কনুইয়ের চোটে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে থেকে ছিটকে গেছেন টেম্বা বাভুমা। শঙ্কা জেগেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে তার খেলা নিয়েও।
বাংলাদেশ সফরে দুটি টেস্ট খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগামী ২১ অক্টোবর মিরপুরে শুরু হবে প্রথমটি। দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচ শুরু ২ নভেম্বর, চট্টগ্রামে। আইরিশদের বিপক্ষে গত শুক্রবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় চোট পান বাভুমা। রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি ৩৫ রান করে। পরে ফিল্ডিংও করেননি দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। দেশে ফিরে চোট নিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেবেন বাভুমা। তখন হয়তো জানা যাবে কতদিন মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
বাভুমার অনুপস্থিতিতে আয়ারল্যান্ড সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে নেতৃত্ব দেবেন রাসি ফন ডার ডুসেন। এরই মধ্যে ২-০ তে এগিয়ে যাওয়া এই সিরিজে বিশ্রামে আছেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক এইডেন মার্করাম।
ওয়ানডে ও টেস্ট অধিনায়ক বাভুমার কনুইয়ের চোট অবশ্য নতুন নয়। ২০২২ সালে ভারত সফরে টি-টোয়েন্টি সিরিজের সময়ে একই কনুইয়ে আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। যার ফলে ইংল্যান্ড সফর থেকে ছিটকে যান টপ অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। পরে ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে মাঠে ফেরেন বাভুমা। তার নেতৃত্বে সেই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। এরপর টি-টোয়েন্টির অধিনায়কত্ব হারান তিনি। এরপর থেকে বিভিন্ন চোটে নানা সময়ই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বাভুমাকে। ২০২৩ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলতে পারেননি তিনি। ভারতের বিপক্ষে গত বছর বক্সিং ডে টেস্টে বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে পড়েন প্রোটিয়া অধিনায়ক।
পুরোপুরি সেরে না ওঠায় গত ফেব্রুয়ারিতে নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজে খেলতে পারেননি বাভুমা। চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে কেবল একটি সিরিজই পুরোপুরি খেলা হয়েছে তার, গত আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্ট।
চলতি চক্রে দক্ষিণ আফ্রিকার এখনও ছয়টি টেস্ট বাকি আছে; দুটি বাংলাদেশ সফরে এবং দুটি করে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে। আগামী জুনের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে তাদের কমপক্ষে পাঁচটি ম্যাচ জিততে হবে।
বাংলাদেশ সফরে বাভুমার খেলা নিয়ে শঙ্কা
কীভাবে ১৮০ রান করতে হয় জানে না বাংলাদেশ: অধিনায়ক শান্ত
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। লক্ষ্য আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখন থেকেই নিজেদের প্রস্তুত করা। পুরনো ক্রিকেট থেকে সরে এসে আধুনিক ক্রিকেট খেলা। সেই লক্ষ্যের শুরুটা হলো ভয়াবহ। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং উইকেটে বাংলাদেশের সংগ্রহ মোটে ১২৭। যেই লক্ষ্য কিনা মাত্র ১১.৫ ওভারে ৭ উইকেট হাতে রেখে টপকে গেছে ভারত।
এমন হারের পর প্রশ্ন উঠেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং অ্যাপ্রোচ নিয়ে। ব্যাটারদের সামর্থ্য নিয়ে। এই অবস্থায় ম্যাচ শেষে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানালেন, কীভাবে ১৮০ রান করতে হয় জানা নেই তার ব্যাটারদের। আর এর জন্য তিনি দায়টা চাপিয়েছেন বাংলাদেশের উইকেটের ওপর।
শান্ত বলেন, ‘আমাদের সামর্থ্য আছে। সামর্থ্য অবশ্যই আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। তবে দক্ষতা উন্নতির অনেক জায়গা আছে। কিন্তু এই উন্নতি কীভাবে হবে? আমি যদি গত ১০ বছর দেখি, আমরা এ রকমই ব্যাটিং করে যাচ্ছি। মাঝেমধ্যে হয়তো ভালো ব্যাটিং করি।’
কীভাবে ব্যাটিংয়ে উন্নতি আনা যায়, সেটা জানাতে গিয়ে নাজমুল বলেন, ‘এটার জন্য আমরা ঘরের মাঠে যখন অনুশীলন করি, তখন উইকেটের পরিবর্তনৃকিছু না কিছু একটা পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা যখন ঘরের মাঠে খেলি, তখন ১৪০-১৫০ রানের উইকেটই হয়। ব্যাটসম্যানরা ওই রানটা কীভাবে করতে হয়, সেটা জানে। কিন্তু আমরা জানি না কীভাবে ১৮০ করা যায়। ওই ধরনের উইকেট অনুশীলন করলে হয়তো আমাদের আরেকটু উন্নতি হবে। তবে আমি শুধু উইকেটের দোষ দেব না। এখানে মানসিক অনেক ব্যাপার থাকে।’
আগামী ৯ অক্টোবর সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। সেখানে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে শান্ত বলেন, ‘ঘুরে তো দাঁড়াতেই হবে। কীভাবে আমরা কামব্যাক করতে পারি, সেটা দেখতে হবে। আমার মনে হয়, আমাদের সবারই দায়িত্ব নিতে হবে।’
আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে বিশ্বকাপ ঘরে তুলল ব্রাজিল
ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। উজবেকিস্তানের সেই ফাইনালে অবশ্য শেষ হাসিটা হেসেছে ব্রাজিলই। আর্জেন্টিনার হৃদয় ভেঙে ২-১ গোলের জয়ে বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তুলেছে ব্রাজিল। তাতে হেক্সা মিশনও পূর্ণ হয়েছে ব্রাজিলের।
ফুটবলে ব্রাজিলের হেক্সা মিশন থমকে গেলেও বিচ সকারের পর এবার ফুটসালেও হেক্সা পূর্ণ করেছে ব্রাজিল। তাও আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার বিপক্ষে প্রতিশোধ নিয়ে।
সবশেষ আসরে ব্রাজিলকে হারিয়েই ফাইনালে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। যদিও পরে সেখান থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের। এবারই ফাইনালে উঠে সেই শূন্য হাতেই ফিরতে হলো তাদের। আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জিতে সেমিতে হারার সেই প্রতিশোধ নিয়ে রাখল ব্রাজিল।
উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দের হুমো অ্যারেনায় হওয়া ফিফা ফুটসাল বিশ্বকাপের ফাইনালে ৪০ মিনিটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখেছে ফুটবলপ্রেমীরা। যেখানে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলে জিতে চ্যাম্পিয়ন হয় সেলেসাওরা। এদিন ম্যাচের পঞ্চম মিনিটে মার্সেনিওর বাড়ানো বল থেকে আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠান ফেরাও। খেলায় ফেরার চেষ্টা চালিয়ে উল্টো ১২ মিনিটে এসে আরেক গোল হজম করে বসে আর্জেন্টিনা। রাফা সান্তোসের গোলে ব্যবধান দ্বিগুন করে ব্রাজিল। ২-০ তে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় সেলেসাওরা।
দ্বিতীয়ার্ধেও ব্রাজিলের রক্ষণের পরীক্ষা নিতে থাকে আর্জেন্টিনা। গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠা দলটির গোলরক্ষকও উঠে আসে আক্রমণে। খেলার শেষ হওয়ার দুই মিনিট আগে আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক রোসার নেয়া শট ব্রাজিলের এক ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বল চলে যায় জালে। তবে তাতে ম্যাচের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে ফুটসালে নিজেদের হেক্সা মিশন পূরণ করে ব্রাজিল।
ভারতের ‘বি টিমের’ কাছেই নাজেহাল বাংলাদেশ
ভারতের ‘বি টিমের’ সঙ্গেই পেরে উঠল না বাংলাদেশ। দেশটির টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের বেশিরভাগ সদস্যই বাংলাদেশ সিরিজের স্কোয়াডে নেই। সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বে খেলছেন একঝাঁক তরুণ ক্রিকেটার। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতেই হলো দুজন খেলোয়াড়ের অভিষেক। অথচ এই দলটির কাছে বাংলাদেশ হেরে গেল ৭ উইকেটে। বাংলাদেশের দেওয়া ১২৮ রানের লক্ষ্য ৪৯ বল হাতে রেখেই তাড়া করল স্বাগতিকরা।
গোয়ালিয়রের সিনদিয়া স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ১৯.৫ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ১২৭ রান তুলতে সমর্থ হয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। সর্বোচ্চ ৩৫ রান আসে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাটে। ২৭ রান করেন অধিনায়ক শান্ত। এই দুজন বাদে ২০-এর ঘর ছুঁতে পারেননি আর কোনো ব্যাটার।
ভারতের পক্ষে সর্বোচ্চ তিনটি করে উইকেট পান পেসার আর্শদীপ সিং ও স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী।
রান তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই টি-টোয়েন্টি মেজাজে খেলে ভারত। ওপেনার অভিষেক শর্মা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে রান আউট হওয়ার আগে করেন ৭ বলে ১৬ রান। অন্য ওপেনার সঞ্জু স্যামসন এবং অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রানের জুটিতে দলকে জয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে দেন। ২৯ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন সূর্যকুমার। অন্যদিকে মিরাজ তুলে নেন স্যামসনকে (২৯)।
পাঁচে নেমে হার্দিক পান্ডিয়া ১৬ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৩৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক ভারত। ৯ অক্টোবর দিল্লিতে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হবে দুই দল।
বচ্চন পরিবার নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য
জয়া বচ্চনকে নিয়ে বলিপাড়ায় আলোচনার শেষ নেই। তিনি নাকি বদমেজাজী, তার জন্য নাকি ভালো নেই ঐশ্বরিয়া-অভিষেক এ হেন হাজারো মন্তব্য কান পাতলেই শোনা যায়। তবে জানেন কি, একবার জয়াকে নিয়েই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছিলেন সমাজবাদী পার্টিরই অন্যতম পরিচিত মুখ রাজনীতিবিদ অমর সিং। সংবাদমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, শাশুড়ি মা ও শ্বশুরমশাইয়ের সঙ্গে নাকি বিন্দুমাত্র বনিবনা হয় না জয়ার।
বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় তারকা দম্পতি অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন। তারা বিয়ে করেন ১৯৭৩ সালে। বিয়ের পরেই জয়া বচ্চন চলচ্চিত্র থেকে খানিক বিরতি নেন। পরিবার এবং সন্তানদের ঘিরেই তখন তার জীবন বলা চলে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে জানা যায়, পরিবারের জন্য সিনেমা থেকে দূরে গেলেও শ্বশুর-শাশুড়ির সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক ছিল জয়ার। অমিতাভ বচ্চনের বাবা হরিবংশ রাই বচ্চন একজন নামকরা হিন্দি কবি ছিলেন। তার মা তেজি বচ্চন। ‘দৈনিক ভাস্কর’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অধুনা প্রয়াত এই রাজনীতিবিদ দাবি করেন, জয়ার কারণেই নাকি আলাদা বাড়িতে আজীবন থেকে গিয়েছেন অমিতাভের বাবা-মা। আগে অমিতাভের বাবা-মা অর্থাৎ হরিবংশ রাই বচ্চন ও তেজি বচন থাকতেন দিল্লিতে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছেলে অমিতাভের কাছে চলে আসেন তারা। প্রথমে সবাই একসঙ্গেই ছিলেন।
অমর সিং দাবি করেন, জয়া নাকি শ্বশুর-শাশুড়ির এই আচমকাই অনুপ্রবেশ মেনে নিতে পারেননি। বাধ্য হয়েই অমিতাভের বাংলো প্রতীক্ষাতে থাকতে শুরু করেন অমিতাভের বাবা-মা। অমিতাভের আর এক বাংলো ‘জলসা’তে সন্তানদের নিয়ে থাকা শুরু করেন জয়া। অমিতাভ যদিও জলসা নয়, বেছে নেন বাবা-মাকেই। থাকতে শুরু করেন প্রতীক্ষাতে।
হরিবংশ রাই বচ্চন তার আত্মজীবনীতে জয়ার পরিবারকে নিয়ে মুখ খুলেছিলেন। জানিয়েছিলেন ছেলেকে বিয়ে দেওয়ার পর জয়ার বাবা তরুণ কুমার ভাদুড়ির কাছ থেকে ঠিক কী শুনতে হয়েছিল তাকে। হরিবংশ জানান, বিয়ে সবে শেষ হয়েছে। কিছুটা মজার ছলেই তিনি তরুণ কুমারের কাছে গিয়ে বলেন, ‘এত সুন্দর জামাই পাওয়ার জন্য আপনাদের অভিনন্দন’। উত্তরে নাকি তরুণ কুমার বলেছিলেন, ‘আমাদের পরিবারটাই শেষ হয়ে গেল।’
হেলেনা জাহাঙ্গীর ও রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা
আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী হেলেনা জাহাঙ্গীর ও অভিনেতা রাসেল মিয়ার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির অভিযোগে মামলা হয়েছে।
রোববার (৬ অক্টোবর) নেসার উদ্দিন বাহাদুর নামে এক ব্যক্তি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালতে মামলা করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মতিঝিল থানা পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাসেল মিয়া হেলেনা জাহাঙ্গীরকে তার কথিত বোন বলে পরিচয় দেয়। নিজেকে অত্যন্ত প্রতাপশালী বিখ্যাত চিত্রনায়ক বলে দাবি করে। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার সাড়ে ৭ টার দিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরের পাপমুক্ত ছবির একটি বক্তব্য নেসার উদ্দিনের দৃষ্টিগোচর হয়। সেখানে হেলেনা জাহাঙ্গীর বলেন, ওযু করে হলে গিয়ে ছবি দেখে বের হয়ে নামায পড়তে পারবে। তার এধরণের বক্তব্য সমস্ত মুসলিমদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও ন্যক্কারজনক। যা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে। তিনি অত্যন্ত সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিতভাবে সচেতন অভিপ্রায়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে।
এতে আরও বলা হয়, রাসেল মিয়া গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে থানায় গিয়ে আবারও কোরআন শরীফ ছুঁয়ে মিথ্যা বলতে দেখা যায়। এভাবে একাধিকবার কোরআন শরীফ ছুঁয়ে মিথ্যাকে সত্য প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালায় যা মুসলিম সমাজে কোরআন অবমাননা ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীর নিদর্শন। ধর্মকে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ব্যবহার করার উদ্দেশ্যে হেলেনা জাহাঙ্গীর ইসলাম ধর্ম বিরোধী কথা বলে এবং রাসেল মিয়া পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে মিথ্যা শপথ করে সারা দেশের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে সচেতন অভিপ্রায় নিয়ে আঘাত করে।
‘লেডি কিলার’ রণবীর যে ৯ নারীর প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছেন
অভিনেত্রী আলিয়া ভাটকে বিয়ে করে থিতু হয়েছেন বলিউডের হার্টথ্রব রণবীর কাপুর। ২০২২ সালে এই জুটি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। সে বছরই তাদের ঘর আলো করে আসে কন্যাসন্তান রাহা কাপুর।
তবে আলিয়াকে বিয়ের আগে তরুণ রণবীরের জীবনে এসেছেন অনেক নারী। বলিউডের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নায়িকার সঙ্গে জড়িয়েছে তার নাম। স¤প্রতি ‘লেডি কিলার’ রণবীরের সেই প্রাক্তনদের নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতের বহুল প্রচারিত সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সে প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, রণবীর কলেজ জীবনে প্রথম অবন্তিকা মালিকের প্রেমে পড়েছিলেন। তবে সেই সম্পর্ক বেশি দূর গড়ায়নি; অবন্তিকা বিয়ে করেছিলেন আমির খানের ভাগ্নে অভিনেতা ইমরান খানকে।
কারিশমা কাপুরের প্রাক্তন স্বামী সঞ্জয় কাপুরের প্রথম স্ত্রী ফ্যাশন ডিজাইনার নন্দিতা মাহতানির প্রেমেও হাবুডুবু খেয়েছেন রণবীর। তবে বয়সের পার্থক্যের জেরে সে সম্পর্ক টেকেনি।
‘আজব প্রেম কি গজব কাহানি’ সিনেমার শুটিং চলাকালে গুঞ্জন ছিল ক্যাটরিনার সঙ্গে রণবীরের প্রেমের। পারিবারিক মধ্যাহ্নভোজেও অংশ নিয়েছিলেন ক্যাট; তবে এই সম্পর্ক ভাঙে ‘জগ্গা জাসুস’ সিনেমার শুটে। তাদের সৈকত-ভ্রমণের ছবি ফাঁস হওয়ার পর দীর্ঘদিন আলোচনা ছিল।
অভিষেক সিনেমা ‘সাওয়ারিয়া’র শুট চলাকালে সোনম কাপুর ও রণবীর কাপুরের প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। তবে এই সম্পর্ক ভালোভাবে শেষ হয়নি; একটি শোতে হাজির হয়ে রণবীরের নামে অভিযোগের পাহাড় তুলে বিচ্ছেদের খবর শুনেয়েছিলেন নায়িকা।
দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে রণবীর কাপুরের প্রেম সবচেয়ে আলোচিত হয়। ‘বাচনা এ হাসিনো’ সিনেমার শুটে এই প্রেম শুরু হয়; নায়িকা নিজের ঘাড়ে ট্যাটুও এঁকেছিলেন রণবীরের নামে। তবুও সেই সম্পর্ক টেকেনি শেষ অবধি।
পাকিস্তানি অভিনেত্রী মাহিরা খানের সঙ্গেও প্রেমের গুঞ্জন ছিল রণবীর কাপুরের। দুজনকে দেখা গিয়েছিল নিউইয়র্কের রাস্তায়। যদিও এ প্রেম দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
নার্গিস ফাখরির সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন ছিল রণবীর কাপুরের। রণবীরের মা নীতু কাপুরের সঙ্গেও এই অভিনেত্রীর দারুণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। একসাথে অনেক বার আড্ডা দিতে দেখা গেলেও তারা কখনোই সম্পর্কের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
২০১১ সালে অ্যাঞ্জেলা জনসন রণবীর কাপুরের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর কথা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেছিলেন। তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে এই সম্পর্কের ইতি টানেন রণবীর।
বিএডিবি’র ক্যানসার বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়্যার ভ্যালী (বিএডিবি) আয়োজিত ক্যানসার সচেতনতা এবং ঝুঁকি হ্রাস সম্পর্কিত সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার (৬ অক্টোবর) ইসলামিক সেন্টার অফ ডেলাওয়ার কাউন্টিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। বিএডিবি’র চলমান কমিউনিটি আউটরিচ উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেফারসন হেলথের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে ক্যানসার রোগ এবং এর প্রতিরোধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বিশেষজ্ঞ ড. এম. শীফাত এবং ডা. ইউ. ফাতিমা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন রাজিয়া সুলতানা তানিয়া, মাজরেহা বিনতে জাহের।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়্যার ভ্যালী (বিএডিবি) এর সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া জানান, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটিতে সমাজ সচেতনামূলক বিভিন্ন সেমিনার আমরা চালিয়ে যাব, যা কমিউনিটির উপকারে আসবে। কমিউনিটির কাছে এটা আমাদের দায়বদ্ধতা।

সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমে কমিউনিটির স্বাস্থ্য ও কল্যাণে পার্থক্য গড়ে তোলা সম্ভব বলেও জানান সভাপতি ফারহানা আফরোজ পাপিয়া।
অনুষ্ঠানে উল্লেখজনক সংখ্যক দর্শক অংশ নেন। এসময় তারা এ ধরনের উদ্যেগ নেওয়ায় বিএডিবি’র ভূয়শি প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরো অনুষ্ঠান আয়োজনের আহবান জানান।
বিএডিবি’র প্রাক্তন সভাপতি ড. ইভা সক্কার আমন্ত্রিত বক্তাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অংশ নেওয়া সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সমাপ্তি ঘোষণা করেন কালচারাল সেক্রেটারি শাহিদা আফরোজ। অনুষ্ঠানের শেষে অংশগ্রহনকারীদের আপ্যায়ন করা হয়।
হঠাৎ ভয়ংকর বন্যা চার মৃত্যু
ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বাঁধ ভেঙে এবং উপচে প্লাবিত হয়েছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অন্তত ১৬ ইউনিয়ন। পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ। পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌরশহর। ভারী বৃষ্টিতে নোয়াখালীতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। প্রতিনিধিদের খবরÑ
শেরপুর : টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরের সবকটি পাহাড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বাঁধ ভেঙে ও উপচে প্লাবিত হয়েছে
নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অন্তত ১৬ ইউনিয়ন।
পানিবন্দি অবস্থায় দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ১ লাখ মানুষ। সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শেরপুর-তিনআনী-নালিতাবাড়ী আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীতে বন্যার পানিতে ডুবে মারা গেছেন ইদ্রিস আলী, খলিলুর রহমান ও বাঘবেড় বালুরচর গ্রামের ওমিজা বেগমসহ চারজন। একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর পাহাড়ি ঢল আসে আবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্রæত পানি চলে যায়। এমন বন্যা আর এ এলাকায় দেখা যায়নি বলে জানালেন এলাকাবাসী। শেরপুরের সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোনো কোনো নদীর বাঁধ ভেঙে আশপাশের গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলা শহরসহ নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী উপজেলায় পানিবন্দি হাজার হাজার মানুষ। শ্রীবরদীর বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, জেলার পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমার ৬৫৯, পাহাড়ি নদী চেল্লাখালীর পানি ৫২৫ এবং ভোগাই নদীর দুটি পয়েন্টের পানি যথাক্রমে ১৭২ ও ৫৬ মিলিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য দুটি পাহাড়ি নদী মহারশি ও সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
দুই সহোদর ভাইয়ের লাশ মিলল ধানখেতে : শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বানের পানির স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হওয়া সহোদর দুই ভাইয়ের লাশ পাওয়া গেছে ধানখেতে। গতকাল বিকালে উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর কুতুবাকুড়া গ্রামের ফসলের মাঠ থেকে ওই দুই ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।
নিহতরা হলেন হাতেম আলী (৩০) ও আলমগীর হোসেন (১৮)। তারা একই এলাকার অভয়পুর গ্রামের মৃত বাছির উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার নিজ বাড়ি থেকে চেলখালী নদীর পাহাড়ি ঢলের স্রোতের তোড়ে নিখোঁজ হন দুই সহোদর ভাই।
ভারী বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতীর অন্তত ১০ ইউনিয়নের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি। তলিয়ে গেছে শত শত একর জমির উঠতি আমন, সবজিবাগান, মাছের ঘের। এদিকে গতকাল দুপুরের পর ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি শুরু হয়েছে। এতে নকলা উপজেলার বিস্তৃত অঞ্চল ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যানুযায়ী, গতকাল সকাল ১০টা পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ রেকর্ড করা হয়েছে শেরপুরে ১৭৭ এবং নালিতাবাড়ীর দুটি পয়েন্টে যথাক্রমে ২৫৫ ও ২৬০ মিলিমিটার। জানা গেছে, কদিন ধরে ভারতের মেঘালয় ও আসামে বৃষ্টি অব্যাহত আছে। নালিতাবাড়ী ও ঝিনাইগাতী উপজেলাসংলগ্ন মেঘালয়ের তুরা জেলায় গতকাল সকাল পর্যন্ত ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই পানি শেরপুরের ভোগাই, চেল্লাখালী ও মহারশি নদী দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আরেক দফা ঢলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেত্রকোনা : টানা বর্ষণ আর ভারতের মেঘালয় থেকে আসা ঢলে বাড়ছে নেত্রকোনার সবকটি নদনদীর পানি। শুক্রবার রাত পর্যন্ত দ্রæতবেগে গুরুত্বপূর্ণ সোমেশ^রী ও কংস নদের পানি বাড়লেও গতকাল সকালে সোমেশ্বরীর পানি কমতে শুরু করেছে। যে কারণে নদীতীরের মানুষের ভয় কিছুটা কম।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সংলাপ
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংলাপে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে নির্বাচনি রোডম্যাপের তাগিদ দিয়েছে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। সরকারকে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়ে নেতারা বলেছেন, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ চেয়েছেন তারা। এছাড়া প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের সরানো, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, পদোন্নতিবঞ্চিত সরকারি কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, সব মিথ্যা-গায়েবি মামলা প্রত্যাহারসহ গুচ্ছ দাবি জানিয়েছে দলগুলো। শনিবার দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতা এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে তৃতীয় দফায় এ সংলাপে বসে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দুপুর আড়াইটায় বিএনপির সঙ্গে শুরু হয় এ দিনের সংলাপ। রাতে গণঅধিকার পরিষদের আলোচনার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সংলাপ। এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, গণতন্ত্র মঞ্চ, বাম গণতান্ত্রিক জোট, এবি পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ (দুই অংশ) ছাড়াও হেফাজতে ইসলামে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক পৃথক সংলাপ করেন প্রধান উপদেষ্টা। পরে নিজ নিজ দলের পক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দলগুলোর শীর্ষ নেতারা।
সংলাপ শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচন সম্পর্কিত বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমরা নির্বাচন বিষয়ে কথা বলেছি। নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে বলেছি। আমরা বলেছি, নির্বাচন কমিশন নিয়োগ আইন স্থগিত করে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে অনতিবিলম্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কবে হবে সে বিষয়ে রোডম্যাপ দিতে বলেছি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যেও দু-একজন আছেন, যারা অন্তর্বর্তী সরকার ও গণঅভ্যুত্থান-বিপ্লবের যে মূল স্পিরিট সেটাকে ব্যাহত করছেন, তাদের সরানোর কথা বলেছি। নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার মূল হোতা ও তত্ত¡াবধায়ক সরকার বাতিল করার মূল নায়ক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ২০০৭ থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী শাসনামলে করা সব মিথ্যা, গায়েবি, ভুয়া, সাজানো, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিছু আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, সাবেক মন্ত্রী দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছেন।
কীভাবে পালাচ্ছেন, কার সহযোগিতায় পালাচ্ছেন, সে বিষয়গুলো আমরা দেখার জন্য বলেছি।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা দুটি রোডম্যাপ চেয়েছি। একটা রোডম্যাপ হবে সংস্কারের এবং আরেকটা হবে নির্বাচনের। সংস্কারটা সফল হলে নির্বাচনটা সফল হবে। এজন্য দুটি বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।
এই সরকার একটা অর্ন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা দেশ শাসনের জন্য আসেননি। দেশ শাসনের সুস্থ পথ বিনির্মাণের জন্য এসেছেন। জাতি পরপর তিন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাদের কাজ হচ্ছে, জাতির সামনে একটা গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পরিবেশন তৈরি করে দেওয়া। এজন্য কিছু মৌলিক বিষয়ে তাদের সংস্কার করতেই হবে। কী কী মৌলিক বিষয়ে তারা সংস্কার করবেন সে ব্যাপারে আমরা কথাবার্তা বলেছি।
গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সংস্কারের জন্য প্রয়োজনে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করব। প্রশাসনের কিছু দুর্বলতা দেখছি, ব্যর্থতা দেখছি, সীমাবদ্ধতা দেখছি। সিভিল পুলিশসহ প্রশাসনে এমন কিছু দেখছি যা উদ্বেগ প্রকাশ করার মতো। এই বিষয়গুলো তাদের বলেছি।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, সংস্কার করে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে আরও সম্পৃক্ত করার তাগিদ দিয়েছি। এখানে কীভাবে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংস্কার এবং একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচন করা যায়, সে বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলাপ-আলোচনা করা দরকার। এর জন্য একটা কাঠামো তৈরি করার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা বলেছেন।
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছি। পুরোনো সিন্ডিকেট আবার যে নতুন চেহারায় আবির্ভূত হয়েছে, সেটা নিয়ে আমরা উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছি। তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) বলেছেন চারটা কাজকে অগ্রাধিকারের মধ্যে নিয়েছেন, তার মধ্যে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ অন্যতম।
আমরা দেখতে চাই মানুষ যেন এর সুফল পান। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য যাতে বন্ধ হয়।
ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাইর পির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, তাদের সঙ্গে আমরা নির্বাচন সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা চাই প্রতিনিধিত্ব হারে আনুপাতিক পদ্ধতিতে ভোট হবে। সবার ভোটের অধিকার থাকবে। সরকার হবে জাতীয় সরকার। তারা আমাদের এ প্রস্তাবকে ভালো ভাবে নিয়েছেন। তারা বলেছেন এই প্রস্তাব নিয়ে তারা আলোচনা করবেন। স্বৈরাচার যারা নাকি খুনি ফ্যাসিস্ট তারা যেন নির্বাচন করার সুযোগ না পান সেটা আমরা উপদেষ্টাদের বলেছি।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, এই কমিশনগুলোর কার্যপরিধি এবং রোডম্যাপ সম্পর্কে জানা থাকলে দেশবাসী আশ্বস্ত হবে। কমিশনের প্রধানদের নিয়ে, বিশেষ করে সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান নিয়ে বিতর্ক এবং সন্দেহ অনভিপ্রেত। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে সংবিধান যতটুকু সংশোধন দরকার, ততটুকু সংশোধন করার উদ্যোগটাই যথার্থ হবে বলে আমরা মনে করি।
হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতা ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারে অনেক কমিশন গঠন হয়েছে। প্রতিটি কমিশন আলাদা আলাদা করে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করবে, আলোচনার মাধ্যমে তারা তাদের সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করবেন। সেই প্রস্তাব তৈরি হলে আবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করবেন। তারপরেই সবার মতামত নিয়ে সংস্কার প্রস্তাবনা কাজ শুরু করবে।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে শিক্ষা কমিশন বাতিল করা হয়েছে, এখন আরও একটি শিক্ষা কমিশন ৩০ সেপ্টেম্বর গঠন করা হয়েছে প্রাথমিক ও উপআনুষ্ঠানিক শিক্ষার বিষয়ে। সেক্ষেত্রে কিছু আপত্তির জায়গা রয়েছে। এই কমিশনে এমন ব্যক্তি রয়েছেন যারা বিগত রেজিম সরকারের হয়ে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, এখানে আমাদের প্রধান উপদেষ্টার বিপক্ষে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিও রয়েছেন। আমরা এই বিষয়গুলো মাননীয় উপদেষ্টাকে আরও সতর্ক থাকার কথা বলেছি। পতিত স্বৈরাচারের দোসররা যাতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করতে না পারে সেটা বলেছি।
এবি পার্টির সদস্য সচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আমরা ৬ দফা পর্যবেক্ষণ ও ১১ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। এসব দফা ও প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-ফ্যাসিবাদের ভয়ংকর দুঃশাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে ছাত্র-জনতার যে রক্তস্নাত গণ ঐক্য তৈরি হয়েছিল, বর্তমানে সে ঐক্যে কিছুটা ক্ষত ও মৃদু ফাটল পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিশেষ করে দেশব্যাপী পাবলিক ইউনিভার্সিটি, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসাছাত্রদের মধ্যে আগের প্রেরণা ও দৃঢ় বন্ধন নেই।
রাজনৈতিক দলগুলোও নানা কারণে বাকযুদ্ধে লিপ্ত। সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বয় না থাকার বিষয়টিও এক্ষেত্রে দৃশ্যমান। এসবের প্রভাব নাগরিকদের মন ও মননে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কারের যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তা নিয়ে স্পষ্ট রূপকল্প এখনও প্রকাশ করা হয়নি। ৬টি কমিশন করার কারণে জনমনে যে আগ্রহ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছিল কমিশনের কার্যক্রম শুরু করতে দেরি হওয়ায় তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। শহিদ পরিবারের পুনর্বাসন, আহতদের সুচিকিৎসা এবং গণহত্যার নির্দেশ ও মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণে সুসংবদ্ধ পদক্ষেপের অভাব লক্ষণীয়।
তিনি বলেন, অবিলম্বে গণতদন্ত কমিশন গঠন করে জুলাই-আগস্টে সংঘটিত সব নৃশংসতার ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করা। সিভিল প্রশাসন ও সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তা ও সিপাহিদের মধ্যে যাদের অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে তাদের বিষয়ে একটি পৃথক কমিশন গঠন করা, যারা নিগ্রহ ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন তাদের চাকরিতে ফিরিয়ে আনা বা সম্মানজনক পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসর, গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও গণহত্যার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগী ব্যক্তি, সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের বিচারের জন্য ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনাল’র পাশাপাশি ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন’ গঠন করা, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্রæত বিচারক নিয়োগ দিয়ে তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম শুরু করা, বিলম্বের কারণে বহু আসামি পালিয়ে যাচ্ছে, বহু আলামত নষ্ট হচ্ছে। বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য করার জন্য আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করা একান্ত আবশ্যক।
পিলখানা ও শাপলা চত্বরের গণহত্যার জন্যও পৃথক বিচার কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। ফ্যাসিবাদী সরকার বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে দেশবিরোধী যেসব চুক্তি করেছে তা পর্যালোচনা করা দরকার। দেশের স্বার্থবিরোধী চুক্তি করে যারা অবৈধ টাকার পাহাড় গড়েছে এবং বিদেশে টাকা পাচার করে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করেছে তাদের দ্রæত আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশে ও বিদেশে তাদের সম্পদ জব্দ করার পদক্ষেপ নিতে


