কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো বলেছেন, ভারতীয় এজেন্টরা কানাডায় হত্যার ঘটনা যে ঘটিয়েছে, তা এখন প্রমাণিত। তবে ভারত এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তদন্তে কানাডার পুলিশ ভারতীয় গোয়েন্দাদের চারটি স্পর্শকাতর বিষয় জানতে পেরেছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
কানাডা এবং ভারত দুই দেশই নিজেদের দেশ থেকে অন্য দেশের ছয়জন করে কূটনীতিককে বহিষ্কার করেছে। অর্থাৎ, কানাডা ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে। ভারতও পাল্টা একই কাজ করেছে কানাডার কূটনীতিকদের সঙ্গে।
কানাডার অভিযোগ, এক বছর আগে দেশটির শিখ নাগরিক হরদীপ সিং নিজ্জর খুনের ঘটনায় যে ভারতীয় এজেন্টরা জড়িত ছিল, তা এখন স্পষ্ট। তদন্তে বিষয়টি উঠে এসেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ভারতের এই কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বস্তুত, প্রমাণ হাতে আসার পরেই ছয় ভারতীয় কূটনীতিককে দেশের ফেরানোর নির্দেশ দেয় কানাডার প্রশাসন।
খালিস্তান অর্থাৎ, আলাদা শিখ রাষ্ট্রের জন্য আন্দোলন করছিলেন হরদীপ। তিনি কানাডার নাগরিক ছিলেন। গত বছর ভ্যানকুভারে তিনি খুন হন। প্রাথমিক তদন্তের পর তখনই কানাডা জানিয়েছিল, এই ঘটনার পেছনে ভারতীয় এজেন্টদের হাত আছে। রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের হাতে তখন তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
সোমবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই ঘটনায় এবং ওই ধরনের আরও বেশ কিছু ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের জড়িত থাকার স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলে জানিয়েছে, একই দিন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ট্রুডো বলেছেন, ‘সার্বভৌম কানাডার মাটিতে হামলার ঘটনায় কূটনীতিক এবং এজেন্টদের ব্যবহার করে ভারত মস্ত বড় ভুল করেছে।’
তার কথায়, ‘রয়্যাল মাউন্টেড পুলিশের তদন্তে স্পষ্ট ওই ঘটনায় ভারতীয় কূটনীতিক এবং এজেন্টরা যুক্ত ছিল।’
ট্রুডো জানিয়েছেন, কানাডার মাটিতে কানাডার নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া তার প্রথম এবং প্রাথমিক কর্তব্য। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা তার কাজ। অন্য কোনো দেশ তার দেশে এসে হত্যার ঘটনা ঘটাবে, তা তিনি কোনোভাবেই মেনে নেবেন না।
অপরদিকে মাউন্টেড পুলিশের তদন্ত থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। একাধিক সহিংসতার ঘটনায় ভারতীয় এজেন্টদের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গেছে। খুনের ঘটনায় তাদের সরাসরি সংযোগ মিলেছে। কানাডায় বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয়দের ওপর থ্রেট তৈরি করা হয়েছে। কানাডার গণতান্ত্রিক সার্বভৌম চরিত্রে আঘাত করা হয়েছে।
এমনকি তদন্ত চলাকালীনও ভারতীয় এজেন্টরা কানাডার মাটিতে সক্রিয় ছিল এবং একের পর এক ঘটনা ঘটিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কানাডার মন্তব্য ভিত্তিহীন। ভারত বার বার তাদের কাছে তথ্যপ্রমাণ চেয়েছে। কিন্তু কানাডা এখনো পর্যন্ত তা দিতে পারেনি। রাজনৈতিক কারণে কানাডা এই মন্তব্য করছে বলেও অভিযোগ করেছে ভারত।
কানাডার পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে ভারতও সেদেশ থেকে কানাডার ছয় কূটনীতিককে শনিবারের মধ্যে দেশে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
ভারতীয় গোয়েন্দা তৎপরতা, তদন্তে ৪ স্পর্শকাতর বিষয় পেল কানাডা পুলিশ
জাতিসংঘ তার কর্মীদের রক্ষা করতে পারে না, এটি লজ্জার: এরদোগান
লেবাননে জাতিসংঘ তার কর্মীদের ইসরাইলের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে পারছে না, বিশ্ব স¤প্রদায়ের জন্য এটি উদ্বেগজনক। এমন মন্তব্য করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। সোমবার বিশ্বসংস্থাকে তেল আবিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহŸান জানিয়েছে তিনি।
সোমবার (১৪) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা আনাদোলু।
মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এরদোগান বলেন, ‘জাতিসংঘের ভাবমূর্তি, যেটি এমনকি নিজের কর্মীদেরও রক্ষা করতে পারে না, তা আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য লজ্জা ও উদ্বেগের কারণ।”
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আমরাও অবাক হয়েছি যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ইসরাইলকে থামানোর জন্য অপেক্ষা করছে’।
এরদোগান বলেন, আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এই অঞ্চল ‘ইসরাইলের আগুন জ্বলেছে।
তার ভাষ্য, লেবাননে ইসরাইলের সা¤প্রতিক আক্রমণ আবারও প্রমাণ করেছে আমাদের উদ্বেগ কতটা যৌক্তিক’। একইসঙ্গে ইসরাইলের উচ্চাকাক্সক্ষা সম্পর্কে তেল আবিবকে সতর্ক করেছেন এরদোগান।
লেবাননে জাতিসংঘের মতে, ইসরাইলি ট্যাঙ্ক রোববার শান্তিরক্ষী ঘাঁটিতে বিস্ফোরিত হয়। এটি শান্তিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে ইসরাইলি লঙ্ঘনের সর্বশেষ ঘটনা।
তুর্কি নেতা বলেন, ‘ইউএনআইএফআইএলকে আক্রমণ ও হুমকি দেওয়ার জন্য ইসরাইলি সরকারের বর্বরতা প্রমাণের জন্য যথেষ্ট। যারা এখনো কিছু দেখছে না তাদের জন্য বোধোদয়ের বার্তা’।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিষদ লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের (ইউএনআইএফআইএল) বিরুদ্ধে ইসরাইলের ‘দস্যুতা’ কর্মকাণ্ডকে শুধুই দেখে যাচ্ছে। জাতিসংঘের তৎপরতাকে ‘নপুংসকতা’ বলে অভিহিত করেন এরদোগান।
ট্রাম্প-কমলা কাউকেই ভোট না দেওয়ার ঘোষণা আরব আমেরিকান কমিটির
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা। চলছে পাল্টাপাল্টি হুমকি আর হামলা। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পÑ কাউকেই সমর্থন না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দ্য আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (অ্যাপ্যাক)।
গাজা ও লেবানন যুদ্ধে ‘অন্ধ সমর্থনে’র কারণে গতকাল সোমবার তাঁদের ভোট না দেওয়ার ঘোষণা দেয় ওই কমিটি।
আরব আমেরিকান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘উভয় প্রার্থী গাজা ও লেবানন যুদ্ধে গণহত্যাকে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা ডেমোক্রেটিক প্রার্থী কমলা হ্যারিস বা রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প কাউকেই ভোট দিতে পারি না। তাঁরা অন্ধভাবে ইসরায়েলের অপরাধী সরকারকে সমর্থন দিচ্ছেন।’
আগামী ৫ নভেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এবারই প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে সমর্থন না দেওয়ার কথা জানাল গ্রপটি। এটি সাধারণত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীকে সমর্থন দেয়।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, কমলা হ্যারিস ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি নির্বাচনী লড়াই চলছে। কেউই কারও থেকে পিছিয়ে নেই। আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ২০২০ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সমর্থনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন তাঁরা। এ ধারাবাহিকতায় এবার তাঁরা ডেমোক্র্যাটদের প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অতীতের বিভিন্ন মন্তব্য এবং ক্ষমতায় থাকাকালে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় ট্রাম্পের প্রতি মুসলমানদের সমর্থন নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। কমলা ও বাইডেনের মতো ট্রাম্পও মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছেন।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, আরব ও মুসলিম আমেরিকানরা ভোট না দিলে কমলা হ্যারিসের জয়ের সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যেতে পারে। এসব স¤প্রদায়ের যারা গাজা ও লেবানন যুদ্ধে স্বজন হারিয়েছেন, তাঁরা সমর্থকদের ট্রাম্প ও কমলাকে ভোট না দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।
১৫ বছরে টাকার কুমির হয়েছেন শামীম ওসমান
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আলোচিত-সমালোচিত মুখ। তার নির্বাচনি এলাকা ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জকে নববধূর মতো সাজানোর ঘোষণা দিলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি তেমন কোনো কাজই করেননি। তার সংসদীয় এলাকা বছরজুড়েই পানিতে ডুবে থাকে। রাস্তাঘাটের অবস্থাও ভালো নয়। এলাকার অধিকাংশ রাস্তা খানাখন্দে ভরা। সংসদীয় এলাকায় তেমন কোনো উন্নয়ন করতে না পারলেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন ফুলেফেঁপে টাকার কুমির বনেছেন শামীম ওসমান। নিজ ও নিজের পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ টাকা জমিয়েছেন। দেশ ও দেশের বাইরে রয়েছে তার বিশাল ব্যবসাবাণিজ্য। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলতেন- ‘দুই আর দুই’ মিলে অনেকে চার বললেও আমি দেখি ২২। কারণ আমি আগে থেকেই অনেক কিছু অনুমান করতে পারি। সেই বক্তব্য দেওয়া শামীম ওসমান আওয়ামী লীগের নিষ্ঠুর পতন হবে, সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। সেই সঙ্গে তাকেও দেশ ছেড়ে পালাতে হবে সেটাও উপলব্ধি করতে পারেননি।
ডুবন্ত জনপদের নেতা : ফতুল্লা এলাকায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতার সমস্যা দীর্ঘদিনের। ডিএনডি বাঁধের ভিতরে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধানে মেগা প্রকল্পের কাজ চলছে। এ কাজ শেষ হলে বাঁধের ভিতরে জলাবদ্ধতা কমে যাবে। দৃষ্টিনন্দন হবে ডিএনডি বাঁধের ভিতরের এলাকা। কিন্তু বাঁধের বাইরেও নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয় তীব্র জলাবদ্ধতা। অনেক এলাকায় বছরজুড়েই থাকে কৃত্রিম বন্যা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, বছরের পর বছর এ সমস্যা থাকলেও সেগুলো সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেননি শামীম ওসমান। তাই প্রভাবশালী শামীম ওসমানকে বলা হতো ডুবন্ত জনপদের নেতা। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের অন্যতম শিল্পাঞ্চল ফতুল্লার বিসিক। এখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কয়েক হাজার এবং শ্রমিকের সংখ্যা কয়েক লাখ। প্রতি বছর এ অঞ্চল থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব পায়। অথচ এ অঞ্চলে কর্মরত শ্রমিকদের দুর্ভোগের শেষ নেই। ডায়িংয়ের কেমিক্যাল মিশ্রিত বিষাক্ত পানি মাড়িয়েই কর্মক্ষেত্রে যেতে হয় কয়েক লাখ শ্রমিককে। এ ব্যাপারেও উদাসীন ছিলেন শামীম ওসমান। ২০২৪ সালে হলফনামায় শামীম ওসমান নিজেকে একজন ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তার মোট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পাঁচটি। জ্বালানি তেল আমদানি পরিবহন ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স জেড এন করপোরেশন, জেড এন শিপিং লাইনস লিমিটেড, মাইশা এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড, খান ব্রাদার্স ইনফোটেক ও উইসজম নিটিং মিলসকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। বিগত দিনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে দুদকের দুটি মামলাসহ ১৭টি মামলা দায়ের হয়েছিল যার মধ্যে কয়েকটি মামলা হাই কোর্ট কর্তৃক স্থগিত রয়েছে ও বেশ কিছু মামলা রাষ্ট্র কর্তৃক প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং কয়েকটিতে তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন।
সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম : শামীম ওসমান প্রসঙ্গে জেলা বিএনপির সভাপতি মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, স্বৈরশাসকের চারণভূমি ছিল নারায়ণগঞ্জ। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার সমর্থনেই শামীম ওসমান গডফাদার হয়েছিলেন। তার বিশাল বাহিনী ছিল যারা অস্ত্রেশস্ত্রে সজ্জিত থাকত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তার অস্ত্রের মহড়া নারায়ণগঞ্জবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। তার কাছে নিজ দলের লোকজনও জিম্মি ছিল। আর এ বিষয়টি শেখ হাসিনাও জানতেন, কিন্তু শামীম ওসমানকে ব্যবহারের জন্য কেউ কিছু বলত না। বিএনপি নেতা-কর্মীদের ওপর সীমাহীন নির্যাতন নিপীড়ন চালিয়েছেন শামীম ওসমান। সব মিলিয়ে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল নারায়ণগঞ্জে। তিনি আরও বলেন, শামীম ওসমান এলাকায় কোনো উন্নয়ন কাজ করতে পারেননি। আমরা শুধু শুনেছি তিনি এ কাজ নিয়ে এসেছেন সেই কাজ নিয়ে এসেছেন। কিন্তু আমরা কোনো উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছি না। যদি তিনি উন্নয়ন কাজ করতেন তাহলে বর্তমানে কোনো সমস্যা থাকত না। আমাদের ধারণা যে বরাদ্দ এনেছেন সেগুলো কাজ না করেই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।
শহিদ আবু সাঈদ শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে প্রথম শহিদ আবু সাঈদ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তিনি শহিদ হওয়ার ৯০ দিন পর নিবন্ধনের ফলাফল প্রকাশ হলো। ফলাফল পেয়ে তার বাবাসহ পরিবারের সবাই আবেগাপ্লুত। বিশেষ করে ছোট বোন সুমি খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জুলাইয়ে সরকারি চাকরিতে কোটা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। ১৬ জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহিদ হন রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামের আবু সাঈদ। তার মৃত্যুতে দেশের ছাত্র-জনতা আওয়ামী সরকারের পতনের এক দফার দাবিতে রাজপথে নামেন। একপর্যায়ে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়। অপরদিকে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান আবু সাঈদ চাকরির জন্য ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন লিখিত পরীক্ষা-২০২৩ এ ইবতেদায়ি সাধারণ শিক্ষক হিসাবে অংশ নেন। তার রোল ছিল ২০১২৫৬২৯৭। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে আবু সাঈদ কৃতকার্য হয়েছেন। এ ফলাফল পেয়ে তার বৃদ্ধ বাবা-মা, পরিবারসহ পুরো গ্রামের মানুষ আফসোস করছেন। অসচ্ছল পরিবারের সর্বোচ্চ শিক্ষিত ছিলেন আবু সাঈদ। আর তাকে ঘিরেই স্বপ্ন দেখত তার পরিবার। আন্দোলনে শহিদ হওয়ায় তার পরিবারের মনোবাসনা অধরাই রয়ে যাওয়ায় তারা বুক চাপড়াচ্ছেন।
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন বলেন, ‘আমার ভাইটার খুব মেধা ছিল। ওর ওপর আব্বা খুব আশাবাদী ছিল। কিন্তু কোটা আন্দোলন আমাদের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে। তবে আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হওয়ায় দেশবাসী নিষ্কৃতি পেয়েছে। আমরাও সেদিক দিয়ে খুশি।’
বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমার অনেক কয়জন সন্তান। অর্থের অভাবে তাদেরকে লেখাপড়া করাতে পারিনি। কিন্তু আবু সাঈদের মধ্যে পড়ার খুব আগ্রহ ছিল। সে নিজেই টাকা রোজগার করে পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। তাকে নিয়ে আমার খুব আশা ছিল। কিন্তু সে আশা আমার শেষ। আমিও আর আগের মতো কাজ করতে পারি না।’
বেরোবির ভিসি অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, ‘আবু সাঈদ যে মেধাবী ছিল, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। কিন্তু আবু সাঈদ জীবদ্দশায় তা দেখতে পারল না। তার আত্মত্যাগের মূল্য আমরা তাকে দিতে পারব না। তবে তার জন্য দোয়া করছি।’
বিশ্বকাপ থেকে ভারতের বিদায়, সেমিতে নিউজিল্যান্ড
পাকিস্তানকে ৫৬ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ৮ বছর পর সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ড। ৫৪ রানে পাকিস্তানের পরাজয়ে কপাল পুড়ল ভারতেরও। তারাও পাকিস্তানের মতো বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল।
ভারতের সেমি-ফাইনালে যাওয়া নির্ভর করছিল পাকিস্তানের জয়ের ওপর। নিউজিল্যান্ড ও ভারতকে টপকে শেষ চারে উঠতে পাকিস্তানের লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলতে হতো ১১.৩ ওভারে।
টি-টোয়েন্টিতে টানা ১০ ম্যাচ হেরে এই টুর্নামেন্টে পা রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। সেই তারাই এশিয়ার তিন দল ভারত, শ্রীলংকা ও পাকিস্তানকে হারিয়ে পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে। গ্রপপর্বে তারা হারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
গত তিনটি আসরে নিউজিল্যান্ড বিদায় নিয়েছিল গ্রæপপর্ব থেকে। প্রথম দুই আসরে রানার্সআপ হওয়া দলটি পরে দুইবার সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় ২০১২ ও ২০১৬ সালে।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে করে ১১০ রান। নিউজিল্যান্ডকে আরও কম রানে থামাতে পারত পাকিস্তান, কিন্তু তারা ৮টি ক্যাচ ফেলে দিয়েছে। টার্গেট তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান ১১.৪ ওভারে ৫৬ রানেই অলআউট হয়।
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটা দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় স্কোর। এর আগে ২০১৮ সালের আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৪৬ রান অলআউট হয়েছিল।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেও কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন এটি। এখানেও সবার ওপরে বাংলাদেশ, ২০২২ সালে ক্রাইস্টচার্চে ৩২ রানে গুটিয়ে গিয়েছিল তারা।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের আগের সর্বনিম্ন ছিল ৬০, ২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
বাবার মৃত্যুশোক নিয়ে মাঠে পাকিস্তান অধিনায়ক
বাবার মৃত্যুশোককে সঙ্গী করেই মাঠে নেমেছিলেন পাকিস্তানের নারী দলের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। টুর্নামেন্টের মাঝপথেই বাবাকে হারিয়েছেন এই তারকা পেসার।
বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে দেশে ফিরে যান ফাতিমা সানা। যে কারণে পাকিস্তানের আগের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলতে পারেননি। গতকাল সোমবার সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলার জন্য মাঠে ফিরেন সানা।
এদিন দলকে নেতৃত্বও দিলেন। মাঠে ভাইরাল হয় তার একটি ছবি। মাঠে ফিরেই প্রয়াত বাবার জন্য কেঁদে ফেললেন সানা। কান্নাভেজা চোখেই দেশের হয়ে কর্তব্য পালন করলেন।
পাকিস্তানের হার ছাপিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ফাতিমা সানার এমন নিবেদন।
ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের সময় ২২ বছর বয়সি পাকিস্তানের তারকা পেসারকে দেখা যায় আবেগী হয়ে পড়েছেন। নিজের বাবার মৃত্যুর শোক গোপন করতে পারলেন না তিনি। টিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সে ছবি। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন সানা। দেশের প্রতি তার নিষ্ঠার প্রশংসা করেন নেটিজেনরা।
সেমিফাইনালে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে সোমবারের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিততেই হতো পাকিস্তানকে। ১১১ রানের টার্গেট পার করতে হতো ১১.৩ ওভারে। তবে কিউই নারীদের কাছে সেই ম্যাচটাও হেরেই গেল পাকিস্তান। সেই সঙ্গে সেমিফাইনালের দৌড় থেকে পাকিস্তানের পাশাপাশি ছিটকে গেল ভারতও।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দীর্ঘ প্রায় ১৬ বছর পর স্বৈরাচার সরকারের পতনের প্রতিষ্ঠিত বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলো নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষ্যে রোববার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির কিউ গার্ডেনের আগ্রা প্যালেসে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রবাসী বাংলাদেশী সাংবাদিক, ক্লাব সদস্য আর কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে উঠে। অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো শুভেচ্ছা বিনিময়, ক্লাবের নতুন সদস্যদের ফুল দিয়ে বরণ, সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, সঙ্গীত আর নৈশভোজ। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন মু. ফখরুল ইসলাম মাসুম। এরপর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পর বিশ্বে নিহত সকল সাংবাদিকদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজক কমিটির আহŸায়ক ডা. ওয়াজেদ এ খান। পরবর্তীতে ক্লাবের নতুন উপদেষ্টামন্ডলী ও নতুন সদস্যদেরকে পরিচয় করিয়ে দেন ক্লাবের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম। তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন সাবেক সভাপতি আবু তাহের ও ডা. ওয়াজেদ এ খান, সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদারসহ কার্যকরী কমিটির সদস্যবৃন্দ।

এরপর ক্লাবের উপদেষ্টা, কর্মকর্তা ও সদস্যদের মধ্য থেকে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা মনজুর আহমদ, মাঈনুদ্দীন নাসের, মাহমুদ খান তাসের ও এবিএম সালেউদ্দিন, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সভাপতি আবু তাহের, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক সহ সভাপতি রিমন ইসলাম, ক্লাব সদস্য ড. কনক সারোয়ার, ইমরান আনসারী, ফরিদ আলম ও শেখ খোরাশান এবং নতুন সদস্যদের মধ্য থেকে বক্তব্য রাখেন ইলিয়াস হোসেন।
এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্য থেকে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. আবু জাফর মাহমুদ, বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জামাল আহমেদ জনি, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মূলধারার রাজনীতিক গিয়াস আহমেদ, কুইন্স ডেমোক্র্যাট পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লীডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরী, অ্যাসাল-এর ন্যাশনাল সভাপতি মাফ মিসবাহ উদ্দিন, ‘বøাক ডায়মন্ড’ খ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী বেবী নাজনীন, যমুনা টিভি’র বিশেষ প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ তুহিন, বিশিষ্ট রাজনীতিক এএসএম রহমতউল্লাহ ভূইয়া, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রতিদ্ব›িদ্বতাকারী ‘রুহুল-জাহিদ’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী রুহুল আমীন ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহিদ মিন্টু। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন সরকার ও কার্যকরী পরিষদ সদস্য রওশন হক।

স্বাগত বক্তব্যে ডা. ওয়াজেদ এ খান ক্লাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূরধা, ঢাকাস্থ জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মরহুম ফাজলে রশীদকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সংক্ষেপে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রকাশিত বাংলা সংবাদপত্র, টেলিভিশন চ্যানেল, বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের নিউইয়র্ক প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত পোশাজীবি সাংবাদিকদের প্রাণের সংগঠন। সাংবাদিকতার গুণগত মানোন্নয়ন, সাংবাদিকদের মাঝে পারষ্পারিক সৌহার্দ্য সম্প্রীতি বৃদ্ধি ও স্থানীয় বাংলাদেশী কমিউনিটির সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০০৮ সালে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, প্রেসক্লাব সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকতার জগতে হয়তো কোন পরিবর্তণ আনতে পারবে না। কিন্তু সমাজ ও সভ্যতায় পরিবর্তনের কারিগরের ভূমিকা পালনকারী সাংবাদিকদের কাতারে শামিল হয়ে সংগঠনটি এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, সকল সাংবাদিকের আদর্শ ও উদ্দেশ্য এক এবং অভিন্ন। সাংবাদিকেদের মাঝে প্রতিযোগিতা থাকবে। তবে তা হবে সুস্থ, সুন্দর এবং সৃজনশীল। এটাই হোক নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মূলমন্ত্র।’
প্রসঙ্গত ডা. ওয়াজেদ এ খান বলেন, বাংলাদেশের আন্তর্বর্তী সরকার প্রধান, শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার জয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস একসময় নিউইয়র্ক সফরকালীন সময়ে নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানেও যোগ দিয়েছিলেন। আমরা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতে পারি। তিনি বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব সকল দল ও মতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পেশাদার সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে ক্লাবের সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ।
অনুষ্ঠানে কোন কোন বক্তা আতœসমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ায় প্রবাস থেকে ভ‚মিকা রাখার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। বক্তারা বলেন, সাংবাদিকরাও রাজনীতির উর্দ্বে নন, কিন্তু ‘দলকানা সাংবাদিকতা’ দেশ-জাতি আর রাষ্ট্রের জন্য কল্যাণকর নয়। তাই দেশ ও প্রবাসের সাংবাদিকদের রাজনীতিমুক্ত থাকাই শ্রেয়।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, সাপ্তাহিক নিউইয়র্ক সময় সম্পাদক জাকারিয়া মাসুদ জিকো, সাপ্তাহিক রানা’র সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য সাঈদ তারেক, জয়বাংলা টিভি’র আদিত্য শাহীন, সাপ্তাহিক সাদা-কালো’র নির্বাহী সম্পাদক আবুল কাশেম, সাংবাদিক সৌরভ ইমাম, বাংলাদেশী-আমেরিকান এডভোকেসী গ্রæপ (বাগ)-এর সভাপতি জয়নাল আবেদীন ছাড়াও আজিজুল হক, আব্দুল হামিদ সোহেল, আব্দুস সাত্তার, আমিন খান মেহেদী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রকি আলিয়ান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিষ্ট দেলোয়ার হোসেন শিপন, দেওয়ান কাউসার, মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও প্রেসক্লাবের সদস্যরা সপরিবারে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে এককভাবে মনোমুদ্ধকর সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পী মারিয়া মরিয়ম।
উল্লেখ্য, ক্লাবের নতুন সদস্যরা হলেন: ইলিয়াস হোসাইন (ইটিভি), ইকবাল মাহমুদ (টাইম টিভি), মুশফিকুর রহমান অন্তু (জেটিভি), মোহাম্মদ ফারুক হোসাইন (টাইম টিভি), হুমায়ুন কবীর (টাইম টিভি), ফাহমিদা আলম লিনা (আইবি টিভি), আবু সায়েম (সাপ্তাহিক আজকাল) এবং অপূর্ব বাবু (আইটিবি টিভি)।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ রশীদ আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইলিয়াস খসরু, অফিস ও প্রচার সম্পাদক মাহাথীর খান ফারুকী, কার্যকরী সদস্য এস এম জাহিদ ও মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রথমবার দেবীবরণ করে যা বললেন স্বস্তিকা
এবারের পূজা নিয়ে কোনো উত্তেজনা ছিল না। পূজাটা যেন নিমেষেই কেটে গেল। এভাবেই যেন এবারের পূজাটা হওয়ার ছিল বলে জানিয়েছেন টালিউড অভিনেত্রী স্বস্তিকা দত্ত।
পূজার কাজ নিয়ে মেতে ছিলেন তিনি। কখনো পূজা পরিক্রমা, কখনো আবার কোনো ব্র্যান্ডের হয়ে প্রচার। অবশেষে দশমীতে নিজের জন্য পূজামণ্ডপে গেলেন এ অভিনেত্রী। জীবনে প্রথমবার দেবীবরণ করলেন স্বস্তিকা দত্ত। সে কথা জানালেন আনন্দবাজারের এক সাক্ষাৎকারেÑআমি এখনো দেবীবরণ করার ঘোর থেকে বেরোতে পারিনি। কিন্তু এবার দেবীবরণ করার সিদ্ধান্ত কেন?এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বস্তিকা বলেন, এ বছর মায়ের থেকে একটু বেশি শক্তি দরকার। একটু বেশি আশীর্বাদ ও ভালোবাসা দরকার। তিনি বলেন, যত বড় হচ্ছি, নিজের ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধও বাড়ছে। সে জন্যই মায়ের হাতটা মাথার ওপর দরকার। হঠাৎই ঠিক করলাম মাকে বরণ করব। কোনো পরিকল্পনা ছিল না। পরিকল্পনা করে আমি যা-ই করি, সেগুলো ভেস্তে যায়। তবে এ বরনের অনুভূতি অসাধারণ। গায়ে কাঁটা দিচ্ছিল।
নিয়মানুযায়ী দেবীকে বরণ করেন সধবা নারীরা। তবে গত কয়েক বছরে সেই ছক ভেঙেছেন বহু নারীই। স্বস্তিকাও সেই পথেই হাঁটলেন। অভিনেত্রী বলেন, প্রথমে একটু অদ্ভুত লাগছিলÑ সব বিবাহিত নারীর মধ্যে আমি একা। কিন্তু তেমন কোনো অস্বস্তি নেই। ইচ্ছে ছিল বরণ করার। করেছি। তিনি বলেন, নিয়ম বিরুদ্ধ অনেকেই বলতে পারেন। তবে নিয়ম মেনে কে কী করছেন, সেটি সবাই দেখতে পাচ্ছেন।
স্বস্তিকা দত্ত বলেন, ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে মানুষের তৈরি করা নিয়ম ভাঙতে আর কী! বিবাহিত হলেই শুধু বরণ করতে পারিÑ এটা আমি বিশ্বাস করি না।
স্বস্তিকার বলেন, নারী স্বাধীনতার প্রতীক সিঁদুর খেলা। এর জন্য বিবাহিত বা সধবা নারী হতেই হবে এর কোনো মানে নেই। তিনি বলেন, মা দুর্গা তো যুদ্ধ করেছিলেন। নারীশক্তির জয়কে সিঁদুর খেলার মাধ্যমে আমরা উদযাপন করি। এই লাল রঙটাকে আমরা খুব পবিত্র হিসাবে মানি। আসলে এই বাঁধা গতের ধারণাগুলো বাদ দেওয়া প্রয়োজন। আমি যেটা ঠিক মনে হয় সেটাই করি। আর নাম থাকলে বদনামও হবে।
দেবী দুর্গার পূজা করলেও নিজের জন্য তেমন কিছু চাইতে পারেননি বলে জানান স্বস্তিকা দত্ত। প্রতিমার সামনে গিয়ে অপলক দৃষ্টিতে কেবল তাকিয়ে ছিলেন তিনি। অভিনেত্রীর বলেন, আমি নিজের জন্য কিছু চাইতে পারি না সঙ্গে সঙ্গে। হয়তো চাওয়ার অনেক কিছুই আছে। কিন্তু সেই সময়ে স্তব্ধ হয়ে যাই।
সাইফ-কারিনার প্রেমের কথা শুনে চোখ কপালে কারিশমার
বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুর দম্পতিকে নিয়ে আলোচনা চলছেই।তাদের অসম প্রেম বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব আলোচনায় সব সময়ই হচ্ছে।
স¤প্রতি কপিল শর্মা শোতে প্রশ্ন করা হয়Ñ সাইফের সঙ্গে কারিনা কাপুরের সম্পর্কে জড়ানোর খবর কি জানতেন বড় বোন কারিশমা কাপুর? এমন প্রশ্নের মুখে পড়েন অভিনেত্রী। সেখানে কারিশমা বলেন, সাইফ আলি খানের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কথা মুঠোফোনে কারিনার কাছ থেকে জানতে পারেন তিনি।
সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কারিশমা কাপুর বলেন, মুঠোফোনে কারিনা আমাকে কিছু বলতে চায়। তার আগে আমাকে কোথাও বসতে বলে। তখন আমি সেই সময় মার্কেটে ছিলাম। কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম না, কেন আমাকে বসতে হবে? তিনি বলেন, যাই হোক ওই সময়ে লন্ডনে আমি মার্কেটে কেনাকাটা করছিলাম। তারপর একটি সোফা খুঁজে নিয়ে বসে পড়ি!
এ অভিনেত্রী বলেন, কারিনার কথা শুনে চোখ কপালে উঠে যায় আমার। কারিশমা বলেন, কারিনা বলছিলÑবিষয়টি হলো, আমি সাইফের প্রেমে পড়েছি। আমরা একসঙ্গে আছি। আমরা ডেট করছি।
এ কথা শুনেই আমি হতবাক। শক্ত করে সোফা ধরেছিলাম। কারণ সাইফ আমার বন্ধু এবং আমার সহ-অভিনেতা ছিল, তাই না?
এদিকে কারিনা প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পরপরই লিভইন করার প্রস্তাব দেন সাইফ আলি খান। কিন্তু কারিনা সাফ জানিয়ে দেনÑ এ ব্যাপারে তার মায়ের (ববিতা কাপুর) কাছে অনুমতি নিতে হবে। ব্যস! কোনো ভণিতা না করে সোজা কারিনার মায়ের কাছে ছুটে যান সাইফ আলি খান এবং সম্পর্কের কথা সুন্দরভাবে কারিনার মাকে বলেন। শুধু তাই নয়, কারিনার সঙ্গে একসঙ্গে থাকার অনুমতিও চেয়েছিলেন বলে জানান কারিনা কাপুর।।
এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে কারিনা কাপুর বলেছিলেন, ‘সাইফ মাকে বলেছিলÑ আমরা বাকি জীবনটা একসঙ্গে কাটাতে চাই। মা সব শুনে কোনো দ্বিরুক্তি করেননি; বরং রাজি হয়ে যান।’
উল্লেখ্য, ২০১২ সালে বিয়ে করেন বলিউড অভিনেতা নবাব সাইফ আলি খান ও অভিনেত্রী কারিনা কাপুর। তাদের রয়েছে দুই সন্তানÑ প্রথম সন্তান তৈমুর আলি খান ২০১৬ সালে জন্ম নেয়। দ্বিতীয় সন্তান জাহাঙ্গীর (জেহ) ২০২১ সালের ২১ ফ্রেব্রæয়ারি জন্ম নেয়।
এর আগে নবাব সাইফ আলি খান বলি অভিনেত্রী অমৃতা সিংকে বিয়ে করেছিলেন। সে ঘরেও তাদের দুই সন্তান রয়েছে। ছেলে ইব্রাহিম আলি খান ও মেয়ে সারা আলি খান। তবে তাদের বিবাহবিচ্ছেদের দীর্ঘদিন পর কারিনা কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান অভিনেতা সাইফ আলি খান। ২০০৭ সালে ‘টশান’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় একে অন্যের প্রেমে পড়েন এ জুটি। এর পর দীর্ঘ পাঁচ বছর লিভইন সম্পর্কে ছিলেন সাইফ-কারিনা। পরে ১২ সালে বিয়ে করেন তারা।


