Home Blog Page 537

নিউইয়র্কে বীর মুক্তিযোদ্ধা মুকতাদিরের ২৭তম স্মৃতি বার্ষিকী পালন

বীর মুক্তিযোদ্ধা ম আ মুকতাদির সৃতি কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্দোগে গত বৃহস্পতিবার ,১৯ সেপ্টেম্বর  ২০২৪,নিউইয়র্ক এর জালালাবাদ ভবনে সন্ধ্যা সাতটায় বীর মুক্তিযোদ্ধা  ম, আ মুকতাদিরের ২৭তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে  এক আলোচনা সভা বীর মুক্তিযোদ্ধা  সুব্রত বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। খবর বাপসনিউজ ।
সভা পরিচালনা করেন  সংগঠনের সদস্য সচিব  এম  আব্দুর রহিম। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন  সংগঠনের ট্রাষ্টি  শাহাব উদ্দীন । একে অতিথি বক্তা ছিলেন মুলধারার রাজনীতিক লিগেলকনসালটেন্ড  এডভোকেট মুজিবুর রহমান ,বাপসনিউজ এডিটর ও মুলধারার রাজনীতিক সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ,:জালালাবাদ এসোসিয়েন অব আমেরিকার সভাপতি  রিয়েলেটর মইনুল ইসলাম .সংগঠক জাকির হোসেন বাচ্ছু ,ইয়ামীন রশীদ ,,আবুল কালাম আযাদ ,মোফাখর আহমদ  এবং আব্দুন নূর  শেখ  প্রমুখ।
সভায় নেতৃবৃন্দ বলেন ,ম আ মুকতাদিরের মতো দেশপ্রেমিক ছাত্র জনতা জীবন বাজিরেখে ১৯৭১ এ মহান যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছেন। কিন্তু  দু:খজনক হলেও সত্য যে আজও বাংলাদেশে স্বাধীনতার চেতনা ভূলুণ্ঠিত।
বার বার রক্ত দিয়ে ক্ষমতার পালাবদল হয় । কিন্তু গরীব মানুষের ভাগ্যর  পরিবর্তন  অথবা  গনতান্ত্রিক সমাজ কোন টাই প্রতিষ্ঠা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নামে আখের ঘোচানো হয়েছে। তাই আজ স্বাধীনতে বিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধের সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলার জন্য পাচই আগষ্টের গন অভ্যুত্থানের পর সুপরিকল্পিত ভাবে দেশের মুক্তিযুদ্ধের  সমস্ত স্থাপনার উপর ভাংচুর ও ধংস  যজ্ঞ চালায়। এবং আমাদের জাতীয় সংগীত পরিবর্তন করার মতো ধৃষ্টতা দেখায়। তাই আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকেছে। শত্রু মিত্র চিহ্নিত করে আপোষহীন সংগ্রামের বিকল্প নেই। বীর মুক্তিযুদ্ধা মুক্তাদিরের আদর্শের সৈনিকেরা সেই সংগ্রামের অগ্রনী ভূমিকা পালন করবেন। সৃতি কল্যাণ ট্রাষ্টের উদ্দোগে দেশে বন্যার্ত দের মাঝে ত্রান বিতরণ ,চক্ষুশিবির ,গরীব মেধাবীদের বৃত্তি সহ ম আ মুকতাদিরের জীবন ভিত্তিক স্মারক গ্রন্থের প্রকাশনার যে মহতী উদ্যোগে নেওয়া হয়েছে তার জন্য উদ্দোক্তাদের ধন্যবাদ জানান । সভা শেষে সবাইকে নৈশ ভোজে আপ্যায়ন করা হয় ।

গণহত্যায় উসকানিদাতা কবি ও সাংবাদিকদেরও বিচার হবে, উপদেষ্টা নাহিদ

তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণায়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম গণহত্যায় উসকানিদাতাদের বিচারের আওতায় আনার ওপর গুরুতারোপ করেছেন। তিনি বলেন, কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কিংবা গণহত্যায় উসকানি দিয়েছেন; তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম ফ্যাসিবাদের সঙ্গে জড়িত বলতে বুঝিয়েছেন, বিভিন্ন লেখনি ও মতামতের মাধ্যমে জনমত তৈরি করে গণহত্যার পক্ষে পরোক্ষভাবে কাজ করেছেন এবং গণহত্যার জন্য উসকানি দিয়েছেন; তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনা হবে। কেবল সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও কবি পরিচয়ে কেউ রেহাই পাবেন না।
সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা সম্পর্কিত অপর এক প্রশ্নের জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, মামলাগুলো সরকার করছে না; জনগণ তাদের জায়গা থেকে করছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শত্রুতার জায়গা থেকেও মামলা করা হচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আমরা নির্দেশনা দিয়েছি এবং আশ্বস্ত করেছি যে, এই মামলাগুলো দ্রæত সময়ের মধ্যে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত করে কারো বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত না হলে তাকে মামলা থেকে রেহাই দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি জানান, মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও সচিবালয় সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেছি। আমি তাদের বলেছি, যদি কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয় বা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় থাকে; তাহলে তার ব্যাপারে তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিস্তারিত পাঠাবেন। আমরা তার বিষয়টি দেখব।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দেওয়া সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে দ্রæত সময়ের মধ্যে ঠিক হয়ে যায়; জননিরাপত্তা যাতে নিশ্চিত হয়; আমরা যেহেতু একটি জরুরি পরিস্থিতিতে আছি; দেশ পুনর্গঠন করতে হচ্ছে; সেহেতেু সেনাবাহিনীকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই মাসের জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এই সময়ের মধ্যে পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ সংস্কার করে আরও শক্তিশালী ও আস্থার জায়গায় নিয়ে এসে তাদের মাঠে ফিরিয়ে আনা হবে। এ কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের ‘গুজব শনাক্তকরণ সেল’ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলছি। কীভাবে ফ্যাক্টচেকিং বিষয়টি আরও শক্তিশালী করা যায়; সেটা নিয়ে ভাবছি।
একটি ফ্যাক্টচেকিং সেল করার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাতে এ ধরনের গুজবের সত্যতা যাচাই করে মানুষের কাছে সত্য তুলে ধরা যায়; মানুষ যাতে গুজব ও মিথ্যায় প্রভাবিত না হয়; সে জন্য আমরা ফ্যাক্টচেকিং নিয়ে ভাবছি।
এর আগে নাহিদ ইসলাম ‘বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ড’ এবং জুড়ি বোর্ডের নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের কাজ শুরু, উপদেষ্টার সাথে সাক্ষাৎ

বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতা গণ-অভ্যুত্থানে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, নৃশংসতা ও হত্যার ঘটনাগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসঙ্ঘের একটি তথ্যানুসন্ধান মিশন গতকাল পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে কাজ শুরু করেছে।
এই মিশন প্রায় এক মাস বাংলাদেশে অবস্থান করে নিহতদের পরিবার, আহত, প্রত্যক্ষদর্শী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করবে। মিশনটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রমাণ সংগ্রহ, সহিংসতার মূল কারণের ওপর বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সংস্কারসহ বাংলাদেশ সরকারের জন্য পরবর্তী পদক্ষেপের সুপারিশ করবে।
জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছে। গত জুলাই ও আগস্টের নৃশংসতার ঘটনাগুলো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তে সহায়তা দেয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের হাইকমিশনার ভালকার তুর্ককে অনুরোধ করেছিলেন। তথ্যানুসন্ধান মিশন ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের ঘটনাপ্রবাহ তদন্ত করবে।
জাতিসঙ্ঘের তথ্যানুসন্ধান মিশনের সাথে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তারা কাজ শুরু করছে। তাদের কোনো সহায়তার দরকার হলে আমরা দেবো। আমরা চাই তারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করুক। তাদের কাজে কোনো হস্তক্ষেপ করব না। উপদেষ্টা বলেন, তথ্যানুসন্ধান মিশন কোনো প্রচার চায় না। এটা হলে তাদের কাজে বিঘœ সৃষ্টি হবে।
এ দিকে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কার্যালয় চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভের কারণে উদ্ভূত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করছে। তথ্যানুসন্ধান মিশন সত্য উদঘাটন, দায়-দায়িত্ব চিহ্নিতকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ বিশ্লেষণ এবং এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তিরোধে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করবে। আলোচ্য সময়ে বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও ক্ষমতার অপব্যবহার সম্পর্কিত প্রাথমিক তথ্য দেয়া জন্য সব ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও সংস্থাকে মিশন আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। মিশন সেসব তথ্যের জন্য অনুরোধ করছে, যা বর্তমানে সামাাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যাবে না এবং প্রকাশিত বা প্রচারিত হয়নি। ঙঐঈঐজ-ঋঋঞই-ংঁনসরংংরড়হং@ঁহ.ড়ৎম-এই ই-মেইলে তথ্য জমা দিতে হবে।
বিবৃতিতের বলা হয়, তথ্যানুসন্ধান মিশনের কাজ কোনো অপরাধ অনুসন্ধান বা আইনি তদন্ত নয়। এটি যেকোনো জাতীয় ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত হবে। মিশন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। ঘটনাস্থলে পরিচালিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উপাত্ত বিশ্লেষণের পর জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কার্যালয় তথ্যানুসন্ধান মিশনের ফলাফল, উপসংহার ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করবে। তবে তথ্যানুসন্ধান প্রক্রিয়াটি কঠোরভাবে গোপনীয়। তদন্ত চলাকালে মিশনের সদস্যরা কোনো গণমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেবে না।
হাসিনার ভারতে অবস্থানের অফিসিয়াল স্ট্যাস্টাস জানা নেই : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের অফিসিয়াল স্ট্যাটাস আমাদের জানা নেই। আমি অফিসিয়ালি তাদের কিছু বলিনি। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। দেশ ছাড়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়। এর ৪৫ দিন পরও তিনি কোন স্ট্যাটাসে ভারতে অবস্থান করছেন জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, সব কিছু শুধু আইন দিয়ে চলে না। ভারত সরকার তাকে আশ্রয় দিয়েছে। তিনি সেখানে থাকছেন। এটি আমাদের সেভাবেই দেখতে হবে।
অপর এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের আসন্ন অধিবেশনের সাইডলাইনে প্রধান উপদেষ্টার সাথে কাদের বৈঠক হবে, সেটা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

মোদি-হাসিনা জুটি বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে,এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন থেকে শিক্ষাকে বিচ্ছিন্নভাবে বিশ্লেষণ করা যায় না। এমনকি ভারতের মতো একটি শক্তিশালী প্রতিবেশীর সমর্থনও বাংলাদেশের অজনপ্রিয় সরকারকে টিকিয়ে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। পাকিস্তানের অনলাইন মিডিয়া এক্সপ্রেস ট্রিবিউনে করাচির সামাজিক বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ডিন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মুনিস আহমার বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন যে অন্তত মোটাদাগে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন থেকে উদ্ভূত তিনটি পাঠের কথা চিন্তা করা যায়।
শেখ হাসিনার পতন থেকে কী শিক্ষা নেয়া দরকার এবং বাংলাদেশের এই পরিবর্তন এই অঞ্চলে কিভাবে প্রভাব ফেলবে? বেসামরিক স্বৈরশাসক এবং তাদের অনুসারীরা কি শিখবে কিভাবে জনগণের শক্তি একজন স্বৈরাচারীকে চলে যেতে বাধ্য করতে পারে? এ তিনটি প্রশ্নের উত্তরে নিহিত রয়েছে বাংলাদেশের সা¤প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের মূল উৎসগুলো। প্রথমত, ছাত্র ও অন্যান্য সরকার বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য এবং সেইসাথে তাদের পরিকল্পনা যা অসাধ্য সাধনে সাহায্য করেছে। নিছক বিবৃতি ও বাগাড়ম্বর দ্বারা অত্যাচারী সরকারকে অপসারণ করা যায় না। চাকরির কোটা পদ্ধতির বিরুদ্ধে আন্দোলন ঠেকাতে আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ব্যর্থ হলে হাসিনা সরকারের অপরাজেয়তার মিথ পরিষ্কার হয়ে যায়।
এটি দেখায় যে রাজনৈতিক সমর্থন বা শক্তিশালী লুকানো শক্তির ধাক্কা ছাড়াও, একটি আন্দোলন একটি শাসনকে উচ্ছেদ করতে পারে যদি একটি কারণের জন্য লড়াইকারীরা একক মনোভাবাপন্ন হয় এবং এটি নিজেরাই করে। দুর্ভাগ্যবশত ১৯৬৮-৬৯ এবং ১৯৭৭ সালে পাকিস্তানে জনগণের আন্দোলন সামরিক শাসন জারি করে। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে, পূর্বের দুর্বল গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য রয়েছে। মাত্র বছর দুয়েক আগে মনে হয়েছিল, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, নির্বাচনী কারচুপি এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগের কারণে বাংলাদেশের কোনো শক্তিই উঠতে পারবে না। কিন্তু শিগগিরই শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে লাভা বিস্ফোরিত হয় তার দৃশ্যমান অজেয়তা সত্তে¡ও। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে, তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল যে তারা আপস করবে না এবং তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাবে। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে, চাকরির কোটা মাত্র ৭% কমানোর নির্দেশ দেয়ার পরেও, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সরে যেতে অস্বীকার করেছিল এবং বরং হাসিনার পদত্যাগ দাবি করেছিল। ৪ আগস্ট, যখন হাজার হাজার বিক্ষোভকারী বাইরে থেকে ঢাকায় প্রবেশ করে এবং প্রধানমন্ত্রীর ভবনের দিকে মিছিল করে, তখন এটি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভাগ্যকে সিলমোহর দেয়।
দ্বিতীয়ত, আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নেতৃত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তানে যারা বিরোধী দলে থাকার দাবি করে তাদের বেশির ভাগই মূল্য ট্যাগ বহন করে, বাংলাদেশ প্রমাণ করেছে যে এটি ভিন্ন। গুরুতর অর্থনৈতিক সঙ্কট, ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব, ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং নির্বাচনী কারচুপির কারণে পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য উপযুক্ত হলেও- যুবক বা ছাত্রদের মধ্যে কেউই সেখানে নেই। একটি আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু করুন। ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সহনশীলতার মাত্রা বাংলাদেশে একটি ব্রেকিং পয়েন্টে পৌঁছেছে, যার ফলে দ্বিতীয় বিপ্লবের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে যা শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী ও দুর্নীতিগ্রস্ত শাসনব্যবস্থার প্রতীকগুলোকে ভেঙে দিয়েছে। উল্লেখ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা মাফিয়ারা তাকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছে।
অবশেষে, একটি আন্দোলন বা আন্দোলন সফল করার জন্য একটি অনুঘটক এজেন্ট আছে. বাংলাদেশে, ছাত্ররা একটি অনুঘটক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল- এমনকি তারা কোনো রাজনৈতিক দলের সমর্থন ছাড়াই কাজ করে- কারণ তাদের নেতৃত্ব যেকোনোভাবে তাদের লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়চেতা এবং সুস্পষ্ট ছিল। এর অর্থ হলো একটি অনুঘটকের অনুপস্থিতি এমন একটি শাসনের জন্যও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে না যা অজনপ্রিয়, অবৈধ, দুর্নীতিগ্রস্ত এবং অযোগ্য। শেখ হাসিনার শাসনামলের সব দোষ ছিল কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর টিকে ছিল কারণ তখন কোনো অনুঘটক শক্তি ছিল না। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচনের পর যখন তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসেন, তখন মনে হয় তিনি আরো পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকবেন। মোদি-হাসিনা জুটি বাংলাদেশে শাসন পরিবর্তন ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে তাও একটি শিক্ষা বহন করে- এমনকি একটি শক্তিশালী প্রতিবেশীর সমর্থনও অজনপ্রিয় সরকারের জন্য কাজ করে না।
বাংলাদেশে ছাত্রদের আন্দোলন এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করে যার পরিণতি স্বৈরশাসনের অবসান- যা এক বছর আগেও কল্পনা করা যেত না। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা শালীনতা, সহনশীলতা, রাজনৈতিক বহুত্ববাদ এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতির সমস্ত সীমা অতিক্রম করে বাংলাদেশকে শাসন করেছেন। যে শেখ হাসিনাকে অপরাজেয়, অহঙ্কারী ও অটুট দেখাচ্ছিল, সেই শেখ হাসিনাকে তার সমর্থকদের অস্বস্তিতে ফেলে তাড়াহুড়ো করে ভারতে পালিয়ে যেতে হয়েছে।
প্রহসনের নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী আওয়ামী লীগ সরকার বছরের পর বছর ধরে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। কিন্তু বিদ্রোহকারী কোটি কোটি মানুষের তীব্র আন্দোলনে ভেসে গেছে। হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে ভালো করছে তা একটি মিথ হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে কারণ দেশটি বিপুল ঋণে জর্জরিত এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্ব এবং মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভুগছে। ভারতের স্যাটেলাইট স্টেট হিসেবে চিহ্নিত, বাংলাদেশ তার সার্বভৌমত্বের সাথে আপস করেছিল, যা বাংলাদেশীদের বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠদের মধ্যে ক্ষোভকে আরো বাড়িয়ে তুলেছিল।
প্রাক্তন পূর্বপাকিস্তান যেটি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ হয়েছিল তার একটি সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ছিল বাক-স্বাধীনতার অধিকার দ্বারা উদ্ভাসিত, শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনামলে তা খর্ব করা হয়েছিল। হাসিনা যখন আন্দোলনরত ছাত্রদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের রাজত্ব জারি করে সীমা অতিক্রম করে, তখন মৃত্যুর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কারফিউ আরোপ, সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের দমন করার ক্ষমতা দেয়ার মতো পদক্ষেপগুলো প্রমাণ করে যে হাসিনা পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন এবং শিগগিরই একটি লজ্জাজনক পতনের শিকার হতে চলেছেন। বাংলাদেশের সংসদে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোট হয়নি কারণ তিনি সেখানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভোগ করেছিলেন এবং এটি তাকে অপসারণের জন্য কেবল দু’টি বিকল্প রেখেছিল। তাকে জোর করে প্রধানমন্ত্রী হাউজ থেকে বের করে দেয়া বা সামরিক আইন জারি করা। ছাত্রদের আন্দোলনের সময় সামরিক বাহিনী দায়িত্ব নিতে রাজি ছিল না।

ডনাল্ড লু’র ঢাকা সফর নিয়ে যা জানালো স্টেট ডিপার্টমেন্ট

বাংলাদেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার বিষয়ে কথা বলতে ঢাকায় এসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডনাল্ড লু। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার। বাংলাদেশে ডনাল্ড লু’র সফর সম্পর্কে এক সাংবাদিক তার কাছে জানতে চান, আমি বিশ্বাস করি সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী লু বাংলাদেশে আছেন। তার বৈঠক সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? আরও বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং বাংলাদেশ যেদিকে যাচ্ছে- তা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মূল্যায়ন করে। এ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘোষণা আছে তারা বাংলাদেশে সাহায্য করবে, সে বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য কি? জবাবে মিলার বলেন, হ্যাঁ ডনাল্ড লু ঢাকায় আছেন। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন এবং উন্নয়নের প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে তাদেরকে সহযোগিতা করতে পারে, এ বিষয়ে লু অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। তিনি সেখানে একজন মার্কিন সহায়তাকারী প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত আছেন। বাংলাদেশের জনগণের জন্য উজ্জ্বল এবং সমৃদ্ধশালী ভবিষ্যৎ গড়তে এবং সেখানে সুশাসন ও বাণিজ্য প্রসারিত করতে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মিশন শেষ করে হাসিনা ঠিকই পালালেন ,ডাঃ ওয়াজেদ খান

শেখ হাসিনা পিতার দেখানো পথেই হাঁটলেন। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত মূহূর্তে পালালেন দেশ ছেড়ে। সাথে নিয়ে গেলেন বোন রেহানাকে। ভয়ংকর অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে গেলেন নিজ দলের নেতাকর্মী ও অনুগত প্রশাসনকে। পালানোর বিষয়টি তিনি আগে জানান দেননি কাউকে। হাসিনার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে বোন রেহানাকে নিয়ে যে মিশনে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন, সেই মিশন শেষে বোনকে নিয়ে পালালেন তিনি। দীর্ঘ ৪৩ বছরে শেখ পরিবারের হত্যাকারীদের বিচারসহ হাসিনা চরিতার্থ করেছেন তার সকল বিকৃত জিঘাংসা। স্বৈরতান্ত্রিক কায়দায় শাসন করেছেন বাংলাদেশ। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুণ্ঠন করে বংশের সব সদস্যকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিভিন্ন দেশে। শেখ হাসিনা যে ভারত থেকে বোনকে নিয়ে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন, বোনকে নিয়ে সেই ভারতেই পালালেন তিনি। তার পলায়নের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে অবসান ঘটলো শেখ পরিবারের নেতৃত্বের। পদত্যাগ করার শেষ মূহূর্তেও দম্ভ, অহমিকা ও ঔদ্ধত্য স্পষ্ট ছিলো তার আচরণে। “বঙ্গবন্ধু কন্যা কখনো পালায় না” এমন উক্তি তিনি করেছেন বহুবার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পালিয়েছেন সবকিছু পেছনে ফেলে। এই পালানোর মধ্য দিয়ে হাসিনা তার প্রয়াত পিতার দেখানো পথেই হেঁটেছেন। শাসন কাজেও অনুসরণ করেছেন পিতাকে।
একাত্তরের ২৫ মার্চের কালো রাতে শেখ মুজিব সাড়ে সাত কোটি মানুষকে পাকবাহিনীর বন্দুকের নলের মুখে দাঁড় করিয়ে চলে যান পশ্চিম পাকিস্তানে। পঁচিশে মার্চের কালো রাতে পাকবাহিনী জঘন্যতম গণহত্যায় নামছে এমন আগাম বার্তা ছিলো শেখ মুজিবের কাছে। এজন্য দলের কিংকর্তব্যবিমুঢ় নেতারা ছুটে যান তার বাসায়, দিক নির্দেশনা চান নেতার নিকট। এমনকি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দিন আহমেদ টেপ রেকর্ডার নিয়ে ৩২ নম্বরের বাসায় যান স্বাধীনতার ঘোষণা রেকর্ড করতে। কথিত আছে যুদ্ধের ময়দানে আত্মসমর্পণকারী সেনাপতির চেয়ে লড়াকু সৈনিকের মূল্য অনেক বেশি।” কিন্তু ইতিহাস থেকে সব সৈনিকের নাম মুছে ফেলেন শেখ মুজিব। এমনকি বাদ যায়নি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানী। তারপরের ঘটনা সবারই জানা। মুক্তিযুদ্ধের ৮ মাস ২১দিনে লাখো মানুষের প্রাণহানি, মা-বোনের ইজ্জত ও ধ্বংসলীলার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা পায় বাংলাদেশের মানুষ। শেখ মুজিবের নামে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে সত্য। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন না তিনি। মুজিব যুদ্ধের বিভৎসতা ও গণহত্যা দেখেননি, শোনেননি সন্তানহারা মায়ের আহাজারি । মুক্তিযুদ্ধে তিনি বা তার দলের চেয়ে বড় অবদান ছিলো দেশের আপামর জনতার। সাধারণ মানুষই নির্ভীক সৈনিক হিসেবে লড়েছে রণাঙ্গনে। পরবর্তী সময়ে স্বাধীনতার পুরো ফসল গোলায় তোলে শেখ পরিবার ও তার দল। শেখ মুজিব বনে যান প্রেসিডেন্ট। একদলীয় শাসন, শোষণ ও ক্ষমতার শতভাগ ভোগদখল করেন তারা। খুন-হত্যা-রাহাজানি-ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, অপশাসনে অল্প দিনেই মুজিব হয়ে উঠেন বিতর্কিত ও অজনপ্রিয়। ধ্বংসের দ্বার প্রান্তে পৌঁছায় বাংলাদেশ।
ইতিহাসের বাক ঘুরে ২১ বছর পর পিতৃ হত্যার প্রতিশোধ নিতে মুজিব কন্যা হাসিনা ফিরে আসেন বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায়। দ্বিতীয় দফায় ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবাধিকারের তোয়াক্কা না করে কায়েম করেন স্বৈরশাসন। সংবিধান শিকেয় তুলে রেখে অনুসরণ করেন পিতার প্রদর্শিত বাকশালী কায়দা। বিগত দেড় দশকে পরপর তিনটি সংসদীয় নির্বাচনে বিনা ভোটে দখলে রাখেন রাষ্ট্র ক্ষমতা। বাংলাদেশকে পরিণত করেন এক বৃক্ষের বাগানে। গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশকে শুধু দল বা পরিবারে সীমিত না রেখে নিয়ে নেন ব্যক্তি মালিকানায়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ১৭ কোটি মানুষের অধিকার হরণ করে ধ্বংস করে দেন রাষ্ট্রের সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। নির্মম, নৃশংসভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় হত্যা করেন নিজ দেশের হাজারো মানুষকে। দেড় দশকে ২ হাজার ৭’শ মানুষকে হত্যা করেন বিচারবর্হিভূতভাবে। তার শাসনামলে গুমের শিকার হয়েছে প্রায় ৭’শ মানুষ। অভিযোগ আছে, হাসিনা ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর তার সরকারের অভিষেক হয় পিলখানায় সেনাবাহিনীর ৫৭জন চৌকষ অফিসারকে হত্যার মধ্য দিয়ে। এরপর মোটা দাগে গণহত্যা চালায় তার বাহিনী হেফাজতে ইসলামের সদস্যদের উপর। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দোহাই দিয়ে হত্যা করেন অনেককে। গোপন কারাগার আয়না ঘর তৈরি করে গুমকৃতদের নীপিড়ন-নির্যাতন এবং হত্যার শিকারে পরিণত করা হয়। বিরোধী দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে মামলা দিয়ে করা হয় কারারুদ্ধ। দেশকে ঠেলে দেন সাক্ষাত নরকে। মানুষের পিঠ ঠেকে যায় দেয়ালে। সাামাজিক বৈষম্য যখন চরমে এমন একটি ক্রান্তিকালে ঘুরে দাঁড়িয়েছে আমাদের সন্তানেরা।
যে বৈষম্যের কারণে মুক্তিযুদ্ধ হয় একাত্তরে, সেই বৈষম্যের অবসান ঘটাতে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে। শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদেরকে “রাজাকারের বাচ্চা” বলে গালি দিয়ে তাদেরকে দমাতে লেলিয়ে দেন রাষ্ট্রীয় বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের। চালান নির্বিচার গণহত্যা। নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে প্রায় একহাজার মানুষ। শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধে ফুঁসে উঠে সারাদেশ। একমাস ৬ দিনের আন্দোলন রূপ নেয় ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে। তারপরের ঘটনা সৃষ্টি করেছে নজিরবিহিন বিশ্ব ইতিহাস। নূতন করে স্বাধীনতার স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ। যে নতুন প্রজন্ম এবং সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে ছিলো হতাশা, তারাই আজ পরিণত হয়েছে জাতির ভরসাস্থলে। শেখ হাসিনা এখানো আওয়াজ দিচ্ছেন ভারতে বসে। কিন্তু ইতিহাস বলে বিশ্বের পলাতক স্বৈরশাসকদের কেউই পরবর্তীতে ফিরতে পারেনি রাজনীতিতে। উল্টো নিক্ষিপ্ত হয়েছেন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে। এমনকি ক্ষমতাচ্যুতির দীর্ঘদিন পরও প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি স্বৈরাচারদের সন্তানরা। দাঁড়াতে পারেনি তাদের রাজনৈতিক দলগুলোও। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম হবে এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনার স্বৈরশাসন, দুর্নীতি, গুম ও গণহত্যা অন্যান্য দেশের স্বৈরাচারের তুলনায় নজিরবিহীন ও ভয়ঙ্কর। জুলাই-আগষ্টের ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর পালিয়ে গিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন হাসিনা। ভারত জরুরি ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক আশ্রয় দিয়েছে তাকে। তার পরবর্তী গন্তব্য জানা নেই কারো। হাসিনা বা তার পরিবারের কেউই আর কখনো যে দেশে ফিরতে পারবেন না সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত। দেশে শতাধিক হত্যা মামলা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের দায় মাথায় নিয়ে শেখ হাসিনা ‘চট’ করে দেশে ফিরবেন তার এমন উক্তি হাস্যকর। স্বৈরাচারী ও নৈরাশ্যবাদী হাসিনা নাকি মানসিকভাবে অসুস্থ এমনটি দাবি করেছেন তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। শুধু এখন নয় হাসিনার মানসিক অসুস্থতা আজন্ম। ‘প্যাথলজিক্যাল লায়ার’ হাসিনা চট করে দেশে ফিরে আসুক এমনটিই চাচ্ছে দেশের মানুষ।
(ডা: ওয়াজেদ খান
সম্পাদক
সাপ্তাহিক বাংলাদেশ, নিউইয়র্ক।

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভারত আগ্রহী

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতা হারান এবং পালিয়ে ভারত চলে যান। হাসিনার ক্ষমতা হারানোয় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছে ভারত। কেননা, ভারত বাংলাদেশের জনগণকে উপেক্ষা করে শুধুমাত্র হাসিনা সরকারের সঙ্গেই তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করেছিল। হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর এখন দিল্লি এবং ঢাকার সম্পর্ক নতুন করে পুনঃনির্মাণ করতে হবে। খোদ ভারতেই এ নিয়ে বিস্তর আলাপ উঠেছে। দিল্লি এখন নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে কীভাবে তারা ঢাকার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক উন্নয়ন করবে। বাংলাদেশের জনমনে ভারত-বিরোধিতা তুঙ্গে থাকায় দিল্লিকে এ বিষয়ে খুব সাবধানে পা ফেলতে হচ্ছে। মঙ্গলবার ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে যা হবে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাই। প্রতিবেশী দেশগুলো একে অপরের নির্ভরশীলতার উপর জোর দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিস্তারিত এই সাক্ষাৎকারে জয়শঙ্কর আরও বলেন, বাংলাদেশে যা হবে তা তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমরা প্রতিবেশীর সঙ্গে আমাদের পক্ষ থেকে সম্পর্কটাকে স্থিতিশীল রাখতে চাই। আমাদের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভালো। উভয় দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক আছে- যেটা আমি চাই সম্পর্কটা যেন এমনই থাকে।
সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে জুলাই মাসে আন্দোলনে নামেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশি বাধার মুখে একসময় শিক্ষার্থীদের ওই আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়। এতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এই অভ্যুত্থানে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছেড়ে দেশ ত্যাগে বাধ্য হন হাসিনা। তিনি বর্তমানে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। ভারত থেকে হাসিনা যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছিলেন কিন্তু তাকে ভিসা দেয়া হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী হাসিনা এখন ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর নিরাপত্তায় রয়েছেন।
গত মাসে জয়শঙ্কর পার্লামেন্টে বলেছিলেন, হাসিনা খুব অল্প সময়ের নোটিশে দিল্লির উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন। তারপর একটি সর্বদলীয় ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, হাসিনাকে তার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য ভারত সরকার সময় দেবে। হাসিনা পালানোর পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচিত হয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার শপথের পরই তাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফোনকলের মাধ্যমে ড. ইউনূসকে শুভেচ্ছা জানান। পরে ড. ইউনূস বলেছেন যে, ন্যায্যতা এবং সমতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করতে আগ্রহী বাংলাদেশ। ৮৪ বছর বয়সী ড. ইউনূস বলেন, আমরা চাই বিশ্ব বাংলাদেশকে একটি সম্মানিত গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেবে। ভারতকে উদ্দেশ্য করে এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সামনের দিনে ভারতকে একটি ধারণা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেটি হলো বাংলাদেশের সবাই ইসলামপন্থি, বিএনপি ইসলামপন্থি। বাকি সবাইও ইসলামপন্থি এবং (তারা) এই দেশটিকে আফগানিস্তানে পরিণত করবে। আর বাংলাদেশ শেখ হাসিনার হাতেই নিরাপদ। এসব ধারণা থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশও অন্য প্রতিবেশীর মতো একটি প্রতিবেশী দেশ।

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় বিক্ষোভ সংঘর্ষে নিহত ১


আশুলিয়ায় মাসকট গার্মেন্ট ও রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের শ্রমিকদের সংঘর্ষে এক নারী শ্রমিক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। নিহত শ্রমিকের নাম রোকেয়া বেগম। তিনি আশুলিয়ার জিরাবোর মাসকট গার্মেন্টের সহকারী সেলাই মেশিন অপারেটর। এদিকে গাজীপুরে বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন। মহানগরের টঙ্গী, কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা, চক্রবর্তী ও গাজীপুর সদরের শিরিরচালা এলাকায় এ বিক্ষোভ করা হয়। এতে মহাসড়কের বেক্সিমকো টঙ্গী থেকে জিরানি পর্যন্ত যানজট তৈরি হয়।
সাভার ও আশুলিয়া (ঢাকা) : আশুলিয়ার জিরাবোতে মঙ্গলবার সকালে মাসকট গার্মেন্টের সামনে দুই কারখানার শ্রমিকদের এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মাসকট গার্মেন্টের শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে কারখানার বাইরে অবস্থান নেন। রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। এ সময় রেডিয়েন্ট গার্মেন্টের কাজ বন্ধ করতে মাসকট কারখানার শ্রমিকরা ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকেন। একপর্যায়ে দুই গার্মেন্টের শ্রমিকরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ইটের আঘাতে মাসকট কারখানার রোকেয়া বেগম নিহত হন। আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোকেয়া গাইবান্ধা জেলার সদর থানার গুদারহাট এলাকার মাসুদ রানার স্ত্রী। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু বকর সিদ্দিক বলেন, শিল্প পুলিশসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী, কালিয়াকৈরের চন্দ্রা, চক্রবর্তী ও জয়দেবপুরের শিরিরচালায় মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। আন্দোলন নিরসনে দাবিদাওয়ার বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমঝোতার বিষয়ে কাজ করছে পুলিশ। গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ও চক্রবর্তী এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন কারখানার শ্রমিকরা। সকালে চন্দ্রা এলাকায় মাহমুদ জিন্স লিমিটেড ও নায়াগ্রা টেক্সটাইল লিমিটেডের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। অপরদিকে চক্রবর্তী এলাকায় বকেয়া বেতন-ভাতার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেন বেক্সিমকো গ্রæপের শ্রমিকরা।
এদিকে গাজীপুরের জয়দেবপুর থানাধীন শিরিরচালা এলাকার এক্সিকিউটিভ হাই ফ্যাশন লিমিটেডের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করছে। আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, কারখানাটিতে প্রায় দেড় হাজার শ্রমিক আছে। ইতঃপূর্বে শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিদাওয়া কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করেন। সোমবার রাত ১০টার দিকে অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা কারখানার আয়রনম্যান মো. আরমানকে মারধর করে মানিব্যাগ ও মোবাইল কেড়ে নেয়। শ্রমিকদের সন্দেহ, দাবি উপস্থাপন করায় কারখানা কর্তৃপক্ষের লোকজন পরিকল্পিতভাবে তাদের লোকজন দিয়ে আরমানকে মারধর করেছে। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মবিরতি পালন করছে।
অপরদিকে, টঙ্গীর খাঁপাড়া এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে সিজন ড্রেস নামের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা আন্দোলনে নামেন। এ সময় শ্রমিকরা কর্মবিরতি ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অপরদিকে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর এলাকায় বেতন বৃদ্ধিসহ আট দফা দাবি জানিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন তাসমিয়া হারবাল লিমিটেডের শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকালে তাদের কর্মবিরতি শুরু হয়। এ সময় তারা কারখানার ভেতরে হইচই করে। এদিকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করছেন ভেরিতাস ফার্মাসিটিক্যাল লিমিটেডের শ্রমিকরা।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল-২-এর সহকারী পুলিশ সুপার মোশাররফ হোসেন বলেন, টঙ্গীতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন সিজন ড্রেস কারখানার শ্রমিকরা। বেতনভাতা পরিশোধে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক দল গঠনের অভিপ্রায় নেই, রাজশাহীতে আসিফ মাহমুদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়টিকে উড়িয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক দলের ব্যাপারে রিউমার বা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে, অনেকেই শুনতে চাচ্ছেন আমাদের থেকে। এটা আমরা এর আগেও স্পষ্টভাবে বলেছি-এখনই কোনো রাজনৈতিক দল খোলার কোনো অভিপ্রায় আমাদের নেই।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজশাহীতে জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যারা আছেন, কারোরই ক্ষমতার অভিলাষ নেই। সবারই পেশাগত জীবন আছে, সবাই সেখানে ফিরে যেতে চান। কিন্তু দেশের মানুষ একটা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে দায়িত্বটা এই সরকারকে দিয়েছেন, সেটি যথাযথভাবে পালন করে মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করাই আমাদের লক্ষ্য।’
তবে সংস্কারের আগে নির্বাচন নয় বলে জানান যুব ও ত্রীড়া উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘যে সংস্কারের কথা আমরা বলছি সেটা একদফারই অংশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে অভু্যুত্থানের মধ্য দিয়ে; কিন্তু একদফার যে মূল অংশ, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ-এর জন্য যে সংস্কারগুলো অত্যাবশ্যকীয় সেগুলো করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এটা জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতেই হয়েছে। জনগণ নির্বাচনের জন্য কিংবা ক্ষমতার পালাবদলের জন্য অভ্যুত্থানে আসেনি। যদি আসত সেটা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই আসত। এই অভ্যুত্থান হয়েছে স্পষ্টভাবেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপের জন্য।’
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘আমরা বিদ্যমান ব্যবস্থা সংস্কার না করে দিয়ে যেতে পারি, আমরা মনে করি, যেই ক্ষমতায় আসুক, যে কোনো রাজনৈতিক সরকার এই অটোক্রেডিক একটা সিস্টেমের মধ্যে নিজেও অটোক্রেডিক হয়ে উঠতে বাধ্য হবে। সে কারণে আমরা মনে করি-এই সংস্কারটা অত্যাবশ্যকীয়। দেশের জনগণ যেভাবে দেশকে গড়তে চাইবেন, দেশ পুনর্গঠনের যে প্রস্তাব দেশের মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসবে সেটার বাস্তবায়ন করাটাই আমাদের দায়িত্ব হবে।’
সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম আছেন, তিনি এবং উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান-এ দুজনের নেতৃত্বে একটি টিম করা হয়েছে। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে রেগুলার বেসিসে বসছেন। অফিশিয়াল বসার বাইরেও আনঅফিশিয়ালি যোগাযোগ রাখছেন যাতে আমাদের মধ্যে কোনো ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি না হয়। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় রাজনৈতিক দলসহ সব স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে এগিয়ে যেতে পারি, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’
পোশাক খাতে অস্থিরতা প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘শনিবার আমরা বিজিএমইতে তিনজন উপদেষ্টাসহ আমাদের পুরো টিমসহ একটা আলোচনায় ছিলাম। রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার, এই সময়টাতে কিন্তু গত সপ্তাহের তুলনায় যে আনরেস্ট ছিল সেটা ৫ থেকে ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। কিছু কিছু জায়গায়, খুব স্পেশিফিক দু-তিনটা কারখানায় এখন আনরেস্টের মতো সিচুয়েশন আছে। সেটাও আমরা মনে করি দ্রæতই প্রশমন হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যে কমিটি করে দিয়েছি, পর্যবেক্ষণ সেল করা হয়েছে। সেখানে শ্রমিকরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। তারা আস্থা রেখেছেন বলে তাদের ধন্যবাদ জানাই। সেল খুব দ্রæতই পদক্ষেপ নেবে। আমাদের সেই কমিটি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায়, আশুলিয়ায় শ্রমিক আনরেস্টের জায়গায় ভিজিট করেছে এবং সমস্যাগুলোকে অ্যাড্রেস করার চেষ্টা করছে।’
দেশের বিভিন্ন স্থানে সমন্বয়করা মতবিনিময় সভা করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়ছেন-এ নিয়েও প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘বাংলাদেশে এটা পুরোনো কালচার। যে কোনো ভালো উদ্যোগকে বিতর্কিত করার জন্য কিছু মানুষ তো থাকেই। সমন্বয়ক পরিচয়ে অনেক ভুয়া, অনেকেই বিভিন্ন জায়গায় চাঁদাবাজি করছেন। যে দ্বিতীয় স্বাধীনতার কথা আমরা বলি, তারপরই অনেকে চাঁদাবাজির মতো ঘটনা ঘটাচ্ছেন। আমরা মনে করি, এগুলোর অবসান ঘটবে। আমাদের মধ্যে যে জাতীয় ঐক্য হয়েছে তা থাকবে এবং তার মধ্য দিয়েই আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে পারব।’
এর আগে প্রধান অতিথি হিসাবে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণা এবং প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন-শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান। সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক আবদুর রহিম খান।
খেলার চেতনা দেশ গড়ার লড়াইয়ে কাজে লাগাতে হবে : রাবি প্রতিনিধি জানান, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘খেলার মধ্যে যে শক্তি আছে, তা আমাদের মধ্যে উজ্জীবন ও ঐক্য তৈরি করে। মাঠে এগারোজন খেললেও আসলে আমরা আঠারো কোটি মানুষ এক হয়ে যাই। আর এই চেতনাকে জাতীয় শক্তিতে রূপান্তর করে দেশ গড়ার লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।’ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ কামাল স্টেডিয়ামে এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বনাম রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার এ খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান, ছাত্র উপদেষ্টা আমিরুল ইসলাম, রুয়েট ছাত্রকল্যাণ পরিচালক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমুখ।
শেখ হাসিনা নিজেকে নেতৃত্বের জন্য বিকল্পহীন ভাবত-পিরোজপুরে আব্দুল হান্নান মাসুদ : পিরোজপুর প্রতিনিধি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেছেন, শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়েছেন, কারণ তিনি নিজেকে নেতৃত্বের জন্য বিকল্পহীন ভাবতেন। নিজের কথা ছাড়া তার আর কারও কোনো কথা সহ্য করতে পারত না। তার পাশে বসা লোকটার কথাও সে গুরুত্ব দিত না। সোমবার দুপুরে পিরোজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলার সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান সমন্বয়ক এসব কথা বলেন।
এ সময় আরও বত্তৃদ্ধতা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ফারজানা আফিফা অদিতি, এমএ সাঈদ, হাসিবুল ইসলাম শান্ত, শহীদুল ইসলাম শহীদ, জিহাদ হোসাইন, সাকিব আহম্মেদ, ফারিয়া সুলতানা লিজা, সাব্বির আহম্মেদ রিয়ন এবং পিরোজপুর জেলা সমন্বয়ক মুসাব্বির মাহমুদ সানি ও শাহরিয়ার আমিন সাগর।
শেরপুরে ছাত্র আন্দোলনের কার্যক্রম স্থগিত : শেরপুর প্রতিনিধি জানান, শেরপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের মুসলিম মার্কেটের অ্যাডভান্স আইটি ইনস্টিটিউট হলরুমে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় ছাত্ররা বলেন, ছাত্রদের এখন পড়ার টেবিলে ফেরার সময় হয়েছে। তবে জাতির যে কোনো ক্রান্তিকালে আবার রাস্তায় ফিরবে। এছাড়াও দুর্নীতি, অনিয়ম মোকাবিলা করে শেরপুরের উন্নয়নে প্রয়োজনে মাঠে থাকবে ছাত্ররা। এ সময় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সঞ্জয় বণিক।
বন্যায় সহযোগিতায় শেরপুর টিমের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বন্যার্তদের সহযোগিতা করতে মাত্র ৩ দিনের মধ্যে শেরপুরবাসী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন টিমের কাছে ৭ লাখ ২৯ হাজার ১৬৭ টাকা দেয়। সেই সঙ্গে ব্যবহৃত কাপড় ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করি। প্রথম ধাপে ত্রাণের পণ্যসামগ্রী বাবদ খরচ হয় ২ লাখ ৪২ হাজর ৪৭০ টাকা। যা নোয়াখালী ও ল²ীপুরে পাঠানো হয়েছে। অবশিষ্ট ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৭ টাকা বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ ও পুনর্বাসন তহবিলে জমা দেওয়া হবে।

ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পেল সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসারদের স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। সেনাবাহিনীর কমিশন্ড অফিসাররা এ স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা সারা দেশে প্রয়োগ করতে পারবেন।
জারি করা আদেশ অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিরাজমান আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকার এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই নানা ঘটনা ঘটছে। একটি মহল সরকারকে স্বস্তিতে দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা তৈরির জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে।
প্রতিটি মুহূর্তে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের নামে চাঁদাবাজি চলছে। দেশের ভেতর এবং বাইরে থেকে ধর্মীয় স¤প্রীতি বিনষ্টের গভীর চক্রান্ত করছে। সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতি এবং বহু ধর্মের সহাবস্থানের গৌরব ম্লান করার চেষ্টা হচ্ছে।
এছাড়া অনেকের কাছে অবৈধ অস্ত্র রয়েছে। তারা সংঘবদ্ধ হয়ে যে কোনো সময় জনজীবনে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। অপর দিকে অনেকে বৈধ অস্ত্রও জমা দেয়নি। অথচ অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা অতিক্রান্ত হয়েছে ১৫ দিন আগে। দেশের বিভিন্ন স্থানে দখলবাজি চলছে। গার্মেন্ট শিল্প নিয়ে বহুমাত্রিক চক্রান্ত হচ্ছে।
সার্বিক বিবেচনায় সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সেনাবাহিনীকে স্পেশাল এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়েছে। তারা আরও জানান, এখনো অনেক পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে যোগ দেননি।
পুরোদমে কাজ শুরু করতে পারছে না থানাগুলো। এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সেনাবাহিনীকে এ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।