Home Blog Page 560

ট্রাম্পের ওপর হামলায় বাইডেনকে দায়ী করছেন রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হামলা হয়েছে। এ হামলার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটদের দায়ী করেছেন শীর্ষস্থানীয় রিপাবলিকানরা।

রোববার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভাইস প্রেসিডেন্টের মনোনয়নপ্রত্যাশী সিনেটর জেডি ভ্যান্স ট্রাম্পের ‘হত্যার চেষ্টা’- এর জন্য বাইডেনের প্রচারণার ‘বাগাড়ম্বরপূর্ণ ভাষা’কে দায়ী করেছেন।

অন্যান্য নেতৃস্থানীয় রিপাবলিকানরাও বাইডেন ও ডেমোক্র্যাটদের দোষারোপ করেছেন।

কংগ্রেসওম্যান মার্জোরি টেলর গ্রিন যিনি সোচ্চার ট্রাম্প সমর্থক হিসেবে পরিচিত তিনিও ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন।

এদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান মাইক কলিন্স বলেছেন, ‘জো-বাইডেন আদেশ পাঠিয়েছেন।’

বাইডেন ও অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের গুলি চালানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন। তারা এই আশঙ্কা করেছেন যে- ক্রমবর্ধমান বক্তৃতা আরো অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ২০ বছর বয়সী যুবক থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমাবেশে গুলি চালিয়েছেন বলে জানিয়েছে ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

এফবিআই বলছে, বন্দুকধারী এত গুলি চালাতে পেরেছে, যা বিস্ময়কর।

এফবিআই আরো বলছে, ট্রাম্পের ওপর হামলার উদ্দেশ্য শনাক্ত করতে পারেনি তদন্তকারীরা।

পেনসিলভানিয়ার বাটলারে এক নির্বাচনী প্রচারে হামলার ঘটনায় আহত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ‘ভালো আছেন’ বলে তার শিবির থেকে জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তাকে যে গুলি করা হয়েছে তা তার ডান কানের ওপরের অংশে ভেদ করেছে।

হামলার ঘটনার পর দ্রুত সাবেক এই প্রেসিডেন্টকে সিক্রেট সার্ভিসের অ্যাজেন্টরা মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেন। তখন দেখা যায় তার কান থেকে রক্ত পড়ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো-বাইডেন ও সব শ্রেণীর রাজনৈতিক নেতারা এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

বঙ্গভবনে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদল

সরকারি চাকরিতে কোটার যৌক্তিক সংস্কারের এক দফা দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি নিয়ে বঙ্গভবন প্রবেশ করেছে।

রোববার দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে ১২ সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি দিতে যায়।

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সারজিস আলম, নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ, হাসিব আল ইসলাম, রিফাত রশিদ, হান্নান মাসুদ, সুমাইয়া আক্তার, আব্দুল কাদের, মেহেরুন্নেসা নিদ্রা, মো: মাহিন সরকার, আরিফ সোহেল ও আশিক।

এর আগে দুপুরে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের গণপদযাত্রা জিরো পয়েন্টে আটকে দেয় পুলিশ। তবে সেই ব্যারিকেড ভেঙে বঙ্গভবনের দিকে চলে যান শিক্ষার্থীদের একাংশ। এরপর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে পুলিশ ও শিক্ষার্থীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ, মামলা তুলে নেয়া ও কোটা সংস্কারের একদফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাষ্ট্রপতিকে স্মারকলিপি দিতে দুপুর ১২টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে গণপদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পদযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন।

যেভাবে কোটা ব্যবস্থার পরিবর্তন হয়েছে

সরকারি চাকরিতে সকল গ্রেডে কোটা বাতিল করে কেবল ‘অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ’ রেখে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

২০১৮ সালে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগ পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী- এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

তবে স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে চালু হওয়া প্রথম কোটা ব্যবস্থায় এই পরিমাণ ছিল আরো বেশি।

কোটা কী?
কোটা বলতে কোনো কিছুর নির্দিষ্ট একটি অংশকে বোঝায় যা সাধারণত একটি গোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ থাকে। মূলত সমাজের পিছিয়ে পড়া বা অনগ্রসর মানুষগুলোকে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করতে পড়াশোনা, চাকরিসহ নানা ক্ষেত্রে কোটার ব্যবস্থা থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই কোটা পদ্ধতি চালু আছে।

ব্রিটিশ শাসনামলে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতীয়দের জন্য কোটা ব্যবস্থা চালু ছিল।

পরবর্তী সময়ে পিছিয়ে পড়া মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্যও কোটা বরাদ্দ করা হয়।

দেশভাগের পর পাকিস্তান আমলেও প্রদেশভিত্তিক কোটা বরাদ্দ ছিল।

সাবেক সচিব আবু আলম মো: শহীদ খান বলেন, ‘কোটা দেয়া হয় যাতে পশ্চাৎপদ বা পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো সমাজের যে কাজকর্ম হচ্ছে সেখানে অংশ নিতে পারে।’

১৯৭২ সাল থেকেই কোটা ব্যবস্থার শুরু
দেশে ১৯৭২ সাল থেকেই চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা, জেলা ও নারী কোটা ছিল।

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন করপোরেশন ও দফতরে নিয়োগ এবং কোটা বণ্টনের বিষয়ে ১৯৭২ সালের ৫ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সরকার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে।

এতে এসব প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণীর চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ মেধা এবং বাকি ৮০ শতাংশ জেলা কোটা রাখা হয়। এই ৮০ শতাংশ জেলা কোটার মধ্য থেকেই ৩০ শতাংশ কোটা মুক্তিযোদ্ধা এবং ১০ শতাংশ কোটা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের জন্য বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অর্থাৎ কোটার বড় একটি অংশই বরাদ্দ করা হয় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য।

তিনি বলেন, ‘সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধাদের বেশিভাগই ছিল- কৃষক, শ্রমিক, মজুর, তাঁতি। এরা কিন্তু সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষ ছিল। সেই কারণেই যখন দেশ স্বাধীন হলো তখন মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করার চিন্তা থেকেই বলা হলো যে তারা কোটা পেতে পারে এবং সেই কোটা ব্যবহার করে তাদের পরিবারের উন্নতি হতে পারে। সে কারণেই মুক্তিযোদ্ধা কোটা আসছে।’

এর চার বছর পর অর্থাৎ ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো কোটা বণ্টনে পরিবর্তন আনা হয়।

এ সময় মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিমাণ বাড়ানো হয় এবং শুধু নারীদের জন্য আলাদা করে কোটার ব্যবস্থা করা হয়।

অর্থাৎ মোট কোটার ৪০ শতাংশ মেধা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা, ১০ শতাংশ নারী, ১০ শতাংশ যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারী এবং বাকি ১০ শতাংশ কেবলই জেলার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষদের কোটায় অন্তর্ভুক্ত করে এবং মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে ১৯৮৫ সালে কোটা পদ্ধতির সংশোধন আনে তৎকালীন সংস্থাপন (বর্তমান জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, ‘প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর পদসমূহের জন্য মেধাভিত্তিক কোটা হইবে ৪৫ শতাংশ এবং জেলাভিত্তিক কোটা হইবে ৫৫ শতাংশ। এই জেলাভিত্তিক কোটার মধ্য হইতে মুক্তিযোদ্ধাদের ৩০ শতাংশ, নারীদের ১০ শতাংশ এবং উপ-জাতীয়দের জন্য পাঁচ শতাংশ পদ সমন্বয় করিতে হইবে।’

১৯৯০ সালে নন-গেজেটেড পদগুলোর নিয়োগে কোটা পদ্ধতিতে আংশিক পরিবর্তন আনা হলেও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর চাকরিতে তা অপরিবর্তিত থাকে।

কোটায় মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনি
সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৯৭ সালে।

১৯৮৫ সালের কোটা বণ্টন অপরিবর্তিত রেখে কেবল ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ‘উপযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা প্রার্থী পাওয়া না গেলে মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পুত্র-কন্যার’ জন্য তা বরাদ্দের আদেশ জারি করা হয়।

এর কিছুদিন পর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা কোটার পরিমাণ অনুযায়ী চাকরিতে নিয়োগ পাচ্ছেন না মর্মেও বেশ কয়েকটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সময় নির্দেশনা না মানলে ‘সংশ্লিষ্ট নিয়োগকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে’ বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

তবে ২০০২ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে আরেকটি পরিপত্র জারি করে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ কোটা বণ্টনের বিষয়ে আগের জারি করা পরিপত্রগুলো বাতিল করা হয়।

এতে বলা হয়, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ কোটা অন্য প্রার্থী দ্বারা পূরণ না করে সংরক্ষণ করার যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, তা সংশোধনক্রমে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে ২১তম বিসিএস পরীক্ষা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত ৩০ শতাংশ কোটায় উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে উক্ত কোটার শূন্যপদগুলো (ক্যাডার ও নন-ক্যাডার) মেধাভিত্তিক তালিকায় শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদেরকে দিয়ে পূরণ করা যেতে পারে।’

অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধা কোটার ৩০ শতাংশে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকার প্রার্থী থেকে নিয়োগের নির্দেশ দেয়া হয়।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে এই নির্দেশনাও বাতিল করা হয়।

একইসাথে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য নির্ধারিত কোটা পূরণ করা সম্ভব না হলে পদ খালি রাখার নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়।

কোটায় পরবর্তী পরিবর্তন আসে ২০১১ সালে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদেরও ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সবশেষ ২০১২ সালে এক শতাংশ প্রতিবন্ধী কোটা যুক্ত করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

যেভাবে শুরু কোটা আন্দোলন
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধার চেয়ে কোটার পরিমাণ বেশি থাকায় এটি নিয়ে বরাবরই অসন্তোষ ছিল।

এমন প্রেক্ষাপটে বেশ কয়েকবারই কোটা আন্দোলন হয়। তবে তা ছিল খুবই সীমিত আকারে।

কোটা আন্দোলন প্রথমবারের মতো বড় আকারে রূপ নেয় ২০১৮ সালে।

ওই বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল এবং এর পুর্নমূল্যায়ন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও দুই সাংবাদিক।

এতে কোটা পদ্ধতিকে সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক বলেও উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু মার্চ মাসে এসে ওই রিটটি খারিজ করে দেন সর্বোচ্চ আদালত।

এদিকে আদালতে রিট করার পরপরই ফেব্রুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘কোটা সংস্কার চাই’ নামে একটি পেইজ খোলা হয় এবং শাহবাগকে কেন্দ্র করে তাতে মানবন্ধনসহ নানা কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া শুরু হয়।

এর মাধ্যমেই মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলন দানা বাঁধতে থাকে।

এ সময় কোটা সংস্কারের উদ্দেশ্যে ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মও গঠন করা হয়।

রিট খারিজ হওয়ার পর কোটা পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন করা হবে না মর্মে আদেশ জারি করা হয়। তবে কোটা কার্যকর করার ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা আনে সরকার।

জনপ্রশাসন থেকে জারি করা ওই আদেশে বলা হয়, ‘সব ধরনের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থানকারী প্রার্থীদের দিয়ে সেসব পদ পূরণ করা হবে।’

অর্থাৎ আগের একটি আদেশের মাধ্যমে যেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পূরণ না হলে কোটা খালি রাখার কথা বলা হয়েছিল, সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে সরকার এবং মেধা তালিকা থেকে নিয়োগের কথা জানায়।

তবে দাবি আদায়ে অনড় থাকে শিক্ষার্থীরা।

এ সময় আন্দোলনকারীদের কর্মসূচিতে টিয়ারগ্যাস ও ফাঁকা গুলি চালানোসহ কয়েকজনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

ওই বছর এপ্রিলে এই আন্দোলন সর্বব্যাপী রূপ লাভ করে। শাহবাগ থেকে ডাকা আন্দোলনে অংশ নিয়ে সারাদেশেই ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

টানা আন্দোলন কর্মসূচির মুখে ১১ এপ্রিল সংসদে দাঁড়িয়ে সব ধরনের কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় আরো পরে- অক্টোবর মাসে।

এ সময় নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোটা বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।

১৪তম থেকে ২০তম অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদগুলোতে কোটায় প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধা থেকেই নিয়োগের কথাও জানানো হয়।

তবে প্রধানমন্ত্রীর কোটা বাতিলের ঘোষণার পর থেকে পরিপত্র জারি করা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আন্দোলনের সমন্বয়কারীদের ওপর হামলা ও গ্রেফতারের বেশ কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে আসে।

এদিকে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে ২০২১ সালে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

গত ৫ জুন তাদের পক্ষে রায় আসে, অর্থাৎ আগের মতো কোটা বহাল হবে বলে জানান আদালত।

এদিকে হাইকোর্টের ওই রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। সেই আবেদন গত ৪ জুলাই শুনানির জন্য এলে রাষ্ট্রপক্ষকে লিভ টু আপিল করতে নির্দেশ দেয় সর্বোচ্চ আদালত।

এরই মধ্যে ১ জুলাই থেকে কোটা বাতিলে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। ‘বৈষম্য-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে’ এই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

কোটা নিয়ে যা বলছেন বিশ্লেষকরা
১৯৭২ সালে কোটা ব্যবস্থা চালুর পর থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা ছিল। পরবর্তী সময়ে একই কোটায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিদের জন্য সেই কোটা বরাদ্দ করা হয়।

২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল মুক্তিযোদ্ধা কোটার পরিমাণ।

এবারের আন্দোলনেও বারবারই উঠে এসেছে মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টিই।

সাবেক সচিব ও অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘কোটার উদ্দেশ্য হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমতল ক্ষেত্র তৈরির চেষ্টা করা। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা অসম আছে কিনা এটা একটা বিষয়।’

এছাড়াও প্রতিবন্ধী বাদে অন্য কারো জন্য প্রয়োজন আছে কিনা- এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।

এ সময় কোটার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে নির্বাহী ক্ষমতার প্রসঙ্গও টানেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এটা কি সরকারের নির্বাহী ক্ষমতার বিষয় না আদালতের বিষয়? ব্যক্তির অধিকার যদি ক্ষুণ্ন হয় কিংবা সংবিধানের ব্যত্যয় ঘটলে সেটা আদালতের বিষয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তেমনটা হয়েছে বলে মনে হয় না। আগে তো নির্বাহী আদেশেই (কোটা) দেয়া হয়ছিল, আর নির্বাহী আদেশেই তা তুলে নেয়া হয়েছে।’

মোটাদাগে কোটা ব্যবস্থাকে সরলভাবে দেখার সুযোগ নেই বলেই মত বিশ্লেষকদের।

যেই পিছিয়ে পড়া মানুষদের জন্য কোটা রাখা হচ্ছে তা কিভাবে ব্যবহার হচ্ছে এবং কতটা কাজে লাগছে- সে বিষয়টাতেও নজর দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন সাবেক সচিব আবু আলম মো: শহীদ খান।

তিনি বলেন, ‘কোটা একটা পরিবার কয়বার ব্যবহার করতে পারবে? পশ্চাৎপদ কোনো পরিবারের একজন একবার চাকরি পেয়ে গেলে সে আর পশ্চাৎপদ থাকছে না। এছাড়াও পশ্চাৎপদতার আয়ের সিলিং থাকতে হবে। সব মিলিয়ে কোটা থাকবে, কিন্তু কিভাবে পরিচালিত হবে ওটা নিয়ে অনেক ভাবনার বিষয় আছে।’
সূত্র : বিবিসি

সরকারের সাথে আলোচনায় ৩ শর্ত ইমরান খানের

কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

রোববার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

আদালতের কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলাপকালে ইমরান খান এই শর্তগুলো পেশ করেন।

ইমরান খানের প্রথম শর্ত হলো- আমার মামলাগুলো খারিজ করা উচিত, দ্বিতীয়টি হলো- আমাদের দলের সদস্যদের মুক্তি দেয়া এবং তৃতীয়টি- আমাদের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দেয়া।

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীর সাত বছরের কারাদণ্ড শনিবার (১৩ জুলাই) বাতিল করেছে দেশটির একটি আদালত।

রায়ের বিষয়ে খানের আইনজীবী বলেন, কথিত বেআইনিভাবে বিবাহের অভিযোগে ২০১৮ সালে দায়ের করা এক মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রায় এক বছর পর মুক্তির সর্বশেষ বাধাটি দূর হলো।

ইমরান খানের অন্যতম আইনজীবী নাঈম পাঞ্জুথা বলেন, আদালত রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে এই রায় ঘোষণা করেন। আর এখানেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আটক রাখা হয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্য একটি আপিল আদালত ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজা বহাল রাখার আদেশের দুই সপ্তাহ পর খালাস পেলেন তারা।

আদালত তার সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছে, যদি এই দম্পতিকে অন্য কোনো মামলায় অভিযুক্ত না করা হয় তবে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

বুশরা বিবি হলেন ইমরান খানের তৃতীয় স্ত্রী এবং একজন আধ্যাত্মিক গুরু। ইমরান খানের সাথে বিয়ে হওয়ার মাত্র তিন মাসেরও কম সময় আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল বুশরা বিবির। পাকিস্তানের ইসলামী আইন অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নতুন বিয়ের আগে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।

বুশরা বিবি বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এই দম্পতি বিচারের সময় জোর দিয়েছিলেন তারা অপেক্ষার সময়সীমা লঙ্ঘন করেননি।

আদালতের আদেশে সরকার কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা স্পষ্ট নয়। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইমরান খানের দলকে অন্যায়ভাবে সংসদে কমপক্ষে ২০টি আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়ার এক দিন পর এই আদেশটি আসলো। এটি দেশটির দুর্বল শাসক জোটের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিকে এর আগে জাতীয় পরিষদ বা সংসদের নিম্নকক্ষে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত অতিরিক্ত আসন দেওয়ার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যদিও এই রায় ইমরান খানের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় ছিল। তবে এটি তার দলকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো অবস্থানে রাখতে পারবে না। শাহবাজ গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় আসেন। তবে ভোটে কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করে আসছেন খান মিত্ররা।

২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সহিংসতায় উস্কানিসহ দেড় শতাধিক মামলায় জড়ানো হয় ইমরান খানকে। এরপরে সারা দেশে দাঙ্গার সময় খানের সমর্থকরা সামরিক ও সরকারি ভবনগুলোতে আক্রমণ করে। উত্তর-পশ্চিমে রাষ্ট্রায়ত্ব রেডিও পাকিস্তান এর আবাসিক একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে মুক্তি দেয়ার পরেই সহিংসতা কমেছিল। দুর্নীতির দায়ে আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পরে ২০২৩ সালের আগস্টের শুরুতে খানকে আবারো গ্রেফতার করা হয়।

এরপর থেকে যেসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সেসব মামলায় বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।
সূত্র : দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল

আমির খানের ছেলেমেয়েরা অবাধ্য!

গত কয়েক বছরে একের পর এক ব্যর্থতা দেখেছেন বলিউড সুপারস্টার আমির খান। ‘লাল সিংহ চড্ডা’ থেকে ‘ঠগস্ অফ হিন্দোস্তান’, ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ বক্স অফিসে ভালো ফল করতে পারেনি একটি ছবিও। আপাতত অভিনয় থেকে বিরতি নিয়েছেন আমির। এই সময়টা পরিবার ও ছেলেমেয়েদের সাথেই কাটাচ্ছেন। চলতি বছরই মেয়ে আইরা খানের বিয়ে দিয়েছেন অভিনেতা। এবার বলিউডে অভিষেক হল বড় ছেলে জুনেইদ খানের। সম্প্রতি জুনেইদের ‘মহারাজ’ ছবিটি মুক্তি পেয়েছে। তবে আমির-পুত্রের প্রথম ছবিও তেমন সাড়া জাগাতে পারেনি। আমির অবশ্য সদ্য জানিয়েন, তার ছেলেমেয়েরা নাকি মোটেও কথ শোনেন না। এবার অভিনেতা তকমা পেতেই বাবাকে পাল্টা জবাব দিলেন জুনেইদ!

দু’বার বিয়ে করেছেন আমির, দু’বারই ভেঙেছে বিয়ে। তবে প্রাক্তন দুই স্ত্রীর সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছেন ‘দঙ্গল’ খ্যাত এই অভিনেতা। এই মুহূর্তে তিন সন্তানের বাবা তিনি। প্রথম পক্ষের এক ছেলে এক মেয়ে, দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক। দ্বিতীয় পক্ষের ছেলে নাম আজাদ, অনেকটাই ছোট, সবে স্কুলে পড়ছে। তিন ছেলের মধ্যে বয়সের পার্থক্য রয়েছে, তবু নাকি বাবার কথা মোটেও শোনেন না তারা।

সম্প্রতি কপিল শর্মার শো-এ এসে খানিক অনুযোগের সুরেই আমির বলেন, ‘আমার ছেলেমেয়েরা আমার কথা কানেই তোলা না। কোনো বুদ্ধি বা পরামর্শও নিতে চায় না।’ বাবার এই অনুযোগে পাল্টা জুনেইদ বলেন, ‘আসলে ব্যপারটা ঠিক তেমন নয় যেমনটা শোনাচ্ছে, আমার বাবা এত বেশি অভিভাবকত্ব দেখান, তখন আমরা বলি তুমি ছেড়ে দাও আমার করে নিতে পারব।’

টাইব্রেকারে কোপা আমেরিকায় তৃতীয় উরুগুয়ে

প্রথমবার কোপা আমেরিকায় খেলতে নেমেই দারুণ চমক দেখিয়েছে কানাডা। তবে সেমিফাইনালে তাদের স্বপ্নযাত্রা শেষ হয় আর্জেন্টিনার কাছে হেরে। তৃতীয় স্থান অর্জনের লড়াইয়ে চমক দেখাল তারা। কিন্তু হেরে যায় ভাগ্যের কাছে, ট্রাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জয় পেয়েছে লুইস সুয়ারেজের উরুগুয়ে। এর আগে, দুর্দান্ত লড়াইয়ে নির্ধারিত সময়ে শক্তিশালী উরুগুয়ের বিপক্ষে ২-২ গোলে সমতায় রাখে কানাডা।

রোববার সকালে (বাংলাদেশ সময়) ডারউইন নুনিয়েজ, রদ্রিগো বেন্তাকুর ও জোসে গিমেনেজদের গড়া আক্রমণভাগ দ্রুত সাফল্যও এনে দেয় উরুগুয়েকে। মাত্র ৮ মিনিটেই উরুগুয়েকে লিড এনে দেন বেন্তাকুর। তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। কারণ ম্যাচের ২২ মিনিটেই সমতা ফেরায় কানাডা। ইসমাইল কোনে দারুণ এক ফ্লিকে ১-১ সমতা টেনে বল জালে পাঠান।

এরপর আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে দু’দলই চেষ্টা করেছে এগিয়ে যাওয়ার। ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত অবশ্য গোল পায়নি কোনো দলই। অবশেষে ৮০ মিনিটে জোনাথন ডেভিডের গোল ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখায় কানাডাকে। কিন্তু সুয়ারেজের গোলে উড়ে যায় সেই স্বপ্ন।

প্রায় হারতে বসা ম্যাচকে এই গোলে সুয়ারেজ নিয়ে গেলেন টাইব্রেকারে। ভাগ্য পরীক্ষার সেই লড়াইয়ে কানাডার ইসমাইল কোনে ও আলফোনসো ডেভিস পেনাল্টি মিস করলেও উরুগুয়ে সবগুলো শটই জালে জড়িয়েছে। আর কানাডার বিপক্ষে উরুগুয়ে জিতেছে ৪-৩ গোলে।

ইউরোর গোল্ডেন বুট ৬ জনের!

সিংহাসন পুনরুদ্ধার করবে কি স্পেন, নাকি ইংল্যান্ড পাবে প্রথম ইউরো জয়ের স্বাদ? এমন প্রশ্নের উত্তরের খুঁজে যখন সবাই, তখন আরো একটা প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে কারো কারো মনের দুয়ারে; কার হাতে উঠবে এবারের গোল্ডেন বুট!

রোববার রাতে পর্দা নামছে এবারের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের। গত ১৪জুন পর্দা উঠা মেগা এই আসর এখন শেষ ধাপে। শুধুই এখন বাকী শিরোপা নির্ধারণী। বার্লিণে ইংল্যান্ড আর স্পেন মধ্যকার ম্যাচেই মিলে যাবে যেই সমীকরণ, শেষ হবে প্রায় এক মাসের বিশ্বকাপ সফর।

শেষ মুহূর্তে তাই প্রশ্ন উঠেছে, গোল্ডেন বুট জিততে চলেছেন কে? আসরে যেমন লড়াইটা হয়েছে তুখোড়, তেমনি গোল্ডেন বুটের জন্যও এবার লড়াইটা হচ্ছে সেয়ানে সেয়ানে। আসরে সর্বোচ্চ গোলসংখ্যা তিন, সেখানেও নাম রয়েছে একাধিক খেলোয়াড়ের। এবার কী হবে?

উত্তর দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাতেই নড়েচড়ে বসেছে সবে। ফাইনালে হ্যারি কেইন ও দানি ওলমোর কেউ গোল না পেলে বিরল এক কীর্তি হবে। গোল্ডেন বুট উঠবে এবার ছয় জনের হাতে! ইতিহাসে এমন ঘটনা ঘটেনি আগে কখনো।

হ্যাঁ, এবারের ইউরোয় গোল্ডেন বুট পেতে পারেন ছয়জন। টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার নিয়মে পরিবর্তন আনায় এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যাদের প্রত্যেকের গোল সংখ্যাই সমান তিন। তারা হলেন, হ্যারি কেইন, দানি ওলমো, কোডি গাকপো, মিকাউতাজে, জামাল মুসিয়ালা ও ইভান শ্রাঞ্জ।

তবে দল ফাইনালে থাকায় কেইন ও ওলমোর সামনে এখনো পুরস্কারটা নিজের করে নেওয়ার সুযোগ আছে। সেক্ষেত্রে ফাইনালে গোল সংখ্যা বাড়াতে হবে তাদের। দু’জনের কেউ বেশি গোল করলে গোল্ডেন বুট তার। আর গোলসংখ্যা সমান হলে ভাগাভাগি হবে তাদের মাঝে।

সাধারণত ব্যক্তিপর্যায়ের পুরস্কারগুলো একজনই পেয়ে থাকেন। এক যুগ ধরে ইউরোতেও এভাবেই দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রথমে গোলসংখ্যা, এরপর এসিস্টের সংখ্যা দেখা হয়েছে৷ সেখানে সমাধান না হলে সময়ের পরিমাণ মিলিয়ে সবচেয়ে কম সময় মাঠে থাকা ফুটবলারকে দেয়া হয় এই পুরস্কার।

সবশেষ ২০২০ ইউরোতেও ছিল এমন নিয়ম। তবে উয়েফা ফিরে যাচ্ছে তাদের পুরনো নিয়মে। এখন থেকে আর এসিস্ট বা সময় দেখা হবে না। শুধু গোল সংখ্যা দিয়েই বিবেচনা করা হবে গোল্ডেন বুট জয়ীকে৷ সেই সংখ্যা এক বা একাধিকও হতে পারে।

একাধিক গোল্ডেন বুট জয়ের কীর্তি অবশ্য নতুন কিছু নয় ইউরোতে। সর্বোচ্চ পাঁচজন গোল্ডেন বুট জিতেছেন ১৯৬০ সালে ইউরোর প্রথম আসরে। এবার সেই সংখ্যা ছয় করার সুযোগ আছে।

সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে ৭ অভিবাসীর মৃত্যু

উন্নত জীবনের আশায় ঝুঁকি নিয়ে সাগরপথে ইউরোপে পাড়ি জমান অনেকেই। তেমনই এক ভেলায় করে পাচারকারীদের সহায়তায় তুরস্ক থেকে গ্রিসের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন অভিবাসী। পথে মধ্যে তুরস্ক উপকূলে পাথরে আঘাত হেনে ডুবে যায় তাদের ভেলা। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছেন সংবাদ মাধ্যম ডয়চে ভেলে।
তুরস্কের এজিয়ান সাগরে অভিবাসীদের বহনকারী একটি লাইফ ভেলা মঙ্গলবার তুরস্কের উপকূলের শহর সেসমের কাছে পাথরের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়। এ বিষয়ে তুর্কি উপকূলরক্ষীরা জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ভেলায় থাকা অন্তত সাতজন মারা গেছেন। আর শিশুসহ ১৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। যদিও নিহত বা উদ্ধার হওয়া অভিবাসীরা কোন দেশের নাগরিক সেটা জানায়নি তারা।
এ ঘটনায় তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ বলেছেন, উদ্ধার অভিযানে তাদের একটি হেলিকপ্টার, চারটি কোস্টগার্ড জাহাজ এবং একটি ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালিয়েছে।
তুরস্কে অবশ্য এমন ঘটনা অনেকটা নিয়মিতই। বিশেষ করে গ্রীষ্মের মাসগুলিতে চোরাকারবারীরা প্রতিদিনই তুরস্কের এজিয়ান উপকূলরেখা বরাবর, অভিবাসীদের তুরস্ক থেকে গ্রিসে পাঠানোর চেষ্টা করেন। যেখানে প্রায়শই মৃত্যু ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।

ফ্রান্সে জোট সরকার গঠনে জটিলতা

ফ্রান্সের পার্লামেন্ট নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে জয় পেয়েছে বামপন্থি জোট নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি)। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট এনসেম্বল দ্বিতীয় হয়েছে এবং আরএনের অবস্থান তৃতীয়। তবে নির্বাচনে এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি কোনো দলই।
এজন্য দেশটির সরকার গঠনে এবার ঝুঁকতে হবে জোটের দিকে। এতেই বাঁধে বিপত্তি। মধ্যপন্থিদের সঙ্গে জোটবদ্ধ সরকার গড়তে চান না মধ্যপন্থি নেতা জন-লুক মেলশো। আবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও চান না মেলশোর মতো নেতার সঙ্গে সরকার গঠন করতে। যার জেরে জোট সরকার গঠনেও বেশ জটিলতা দেখা দিয়েছে দেশটিতে। এরই মধ্যে দলগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে একত্রিত করতে মঙ্গলবার ফ্রান্সের জাতীয় পরিষদে পৌঁছেন নবনির্বচিত আইনপ্রণেতারা।
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী বাছাইয়ে আলোচনা শুরু করলে সেখানেও দেখা দেয় জটিলতা। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণেই প্রার্থী নির্বাচনেও উভয় সংকটে পড়েছে দলগুলো।
দেশটির নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণায় দেখা গেছে, ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ৫৭৭টি আসনের মধ্যে নিউ পপুলার ফ্রন্ট (এনএফপি) পেয়েছে ১৮২টি, ম্যাক্রোঁর মধ্যপন্থি জোট এনসেম্বল পেয়েছে ১৬৩টি এবং যারা ক্ষমতায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল সেই ন্যাশনাল র‌্যালি (আরএন) ১৪৩টি আসনে জয় পেয়েছে। কিন্তু দেশটির ৫৭৭ আসনের পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৮৯ আসন পায়নি কোনো দলই।
এজন্য জোট সরকার গঠন করা অনিবার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী জোট গঠনে সাধারণত অভ্যস্ত নয় ফ্রান্স। যা জার্মানি বা নেদারল্যান্ডসের মতো উত্তর ইউরোপীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে হয়ে থাকে।
এদিকে ম্যাক্রোঁর দলের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন সেজার্ন বলেছেন, তিনি মূলধারার দলগুলোর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকলেও জন-লুক মেলশোর কট্টর-বাম ফ্রান্স আনবোড (এলএফআই) দলের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে চান না। বর্তমান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ড ফিলিপও কট্টর-বাম দলের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে রাজি নন। যেহেতু কোনো জোটই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি সেহেতু যে দলই সরকার গঠন করুক না কেনো পার্লামেন্টে তাকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। যা একেবারে অসম্ভব বিষয়।
ফ্রান্সের সংবিধান অনুসারে, ম্যাক্রোঁ কোনো দলকে সরকার গঠন করতে আমন্ত্রণ জানাতে পারবেন। তবে তিনি যাকেই বাছাই করেন না কেন তাকে জাতীয় পরিষদে আস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হবে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে। ম্যাক্রোঁ সম্ভবত বামপন্থি জোট থেকে সোশ্যালিস্ট এবং গ্রিনস দলকে বাদ দিতে পারেন। ফ্রান্স আনবোড দলকেও হয়তো রাখবেন না। তিনি নিজেদের মধ্যপন্থি এনসেম্বল দলের সঙ্গে বামপন্থিদের নিয়ে জোট গঠন করতে পারেন বলেও ধারণা করছেন অনেকেই। আরেকটি সম্ভাবনা হলো টেকনোক্র্যাট সরকার।
যা দৈনন্দিন বিষয়গুলো পরিচালনা করবে। কিন্তু কাঠামোগত পরিবর্তনগুলো তত্ত¡াবধান করবে না। তবে বামজোট কী ভাবছে সেটাই এখন গুরুত্ব পাবে ফ্রান্সের রাজনীতিতে। এরই মধ্যে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী গ্যাব্রিয়েল আটাল সোমবার সকালে ম্যাক্রোঁর কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তবে গ্যাব্রিয়েলের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করেন ম্যাক্রোঁ। দেশের এমন পরিস্থিতিতে আপাতত নিজ পদেই দায়িত্ব পালনের জন্য গ্যাব্রিয়েলকে আহŸান জানিয়েছেন ম্যাক্রোঁ। এদিকে মঙ্গলবার ন্যাটো সম্মেলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দিয়েছেন ম্যাক্রোঁ।
এ ছাড়া আগামী ২৬ জুলাই অলিম্পিক গেমসের আয়োজন করতে যাচ্ছে প্যারিস। তবে এখনই বলা যাচ্ছে না যে, গ্যাব্রিয়েল আটালকে আর কতদিন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ফ্রান্সের বিদায়ি অর্থমন্ত্রী ব্রæনো লে মায়ার সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, দেশ আকস্মিকভাবে আর্থিক সংকট এবং অর্থনৈতিক পতনের মুখোমুখি হতে পারে। কে হবেন প্রধানমন্ত্রী, কে হবেন প্রেসিডেন্ট, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে কে নেতৃত্ব দেবেন- এ নিয়ে ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক অচলাবস্থা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সে যে এরকম পরিস্থিতি হতে পারে, তা ভোটের আগে পর্যন্ত অনুমান করতে পারেনি রাজনৈতিক মহল।
ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে অতি ডানপন্থিদের (ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিরা ছিলেন) দুর্দান্ত ফলাফল দেখে জাতীয় সংসদ ভেঙে দেন ম্যাক্রোঁ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা ছিল, অতি ডানপন্থিদের ন্যাশনাল র‌্যালিই এবার ক্ষমতায় আসবে। প্রথম রাউন্ডের ভোটগ্রহণ পর্বেও সেই ইঙ্গিত মিললেও পরবর্তীতে তা ভুল প্রমাণিত হয়। উল্লেখ্য, ৩০ জুন দেশটির প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দফার ভোট হয় ৭ জুলাই।

ভারতীয় সেনাদের সরাতে সম্মত পুতিন

দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মস্কো রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সফরের প্রথম দিন ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, রাশিয়ায় যে ভারতীয়রা আছেন, বাধ্য হয়েই তাদের অনেককে যুদ্ধে অংশ নিতে হয়েছে। পুতিন যেন যুদ্ধ থেকে ভারতীয়দের অব্যাহতি দেন সেই অনুরোধও জানান মোদি।
সূত্রের দাবি, পুতিন মোদির কথায় সাড়া দিয়েছেন। ভারতীয়দের রুশ সেনাবাহিনী থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তারা যাতে দেশে ফিরে যেতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট। মঙ্গলবার এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে আসে এই তথ্য।
সফরের প্রথম দিন সোমবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় তাদের মধ্যে। এ সময় ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহŸান জানান মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যাবে না। ভারত জাতিসংঘ সনদ, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানায়। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো কিছুর সমাধান নেই। আলোচনা ও কূটনীতিই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়ার পথ। এ সময় অসাধু ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমে প্রতারিত হয়ে ভারতীয় নাগরিকদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মোদি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে রাশিয়া। এর পর থেকে টানা সেই যুদ্ধ চলছে। কর্মসূত্রে বহু ভারতীয় রাশিয়ায় বসবাস করেন। মোদির অভিযোগ, এমন বহু ভারতীয়কে বাধ্য হয়ে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে হয়েছে। যুদ্ধে কয়েকজন ভারতীয়র নিহত হওয়ার খবরও প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধ কেন্দ্র করে রাশিয়ার সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই মোদির এই সফরকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মোদির এই সফরকে ভালো চোখে দেখছে না যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব। ইতোম