Home Blog Page 515

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নেবে ইসি : বদিউল আলম মজুমদার

০

কারা নির্বাচনে আসবে, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘কারা নির্বাচনে আসবে, কারা যোগ্য, কারা যোগ্য নয়, ওই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) নেবে। আমাদের কাজ হলো নির্বাচনীব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে প্রস্তাব দেয়া।’

রোববার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারসংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার এ কথা বলে।

সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় কমিশনের অপর দুই সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও জেসমিন টুলীও উপস্থিত ছিলেন।

বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, ‘মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ, আবেগ ও উচ্ছ্বাস সেটা আমরা উপলব্ধি করছি। আমরা কোথাও গেলে মানুষ দু’টি কথা বলতে চায়, তাদের মনের আকুতি ব্যক্ত করতে চায়। অনেকে আমাদেরকে বিভিন্ন প্রস্তাবও দিতে চায়। সবার প্রস্তাবগুলো আমরা নিচ্ছি। ইমেইলেও হাজার হাজার মানুষ মতামত দিচ্ছে আমাদের। আমরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে প্রস্তাবগুলো দেব। তবে বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। সরকার, রাজনৈতিক দল ও নির্বাচন কমিশন তা বাস্তবায়ন করবে। নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার সেখানে ভূমিকা থাকবে। আশা করছি ৩১ ডিসেম্বরের আগেই আমরা প্রতিবেদন জমা দেব।’

বদিউল আলম মজুমদার যোগ করেন, ‘আমরা কতগুলো প্রস্তাব দেব। কিন্তু বাস্তবায়ন আমাদের দায়িত্ব নয়। বাস্তবায়ন হবে সরকারের দ্বারা।’

এক প্রশ্নের জবাবে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘নাগরিক হিসেবে অনেকে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন। তারা আর ব্যবহৃত হতে চান না। তারা চান সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই সেভাবে দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা করছি। আর হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া, বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেয়া হয়। তথ্য গোপন করা হয়। এগুলো যাতে যাচাই-বাছাই করা হয়, ওই সংক্রান্ত প্রস্তাব দেয়ার কথা বিবেচনা করছি। আমাদের প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত হয়নি।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুরোনো আইনে পরিচালিত হলেও সংস্কার কমিশনের সাথে তা সাংঘর্ষিক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের কাজের সাথে তাদের কোনোরকম সাংঘর্ষিক অবস্থান তৈরি করছে না। যাদেরকে নিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠিত হয়েছে তারা অত্যন্ত সম্মানিত এবং দলনিরপেক্ষ ব্যক্তি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, তারা সঠিক ব্যক্তি এবং তারা আমাদের একটি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আমাদের নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের ব্যাপারে সুপারিশ থাকবে। সংখ্যানুপাতিক আসনের পক্ষেও আছে, বিপক্ষেও প্রস্তাব আছে প্রবল। সব কটা বিবেচনায় নিচ্ছি। তবে এখানে আরেকটা জিনিস জানা দরকার, এসব সিদ্ধান্ত মূলত আমাদের নয়। এগুলোর জন্য সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। তো সংবিধান পরিবর্তনের জন্য যে কমিশন হয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সুপারিশ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বলেন, ইভিএম এর আর প্রশ্নই আসে না। ওটা হবে না। নির্বাচন কমিশনও বলেছে, আমরাও একই মত দিয়েছি।

হলফনামায় তথ্য গোপন প্রসঙ্গে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীদের হলফনামায় অনেক রকম ভুয়া তথ্য থাকে, গোপনও করা হয়। আমরা এ বিষয়ে প্রস্তাব দেওয়ারও পরিকল্পনা করছি। আমাদের প্রস্তাবনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

এ সময় ছিলেন সংস্কার কমিশনের সদস্য স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ডা. মো: আবদুল আলীম ও চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম প্রমুখ।

ইসরাইলের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে ফেসবুক

ইসরাইলের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্যাম্পেইনিং অর্গনাইজেশন ইকো এমন ৯৮টি বিজ্ঞাপন চিহ্নিত করেছে।

মিডল ইস্ট আইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও আইনপ্রণেতাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের বিজ্ঞাপন প্রমোট করছে ফেসবুক। অথচ ওই সেনারা গাজায় যুদ্ধাপরাধে জড়িত। আর আইনপ্রণেতারা গাজায় পুনর্বাসনে আগ্রহী।

ইকোর এক জরিপে দেখা গেছে, ফেসবুক এমন অন্তত ৯৮টি বিজ্ঞাপন প্রমোট করেছে। বিজ্ঞাপনগুলো বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে টার্গেট করে দেখানো হচ্ছে। বিজ্ঞাপনে অনুরোধ জানানো হচ্ছে, যেন ইসরাইলি সেনাবাহিনীর জন্য উন্নত প্রযুক্তির থার্মাল ড্রোন, অ্যাসল্ট রাইফেল সাইট, আর্মার, নাইট ভিশন গগলস এবং হেলমেটসহ উন্নত সমরাস্ত্র কেনার জন্য সহযোগিতা করা হয়।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, তহবিল সংগ্রহের এই বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এতে তারা ড্রোন কেনার জন্য তহবিল সংগ্রহে জোর দিচ্ছে। সম্ভবত এই ড্রোনগুলো তারা গাজা ও লেবাননে চলমান যুদ্ধে ব্যবহার করবে।

সূত্রটি আরো জানিয়েছে, ইসরাইল যেসব ড্রোন কিনতে চাচ্ছে, তার অধিকাংশগুলোই বিস্ফোরক বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়।

মিডল ইস্ট আই থেকে অনুবাদ করেছেন আবু সাঈদ

কনসার্টে মঞ্চ মাতালেন রাহাত ফতেহ আলী খান

০

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘ইকোস অব রেভল্যুশন’ কনসার্টে সংগীতপ্রেমীদের মাঝে গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন উপমহাদেশের কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী রাহাত ফতেহ আলী খান।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাত ৮টায় মঞ্চে ওঠেন তিনি।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করার পর এ শিল্পী শুরু করেন শ্রোতাদের পরিচিত ‘আস পাস হ্যা খুদা’ গানটি দিয়ে। রণবীর কাপুর ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া অভিনীত ‘আনজানা আনজানি’ ছবিতে শোনা গিয়েছিল গান।

এ কনসার্টে গাওয়ার জন্য কোনো পারিশ্রমিক নেননি তিনি। জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও গাইবেন এ শিল্পী।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারকে সহায়তা দিতে এ কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্টের টিকিট বিক্রির অর্থ গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবার নিয়ে কাজ করা কল্যাণমূলক সংস্থা ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এ দেয়া হবে।

উল্লেখ্য, রাহাত ফতেহ আলী খান প্রাথমিকভাবে মুসলিম সুফি হিসেবে ভক্তিমূলক গান গাইতেন। তিনি ওস্তাদ নুসরাত ফাতেহ আলী খানের ভাস্তে এবং ওস্তাদ ফররুখ ফতেহ আলী খানের ছেলে। এছাড়াও তিনি পুরাণখ্যাত কাওয়ালি শিল্পী ফাতেহ আলী খানের নাতি।

পাশাপাশি তিনি বলিউডের জনপ্রিয় একজন নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত। তার গাওয়া প্রথম বাংলা গান ‘তোমার-ই নাম লেখা’ এবং গানটি লিখেছেন বাংলাদেশী গীতিকার রবিউল আউয়াল। গানটি গেয়ে তিনি বাংলাদেশে বেশ প্রশংসিত হন।

সাকিব-তামিমকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া যাবে : ফারুক

০

দীর্ঘ দিন ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা দু’ সিনিয়র ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে আগামী বছর পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ফারুক আহমেদ।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

ফারুক আহমেদ বলেন, ‘যেহেতু দু’ সিনিয়র ক্রিকেটার এখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেননি। তাই নির্বাচকরা যদি মনে করেন দলে তাদের প্রয়োজন রয়েছে, তাহলে দু’ সিনিয়রকে নির্বাচনে কোনো বাধা নেই।’

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো কোনো পলিসি নেই। যদি কোনো ক্রিকেটার অবসর না করে থাকে আর যদি নির্বাচকরা মনে করেন তাকে দলে দরকার, তাহলে তাদের সাথে আলাপ করতে পারে নির্বাচকরা।’

চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর তামিমকে দলে পাবার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছিলেন বিসিবি-এর প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু। তারপরও বল ঠেলে দিয়েছিলেন বিসিবি-এর কোর্টে।

আশরাফ বলেছিলেন, ‘তামিম ইকবাল খেলা শুরু করেছেন এটা খুব আশার কথা। আমার বিশ্বাস, শিগগিরই আমরা জানতে পারব যে, চ্যাম্পিয়নস ট্রফির জন্য তাকে পাওয়া যাবে কি-না। যদি তিনি থাকেন তাহলে তো দারুণ হবে।’

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে তামিমের মতো সাকিবকে পাবার কথা থাকলেও তার ব্যাপারে নতুন কোনো তথ্য দিতে পারেননি বিসিবি সভাপতি।

বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘সাকিবের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এটা নতুন কিছু নয়। সর্বশেষ যখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছিলাম তিনি তখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার মতো মানসিক অবস্থায় ছিলেন না। তাই তাকে পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এখন শুধু সাকিবই বলতে পারবেন তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) খেলবে কি-না। তার অবস্থা সম্পর্কে আমি বলতে পারব না। আমার কাছে তার কোনো আপডেট নেই।’

বর্তমানে এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে খেলছেন তামিম। ৩০ ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া বিপিএলে ফরচুন বরিশালকে নেতৃত্ব দিবেন তিনি। সাকিব দেশে আসতে না পারলেও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট খেলছেন।

১৯ ফেব্রুয়ারি চ্যাম্পিয়নস ট্রফি শুরু হবার কথা রয়েছে। হাইব্রিড মডেলে টুর্নামেন্টটি হবে। এখনো টুর্নামেন্টের সূচি ঘোষণা করা হয়নি।

সূত্র : বাসস

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের খসড়া তালিকা প্রকাশ

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ বা আহত হওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) গণঅভ্যুথান সংক্রান্ত বিশেষ সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা (অতিরিক্ত সচিব) খন্দকার জহিরুল ইসলামের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে প্রতিপক্ষের আক্রমণে শহীদ বা আহত হয়েছেন এমন ব্যক্তিদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদফতর, ৬৪টি জেলায় গঠিত জেলা কমিটি এবং গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেল নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে শহীদ এবং আহত ব্যক্তিদের তালিকা চূড়ান্তকরণের লক্ষ্যে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ওয়েবসাইট (https://musc.portal.gov.bd) এ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম ধাপের উল্লিখিত খসড়া তালিকা দুটি আগামী ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকাশিত খসড়া তালিকা দুটিতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের নাম, ঠিকানা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি যাচাই/সংশোধন/চূড়ান্ত করতে শহীদ ও আহত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য/ওয়ারিশ/প্রতিনিধিদেরকে মতামত দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো। এই প্রকাশিত তালিকার বিষয়ে কারো কোনো মতামত/পরামর্শ থাকলে অথবা সংযোজন/বিয়োজন করার মতো যুক্তিসঙ্গত কোনো তথ্য থাকলে তা আগামী ২৩ ডিসেম্বরের মধ্যে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের ইমেইলে (muspecialcell36@gmail.com) জানানোর জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

নির্বাচনী সময়ের বিষয়ে সরকারের ‘স্পষ্ট বক্তব্য’ চায় বিএনপির যুগপৎ সঙ্গীরাও

দীর্ঘ দিন পর যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গীদের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। বৈঠকে মূলত সঙ্গীরা বর্তমান সরকারের বক্তব্য কিভাবে দেখছেন, ওই বিষয়ে মতামত চেয়েছ বিএনপি। সঙ্গীরাও ওই বিষয়ে মতামত দিয়েছে। বিএনপির মতোই নির্বাচনের সময় বিষয়ে ‘স্পষ্ট বক্তব্য’ চায় যুগপৎয়ের লিয়াজোঁ কমিটির নেতারা।

আজ শনিবার বিকেলে গুলশান বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যুগপৎ জোট ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট ও লেবার পার্টির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে বৈঠক হয় দলটির লিয়োজোঁ কমিটির সাথে।

লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়া লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা তো বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক, বেশ কিছুদিন ধরে তাদের সাথে আমাদের আলোচনা হয়নি। সর্বশেষ ছাত্র জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন হয়েছে। সরকার প্রধান নির্বাচন নিয়ে কথা বলেছেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য ও সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, এ বিষয়গুলোতে আমাদেরকে সক্রিয়ভাবে মাঠে থাকতে হবে। ওই বিষয়গুলোই আলোচনায় উঠে এসেছে।

নির্বাচন নিয়ে আমাদের অবস্থান জানতে চেয়েছে বিএনপি। আমরা মনে করি, অন্তবর্তীকালীন সরকার চাইলে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে পারে। কিন্তু তারা কেন যে ২৬ সালের জুনের কথা বলছে? এক্ষেত্রে সরকার থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো কাজের কথা বলেনি, কোনো কোনো কাজে তারা সময়গুলো ব্যয় করবে। নির্বাচন নিয়ে সরকারের বক্তব্য আমরা ধুম্রজাল হিসেবেই মনে করি। এ বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসা দরকার সরকারের পক্ষ থেকে।

তিনি বলেন, বিএনপি আমাদের থেকে মতামত চেয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক বক্তব্য, সংস্কার ও সার্বিক বিষয়ে এবং আমরা সেটাকে কিভাবে দেখছি। সরকার যে এত সময় চাচ্ছে মূলত কী কাজে, সংস্কারের জন্য নাকি তারা রাজনৈতিক দল গঠন করবে, কী কেন দরকার? ওই বিষয়টা সরকারকেই পরিষ্কার করতে হবে। সরকার চাইলে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন দিতে পারে। সেটি আমরাও মনে করি, বিএনপিও মনে করে।

জাতীয় দলের চেয়ারম্যান ও ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এহসানুল হুদা বলেন, বিএনপির আমাদের কাছে মতামত চেয়েছে, আমরা মতামত দিয়েছি। আমরা বলেছি, ২৫ সালের মধ্যে নির্বাচন হওয়া দরকার। আমরা বিএনপিকে মতামত দিয়েছি। যুগপৎ আন্দোলনের সবার সাথে আলোচনা করে বিএনপি দুই তিন দিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তা তুলে ধরবে।

দ্বিতীয় ধাপের বৈঠক শেষে সমমনা জোটের পক্ষ থেকে এনপিপি চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ সাংবাদিকদের বলেন, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন করেছি। পরে একপর্যায়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি। দেশের সকল সমস্যার সমাধান হবে যদি জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত না হলে কোনো লাভ হবে না। তাই গণতন্ত্র রক্ষার জন্য জরুরিভাবে নির্বাচন প্রয়োজন। আমরা চাই সংস্কারের নামে কালক্ষেপণ না করে সুনির্দিষ্ট নির্বাচনী রোড ম্যাপ ঘোষণা করবে সরকার।

নির্বাচনের পর নিজের কাজে ফিরে যাব : প্রধান উপদেষ্টা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজের কাজে ফিরে যাবেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবছরের মতো এবারো বর্ষসেরা দেশ নির্বাচন করেছে ‘দ্য ইকোনমিস্ট’। ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ হিসেবে এবার বাংলাদেশের নাম ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যম। এ উপলক্ষে সাক্ষাৎকারটি নেয়া হয়।

নির্বাচন আয়োজনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পরিকল্পনা জানতে চান উপস্থাপক। জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আসলে আমার চাকরি কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাকে জোর করে এ কাজে আনা হয়েছে। আমি আমার কাজ উপভোগ করছিলাম। এজন্য প্যারিসে ছিলাম। সেখান থেকে অন্য কিছু করার জন্য আমাকে টেনে আনা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমি আমার নিয়মিত কাজে ফিরে যেতে পারলে খুশি হবো। যা আমি সারা জীবন ধরে করেছি এবং তরুণরাও এটিকে ভালোবাসে। সুতরাং আমি আমার সেই দলে বা কার্যক্রমে ফিরে যাবো যেটা আমি সারা বিশ্বে তৈরি করেছি।

সাক্ষাৎকারে বর্তমান বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়েও কথা হয়। উগ্রবাদের ঝুঁকি সংক্রান্ত এক প্রশ্নে জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেবে না, এটি আমি আশ্বস্ত করছি। তরুণরা ধর্ম নিয়ে নিরপেক্ষ। তারা নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। এই তরুণরা পুরো বিশ্ব পরিবর্তন করতে পারে। এটা শুধু এক দেশ বা আরেকটি দেশ পরিবর্তনের বিষয় না। বাংলাদেশ যা করেছে এটি একটি উদাহরণ যে তরুণরা কত শক্তিশালী। আমাদের উচিত তাদের প্রতি মনোযোগ দেয়া। বিশেষ করে তরুণীদের ওপর। তারা বাংলাদেশের অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আমাদের উচিত তরুণ-তরুণীদের ওপর মনোযোগ দেয়া যাতে তারা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারে। তাদের সুযোগ এসেছে। তাদের সক্ষমতাও রয়েছে। অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া তিন তরুণ আমার ক্যাবিনেটে আছেন। তারা দুর্দান্ত কাজ করছে। তারা সক্ষম। এই তরুণরা গত শতাব্দীর তরুণ নয়। তারা এই শতাব্দীর তরুণ। তারা অন্যদের মতোই সক্ষম।’

প্রসঙ্গত, বর্ষসেরা দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম ঘোষণার কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক এই গণমাধ্যম বলেছে সবচেয়ে ধনী, সুখী বা নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকারী কি না, সেই হিসাবে নয়, সেরা দেশ বেছে নেয়া হয় আগের ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে কি না, সেই বিচারে।

এবারের সেরা দেশ বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকায় ছিল পাঁচটি দেশ। বাংলাদেশ ছাড়াও সিরিয়া, আর্জেন্টিনা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও পোল্যান্ড রয়েছে এই তালিকায়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকেই বেছে নেয়া হয়।

আইনজীবী আলিফ হত্যা : তদন্ত কমিটির সব সদস্যের পদত্যাগ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুরকে ঘিরে আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত চেয়েছে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে গঠন করা তদন্ত কমিটি।

কমিটির প্রধান সাবেক মহানগর পিপি ও আইনজীবী আবদুস সাত্তার জেলা আইনজীবী সমিতির নেতাদের কাছে এই সুপারিশ করেন এবং তিনি তদন্ত কমিটি থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এর আগে, কমিটির সদস্যসচিবসহ চার সদস্য অব্যাহতি চেয়েছেন।

গত বুধবার ও তার আগে কমিটির সদস্যরা পদত্যাগপত্র জমা দিলেও বিষয়টি আজ শনিবার জানাজানি হয়।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুস সাত্তার বলেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও আইনজীবী হত্যার ঘটনার পর সমিতির পক্ষ থেকে ১০ নভেম্বর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ১৫ নভেম্বর রিপোর্ট দিতে বলা হয়। এর মধ্যে সদস্যসচিবসহ চারজন পদত্যাগ করেছেন। এটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে সাতটি মামলা হয়েছে। তাই এ ঘটনা সাধারণ কেউ তদন্ত করলে হবে বলে মনে করছি না। একজন জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার বিচারক দিয়ে আলোচিত এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। এ কারণে সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার আমি নিজেই এ তদন্ত কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছি।’

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর হওয়া নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর আদালত প্রাঙ্গণে সংঘর্ষ হয়। এ সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সাইফুলের বাবা জামাল উদ্দিন ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।

এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা, কাজে বাধাদান এবং আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ওপর হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আরো ছয়টি মামলা করা হয়।

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের ঘটনায় এ পর্যন্ত পুলিশ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে। এর মধ্যে চন্দন দাস, রিপন দাস ও রাজীব ভট্টাচার্য নামের তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিভেদ তৈরি হতে দেয়া যাবে না : ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা। আমাদের ঐক্যের বন্ধনকে মজবুত রাখতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্যে বিভেদের প্রাচীর তৈরি হতে দেয়া যাবে না।

শুক্রবার রাজধানীর মতিঝিলে বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা কমিউনিটি সেন্টার কমপ্লেক্স মিলনায়তনে সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সমিতি ঢাকা’র রজতজয়ন্তী ও মেজবান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, এদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের বসবাস। আমাদের মিলেমিশে থাকতে হবে। একে অপরের দুঃখে-সুখে অংশিদার হতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে সে লক্ষ্যে সার্বিক প্রয়াস চালিয়ে যেতে হবে। তাই আমাদের হাজার বছরের লালিত ঐতিহ্যেকে ধরে রাখতে হবে।

ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, একটি সুন্দর, স্থিতিশীল ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সে লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের এই প্রয়াসকে সফল করতে হবে।

ড. খালিদ বলেন, সাতকানিয়া-লোহাগাড়া একটি আলোকিত জনপদের নাম। এ জনপদে শত-শত বছরের পথ পরিক্রমায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার জ্ঞানী-গুণী, প্রথিতযশা ও আলোকিত মানুষের জন্ম হয়েছে। এই নক্ষত্রগুলোকে খুঁজে বের করা দরকার। এ জাতীয় বরেণ্য মানুষদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আগামী প্রজন্ম সুন্দর ভবিষ্যৎ রচনা করতে পারবে।

সাতকানিয়া-লোহাগাড়া সমিতির কর্মকাণ্ড তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এই সমিতি অনেক মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি, অভাবগ্রস্ত মানুষকে আর্থিক সহায়তা, ঘর নির্মাণে ঢেউটিন বিতরণ ও চিকিৎসা উপকরণ প্রদানসহ নানামুখী সেবাধর্মী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এরূপ কার্যক্রমের জন্য উপদেষ্টা সমিতির সদস্যদেরকে অভিনন্দন জানান।
এর আগে, ধর্ম উপদেষ্টা সংগঠনটির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে ‘ডলুপ্রবাহ’ শীর্ষক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন।

সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শফিকউল্লাহর সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী।

এ অনুষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদক কফিল উদ্দিন চৌধুরী সমিতির বার্ষিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। অন্যান্যের মধ্যে সিবিএম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সমিতির প্রধান পৃষ্ঠপোষক জয়নুল আবেদীন জামাল, অনুষ্ঠান উদযাপন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন, সমিতির সহ-সভাপতি মো: মুনীর চৌধুরী, সমিতির উপদেষ্টা পরিষদের সভাপতি মো: আবদুল করিম, সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
সূত্র : বাসস

নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশ, প্রতিপক্ষ ভারত

০

নেপালকে নয় উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে ফাইনালে উঠেছে টাইগ্রেসরা। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বায়েমাস ওভাল মাঠে যুব এশিয়া কাপে সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ ও নেপালের মেয়েরা। বৃষ্টির কারণে ম্যাচের গণ্ডি কমিয়ে ১১ ওভারে নামিয়ে আনা হয়। এরপর মূল কাজটা প্রথম ইনিংসেই সেরে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

এ ম্যাচে আগে ব্যাট করা নেপাল বাংলাদেশের বোলারদের সামনে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। বাংলাদেশের বোলিং তোপের পরও আট উইকেট হারিয়ে নেপাল তুলেছিল ৫৮ রান। নয় ব্যাটারের মধ্যে মাত্র ওপেনার সাবিত্রি ধামিই পেরেছিলেন দু’ অংক ছুঁতে।

রান তাড়ায় দাপুটে শুরু করে বাংলাদেশ। প্রায় জয়ের কাছেই দলকে নিয়ে যায় দু’ ওপেনার ফাহমিদা ও ইভা। অষ্টম ওভারের দ্বিতীয় বলে কাসুম গোদার শিকার হয়ে ফেরেন ১৮ রান করা ইভা। ভাঙে ৪৬ রানের জুটি। এরপর সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণাকে সাথে নিয়ে জয় তুলে মাঠ ছাড়েন ফাহমিদা। ৩২ বলে ২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন ফাহমিদা। তার সাথী সুমাইয়া আক্তার ছয় বলে খেলেছেন ১০ রানের জয়সূচক ইনিংস।

সুপার ফোরে ভারতের কাছে হারলেও এবার ফাইনালে সেই ভারতকেই প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। এর আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে ভারতীয় মেয়েরা শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়ে যুব এশিয়া কাপের ফাইনাল নিশ্চিত করে। যদিও পয়েন্ট টেবিলে আগে থেকে শীর্ষে ছিল ভারতের মেয়েরা। প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এ টুর্নামেন্টে আগামী ২২ ডিসেম্বর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ ।