Home Blog Page 6

শাহজালালে দুই দিনে ২৮ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকা- রিয়াদগামীসহ বিভিন্ন এয়ারলাইনসের ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। গত দুই দিনে ২৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ৪ হাজার ৮৫১ জন যাত্রী।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) মুহাম্মদ কাউছার মাহমুদ সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চারটি, সাউদিয়া এয়ারলাইনসের তিনটি, রিয়াদ এয়ারলাইনসের তিনটি এবং ইন্ডিগোর ট্রানজিট ফ্লাইট ১৬টি।

বিমানবন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আকস্মিকভাবে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। কয়েকজন যাত্রী জানান, নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে তারা বিমানবন্দরে এসেছিলেন। সেখানে আসার পর সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের কাছ থেকে ফ্লাইট বাতিলের খবর পান তারা।

যাত্রীদের অনেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও গ্রামাঞ্চল থেকে বিমানবন্দরে এসেছিলেন। তাদের সঙ্গে বিদায় জানাতে স্বজনেরাও বিমানবন্দরে আসেন। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যাত্রীদের পাশাপাশি তাদের স্বজনদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

দাম্মামগামী বিমানের ফ্লাইটে বিঘ্ন

নিরাপত্তাজনিত কারণে ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৪৯ ফ্লাইট স্থগিতের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। বিকেল ৩টা ১০ মিনিটে ফ্লাইটটি স্থগিত করা হয়। এ ফ্লাইটের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও সময়সূচি সম্পর্কে ১৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে তথ্য জানানোর কথা জানিয়েছে বিমান।

তবে দাম্মাম বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে দাম্মামগামী বিজি-৩৪৯ ফ্লাইটটি গতকাল কাতারের দোহা বিমানবন্দরে অবতরণ করেছিল। বিমানের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে যাত্রা শুরুর সময় দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। পরে বিমানবন্দরটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ফ্লাইট পরিচালনার স্বার্থে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ২৭ মিনিটে ফ্লাইটটি দোহায় অবতরণ করে।

প্রায় তিন ঘণ্টা পর দাম্মাম বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলে ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা ২ মিনিটে নিরাপদে সেখানে পৌঁছায়। পরে বিজি-৩৫০ ফ্লাইটটি দাম্মাম থেকে সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় ফ্লাইট পরিচালনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাময়িক পরিস্থিতির কারণে যাত্রায় অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি রোধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথ থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ের পরিবেশ, অনলাইন জগৎ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত তদন্ত, কার্যকর বিচার এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতির কঠোর বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

সোমবার আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং ন্যাশনাল গার্ল চাইল্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (এনজিসিএএফ) যৌথভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর কল্যাণে সবচেয়ে জরুরি হলো সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন। ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েদেরও সমান গুরুত্ব দিতে হবে এবং তাদের স্বপ্নপূরণের পথ তৈরি করে দিতে হবে। এটি আমাদের গুরুদায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, মেয়েরা শিক্ষা, চিকিৎসা, খেলাধুলা, প্রযুক্তি, গণমাধ্যম, ব্যবসা-বাণিজ্য ও রাষ্ট্রীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগ্যতা ও সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের আন্তর্জাতিক সাফল্য এবং বাংলাদেশি নারী নিশাত মজুমদারের এভারেস্ট জয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন। এসব অর্জন দেশের জন্য গর্বের বিষয় বলেও মন্তব্য করেন।

অভিভাবকদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুকে বোঝা নয়, সম্ভাবনা হিসেবে দেখতে হবে। ছেলে ও মেয়েকে সমান মর্যাদা দিতে হবে এবং ছেলেদের ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের সম্মান করতে শেখাতে হবে। একই সঙ্গে মেয়েদের বিয়ের জন্য সঞ্চয়ের আগে তাদের শিক্ষা ও কল্যাণে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর জন্ম কোনো বোঝা নয়, বরং অফুরন্ত সম্ভাবনার সূচনা। তার শিক্ষা কোনো দয়া নয়, এটি মৌলিক অধিকার। আর তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পবিত্র দায়িত্ব।

দুই কন্যার পিতা হিসেবে প্রতিটি কন্যাশিশুর মধ্যে নিজের সন্তানদের মুখ দেখতে পান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা তাঁর জন্য শুধু সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নয়, গভীর মমতারও বিষয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি সম্মান ও দায়িত্বশীল আচরণে ধর্মীয় মূল্যবোধের শিক্ষা জরুরি। কন্যাসন্তান স্রষ্টার নেয়ামত হলেও সমাজে অনেক সময় এ নেয়ামতকে অবমূল্যায়ন ও অবহেলা করা হয়। সব ধর্মের নৈতিক শিক্ষায় নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবসের প্রতিপাদ্য ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়’ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, শিশুবিয়ে শুধু একটি বিয়ে নয়; এর ফলে কন্যাশিশুর শৈশব থেমে যায়, শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয় এবং সম্ভাবনার অপচয় ঘটে। এর সঙ্গে অকাল মাতৃত্ব, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও সহিংসতার আশঙ্কাও যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, কন্যাশিশু নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ সময় প্রতিটি উপজেলায় কিশোরীবান্ধব ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করার পাশাপাশি হেল্পলাইন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান।

কন্যাশিশুদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে, শিক্ষাকে আঁকড়ে ধরতে হবে, দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতে হবে। অন্যায়, নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হলে বিশ্বস্ত অভিভাবক, শিক্ষক কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

এ সময় তিনি কন্যাশিশুদের আত্মরক্ষার জন্য মার্শাল আর্ট শেখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘তোমাদের সাফল্যের সঙ্গে শুধু তোমাদের পরিবার নয়, বরং সমাজ এবং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে আছে।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কন্যাশিশুর বিশ্বজয় নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং সর্বোপরি মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, নারী ও কন্যাশিশুকে পিছিয়ে রেখে কোনো সমাজ বা জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। তাই প্রতিটি কন্যাশিশু যেন নিরাপদে জন্ম নেয়, নির্ভয়ে বেড়ে ওঠে, স্বপ্ন নিয়ে পড়াশোনা করে, দক্ষতা অর্জন করে এবং নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে— এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীশিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছেন। নারীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি ও বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন।

নারীর নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। এ সময় বাংলাদেশের সব কন্যাশিশুর সুস্থ, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য সেলিমা রহমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রওশন আরা বেগম এবং এনজিসিএএফের সহসভাপতি শাহীন আক্তার ডলি।

এর আগে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শায়লা শারমিন জামান স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং দুই কন্যাশিশু তাদের মতামত তুলে ধরে।

এক্সপ্লেইনার বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র দিয়েও কেন হুতিদের ঠেকাতে পারছে না সৌদি?

আধুনিক সমরাস্ত্রের পেছনে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছে সৌদি আরব। তারপরও রিয়াদ বিমানবন্দরসহ কয়েকটি স্থানে হুতিদের প্রাণঘাতী হামলা ঠেকাতে পারেনি। যা ইঙ্গিত দেয়, ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটির আক্রমণ প্রতিহতের ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সক্ষমতায় বড় ধরনের ঘাটতি আছে।

এক দশকের মধ্যে সৌদির মাটিতে সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা হয় গত শনিবার। রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। এতে দুই বাংলাদেশিসহ আট দেশের ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা তিন’শর বেশি। এ ঘটনার পর বিমানবন্দরটি এড়িয়ে চলতে নিজ নাগরিকদের সতর্ক করেছে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশন।

একই বিমানবন্দরে রোববার নতুন হামলা চালায় হুতিরা। এতে এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটিসহ ২৪ ঘণ্টায় সৌদির একাধিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে হুতিরা। আরও অভিযান চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সৌদি আরব তেলসমৃদ্ধ দেশ। স্থিতিশীলতার জন্যও পরিচিত। কিন্তু একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে এসব সুনাম মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

সৌদি আরব কি হামলা ঠেকাতে অক্ষম?
হুতিদের নিয়মিত হামলা সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করেছে। তাদের ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। শুধু সৌদি আরব নয়, বিশ্বজুড়েই ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের শুরুর দিকে প্রায়ই হুতিদের হামলা প্রতিহত করেছে রিয়াদ। কিন্তু গত দুইদিনের হামলা ঠেকানো সম্ভব হয়নি। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কিং খালিদ বিমানবন্দরটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে। আয়তন প্রায় ২২৫ বর্গকিলোমিটার।

সৌদি আরবের আয়তন প্রায় ২২ লাখ বর্গকিলোমিটার। লন্ডনভিত্তিক ঝুঁকি বিশ্লেষণের প্রতিষ্ঠান মিনা অ্যানালিটিকার বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, দেশটির কাছে প্যাট্রিয়ট, থাড, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সেন্সরের সমন্বয়ে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আছে। কিন্তু  বিশাল আয়তনের তুলনায় এসব ব্যবস্থা কোনো অভেদ্য দেয়াল তৈরি করতে পারেনি।

আন্দ্রেয়াস ক্রিগ আরও বলেন, দেশটিকে একসঙ্গে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষা করতে হয়। এর মধ্যে আছে বিভিন্ন তেল স্থাপনা, পবিত্র নগরী, সামরিক ঘাঁটি ও বেশ কয়েকটি বিমানবন্দর।

এতসব স্থাপনার বিপরীতে সৌদির নিজস্ব সামরিক শিল্প সক্ষমতা সীমিত। সেগুলো আমদানি করতে বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। নিজস্বতার ঘাটতি পূরণে তারা ঐতিহাসিকভাবে বিদেশি কর্মী, ঠিকাদার ও প্রশিক্ষকদের ওপর নির্ভরশীল।

দেশটি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো দেশের অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলোর কাছে থেকে বড় অঙ্কের অস্ত্র কেনে। এটি তাদের প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখারও কূটনৈতিক কৌশল।

হুতিরা কেন হামলা বাড়াচ্ছে?
বিপুল অর্থ খরচ করে সৌদির নির্মিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়াটা হুতিদের লক্ষ্য নয়। এমনকি তারা সম্ভবত প্রতিবার সফল হামলারও আশা করে না। দু-একটি লক্ষ্যবস্তুতে ঠিকঠাক মতো আঘাত হানতে পারাটা তাদের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন আন্দ্রেয়াস ক্রিগ।

এই ঝুঁকি বিশ্লেষকের মতে, রিয়াদ বিমানবন্দরটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সেখানে হুতিরা একাধিকবার হামলা করেছে। এটি প্রমাণ করে, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে টানা হামলা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তাদের আছে।

ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ নতুন করে মাথাচাড়া দেওয়ার প্রেক্ষাপটে সৌদিতে হুতিদের হামলার মাত্রা বেড়েছে। কানাডার অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বিশ্লেষক থমাস জুনো বলেন, হুতিরা খেলার নিয়ম নতুন করে লিখতে চাইছে। তাদের নিয়ন্ত্রিত সানা বিমানবন্দরে সৌদি জোট যুদ্ধবিমান দিয়ে হামলা করছে। রিয়াদ যা করছে, হুতিরা ঠিক একই উপায়ে জবাব দিচ্ছে।

গোষ্ঠীটির হাজার হাজার প্রশিক্ষিত ও লড়াকু যোদ্ধা আছে। সবাই দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনগুলো উপসাগরীয় প্রতিবেশীদের মাথা ব্যথার কারণ হয়েছে। সম্প্রতি এসব অস্ত্র দিয়ে ইসরায়েল পর্যন্ত হামলা করেছে।

সৌদি আরব বহু বছর ধরে ইয়েমেনের একাংশের সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। থমাস জুনো বলেন, দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে হুতিরা একটি বার্তা দিতে চাইছে। সেটি হলো- ভিন্ন দেশে শান্তি স্থাপন করতে চাইলে চড়া মূল্য দিতে হবে।

সৌদি আরব কী করছে?
আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরটি সৌদি আরবের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের ‘ভিশন ২০৩০’-এর একটি অংশ। রূপকল্পটির আওতায় রিয়াদকে পর্যটক, বহুজাতিক কোম্পানি ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

হুতিরা বিষয়টি খুব ভালো করেই জানে বলে মনে করেন ক্রিগ। তিনি বলেন, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার ফলে সৌদি আরবের সামরিক শক্তি হয়তো কমবে না। কিন্তু সেখানে ধারাবাহিক হামলা হলে অর্থনীতি ও ভাবমূর্তির ক্ষতিতে পড়বে। এটির মূল্য অবকাঠামোগত ক্ষতির চেয়ে অনেক বেশি।

কয়েকদিন পরই রিয়াদে বিভিন্ন উচ্চ-পর্যায়ের সম্মেলন ও বিনোদন মৌসুম শুরু হবে। এর আগে হুতিরা হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত শুরুর পর সৌদির কর্তৃপক্ষ মোবাইলে খুদে বার্তার মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক করতো। কিন্তু সম্প্রতি তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেক নাগরিক আতঙ্ক, উদ্বেগের মধ্যে দিন পার করছেন।

সৌদি কর্মকর্তাদের কাছে থেকে নিয়মিত তথ্য না পাওয়ায় শনিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন বিদেশি মিশন। এমনকি, সৌদি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগেই কয়েকটি দূতাবাস নিজ নাগরিকদের রিয়াদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল।

অর্থনীতির উত্থান-পতন কমানোর গবেষণায় নোবেল পেলেন হল-উডফোর্ড

সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনার জন্য ব্যষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়ে গবেষণার জন্য এ বছর অর্থনীতিতে নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুই অর্থনীতিবিদ। তারা হলেন- রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড।

সোমবার রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোবেল কমিটি বলেছে, দুই অর্থনীতিবিদ সামষ্টিক অর্থনীতির (ম্যাক্রো-ইকোনমি) নতুন কিছু মডেল তৈরি করেছেন। এই মডেলগুলো কার্যকর স্থিতিশীল নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে।

এসব মডেলের ওপর ভিত্তি করে সঠিক সময়ে যথাযথ রাজস্ব ও মুদ্রানীতি গ্রহণের মাধ্যমে অর্থনীতির চরম উত্থান-পতন অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব।

টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে গবেষণার জন্য গত বছর পুরস্কারটি পেয়েছিলেন আমেরিকান-ইসরায়েলি জোয়েল মোকিয়র, ফ্রান্সের ফিলিপ আগিয়োঁ ও কানাডার পিটার হাউইট।

বেদানা নাকি আঙুর, হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য কোনটি ভালো?

হৃৎপিণ্ড ভালো রাখতে বিভিন্ন ধরনের ফল খুবই উপকারী। বেদানা এবং আঙুর এর মধ্যে অন্যতম। এই দুই ফলে এমন সব পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

‘ভেরি ওয়েল হেলথ’ এর এক প্রতিবেদন অনুসারে, এই দুই ফলেই ফাইবার (আঁশ) ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে, যা হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য রক্ষায় সহায়তা করতে পারে।

হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের ওপর বেদানা ও আঙুরের প্রভাব 
গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ফল খাওয়ার সাথে হৃদরোগের ঝুঁকি কমার একটি সম্পর্ক রয়েছে। রেদানা রক্তচাপ কমিয়ে এবং প্রদাহ ও অক্সিডেটিভ স্ট্রেস হ্রাস করে হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। আঙুরেরও হৃৎপিণ্ডের জন্য উপকারী গুণাবলি রয়েছে বলে ধারণা করা হয় । এই ফলে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল কমানো, রক্তের অণুচক্রিকা বা প্লেটলেটগুলোকে জমাট বাঁধতে বাধা দেওয়া, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমানো, প্রদাহ কমানো, রক্তচাপ কমানোর উপাদান রয়েছে।
কোনটিতে ফাইবার বেশি থাকে?
১০০ গ্রাম বেদানায় প্রায় ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে; অন্যদিকে ১ কাপ আঙুরে (৯২ গ্রাম) প্রায় ১ গ্রাম ফাইবার থাকে, তবে এতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে।

কোনটিতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে?
বেদানা ও আঙুর—উভয়ই অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ধমনীর ক্ষতি প্রতিরোধে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে এবং প্রদাহের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে। বেদানার দানা ও রসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, বিশেষ করে ‘পুনিকালাজিন’উপাদানে হৃৎপিণ্ড সুরক্ষাকারী গুণাবলি পাওয়া গেছে।

আঙুর হলো পলিফেনল-সমৃদ্ধ ফলগুলোর মধ্যে অন্যতম; এতে বিশেষ করে ফ্ল্যাভোনয়েড (যেমন—ফ্ল্যাভানল) প্রচুর পরিমাণে থাকে। এগুলো হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।

কালো আঙুরে রেসভেরাট্রল থাকে, যা কোলেস্টেরল কমাতে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে; তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
বেদানা নাকি আপেল

বেদানা এবং আঙুর—উভয়ই পুষ্টিগুণে ভরপুর। হৃৎপিণ্ডের স্বাস্থ্যের জন্য একটি ফলের চেয়ে অন্যটিকে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে,বেদানা ও আঙুরসহ নানা ধরনের ফল খাওয়া উচিত; এতে বিভিন্ন ফল থেকে প্রাপ্ত পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত সুবিধা সর্বোচ্চ মাত্রায় পাওয়া সম্ভব হয়।

বৃদ্ধ মা চান একসঙ্গে থাকতে, ছেলে নারাজ

বৃদ্ধ অসুস্থ মাকে ভরণপোষণ দিতে রাজি হলেও নিজের কাছে রাখতে চান না ছেলে সাগর হোসেন (৩০)। তাঁকে বোঝাতে নানাভাবে চেষ্টা করেও ব্যর্থ মা মুন্নি খাতুন অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। সেখানেও মেলেনি সমাধান। সাগর হোসেন পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য ও সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা।

গত বৃহস্পতিবার অভিযোগের শুনানি হয় ইউএনও সেলিম আহমেদের কার্যালয়ে। শুনানিতে একজন বৃদ্ধ ও অসুস্থ মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে মানবিকভাবে সমস্যাটি সমাধান করার জন্য সাগরকে অনুরোধ করেন ইউএনও। সাগর বলেন, আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব। মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব।
এ বিষয়ে মা মুন্নি খাতুন বলেন, আমার স্বামী অনেক আগেই মারা গেছে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। আমি অসুস্থ মানুষ, হার্টের রোগী। এখন ছেলে ছাড়া আমার আর কে আছে? আমি ছেলের কাছে টাকাপয়সা চাই না। নুন-পান্তা খেয়েও যদি ছেলের সঙ্গে থাকতে পারি, তাহলে বাকি জীবনটা পার করে দিতে পারব।

নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, মা ও ছেলের বিরোধ মেটাতে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেছি, কিন্তু দুই পক্ষেরই কিছু ভুল রয়েছে। সাগর তাঁকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের বনিবনা হচ্ছিল না। একসময় সাগরের বোন মায়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়ায় জড়ান। এসব ঘটনার জেরে মুন্নি খাতুন বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেন। এক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে সাগরকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর মায়ের ওপর তাঁর অভিমান আরও বেড়ে যায়।

সাগরের বক্তব্য জানতে তাঁর ফোনে একাধিকবার কল করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। সাঁথিয়ার ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, ছেলেকে কয়েকদিনের সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা যায়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, কেন সাগর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বারবার জানতে চেয়েছি। তিনি কারণ স্পষ্ট করে বলেননি।
পাবনা অফিস জানায়, মুন্নি খাতুনের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) পাবনা জেলা শাখার সদস্য সচিব ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান। গত শুক্রবার  সাঁথিয়ায় মুন্নি খাতুনের বোনের বাড়িতে যান। ডা. নোমান বলেন, বিষয়টি আমার হৃদয় ছুঁয়েছে। ফেসবুকে ভিডিওটি দেখার পর আমি পাবনা থেকে সাঁথিয়া গিয়ে ওই মায়ের সব দায়িত্ব নিয়েছি।

ভোরে তিন আসামি গ্রেপ্তার, দুপুরে তাদের বাড়িতে আগুন

জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজবাড়ীর কলেজছাত্র ফুয়াদ চৌধুরী হাসান রোহানকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। গতকাল শনিবার ভোরে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এ তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বাড়িতে গতকাল দুপুরে অগ্নিসংযোগ করেছে।

ফুয়াদ চৌধুরী হাসান রোহান (১৯) উপজেলার দাদশী ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের ফরহাদ চৌধুরীর ছেলে। তিনি রাজবাড়ী শহরের একটি বেসরকারি টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়তেন। গত ৫ অক্টোবর বিকেলে নিখোঁজ হন রোহান। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রঘুনাথপুর গ্রামের একটি ডোবায় পাওয়া যায় তাঁর বস্তাবন্দি মরদেহ এ ঘটনায় গত শুক্রবার ফরহাদ চৌধুরী বাদী হয়ে রাজবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।

গতকাল ভোরে পুলিশ একই ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদারের ছেলে ফিরোজ সরদার বাবু (৩৪), গণি সরদারের ছেলে রিয়াজ সরদার (২৩) ও সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের ছেলে মো. শরীফকে (২৭) গ্রেপ্তার করে। এদিন দুপুর ১টায় রাজবাড়ীর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মীর মনির হোসেন জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও হত্যা রহস্য উদঘাটনে কাজ করছিল পুলিশ। তিনি বলেন, জমিজমা নিয়ে পূর্বশত্রুতার জেরে রোহানকে ডেকে নিয়ে প্রথমে গামছা ও টিশার্ট দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ যেন পানিতে ভেসে না ওঠে, সে জন্য চাকু দিয়ে পেট কেটে বস্তায় ভরে ডোবায় ডুবিয়ে রাখা হয়। জড়িত ব্যক্তিরা মাদকাসক্ত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তারা হত্যায় ব্যবহৃত টিশার্ট, গামছা ও ছুরি জব্দ করেছেন।

এদিকে গ্রেপ্তারের পর দুপুর পৌনে দুইটার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা বক্তারপুর গ্রামের দুলাল সরদার, লাল সরদার ও ফিরোজ সরদারের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় বাড়িতে থাকা লোকজন পালিয়ে যান। কাছাকাছি সময়ে সমেশপুর গ্রামের সিদ্দিক মণ্ডলের বাড়িতেও আগুন দেওয়া হয়। এতে পাঁচটি বসতঘর পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বিকেল ৫টার দিকে জানান, দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে তারা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তাৎক্ষণিক তারা রওনা হয়েছিলেন। পথে বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাধা দেয়। পরে তাদের কাছে কাকুতি মিনতি করে ঘটনাস্থলে যেতে পারেন। একই জায়গায় দুটি বাড়িতে ও দুই কিলোমিটার দূরে আরেকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ জানান, বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আসামিদের বাড়িতে আগুন দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সৌর বিদ্যুত ব্যবস্থার সব পণ্য উৎপাদন করছে ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন অর্থমন্ত্রী

০

ইলেকট্রনিক্স এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্স খাতের সফলতার পর এবার নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ‘ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেম’ এর  আনুষ্ঠানিক যাত্রা হয়েছে।  দেশীয় ব্র্যান্ড ওয়ালটন  নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থায় সোলার প্যানেল, ইনভার্টার এবং অত্যাধুনিক লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিসহ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের পণ্য দেশেই তৈরি করেছে।

শনিবার রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ওয়ালটন করপোরেট অফিসে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘ওয়ালটন সোলার ইকো-সিস্টেম’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলম, ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মাহবুব আলমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান- শুধু ব্যবসার জন্য নয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের দিক থেকে কোম্পানিটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। নিজস্ব কারখানায় ছাদে ও এবং কারখানা প্রাঙ্গনের জলাশয়ে ভাসমান প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ওয়ালটন বর্তমানে ৩২ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা দেশের একটি বড় জেলা শহরের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান। উৎপাদিত  সৌরবিদ্যুতের বড় অংশ নিজস্ব উৎপাদন কার্যক্রমে ব্যবহারের মাধ্যমে কারখানার জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি নেট মিটারিং ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডেও বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ১৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

পরিবেশবান্ধব সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ওয়ালটনের সকল কারখানাকে পুরোপুরি জ্বালানি-স্বয়ংসম্পূর্ণ করে গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে শিল্প খাতের জন্য বড় আকারের এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) স্থাপন করাই এখন ওয়ালটনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান কর্মকর্তারা।

ওয়ালটন সোলার ইকোসিস্টেমের উদ্বোধন করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে দেশে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। এর মাধ্যমে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির চাহিদা কমবে, বিদ্যুৎ সরবরাহ সংকট কমবে এবং সাশ্রয় হবে বিপুল অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা।

ওয়ালটনের কর্মকর্তারা জানান, হাইব্রিড এসি, ৬৬০ লিটারের ফোর-ডোর ইনভার্টার রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, বিএলডিসি সিলিং ফ্যান, স্ট্রিট লাইট, এলইডি বাল্ব ও ইলেকট্রিক চুলা সরাসরি সৌরশক্তিতে চলবে এবং সূর্যের অনুপস্থিতিতে ব্যাটারি ব্যাকআপ বা জাতীয় গ্রিডেও (হাইব্রিড প্রযুক্তি) চালানো যাবে। পাশাপাশি শিল্প-কারখানার জন্য ভবিষ্যতে ১ থেকে ৫ মেগাওয়াটের বড় এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (ইএসএস) তৈরির পরিকল্পনার কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।

ওয়ালটনের চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলম বলেন, দেশের শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মূল চালিকাশক্তি হলো জ্বালানি সক্ষমতা। ওয়ালটনের প্রায় প্রতিটি গৃহস্থালি পণ্যই সোলারে চালানো সম্ভব এবং একক কোনো প্রতিষ্ঠানের এমন উদ্ভাবন অনন্য নজির। তিনি উল্লেখ করেন, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও আস্থা রেখে নিজের বাসার ছাদে ওয়ালটনের সোলার সিস্টেম ব্যবহার করছেন। নিজ কারখানায় স্থাপিত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়ালটন ইতোমধ্যে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে এবং অচিরেই পুরোপুরি জ্বালানি-স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানে রূপ নেবে।

স্বাগত বক্তব্যে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম মাহবুব আলম বলেন, সূর্যের আলো প্রকৃতির অফুরন্ত দান এবং এই শক্তিকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিল্প ও গৃহস্থালির জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব। বিদ্যুৎ সংরক্ষণের প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে দেশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যার উৎপাদন আগামী মাস থেকেই শুরু হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবার আগে ইউএনডিপির সহায়তায় ক্ষতিকর সিএফসি গ্যাস বর্জন করে পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদন, কার্বন ক্রেডিট বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং বর্জ্য পুড়িয়ে শক্তিতে রূপান্তরের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের কথা  উল্লেখ করেন ওয়ালটনের এমডি।

ওয়ালটনের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম আশরাফুল আলম তার বক্তব্যে দেশীয় পণ্যের বিকাশে গণমাধ্যমের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, অনেক উন্নত দেশের আগেই ওয়ালটন পরিবেশবান্ধব গ্রিন প্রোডাক্ট তৈরি করে নজির স্থাপন করেছে। পরিবেশের ক্ষতি রোধে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। দেশের শিল্প খাতের বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে ওয়ালটন ইতোমধ্যে নিজস্ব উদ্যোগে ৩২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, যা একটি বড় জেলা শহরের চাহিদার সমান। প্রত্যেকে এমন কার্যকর উদ্যোগ নিলে দেশের জ্বালানি সংকট দ্রুতই কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বন্ধের পথে পরিবেশবান্ধব চামড়া কারখানা সুপারেক্স

০

২০১৬ সালে খুলনার ফুলতলা উপজেলার উত্তরডিহি গ্রামে স্থাপিত হয় সুপারেক্স লেদার নামের পরিবেশবান্ধব কারখানা। প্রায় ৭০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০ একর জমির ওপর শীর্ষস্থানীয় চামড়া প্রক্রিয়াজাত এ কারখানাকে ২০২৩ সালে পরিবেশবান্ধব সনদ দেয় আন্তর্জাতিক লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি)। ইতালি, পর্তুগাল, স্পেন, তাইওয়ান, জাপানের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মাসে গড়ে ৮ থেকে ১০ লাখ বর্গফুট চামড়া রপ্তানি করত সুপারেক্স।

করোনা সংক্রমণের পর থেকে রপ্তানিতে ছন্দপতন ঘটে। অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও হঠাৎ উল্টো পথে হাঁটা শুরু করে বিনিয়োগকারী ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে হঠাৎ চামড়ার দরপতনে প্রায় ৮০ কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে সুপারেক্স। ভুয়া এলসির পণ্য পাঠিয়ে আটকা পড়ে ২৮ কোটি টাকা। চতুর্মুখী সংকটে পড়া প্রতিষ্ঠানটি ৩০০ কোটি টাকা পুনর্বিনিয়োগ সহযোগিতার ব্যাংকে আবেদন করে। তাতেও সাড়া মেলেনি।

ব্যাংকের সহযোগিতা না পেয়ে ‘সুপার জুট মিল’ নামের তাঁর অন্য রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের টাকা চামড়া কারখানায় বিনিয়োগ করেন এর উদ্যোক্তা। কিন্তু চামড়ার চাহিদা কমে যাওয়ায় এখন দুটি প্রতিষ্ঠান সংকটে। ইসলামী ব্যাংকের ২৮৬ কোটি টাকা ঋণ সুদে আসলে এখন দাঁড়িয়েছে ৪৩০ কোটি টাকায়। ব্যাংক এখন সম্ভাবনায় কারখানাটি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের চাপ দিচ্ছে। এর ফলে বন্ধের ঝুঁকিতে পেড়েছে সুপারেক্স।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৪০ একর জমির ওপর বিশাল কারখানা এলাকার মধ্যে ১৫ একর জায়গাজুড়ে ফল বাগান। লাল সিরামিকের কারুকাজ করা চার লাখ বর্গফুটের বিশাল স্থাপনাটিকে কারখানা মনেই হয় না। প্রশাসনিক ভবন ও অতিথিদের ডরমিটরিও নান্দনিক নকশায় তৈরি। প্রধান ফটক দিয়ে বাম হাতে গেলে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র।
পুরো কারখানা চলছে ইতালীয় যন্ত্রপাতিতে। কারখানায় বিশাল আকারের হিমাগার রয়েছে। সেখানে একসঙ্গে পাঁচ লাখ গরু ও দুই লাখ ছাগলের চামড়া রাখা সম্ভব। এক একর জায়গাজুড়ে রয়েছে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্লান্ট (ইটিপি)। কর্মকর্তারা জানান, ট্যানারিতে প্রতিদিন এক লাখ ফুট চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। মূলধন ও অর্ডারের অভাবে মাত্র ২০ হাজার বর্গফুট উৎপাদন হচ্ছে।

সংকটের শুরু
সুপারেক্স লেদারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফিরোজ আহমেদ ভূইয়া বলেন, ‘পাটের সুতা রপ্তানি ছিল আমার মূল ব্যবসা। সেই সাগর জুট মিল তিনবার রপ্তানি ট্রফি পেয়েছে। ২০১৬ সালে জুট মিল পরিদর্শনে এসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন এমডি আমাকে নতুন আরেকটি কারখানা নির্মাণের প্রস্তাব দেন। সেই অনুযায়ী আমি কাজ শুরু করি।’
তাঁর ভাষায়, ‘২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক এস আলম গ্রুপের হাতে চলে যায়। আমার বিনিয়োগ পিছিয়ে যায়। জমানো টাকা, জুট মিলের ঋণের টাকা দিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে থাকি। পরে কয়েকটি ধাপে ব্যাংক ২৮৬ কোটি টাকা দেয়। কিন্তু পুরো কাজ শেষ করতে ৭০০ কোটি টাকার মতো খরচ হয়ে গেছে।’
ফিরোজ আহমেদ ভূইয়া বলেন, ‘কারখানা নির্মাণ হয়েছে কিন্তু কাঁচাচামড়া, পাট কেনার মতো কোনো টাকা আর আমার হাতে ছিল না। ওই সময় ব্যাংক অর্থায়ন করলে ব্যবসা টিকে যেত। এখন ব্যাংক বলছে, ফ্যাক্টরি বিক্রি করো।’ তিনি যোগ করেন, বিক্রি করতে চাইলে কেনার লোকের অভাব নেই। নিজের হাতে তৈরি এ প্রতিষ্ঠান বিক্রি করে দিতে হলে সেটা হবে সবার জন্যই লজ্জার।’
ইসলামী ব্যাংকের খুলনা অঞ্চলপ্রধান মিজানুর রহমান সমকালকে বলেন, ‘ওই সময় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কী কথা হয়েছে, আমরা জানি না। দীর্ঘদিন ধরে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করায় গ্রাহককে খেলাপি শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে। তাদের নতুন করে ঋণ দেওয়ার সুযোগ নেই। স্বাভাবিকভাবে ব্যাংক টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।’

উদ্যোক্তার প্রস্তাব
ফিরোজ আহমেদ ভূইয়া বলেন, বিশ্ববাজারে ফিনিশড চামড়ার চাহিদার চাহিদা কিছুটা কমেছে। কিন্তু চামড়ার তৈরি পণ্যের দাম বাড়ছে। তাঁর কারখানা থেকে মাসে ১২০ কোটি টাকার চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি সম্ভব। জমি-জায়গা সব আছে, কিন্তু বিনিয়োগের টাকা নেই। ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য কয়েক বছর ধরে ব্যাংকে ঘুরেও ফল পাচ্ছেন না।
তিনি বলেন, ‘এলডব্লিউজি সনদ ও সবুজ কারখানা হওয়ায় আমার ফ্যাক্টরির কদর সারাবিশ্বে। বাংলাদেশের হাতে কয়েকটি কারখানার এই সনদ রয়েছে। বিশ্বখ্যাত কয়েকটি নামকরা প্রতিষ্ঠান এবং পুরাতন ক্রেতারা চামড়ার ব্যাগসহ পণ্য উৎপাদনের প্রস্তাব দিচ্ছে।’ তিনি মনে করেন, অন্য অনেক কারখানার চাইতে বেশি অর্ডার পাবেন। আরও ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ব্যাংক ৩০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করলে ৫ বছরের মধ্যে পুরো টাকা ফেরত দিতে পারবেন। সেই সুযোগ ব্যাংক দিচ্ছে না।
ইসলামী ব্যাংকের দৌলতপুর শাখার ব্যবস্থাপক ইফতেখার হোসেন আল মামুন সমকালকে বলেন, সুপারেক্স লেদার ও সুপার জুট মিল দুটি প্রতিষ্ঠানই খেলাপি। নতুন করে বিনিয়োগ করলে ফেরত পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। এজন্য ঋণ আদায়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

প্রশ্ন ফাঁসের তদন্ত বিচার চায় জামায়াত

০

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস এবং পরীক্ষা স্থগিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাহবুব জুবায়ের শনিবার বিবৃতিতে এসব দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রশ্ন পত্র ফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত চাকরিপ্রার্থীদের ভোগান্তি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ভবিষ্যতে নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। চাকরিপ্রার্থীদের যৌক্তিক দাবিসমূহ মেনে নিয়ে তাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষা এবং নিয়োগব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।