Home Blog Page 536

ভারতের মন্দিরে পশুর চর্বি দিয়ে প্রসাদ?

বিশ্বের সবথেকে সম্পদশালী হিন্দু তীর্থগুলোর অন্যতম তিরুপতি মন্দিরের লাড্ডু প্রসাদে পশুর চর্বি পাওয়ার পরে তা নিয়ে ভারত জুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।এতদিন মন্দিরের প্রসাদ তৈরির জন্য যে ঘি ব্যবহার করা হয়, তাতে পশুর চর্বি পাওয়ার বিষয়টি অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর অভিযোগ আকারেই এসেছিল।কিন্তু এখন বিবিসি নিশ্চিত হতে পেরেছে যে পরীক্ষাগারের রিপোর্টেও লেখা আছে ব্যবহৃত ঘিয়ের মধ্যে পশুর চর্বি মেশানো হয়েছিল।

তিরুপতি মন্দির পরিচালনা করে যে তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম, সেই টিটিডির নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামলা রাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শ্যামলা রাও অবশ্য এর আগে বলেছিলেন যে শুধুমাত্র বনস্পতি ঘিতে ভেজাল মেশানো হয়। তবে এখন তিনিও জানিয়েছেন যে লাড্ডু তৈরির জন্য ব্যবহৃত ঘিয়ে পশুর চর্বিও রয়েছে।

তিরুপতিসহ ভারতের বহু মন্দিরের প্রসাদ সম্পূর্ণভাবে নিরামিষ হয়ে থাকে। আবার দক্ষিণ ভারতীয় ভক্তদের একটা বড় অংশ নিরামিষাশী। তাই তাদের আরাধ্য দেবতার যে প্রসাদ তারা খাচ্ছেন, তাতে পশুর চর্বির উপস্থিতির খবর খুবই বিচলিত করেছে বলে জানা যাচ্ছে।

টিটিডি-র নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘দায়িত্ব নেয়ার পর আমি যখন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করি, তখন তিনি আমাকে প্রসাদের গুণাগুণ সম্পর্কে বলেছিলেন। সেজন্যই আমি এই বিষয়ে মনোযোগ দিই। সেই সময়ে পাঁচটি সংস্থা ঘি সরবরাহ করছিল, কিন্তু যখন আমি গুণগত মানের ব্যাপারে সতর্ক করি, তখন একটি বাদে বাকি সংস্থাগুলো মান উন্নত করে। অন্য সংস্থাটিকে আমরা কালো তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করি।’

কী আছে রিপোর্টে?
টিটিডি গুজরাটের ন্যাশনাল ডেয়ারি ডেভেলপমেন্ট বোর্ড বা এনডিডিবি-র ‘কাফ ল্যাব’ বা সেন্টার ফর অ্যানালিসিস অ্যান্ড লার্নিং ইন লাইভস্টক অ্যান্ড ফুডের কাছে ওই ঘিয়ের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছিল।

গত ১৭ জুলাই নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ২৩ জুলাই পরীক্ষা শেষ হয়। রিপোর্টে লেখা হয়েছে ‘ঘিয়ের ‘এস ভ্যালু’ কখনো কখনো বেশি বা কম হয়, আর এরকম হলেই বোঝা যায় যে ঘিয়ের সাথে চর্বি মেশানো হয়েছে। রিপোর্টে এটাও বলা হয়েছে যে বনস্পতি তেল এবং প্রাণিজ চর্বি- দুই-ই মেশানো হয়েছে ঘিয়ের সাথে। প্রথম ধাপের পরীক্ষায় পাওয়া গেছে সয়াবিন, সূর্যমুখী, রেপসিড, তুলোর বীজ ইত্যাদির সাথে মাছের তেল ব্যবহার করা হয়েছে ভেজাল হিসেবে।

দ্বিতীয় মাপকাঠিতে দেখা গেছে যে ঘিয়ের মধ্যে নারকেল ও তালের বীজের চর্বি মেশানো হয়েছে। তৃতীয় পর্যায়ে পাম তেল ও গরুর চর্বি আর চতুর্থ পর্যায়ে ভেজাল হিসেবে শূকরের চর্বি পাওয়া গেছে।

এনডিডিবির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যে নমুনা পেয়েছি তা গোপনীয়। যারা এই নমুনা পাঠিয়েছে, তাদের তথ্য, এমনকি শহরের নামও নেই। আমরা শুধু নমুনা পেয়েছি। তবে তদন্তের ফলাফল নিয়ে আমরা কিছু বলব না। নমুনাগুলো কোথা থেকে এসেছে তা কেউ জানে না।’

কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পরীক্ষাগারের রিপোর্টটি দেখেছেন এমন দুজন বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলেছে বিবিসি, যারা দুগ্ধ ও খাদ্য নিরাপত্তার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তাদেরই একজন বলেন, ‘ঘিতে ভেজাল দেয়া হয়েছে, সেটা স্পষ্ট কিন্তু শুধু এই রিপোর্টের ভিত্তিতে ভেজাল হিসেবে ভেজিটেবল অয়েল মেশানো হয়েছিল নাকি পশুর চর্বি, সেটা নিশ্চিত করা যাবে না। সাধারণত ছয় লাখ লিটার গরুর দুধে ১৫ টন ঘি পাওয়া যায়। আমার জানা মতে, সরবরাহকারী সংস্থাটির কাছে এই পরিমাণ গরুর দুধ সংগ্রহের কোনো ব্যবস্থা নেই। এ ছাড়া এই ঘিয়ের দামও খুবই কম। তাই ভেজাল নিশ্চয়ই হয়েছে। তবে কোনোটা ভেজাল তা বলা যাবে না।’

আরেকজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘শুধু একটি রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা বলতে পারব না যে ভেজাল হিসেবে পশুর চর্বি মেশানো হয়েছে কি না। সাধারণত ভারতে পাম তেল ঘিয়ের সাথে মেশানো হয়। নানা কারণেই এইসব পদার্থগুলোর উপস্থিতি পাওয়া যেতে পারে ওই নমুনাতে। যেমন কোনো একটি গরুকেও যদি পাম তেল, তুলার তেল, রেপসিড তেল মেশানো খাবার খাওয়ানো হয়, তাহলে তার দুধে এসব উপাদান পাওয়া যেতে পারে। আবার যদি গরুকে বেশি পুষ্টিকর খাদ্য দেয়া হয় বা যদি কোনো গরু অপুষ্টিতে ভোগে, তাহলেও ওইসব গরুর দুধে এসব উপাদান পাওয়া যেতে পারে। দুধ থেকে কিছু বিশেষ পদ্ধতিতে কোলেস্টেরল নিষ্কাশন করা হলেও এমনটা ঘটতে পারে।’

তিরুপতি মন্দিরের জনপ্রিয় প্রসাদ লাড্ডু
শেষাচলম পাহাড়ের মাথায় অবস্থিত তিরুমালা তিরুপতি মন্দির বিশ্বের সবথেকে ধনী মন্দিরগুলোর অন্যতম। হিন্দুদের ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের এই মন্দিরটি রাজা তোন্ডমান নির্মাণ করেছিলেন।

একাদশ শতাব্দীতে রামানুজাচার্য মন্দিরটির প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেন। এই মন্দিরে সোনা দান করা নিয়ে প্রায়ই খবর বের হয়। প্রতিদিন গড়ে এক লক্ষেরও বেশি ভক্ত মন্দিরে পুজো দিয়ে অর্থ দান করে থাকেন।

মন্দিরের দানবাক্সে লাখ লাখ টাকা জমা হয়, গয়নাও দেন বহু ভক্ত। প্রাচীন বিশ্বাসমতে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বর যখন পদ্মাবতীকে বিয়ে করছিলেন, তখন তার অর্থের টান পড়ে, তাই তিনি ধনসম্পদের দেবতা কুবেরের কাছে গিয়েছিলেন তার কাছে এক কোটি টাকা এবং এক কোটি সোনার গিনি প্রার্থনা করেছিলেন। এটি বিশ্বাস করা হয় যে ভগবান ভেঙ্কটেশ্বরের সেই ঋণ এখনো রয়েছে, তাই ভক্তরা তাদের ঈশ্বরকে ওই দেনার সুদ পরিশোধে সাহায্য করার জন্য উদার হয়ে দান করে থাকেন।

তিরুপতি মন্দিরে প্রতি বছর অনুদান হিসাবে প্রায় এক টন সোনা জমা পড়ে। এই মন্দিরের লাড্ডু প্রসাদ মন্দিরের গোপন রান্নাঘরে তৈরি করা হয়। এই রান্নাঘরের নাম পোটু। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের কর্মকর্তাদের মতে, ভক্তদের মধ্যে লাড্ডু, বড়া, আপ্পাম, মনোহরম এবং জিলিপির মতো প্রসাদ বিতরণ করা হয়।

এর মধ্যে লাড্ডু প্রাচীনতম এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রসাদ। এটিকে প্রসাদ হিসাবে দেওয়ার ঐতিহ্য ৩০০ বছর ধরে চলে আসছে। প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ লাড্ডু তৈরি হয় এখানে। তিরুপতির লাড্ডু ২০০৯ সালে জিআই ট্যাগ পায়।

প্রসাদ নিয়ে রাজনীতি
একদিকে প্রসাদের গুণাগুণ নিয়ে ভক্তদের ভাবাবেগে আঘাত লেগেছে, অন্যদিকে তা নিয়ে রাজনীতিও শুরু হয়েছে।

তিরুমালা ট্রেড ইউনিয়ন নেতা সাইদ মুরলী বলেন, ‘ঘিয়ের গুণগত মান ভালো না হলে আগেও তারা তা ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা উচিত নয়। যদি দেখা যায় কোনো ভুল হয়েছে, তাহলে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।

আবার ক্ষমতাসীন তেলুগু দেশম পার্টির নেতা ও ভি রমন বলেন, ‘কর্ণাটক ছাড়া আর কোনো রাজ্যে এত গরু নেই। দূরত্বের কারণে পাঞ্জাব থেকেও ঘি আমদানি করা কঠিন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় যখন কর্ণাটক ডেয়ারি থেকে ঘি নেয়া বন্ধ করে বেসরকারি সংস্থার কাছ থেকে কম দামে ঘি কেনা শুরু হয়।’

বেসরকারি কোম্পানিগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করা ঘিয়ের মধ্যে ভেজাল হিসাবে বাটার অয়েল মেশায়।

বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর রাজনৈতিক বিরোধী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী জগনমোহন রেড্ডি শুক্রবার বলেছেন, ‘চন্দ্রবাবু নাইডুর প্রথম ১০০ দিনের শাসনকালকে সুশাসন বলা যায় না, তিনি সেখান থেকে নজর ঘোরাতে এই বিষয়টি সামনে এনেছেন। টিটিডি-র ঘি সংগ্রহের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি রয়েছে। তারা খারাপ ঘি ফিরিয়ে দেয়। টিটিডিতে তিনটি পরীক্ষার পরেই ঘি ব্যবহার করা হয়। অতীতেও চন্দ্রবাবুর আমলে ১৪-১৫টি ট্যাঙ্কার ঘি ফেরানো হয়েছে, আমরা ক্ষমতায় থাকাকালীন ১৮ ট্যাঙ্কার ঘি ফিরিয়ে দিয়েছি। এটা একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

সূত্র : বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় নিহত ৪

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা রাজ্যে বন্দুক হামলায় অন্তত চারজন নিহত ও আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

শনিবার পুলিশ কর্মকর্তা ট্রুম্যান ফিটজেরাল্ড স্থানীয় গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘একাধিক বন্দুকধারী একদল লোকের ওপর বন্দুক হামলা চালিয়েছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। বার্মিংহামের ফাইভ পয়েন্ট সাউথ ডিস্ট্রিক্টে রাত ১১টার পরপরই এ ঘটনা ঘটে।’

ফিটজেরাল্ড বলেন, অফিসাররা দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পান। ঘটনাস্থলেই তিনজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তিনি আরো বলেন, এ হামলায় আহত একজন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, এ হামলায় আরো বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ হামলার ঘটনায় পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি উল্লেখ করে ফিটজম্যান বলেন, তদন্তে সহায়তা করতে পারে এমন তথ্য সরবরাহ করার জন্য সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ও ব্যুরো অব অ্যালকোহোল, টোবাকো, ফায়ারআর্মস এন্ড এক্সপ্লোসিভসহ বেশ কয়েকটি সংস্থা এ ঘটনা তদন্ত করছে।

শনিবার রাতভর ফায়ার রেস্কিউ সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছিল।

গান ভায়োলেন্স আর্কাইভ জানিয়েছে, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে অন্তত ৪০৩টি বন্দুক হামলা হয়েছে এবং এতে অন্তত ১২ হাজার ৪১৬ জন নিহত হয়েছে।
সূত্র : বাসস

ইসরাইলের গভীরে বড় হামলা হিজবুল্লাহর

ইসরাইল-হিজবুল্লাহ পাল্টাপাল্টি হামলা তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। দুই পক্ষই বড় পরিসরে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ হিসেবে লেবাননভিত্তিক হিজবুল্লাহ ইসরাইলে শত শত রকেট ছুড়েছে। আগে যত হামলা করা হয়েছে সে তুলনায় এবার ইসরাইলের অনেকটাই ভেতরে সেসব রকেট আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। এতে ঘরবাড়ির ক্ষতি এবং আহত হওয়ার খবর জানা যাচ্ছে।

অপরদিকে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালিয়েছে এবং বলেছে যে তারা হিজবুল্লাহর হাজার হাজার রকেট লঞ্চার ধ্বংস করেছে।

ইসরাইল দেশের উত্তরাঞ্চলের সব স্কুল সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে। ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের হাসপাতালগুলো শুধুমাত্র নিরাপদ এলাকায় কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সমুদ্র সৈকতও জনসাধারণের জন্য বন্ধ থাকবে।

গত সপ্তাহে লেবাননে বড় পরিসরে পেজার এবং ওয়াকি টকি বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৭ জন নিহত ও হাজার হাজার মানুষ আহত হয়। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল তো ছিলই, রাজধানী বৈরুতের কাছেও হামলা করা হয় ইসরাইলের পক্ষ থেকে।

ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছে যে তারা হিজবুল্লাহর ১২ জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারসহ ১৬ জন হিজবুল্লাহ সদস্যকে হত্যা করেছে।

অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ইসরাইল ইচ্ছাকৃতভাবে হিজবুল্লাহকে উস্কানি দিতে এমনটা করেছে এবং গাজা যুদ্ধ থেকে এখন তারা লেবাননের দিকে নজর দিচ্ছে।

জাতিসঙ্ঘ সতর্ক করেছে যে এই অঞ্চলটি আসন্ন বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে যখন সর্বাত্মক যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ছে।

সূত্র : বিবিসি

পঙ্গুত্ব মৃত্যুর চেয়েও বিভীষিকাময়

গণহত্যা ও গণঅভ্যুত্থানের রাতগুলোতে ঘুমাতে পারিনি। এমনকি ঘুমের অষুধ খেয়েও ঘুম আসেনি। আবদুল আহাদ আটতলার বারান্দায় বাবা-মায়ের মাঝখান দাঁড়িয়ে থেকে যেভাবে গুলি খেয়ে মরলো। কিংবা রিয়া গোপ চারতলার ছাদে খেলতে খেলতে যেভাবে বাবার কোলে গুলিবিদ্ধ হয়ে দুনিয়া ছাড়লো। আমার বিশ্বাস, দেশের ওই বাস্তবতায় কোনো সুস্থ মানুষেরই ঘুম আসার কথা নয়। তারপর গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। দেশ আজ ‘মুক্ত’। রাষ্ট্রীয় গণহত্যা ও গোলাগুলি বন্ধ হয়েছে। কিন্তু আজও রাতের পর রাত ঘুম আসে না। হাসপাতালে-ক্লিনিকে যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গোনা; কল্পনায় নিয়তির বীভৎস মুখাবয়ব নিরীক্ষণ করতে থাকা আহত-পঙ্গু ছাত্র-জনতার ছবি ভেসে আসে বারবার।

গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে গণমানুষেরা। এমন বিপরীতমুখী নাগরিকেরা সেখানে জোট বাঁধে, বাস্তবে যাদের কোনোদিন পাশাপাশি হাঁটা তেমন একটা হয় না। সেখানে অপরিচিত নারী-পুরুষ একসাথে হাত ধরাধরি করে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াতে মরিয়া হয়। সেখানে শিক্ষিত-মূর্খ হাত ধরাধরি করে মিছিল করে। সেখানে আস্তিক-নাস্তিক কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এভাবেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়, অশুভ শক্তির পতন হয়। কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়। চোখ ঝলসানো বিজয়ের আলোয় দিগন্তপ্লাবী বিজয়মিছিল চলে সম্মুখপানে। ক্রমে পিছনে পড়ে যেতে থাকে অগণন শহীদেরা। মৃত্যুর চেয়ে ভয়ঙ্কর বিভীষিকাময় অন্ধকারে আবদ্ধ হয়ে পড়ে, মৃত্যুর সুযোগ হয়নি এমন আহত বিপ্লবীরা। বিজয়ের ‘আলো’ কিংবা ‘আনন্দ’ কতখানি ছুঁতে পারে তাঁদের!

৫ আগস্ট থেকে দীর্ঘ বিজয় মিছিলে আমরা যারা চলেছি উত্তেজনার উত্তুঙ্গে সওয়ার হয়ে; হয়তো আমাদের অধিকাংশেরই যায়নি কিছুই, হারায়নি কিছুই। কিন্তু যাদের গিয়েছে জীবন, নাম জানা, নাম না-জানা; শুয়ে আছে যারা অজ্ঞাতনামা হয়ে জ্ঞাত-অজ্ঞাত গণকবরে। যে কিশোর একটি হাত হারিয়েছে, যে তরুণ একটি পা হারিয়েছে, যে বালক হারিয়েছে একটি চোখ। যাদের শরীর থেকে অঝোর ধারায় ঝরে গেছে রক্ত। যে শিশু, যে যুবক শরীরে বহন করছে আমৃত্যু অমোচনীয় জখম, অপূরণীয় ক্ষত এবং ক্ষতি। যারা আজও পড়ে আছে অনিশ্চয়তায়, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তাঁদের কথা কি আমরা ভুলতে বসেছি?

আমরা ভেবেছি কি? যার দুই হাত নেই, সে কী করে আজ বহন করে নিয়ে যাবে বিজয়ের পতাকা? যে দুই পা হারিয়েছে, সে কি শামিল হতে পারবে বিজয়ের মিছিলে? দুচোখ হারিয়ে যারা আজ অন্ধ, তাঁদের কি দেখা হবে বিজয়ের সূর্য? তাঁদের কি কোনোভাবে বোঝানো যাবে, বিজয়ের আলো দেখতে কেমন হয়?

তাঁদের চোখের মধ্য দিয়ে মগজের গহীন কোষে কোনোদিন তো পৌঁছাবে না এক কণা বিজয়ের বর্ণিল আলো। যে মা-বাবা সন্তান হারালো তাঁরা কি অনুভব করতে পারবে, কেমন হয় বিজয়ের আনন্দ? যে স্ত্রী স্বামীকে হারিয়ে সন্তানদের নিয়ে আজ অকুল পাথারে, তাঁর কাছে বিজয়ের সংজ্ঞা কেমন, তা ভাবার দুঃসাহস কারোর আছে কি? ভাইয়ের জন্য কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল ফুরিয়ে ফেলেছে যে বোন; অথবা বাবার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে, বাবা ঘুম থেকে উঠবে বলে অপেক্ষায় আছে যে দুধের শিশু, আমার সাহস নেই তাঁর সামনে ‘স্বাধীনতা’ বা ‘মুক্তি’ শব্দটি উচ্চারণ করি।

অনেক পরিবারই আজ মৃতপ্রায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে গিয়ে সর্বস্ব হারিয়েছে। অভিযোগ আছে, দেশের অনেকস্থানেই সরকারি বা বেসরকারিভাবে কেউই আজপর্যন্ত চিকিৎসা-সহায়তা নিয়ে দাঁড়ায়নি আহত-পঙ্গু ছাত্রজনতার পাশে। গণমাধ্যম-সূত্রে জানা গেল, দিনাজপুরের রাজবাড়ীতে গুলিবিদ্ধ স্বামীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে সদ্যোজাত তিন দিনের সন্তানকে বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছে এক নারী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু ভিডিওতে যাদের দেখা যাচ্ছে এবং যারা পড়ে আছে অলক্ষ্যে, তাঁদের মর্মান্তিক দুরবস্থা আজ নতুন বাংলাদেশের মানুষকে ছুঁতে পারছে কি না জানি না। মাথার ভিতর, বুকের ভিতর একাধিক গুলি বরণ করে আজ কথা বলার ক্ষমতা হারানো আহত বিধ্বস্ত মানুষকে আশাহীন নির্বাক তাকিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। ছিন্নভিন্ন মগজে তাঁদের যদি ভাবনার ক্ষমতা এখনো অবশিষ্ট থেকে থাকে তাঁরা হয়তো ভাবছে, তাঁদের কেন মৃত্যু হলো না। এরকম অবস্থায় তো তাঁরা বেঁচে থাকতে চায়নি।

অন্তর্বর্তী সরকার ‘দেশ-সংস্কার’ করবে, সারাদেশ আশায় বুক বেঁধে তাঁদের দিকে তাকিয়ে আছে। যদিও দেশের মানুষ যারা যার জায়গা থেকে নিজেকে সংস্কার না করতে পারলে ‘দেশ-সংস্কার’ অসম্ভব এবং অবাস্তব ব্যাপার। কিন্তু ‘দেশ-সংস্কার’ করতে যাওয়ার আগে তাঁদের ব্যাপারে ভাবতে হবে, যারা ‘দেশ’সংস্কারের’ সুযোগ এনে দিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে — নিহত ও আহতদের পূর্নাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা খুব জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজও সেটি সম্ভবপর হয়ে ওঠেনি। তাই বলবো, শহীদদের অনন্য মহিমার কাছে মুমূর্ষু আহতদের আর্তনাদ যেন গুরুত্বহীন এবং শ্রবণাতীত হয়ে না পড়ে। শহীদদের পরিবারকে সম্মাননা জানানোর আগে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া ছিন্নভিন্ন এই মানুষগুলোর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা অধিক জরুরি। 

রাষ্ট্রকে দাঁড়াতে হবে নিহত-আহত সকল নাগরিকের পাশে। তার জন্য তাঁদের সঠিক সংখ্যা এবং বর্তমানে কে কী অবস্থায় আছে — তা নিরূপণ করা খুব জরুরি।  মৃতদের এবং আহতদের পরিবারগুলো ভয়ঙ্কর এই ক্ষত বহন করে চলার পথে আর যেন নতুন বঞ্চনার হাহাকার প্রকাশ না করে। তাদের জন্য নামমাত্র চিকিৎসার ব্যবস্থা করে বা সাময়িক এককালিন সহায়তা করে যেন দায় সারা না হয়। রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁদের জন্য যেন স্থায়ী, সম্মানজনক এবং ন্যায়ানুগ পুনর্বাসন-ব্যবস্থা করা যায়। শহীদদের যথাযোগ্য মর্যাদা দেয়ার পাশাপাশি তাঁদের পরিবারগুলোকে যেন আর্থিকভাবে স্থায়ী-পুনর্বাসনের আওতায় আনা হয়। যারা গণহত্যার স্থায়ী-জখম নিয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে বেঁচে থাকতে বাধ্য হবে, মৃত্যু পর্যন্ত রাষ্ট্র যেন তাঁদের দায়িত্ব নেয়। নানান সংস্কারের ডামাডোলে তাঁদের বিষয়টি যেন চাপা পড়ে না যায়, এড়িয়ে যাওয়া না হয়। মৃত্যুর চেয়ে বিভীষিকাময় যে পঙ্গুত্ব, তার ভয়ানক লোমহর্ষক অন্ধকারেও তাঁরা বাঁচার জন্য রাষ্ট্র কর্তৃক সরবরাহ করা একটু আলো যেন পায়।

মোস্তফা আবু রায়হান , কবি ও সংস্কৃতিকর্মী

সাধারণ জনতা দেশকে রক্ষা করুন, মহামান‍্যদের দিকে চেয়ে দেশকে ধ্বংস করবেন না!

দেশবাসী আপনাদের বিবেককে জাগ্রত করুন এবং এসব মহা অন‍্যায়ের বিরুদ্ধে এখনই চরম প্রতিবাদ করুন!!! আজ তোফাজ্জল নামে একটি সুঠাম সুন্দর দেহের অধিকারী ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে শান্ত মস্তিষ্কে পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়েছ। মায়ের আদরের সন্তান এই তোফাজ্জল। মাকে নাকি সে খুব ভালোবাসতো। মায়ের আদরের সাত রাজার ধনকে কুলাঙ্গাররা মেরে ফেলেছে। সব মা বাবাকে বলছি এর প্রতিবাদ করুন আর এসব কুলাঙ্গারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব‍্যবস্হা নিন! এই তোফাজ্জলকে সন্ত্রাসীরা ভাত খেতে দেয় প্রথমে। সে খুবই ক্ষুধার্ত ছিল। তখন সে ভাবছিল হয়তো তাঁকে কয়টা চড় তাপ্পর দিয়ে ছেড়ে দিবে। কিন্তু তা হয়নি। অনেক পশুরা মিলে মারতে মারতে হত‍্যা করেছে। কি নির্মমতা বুঝতে পারছেন??? ভাবলেই আঁতকে উঠে মন!!! দেশের সাধারণ মানুষ আর  আপনারা কত নীরব থাকবেন??? ওরা উৎসব মন্ডলকে প্রশাসনের নিকট থেকে ছিনিয়ে গলায় পা দিয়ে উল্লাস করে শ্বাসরুদ্ধ করে হত‍্য করেছে! আজ এই তোফাজ্জল কে সবাই মিলে মারতে মারতে হত‍্যা করেছে!!! আর আপনারাসহ দেশের সুশীল গভর্নমেন্ট চেয়ে চেয়ে দেখছে! উনাদেরকে বলেন টাকা লগ্নি করে মানুষের নিকট থেকে ৩০-৩৫% সুদ নিয়ে মানুষের জীবনকে অশান্তিময় করে তুলে “শান্তিতে নোবেল” পাওয়া আর সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা এক জিনিষ নয়!!! সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করতে হলে আগে সুন্দর মানুষ হতে হয়! সুন্দরকে, মানবিকতাকে মননে ধারণ করতে হয়! প্রশাসনিক কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়! নিরপেক্ষ প্রশাসনিক মনশ্চক্ষুর অধিকারী হতে হয়! দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে হয়! সর্বোপরি দেশের সব মানুষের প্রতি অন্তরে দরদ মমতা থাকতে হয়। এটি একদিনে হয় না। মানুষকে মানুষ হিসাবে সম্মান করা ও ভালোবাসার উপলব্দিতে সাজানো পরিমন্ডলে বেড়ে উঠতে হয়। সহজ কথায় মানবিক সুন্দর ও মানুষের প্রতি সম্মান ও ভালোবাসা বোধ জাগ্রত হবার মত সুন্দর সামাজিকায়ন প্রক্রিয়ায় বেড়ে উঠতে হয়!

শুধু বড় ডিগ্রী ও বড় বড় পুরস্কার পেলেই সবকিছু হয় না। বড় বড় ডিগ্রীধারীদের অনেকের অনাচারে বার বার অতিষ্ঠ ও কষ্ট পেয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। তাই জগত বিখ‍্যাত পন্ডিত প্লেটোর জীবনের অভিজ্ঞালব্দ জ্ঞানেই প্রকাশ পেয়েছে সেই বিখ‍্যাত উক্তি “মানুষ যেমন হবে রাষ্ট্রও তেমনিই হবে। মানুষের চরিত্র দ্বারাই রাষ্ট্র গড়ে হয়।” সুতরাং বাংলাদেশের আজকের রাষ্ট্রও কি তার প্রতিফলন নয়? দেশের সব সম্পদের ভান্ডার হচ্ছে সাধারণ মানুষ। তাঁদের শ্রমে গড়া এই দেশ তাঁরা কখনোই ধ্বংস হতে দিবে না!!! শুধু বুঝার জন‍্য যেটুকু সময় প্রয়োজন! তার জন‍্য অপেক্ষামাত্র! দেশের খাবারের যোগান দেয় তাঁদের রক্ত জলে পরিনত করার বিনিময়ে কৃষক। শ্রমের যোগান দেয় শ্রমিক। শিক্ষা প্রদান করেন শিক্ষক। চিকিৎসা দেন চিকিৎসক। সেবা প্রদান করেন নার্স। পোষাক শিল্প যাদের হাতে নান্দনিক হয়ে উঠে তাঁরা হলেন বাংলার নারী শক্তি। সংগীত শিল্পকলার সাধনায় দেশকে সুন্দরের ভূষণে অলংকৃত করেন শিল্পী সমাজ। আর আগামীর অমিত সম্ভাবনাকে ধারণ করে নতুন স্বপ্ন নিয়ে যারা জীবনের পথে অগ্রগমন করছে তারা হল যুব সমাজ। সুতরাং এই বাংলাদেশ হল এই মানুষ গুলোর। যারা সত‍্যি সুন্দর! যারা দেশকে ভালোবাসেন এবং দেশের অগ্রগতি ও সৃজনশীল উন্নয়নের স্বপ্ন মনে লালন করেন!

এখন সময় এসেছে আপনাদের সবার একত্রিত হবার। আপনাদেরকে দেশ রক্ষায় এখন রাস্তায় নামতে হবে। যারা দেশে ক্রমাগত বিশৃঙ্খলা, নৈরাজ্য এবং সুস্হ মাথায় সম্মিলিতভাবে উল্লাস প্রদর্শনের মাধ‍্যমে উৎসব ও তোফাজ্জলদের মত সুন্দর ছেলেদের হত‍্যা করছে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান! আপনাদের দেশ আপনাদের রক্ষা করতে হবে! যারা আপনাদের স্বার্থে দেশ পরিচালনা করবে তারা ক্ষমতায় থাকবে। যারা আপনাদের স্বার্থ, দেশের শিষ্টাচার, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন পরিপন্হি কাজ করবে তাদেরকে এই মহান আসনে বসে সুযোগ সুবিধার অযোগ‍্য ব‍্যবহারের দরকার নেই!!! অযোগ‍্য লোকেদের দিয়ে কোনকালেও শুভ সুন্দর কিছু হয়নি! আপনাদের দেশ রক্ষার জন‍্য সম্মিলিতভাবে প্রতিটি গ্রাম, শহর, পাড়া, মহল্লা থেকে এগিয়ে আসুন। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, সংস্কার, সংস্কৃতি চরম অবস্হার নিপতিতি হবার পূর্বে সব অশুভ শক্তিকে ঝেটিয়ে বিদায় করে সঠিক মানুষের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া আজ আপনাদের নৈতিক ও একান্ত কর্তব‍্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর চুপ থেকে দেশকে একটি ধ্বংসস্তুপে পরিনত করবেন না! ঈশ্বর আপনাদের ও দেশের মঙ্গল করুক!
শৈলেন কুমার দাশ

মাজার ভাঙার ‘নীতিগত প্রতিবাদ’ করেছে জামায়াত

ঠিকানা রিপোর্ট : সম্প্রতি আক্রমণের শিকার হওয়া নির্দিষ্ট কোনো মাজার, নির্দিষ্ট কোনো দরবারের বিষয়ে না বললেও সামগ্রিকভাবে এসব ভাঙার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ‘নীতিগত প্রতিবাদ’ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে ইউটিউব চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারিত টকশো ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে নিজ দলের অবস্থান স্পষ্ট করেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই আলোচনা অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ঠিকানা টিভির প্রধান সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খালেদ মুহিউদ্দীন।
নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় এবং বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় সরাসরি সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের আমির বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাজার ভেঙে ফেলছে দুর্বৃত্তরা। ‘তৌহিদি জনতার’ কথা বলে আক্রমণ করা হচ্ছে বিভিন্ন পীরের দরবার। এসব কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না তাদের দল। তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিষ্কার, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো বাড়াবাড়ি চলবে না। কোনো মানুষের ওপর কারও আদর্শ চাপিয়ে দেওয়ার অবকাশ নেই। জোর করে কোনো কিছু প্রয়োগ করা আমরা পছন্দ করি না। আইন হাতে তুলে নেওয়াকে আমরা সমর্থন করি না।’
বাংলাদেশে ইসলামের আদর্শ সামনে রেখে শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, আরও কিছু রাজনৈতিক দল সক্রিয়। তাদের কারও কারও সঙ্গে জামায়াতের বিরোধও আছে, সে ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ কোন দলটিকে প্রকৃত ইসলামভিত্তিক দল হিসেবে গ্রহণ করবে- খালেদ মুহিউদ্দীনের এমন প্রশ্নে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘একটি পরিবারে একাধিক সদস্য থাকেন। তাদের সবার মত এক হয় না। তার পরও পরিবার চলে। পরিবার ভেঙে যায় না। মতের ভিন্নতা থাকবে, এটাও সৌন্দর্য। ভিন্নতা যখন থাকে, তখন বৈচিত্র্য চিন্তা করার সুযোগ থাকে।’ তিনি দাবি করেন, এমন ভিন্নতা সকল ধর্মেই থাকে। তবে যারা সত্যিকারের ইসলামের অনুসারী, তারা এক কোরআন মানেন, এক আল্লাহ মানেন, এক রাসুল মানেন- এই তিন জায়গায় কোনো দ্বিমত নেই। বাকি জায়গায় একটু এদিক-সেদিক হতেই পারে, বলেন জামায়াত প্রধান। গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করেন। সেদিন দুপুরেই সরকার পতনের এক দফা দাবিতে মাঠে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান। তাতে অংশ নিয়েছিলেন জামায়াতের আমির। অথচ তখনো হাসিনা সরকারের নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল তারা।
সেনাপ্রধান কখন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন- এ প্রসঙ্গে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্ট দুপুরে ফোন আসে সেনাবাহিনী থেকে। এর আগে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না। এমনকি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে সেদিনই প্রথম সরাসরি দেখা হয়, দাবি করেন জামায়াত প্রধান। একটি ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের নেতাকে সেনানিবাসে যেতে বলা হচ্ছে, বিষয়টি তো ফাঁদও হতে পারত, এমন শঙ্কা ছিল কি না- জানতে চাইলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘এটা মনে হতেই পারে। কিন্তু আমি মনে করিনি। সরকার হঠাৎ করে পয়লা আগস্ট আমাদের যখন নিষিদ্ধ করে, আমরা সেটা গ্রহণ করিনি, সঙ্গে সঙ্গে বর্জন করি। সবাই আমাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের সকলে নিন্দা করেছে। কারণ এটা ছিল ইস্যু ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার কৌশল। এটা কেউ গ্রহণ করেনি। কাজেই সেনাপ্রধানের দাওয়াত আমরা অস্বাভাবিক মনে করিনি।’
রাজনীতির পথে চলতে কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলন, আবার কখনো বিএনপির সঙ্গে জোট করে সরকার পরিচালনায় অংশগ্রহণ- এ ক্ষেত্রে জামায়াতের অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি সম্পর্কে দলটির আমির বলেন, ‘যখন দেশে কোনো ধরনের ফ্যাসিজম এসেছে, যখন অন্যায় করেছে সরকার, তখন আমরা তার প্রতিবাদ করেছি। একই সুরে যারা প্রতিবাদ করেছে, সংগত কারণেই তাদের সঙ্গে আমাদের বিষয়টি মিলে গেছে। আমরা চারদলীয় জোট করেছিলাম, যেটা পরে ২০ দলীয জোটে রূপান্তরিত হয়েছিল। তবে এখন আমরা কোনো জোটে নেই।’
‘জোটে আমরা গিয়েছি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে, আদর্শিক কোনো ঐক্য ছিল না।’ যোগ করেন তিনি। এই হিসেবে আদশর্গত না হলেও আবার কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের রাজনৈতিকভাবে জোটবদ্ধ হওয়ার কোনো সম্ভাবনা রয়ে যায় কি না, এ বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাথে হবে কি না, এটা বলা কঠিন। কারণ যে আওয়ামী লীগ তার নিজের দেশের মানুষকে, জনগণের কেনা অস্ত্র দিয়েই গুলি চালাতে পারে, গণহত্যা করতে পারে, তাদের নিজেদের রাজনীতি করাই তো চিন্তাভাবনার বিষয়।’

ছাত্র -জনতার পক্ষের লোকদের দিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে হবে : জেএসএফ-বাংলাদেশ ও জাগপা যুক্তরাষ্ট্র

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- জাগপার আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি এ এস এম রহমত উল্লাহ ভূঁইয়া ও জাগপা যুক্তরাষ্ট্র শাখার সাধারণ সম্পাদক নোমান সিদ্দিকী এবং জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম- বাংলাদেশ ( জেএসএফ )র পক্ষে হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন আন্তর্জাতিক মিডিয়া সেল থেকে প্রেরিত যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন,সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজ নাম ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়েছে।সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল। এই কমিশনের প্রধান হিসেবে তার পরিবর্তে আলী রীয়াজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা ও নিন্দা জানাচ্ছি। জনতার সাথে যারা বিপ্লবে সরাসরি জড়িত ছিল এবং যারা পতিত স্বৈরাচারের নির্যাতনে নির্যাতিত হয়েছেন , তাদের মধ্য থেকে নিয়োগ দেয়া হলে ৫ আগস্টের ছাত্র জনতার বিপ্লবের সত্যিকারের স্বাধীনতা আসবে। নতুবা আবারো সেই ৭১ এর পরবতী সময়ের মতো সুবিধাবাদীদের পদানত হবে দেশ , জাতি ও সংবিধান।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজকে নিয়োগ দেয়ায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি- (জাগপা) যুক্তরাষ্ট্র শাখা ও জাতীয় সমুন্নত ফোরাম বাংলাদেশ ( জেএসএফ )।খবর বাপসনিউজ ।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে , কোন বিতর্কিত ব্যক্তিকে দিয়ে লাখ লাখ মানুষের রক্তে ভেজা একটি দেশের সংবিধান সংস্কার হতে পারে না। ছাত্র জনতার বিপ্লবের ফসল কি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে ? বিতর্কিত লোকদের দিয়ে কিসের সংস্কার ? কাপড় পাল্টালে মানুষ বদল হয় না। বাংলাদেশে কি আর কেউ নেই ?আসুন এসবের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই। সম্পূর্ণ দল নিরপেক্ষ এবং বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ বিশ্বাসী জ্ঞানী ব্যক্তিদের দিয়ে সংবিধান সংস্কার করতে হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে যাঁকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে , তিনি কোন সংবিধান বিশেষজ্ঞ নন। আলী রীয়াজ জাসদ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের নেতা।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে , ছাত্র জনতার বিপ্লবের সময় তার লেখা থেকে স্পষ্ট বুঝা যায় তিনি সেই সময় লেখার মারপ্যাচে পতিত স্বৈরাচারের পক্ষেই ছিলেন। কারণ তিনি দৃঢ়তার সাথে কখনো ছাত্রজনতার আন্দোলনকে সমর্থন দেন নাই।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে , পতিত স্বৈরাচার ও তাদের দোসররা এখনো সক্রিয় এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন নাম দিয়ে নিয়োগের আগে বিতর্কিতদের এখনই বাদ দিতে হবে। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান আলী রীয়াজের নাম ঘোষণার পর আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে ধরি মাছ না ছুঁই পানি এই লেভেলের লোকগুলো দেশ পুনর্গঠনে নিয়োগ দেয়া বিস্ময়কর।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় , শেখ হাসিনার আমলে ভারত বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করেছিল। এখন তাদের আধিপত্য ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ নিয়ে ভারত যে কোন সময় ‘দাঙ্গা’ লাগিয়ে দিতে পারে। তাই সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ছাত্র জনতা ও অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিবৃতিতে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনে সম্পূর্ণ একাত্বতা ঘোষণা করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে , আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যাক্তিত্ব ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দেশ পুনর্গঠনে হাত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র তার পাশে রয়েছে। এই সুযোগে এলিট শ্রেণি (সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, এনজিও ব্যাক্তিত্ব) কিছু ব্যাক্তি ড. ইউনূসের ওপর ভর করে দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের দায়িত্ব নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন। তারা কী দিল্লির নীল নকশা অনুযায়ী বাংলাদেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে সংস্কার করবেন?

বিবৃতিতে জনতার উদ্দেশে বলা হয়েছে , নতুন লেবাসে পুরোনো কমিউনিস্ট, আওয়ামী লীগ ও জাসদ নেতাদের দিয়ে ৫ আগস্টের বিল্পব ডাকাতি করা হচ্ছে । এই বহুল বিতর্কিত লোকটি কিসের সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান। আমরা মানি না , পুরোনো মাল নতুন লেবেলে। জাতিকে সজাগ হতে হবে।আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই। যেখানে শএুর চোখের সামনে বারুদের মত জ্বলে উঠবে।স্বাধীন বাংলাদেশ।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় ,সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো সংস্কারের উদ্যোগ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। কিন্তু বাংলাদেশপন্থী বিশেষজ্ঞ মেধাবীদের দায়িত্ব দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু আলী রীয়াজের চেতনায় আওয়ামী লীগ ও পক্ষপাতে ভারতপ্রীতি রয়েছে। কমিশন জাতিকে উপহার দিতে পারবেন? নাকি দুর্নীতি দমন কমিশনে সংস্কারের নামে কৌশলে দিল্লির নীল নকশার কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের সুযোগ সৃষ্টি করবেন? এ শঙ্কা দেশের ছাত্র জনতার মধ্যে রয়ে গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে বিতর্ক চলছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় , আগে যেমন বলা হতো ৬ জন বিশিষ্ট ব্যাক্তিকে সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে বিশিষ্টজন হতে তিনটি গুন থাকা অপরিহার্য। প্রথমত বিশিষ্টজন হতে হলে তাকে ভারতপন্থী হতে হবে, দ্বিতীয়ত ইসলাম বিদ্বেষী হতে হবে এবং তৃতীয়ত ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি ইংরেজি ও একটি বাংলা দৈনিক পত্রিকার চেতনা ধারণ করতে হবে। বর্তমান সরকার যাদের নিয়োগ দিচ্ছে তাদের বেশির ভাগই এই শ্রেণির বিশিষ্টজন হিসেবে চিহ্নিত।’ এই মাফিয়াচক্র দেশকে সম্পূর্ণ ভঙ্গুর করে দিয়েছিল। দেশকে আমদানিনির্ভর ও পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। মাফিয়াচক্র দেশের ব্যাংকগুলো পর্যন্ত দেউলিয়া করে দিয়েছে।

জাতীয় সম্মিলিত ফোরাম-বাংলাদেশ ( জেএসএফ ) ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) প্রেরিত বিবৃতিতে বলা হয় , শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনালে শেখ হাসিনার সঙ্গে বিরোধ নাটক করলেও সব সময় দিল্লির তল্পীবাহকের ভুমিকা পালন করেছে, এখনো পরিবর্তন হয়নি। ‘বিএনপি ঠেকাও’ ধোঁয়া তুলে ১৬ বছরে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনাকে মনস্টার বানিয়েছে। ৮ আগস্ট ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর ভারতের চেতনাধারী ওই গণমাধ্যম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নিয়ে এক সেমিনারের আয়োজন করে নিজেদের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয় , শেখ হাসিনার নানামুখি ষড়যন্ত্র, ভারতের চানক্যনীতি এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে বশীকরণের চেষ্টার মধ্যেই ড. ইউনূস দেশ পুনর্গঠনের কাজে হাত দিয়েছেন। নিরহংকার নির্লোভ ড. ইউনূস একের পর এক উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।দেশ জাতির এই মুহূর্তে বিতর্কিত ব্যক্তিদের নিয়ে কোন সংস্কার হবে না উল্টো পতিত স্বৈরাচারকে সাংবিধানিক ভাবে প্রতিস্তাপন করা হবে। সেটা হলে বিপুলসংখ্যক ছাত্র জনতার রক্তের সাথে জাতীয়ভাবে বেইমানি করা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিচারককে গুলি করে হত্যা করল এক পুলিশ সদস্য

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকিতে এক বিচারককে কয়েক রাউন্ড গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কেন্টাকির লেচার কান্ট্রি কোর্টহাউসে এই গুলির ঘটনা ঘটে। অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিচারককে হত্যার ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তার নাম শন স্টাইনস (৪৩)। পুলিশ জানিয়েছে, একটি ছোট গ্রামীণ শহর কেনটাকির হোয়াইটসবার্গের আদালতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে বিচারক কেভিন মুলিনসকে (৫৪) একাধিকবার গুলি করা হয়। মুলিনস ঘটনাস্থলেই মারা যান।

পুলিশ আরো জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার আদালতের অভ্যন্তরে তর্কে জড়ানোর পরে গুলি চালানো হয়েছিল, তবে কী কারণে তর্ক শুরু হয়েছিল তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।

স্থানীয় সংবাদপত্র দ্য মাউন্টেন ইগলের মতে, পুলিশ স্টাইনস বিচারকের অফিসে গিয়েছিলেন এবং আদালতের কর্মচারীদের বলেছিলেন, মুলিনসের সঙ্গে তিনি একা কথা বলবেন। পেছনের দরজা বন্ধ করে বিচারকের চেম্বারে প্রবেশ করেন তারা। এরপরেই রুমের ভেতর থেকে বন্দুকের গুলির শব্দ শোনা যায়। ঘটনার পর স্টাইনস হাত তুলে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল কোলম্যান এক্স-এর একটি পোস্টে বলেছেন, ‘ঘটনা পুরোপুরি তদন্ত করা হবে এবং বিচার করা হবে।’ কেনটাকি রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র ম্যাট গেহার্ট একটি সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘এই ঘটনায় পুরো শহর হতবাক।’

নিউইয়র্কে প্রবাসীদের টানাহ্যাঁচড়ায় ড. ইউনূসের সংবর্ধনা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বতিল করা হয়েছে।

আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিব্র সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে সরকারিভাবেই তাঁকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল যৌথভাবে উক্ত অনুষ্ঠান আয়োজন চূড়ান্ত করেছিল। তাঁর এ সংবর্ধনাকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বিভিন্ন দল ও সংগঠন টানাহ্যাঁচড়া শুরু করলে বিরুপ প্রতিক্রয়া দেখা দেওয়ার ফলে নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল করা হয়। নাগরিক সংবর্ধনা বাতিলের কথা স্বীকার করলেও সঠিক কী কারণে তাঁর এ সংবর্ধনা বাতিল করা হয়েছে তা জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও বাংলাদেশ দূতাবাস কিছুই জানাননি।

আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাঁর নাগরিক সংবর্ধনা নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন মহলের টানাহ্যাঁচড়া শুরু হয়। প্রায় প্রতিদিনই চলছিল পাল্টাপাল্টি সভা ও সংবাদ সম্মেলন। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সংগঠন প্রধান উপদেষ্টার নাগরিক সংবর্ধনা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করলেও কাউকে দেওয়া হয়নি কোন অনুমতি। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সরকারিভাবেই তাঁকে নাগরিক দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ দূতাবাস। ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ম্যানহাটনের টাইমস স্কয়ার সংলগ্ন ম্যারিয়ট মারক্যুইস হোটেলের বলরুমে সরকারিভাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়। হোটেল বুকিংয়ের জন্য মোটা অংকের অগ্রিম অর্থও প্রদান করা হয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষকে। এরই মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি বিভিন্ন সংগঠনের মাঝে শুরু হয় নানা তোরজোড়। বিএনপিপন্থী ভুঁইফোঁড় নাগরিক সমাজ, জামাত-বিএনপি আর আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে পরিচালিত বাংলাদেশ সোসাইটিসহ বিভিন্ন মহল ধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে। বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় যূক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগ,আওয়ামী পরিবার,সকল সগযোগী অংগ সংগঠনসহ আরোও অনেক সংগঠন ।বিভিন্ন দল ও সংগঠন টানাহ্যাঁচড়া শুরু করলে দেশ ও প্রবাসে বিরুপ প্রতিক্রয়া দেখা দেওয়ার ফলে নাগরিক সংবর্ধনা বাতিল করা হয়।

অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাগরিক সংবর্ধনা বতিল হওয়ায় হোটেল বুকিংয়ের জন্য মোটা অংকের অর্থ গচ্ছা দিতে হচ্ছে সরকারকে। প্রায় দুই সপ্তাহ আগে হোটেল বুকিংয়ের জন্য অগ্রিম অর্থ প্রদান করা হয় হোটেল কর্তৃপক্ষকে। তবে সমুদয় অর্থ ফেরত পবার কোন নিশ্চয়তা নেই। তবে কিছুটা হলেও ফেরত পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা।

বিসিএ শেফ অব দ্যা ইয়ার প্রতিযোগিতায় ৭৫ জন উদিয়মান শেফ এর অংশগ্রহন অনুষ্ঠিত

শহিদুল ইসলাম, বিশেষ প্রতিবেদকঃ ব্রিটেনে বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রির বৃহত্তম সংগঠন বাংলাদেশ ক্যাটার্রাস এসোসিয়েশন (বিসিএ) বর্ণাঢ্য আয়োজনে ১৭তম বিসিএ এ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠান আগামী ২৮ অক্টোবর সোমবার লন্ডনের বিখ্যাত ওটু ইন্টারকন্টিনাল (02 Intercontinental)-এ অনুষ্ঠিত হবে।

বর্ণাঢ্য এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বৃটেনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা ও বিশিষ্টজনেরা। এ্যাওয়ার্ডস কে সামনে রেখে ১৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার লন্ডনের হ্যার্মাস স্মিথ এন্ড ফুলহ্যাম কলেজে শতাধিক প্রতিযোগির মধ্য থেকে যাচাই-বাচাই করে ৭৫ জন উদিয়মান শেফ এর অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
ফাইনালে এদের মধ্যে সেরা ১০ জন শেফ বিসিএ এ্যাওয়ার্ড পাবেন।

67284fef 9232 46af b16e 6a7abd4fa650

প্রতিযোগিতার এবারের শিরোনাম-‘best bar naan’। বলা হচ্ছে, এটি কারি শিল্পের এমন একটি প্রতিযোগিতা যেখানে একজন শেফ কারী মসলা ও সাদা ক্রীমের সংমিশ্রণে ক্রিয়েটিভ চিন্তার সমন্বয়ে নতুন কারি ডিশ উদ্ভাবন করবেন। যা হতে পারে ‘the UK’s King or Queen of Spice’

দুপুর ১২টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত সরাসরি এই প্রতিযোগিতায় ব্রিটেনের বিভিন্ন শহর থেকে রেষ্টুরেন্ট ও টেকওয়ের প্রতিযোগিরা অংশগ্রহণ করেন।

e75a65c5 bb43 4cb1 9fa0 60bea644ecd9

প্রসঙ্গত বিসিএ বিশেষ করে মহিলা ও তরুণ শেফদের জন্য একটি উত্তরাধিকারী, যোগ্যস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই প্রথমবারের মতো চালু করেছে-ইউকে দ্যা বেস্ট ইয়াং কারি শেফ এওয়ার্ড। এই প্রতিযোগিতায় রেকর্ড সংখ্যক তরুণ উদিয়মান শেফ অংশ নিয়েছেন।

লাইভ শেফ কুক অব বিসিএ-ব্রিটেনে বাংলাদেশী কারী ইন্ডাস্ট্রির একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রতিযোগিতা। বৃটেনের অভিজ্ঞ শেফ এবং ক্যাটারার্সদের সমন্বয়ে গঠিত বিচারকবৃন্দ এই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা দশ জন শেফ বাচাই করেন। যেখানে শেফদের উদ্ভাবিত নানা পদের মৌলিক ডিস ও এর সৃজনশীল উপস্থাপনা সর্বোপরি কারি শিল্পের সাথে জড়িত রেষ্টুরেন্ট কর্মীদের অনুপ্রাণীত করতে বিসিএ এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে।

বিসিএ ‘শেফ অফ দ্যা ইয়ার’ এর বিচারক প্যানেলে ছিলেন এগ্রোসুপারের হেড অব ইউরোপ ভেনোরিকা মুর্তি ও হেড অব সেইলস ডেইভ ফ্যিটউড, পজিটিভ এনার্জির হেড অব মার্কেটিং জোশ এডওয়ার্ড, ফেডারেশন অব ফিশ এন্ড চিপস এর প্রেসিডেন্ট এনড্রিউ র্কক।

এই প্রতিযোগিতা থেকে সেরা দশজন বিজয়ীর নাম বিসিএ’র ১৭তম এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে বিখ্যাত ওটু ইন্টারকন্টিনাল এ সেলিব্রেটি ও বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা ও এওয়ার্ড প্রদান করা হবে। এবারের বিসিএ এওয়ার্ডস এর শ্লোগাণ হচ্ছে-“Uniting Heritage with Fresh Perspective”।

a4dd3979 3d9c 428a 8171 206e810ea6e3

বিসিএ ⁠এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম ও শেফ অব দ্যা ইয়ার এর হেড শামসুল আলম খান শাহিন বাংলাদেশী ক্যুজিন এর শেফদের বৈচিত্রময় মৌলিক রন্ধনশৈলীর প্রতিযোগিতাটি পরিচালনা করেন।

বিসিএ সভাপতি ওলি খান এমবিই বলেন, কারি শিপ্লের উন্নতি এবং সমৃদ্ধির জন্য আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের শেফদের প্রতিভা ও শিল্পসত্তায় বিনিয়োগ করতে হবে। এই এ্যাওয়ার্ড গুলোতে মূলত প্রতিশ্রুতিশীল মেধাবী তরুণ শেফদের খুজে বের করে তাদের কর্মের স্বীকৃতি তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রি দিন দিন বিস্তৃত ও শক্তিশালী হচ্ছে । বাংলাদেশী কারির স্বাদ ও গুণগত মান অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে উন্নত ও বৈচিত্রময়।

লাইভ শেফ কুক অফ বিসিএ-প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দক্ষ শেফ তৈরী এবং তাদের উদ্ভাবিত ডিসগুলো মূলধারায় তুলে ধরার পাশাপাশি ব্রিটেনের রেস্টুরেন্টগুলোতে ‘স্কিল্ড স্টাফ‘ তৈরীতেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বিসিএ সেক্রেটারী জেনারেল মিটু চৌধুরী বলেন, আমাদের কারি শিল্প বৃটেনের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বিসিএ নিরবিচ্ছিন্নভাবে আমাদের রেস্টুরেন্টুগুলোর মান উন্নয়নে কাজ করছে। কারি ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য মর্যাদাকর ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ সেরা শেফ বাচাই প্রতিযোগিতাটি বৃটেনের সেলিব্রেটি শেফ ও অভিজ্ঞদের সরাসরি তত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হয়।

আমাদের বিশ্বাস এই উদ্যোগ থেকে বাংলাদেশী কারী শিল্পে যুক্ত হবে বহু মাত্রিক নানা পদ, স্বাদ ও মানের নতুন ডিশ। একই সাথে আমরা পাবো মেধাবি প্রতিশ্রুতিশীল নতুন প্রজন্মের শেফ।

fefd2c3a 0061 4329 8ca1 5f8de8a699f2 edited

সংগঠনের চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান বলেন, বিসিএ প্রায় বিশ বছর থেকে বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাস্ট্রির শেফদের তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান করে আসছে। বাংলাদেশী কারী ব্রান্ডিং ও সর্বপরি কারী ইন্ড্রাস্ট্রির উজ্জ্বল অবস্থানে তাদের মেধা ও শ্রম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নতুন নতুন শেফদের প্রতিভা খুজে বের করা সহ তাদের সম্মানীত করতে পেরে আমরা আনন্দিত।

বিসিএ ⁠এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম বলেন, ব্রিটেনের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিভাবান তরুণ শেফদের অনুপ্রাণীত ও তাদের কাজগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে এই আয়োজন। লাইভ শেফ কুক অফ বিসিএ প্রতিযোগিতায় ৭৫জন শেফ অংশ নিয়েছেন। প্রতিযোগিদের মৌলিক ডিশ, স্বাদ ও সৃজনশৈলী আমাদেরকে আশাবাদি করছে।বিশেষ করে মাছ, শাক-সবজি ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যবাহি সুগন্ধি ফলের ফিউশন কারী ডিশগুলো মূলধারায় বাংলাদেশী কারী শিল্পের ব্রান্ডিং তৈরীতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

বিসিএ‘র মেম্বারশীপ সেক্রেটারী ইয়ামিম দিদার ও শেফ অব দ্যা ইয়ার এর হেড শামসুল আলম খান শাহিন এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিসিএ প্রেসিডেন্ট ওলি খান এমবিই, সেক্রেটারী জেনারেল মিটু চৌধুরী, চিফ ট্রেজারার টিপু রহমান, সাবেক প্রেসিডেন্ট কামাল ইয়াকুব, ভাইস প্রেসিডেন্ট ফায়জুল হক, অর্গানাইজিং সেক্রেটারী ফরহাদ হোসেন টিপু, এ্যাওয়ার্ড কমিটির কনভেনার আতিক রহমান বিইএম, প্রেস এন্ড পাবলিকেশন সেক্রেটারী নাজ ইসলাম প্রমুখ।