Home Blog Page 56

ব্যাংকে সমস্যাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১১ লাখ কোটি টাকা এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা

ব্যাংক খাতে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ আরও বেড়েছে। মূলধন ঘাটতি নেমেছে ঋণাত্মক ধারায়। গত বছর রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিলের পরও বেশির ভাগ সূচকের অবনতি হয়েছে। বছর শেষে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এক বছরে দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত বার্ষিক আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন-২০২৫ থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংক খাতের আদায় অনিশ্চিত উচ্চ ঝুঁকির ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত তথা ডিসট্রেস অ্যাসেট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বলতে ব্যাংক খাতের দেখানো মোট খেলাপি ঋণ, পুনঃতপশিল করা ঋণের অনাদায়ী অংশ এবং অবলোপন করে আলাদা করে রাখা অনাদায়ী ঋণ স্থিতির যোগফলকে বোঝানো হয়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান ৫৫০ কোটি ডলার ঋণের শর্ত মেনে ২০২১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রতিবছর এ ধরনের ঋণ বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে বেড়েছিল ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা।

মূলত এসব ঋণ অনাদায়ী। তবে নানা উপায়ে নিয়মিত দেখানো হতো। কিছু ঋণ অবলোপনের মাধ্যমে ব্যালান্স শিট বা আর্থিক হিসাব বিবরণী থেকে আলাদা রাখা হয়। এ ধরনের ঋণ আদায়ের সম্ভাবনা খুব কম। যে কারণে এসব ঋণকে দুর্দশাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এ ধরনের ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংক খাতের সামগ্রিক মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক চলে গেছে। ব্যাংকগুলোর মোট ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের যেখানে সাড়ে ১২ শতাংশ ধনাত্মক রাখার কথা, সেখানে উল্টো ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক রয়েছে। আগের বছর শেষেও প্রয়োজনের তুলনায় মূলধন অনেক কম ছিল। তবে তা ছিল ইতিবাচক ৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। মূলত ২০টি ব্যাংকের ২ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির প্রভাবে পুরো খাত এ পরিস্থিতিতে পড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২০ হাজার ৯১৫ কোটি টাকায়। এর মধ্যে খেলাপি হিসেবে দেখানো হয় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। পুনঃতপশিলের পর অনাদায়ী রয়েছে ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। আর অবলোপন করা অনাদায়ী স্থিতি রয়েছে ৮৩ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা। এক বছর আগে মোট ঋণ স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ১১ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিভিন্ন সময়ে পুনঃতপশিল করা অনাদায়ী ঋণ তিন লাখ ৪৮ হাজার ৪৬১ কোটি টাকা। খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত ছিল তিন লাখ ৪৬ হাজার ৫৪৭ কোটি টাকা। এ ছাড়া অবলোপন করে অনাদায়ী ঋণ স্থিতি বেড়ে ২০২৪ সাল শেষে ৬২ হাজার ৩২৭ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের যা ছিল ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা বা ৪৪ দশমিক ২১ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্দশাগ্রস্ত এসব ঋণের বড় অংশই আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সৃষ্ট। তবে ওই সময় এসব ঋণ কৌশলে নিয়মিত দেখানো হতো। ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে প্রকৃত চিত্র দেখাতে শুরু করে। এদিকে অনিয়ম-জালিয়াতিতে সম্পৃক্ত প্রভাবশালী ব্যবসায়ী অনেকেই পালিয়েছেন। কেউ কেউ কারাগারে। ব্যবসায়ীদের খুশি করতে ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগ থেকে একের পর এক সুবিধা দেওয়া শুরু হয়। কখনও নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ পুনঃতপশিল, কখনও ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় ১২ বছরের জন্য ঋণ নবায়ন কিংবা পুনর্গঠন করা হয়। তবে সেসব ঋণের বড় অংশই এখন খেলাপি হওয়ায় পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। অবশ্য অস্বাভাবিক খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পর গত বছর শেষদিকে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংক খাতের রেকর্ড এক লাখ ৭০ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আগের বছর মোট ৮৫ হাজার ৬৭৯ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছিল। ২০২৪ সালে পুনঃতপশিল করা হয়েছিল ৯১ হাজার ২২১ কোটি টাকা। তার আগের বছর পুনঃতপশিল হয় ৬৩ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। এর আগে ২০২১ সালে যেখানে মাত্র ২৬ হাজার ৮১০ কোটি টাকা পুনঃতপশিল করা হয়। আর ২০২০ সালে পুনঃতপশিলের পরিমাণ ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। অবশ্য করোনা মহামারির প্রভাবকে কেন্দ্র করে ২০২০ সালে এক টাকা পরিশোধ না করলেও নিয়মিত দেখানো হয়। ২০২১ সালে কিস্তির মাত্র ১৫ শতাংশ দিলেই নিয়মিত দেখানোর সুযোগ ছিল। যে কারণে ওই দুই বছরে পুনঃতপশিলে তেমন আগ্রহ দেখাননি ব্যবসায়ীরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাংক খাতের তারল্য পরিস্থিতির ওপর কোনো চাপ নেই। তবে মূলধন ২ দশমিক ৬৪ শতাংশ ঋণাত্মক হওয়ার মূলে ইসলামী ব্যাংকিং খাত। এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততার অনুপাত মারাত্মক কমে নেগেটিভ ৪৩ দশমিক ১৮ শতাংশে নেমেছে। অবশ্য একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংককে হিসাবের বাইরে রাখলে এ খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা দাঁড়ায় ৭ দশমিক ৭১ শতাংশে। ইসলামিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত লিকুইডিটি কাভারেজ রেশিও, নেট স্ট্যাবল ফান্ডিং রেশিও এবং ইনভেস্টমেন্ট-ডিপোজিট রেশিও বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এ খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

মাটির নিচে ফুরিয়ে যাচ্ছে পানি, শুকাচ্ছে বরেন্দ্র বিশ্ব মরুকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস

উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ বরেন্দ্রভূমি ধীরে ধীরে ভয়াবহ পানি সংকটের দিকে যাচ্ছে। যে ভূগর্ভস্থ পানি কয়েক দশক ধরে এই অঞ্চলের কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছিল, সেই পানির স্তর এখন দ্রুত নেমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপে আর আগের মতো পানি উঠছে না। কোথাও কোথাও ২০০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে পানির স্তর।

খাওয়ার পানির জন্য গ্রামবাসীকে শত শত মিটার দূরে যেতে হচ্ছে। সেচের অভাবে অনাবাদি হয়ে পড়ছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। এই পটভূমিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব মরূকরণ ও খরা প্রতিরোধ দিবস।

দ্রুত নামছে পানির স্তর
বরেন্দ্র অঞ্চলে তুলনামূলক কম ও অনিয়মিত বৃষ্টি হয়। কয়েক দশকে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করে কৃষি উৎপাদনে বিপ্লব ঘটেছে। আশির দশক থেকে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) হাজার হাজার গভীর নলকূপ স্থাপন করে। ফলে একসময় খরাপ্রবণ এই অঞ্চলে বোরো ধান, গম, ভুট্টা ও বিভিন্ন সবজির আবাদ শুরু হয়। তবে সেই সাফল্যের পেছনে তৈরি হয়েছে বড় সংকট। অতিরিক্ত পানি উত্তোলন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং বৃষ্টি কমে যাওয়ার কারণে ভূগর্ভস্থ পানি প্রতিস্থাপন হচ্ছে না।

পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালে বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির স্তর ছিল ২৬ থেকে ৩০ ফুট নিচে। ১৯৯৪ সালে তা নেমে যায় ৩৫ ফুটে। ২০০৪ সালে ৫১ ফুট এবং ২০১৩ সালে ৬০ ফুটে পৌঁছে। বর্তমানে বহু এলাকায় পানির স্তর ৮০ থেকে ৯০ ফুটেরও নিচে। কোথাও কোথাও ১১৩ ফুটের বেশি খনন করেও পানি মিলছে না।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, বরেন্দ্র অঞ্চলের ৮২ শতাংশের বেশি এলাকা পানি সংকটে রয়েছে। উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক, গ্লোবাল সেন্টার অন অ্যাডাপটেশন এবং ইন্টারন্যাশনাল ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের যৌথ গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে দু’দশকের মধ্যে এই অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছাবে।

পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় সরকার গত বছর রাজশাহী, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫ উপজেলার ৪৭টি ইউনিয়নের এক হাজার ৪৬৯টি মৌজাকে ‘অতি উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা ঘোষণা করে। এ ছাড়া ৮৮৪টি মৌজাকে ‘উচ্চ পানি সংকটাপন্ন’ এবং এক হাজার ২৪০টি মৌজাকে ‘মধ্যম মাত্রার পানি সংকটাপন্ন’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে। সরকারি হিসাবে এসব এলাকার আয়তন প্রায় দুই হাজার ৭৮৭ বর্গকিলোমিটার। সেখানে প্রায় ২১ লাখ পাঁচ হাজার মানুষ পানি সংকটে ভুগছে। পানি আইন-২০১৩ অনুযায়ী, এসব এলাকায় খাওয়ার পানি ছাড়া অন্য কোনো কাজে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ স্থাপনেও আরোপ করা হয়েছে বিধিনিষেধ। বাস্তবে অনেক এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানি তোলা অব্যাহত রয়েছে।

পানি সংকট এখন শুধু কৃষির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বহু গ্রামে নিরাপদ খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। রাজশাহীর তানোরের উচ্চাডাঙ্গা গ্রামে শত শত গভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়েছে। ডাসকো ফাউন্ডেশন এক হাজার ৪০০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করেও ওই গ্রামের অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত পানির স্তর পায়নি।

বাড়ছে সেচ ব্যয়, কমছে উৎপাদন
পানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। রাজশাহীর কৃষানি শব্দরানী বলেন, আগে এক ঘণ্টা সেচের জন্য ৯০ টাকা লাগত, এখন লাগে ১২০ টাকা। সারের দাম বেড়েছে, শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, তবে ফলন কমেছে।

সরকারি নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০ গভীর নলকূপের অনুমতি থাকলেও বাস্তবে ব্যক্তিমালিকানায় হাজার হাজার শ্যালো ও গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, তিন জেলায় ৬২ হাজার শ্যালো টিউবওয়েল ও প্রায় চার হাজার গভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। এসব নলকূপের পানি তোলার সক্ষমতা প্রায় ২৮ হাজার গভীর নলকূপের সমান।
বাংলাদেশে ব্র্যাকের পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি কর্মসূচির প্রধান মোহাম্মদ আলী বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে শুধু নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা বাড়ালেই হবে না। এর জন্য পানিসাশ্রয়ী সেচব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল ফসল, জলবায়ু সহায়ক কৃষি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণভিত্তিক পানি ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ করতে হবে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. আবুল কাসেম বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর ক্রমবর্ধমান চাপের বড় কারণ ব্যক্তিমালিকানাধীন নলকূপের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, এলাকায় সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৪০০টি নলকূপ থাকার কথা। এর মধ্যে বিএমডিএ পরিচালনা করছে আট হাজার ৪০০টি। তবে ব্যক্তিমালিকানায় পরিচালিত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির প্রতিস্থাপন নিশ্চিত করতে আমরা একটি প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে দিয়েছিলাম। বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করলে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।

‘বুড়ো’ বয়সের হ্যাটট্রিকে রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড ভাঙলেন মেসি

আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে একাই ৩ গোল করে কানসাস মাতিয়েছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বমঞ্চে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের এটিই প্রথম হ্যাটট্রিক। এটি ফুটবল ইতিহাসের পাতা ওলটপালট করে দেওয়া এক মহাকাব্যিক রেকর্ড।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে এখন সবচেয়ে বেশি বয়সী হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় হলেন মেসি। তার বিশ্বরেকর্ডের আগে ৮ বছর ধরে রেকর্ডটি ছিল পর্তুগাল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দখলে।

ইতিহাসের এক অদ্ভুত সমীকরণ মিলল আজ ১৬ জুন। ঠিক ৮ বছর আগে, ২০১৮ সালের ১৬ জুন রাশিয়া বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র হওয়া সেই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৩৩ বছর ১৩০ দিন বয়সে করা রোনালদোর সেই হ্যাটট্রিকটিই ছিল এতদিন বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী ফুটবলারের হ্যাটট্রিক রেকর্ড।

কাকতালীয়ভাবে, ৮ বছর পর ঠিক একই তারিখে আলজেরিয়ার বিপক্ষে সেই রেকর্ড নিজের করে নিলেন এলএমটেন। কানসাসের মাঠে যখন মেসি তার প্রথম বিশ্বকাপ হ্যাটট্রিকটি পূর্ণ করলেন, তখন তার বয়স ৩৮ বছর ৩৫৭ দিন! প্রায় ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে বিশ্বমঞ্চে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স করে মেসি প্রমাণ করলেন, বয়সটা তাঁর কাছে শুধুই একটা সংখ্যা মাত্র।

ষষ্ঠ বিশ্বকাপে মেসি, আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ

বিশ্বকাপের মঞ্চে আজ মাঠে নামার সাথে সাথেই ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ করলেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচে নামতেই ফুটবল ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে টানা ৬টি ভিন্ন বিশ্বকাপ আসরে অংশ নেওয়ার একক বিশ্বরেকর্ড গড়লেন এলএমটেন। আগামীকাল বুধবার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পর্তুগালের হয়ে মাঠে নামলে তিনিও এই তালিকায় মেসির সঙ্গী হবেন। তবে এই মুহূর্তে অনন্য এই রেকর্ডের একক চূড়ায় বসে আছেন শুধু আর্জেন্টাইন জাদুকরই।

এর আগে ৫টি ভিন্ন বিশ্বকাপে খেলার যৌথ রেকর্ড ছিল মেক্সিকোর আন্দ্রেস গুয়ার্দাদো, আন্তোনিও কারবাহাল, রাফায়েল মার্কেজ এবং জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের। আজ তাদের সবাইকে ছাড়িয়ে গেলেন মেসি।

রেকর্ডের খাতা ওখানেই বন্ধ হয়নি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি আর্জেন্টিনার আকাশী-সাদা জার্সিতে লিওনেল মেসির ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবলার হিসেবে আন্তর্জাতিক ম্যাচের এই ‘ডাবল সেঞ্চুরি’র কীর্তি গড়লেন তিনি। বিশ্ব ফুটবলে তার ওপরে আছেন কেবল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (২২৮ ম্যাচ) এবং কুয়েতের বাদের আহমেদ আল-মুতাওয়া (২০২ ম্যাচ)।

কাকতালীয়ভাবে, ১৬ জুনের এই দিনটি মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের জন্যও এক আবেগঘন দিন। ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই ১৬ জুনেই সার্বিয়া ও মন্টেনিগোর বিপক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে নিজের বিশ্বকাপ অভিষেক ও প্রথম গোল করেছিলেন এই ক্ষুদে জাদুকর। দুই দশক পর হুবহু সেই একই তারিখে দাঁড়িয়ে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড গড়লেন তিনি।

রেকর্ডময় এই ম্যাচে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি আক্রমণভাগে কিছুটা কৌশলগত পরিবর্তন এনেছেন। ফর্মের তুঙ্গে থাকা হুলিয়ান আলভারেজকে বেঞ্চে রেখে ইন্টার মিলানের ফরোয়ার্ড লাউতারো মার্টিনেজকে আজ শুরুর একাদশে সুযোগ দিয়েছেন কোচ। আক্রমণভাগের দুই উইংয়ে লিওনেল মেসির সঙ্গে থাকছেন তরুণ প্রতিভাবান থিয়াগো আলমাদা।

মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ থাকবে কাতার বিশ্বকাপজয়ী সেই চেনা ত্রয়ী রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজের ওপর। রক্ষণভাগে ক্রিস্টিয়ান রোমেরোর সঙ্গে জুটি বেঁধেছেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। দুই ফুল-ব্যাক পজিশনে গঞ্জালো মন্তিয়েল ও ফাকুন্দো মেদিনা সামলাবেন রক্ষণভাগ। আর গোলপোস্টের নিচে যথারীতি অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে থাকছেন ‘বাজপাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

মেসির শেষ বিশ্বকাপে আবার রাত জাগবে বাংলাদেশ

ফুটবল বিশ্বকাপ চলছে। এই সময়টাতে বাংলাদেশে রাত কখনো শুধু রাত থাকে না। ঘুমন্ত শহরের ভেতরেও তখন টেলিভিশনের আলো জ্বলে। চায়ের কাপে ধোঁয়া ওঠে। যেদিকেই তাকাবেন কোথাও না কোথাও নীল-সাদা পতাকা দেখবেনই। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না কিন্তু বিশ্বকাপ এলে আমরা যেন অন্য এক মানচিত্রে ঢুকে পড়ি। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার রঙে ভাগ হয়ে যায় পাড়া, পরিবার, বন্ধুমহল, অফিস, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান।

এই বিশ্বকাপে সেই পুরোনো আবেগ আবার ফিরছে। কারণ মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। মাঠে নামছেন লিওনেল মেসি।

আর্জেন্টিনা তাদের বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান শুরু করবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। ম্যাচটি হবে ক্যানসাস সিটিতে। ম্যাচের সময় ১৭ জুন ০১:০০ ইউটিসি। বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টা। অর্থাৎ এবার আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ দেখতে আমাদের রাতভর জেগে থাকতে হবে না। কিন্তু মেসির বিশ্বকাপ মানেই বাংলাদেশে শুধু ৯০ মিনিটের খেলা নয়। তার আগে রয়েছে অনেক প্রস্তুতি। নতুন জার্সি কেনা, বন্ধুদের সঙ্গে তর্ক, কিছু পুরনো পরিসংখ্যান ঘেঁটে নেওয়া, আগেভাগে সব কাজ সেরে রাখা। এসব মিলেই এক ধরনের রাতজাগা উৎসব। এই উৎসবের কেন্দ্রে একজন মানুষ। লিওনেল আন্দ্রেস মেসি।

কয়েক দিনের মধ্যেই ৩৯ এ পা দেবেন মেসি। বলাই বাহুল্য, ক্যারিয়ারের একেবারে শেষ প্রান্তে রয়েছেন এই ফুটবল জাদুকর। তবে মাঠে মেসির উপস্থিতি এখনো ফুটবলের সবচেয়ে বড় ঘটনাগুলোর একটি। ২০০৬ সালে যে কিশোর মেসিকে বিশ্বকাপ প্রথম দেখেছিল ২০২৬ সালে সেই মানুষটি নামছেন রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। ফুটবলে আরো অনেক তারকা আছে। কিন্তু একজন ফুটবলারের সাথে ভক্তদের এমন দীর্ঘ আবেগের সম্পর্কের উদাহরণ খুব কম। বাংলাদেশের ভক্তদের সাথে মেসির সম্পর্কটা আরো প্রগাঢ়। সেটা কেবল ফুটবলীয় নয়- ব্যক্তিগতও বটে।

আমাদের অনেকেই বেড়ে উঠেছি মেসিকে দেখে। রাতের পর রাত কেটেছে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল তর্ক করে। প্রথম বেতন দিয়ে কিনেছি মেসির জার্সি। বাংলাদেশে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, মেসি আমাদের জীবনের সাথে মিশে থাকা একটা নাম যার সাথে আমরা বড় হয়েছি।

২০১৪ সালের মারাকানার কান্না বাংলাদেশের অনেক ঘরে পৌঁছেছিল। সেদিন জার্মানির কাছে হেরে মেসি ট্রফির পাশ দিয়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। সেই ছবি যেন এক অসম্পূর্ণ কবিতার মতো থেকে গিয়েছিল কোটি মানুষের স্মৃতিতে। তারপর এল ২০২২। কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেই অবিশ্বাস্য ফাইনাল। ৩-৩, টাইব্রেকার, এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সেভ, আর শেষে মেসির হাতে বিশ্বকাপ। যে মানুষটি প্রায় দুই দশক ধরে অপেক্ষা করছিলেন, তিনিই অবশেষে ট্রফি তুললেন। সেদিনও আমরা কেঁদেছি। এবার আনন্দে। বাংলাদেশে তখন রাত ছিল না, দিন ছিল না- ছিল শুধু নীল-সাদা আনন্দ।

কিন্তু এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের আবেগ একটু আলাদা। এবার আর্জেন্টিনা শুধু বিশ্বকাপ খেলছে না তারা শিরোপা রক্ষার মিশনে নেমেছে। ১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল টানা দুইবার পুরুষদের বিশ্বকাপ জিততে পারেনি। আর্জেন্টিনার সামনে তাই ইতিহাসের কঠিন দরজা। স্কালোনির দল ২০২২ সালের অনেক চেনা মুখ নিয়েই এসেছে। মেসি, এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, রোমেরো, দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, লাউতারো মার্তিনেজ, হুলিয়ান আলভারেজরা আছেন। আবার নতুন প্রজন্মের কয়েকজনও আছে যারা হয়তো মেসির পরের আর্জেন্টিনার গল্প লিখবে। তবে বাংলাদেশের চোখ থাকবে মেসিতে।

কারণ মেসি যখন বল পায়ে নেন তখন ফুটবলটা কিছুক্ষণের জন্য ধীর হয়ে যায়। তিনি সব সময় দৌড়ে ম্যাচ জেতান না। তিনি কখনো হাঁটেন, কখনো দেখেন, কখনো অপেক্ষা করেন। তারপর হঠাৎ বলটা পেয়ে যান। এরপরই নেন একটা টার্ন, চোখের পলকে ফাঁক গলে বের হয়ে যান। বাম পায়ের স্পর্শে পুরো মাঠের মানে বদলে দেন। নতুন প্রজন্মের ফুটবলাররা অনেক গতি দিয়ে খেলেন। অনেক শক্তি দিয়ে খেলেন। কিন্তু মেসির খেলায় এখনো একটা পুরনো দিনের শিল্প আছে। তিনি যেন ফুটবলের শেষ বড় কবিদের একজন।

বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-ভালোবাসার ইতিহাসও দীর্ঘ। ডিয়েগো ম্যারাডোনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ এই দেশে আর্জেন্টিনা-আবেগের বড় ভিত্তি তৈরি করেছিল। তারপর মেসি সেই আবেগকে নতুন প্রজন্মের কাছে নিয়ে এসেছেন। ২০১১ সালে আর্জেন্টিনা যখন নাইজেরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলতে ঢাকায় আসে মেসিকে দেখার জন্য বাংলাদেশে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল তা এখনো অনেকের স্মৃতিতে আছে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপের সময় বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের ছবি ও ভিডিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভালোবাসা এতটাই আলোচিত হয় যে ৪৫ বছর পর ঢাকায় আবার আর্জেন্টিনার দূতাবাস চালু হওয়ার ঘটনাতেও এই ফুটবল-আবেগকে একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য। এখানে মেসি কখনো শুধু আর্জেন্টিনার অধিনায়ক নন। তিনি রংপুরের কোনো চায়ের দোকানের পোস্টার, পুরান ঢাকার কোনো ছাদের পতাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের রাতজাগা আড্ডা, ছোট্ট শিশুর নীল-সাদা জার্সি, আর অফিস শেষে ক্লান্ত মানুষের ভোরবেলার অপেক্ষা।

এই বিশ্বকাপ হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। হয়তো নয়। ফুটবল কখনো নিশ্চিত কথা বলে না। কিন্তু বয়স, সময়, শরীর, ইতিহাস- সব মিলিয়ে আমরা জানি এবারের বিশ্বকাপই হয়তো মেসির শেষ বিশ্বকাপ। ২০২২ সালের মেসিকে আমরা দেখেছিলাম পূর্ণতার পথে। ২০২৬ সালের মেসিকে আমরা দেখছি বিদায়ের আলোয় দাঁড়িয়ে। তিনি জিতবেন নাকি জিতবেন না, গোল পাবেন নাকি পাবেন না, আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারবে কিনা এসব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। কিন্তু একটা বিষয় নিশ্চিত- বাংলাদেশ আবার মেসির জন্য অপেক্ষা করবে।

কারণ মেসি আমাদের অনেক রাত জাগিয়েছেন। অনেক হতাশা দিয়েছেন। অসম্ভব আনন্দও দিয়েছেন। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন বারবার হারলেও গল্প শেষ হয় না। ২০১৪ সালের কান্না ২০২২ সালের হাসিতে বদলে যেতে পারে। নীরব স্বভাব আর অল্প কথার মানুষও পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মঞ্চে সবচেয়ে বড় উত্তর দিতে পারেন। মেসির ক্যারিয়ারটা তাই কেবল প্রতিভার গল্প নয়। মেসির গল্পটা অপেক্ষা, ধৈর্য, বিনয় আর অসম্পূর্ণতাকে পূর্ণ করার।

বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ কখনো বুয়েনস আইরেস দেখেনি। রোসারিওর পথ চেনে না। আর্জেন্টিনার ভাষা জানে না। তবু মেসি গোল করলে এই দেশে মানুষ চিৎকার করে ওঠে। আর্জেন্টিনা হারলে আমাদেরও মন খারাপ হয়। মেসি হাঁটলে কেউ ভাবে তিনি ক্লান্ত কি না। মেসি হাসলে মনে হয় নিজের ঘরের কেউ ভালো আছে।

এই অনুভূতির কোনো নাম নেই। কোনো মানে নেই।

তাই আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম ম্যাচ নয়। এটি বাংলাদেশের মেসি-অধ্যায়ের আরেকটি সকাল। রাতভর না জাগলেও, আবেগে জেগে থাকবে বাংলাদেশ। কেউ রাস্তার পাশের দোকানে চা বানাবে। কেউ অফিসে যাওয়ার আগে টিভি খুলবে। কেউ মোবাইলে লাইভ স্কোর দেখবে। কেউ পুরোনো জার্সি পরে বসবে। আর যখন মেসি মাঠে নামবেন তখন সবার চোখ থাকবে আমেরিকার ক্যানসাস সিটি স্টেডিয়ামে।

ফুটবল শেষ পর্যন্ত গোলের খেলা। কিন্তু মেসির ক্ষেত্রে ফুটবল শুধু গোলের খেলা নয়। এটা আমাদের আবেগ। আমাদের বড় হয়ে ওঠার ছবি। যে প্রজন্ম মেসিকে দেখে বড় হয়েছে তারা এবার হয়তো মেসিকে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে দেখবে। সেই দেখার মধ্যে আনন্দ আছে, ভয় আছে, নস্টালজিয়া আছে আর আছে এক গভীর ভালোবাসা।

প্রিয় মেসি, আপনি হয়তো জানেন না যে, আর্জেন্টিনা ছাড়াও হাজার মাইলের দুরত্বে একটা দেশ আছে, সেখানে আপনার জন্য মানুষ আবারও অপেক্ষা করছে। আপনার এক পাসের জন্য। এক হাসির জন্য। বলটা আপনার পায়ের ছোঁয়ার জন্য। এই বিশ্বকাপ যদি সত্যিই আপনার শেষ হয় তাহলে বাংলাদেশ আপনাকে শুধু বিদায় দেবে না। বাংলাদেশ আপনাকে মনে রাখবে অনেক রাতজাগা গল্পে। চোখের জল, চায়ের কাপ আর অসংখ্য অসমাপ্ত গল্পের ভেতর দিয়ে।

আপনার শেষ বিশ্বকাপে তাই আবার জেগে উঠবে বাংলাদেশ।

ঘোড়াশালে কারখানা উদ্বোধন সব ধরনের এক্সেসরিজ তৈরি হবে হা-মীম গ্রুপের কারখানায় কর্মসংস্থান হবে ১৫ হাজার মানুষের

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে লিড টাইম। ব্র্যান্ড-ক্রেতাদের কাছ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়ার পর দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ কিংবা বিদেশ থেকে কাঁচামাল এনে পণ্য উৎপাদন করে তাদের শোর রুমে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত অনেক সময় লাগে। পোশাক উৎপাদনে প্রধান কাঁচামাল ফেব্রিক্স তুলনামূলক সহজলভ্য হলেও সব এক্সেসরিজ এখনও সহজলভ্য নয়। ছোট একটি এক্সেসরিজের জন্য লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হয়। এতে ছোট প্রয়োজনেও লিড টাইমও বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে তৈরি পোশাক খাতের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান হা-মীম গ্রুপ সব ধরনের এক্সেসরিজ নিজেরাই উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে।

গতকাল সোমবার নরসিংদীর ঘোড়াশালে ‘হা-মীম চিং থাই পকেটিং অ্যান্ড এক্সেসরিজ’ নামে নতুন এক্সেসরিজ কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. কে. আজাদ। এ সময় কয়েকটি ব্র্যান্ড-ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন কারখানায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

অনুষ্ঠানে এ. কে. আজাদ বলেন, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে চীন থেকে এক্সেসরিজ এনে পোশাক উৎপাদন করতে হয়। এতে লিড টাইম বেড়ে যায়। এ সংকট কাটাতে চিং থাইয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চীনা প্রযুক্তি এবং অত্যাধুনিক মেশিনে এক্সেসরিজ উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। এখানকার এক্সেসরিজ হা-মীম গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার চাহিদামতো সরবরাহ করার পাশাপাশি রপ্তানিও করা হবে। ফলে একদিকে যেমন লিড টাইম কমিয়ে আনার বড় সুবিধা পাওয়া যাবে, অন্যদিকে আমদানি বাবদ ডলার ব্যয় হবে না এবং এক্সেসরিজ রপ্তানি থেকে ডলার আসবে দেশে।
তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎসহ অন্যান্য অবকাঠামো সুবিধা পাওয়া গেলে তৈরি পোশাকের কাঁচামাল উৎপাদন থেকে চূড়ান্ত পণ্য পর্যন্ত সব ধরনের পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে হা-মীম গ্রুপের। তিনি বলেন, ‘আমার কাজই হচ্ছে বন্ধ কারখানা সচল করা, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এক সময় বন্ধ থাকা টঙ্গীর নিশাত জুট মিল এবং কালীগঞ্জ মসলিন কটন মিলস হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনায় উৎপাদনে ফিরেছে।’

বাংলাদেশের পোশাকের দ্বিতীয় প্রধান আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান স্পেনভিত্তিক ইনডিটেক্সের কান্ট্রি ম্যানেজার হাভিয়ের সান্তোজা ওলমেদো বলেন, হা-মীমের এ উদ্যোগ থেকে সব পক্ষ উপকৃত হবে। স্থানীয়ভাবে মানসম্পন্ন এক্সেসরিজ উৎপাদন ও সরবরাহ করার ফলে লিড টাইমের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সহায়ক হবে। ব্র্যান্ড-ক্রেতারা রপ্তানি আদেশ দিতে এখন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে। এ দেশের তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাড়বে। অন্যান্য ক্রেতা প্রতিনিধিরা এ ধরনের উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণের পরামর্শ দেন।

জানা গেছে, নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশালে ৫২ একর জায়গাজুড়ে ‘ফৌজিয়া চটকল’ নামে ব্যক্তি খাতের একটি পাটকল পাটের ব্যাগ উৎপাদন করত। লোকসানে পড়ে দীর্ঘ দিন যা বন্ধ ছিল। ২০১৪ সালে হা-মীম গ্রুপ কারখানাটি কিনে নেয়। পুরোনো শ্রমিকদের বকেয়া বেতনসহ সব পাওনা পরিশোধ করে হা-মীম গ্রুপ। প্রাথমিকভাবে ৬ একর জায়গায় নতুন কারখানাটি গড়ে তোলা হয়েছে। এতে চীনা চিন থাইয়ের ২৫ শতাংশ অংশীদারিত্ব রয়েছে। প্রতি মাসে উৎপাদন হবে ৬ থেকে ৭ লাখ গজ কাপড়। পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদনে আসলে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ২০ লাখ গজ। বিনিয়োগের পরিমাণ শুরুতে ১০০ কোটি টাকা। পর্যায়ক্রমে সব ধরনের এক্সেসরিজ উৎপাদন করা হবে। কয়েকজন পুরোনো শ্রমিক সমকালকে জানান, কারখানাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রধান সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী, হা-মীম টেক্সটাইল জোনের প্রধান নির্বাহী (সিইও) মুহাম্মদ আমিন, হা-মীম গ্রুপের এক্সেসরিজ বিভাগের প্রধান এ কে এম মাহফুজুল হক, গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক নিতীশ চন্দ্র শিকদার প্রমুখ।

বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামো আরও যৌক্তিক হওয়া দরকার অ্যামচ্যামের মতবিনিময় সভায় বক্তারা

এবারের বাজেটে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ রয়েছে। তবে ব্যবসা ও বিনিয়োগ বাড়াতে এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে কর কাঠামো আরও যৌক্তিক হওয়া দরকার।
আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) আয়োজিত প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর এক মতবিনিময় সভায় এমন মত এসেছে।

রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য আস্থা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা গঠন’ শিরোনামের সভায় উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচ্যামের সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বাজেট নিয়ে অ্যামচ্যামের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি পুনর্ব্যবহৃত তুলার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি, স্টার্টআপ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানের জন্য শূন্য টার্নওভার ট্যাক্স সুবিধা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে কর অব্যাহতি ও রিবেটের মতো উদ্যোগকে স্বাগত জানান। এসব ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রশংসা করলেও তিনি উল্লেখ করেন, ব্যবসায়ী মহলের কিছু উদ্বেগ এখনও রয়ে গেছে এবং বিনিয়োগ, ব্যবসায় সম্প্রসারণ ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য কর কাঠামোর আরও যৌক্তিকীকরণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধে পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও সিইও ড. এম. মাসরুর রিয়াজ বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ব্যবসায়ের ওপর চাপ কমানো, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজেটটি বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয়। তবে বাজেটের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে উচ্চাভিলাষী ৬.৫% জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য, রাজস্ব আহরণে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি, স্থায়ী মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ব্যাংকিং ও জ্বালানি খাতের দুর্বলতা।
প্যানেল আলোচনায় গবেষণা সংস্থা সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, বাজেটের আকার নিয়ে কথা হচ্ছে। বাজেট বড় হওয়ারই কথা। কারণ, এই সরকারের জনগণের প্রতি অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল। তাই এটি সম্প্রসারণমূলক বাজেট। কিন্তু অর্থায়ন বড় চ্যালেঞ্জ।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয় বলেন, ব্যাংকের একটি বড় অংশ দুর্বল অবস্থায় আছে। তারল্য সংকট রয়েছে। তাই ব্যাংক ঋণ নির্ভরতা বাড়লে বেসরকারি খাতে ঋণ সংকট হতে পারে।
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, বাজেটে ব্যবসা সহজ করার উদ্যোগ ছিল। তবে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আরও মনোযোগ দেওয়ার দরকার ছিল। কৃষিতে সেভাবে বরাদ্দ বাড়েনি। তবে এই সরকার আগের যে কোনো সরকার থেকে ব্যবসায়ীদের কথা বেশি শুনেছে।
প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন অ্যামচ্যামের সহসভাপতি ও মেটলাইফ বাংলাদেশের সিইও আলা উদ্দিন আহমদ। সমাপনী বক্তব্য দেন সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এমডি রেজা উর রহমান মাহমুদ।

ইরানের সঙ্গে চুক্তি সই হয়ে গেছে, শিগগিরই প্রকাশ করা হবে: ট্রাম্প

যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ইতিমধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করেছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার এ ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি তুলেছেন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা।

জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে সোমবার ফ্রান্সে পৌঁছে ট্রাম্প বলেন, সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিও আংশিকভাবে খুলে দেওয়া হয়েছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের ভেন্যু ফ্রান্সের আল্পস অঞ্চলের পর্যটন শহর এভিয়ান-লে-বেঁ থেকে জেনেভার দূরত্ব প্রায় এক ঘণ্টার পথ।

চুক্তির নথি কবে প্রকাশ করা হবে-এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভবত খুব শিগগিরই। শুক্রবারের পর কোনো এক সময় এটি প্রকাশ করা হতে পারে। আমার ধারণা, খুব নিকট ভবিষ্যতেই সবাই চুক্তির বিস্তারিত জানতে পারবে।’

এদিকে মার্কিন সিনেটে ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা চাক শুমার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে চুক্তির পূর্ণ বিবরণ প্রকাশ এবং কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার দাবি জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘মার্কিন জনগণের জানার অধিকার রয়েছে এই সমঝোতায় কী রয়েছে। আমাদের সেনারা এখনো ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন কি না এবং এই যুদ্ধ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আসলে কী অর্জন করেছে-সেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।’

চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও মাঠের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত হয়নি। সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার নাজুক অবস্থারই ইঙ্গিত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করেছিল। তবে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক আলোচনায় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পরামর্শ করেনি বলে জানা গেছে। ইরানের ওপর হামলার পর ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। এরপর থেকে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল এবং রাজধানী বৈরুতসহ বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে ইসরায়েল।

তেহরানের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলি হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার অন্যতম মৌলিক শর্ত। তবে ইসরায়েল এ অবস্থান প্রত্যাখ্যান করে বলছে, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি চুক্তির শর্তের মধ্যে নেই। তার ভাষ্য, এটি মূলত একটি পারস্পরিক যুদ্ধবিরতি, কোনো একতরফা সমঝোতা নয়।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইরান যদি হিজবুল্লাহকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয় এবং সংগঠনটি ইসরায়েলের ভূখণ্ড বা সামরিক অবস্থানে হামলা চালায়, তাহলে আত্মরক্ষা ও পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার ইসরায়েলের থাকবে।’

যুক্তরাষ্ট্রের বি-৫২ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ৮

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিমানবাহিনীর একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আটজন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় সোমবার দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর দুর্ঘটনাটি ঘটে।

বিমানঘাঁটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠতে দেখা যায়, যা কয়েক মাইল দূর থেকেও স্পষ্ট ছিল।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অংশ হিসেবে বিমানটি আকাশে উঠেছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার সময় এতে সামরিক সদস্যদের পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা ও বেসামরিক ঠিকাদাররাও ছিলেন। এডওয়ার্ডস বিমানঘাঁটি লস অ্যাঞ্জেলস শহর থেকে প্রায় ৯৫ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত।

কর্তৃপক্ষের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তদন্ত ও উদ্ধারকাজ চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পরে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

আকাশ থেকে ধারণ করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কিছু সময় পরও বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল। বোয়িং নির্মিত বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দীর্ঘপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমান। ১৯৫০-এর দশক থেকে এটি মার্কিন বিমানবাহিনীর বহরে রয়েছে। বিশাল আকৃতির এই বিমানের ডাকনাম ‘দ্য বাফ’, যা ‘বিগ আগলি ফ্যাট ফেলো’ নামের সংক্ষিপ্ত রূপ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে এই ধরনের বোমারু বিমান ব্যবহার করেছিল মার্কিন বাহিনী।

বি-৫২ প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়তে সক্ষম এবং ৭০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত সমরাস্ত্র বহন করতে পারে। এতে শতাধিক প্রচলিত বোমা কিংবা ৩২টি পারমাণবিক অস্ত্রবাহী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থাতেই এতে জ্বালানি ভরা যায়, ফলে বিশ্বের প্রায় যেকোনো স্থানে দীর্ঘপাল্লার অভিযান পরিচালনা করতে পারে বিমানটি। স্নায়ুযুদ্ধের সময় এটি যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশলের অন্যতম প্রধান অংশ ছিল।

সাধারণত একটি বি-৫২ বোমারু বিমানে পাঁচজন ক্রু দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের মধ্যে থাকেন একজন কমান্ডার, একজন পাইলট, একজন রাডার নেভিগেটর, একজন নেভিগেটর এবং একজন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার কর্মকর্তা।

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠানে ডিম নিক্ষেপ, আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩

লন্ডনে জুলাই অভ্যুত্থানের নেতা ও এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর অনুষ্ঠান ঘিরে উত্তেজনা ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখার নেতা-কর্মীরা হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করার ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল ও এলেম পার্ক এলাকায় পৃথক দুটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতাসহ অন্তত তিনজনকে আটক করা হয়েছে।

মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে হট্টগোল ও ডিম নিক্ষেপ 

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ইউকে অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেল এলাকার ইস্ট লন্ডন মসজিদ-সংলগ্ন মায়েদা ব্যাঙ্কুয়েটিং হলে (মায়েদা গ্রিল রেস্টুরেন্ট) এক সভার আয়োজন করা হয়। জুলাই আন্দোলনের এক সেমিনারে যোগ দিতে লন্ডনে অবস্থানরত এনসিপির দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন।

হাসনাত আবদুল্লাহর আসার খবরে বিকেল থেকেই ভেন্যুর বাইরে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। অন্যদিকে এনসিপির সমর্থকরাও অনুষ্ঠানস্থলের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং এনসিপি কর্মীদের লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টায় অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে হাসনাত আবদুল্লাহ অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান রাত ৯টার দিকে। কয়েক ডজন পুলিশের কঠোর পাহারায় দৌড়ে বিকল্প একটি দরজা দিয়ে রেস্তোরাঁর ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারলে তিনি দ্রুত ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে অনুষ্ঠান শেষেও তিনি পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যেই স্থান ত্যাগ করেন।

আওয়ামী লীগ নেতাসহ আটক ৩

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে শতাধিক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির একপর্যায়ে পুলিশ তিনজনকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লন্ডন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আফসার খান সাদেক রয়েছেন।

এলেম পার্কে ধাওয়া ও হাতাহাতি

এর আগে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পূর্ব লন্ডনের রমফোর্ড এলাকার এলেম পার্কে হাসনাত আবদুল্লাহকে ঘিরে এক দফা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, হাসনাত আবদুল্লাহ ও তার সহযোগীরা পার্ক এলাকায় হাঁটার সময় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের অনুসরণ করে বিভিন্ন মন্তব্য করতে থাকেন।

সেখানেও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়ে মারা হয়। এতে এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতার গায়ে ডিম লাগে। এরপর তার সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উপস্থিত লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করেন।