সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর সুমন সিকদার হত্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ১০ দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলী হায়দার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুন করেন।
এর আগে মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীকে গ্রেফতার করে মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর বাড্ডা ফুজি টাওয়ারের উত্তর পাশে প্রগতি সরণিতে রাস্তার ওপর গুলিতে নিহত হন সুমন সিকদার (৩১)। এ ঘটনায় তার মা মাসুমা একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭৯ জনকে আসামি করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান তিনি।
ছাত্র-জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এবং আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের ৯৭ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জে মামলা করা হয়েছে। এতে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫০ থেকে ২০০ জনকে।
মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের মো: মোস্তাফিজুর রহমান মামলাটি করেন বলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিল্লোল রায় জানান।
এতে অভিযোগ করা হয়েছে, গত ১৬ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ গোলচত্বরে ছাত্র-জনতার ঢল নামে। ব্যারিস্টার সুমনের নির্দেশে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা ছাত্র-জনতার ওপর ইটপাটকেল ছোড়ে এবং দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাসহ নানা শ্রেণিপেশার অসংখ্য মানুষ আহত হন।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন চুনারুঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র সাইফুল আলম রুবেল, ছয়টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান জাকির হোসেন পলাশ, রুমন ফরাজী, মানিক সরকার, মোস্তাফিজুর রহমান রিপন, ওয়াহেদ আলী ও আব্দালুর রহমান, চুনারুঘাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক পিপি এম আকবর হোসেইন জিতু, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আলী, করিব মিয়া খন্দকার, আব্দুল হান্নান এবং রজব আলী।
বাদির অভিযোগ, আন্দোলনের সময় ব্যারিস্টার সুমনের নির্দেশে মানিক সরকার তার হাতে থাকা রামদা দিয়ে বড়গাঁও এলাকার ইয়াকুব আলীর ছেলে অলিউর রহমানকে আঘাত করেন। আরেক আসামি কবির মিয়া খন্দকার তাকে রড দিয়ে মারধর করেন। এতে অলিউর রহমান গুরুতর আহত হন। অন্য আসামিরাও অস্ত্র হাতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে বেধড়ক মারধর করেন। সূত্র : বাসস
নেত্রকোনা পৌরসভার সাবেক মেয়র জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বহুল আলোচিত নজরুল ইসলাম খান গোপনে দেশ থেকে পালানোর সময় গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোরে হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে। তার বিরুদ্ধে, নানান অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
বিগত ২০০৮ সালে তত্তাবধায়ক সরকার আমলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেড়িয়ে ২০২১ সালে দলের সুবাদে পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হয়ে আবোরো তিনি নানান অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে লিপ্ত হয়ে আলোচিত হয়ে উঠেন।
তিনি একাধারে মেয়র ও ঠিাদার হয়ে রাস্তাঘাটসহ নানান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে ফাঁকি ও কারচুপির ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। মেয়র থাকাকালীন ঠিকাদার হিসেবে ছোট বাজারের রাস্তার সিসি ঢালাইয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তিনবার কাজ বন্ধ করে দেন। জমি ক্রয় করে পৌর শিশু পার্ক নির্মাণের জন্য ১০ কোটি টাকা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্ধ দেয়া হলেও তিনি বাধার মুখে শহরের উকিল পাড়াস্থ রেললাইন দখল করে নামমাত্র শিশু পার্ক নির্মাণ করে পুরো ১০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। বিগত ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি ‘নেত্রকোনা রেললাইনে পৌর শিশুপার্ক’ শিরোনামে নয়া দিগন্ত প্রত্রিকায় একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ সংবাদটি সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শিশু পার্কের পাশেই রেলের সরকারি ভূমিতে বসবাসকারী উড়িয়াদের উচ্ছেদ করে তিনি চারতলা ভবন নির্মাণ করেন। তিনি এতটাই বেপরোয়া উঠেন যে তার বিরুদ্ধে কেউ টু শব্দটি করতে সাহস পাননি। নয়া দিগন্তে ওই সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ায় তিনি সাংবাদিক ফজলুল হক রোমানকে লোকদ্বারা হুমকি, ধামকিসহ নানানভাবে হয়রানী করেন। রোমানের বাড়ির পৌর ট্যাক্স ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে তিন হাজার টাকা বর্ধিত করেন। মেয়রের ঈশারায় তার বাড়ির সামনে ময়লার ভাগার গড়ে তোলা হয়েছে। তার গ্রেফতারের সংবাদে অসংখ্য পৌরবাসী আনন্দে উল্লাস প্রকাশ করেছেন।
নেত্রকোনা পুলিশ সুপার ফয়েজ আহমেদ বুধবার সন্ধ্যায় নয়া দিগন্তকে বলেন, বুধবার সকাল ৬টায় সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান ঢাকায় বিমান বন্দর দিয়ে দেশের বাইরে পালানোর চেষ্টাকালে ইমগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে আমাদের অবহিত করে। তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা রয়েছে। তাকে নেত্রকোনায় আনার প্রক্রিয়া চলছে।
– বাদ যাচ্ছে শেখ মুজিবের অতিরঞ্জিত ইতিহাস – যুক্ত হচ্ছে জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা
বিগত এক যুগ ধরে সব শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ের মলাটে যুক্ত হয়েছে শেখ হাসিনার ছবি; কিন্তু আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা যে পাঠ্যবই হাতে পাবে সেখানে থাকবে না শেখ হাসিনার কোনো ছবি। ইতোমধ্যে বিতর্কিত কারিকুলাম বাতিল করে সেখানে পুরনো কারিকুলামকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এখনি পুরো কারিকুলাম পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে কয়েকটি ধাপে আওয়ামী সরকারের প্রবর্তিত জনধিকৃত ডিম ভাজি আর আলু ভাজি শেখানোর কারিকুলাম পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা হবে। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষে (২০২৫ সাল) শিক্ষার্থীরা যে নতুন বই হাতে পাবে সেখানে বিদ্যমান কারিকুলামের বেশ কিছু সংশোধন আনা হচ্ছে। বিদ্যমান পাঠ্যবইয়ের মলাটের শেষ পৃষ্ঠায় শেখ হাসিনার ছবিজুড়ে দেয়া হয়েছে। আগামী বছরের জন্য মুদ্রিত নতুন পাঠ্যবইয়ের শেষ পাতায় শেখ হাসিনার ছবি থাকবে না। সেখানে শিক্ষামূলক কোনো উক্তি দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্য দিকে নতুন কারিকুলামে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে বিভিন্ন শ্রেণীর পাঠ্যবইয়ে বিশেষ করে ইতিহাস বা সমাজবিজ্ঞান কিংবা বিশ্বপরিচয় বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যেভাবে অতিরঞ্জিত ইতিহাস সংযুক্ত করা হয়েছে সেখানে পরিমার্জন করা হবে। ভুল ইতিহাস বা বিকৃতি ইতিহাস আর থাকবে না। তবে দেশ মাতৃকার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান কিংবা জিয়াউর রহমান প্রত্যেকের প্রাপ্য সম্মান এবং সঠিক ইতিহাস শিক্ষার্থীদের জানার জন্য শেখার জন্য পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরা হবে। দীর্ঘ দিন ধরেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অবদান পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা না হলেও নতুন কারিকুলামে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিভিন্ন শাখাপ্রধান এবং শিক্ষাক্রমের দায়িত্বে থাকা (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) সদস্যদের সাথে আলাপকালে এসব তথ্য জানা যায়। পাঠ্যবইয়ের বর্তমান কারিকুলাম পরিমার্জনের জন্য বিতর্কিত সব বিষয় সংশোধনের পর সম্পাদনা বিভাগ চূড়ান্ত করে মুদ্রণে পাঠাবে। তবে পাঠ্যসূচি বা কারিকুলাম নিয়ে এখনো সংশোধন কিংবা পরিমার্জনের কাজ চলছে বলেও জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বিতর্কিত কারিকুলাম পরিমার্জন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্র্মকর্তা নয়া দিগন্তকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগে থেকেই বিদ্যমান কারিকুলামের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন। অনেকেই আবার এই কারিকুলামকে ডিম ভাজি আর আলু ভাজির কারিকুলাম বলেও আখ্যায়িত করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার কারো কোনো কথাতেই কর্ণপাত করেনি। সরকার একতরফাভাবে বিতর্কিত এই শিক্ষা কারিকুলাম শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এ দিকে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগর সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দেশের দায়িত্বভার নেয়ার পর প্রথমেই বিতর্কিত কারিকুলাম বাতিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য এখন যে পাঠ্যবই ছাপার প্রস্তুতি চলছে, সেই বইয়ের পাঠ্যসূচিতে পরিমার্জন বা পরিবর্তনের কাজও শুরু করা হয়েছে। বিদ্যমান কারিকুলামে নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজন তুলে দেয়া হলেও নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে আবারো নবম শ্রেণীতে বিভাগ বিভাজনের (আর্টস, সাইন্স, ব্যবসায় শিক্ষা) সুযোগ দিচ্ছে। আর এ বছর যারা নবমে শ্রেণীতে আছে তারা আগামী বছর (২০২৫ সাল) দশম শ্রেণীতে উঠে যাবে। তারাও এক বছরের জন্য বিভাগ পছন্দ করার সুযোগ পাচ্ছে। তাদের জন্য পাঠ্যপুস্তকও সেভাবেই রচিত হচ্ছে। সূত্র মতে, বিগত দিনে পাঠ্যবইয়ের পাতায় পাতায় যেভাবে ইতিহাসের বিকৃতি করা হয়েছে নতুন পাঠ্যবইয়ে তা বাতিল করা হচ্ছে। অর্থাৎ ইতিহাসের অতিমাত্রায় রাজনীতিকরণের ধারা পাঠ্যবইয়ে আর থাকবে না। তবে দেশমাতৃকার জন্য যে বা যার যতটুকু অবদান রয়েছেন সেই বিষয়গুলো সম্মানজনকভাবেই পাঠ্যপুস্তকে যুক্ত করা হবে। আওয়ামী সরকারের চাপিয়ে দেয়া বিতর্কিত কারিকুলাম পরিমার্জনের কাজের সাথে যুক্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাখাল রাহা গতকাল নয়া দিগন্তকে জানান, পাঠ্যবইয়ে আমরা কাউকে ছোট বা বড় বানাতে চাই না। দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য যার যতটুকু অবদান ছিল বা রয়েছে আমরা তা নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরতে চাই। তবে ইতিহাসের বইয়ের অতিরঞ্জিত বিষয়গুলো বাদ দেয়ার প্রস্তাব করছি। একই সাথে দেশের কৃষ্টি কালচার বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে আঘাত করে এমন সব বিষয়ও বাদ দেয়া হচ্ছে। একটি কথা পরিষ্কার, আমাদের পক্ষে হয়তো এক বছরে সব পরিবর্তন বা পরিমার্জন সম্ভব হবে না। তবে এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে কয়েক ধাপে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জনের কাজ চলবে। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক মাধ্যমিক) প্রফেসর মো: সাইদুর রহমান জানান, এক বছরেই সবকিছু পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। কেননা আমাদের মাথায় রাখতে হবে বছরের প্রথম দিনেই কিন্তু শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিতে হবে। তাই ইতোমধ্যে যেসব শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের জন্য টেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়েছে সেগুলো বাতিল না করে বরং দ্রুততম সময়ে পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করে মুদ্রণের কাজে হাত দিতে হবে। ফলে আগামী দুই-তিন মাস আমাদের কাজের ব্যস্ততাও অনেক বাড়বে। সবকিছু ঠিক থাকলে বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীরা বই পাবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল তা আগামীকাল (মঙ্গলবার) প্রত্যাহার হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দলটির আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
শিশির মনির বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্য অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার বা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে। একইসাথে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর আপিল বিভাগে জামায়াতের নিবন্ধ সংক্রান্ত আপিলটি পুনরায় শুনানির জন্য আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, জামায়াত আইনি পদক্ষেপ অনুযায়ী পথ চলতে চায়। গত ৫ আগস্ট তৎকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন হয়। ওই দিনই সেনাপ্রধানের অফিস ও বঙ্গ ভবনে রাজনৈতিক দলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়। অতঃপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের ক্ষেত্রেও জামায়াত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। জামায়াত রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় ক্রমাগত অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে। গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি, মন্দির পাহারা, শহীদ পরিবার ও আহত-পঙ্গুদের পাশে দাঁড়ানো ও বন্যা-দুর্গতের মানবিক সহায়তা প্রদান তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য।
শিশির মনির বলেন, ১২ আগস্ট মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সাথে জামায়াতের আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের আলোচনা অনুযায়ী এই বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হয় এবং আশু সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়। সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গের সাথে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আইনি বিধানগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এরই প্রেক্ষিতে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে ১৯ ধারা অনুযায়ী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হয়। অতঃপর আইন অনুযায়ী সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক তিন সদস্য বিশিষ্ট প্যানেল গঠন করা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের তথ্য অনুযায়ী ইতোমধ্যে এই সংক্রান্তে যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিষিদ্ধের আদেশ বাতিল করে নতুন গেজেট প্রকাশিত হবে।
হোসনে আরা পপি নামের এক গৃহিণীর ব্যাংক হিসাবে পাওয়া গেছে ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে, এই টাকা তাঁর স্বামী সোহেল রানা বিশ্বাসের। ‘ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই অর্থ সংগ্রহ করেছেন। সোহেল রানা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জেলার (কারাধ্যক্ষ)।
দুদক বলছে, হোসনে আরা নিজেকে মৎস্য চাষি দাবি করলেও এগুলোর কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। জেলার সোহেল রানা দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ জায়েজ করতে স্ত্রীকে মৎস্য খামারি সাজিয়েছেন।
সাড়ে পাঁচ বছর আগে সোহেল রানা টাকা ও মাদকসহ গ্রেপ্তার হওয়ার পর দুদক তাঁর সম্পদের খোঁজে তদন্ত শুরু করে। ২০২২ সালের ৩০ জুন তাঁর বিরুদ্ধে দুদক মামলা করে। দুই বছর তদন্ত শেষে স্ত্রী হোসনে আরার নামে এই নগদ টাকার সন্ধান পায় দুদক।
মো. জাকির সিকদারের বাসা রাজধানীর মধ্য বাড্ডা এলাকায়। বয়স ৩৩ বছর। গুলশানের একটি পোশাকের দোকানে চাকরি করেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। গত ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে মেরুল বাড্ডা এলাকায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হন তিনি।
আহত জাকির সিকদারকে প্রথমে আফতাব নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। জাকিরের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারে সাহস করেননি। এরপর জাকিরকে আনা হয় জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল)। সেখান থেকে নেওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ঢাকা মেডিকেল থেকে আবার পঙ্গু হাসপাতালে। সেই থেকে জাকির পঙ্গু হাসপাতালে।
হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ–সহিংসতায় আহত ১৪৪ জন এখনো হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়েছে। একজনের হাত কাটতে হয়েছে। এই ১১ জনকে বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হবে। জাকিরের বাঁ হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা। বুলেটে হাড় ভেঙেছে, রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, জীবন বাঁচাতে পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মোটা বড় ব্যান্ডেজ দিয়ে পা মুড়ে রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে পঙ্গু হাসপাতালে কথা হয় জাকির সিকদারের মা ও তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁরা জানান, ২১ জুলাই অস্ত্রোপচারে পা কেটে ফেলা হয়। এরপর আরও তিনবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তাঁরা ঠিক জানেন না, কবে হাসপাতাল থেকে জাকিরকে ছাড়া হবে।
হাসপাতালের পরিচালকের দপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ–সহিংসতায় আহত ১৪৪ জন এখনো হাসপাতালে আছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের একটি করে পা কেটে ফেলা হয়েছে। একজনের হাত কাটতে হয়েছে। এই ১১ জনকে বাকি জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে কাটাতে হবে।
জাকিরের বাঁ হাঁটুর ওপর থেকে কেটে ফেলেছেন চিকিৎসকেরা। বুলেটে হাড় ভেঙেছে, রক্তনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চিকিৎসকেরা বলেন, জীবন বাঁচাতে পা কেটে ফেলা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না। মোটা বড় ব্যান্ডেজ দিয়ে পা মুড়ে রাখা হয়েছে। হাসপাতালের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক আহত ব্যক্তিকে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অনেকের পা বা হাত শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁরাও অনেকটা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে আছেন।’
পঙ্গু হাসপাতালের পাশে রাস্তার ওপারে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল। এই হাসপাতালে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩২ জন চোখে আঘাত পাওয়া রোগী ভর্তি ছিলেন। তাঁদের প্রত্যেকের চোখে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলি লেগেছিল। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক গোলাম মোস্তফা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি, করছি। তার পরও দুই–তিনজনের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাঁরা দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন কি না, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।’
পায়ে, হাতে, চোখে বা শরীরের অন্য কোনো স্থানে গুলি লেগে আহত অনেকেরই এখনো চিকিৎসা শেষ হয়নি। রাজধানীর সাতটি সরকারি হাসপাতালে এ রকম ৪৩৯ রোগীর চিকিৎসা চলছে। এর মধ্যে ঢাকা মেডিকেলে ১৭৫ জন, পঙ্গু হাসপাতালে ১৪৪ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪১ জন, চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ৩২ জন, শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ৩০ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হসপিটালে ১২ জন আছেন। এর বাইরে বেশ কিছু আহত ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অনেক আহত ব্যক্তিকে একাধিকবার অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। অনেকের পা বা হাত শক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তাঁরাও অনেকটা প্রতিবন্ধিতার ঝুঁকিতে আছেন। হাসপাতালের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম পঙ্গু হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যাঁদের পা কাটা গেছে, তাঁদের কৃত্রিম পা দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আছে। একাধিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম পা সংযোজনের বিষয়ে উদ্যোগী হয়েছে। এ ছাড়া বেশ কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রোগীদের ওষুধ দেওয়ারও উদ্যোগ নিয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নুরজাহান বেগম, পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া পঙ্গু হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতাল ছেড়ে যাওয়ার আগে নুরজাহান বেগম সাংবাদিকদের বলেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব খরচ সরকার বহন করবে। আর ফরিদা আখতার বলেন, হাসপাতাল থেকে ছুটি নেওয়ার পরও কারও কারও চিকিৎসার প্রয়োজন হবে। সেই প্রয়োজন মেটাতে প্রত্যেক রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।
প্রতিনিধিরা ২৩ থেকে ২৭ জুলাই রাজধানীর মোট ৩৮টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। সংঘর্ষ ও সংঘাতের ঘটনায় তখন আহত ৬ হাজার ৭০৩ জনের কথা জানা গিয়েছিল। এসব রোগী ১৬ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে হাসপাতালে এসেছেন। যদিও মোট কত মানুষ আহত হয়েছেন, তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেছেন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা।
সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমরা সুন্দর আলোচনা করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের সব কার্যক্রম চলবে।’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণভবন অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল চারটায় জনগণের উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে ওনার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।’
সমস্ত হত্যা ও অন্যায়ের বিচার হবে উল্লেখ করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। আমরা সমস্ত দায়দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।’
ভাঙচুর, হত্যা, সংঘর্ষ ও মারামারি থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনারা যদি কথামতো চলেন, একসঙ্গে কাজ করি। নিঃসন্দেহে সুন্দর পরিণতির দিকে অগ্রসর হতে পারব। মারামারি ও সংঘাত করে আর কিছু পাব না। তাই দয়া করে ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হন। সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হব।’
রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে জানিয়ে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কাজ পরিচালনা করব। ধৈর্য ধরেন, সময় দেন। আমরা সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব।’
সংঘাতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অর্থসম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন মারা যাচ্ছে। সংঘাতের পথে যাবেন না। শান্তিশৃঙ্খলার পথে ফিরে আসেন।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কত সদস্য হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এখনো খুব আর্লি স্টেজ। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। আলাপ–আলোচনা করে ঠিক করা হবে। আজকেই রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। রাতের মধ্যেই সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করব। দু–এক দিন আমাদের সময় দেওয়া লাগতে পারে।’
আলোচনায় কারা উপস্থিত ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘জামায়াতের আমির, বিএনপির শীর্ষ নেতা, জাতীয় পার্টির নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না। সময় কম ছিল। যাদের পেয়েছি, তাদের বলেছি। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক, জোনায়েদ সাকি ছিলেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল ছিলেন। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন। এখন ছাত্রদের কাজ শান্ত হওয়া ও আমাদের সাহায্য করা।’
সেনাবাহিনী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সবার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা। পরিস্থিতি শান্ত হলে কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই। আমি আদেশ দিয়েছি, কোনো গোলাগুলি হবে না। সেনাবাহিনী, পুলিশ কোনো গুলি চালাবে না। আশা করছি, এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
সেনাপ্রধান আন্দোলনরত ছাত্র–জনতা সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।
যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি পুনরায় শুরু করতে বিভিন্ন জোট ও শরিক দলগুলোর সাথে সিরিজ বৈঠক করছে বিএনপি। এ পর্যন্ত হওয়া বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি, দুর্নীতি ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে রোডমার্চ ও লংমার্চসহ নানা কর্মসূচির প্রস্তাব দিয়েছে বিভিন্ন দল ও জোট। কোনো কোনো দল আগামী দিনের কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার করারও পরামর্শ দিয়েছে।
জানা গেছে, বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী করিডোর চুক্তির প্রতিবাদে আগামী ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে রংপুর, পঞ্চগড় অভিমুখে রোডমার্চ বা লংমার্চ করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে একাধিক দল ও জোট। গত ১১ জুলাই থেকে আন্দোলনের শরিকদের সাথে বৈঠক করছে বিএনপি। প্রথম দিন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণফোরাম ও এনডিএমের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটি। এরপর ১২ জুলাই বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে লিয়জোঁ কমিটি বৈঠক করে সমমনা জোট, এলডিপি ও লেবার পার্টির সাথে।
গতকাল বৈঠক হয়েছে ভিপি নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সাথে। আজ ১৪ জুলাই ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠকের কথা রয়েছে । এসব বৈঠকে অংশ নেয়া দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগামী দিনের আন্দোলনের কৌশল নিয়ে বৈঠকে মূলত আলোচনা হয়েছে। এই আলোচনায় রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচির প্রস্তাব উঠে আসে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে এলডিপি চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমেদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সাথে আন্দোলনের অনেক দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তারা বিভিন্ন দলের মতামত নিচ্ছেন। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সাথে আমাদের বৈঠক আছে আজ। আমরা আন্দোলনের বিভিন্ন বিষয় সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিবো। পাশাপাশি এর আগেও বিভিন্ন মিটিংয়ে আমি ও আমার জোটের একাধিক নেতা বলেছেন, বিএনপির পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল। যুগপৎ আন্দোলনে থাকা দুই-একটা দল ছাড়া জামায়াতের বিষয় সবাই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে। তাই জামায়াতকে যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদার হিসেবে রাজপথে পেতে তাদের সাথে সমন্বয় করা দরকার।
জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপির সাথে আগামী দিনের সরকার বিরোধী আন্দোলনের পরিকল্পনা নিয়ে কথা হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, দুর্নীতি, লুটপাট ও ভারতের সাথে স্বার্থবিরোধী করিডোর চুক্তির প্রতিবাদে একটি রোডমার্চ কর্মসূচি করার বিষয়ে মতামত দেয়া হয়েছে।
আমরা এ কর্মসূচিতে মতামত দিয়েছি। এ ছাড়া আওয়ামী নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ব্যাতিত ডান-বাম-ইসলামী সকল দলগুলোকে একত্র করে আন্দোলন সক্রিয় করার পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়েছি। লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, বিএনপির সাথে যুগপৎ আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রোডমার্চ ও লংমার্চের মতো কর্মসূচিতে আমরা মতামত দিয়েছি। পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় করতে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছি।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নূর বলেন, আন্দোলনের নানা কৌশল ও দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা অতীতের মতো বিরোধীদলগুলোর সাথে সমন্বয়ের পরামর্শ দিয়েছি। সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে যেন কোনো বড় শক্তি আন্দোলনের বাইরে না থাকে সে বিষয় সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি। পাশাপাশি সব দলগুলোর সমন্বয়ে একটি সমন্বয় কমিটির বিষয়ও প্রস্তাব দিয়েছি।
নতুন আন্দোলন কর্মসূচির বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান নয়া দিগন্তকে বলেন, চলমান সরকার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেশি শক্তিশালী করতে আমরা সমমনা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বৈঠক করছি। তাদের পক্ষ থেকে নানা প্রস্তাব এসেছে। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বাংলাদেশী পণ্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান ও দেশের রফতানি খাত সম্প্রসারণের জন্য রফতানিকারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের নতুন বাজার খুঁজতে হবে। আমাদের রফতানি খাত সম্প্রসারণ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০২১-২০২২ অর্থবছরে দেশের রফতানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২৮টি ক্যাটাগরিতে ৭৭ জন রফতানিকারককে জাতীয় রফতানি ট্রফি প্রদান করেন।
সর্বোচ্চ রফতানি আয় অর্জনকারী প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রফতানি ট্রফি শিরোনামে একটি বিশেষ ট্রফিসহ (স্বর্ণ) মোট ২৯টি স্বর্ণ, ২৭টি রৌপ্য ও ২১টি ব্রোঞ্জ ট্রফি প্রদান করা হয়েছে।
২০২১-২২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রফতানি আয়ের জন্য রিফাত গার্মেন্টস লিমিটেডকে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি দেয়া হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রফতানি ট্রফি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র একটি রফতানি পণ্যের ওপর একটি দেশের নির্ভর করা উচিৎ নয়। কারণ একটি নির্দিষ্ট পণ্যের চাহিদা সবসময় একই রকম থাকবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেন শুধু গার্মেন্টস পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হবো?’
দেশের জনগণের উৎপাদন, রফতানি আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সীমিত পণ্যের ওপর নির্ভরশীল হতে চাই না।’