শেখ হাসিনার ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশটির কিছু গণমাধ্যম বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার কাল্পনিক সংবাদ অতিরঞ্জিত করে প্রচার করছে। এতে কেবল ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হলেও তা এ দেশের হিন্দুদের কোনো কাজে আসছে না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদককে দেবরাজ ভট্টাচার্য নামে ঢাকার একজন ৪২ বছর বয়সী হিন্দু ব্যাংকার বলেন, ‘কিছু বিশেষ ভারতীয় মিডিয়া, যেভাবে বিজেপির সাথে জোটবদ্ধ হয়ে বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে ভয়ের পরিবেশ ছড়াচ্ছে তা আমাদের এখানে কোনো সাহায্য করছে না।’ তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন হিন্দুত্ববাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কথা উল্লেখ করছিলেন।
একটি স্বাধীন বাংলাদেশী তথ্য-পরীক্ষা সংস্থা রিউমর স্ক্যানারের তদন্ত অনুসারে, ১২ আগস্ট থেকে ৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ পর্যন্ত ৫০টির মতো ভারতীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ সম্পর্কে কমপক্ষে ১৩টি মিথ্যা প্রতিবেদন প্রচার করেছে। দেবরাজ বলেন, তবুও, হাসিনার পতনের পর থেকে, হিন্দু সম্প্রদায়গুলোকে যে ভয় এবং নিরাপত্তাহীনতা গ্রাস করছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চলে যারা হাসিনার শাসনামলে খুব বেশি আধিপত্য বিস্তার করতে পারেনি তারা এখন শক্তিতে আছে। দেবরাজ বলেন, এতে বাংলাদেশে হিন্দুরা বরং দ্বিগুণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (বুয়েট) ২৭ বছর বয়সী হিন্দু ছাত্র অভিরো শোম পিয়াস বলেন, আমাদের ধর্মীয় তীর্থস্থানগুলোর ৯০ শতাংশ ভারতে অবস্থিত এবং সেখানেই আমাদের সংযোগ রয়েছে। তবে, সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশী হিন্দুরা বর্তমান ভারত সরকার বা এর ‘হিন্দুত্ব’ চরমপন্থাকে সমর্থন করে না। তিনি বিজেপির হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ মতাদর্শকে উল্লেখ করে এ ধরনের মন্তব্য করেন।
দোয়ারাবাজার মার্কেটের ২৯ বছর বয়সী একজন ফার্মেসি মালিক, যিনি তার পুরো নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারতীয় মিডিয়া ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং ঘটনাগুলোকে অতিরঞ্জিত করে, যার মধ্যে কিছু কখনও ঘটেইনি। এটি বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ভারত-বিরোধী মনোভাব জাগিয়ে তোলে, যা আমাদের হিন্দুদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি সৃষ্টি করে।
৮৪ বছর বয়সী নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ভারতীয় মিডিয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার অতিরঞ্জিত খবর প্রচারের অভিযোগ তুলেছে। ইউনূসের প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম আলজাজিরাকে বলেন, হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর কিছু হামলা হয়েছে। কিন্তু, ‘ভারতীয় মিডিয়ায় রিপোর্ট করা অনেক ঘটনা অতিরঞ্জিত এবং ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তির একটি শিল্প পর্যায়ে প্রচারের অংশ। অন্তর্বর্তী সরকার ধর্মের স্বাধীনতা, মেলামেশার স্বাধীনতা এবং সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য সমাবেশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
কিছু হিন্দু যুক্তি দেখান যে, শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশে সম্প্রদায়টির নিরাপদ থাকার ধারণাটিও ভুল। দেবরাজ স্মরণ করেন, দুই একর (প্রায় ০.৮ হেক্টর) পারিবারিক জমি হারিয়েছেন আওয়ামী লীগের একজন সাবেক সংসদ সদস্যের কর্মীদের হাতে, যিনি গত সেপ্টেম্বরে ‘চাঁদাবাজি ও প্রাণনাশের হুমকির’ অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। তিনি বলেন, হাসিনার অধীনে হিন্দুরাও নিরাপদ ছিল না। আমাদের রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ শাসনামলে অনেক হিন্দু যে নিরাপত্তা অনুভব করেছিলেন তা বাস্তবের চেয়ে বেশি মানসিক ছিল।’
ভারতের নয়াদিল্লির উপকণ্ঠে জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের একজন অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত আলজাজিরাকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, হাসিনা প্রশাসনের অধীনে হিন্দুদের সুরক্ষার উপলব্ধি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে নিহিত। যদিও আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনামলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ঘটেছে তবুও পার্টির ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান সাধারণত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে এক ধরনের নিরাপত্তার অনুভূতি দেয়।
সংখ্যালঘু অধিকার গোষ্ঠী, বিএইচবিসিইউসি, এর আগে হাসিনা প্রশাসনের সময় ২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের মধ্যে ৪৫টি হত্যার রিপোর্ট করেছিল, যাদের বেশির ভাগই হিন্দু ছিল।
বাংলাদেশের একটি খ্যাতনামা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিস কেন্দ্র, জানুয়ারি ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর কমপক্ষে ৩,৬৭৯টি হামলার রিপোর্ট করেছে, যার মধ্যে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং লক্ষ্যবস্তু সহিংসতা রয়েছে। এর অনেকগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতাদের জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
২০২১ সালে, দুর্গাপূজার সময় এবং পরে বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের বাড়ি এবং মন্দিরে আক্রমণের পরে, অধিকার গোষ্ঠী অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছিল, ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই ধরনের বারবার আক্রমণ, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর ও উপাসনালয় ধ্বংস করা বছরের পর বছর দেখায় যে, বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের রক্ষার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।’
বিএইচবিসিইউসির সভাপতি মণীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু আন্দোলন ভারত এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ উভয়ের থেকে স্বতন্ত্র এবং স্বাধীন। এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়। একটি সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন এবং একটি সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছি। নাথ আরও উল্লেখ করেন যে, হিন্দু ছাত্ররা প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল যা হাসিনার সরকারকে অপসারণের দিকে পরিচালিত করে। তারা অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং দাবির প্রতিবাদে একত্র হয়েছিল যেগুলো হাসিনা অনেক দিন ধরে উপেক্ষা করেছেন।
হাসিনা সরকারের সাবেক মন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এখন ভারতে নির্বাসিত, তবে তার দলের ট্র্যাক রেকর্ড রক্ষা করেছেন। তিনি আলজাজিরাকে বলেন, ‘আপনি যদি হিন্দুদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে আমাদের অধীনে যা ঘটেছিল তার সাথে তুলনা করেন, পার্থক্যটি স্পষ্ট। আমাদের শাসনামলে কিছু হামলা হয়েছে, আমরা তা অস্বীকার করতে পারি না। তবে ৫ আগস্টের পর যা ঘটছে তা নিছক বর্বরতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘন, তারা [অন্তর্বর্তীকালীন সরকার] সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।’
বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল, মো: আসাদুজ্জামান, অক্টোবরে হাইকোর্টে শুনানির সময় পরামর্শ দিয়েছিলেন যে, তিনি সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণকে সমর্থন করবেন। তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা এমন একটি জাতির বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না যেখানে জনসংখ্যার ৯০ শতাংশ মুসলিম। মণীন্দ্র কুমার নাথ সতর্ক করে বলেন, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণ করা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকারকে উল্লেখযোগ্যভাবে হুমকির মুখে ফেলবে। অতীতে সরকারগুলো তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের সুরক্ষা এবং অধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু একবার ক্ষমতায় এসে তারা তা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে।
ভট্টাচার্য সেই উদ্বেগের প্রতিধ্বনি করে বলেন, সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বের করা হলে, এটি একটি স্পষ্ট বার্তা দেবে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা আর রাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য আসল চ্যালেঞ্জ অন্য কোনো দেশের ভুল তথ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করা নয়, বরং হিন্দু সংখ্যালঘুরা যাতে আবার নিরাপদ বোধ করে সে দিকে নজর দেয়া উচিত।
ভারতের মিথ্যা প্রচারণা বাংলাদেশে হিন্দুদের সাহায্য করছে না
আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট রচি,সম্পাদক মশিউর
নিউইয়র্ক: আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ২০২৫-২৬ সময়ের জন্য নতুন কমিটির প্রেসিডেন্ট হয়েছেন শওকত ওসমান রচি,সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার। ৯ ডিসম্বর সোমবার জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি সেন্টারে প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় কন্ঠভোটে তারা নির্বাচিত হয়েছেন। রচি বাংলা খবর ডট নিউজের সম্পাদক এবং মসিউর খবর সম্পাদক। এছাড়া ৯ সদস্যের নির্বাচিত কমিটির সদস্যদের মধ্যে আছেন, সহ-সভাপতি মন্জুরুল হক (সাপ্তাহিক প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক), যুগ্ন-সা: সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক (সাপ্তাহিক আজকাল), কোষাধ্যক্ষ মল্লিকা খাঁন মুনা (মাই টিভি), কার্যকারী সদস্য দর্পণ কবীর ( সম্পাদক, দেশকন্ঠ), মোহাম্মদ সাঈদ (সম্পাদক, সাপ্তাহিক প্রবাস), তোফাজ্জল লিটন( প্রতিনিধি, দৈনিক প্রথম আলো) ও শামীম আহমেদ (টিবিএন২৪)।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় পেশাজিবী সাংবাদিকদের এ সংগঠন ‘আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব’।
প্রেসক্লাবের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ সাঈদ’র সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল হক। এই সাধারণ সভায় বিভিন্ন মিডিয়াতে কর্মরত ১৬ জনকে প্রেসক্লাবের নতুন সদস্য পদ প্রদান করা হয়। এ সময় উপস্থিত নতুন সদস্যদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
সভার শুরুতে ক্লাবের প্রয়াত সদস্য আব্দুল হাই স্বপনের আত্মরর মাগফেরাত কামনা, বেলাল আহমেদসহ অসুস্থ সদস্যদের জন্যে দোয়া করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেছেন ক্লাবের সিনিয়র সদস্য সৈয়দ ওয়ালিউল আলম। সভায় সভাপতির শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন এবং কোষাধ্যক্ষের প্রতিবেদন পেশ করা হয়। সদস্যরা প্রতিবেদন দুটি অনুমোদন করেন।

এছাড়াও প্রেসক্লাবকে শক্তিশালী করার লক্ষে বক্তব্য রাখেন ,প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক দর্পণ কবীর, নতুন কমিটির সভাপতি শওকত ওসমান রচি, নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মশিউর রহমান মজুমদার, মল্লিকা খান মুনা , সৈয়দ ওয়ালীউল আলম , পাপিয়া বেগম,এনামুল হক এনাম, এসএম সারোয়ার হোসেন, পাপিয়া বেগম,শফিকুল ইসলাম সাবু , তাপস কুমার সাহা , সীমা সুস্মিতা, মোঃ আজিজুল হক, মোঃ আরিফুর রহমান, মোঃ মাহে আলম জেমস, এনাম চৌধুরী, দীপক কুমার আচার্য, খোরশেদ আলম রিংকু , উত্তম কুমার সাহা, শামীম আহমেদ, কামরুল হাসান প্রমুখ।
সবশেষে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ সাঈদ উপস্থিত সকল সদস্যদের ধন্যবাদ এবং নতুন কমিটিকে অভিনন্দন জানিয়ে সাধারণ সভার সমাপ্তি ঘোষনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠনের সহযোগিতায় নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে বিজয় দিবস উদযাপন
আব্দুল হামিদ নিউইয়র্ক॥ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এর অঙ্গ সংগঠনের সহযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে বিজয় দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ডঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং সভা পরিচালনা করেন সাধারন সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি কানেক্টেড ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি নেতা নেত্রীদর সাথে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন, সবার খোঁজ খবর নেন এবং প্রবাসে আওয়ামিলীগের শক্তিমত্তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন এই ডিসেম্বর মাসেই বাংলাদেশ বিজয় লাভ করেছিল। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু সহ জনগণ যে নির্যাতন হত্যা গুম সহ্য করেছিল তার ফলশ্রুতিতে দেশ স্বাধীন হয়েছিল। পাকিস্তানি বাহিনী যখন ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরু করে তার পরেই ২৬ মার্চ জাতির জনক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। স্বাধীনতার পরে জাতির জনক এই যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য মাত্র ৩ বছর ৭ মাস সময় পান ।৩০ লক্ষ শহীদ এবং ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা বার বার লুন্ঠন করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক ও তার পরিবারের সকল সদস্যকে সেদিন হত্যা করার মাধ্যমে এই স্বাধীনতাকে কলংকিত করে এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে। সেই সময় যুদ্ধ অপরাধী সহ জাতির জনককে হত্যাকারীদের সরকারের বিভিন্ন পদে বসানো হয়। ৫ আগস্ট সেই একই ভাবে স্বাধীনতা বিরোধীরা ক্ষমতা দখল করে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলো কিন্তুু তারা সেটা পারেনি। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মাধ্যমে যে উন্নয়নশীল দেশে গড়েছিলাম আজ তা ধ্বংস প্রায়। যখন দারিদ্র্যের হার ছিলো ৪১ ভাগ সেখান থেকে আমি ১৮.৭ ভাগে নিয়ে আসি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি করি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করি,একটা আধুনিক জাতি হিসাবে গড়ে তুলি। ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে অতিক্রমের সকল প্রস্তুতি আওয়ামিলীগ নিতে থাকে। আওয়ামিলীগ মানেই খাদ্য নিশ্চয়তা, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা। আমাদের সময় সড়ক, নৌ, বিমান, টানেল, ৬ লেনের রাস্তা, একসাথে ১০০ সেতু উদ্বোধন, ডিজিটাল জনগোষ্ঠী তৈরি, আমার গ্রাম আমার শহর, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প গ্রহণ করি যা বাংলাদেশের জনগনকে আশার আলো দেখায়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ৩০ টাকা নিম্নবর্গদের ১৫ টাকা কেজি চাল এবং ১ কোটি জনগণকে টিসিবির কার্ড করে দেয়া হয়। তিনি আরও বলেন আওয়ামিলীগের সময়ই মাতাপিছু আয় ২৭৯৩ টাকা, ১৪৮ প্রকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, কৃষক – মৎসজীবি- শ্রমিকদের খাদ্যের ব্যবস্থা, বছরের শুরুতে বিনামূল্যে বই বিতরণ, বৃত্তি ও প্রযুক্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি বলেন প্রবাসীরা যেনো বিনিয়োগ করতে পারে সেজন্য ব্যাংকিং, বীমা, টেলিকম, বিমান,হেলিকপ্টার সার্ভিস উন্মুক্ত করা হয়।

২০২৪ সালের নির্বাচনে চক্রান্তকারীদের চক্রান্তের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু করে ইউনুস। কিন্তু তখন তারা এই নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। পরে গভীর চক্রান্তের মাধ্যমে জঙ্গি, সন্ত্রাসীরা পুলিশ, ছাত্র, আওয়ামিলীগ,সাধারন মানুষ হত্যা করে ক্ষমতা দখল করে। তারা ৪-৫ হাজার আওয়ামিলীগ কর্মী হত্যা করেছে। যে কোটা ২০১৮ সালে বাতিল করেছিলাম পরে আদালত যে রায় দেয় তাও আমরা স্থগিত করি, জুলাই আন্দোলনে বাধা দেয়নি, পুলিশকে নিষেধ করেছিলাম বাধা দিতে, আন্দোলন কারীদের গণভবনে ডাকাও হয়েছিলো কিন্তু তারা আসেনি ১ দফা ঘোষনা করেছে। আমি রক্তপাত চাইনি তাই ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছি। আবু সাইদ কে ওরাই হত্যা করেছে তার গুলি লাগে দুপুর ২:৩০ এ তখন তাকে হসপিটালে না নিয়ে রাত ৮ টায় নিয়েছিলো কেনো? মুগ্ধকে এত কাছ থেকে কারা গুলি করেছে? এই প্রশ্ন রাখেন তিনি। চট্টগ্রামে ছাত্রলীগ নেতাদের ছাদ থেকে ফেলে দেয়া হয়েছে, অনেককে খুন করা হয়েছে এসব কারা করেছে সবাই দেখেছে। তিনি বলেন জুডিশিয়াল ইনকুয়ারি কমিশনে যে জজ নিয়োগ দিয়েছে সে নিজেই দলীয় এবং অপরাধী ছিলো। ইউনুস নিজেই ক্লিনটনের সভাই স্বীকার করেছে তারা কিভাবে ডিজাইন করে ক্ষমতাচ্যুত করেছে আমাদের। তাদের একজন বলেছে পুলিশ না মারলে, মেট্রোস্টেশন না পোড়ালে বিপ্লব সার্থক হত না। তারা প্রশিক্ষিত ক্যাডার, সন্ত্রাসী, জেনেভা ক্যাম্পের লোক, সাদা শার্ট পরিয়ে স্কুল কলেজের ছাত্র বানিয়ে যা করেছে জনগন তা এখন বুঝতে পারছে। তারা গাজীপুর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছিলো তবুও আমি গুলি চালাতে দেয়নি। তারা এখন কি করছে সেসবের বিচার না করে আওয়ামিলীগ ও তার সহযোগিদের বাড়িতে হামলা, আগুন, লুটপাট হত্যা করছে। ছেলেকে না পেয়ে মা – চাচীকে হত্যা করেছে, বগুড়ায় ৮ জনকে হত্যা করেছে। যৌথবাহিনি গোপালগঞ্জে জনগনকে পিটিয়েছে। তারা নির্যাতিতদের পাশে থাকছে না। এভাবে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করার মাধ্যমে তারাও একদিন ১৯৭১ সালের পাকিস্তানী বাহিনীর মত জনগনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে। ইউনুস বাহিনী শিক্ষক,সাংবাদিক, সচিব, পুলিশ, পিএসসি কর্মকর্তা, আইনজীবী সহ সকল ক্ষেত্রে জোর পূর্বক চাকুরীচ্যুত এবং ওএসডি করছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ করলে তাদের চাকরী দেবেনা, পড়াশোনা করতে দেবেনা.. এখন কি বৈষম্য হয়না? এখন বলুক ফ্যাসিস্ট কারা? ইউনুস ৬ হাজার কোটি টাকা ট্যাক্স ফাকি ছাড়াও ২৫ কোটি টাকা পাচার করেছে, লভ্যাংশের ৫% শ্রমিক কল্যানে জমা দেবার কথা তাও সে দেয়নি। তার বিরুদ্ধে শ্রমিক মামলা, ট্যাক্স ফাকি দেয়া সহ ৬ মাসের কারাদণ্ড ছিলো সেটাও সে মওকুফ করেছে। এমনকি ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত হল ২০-২৫ জন আহত হল.. যারা দোষি তাদের সবাইকে খালাস করে দিলো। বয়স্ক নেতাদের হাত কড়া পরিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়, তাদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ দিতে দেয়না, সংখ্যা লঘুদের ওপর হামলা করে. এখানে আইনের শাসন কোথায়? শাহ আমানত দরগাহ, মন্দির, চট্টগ্রামে গীর্জা মঠে হামলা করা হয়, ১১ টি গীর্জা ভাঙ্গা হয়েছে তার বিচার কে করবে? আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সে বলেছিলো ২৬ লক্ষ ভারতীয় এখানে চাকরী করে সে এখন তাদের বাদ দেয় না কেন? প্রতিটি সেক্টরে গ্রাম থেকে শহরে ইউনুস বাহিনীর এজেন্ট আছে তাদের খুঁজে বের করতে হবে কারন এরাই সবার তথ্য নিয়ে আগুন সন্ত্রাস লুটপাট করছে। ধানমন্ডির যে বাড়ি থেকে ৬ দফা, স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো, জাতির জনকের স্মৃতি সংরক্ষিত ছিলো, আমরা যাকে ট্রাস্ট বানিয়েছিলাম, নিজেদের সম্পদকে জনগনের সম্পদ বানিয়েছিলাম তারা সেটা আগুন দিয়ে পুড়িয়েছে। গণভবনে, সংসদ ভবনে,সেতু ভবনে, টিভি ভবনে লুটপাট করেছে। রাষ্ট্রপরিচালনার জন্য যে তিনটি মূল বিষয় আছে আইন সভা, বিচার বিভাগ, এক্সিকিউটিভ তারা ফলো করেনা, সব তারা ধ্বংস করেছে। একটি গোছানো দেশকে তারা হাতে তুলে ধ্বংস করছে, সকলের পেটে লাথি মারছে। চুরি ডাকাতি সন্ত্রাস এখন বাংলাদশের অলিতে গলিতে বিরাজমান। কেউ শান্তিতে বাইরে যেতে পারেনা। তিনি বলেন আওয়ামিলীগকে বাদ দেয়া, শেষ করা বা নিশ্চিহ্ন করা সম্ভব নয়। ইউনুস বাহিনীর বাবা আইয়ুব খান পারেনি আর এরা কিভাবে শেষ করবে। আমার নামে ২৫০ টা হত্যা মামলা দিয়েছে এর মধ্যে কিছুদিন পরে আবার ৩৫ জন জীবিত হয়ে ফিরে এসেছে।তারা গণভবনে আক্রমণ করেছিলো শেখ রেহেনা আর আমাকে হত্যা করবে বলে তারা তা পারেনি। আমার দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের দেয়া ঘর, জমি তারা দখল করেছে, আগুন দিয়েছে। শান্তির রাষ্ট্রকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে এরা। পরিশেষে তিনি বলেন, আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় গেলে, যাদের চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে তাদের চাকরী ফেরত দেয়া হবে। তিনি নির্দেশ দেন ইউনুস বাহিনীর এজেন্ট রা সব জায়গাতে কি কি করছে তার তথ্য রাখতে হবে প্রয়োজনে রুখে দাড়াতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প আবার তিনি ব্যক্ত করেন।।
গেইলের রেকর্ড ভাঙলেন মাহমুদুল্লাহ
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মারকুটে ব্যাটার ক্রিস গেইলকে সড়িয়ে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে সর্বোচ্চ রানের মালিক হলেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।
মঙ্গলবার রাতে তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৯২ বলে ৬২ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন মাহমুদুল্লাহ। এই ইনিংস খেলার পথে ওয়ার্নার পার্কে সর্বোচ্চ রানের মালিক বনে যান তিনি। এত দিন ওয়ার্নার পার্কে সর্বোচ্চ রানের মালিক ছিলেন গেইল।
ওয়ার্নার পার্কে পাঁচ ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে তিনবার অপরাজিত থেকে চারটি হাফ-সেঞ্চুরিতে ১২৮.৫০ গড়ে ২৫৭ রান করেছেন মাহমুদুল্লাহ। আট ম্যাচের আট ইনিংসে দু’টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৩১ গড়ে ২৪৮ রান আছে সাবেক ব্যাটার গেইলের।
এ তালিকায় তৃতীয়স্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। পাঁচ ম্যাচের পাঁচ ইনিংসে একবার অপরাজিত থেকে দু’টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৬০.২৫ গড়ে ২৪১ রান করেছেন ক্লার্ক।
ওয়ার্নার পার্কে পাঁচ ওয়ানডে ইনিংসে মাহমুদুল্লাহর স্কোর- ৫১*, ২৭, ৬৭*, ৫০* (চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচ) ও ৬২।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে ১৪ ওয়ানডেতে চারটি অর্ধশতকে সর্বমোট ৪২৩ রান করেছেন ৩৮ বছর বয়সী মাহমুদুল্লাহ।
সূত্র : বাসস
ভারতের উচিত চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো : টবি ক্যাডম্যান
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক টবি ক্যাডম্যান আশা প্রকাশ করেছেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। গণতান্ত্রিক দেশের দাবিদার হিসেবে ভারতের উচিত হবে, আইন মেনে চুক্তি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া।
আজ বুধবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক শেষে তিনি একথা বলেন।
টবি ক্যাডম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধিত অধ্যাদেশ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে। তবে কিছু বিষয়ে আরো সংশোধন প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি। জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য বিচার প্রক্রিয়ায় ট্রাইব্যুনালকে পূর্ণ সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন টবি ক্যাডম্যান।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার বিচারের ব্যাপারে বাংলাদেশে যে আইন আছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ গঠন শেষে রিকোয়েস্টের পর যদি ফেরত না পাঠানো হয়, তাহলে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার বিবেচনা করবে। যদি প্রয়োজন হয় সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের সহযোগিতা নেয়া যায় কি না তা বাংলাদেশ সরকার ঠিক করবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মৃত্যুদণ্ড থাকলে আসামিকে ফেরত দিতে চায় না- এ বিষয়ে টবি ক্যাডম্যান বলেন, বাংলাদেশের বাস্তবতাটা আলাদা, এ বিষয়টা ওইসব দেশকে বুঝতে হবে। আদালত ঠিক করবেন মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে কি হবে না।
এর আগে সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চিফ প্রসিকিউটর ও তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন টবি ক্যাডম্যান।
লন্ডনভিত্তিক গার্নিকা থার্টি সেভেন ল ফার্মের যুগ্ম প্রধান ব্রিটিশ আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানকে সম্প্রতি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বিশেষ পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
চিন্ময় দাসের আগাম জামিন শুনানির আবেদন নাকচ
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন শুনানির অনুমতি চেয়ে করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আবেদন খারিজ করে দেন।
জানা যায়, রবীন্দ্র ঘোষ নামে এক আইনজীবী ঢাকা থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের পক্ষে আসার খবরে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে বুধবার সকাল থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়। আদালত প্রাঙ্গণ ও আশেপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা ওই আইনজীবী চিন্ময়ের মামলার নথি উপস্থাপন, জামিন শুনানির ধার্য তারিখ এগিয়ে আনা এবং আসামি কিংবা ফাইলিং আইনজীবীর সম্মতি ছাড়াই আবেদনগুলো শুনানির জন্য আদালতের অনুমতি চেয়ে মোট তিনটি আবেদন করেন। যেহেতু ওই আইনজীবীর ওকালতনামা ছিল না, তাই আদালত ‘নট মেইনটেইনেবল’ বলে ওই আইনজীবীর তিন আবেদনই খারিজ করে দেন।’
তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে এলেও সংশ্লিষ্ট আদালতে কোনো আবেদন করার জন্য প্রথমত যার পক্ষে আবেদন করবেন তার সম্মতি, ফাইলিং আইনজীবীর সম্মতি কিংবা সংশ্লিষ্ট বারের একজন আইনজীবীর ওকালতনামা দিতে হয়। কিন্তু ঢাকা থেকে আসা ওই আইনজীবী এর কোনোটিই করেননি।’
গত ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রামে ফেরার পথে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রক্ষ্মচারীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম। পর দিন তাকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিন তাকে কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তার পক্ষে আদালতে জামিন আবেদন করা হলেও আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করেন।
পরে গত ৩ ডিসেম্বর ফের জামিন শুনানির দিন ধার্য থাকলেও ওই দিন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। যে কারণে আদালত জামিন শুনানি পিছিয়ে আগামী ২ জানুয়ারি দিন ধার্য করেন।
ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসেছে সরকার : আসিফ মাহমুদ
ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে অন্তর্বর্তী সরকার সরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া।
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) কুমিল্লা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বার্ড) লালমাই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি দলের কর্মশালায় সমাপনী অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, জাতীয় স্বার্থ কমপ্রোমাইজ করে আমরা কোন পররাষ্ট্র সম্পর্ককে বিশ্বাস করি না। অন্তর্বর্তী সরকার ভারতের সাথে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে সরে এসেছে। জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে পরবর্তী সম্পর্কগুলো চলমান থাকবে।
তিনি বলেন, সরকারি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাজ পরিচালনা করা অনেক কষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যে কারণে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি নির্বাচনের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যায় কি না স্থানীয় সংস্কার কমিশন ও নির্বাচন কমিশনের কাজ শেষ হলে সে উদ্যোগ নেয়া হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব ও বার্ড-এর মহাপরিচালক সাইফ উদ্দিন আহমেদ। অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য রাখেন আর্ডো’র গবেষণা বিভাগের প্রধান ড. খুশনুদ আলী।
শ্রীলঙ্কা, মিশর, ভারত, ঘানা, জাম্বিয়া, নামিবিয়া, গাম্ভিয়া, পাকিস্তান, ওমান, মালয়শিয়া, কেনিয়া এবং বাংলাদেশসহ ১২টি দেশের ২০ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন।
বিএনপির লং মার্চ : আগরতলা সীমান্তে সতকর্তা বাড়িয়েছে ভারত
বিএনপির আগরতলা অভিমুখে লং মার্চের প্রেক্ষাপটে ভারতের দিকে সীমান্তে সতকর্তা বাড়ানো হয়েছে।
আগরতলায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত চেক পোস্টে বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট কিরণ কুমার কে।
তিনি বলেছেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরেই আমরা বাড়তি পুলিশ বসিয়েছি এখানে। ২৪ ঘণ্টা সতর্কতা রয়েছে। বিএসএফের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি আমরা। সীমান্তবর্তী অঞ্চল ও সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে টহল দেয়া চলছে। সীমান্তেও প্রহরা বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।’
সীমান্ত চেকপোস্টে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সীমান্তের কাছে বিএসএফ যেমন বাড়তি বাহিনী মোতায়েন করেছে, তার সাথেই কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী এবং ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস-এর সদস্যরাও রয়েছেন।
সীমান্ত অবশ্য বন্ধ করা হয়নি। কয়েকজনকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আসতেও দেখা গেছে।
সূত্র : বিবিসি
এশিয়া কাপ বিজয়ী দলকে ক্রীড়া উপদেষ্টার ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা
দুবাইয়ে কাল ভারতকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ জিতেছে বাংলাদেশ। যুবাদের এই সাফল্যে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
সোমবার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়েছে।
এর আগে গতকাল এক শুভেচ্ছা বার্তায় ক্রীড়া উপদেষ্টা বাংলাদেশ দলের সাফল্যে তাদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ সময় তিনি অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতে আরো সুনাম বয়ে আনবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এবারের আসরের ফাইনালে বাংলাদেশ ৫৯ রানে হারিয়েছে আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে।
গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ১৯৫ রানে হারিয়ে প্রথমবারের মতো যুব এশিয়া কাপ জিতেছিল বাংলাদেশ।
সূত্র : বাসস
ভোটার তালিকা প্রণয়নে ‘আপগ্রেড’ চায় বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সঠিক ভোটার তালিকা প্রণয়নে ‘বাড়ি বাড়ি যাওয়া নয়, আপগ্রেড’ চায় বিএনপি। আজ সন্ধ্যায় দলের নির্বাচন সংস্কারবিষয়ক কমিটির আহ্বায়ক ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সত্যিকার অর্থে যদি আমরা সঠিক ভোটার তালিকা করতে চাই, তাহলে বাড়ি বাড়ি যাওয়া নয়, আমরা কম্পিউটার দিয়ে তা করতে চাই। কম্পিউটারকে বলে দিলে সে নিজেই করে দিতে পারে, সেটা এ্যাবসুলেটলি একুয়রেট হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ি বাড়ি যাওয়া অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ এবং অপ্রয়োজনীয়। এটাতে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। যিনি মারা গেছেন, তার নামটা অটোমেটিক্যালি বাদ যাবে। সেজন্য এই বিষয়ে (ভোটার তালিকা) আমরা সংস্কার প্রস্তাবে স্পষ্ট করেছি যে এটা আপগ্রেড হতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল মঈন খান বিগত সরকারের আমলে আরপিও-এর সংশোধনে যে সম্পূরক আদেশ এনেছিল তা বাতিল, নির্বাচনী পরিচালনায় কিছু বিধিমালা সংশোধন, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের জন্য আচরণ বিধিমালা ও রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের নীতিমালা সংশোধন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা আপগ্রেড করা, নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বৃদ্ধি, গণমাধ্যমের নির্বাচনী আচরণ বিধিমালাসহ ১০ দফা সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরেন। এই সংস্কার প্রস্তাবসমূহ তারা সরকারের গঠিত নির্বাচন সংস্কার কমিশনের কাছে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড তৈরির জন্য যাতে সত্যিকারভাবে মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে পারে এবং জনগণের সত্যিকার প্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে, সেজন্য আমাদের এই সংস্কার প্রস্তাব।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনের মাধ্যমে নির্বাচনকে কুক্ষিগত করতে বিগত সরকার অনেক কিছু করেছে।’
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।
স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যেসব প্রস্তাব করেছি, সে অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন সম্ভব। এখানে এমন কোনো প্রস্তাব করা হয়নি, যাতে নতুন কিছু করতে হবে। আমরা নির্বাচন কমিশন শক্তিশালী করার কথা বলেছি। নির্বাচনের সচিবালয় করা এবং তাদের কিছু ক্ষমতা দেয়া ইত্যাদির কথাও বলেছি। আমরা প্রচলিত আইনগুলোর সংশোধন ও সংস্কারের কথা বলেছি। এগুলোর জন্য অধিক সময়ের প্রয়োজন হয় না।’
তিনি আরো বলেন, ‘একটা নির্বাচনের বেসিক কাজ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। ওই ভোটার তালিকা প্রণয়নে বাড়ি বাড়ি যাওয়া, আমরা বুঝিনি এটা কোন ধরনের এক্সসারসাইজ হবে। ব্যাপারটা হচ্ছে, তালিকা ঘোষণার সময় এটাও ঘোষণা করা হয় যে কারো নাম যুক্ত না হলে তারা স্থানীয় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে নাম অন্তর্ভুক্ত করবেন। কারো ব্যাপারে অভিযোগ থাকে যে তিনি বেঁচে নেই, এরকম কারো নাম তালিকায় থাকলে তা কার্যালয়ে গিয়ে জানালেই তো ভোটার তালিকা হয়ে গেল। এরপর নির্বাচনী প্রস্তুতি, সিডিউল ঘোষণা করা, রুল অনুযায়ী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করবে। এসব কিছু করতে এতো বেশি সময় লাগার কথা না। আমরা যেসব প্রস্তাব দিয়েছি, সেগুলো মেনে নির্বাচন অনুষ্ঠানে খুব বেশি বিলম্ব হওয়ার প্রয়োজন হয় না।’
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘যাদের নেতৃত্বে অপকর্ম হয়েছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তারা বিতাড়িত হয়েছে। যাদের মাধ্যমে অপকর্ম হয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছি। যেন তারা আগামীতে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় না থাকে, সেই প্রস্তাবও রেখেছি। কাজেই আমরা বিশ্বাস করি, অন্তবর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় থাকছে তার নির্বাচনী কোনো স্ট্যাক নেই, নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবে, তাদের মধ্যে যারা এই ধরনের অপকর্মের সাথে আগে যুক্ত ছিল বা থাকতে পারে, তাদের ব্যাপারে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে এমন লোকদেরকে নিযুক্ত করা যারা এই ধরনের অপকর্মে যুক্ত হবেন না।’
স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দলের পক্ষ থেকে সুচিন্তিতভাবে আমরা যেসব সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি, এক্সপার্ট কমিটির সাথে বসেছি, অনেকের সাথে কথা বলেছি। আমরা যেসব সংস্কারের কথা বলেছি সেগুলো অধিকাংশই আইনি সংস্কারের বিষয়, কাগজের বিষয়। প্রাকটিক্যালি যে কাজগুলোর জন্য নির্বাচন কমিশন সময় নেয় যেমন ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নতুন ভোটার সংযোজন, কী কী ভুল-ভ্রান্তি আছে, ভুয়া ভোটার স্ক্রটনি করা তারপরে নির্বাচন কাজ অফিসার নিয়োগ, ডিলিমিটেশন ইত্যাদি এসব কাজ গোছাতে প্রাকটিক্যালি দুই থেকে তিন মাসের বেশি সময় লাগার কথা না।’
তিনি আরো বলেন, ‘সরকারের আরো সংস্কার, প্রশাসনিক সংস্কার, জুডিশিয়াল সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার আছে, এগুলো সব সম্পন্ন করে নির্বাচন উপহার দিতে আমাদের মনে হয় না খুব বেশি হলে তিন থেকে চার মাসের বেশি সময় লাগবে। সব রিকমন্ডেশন ফাইনাল হওয়ার পরে আপনারা ধারণা পাবেন, প্রাকটিক্যালি আমাদের কয়দিন সময় লাগবে একটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন অনুষ্ঠানের জন্য।’
এক প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কেয়ার টেকার সরকার ইনপ্রেইস আছে বা হবে। এটাই ছিল সবচাইতে বড় বাধা একটা ফ্রি ফেয়ার ইলেকশন না হওয়ার।’
তিনি আরো বলেন, ‘ডিলিমিটেশন, অপকর্মে জড়িতদের নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বাদ রাখা এসব হচ্ছে উপসর্গ। আসল রোগ হচ্ছে, কেয়ার টেকার সরকার না থাকাটা। কেয়ারটেকার সরকার পুনর্বহাল হলে এসব উপসর্গ আর থাকবে না। কেয়ারকেটাকার সরকার হলে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে বাধ্য।’


