করে ২৪১ রানে তানজিদ তামিম ৬ চার ৮ ছক্কায় ৬৪ বলে ১০৮ রানে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। এরপর যোগ হয় আরো ১৩ রান। সব মিলিয়ে বিপিএল প্রথমবার দেখল আড়াই শ’ রান (২৫৪)।

২৪ বলে ফিফটি, আর ৪৪ বলে লিটন করেন সেঞ্চুরি। যা বিপিএল ইতিহাসের দ্বিতীয় দ্রুততম শতক। (৪২ বলে সেঞ্চুরি আছে পারভেজ ইমনের)। লিটনকে থামাতে পারেননি রাজশাহীর কোনো বোলার। ১০ চার আর ৯ ছক্কায় ৫৫ বলে ১২৫ রান করেন তিনি।

জবাব দিতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে রাজশাহীর ব্যাটিং লাইন-আপ। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফিরেন মোহাম্মদ হারিস। ৫ বল খেলে রানের খাতা খোলার আগেই বিদায় নেন পাকিস্তানি ব্যাটার। তিনে নামা অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফিরেন।

পাওয়ারপ্লের ৬ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩৪ রান তোলে রাজশাহী। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই যেন হেরে বসে দুর্বার রাজশাহী। শেষ দিকে রায়ান বার্ল কিছুটা লড়াই চালিয়েছেন।

তাতে হারের ব্যবধান কমেছে শুধু। বার্ল ৩২ বলে ৪৭ রান করে অপরাজিত ছিলেন। মাঝে বলার মতো ১৩ বলে ১৭ রান করেন ইয়াসির আলি। রাজশাহী অলআউট হয় ১০৫ রানে।

ঢাকার হয়ে ২টি করে উইকেট তুলেছেন মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আবু জায়েদ রাহি, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত এবং ফারমানউল্লাহ। একটি উইকেট নেন মোস্তাফিজুর রহমান।

মায়ের খাবার হাসপাতালে পৌঁছে দিচ্ছেন তারেক রহমান

বাসা থেকে খাবার তৈরি করে দ্য লন্ডন ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন মায়ের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রতিদিনের মতো রোববারও হাসপাতালে যান তিনি। সাথে ছিলেন যথারীতি তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ ও বিএনপি নেতা কামাল আহমদ।

গত ৮ জানুয়ারি থেকে লন্ডনের বিশেষায়িত বেসরকারি হাসপাতাল দ্য ক্লিনিকে লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির অধীন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারেক রহমানের মা বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

গত কয়েকদিন ধরে তারেক রহমান হাসপাতালে নিয়মিত যাতায়াত করেছেন। এ সময় সাংবাদিকদের সাথে কুশল বিনিময় করলেও কোনো প্রশ্নের জবাব দেননি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন লন্ডনে সাংবাদিকদের জানান, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতিদিন তার স্বাস্থ্যের রুটিন পরীক্ষা চলছে, তবে সোমবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে বিশেষ কিছু পরীক্ষা করা হতে পারে।

তিনি আরো জানান, হাসপাতালে ভর্তির পর এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়েছে। সেসব পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে তার চিকিৎসা চলছে।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খালেদা ড. এনামুল হক চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন পর পরিবারের সদস্যদের কাছে পেয়ে ভালো সময় কাটছে খালেদা জিয়ার। মানসিকভাবে বেশ চাঙ্গা তিনি। রিল্যাক্স মুডে আছেন বলা যায়।