Home Blog Page 5

একক প্রার্থীর চ্যালেঞ্জে বিএনপি, ইসিতে আশ্বস্ত নয় জামায়াত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এবারের নির্বাচন পাঁচটি ধাপে আয়োজন করা হবে। প্রথম ধাপের ভোট হবে আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি।

গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে ইসির ১৩তম কমিশন সভায় সময়সূচি চূড়ান্ত করে কমিশন। পরে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ভোটের রোডম্যাপ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে ২৭ মে পর্যন্ত পাঁচ ধাপে  ৪ হাজার ৩০০ ইউপির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

স্থানীয় নির্বাচনের এই সময়সূচি নিয়ে বিএনপি কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে চলতি বছরের নভেম্বর থেকে স্থানীয় নির্বাচন শুরুর ঘোষণা দিয়েও সরকারের প্রতিক্রিয়ার পর নির্বাচন কমিশন একবার পিছিয়ে যাওয়ায় ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্থাটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে কিনা– এ নিয়ে সন্দিহান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

জামায়াত বলছে, অভ্যন্তরীণ কোন্দলে হানাহানি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকারি দল নির্বাচন চায় না। এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন হবে কিনা, সন্দেহ রয়েছে। তবে জামায়াত নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত। এনসিপিও দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন চায়।

জামায়াত ২০২৫ সালের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভায় কারা দল সমর্থিত প্রার্থী হবেন, তা নির্ধারণ করেছে। তারা জনসংযোগও অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কোন্দল মোকাবিলা করে চেয়ারম্যান পদে একক প্রার্থী বাছাই করা ক্ষমতাসীন বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালের ২২ মার্চ থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ছয়টি ধাপে প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলভিত্তিকভাবে এবং দলীয় প্রতীকে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন হয়। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) তথ্যানুযায়ী, ওই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত ভোট; তখন ১০১ জন নিহত হন।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে সাত ধাপে হয়েছিল ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন। সেবার চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকে এবং ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ও তিনটি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নির্দলীয় পদ্ধতিতে নির্বাচন হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নির্বাচনে ১১৩ জন নিহত এবং সাত হাজার ২০১ জন আহত হন।

আগের দুই নির্বাচনে সে সময়ের ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্রদের সংঘর্ষে অধিকাংশ প্রাণহানি হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদশে জারি করে স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাদ দেয়। বিএনপি সরকার তা আইনে পরিণত করেছে।

ক্ষমতাসীন দলের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলের একাধিক প্রার্থী হলে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা কতটা ঠেকাতে পারবে, এই শঙ্কার কথাও উঠেছে।

গত রোববার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভার পর কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, নির্বাচন পরিচালনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনও পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। বাহিনীকে প্রস্তুতির সময় দিয়ে যেন নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করা হয়।

এ সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তারা সভাপতির বক্তব্যে এ নিয়ে আপত্তি করেননি। যদিও সভায় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা দ্রুত স্থানীয় নির্বাচনের দাবি করেছেন বলে সমকালকে জানিয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান। স্থানীয় সরকারের স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেছেন, জামায়াত আগেও বলেছে, এখনও বলছে– দ্রুত নির্বাচন হতে হবে।

কমিশন সভায় সময়সূচি চূড়ান্ত
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে গতকালের সভায় অন্য চার নির্বাচন কমিশনার এবং ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভা শেষে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, চূড়ান্ত সময়সূচি অনুযায়ী ২১ জানুয়ারি, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২৯ এপ্রিল, ১৩ মে এবং ২৭ মে পাঁচ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে।

তিনি বলেন, আনুমানিক চার হাজার ৩০০-এর মতো ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে।

আইন অনুযায়ী এই ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে শেষ করা হবে।

এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ইসির প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের খসড়া সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছিল। তখন প্রথম ধাপে আগামী ১২ নভেম্বর দেশের ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়ন পরিষদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা জানানো হয়।

তবে এর এক দিন পরই মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রীরা জানান, ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। সরকারের সঙ্গে আলোচনাও করা হয়নি। আর স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি ইসির একক এখতিয়ার নয় বলেও দাবি করেন তারা। অবশ্য একই দিন ইসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইউপি নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময়সূচি তারা ঘোষণা করেছিল, সেটি প্রাথমিক তারিখ ছিল।

এতে ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কিছুটা দূরত্ব ও টানাপোড়েন প্রকাশ্যে চলে আসে। পরে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ইউপি নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আগের অবস্থান থেকে সরে আসে ইসি। বৈঠক শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক ও বিভিন্ন পরীক্ষার কারণে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচন শুরু করা সম্ভব নয়। পরীক্ষা ছাড়াও রোজা, ঈদ ও পূজাকে বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী কমিশন সভায় নির্বাচনের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে।

তপশিল কবে, আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন
গতকাল ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. সানাউল্লাহ বলেন, ইসির ১৩ সেপ্টেম্বরের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক সভা সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের কথা বলেছিল। তবে সময় স্বল্পতায় পাঁচ ধাপে নিয়ে এসেছি।

তিনি বলেন, প্রতিটি ধাপের নির্বাচনের আগে তপশিল ঘোষণা করবেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা। সাধারণত ৪২ দিন থেকে ৪৫ দিন সময় দিয়ে তপশিল ঘোষণা করা হয়। প্রথম ধাপে সব জেলায়ই নির্বাচন শুরু করা হবে। সদর উপজেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেব। যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোও অগ্রাধিকার পাবে।

ইউপি নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, বাহিনীগুলোর সঙ্গে পৃথক সভা করব। এর আগে যে সভা করেছিলাম, সেখানে সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী  উপস্থিত ছিল। তারা জানিয়েছিল,  নভেম্বরের মধ্যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শেষ করবেন।

নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে সানাউল্লাহ বলেন, এখন ধারাবাহিকভাবে বাকি যেসব কার্যক্রম আছে সেগুলো চলমান থাকবে। আশা করব, আমরা যে ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি শুরু করেছি, সেই সংস্কৃতি বলবৎ রাখতে পারব। এ জন্য সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডার আমাদের সহায়তা করবেন বলে প্রত্যাশা করব।

স্থানীয় কোন্দলে বিএনপি, কেন্দ্রের কড়া বার্তা
প্রত্যেক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান এমনকি সদস্য পদেও একাধিক প্রার্থী বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী। দলের স্থানীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন বলয়ে বিভক্তি থাকায় এ সংকট আরও বাড়তে পারে। এ সমস্যা কাটাতে দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দফায় দফায় বার্তা দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন প্রস্তুতির কথা বলেছেন।

গত রোববার রাতে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলের চেয়ারম্যান বার্তা দেন, স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। বিএনপি এমন কিছু চায় না, যাতে সরকার এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। দলীয় এমপিদের দল সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে থাকতে হবে।

তৃণমূল নেতাদের সরাসরি দিকনির্দেশনা দিতে মাঠপর্যায়ের সংগঠকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করেন দলের চেয়ারম্যান। প্রত্যেক বিভাগীয় এবং বড় বড় জেলার নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করে একক প্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি ত্যাগী, যোগ্য আর জনপ্রিয় নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৭৮টি আসনে বিএনপি নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। তাদের সবাই বহিষ্কার হয়েছেন। তারা এবং মনোনয়ন না পাওয়া নেতাদের সঙ্গে এমপিদের বিরোধ রয়েছে। এতে অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছে। তারেক রহমান দলের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে স্পষ্ট করেছেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ে দলের  সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয়। একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন।

দলের শীর্ষ নেতার এমন নির্দেশনার পর কেন্দ্র থেকে স্থানীয় নেতাদের একক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দলের কেউ যেন ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী না হয় সেজন্য দলের দায়িত্বশীলরা কাজ করছে। কেউ ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে উপজেলার নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলার নেতাদের।

জানতে চাইলে বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত সমকালকে বলেন, দলের চেয়ারম্যান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার বার্তা দিয়েছেন। গ্রহণযোগ্য, সাংগঠনিক অবস্থান ভালো, বিগত আন্দোলনে সক্রিয় অবদান ছিল– এমন নেতাদের চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন দেওয়া হবে। তা ঠিক করবেন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীল নেতারা। একক প্রার্থী ঠিক করতে বিভাগীয় সাংগঠনিক নেতারা সমন্বয় করবেন। প্রয়োজনে কেন্দ্র হস্তক্ষেপ করবে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করবে না। শুধু সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

নানা শঙ্কায় জামায়াত, জোট অনিশ্চিত
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, দলের সব প্রস্তুতিই রয়েছে। কিন্তু নির্বাচন হবে কিনা, কে জানে। ইসি সময়সূচি ঘোষণা করেছে বটে, কিন্তু যদি মন্ত্রীরা না চান, তাহলে তো ইসি আবার পিছিয়ে যাবে। এতেই বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচন হলেও তা কেমন হবে। এই নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ এবং মেরুদণ্ডহীন, যা সংসদ নির্বাচনে দেখা গেছে।

জামায়াত কী কী শঙ্কা করছে– প্রশ্নে তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির সভাপতি বলছেন ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত নয়’। যে বাহিনী আইন অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন আয়োজনে সহায়তায় প্রস্তুত থাকে না, সেই বাহিনীর মন্ত্রী মানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে পদে থাকেন?

হামিদুর রহমান আযাদের ভাষ্য, বিএনপি পরাজয়ের ভয়ে নির্বাচন পেছাতে চাইছে। দলটির সব জেলা, উপজেলায় কোন্দল রয়েছে। নির্বাচন হলে ভীষণ হানাহানি হবে। এ কারণে বিএনপি নির্বাচন চাইছে না। আবার নির্বাচন হলেও জনগণ ভোটাধিকার প্রয়োগ পারবে কিনা সন্দেহ রয়েছে।

এদিকে গত রোববার দলের সর্বোচ্চ নির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদে এনসিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছে এককভাবে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নেবে। পর্ষদ সদস্য সালেদ উদ্দিন সিফাত বলেন, একক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। কারা দল সমর্থিত হবেন, তা বাছাই শুরু হবে শিগগির।

জামায়াতের জোট ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদও জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে জোট থাকবে না। তিনি বলেন, যদি জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে কোনো সমঝোতা হয়, হতে পারে। কেন্দ্রীয়ভাবে জোট হবে না।

নদীতে গেছে ভিটা, দাদনে শৈশব

চৌদ্দ বছরের শরিফ (ছদ্মনাম)। তার বাড়ি ছিল শরীয়তপুরের জাজিরায়। গত বছর পদ্মার ভাঙনে তা বিলীন হয়ে গেছে। কৃষক বাবা এখন হোটেলে কাজ করেন, মা অন্যের বাসায়। সে নিজে টঙ্গীর এক প্লাস্টিক কারখানায় দিনে ১২-১৪ ঘণ্টা কাজ করে। তার ছয় মাসের শ্রম ৪০ হাজার টাকায় আগাম কিনে নিয়েছে কারখানা।

সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে পরিবারটির সঙ্গে কথা হয়। শরিফের বাবা বলেন, ‘এক রাইতেই তো হগল শ্যাষ। আমাগো গেরামের বেবাক মানুষ ঢাহায় গ্যাছে কাম করতে।’ ছেলের সম্পর্কে বলেন, ‘হ্যার মেলা কষ্ট অয়।’

টাঙ্গাইলের মধুপুরের এক ইটভাটায় তেরো বছরের সেলিমের (ছদ্মনাম) ছয় মাসের শ্রমের দাম উঠেছে ৩০ হাজার টাকা। কাজ সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা। বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে। ভাটায় আসার আগে সেলিম পড়ত ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

ভাটা থেকে আগাম টাকা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সেলিম বলে, ‘আমি যদি পলায়ে যাই, ওরা আমারে ধইরে আনবেনে। নালি আমার মার কাছতে টাকা আদায় কইরে নেবেনে।’
জলবায়ুর বিপর্যয়ের কারণে শরিফ, সেলিমের মতো অনেক শিশু শ্রমে যুক্ত হয়েছে। জাতীয় শিশুশ্রম জরিপ ২০২২ বলছে, শিশুশ্রমে আছে প্রায় ১৭ লাখ ৭৬ হাজার শিশু, এর ১০ লাখ ৬৮ হাজারই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে। এক দশকে সংখ্যাটা সাড়ে ৪ শতাংশ বেড়েছে। আর ইউনিসেফের সাম্প্রতিক হিসাবে দেশের প্রায় ৫ কোটি ৮৮ লাখ শিশু অন্তত একটি জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে বড় হচ্ছে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, জলবায়ুর আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ে জীবিকায়, আর তাতে সবার আগে বিঘ্নিত হয় লেখাপড়া। তাঁর ভাষায়, ‘পেটে ভাত না থাকলে তো কাজ করতেই হবে, তখন স্কুলে যাওয়ার সময় কোথায়!’

ইটের ভাটায় শিশুর সারি
সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে জামালপুর, মধুপুর ও ধনবাড়ীর পাঁচটি ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকের ভিড়ে একদল শিশু, বয়স ৭ থেকে ১৬। কেউ এসেছে মা-বাবার সঙ্গে, কেউ সরদারের হাত
ধরে। অনেকেরই বাড়ি নদীভাঙন বা উপকূলের কোনো গ্রামে।
পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ধনবাড়ীর এক ভাটামালিক বলেন, প্রায় সব ভাটাতে শিশু-কিশোরেরা কাজ করে। উপকূল আর নদীভাঙন এলাকার অনেকে পরিবার নিয়ে আসেন, পুরো মৌসুম সবাই মিলে খাটেন। শিশুদের অল্প মজুরিতে পাওয়া যায় বলে মালিকেরাও মানা করেন না।

দাদনের বেড়াজাল
মৌসুম শুরুর আগে সরদারের হাত দিয়ে পরিবারের কাছে অগ্রিম টাকা যায়। এর বিনিময়ে ছয় মাসের জন্য ভাটায় কাজে যুক্ত হয় শিশু। এ ব্যবস্থার নাম দাদন। দেনা থেকে গেলে পরের বছর আবার সেই ভাটায় কাজ করতে হয়। এ লেনদেন লেখা থাকে সরদারের খাতায়। এক ভাটার সরদারের খাতায় ২০ কিশোর-কিশোরীর নাম দেখেছেন এ প্রতিবেদক।
আরেক ভাটায় ঝোপ পরিষ্কার করছিল ১৭ বছরের আরমান (ছদ্মনাম)। বাড়ি খুলনার কয়রায়, আইলায় বিধ্বস্ত উপকূলে। তার এটা পঞ্চম মৌসুম। সে জানায়, আগে খুব কান্না পেত। এখন আর পায় না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক কামাল চৌধুরী বলেন, বাস্তুচ্যুতিতে শিশু-কিশোরেরা মর্যাদা, পড়াশোনা, সচ্ছলতা, এমনকি মা-বাবার সঙ্গে কাটানো সময়টুকুও হারায়। সব হারানোর এই ট্রমা থেকে মাদক বা অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।

মেয়ের বেলায় হিসাব আলাদা
সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে ঢাকার বছিলা ও কোম্পানিঘাটের কয়েকটি কারখানায় দশ বছরের কম বয়সী বহু ছেলেমেয়েকে কাজ করতে দেখা গেছে। তাদের একজন ৯ বছরের সুমাইয়া (ছদ্মনাম)। বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনিতে। গত বছরের শেষ দিকে ঢাকায় আসার পর সে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করে। তার মা জানান, কারখানার লোকজন অগ্রিম দিয়েছে ১০ হাজার টাকা। মাসে দেওয়ার কথা তিন হাজার টাকা।

স্কুলে ফিরতে চায় কিনা জানতে চাইলে সুমাইয়া মাথা নেড়ে বলে, ‘পাল্লি এহনি চইলে যাতাম।’
সুমাইয়াদের কারখানার কাছাকাছি একটি কাগজের প্যাকেট তৈরির কারখানায় কাজ করে ১৫ বছরের শিউলি (ছদ্মনাম)। বাড়ি ছিল মুন্সীগঞ্জের নদীতীরের এক গ্রামে। গত বছর তার বিয়ের আয়োজন হয়। সে পালিয়ে আসে খালার কাছে। শিউলি বলে, ‘এইহানে দম বন্ধ লাগে। তয় এইডাই আমার বাঁচনের পথ। আমি জানি, এই বয়সে বিয়া করলে জীবন শ্যাষ। আমার বান্ধবীরা হগলতে দুই-একটা পোলাপানের মা।’ ভালো কাজ পেলে সে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবার পড়তে চায়।
রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘প্রথম আঘাতটাই আসে মেয়েদের ওপর।’ পড়ার বেলায় পরিবার ছেলেকে আগে রাখে। ভাঙনে স্কুল হারালে দূরের স্কুলে যাওয়া মেয়েদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) গবেষণায় উপকূলের কিছু এলাকায় দুর্যোগের পর বাল্যবিবাহ ৩৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে দেখা গেছে। অথচ মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ঠেকানো বাল্যবিবাহের সংখ্যা ২০২৩ সালের ১ হাজার ৮৪৬ থেকে ২০২৫ সালে নেমেছে ৯৬৮-তে।

আইন আছে, প্রয়োগ নেই
বাংলাদেশ শ্রম আইনের ৩৪ ধারায় ১৪ বছরের কম বয়সী কাউকে কাজে নেওয়া নিষিদ্ধ। ১৪ থেকে ১৮ বছরের কিশোরকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগানো যায় না, কারখানায় দিনে পাঁচ ঘণ্টার বেশি খাটানোও যায় না। ইট তৈরি ও বহন ২০২২ সাল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের তালিকায়। ৩৫ ধারা বলছে, শিশুকে কাজে দেওয়ার অনুমতি দিয়ে মা-বাবা কারও সঙ্গে চুক্তি করতে পারেন না।
তবু শরিফ-সেলিমদের মতো শিশুরা কাজে আছে, চুক্তিও হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে শ্রম পরিদর্শক মাত্র ৪৪২ জন। শাস্তিও সামান্য। আইনের ২৮৪ ধারায় শিশু বা কিশোরকে বেআইনিভাবে কাজে লাগানোর দণ্ড ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।
পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন না দেখে তাদের সদস্য কোনো কারখানায় চাকরি দেওয়া হয় না, সেখানে শিশুশ্রম নেই।’ বিজিএমইএও একই কথা জানিয়েছে।

যা করা দরকার
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুম শুরুর আগেই ভাটায় পরিদর্শন করা দরকার। দাদনে শিশু নিয়োগের জন্য মালিক ও সরদারের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, নদীভাঙন আর লবণাক্ত এলাকার পরিবারে দুর্যোগের পরপরই নগদ সহায়তা পৌঁছাতে হবে, যার শর্ত হবে ছেলেমেয়ের স্কুলে থাকা। বাস্তুচ্যুত শিশু যেন কাগজ ছাড়াই শহরের স্কুলে ভর্তি হতে পারে। আর জলবায়ু বরাদ্দে শিশুর হিস্যা আলাদা করে দেখাতে হবে।

আইইডিসিআরের পর্যালোচনা ডেঙ্গুতে ৬২% মৃত্যু শক সিনড্রোমে

দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমেই বাড়ছে। বছরের শুরু থেকে গতকাল সোমবার পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। একই সঙ্গে মৃত্যুও বাড়ছে। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বেশির ভাগ মৃত্যুই শক সিনড্রোমে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল পর্যন্ত এ বছর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ৩০৭ জন। এর মধ্যে আইইডিসিআর ১১৯ জন মৃতের তথ্য পর্যালোচনা করেছে। এতে দেখা গেছে, মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। অধিকাংশ রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর সময়ই ছিলেন সংকটাপন্ন অবস্থায়। সময়মতো চিকিৎসা না নেওয়া, বিপৎসংকেত উপেক্ষা করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের মতো বিষয়গুলো মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৬৭ জন। এ নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক লাখ এক হাজার ৪৪২। সব শেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন আরও চারজন। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ৯৫ হাজার ৩৩১ জন।

আইইডিসিআরের ডেঙ্গুতে মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, মৃতদের ৭৮ শতাংশের মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় শকের লক্ষণ ছিল। ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম এবং ৩১ দশমিক ২ শতাংশ ক্ষেত্রে এক্সপ্যান্ডেড ডেঙ্গু সিনড্রোমের উল্লেখ রয়েছে। এ ছাড়া ১৬ দশমিক ১ শতাংশ ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণসহ ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। অন্যান্য কারণের উল্লেখ রয়েছে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ক্ষেত্রে।

পর্যালোচনায় আরও দেখা গেছে, যেসব রোগীর চিকিৎসা নেওয়ার সময় সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে, তাদের ৬৮ শতাংশ উপসর্গ শুরুর তিন দিনের বেশি সময় পর চিকিৎসা নিতে গেছেন। ৬৬ শতাংশ রোগী গুরুতর জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই ৩৫ শতাংশ রোগী ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছিলেন। আর হাসপাতালে ভর্তির এক দিনের মধ্যেই মারা গেছেন ৩৮ শতাংশ রোগী।

আইইডিসিআরের পরিচালক ডা. কাজী আহমেদ জাকী বলেন, ডেঙ্গু রোগীরা দেরিতে হাসপাতালে আসছেন। যখন হাসপাতালে আসছেন তখন পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা শুরুর আগেই মারা যাচ্ছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর অনেক রোগী হাসপাতালে না এসে কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করেছেন। অনেকে ডেঙ্গু জটিল আকার ধারণ করার উপসর্গ বুঝতে পারেননি। উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পরও রোগীদের বড় একটি অংশ হাসপাতালে আসতে দেরি করেছেন।

মৃত রোগীদের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১ থেকে ৫০ বছর বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি। মৃত ১১৯ জনের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছিলেন ২৫ জন। ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ২০ জন এবং ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ছিলেন আরও ২০ জন। অর্থাৎ এই তিন বয়সসীমা মিলিয়ে মারা গেছেন ৬৫ জন, যা পর্যালোচনা করা মৃত্যুর প্রায় ৫৫ শতাংশ। লিঙ্গভিত্তিক তথ্য পাওয়া ১১৭ জনের মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী। আর বসবাসের স্থান সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া ৮৯ জনের মধ্যে ৫৫ শতাংশ ছিলেন গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা।

গুরুতর অসুস্থ ১০৩ জন রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ৭২ জনের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিল। অর্থাৎ তথ্য পাওয়া রোগীদের প্রায় ৭০ শতাংশের আইসিইউ সেবা দরকার হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সময় অধিকাংশ রোগীর সংকটাপন্ন অবস্থায় থাকার বিষয়টিও এতে স্পষ্ট হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর জ্বর কমে গেলেই বিপদ কেটে গেছে, এমনটি ভাবার সুযোগ নেই। বরং জ্বর কমার সময়েই রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে পারে। ডেঙ্গু ভাইরাসের প্রভাবে রক্তনালি থেকে রক্তরস বা প্লাজমা বের হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জমতে পারে। এতে রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ কমে গিয়ে শক তৈরি হতে পারে।

ড্রিমার্স কনসালটেশন অ্যান্ড রিসার্চের পরিচালক মেডিকেল সার্ভিসেস (ডিএমএস) ও নিউরোমেডিসিন বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, শক সিনড্রোমে রক্তনালিতে রক্তের পরিমাণ কমে যায়। এ অবস্থায় নাড়ির স্পন্দন পাওয়া কঠিন হয়, রক্তচাপ নির্ণয় করাও দুরূহ হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, জ্বর ভালো হওয়ার পরও কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অসুস্থ বোধ করলে, তাঁর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এলে, অজ্ঞান হয়ে গেলে কিংবা নাড়ির স্পন্দন অনুভব করা না গেলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। জ্বর কমে যাওয়ার পরও রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি বছরের প্রথম দিকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকলেও জুনের পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে মারা যান। মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। জুলাইয়ে ৩৬ জন, আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ায় ১৪৮ জনে। গতকাল পর্যন্ত চলতি অক্টোবরে মারা গেছেন ৬২ জন।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে ধারাবাহিকভাবে। জানুয়ারিতে এক হাজার ৮১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে দুই হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। সেপ্টেম্বরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৭৪। অক্টোবরে গতকাল পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ২১ হাজার ৮২২ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে চলতি বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৮৪ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালে ৩৬ জন এবং দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া খুলনায় ৬৩, চট্টগ্রামে ২৭, বরিশালে ২৬, ময়মনসিংহে ২৩, রাজশাহীতে ২২, রংপুরে ছয় ও সিলেটে তিনজন মারা গেছেন।

মেঘনায় জেলেদের ধাওয়া, ডুবে গেল নৌ-পুলিশের স্পিডবোট

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে মা ইলিশ রক্ষায় অভিযানের সময় জেলেদের ধাওয়ার মুখে উল্টে মেঘনা নদীতে ডুবে গেছে নৌ-পুলিশের একটি স্পিডবোট। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। তবে স্পিডবোটে থাকা পুলিশের একটি শটগান এখনো উদ্ধার করা যায়নি।

সোমবার সকালে ষাটনলের ছটাকি লঞ্চঘাট থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। চাঁদপুর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজমগীর হোসাইন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ-পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান ঘটনাস্থল থেকে জানান, মা ইলিশ রক্ষায় দুটি স্পিডবোট নিয়ে নদীতে টহল দিচ্ছিলেন পুলিশ সদস্যরা। এ সময় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরা জেলেরা দলবদ্ধভাবে স্পিডবোট দুটিকে ধাওয়া করেন। পুলিশ সদস্যরা নিরাপদে সরে যাওয়ার চেষ্টা করলে একটি স্পিডবোট উল্টে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, স্পিডবোটটিতে থাকা ১০ জন সদস্য সাঁতরে তীরে উঠে আসেন। পরে ডুবে যাওয়া স্পিডবোটটি উদ্ধার করা হয়। তবে সেটিতে থাকা একটি শটগান নদীতে ডুবে যায়। শটগানটি উদ্ধারে নৌ-পুলিশ ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ডুবুরিরা কাজ করছেন।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের নদী এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের পরামর্শক্রমে জেলা টাস্কফোর্সের নেতৃত্বে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সদস্যরা অভিযান চালাচ্ছেন।

গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকায় ২২ দিনের জন্য ইলিশসহ অন্যান্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে।

ভারতকে হারিয়ে লিজেন্ডস লিগে বাংলাদেশের প্রথম জয়

০

ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স। তবে বল হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে ভারত চ্যাম্পিয়ন্সকে ৩ রানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ অব লিজেন্ডসে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে দলটি। বাংলাদেশের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। মাত্র ১২ রান খরচায় ৪ উইকেট নিয়ে ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান তিনি।

শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ভারত চ্যাম্পিয়ন্স। শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস বড় করতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা। দলীয় ৩০ রানে ৬ বলে ১০ রান করে ফেরেন ইমরুল কায়েস। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ।

তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওপেনার রনি তালুকদার। ২৫ বলে ৪০ রান করে দলের সংগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। শেষ দিকে নাসির হোসেনের ২১ বলে ২৪ এবং আরাফাত সানির ৩৭ রানের ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪১ রান তোলে বাংলাদেশ। ভারতের হয়ে ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন পীয়ূষ চাওলা।

১৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ৫৫ রানের মধ্যেই ৫ ব্যাটারকে হারায় যুবরাজ সিংয়ের দল। ঋষি ধাওয়ান ১৮ বলে ২৪ রান করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন। শেষ দিকে পবন নেগি ও পীয়ূষ চাওলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি ভারত।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন এনামুল হক জুনিয়র। তিন ওভারে মাত্র ১২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। পেসার আবু জায়েদ রাহী নেন ২ উইকেট। বোলারদের নৈপুণ্যে শেষ পর্যন্ত ৩ রানের রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স।

এএফসি চ্যালেঞ্জ স্বপ্ন আর বাস্তবতায় ফর্টিস এফসি

০

এবারই প্রথম বাংলাদেশের কোনো ক্লাব এএফসির প্রতিযোগিতায় খেলছে না। ফর্টিস ফুটবল ক্লাবের জন্য বিশেষ কিছু। ভাগ্যগুণে সুযোগ পাওয়ার পর বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে করপোরেট এ ক্লাবটি এখন এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগের গ্রুপ পর্বে। কুয়েতে অনুষ্ঠেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগামীকাল ঢাকা ছাড়ার কথা ফর্টিস এফসির।

তার আগে গতকাল ক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে নিজেদের স্বপ্ন আর বাস্তবতার কথা তুলে ধরেছেন ক্লাবটির কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার, ‘আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলে এগিয়ে যেতে চাই। গ্রুপ পর্ব পেরোনো কঠিন, তবে অসম্ভব নয়। স্বাগতিক কাদসিয়া সবচেয়ে কঠিন দল। অন্য দুটি দলও কম নয়। আমার মনে হয়, সবাই নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে ভালো কিছু সম্ভব।’

১৭ অক্টোবর স্বাগতিক কাদসিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের অভিযান। গ্রুপের অন্য দুই দল ভারতের এফসি গোয়া ও তাজিকিস্তানের এফসি রেগার তাদাজ।

জাপান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও গাম্বিয়ার খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া ফর্টিসের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে খেলার সুযোগ পাবে দলটি। এ ছাড়া সেরা রানার্সআপ হিসেবেও পরের পর্বে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুয়েতে ভালো করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী অধিনায়ক পা ওমর বাবুও। টানা পাঁচ মৌসুম ধরে ফর্টিসের হয়ে খেলছেন তিনি। চ্যালেঞ্জ লিগে ভালো করার প্রত্যয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেছেন এই ফুটবলার, ‘আগে বাফুফে থেকে বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলার প্রস্তাব আসতে হবে। এরপর আমি পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে পারব। তবে আমি ইতিবাচক আছি। এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগেও ভালো খেলতে চাই।’

ঢাকায় প্লে-অফ ম্যাচে ফর্টিসের একমাত্র গোলদাতা মোহাম্মদ ইব্রাহিমও কুয়েতে গোল করতে চান। তবে ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় সাফল্যই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, ‘ঢাকার ম্যাচের মতো কুয়েতেও সুযোগ পেলে গোল করতে চাই, করাতেও চাই। দল যেন ভালো করতে পারে, সেদিকেই আমার দৃষ্টি।’

পোশাক রপ্তানিতে জাপানে আশা, হতাশা ভারতে

০

তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বহুদিন ধরে। তবে এই প্রচেষ্টা খুব বেশি কাজে আসেনি। প্রচলিত বাজারের চেয়ে এসব বাজারে রপ্তানি খুব একটা বাড়েনি। অবশ্য চলতি ২০২৬-২৭ ‍অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে চিত্রটি বেশ ভালো। অন্য সব বাজারের চেয়ে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে বেশি হারে। এই শ্রেণির প্রধান ১৫টি বাজারের মধ্যে ১০টিতে রপ্তানি বেড়েছে গেল প্রান্তিকে। এর মধ্যে এশিয়ার আলোচিত ও বড় বাজার চীন ও জাপানে রপ্তানির বাড়ার গতি বেশ ভালো। তবে রপ্তানি কমেছে প্রতিবেশী দেশ ভারতে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েস থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান গন্তব্য জাপান। বাংলাদেশের অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের একমাত্র বাজার দেশটি। গত অর্থবছরে জাপানে রপ্তানি হয়েছে ১৩০ কোটি ডলারের পোশাক। গত প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশটিতে রপ্তানি বেড়েছে ৩ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ৩৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের পোশাক। গত ২০২৫-২৬ অর্থছরের একই সময়ে যা ছিল ৩৩ কোটি ৫০ লাখ ডলারের মতো। তৈরি পোশাকের মধ্যে নিট ক্যাটেগরি অর্থাৎ গেঞ্জি জাতীয় পোশাকের চেয়ে ওভেন, অর্থাৎ শার্ট-প্যান্টের চাহিদা বেশি জাপানে। গত প্রান্তিকে নিটের রপ্তানি বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ শতাংশ, যেখানে ওভেনের বেড়েছে ৩ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

অপ্রচলিত শ্রেণির দ্বিতীয় প্রধান বাজার অস্ট্রেলিয়া। গত প্রান্তিকে দেশটিতে বাংলাদেশের রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ২১ কোটি ডলার। দেশটিতে রপ্তানি খুব বেশি নয়, মাত্র ১ শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ২০ কোটি ৭০ লাখ ডলারের মতো। দেশটিতে গত অর্থবছরে রপ্তানি হয় ৮৫ কোটি ডলারের পোশাক। অস্ট্রেলিয়ায় আবার চাহিদা ভিন্ন। দেশটিতে নিট পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ৪ শতাংশের মতো। যেখানে ওভেনের রপ্তানি কমেছে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশের জন্য অপ্রচলিত শ্রেণির তৃতীয় প্রধান বাজার প্রতিবেশী ভারত। দেশটিতে গত প্রান্তিকে রপ্তানি কমেছে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ২২ কোটি ডলার থেকে কমে হয়েছে ২০ কোটি ডলার। দেশটিতে বছরে রপ্তানি হয় প্রায় ৭৫ কোটি ডলারের পোশাক।

চীনে রপ্তানি বেড়েছে নামমাত্র, শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ। রপ্তানি হয়েছে সাত কোটি ১২ লাখ ডলারে পোশাক। ভারতে ওভেনের চেয়ে নিটের চাহিদা বেশি। গত প্রান্তিকে দেশটিতে ওভেন পোশাক রপ্তানি কমেছে ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ। নিটের রপ্তানি শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ কমেছে।

প্রসঙ্গত, অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বাড়াতে প্রণোদনা দিয়ে উৎসাহিত করে আসছে সরকার। এ জন্য ২ শতাংশ নগদ দেওয়া হয়ে থাকে। সবমিলিয়ে রপ্তানি খাতে অন্তত ৫ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি বেড়েছে ৯ শতাংশের মতো। রপ্তানি হয়েছে ১২ কোটি ডলারের পোশাক। ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশ। রপ্তানির পরিমাণ ছিল ছয় কোটি ডলারের বেশি। সবচেয়ে বেশি হারে রপ্তানি বেড়েছে তুরস্কে। গত অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের সাত কোটি ডলারে কম রপ্তানি এই অর্থবছরের একই সময়ে ১২ কোটি ৩১ লাখ ডলারে উঠে এসেছে। রপ্তানি ১২৩ শতাংশ বেড়েছে তুরস্কে। তুরস্ক নিজেও তৈরি পোশাকের অন্যতম প্রধান রপ্তানিকারক দেশ। অবশ্য দেশটি বাংলাদেশের পণ্য আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে থাকে।

ব্রাজিলে রপ্তানি বেড়েছে ৪২ শতাংশের মতো। সাড়ে চার কোটি থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলারে উঠে এসেছে পোশাক রপ্তানি। অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে গত প্রান্তিকে যে সব দেশে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি কমেছে এসব দেশের মধ্যে রয়েছে রাশিয়া। বড় অর্থনীতির দেশটিতে রপ্তানি কমেছে ২১ শতাংশের বেশি হারে। প্রায় পাঁচ কোটি ডলারের রপ্তানি চার কোটি ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

সব মিলিয়ে গত প্রান্তিকে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮১ কোটি  ডলারের কিছু বেশি, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৬৬ কোটি ডলারের কিছু কম। অর্থাৎ রপ্তানি বেড়েছে ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এই সুবাদে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা বেড়ে এখন ১৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যা গত অর্থবছরের একই প্রান্তিকে ছিল ১৬ দশমিক ৬১ শতাংশ।

অন্যদিকে প্রচলিত বাজারের বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ২৭ জাতির জোট ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) হিস্যা ৪৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৬ দশমিক ৩৬ শতাংশে, রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৯০ কোটি ডলার। রপ্তানির বাজার হিসেবে একক প্রধান দেশ যুক্তরাষ্ট্রের হিস্যা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ২০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই প্রান্তিকে এ হার ছিল ২০ দশমিক ১৮ শতাংশ।

বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সভা বাংলাদেশের ঋণের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হবে সংস্কার

আজ সোমবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হচ্ছে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভা। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত  ব্যাংককের কুইন সিরিকিট ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে সংস্থা দুটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন চলবে। বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল সভায় যোগ দিচ্ছে।

উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল প্রবৃদ্ধি, বাড়তে থাকা ঋণের চাপ, বাণিজ্য উত্তেজনা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে বিশ্বের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এবারের সভায় গুরুত্ব পাবে। সভার ফাঁকে বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নতুন ঋণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত নীতিগত শর্ত নিয়ে আইএমএফের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক হবে। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সঙ্গে আলোচনায় বিভিন্ন খাতে সংস্কারের বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।

এদিকে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে ব্যাংককজুড়ে হওয়া রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত ও ভয়াবহ প্লাবনের ক্ষত এখনও পুরোপুরি শুকায়নি। তার ওপর অক্টোবরের শুরুতেই তাদের আবহাওয়া দপ্তর নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যার পূর্বাভাস দেওয়ায় আয়োজক প্রশাসনের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রতিনিধি ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল জরুরি ভিত্তিতে কড়া নির্দেশনা জারি করে সম্ভাব্য মহাবিপর্যয় মোকাবিলায় জলমগ্ন রাস্তায় চলাচলের উপযোগী সাঁজোয়া ট্রাক, ফোর-হুইল-ড্রাইভ যান এবং বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছিলেন।

শেষ পর্যন্ত আবহাওয়ায় দেখা দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন। প্রধান নদী চাও ফ্রায়ার জলসীমা সার্বিক বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের নিরাপদ দূরত্বে রয়েছে। শহরের আকাশও পুরোপুরি পরিষ্কার। ফলে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হচ্ছে সপ্তাহব্যাপী  বিশ্ব সম্মেলন।

বিশ্বের ১৯১টি সদস্য দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব এবং আন্তর্জাতিক অর্থলগ্নিকারী সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ১৫ হাজারেরও বেশি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি সভায় অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি, বাণিজ্য উত্তেজনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কা মোকাবিলায় কার্যকর নীতি প্রণয়নই এই বার্ষিক সভার মূল লক্ষ্য।

সম্মেলনে উদীয়মান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের জন্য এবারের বৈঠকটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থ সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ বিশেষ প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে ব্যাংককে পৌঁছেছে এবং মূল অধিবেশনের পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিতে শুরু করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইডলাইন বৈঠকে আইএমএফের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ৪৫০ থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলারের একটি নতুন ঋণ সহায়তা প্যাকেজ নিয়ে বিস্তারিত ও চূড়ান্ত পর্যায়ের দরকষাকষি শুরু হচ্ছে। ইতোপূর্বে বাংলাদেশ অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঋণ প্রস্তাব আইএমএফ দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঢাকা ও আইএমএফের মধ্যকার চলমান আলোচনায় আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হলে আগামী ডিসেম্বরেই দ্বিপক্ষীয় ঋণ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে।

নতুন এই ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কাঠামোগত সংস্কারকে প্রধান শর্ত হিসেবে সামনে এনেছে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাটি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংস্কার ও রাজস্ব নীতি পৃথক্‌করণ, ব্যাংকিং খাতের তদারকি বৃদ্ধি ও খেলাপি ঋণ হ্রাস, করছাড় প্রক্রিয়া যৌক্তিককরণ এবং বিভিন্ন জরুরি খাতে প্রদেয় সরকারি ভর্তুকি ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনা। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা টেকসই করতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ধাপে ধাপে এসব সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নে নীতিগত সম্মতি প্রকাশ করেছে।

আইএমএফের ঋণ সুবিধার পাশাপাশি এবারের বিশ্বব্যাংক-আইএমএফ বার্ষিক সভার একটি বিশেষ অধিবেশনে স্থান পাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জিডিপি সম্প্রসারণ ও ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপকল্প বিশ্বমঞ্চে বিশদভাবে উপস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে বর্তমান অবস্থা থেকে ‘এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে’ উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

লক্ষ্যমাত্রা পূরণে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ৯ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি স্থানীয় ও বৈদেশিক সরাসরি বিনিয়োগের পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করার বিশদ রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়েছে। সম্মেলনের নির্ধারিত সেশনগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দেশের শিল্প খাতের বিকাশ, ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে কীভাবে এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব, তা বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে তুলে ধরবে।

বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের সভায় আরও স্থান পাচ্ছে উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বিকাশ এবং ডিজিটাল ফিন্যান্স খাতের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা বিধানের বিষয়টি। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল লেনদেনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ‘ব্যাংকক ব্লু-প্রিন্ট’ প্রণয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, দুর্যোগের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে রূপকথার মতোই সেজে ওঠা ব্যাংকক শহর এখন বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে বিশ্বনেতাদের সরব উপস্থিতি ও কূটনৈতিক তৎপরতায় মুখর হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেবে এনসিপি

০

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিপি। গতকাল রোববার এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম রাজনৈতিক পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সভা থেকে আইনশৃঙ্খলার অবনতি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রতিবাদে আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ৩০ অক্টোবর ঢাকায় হবে এনসিপির প্রতিবাদ সমাবেশ।

রাজধানীর বাংলামোটরে দলীয় কার্যালয়ে এ সভায় সিদ্ধান্ত হয়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকাসহ সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখায় এনসিপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ নিয়োজিত থাকবেন।

এ দিন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয় এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদে। আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি। এছাড়া, আরও ১০০ উপজেলা ও পৌরসভার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থীর তালিকা আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থীদের তালিকা প্রস্তুতকরণের কাজে গতি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপির সভাপতিত্বে সদস্যসচিব আখতার হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় অংশ নেন রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল আমিন এমপি, আরিফ ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, নুসরাত তাবাসসুম এমপি, আলী আহসান জুনায়েদ, সালেহ উদ্দিন সিফাত।

জি এম কাদেরের বাসায় হামলা-ভাঙচুর, পুলিশ মোতায়েন

০

রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর হয়েছে। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

হামলার ব্যাপারে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, ‘সকালে নাশতা করছিলাম। এমন সময় হঠাৎ করে চারদিক থেকে বাসায় ঢিল ছোড়া শুরু হয়। সকালবেলা হওয়ার কারণে তখন বাসায় তেমন কেউ ছিল না। জানালার কাচ ভেঙে ড্রয়িংরুমে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়েছে। বাসার গেটে তালা লাগানো থাকায় কেউ ভেতরে ঢুকতে পারেনি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি মোহাম্মদ খালিদ মনসুর। তিনি বলেন, ‘আজ বেলা ১১টার দিকে অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে বলা হয়, জি এম কাদেরের বাসায় হামলা হয়েছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সেখানে গিয়েছি। তবে কাউকে পাইনি। সাধারণ জনতার ব্যানারে ৩০-৪০ জন ওই বাসায় হামলা চালিয়েছে। তারা বাইরে থেকেই ঢিল ছুড়ে ভাঙচুর করেছে। তবে ভেতরে কেউ ঢুকতে পারেনি। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।’

জিএম কাদেরের বাসার সামনে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল

জিএম কাদেরের বাসার সামনে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল

বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল
হামলার সময় জিএম কাদেরের গ্রেপ্তার দাবিতে তাঁর বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ‘স্বৈরাচারবিরোধী সাধারণ জনগণ’ ব্যানারে কিছু লোকজন। জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি এবং ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ তুলে তাঁর দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তারা। বিক্ষোভকারীরা বাসার সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং তাঁর বিচার দাবি করেন।