Home Blog Page 543

টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ধবলধোলাই বাংলাদেশ

জয়ের জন্য ইতিহাস গড়তে হতো বাংলাদেশকে। ভাঙতে হতো টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার পুরনো সব রেকর্ড। তবে তার ধারে কাছেও যেতে পারল না টাইগাররা। হেরেছে ১৩৩ রানের বড় ব্যবধানে।

সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আজ ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। যেখানে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ২৯৭ রান করে স্বাগতিকরা। জবাবে ৭ উইকেটে ১৭০ রান পর্যন্ত করতে পারে বাংলাদেশ। যা সিরিজে টাইগার্দের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

অবশ্য যেখানে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২১৫, সেখানে ২৯৮ রানের লক্ষ্য! কঠিনই বটে। তাছাড়া ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে কোনো দলের সেরা সংগ্রহ যেখানে ২৪৫, দ্বিতীয় ইনিংসে যা কমে দাঁড়ায় ২২৫ রানে। ফলে বাংলাদেশকে করতে হতো অবিশ্বাস্য কিছুই।

হায়দরাবাদে ইতিহাস গড়েই থামে ভারত। ভেঙে দেয় আগের সব রেকর্ড। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তুলে স্কোরবোর্ডে, ভারতের ইতিহাসে যা সবার সেরা। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মাঝেও সর্বোচ্চ।

এদিন টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে অভিষেক শর্মা আর সাঞ্জু স্যামসন মিলে ২ ওভারে যোগ করেন ২৩ রান। তৃতীয় ওভার বল করতে এসে প্রথম বলেই অভিষেককে (৪) ফেরান তানজিম। এরপরের গল্পটা কেবল ভারতের। পাওয়ার প্লেতে আসে ৮২ রান।

সপ্তম ওভারে মাত্র ২২ বলে ফিফটি পূরণ করেন সাঞ্জু স্যামসন। এরপর যেন আরো বেশি ক্ষুধার্ত হয়ে উঠেন তিনি। সূর্য কুমারের সাথে মাত্র ৪৩ বলে শতরানের জুটি গড়েন তিনি। তাতে মাত্র ১০ ওভারেই ভারত পেরিয়ে যায় দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

খানিক বাদেই প্রথম আন্তর্জাতিক শতকের স্বাদ পেয়ে যান সাঞ্জু। মাত্র ৪০ বলে স্পর্শ করেন তিন অংকের ঘর। যা ভারতের হয়ে দ্বিতীয় দ্রুততম ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ষষ্ঠ দ্রুততম শতক। শেষ পর্যন্ত থানে ১১ চার ৮ ছক্কায় ১১১ রানে।

১৩.৪ ওভারে সূর্যর সাথে গড়ে তুলা ৭০ বলে ১৭৩ রানের জুটি ভেঙে ফেরেন সাঞ্জু। মোস্তাফিজ থামান তাকে। পরের ওভারেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ পান তার শেষ টি-টোয়েন্টি উইকেটের দেখা। ফেরান ৩৫ বলে ৭৫ রান করা সূর্য কুমারকে।

এরপর রান উৎসবে যোগ দেন রিয়ান পরাগ ও হার্দিক পাণ্ডিয়া। তাদের মাত্র ২৬ বলে ৭০ রানের জুটিতে ভর করে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজেদের সর্বোচ্চ রানে পৌঁছায় ভারত।

পরাগ ১৩ বলে ৩৪ রানে ও হার্দিক থামেন ১৮ বলে ৪৭ করে। অন্যদিকে বল হাতে তানজিম সাকিব ৩ উইকেট পেলেও রান দেন ৬৬। যা বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান ব্যায়ের রেকর্ড।

অন্যদিকে মাত্র ২ ওভারে ৪৬ রান দেন রিশাদ। তাসকিন ৫১, মোস্তাফিজ ৫২ ও শেখ মেহেদী দেন ৪৫ রান।

ভারতের ইতিহাস গড়া পুঁজি তাড়া করতে নেমে উড়ন্ত শুরুর প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। তবে হয় তার উল্টো, প্রথম বলেই উইকেট হারায় টাইগাররা। এই ম্যাচেও ব্যর্থতার ধারা ধরে রাখেন পারভেজ ইমন, ফেরেন গোল্ডেন ডাক মেরে।

তবে লিটন দাস ও তানজিদ তামিম মিলে পরের ১৮ বলে যোগ করেন ৩৫ রান। তামিম ফেরেন ১২ বলে ১৫ করে। ইনিংস বড় করতে পারেননি অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১ বলে ১৪ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। ৫.২ ওভারে ৫৯ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

তবে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় মিল খানিকটা প্রতিরোধ গড়ে তুলেন। হৃদয় দেখেশুনে খেললেও লিটন দাস ছিলেন আগ্রাসী। তবে ২৫ বলে ৪২ রানেই থামতে হয় তার। ১১.৪ ওভারে ভাঙে তাদের ৩৮ বলে ৫৩ রানের জুটি।

শেষবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ পারেননি প্রত্যাশা পূরণ করতে৷ দুই অংকের ঘরেও যেতে পারেননি, মায়াঙ্ক যাদবের বলে ফেরেন ৯ বলে মাত্র ৮ রানে। বিদায় বেলাটা খুব একটা সুখকর হলো না অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারের।

তবে প্রথম দুই ম্যাচে খুব একটা সুবিধা করতে না পারলেও হায়দরাবাদে রান পেয়েছেন হৃদয়। ৩৫ বলে তুলে নেন ফিফটি। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৪২ বলে ৬৩ রানে। তাতে বাংলাদেশ শেষ ৯ টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার পেরিয়েছে দেড় শ’ রানের গণ্ডি।

রবি বিষ্ণুই ৩ ও মায়াঙ্ক যাদব নেন জোড়া উইকেট।

ফলে ভারত সফরে জয়ের মুখ আর দেখল না বাংলাদেশ। প্রথমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ধবলধোলাই হবার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজেও ঘটলো একই ঘটনা। সেই সাথে বিদায়ী ম্যাচে জয় উপহার দেয়া হলো না মাহমুদউল্লাহকে।

এবারের দুর্গাপূজায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

এবারের দুর্গাপূজায় প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এর আগে দুর্গাপূজায় ২ থেকে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতো। এবারের পূজায় সরকার ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এবার পূজায় নিরাপত্তা অন্যান্য সময়ের চেয়ে বেশি। প্রশাসনও আন্তরিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করছে। পূজামণ্ডপের আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে।

শনিবার (১২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া ইউনিয়নের সন্তোষপাড়া দুর্গামন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন তিনি।

এর আগে জেলার শ্রীনগর উপজেলায় পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এসময় তার সাথে আরো ছিলেন- ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন, জেলা প্রশাসক ফাতেমা তুল জান্নাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ, ওসি খন্দকার হাফিজুর রহমান, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট বিউটি আক্তার, সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস ধীরন, জামায়াতে ইসলামী সিরাজদিখান উপজেলার সভাপতি মাওলানা কবির হোসেন, ইছাপুরা ইউপি চেয়ারম্যান মো: সুমন মিয়া, সিরাজদিখান উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কুমার দাস, সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানদীপ ঘোষ, সিরাজদিখান প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল-মাসুদ ও সিরাজদিখান রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো: নাছির উদ্দিনসহ আরো অনেকে।

সূত্র : ইউএনবি

কালেমাখচিত কালো পতাকা মিছিলের নেপথ্যে কারা

রাজধানীসহ সারা দেশে সম্প্রতি কালেমাখচিত কালো পতাকা নিয়ে মিছিলগুলো সঙ্ঘবদ্ধ করছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। পুলিশ এবং গোয়েন্দাদের তদন্তে এমনই তথ্য বেরিয়ে আসছে। এই পতাকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিয়ে তারা বাংলাদেশে মৌলবাদীদের উত্থান হিসেবে দেখাতে চায়। স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা কিছু না বুঝেই আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী এই পরিকল্পনার ফাঁদে পা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলকে তারা বোঝাতে চাচ্ছে বাংলাদেশে তারা ক্ষমতায় না থাকলে এখানে জঙ্গি উত্থান ঘটবে এবং সেই উত্থান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে।
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় এই কালো পতাকা নিয়ে মিছিলের ঘটনা ইতোমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় তুলেছে। স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা রাস্তায় এসব মিছিল করছে।

মিছিল থেকে ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধ, ইসলামের নবী মুহাম্মদ সা:কে কটূক্তির প্রতিবাদ কিংবা ইসলামী খেলাফত কায়েমেরও দাবি তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশে ইসলামী খেলাফত কায়েম করতেই তারা এই পতাকা নিয়ে মিছিল করছে বলে দাবি করছে। কেউ কেউ বলছেন, এর পেছনে নিষিদ্ধঘোষিত হিজবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও মূল পরিকল্পনাকারী হচ্ছে আওয়ামী লীগ। ব্যাপক গণহত্যার দায়ে এই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিও উঠেছে। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্লাসে ঢুকলে ওই ক্লাস বর্জন করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

পুলিশ ও গোয়েন্দারা বলছেন, এতকিছুর পরেও বসে নেই আওয়ামী লীগ। তার ছাত্র সংগঠনকে দিয়ে এখন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সঙ্ঘবদ্ধ করছে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণœ করার জন্য। এ জন্য তারা বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও বেসরকারি শিক্ষার্থীদের মাঠে নামিয়েছে কালো পতাকা হাতে দিয়ে! রাজধানীর খিলগাঁও এলাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থীরা গত সোমবার এরূপ একটি মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামে। সবুজবাগ বৌদ্ধমন্দির এলাকায় ওই মিছিলকারীদের একজনের সাথে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই শিক্ষার্থী জানান, তারা নবীর প্রেমে এবং ফিলিস্তিনে গণহত্যার প্রতিবাদ জানাতে মাঠে নেমেছেন। কিন্তু ওই মিছিলে কালো পতাকা কারা সরবরাহ করছে তা জানেন না ওই শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, কালো পতাকা তারা বানাননি। কারা দিয়েছে তাও জানেন না। মিছিল শুরুর পরে কয়েকজনের হাতে ওই পতাকা দেখা যায়। কিন্তু মিছিলকারীরা অতকিছু চিন্তা করেননি। তারা কালেমাখচিত পতাকা দেখেছেন, ভেবেছেন ভালোকিছু!

গত ৬ অক্টোবর রোববার বিকেলে ঢাকার অফিসার্স ক্লাবের সামনের রাস্তাসহ কয়েকটি এলাকায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক শ’ শিক্ষার্থী এমন পতাকা হাতে মিছিল করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যারা কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করছে তারা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন হিজবুত তাহরিরের সদস্য। রাজধানীতে কালো পতাকা নিয়ে মিছিলে যাদের অংশ নিতে দেখা গেছে তাদের বেশির ভাগই ঢাকার নামিদামি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী। আর কিশোরগঞ্জের মিছিলে কারা কথিত আইএসের পতাকা ব্যবহার করেছে সে বিষয় নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আইএসের পতাকা হাতে প্রকাশ্যে মিছিল ও তৎপরতার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কিশোরগঞ্জের এসপি গতকাল বলেন, এটি বুঝে করেছে, না বুঝে করেছে, এর পেছনে কারো ইন্ধন আছে কি না তা নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, দেশের ভাবমর্যাদা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না-সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক এ বিষয়ে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূত্র ধরে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের যে কাজ শুরু হয়েছে সেটিতে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে একটি মহল। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই চক্রান্তকারী মহলের কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের হাতে আইএস পতাকা প্রদর্শন করছে, বিভিন্ন বিতর্কিত স্লোগান দেয়াচ্ছে। বাস্তবতা হলো- যে শিক্ষার্থীদের দিয়ে এই কাজগুলো করানো হচ্ছে, এত অল্প বয়সে তাদের বোঝার কথা নয়; তারা কী মারাত্মকভাবে রাষ্ট্রীয় নীতির বিপক্ষে গিয়ে কাজগুলো করছে। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

ফিলিস্তিনসহ কয়েকটি দেশে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে সম্প্রতি জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম থেকে একটি মিছিল বের করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। ওই মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে রাজধানীর বেশ কিছু এলাকায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের কালো পতাকা নিয়ে মিছিল করতে দেখা গেছে। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনেও এমন একটি মিছিল দেখা যায়। ওই মিছিল বের করে সেখানকার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। ‘সচেতন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা, সেন্ট জোসেফ হাইয়ার সেকেন্ডারি স্কুল’ ব্যানার নিয়ে এই মিছিলটিতে বিভিন্ন সেøাগান, প্ল্যাকার্ড ও কালেমাখচিত পতাকা ছিল। তাদের হাতে বাংলাদেশের পতাকা, ফিলিস্তিনের পতাকা এবং কালেমা লেখা পতাকাও ছিল। তারা যে ব্যানার নিয়ে মিছিল করছিল সেখানে লেখা ছিল ইসলামের নবীকে ভারতীয় পুরোহিত কর্তৃক কটূক্তি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের জবাবে তাদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল। সেই মিছিলে তাদের সেøাগান দিতে শোনা যায়, ‘মুক্তির এক পথ, খিলাফত-খিলাফত’, ‘তুমি কে আমি কে, মুসলমান-মুসলমান’। একই দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় একই রকম একটি মিছিল দেখা যায়। যেই মিছিলে শিক্ষার্থীদের হাতে আইএসের পতকার আদলে কালো ও সাদা পতাকা দেখা যায়। ঢাকার নটর ডেম কলেজ, ঢাকা কলেজ, উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের শিক্ষার্থীদের রাজধানীতে আলাদা আলাদা মিছিল করতে দেখা যায়। যেখানে তাদের কারো কারো হাতে অভিন্ন কালো পতাকা দেখা যায়।

গোয়েন্দাদের একটি সূত্র জানায়, এই মিছিলগুলো অর্গানাইজ করছে ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ওই মিছিলে মিশে গিয়ে কালোপতাকা প্রদর্শন করছে। এটা তাদের দীর্ঘ পরিকল্পনার একটি অংশ। এই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে আন্তর্জাতিক মহলে তারা প্রমাণ করতে চাচ্ছে- আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরপরই বাংলাদেশে জঙ্গি উত্থান ঘটেছে। যাতে আন্তর্জাতিকভাবে বর্তমান সরকার চাপের মধ্যে পড়ে। এ ব্যাপারে আইজিপির মতামত জানতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি।

সব নাগরিকের ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদের : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের সব নাগরিককে ৩৬৫ দিন নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের। এটি অক্ষুণ থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় ঢাকেশ্বরী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের সাড়ে ১৭ কোটি লোক ৩৬৫ দিনই নিরাপদে থাকবে। বাংলাদেশের সব নাগরিকের ৩৬৫ দিনের নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব আমাদের এবং আমরা নিরলসভাবে সে প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছি।
তিনি বলেন, দুর্গাপূজার দশমী অর্থাৎ আগামী রোববার ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত সারা দেশে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। এর পরও চলমান নিরাপত্তাব্যবস্থা বজায় রাখা হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার এবার পূজার জন্য সবচেয়ে বেশি চার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর আগে প্রতি বছর দুর্গাপূজায় ২-৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হতো।
উপদেষ্টা বলেন, চলমান দুর্গাপূজায় সারা দেশে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এবার দুর্গাপূজা নির্বিঘেœ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে পুলিশ, র‌্যাব ও আনসারের পর্যাপ্ত সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় সংখ্যক সশস্ত্রবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে মোতায়েন করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, মাঝে মধ্যে দু-একটা ঘটনা ঘটে। এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। বাংলাদেশ পূজা কমিটির মহাসচিব আমাকে জানিয়েছেন, পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটতে পারে, এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরো বলেন, পূজার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আট দফা নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এই নির্দেশনাগুলো দেয়া হয়েছে, সবাই ভালোভাবে পূজা পালন করবেন। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে যেন সাথে সাথে খবর পাওয়া যায় এ জন্য জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন সেন্টারকে (এমটিএমসি) দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। উপদেষ্টা পরে রাজধানীর ফার্মগেটে সনাতন সমাজকল্যাণ সঙ্ঘ আয়োজিত খামারবাড়ি কৃষিবিদ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

তাঁতিবাজারে মণ্ডপে আহতদের দেখতে গেলেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা

তাঁতিবাজারে পূজা মণ্ডপে আহতদের দেখতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে গিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এ. এফ. হাসান আরিফ। একই সময়ে তিনি ১৭ নম্বর তাঁতিবাজার পূজা কমিটি থেকে আয়োজিত মণ্ডপটিও পরিদর্শন করেন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) রাতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তাঁতিবাজারের পূজামণ্ডপটি তাৎক্ষণিক-ভাবে দেখতে যান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। এ সময় তিনি মণ্ডপে অবস্থানরত বিভিন্ন দর্শনার্থী এবং পূজারিদের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়-কালে হাসান আরিফ বলেন, আজ সারাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অষ্টমী উদযাপন করেছেন৷ শনিবার আরও বেশি উৎসবমুখর পরিবেশে মহানবমী উদযাপন করবেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের বাকি দিনগুলো নির্বিঘ্নে উদযাপিত করুন। পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে পূজামণ্ডপগুলোতে অধিক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়াও পূজা মণ্ডপগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। কাজেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্ভয়ে উৎসব পালন করুন। তাঁতিবাজারে পূজামণ্ডপটি পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আহতদের দেখতে মিটফোর্ড হাসপাতালে যান৷ তখন তিনি আহত এবং তাদের পরিবার-পরিজনসহ কর্তব্যরত ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলেন৷ আহতদের চিকিৎসায় যাতে কোনো প্রকার অবহেলা করা না হয় সেজন্য কর্তব্যরত চিকিৎসকদের নির্দেশনা দেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পূজা চলাকালে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত মন্দিরে আচমকা পেট্রোল বোমা সদৃশ বস্তু ছুঁড়ে মারে৷ তবে তা বিস্ফোরিত হয়নি। দুর্বৃত্তদের ধরার চেষ্টা করার সময় ঝন্টু (৪৫), সাগর (৩৮), মো. খোকন (৩৫) এবং বৃত্ত (২৬) নামে ৪ জন আহত হন। আহতদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তারেক রহমান এই আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড : দুদু

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের একমাত্র মাস্টারমাইন্ড হচ্ছেন তারেক রহমান। কার্যকর আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যা করা দরকার সবই করেছেন তিনি। এটা যদি কাউকে ব্যাখ্যা করে বোঝাতে হয়, তাহলে একটু অসুবিধা আছে। বিগত ১৬ বছর ধরে শেখ হাসিনা বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল। আর তারেক রহমান বিচক্ষণতার সঙ্গে বিএনপিকে রক্ষা করেছে— মন্তব্য করেন শামসুজ্জামান দুদু।

শনিবার (১২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলন আয়োজিত প্রতীকী প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেছেন। অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনী রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দুদু বলেন, এক মাসে কিছু হয় না। একটা সন্তান জন্ম দিতেও নয় মাস লাগে। এক মাসে যদি কোনো সন্তান আনতে হয় সেটা হয় মৃত। ১৬টি বছর এদেশের মানুষ রক্ত দিয়েছে। ১৬টি বছর এদেশের ছাত্র, শ্রমিক, কৃষক গুম ও নিখোঁজ হয়েছে। ১৬টি বছর জেল খেটেছে। এক মাসের আন্দোলনের কথা সব বিবেচনায় যদি এনে থাকেন সেটা ঠিক হয়নি। এজন্য যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে তত তাড়াতাড়ি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। যত তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা সম্ভব হবে, তত তাড়াতাড়ি নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনায় তার উপযুক্ততা প্রমাণ করতে পারবে। এটাই আমাদের মাথায় রাখতে হবে। সেদিকেই আমি সরকারকে আহ্বান করি। কারণ, এই সরকার আমাদের সরকার। এই সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। সেজন্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।

নির্বাচন যত পিছিয়ে যাবে সংকট তত তীব্র হবে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আমরা বর্তমান সরকারের কাছে খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করি না। ছোট্ট একটি প্রত্যাশা আছে। দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। ড. মুহাম্মদ ইউনুস জ্ঞান গরিমা এবং কর্মের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একজন ব্যক্তি। তিনি নির্বাচন কবে হবে এই কথাটা যতদিন জাতিকে জানাতে না পারবেন ততদিন নানান বিতর্ক তৈরি হবে। এই বিতর্ক সৃষ্টিতে সরকারের ভূমিকা থাক এটা আমরা প্রত্যাশা এবং পছন্দ করি না।

তিনি বলেন, বাজারে আগুন লেগে গেছে। দ্রব্যমূল্য এতটাই বেড়েছে যে মানুষ অস্বস্তিতে পড়েছে। নতুন সরকার আসার পরে এই অবস্থা হবে সেটা কেউ প্রত্যাশা করে নাই। তারা প্রত্যাশা করেছিল, জিনিসপত্রের দাম কমবে। সংস্কার সরকার করবে সে সংস্কার পরবর্তী সরকার সংসদে এসে অনুমোদন করবে। দুদু বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মিলেমিশে চলাটাই এ সরকারের সাফল্যের একটি কারণ হতে পারে। দূরত্ব বাড়লে দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, স্বাধীনতার জন্য বিপদ হতে পারে। সরকার অনতিবিলম্বে কতদিনের মধ্যে নির্বাচন প্রত্যাশা করে এটি যত তাড়াতাড়ি তারা বলবে।

প্রতীকী সমাবেশে বাংলাদেশ নাগরিক অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক এম জাহাঙ্গীর আলম সভাপতিত্ব করেন এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মোফাজ্জেল হোসেন হৃদয় সঞ্চালনা করেন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারপাসন উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক জেড খান মো. রিয়াজউদদীন নসু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য প্রিন্সিপাল শাহ মুহাম্মদ নেছারুল হক।

পূজার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছি : ফারুক-ই-আজম

সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধ, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক।

শুক্রবার চট্টগ্রামের পটিয়ার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে এসে পৌরসদরের সুচক্রদণ্ডী মিলন মন্দিরে পূজার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীর প্রতীক বলেন, এ দেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সবাই আমরা একে অন্যের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানগুলোতে অংশগ্রহণ করি। এখানে আমাদের মধ্যে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সেতুবন্ধন রয়েছে তা অন্য কোন দেশে নেই। সনাতনী সম্প্রদায়ের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সবাই দিন-রাত কাজ করছি। দেশের সকল পূজামণ্ডপে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে কাজ করছে।’

এ সময় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘এ দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির যে ধারা রয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে।’

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দুর্গাপূজা দেখতে এলাকার বিভিন্ন মণ্ডপে যেতাম। বর্তমানে পূজাকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আপনাদের পাশে প্রতিদিন আছি, সবসময় আছি, প্রতি ঘণ্টায় আছি, প্রতি মিনিটে আছি ও প্রতি সেকেন্ডে আছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোনো গুজবে কান দেবেন না। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করবেন।’

পরে উপদেষ্টা পটিয়া পৌরসদরের রামকৃষ্ণ মিশন ও কালি বাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন, পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে কুশল বিনিময় ও পূজার সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আলাউদ্দীন ভূঞা জনি, থানার ওসি আবু জায়েদ মো: নাজমুন নুর, কেন্দ্রীয় পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শ্যামল কুমার পালিত, জেলা পূজা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালিত, জেলা পূজা কমিটির সদস্য ও পটিয়া উপজেলা পূজা মনিটরিং কমিটির সমন্বয়ক পুলক কান্তি চৌধুরী, আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সঞ্জয় দে, যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ ধর বাপন, জুয়েল চৌধুরী, মান্না দেব, সাজু কুমার দেব, সদস্য সচিব রাসেল চৌধুরী, সোমা চৌধুরী, সীমা গোস্বামী, শোভন রায়, সঞ্জয় রক্ষিত, জয় দে প্রমুখ।
সূত্র : বাসস

বিকেলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছেন ড. ইউনূস

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও পূজা পরিদর্শন করতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে যাবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ শনিবার বিকেল ৩টায় তিনি যাবেন। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ গণমাধ্যমকে জানান, প্রধান উপদেষ্টা আজ (শনিবার) বিকেল ৩টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে যাবেন।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার আগমনকে কেন্দ্র করে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির এলাকায় নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে এসএসএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

১০ দফা সংস্কার প্রস্তাব, আনুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন চায় জামায়াত

আইন, বিচার, সংসদ, নির্বাচনব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সংস্কারে অর্ন্তর্বর্তী সরকারের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছে জামায়াতে ইসল্লামী। প্রস্তাবে বল্লা হয়েছে-রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারা, সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করতে হবে। দলটি প্রস্তাবে আরও বলেছে, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা আগামী ২ বছরের জন্য ৩৫ বছর ও পরবর্তী বয়সসীমা স্থায়ীভাবে ৩৩ বছর এবং অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করতে হবে, বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে সরকারি চাকরিতে যারা প্রশ্নপত্র ফাঁস, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও দলীয় বিবেচনায় চাকরি পেয়েছে তাদের নিয়োগ বাতিল করতে হবে। বিচার বহির্ভূত সব হত্যাকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। বুধবার দুপুরে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসল্লামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এসব প্রস্তাব তুলে ধরেন।
এ সময় জামায়াতে ইসল্লামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মূলত তাদের সংস্কার প্রস্তাব ৪১ দফা, সেটা বিস্তারিত। এখন তারা সংক্ষেপে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছেন। এই মুহূর্তে অর্ন্তর্বর্তী সরকারের জন্য যেগুলো প্রাধান্য দেওয়া দরকার, সেগুলো দিয়েছেন। পরবর্তী নির্বাচিত সরকার এসে বাকিগুলো দেখবে।
এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্ন্তর্বর্তী সরকার সবকটি সংস্কার করে দিলে নির্বাচিত সরকার এসে কী করবে। আমরা নির্বাচিত সরকারকেও পরীক্ষা করতে চাই। যখন আমরা বিরোধী দলে থাকি, আমাদের কণ্ঠ-আওয়াজ হয় এক রকমের, আর সরকারে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ১৮০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে ঘুরে যাই। তাই আমিসহ আমাদের সবাইকে পরীক্ষা করতে চাই। আমরা আগের জায়গাতেই আছি, নাকি এত বড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে আমাদেরও মানসিকতার কিছু পরিবর্তন হয়েছে, সেটা আমরা একটু দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, দেড় সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যান। ৮ আগস্ট গঠিত হয় অর্ন্তর্বর্তী সরকার। এই সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মৌলিক সংস্কার সম্পন্ন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অর্থবহ করার জন্য নির্বাচনসংশ্লিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। সংস্কার ব্যতীত নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে না।
রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান প্রধান সেক্টর সংস্কারের জন্য ১০ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন নায়েব আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। আইন ও বিচার সংস্কারের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথকীকরণের কার্যকর ব্যবস্থা, আইন মন্ত্রণালয় থেকে আল্লাদা করে সুপ্রিমকোর্টের অধীনে পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন-২০২৩’ ও সব কালো আইন বাতিল করতে হবে। বিচারের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিভাগীয় পর্যায়ে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা, নিন্ম আদালতের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্য পৃথক বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠন, সব ফৌজদারি মামল্লা তদন্তের জন্য স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
সংসদবিষয়ক সংস্কারে দলটির প্রস্তাবের উল্লেখযোগ্য হলো-সংসদের প্রধান বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার মনোনীত করা, সংসদীয় বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের উল্লেখযোগ্য হলো-জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা চালু, কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে স্থায়ীভাবে সন্নিবেশিত, ইভিএম ভোটিং ব্যবস্থা বাতিল, কোনো সরকারি চাকরিজীবী তাদের চাকরি ছাড়ার কমপক্ষে ৩ বছরের মধ্যে কোনো ধরনের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা, সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ২০০৮ সালে প্রবর্তিত রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রথা বাতিল, নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা ও প্রধান বিচারপতির সমন্বয়ে সার্চ কমিটি গঠন ও সংসদ নির্বাচন একাধিক দিনে অনুষ্ঠিত করার ব্যবস্থা। আইনশৃঙ্খল্লা সংস্কারের উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-পুলিশ বাহিনীর সংস্কারের ক্ষেত্রে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার প্রণীত পুলিশ আইন পরিবর্তন এবং পুলিশের জন্য একটি পলিসি গাইডল্লাইন তৈরি, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ রাখা যাবে না তথা সর্বপ্রকার দলীয় ও ব্যক্তিগত প্রভাব বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, পুলিশের মধ্যে মারণাস্ত্রের ব্যবহার বাতিল, রিমান্ড চল্লাকালে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে আসামিপক্ষের আইনজীবীর উপস্থিতি এবং মহিল্লা আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের অভিভাবকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
র‌্যাববিষয়ক সংস্কারে বল্লা হয়েছে-গত সাড়ে ১৫ বছর যারা র‌্যাবে কাজ করেছেন তাদেরকে নিজ নিজ বাহিনীতে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং তাদেরকে পুনরায় র‌্যাবে নিয়োগ দেওয়া যাবে না। জনপ্রশাসন সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-সরকারি চাকরিতে আবেদন বিনামূল্যে করা, চাকরির আবেদনে সব ক্ষেত্রে বয়সসীমার বৈষম্য নিরসন করা, সব সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি নিরোধকল্পে বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করা যাতে করে কেউ দুর্নীতি করার সুযোগ না পায়-এজন্য প্রয়োজনীয় মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা, চাকরিতে বিরাজমান আন্তঃক্যাডার বৈষম্য দূর করা।
দুর্নীতি সংস্কারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার স্বাধীনতা দেওয়া, বিগত সরকারের আমলে দেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উপযুক্ত বিধান প্রণয়ন ও তা কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া, দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনসংস্কার, জনবল ও পরিধি বৃদ্ধি করতে হবে। সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবে বল্লা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য রাখার বিধান সংযুক্ত এবং একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে না পারার বিধান করা। শিক্ষা ও সংস্কৃতি সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিকে উচ্চমাধ্যমিক হিসাবে বলবৎ রাখা, অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা বাতিল করে পূর্বের পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনা, পাঠ্যপুস্তকে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে হবে।
পররাষ্ট্রবিষয়ক সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চীন, নেপাল, ভারত ও বাংল্লাদেশের মধ্যকার আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানিবণ্টন চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি করা, অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে সম্পাদিত সব চুক্তি রিভিউ করতে হবে। এক্ষেত্রে একটি রিভিউ কমিশন গঠন করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সংস্কারে উল্লেখযোগ্য প্রস্তাব হলো-ইসল্লামিক ফাউন্ডেশন বাংল্লাদেশকে রাষ্ট্রের কল্যাণে অর্থবহ প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে তোল্লা এবং হজ ব্যবস্থাপনার জন্য স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করা।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মতিউর রহমান আকন্দের সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন-নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান ও মাওল্লানা আনম শামসুল ইসল্লাম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওল্লানা এটিএম মাছুম, মাওল্লানা রফিকুল ইসল্লাম খান, হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মাওল্লানা আবদুল হালিম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন ও মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসল্লাম বুলবুল, উত্তরের আমির জনাব সেলিম উদ্দিন, ইসল্লামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসল্লাম প্রমুখ।

২৬ দিন পরই যুক্তরাষ্ট্রে ভোট এগিয়ে কমলা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র ২৬ দিন বাকি। ৫ নভেম্বরের এই ভোট যুদ্ধকে সামনে রেখে প্রধান দুই প্রতিদ্ব›দ্বী ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন শেষ সময়ের দৌড়ঝাঁপ করে চলেছেন। এমন অবস্থায় ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যাচ্ছে জনমত জরিপের হিসাব-নিকাশ। কখনো দুজনের অবস্থান সমানে সমান, আবার কখনো অল্প আগেপিছে থাকছে। সূত্র : রয়টার্স, বিবিসি, এএফপি, আলজাজিরা। স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবারের খবর অনুযায়ী, ভোটারদের মধ্যে জনপ্রিয়তায় ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে ব্যবধান আরও কমে ৩% দাঁড়িয়েছে। রয়টার্স/ইপসোস পরিচালিত নতুন জরিপে হ্যারিসের জনসমর্থন ৪৬% এবং ট্রাম্পের জনসমর্থন ৪৩% দেখা গেছে। এই কাছাকাছি অবস্থান আগামী ৫ নভেম্বরের নির্বাচনে দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস দিচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ২০-২৩ সেপ্টেম্বরের রয়টার্স/ইপসোস জরিপে হ্যারিসের চেয়ে ৬% পেছনে ছিলেন। তাকে এবার ভোটাররা বেশি সমর্থন দিয়েছে বেশ কিছু অর্থনৈতিক বিষয়ের কারণে। তাছাড়া, দেশে থাকা অবৈধ অভিবাসীরা অপরাধের দিকে ঝোঁকে বলে ট্রাম্প যে মন্তব্য করেছিলেন, সে কারণেও কিছু ভোটার তাঁর দিকে চলে গিয়ে থাকতে পারে।
জরিপে ভোটাররা দেশের অর্থনৈতিক বিষয়গুলোকেই ওপরে রেখেছে। ৪৪% ভোটারই বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সংকট নিয়ে ট্রাম্প সঠিক কথা বলেছেন। আর হ্যারিস এ বিষয়ে ভালো করেছেন বলে মত দেয় ৩৮% ভোটার। আমেরিকার পরবর্তী প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক বিষয়গুলোর মধ্যে যেটি মোকাবিলা করতে হবে তার মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিষয়টিকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন ৭০% ভোটার। চাকরি, কর এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলোতে সঠিক ব্যবস্থাপনার দিক থেকে ট্রাম্প ভোটারদের সমর্থন পাচ্ছেন বেশি। যদিও ধনী এবং সাধারণ আমেরিকানদের মধ্যে ফারাকের বিষয়টি সামনে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ৪২% ভোটার হ্যারিসকেই বেশি ভালো মনে করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অবৈধ অভিবাসীদের অপরাধের দিকে ঝোঁক আছে, এ প্রসঙ্গে নতুন জরিপে ৫৩% ভোটার ট্রাম্পের বক্তব্যকেই সমর্থন করেছে। আর সমর্থন করেনি ৪১%। অথচ এই একই প্রশ্নে গত মে মাসে ভোটারদের মধ্যে খুব কম ব্যবধান দেখা গিয়েছিল। ট্রাম্পের কথা সমর্থন করেছিল ৪৫% ভোটার। আর সমর্থন করেনি ৪৬% ভোটার।
হ্যারিস গত জুলাইয়ে নির্বাচনি দৌড়ে শামিল হওয়ার পর থেকে ট্রাম্পের চেয়ে জনসমর্থনে এগিয়েই থেকেছেন। তবে সর্বসা¤প্রতিক জরিপে নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা যাদের সবচেয়ে বেশি, এমন ভোটারদের মধ্যে হ্যারিসকে ট্রাম্পের চেয়ে ২% এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। হ্যারিস পেয়েছেন ৪৭% সমর্থন আর ট্রাম্প পেয়েছেন ৪৫% সমর্থন।
ভোটাররা ট্রাম্পের তুলনায় হ্যারিসকে মানসিকভাবে বেশি শক্ত-সমর্থ বলে মনে করে। নতুন জরিপে দেখা গেছে, ৫৫% ভোটারই বলেছে, হ্যারিস মানসিকভাবে চৌকশ এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম। আর ট্রাম্পের ক্ষেত্রে একই মত পোষণ করেছে ৪৬% ভোটার।