Home Blog Page 5

ডেঙ্গুতে সেপ্টেম্বরের ১১ দিনে আগস্টের চেয়ে বেশি মৃত্যু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা

চলতি মাসের প্রথম ১১ দিনেই ডেঙ্গুতে ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগস্টে মৃত্যুর সংখ্যার চেয়ে বেশি। আগস্টে এডিস মশাবাহিত এই রোগে মারা গিয়েছিল ৪৩ জন। এ নিয়ে চলতি বছর মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪১।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে ডেঙ্গুতে দুজন মারা গেছেন। একই সময়ে ৭৯০ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুজনের একজন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার এবং অন্যজন চট্টগ্রাম বিভাগের বাসিন্দা। চলতি বছর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ এ বিভাগে মারা গেছেন ৭২ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৫, ময়মনসিংহে ১৪, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১০, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ২৪৯ জন। চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯৬, ময়মনসিংহে ৭৩, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৬২, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬১, খুলনায় ৬০, রংপুরে ৩৮, রাজশাহীতে ৩৩ ও বরিশালে ১৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত মোট ৪৯ হাজার ২২০ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৭৮৮ জন। এ নিয়ে এ বছর মোট ৪৫ হাজার ৬৪৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

ফরিদপুরে প্রকোপ বাড়ছে
সমকালের ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, ফরিদপুরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ছে। ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ৩১ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের হিসাবে, বর্তমানে জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ৮৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। এ বছর ফরিদপুরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
সিভিল সার্জন মাহমুদুল হাসান বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় জেলার প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও ওষুধের ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি জমে থাকা পানি দ্রুত অপসারণ করতে হবে।

সামনে আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি এখনও শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছায়নি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে। বৃষ্টি, তাপমাত্রা ও এডিস মশার প্রজননের অনুকূল পরিবেশের কারণে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরজুড়ে সংক্রমণ বাড়তে পারে। ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবরের প্রথমদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান জোরদার করা হবে বলেও জানান তিনি।

আজ থেকে অভিযান
বাসস জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সব বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জামায়াত আমির বললেন জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে

জাতির কাঁধে অপসংস্কৃতি চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, প্রতিটি জাতির নিজস্ব সক্রিয় সংস্কৃতি থাকে। আমরা নিজস্ব সংস্কৃতির লালন এবং ধারণ থেকে অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। অপসংস্কৃতি আমাদের ঘাড়ে চেপে বসেছে। একে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ বলে।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় জাদুঘরে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। সাংস্কৃতিক অধঃপতনে সমাজে বিশৃঙ্খলা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, যার কাছ থেকে শিখব, তাঁকে সম্মান করব। কিন্তু এখন আমাদের সংস্কৃতি কী শিক্ষা দিচ্ছে? কলেজের অধ্যক্ষ যিনি, তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে পুকুরে ফেলা! এই দৃশ্য অপসংস্কৃতির প্রভাব। সন্তানদের মানুষ বানাতে সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন– জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

শিবিরের ‘রোড টু সিরাহ’
১৩ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ছাত্রশিবিরের ‘রোড টু সিরাহ-২০২৬’ প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়েছে। সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে শুক্রবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সংগঠনটির আয়োজনে সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান হয়।
শিবির সভাপতি নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান। ছিলেন আল্লামা কামাল উদ্দিন আব্দুল্লাহ জাফরী, তামিরুল মিল্লাত মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা জয়নুল আবেদিন, বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক শামছুল আলম প্রমুখ।

রাজনীতিতে ভালো ও সৎ মানুষের আসা প্রয়োজন সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।

গতকাল শুক্রবার সংসদ ভবনে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।
মন্ত্রী বলেন, রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, বরিশালের ঐতিহ্য অতুলনীয়। ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।

গুদামে সার আছে, তবুও কৃষক পাচ্ছেন না

সরকারের দাবি, গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। যা দিয়ে আগামী কয়েক মাস চাহিদা মেটানো সম্ভব। একই সঙ্গে আমদানির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। তারপরও প্রয়োজনের সময়ে সার পাচ্ছেন না অনেক কৃষক। কোথাও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। কোথাও সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে। আবার কোথাও ডিলারের গুদামে সার না থাকার কথা বলা হলেও পরে সেই সার অন্যত্র বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠছে।

এ নিয়ে গত এক মাসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন, উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ঘেরাও এবং সড়ক-মহাসড়ক অবরোধ করেন। কয়েকটি এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়েছে, ডিলারের গুদামের দরজা ও বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

গত ১০ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারের দাবিতে অন্তত ১৫টি পৃথক কর্মসূচি পালন করেছেন কৃষকরা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে উত্তরাঞ্চলের কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাটে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে অসন্তুষ্ট হয়ে সার উত্তোলন ও বিতরণে অসহযোগিতা করেছেন। আবার মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযোগে উঠে এসেছে, ডিলারদের একাংশের নিয়ন্ত্রণ, খুচরা বাজারে বেশি দামে বিক্রি এবং স্থানীয়ভাবে সার আটকে রাখার কারণে কৃষকের কাছে প্রয়োজনের সময় সার পৌঁছাচ্ছে না।

এক মাসে যত বিক্ষোভ
১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে সরকার নির্ধারিত দামে পর্যাপ্ত সার না পাওয়ার অভিযোগে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করেন কয়েক হাজার কৃষক। ১২ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে সার সংকটের প্রতিবাদে রহনপুর ইউনিয়নের শত শত কৃষক উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ করেন এবং ইউএনওর কার্যালয় ঘেরাও করেন।

২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার নিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও না পেয়ে কৃষকরা এক ডিলারের গুদামে ঢুকে সার নিয়ে যান। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ওই ডিলারের নামে ৩৪০ বস্তা সার উত্তোলন করা হয়েছিল; এর মধ্যে প্রায় ২০০ বস্তা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

৩০ আগস্ট দিনাজপুর প্রেস ক্লাবের সামনে সার নিয়ে সিন্ডিকেট দূর করা, প্রয়োজনীয় সার সরবরাহ ও সংকট নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন হয়। ৩১ আগস্ট রংপুরের মিঠাপুকুরে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ, সংকটের স্থায়ী সমাধান ও হয়রানি বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন হয়। একই দিন রংপুর নগরীর খামার মোড়েও সার নিয়ে কর্মসূচি হয়।
২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর সোনাহাট বাজারে সার না পাওয়ার প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। ৫ সেপ্টেম্বর ঝিনাইদহের শৈলকুপার গাড়াগঞ্জে রাসায়নিক সার না পেয়ে গাছের গুঁড়ি ফেলে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা। পরদিন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর কচাকাটা বাজারে প্রায় ২০০ কৃষক সার পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ডিলারের লোকজন সময়মতো না আসায় কয়েকজন কৃষক গুদামের টিনের বেড়া ভাঙচুর করেন।

৭ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কুড়িগ্রামের রৌমারীর বন্দবেড় বাজারে সার নিতে ভোর থেকে অপেক্ষা করেন কৃষকরা। বিতরণে দেরি হওয়ায় গুদামের টিনের বেড়া ও দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়েন। ডিলারের দাবি, প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একই দিন কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেন এবং এক পর্যায়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কিছু সময় অবরুদ্ধ করে রাখেন। ওই দিন রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে প্রায় ৩০০ কৃষক পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও খুচরা বাজারের কথিত সিন্ডিকেট ভাঙার দাবিতে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন। লালমনিরহাটেও একই দিনে সার সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করেন কৃষকরা।

কৃষকের হাতে নেই কেন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে মোট ১২ লাখ ২২ হাজার টন সার মজুত ছিল। এর মধ্যে ইউরিয়া চার লাখ ২৭ হাজার, ডিএপি তিন লাখ ৩২ হাজার, এমওপি এক লাখ ১৭ হাজার এবং টিএসপি তিন লাখ ৫২ হাজার টন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সারের চাহিদা ও সম্ভাব্য সরবরাহের হিসাবও করেছে মন্ত্রণালয়। অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার ধরনের সারের মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৪০ লাখ ২৯ হাজার টন। বিপরীতে সম্ভাব্য সরবরাহ ৫৩ লাখ ৭১ হাজার টন। অর্থাৎ, চাহিদার চেয়ে প্রায় ১৩ লাখ ৪২ হাজার টন বেশি সার সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সময়ে ইউরিয়ার চাহিদা ১৭ লাখ ২২ হাজার টন, বিপরীতে সরবরাহের সম্ভাবনা ২০ লাখ সাত হাজার টন। ডিএপির চাহিদা ১১ লাখ ২৩ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১৩ লাখ ৪৮ হাজার টন। এমওপির চাহিদা ছয় লাখ ৬৯ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ১০ লাখ ৮২ হাজার এবং টিএসপির চাহিদা পাঁচ লাখ ১৫ হাজার টনের বিপরীতে সরবরাহ ৯ লাখ ৩২ হাজার টন। বর্তমানে আমদানি করা প্রায় চার লাখ ৫৯ হাজার টন সার পরিবহনাধীন। আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরকারি পর্যায়ে আমদানি ও বেসরকারি আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আরও ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার টন।
কৃষকরা বলছেন, সরকার সংকট নেই বলে জানালেও প্রয়োজনের সময় ডিলারের দোকানে সার পাওয়া যায় না।

সার বিতরণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। আগের ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একজন প্রধান ডিলারের মাধ্যমে সার বিতরণ হতো। সেই ডিলারের কাছ থেকে খুচরা বিক্রেতারা সার নিয়ে কৃষকের কাছে বিক্রি করতেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো এলাকায় একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল। ফলে একটি এলাকায় সার সরবরাহের ওপর অল্প কয়েকজনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়।

বিগত সরকারের সময়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারদের মাধ্যমে সার বিতরণের পাশাপাশি বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সম্পর্কিত ডিলারদের নিয়েও একটি আলাদা কাঠামো ছিল। মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই ব্যবস্থায় প্রতিযোগিতা ও সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল।

বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থা পরিবর্তন করে নতুন ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা করেছে। নতুন ব্যবস্থায় একটি ইউনিয়নে একাধিক ডিলার এবং খুচরা বিক্রেতা রাখার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর ফলে আগের একক নিয়ন্ত্রণ কমবে এবং কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর সুযোগ বাড়বে– এমনটাই সরকারের লক্ষ্য।
কিন্তু এখানেই তৈরি হয়েছে নতুন দ্বন্দ্ব। পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ নতুন ব্যবস্থায় তাদের একচেটিয়া ব্যবসা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, নতুন ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বাজারে ঢোকার সুযোগ পাওয়ায় পুরোনোদের সঙ্গে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন নীতিমালা বাস্তবায়নে দেরি হওয়া এবং পুরোনো ডিলারদের একটি অংশের অসহযোগিতার কারণে কয়েকটি জেলায় বরাদ্দ করা সার পুরোপুরি উত্তোলন হয়নি। মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানে জুলাই ও আগস্টে কয়েকটি জেলার ডিলারদের বরাদ্দের তুলনায় কম সার উত্তোলনের বিষয়টি উঠে এসেছে বলে সূত্রটির দাবি।
এই বিষয়ে ১৫ জেলার কৃষি কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। চারজন জেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার এবং আরও চারজনকে স্ট্যান্ড রিলিজ করার কথাও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
কুড়িগ্রাম অঞ্চলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সার ডিলার বলেছেন, প্রভাবশালী একটি মহল সার বিতরণ ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করছে। গুদামে সার আসার পর নির্দিষ্ট সংখ্যক বস্তা ওই মহলকে দিতে হয়। পরে তারা বেশি দামে সার বিক্রি করে।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথও বলেছেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেশি সার দেওয়া হলেও কিছু অসাধু ব্যক্তির কারণে পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। তিনি জানান, নতুন বা যেসব খুচরা বিক্রেতা এখনও পুরোপুরি কার্যক্রমে আসেননি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদেরও কিছু পরিমাণ সার দেওয়া হচ্ছে এবং অতিরিক্ত সার আনার চেষ্টা চলছে। এর পরও স্থানীয় পর্যায়ে চাহিদা থেকে যাচ্ছে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মোহাম্মদ সাইদুর রহমান মনে করেন, গুদামে সার থাকা আর কৃষকের হাতে সার পৌঁছানো এক বিষয় নয়। সরকার যদি বলে মজুত আছে, তাহলে বিতরণ ব্যবস্থার দুর্বলতা কোথায়– তা চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, সার বিতরণের প্রতিটি ধাপ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক যদি ডিলারের গুদাম থেকে সার না পেয়ে পরে খোলাবাজারে বেশি দামে কিনতে বাধ্য হন, তাহলে শুধু জাতীয় মজুতের হিসাব দিয়ে সংকটের দায় এড়ানো যায় না।

২০৪ মোবাইল কোর্ট, উদ্ধার ১৭০০ বস্তা
সার নিয়ে চলমান পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে অভিযান জোরদার করেছে সরকার। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ দিনে সারাদেশে ২০৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২৪ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। লুট হওয়া প্রায় এক হাজার ৭০০ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়েছে। চারজনকে কারাদণ্ড এবং পাঁচজনের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৬৪ জেলায় একজন করে মনিটরিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণ ও উত্তরণের উপায় খতিয়ে দেখতে দুজন যুগ্ম সচিব ও দুজন উপসচিবের সমন্বয়ে চার সদস্যের তদারকি কমিটি করা হয়েছে। সব জেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপও করা হয়েছে, যেখানে সারসংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত আদান-প্রদান করা হচ্ছে।
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, অনিয়মে অভিযুক্ত ডিলারদের তালিকা করা হচ্ছে এবং নীতিমালা ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান সমকালকে বলেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সম্প্রতি সারের সংকট নিয়ে যেসব ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর পেছনে সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে কৃত্রিম অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসৎ ডিলারসহ একটি মহল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। তবে সরকার কৃষকদের চাহিদা নিরূপণ করে প্রতিটি জেলায় সার সরবরাহ করেছে এবং ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পর্যাপ্ত সার থাকবে। মজুত ও আমদানি নিয়ে কোনো সমস্যা নেই; সমস্যা তৈরি করছে পুরোনো ডিলারদের একটি অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সত্যের অপলাপ

।।শিতাংশু গুহ, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, নিউইয়র্ক।।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দুদের বলেছেন, ‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশী’। বেগম খালেদা জিয়া, হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, জিয়াউর রহমান-র মুখে এমন কথা দেশবাসী বারংবার শুনেছে। শেখ হাসিনা’র মুখে দেশবাসী শুনেছে, ‘সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরু নয়, আমরা সবাই বাঙ্গালী’। বক্তব্য একই, তফাৎ শুধু বাঙ্গালী ও বাংলাদেশিতে -ওদিকে যাচ্ছিনা, কথা হচ্ছে, সরকার প্রধানরা যখন বারবার জেনেশুনে অসত্য বলেন, তখন ঐদেশের আর কিছু থাকেনা, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের অবস্থা তাই মাদ্রাসার বলাৎকার হওয়া অবোধ শিশুটি’র মত!

 

এমন দৃষ্টান্ত কেন দিলাম? কারণ, হুজুরের আক্রমনের কাছে মাদ্রাসার শিশুটি যেমন ‘অসহায়’, তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নামক অত্যাচারে রাষ্ট্রযন্ত্রটি অসহায়- এরশাদ, বেগম জিয়া, শেষ হাসিনা পুন্:পুন্: ধর্মের নামে রাষ্ট্রের শ্লীলতাহানি করেছেন। শেখ হাসিনা সুযোগ পেয়েছিলেন এ যন্ত্রনা থেকে রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে, তিনি সেই সুযোগ নেননি, ফলশ্রুতিতে তিনি দেশান্তরী, এবং রাষ্ট্রের চেহারাটি অতি ‘কদর্য’। এ মুহূর্তে দেশে পরাজিত শক্তির যে আস্ফালন, কলেমার পতাকা উত্তোলন, তালেবানি হুঁশিয়ারি, সবই শেষ হাসিনা’র উদারতার অবদান ও আত্মপ্রবঞ্চনার ফলশ্রুতি।

 

শেখ হাসিনা দেশকে অনেক কিছু দিয়েছেন, ইসলামী মৌলবাদী শক্তি উত্থানের সুযোগও তিনিই করে দিয়েছেন। তিনি দেশকে ‘মদিনা সনদ’ অনুসারে চালাতে চেয়েছেন, দেশ এখন মদিনা সনদ অনুসারে চলছে, যেখানে তিনি অবাঞ্ছিত। এতকিছুর পরও দেশ এখন আবার তাঁকেই চায়, তিনিই ভরসা, হয়তো তিনি তার ভুল উপলব্ধি করেছেন, হয়তো করেননি, হয়তো ভবিষ্যতে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, আসলে কি ঠিক হবে? বাংলাদেশের মানুষ বুঝবে কবে যে, ধর্ম দিয়ে রাষ্ট্র চলে না, এজন্যে বিশ্বের সবগুলো মুসলিম রাষ্ট্র ব্যর্থ, এঁরা হয় আমেরিকা বা চীনের ‘পা’ ধরে বসে আছে?

 

যাহোক, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য প্রচলিত গৎবাঁধা কথাবার্তা। বিএনপি’র ২০০১-২০০৬ শাসনামল হিন্দুদের জন্যে ‘আতঙ্কের’ ছিলো। বর্তমান শাসনামলে হিন্দুরা পথেঘাটে খুন হচ্ছে, রংপুরের একই পরিবারে ৪খুনে সরকারের ভূমিকা হতাশাব্যঞ্জক ও বিতর্কিত। চিন্ময় কৃষ্ণ দাস-কে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। রংপুরে হরিদাস চন্দ্র তরনিদাসকে ভুয়া মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। রামমুর্ক্তি নির্মাণ অবৈধভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, যারা বলেন, ‘মাটির পুতুল’ তারা মাটির তৈরী রামে এত ভয় পাচ্ছেন কেন, বোঝা যাচ্ছেনা?

 

প্রয়াত: সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত অনেকদিন আগে বলেছিলেন, হিন্দু বিতারণ কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি-জাতীয় পার্টি বা জামাত সবাই একজোট। তারেক জিয়ার আমলেও সেটি থেমে নেই? তারেক জিয়ার উপদেষ্টা সচিব জনাব রাশেদ একদা রাজপথে শ্লোগান দিয়েছিলেন, ‘ভারত যাদের মামা বাড়ী, বাংলা ছাড়ো তাড়াতাড়ি’। সরকারের মধ্যে ‘ভুত’ থাকলে, কোন সর্ষে-তেই কাজ হয়না, এটি বিএনপি সরকার, জামাত বা জাতীয় পার্টি বা এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের জন্যেও প্রযোজ্য, কারণ বাংলাদেশে কোন সরকারই অসাম্প্রদায়িক ছিলোনা, এখনো নয়?

জয়পুরহাট ও ফুলবাড়ী হিমাগারে আলু রেখে লোকসানে চাষি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার আঁওড়া গ্রামের মকবুল হোসেন গত মৌসুমে পাঁচ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। সে সময় বিক্রি না করে সব আলু রেখেছিলেন হিমাগারে। কিন্তু এখন লাভ তো হচ্ছেই না, উল্টো লোকসানের কারণে চোখে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

গত সোমবার সকালে এম ইসরাত হিমাগার গেটে কথা হয় মকবুল হোসেনের সঙ্গে। তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘বেশি দামে বিক্রির আশায় সব আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন বিক্রি করলেই বস্তাপ্রতি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণ শোধ করা দূরের কথা, দিন দিন দেনার বোঝা বেড়েই চলেছে। কী করব, কূলকিনারা পাচ্ছি না।’

বেশি দামের আশায় পুনট হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন সড়াইল গ্রামের কৃষক মোকলেছুর রহমান। আলু বিক্রি করতে এসে হিমাগারের ভাড়ার কথা ভেবে তিনি বিক্রি না করে ফিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। তিনি বলেন, তখন আলু বিক্রি করলে আজ হিমাগারের ভাড়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে হতো না।

শুধু মকবুল হোসেন কিংবা মোকলেছুর রহমানই নন; তাদের মতো জেলার অনেক চাষি হিমাগারে আলু রেখে বিপাকে পড়েছেন। তাদের সঙ্গে বিপদে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিকরাও। দাম কম হওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ীরা আলু উত্তোলন না করায় খরচ বেড়েছে হিমাগার মালিকদের। লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা চাষি, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলার ২২টি হিমাগারে এবার ২ লাখ ১৬ হাজার টন আলু সংরক্ষিত রয়েছে। দাম কম হওয়ায় এখনও সিংহভাগ আলু হিমাগারেই রয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এত আলু বাজারে বের করতে হলে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এতে আলুর দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে নতুন মৌসুমে আগাম আলু রোপণ শুরু হয়েছে। এই আলু বাজারে এলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমে যাওয়ার ভয়ে আছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

আলু ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে আলুর যে দাম, তাতে বস্তাপ্রতি গড়ে ৪০০ টাকা লোকসান হচ্ছে। ঋণের বোঝাও বেড়ে গেছে। সিসি ঋণ এবার নবায়নই করতে পারিনি। ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে গেছে। সরকার দ্রুত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নিলে বাজারদর কিছুটা বাড়তে পারে। তাতে লাভ না হলেও অন্তত মূলধন রক্ষা করা সম্ভব হবে।’

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজু আলম সরকার বলেন, গত মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আলু উৎপাদন হয়েছে। সরবরাহ বেশি থাকায় প্রত্যাশিত দাম পাওয়া যাচ্ছে না।

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু নিয়ে বিপাকে আছেন। চাহিদা কম থাকায় বাজারে আলুর দাম কম। ফলে হিমাগারে মজুত রাখা আলু উত্তোলন করছেন না কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন, পরিবহন, হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজি ওজনের বস্তায় গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের।

উপজেলার বারাইপাড়া গ্রামের মকছেগ আলী, আমড়া গ্রামের রশিদ মণ্ডল ও খড়মপুর গ্রামের আবদুল মালেকসহ কয়েকজন চাষি জানান, আলুর বাজার নিম্নমুখী হওয়ায় তারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করলে বস্তাপ্রতি গড়ে ৪৫০ টাকা লোকসান হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত মৌসুমে উপজেলায় এক হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে ৩৭ হাজার ২৫০ টন।

এদিকে, আমন ধানের মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষকদের জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরিসহ বিভিন্ন খরচ মেটাতে অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময় হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে এসব খরচ মেটান চাষিরা। কিন্তু এ বছর দাম কম থাকায় আলু বিক্রি করতে না পারায় একদিকে হিমাগারে মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের অর্থ জোগাড়েও সংকট দেখা দিয়েছে।

আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও লাভ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে প্রতি ট্রাকে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা এবং বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী কেনাবেচা করছেন না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উৎপাদন বেশি হওয়ায় আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষক যাতে যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

পরিবার ঘরজুড়ে এখন পাঁচ শিশুর কোলাহল

দশ বছর ধরে অপেক্ষা। কত প্রার্থনা, কত আকাঙ্ক্ষা! সন্তানের মুখ দেখার স্বপ্ন নিয়ে দিনের পর দিন কেটেছে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাজালিয়া এলাকার এনি আক্তার ও ওয়াহিদুল ইসলামের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে। একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের মুখ দেখেন।

দুটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। নাম ফাহাদ, হাদী, জান্নাত, সুমি ও আরিশফা। এখন এই দম্পতির ঘরজুড়ে পাঁচ শিশুর কোলাহল। ওরা মাতিয়ে রাখছে পুরো পরিবার। সবচেয়ে খুশির খবর, জন্মের ৯ মাস পর ওরা পাঁচ ভাইবোন সুস্থ আছে। শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ঘটছে ঠিকমতো।

১০ বছরের অপেক্ষা
বিয়ের পর সন্তান চেয়েছিলেন এনি ও ওয়াহিদুল। কিন্তু এক বছর, দুই বছর করে কেটে যায় সময়। একসময় সেই অপেক্ষা গড়ায় এক দশকে। সন্তানের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা থাকলেও পূরণ হচ্ছিল না তাদের স্বপ্ন। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তারা। স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমির পরামর্শে কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতি আইইউআই বা ইন্ট্রা-ইউটেরাইন ইনসেমিনেশন পদ্ধতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এই কৃত্রিম পদ্ধতিতে স্বামীর ভালো মানের শুক্রাণু সরাসরি এনির জরায়ুতে প্রবেশ করানো হয়।

এনি-ওয়াহিদুলের ক্ষেত্রে প্রথম চেষ্টাতেই আসে সাফল্য। এনি অন্তঃসত্ত্বা হন। তবে কিছুদিন পরই জানতে পারেন, তাঁর গর্ভে একটি নয়, পাঁচটি সন্তান বেড়ে উঠছে। এমন খবর আনন্দের হলেও এর সঙ্গে ছিল শঙ্কা। কারণ, একসঙ্গে এতগুলো শিশু গর্ভে থাকলে গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পাঁচটি ছোট্ট প্রাণ
নির্ধারিত সময়ের আগেই গত বছরের ৮ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পাঁচ শিশুর জন্ম হয়। দুজনের ওজন ছিল মাত্র এক কেজি। অন্য তিনজনের ওজনও দেড় কেজির কাছাকাছি। পাঁচ নবজাতককে নেওয়া হয় নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ)।

চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমি বলেন, একই সঙ্গে পাঁচ নবজাতকের অস্ত্রোপচার করা ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তাদের প্রত্যেকের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। তাঁর ভাষায়, ‘মায়ের গর্ভে একসঙ্গে পাঁচ শিশু থাকায় অস্ত্রোপচার করতে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। তাছাড়া এটি ছিল ওই দম্পতির বিয়ের ১০ বছর পর প্রথম প্রসব। সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি তখন খুবই জটিল ছিল।’

চিকিৎসক সুমি বলেন, জন্মের পরপরই শিশুদের এনআইসিইউতে নিতে হয়েছিল। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর পাঁচ শিশুকে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি নিয়ে যান তাদের মা।

ঝুঁকি ছিল অনেক
চিকিৎসক ফরিদা ইয়াসমিন সুমি আরও বলেন, একসঙ্গে একাধিক সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে অপরিণত জন্ম ও কম ওজন বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এসব শিশুর ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও মস্তিষ্ক পুরোপুরি পরিণত না-ও হতে পারে। তাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাও তুলনামূলক দুর্বল থাকে। সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তিনি বলেন, এত কম ওজন নিয়ে জন্মের পর পাঁচ শিশুই পুরোপুরি সুস্থভাবে বেড়ে উঠছে। এটি সত্যিই আনন্দের ব্যাপার।

ঘরজুড়ে শুধু আনন্দ
এনি ও ওয়াহিদুল এখন সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত। ঘুমের সময় কমেছে। তবে আনন্দ বেড়েছে।

এনি বলেন, ‘আমি চাইতাম আমার একটা সন্তান হবে। ও আমাকে মা বলে ডাকবে। আল্লাহর কাছে সন্তান চেয়ে কত কান্নাকাটি করেছি! বিয়ের ১০ বছর পর আমার কোলজুড়ে এলো পাঁচ সন্তান। ওরা এখন মা মা মা, বাবা বাবা বলে ডাকে। এই ডাক শুনে কী যে ভালো লাগে!’

ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা প্রার্থনা করি, যেন আমাদের এই পাঁচ সন্তান সুস্থ থাকে। একসঙ্গে হেসে-খেলে বেড়ে ওঠে।’

রুনা লায়লাকে নিয়ে গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন খবর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তানি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রুনা লায়লার সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে ভুয়া খবর ও এআই দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোর বিরুদ্ধে ক্ষোভ জানান।

তানি লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে তিনি ‘সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ’ হয়ে পড়েছেন।

তিনি আরও লেখেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কনটেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করব—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

মায়ের দীর্ঘ সংগীতজীবনের কথাও স্মরণ করেন তানি। তিনি বলেন, ‘আমার মা তাঁর জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনো তাঁকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন জানিয়ে তানি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে তানি আরও বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব ছড়ানোর এমন ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারকাদের নিয়ে এআইনির্ভর ভুয়া ভিডিও ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এতে অনেক সময় তারকা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও সংগীতের অনুষ্ঠানে সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে আয়োজিত দুটি কনসার্টে গান পরিবেশন করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও সংগীত পরিবেশন করেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

সন্তানদের তারকাখ্যাতির সঙ্গে কেন পরিচয় করাতে চান না প্রীতি

আট বছর পর বলিউডে ফিরেছেন অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। তবে দীর্ঘ এই বিরতিতে সিনেমাকে মোটেও মিস করেননি বরং এই সময়টাকে পরিবার, সন্তান এবং মাতৃত্ব উপভোগ করার সুযোগ হিসেবে দেখেছেন অভিনেত্রী। তার মতে, ১৮ বছর বয়স থেকে টানা কাজ করার পর জীবনে প্রথমবার বড় একটি বিরতি নিয়েছিলেন তিনি। আর সেই বিরতিই তাকে জীবনের অন্য একটি অধ্যায় আবিষ্কারের সুযোগ দিয়েছে।

‘ভাইব’ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘ইন্ডিয়া টুডে’র সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রীতি বলেন, ‘সিনেমাকে মিস করেছেন—এমনটা বললে মিথ্যা বলা হবে। ১৮ বছর বয়সে অভিনয় শুরু করার পর দীর্ঘদিন টানা কাজ করেছেন তিনি। তাই এবার পরিবার ও সন্তানকে সময় দেওয়াই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল।’

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সময় জীবন অনেকটা ধীর গতির মনে হয়েছে প্রীতির। তবে এই জীবনে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মা হিসেবে। প্রীতি ও তার স্বামী জিন গুডএনাফের যমজ সন্তান জিয়া ও জয়ের বয়স এখন চার বছর। সন্তানদেরও এখন তারকাখ্যাতির সঙ্গে পরিচয় করাতে চান না অভিনেত্রী।

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি বলেন, ‘সন্তানদের যতটা সম্ভব সাধারণ পরিবেশে বড় করতে চাই। তাদের শৈশব যেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে না আসে, সেটি ইচ্ছা। মা হওয়া জীবনের সবচেয়ে বড় দায়িত্বগুলোর একটি। এর জন্য অনেক ধৈর্য ও সময় প্রয়োজন, যা এখনও শিখছি।’

দীর্ঘ বিরতির পর ফেরার সিদ্ধান্ত হঠাৎ করে নেওয়া হয়নি। উপযুক্ত চরিত্র ও গল্প সামনে আসার পরই কাজে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয় তার। পরপর দুটি সিনেমায় দেখা যাচ্ছে তাকে। ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর পর এবার কুনাল খেমুর পরিচালনায় ‘ভাইব’-এ অভিনয় করেছেন প্রীতি। সিনেমাটিতে প্রথমবারের মতো তাকে অ্যাকশন ও কমেডির ভিন্ন ধরনের চরিত্রে দেখা যাবে।

‘ভাইব’-এ অভিনয়ের প্রসঙ্গে প্রীতি জানান, অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছা তার অনেক দিনের। কুনাল এমন একটি চরিত্রের কথা ভেবেছেন এবং তাকে সুযোগ দিয়েছেন—এ জন্য পরিচালকের প্রতি কৃতজ্ঞ তিনি। তবে চরিত্রটি তার জন্য একেবারেই নতুন হওয়ায় কাজ করতে গিয়ে প্রতিদিনই নতুন কিছু শিখতে হয়েছে।

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

প্রীতি জিনতা। ছবি: ফেসবুক

এদিকে গত কয়েক বছরে হিন্দি সিনেমার দর্শক ও ব্যবসার ধরনেও বড় পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন প্রীতি। ওটিটির বিস্তার, দর্শকের বদলে যাওয়া অভ্যাস এবং প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার অনীহা—সব মিলিয়ে এখন চলচ্চিত্র ব্যবসা আগের চেয়ে কঠিন।

তবে এত পরিবর্তনের মধ্যেও একটি বিষয় আগের মতোই আছে বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী—ভালো গল্পের সিনেমা দর্শক গ্রহণ করবেনই। তার ভাষায়, পঞ্চাশের দশক থেকে এখন পর্যন্ত ভালো চিত্রনাট্যের গুরুত্ব কখনো কমেনি। পরিবর্তন এসেছে সিনেমা দেখার মাধ্যম ও দর্শকের অভ্যাসে।

প্রেক্ষাগৃহে সিনেমা দেখার প্রবণতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রীতি বলেন, ‘মানুষ সিনেমা দেখতে প্রেক্ষাগৃহে না গেলে নতুন সিনেমা তৈরি করাও কঠিন হয়ে পড়বে। বর্তমানে সিনেমা নির্মাণে খরচ, দীর্ঘ শুটিং সময় ও চাপ—সবই বেড়েছে। তাই দর্শকদের প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমা দেখার প্রতি আগ্রহী হওয়া জরুরি।’

কুনাল খেমু পরিচালিত ও অভিনীত ‘ভাইব’ সিনেমায় প্রীতির সঙ্গে রয়েছেন স্পর্শ শ্রীবাস্তব ও নবাগত বংশিকা ধীর। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর মুক্তির কথা রয়েছে সিনেমাটির।

ফিলিপাইনে যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন, নিহত ৫

ফিলিপাইনের পালাওয়ান উপকূলের কাছে যাত্রীবাহী একটি ফেরিতে আগুন লেগে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো ৮৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকাজ শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের তীব্র স্রোতের কারণে অভিযান ব্যাহত হচ্ছে।

ফিলিপাইনের কোস্টগার্ডের মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কোস্টগার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যমগুলো কোস্টগার্ডের বরাতে জানিয়েছে, আগুন লাগা ফেরিটির নাম ‘এমভি জুন অ্যাস্টার’। দুর্ঘটনার সময় এতে ১৩৪ জন আরোহী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য।

ফেরিটি রাজধানী ম্যানিলার একটি বন্দর থেকে পালাওয়ানের করোন দ্বীপপুঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই এতে আগুন ধরে যায়। আগুন লাগার সময় ফেরিটি বারাঙ্গাই মারসিলার প্রায় ১ দশমিক ২ নটিক্যাল মাইল বা ২ দশমিক ২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ছিল।

নিহত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ। আগুন লাগার কারণও তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

পালাওয়ানের করোন ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। স্বচ্ছ সমুদ্রের পানি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে জায়গাটি বেশ পরিচিত। স্কুবা ডাইভিংয়ের জন্যও করোনের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এই অঞ্চলের উপকূলে বেশ কয়েকটি জাপানি জাহাজ ডুবে যায়। সেসব জাহাজের ধ্বংসাবশেষ দেখতে প্রতিবছর বহু ডুবুরি সেখানে যান।

বহু দ্বীপ নিয়ে গঠিত ফিলিপাইনে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম নৌপথ। দেশটির দ্বীপগুলোর মধ্যে যোগাযোগে নিয়মিত ফেরি চলাচল করে। তবে বিভিন্ন সময়ে এসব ফেরিতে অগ্নিকাণ্ড ও দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

২০২৩ সালে দক্ষিণ-পশ্চিম ফিলিপাইনে ‘এমভি লেডি মেরি জয় ৩’ নামে একটি যাত্রীবাহী ফেরিতে আগুন লেগে ৩১ জন নিহত হন। জাম্বোয়াঙ্গা সিটি থেকে বাসিলান দ্বীপের উদ্দেশে যাওয়ার সময় ফেরিটিতে ওই দুর্ঘটনা ঘটে।