Home Blog Page 56

সান্তোসে অনিশ্চিত নেইমারের ভবিষ্যৎ

০

সময়টা ভালো যাচ্ছে না নেইমারের। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে সব ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা থেমে যায় শেষ ষোলোতে। জাতীয় দলে ভরাডুবির পর ক্লাব সান্তোসে ফিরেও স্বস্তিতে নেই নেইমার। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে ব্রাজিলিয়ান এ তারকার। একই সঙ্গে ক্রীড়া, আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য বজায় থাকায় তাঁর চুক্তি নবায়নের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

একাধিক ব্রাজিলীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফরোয়ার্ডের আচরণ, দৈনন্দিন মেলামেশা এবং ক্লাবের ভেতরের পরিবেশ নিয়ে মতপার্থক্যের কারণে বিগত কয়েক মাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের পর তাঁর চুক্তির সময় বাড়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সৌদি ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে পাট চুকিয়ে ২০২৫ সালে নেইমার যোগ দেন ব্রাজিলিয়ান ক্লাব সান্তোসে। সেখানে এক বছরের মধ্যেই ঝামেলায় পড়েছেন তিনি। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম জি গ্লোবোর তথ্য মতে, ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের এমন কিছু আচরণ নিয়ে ক্লাবের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে; যা দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ক্ষুব্ধ করেছে। গণমাধ্যমটি জানায়, ‘প্রতিদিনের অনুশীলনে এই খেলোয়াড়কে সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ তাঁর কিছু স্বার্থপর মানসিকতা ও আচরণ সতীর্থ, কোচিং স্টাফ ও বোর্ডকে বিরক্ত করছে। মে মাসে অনুশীলনের সময় রবিনহো জুনিয়রের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার পর তাঁর নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।’

উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম একটি ঘটনা ঘটে ‘কোপা সুদামেরিকানা’ চলাকালীন। দলটি যখন একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের জন্য ভেনেজুয়েলায় সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক তখন এই তারকাকে সাও পাওলোতে একটি পোকার টুর্নামেন্টে দেখা যায়। পরে তিনি সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে এই সমালোচনার জবাব দেন এবং চাপেকোয়েন্সের বিরুদ্ধে গোল করার পর তাস বাটানোর ভঙ্গি করে উদযাপন এবং ভক্তদের উদ্দেশে রসিকতা করে গোলটি উৎসর্গ করেন। বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই খেলোয়াড়ের ভবিষ্যৎ তাঁর ব্যক্তিগত মানসিক চাপের কারণেও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।

জি গ্লোবো তাদের প্রতিবেদনে জানায়, ক্লাবের অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে নেইমার প্রতিদিনের এই বাঁধাধরা রুটিনে ‘বিরক্ত’ এবং তিনি ফুটবল খেলা ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তবে বাণিজ্যিক বাধ্যবাধকতার কারণে তাঁর বাবা খেলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয় যে, উভয় পক্ষই চুক্তি বাড়ানোর বিষয়টিকে অসম্ভব বলে মনে করছে। তবে এই মতপার্থক্য শুধু খেলার মাঠেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নেইমার ও তাঁর বাবা সান্তোসের বর্তমান পরিকাঠামো এবং দলের সামগ্রিক মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। কারণ দলটি টানা দ্বিতীয় বছরের মতো রেলিগেশন (অবনমন) এড়ানোর লড়াই চালাচ্ছে।’ এই ফরোয়ার্ড নিজে অর্থায়ন করে প্রশিক্ষণ মাঠ ও ভিলা বেলমিরো স্টেডিয়ামের কিছু উন্নয়নমূলক কাজও করিয়েছেন। আর্থিক বিষয়গুলোও বিবাদের অন্যতম একটি কারণ।

সূত্র অনুযায়ী, খেলোয়াড় হিসেবে নেইমারের পাওনা ১৭ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বকেয়া রয়েছে, যেখানে অন্য খেলোয়াড়রাও তিন মাস ধরে ইমেজ রাইটসের পেমেন্ট পাননি।

মোদিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ পোস্ট, একাধিক অ্যাকাউন্টে দিল্লি পুলিশের নোটিশ

ভারতে ছাত্রদের চলমান বিক্ষোভের সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও নিরাপত্তা বাহিনীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা ‘আপত্তিকর’ পোস্টের জেরে এক্স (সাবেক টুইটার)–এর একাধিক অ্যাকাউন্টে নোটিশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নোটিশ পাওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের অ্যাকাউন্টও রয়েছে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নোটিশে সংশ্লিষ্ট পোস্টে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারকারীদের পরিচয় জানতে চেয়েছে পুলিশ। ঠিক কতটি অ্যাকাউন্টে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্ট, ভিডিও ও মন্তব্য পর্যালোচনা করে সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং জনশৃঙ্খলার ওপর এর প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, ছাত্র বিক্ষোভ ঘিরে ভুয়া তথ্য, গুজব ও ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত পাকিস্তান-সংশ্লিষ্ট ৪০০-এর বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট শনাক্ত করা হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি পুলিশ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মকে নির্দেশ দেয়, যন্তর মন্তরের ছাত্র বিক্ষোভ এবং ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদিকে নিয়ে করা আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্যসংবলিত পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে ফেলতে।

পুলিশের ভাষ্য, আন্দোলনের সময় বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় অসংখ্য পোস্ট প্রকাশিত হয়। এসব শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ দল নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছে।

দিল্লি পুলিশের দাবি, ইতোমধ্যে নোটিশের পর এমন বেশ কয়েকটি পোস্ট ও ভিডিও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আন্দোলনসংক্রান্ত অনলাইন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং আইন লঙ্ঘনকারী আরও কনটেন্ট শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসের ধাক্কা, ৬ যানবাহনের সংঘর্ষে আহত ২৫

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় দুটি বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ অন্তত ছয়টি যানবাহন দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভৈরব বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, হবিগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী দিগন্ত পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি বাসকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় দুই বাসের মাঝখানে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, সামনে থাকা আরেকটি অটোরিকশা, একটি ট্রাক ও একটি মাইক্রোবাসও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

আহতদের মধ্যে দিনেশ (৬৫), ঝর্ণা রাণী (৫০), টিপু (২২) ও রেজিয়া (৭০) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহত ঝর্ণা রাণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মামুন মিয়া বলেন, নিয়ন্ত্রণ হারানো দিগন্ত পরিবহনের বাসটি একের পর এক কয়েকটি যানবাহনে ধাক্কা দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

দিগন্ত পরিবহনের যাত্রী নাহিদ ইসলাম দাবি করেন, ভৈরব টোলপ্লাজার কাছে এসে বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না। পরে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সামনে থাকা যানবাহনে ধাক্কা দেয়। তিনি নিজেও আহত হয়েছেন।

আরেক যাত্রী সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এর চালক গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভৈরব হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত দুটি বাস, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত যান উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত পাঁচজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্যরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর দুটি বাসের চালকই পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

হবিগঞ্জে নাসীরুদ্দীন-সারজিসের গাড়িতে হামলা, এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় এ হামলা হয়। হামলার জন্য ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দায়ী করেছে এনসিপি। হামলার মুখে সারজিস আলম সোনালী ব্যাংকের কার্যালয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন তিনি।

পরে পুলিশ গিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে আসে। তিনি এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। বাইরে বিক্ষোভ করছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তবে নাসীরউদ্দিন পাটওয়ারী দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে সার্কিট হাউসে আসেন। একপর্যায়ে সেখান থেকে তিনি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

এ বিষয়ে এনসিপি নেতারা বলেন, সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমের গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সাংবাদিক ও এনসিপি নেতাকর্মীরা আহত হন। পরে তাদের পুলিশ উদ্ধার করে। আহতদের নাম পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

4 1785251914

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল পাঁচটার দিকে হবিগঞ্জ শহরের টাউনহলের সামনে এনসিপি সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলমসহ এনসিপির কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। সমাবেশ শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একটি গাড়িতে করে সার্কিট হাউসের দিকে রওনা হন। গাড়িটি শহরের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় পৌঁছলে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। তখন দ্রুত বেগে গাড়িটি প্রায় এক কিলোমিটার দূরে সার্কিট হাউসে এসে আশ্রয় নেয়।ওই গাড়ির পেছনে থাকা সারজিস আলমের গাড়িতে তখন ইট–পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। হামলা থেকে রক্ষা পেতে গাড়িটি সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেয়।

সারজিস সোনালী ব্যাংকে অবস্থান করছেন খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে এসে ব্যাংকটি ঘেরাও করে রাখেন। পরে পুলিশ এসে রাত আটটার দিকে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের সরিয়ে দিয়ে সারজিস আলমকে উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়।

2 1785254962

এরআগে, দুপুরে আজমিরীগঞ্জে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে এনসিপি নেতারা বিএনপি নেতাদের নাম উল্লেখ করে ‘গুন্ডাবাহিনী’ বলে বক্তব্য রাখেন। এতে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ওই ঘটনার জেরে সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলে পদযাত্রা শেষে এনসিপি নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ করতে থাকে ছাত্রদল।

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘এনসিপির পদযাত্রা শেষে ছাত্রদলের নেতারা বিক্ষোভ করেন। এতে উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে এনসিপি কয়েকজন নেতাকে সার্কিট হাউজে পৌঁছে দেই।’

২০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি পিছিয়ে গেল মন্ত্রিসভা কমিটিতে অসম্পূর্ণ প্রস্তাব

প্রায় ২০ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির ২০টি প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এসব প্রস্তাব নিয়ে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন প্রশ্ন তুললেও জ্বালানি বিভাগ সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করে পূর্ণাঙ্গ তথ্যসহ আবার উপস্থাপনের পরামর্শ দেয় কমিটি। এরপর এসব প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়।
সচিবালয়ে গতকাল মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। ডিজেল আমদানির প্রস্তাব প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি একটি বৈঠকে থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈঠকে উপস্থিত এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, প্রস্তাবগুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে বেশ কিছু অসংগতি থাকায় কমিটির সদস্যরা একাধিক প্রশ্ন তুললেও জ্বালানি বিভাগ তার সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেনি। এজন্য আরও পর্যালোচনা করে ফের উপস্থাপনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রস্তাবের বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।
জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী সমকালকে বলেন, ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংঘাতের সময় সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সরবরাহের প্রস্তাব আসে। বিপিসি সেগুলো যাচাই-বাছাই করে প্রস্তাব আকারে জ্বালানি বিভাগে পাঠায়। পরে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপন করা হয়। অনেক প্রস্তাব একসঙ্গে আসায় সদস্যরা বলেছেন, যদি আরও কোনো প্রস্তাব থাকে তাহলে সবগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ কারণেই ফের উপস্থাপনের জন্য রাখা হয়েছে।
টানা দুই সপ্তাহ প্রস্তাব অনুমোদন না হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি হবে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক কোনো সমস্যা হবে না। কারণ দেশের জ্বালানি তেলের নিয়মিত আমদানি আগের মতোই চলছে। সরকার দুটি পদ্ধতিতে জ্বালানি তেল কিনে– ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তি। তাই এগুলো অনুমোদনে কিছুটা সময় লাগলেও সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট সৃষ্টি হবে না।’

প্রস্তাবে যা ছিল
দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে দর প্রস্তাব নিয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) যাচাই-বাছাই ও দরকষাকষির মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য বিবেচনা করেছে। প্রস্তাবে ওমান, নাইজেরিয়া, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, কাজাখস্তান, দুবাই ও চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোট ১৯ লাখ ৭৫ হাজার টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন চাওয়া হয়।

আগের সপ্তাহে ফেরত যায় ১৫ প্রস্তাব
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকেও একই ধরনের অন্তত ১৫টি প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা ছিল। শেষ পর্যন্ত সেগুলো প্রত্যাহার করা হয়। প্রস্তাবগুলোর আওতায় প্রায় ১৬ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা ছিল, যার ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
ফলে টানা দুই সপ্তাহে প্রায় ২০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ আটকে গেল। জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত নতুন করে অনুমোদন না মিললে ভবিষ্যতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

যেসব প্রস্তাব অনুমোদন 
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গুনভর ইউএসএ এলএলসি থেকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) পদ্ধতিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জিটুজি ভিত্তিতে কাতার, ওমান, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মোট সাতটি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ এলএনজি আমদানি করছে। গুনভর ইউএসএ এলএলসির কাছ থেকে ২০২৬ সাল থেকে ২০৩৯ সাল পর্যন্ত ১৩ বছর মেয়াদে প্রতি বছর ছয় কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রস্তাবটি জিটুজি চুক্তির আওতায় প্রক্রিয়াকরণের জন্য নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীতে এলএনজি সংরক্ষণ ও পুনঃগ্যাসীকরণ টার্মিনাল স্থাপনের লক্ষ্যে চায়না ন্যাশনাল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেডের প্রস্তাব জিটুজি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

শিক্ষার্থীদের চাকরিপ্রার্থী নয়, বরং উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এমন লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে নিজেরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারেন। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা (ডিজেএডি) আয়োজিত ‘ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রাম-২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দিনাজপুর জেলা থেকে ঢাকায় উচ্চশিক্ষার জন্য আসা এবং সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের দিকনির্দেশনা দিতে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজের প্রায় ৬৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। তরুণ এই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান তরুণদের চিন্তা-ভাবনা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার শক্তি রাখে। শুধু একটি জেলা বা উপজেলার উন্নয়ন নয়, পুরো দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, ভালো ক্যারিয়ার গড়তে সবার আগে ভালো মানুষ হতে হবে। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা লাগবে যেটা পরিবার থেকে অর্জন করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা অর্জনও সমান গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ জনশক্তি তৈরি হলে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।

মন্ত্রী বলেন, সফল ক্যারিয়ার গড়তে জিনিয়াস হওয়া জরুরি নয়। ধৈর্য, কমিটমেন্ট এবং দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে একজন সাধারণ মেধার মানুষও নিজের পেশায় সফল হতে পারেন। ফাঁকফোকড় দিয়ে পরীক্ষায় পাস করা সম্ভব হলেও এভাবে কখনও ভালো মানের ডাক্তার হওয়া যায় না। শুধু চিকিৎসক নয়, একজন দক্ষ প্রকৌশলী বা যেকোনো পেশায় সফল হতে হলে যোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরলস পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ এবং আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তুলতে সঠিক কর্মমুখী শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, শুধু সনাতন বা মুখস্থবিদ্যা দিয়ে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সময়ানুবর্তী হওয়ার পাশাপাশি সৃজনশীল কাজে নিজেদের মেধা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা (স্কিল) অর্জন করতে হবে। এজন্য বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  এদেশে তরুণ সমাজ তথা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ট্রেডে স্কিল দিয়ে, প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রশিক্ষিত করে তুলছে, যাতে তারা সমাজের মেইনস্ট্রিমে আসতে পারে।

এ লক্ষ্যে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে তারা মূলধারার কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, এ দেশের কোন মানুষ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারবে না, শিক্ষা অর্জন করতে পারবে না, এটা বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে না। তিনি বলেন, আমরা সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ গড়তে চাই।

দিনাজপুর অঞ্চলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, মফস্বল থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যেন ঢাকায় এসে সঠিক দিকনির্দেশনা পায়, সেজন্য এ ধরনের মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম অত্যন্ত জরুরি।

তিনি পরিবেশ উন্নয়ন এবং কৃষিজ উন্নয়নে বর্তমান সরকারের খাল খনন কর্মসূচির উপর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দিনাজপুর অঞ্চলের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে।

চাকরি খোঁজার মানসিকতা বদলাতে হবে: রাজউক চেয়ারম্যান
রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, চাকরি খোঁজার মানসিকতা বদলে নিজে নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।

দিনাজপুর সাংবাদিক সমিতি, ঢাকার (ডিজেএডির) সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন চিস্তির সঞ্চালনায় সেমিনারে আমন্ত্রিত বক্তা হিসেবে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্পোরেট ব্যক্তিত্ব এবং বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তারা ক্যারিয়ার গঠনে প্রযুক্তি ও ভাষা দক্ষতা, বিসিএস প্রস্তুতি এবং নতুন স্টার্টআপ খাতের বিভিন্ন দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ দেন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিজেএডির সহসভাপতি ও দৈনিক আমাদের বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক জাকারিয়া মন্ডল।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক মো. এজাজুল ইসলাম, তুলা উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন, নিউরোসাইন্স হাসপাতালের সার্জন ডা. মাহফুজ, পাটোয়ারী বিজনেস হাউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন, অ্যাডভোকেট দুর্বার প্রমুখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওরোজ পত্রিকার সম্পাদক শামসুল হক দুররানী, ডিজেএডির সাবেক সভাপতি মর্তুজা হায়দার লিটন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান, ডিজেএডির যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব মমতাজী, অর্থ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক, প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান পারভেজ, জিলফুল মুরাদ শানু প্রমুখ। এতে দিনাজপুর জেলার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েকশত শিক্ষার্থী এবং সমিতির সদস্য সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্যাস সংকট কাটাতে মালয়েশিয়ার সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি ও ফোনালাপ

দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি গতকাল মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেছেন। গ্যাসের সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করতে এলএনজি সরবরাহসহ সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার অনুরোধ জানানো হয়েছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সংকট নিরসনে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, দেশের গ্যাস সংকটের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে চিঠি পাঠিয়েছেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথাও হয়েছে।

এদিকে টেলিফোনে আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ফেসবুক পোস্টে  বলেন, পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার করার উপায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি আলোচনা করেছেন। এ ধরনের সহযোগিতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং উভয় দেশের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে সহায়ক হবে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো চিঠি মঙ্গলবার তাঁর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে দুপুরে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি তুলে ধরে সংকট মোকাবিলায় মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চাওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত হয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর দেশের পক্ষে যা যা করা সম্ভব, তা করা হবে। এ বিষয়ে দ্রুত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশকে জানানো হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে কাজ চলছে। তবে বিকল্পের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরই সংকট তীব্র হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে মালয়েশিয়ার কাছে এটিও জানতে চাওয়া হয়েছে যে, চলমান সংকটের তাৎক্ষণিক সমাধানে দেশটি কোনো সহায়তা দিতে পারবে কিনা।

মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি আমদানির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কবে নাগাদ এর সুফল পাওয়া যাবে, তা এখনই বলা সম্ভব নয়। মালয়েশিয়া সরকার কত দ্রুত সহায়তা দিতে পারবে, সে বিষয়েও তাদের মতামত চাওয়া হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়ার পরই এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলা যাবে। তিনি বলেন, এটি একটি প্রক্রিয়ার বিষয়। একই সঙ্গে অন্য উৎস থেকেও গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণই এ সমস্যার কার্যকর সমাধান বলে মনে করছে সরকার।
দেশে গ্যাস সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ, শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের ভোগান্তির কথা উল্লেখ করে আবারও দুঃখ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গণপরিবহন– সব খাতেই এর প্রভাব পড়েছে। সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার সকালে এক্সিলারেট এনার্জির ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের বৈঠক হয়েছে। এ সময় টার্মিনাল চালুর অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএল যৌথভাবে দিনরাত কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীও পুরো বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্ধ থাকা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ৫০ থেকে ৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। এর মধ্যে আগামী সপ্তাহে ২৮ থেকে ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পরবর্তী সপ্তাহে টার্মিনালটির পূর্ণ সক্ষমতায় গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে সরকারের একটি বিশেষজ্ঞ দল এক্সিলারেট এনার্জির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে।

পেট্রোনাসের প্রস্তাব 
দেশের চলমান গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি পেট্রোনাস। ক্রায়োজেনিক লরি ট্যাঙ্কার বা আইএসও কনটেইনার পদ্ধতিতে মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে এলএনজি এনে সরাসরি বাংলাদেশের শিল্পকারখানায় সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এতে স্বল্প সময়ে গ্যাসের সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে বলে মনে করা হলেও সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এর উচ্চ মূল্য। বর্তমানে শিল্পে সরকার প্রতি ইউনিট গ্যাস ৩১ টাকায় সরবরাহ করলেও পেট্রোনাসের প্রস্তাব অনুযায়ী আইএসও পদ্ধতিতে সেই গ্যাসের দাম পড়বে প্রায় ১০০ টাকা। সোমবার পেট্রোবাংলায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পেট্রোনাস এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। বৈঠকে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তবে অতিরিক্ত দামের কারণে প্রস্তাবটি নিয়ে সরকার ও শিল্প মালিকদের মধ্যে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। তাই তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও যা বললেন আনোয়ার ইব্রাহিম
ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় আমরা পারস্পরিক স্বার্থে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে মালয়েশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক জোরদার করার প্রচেষ্টা সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বাস্তবসম্মত সহযোগিতা এবং উভয় দেশের জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে আরও শক্তিশালী করতে মালয়েশিয়া প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকট এবং দেশটির জরুরি চাহিদা মেটাতে পেট্রোনাসের সঙ্গে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে সহযোগিতাসহ মালয়েশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

ব্যবহার একই, তবু জুনে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল

প্রতিবছর জুন শেষ হলেই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের মধ্যে শুরু হয় উৎকণ্ঠা। আগের মাসের চেয়ে কয়েক গুণ বিদ্যুৎ বিল হাতে পেয়েই অনেকের চোখ কপালে ওঠে। এবারও নিয়মে ফেরেনি এই অনিয়ম।
গ্রাহকদের প্রশ্ন, বাসায় নতুন কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্র লাগানো হয়নি, তার ওপর ছিল লোডশেডিং। তবু কেন জুনের বিদ্যুৎ বিল কয়েক গুণ বাড়ল!

ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের এমন যৌক্তিক প্রশ্নে নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। খোদ বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দাবি করছেন, জুনে তাপমাত্রা বেশি থাকায় বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হয়েছে। তাই আগের মাসের চেয়ে বিল বেশি এসেছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। এ জন্য অনেকেরই বিল বেশি এসেছে, এটা স্বাভাবিক।

দেশে বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রায় পাঁচ কোটি। এর বড় একটি অংশ এখনও পোস্টপেইড মিটার ব্যবহার করেন। এসব গ্রাহকের অভিযোগ, অনেক এলাকায় নিয়মিত মিটার রিডিং নেওয়া হয় না। কোথাও কোথাও দেওয়া হয় অনুমাননির্ভর বিল। আবার কোথাও একসঙ্গে কয়েক মাসের রিডিং যোগ করা হয়।

অন্যদিকে, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরা বলছেন, জুন-জুলাইয়ে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জ করার পরপরই টাকা হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকা তো বটেই; নারায়ণগঞ্জ, সাভার, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, হবিগঞ্জসহ দেশের বেশ কয়েকটি এলাকা থেকে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের এমন অভিযোগ মিলেছে।

বিদ্যুৎ খাত-সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন, জুনের এমন বিলের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। অনেক সময় মাঠ পর্যায়ে মিটার রিডিং নিয়মিত নেওয়া হয় না। অর্থবছরের শেষে কয়েক মাসের ইউনিট একসঙ্গে যোগ হওয়ায় গ্রাহক উচ্চ স্ল্যাবে চলে যান। ফলে বিল অস্বাভাবিক বেড়ে যায়। তবে বিদ্যুৎ খাতের আরেকটি সূত্রের দাবি, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থবছরের শেষে রাজস্ব আয় বেশি দেখানো বা সিস্টেম লস কমিয়ে দেখানোর প্রবণতাও অতিরিক্ত বিলের কারণ হতে পারে।

এদিকে, জুনে হঠাৎ কয়েক গুণ বিল আসায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, মিটার রিডিংয়ে ভুল বা বিলিং ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে যদি এমন হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। পাশাপাশি ভুল বিলের কারণে যেন কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন বা জরিমানা করা না হয়, সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি করেছেন গ্রাহকরা।
এ পরিস্থিতিতে ২ জুলাই বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখের সভাপতিত্বে সারাদেশের জেলা প্রশাসক ও বিতরণ কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের নিয়ে পর্যালোচনা সভা হয়। সেখানে অতিরিক্ত বিলের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা আসে। করনিক বা কারিগরি ভুল হলে তাৎক্ষণিক সংশোধন এবং অসদুপায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এদিকে, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদ এখন শুধু অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই। রাজশাহীতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে। তারা ভূতুড়ে বিল বাতিল, প্রকৃত মিটার রিডিংয়ের ভিত্তিতে নতুন বিল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের বিল সমন্বয় এবং বিশেষ অভিযোগ সেল গঠনের দাবি জানিয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

বিস্ময়কর বিদ্যুৎ বিল
রাজধানীর দুই বিতরণ সংস্থা ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) ও ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি) এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ৮০টি সমিতির অধিকাংশ গ্রাহক বিল বিপত্তিতে পড়েছেন।

ঢাকার আদাবরের বাসিন্দা ইকবাল হোসেনের বাসার প্রতি মাসের বিদ্যুৎ বিল এক হাজার ৫০০ টাকার আশপাশে থাকলেও জুনে তা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে! পরে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, একটি ডিজিট ভুল করে বসানো হয়েছিল। সংশোধনের পর বিল নেমে আসে এক হাজার ৪৬০ টাকায়। ইকবালের প্রশ্ন– আমি অভিযোগ করেছি বলে ভুলটি ধরা পড়েছে। যিনি অভিযোগ করবেন না, তার কী হবে?

খিলগাঁওয়ের সজিবুর রহমান বলেন, একই ব্যবহারেও জুনে কয়েক গুণ বেশি বিল এসেছে। ডেমরার শরিফুল ইসলামের দাবি, প্রায় প্রতি বছরই জুনে এমন হয়। অভিযোগ দিয়েও লাভ হয় না।
নিকেতনের বাসিন্দা সালাউদ্দিনের মার্চে বাসার বিদ্যুৎ বিল আসে ছয় হাজার ৩৭৭ টাকা, এপ্রিলে সাত হাজার ৪০২ টাকা আর মে মাসে ছয় হাজার ৮৪২ টাকা। সালাউদ্দিনকে অবাক করে দিয়ে জুনে বিল আসে ৪৮ হাজার ৯০৯ টাকা! যা বিলের ধারাবাহিকতায় চোখে পড়ার মতো। তিনি বলেন, এই বিল অবিশ্বাস্য!

মোহাম্মদপুরের আমিন খানের অভিযোগ, মিটার না দেখে কিংবা সঠিক রিডিং না নিয়ে এভাবে বিল তৈরি করলে সাধারণ গ্রাহক বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে। এটার সুরাহা দরকার।
নারায়ণগঞ্জের আমলাপাড়ার বাসিন্দা মিঠু ভূঁইয়া ডিপিডিসির গ্রাহক। তাঁর মে মাসের বিল ছিল ছয় হাজার ১০০ টাকা। জুনে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২০০ টাকায়। তিনি বলেন, গরম ছিল, এসি চলেছে। কিন্তু ব্যবহার এতটা বাড়েনি যে বিল প্রায় দ্বিগুণ হবে।

রাজধানীর বাইরের চিত্রও একই। উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বিতরণ সংস্থা নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো), দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিতরণ সংস্থা ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো) এবং দেশের সীমিত এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের গ্রাহকরাও ভুগছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক রিফাত আবির জানান, সাধারণত তাঁর বাসার বিল আসে এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা। জুনে এসেছে প্রায় চার হাজার টাকা। অভিযোগ করলে তাঁকে বিল পরিশোধ করে পরে সমন্বয়ের আশ্বাস দেওয়া হয়। একই এলাকার মো. শাহীনের নিয়মিত বিল ছয় হাজার টাকার মতো হলেও জুনে এসেছে প্রায় ১৩ হাজার টাকা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের মনোয়ার হোসেনের বাসায় কোনো এসি নেই। তবু তাঁর বিল এক হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে চার হাজার ৭৬৬ টাকা। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিল দেব, নাকি সংসার চালাব– সেটাই বুঝতে পারছি না।’

হবিগঞ্জে এক নারী গ্রাহকের নামে দুই কোটি ৫৭ লাখ টাকার বিদ্যুৎ বিল ইস্যু হওয়ার ঘটনাও আলোচনার জন্ম দেয়। পরে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ সেটিকে কম্পিউটারজনিত ভুল বলে সংশোধন করে দেয়।
এদিকে, কুড়িগ্রামের উলিপুরের এক গ্রাহকের হাতে এসেছে বিস্ময়কর এক বিল! তাঁর ঘরে রাতে জ্বলে একটি বাল্ব আর একটি ফ্যান। আর তাতেই ওই গ্রাহকের জুনের বিল এসেছে সাত হাজার ২০০ টাকা। বিলের কাগজ নিয়ে দুদিন উলিপুরের বিদ্যুৎ অফিসে গেলেও মেলেনি কোনো সমাধান।

প্রিপেইড মিটারেও একই ভোগান্তি
শুধু পোস্টপেইড নয়, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীরাও একই ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঢাকার তেজকুনীপাড়ার ডিপিডিসির গ্রাহক ইমরান হোসেন জানান, ১৪ থেকে ২৭ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৩ দিনে তিনি ৯ হাজার টাকার রিচার্জ করেছেন। অথচ মিটারে বাকি আছে মাত্র ৭২৪ টাকা। অন্য মাসে যেখানে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকায় মাস চলে যায়, এবার একই ব্যবহারে প্রায় তিন গুণ অর্থ খরচ হয়েছে।
ডিপিডিসির আরেক গ্রাহক জোছনা আহমেদ জবা জানান, জুনে কয়েক দিনের ব্যবধানে তাঁর মিটার থেকে ২৫৮, ২১৬, ১১৪, ১২৬ ও ১২৮ টাকা করে কেটে নেওয়া হয়েছে। অথচ বাসায় শুধু ফ্যান, লাইট ও ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়। নেসকোর প্রিপেইড গ্রাহক আমির সোহেল অভিযোগ করেন, এক হাজার টাকা রিচার্জ করার তিন দিনের মাথায় প্রায় ৩৫০ টাকা কমে যায়।

কারা কী বলছেন
জানতে চাইলে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম শামসুল আলম বলেন, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের অভিযোগ নতুন নয়। বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা না থাকলে এবং মিটার রিডিং সঠিকভাবে নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা চলতেই থাকবে।
পিডিবি চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দাবি করেন, পাঁচ কোটি গ্রাহকের মধ্যে দুই একজনের হয়তো রিডিং ভুল হয়েছে। তবে যেসব অভিযোগ এসেছে, যাচাই করে দেখা গেছে তার অধিকাংশই ঠিক নয়। বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিল বেশি এসেছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। এ জন্য প্রতিটি বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ সেল করা হয়েছে। সেখানে যোগাযোগ করলে দ্রুত সমাধান মিলবে।

জাপানে ভূমিকম্প ধসে যাওয়া শপিং সেন্টারে বহু মানুষ আটকা, নিহতের আশঙ্কা

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতোতে মঙ্গলবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ১। ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, কুমামোতোতে ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন। সেই ভবনে অনেক ব্যক্তি নিহত হতে পারেন।

স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভবনটির একটি তলা ধসে পড়ার পর বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়েন। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা তাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন।

জাপানের সম্প্রচারমাধ্যম টিবিএস জানিয়েছে, শপিং সেন্টারটিতে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে টিভি আসাহি স্থানীয় পুলিশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এ ঘটনায় কয়েকজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ফুজি টিভিও হতাহতের খবর দিয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে ভূমিকম্পের পর জাপানের আবহাওয়া দপ্তর উপকূলীয় এলাকায় সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল। তারা কুমামোতো, নাগাসাকিসহ কয়েকটি এলাকায় এ সতর্কতা জারি করে। তবে আবহাওয়া-বিশেষজ্ঞরা সাগরের পানিতে বড় কোনো পরিবর্তন দেখতে পাননি। তাই প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবহাওয়া দপ্তর সুনামি সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেয়।

ভূমিকম্পে কিউশু দ্বীপের অবকাঠামোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে রেল কর্তৃপক্ষ বুলেট ট্রেন চলাচলও বন্ধ করে দিয়েছে।

চলতি মাসেও রেমিট্যান্সে ঊর্ধ্বমুখী ধারা

ব্যাংকিং চ্যানেলে টানা দুই অর্থবছর প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইতেও ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে। চলতি মাসের ২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসীরা মোট ২৪৪ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। আগের বছরের জুলাইয়ের একই সময়ের তুলনায় যা ৫০ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বেশি।

২০২৫-২৬ অর্থবছর প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠান। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা ৫২৬ কোটি ডলার বা ১৭ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল ৬৪২ কোটি ডলার বা ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেশি। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্য উৎসে ভালো অবস্থান না থাকলেও রেমিট্যান্সে উচ্চ প্রবৃদ্ধির কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। অবশ্য গত এক মাসে ডলারের দর এক টাকার মতো বেড়ে গতকাল সোমবার আন্তঃব্যাংকে ১২৩ টাকা ৮০ পয়সা বেচাকেনা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের মে পর্যন্ত ১১ মাসে আমদানিতে ৬ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি হয়েছে। একই সময়ে রপ্তানি আয় কমেছে ২ শতাংশের বেশি। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নে (আকু) ১৪৮ কোটি ডলার পরিশোধ হয়। এর মধ্যেও গতকাল গ্রস রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩৬ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম৬ অনুযায়ী ৩১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় যা ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছিল। সেখান থেকে বেড়ে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার হয়। আর জুনের শেষে উঠেছিল ৩৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের আগস্টে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রথমবারের মতো ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। তবে বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচার বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন কারণে রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এতে করে ধারাবাহিকভাবে কমে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে যায়। তবে অর্থ পাচারে কড়াকড়ি নীতির ফলে হুন্ডি কমে বৈধ পথে রেমিট্যান্স আসার গতি বেড়েছে। এ কারণে রিজার্ভ বাড়ছে। রেমিট্যান্সের এ ধারা ধরে রাখতে প্রণোদনা অব্যাহত রাখাসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার।