Home Blog Page 55

‘দেশে চক্ষু পেশাজীবী গড়ে না ওঠায় বিপুল মানুষ স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না’

দেশে চোখের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে অপটোমেট্রি পেশাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এখনও অপটোমেট্রি পেশা স্বীকৃত ও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে মানুষের দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, চশমার পাওয়ার নির্ধারণ এবং প্রাথমিক চোখের সেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন প্রশিক্ষিত অপটোমেট্রিস্টরা। দেশে অপটোমেট্রি পেশা গড়ে না ওঠায় গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক মানুষ, বিশেষ করে স্কুলশিক্ষার্থী ও বয়স্করা, সামান্য একটি চশমার অভাবে স্বাভাবিকভাবে দেখতে পারেন না। অথচ প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহার করলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা এবং কর্মক্ষমতায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। বৃহস্পতিবার জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (নিপোর্ট) আয়োজিত দুটি গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র এক ডলারের একটি রিডিং গ্লাস বা পড়ার চশমা কর্মক্ষম বয়সী মানুষের উৎপাদনশীলতা ও আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী মানুষেরা এই চশমা ব্যবহার করলে দ্রুত পড়তে, সেলাইয়ের মতো সূক্ষ্ম কাজ করতে এবং অন্যান্য পেশাগত দায়িত্ব আরও দক্ষতার সঙ্গে পালন করতে পারেন। এর ফলে তাদের ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পায়।

এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশের লাখো মানুষ সাধারণ রিফ্র্যাকটিভ এররে ভুগলেও এর সমাধানে সব সময় চিকিৎসকের প্রয়োজন হয় না, অপটোমেট্রিরা এটি সমাধান করতে পারে। স্বাস্থ্যকর্মী সংকট মোকাবিলায় চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি অপটোমেট্রিস্টসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদেরও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যকর্মী কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে শহর ও গ্রামের মধ্যে স্বাস্থ্যকর্মী বণ্টনের বৈষম্য দূর করার ওপরও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দেশের সব অঞ্চলে দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীর সমান উপস্থিতি নিশ্চিত না হলে সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জন সম্ভব হবে না। তাই জনবল পরিকল্পনায় অপটোমেট্রি ও অন্যান্য সহযোগী স্বাস্থ্য পেশাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে।

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১৩ মে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩৪ অনুযায়ী সরকার এ স্বীকৃতি দেয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আইনের প্রথম তপশিলের ৪ (খ) ধারার আওতায় অপটোমেট্রি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারী এবং এক বছর মেয়াদি ইন্টার্নশিপ সম্পন্নকারীদের ‘অপটোমেট্রিস্ট প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুমোদন করা হয়েছে। অপটোমেট্রি বিষয়ে প্রশিক্ষণ বর্তমানে সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে। চট্টগ্রাম ইনস্টিটিউট অব কমিউনিটি অপথালমোলজি এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত ইত্তেহাদ কলেজ অব হেলথ সায়েন্স, দিনাজপুর ও সাইক কলেজ অব হেলথ সায়েন্সে, রাজশাহীতে কোর্স চালু রয়েছে।

দেশে হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১,০০৯ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশে চলতি বছরের শুরুতে হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও গত ১৫ মার্চ থেকে নিয়মিত এর তথ্য দিচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এই সময়ে হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৩ জনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫৭৩ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৬৬৬ জনের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭০ হাজার ৫০৩ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পদক্ষেপগুলো দেরিতে এসেছে। বিশেষ করে হামের জন্য সরকারিভাবে পূর্ণাঙ্গ ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট প্রটোকল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উপজেলা হাসপাতাল থেকে শুরু করে বেসরকারি হাসপাতাল পর্যন্ত চিকিৎসকরা সমন্বিত নির্দেশনা পাচ্ছেন না। এ ছাড়া শিশুমৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে কোনো ডেথ রিভিউ বা ক্লিনিক্যাল অডিটও হচ্ছে না। এতে একই ভুল বারবার হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, শুধু আইসিইউ বাড়ালেই হবে না। দক্ষ জনবল ছাড়া আইসিইউ কার্যকর হয় না। আমাদের বিদ্যমান আইসিইউগুলোকে শিশু উপযোগী করতে হবে এবং অক্সিজেন সাপোর্ট সহজলভ্য করতে হবে। তিনি আরও বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুকে আইসিইউ পর্যন্ত যেতে না দেওয়াই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। উপজেলা পর্যায়ে দ্রুত শনাক্তকরণ, অক্সিজেন থেরাপি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে আইসোলেশন নিশ্চিত করা জরুরি।

রোনালদোকে কেন তুলে নেননি, ব্যাখ্যা দিলেন পর্তুগাল কোচ

পুরো ৯০ মিনিট খেলে মোটে ২৫ বার বলে স্পর্শ, ৩টি শট নিয়ে লক্ষ্যে রাখতে পারেননি একটিও- ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে মোটাদাগে এই ছিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স। যা রোনালদোর মতো মহাতারকার নামের সঙ্গে কোনোভাবে মানানসই নয়!

রোনালদোর এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সের দিনে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নামা কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পয়েন্ট খোয়ানোয় অনেকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন রোনালদোকে। কেউ কেউ যুক্তি দিচ্ছেন, রোনালদোকে বদলি করা উচিত ছিল!

তবে এসব সমালোচনার ধার ধারছেন না পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোকে বদলি করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাননি তিনি।

অবশ্য জাতীয় দলের জার্সিতে বড় টুর্নামেন্টে রোনালদোর গোলখরা নতুন নয়। এ নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৫ ম্যাচ গোলহীন থাকলেন রোনালদো। বিশ্বকাপের সঙ্গে ইউরো বিবেচনায় নিলে, টানা ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ মহাতারকা। বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পেনাল্টি বাদে ওপেন প্লে থেকে রোনালদো শেষবার গোল করেছেন ২০২১ সালের ১৯ জুন!

ম্যাচের পর ম্যাচ পুরো সময় খেলছেন রোনালদো। যথারীতি গতকাল কঙ্গোর বিপক্ষে পুরো সময় খেললেও প্রতিপক্ষের গোলমুখে কোনো শট রাখতে পারেননি। বাজে পারফরম্যান্সের পরও রোনালদোকে কেন বদলি করাননি, এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগাল কোচ মার্টিনেজ বলেছেন, ‘যে ম্যাচে আপনার গোল সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, সে ম্যাচে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতাকে তুলে নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

তাহলে পর্তুগালের সমস্যাটা কোথায় ছিল? মার্টিনেজের মতে, পর্তুগালের খেলায় তেমন আগ্রাসন ছিল না, ‘আমাদের শুরুটা খুব ভালো ছিল। আমাদের খেলার মান, ম্যাচের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পড়ার ধরন- সবই ছিল দারুণ। সাধারণত গোলের পর সেই আবেগ দলকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এবং দ্বিতীয় গোলের চেষ্টা করতে সাহায্য করে। কিন্তু এবার ঠিক উল্টোটা হয়েছে।’

হতাশা ঝেড়ে মার্টিনেজ আরও বলেন, ‘বরং আমরা বলের দখল ধরে রাখতে বেশি মনোযোগী হয়ে পড়ি। এর ফলে কঙ্গো তাদের রক্ষণভাগ নতুন করে সাজানোর এবং পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করার সুযোগ পায়। আমরা আক্রমণের গভীরতা হারিয়ে ফেলি, যা কঙ্গোকে সাহায্য করেছে।’

তবে একটি ম্যাচের ফল নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না মার্টিনেজ। এ প্রসঙ্গে কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে আর্জেন্টিনার হারের প্রসঙ্গ টেনে পর্তুগাল কোচ বলেছেন, ‘বিশ্বকাপে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হেরেও বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১০ সালে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্পেন। অথচ প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্স দেখে ওদের চ্যাম্পিয়ন মনে হয়নি।’

এবার জানা গেল মেসির কান্নার ‘আসল’ কারণ

আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকেই আলোচনায় ছিলেন লিওনেল মেসি। আর ম্যাচ শেষ হওয়ার পর থেকে রীতিমতো ট্রেন্ডিং-এ এই আর্জেন্টাইন তারকা। বিশ্বজুড়ে মেসি এখন হট কেক। বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে মেসির পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রথম গোল করার পর জার্সি দিয়ে তার চোখ মোছা নিয়েও হচ্ছে আলোচনা। ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন, তাদের প্রিয় তারকা মেসি কেন কেঁদেছেন?

সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেসি নিজেই দিয়েছেন। ম্যাচ শেষ হতেই জানিয়েছিলেন কান্নার কারণ। মেসি জানান, কান্নার কারণটা ফুটবলীয় নয়। বরং তার ব্যক্তিগত।

এবার মেসির কান্না নিয়ে সামনে এসেছে নতুন তথ্য। জানা গেছে, আর্জেন্টাইন অধিনায়কের বাবা হোর্হে মেসি অসুস্থ। বাবার অসুস্থতাই ফুটবলের এই জাদুকরকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিল।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মেসির বাবা হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। বাবার অসুস্থতাই মেসির ওপর গভীর মানসিক চাপ তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নিজ বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েন ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তার অসুস্থতা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

বাংলাদেশের স্থানীয় সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গোল করার পর ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে মেসিকে ‘আই লাভ ইউ’ বলতে দেখা যায়। অনেকের মতে, সেটাও ছিল বাবার উদ্দেশে মেসির আবেগঘন বার্তা।

মেসির ফুটবল জীবনের শুরু থেকেই ছায়াসঙ্গী ছিলেন তার বাবা। শুধু অভিভাবক হিসেবেই নয়, বরং কোচ, পরামর্শদাতা এবং পরবর্তীতে এজেন্ট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

এর আগে কানসাসে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ১৭ মিনিটেই প্রথম গোলের দেখা পান মেসি। সেই গোলটি করার পরই তাকে আবেগপ্রবণ দেখা যায়, ক্যামেরায় ধরা পড়ে মেসির চোখের জল। ম্যাচ শেষে কান্নার কারণ জানতে চাওয়া হলে মেসি বলেন, ‘সত্যি বলতে, ফুটবলের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। কিছু ব্যক্তিগত কারণে গত কয়েকটা দিন আমার বেশ কঠিন কেটেছে। আমি দলের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। তারা সব সময় আমার পাশে ছিল। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে ওঠার জন্য তারা আমাকে প্রচুর শক্তি জুগিয়েছে, ব্যস এটুকুই।’

বাবার অসুস্থতা নিয়ে মানসিক চাপের মধ্যে থাকলেও ম্যাচে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেননি মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিশ্ব নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে নিজের নাম লেখান তিনি।

সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেন প্রকল্প চার বছরে অগ্রগতি সামান্য, ভূমি অধিগ্রহণ বড় অন্তরায়

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে এক বছরের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ করে চলতি বছর কাজ শেষ করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। সিলেট অংশে গত চার বছরে ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে মাত্র এক-চতুর্থাংশ। এর মধ্যে অনেক ভূমির স্থাপনা আবার সরানো হয়নি। ফলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ঠিকমতো কাজও করতে পারছে না।

২০২১ সালে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও নানা কারণে ঠিকাদার নিয়োগ হয় দুই বছর পর ২০২৩ সালে। মেগা এ প্রকল্প কাজে ধীরগতির কারণে একদিকে যেমন যাত্রীরা বছরের পর ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, অন্যদিকে কবে কাজ শেষ হবে– তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার গঠনের পর সড়কের কাজ দ্রুত করতে তাগাদা দিচ্ছেন সিলেটের দুই মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রকল্পের তথ্যমতে, সরকার ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) যৌথ অর্থায়নে ২০৯ কিলোমিটার ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৯১৮ কোটি টাকা। মূল প্রকল্প প্রস্তাবে ৬৬টি সেতু, ৩০৫টি কালভার্ট, আটটি ওভারপাস, ২৬টি ফুট ওভারব্রিজ, ৩৭টি ইউটার্ন ও আটটি রাউন্ড অ্যাবাউট (গোলচত্বর) নির্মাণ করার কথা। এর মধ্যে সিলেট অংশে ১১৭ কিলোমিটারের মধ্যে জায়গা অধিগ্রহণ করার কথা প্রায় সাড়ে ৫০০ একর। সেখানে হয়েছে এক-চতুর্থাংশ। অনেক জায়গা আবার খালি করা হয়নি।

গত রোববার সিলেট অংশের সড়কের সাদিপুর এলাকার গজিয়া সেতুর পাশে কাজ করতে গেলে বাধা দেন সেখানকার ভূমি মালিকরা। মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকার ইদ্রিস আলী জানান, তাঁর ভাই, তিনিসহ অনেকে জমি অধিগ্রহণের টাকা পাননি।

রোববার সরেজমিন দেখা গেছে, দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার ইউনিয়নের সাতমাইল নামক স্থানে কাজ চলছে। এরপর কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কোনো কাজ নেই। সড়কটির শেরপুর পর্যন্ত তাজমহরমপুর, বরকাপন, দয়ামির, সোয়ারগাঁও, কুরুয়া, আহমদনগর, কুতুবপুর, কলারাই, ভূরুঙ্গা এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে কাজ চলছে। কোনো স্থানে ব্রিজ ও কালভার্ট এবং কোনো স্থানে মাটি ভরাট ও রাস্তার একাংশ ঢালাই কিংবা মাটি রোলার করা হচ্ছে। একমাত্র আহমদনগর এলাকায় পুরো রাস্তার কাজ ভেসে উঠেছে।

সিলেট অংশের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী দেবাশীষ রায় জানান, ১০ কিলোমিটার জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়েছে। চলতি বছরে এটি শেষ করতে সবাই কাজ করছেন। ঠিকাদার নিয়োগ হয় দুই বছর পর। তাঁর অংশে ১৫-১৬ শতাংশ কাজ হয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি।
মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের ঠিকাদার নিয়োগ হয় ২০২৪ সালে। সেখানে অধিগ্রহণ হয়েছে খুবই সামান্য। যেটুকু হয়েছে, তাও বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। খালি জায়গায় মাটি ভরাট ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। শেরপুর থেকে নবীগঞ্জ উপজেলার মজলিসপুর পর্যন্ত নতুনবস্তী (ব্রাহ্মণগ্রাম), শেরপুর গ্রামের কাছে ব্রিজ নির্মাণ ও রাস্তা প্রশস্তকরণে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। হবিগঞ্জের অধিকাংশ অংশের কাজও একইভাবে চলছে।

মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ ৩৫ কিলোমিটার প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন জানান, তাঁর কিছু জায়গা অধিগ্রহণ হলেও বুঝে পাননি। জমির জন্য প্রকল্পে দেরি হচ্ছে।
সিলেট অংশে ১৪ কিলোমিটারের কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইএনজেড-টিসিসিএল যৌথ কাজের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উদয়ন চক্রবর্তী বলেন, ‘৪৮ মাস কাজের মেয়াদ হলেও ৩৭ মাস পর পাঁচ কিলোমিটার জায়গা বুঝে পাইনি। ভূমি জটিলতার কারণে কাজ বিলম্ব হচ্ছে। আগে নানা সমস্যা থাকলেও এখন আমাদের জনবল, সরঞ্জামসহ নির্মাণসামগ্রী পর্যাপ্ত রয়েছে। কয়েকটি ব্রিজের কাজ শুরু করেছি। কিন্তু জায়গা নিয়ে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।’
সিলেট পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মইনুল ইসলাম জানান, মহাসড়কের সিলেটের কিছু অংশসহ বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে কাজ চলায় যাত্রীদের ভোগান্তি লেগেই আছে। ভূমি জটিলতার অবসান করে দ্রুত কাজ করার দাবি করেন তিনি।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের সঙ্গে বিভিন্ন বিভাগ জড়িত। অতীতে ভূমি কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বদলির কারণে বিলম্ব হয়। কিন্তু এখন আমরা দ্রুত কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি।
তিনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের পর অনেকে মামলাও করেছেন। নোটিশ করলে জবাব দেন না। কেউ আবার কাগজপত্র না দেখাতে পারার কারণে ক্ষতিপূরণ পেতে বিলম্ব হওয়ায় সেই ভূমি ছাড়তে চান না। আশা করছি কয়েক মাসের মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হবে। ইতোমধ্যে একাধিকবার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সরকারি হাসপাতালে ওষুধ নেই, স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ মজুত

উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ সংকট এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা। চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়েও রোগী ফিরছেন খালি হাতে। ইনডোর ও আউটডোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন রোগীরা। এর মধ্যেই হাসপাতালের স্টোরে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ। এসব ওষুধ কীভাবে গ্রহণ করা হলো, সে প্রশ্নেরও জবাব মিলেনি।
হাসপাতালে ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নির্ভরশীল। প্রতিদিন আউটডোরে গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অথচ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ওষুধ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।

সরেজমিন আউটডোর, ইনডোর, জরুরি বিভাগ ও মা-শিশু স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ রোগী প্রেসক্রিপশনের সব ওষুধ পাচ্ছেন না। অনেককে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।
হাতিয়া অনন্তপুর গ্রামের শহীদুর রহমান বলেন, ‘ছয় ধরনের ওষুধ লিখে দিয়েছে। হাসপাতাল থেকে পেয়েছি তিনটা। গরিব মানুষ, টাকা কোথায় পাই?’ রাবেয়া বেওয়া নামের এক বৃদ্ধা বলেন, ‘ডাক্তার তিনটা ওষুধ লিখছে, পাইছি একটা। বাকি দুইটা বাইরে কিনতে কইছে।’ আক্ষেপ করে তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে যখন অধিকাংশ ওষুধ বাইরে থেকে কিনতে হয়, তখন দরিদ্র মানুষের জন্য সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মূল উদ্দেশ্যই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

বহির্বিভাগের ফার্মাসিস্ট মো. মেহেদী হাসান বলেন, ‘চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ পাওয়া যায় না। রোগীদের সঙ্গে প্রায়ই বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।’ আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম জানান, ‘সরবরাহকৃত ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালাতে হচ্ছে। প্রয়োজন হলে রোগীদের বাইরে থেকে কিনতে বলা হয়।’ তবে সরবরাহকারী ঠিকাদার মেসার্স আসলাম উদ্দিন দাবি করেন, ‘আমি কোনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহ করিনি। নির্ধারিত সময়েই সব ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।’
হাসপাতাল সূত্র জানায়, সরকারি তালিকায় ৪৭ পদের ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে বিভিন্ন ইউনিটে ১০ থেকে ১৫ পদের বেশি ওষুধ পৌঁছায় না। ফলে রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এদিকে ওয়ার্ড ক্লিনিকগুলোও দীর্ঘদিন ওষুধ সংকটে ছিল। ছয় মাস পর চলতি মাসে প্রতিটি ক্লিনিকে মাত্র এক বাক্স করে ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, হাসপাতালের স্টোরে মেয়াদোত্তীর্ণ ও স্বল্পমেয়াদি ওষুধ পাওয়া গেছে। স্টোরকিপার মো. বছির উদ্দিন বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধগুলো আমার আমলের নয়। স্বল্পমেয়াদি ওষুধ এসেছে, তবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাই না।’

ইনডোর ইনচার্জ শাহীনুর বেগম অভিযোগ করেন, ‘এক মাস মেয়াদের ওষুধও অনেক সময় নিতে বলা হয়। আপত্তি করলেও আমাদের গ্রহণ করতে হয়।’ তবে এসেনশিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের বিক্রয় প্রতিনিধি মোক‌ছেদুল আলম ব‌লেন, মা‌ঝেম‌ধ্যে স্বল্প মেয়া‌দের ওষুধ হাসপাতা‌লের কর্তৃপক্ষ‌কে জা‌নি‌য়েই সরবরাহ করা হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘সরবরাহ সংকট রয়েছে। ছয় পদের স্বল্পমেয়াদি ওষুধ গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম বা অতিরিক্ত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সত্য নয়।’ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সংসদ সদস্য ব‌্যা‌রিস্টার মাহবুব আলম ছা‌লেহী বলেন, খোঁজ নি‌য়ে ব‌্যবস্থা নেওয়া হ‌বে। এ বিষয়ে কথা বলতে জেলা সি‌ভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমা‌রের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

আমরা ইন্সটাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি: মোদিকে মেলোনি

জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। কানাডায় অনুষ্ঠিত এবারের সম্মেলনে দুই নেতার সংক্ষিপ্ত কিন্তু প্রাণবন্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রুপ ছবি তোলার আগে একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘আবার আপনার সঙ্গে দেখা হয়ে ভালো লাগছে।’ এরপর হাস্যরসের সুরে তিনি যোগ করেন, ‘আমরাই ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে জনপ্রিয় জুটি।’

মেলোনির মন্তব্যে সায় দিয়ে মোদিও তাদের ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা জনপ্রিয় ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রসঙ্গ তোলেন। মুহূর্তটি দ্রুতই নেটদুনিয়ায় আলোচনার জন্ম দেয়।

কী এই ‘মেলোডি’?
মোদি ও মেলোনির নাম মিলিয়ে তৈরি হয়েছে ‘মেলোডি’ শব্দটি। ২০২৩ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলনে মোদির সঙ্গে তোলা একটি সেলফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন মেলোনি। ছবির ক্যাপশনে তিনি লিখেছিলেন, ‘গুড ফ্রেন্ডস’ এবং ব্যবহার করেছিলেন মেলোডি হ্যাশট্যাগ।

এরপর থেকেই ‘মেলোডি’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি জনপ্রিয় ট্রেন্ডে পরিণত হয়। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে এ নিয়ে অসংখ্য মিম, ভিডিও ও ব্যঙ্গাত্মক কনটেন্ট তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে দুই নেতার সাক্ষাৎ হলেই নতুন করে আলোচনায় আসে ‘মেলোডি’।

‘মেলোডি’ টফি উপহার
গত মাসে ইতালি সফরের সময় মেলোনিকে ‘মেলোডি’ নামের একটি টফি উপহার দেন মোদি। ঘটনাটিকেও অনেকে ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডের প্রতি তার মজার স্বীকৃতি হিসেবে দেখেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের বন্দগালা স্যুট পরা মোদি মেলোনির হাতে টফির প্যাকেট তুলে দিচ্ছেন। উপহার পেয়ে হাসিমুখে ধন্যবাদ জানান ইতালির প্রধানমন্ত্রী।

ভিডিওতে মেলোনিকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি আমাদের জন্য একটি উপহার এনেছেন… খুব, খুব ভালো টফি।’ এ সময় দুই নেতাকেই হাস্যোজ্জ্বল দেখা যায়।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক সম্পর্কের আনুষ্ঠানিকতার বাইরে মোদি ও মেলোনির এই বন্ধুত্বপূর্ণ রসিকতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বেশ আগ্রহের জন্ম দিয়েছে। আর সেই কারণেই ‘মেলোডি’ এখন শুধু একটি হ্যাশট্যাগ নয়, বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বহুল আলোচিত এক বৈশ্বিক ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

আইইএলটিএসে ৬২,৭৯৪ শিক্ষার্থীর ফল ভুল, ক্ষতিপূরণে যে উদ্যোগ নিল কর্তৃপক্ষ

আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা আইইএলটিএসে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে বিশ্বজুড়ে ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থীর ফল ভুলভাবে নির্ধারিত হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকোয়াল। ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এই ত্রুটি ঘটে। পরে সংশোধিত ফল প্রকাশ করা হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ অথবা সম্পূর্ণ ফি ফেরতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

অফকোয়াল জানায়, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন বা অটোমেটেড মার্কিং সিস্টেমে দীর্ঘদিন ধরে থাকা একটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সমস্যা ঘটে। ওই সময়ে প্রায় ৭৭ লাখ পরীক্ষার্থী আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নেন, যার মধ্যে প্রায় ৯৩ হাজার ৮৬৫টি উত্তর ভুলভাবে মূল্যায়িত হয়।

ত্রুটির ফলে অনেক পরীক্ষার্থীর ব্যান্ড স্কোর ভুলভাবে নির্ধারিত হয়। পরে সংশোধিত ফলাফলে দেখা যায়, ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর স্কোর আগের চেয়ে বেড়েছে। অন্যদিকে, ১ হাজার ১১৫ জনের স্কোর ভুলভাবে বেশি দেওয়া হয়েছিল, যা সংশোধন করে কমানো হয়।

এ ঘটনায় আইইএলটিএসের অন্যতম অংশীদার কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে অফকোয়াল। সংস্থাটির ডেলিভারি বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আমান্ডা সোয়ান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতা পরীক্ষার্থী ও ফল ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান-উভয়ের জন্যই বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভুল ফলের কারণে অনেক শিক্ষার্থী জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সমস্যায় পড়েছেন। এ কারণেই এই জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

অন্যদিকে কেমব্রিজ ইংলিশ তাদের ত্রুটি স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধান, পরীক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ, কাস্টমার সাপোর্ট ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে এমন ত্রুটি এড়াতে নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করতে ইতিমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডের বেশি ব্যয় করা হয়েছে।

আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ বা সম্পূর্ণ ফি ফেরত দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত পরীক্ষায় প্রভাব পড়া কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে পুনঃপরীক্ষার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় স্কোর অর্জনের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী আইইএলটিএস পরীক্ষা যৌথভাবে পরিচালনা করে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট।

সুস্থতার জন্য সেরা ৪ পানীয়

আমরা অনেক সময় এমন সব স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি, যার লক্ষণগুলো হালকা থেকে গুরুতর পর্যন্ত হতে পারে। বেশিরভাগ সময়, এসব লক্ষণ কমানোর জন্য আমরা ওষুধ খাই অথবা লক্ষণগুলো নিজে থেকে চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আপনি জানেন কী কয়েক ধরনের বিশেষ পানীয় পানের মাধ্যমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা কমানো যায়। যেমন-

লেবু পানি
লেবুর পানি বর্তমানে আমাদের পরিচিত অন্যতম জনপ্রিয় পানীয়।  যারা ওজন কমাতে চান, তারা সাধারণত এই পানীয় নিয়মিত খান। কারণ এটি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ বের করতে সাহায্য করে। লেবুর পানি পান করার আরেকটি সুবিধা হলো, এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এর ফলে শরীর বিভিন্ন অসুস্থতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে। এটি হজমশক্তিও উন্নত করতে পারে। যার ফলে শরীর আরও ভালোভাবে পুষ্টি শোষণ করতে পারে।

পুদিনা পানি

পুদিনার পানিও শরীরের জন্য খুব উপকারী। পুদিনা ক্ষুধা বাড়াতে এবং বদহজম প্রতিরোধ করে। আপনি যদি পেটের সমস্যায় ভোগেন, তবে পুদিনার পানি পান করলে পেটের অস্বস্তি কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি জগে পানি ভরে তাতে লেবুর টুকরো এবং পুদিনার পাতাসহ ডালপালা যোগ করুন। মিশ্রণটি নেড়ে নিন এবং পরে ফ্রিজে রাখুন। পান করার আগে দিনে একবার পানিটা নেড়ে নিন। এটি ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত ভালো থাকবে। পেটের সমস্যা দূর করতে দিনে এক বা দুই গ্লাস এই পানি পান করতে পারেন।

আদা পানি
আদা পানি পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। আদা পানি বমি বমি ভাব, বমি এবং এমনকি গ্যাসের সমস্যা কমাতেও সাহায্য করতে পারে। একটি সসপ্যানে পানি ও কিছুটা আদা দিয়ে উচ্চ তাপে ফুটিয়ে নিন। আঁচ কমিয়ে দিন এবং আরও ১৫ মিনিট অল্প আঁচে রাখুন। মিশ্রণটি ছেঁকে ঠান্ডা হতে দিন। সারাদিন ধরে অল্প অল্প করে এই পানি পান করুন।

মধু পানি
আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে সকালে ঘুম থেকে উঠেই কিছুটা মধু পানি পান করা একটি ভালো উপায়। অতিরিক্ত ওজন কমাতে সাহায্য করার পাশাপাশি মধু পানি অ্যালার্জি কমাতে, গলা ব্যথা সারাতে এবং এমনকি প্রদাহও কমাতে পারে। পানি ফুটিয়ে একটি কাপে ঢেলে কয়েক মিনিটের জন্য ঠান্ডা হতে দিন। এক থেকে দুই টেবিল চামচ মধু যোগ করে নাড়ুন। এরপর এটি পান করুন।

বাজেট ২০২৬-২৭ জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচায় বাড়ছে করের বোঝা

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে স্থাবর সম্পত্তি বা জমি-ফ্ল্যাট কেনাবেচা বা লিজ দেওয়ার ক্ষেত্রে কর নির্ধারণে বড় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট প্রস্তাব অনুসারে, আগামী অর্থবছর থেকে ডেভেলপারকে জমি দেওয়ার বিনিময়ে মালিক নগদ টাকা, ফ্ল্যাট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত ভাড়া সুবিধা বা আর্থিক মূল্য আছে– এমন যে সুবিধাই নেবেন, তার আর্থিক মূল্য ধরে ১৫ শতাংশ হারে ‘ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স’ বা মূলধনি মুনাফা কর দিতে হবে।

জমি বা ফ্ল্যাট বিক্রির ক্ষেত্রে আগে উৎসে কেটে নেওয়া করই ছিল চূড়ান্ত কর দায়। অর্থমন্ত্রীর কর প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে তা অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য হবে। এমনকি জমি অধিগ্রহণ বাবদ সরকার ক্ষতিপূরণ বাবদ যে টাকা দেবে, তার ওপর উৎসে কর কাটবে। কেটে নেওয়া ওই করও কেবল অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচিত হবে। এরপর আয়কর রিটার্নে ওই আয় প্রদর্শন করে মোট আয় হিসাব করতে হবে এবং প্রযোজ্য কর ধাপে নির্ধারিত হারে কর দিতে হবে। অবশ্য কর ধাপ অনুযায়ী, বেশি কর কেটে নেওয়া হলে তার ‘রিফান্ড’ বা ফেরতও চাওয়া যাবে। তবে আয় বেশি হলে বেশি হারে কর দিতে হবে।
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, আয়কর আইনের এ পরিবর্তনের ফলে করভার বাড়বে। বিশেষত করদাতা উচ্চ কর ধাপের হলে, তার করের বোঝা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে।

ডেভেলপারকে জমি দিলে কর কত
প্রস্তাবিত অর্থ বিলের  ৫৮(৩) ধারা এবং ৫ম তপশিলের অংশ-৩ এ ডেভেলপার বা রিয়েল এস্টেট কোম্পানির কাছ থেকে জমি বা স্থাপনার মালিক কর্তৃক প্রাপ্ত নগদ অর্থ, ফ্ল্যাট বা অন্য যে কোনো সুবিধার ওপর মূলধনি মুনাফা কর গণনার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফাজনিত কর গণনার সূত্রটি হলো চুক্তি অনুযায়ী ডেভেলপার থেকে প্রাপ্ত ‘সাইনিং মানি’ এবং ফ্ল্যাট হস্তান্তরের আগ পর্যন্ত বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রাপ্ত অর্থ, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য সুবিধার মোট বাজারমূল্য থেকে জমিটির আদি অর্জন মূল্য বাদ দিয়ে যা থাকবে তার ১৫ শতাংশ।
স্নেহাশীষ বড়ুয়া এর সহজ উদাহরণ দিয়ে বলেন, ধরা যাক এক ব্যক্তি এক খণ্ড জমি ডেভেলপারকে দেওয়ার জন্য চুক্তি করলেন। বিনিময়ে তিনি ‘সাইনিং মানি’ হিসেবে ৫০ লাখ টাকা পেলেন। ভবন নির্মাণের পর পেলেন দুটি ফ্ল্যাট, যার মূল্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। অর্থাৎ তিনি পেলেন ২ কোটি টাকা। এখন জমির মালিক যদি ওই জমি ৮০ লাখ টাকায় কিনে থাকেন, তাহলে নিট মূলধনি মুনাফা হবে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা। ফলে তাঁকে এর ১৫ শতাংশ বা ১৮ লাখ টাকা কর দিতে হবে। যদি কোনো জমির মালিক চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাট পাওয়ার আগে বাড়ি ভাড়া নেন এবং প্রাপ্য ফ্ল্যাট বিক্রি করেন, সেক্ষেত্রে কর কীভাবে হিসাব করতে হবে, সে উদাহরণও দিয়েছেন স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

তিনি বলেন, ধরুন আবিদ নামে একজন ব্যক্তি তাঁর পাঁচ কাঠা জমি ডেভেলপারকে ভবন নির্মাণের জন্য দিলেন। চুক্তির শর্তানুসারে তিনি পেলেন ৫০ লাখ টাকা সাইনিং মানি, ফ্ল্যাট নির্মাণ চলাকালে তিন বছরের জন্য মাসিক ৩৫ হাজার টাকা ভাড়া। ভবন নির্মাণ শেষে পেলেন প্রতিটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট।
চুক্তি চলাকালীন প্রতিবছর প্রাপ্ত ভাড়ার ওপর আবিদকে ১৫ শতাংশ হারে মূলধনি মুনাফা কর বছরে ৬৩ হাজার টাকা দিতে হবে। পরে যখন তিনি ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের পাঁচটি ফ্ল্যাট বুঝে পাবেন, তখন তাঁকে একবারে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা কর দিতে হবে। এ ছাড়া তিনি যদি পরবর্তী বছর ফ্ল্যাটগুলো বেশি দামে বিক্রি করেন, তবে বর্ধিত মুনাফার ওপর আবার ১৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য হবে।