ইসরাইলের অভ্যন্তরে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে করণীয় ঠিক করতে ছক কষছে তেল আবিব। ইরানে কেমন পরিসরে হামলা হবে, সেটা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে ইসরাইল।
তারই ধারাবাহিকতায় ইরানে হামলার বিষয়ে বুধবার ফোনালাপে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এরমধ্যে যে কোনো পরিস্থিতিতে ইসরাইলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অটুট সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করলেন বাইডেন। বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ অক্টোবর) এ খবর দিয়েছে টাইমস অব ইসরাইল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার এই দুই নেতার মধ্যে ৩০ মিনিট কথা হয়েছে। এ নিয়ে গত ৫০ দিনের মাথায় দুবার ফোনে কথা বললেন বাইডেন-নেতানিয়াহু।
হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, আগামী মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী এবং বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস এই ফোনালাপে যোগ দেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরাইলের নিরাপত্তার প্রতি তার অটুট প্রতিশ্রæতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন বাইডেন। তিনি ১ অক্টোবর ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর নিন্দা করেছেন।
হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাইডেন বেসামরিকদের ক্ষতি কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। বিশেষ করে বৈরুতের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়, যেখানে ইসরাইল মূলত হিজবুল্লাহর দাহিয়েহ এলাকায় বিভিন্ন ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কারিন জাঁ-পিয়েরে দুই শীর্ষনেতার এই আলাপকে প্রত্যক্ষ ও ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও ইরানে হামলা নিয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বাইডেন এবং হ্যারিসের এই ফোনালাপ যখন চলছে, ঠিক তখনই ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট হুমকি দিয়ে বলেছেন, ইরানে ইসরাইলের পাল্টা হামলা প্রাণঘাতী, নির্ভুল এবং বিস্ময়কর হবে।
জাঁ-পিয়েরে বলেন, বাইডেন ও নেতানিয়াহু ইরানের সঙ্গে সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।
এদিকে বুধবারের পরে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদিও ইসরাইলি বাহিনীর বর্তমানে লেবাননের অভ্যন্তরে সীমিত স্থল অনুপ্রবেশকে সমর্থন করে, তবে তারা চায় না যে তারা লেবাননের গভীরে প্রসারিত হোক বা ইসরাইলের উপস্থিতি দীর্ঘমেয়াদী হয়ে উঠুক।
ইরান-ইসরাইল পাল্টাপাল্টি হামলার উত্তেজনায় অনেক ধারণা করছেন ইরানের পরমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে ইসরাইল। তবে বাইডেন এর আগে জানিয়েছিলেন, ইরানের পারমাণবিক কোনো কেন্দ্র হামলায় সমর্থন নেই তার।
নেতানিয়াহু-বাইডেন ফোনালাপে ইরানে হামলার বিষয়ে আলোচনা
মালয়েশিয়ায় ১৭ বাংলাদেশি আটক
মালয়েশিয়ার কেলান্তান রাজ্যের কোটা ভারুতে ১৭ বাংলাদেশি অভিবাসীকে আটক করেছে অভিবাসন বিভাগ। বাংলাদেশি ছাড়াও আটক করা হয়েছে আরও ১৩ অভিবাসীকে।
বুধবার (৯ অক্টোবর) রাজ্যের অভিবাসন বিভাগের বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম দি সান ডেইলি এ তথ্য জানিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, দুই দিনের অভিযানে বাংলাদেশিসহ ৩০ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার কেলান্তান ইমিগ্রেশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (ব্যবস্থাপনা) নিক আখতারুল হক নিক আবদুল রন এক বিবৃতিতে জানান, এই অভিযানে কোটা ভারু শহরের আশেপাশের সুপারমার্কেট, জালান কুয়ালা ক্রাইয়ে দোকান এবং কাম্পুং সেবারাং পাসির মাস সালোরে লোহার কাজের ওয়ার্কশপ, পাসির পুতেহ, কাম্পুং পারমাটাং সুংকাইয়ের বেশ কয়েকটি বাড়ি এবং রেস্তোরাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বাংলাদেশের ১৭, পাকিস্তানের ২, মিয়ানমার ১, ভারতের ১, থাইল্যান্ডের ৪ পুরুষ ও ৫ নারীকে আটক করা হয়। আরও তদন্তের জন্য তানাহ মেরাহ ইমিগ্রেশন ডিপোতে আটকদের রাখা হয়েছে।
রাজ্যে বিদেশীদের উপস্থিতি বা আইন ভঙ্গকারী বিদেশিদের জড়িত কোনও কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য জনসাধারণকে এগিয়ে আসার আহŸান জানান নিক আখতারুল হক।
এ ছাড়াও অবৈধ অভিবাসীকে আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
জয়শঙ্করের ইসলামাবাদ সফরে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক নিয়ে মুখ খুলল পাকিস্তান
৯ বছর পর পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সফরে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বরফ গলতে পারে, এমন প্রত্যাশা ছিল অনেকের। এছাড়া গণমাধ্যমের আগ্রহও ছিল অনেক। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর অবশ্য এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন আগেই। এবার সেটা নিয়ে মুখ খুলেছে পাকিস্তান।
কারণ পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে আসছেন এস জয়শঙ্কর। তার বাইরে আলাদা করে পাক-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের সম্ভাবনা নেই।
এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ এইটিন।
জয়শঙ্করের ইসলামাবাদ সফর নিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর মুখপাত্র মুমতাজ জাহরা বালোচ বলেন, ‘গত ৫ অক্টোবর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কী বলেছেন সেটা আরেকবার মনে করিয়ে দিতে চাই। তিনি পরিস্কার বলেছেন, এসসিও বৈঠকে যোগ দেওয়াটাই তার পাকিস্তান সফরের একমাত্র উদ্দেশ্য। পাকিস্তান-ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন না তিনি। আমার মনে হয়, ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথাতেই সব কিছু স্পষ্ট। নতুন করে আর কিছু বলার নেই।’
এর আগে শনিবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এস জয়শঙ্কর বলেছেন, এই সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সম্ভাবনা নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি একটি বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে যাচ্ছি না আমি।
আগামী ১৫ এবং ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হবে এসসিও সম্মেলন। সেখানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জয়শঙ্কর।
গত মাসে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতকে কাশ্মীর ইস্যুতে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ওই সময় পালটা জবাব দিয়েছিলেন জয়শঙ্করও। তার পর প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি পাকিস্তানে এসসিও সামিট বয়কট করবে ভারত? তবে এসসিওর অন্য সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি করতে চায় না বলেই সামিটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক আগের জায়গাতেই থাকবে অনুমান বিশ্লেষকদের।
এবারের পূজায় কলকাতা মাতাবে যে ৩ সিনেমা
শুরু হয়েছে পাঁচ দিনব্যাপী সনাতন ধর্মামলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে গতকাল মুক্তি পেয়েছে তিন সিনেমা। সিনেমাগুলোতে দেখা গেছে জনপ্রিয় সব অভিনয়শিল্পীদের। তাই তো ছবিগুলোকে ঘিরে সিমেনাপ্রেমিকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উত্তেজনা।
সৃজিতের ‘টেক্কা’
এবার পূজার অন্যতম প্রতীক্ষিত ছবি হলো ‘টেক্কা’। সৃজিত মুখোপাধ্যায় পরিচালিত দেব এন্টারটেইনমেন্ট ভেঞ্চারস প্রযোজিত ছবিটিতে প্রধান চরিত্রে রয়েছেন দেব, স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ও রুক্মিণী মৈত্র।
বেশ অনেক দিন পর আবারও একটি থ্রিলার অ্যাকশন ছবিতে দেখা যাবে দেবকে। নিজের চাকরি ফেরত পেতে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে ইকলাখ ওরফে দেব। ট্রেলারেই উত্তেজনা বাড়িয়েছে ‘টেক্কা’, মুক্তির পর থেকেই দর্শক-সমালোচকের প্রশংসা পাচ্ছে সিনেমাটি। আর কিছুদিন পরে বোঝা যাবে বক্স অফিসে অন্য সিনেমাগুলোকে টেক্কা দিতে পেরেছে কি না সিনেমাটি।
পথিকৃতের ‘শাস্ত্রী’
এবার বক্স অফিসে মুখোমুখি থাকছেন মিঠুন চক্রবর্তী ও দেব। দীর্ঘদিন পর দেবশ্রী রায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন ‘মহাগুরু’।
‘শাস্ত্রী’ হয়ে ফিরেছেন মিঠুন। ছবির গল্প অনুযায়ী, খুবই জ্যোতিষ বিশ্বাসী মিঠুনের চরিত্রটি। একসময় নানা ঘটনার পর ছা-পোষা মধ্যবিত্ত থেকে শাস্ত্রী হয়ে ওঠেন তিনি।
ছবিতে মিঠুন দেবশ্রী ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন সোহম চক্রবর্তী। পথিকৃৎ বসু পরিচালিত ছবিটি প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন সুরিন্দর ফিল্মস এবং সোহমস এন্টারটেইনমেন্ট অ্যান্ড ক্রিয়েটিভ সলিউশনস।
নন্দিতা-শিবপ্রসাদের ‘বহুরূপী’
গত বছর থেকে পূজায় ছবি মুক্তি দিচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা উইন্ডোজ প্রোডাকশন। গত বছরের আলোচিত ‘রক্তবীজ’-এর পর এবার তাদের পরিবেশনা ‘বহুরূপী’। দীর্ঘদিন পর পরিচালনার সঙ্গে সঙ্গে অভিনয়ও করেছেন শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।
এই সিনেমাটিতে রয়েছেন কৌশানী মুখোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায় এবং ঋতাভরী চক্রবর্তী। ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত সময়ের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হবে ছবিতে। এ ছবিটিও মুক্তির পর প্রশংসিত হচ্ছে।
৬৪ বছর আগে যে গানে খরচ হয়েছিল ১ কোটি রুপি
৬৪ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬০ সালে মুক্তি পেয়েছিল মোগল-ই-আজম সিনেমা। বলিউডের ইতিহাসে এই সিনেমার সংলাপ, গান ও সেট আজও অতুলনীয়। অনেক বাণিজ্য বিশেষজ্ঞের মতে, মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করলে ‘মোগল-ই-আজম’ হিন্দি চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আজও সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা হিসেবে জায়গা ধরে রেখেছে।
শাহজাদা সেলিমের বিদ্রোহ ও অনারকলির অতুলনীয় সৌন্দর্য ইতিহাসের পাতায় চলচ্চিত্রটি পাকাপোক্ত জায়গা করে নেয়। এটি তখনকার সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভারতীয় সিনেমা। এ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন পৃথ্বীরাজ কাপুর, দিলীপ কুমার, মধুবালা ও দুর্গা খোটে।
এই মোগল-ই-আজম সিনেমার জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘পিয়ার কিয়া তো ডরনা কিয়া’। আজও বিন্দুমাত্র ফিকে হয়নি মাস্টারপিস এ গানের আবেদন। এই গানটি সৃষ্টি হওয়ার পেছনের বেশ মজার ঘটনা রয়েছে ।
মোহন স্টুডিওতে ‘পিয়ার কিয়া তো ডরনা কিয়া’ গানের চিত্রায়ণ হয়েছিল। লাহোর দুর্গের শীশ মহলের অনুকরণে গানের সেট তৈরি করা হয়েছিল। বিশাল ওই সেটের দৈর্ঘ্য ছিল ১৫০ ফুট, প্রস্থ ৮০ ফুট ও উচ্চতা ৩৫ ফুট।
দুই বছর এই গানের সেট তৈরি করতে সময় লেগেছিল। আর গানের জন্য খরচ হয়েছিল ১ কোটির রুপির বেশি। ওই সময় এর থেকে কম খরচে একটা হিন্দি সিনেমা বানানো যেত।
ছবির পরিচালক ও সুরকার এ গান নিয়ে এতটাই সিরিয়াস ছিলেন যে বহুবার সম্পাদনার পর গানটি চূড়ান্ত রূপ পায়। গীতিকার শাকিল বাদায়ুনি প্রায় ১০৫ বার কাটাছেঁড়া করার পর অবশেষে লিরিক পছন্দ হয় সুরকার নওশাদের। কিংবদন্তি শিল্পী লতা মঙ্গেশকরকে আইকনিক গানটি গাওয়ার জন্য বেছে নেন নওশাদ। নওশাদ গানটিতে ‘ইকো ইফেক্ট’ চাইছিলেন। কিন্তু ওই সময় পোস্ট-প্রোডাকশনে ইকো যোগ করার মতো পর্যাপ্ত সাউন্ড ইফেক্ট ছিল না।
অবশ্য পরে সুরকার নওশাদ একটি বুদ্ধি বের করেন। লতা মঙ্গেশকরকে দিয়ে স্টুডিওর বাথরুমে গানটি গাওয়ানোর ব্যবস্থা করেন তিনি, যাতে প্রতিধ্বনি তৈরি হয়।
সবার এই পরিশ্রম বৃথা যায়নি। মুক্তির পর ‘মোগল-ই-আজম’ ব্লকবাস্টার হয় আর দর্শকহৃদয়ে স্থান করে নেয় চিরদিনের জন্য।
ফের সাত পাকে বাঁধা পড়লেন সঞ্জয় দত্ত!
২০০৩ সালে প্রকাশ ঝা-র ফিল্ম ‘গঙ্গাজল’-এ আইটেম ডান্স করে দর্শকের নজরে এসেছিলেন তিনি। বলিউডে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে তার পর বহু কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে তাকে। কিন্তু জনপ্রিয়তা মেলেনি সে ভাবে। কিন্তু বলি ইন্ডাস্ট্রিতে তার কাজ যতটা না তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে, তার চেয়েও অনেক বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন সঞ্জয় দত্তের স্ত্রী হিসাবে। ২০০৮ সালে সঞ্জয় বিয়ে করেন মান্যতাকে। সঞ্জয়ের বোনেরা (প্রিয়া এবং নম্রতা) মান্যতাকে তাদের পরিবারের সদস্য হিসাবে কোনও দিন মেনে নেননি। তবে সঞ্জয়ের জীবনে মান্যতার গুরুত্ব ব্যাপক। তার ডায়েট, ফিটনেস, টাকাপয়সা এমনকি ফিল্ম বাছাই করার সিদ্ধান্তেও মান্যতার মতামত মেনে চলেন সঞ্জয়। এ বার ৬৫-তে পা দিয়ে ফের বিয়ে করলেন অভিনেতা।
সঞ্জয়ের জীবনে বহু নারীর অবদান রয়েছে। প্রথমে অভিনেত্রী টিনা মুনিমের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়েছিল। তবে বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়নি সেই সম্পর্ক। ১৯৮৭ সালে প্রথম বিয়ে করেন অভিনেত্রী রিচা শর্মাকে। মাথায় টিউমারে রিচার মৃত্যুর পর তার জীবনে আসেন মডেল রিয়া পিল্লাই। রিয়া পিল্লাইয়ের সঙ্গে খুব বেশি দিন সংসার করা হয়নি তার। দু’জনের বিচ্ছেদ হয়। তার পরই তার জীবনে আসেন মান্যতা। মান্যতা সঞ্জয় দত্তের তৃতীয় স্ত্রী। তবে সঞ্জয়ের নিজের বয়ানে, মান্যতার সঙ্গে সম্পর্কের আগে ৩০৮টি ব্যর্থ সম্পর্ক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু মান্যতাই যে তার জীবনের শেষ মানুষটা সেটা বুঝিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। স¤প্রতি একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয়েছে সেখানেই দেখা যাচ্ছে গেরুয়া রঙের ধুতি, পাঞ্জাবি পরেছেন অভিনেতা। আর তার স্ত্রী মান্যতার পরনে সাদা রঙের সালোয়ার কামিজ। মাথায় ওড়না দিয়ে ঘোমটা দেওয়া। অগ্নিসাক্ষী রেখে বৌয়ের হাত ধরে ঘুরেছেন সঞ্জয়। যা দেখে অনেকে অবাকই হয়েছেন। শোনা যাচ্ছে নতুন ফ্ল্যাট কিনেছেন অভিনেতা। গৃহপ্রবেশের দিন ফের এক বার পুরানো স্মৃতি তাজা করলেন তিনি।
সেমির রেসে টিকে থাকার ম্যাচে রাতে মাঠে নামছে বাংলাদেশ
নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রæপপর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। শারজায় ম্যাচটি মাঠে গড়াবে বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায়। সেমির রেসে টিকে থাকতে যেখানে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।
এর আগে গ্রæপপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৬ রানের জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর সুযোগ তৈরি হয়েছিল শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে হারানোর। তবে ব্যাটারদের ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব হয়নি। ইংল্যান্ডকে ১১৮ রানে থামানোর পরও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছে ২১ রানের ব্যবধানে। তাতে কঠিন হয়ে গেছে বাংলাদেশের সেমির রাস্তা।
সেই কঠিন রাস্তা সহজ হতে পারে আজ নিগার সুলতানা জ্যোতির দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে দিলে। কেননা, গ্রæপপর্বে এরপর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামতে হবে বাংলাদেশকে। যেখানে মেলাতে হবে অনেক সমীকরণ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অবশ্য এখনও টি-টোয়েন্টিতে কোনো জয় নেই বাংলাদেশের। আগের তিনবারের দেখায় একবারও জয় পায়নি বাংলাদেশ। তিনবারই হেরেছে বড় ব্যবধানে। তবে এবার জ্যোতিরা চায় ভিন্ন গল্প লিখতে। সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে সেমির রাস্তা পরিষ্কার করতে।
সাকিব কেন রাজনীতিতে জড়ালেন, জানালেন আসল কারণ
বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দুই মাস পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করলেন। সেই সঙ্গে রাজনীতি আসার বিষয়টিও তিনি পরিষ্কার করেছেন। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে আন্দোলনে সরব উপস্থিত না থাকতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
গত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ না হতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করাতে ব্যাপক সমালোচনার শিকার হন তিনি। অনেকে প্রশ্ন তোলেন সাকিব কেন রাজনীতিতে যোগ দিলেন? তার উদ্দেশ্য কি? এ বিষয়টি নিয়ে এতদিন চুপ থাকলেও এবার রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আসল কারণ জানিয়েছেন সাকিব নিজেই।
রাজনীতিতে জড়ানোর ব্যাখ্যায় সাকিব বলেন, আমি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ছিলাম। আমার রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াটা ছিল মূলত আমার জন্মস্থান অর্থাৎ আমার মাগুরার মানুষের উন্নয়নের জন্য সুযোগ পাওয়া। আপনারা জানেন যে, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নির্দিষ্ট কোনো দায়িত্ব ছাড়া নিজের এলাকার উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখাটা একটু কঠিন। আর আমার এই এলাকার উন্নয়ন করতে চাওয়া আমাকে সংসদ সদস্য হতে আগ্রহী করে। যাই হোক দিনশেষে আমার পরিচয় আমি একজন বাংলাদেশের ক্রিকেটার। আমি যখন যেখানে যে অবস্থাতেই থেকেছি অন্তর থেকে ক্রিকেটকেই ধারণ করেছি।
তিনি আরও লিখেছেন- এই ক্রিকেটকে ধারণ করে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সম্মান অর্জন করার পথে এগিয়ে নিয়ে গেছেন আপনারা। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন আমাকে আজকের সাকিব আল হাসান বানিয়েছে। আমি যখন দেশের জন্য ক্রিকেটের মাঠে ব্যাট ধরেছি তখন আমার সাথে ব্যাট ধরেছেন আপনারা সবাই। গ্যালারি থেকে আপনাদের চিৎকার, আপনাদের সমর্থন আমাকে ভালো খেলার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। ক্রিকেট ম্যাচের দিন চায়ের দোকানে টেলিভিশনের সামনে উপচেপড়া ভিড় আমাকে শক্তি জুগিয়েছে। আমি জিতলে আপনারা সবাই জিতেছেন। আমি হেরে গেলে হেরে গেছেন আপনারা সবাই।
দেশের মাটিতে সাদা পোশাকে শেষ ম্যাচ খেলার আকুতি জানিয়ে সাকিব বলেন, আপনারা জানেন, খুব শীঘ্রই আমি আমার শেষ ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি। আমার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজকের সাকিব আল হাসান হয়ে ওঠা পর্যন্ত এই পুরো জার্নিটাকে ড্রাইভ করেছেন আপনারা। ক্রিকেটের এই গোটা গল্পটা আপনাদের হাতেই লেখা! তাই আমার শেষ ম্যাচে, এই গল্পের শেষ অধ্যায়ে, আমি আপনাদের পাশে চাই। আমি আপনাদের সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিদায় নিতে চাই। বিদায় বেলায় সেই মানুষগুলোর হাতে হাত রাখতে চাই, যাদের হাতের তালি আমার ভালো খেলতে বাধ্য করেছে। বিদায় বেলায় সেই মানুষগুলোর চোখে চোখ রাখতে চাই, আমার ভালো খেলায় যাদের চোখ আনন্দে উচ্ছ¡সিত হয়েছে। আবার আমার খারাপ খেলায় যাদের চোখ ছলছল করেছে।
আমি আশা করি, শুধু আশা না বিশ্বাস করিÑএই বিদায় বেলায় আপনারা সবাই আমার সঙ্গে থাকবেন। সবাই সঙ্গে থেকে সেই গল্পের ইতি টানবেন, যে গল্পের নায়ক আমি নই, আপনারা!
রতন টাটার পরলোকগমন, বিরাট সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারী হবেন কে?
ভারতের প্রখ্যাত শিল্পপতি রতন টাটা পরলোকগমন করেছেন। বয়সজনিত সমস্যা নিয়ে মুম্বইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন তিনি। বুধবার রাতে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
রোববার রাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর মিলেছিল যে রতন টাটাকে মুম্বইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আরো দাবি করা হয়েছিল, আচমকা তার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়েছে।
কিন্তু সোমবার সকালেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শিল্পপতি নিজেই জানিয়েছিলেন, সব খবর ভুয়া। বরং বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যার কারণে নিয়মমাফিক চেক-আপের জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন তিনি। এর পর বুধবার রাতে তার মৃত্যুর খবর পাওয়া গেল।
১৯৩৭ সালে জন্ম। দীর্ঘ জীবনকালে শিল্পপতি হিসেবে একের পর এক নজির গড়েছেন। ঝুলিতে এসেছে পদ্মভূষণ এবং পদ্মবিভূষণ। তথ্য বলছে, তিনি রেখে গেলেন ৩৮০০ কোটি ভারতীয় টাকার (রুপি) সম্পত্তি। তার পরলোকগমনে এই বিরাট সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার কে হবেন? জল্পনা তা নিয়েও।
এই বিষয়ে বেশ কয়েকটি নাম উঠে আসছে –
অন্যতম নাম হলো নোয়েল টাটা। তিনি নেভাল টাটা এবং সিমোনের সন্তান।
এছাড়া তার তিন সন্তান মায়া, নেভিল এবং লেয়াকেও টাটার উত্তরাধিকারের তালিকায় রাখা হয়।
নেভিল ট্রেন্ট লিমিটেডের স্টার বাজার দেখভাল করেন। স্পেনের আইই বিজনেস স্কুল থেকে পড়েছেন লেহা। ইন্ডিয়ান হোটেল কোম্পানি এবং তাজ-এ তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অন্যদিকে ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে অন্যতম বুদ্ধিমতী মনে করা হয় মায়াকে। টাটা অপার্চুনেটিস্ট ফান্ড এবং টাটা ডিজিটালেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে : প্রশ্ন রিজভীর
শেখ হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ-যুবলীগ অপকর্ম করলেও কোনো মামলা নেয়নি থানা পুলিশ। কিন্তু ড. মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের সময়ে এসে এত অপকর্ম করেও সাবেকমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেলেন। তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে- এমন প্রশ্ন রেখেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
আজ বৃহস্পতিবার খিলগাঁও এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই প্রশ্ন রাখেন। সাবেকমন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর বিচারের দাবিতে খুন ও গুমের শিকার পরিবারগুলো এই প্রতিবাদ সমাবেশ করে।
সাবেক মন্ত্রী সাবের হোসেন চৌধুরীর কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, আপনি তো হাসিনার উত্তরসূরী, আপনিও তো তার মতো আপনার এলাকায় বিরোধী দলকে নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিলেন, বিরোধী দল রাখতে চান নাই।
তিনি বলেন, খিলগাঁও এলাকায় সাবের হোসেন চৌধুরীর আমলে ১১ জন নেতাকর্মীকে গুম-খুন করা হয়েছে। তরুণ টগবগে যুবক জনিকে ১৬টি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। আমি কিভাবে জনির মা-বাবা আর স্ত্রীর চোখের পানি মুছব? এমন টিস্যু পেপার এখনো তৈরি হয়নি। যার সন্তান চলে গেছে, তার চোখের পানি মুছার টিস্যু পেপার এখনো আবিষ্কার হয়নি।
জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যা ও খুনি কারা ছিল- এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, এই সাবের হোসেন চৌধুরীরাই শেখ হাসিনার সহযোগী ছিলেন। তিনি তো স্বৈরাচার শেখ হাসিনার মাধ্যমে লালিত পালিত। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে র্যাব গুলি করেছে এবং র্যাবের লোগো সম্বলিত হেলিকপ্টার দেখা গেছে। এখন র্যাব যা বলছে তা অসত্য।
রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস হলেন বিপ্লব ও আন্দোলনের সরকার, জনগণ সমর্থন দিয়েছে। শেখ হাসিনার আমলে ছাত্রলীগ যুবলীগের অপকর্মের কোনো মামলা হয়নি। থানা পুলিশ মামলা নেয়নি। কিন্তু ড. ইউনূস সরকারের সময়ে এসে এত অপকর্ম করলেও সাবের হোসেন চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন পেলেন। তাহলে এই সরকার কাকে প্রটেকশন দিচ্ছে?
রিজভী বলেন, আমাদের ১৫ বছরের আন্দোলনের মূল ছিল আইনের শাসন ও স্বাধীন বিচার বিভাগ। অপকর্ম করলে পুলিশ মামলা নিবে সেটি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি দেখে নয়। খিলগাঁও এলাকায় অসংখ্য নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এর জন্য কি সাবের হোসেন চৌধুরী দায়ী নন?


