Home Blog Page 501

রেকর্ড বন্যার ম্যাচে সিরিজ নিশ্চিত ভারতের

জয় অনেকটা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল প্রথম ইনিংসের পরই৷ স্কোরবোর্ডে রেকর্ড রান তুলে কেবল উদযাপনের অপেক্ষায় ছিল ভারত৷ বল হাতেও সেই পথে এগিয়ে যায় শুরুতেই৷ এরপর খানিকটা ঘুরে দাঁড়ালেও রেকর্ড রানের লজ্জা আর এড়াতে পারেনি প্রোটিয়ারা।

শুক্রবার সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয় ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আগের তিন ম্যাচে ২ জয় নিয়ে সিরিজে এগিয়ে ছিল ভারত৷ এবার ১৩৫ রানের রেকর্ড জয়ে ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করলো সিরিজ।

প্রোটিয়াদের সিরিজে ফেরার পথটা কঠিণ করে দেয় ভারতের ইনিংস। রেকর্ড বই তছনছ করে দেয় তারা। জোহানসবার্গে টসে জিতে আগে ব্যাট করে উপহার দেয় একের পর এক অবিস্মরণীয় কীর্তি। মাত্র ১ উইকেট হারিয়ে ভারত তুলে ২৮৩ রান!

জবাব দিতে নেমে মাত্র ৩ ওভারে ১০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখান থেকে যদিও ঘুরে দাঁড়ায় স্বাগতিকেরা, তবে ১৮.২ ওভারে ১৪৮ রানের বেশি করতে পারেনি। যা রানের বিচারে টি-টোয়েন্টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় হার।

এদিন ব্যাট হাতে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেন সঞ্জু স্যামসন আর তিলক ভার্মা। দু’জনে মিলে মেতে উঠেন রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলায়। এক টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দু’জনে শতক হাঁকিয়ে অবাক করে দেন বিশ্বকে। তাতে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ভারত পায় নিজেদের সেরা পুঁজি।

এদিন ব্যাট হাতে শুরু থেকেই এদিন আগ্রাসী ছিল ভারত। অভিষেক শর্মা ১৮ বলে ৩৬ করে উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যখন ফেরেন, ৫.৫ ওভারে ৭৩ রান তুলে ফেলেছে সফরকারীরা। এরপরই হাল ধরেন তিলক ভার্মা ও সঞ্জু স্যামসন।

আগের ম্যাচেই সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন তিলক। এদিন ফের দেখা পান শতরান। পর পর দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শতরানের রেকর্ড ছিল সঞ্জুর। এদিন তাকে ছুঁয়ে ফেলেন তিলক। তবে থেমে থাকেননি সঞ্জুও, তিনিও ছুঁয়েছেন শতক।

তাতে এক বছরে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন সঞ্জু স্যামসন। শুধু তাই নয়, তাদের কল্যাণে প্রথমবার টি-টোয়েন্টিতে দুজন ক্রিকেটার শতরানের রেকর্ডও গড়লো এদিন। ৫৬ বলে সঞ্জু করেন ১০৯, ৪৭ বলে তিলকের রান ১২০।

শেষ পর্যন্ত ব্যাট করেন দুজনেই। জুটিতে আসে ৮৬ বলে নিরবিচ্ছিন্ন ২১০ রান। যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের জুটি। তাছাড়া দু’জনে মিলে হাঁকিয়েছেন ১৯ ছক্কা, সব মিলিয়ে ইনিংসে ছক্কা সংখ্যা ২৩। যা এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড।

এদিকে শুরুতেই আর্শ্বদীপের তোপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ওভারেই রেজা হেনড্রিকসকে (০) ফেরান তিনি। তৃতীয় ওভারে এসে শিকার জোড়া উইকেট; প্রথমে এইডেন মার্করাম (৮) ও পরে হেনরিখ ক্লাসেনকে ফেরান গোল্ডেন ডাক উপহার দিয়ে।

মাঝে রায়ান রিকেল্টনকে (১) হার্দিক পান্ডিয়া ফেরালে মাত্র ১০ রানে ৪ উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। দেখা দেয় খুব অল্প রানে গুটিয়ে যাবার শঙ্কা। তবে এরপর খানিকটা ঘুরে দাঁড়ালেও ভারতের স্কোরের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি প্রোটিয়ারা।

ট্রিস্টান স্টাবস (৪৩), ডেভিড মিলার (৩৬) ও মার্কো জ্যানসেনের ঝরো ১২ বলে ২৯* ব্যবধান কমালেও লজ্জা এড়াতে পারেনি। ১৩৫ রানের জয় ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের তৃতীয় সেরা। যা আবার প্রোটিয়াদের সবচেয়ে বড় হার।

ভারতের হয়ে আর্শ্বদীপ ৩, বরুণ চক্রবর্তী ও অক্ষর প্যাটেল নেন জোড়া উইকেট। ভারত সিরিজ জিতে নেয় তাতে। সিরিজ সেরা হয়েছেন তিলক ভার্মা, ম্যাচ সেরাও তিনিই।

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে শক্তিশালী দল ঘোষণা ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে দল ঘোষণা করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ঘরের মাঠে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই টাইগারদের মুখোমুখি হবে ক্যারিবীয়রা। যদিও নেই অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডার, চোটের কারণে ছিটকে গেছেন তিনি।

দু’টি টেস্ট এবং তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলার জন্য চলতি মাসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। আগামী ২২ নভেম্বর টেস্ট সিরিজ দিয়ে শুরু হবে লড়াই।

এই সিরিজের জন্য শনিবার ১৫ সদস্যের টেস্ট দল ঘোষণা করেছে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মিশেলে দল সাজিয়েছে তারা। সর্বশেষ সিরিজের দল থেকে পরিবর্তন এসেছে চারটি।

চোটের কারণে বাংলাদেশ সিরিজের দল থেকে ছিটকে গেছেন জেসন হোল্ডার। আর ফর্মে থাকা বাঁহাতি স্পিনার গুদাকেশ মোতিকে দেয়া হয়েছে বিশ্রাম। তবে দলে ফিরেছেন আলজারি জোসেফ ও কেভিন সিনক্লেয়ার।

সিরিজের আগে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার অবস্থা যেন অনেকটা সমানে সমান। দুই দলই তাদের সর্বশেষ টেস্ট খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। যেখানে ক্যারিবীয়রা ১-০ ও বাংলাদেশ হেরেছে ২-০ ব্যবধানে।

তাছাড়া বাংলাদেশ দলেও আছে চোট সমস্যা। চোটের কারণে দলের সাথে নেই মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। মেহেদী মিরাজের অধিনায়কত্বে খেলবে টাইগাররা।

আগামী ২২ নভেম্বর এই সিরিজের প্রথম টেস্ট। প্রথম ম্যাচটি হবে অ্যান্টিগায় স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস স্টেডিয়ামে। ৩০ নভেম্বর সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট হবে জ্যামাইকায়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্কোয়াড :
ক্রেইগ ব্রাথওয়েট, জশুয়া ডি সিলভা, অলিক আথানেজ, কিসি কার্টি, জাস্টিন গ্রেভস, কাভেম হজ, টেভিন ইমালচ, আলজারি জোসেফ, শামার জোসেফ, মিকাইল লুইস, অ্যান্ডারসন ফিলিপ, কেমার রোচ, জেইডেন সিলস, কেভিন সিনক্লেয়ার ও জোমেল ওয়ারিকান।

তিন শূন্যের ধারণার ওপর ভিত্তি করে পৃথিবী গড়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস তিন শূন্যের ধারণার ওপর ভিত্তি করে দারিদ্র্য, বেকারত্ব এবং কার্বন নিঃসরণমুক্ত এক পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

শুক্রবার ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত জি-২০ সামাজিক শীর্ষ সম্মেলনে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

শীর্ষ সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসের বিশেষ ভার্চ্যুয়াল বার্তা দিয়ে শুরু হয়, এরপরে পরিবেশিত হয় ব্রাজিলের ফার্স্ট লেডি জানজা লুলার মূল বক্তব্য।

বাংলাদেশ ব্রাজিলের পাশাপাশি দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে এই বৈশ্বিক জোটে যোগদানকারী প্রথম দেশ। ফলে, এই অধিবেশনটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা জাতির জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ অর্জন।

প্রফেসর ইউনূসের স্বপ্নদর্শী ভাষণ এই হাই-প্রোফাইল ইভেন্টে একটি অনুপ্রেরণামূলক সুর স্থাপন করেছে, যার প্রতিপাদ্য ‘একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব এবং একটি টেকসই গ্রহ তৈরি করা’। তিনি একটি ন্যায্য, আরো স্থিতিস্থাপক বৈশ্বিক ভবিষ্যতের জন্য সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন।

দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে জি-২০ গ্লোবাল অ্যালায়েন্স প্রতিষ্ঠার জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে অভিনন্দন জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা এই যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

এই জি২০ জোট ব্রাজিলের সভাপতিতেত্ব তৈরি করা হয়েছিল, যার লক্ষ্য ছিল বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মোকাবেলায় প্রচেষ্টাকে একত্রিত করা। বাংলাদেশকে জি২০ প্রেসিডেন্সি ব্রাজিল এই বছরের জি২০ আলোচনার তিনটি মূল স্তম্ভ- নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু স্থায়িত্ব এবং দারিদ্র্য ও ক্ষুধার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী লড়াই অবদান রাখার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

প্রফেসর ইউনূস কমিউনিটি উন্নয়ন, উদ্যোক্তা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরেন।

তিনি গুরুত্বারোপ করে বলেন, কোনো জাতি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে কিছুটা কাজ করতে লজ্জা পেতে পারে না।

প্রধান উপদেষ্টা ক্ষয়প্রাপ্ত কাঠামোর উপর বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে এবং টেকসই সমাধানের দিকে বুদ্ধিবৃত্তিক, আর্থিক এবং যুব শক্তিকে একত্রিত করার জন্য বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান এবং সিস্টেমগুলোর জরুরি প্রয়োজনের উপর জোর দেন।

এই রূপান্তরমূলক পদ্ধতির পক্ষে বলতে গিয়ে তিনি কম খরচের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে একটি নতুন মানসিকতা এবং জীবনধারা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরেন, যা ‘তিন শূন্যের বিশ্ব’ -এর দৃষ্টিভঙ্গি অর্জনের জন্য অপরিহার্য।

দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়তে রূপান্তরমূলক সমাধানে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট লুলাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্য শেষ করেন।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এম এ আকমল হোসেন আজাদ জোটের প্রতি রাষ্ট্রের অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে সমন্বিত মাতৃত্বকালীন ও প্রাথমিক শৈশব যত্নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার উপস্থাপন করেন।

ব্রাজিলে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুন্নেসা এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর জসিম উদ্দিন এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমাবেশে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেন।

আজ অবধি এই বৈশ্বিক জোটের ৩০ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হয়েছে, যার মধ্যে জাতিসঙ্ঘের সদস্য রাষ্ট্র, জাতিসঙ্ঘ সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা রয়েছে। জি-২০ সোশ্যাল সামিটে মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিশ্বজুড়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিগণসহ ৩০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নেন।
সূত্র : বাসস

উত্তরবঙ্গের ৩ বিভাগে কি একজনও যোগ্য লোক নেই : সারজিস

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে ১৩ জন উপদেষ্টা দেয়া হয়েছে। কিন্তু রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে কাউকে উপদেষ্টা করা হয়নি। তিন বিভাগ থেকে কি একজনও যোগ্য লোক নেই, যিনি মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্য। অঞ্চলবৈষম্য আমরা সমর্থন করি না।’

আজ শনিবার দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে ‘শহীদ পরিবারের পাশে বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।

উপদেষ্টা হিসেবে চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীকে নিয়োগের সমালোচনা করে সারজিস বলেন, ‘ফারুকী তার পুরো সময়ে ক্ষমতায় কাছাকাছি থাকার জন্য যেভাবে তোষামদি করার দরকার তা করেছেন। এই ফারুকীরা কিভাবে এই উপদেষ্টা পরিষদে আসেন। এ রকম কঠিন সময়ে নীরব থাকা ও গা বাঁচিয়ে চলা লোকজনকে আমরা উপদেষ্টা হিসেবে দেখতে চাই না।’

জুলাই অভ্যুত্থানের পর মামলা-বাণিজ্য নিয়ে সারজিস বলেন, ‘মামলা-বাণিজ্য শুধু রংপুরে নয়, সারা বাংলাদেশে চলছে। আমরা আমাদের জায়গা থেকে কঠোরভাবে বলতে চাই, আমার শহীদ ও আহত ভাইদের নিয়ে মামলা-বাণিজ্য চলবে না। মামলায় টাকা দিয়ে নাম দিচ্ছে, টাকা নিয়ে নাম কাটাচ্ছে, এই ব্যবসা থেকে সামগ্রিকভাবে সবাইকে বের হতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মোর্শেদ, জুলাই শহীদ ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ প্রমুখ।

ঢাকায় স্ত্রীকে নিয়ে রিকশা চালালেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার

রিকশা চালাচ্ছেন পাকিস্তানি হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ! ভাবতে অবাক লাগলেও সম্প্রতি তেমনি এক ঘটনা ঘটেছে রাজধানীতে।

মূলত, ঢাকার শহরের দৃশ্যপটকে চিহ্নিত করতে হোটেল লে মেরেডিয়ানের লবিতে রাখা রিকশা দেখে তর সইতে পারেননি পাকিস্তান হাইকমিশনার। শেষ পর্যন্ত চালিয়ে দেখেছেনও।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সামাজিকমাধ্যমে এমন এক ভিডিও পোস্ট করেছেন তিনি। পোস্ট করা ভিডিওর ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘বলো কোথায় যাবে, বেগম?’

তিনি আরো লেখেন, ‘লে মেরেডিয়ানের ১৪তম তলায় রিকশা টানলাম। জীবিকা অর্জনের জন্য প্রায় সমস্ত আবহাওয়ায় সারাদিন ধরে টানাটানি করা সত্যিই খুব কঠিন। রিকশাচালকদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা। স্যালুট।’

মুহূর্তেই ভিডিওটি নেটিজেনদের দৃষ্টি কেড়েছে। গত বছরের শেষ দিকে ইউনেস্কোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে জায়গা করে নেয় ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র। ঢাকার রিকশা যেকোনো বিদেশী পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় বিষয়।

বাচ্চারা জীবন দেয় আর মুরব্বিরা পদ ভাগাভাগি করেন : হাসনাত

বিপ্লবে বাচ্চারা গুলির সামনে জীবন দেয় আর মুরব্বিরা পদ ভাগাভাগিতে মেতে উঠেছেন বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ।

আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা অ্যাকাডেমিতে (নায়েম) শিক্ষা অধিকার সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ‘বাচ্চারা গুলির সামনে জীবন দেয় আর বিপ্লবের পর মুরব্বিরা পদ ভাগাভাগি করেন।’

পাঠ্যপুস্তকে মুক্তিযুদ্ধসহ জাতীয় অর্জনকে একজনের একক অবদান হিসেবে তুলে ধরার অপপ্রয়াস থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে হাসনাত বলেন, পাঠ্যপুস্তকে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের অতিরঞ্জিত প্রশংসার ফলে তার প্রতি বিরক্তির উদ্রেক হয়েছে।

তিনি বলেন, তরুণরা শুধু ইতিহাসের পাঠক নয়, এবার তারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। তাই ইতিহাসে যার যে অবদান, পাঠ্যপুস্তককে তা যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।

সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস’র এস্টোরিয়া শাখার উদ্বোধন

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের জনপ্রিয় মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠান সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস’র এস্টোরিয়া শাখার উদ্বোধন হয়েছে। ২৯-১৩, ৩৬ এভিনিউতে শাখাটির পূর্বের স্থান পরিবর্তন করে নতুনভাবে এই লোকেশানে উদ্বোধন করা হয়। ৮ নভেম্বর, শুক্রবার বাদ জুমা ফিতা কেটে শাখাটি উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনসুলেটের ফাস্ট কাউন্সেলর মো: আনিছ্জ্জুামান। দোয়া পরিচালনা করেন আলামিন মসজিদের খতিব মাওলানা লুৎফর রহমান।
সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাসুদ রানা তপন তার উদ্বোধনী বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আগত সকলকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, উন্নত গ্রাহক সেবা, ভালো রেট, মোবাইল এ্যাপসহ নানা লোকেশান থেকে টাকা পাঠানোর সুবিধা আজ সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস’র জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। যার কারণে প্রতিষ্ঠানটির পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমি আমাদের সকল সম্মানিত গ্রাহকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Image 3

তিনি আরো বলেন, সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস বাংলাদেশসহ ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, নেপাল এবং আফ্রিকাতে টাকা পাঠিয়ে আসছে। জ্যাকসন হাইটিস-এ ৭৩ ও ৭৪ স্ট্রিটে ২টি শাখা, এছাড়াও জ্যামাইকার হিলসাইট, এস্টেরিয়াসহ সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস’র রয়েছে ৪টি শাখা। এছাড়াও নিউইয়র্ক জুড়ে রয়েছে ১০০টির ও বেশী এজেন্ট লোকেশন। সানম্যান গ্লোবাল এক্সপ্রেস বাংলাদেশে ১১টি ব্যাংকের রেমিটেন্স এগ্রিমেন্ট রয়েছে। এছাড়া গ্রাহকরা বিকাশের মাধ্যমেও টাকা পাঠাতে পারে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট ইমিগ্রেন্ট এল্ডার হোম কেয়ার’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও গিয়াস আহমেদ, নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের প্রেসিডেন্ট ও স্টার ফার্নিচার’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও রকি আলিয়ান, সেক্রেটারি জেএফএম রাসেল, এ্যাংকর ট্রেভেল্স’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও এএসএম উদ্দিন (পিন্টু), বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন সিদ্দিকি। এস্টোরিয়া ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো: জাবেদ উদ্দিন, এ্যাপোলো ইন্স্যুরেন্স ব্রোকারেজ’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও মো: শমশের আলী, আলামিন মসজিদের সভাপতি সাহাবুদ্দিন, মরগেজ ইন্স্যুরেন্সের সভাপতি সান্তনু বড়ুয়া (হিমু), বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এজিএম জাহাঙ্গীর হাসান।

image 2


গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. মো: ওয়াজেদ এ খান, টাইম টেলিভিশনের সিইও ও সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সম্পাদক আবু তাহের, সাপ্তাহিক পরিচয় পত্রিকার সম্পাদক মো: নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক প্রবাস পত্রিকার সম্পাদক মোহাম্মদ সাঈদ, সাপ্তাহিক জন্মভূমি পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার প্রমুখ।
এছাড়াও উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কমিউনিটি এক্টিভিস্ট, ব্যাবসায়ী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

পাকিস্তানে পৃথক সেনা অভিযানে ১২ উগ্রবাদী নিহত

পাকিস্তানে দু’টি পৃথক অভিযানে ১২ উগ্রবাদীকে হত্যা করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমের বেলুচিস্তান প্রদেশ ও উত্তর-পশ্চিমের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এই অভিযান চালানো হয় বলে জানা গেছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া শাখা (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বেলুচিস্তান প্রদেশের কেচ জেলায় প্রথম সেনা অভিযানে উগ্রবাদীদের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক গোলাগুলি হয়। এ ঘটনায় চার উগ্রবাদী নিহত হয়েছে।

শনিবার বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার একটি রেল স্টেশনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় সেনা সদস্য ও রেলওয়েকর্মীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত এবং প্রায় ৬২ জন আহত হওয়ার পাঁচ দিন পর বেলুচিস্তানে এই সেনা অভিযান চালানো হলো।

শনিবারের হামলার দায় স্বীকার করে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বলে, রেলস্টেশনে উপস্থিত সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল।

বেলুচিস্তানের স্বাধীনতা চেয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্রোহ চালিয়ে আসছে নিষিদ্ধ ঘোষিত গোষ্ঠী বিএলএ। তবে শনিবারের হামলার পর পাকিস্তানের প্রশাসন গোষ্ঠীটিকে নির্মূল করার অঙ্গীকার করে।

অন্যদিকে, আজ ভোরে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে পাকিস্তানি তালেবানের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আট উগ্রবাদীকে হত্যা ও ছয়জনকে আহত করেছে বলে পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, দেশজুড়ে কোথাও কোনো উগ্রবাদীর সন্ধান পাওয়া গেলে তাকে নির্মূল করতে নিরাপত্তাকর্মীরা ক্লিয়ারেন্স অপারেশন পরিচালনা করছে। পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

সূত্র : এপি/ইউএনবি

বাইডেনের সাথে বৈঠকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত

বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সাথে বুধবার সাক্ষাত করেছেন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনালাড ট্রাম্প। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন বাইডেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে সাক্ষাত করেন ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান দুই নেতা। এই সময় দুই নেতা শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ওয়াশিংটন থেকে এএফপি আজ এই খবর জানিয়েছে।

ঐতিহাসিক ওভাল অফিসে বৈঠকের শুরুতে দুই নেতা একটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ক্ষমতা কত সহজে হস্তান্তর করা যায় তা নিয়ে আলোচনা করেন।

এর আগে ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে বাইডেনের সাথে সাক্ষাত করতে ওয়াশিংটন পৌঁছেন। গত ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয় লাভের পর প্রথমবারের মতো বাইডেনের সাথে দেখা করতে আসেন ট্রাম্প। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার নিজের ‘ট্রাম্প ফোর্স ওয়ান’ বিমানে চড়ে ‘জয়েন্ট বেস অ্যান্ড’ বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করেন।

বাইডেন এবারের নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নির্বাচনী মাঠে নেমেছিলেন। কিন্তু নির্বাচনী বিতর্কে ধরাশায়ী এবং বয়স নিয়ে কঠোর সমালোচনার মুখে সরে দাঁড়ান এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ডেমোক্র্যাট দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী প্রেসিডেন্টদের ঐতিহ্য অনুযায়ী বাইডেন ট্রাম্পকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানিয়েছেন। কিন্তু ২০২০ সালে ট্রাম্প বাইডেনের সাথে এই রকম সৌজন্যতা দেখাননি।

সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারিন জিন পিয়েরে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিয়মে বিশ্বাস করেন। তিনি শান্তিপূর্ণভাবেই ক্ষমতা হস্তান্তরে বিশ্বাসী।

বাইডেন ও ট্রাম্প বছরের পর বছর ধরে একে অপরের কঠোর সমালোচনা করে আসছেন। দু’জনের দলীয় নীতিও ছিল ভিন্ন। জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শুরু করে রাশিয়া-ইউক্রেন, গাজা-ইসরাইলসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে সঙ্ঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ে একে অপরকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। ট্রাম্প ৮১ বছর বয়সী বাইডেনকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে আসছেন। অপরদিকে বাইডেনও ট্রাম্পকে (৭৮) অযোগ্য হিসেবে কটাক্ষ করে আসছেন।

সূত্র : এএফপি/বাসস

কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে ইরানে জাতিসঙ্ঘের পরমাণু প্রধান

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বৃহস্পতিবার ইরানের শীর্ষ কূটনীতিকের সাথে দেখা করেছেন। তিনি নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে তেহরানে পারমাণবিক আলোচনা শুরু করেছিলেন।

২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত হোয়াইট হাউসে তার প্রথম মেয়াদের সময় ট্রাম্প তার ‘সর্বোচ্চ চাপ’ নীতি প্রয়ৈাগ করে, ইরানের উপর মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন। ওই সময় ২০১৫ সালের একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিবলে প্রত্যাহার করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো দেশটির ওপর পুনরায় আরোপ করা হয়েছিল।

ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, ‘গ্রোসি দেশটির শীর্ষ পরমাণু ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।’ তিনি বুধবার রাতে তেহরানে পৌঁছেছেন।

গ্রোসি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সাথে তার বৈঠককে ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করেছেন। ২০১৫ সালের পরমাণু আলোচনায় আরাঘচি ইরানের প্রধান আলোচক ছিলেন। ওই আলোচনার মাধ্যমেই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

আরাঘচি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ও খোলামেলা’ বৈঠকটিতে পরমাণুবিস্তার রোধ চুক্তি’র (এনপিটি) প্রতি ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত হয়েছে।

তিনি তার পোস্টে বলেন, ‘আমরা সাহস ও সদিচ্ছার সাথে এগিয়ে যেতে সম্মত হয়েছি। ইরান তার শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার টেবিল থেকে কখনোই সরে আসেনি।’

তিনি বলেন, ইরান তার ‘জাতীয় স্বার্থ’ ও ‘অবিচ্ছেদযোগ্য অধিকারের’ ওপর ভিত্তি করে ‘আলোচনা করতে ইচ্ছুক। তবে ‘চাপ ও ভয় দেখানো হলে ইরান আলোচনা করতে প্রস্তুত নয়।’

তাসনিম বার্তা সংস্থা জানায়, গ্রোসি ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামির সাথেও দেখা করেছেন।

তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আইএইএ প্রধানের ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে দেখা করার কথা রয়েছে। এটি গ্রোসির চলতি বছর তেহরানে তার দ্বিতীয় আর ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম সফর।
২০১৮ সালে ট্রাম্প একতরফাভাবে ২০১৫ চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন। ওই চুক্তিটির আওতায় ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির উপর বিধিনিষেধ মেনে চলার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেয়েছিল। চুক্তিটি ইরানকে অস্ত্রের সক্ষমতা বিকাশ রোধ করার জন্য করা হয়েছিল। ইরান তার পরমাণু অস্ত্র তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে বলে পশ্চিমাদের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

পরের বছর ইরান ধীরে ধীরে চুক্তির অধীনে যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা থেকে সরে আসতে শুরু করে। ওই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশটি ৩.৬৫ শতাংশের উপরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারবে না।

আইএইএ জানিয়েছে, ইরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে ৬০ শতাংশে বাড়িয়েছে। এটি এমন একটি স্তর- যা আন্তর্জাতিক সতর্কতা তৈরি করেছে। কারণ এটি একটি পারমাণবিক ওয়ারহেডের জন্য প্রয়োজনীয় ৯০ শতাংশ স্তরের অনেক কাছাকাছি।

মার্কিনভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান বিশেষজ্ঞ আলি ওয়ায়েজ বলেন, তেহরান ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য মত পার্থক্যের কারণে গ্রোসি পরিস্থিতি খারাপ থেকে খারাপের দিকে যাওয়া রোধ করতে যা করা সম্ভব, তাই করবেন।

ইরান এই অচলাবস্থার জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করেছে। বুধবার ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রই চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেছে, ইরান নয়। ট্রাম্প একবার সর্বোচ্চ চাপর প্রয়োগ করেছিলেন। তিনি বুঝেছেন যে এটি করে কোনো কাজ হয়নি।’

ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, ইরান ‘তার পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার জন্য আগের চেয়ে বেশি উন্মুক্ত’। কাটজের মন্তব্যের ঠিক কয়েকদিন পরেই গ্রোসি’র এই সফর।

গাজায় ইসরাইল ও ইরানের মিত্র হামাস এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রচণ্ড যুদ্ধের সময় উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলিতে চিরশত্রু ইরান ও ইসরাইল পরস্পরকে লক্ষ্য করে সরাসরি হামলা চালায়।

সূত্র : বাসস