দক্ষিণ আমেরিকা বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের গত দুই ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে হার ও ভেনেজুয়েলার মাঠে ড্রয়ের পর মেসির হ্যাটট্রিকে জয়ে ফিরেছে আর্জেন্টিনা। অন্যদিকে পেরুর বিপক্ষে বড় জয় পেয়েছে ব্রাজিলও। প্রতিপক্ষকে পাত্তাই দেয়নি ফুটবলের দুই পরাশক্তি। গতকাল বুয়েনস আইরেসে বলিভিয়াকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারায় আর্জেন্টিনা। আর ব্রাসিলিয়ায় পেরুর বিপক্ষে ৪-০ গোলের সহজ জয় পায় ব্রাজিল। গত দুই ম্যাচে জয় না পাওয়ায় আলবিসেলেস্তারা এদিন বলিভিয়াকে একদম পাত্তাই দেয়নি। শক্তিশালী আক্রমণের জন্য পূর্ণশক্তির দল নামান লিওনেল স্কালোনি। জয়ে ফেরার লক্ষ্যে মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে নিয়ে শক্তিশালী আক্রমণভাগ সাজান বিশ্বকাপজয়ী এ কোচ। হাই প্রেসিং ফুটবলের ঝলক দেখা যায় ম্যাচের শুরু থেকে। যদিও প্রতিপক্ষের পায়ে তেমন বলই দেখা যাচ্ছিল না। এদিন হ্যাটট্রিকসহ আরও ২ গোলে সহায়তা করেন ইন্টার মিয়ামি তারকা ও অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ১টি করে গোল পান মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজ ও বদলি খেলোয়াড় থিয়াগো আলমাদা। আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১১২টি গোল করে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। মেসির ওপরে ১৩৩ গোল নিয়ে আছেন পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।
আরেক ম্যাচে মাঝমাঠে দুটি পরিবর্তন ও দলের অধিনায়ক দানিলোকে বেঞ্চে রেখে একাদশে তিনটি পরিবর্তন আনেন দরিভাল জুনিয়র। এদিন ঘরের মাঠে পেরুকে পাত্তাই দেয়নি স্বাগতিক ব্রাজিল। শুরু থেকে প্রতিপক্ষকে কঠিন চাপে রেখে ৪-০ গোলের সহজ জয় তুলে নেয় ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথম ২টি গোল আসে পেনাল্টি থেকে। সফল স্পট কিকে গোল ২টি করেন বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনিয়া।
দুই লিডের পরও গোলক্ষুধা মেটেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। এবার দৃষ্টিনন্দন গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে দেন আন্দ্রেয়াস পেরেইরা। ৩ মিনিট পরই অভিষেক ম্যাচের পর এদিনও বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোলের দেখা পান লুইজ হেনরিক। এটি ২৩ বছর বয়সি খেলোয়াড়ের দেশের হয়ে দ্বিতীয় গোল। ইতালিয়ান ক্লাব বোটাফোগোতে খেলা এ ফুটবলার ইতোমধ্যে দলের অন্যতম খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করে যাচ্ছেন।
মেসির হ্যাটট্রিকের দিনে উজ্জ্বল ব্রাজিল
শিখ নেতা নিজ্জার হত্যা
কানাডার কর্মকর্তারা ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তথ্য শেয়ার করে বলেছেন, (ভারতের) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নির্দেশে খালিস্তানপন্থি হারদীপ সিং নিজ্জারকে হত্যা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেও ভারতের কর্মকর্তারা কাজ করেছেন। ভারত সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ও ‘র’-এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ দেশটির কূটনীতিকদের কথোপকথন কানাডার কর্তৃপক্ষের কাছে রয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাত দিয়ে গতকাল বুধবার দ্য হিন্দু অনলাইন এসব তথ্য জানায়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির দাবি, ভারত সরকারের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলতে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিহ্নিত করেছেন কানাডার কর্মকর্তারা। এর আগেও শিখ নেতা নিজ্জার হত্যায় ভারত সরকার জড়িত বলে দাবি করে কানাডা। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সরাসরি নয়াদিল্লির দিকে আঙুল তোলেন। ভারত বরাবরই এ দাবিকে ‘অবান্তর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে দেশটি।
হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত সোমবার কানাডা সরকারের পক্ষ থেকে দেশটিতে কর্মরত ছয় ভারতীয় কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ বা আরসিএমপি প্রকাশ্যে দাবি করে, ভারত সরকারের এজেন্টরা কানাডায় সহিংস ঘটনা ঘটিয়েছেন। পরে প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সিঙ্গাপুরে অজিত দোভাল ও কানাডার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাথালি ড্রোইনের মধ্যে হওয়া একটি গোপন বৈঠকের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। ওই বৈঠকে দোভালকে কানাডার কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে থাকা তথ্যপ্রমাণ দেখিয়েছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ওই বৈঠকে কানাডার কর্মকর্তারা অমিত শাহর সংশ্লিষ্টতা ও তাদের কাছে থাকা অন্য প্রমাণও অজিত দোভালের সঙ্গে শেয়ার করেন। ওই বৈঠকে নাথালি ড্রোইন ছাড়াও কানাডার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড মরিসন এবং আরসিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন।
আরসিএমপির অভিযোগ, ঘটনার পুরো চক্রে ভারতের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতাও রয়েছে। তারা সরকারি এজেন্টদের সঙ্গে মিলে এর বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে কারাগারে থাকা ৩১ বছরের বিষ্ণোই নেতৃত্বাধীন ওই গ্যাংয়ের সদস্য সংখ্যা কয়েকশ বলে ধারণা করা হয়।
স¤প্রতি মহারাষ্ট্রের রাজনীতিক ও খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব বাবা সিদ্দিকির হত্যার ঘটনায় সংগঠনটির নাম ব্যাপকভাবে সবার সামনে আসে। বলা হয়, কারাগারে বসেই বাইরের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ করেন বিষ্ণোই।
এনডিটিভি জানায়, শিখ নেতা নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে কানাডার পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ভারত তদন্তকাজে সহযোগিতা করছে না। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যখন কানাডার, তখন আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানাতে চাই, যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর। ভারতকে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কিন্তু স্পষ্টতই ভারত সে পথে যায়নি।’
দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন লিখেছে, বুধবার ব্রিটেন বলেছে, কানাডার বিচার প্রক্রিয়ায় ভারতের অংশগ্রহণ হবে সঠিক পদক্ষেপ। এক বিবৃতিতে দেশটির সরকার বলেছে, কানাডার বিচার ব্যবস্থায় তাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে কানাডীয় অংশীদারদের সঙ্গে তারা যোগাযোগ রাখছে।
ভারতে স্বাধীন খালিস্তান রাষ্ট্রের সমর্থক হারদীপ সিং নিজ্জারকে গত বছরের ১৮ জুন কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সুরে এলাকায় একটি গুরুদুয়ারার সামনে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সরাসরি ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন জাস্টিন ট্রুডো। ভারতের পাঞ্জাব রাজ্যের বাইরে সবচেয়ে বেশি শিখ জনগোষ্ঠীর বাস কানাডায়। সেখানে ৭ লাখ ৭০ হাজারের বেশি শিখ থাকেন।
টাক মাথার ভোটারদের সংবর্ধনা দিলেন সংসদ সদস্য
চাপা গায়ের রঙ, স্থূলকায় চেহারা কিংবা উচ্চতায় খাটো হওয়ায় সমাজে নানাভাবে অপদস্ত হতে হয় তাদের। শুধু তাই নয়, মাথায় টাকের জন্য শুনতে হয় টিপ্পনি। টাক মাথার জন্য জনসমক্ষে বেরতেও লজ্জা পান অনেকে।
এই কারণে উৎসবের মৌসুমে টাক মাথা নিয়ে পুজোমণ্ডপে যেতে বা সেলফি তুলতে হীনমন্যতায় ভুগেছেন তারা। এবার সেই সব মানুষের মনোবল বাড়াতে পাশে দাঁড়ালেন পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের এক বিধায়ক (এমপি)। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা বুধবার (১৬ অক্টোবর) নিজের বিধানসভার টাক মাথার মানুষদের বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তাদের হাতে তুলে দেন উপহার।
বিজয়া দশমীর প্রাক্কালে ক্যানিংয়ের জীবনতলা বাজারে আয়োজন করা হয়েছিল টাক মাথার মানুষদের বিশেষ এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শওকত মোল্লা। এই অনুষ্ঠানে কালিকাপুর ও মঠেরদীঘি পঞ্চায়েত এলাকার শতাধিক টাক মাথার মানুষদের সংবর্ধনা দেয়া হয়। সকলকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানান তৃণমূল নেতা। উপহার হিসাবে তাদের হাতে তুলে দেন নতুন পাঞ্জাবি ও গোলাপ ফুল।
এলাকার বাসিন্দা তরুণ মণ্ডল বলেন, অনেক রকম তেল, ওষুধ মেখেছি। কিছুতেই কাজ হয়নি। ৪০ বছরেই সব চুল উঠে গিয়েছে। আমাদের মনোবল বাড়াতে বিধায়ক যে উদ্যোগ নিলেন সে জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। বিধায়কের হাত থেকে উপহার পেয়ে বেজায় খুশি সকলে।
এ নিয়ে শওকত মোল্লা জানান, সবই ঈশ্বরের দান। এ নিয়ে হীনমন্যতা বা মন খারাপের কোনো দরকার নেই। যাদের মাথায় চুল নেই তাদের সংবর্ধনা দেব আমি। আপাতত দুটি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু হলো এই কর্মসূচি। আগামী দিনে গোটা বিধানসভা এলাকা জুড়ে এই কর্মসূচি চলবে।
দর্শকের মুখে ফিরছে সিনেমার গান
চলচ্চিত্রের গানে নতুনত্ব এসেছে। দর্শক এখন যেমন গান পছন্দ করে তেমন গানই তারা চলচ্চিত্রে পাচ্ছে এবং তাই তা দর্শকের মুখে মুখে ফিরছে। সর্বশেষ রায়হান রাফির ‘তুফান’ সিনেমার গানের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলব- ‘লাগে উরাধুরা’ এবং ‘দুষ্টু কোকিল’ গানেই ‘তুফান’ বয়ে গেছে চারদিক। যদিও এগুলো আইটেম ঘরানার এবং একটি শ্রেণির পছন্দের তালিকায় সীমাবদ্ধ, তবু আশার কথা দীর্ঘদিন পর চলচ্চিত্রের গান আবার দর্শকের পছন্দের খাতায় যোগ হচ্ছে।
‘তোমারে লেগেছে এত যে ভালো চাঁদ বুঝি তা জানে, রাতেরও আঁধারে দোসরও হয়ে তাই সে আমারে টানে…’। ১৯৬০ সালে মুক্তি পাওয়া প্রখ্যাত চলচ্চিত্রনির্মাতা এহতেশাম পরিচালিত ‘রাজধানীর বুকে’ ছবির গান এটি। এ গানটি এখনো দর্শক-শ্রোতাদের নষ্টালজিকে আক্রান্ত করে। বলা হয়ে থাকে এ গানটি এতটাই জনপ্রিয় হয় যে, শুধু গানটি শোনার জন্যই বারবার দর্শক ছুটে গেছে সিনেমা হলে। ফলশ্রুতিতে ‘রাজধানীর বুকে’ সুপারহিট। গানের ক্যারিশমা ছবির সাফল্যের অন্যতম নিয়ামক বলে খোদ এহতেশামই বলেছিলেন। একসময় চলচ্চিত্রের বিজ্ঞাপনে বলা হতো-‘আসিতেছে গানের ছবি, প্রাণের ছবি…’, মানে নির্মাতারা ছবি হিট করার জন্য গল্পের পাশাপাশি গানকে প্রাধান্য দিতেন আর সুফলও পেতেন। মানে গানের জোরেই ছবি হিট হয়ে যেত। এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে। কমপক্ষে আশির দশক পর্যন্ত গানের সুবাদে সিনেমা হিটের ধারাবাহিকতা বজায় ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, নব্বই দশকের প্রায় শেষভাগে এ দেশে অশ্লীল সিনেমার জোয়ার শুরু হলে সিনেমার গানও বিকৃত রুচির কবলে পড়ে। এ সময় থেকে সিনেমার মনকাড়া গান আর পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ সময় পর ২০০৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ সিনেমার গান আবার দর্শক-শ্রোতার মুখে মুখে ফিরতে থাকে। গানের জন্যই এ সিনেমা বেশিসংখ্যক দর্শক সিনেমা হলে টেনে আনে। এরপর মাঝেমধ্যে সিনেমার হিট গান পাওয়া যেতে থাকে। এর মধ্যে এস এ হক অলিকের ‘হৃদয়ের কথা’ ও ‘আকাশ ছোঁয়া ভালোবাসা’ এবং সালাহউদ্দিন লাভলুর ‘মোল্লা বাড়ীর বউ’ সিনেমার গানের জনপ্রিয়তার কথা না বললেই নয়। যাই হোক, বর্তমানে আবার গত কয়েক বছর ধরে গানের সুবাদেই সিনেমা হিট হতে শুরু করেছে। যেমন ২০২০ সালে মুক্তি পাওয়া চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘বিশ্বসুন্দরী’ ছবির ‘রাতের সব তারা আছে দিনের গভীরে’ গানটি ব্যাপক সাড়া জাগায়। ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘লিডার : আমিই বাংলাদেশ’ ছবির ‘সুরমা সুরমা’ গানটি সুপারহিট হয়। সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন তপু খান। একই বছরের সবচেয়ে আলোচিত সিনেমার গান হচ্ছে ‘ও প্রিয়তমা’। ‘প্রিয়তমা’ ছবির এ গানটি রেডিও টেলিভিশনেও শ্রোতাদের পছন্দের শীর্ষে ছিল। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন হিমেল আশরাফ। প্রিয়তমা সিনেমার আরও একটি গান শ্রোতাপ্রিয়তা লাভ করে। গানটির শিরোনাম ‘ঈশ্বর’। নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী পরিচালিত ‘প্রহেলিকা’ সিনেমার ‘মেঘের নৌকা’ গানটি গত বছরের শ্রোতাপ্রিয় গানের তালিকায় ছিল। এর আগে ২০২২ সালের সবচেয়ে আলোচিত ও শ্রুতিমধুর সিনেমার গানের তালিকায় রয়েছে- ‘হাওয়া’র ‘সাদা সাদা কালা কালা’। একই ছবির ‘আটটা বাজে দেরি করিস না’। ‘পরাণ’ ছবির ‘ধীরে ধীরে’। ‘গুণিন’ ছবির ‘ঘোমটা তুলে বদন খুলে’, ‘দুই দিনের দুনিয়া’ ছবির ‘ট্যাকা পাখি’, ‘জীবন রোড’, ‘পাপ পুণ্য’ ছবির ‘তোর সঙ্গে নামলাম রে পথে’, ‘চোখ গেল পাখি,’ বিশ্বসুন্দরীর ‘তুই কি আমার হবি রে’ ‘তালাশ’ ছবির রণক ইকরামের লেখা ‘মায়া মাখা’, ‘পরাণ’ ছবির জনি হকের লেখা ‘চল নিরালায়’, ‘রাজকুমার’ ছবির টাইটেল গান ‘রাজকুমার’ প্রভৃতি। এ গানগুলোও মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে বলেই এগুলো দর্শক-শ্রোতাদের মুখে মুখে ফিরেছে।
মানসিক রোগে আক্রান্ত আলিয়া
আলিয়া মানসিক রোগে আক্রান্ত। স¤প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন। অভিনেত্রী জানান, ‘এডিএইচডি’ (অ্যাটেনশন ডেফিশিট/হাইপার অ্যাকটিভিটি ডিসঅর্ডার) রোগে আক্রান্ত। বর্তমানে এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসাও চলছে তাঁর। জানা গেছে, ‘এডিএইচডি’ রোগের অন্যতম লক্ষণ হলো- মানসিক চাঞ্চল্য, অস্থির ভাব ও অতিরিক্ত উত্তেজনা। কোনো কিছুতে মনোযোগ দিতে বেগ পেতে হয়। আলিয়া বলেন, কয়েকটি পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারি এ রোগে আক্রান্ত। শৈশবে এ রোগের জন্য সমস্যায় পড়তে হয়েছিল আমাকে। ক্লাস চলাকালে প্রায়ই অন্যমনস্ক হয়ে পড়তেন। যদিও অভিনয় করার সময় এ সমস্যাটা হয় না আলিয়ার।
আগে রাষ্ট্র সংস্কার পরে নির্বাচন : ভিপি নুর
আগে রাষ্ট্র সংস্কার পরে নির্বাচনের চিন্তাভাবনা বলে মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘অসংখ্য ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে এদেশের স্বৈরশাসকের বিদায় হয়েছে। দ্রæত সময়ের মধ্যে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। তা না হলে গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদরা আমাদের ক্ষমা করবে না।’
বুধবার (১৬ অক্টোবর) গণঅধিকার পরিষদ শ্রীপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফল ভোগ করতে যারা বিভিন্নভাবে বিচারপতি, ডিসি, এসপি নিয়োগ দিতে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন, আপনারা গণহত্যাকারীদের ঠেকাতে পারছেন না। আমাদের জীবন থাকতে আওয়ামী লীগকে এদেশের রাজনীতিতে ঠাঁই দেয়া হবে না, হবে না। আওয়ামী লীগকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য ভারতসহ বেশকিছু দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরীকে মুক্ত করার জন্যও একটি চক্র কাজ করছে।’
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা আপনাদেরকে সহযোগিতা করতে চাই। শুধু একটি নির্বাচনের জন্য দেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় বসায়নি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য জনগণ আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে। একটি স্বৈরশাসক সরকার রাষ্ট্রকে যেভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করছে, তা সংস্কারের মাধ্যমে একটি জনবান্ধব রাষ্ট্র কাঠামো দাঁড় করাবেন। তারপর গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে বিদায় নিবেন। কিন্তু আপনাদের মতিগতি ভালো দেখছি না। আপনাদের সর্তক করে বলতে চাই, জন-আকাঙ্ক্ষার বাইরে গিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না।’
এ সময় দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ভিপি নুর বলেন, ‘ফেনী-নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা উত্তরাঞ্চলে বেশকিছু এলাকায় বন্যা হয়েছে। যার ফলে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, উৎপাদন কমেছে। সে কারণে ডিমের দাম থেকে শুরু করে শাকসবজির দাম একটু বাড়ছে। সরকারকে মনে রাখতে হবে এই সরকার কোনো রাজনৈতিক সরকার না। তাই জনগণ যাতে কষ্ট না পায়, সেই নিশ্চয়তা তাদের দিতে হবে। প্রয়োজনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আলু, পেঁয়াজ, ডাল এ ধরনের জিনিসপত্রের ভর্তুকি অব্যাহত রাখতে হবে। এদেশের সাধারণ মানুষ ছাত্র-জনতা শ্রমিক, গার্মেন্টসকর্মীরা এমপি, মন্ত্রী, উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌরসভার মেয়র হওয়ার জন্য রাজপথে ফ্যাসিবাদীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেনি। তারা দু’মুঠো ভাত খেয়ে বাঁচতে চায়। এটা বর্তমান সরকারকে বুঝতে হবে।’
এ সময় গণঅধিকার পরিষদ গাজীপুর জেলা শাখার আহŸায়ক পাঠান আজাহারের সভাপতিত্বে ও মনির মোল্লার সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খানসহ জেলা উপজেলার নেতা-কর্মী।
অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী আর নেই
১৫ অক্টোবর দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এভারকেয়ার হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার আরিফ মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে আক্রান্ত মতিয়া চৌধুরীকে বুধবার সকালে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এরপরই ইসিজি করে চিকিৎসা কার্যক্রম হয়।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘অগ্নিকন্যা’ হিসেবে পরিচিত মতিয়া চৌধুরীর জন্ম পিরোজপুরে ১৯৪২ সালের ৩০ জুন। তিনি সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় বামপন্থী রাজনীতি দিয়ে। তিনি ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) সদস্য ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি তাকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ প্রদান করে। তিনি ২০২৪ সালে অসহযোগ আন্দোলনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ বিলুপ্তের মাধ্যমে সংসদ সদস্য পদ হারান।
১৯৪২ সালের ৩০ জুন পিরোজপুরে মতিয়া চৌধুরীর জন্ম। তার বাবা মহিউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা এবং মা নুরজাহান বেগম ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬৪ সালের ১৮ জুন খ্যাতিমান সাংবাদিক বজলুর রহমানের সাথে বিয়ে হয় মতিয়া চৌধুরীর।
রাহুলের আসন থেকেই ভোটযুদ্ধ শুরু প্রিয়াংকার
লোকসভা ভোটের আগেই ছিল জল্পনা। ২০২৪ লোকসভা ভোটে প্রিয়াংকা গান্ধী ভোট যুদ্ধে ‘ডেব্যু’ করতে পারেন বলে জল্পনা ছিল। তবে শেষমেশ, তিনি লড়েননি। তবে মঙ্গলবার ২০২৪ উপনির্বাচনের সূচিপত্র ঘোষণা হতেই, কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কেরালার ওয়েনাদে লোকসভা উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হয় প্রিয়াংকা গান্ধীকে। উল্লেখ্য, কেরালের ওয়েনাড়ের এই আসনে আগে প্রার্থী হিসাবে কংগ্রেসকে জয় এনে দিয়েছিলেন রাহুল। ভাইয়ের সেই কেন্দ্রে এবার ভোটযুদ্ধে প্রিয়াংকা।
লোকসভা ভোটের উপনির্বাচনের সূচিপত্র ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর সেখানে কেরালার ওয়েনাড়েও ভোটের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। এদিকে, উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হতেই কংগ্রেস তার প্রার্থী তালিকাও সামনে এনেছে। সেখানেই কেরালার ওয়েনাদের প্রার্থী হিসেবে উঠে আসে প্রিয়াংকা গান্ধীর নাম। উল্লেখ্য, ২০২৪ লোকসভা ভোটে রাহুল গান্ধী ওয়েনাদের পাশাপাশি রায়বেরেলিরও প্রার্থী ছিলেন। এককালে রায়বেরেলি ছিল সোনিয়া গান্ধীর আসন। পরে সোনিয়া লোকসভার ভোটরাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াতেই সেই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রার্থী হন রাহুল। রায়বেরেলি ও ওয়েনাড় দুই কেন্দ্রেই রাহুল জয়ী হন। এরপর কেরালার ওয়েনাড় ও উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলি দুই কেন্দ্র থেকেই রাহুল, ২০২৪ সালের লোকসভা ভেটে দাপুটে জয় ছিনিয়ে নেন। পরে রাহুল রায়বেরেলি কেন্দ্রকে বেছে নেন, ওয়েনাদ কেন্দ্র থেকে তিনি সরে আসেন। আর রাহুলের সেই কেন্দ্রেই এবার প্রার্থী বোন প্রিয়াংকা।
যদি কেরালার এই কেন্দ্র থেকে প্রিয়াংকা গান্ধী ভোট যুদ্ধে জিতে নেন, তাহলে তিনি প্রবেশ করবেন সংসদে। লোকসভায় তিনি কেরালার ওয়েনাড়ের জন প্রতিনিধি হয়ে তিনি যোগ দেবেন। সেক্ষেত্রে সংসদে গান্ধী পরিবারের তিন সদস্যই থাকবেন। যদিও সোনিয়া গান্ধী রাজ্যসভায় থাকবেন। লোকসভায় রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই বিরোধী দলনেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। ওয়েনাদের উপনির্বাচন যদি প্রিয়াংকা জিতে যান, তাহলে তিনি ভাই রাহুলের সঙ্গে লোকসভার সদস্য হিসেবে উঠে আসবেন। নির্বাচন কমিশন মঙ্গলবার ওয়ানাড এবং নান্দেদ লোকসভা আসনের পাশাপাশি ৪৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে। ওয়েনাড়ে উপনির্বাচন আয়োজিত হবে ১৩ নভেম্বর। ওই একই দিনে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ভোটের প্রথম পর্বের ভোট গ্রহণ হবে।
এক ঘণ্টার পুলিশ সুপার ইশরাত
খাগড়াছড়িতে প্রতীকী পুলিশ সুপার হলেন খাগড়াছড়ি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নূর ইশরাত জাহান। এক ঘণ্টার জন্য দায়িত্ব নিয়েই খাগড়াছড়ি জেলাকে নারীবান্ধব করার পাশাপাশি নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রোধে সুপারিশমালা তুলে ধরেন তিনি।
বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার কার্যালয়ে পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েলের কাছ থেকে ব্যতিক্রমী এক আয়োজনে প্রতীকীভাবে পুলিশ সুপারের দায়িত্ব গ্রহণ করেন নূর ইশরাত জাহান।
এ সময় এক ঘণ্টার প্রতীকী এসপিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল।
অক্টোবর মাসে কন্যাশিশু দিবসের মাস উপলক্ষে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের গার্লস টেকওভার কর্মসূচির আওতায় ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্সের (এনসিটিএফ) সহযোগিতায় নারী নেতৃত্ব উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচির আওতায় এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।
এক ঘণ্টার পুলিশ সুপার নূর ইসরাত তার স্বপ্নের কথা তুলে ধরে কন্যাশিশুদের সমান সুযোগ এবং সমানাধিকার দেওয়ার আহবান জানান। নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, বাল্যবিয়ে রোধসহ করণীয় বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, খাগড়াছড়ি জেলায় প্রতি মাসে গড়ে ৩-৫টি করে ধর্ষণের মামলা করা হচ্ছে। নারী নির্যাতনের মামলা হচ্ছে। আর যেন কোনো নারীকে গন্তব্যে পৌঁছার জন্য প্রতিবন্ধকতা ও কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে মুখোমুখি হতে না হয় সেজন্য করণীয় তুলে ধরেন এক ঘণ্টার প্রতীকী পুলিশ।
এনসিটিএফের জেলা সাবেক সভাপতি শচীন দাশ ও সহ-সভাপতি জান্নাতুল মাওয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল। তিনি বলেন, যে বিষয়গুলো প্রতীকী পুলিশ সুপার তুলে ধরেছেন তা খুবই প্রাসঙ্গিক এবং যৌক্তিক। নারীরা ধর্ষণ, ইভটিজিং এবং বাল্যবিয়েসহ নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাহমুদা বেগম, খাগড়াছড়ি শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা উষানু চৌধুরী, সদর থানার ওসি মো. আব্দুল বাতেন মৃধা, জেলা ভলান্টিয়ার খোকন বিকাশ ত্রিপুরা জ্যাকসহ জেলা এনসিটিএফ ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ ২০১২ সাল থেকে দিবসটি গুরুত্বসহকারে উদযাপন করে আসছে। কন্যাশিশুরা সমান সুযোগ এবং সমানাধিকার পেলে বদলে দিতে পারে তাদের জীবন, তাদের আশপাশের সমাজ। মূলত এ বিশ্বাস থেকেই গার্লস টেকওভার কর্মসূচি আয়োজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
‘দেশের মানুষ জাতির পিতা মনে করলে ৫ আগস্ট ভাস্কর্য ভেঙে ফেলত না’ ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ
ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, একটি দেশের জাতির পিতা কে হবে সেটা নির্ধারণ করবে সেই দেশের জনগণ, কোনো ফ্যাসিস্ট রাজনৈতিক দল না।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
শেখ মুজিবুর রহমানকে যদি দেশের মানুষ জাতির পিতা মনে করতো তাহলে ৫ আগস্ট বিপ্লবী ছাত্র-জনতা তার ভাস্কর্য ভেঙে ফেলত না। শেখ মুজিব জাতির পিতা নয়, আওয়ামী ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রতীকী মাধ্যম।
এর আগে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও স¤প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা মনে করে না অন্তর্বর্তী সরকার।
সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
বঙ্গবন্ধুকে আওয়ামী লীগ বিতর্কিত করেছে। তাকে আপনারা ‘জাতির পিতা’ মনে করেন কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ দল হিসেবে ফ্যাসিস্টভাবে ক্ষমতায় ছিল। মানুষের ভোটাধিকার হরণ ও গুম-খুন করে এবং গণহত্যা করে তারা ক্ষমতায় ছিল। কাজেই কারা তাকে জাতির পিতা বলল, তারা কোন দিবসকে জাতীয় দিবস ঘোষণা করল, নতুন বাংলাদেশে সেটার ধারাবাহিকতা থাকবে না। আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠন করতে চাচ্ছি। ফলে ইতিহাসের প্রতি আমাদের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি আনতে হবে।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে নাহিদ বলেন, আপনারা যদি আওয়ামী লীগের করা সবকিছু মনে করেন জাতীয় জাতীয়..। ভোটবিহীন সরকারেরই কোনো বৈধতা নেই। সেই সময়ে অনেক কিছু করা হয়েছে। সবগুলোকে পুনর্গঠন ও পুনর্মূল্যায়ন করা হবে।
বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক মনে করে কিনা এ সরকার- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই না’।
তাহলে আমাদের কোনো জাতির পিতা থাকবে না- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমাদের এই ভূখণ্ডের লড়াইয়ের ইতিহাসে বহু মানুষের অবদান রয়েছে। আমাদের ইতিহাস কিন্তু কেবল ৫২তেই শুরু হয়নি, আমাদের ব্রিটিশবিরোধী লড়াই আছে, ৪৭ ও ৭১-এর লড়াই আছে, ৯০ ও ২৪ আছে। আমাদের অনেক ফাউন্ডিং ফাদারস রয়েছে। তাদের লড়াইয়ের ফলে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি।


