Home Blog Page 517

ইউক্রেন-রাশিয়ায় লড়াই করছে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা

পেন্টাগন তাদের সর্বশেষ পর্যালোচনায় জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রুশ বাহিনীর সাথে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরাও লড়াই করছে এবং নিহত হচ্ছে।

পেন্টাগনের প্রেস সেক্রেটারি মেজর জেনারেল প্যাট রাইডার সোমবার সাংবাদিকদের বলেছন, উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা রুশ বাহিনীর সাথে থেকে কুরস্কে যুদ্ধ করছে। আমাদের কাছে তথ্য প্রমাণ রয়েছে যে তারা যুদ্ধে নিহত এবং আহত হচ্ছে। যুদ্ধে রাশিয়ার কুরস্কেই কেবল উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা আপাতত সীমাবদ্ধ রয়েছে বলেও আমরা জেনেছি।

তবে উত্তর কোরিয়ার কী পরিমাণ সৈন্য হতাহতের শিকার সে সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পেন্টাগন। ভিওএ ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে এখনো সাড়া দেয়নি।

ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্রের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই মূল্যায়ন সম্পর্কে জানতে চাইলে কোনো উত্তর আসেনি।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, উত্তর কোরিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রশিক্ষণের জন্য তাদের প্রায় ১২ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, উত্তর কোরিয়ার বাহিনী গত সপ্তাহেই কেবল রাশিয়ার সাথে যুদ্ধ অভিযানে যোগ দিয়েছে।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, কুরস্ক অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামে লড়াইয়ে উত্তর কোরিয়ার অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত বা আহত হয়। এর কয়েক ঘণ্টা পর তাদের অংশগ্রহণের সত্যতা নিশিচত করে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার অভিযোগ করেন, রাশিয়া উত্তর কোরিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সৈন্য ব্যবহার করেছে। তিনি উত্তর কোরিয়ার ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখযোগ্য বলে বর্ণনা করেছেন।

সোমবার তিনি অভিযোগ করেন, মস্কো উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের হতাহতের ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্র : ভিওএ

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে সিরিজ জয় টাইগারদের

০

নিজেদের প্রিয় ফরম্যাট ওয়ানডেতে খাবি খাওয়ার পর ভাবা হচ্ছিল, টি-টোয়েন্টিতে উড়ে যাবে টাইগাররা। তবে অবিশ্বাস্যভাবে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটে ঘুরে দাঁড়িয়েছে লিটন দাসের দল। দু’বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চোখে চোখ রেখে নিশ্চিত করেছে সিরিজ। টেস্ট সিরিজে সমতার পর ওয়ানডেতে ধবলধোলাই- সব ভুলে টি-টোয়েন্টি সিরিজটা টাইগাররা করে নিয়েছে নিজেদের।

বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা। বল হাতে দলকে অবিশ্বাস্য এই জয় এনে দিয়েছেন তাসকিন-তানজিম-রিশাদরা।

বুধবার সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৮.৩ ওভারে মাত্র ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকেরা। তাসকিন-তানজিম-রিশাদরা বল হাতে রেখেছেন বড় ভূমিকা।

তিন ম্যাচ সিরিজে টানা দুই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। একইসাথে আরো একটা বিব্রতকর রেকর্ড থেকেও মুক্তি পেল টাইগাররা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন সবচেয়ে বেশি হার ক্যারিবীয়দের (১০৮)।

এদিন ম্যাচ শুরুর আগে এ রেকর্ড ছিল বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঝে যৌথভাবে। দু’দল হেরেছিল সমান ১০৭ ম্যাচে। তবে এবার সেই রেকর্ড একার হলো স্বাগতিকদের।

সেন্ট ভিনসেন্টে দিনটা ছিল বোলারদের। শুরুতে বাজিমাত করেন আকিল হোসেন-গোদাকেশ মুতিরা। যার ফলে আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নিয়মিত হারাতে থাকে উইকেট। ১৬.১ ওভারে ৮৮ রানে হারায় ৭ উইকেট।

ফলে মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ এক শ’ রানই পার করতে পারবে না। তবে সেই ভাবনাটা উড়িয়ে দেন শামীম পাটওয়ারী। শেষ মুহূর্তে খেলেন দারুণ এক ইনিংস। তার অপরাজিত ১৭ বলে ৩৫ রানের ওপর ভর করে ১২৯ রান পর্যন্ত পৌঁছায় দল।

বাকিদের মাঝে কেবল বলার মতো স্কোর মেহেদী মিরাজের ২৫ বলে ২৬ ও জাকের আলির ২০ বলে ২১ রান। বাকিরা কেউ থিতু হতে পারেননি। অধিনায়ক লিটন দাস ফেরেন ১০ বলে মাত্র ৩ রানে। সৌম্য সরকার করেন ১১ রান।

ছোট এই পুঁজি নিয়েও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। শুরু থেকেই চেপে ধরে ক্যারিবীয়দের। ৮.৩ ওভারে মাত্র ৪২ রানে তুলে নেয় ক্যারিবীয়দের ৬ উইকেট। তাসকিন-তানজিমের সাথে রিশাদ ও শেখ মেহেদীও বল হাতে ক্যারিবীয় দূর্গ কাঁপান।

প্রথম ১০ ওভার শেষে ক্যারিবীয়দের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৪৪ রান। কিন্তু সপ্তম উইকেটে রোস্ট চেজ এবং আকিল হোসেনের জুটিতে বাংলাদেশের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ বাড়ছিল। ৪৭ রানের জুটিতে ম্যাচে ফেরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

আর তখনই ত্রাতা হয়ে হাজির হন রিশাদ হোসেন। ৩৪ বলে ৩২ রান করা রোস্টন চেজকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন রিশাদ। পরের বলে গুদাকেশ মোতিকেও আউট করেন এই লেগ স্পিনার।

সেই ধারায় আলজারি জোসেফকে (০) ফেরান তানজিম সাকিব। শেষ পর্যন্ত একাই লড়েন আকিল হোসেন। তার ৩১ বলে ৩১ রানের ইনিংসে শুধু হারের ব্যবধানই কমেছে। তাকে ফিরিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ ৩.৩ ওভারে ১৬ রানে ৩ উইকেট শিকার করেন। ২টি করে উইকেট শিকার করেন মেহেদী হাসান, তানজিম সাকিব ও রিশাদ আহমেদ। বাকি উইকেটটি যায় হাসান মাহমুদের দখলে।

হঠাৎ ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন অশ্বিন

০

ব্রিসবেনের ড্র হওয়া টেস্টের একাদশে ছিলেন না রবীচন্দ্রন অশ্বিন। তবে ম্যাচ শেষে তিনিই কেড়ে নিলেন সব আলো। আকস্মিকভাবে সিরিজের মাঝপথেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী।

বুধবার হঠাৎ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ব্রিসবেন টেস্ট শেষে সংবাদ সম্মেলনে ১৪ বছরের বর্ণিল ক্যারিয়ার সমাপ্তির কথা জানালেন। আর কখনো তাকে জাতীয় দলের জার্সিতে দেখা যাবে না।

আধুনিক ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার বলা হয় ভারতীয় রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে। দারুণ ক্রিকেটীয় দক্ষতার কারণে অনেক আগেই পেয়েছেন ‘ক্রিকেট বিজ্ঞানী’ উপাধি। ক্রিকেটার হিসেবেও অর্জনের পাল্লা নেহাৎ কম নয়।

অশ্বিন ভারতের হয়ে তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২৮৭ ম্যাচে ৭৬৫ উইকেট নিয়েছেন। অবসর নেয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনিই ছিলেন বর্তমান খেলোয়াড়দের মধ্যে টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী (৫৩৭)। ব্যাট হাতেও অবদান একেবারে কম নয়, করেছেন ৪৩৯৪ রান।

এর মধ্যে ১০৬ টেস্ট খেলে অশ্বিনের ঝুলিতে ভরেন ৫৩৭ উইকেট। অনিল কুম্বলের (৬১৯) পর তিনিই সাদা পোশাকে ভারতের হয়ে সবচেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন। ১১৬ ওয়ানডেতে ১৫৬ ও ৬৫ টি-টোয়েন্টিতে ৭২ উইকেট নিয়েছেন তিনি।

টেস্টে ৩৭ বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন অশ্বিন। মুত্তিয়া মুরালিধরনের পর শেন ওয়ার্নের সাথে যা যৌথ সর্বোচ্চ। টেস্টে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ বার বাঁহাতি ব্যাটারদের আউট করার রেকর্ডও আছে তার।

ব্যাটিংয়েও স্মরণীয় অনেক মুহূর্ত আছে তার। টেস্টে ১৪ ফিফটি ও ৬ সেঞ্চুরিতে সাড়ে তিন হাজারের ওপর রান আছে অশ্বিনের। একই টেস্টে পাঁচ উইকেট ও সেঞ্চুরি করার নজির চারবার রেখেছেন তিনি। যা ইয়ান বোথামের (৫ বার) পর ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

তবে এবার নামের পাশে যোগ হবে না আর কোনো আন্তর্জাতিক রান ও উইকেট।

ব্রিসবেনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব সংস্করণে আমার শেষ দিন এটিই। ক্রিকেটার হিসেবে যদিও কিছুটা তাড়না আমার ভেতর এখনো আছে, তবে সেটা দেখাতে চাইব আমি ক্লাব পর্যায়ের ক্রিকেটে। অনেককে ধন্যবাদ জানানোর আছে আমার। দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারব না যদি বিসিসিআই ও সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতা না জানাই।’

নির্বাচনের জন্য ৪-৬ মাসের বেশি লাগার কথা নয় : সালাউদ্দিন আহমেদ

নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে বিএনপির যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণ হয়নি জানিয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, নির্বাচনের জন্য চার থেকে ছয় মাসের বেশি সময় লাগার কথা নয়।

আজ বুধবার মহাখালী কড়াইল বস্তি সংলগ্ন ময়দানে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন আয়োজিত স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচিতে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির এই নীতিনির্ধারক বলেন, এ সরকারের প্রধান ও প্রথম কাজ হচ্ছে সুষ্ঠু নির্বাচন করা। আর সে জন্য কিছু আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও মাঠের সংস্কার দরকার। আমরা পর্যবেক্ষণ করে ও বিশ্লেষণ করে বের করেছি, এক্ষেত্রে সংস্কারে চার থেকে ছয় মাস বেশি সময় লাগার কথা নয়।

‘গণতান্ত্রিক যাত্রা পথে আমরা যেন কোনো কৌশল প্রয়োগ না করি’ সে আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার কাছে রাখেন সালাউদ্দিন আহমেদ।

১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবরসহ ৭ আসামির খালাস

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ সাত আসামিকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। এছাড়া উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন দণ্ড দেয়া হয়েছে।

আজ বুধবার দুপুরে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আহসান।

এর আগে, গত ৬ নভেম্বর এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শুরু হয়।

সেদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজন আসামির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাকভর্তি অস্ত্রের চালান। এ নিয়ে কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগ এনে দু’টি মামলা হয়। মামলায় ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন।

এর মধ্যে অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দু’টি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয় একই আসামিদের।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রায়সহ মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পৌঁছে, যা ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা সাজার রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালে হাইকোর্টে পৃথক আপিল করেন।

‘বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র’

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের পাশে আছে বলে জানিয়েছেন দেশটির উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিকোল চিউলিক।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে বাংলাদেশের বিজয়ের ৫৩তম বার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট নিকোল চিউলিক বলেন, বাংলাদেশে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল সংস্কার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের পেছনে যে ত‍্যাগ এবং সংগ্রাম তা পৃথিবীতে এক অনন্য নজির।

মার্কিন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে বৃহত্তম অংশীদার হতে পেরে যুক্তরাষ্ট্র গর্বিত।

তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের পাশে আছে এবং গণতন্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নেয়ার সরকারের পদক্ষেপসমূহকে আমরা স্বাগত জানাই।

সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘ সাধারণ অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংঙ্কেনের সাথে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ফলপ্রসূ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে নিকোল বলেন, দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় দুই দেশের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরো জোরদার হবে।

অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত আসাদ আলাম সিয়াম স্বাগত বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটেছে। ২৪’র বিপ্লব পরবর্তী এবারের বিজয় উদযাপন ভিন্ন মাত্রা লাভ করেছে।

ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে কাজ করে চলেছে বলে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রদূত সিয়াম। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রিক অভিযাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত (ডেজিগনেট) মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুধু স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম ছিল না। এটি ছিল আমাদের পরিচয়, মর্যাদা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আমাদের বিজয় কেউ উপঢৌকন হিসেবে তুলে দেয়নি বরং আমাদের অর্জন করতে হয়েছে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে।

তিনি বলেন, ২৪’র জুলাইয়ের সফল বিপ্লব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে স্বাধীনতা এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই কখনোই শেষ হয় না। ১৯৭১ সালে আমরা বাইরের শোষণের বিরুদ্ধে লড়েছিলাম। ২৪’র জুলাই আমরা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি।

তিনি আরো বলেন, নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে আমাদের দেশ একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আমাদের স্বাধীনতা অর্জনের পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। আজ আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং শান্তির প্রতি যৌথ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করি। আমরা দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ককে আরো অটুট করার অঙ্গীকার করছি।

অতীতে দূতাবাসে সেবা নিতে আসা বাংলাদেশীরা নানা হয়রানির শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, আশা করি দূতাবাসে আসা প্রবাসী বাংলাদেশীরা এখন থেকে ভালো ব‍্যবহার পাবেন।

তিনি দূতাবাসে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের চৌকস কর্মীবাহিনী উল্লেখ করে বলেন, আমাদের রেমিট্যান্স যোদ্ধারা প্রয়োজনে দূতাবাসে এলে একটি গোলাপ দিয়ে বরণ করতে না পারলেও, অন্তত একটা স্মিত হাসি দিয়ে বরণ করুন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও শ্রম বিষয়ক উপসহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মনিকা জেকবসেন, রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালকসহ অনেকেই। বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে এতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

আমি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি : মাইকেল চাকমা

গুমের ঘটনায় আজ বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রামভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) নেতা মাইকেল চাকমা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগটি দায়ের করেন তিনি।

এসময় মাইকেল চাকমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমি প্রধান আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকেই দায়ী করব।’

তার অভিযোগ দায়েরের পর ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাকে কিভাবে গুম করা হয়, তা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন আমাদের। সেই বর্ণনা থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তিনি গুমের শিকার হয়েছেন। তিনি একই বক্তব্য কমিশনের কাছেও দিয়েছেন।’

তাজুল ইসলাম জানান, মাইকেল চাকমা আজ শুধু মৌখিক অভিযোগ জানিয়েছেন এবং তিনি শিগগিরই লিখিত অভিযোগও জমা দেবেন। তবে ট্রাইব্যুনাল তার ক্ষমতাবলে মৌখিক অভিযোগও আমলে নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে মাইকেল চাকমাকে গুম করা হয়েছিল। এরপর পাঁচ বছর তিন মাস ২৭ দিন তাকে গোপন কারাগারে আটক রাখা হয়।

এসব কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আয়নাঘরের যে সমস্ত গল্প আপনারা ইতোমধ্যে শুনেছেন, ঠিক একই কায়দায়, একই প্রক্রিয়ায়, একই প্যাটার্নে তাকে এতগুলো বছর আটক রাখা হয়েছিল। বিপ্লবের পর গত ৭ আগস্ট লম্বা একটি জার্নির পরে তাকে চট্টগ্রাম-ঢাকা মহাসড়কের কোনো একটি অংশে ১২ কিলোমিটার দূরে জঙ্গলের মাঝে চোখ-হাত বেঁধে ছেড়ে আসা হয়।’

আজ ট্রাইব্যুনালে মাইকেল চাকমার সাথে ছিলেন আলোকচিত্রী শহীদুল আলম ও তার স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ ছিলেন।

সূত্র : বিবিসি

গঠন হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতর

০

বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতায় ঢাকায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদফতরর’ প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণ, গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবার এবং আহত ছাত্র-জনতার পুনর্বাসনসহ গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনাকে রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনে সুপ্রতিষ্ঠিত করাই হবে এই অধিদফতরের উদ্দেশ্য।

বুধবার বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এতে সভাপতিত্ব করেন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের ৩ কিলোমিটারে জমায়েত নিষিদ্ধ

০

তাবলীগ জামাতের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে জমায়েত নিষিদ্ধ করে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

বুধবার বেলা দেড়টায় এ বিজ্ঞপ্তি জারির পর বাদ জোহর থেকে মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দান ত্যাগ করবেন বলে জানিয়েছেন জিএমপি পুলিশ কমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল করীম খান।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ আইন ২০১৮-এর ৩০ ও ৩১ ধারায় পুলিশ কমিশনারকে দেয়া ক্ষমতাবলে আজ ১৮ ডিসেম্বর তারিখ ১৪:০০ ঘটিকা হতে (দুপুর ২টা) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বিশ্ব ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশের তিন কিলোমিটার গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় নিম্নলিখিত আদেশ বলবৎ থাকবে।

আদেশগুলো হলো :
(ক) বিশ্ব ইজতেমা মাঠে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলো।
(খ) পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মায়দানসহ আশপাশের তিন কিলোমিটার এলাকার মধ্যে দু’ বা ততোধিক ব্যক্তি একসাথে ঘোরাফেরা জমায়েত এবং কোনো মিছিল-সমাবেশ করতে পারবে না।
(গ) কোনো প্রকার অস্ত্র-শস্ত্র, ছুরি, লাঠি, বিস্ফোরক দ্রব্যাদি বা এ জাতীয় কোনো পদার্থ বহন করতে পারবে না।
(ঘ) কোনো প্রকার লাউড স্পীকার বা এ জাতীয় কোনো যন্ত্র দ্বারা উচ্চস্বরে কোনো শব্দ করতে পারবে না। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনস্বার্থে এই গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হলো।’

নিউইয়র্কে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে আ.লীগ ও বিএনপির তুমুল হট্টগোল

নোমান সাবিত: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বাংলাদেশি সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে তুমুল হট্টগোল ও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। গত সোমাবার (১৬ ডিসেম্বের) সন্ধ্যায় নিউ ইয়র্কের উডসাইডের তিব্বত কমিউনিটি সেন্টারে অভিষেক ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে একজন বক্তার উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে। ফলে প্রায় আধাঘন্টা পর অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র আসার দোহাই দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করা হয়।
জানা যায়, অনুষ্ঠানটি নিয়ম মাফিক চলছিল। ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান এম আজিজ তার বক্তব্যে বিদায়ী কমিটির মৃদু সমালোচনা করেন। এরপর সাবেক ও আগামী কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান পাল্টা বক্তব্য দিলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। এরপর সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম তার বক্তব্যে ৪৭, ৭১, ৯০ এবং পরে ৫ আগস্টের গণ আন্দোলনের কথা তার বক্তব্যে তুলে ধরেন সাবেক সরকার আওয়ামীলীগের কঠোর সমালোচনা করেন। এক পর্যায়ে উপস্থিত আওয়ামীলীগের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন।

nybd society 02

তাকে ভুয়া ভুয়া বলে চিৎকার করতে থাকেন।ফখরুল আলমের বক্তব্যের প্রতিবাদ করেন আওয়ামী লীগ নেতা আবুল হাসিব মামুন ও মুজাহিদুল ইসলাম। সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম , মহিউদ্দীন দেওয়ান ও মাহবুব তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। আওয়ামী লোকজন মারমুখি হয়ে উঠলে বিএনপির রিপন, কাজী আজম, জসিম ভুঁইয়া, মোশাররফ হোসেন, সেলিম রেজাসহ অনেকে প্রতিবাদ করতে থাকেন। তারাও আওয়ামী সমর্থকদের দিকে তেড়ে যায়। এ সময় আওয়ামীলীগ ও বিএনপিপন্থী নেতা-কর্মীদের মধ্যে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।