Home Blog Page 516

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মিসরে ১১তম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দেশে ফিরেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার বাসসকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে আমিরাত এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট আজ শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধান উপদেষ্টার ড. ইউনূস বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ১১তম ডি-৮ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।

ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের আগে তিনি কায়রোতে নতুন প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ পরিদর্শনে গেলে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি তাকে প্রাসাদে স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টা ‘গাজা ও লেবাননে মানবিক সঙ্কট এবং পুনর্গঠন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনেও বক্তৃতা করেন।

ড. ইউনূস ডি-৮ সম্মেলনের ফাঁকে একটি হোটেলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সাথে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) মহাসচিব হুসেইন আল শেখ সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ করেন।

এছাড়া প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার রাতে আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেন।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী ড. জাম্বরি আব্দুল কাদির কায়রোর সেন্ট রেজিস হোটেলে ড. ইউনূসের সাথে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় মিশরের রাজধানী কায়রো পৌঁছেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা কায়রোর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।
সূত্র : বাসস

শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের কর ছাড়, বিপুল রাজস্ব থেকে বঞ্চিত সরকার : শ্বেতপত্র

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কর মওকুফের সুযোগ পাওয়ায় বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আহরণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী গ্রুপকে কর ছাড়ের সুযোগ করে দেয়। এতে রাষ্ট্রের কোষাগার প্রকৃত রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিাতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গত ১ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে এই প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়।

গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি নিরূপণ এবং গত ১৬ বছরের অনিয়ম-দুর্নীতি তদন্তে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। ৯০ দিনের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন সরকার প্রধানের কাছে হস্তান্তর করে।

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবু ইউসুফ বাসসকে বলেন, বিগত শাসনামলে কর অব্যাহতির পরিমাণ ছিল দেশের মোট জিডিপির ৬ শতাংশ। এটি অর্ধেকে নামিয়ে আনা গেলে শিক্ষা বাজেট দ্বিগুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট তিনগুণ করা যেত।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এনবিআরকে এসআরও জারি করতে হয়েছিল, যার মাধ্যমে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সরকার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা কর ছাড়ের সুযোগ পায়। সুবিধাপ্রাপ্ত এই ব্যবসায়ীরা হয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিকদলের সাথে সম্পৃক্ত অথবা উঁচু পর্যায়ের আমলাদের ঘনিষ্ট ছিলেন।

এতে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘শেখ হাসিনার সময়ে এসআরও’র (কর মওকুফ সুবিধা) অতিরিক্ত ব্যবহার রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল, যা বাংলাদেশের কর নীতির কার্যকারিতা দুর্বল করেছে।’

এসআরওর মাধ্যমে কর মওকুফ সুবিধা দেশের কর-ভিত্তি দুর্বল এবং দুর্নীতিকে উৎসাহিত করেছে বলে শ্বেতপত্রে চিহ্নিত করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘এসআরওর মাধ্যমে কর আইনে প্রায়ই অ্যাডহক পরিবর্তন স্বচ্ছতা এবং পূর্বানুমানযোগ্যতার পরিপন্থী ছিল, যা ব্যবসা-বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বিঘ্নিত করেছে এবং রাজস্ব আহরণ হ্রাস করেছে।’

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বেক্সিমকো, এস আলম, সামিটের মতো একাধিক ব্যবসায়ী গ্রুপ নিয়মিত এই সুবিধা পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুসারে সামিট গ্রুপ ২০১৮ সালে তাদের এলএনজি টার্মিনাল অপারেশনের ক্ষেত্রে হিসাব বজায় রাখা এবং আয়কর রিটার্ন জমা দেয়ার শর্তে প্রকল্প আয়, বিদেশীদের আয়, রয়্যালিটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ ফি এবং টেকনিক্যাল সহায়তা ফি, শেয়ার হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত মূলধনী লাভ এবং বিদেশী ঋণের সুদের ওপর পূর্ণ কর মওকুফ পায়।

গ্রুপটি আরো ১৫টি বিদ্যুৎ প্রকল্প, বাংলাদেশে আগমনের তিন বছরের মধ্যে বিদেশীদের আয়, বিদেশী ঋণের সুদ, রয়্যালটি, টেকনিক্যাল নো-হাউ এবং সহায়তা ফি এবং শেয়ার হস্তান্তর থেকে প্রাপ্ত মূলধনী লাভের ওপর পূর্ণ কর মওকুফ পেয়েছে।

অনুরূপভাবে অন্যান্য কোম্পানিগুলোও বিভিন্ন আকারে কর মওকুফ সুবিধা ভোগ করেছে। তবে শ্বেতপত্রের প্রতিবেদনে এই করছাড় সুবিধা পাওয়া অর্থের সুনির্দিষ্ট পরিমাণের কথা উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, প্রধান উপদেষ্টা গত ১ ডিসেম্বর শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন গ্রহণ করে উল্লেখ করেছিলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। তিনি এর থেকে শিক্ষা নেয়ার জন্য পাঠাস্যূচিতে শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন অন্তর্ভুক্ত করারও কথা বলেন।

গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তার ভাষণে এ বিষয়ে আরো বলেন, ‘শ্বেতপত্রের প্রতিবেদন পড়ে দেশের মানুষ হতভম্ব হয়ে গেছে। ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়ে গেছে এটা সবাই বুঝতে পেরেছিল। কিন্তু অর্থনীতিকে কী পরিমাণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দিয়ে গেছে, তার পরিমাপ সম্বন্ধে কোনো ধারণা করতে পারছিল না। শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি হিসাব-নিকাশ করে এর পরিমাণ বের করে দিয়েছে।’

সূত্র : বাসস

শীর্ষ ৫ বোলারই বাংলাদেশের, সর্বোচ্চ উইকেট মাহেদির

০

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আজ শুক্রবার শেষ হওয়া তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে উইকেট শিকারী তালিকায় শীর্ষ পাঁচ বোলারই বাংলাদেশের।

৩ ইনিংসে ১১ ওভারে ৪৬ রানে সর্বোচ্চ ৮ উইকেট নিয়েছেন অফ-স্পিনার মাহেদি হাসান। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ৩৭ রান করায় সিরিজ সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। বল হাতে তার ইকোনমি ছিল ৪ দশমিক ১৮। প্রথম ম্যাচে ১৩ রানে ৪ উইকেট ও অপরাজিত ২৬ রান করায় ম্যাচ সেরা হয়েছিলেন মাহেদি।

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ উইকেট নিয়েছেন পেসার তাসকিন আহমেদ। এরপর ৬ উইকেট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে আছেন স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৪টি করে উইকেট শিকার করে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে আছেন দুই পেসার হাসান মাহমুদ ও তানজিম হাসান সাকিব।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন টি-টোয়েন্টির এক নম্বর বোলার স্পিনার আকিল হোসেন।

বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শীর্ষ পাঁচ বোলার :
খেলোয়াড় ম্যাচ ইনিংস রান উইকেট
মাহেদি হাসান (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৪৬ ৮
তাসকিন আহমেদ (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৭৪ ৭
রিশাদ হোসেন (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৬৫ ৬
হাসান মাহমুদ (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ৫০ ৪
তানজিম হাসান সাকিব (বাংলাদেশ) ৩ ৩ ১০০ ৪
সূত্র : বাসস

মসজিদের নিচে মন্দির খোঁজা গ্রহণযোগ্য নয়, কড়া বার্তা আরএসএস প্রধানের

০

মসজিদের নিচে মন্দির খোঁজা গ্রহণযোগ্য নয় বলে হিন্দু নেতাদের কড়া বার্তা দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার তাদের এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এ কথা বলেন তিনি।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইদানিং দেশজুড়ে এক নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। দেশের নানা প্রান্তে বিভিন্ন মসজিদের সমীক্ষার দাবি তুলে আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছে ছোট-বড় নানা আকারের হিন্দুপন্থী সংগঠন, এমনকি কোনো কোনো হিন্দু নেতা বা ব্যক্তিও। উদ্দেশ্য একটাই, ওই মসজিদের স্থানে কোনো যুগে মন্দির ছিল কিনা, সেটা যাচাই করে দেখা! এর জেরে সম্প্রতি দেশের নানা প্রান্তে অশান্তি, সাম্প্রদায়িক হিংসা পর্যন্ত ছড়িয়েছে।

এই বিষয়টি নিয়েই এবার মুখ খুললেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। বৃহস্পতিবার এমন আচরণের তীব্র ধিক্কার জানালেন তিনি। স্পষ্ট বলে দিলেন, এই ধরনের ঘটনা একেবারেই ‘গ্রহণযোগ্য নয়’।

ভাগবত বলেন, ইদানীং কিছু হিন্দু নেতা দেশের নানা প্রান্তে অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতো ‘ডিসপিউট’ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। এটা গ্রহণযোগ্য নয় একেবারেই।

বৃহস্পতিবার ভাগবত কার্যত মনে করিয়ে দেন, ভারত একটি ধর্মনিরপেক্ষ দেশ। তিনি বলেন, ‘ভারতের সেই নজির গড়ে তোলা উচিত, যেখানে বিভিন্ন ধর্মে বিশ্বাসী ও সম্প্রদায়ের মানুষ একইসাথে পাশাপাশি সহাবস্থান করতে পারে।’

বৃহস্পতিবার মহারাষ্ট্রের পুণেয় আয়োজিত ‘বিশ্বগুরু ভারত’ কর্মসূচির মঞ্চে ভাষণ দেয়ার সময় এই মন্তব্য করেন মোহন ভাগবত।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের পক্ষ থেকে উত্তরপ্রদেশের সম্ভলের জামা মসজিদ, এমনকি রাজস্থানের আজমির শরিফ নিয়েও সমীক্ষার দাবি তোলা হয়, যা নিয়ে এখনো বিতর্ক চলছে।

ওই প্রেক্ষাপটে মোবন ভাগবত বলেন, ভারতকে তার অতীতের সমস্ত ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তবেই বিশ্ব মানচিত্রে ভারত ‘রোল মডেল’ হয়ে উঠতে পারবে। আমাদের প্রমাণ করতে হবে, নানা বৈচিত্র থাকা সত্ত্বেও কিভাবে একত্রে থাকা যায়।

এই বিষয়ে কথা বলার সময়েই ভাগবত বুঝিয়ে দেন, অযোধ্য়ার রাম মন্দিরের বিষয়টি ছিল স্বতন্ত্র। তার সাথে অন্যান্য ঘটনা গুলিয়ে ফেললে চলবে না।

ভাগবত বলেন, ‘রাম মন্দির একটা বিশ্বাস ও আস্থার বিষয় ছিল। আর হিন্দুদের মনে হয়েছিল, এটা অবশ্যই গড়ে তোলা উচিত। কিন্তু যেভাবে নতুন বেশ কিছু স্থানে একই ধরনের ইস্যু তুলে ধরা হচ্ছে এবং তার ফলে যে ঘৃণা এবং শত্রুতার বাতাবরণ তৈরি হচ্ছে, তা কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তার মতে, সমাজে এই ধরনের বৈষম্য ও বিবাদ মেটানোর সবথেকে ভালো উপায় হলো প্রাচীন সংস্কৃতিতে ফিরে যাওয়া। খুবই তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভাগবত বলেন, ‘চরমপন্থা, আগ্রাসী মনোভাব, জোর জবরদস্তি করা এবং অন্য ধর্মে আরাধ্যকে অপমান করা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’

ভাগবত এরপর কার্যত ঘোষণার সুরে বলেন, ‘এখানে সংখ্যাগুরু ও সংখ্য়ালঘু বলে কিছু নেই। আমরা সকলেই এক। এই দেশে যেন প্রত্যেকেই তার ধর্ম বিশ্বাস অনুসারে ঈশ্বরের উপাসনা করার সুযোগ পান।’

সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস

উপদেষ্টা হাসান আরিফের জানাজা-দাফন সম্পর্কে যা জানা গেল

০

অন্তর্বর্তী সরকারের বিমান ও পর্যটন এবং ভূমি উপদেষ্টা এ এফ এম হাসান আরিফ মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

জানা গেছে, শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) এশার নামাজের পর রাজধানীর ধানমণ্ডি ৭ নম্বরের বায়তুল আমান জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর আগামীকাল শনিবার হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে বেলা ১১টায় দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

এর আগে তিনি আজ শুক্রবার বেলা ৩টায় রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেন। এফ হাসান আরিফের বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফের মৃত্যু সংবাদ শুনে ল্যাব এইড হাসপাতালে ছুটে যান।

উল্লেখ্য, গত ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারে প্রথমে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছিলেন হাসান আরিফ। পরে তাকে ভূমি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।

হাসান আরিফ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি ১৯৭০ সাল থেকে আইন পেশার সাথে জড়িত ছিলেন। ২০০১ সালের অক্টোবর থেকে ২০০৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত তিনি ফখরুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভূমি এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন।

এ এফ হাসান আরিফ ১৯৪১ সালে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর স্নাতক এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।

হাসান আরিফ তার কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৬৭ সালে ভারতের পশ্চিম বাংলার কলকাতা হাইকোর্ট থেকে। এরপর ১৯৭০ সালে তিনি ঢাকায় চলে আসেন এবং হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন।

এর আগে হাসান আরিফ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর মধ্যে আছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ, সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এবং গ্রামীণফোন বাংলাদেশ। তিনি বর্তমানে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা।

গণহত্যা ধামাচাপা দিতে শেখ হাসিনার নির্দেশে বন্ধ ছিল ইন্টারনেট, পলকের স্বীকারোক্তি

জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ইন্টারনেট বন্ধ কোনো দুর্ঘটনা ছিল না, বরং তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

গতকাল বুধবার ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, গত জুলাই মাসে শেখ হাসিনার নির্দেশেই ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয়া হয় বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক।

তাজুল ইসলাম বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ করে গত জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। ইন্টারনেট বন্ধের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের বিচারের এখতিয়ার নিয়ে আবেদন করে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যার বিচারে যারাই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

এদিন জুলাই গণহত্যায় বিভিন্ন মামলায় সাবেক এসপি আব্দুল্লাহেল কাফি ২৬ ডিসেম্বর, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: শহিদুল ইসলামকে ২৫ ডিসেম্বর ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে ৩০ ডিসেম্বর জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে, জুলাই-আগস্টের গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানসহ আট কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্য পাঁচজন হলেন ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো: আব্দুল্লাহ আল কাফি, মিরপুর ডিএমপির সাবেক ডিসি মো: জসিম উদ্দিন মোল্লা, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত সুপার (সাভার সার্কেল) মো: শাহিদুর ইসলাম, গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল হক, যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান এবং ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো: আরাফাত হোসেন।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ স্থগিত

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিকভাবে সুস্থ না হওয়ায় ২১ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশ স্থগিত করেছে মুক্তিযোদ্ধা দল। ওই সমাবেশে অংশ নেয়ার কথা ছিল বিএনপি চেয়ারপারসনের।

আজ বৃহস্পতিবার বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এই তথ্য জানিয়েছেন।

সম্প্রতি জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত সাংবাদিকদের জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২১ ডিসেম্বর জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সাত বছর পর এই প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন তিনি।

ইশতিয়াক আজিজ উলফাত ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ সম্প্রতি দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। তারা বিএনপি নেত্রীকে মুক্তিযোদ্ধা দলের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চলতি মাসের শেষের দিকে উন্নত চিকিৎসার জন‍্য লন্ডন যাবেন। লন্ডন থেকে ফিরে এলে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

টিউলিপের বিরুদ্ধে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ব্রিটেনের তদন্ত

যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে চার বিলিয়ন পাউন্ড ঘুষ নেয়ার অভিযোগের তদন্ত শুরু করবে ব্রিটেন।

যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতে দুর্নীতিরোধের দায়িত্ব রয়েছে সিটি মিনিস্টার টিউলিপ সিদ্দিকের কাঁধে। বাংলাদেশে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির সাথে জড়িত কথিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) টিউলিপ সিদ্দিক, তার যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী মা শেখ রেহানা সিদ্দিক এবং তার খালা বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শাসন করা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক গণমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে এ কথা জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের সহিংস বিক্ষোভের পর বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনী শত শত বেসামরিক লোককে হত্যা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসিনা তার বোন রেহানাকে নিয়ে আগস্টে বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যান। বাংলাদেশের হাইকোর্টের আদেশের পরে তদন্ত শুরু করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, টিউলিপ সিদ্দিক মোট ১০ বিলিয়ন ডলারের পারমাণবিক চুক্তির ‘দালালি’ করতে সহায়তা করেছিলেন।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে রোসাটম নামে একটি রাশিয়ান রাষ্ট্র-সমর্থিত কোম্পানি কাজ করছে। ২০১৩ সালে শেখ হাসিনা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন টিউলিপ সিদ্দিকের উপস্থিতিতে ক্রেমলিনের অভ্যন্তরে চুক্তিটি স্বাক্ষর করেন। টিউলিপ তখন একজন লেবার কাউন্সিলর ছিলেন।

দুদক টিউলিট সিদ্দিকের পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধেও তদন্ত করছে। যার মধ্যে তার খালাতো ভাই সজীব ওয়াজেদ জয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন এবং তার চাচা তারিক সিদ্দিক, যিনি বাংলাদেশে লুকিয়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের কাগজপত্রে তাদের নাম ছিল।

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘কমিশন জড়িতদের অবস্থান নির্বিশেষে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তবে টিউলিপ সিদ্দিক এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, মার্কিন ওয়েবসাইটে প্রথম প্রকাশিত হওয়া অভিযোগগুলো ‘ভুয়া’।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্যের সাধারণ সম্পাদক এবং টিউলিপ সিদ্দিকের পারিবারিক বন্ধু সৈয়দ ফারুক বলেন, ‘এই গল্পগুলো বানোয়াট।’

তিনি বলেন, ‘এগুলো বর্তমান সরকারের শতভাগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হাসিনা পরিবারের বিরুদ্ধে হামলা। তারা টিউলিপকে আক্রমণ করছে কারণ সে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি।’

জুলাই মাসে সিটি মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে টিউলিপ সিদ্দিককে ঘিরে ঘুষের তদন্ত হলো বিতর্কিত একটি বিষয়। তিনি প্রায় ১৪ মাস ধরে লন্ডনের একটি সম্পত্তির ভাড়ার আয় ঘোষণা করেননি বলে সংসদীয় মানদণ্ড মেনে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছিল। সংসদীয় নিয়ম অনুসারে সদস্যদের ২৮ দিনের মধ্যে এই জাতীয় আয় ঘোষণা করতে হবে।

ঢাকা থেকে ১২৮ মাইল উত্তর-পশ্চিমে ঈশ্বরদী উপজেলায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিটি ২০১৩ সালে ক্রেমলিনে একটি জমকালো অনুষ্ঠানে হাসিনা ও পুতিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। সেখানে টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা রেহানা ও ছোট বোন আজমিনা উপস্থিত ছিলেন। টিউলিপ সিদ্দিক ও তার পরিবার এমনকি পরে রাশিয়ান রাষ্ট্রনেতার সাথে ছবিও তোলেন।

গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে মার্কিন-ভিত্তিক নিউজ ওয়েবসাইটের রূপপুরবিষয়ক নিবন্ধের প্রকাশের পর বাংলাদেশী গণমাধ্যমগুলোও সেটি গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। যেখানে টিউলিপ সিদ্দিক এবং তার পরিবারের সদস্যদের চার বিলিয়ন পাউন্ড কিভাবে চুরি করা হয়েছিল তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

নথিতে বলা হয়েছে, সিদ্দিক, হাসিনা ও তাদের পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা মধ্যস্থতার বিনিময়ে আত্মসাৎকৃত তহবিলের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন। এমনকি দাবি করা হয়েছে, প্রচ্ছয়া লিমিটেড নামের একটি ‘ভুয়া’ কোম্পানির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ৭০৯ মিলিয়ন পাউন্ড পর্যন্ত পাচার করা হয়েছে ‘যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে’।

হাসিনার শাসনের বৈশিষ্ট্য ছিল মানবাধিকার লঙ্ঘন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের গুম করা। অ্যামনেস্টির মতো গ্রুপ তাদের প্রতিবেদনে হাসিনা সরকারের অপব্যবহারের কথা তুলে ধরেছে।

হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি অন্যান্য দুর্নীতির বিষয়ে আদালতে বিভিন্ন কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছে। টিউলিপ অতীতে তার খালা হাসিনাকে একজন ‘রোল মডেল’ হিসেবে প্রশংসা করেছেন, কিন্তু আগস্টে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি টিউলিপ। তার খালার কট্টরপন্থী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সাথে অর্থমন্ত্রী টিউলিপের সম্পৃক্ততা এক দশকেরও বেশি পুরোনো, কারণ এরপর তিনি বৃটিশ মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে শুরু করেন।

উইট ইস্টের টোরি এমপি জো রবার্টসন বলেছেন, ‘এটি স্পষ্ট যে অভিযোগ গুরুতর, এখানে মন্ত্রী টিউলিপের সম্পৃক্ততা কতখানি ছিল তা জানা প্রয়োজন। গুরুতর তদন্তের অধীনে থেকেও সিদ্দিক কি তার মন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন?’

ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে অস্ত্র চুক্তি এবং একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে স্বাক্ষর করার সময় একটি সরকারি প্রতিনিধি দলের ভিডিও প্রকাশের পরে নগর মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছেন। ভিডিওতে টিউলিপ সিদ্দিককে ক্রেমলিনে তার খালা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি দলের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ২০১৩ সালের অনুষ্ঠানে পুতিন এবং তার খালার সাথে টিউলিপ উপস্থিত ছিলেন।

ওই সময়ে লেবার জোর দিয়ে বলেছিল, টিউলিপ সিদ্দিক কোনো সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন না, তার পরিবারের সাথে একটি অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত ছিলেন।

ভিডিওতে দেখা গেছে, টিউলিপ সিদ্দিক ও তার বোন আজমিনা বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তাদের খালার পেছনে হাঁটছেন। একজন লেবার মুখপাত্র এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘এটি টিউলিপ এমপি হওয়ার ১১ বছর আগের ঘটনা। টিউলিপ শুধুমাত্র তার খালাকে দেখতে এবং তার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে রাশিয়া গিয়েছিলেন। পারিবারিক সদস্য হওয়ায় তিনি যেকোনো অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, তাতে তার কোনো ভূমিকা ছিল না।’

তবে টোরি দলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ‘এটি টিউলিপ সিদ্দিকের তথাকথিত পারিবারিক মস্কো সফরের পরিস্থিতি সম্পর্কে কিছু গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। এক দশকেরও বেশি সময় পরে অবশেষে সিদ্দিকের রাশিয়া সফর এবং এই ছবির পেছনের সত্য উদ্ঘাটনের সময় এসেছে।’

সিরিয়া বিশ্বের জন্য হুমকি নয় : বিবিসিকে জোলানি

সিরিয়ার নতুন নেতা আহমেদ আল-শারা বলেছেন, দীর্ঘ যুদ্ধে সিরিয়া ক্লান্ত হয়ে পড়েছে ঠিক, কিন্তু প্রতিবেশী বা পাশ্চাত্যের দেশগুলোর জন্য দেশটি হুমকিস্বরূপ নয়।

দু’সপ্তাহেরও কম সময়ের আগে বাশার আল-আসাদের সুদীর্ঘ শাসনামলের পতন ঘটানোর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন আহমেদ আল-শারা। তিনি সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) নেতা। আগে তিনি ‘আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি’ নামে পরিচিত ছিলেন।

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সিরিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘এতকিছুর পর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া উচিত। কারণ এগুলো পুরনো শাসনের বিরুদ্ধে দেয়া হয়েছিল। অত্যাচারিত ও অত্যাচারীকে একই দৃষ্টিতে দেখা উচিত নয়।’

তিনি এইচটিএসকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে চিহ্নিত না করার আহ্বান জানান। জাতিসঙ্ঘ, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ একে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে বিবেচনা করে।

কারণ আল-কায়েদার একটি শাখা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল, তবে ২০১৬ সালে এটি আলাদা হয়ে যায়।

আহমেদ আল-শারা দাবি করেন, এইচটিএস কোনো সন্ত্রাসী সংগঠন নয়।

তিনি বলেন, তারা কখনোই বেসামরিক মানুষ বা এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেননি। প্রকৃতপক্ষে, তিনি তাদেরকে আসাদ শাসনের অপরাধের শিকার বলে মনে করেন।

সিরিয়াকে আফগানিস্তানের মতো বানাতে চান, এমন কথাও তিনি অস্বীকার করেন।

আহমেদ আল-শারা বলেন, সিরিয়া ও আফগানিস্তান- এই দু’দেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে।

আফগানিস্তানের সমাজব্যবস্থা হলো গোত্রভিত্তিক। আর সিরিয়ায় মানুষের মানসিকতা ভিন্ন।

তিনি আরো জানান, নারী শিক্ষার মতো বিষয়ে তারা বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, ‘ ইদলিবে প্রায় আট বছর ধরে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় আছে।’

ইদলিব শহরের অবস্থান দেশটির উত্তর-পশ্চিম দিকে, ২০১১ সাল থেকে যার শাসন ভার বিদ্রোহীদের হাতে রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের অংশগ্রহণের হার ৬০ শতাংশের বেশি।’

তার কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে মদ্যপানের অনুমোদন দেয়া হবে কি না। কিন্তু এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘এরকম অনেক বিষয়ে আমার কথা বলার অধিকার নেই। কারণ এগুলো আইনগত বিষয়। আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি আইন প্রণয়ন ও সংবিধান রচনার দায়িত্বে থাকবে। তারাই সিদ্ধান্ত নেবে। যেকোনো শাসক বা প্রেসিডেন্ট সেই আইন মেনে চলবে।’

বিবিসির সাথে দেয়া সাক্ষাৎকারের পুরোটা সময় আহমেদ আল-শারা স্বাভাবিক ও শান্ত ছিলেন। পোশাক-আশাকেও তিনি খুব সাধারণ ছিলেন। যারা এখনো বিশ্বাস করেন যে এই গোষ্ঠীটি তাদের অতীতের চরমপন্থী কাজকর্ম থেকে বিচ্ছিন্ন হতে পারেনি, তাদেরকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

যদিও সিরিয়ার অনেক মানুষই এই কথা বিশ্বাস করেন না এখনো।

এখন আগামী কয়েক মাসের মাঝেই বোঝা যাবে যে সিরিয়ার নতুন শাসকরা কেমন দেশ গড়তে চান এবং ভবিষ্যতে তারা কিভাবে দেশ শাসন করবেন।

হায়াত তাহরির আল-শাম কারা
২০১১ সালে প্রতিষ্ঠার সময় এ গোষ্ঠীটির নাম ছিল জাবাত আল নুসরা, যা ছিল সরাসরি আল-কায়েদা গোষ্ঠীর সাথে সংযুক্ত। এর গঠন প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিলেন কথিত আইএস গ্রুপের নেতা আবু বকর আল বাগদাদি।

এই গোষ্ঠীটিই প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী ও প্রাণঘাতী ছিল বলে অনেকে মনে করেন। তবে এটি বিপ্লবের চেয়ে জিহাদি আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করা হয়।

‘ফ্রি সিরিয়া’ নামে বিদ্রোহীদের যে জোট হয়েছিল সেখানে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছিল।

২০১৬ সালে এই গোষ্ঠীর নেতা আবু মোহাম্মেদ আল জোলানি প্রকাশ্যেই আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেন এবং জাবাত আল নুসরাকে বিলুপ্ত করে নতুন সংগঠন তৈরি করেন। এর নামই রাখা হয় হায়াত তাহরির আল-শাম এবং পরে এর সাথে আরো কিছু ছোট গোষ্ঠী যোগ হয়।

কিছু সময়ের জন্য এইচটিএস সিরিয়ার উত্তর পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশকে ক্ষমতার কেন্দ্র বানিয়েছিল। তারা সেখানে স্থানীয় প্রশাসন চালু করেছিল। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এসেছিল, যা তাদের বৈধতা পাওয়ার চেষ্টাকে ম্লান করে দিয়েছে।

এছাড়া অন্য আরো কিছু গোষ্ঠীর সাথে তিক্ত লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিল তারা।

ইদলিবের বাইরে তাদের উচ্চাভিলাষ সম্পর্কে তখনো পরিষ্কার কিছু জানা যায়নি। এমনকি আল-কায়েদার সাথে সম্পর্ক নষ্টের পর তারা খিলাফতের চেয়ে সিরিয়ায় ইসলামী শাসনের চেষ্টা করেছে।

অন্য যেকোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীর তুলনায় আসাদকে চ্যালেঞ্জ করা কিংবা সিরিয়ায় বড় ধরনের কোনো সংঘাতের লক্ষণ তাদের দিক থেকে কমই প্রকাশ পেয়েছিল।

বিদ্রোহীদের আক্রমণ যেভাবে হলো
গত চার বছরে মনে হচ্ছিল সিরিয়া যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে। দেশটির বড় শহরগুলোতে বাশার আল-আসাদের শাসন ছিল। তবে কিছু অংশ তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।

এর মধ্যে ছিল পূর্ব দিকে কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলো। এগুলো সংঘাতের শুরু থেকেই সিরিয়া রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে ছিল না।

বিশাল সিরীয় মরুভূমি এলাকায় থাকা দলগুলো নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করছিল। আর উত্তর পশ্চিমের ইদলিব প্রদেশ উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণেই ছিল।

এইচটিএস ছিল ইদলিবের নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায়। তারাই এবার আলেপ্পোতে হামলা করে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে।

কয়েক বছর ধরে ইদলিব ছিল যুদ্ধক্ষেত্র, কারণ সরকারি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছিল।

২০২০ সালে রাশিয়া ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে আসাদ সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে। আর তুরস্ক বিদ্রোহীদের সমর্থন যুগিয়েছে।

প্রায় ৪০ লাখ লোক সেখানে বাস করতো, যার বেশিভাগই বিভিন্ন শহর থেকে বাস্তুহারা হয়েছে। আসাদ বাহিনী বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা করে।

আলেপ্পো ছিল আরেকটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্র। সেখানেই বিদ্রোহীদের বড় পরাজয় হয়েছিল।

নিজের জয় নিশ্চিত করতে বাশার আল-আসাদ শুধু তার দুর্বল সামরিক বাহিনীর ওপর নির্ভর করেননি। বরং তিনি আস্থা রেখেছিলেন রাশিয়ার বিমানশক্তি আর ইরানের সামরিক সহায়তার ওপর। এর মধ্যে হিজবুল্লাহও ছিল।

লেবাননে ইসরাইলের আক্রমণে হিজবুল্লাহর পরিণতি এবং সিরিয়ায় ইরানের সামরিক কমান্ডারদের ওপর ইসরিইলি হামলাও বিদ্রোহীদের আলেপ্পোর দিকে হঠাৎ যাত্রা শুরু করতে উৎসাহ যুগিয়ে থাকতে পারে।

গত কয়েক মাসে ইসরাইল ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে সিরিয়ায় থাকা হিজবুল্লাহ নেটওয়ার্কের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এরা না থাকলে আসাদের বাহিনী হয়তো আরো আগেই পরাজিত হতো।
সূত্র : বিবিসি

ইসরাইল ও হাউছিদের পাল্টাপাল্টি হামলা

ইসরাইলের সামরিক বাহিনী ও ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হাউছিদের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে জেরুসালেম পোস্ট।

ইসরাইলি বাহিনীর সূত্রে গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় হাউছি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে ইসরাইলি বিমান বাহিনীর (আইডিএফ) যুদ্ধবিমান। আইডিএফের ১৪টি বিমান আকাশে থাকা অবস্থায়ই সেগুলোকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হাউছিরা।

এর আগে মধ্য ইসরাইলে হামলা চালিয়েছিল হাউছি সম্প্রদায়। সেখানে হাউছিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘণ্টাখানেকেরও কম সময়ে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।

আইডিএফ জানিয়েছে, ইসরাইল হাউছিদের যে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, সেগুলো সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে তারা। সেখানে ইরান থেকে আনা তাদের সমরাস্ত্রও ছিল। আক্রমণে সানার বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ বিষয়ে একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র দ্য জেরুজালেম পোস্টকে জানিয়েছে, ইয়েমেনে আঘাত হানার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছিল ইসরাইল। তাদের বলেছিল যে এ হামলার উদ্দেশ্য হাউছিদের তিনটি বন্দর নিষ্ক্রিয় করা।

তারা আরো জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রও সম্প্রতি ইয়েমেনে আক্রমণ করেছে, তবে আমরা হাউছিদের চলমান হামলার প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা হামলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

ইসরাইলি বাহিনীর মতে, হাউছিরা ইসরাইলে ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭০টির বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করে। তবে এর বেশিভাগই ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ধ্বংস করেছে। তবে ২২টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলে আঘাত হানে।

সূত্র : দ্য জেরুসালেম পোস্ট