Home Blog Page 57

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালিয়ে শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন। তবে কোনো নোটিশ ছাড়া উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে প্রায় দুই ঘণ্টা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন জেলা মোটর ওয়ার্কশপ মেকানিক ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের আশ্বাসে বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।

জানা গেছে, মাসকান্দা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভেতরে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে অন্তত শতাধিক দোকান নির্মাণ করে জায়গা দখল করে রেখেছিল। এ ছাড়া মাসকান্দা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশেও বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিটি করপোরেশনের ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান শুরু করেন। খননযন্ত্র ব্যবহার করে পাকা ও আধাপাকা অবৈধ স্থাপনা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযানকালে ময়মনসিংহ জেলা মোটর ওয়ার্কশপ মেকানিক ইউনিয়নের কার্যালয়ের একাংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রমিকরা। দুপুর ৩টার দিকে জেলা মোটর মেকানিক সমিতির নেতাকর্মী ও শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে বাইপাস এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের দুই পাশে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।

সমিতির সাবেক সহসভাপতি জুলহাস উদ্দিন অভিযোগ করেন, কোনো নোটিশ ছাড়াই তাদের সমিতির কার্যালয়ের একাংশ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। অন্যায়ভাবে এই উচ্ছেদ করায় মহাসড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা।
জেলা ট্রাফিক পরিদর্শক গোলাম মওলা জানান, উচ্ছেদের প্রতিবাদে শ্রমিকরা ঢাকা বাইপাস এলাকায় মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিকেল ৫টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রুকুনোজ্জামান সরকার রোকন বলেন, বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে অবৈধভাবে জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল। এসব স্থাপনার কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। জনস্বার্থেই সেগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে।

জামালপুর ও টাঙ্গাইল রাশিয়ায় ৫ বাংলাদেশি নিখোঁজ, মৃত্যুর খবরে পরিবারে উদ্বেগ

উন্নত জীবনের আশায় রাশিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাঁচ যুবক। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে এই মৃত্যুর খবর এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পরিবারগুলোতে চলছে চরম উৎকণ্ঠা ও আহাজারি।

এদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কত বাংলাদেশি মারা গেছে, তার প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। তবে গত মার্চ মাসে ফর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডস নামে দুটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন জানায়, এ পর্যন্ত ১০৪ বাংলাদেশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়িয়েছে। আর এই যুদ্ধে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ৩৪ বাংলাদেশি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি।

এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩৭ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার পাঁচজন নিহতের তথ্য যুক্ত করলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৪২-এ।

মাদারগঞ্জে দুই পরিবারে আহাজারি 
মাদারগঞ্জ উপজেলার নিখোঁজ দুই যুবক হলেন– চরগুজামানিকা গ্রামের বানু মিয়ার ছেলে মাফুল ওরফে মফিজ (২৩) ও রায়েরছড়া গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে আরিফ হোসাইন (৩০)। গত ৭ মে তারা রাজমিস্ত্রি ও ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় যান।

মাদারগঞ্জের স্থানীয় দালাল আমিনুর ইসলাম সুজার মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকা চুক্তি করে আরিফকে এবং চাঁদেরপুরের এক দালালের মাধ্যমে মাফুলকে পাঠানো হয়েছিল।

পরিবারের দাবি, রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দালালচক্র তাদের রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেয়। গত ২৯ মে থেকে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

নিখোঁজ আরিফের বাবা তারা মিয়া বলেন, ১৬ লাখ টাকা দিয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজের জন্য ছেলেকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলাম। গত ২৯ মে শেষ কথা হলে আরিফ বলেছিল– দালালচক্র তাদের বিক্রি করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এরপর থেকে তার মোবাইল বন্ধ।

মাফুলের মা মাহফুজা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে রাজমিস্ত্রি খাটার জন্য বিদেশে গেছিল, এখন শুনতাছি ড্রোন হামলায় মারা গেছে। আমি আমার ছেলেকে ফেরত চাই, তা না হলে তার লাশ চাই। আর যারা আমার ছেলেকে প্রতারণা করে পাঠাইছে, তাদের বিচার চাই।’

জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমন চৌধুরী বলেন, ‘বৈধ পন্থায় না গিয়ে স্থানীয় দালালের মাধ্যমে এভাবে যাওয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

গোপালপুরে তিন পরিবারে উৎকণ্ঠা
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার তিন যুবককে বেশি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে গত ৭ মে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় পাঠায়

রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকার ‘জাবাল ই নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’ নামের একটি এজেন্সি। নিখোঁজ তিন যুবক হলেন– উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের আমিনুল ইসলাম, মজিদপুর গ্রামের পবিত্র চন্দ্র এবং বীর নলহরা গ্রামের নজরুল ইসলাম।

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি কল রেকর্ড ভাইরাল হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তাদের গ্রুপে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন ছাড়া বাকিরা যুদ্ধে মারা গেছেন।

নিখোঁজ নজরুল ইসলামের স্ত্রী আছমা বেগম বলেন, ঈদের রাতে তিনি ফোন করে বলেছিলেন– পাঁচজনের গ্রুপ করে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছে। বাঁচব কি মরব জানি না।

পবিত্রের বাবা পরেশ চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘গত ২৯ মে ছেলে ফোন দিয়ে বলেছিল– আমাদের জোর করে যুদ্ধে পাঠানো হচ্ছে। জীবিত দেখতে চাইলে দ্রুত দূতাবাসে যোগাযোগ করে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করো। না হলে আমরা ড্রোন হামলায় মারা যাব।’
গোপালপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন বলেন, সামাজিক মাধ্যমে এ রকম একটি খবর শুনেছি। তবে ভুক্তভোগী পরিবারের কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। মৃত্যুর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।

গোপালপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নবাব আলী বলেন, তাদের মৃত্যুর বিষয় নিয়ে সরকারের কোনো বিভাগ থেকে আমাদের জানানো হয়নি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ড্রয়ে শেষ ইরান-নিউজিল্যান্ড থ্রিলার

আক্রমণ আর প্রতি-আক্রমণে ঠাসা এক থ্রিলার ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে ইরান। নিউজিল্যান্ডের হয়ে ওল্ড ব্লাকসদের স্বপ্ন দেখান জোড়া গোল করা ফরোয়ার্ড এলিজা জাস্ট। আর ইরানকে দুইবারই সমতায় ফেরান রামিন রেজাইয়ান ও মোহাম্মদ মোহেবি। বিশ্বকাপে এটি নিউজিল্যান্ডের প্রথম পয়েন্ট। এর আগে দুবার বিশ্বকাপে খেললেও ৬ ম্যাচের প্রতিটিতে হেরেছিল।

লস অ্যাঞ্জেলসের সোফাই স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলই ছিল আক্রমণাত্মক। তবে ম্যাচের ৭ম মিনিটেই ইরানকে স্তব্ধ করে দেয় নিউজিল্যান্ড। দলগত আক্রমণ থেকে ক্রিস উডের পাস ধরে সারপ্রীত সিং বল বাড়িয়ে দেন বক্সে। সেখান থেকে লক্ষ্যভেদ করে নিউজিল্যান্ডকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন এলিজা জাস্ট।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। ২৩ মিনিটে ভাগ্য সহায় না থাকায় সমতায় ফেরা হয়নি তাদের। কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মেহদি তারেমির নেওয়া জোরালো শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে আসে। তবে ৩২ মিনিটে আর ভুল হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে রামিন রেজাইয়ান দারুণ এক শটে বল জালে জড়িয়ে ইরানকে ১-১ সমতায় ফেরান। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে ইরান আরও একবার নিউজিল্যান্ডের জালে বল পাঠালেও অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়।

বিরতি থেকে ফিরে আবারও ইরানকে চেপে ধরে নিউজিল্যান্ড। ৫৫ মিনিটে মাঝমাঠে বল হারিয়ে বিপদে পড়ে ইরান। কিউই অধিনায়ক ক্রিস উডের পাস থেকে বল পেয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন এলিজা জাস্ট। এই জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে বড় জয়ের স্বপ্ন দেখতে থাকে ওশেনিয়ার প্রতিনিধিরা।

তবে নিউজিল্যান্ডের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেয়নি ইরান। গোল হজমের ঠিক ৯ মিনিট পর ৬৪ মিনিটে রামিন রেজাইয়ানের ক্রসে বুলেট গতির হেডে সমতায় আনেন মোহাম্মদ মোহেবি। ম্যাচের শেষ ২০ মিনিটে জয় পেতে অলআউট আক্রমণে যায় দুই দলই। ৮০ মিনিটে তারকা স্ট্রাইকার মেহদি তারেমিকে তুলে নিয়ে রক্ষণাত্মক কৌশল নেন ইরানি কোচ। যোগ করা অতিরিক্ত ৫ মিনিটে আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুদল।

গ্রুপ জি এর দুই ম্যাচই ড্র হয়। এই গ্রুপে প্রথম ম্যাচে মিশরের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিলো বেলজিয়াম। চার দলের পয়েন্ট সমান হলেও গোল বেশি করায় নিউজিল্যান্ড ও ইরান যথাক্রমে গ্রুপের এক ও দুইয়ে রয়েছে।

অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে, কাঁদলেন ভোজিনহা

আটলান্টায় স্পেনের আক্রমণভাগকে একাই রুখে দেন কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী বুড়ো গোলরক্ষক ভোজিনহা। বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার স্পেনকে গোলশূন্য ড্রয়ে আটকে দিয়েছেন গোলবারের নিচে অতন্দ্রপ্রহরী হয়ে। বিশ্বকাপে অভিষেক আসরে এমন অর্জনের পর দু’হাত দিয়ে মুখ ঢেকে কান্না করেছিলেন ভোজিনহা। ঐতিহাসিক মুহূর্তে পাশে ছিলেন না মা, তাইতো কেপ ভার্দের এই নায়কের কান্না। জানালেন, অর্থের অভাবে সঙ্গে আনতে পারেননি মাকে।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে যখন কথা বলছিলেন, তখন চোখ জোড়া তখনও ভেজা ভোজিনহার। আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘ম্যাচের পর আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি, কেঁদে ফেলেছিলাম। ছোটবেলায় আমি আমার দাদা-দাদির কাছে বড় হয়েছি, কিন্তু আজকের এই ঐতিহাসিক দিনে তারা আমার পাশে নেই, কয়েক বছর আগে তারা মারা গেছেন। আর আমার মা-ও এখানে আসতে পারেননি। মার্কিন ভিসার জটিলতা এবং এর পেছনে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন ছিল, তা জোগাড় করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমরা সময়মতো সবকিছু সম্পন্ন করতে পারিনি।’

মাঠে কেপ ভার্দের এই বুড়ো দেয়ালের বীরত্ব আর ম্যাচ শেষে তার এই কান্না ছুঁয়ে গেছে পুরো ফুটবল বিশ্বকে। প্রশংসায় ভাসছেন এই ফুটবলার। বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক স্কটিশ উইঙ্গার প্যাট নেভিন লিখেছেন, ‘পুরো ম্যাচজুড়েই রূপ ছড়িয়েছেন ভোজিনহা। ৪০ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে তিনি যা দেখালেন, তা স্রেফ অবিশ্বাস্য। ম্যাচ শেষে মাঠের সব ক্যামেরা ছিল তার দিকেই। সতীর্থরা আঙুল তুলে বারবার বিশ্বকে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন, কে তাদের আসল নায়ক।’

সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার লি ডিক্সনও কেপ ভার্দের এই গোলরক্ষককে প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন। ভোজিনহার আবেগের গভীরতা ছুঁয়ে গেছে তাকেও। ডিক্সন বলেন, ‘আমি নিজেই ম্যাচ শেষে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। স্পেনের বিপক্ষে এই একটি পয়েন্ট পাওয়ার সম্পূর্ণ যোগ্যতা কেপ ভার্দের ছিল। আজকের রাতটা স্রেফ তাদেরই। আর ভোজিনহাকে ওভাবে কাঁদতে দেখে আমার নিজেরই প্রায় কান্না চলে আসছিল।’

ছড়িয়ে পড়ছে গবাদি পশুর লাম্পি ও খুরারোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও খুরারোগ। গত ১৫ দিনে এসব রোগে শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছেন খামারি ও স্থানীয়রা। আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক গবাদি পশু। একের পর এক গরু মারা যাওয়ায় অন্তত ২০টি মিনি খামার কার্যত ধ্বংসের মুখে পড়েছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ খামারি ও কৃষকরা।

ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, আক্রান্ত গরুর চিকিৎসার জন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগের চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে তারা গ্রাম্য চিকিৎসক ও কবিরাজদের শরণাপন্ন হচ্ছেন। এতে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসার কারণে গরুর মৃত্যুও বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আতঙ্কে অনেকে লোকসান গুনে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

গ্রামে গ্রামে ভয়াবহ সংক্রমণ

উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের কাসারির ঘাট, কদমতলা, মালচারপাড়, চরেরপাড় ও নীলকণ্ঠ; বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের সাতভিটা, হাপারভিটা, দোলন ও জলঙ্গার কুঠি; ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের
দক্ষিণ মধুপুর ও মাদারটারী এবং ধামশ্রেণী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী, নাওড়া, খাওনার দরগা ও ইন্দারারপাড় গ্রামে রোগটির ব্যাপক বিস্তার দেখা গেছে।

এসব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই একাধিক গরু লাম্পি রোগে আক্রান্ত। আক্রান্ত গরুর শরীরজুড়ে বড় বড় গুটি, ঘা, জ্বর, দুর্বলতা ও ক্ষুধামান্দ্য দেখা দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে খুরারোগ একসঙ্গে দেখা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ধামশ্রেণী ইউনিয়নের খাওনার দরগা গ্রামে এক খামারেই মারা গেছে পাঁচ গরু। খামারি জামাল উদ্দিন জানান, তাঁর মিনি খামারের ১৬টি গরুর মধ্যে পাঁচটি লাম্পিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। যার বাজারমূল্য ছয় লাখ টাকার বেশি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে যোগাযোগ করলে কোনো ডাক্তার আসেননি। প্রফুল্ল নামে এক কর্মচারী এসে ভ্যাকসিন দিয়ে ৩ হাজার ২০০ টাকা নিয়েছেন। এরপরও গরুগুলো বাঁচানো যায়নি।’

সুরিরডারা গ্রামের খামারি মোস্তা মিয়ার আটটি গরুর মধ্যে একটি বাছুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তিনি বলেন, ‘গরুর সারা শরীরে ঘা হয়েছে, পোকা ধরেছে। ১০ দিন ধরে কষ্ট পাচ্ছে। অফিসে গিয়ে ৫০০ টাকা জমা দিয়েছি। ডাক্তার না এসে একজন কর্মচারী এসে ভ্যাকসিন দিয়ে গেছে। তেল খরচের নামে আরও ২০০ টাকা নিয়েছে। ডাক্তারকে ভিজিট দেওয়ার কথাও বলেছি, তবু কেউ আসেনি। চোখের সামনে গরুটা ধুঁকে ধুঁকে মরছে।’

ক্ষতির তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কদমতলা গ্রামের করিম উদ্দিন, মুকুল মিয়া, কছিম উদ্দিন ও সাহাবুদ্দিন; কাশিয়াগাড়ী গ্রামের শফি কামাল; ভদ্রপাড়া গ্রামের রয়েল মিয়া এবং কুড়ারপাড় গ্রামের একরামুল হকসহ অনেক খামারির গরু মারা গেছে।

স্থানীয়দের দাবি, গত দুই সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গরু মারা গেছে এবং আক্রান্ত হয়েছে সহস্রাধিক গবাদি পশু। আতঙ্কে গরু বিক্রি করছেন খামারিরা।

উলিপুর আদর্শ কেন্দ্রীয় দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় সমিতির সভাপতি মো. আফজাল হোসেন বলেন, ‘আমার খামারও আক্রান্ত হয়েছিল। আতঙ্কে চারটি গাভি রেখে বাকি গরুগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। গরুগুলো একের পর এক আক্রান্ত হচ্ছে, কিন্তু প্রাণিসম্পদ বিভাগের তৎপরতা চোখে পড়ছে না।’

গ্রাম্য পশু চিকিৎসক বাদল মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি আক্রান্ত গরুর চিকিৎসা করছি। শুধু লাম্পি নয়, খুরারোগও ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চিকিৎসা না দিলে গরুর মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়ত।’

তবে স্থানীয় অনেক খামারির অভিযোগ, অভিজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে অনেক ক্ষেত্রে ভুল চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, যা রোগের বিস্তার ও মৃত্যুহার বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, লাম্পি ও খুরারোগ নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ, চিকিৎসক টিম গঠন এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হোক। তা না হলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারগুলো ধ্বংস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রেবেকা বেগম বলেন, ‘লাম্পি বর্তমানে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু গরুর মৃত্যুর খবরও পেয়েছি। দীর্ঘদিন ভ্যাকসিনের সংকট ছিল। আমাদের জনবলও খুব সীমিত।’

তিনি বলেন, ‘১৪টি ইউনিয়নের জন্য পর্যাপ্ত জনবল নেই। ড্রাইভারও নেই। মাত্র দুজন জনবল নিয়ে পুরো উপজেলা সামলাতে হচ্ছে। অনেক সময় খামারিরাও ভ্যাকসিন নিতে আগ্রহ দেখান না। তবে এখন উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়ানো হচ্ছে এবং ভ্যাকসিন কার্যক্রমও চালু রয়েছে।’

পাবনার ঈশ্বরদী পদ্মার চর কেটে মাটি বাণিজ্য ঝুঁকিতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ

দিনের আলো হোক কিংবা গভীর রাত পদ্মার চরজুড়ে চলছে একের পর এক এক্সক্যাভেটরের গর্জন। নদীর চর ও ফসলি জমি কেটে ট্রাক, ডামট্রাক ও ট্রাক্টরে করে সেই মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ অবৈধ মাটি-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে হারিয়ে যাচ্ছে উর্বর কৃষিজমি, অন্যদিকে পদ্মা নদীর স্বাভাবিক গতিপথও পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের চররূপপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর চরের বিস্তীর্ণ অংশে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কেটে বড় বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাশের কয়েকটি ইটভাটায়। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতেই রাতকে বেছে নেয় মাটিখেকো চক্র।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে পদ্মার ভেতরে আলাদা নালার মতো সৃষ্টি হচ্ছে। এতে নদীর স্রোতের দিক পরিবর্তিত হয়ে আশপাশের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বাড়লে ভয়াবহ ভাঙনের সৃষ্টি হতে পারে। এতে শুধু কৃষিজমিই নয়, বসতবাড়ি ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও ঝুঁকিতে পড়বে। তারা অবিলম্বে অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

চররূপপুর গ্রামের এক কৃষক বলেন, ‘আগে যেখানে ধান আর পাট চাষ হতো, এখন সেখানে বড় বড় গর্ত। এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে চরের অনেক জমিই নদীতে চলে যাবে।’

আরেক ভুক্তভোগী জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘অবাধে মাটি কাটায় বর্ষায় নদীভাঙনের শঙ্কা বাড়ছে। এ ছাড়া মাটি পরিবহনের ভারী যানবাহনের চাপে রাস্তা ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী
হয়ে পড়েছে। রাতভর ভেকু আর গাড়ির শব্দে ঘুমাতে পারি না।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্যকে ‘ম্যানেজ’ করেই এই ব্যবসা চলছে বলে দাবি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী। তাঁর ভাষ্য, মাটি সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক কামাল হোসেন ওরফে ‘মাটি কামাল’। এ বিষয়ে কথা বলতে কামাল হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি এক্সকাভেটরের জন্য প্রতি রাতে ১৩ হাজার টাকা দেওয়া হয় পুলিশকে।’

যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান। তাঁর ভাষ্য, রাতে চুরি করে মাটি কাটা হতে পারে তবে পুলিশের তৎপরতায় দিনে মাটি কাটা বন্ধ আছে।

পরিবেশবিষয়ক সংগঠন সবুজ পৃথিবী ঈশ্বরদী শাখার সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম বাবু বলেন, ‘নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে হস্তক্ষেপ করলে ভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি বহু গুণ বেড়ে যায়। অপরিকল্পিত মাটি কাটা দীর্ঘ মেয়াদে ভয়াবহ পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। অনৈতিক এ প্রবনতা রোধে পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।’

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ‘অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। রাতে মাটি কাটার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়।’ পুলিশের এই কর্মকর্তা  আরও বলেন, ‘এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।’

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসাদুজ্জামান সরকার সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ফসলি জমি কিংবা নদী থেকে মাটি কাটার জন্য কোনো অনুমতি কাউকে দেওয়া হয়নি। চুরি করে মাটি কাটা হলে তা প্রশাসন দেখবে। এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ওসিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।

কুরাসাওকে ‘সেভেন আপ’ খাইয়ে ব্রাজিলকে ছাড়িয়ে গেল জার্মানি

ব্রাজিল সমর্থকদের জন্য ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই ‘মিনেইরাজো’ ট্র্যাজেডি এখনও দগদগে। সেদিন বেলো হরিজন্তের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জার্মানি। এক যুগ পর বিশ্বমঞ্চে আবারও সেই ঐতিহাসিক ‘সেভেন আপ’ স্কোরলাইনের পুনরাবৃত্তি ঘটাল ডাই ম্যানশাফটরা। ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই নবাগত কুরাসাওকে ৭-১ ব্যবধানে ভাসিয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছে জুলিয়ান নাগেলসম্যানের শিষ্যরা। এই জয়ের সুবাদে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টপকে শীর্ষস্থান দখল করেছে জার্মানি।

চলতি বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর আগে ২৩৭ গোল নিয়ে তালিকার চূড়ায় বসে ছিল ব্রাজিল। ৫ গোল পিছিয়ে ২৩২ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল জার্মানি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল মাত্র ১টি গোল করায় জার্মানির সামনে সুযোগ আসে রেকর্ড ভাঙার। কুরাসাওয়ের জাল গোলবন্যায় ভাসিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের মোট গোলসংখ্যাকে ২৩৯-এ নিয়ে গেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ২৩৮ গোল নিয়ে ব্রাজিল এখন দ্বিতীয় স্থানে। আর ১৫২ গোল নিয়ে অনেক পিছিয়ে তিনে আছে আর্জেন্টিনা। এখন পর্যন্ত ২১টি বিশ্বকাপে ১১৩ ম্যাচ খেলে ২৩৯ গোল করল জার্মানি, যেখানে ২৩টি আসরে ১১৫ ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল।

ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটে ফেলিক্স এনমেচার দুর্দান্ত গোলে লিড নেয় জার্মানি। যা চলতি আসরের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। তবে ম্যাচের ২১ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার গ্যালারির ৬৮ হাজার দর্শককে স্তব্ধ করে দিয়ে সবাইকে চমকে দেয় ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। লিভানো কোমেনেনসিয়া গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। যা কিনা কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ গোল। অবশ্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে একদমই সময় নেয়নি জার্মানি। ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেকের গোলে আবার এগিয়ে যায় তারা। আর প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তেপেনাল্টি থেকে কাই হাভার্টজ জাল কাঁপালে ৩-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।

প্রথমার্ধে বলতে গেলে একপেশে খেলেছে জার্মানি। ৭১ শতাংশ বলের দখলে রেখেছে তারা। ১৬ বার প্রতিপক্ষের দুর্গে হানা দিয়েছে। নিশানায় শট নিয়েছে ৫টি। লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে ৪টি শট। মুহুর্মুহু আক্রমণে রণক্লান্ত হয়ে কুঁকড়ে গিয়েছিলেন কুরাসাও খেলোয়াড়রা।

বিরতি থেকে দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফেরে জার্মানি। গোলের বন্যা বয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকে স্রোতের মতো আক্রমণ হানে। ৪৭ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান জামাল মুসিয়ালা। ইয়োশুয়া কিমিখের পাস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিং দেন তিনি। ৪-১ গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। ৬৮ মিনিটে ব্যবধান ৫-১ করেন লেফট ব্যাক নাথানিয়েল ব্রাউন। জার্মানির গোলের তোড়ে বানের জলের মতো ভেসে যায় কুরাসাও। জার্মানির পক্ষে ৬ নম্বর গোলটি করেন ডেনিজ উনদাভ। ৭৮ মিনিটে ব্যবধান হয় ৬-১। ম্যাচের শেষভাগে কাই হাভার্টজ নিজের দ্বিতীয় গোলটি করলে জার্মানির ৭-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়। এর মাধ্যমে ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭ গোল দেওয়ার স্মৃতি ফেরাল জার্মানি।

গ্রুপ ‘ই’-তে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে নামবে কিছুটা চাপে থাকা ব্রাজিল। সেই ম্যাচে বড় জয় পেলেই আবার জার্মানিকে টপকে শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার সুযোগ আছে ভিনিসিয়ুসদের। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচটি স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। অন্যদিকে, আগামী শনিবার আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামবে উড়তে থাকা জার্মানি।

তিউনিসিয়ার জালে সুইডেনের পাঁচ গোল

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই গোলবন্যার জোয়ারে মেতে উঠল সুইডেন। মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্তেরেই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘এফ’এর ম্যাচে আফ্রিকার প্রতিনিধি তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সুইডেন। ম্যাচে সুইডিশদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন ইয়াসিন আইয়ারি। এছাড়া বাকি তিনটি গোল এসেছে আলেকজান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেস ও ম্যাটিয়াস ভ্যানবার্গের পা থেকে।

বিস্তারিত আসছে…

স্বর্ণের দাম কেন কমছে?

বৈশ্বিক কোনো সংকটের সময় সাধারণত স্বর্ণের দাম বেড়ে যায়। কারণ বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা পেতে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে এবারের চিত্রটা ভিন্ন।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে স্বর্ণের দাম চাপে আছে। ২৮ জানুয়ারি প্রতি ট্রয় আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার তা নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

এর প্রধান কারণ হলো, দ্রুত বাড়তে থাকা মূল্যস্ফীতি। অনেকের আশঙ্কা বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার কমাবে না। বরং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তারা সুদের হার আরও বাড়াতে পারে।

এই মূল্যস্ফীতির বড় একটি কারণ হরমুজ প্রণালি। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির সঙ্গে মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে মূল্যস্ফীতির হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। একই সময়ে দেশটির শ্রমবাজারও স্থিতিশীল। ফলে অদূর ভবিষ্যতে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কম।

যদিও স্বর্ণ মূল্যস্ফীতির বিপরীতে সুরক্ষার একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয়, তবু উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ স্বর্ণকে ‘নন-ইয়েল্ডিং’ সম্পদ বলা হয়। অর্থাৎ, এটি নিজে থেকে কোনো আয় তৈরি করে না। স্বর্ণ থেকে লাভ করতে হলে এর দাম বাড়তে হয়।

আর্থিক খাতবিষয়ক ওয়েবসাইট অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের প্রধান বিশ্লেষক জাস্টিন কার্ডওয়েল আলজাজিরাকে বলেন, সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ প্রকৃত অর্থের সবচেয়ে কাছাকাছি জিনিস। এটি লভ্যাংশ দেয় না, আবার দাম না বাড়লে কোনো আয়ও দেয় না। মানুষ মূলত দাম বৃদ্ধির আশায় স্বর্ণ কেনে। এ কারণেই সুদের হার ও স্বর্ণের মধ্যে সরাসরি প্রতিযোগিতা হয়।

কার্ডওয়েল বলেন, সুদের হার বেশি থাকলে এবং মানুষ ডলারে বিনিয়োগ বাড়ালে স্বর্ণের প্রতি আকর্ষণ কমে যায়।

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ

চলমান সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আগের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকই এই পর্ষদ গঠন করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন গভর্নর। এদিন ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার হিসেবে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। তাঁকে অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা। দৈনিক যে পরিমাণ টাকা জমা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি তুলে নেওয়ার কারণে তারল্য সংকটে অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে ব্যাংকটিকে। ব্যাংকটির অনলাইন স্থানান্তর, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনসহ অনেক ধরনের সেবা মিলছে না। গত সপ্তাহে গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর এমডিদের এক বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের এ সংকট অন্য ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গত সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করে।

রোববার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এরপর রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পর্ষদ সদস্যের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানি, আমানতকারী ও জনসাধারণের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে রোববার বিকেল ৪টায় ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। সন্ধ্যা ৭টার পর তারা বের হন। ওই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে ব্যাংকটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নগদ জমা ও উত্তোলন প্রায় সমান সমান। তবে আরটিজিএস, ইএফটিসহ অনলাইন মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোববার প্রথম তাদের আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থ পাওয়ার পর লেনদেনের বর্তমান অবস্থা এবং তা দিয়ে কতটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে চাই– লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না। আমানতকারীরা সময়মতো টাকা ফেরত পাবেন। দ্রুত এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ সব লেনদেন স্বাভাবিক হবে।’ চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কেন আলোচনা হবে? এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে। আমরা শুধু পরিচালনাগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছি।’

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে গত ২৪ মে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এমডিকে ৩১ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় পর্ষদ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১৭ মার্চ ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে ১ জুন থেকে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন আছে বলে আলোচনা আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকে ইসলামীসহ শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি ব্যাংক তারল্য সংকটে চলছিল। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব ঘাটতি রেখেও বিশেষ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ রকম সুযোগ বন্ধ করে দেয়। নতুন করে টাকা উত্তোলনের চাপ সামলাতে তখন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ধার হিসেবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বিশেষ ধার হিসেবে নেওয়া ১৩ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিলেও অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এ রকম অবস্থায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি শুরুর আগে গত মে মাস শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব দেনা পরিশোধ করে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থিতি ছিল। তবে গত কয়েক দিনে প্রচুর টাকা উত্তোলনের কারণে চলতি হিসাবে স্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার দেওয়ায় আবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকটির পরিচালকরা ব্যাংকে আসতে পারছিলেন না। যে কারণে নীতিনির্ধারণী কোনো সভা হচ্ছিল না। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনলাইনে একটি সভা হলেও তা নিয়ম মেনে হয়নি। ওই পর্ষদ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আবার কোনো এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়নি। এ রকম অবস্থায় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আটকে আছে। আবার ব্যাংকটিতে এখন নিয়মিত এমডি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সংকট পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে গত সপ্তাহে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি উদ্বেগ জানায়। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক থেকে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়।

ইসলামী ব্যাংক এক সময় জামায়াতপন্থিদের হাতে ছিল। তবে ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় এস আলম গ্রুপের হাতে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ইসলামীসহ মোট ১৭টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে নামে-বেনামে শুধু এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। যার বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে– এমন অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার।