Home Blog Page 5

সরকারের ভরসা ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

গ্যাস ও কয়লার সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যয়বহুল ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়াচ্ছে সরকার। স্বল্প মেয়াদে লোডশেডিং কমাতে দ্রুত উৎপাদনে আনা সম্ভব এমন কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চলতি মাসে তেলচালিত কেন্দ্র থেকে গড়ে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এ লক্ষ্যে ৫৩ কেন্দ্রের জন্য এক মাসে ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন ফার্নেস অয়েল চেয়েছে সংস্থাটি। ৫৩ কেন্দ্রের উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার ৫৩৮ মেগাওয়াট। চাহিদার বিপরীতে চলতি মাসে ১ লাখ ৩৬ হাজার টন ফার্নেস অয়েল সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে এই পরিমাণও একবারে পাওয়া যাবে না; ধাপে ধাপে সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

৬ হাজার কোটি টাকার জোগান
জ্বালানি সংকটের মধ্যে তেলচালিত কেন্দ্রগুলো চালাতে অর্থের সংস্থানও করেছে সরকার। ফার্নেস অয়েল কেনার জন্য গত সপ্তাহে পিডিবিকে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে অর্থ বিভাগ। বিদ্যুৎ বিভাগ ও বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন (বিপ্পা) সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ৪ হাজার ৬৯৯ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৩০১ কোটি টাকা জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়েছে।

এর মধ্যে সামিট গ্রুপের চারটি তেলভিত্তিক কেন্দ্রের জন্য ৫৩৩ কোটি এবং ইউনাইটেড পাওয়ারের চারটি কেন্দ্রের জন্য ৪৩৩ কোটি টাকা রয়েছে। এ ছাড়া ডোরিন গ্রুপ ৩৩৩ কোটি, অ্যাকর্ন গ্রুপ ২২৩ কোটি, ওরিয়ন ২২৩ কোটি, লংকা গ্রুপ ১২৩ কোটি, বারাকা পাওয়ার ২৩৩ কোটি, ইপিভি ঠাকুরগাঁও ও চট্টগ্রাম ১৯৬ কোটি, ইনডেক্স গ্রুপ ১০০ কোটি, আরপিসিএল ২০০ কোটি, বিআর পাওয়ারজেন ৪৫০ কোটি, আনলিমা এনার্জি ২২০ কোটি, মধুমতি বিদ্যুৎকেন্দ্র ৫০ কোটি, হোসাফ গ্রুপ ২০০ কোটি, দেশ এনার্জি ২২০ কোটি এবং মিডল্যান্ড গ্রুপ ২৪০ কোটি টাকা পেয়েছে।
সরকারি কেন্দ্রগুলোর তালিকাভুক্ত বরাদ্দের পরিমাণ ৫৯৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে তিতাসের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র পেয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। বাঘাবাড়ী ৫৯ কোটি, দোহাজারী ৬৪ কোটি, হাটহাজারী পিকিং প্লান্ট ১০১ কোটি, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ১২৬ কোটি, কাটাখালীর ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৪৩ কোটি, সান্তাহারের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩২ কোটি, ফরিদপুরের ৫০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৩৮ কোটি এবং গোপালগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্র ৮২ কোটি টাকা পেয়েছে।

আসছে বেসরকারি কেন্দ্রের তেল
পিডিবির কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার পর কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ফার্নেস অয়েল আমদানি করছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ঋণপত্র খুলেছে। তবে এসব চালান দেশে পৌঁছাতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগতে পারে। ফলে তাৎক্ষণিক তেল সরবরাহ বাড়ানোর ক্ষেত্রে এসব চালান খুব বেশি কাজে আসবে না।

মজুতও কম
৫ সেপ্টেম্বর দিন শেষে সরবরাহযোগ্য ফার্নেস অয়েলের মজুত ছিল মাত্র ১৪ হাজার ৭৫১ টন। মাসের বাকি সময়ে আরও ১ লাখ টন আমদানি এবং স্থানীয় উৎস থেকে ২৫ হাজার টন পাওয়ার কথা রয়েছে। বিপরীতে পিডিবির চাহিদা ২ লাখ ৪ হাজার ১০০ টন। ফলে চাহিদা পুরোপুরি মেটাতে আরও ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টন ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম পাঁচ দিনে সব খাত মিলিয়ে বিপিসি ৩১ হাজার ৯০২ টন ফার্নেস অয়েল বিক্রি করেছে। দৈনিক গড় বিক্রি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৩৮০ টনে। ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের চাহিদার পাশাপাশি শিল্প খাতের সরবরাহও অব্যাহত রাখতে হচ্ছে বিপিসিকে।

বিপিসিরও আমদানি ও খালাস সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যমান অবকাঠামো দিয়ে মাসে সর্বোচ্চ প্রায় ১ লাখ টন ফার্নেস অয়েল আমদানি সম্ভব। এর বেশি আমদানিতে অতিরিক্ত অবকাঠামোগত সক্ষমতা প্রয়োজন। ফলে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেলে দ্রুত আমদানি বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।

বন্ধ পাঁচ কেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ
তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলায় আগে বন্ধ হয়ে যাওয়া পাঁচটি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রকে ‘বিদ্যুৎ নেই, টাকা নেই’ ভিত্তিতে চালানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। অর্থাৎ কেন্দ্রগুলো বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সরবরাহ করতে পারলেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অর্থ পরিশোধ করা হবে।

বাড়ছে সরকারের আর্থিক চাপ
গ্যাস ও কয়লার চেয়ে ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের খরচ বেশি। ফলে ঘাটতি সামাল দিতে তেলভিত্তিক কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বাড়লে পিডিবির বিদ্যুৎ কেনার খরচও বাড়বে। এর প্রভাব পড়বে সরকারের ভর্তুকির ওপর।

এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কাছে সরকারের বকেয়া জমেছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় অনেক কেন্দ্র নিজস্ব অর্থে জ্বালানি কিনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বকেয়া পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি
জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারাদেশে বেড়েছে লোডশেডিং। গতকাল মঙ্গলবার দিনভর জাতীয় গ্রিডে চাহিদার চেয়ে সরবরাহ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৭৭৩ থেকে ২ হাজার ৮৪৪ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি ঘাটতি হয়েছে বেলা ৩টায়। ওই সময় ১৬ হাজার ১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১৩ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার দেশে মোট ২ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১ হাজার ৬২০ এবং এলএনজি ৭০৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এই সরবরাহ দিয়ে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদা পূরণ করা যায়নি।

বিকেল ৪টার দিকে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৪ হাজার ৫২৮ মেগাওয়াট। ওই সময় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৮৬১ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৭২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ভারত থেকে এসেছে ২ হাজার ১৫১ মেগাওয়াট। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ ছিল ১ হাজার ২২০ মেগাওয়াট।

বক্স অফিসের পর ওটিটিতেও ধাক্কা খেল ‘টক্সিক’

বড় পর্দায় প্রত্যাশা অনুযায়ী সাড়া ফেলতে পারেনি ইয়াশের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘টক্সিক: আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রোন-আপস’। এবার সিনেমা ওটিটি স্বত্ব নিয়েও সামনে এসেছে হতাশাজনক খবর। মুক্তির আগে এর পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাব এসেছিল, বর্তমানে ছবির জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি প্রস্তাব পাওয়া যাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে এখনো কোনো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।

‘কেজিএফ’ সিরিজের পর যশের নতুন সিনেমা হিসেবে শুরু থেকেই ‘টক্সিক’ ঘিরে দর্শকের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গীতু মোহনদাস পরিচালিত ছবিটিতে যশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন নয়নতারা, কিয়ারা আদভানি, তারা সুতারিয়া ও হুমা কুরেশি। বড় বাজেটের এই গ্যাংস্টারধর্মী সিনেমাটি মুক্তির আগেই তৈরি করেছিল ব্যাপক প্রত্যাশা।

জানা যায়, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির আগেই একটি বড় স্ট্রিমিং সংস্থা ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল ডিজিটাল স্বত্বের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল। তবে নির্মাতারা সেই প্রস্তাবে রাজি হননি। বরং ২০০ কোটির বেশি অর্থে ডিজিটাল স্বত্ব বিক্রির লক্ষ্য ছিল তাদের।

এর পেছনে মূল কারণ ছিল বক্স অফিসে সিনেমাটির সম্ভাব্য সাফল্য নিয়ে নির্মাতাদের বড় প্রত্যাশা। ইয়াশের আগের সিনেমাগুলোর জনপ্রিয়তা এবং ‘কেজিএফ’ ব্র্যান্ডের প্রভাব বিবেচনায় ‘টক্সিক’ প্রেক্ষাগৃহে বড় অঙ্কের ব্যবসা করবে বলেই ধারণা করা হয়েছিল। সেই সাফল্যের ভিত্তিতে পরে আরও বেশি দামে ওটিটি স্বত্ব বিক্রি করা যাবে—এমন প্রত্যাশা ছিল।

কিন্তু মুক্তির পর সেই হিসাব মেলেনি। প্রথম দিনে অবশ্য জোরালো সূচনা করে ‘টক্সিক’। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সব ভাষা মিলিয়ে মুক্তির প্রথম দিনে সিনেমাটির নেট আয় ছিল প্রায় ১০১ কোটি ১০ লাখ টাকা। তবে পরবর্তী সময়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে দুর্বল হওয়ায় ছবিটির দৈনিক আয় দ্রুত কমতে থাকে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুক্তির ১২ দিন পর ভারতে ‘টক্সিক’-এর মোট নেট সংগ্রহ দাঁড়ায় প্রায় ২৪৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ফলে ছবির ডিজিটাল স্বত্বের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে নির্মাতাদের যে উচ্চ প্রত্যাশা ছিল, বক্স অফিসের ফলাফল তা অনেকটাই বদলে দিয়েছে।

এবার সেই প্রভাব পড়েছে ওটিটি স্বত্বের বাজারেও। খবর অনুযায়ী, বর্তমানে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘টক্সিক’-এর সব ভাষার পোস্ট-থিয়েট্রিক্যাল স্ট্রিমিং স্বত্ব কিনতে সর্বোচ্চ প্রায় ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। অর্থাৎ মুক্তির আগে পাওয়া ১৫০ কোটি টাকার প্রস্তাবের তুলনায় বর্তমান প্রস্তাব প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।

এই দৌড়ে এখন পর্যন্ত জি-ফাইভ এগিয়ে রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে প্ল্যাটফর্মটির সঙ্গে নির্মাতাদের চূড়ান্ত চুক্তি হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ফলে বক্স অফিসে প্রত্যাশার ধাক্কার পর ‘টক্সিক’-এর ওটিটি স্বত্ব শেষ পর্যন্ত কত টাকায় বিক্রি হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

হামলার ঘটনার পর বাঁধন বললেন, ‘আমি এটার শেষ দেখে ছাড়ব’

ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। এ ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজনকে দায়ী করেছেন তিনি। ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানান বাঁধন।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় বাঁধন জানান, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন ও হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিতে নেবেন।

বাঁধন বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দেওয়া যারা, তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছেন। আমার জন্য আমার ছোট ভাইয়ের পরিবার ও তার ছোট্ট সন্তান যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে। এটা মেনে নেওয়ার মত নয়। আমি থানায় কেস ফাইল করবো। এখানকার অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।’

বাঁধন জানান, ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তাকে সহযোগিতা করেছে। এমনকি গত রাতে পুলিশ তাকে একটি নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। আজ বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে থানায় গিয়ে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।

অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি। বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর আমাকে ফোন করেছেন। তাঁর অফিস থেকেও লোক এসেছে। তাদের সঙ্গে আমি থানায় যাচ্ছি কেস ফাইল করতে।’

ঘটনার পর দেশ ও দেশের বাইরে থেকে যারা তার খোঁজ নিয়েছেন, তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘গতকাল থেকে ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর অনেক মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন। আমি কেমন আছি, কোথায় আছি—সব জানতে চাইছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।’

নিজের মানসিক দৃঢ়তার কথাও তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার মাথা কখনো নত করিনি। আমাকে ভেঙে ফেলা এত সহজ নয়। বাঁধন সাহস হারানোর জন্য জন্মায়নি।’

বাঁধন আরও বলেন, দেশের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সমর্থনে তিনি গর্বিত। তাঁর কথায়, ‘আমি মনে করি, আমি একজন গর্বিত বাংলাদেশি। কারণ আমার দেশের মানুষ আমার বিপদে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। এ জন্য সবার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।’

২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার বিষয়টিও নিজের বক্তব্যে তুলে ধরেন বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। আমি মনে করি, এটা আমার জীবনে নেওয়া কিছু সঠিক সিদ্ধান্তের মধ্যে একটি। আমি একজন গর্বিত জুলাইযোদ্ধা।’

তবে নিজের চেয়ে ছোট ভাই, তার স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুর সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাই তাঁকে বেশি নাড়া দিয়েছে বলে জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ভাই, তার স্ত্রী এবং তার তিন বছরের বাচ্চা যেভাবে অ্যাসল্টেড ও হ্যারাসড হয়েছে, সেটার জন্য আমি মারাত্মকভাবে আপসেট।’

শেষে বাঁধন আবারও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ়তার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটা শেষ, আমি দেখে ছাড়ব। সবাই ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।’

স্কুলে ভর্তি হলো ব্রিটিশ রাজপুত্র, বছরে ফি ১ কোটি টাকার বেশি

ব্রিটিশ রাজপুত্র জর্জ (১৩) মঙ্গলবার থেকে মর্যাদাপূর্ণ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইটন কলেজে পড়াশোনা শুরু করেছে। প্রথমদিনে বাবা প্রিন্স উইলিয়াম ও মা ক্যাথরিন তাকে স্কুলে পৌঁছে দেন।

হালকা বৃষ্টির মধ্যে রাজ পরিবারের সদস্যরা বিশ্বখ্যাত স্কুলটিতে পৌঁছালে তাদের স্বাগত জানান প্রধান শিক্ষক সাইমন হেন্ডারসন। ভবিষ্যতের রাজাকে (জর্জ) উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘স্বাগতম, শুভকামনা। উপভোগ করো।’

বাবা উইলিয়ামের পর ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবে জর্জ। ইটন কলেজে সে মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করবে। এজন্য বছরে ৮৫ হাজার ডলার বা ১ কোটি চার লাখ টাকার বেশি ফি দিতে হবে।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ইটন কলেজ থেকে পারিবারিক আবাসস্থল (পশ্চিম লন্ডনের উইন্ডসর) কয়েক কিলোমিটার দূরে হলেও জর্জ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির আবাসিক ছাত্র হিসেবে থাকবে। এর মধ্যে দিয়ে সে বাবা উইলিয়াম ও চাচা প্রিন্স হ্যারির পথ অনুসরণ করছে। তারা দুজনই বার্কশায়ার কাউন্টিতে অবস্থিত এই কলেজে পড়াশোনা করেছেন।

যুক্তরাজ্যের অন্তত ২০ জন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল ইটন। তাদের মধ্যে আছেন বরিস জনসন ও ডেভিড ক্যামেরন। এছাড়া অভিনেতা টম হিডলস্টন থেকে শুরু করে জেমস বন্ড চরিত্রের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিংও এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন।

ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরে কলেজটি অভিজাততন্ত্র ও শ্রেণিবৈষম্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। ১৪৪০ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করেন রাজা ষষ্ঠ হেনরি। এখানে মূলত ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীরা পড়াশোনা করে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৩৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়।

পড়ালেখার মাঝপথেই আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পাকিস্তান ছাড়ার নির্দেশ

পাকিস্তানে মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির চিকিৎসা শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা পাকিস্তান মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (পিএমডিসি)। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজগুলোতে নতুন করে আফগান শিক্ষার্থী ভর্তি, এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর ও মাইগ্রেশন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ করা হয়েছে।

পিএমডিসির এই নির্দেশের কারণে পাকিস্তানে পড়াশোনা করা আফগান শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে যারা কয়েক বছর ধরে মেডিকেল শিক্ষার মাঝপথে রয়েছেন, তাদের পড়াশোনা শেষ না করেই দেশে ফিরতে হতে পারে।

পাকিস্তানের সরকারি ও বেসরকারি- দুই ধরনের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানের জন্যই এ নির্দেশ প্রযোজ্য। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে পিএমডিসি জানায়, পাকিস্তানে আগে থেকে ভর্তি থাকা আফগান নাগরিকদের আফগানিস্তানে ফিরে যেতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা, অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের দেশে ফেরার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

আফগান শিক্ষার্থীদের তথ্যও পিএমডিসির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। যারা ইতিমধ্যে পড়াশোনা শেষ করেছেন, তাদের স্নাতক হওয়ার তথ্য এবং পাকিস্তান ছাড়ার বিষয়টিও নথিভুক্ত ও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

পড়াশোনার মাঝপথে অনিশ্চয়তা
পিএমডিসির নির্দেশের প্রভাব এরই মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দেখা যাচ্ছে। লাহোরের কিং এডওয়ার্ড মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে (কেইএমইউ) ২২ জন আফগান নাগরিক এ নির্দেশের আওতায় পড়েছেন। তাদের মধ্যে ২০ জন এমবিবিএস পড়ছেন। তারা দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ছয়জন শেষ বর্ষে রয়েছেন। অন্য দুজন সম্প্রতি পড়াশোনা শেষ করেছেন।

ফলে কয়েক বছর ধরে পাকিস্তানে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করা শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ডিগ্রি শেষ করার আগেই পড়াশোনা বন্ধ করে দেশে ফিরতে বাধ্য হতে পারেন।

এর আগে চলতি মাসেই আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে দেওয়া ডিগ্রি পাকিস্তানে নিবন্ধন, লাইসেন্স বা পেশাগত কাজে স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পিএমডিসি। সংস্থাটি জানায়, আফগানিস্তানের মেডিকেল ও ডেন্টাল প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের স্বীকৃত বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় নেই।

দুটি সিদ্ধান্তের ফলে পাকিস্তানে মেডিকেল শিক্ষায় যুক্ত আফগানদের ভর্তি থেকে শুরু করে পড়াশোনার মাঝপথ এবং ডিগ্রি শেষ করার পর পেশাগতভাবে কাজ করার ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তান-আফগানিস্তান সম্পর্কে টানাপোড়েন
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক সাম্প্রতিক সময়ে বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। ইসলামাবাদ বারবার অভিযোগ করে আসছে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানসহ (টিটিপি) বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী পাকিস্তানে তৎপরতা চালাচ্ছে। তবে কাবুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনাও ঘটেছে। এর প্রভাব পাকিস্তানে থাকা আফগান নাগরিকদের জীবনযাপন, পড়াশোনা ও কাজের ওপরও পড়ছে।

এদিকে আফগান মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করেনি পিএমডিসি। সংস্থাটি শুধু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীতিগত নির্দেশনা ও জাতীয় নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করেছে।

বিপত্তি ছাড়া একীভূত পাঁচ ব্যাংকের অর্থ ফেরত শুরু

দুর্দশাগ্রস্ত পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে। অর্থ ফেরতের প্রথম দিন গতকাল সােমবার ৬ হাজার আবেদনের বিপরীতে ২৫০ কােটি টাকা উত্তোলন হয়। এ ছাড়া ফুল ও মিষ্টি দিয়ে গ্রাহকদের বরণ করা হয়। ঘোষিত স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের আবেদনের ভিত্তিতে টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দিনে কোনো বিপত্তির খবর শোনা যায়নি।
ব্যক্তি আমানতকারীর প্রয়োজনীয় অর্থ ফেরত দিতে গত ১ থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনের সময় ছিল। চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের বাইরে মেয়াদি আমানতের টাকাও উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে কেউ মেয়াদি আমানতের পুরো অর্থ একবারে তুলে নিলে কোনো মুনাফা দেওয়া হবে না। এসব শর্তের আলোকে মোট ৭৪ হাজার ২২১ আবেদনের বিপরীতে তিন হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন জমা হয়।

আবেদন গ্রহণের প্রথম দিন গত ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা উত্তোলনের চাহিদা দেওয়া হয়। দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩ আবেদনের বিপরীতে এক হাজার ১৬ কোটি, তৃতীয় দিন ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং শেষ দিন রোববার ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলন করতে চাওয়া হয়।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, যারা ১ সেপ্টেম্বর আবেদন করেছিলেন গতকাল তাদের আসতে বলা হয়। তবে আবেদনকারীদের একটি অংশ আসেননি। কেউ কেউ জানিয়েছেন, আপাতত তারা টাকা তুলবেন না। মেয়াদি আমানতে মুনাফা দেওয়া হবে না এবং অর্থ ফেরত পেতে সমস্যা হবে না– এমন তথ্য পেয়ে তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, চাহিদা অনুযায়ী টাকা ফেরত দিতে পারছে এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই হয়তো আস্থার কারণে টাকা তুলবে না। আবার একবারে কেউ মেয়াদি আমানতের টাকা তুলে নিলে মুনাফা পাবে না।

আমানত ফেরত দিতে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য গত রোববার সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা ছাপিয়ে দেওয়ায় মূল্যস্ফীতির ওপর প্রভাব পড়বে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতিতে হয়তো খুব সামান্য প্রভাব পড়তে পারে। টাকা তুলতে না পেরে গ্রাহকের আর্তনাদ বিবেচনায় তা অনেক কম। আবার ব্যক্তি পর্যায়ের এসব আমানতকারী টাকা তুলে একবারে খরচ করে ফেলবে না। বড় অংশ ব্যাংকেই ফিরে আসবে। হয় এসব বিবেচনা করে ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ দিন ধরে আমানতকারীর জমানো টাকা ফেরত দিতে না পারায় অন্তর্বর্তী সরকার এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। ব্যাংক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে এসব ব্যাংকের অবস্থা খারাপ হয়। এক্সিম ব্যাংক ছিল নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। বাকি চার ব্যাংক ছিল বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের কর্তৃত্বে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার দেওয়া হবে। এর বাইরে আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা দিয়ে এসব ব্যাংকের আমানতকারীদের দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। পুরো অর্থ পর্যায়ক্রমে ফেরতের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি স্কিম ঘোষণা করেছে। ওই স্কিমের বাইরে ব্যক্তি আমানতকারীদের থেকে আবেদন নিয়ে এখন অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সমস্যাগ্রস্ত এই পাঁচ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংক এর আগে বিভিন্ন সময়ে মোট ৪৭ হাজার ৮৪ কোটি টাকার বিশেষ ধার দিয়েছে। সুদসহ এখন পাওনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে নতুন করে আরও পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে।

সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমাল সরকার ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য প্রতি কেজি ১.৬০ মার্কিন ডলার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রপ্তানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে।

সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রপ্তানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে পারবেন না।

রপ্তানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত
কোটা কমানোর পাশাপাশি রপ্তানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. রপ্তানি নীতি ২০২৪–২৭-এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে।
২. সংশ্লিষ্ট অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
৩. প্রতিটি চালান রপ্তানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।
৪. প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে।
৫. ভবিষ্যতে নতুন রপ্তানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রপ্তানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে।
৬. কোনো অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রপ্তানি করা যাবে না।
৭. আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন FOB রপ্তানিমূল্য ১.৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৮. অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রপ্তানি করা যাবে না।
৯. জনস্বার্থে সরকার যেকোনো সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে।
১০. রপ্তানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে PRC (Proceeds Realization Certificate) দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২শত ৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়।

সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রপ্তানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।

নতুন ব্যবস্থায় রপ্তানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রপ্তানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রপ্তানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রপ্তানি পরিচালনা করা।

ইতালিতে অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর হামলার নিন্দা এনসিপি নেতাদের দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি

ইতালির ভেনিসে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতারা। হামলার ঘটনায় তার প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ বলেন, ইতালির ভেনিসের একটি পার্কে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা বাঁধনের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণ যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, এ হামলা সেই পরাজিত ও নিষিদ্ধ রাজনৈতিক শক্তির পুরোনো সন্ত্রাসী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ।

তিনি আরও বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন জুলাইয়ের গণ-আন্দোলনে সাহসের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। দেশের মানুষের অধিকার ও স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশের দাবিতে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন। সেই মানুষটির ওপর হামলা প্রমাণ করে, পরাজিত সন্ত্রাসী শক্তি এখনো প্রতিশোধ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের রাজনীতি থেকে বের হতে পারেনি। হামলা করে, ভয় দেখিয়ে কিংবা সহিংসতা চালিয়ে অরাজকতা করে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। ইতালির মাটিতে বাংলাদেশের একজন নাগরিকের ওপর হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দেশটির প্রচলিত আইনে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নিতে হবে। আজমেরী হক বাঁধনের প্রতি আমাদের পূর্ণ সংহতি। জুলাইয়ের সহযোদ্ধাদের ওপর যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট।’

‘আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত’
অন্যদিকে, অভিনেত্রী বাঁধনকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার পোস্টে বলেন, দেশের মানুষকে স্বৈরাচারমুক্ত করার লড়াইয়ে এই অভিনেত্রীর সাহসী ভূমিকা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্বিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা আপনাকে আক্রমণ করেছে, তাদেরকে আপনি ‘বাঙালি ভাই’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। তারা যতটা না বাঙালি ভাই, তার চেয়ে বেশি খুনিদের দালাল, বিবেকবোধ বিক্রি করে দেওয়া একেকটা নরপশু। খুনি হাসিনা যদি ওই চৌদ্দ শ’ মানুষের মতো তাদের সন্তানদের, ভাইদের খুন করত, তারপরও তারা খুনি হাসিনার দালালি করত, পা চাটত। এদের শুধু মানুষের মতো একটা দেহ আছে, মনুষ্যত্ব পচে গিয়েছে। এদের থেকে আপনি এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করবেন না। এসবের জন্য বিন্দুমাত্র কষ্ট পাবেন না। নরপশুদের থেকে এর চেয়ে ভালো আর কী প্রত্যাশা করা যায়?’’

শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে: হুইপ দুলু

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে এলে জুলাই আন্দোলনে আহত ও নির্যাতিতরা তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত রয়েছেন। তিনি আরও বলেন, তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।

মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সংগঠনটির সভাপতি হুমায়ুন কবির বেপারীর সভাপতিত্ব করেন।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে দুলু বলেন, ‘সম্প্রতি তার এক বক্তব্যে শুনলাম, তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশে আসবেন। আসার কথা বলে তিনি মূলত দেশবাসীকে ভয় দেখাতে চান। তার বোঝা উচিত, দেশের মানুষ ভয় পায় না। বরং তাকে স্বাগত জানানোর জন্য এ দেশের পঙ্গু ও চক্ষু হারানো জুলাই যোদ্ধারা অপেক্ষা করছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তিনি সোনা মসজিদ বর্ডার দিয়ে আসুন, এয়ারপোর্ট দিয়ে আসুন অথবা বেনাপোল দিয়ে আসুন—তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নির্যাতিত-নিপীড়িতরা প্রস্তুত থাকবে।’

দুলু দাবি করেন, দীর্ঘদিনের শাসনে দেশের রাজনীতি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষ খুন ও গুমের শিকার হয়েছেন এবং অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। তবে এ সংকট একদিনে তৈরি হয়নি। দীর্ঘ ১৮ বছরের শাসনামলে ধীরে ধীরে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। ফলে তিন বা ছয় মাসের মধ্যে এর সমাধান সম্ভব নয়; এজন্য সময় প্রয়োজন।

বিরোধী দলের উদ্দেশে দুলু বলেন, আন্দোলন-সংগ্রাম করে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানে সুপরামর্শ প্রয়োজন। তিনি বিরোধী দলের কাছ থেকে দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন।

বিএনপির গুরুত্ব তুলে ধরে দুলু বলেন, বিএনপি না থাকলে তিনি দুলু হয়ে উঠতে পারতেন না। সম্মান, পরিচিতি, হুইপ ও মন্ত্রী হওয়ার পেছনে বিএনপির অবদান রয়েছে। বিএনপির বয়স ৪৮ বছর এবং আমার রাজনীতির বয়সও ৪৮ বছর উল্লেখ করে দলটিকে ‘বটবৃক্ষ’ হিসেবে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের অবদান শ্রেষ্ঠতম। এ অবদানের জন্য তিনি জিয়াউর রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবুল আহমেদ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কাজী রফিক। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন লেখক ও সাংবাদিক কালাম ফয়েজী, মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সভাপতি সৈয়দ মোজাম্মেল হোসেন শাহিন, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সাবেক সভাপতি হুমায়ুন কবির, ইঞ্জিনিয়ার শোয়েব কোরেশী ও এসএম কমর উদ্দিন।

সভা শেষে লেখক কালাম ফয়েজী তার লেখা ‘বীর রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান’ গ্রন্থটি প্রধান অতিথি রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর হাতে তুলে দেন।

আপিল বিভাগে কী ঘটেছিল, জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বক্তব্যের একপর্যায়ে এজলাস ত্যাগ করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের চার বিচারপতি। মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ ঘটনা ঘটে।

প্রধান বিচারপতি কেন এজলাস ত্যাগ করেন এবং ওই সময় আদালতে কী ঘটেছিল, তা সাংবাদিকদের কাছে ব্যাখ্যা করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

ঘটনার সূত্রপাত হওয়া মামলার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০১৩ সালে একজন কাজি নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিষয়টির সূত্রপাত। ওই ঘটনায় একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদী পাঁচটি রিট করেন। তবে আগের রিট খারিজের আদেশ পরবর্তী রিটে উল্লেখ করা হয়নি। এ কারণে মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ ওই রিটের এক নারী আইনজীবীকে পাঁচ লাখ টাকা এবং রিট আবেদনকারীকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই অর্থ সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ওই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ছিলেন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। সকালে যখন আদেশ দেওয়া হয়, তখন নারী আইনজীবী তাঁর পাশে বসে আদেশ শুনেছেন। তবে ওই সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, সকাল সোয়া ৯টার দিকে ওই মামলার আদেশ হয়। পরে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে অন্য একটি মামলার শুনানির সময় মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই মামলায় জরিমানা আরোপের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘একজন আইনজীবীকে আপনারা ফাইন করেছেন।’

এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি বলেন, আদালত সবকিছু পর্যালোচনা করেই আদেশ দিয়েছেন এবং সেই আদেশ পরিবর্তন করা হবে না। আদালতের মতে, মামলায় ‘সিরিয়াস ফ্রড’ বা গুরুতর প্রতারণা করা হয়েছে। এমনকি আপিল বিভাগের আগের আদেশও গোপন করা হয়েছে বলে আদালত মনে করেছে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় প্রধান বিচারপতি মাহবুব উদ্দিন খোকনকে এ বিষয়ে আর কথা না বলতে বলেন। এরপর খোকন মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, প্রথমে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি কিছুটা হালকাভাবে নেন। পরে তিনি খোকনের কাছে জানতে চান, তিনি কি সত্যিই এমনটা বোঝাতে চেয়েছেন। খোকন একই বক্তব্য দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, তাঁর এ বক্তব্য ‘অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল’। এরপর তিনি বলেন, এত বড় কথা বলার পর তিনি আর ওই দিনের আদালতের কার্যক্রমে অংশ নেবেন না।

এ কথা বলেই প্রধান বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল। পরে তাঁর সঙ্গে আপিল বিভাগের আরও তিন বিচারপতিও এজলাস ছেড়ে যান।

এ ঘটনার বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতিই আইনজীবীদের অভিভাবক। আদালতে আইনজীবী ও বিচারপতিদের মধ্যে কোনো কোনো সময় ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। এমনকি বিচারপতিরা কখনো কখনো আইনজীবীদের বকাঝকাও করেন। তবে এসব বিষয় আদালতের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখন রাষ্ট্রের প্রতি, সমাজের প্রতি এবং জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করব, তখন এই দায়িত্ববোধ আমাদের সবার মধ্যে থাকা উচিত।’