ঢাকা : বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন আজ বুধবার। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অর্থাৎ এই দিনে গঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার।আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও পাঠ করা হয় সরকার গঠনের পর। এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দেওয়া হয় অনুমোদন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
শপথ গ্রহণের পর ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৭ জন। এ সময় মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তান সামরিক শাসকদের হাতে বন্দি), উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ), প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমাদ, প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) এমএজি ওসমানী, চিফ অব আর্মি স্টাফ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব। সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই বৈদ্যনাথতলাকেই তখন ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর’ হিসেবে নামকরণ করেন। সেই থেকে কলকাতায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মানুষের কাছে ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত ছিল। এ সরকারের নেতৃত্বেই পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস উদযাপন করা হয়। তবে এবার ঈদের ছুটির কারণে কর্মসূচি পালনে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। ঈদের ছুটির পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে বলে জানা গেছে।
আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস
বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ হয় কি করে, পথচেয়ে ২৩ নাবিকের পরিবার
ঢাকা : অতিকুল্লাহ খাঁনের বাসা নগরীর নন্দনকাননে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কাছে জিন্মি থাকা ২৩ নাবিকের একজন তিনি। প্রধান কর্মকর্তার পদে থাকা আতিক এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে উঠেছেন মাস চারেক আগে। এর মধ্যেই জলদস্যুদের কবলে পড়েছে তাদের জাহাজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে আতিকুল্লাহ খাঁনের পরিবারে ততই গাড় হচ্ছে যেন বিষাদের ছায়া। তাঁর ষাটোর্ধ মা শাহনূর আক্তার ছেলের জন্য কিনেছেন ঈদের পায়জামা ও পাঞ্জাবি। কিন্তু ঈদের আগে আর ফিরছে না ছেলে। তাই শাহনূর আক্তারের চোখ করছে ছলছল।
চোখ মুছতে মুছতে শাহনূর আক্তার বলেন, ‘আশা ছিল, ছেলে আসবে ঈদের আগেই। জাহাজের মালিকপক্ষ সেই আশ্বাসই দিয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু এখন বলছে ঈদের পরে আসবে। ছেলে আসার দিনই হবে আমাদের ঈদ। ঈদের শাড়িও পড়বো সেদিন।’
আতিকুল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। সপরিবারে বসবাস করেন নগরীর নন্দনকাননের রথেরপুকুর পাড় এলাকায়। সেখানেই কথা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। কথার ফাঁকে ফাঁকে সদস্যদের কান্না ঠুকরে বের হয়। ছবি হাতে বাবাকে খুঁজে ফিরছে আতিকের ছোট ছোট তিন মেয়ে। বাবাকে নিয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে বুক ভেঙে যায় দাদির। আতিকুল্লাহর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। ভেঙে পড়েছেন তিনি। আত্মীয়স্বজন সান্ত¡না দিলেও অশ্রুবাণ থামছে না মা ও স্ত্রীর।
আতিকুল্লাহর বাবা বেঁচে নেই। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। মা, ভাই, স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে শহরের নন্দনকানন এলাকায় থাকেন তিনি। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা শেষ হয়নি। তিন মেয়ের মধ্যে বড় ইয়াশা ফাতিমা পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। মেজো মেয়ে উমাইজা মাহাবিন প্রথম শ্রেণিতে। আর ছোট মেয়ে খাদিজা মাহাবিনের বয়স মাত্র দুই বছর।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের সঙ্গে আরও ২২ নাবিক জিম্মি। গত ১২ মার্চ তাদের ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি করে সোমালিয়ার সশস্ত্র জলদস্যুরা।
প্রহর গুনছেন জান্নাতুল
এমভি আবদুল্লাহর চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ ও নাবিক নুরউদ্দিনের পরিবারে ঈদ কাটবে অশ্রুসজল। তানভীরের মা জোছনা বেগম বলেন, ‘সবাই ছেলের অপেক্ষায় আছি। ঈদের আগেই ফিরবে- শুরুতে জাহাজের মালিকপক্ষ আশ্বাস দিলেও, এখন হাল ছেড়ে দিয়েছে। দস্যুর ডেরায় ছেলেকে রেখে ঈদ করব কীভাবে?’
অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাবিক নুরউদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। স্বামীর সন্ধানে কবির গ্রæপের কার্যালয়ে ঘুরেছেন কর্ণফুলীর লিচুতলার বাড়িতে আড়াই বছরের সন্তান রেখে। জান্নাতুল বলেন, জিম্মি করার পরপরই এক অডিও বার্তায় নুরউদ্দিন বলেছিল- ‘ফাইনাল কথা, এখানে টাকা না দিলে একজন একজন করে মেরে ফেলবে বলছে।’ মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভয় রয়েই গেছে। চিন্তায় ঘুম আসে না। ছোট্ট সন্তান বাবা ছাড়া ঈদ করবে, ভাবতেই বুকে কেঁপে ওঠে।
বুকের ধন জিম্মি রেখে কি করে হয় ঈদ
খুলনা ব্যুরোপ্রধান মামুন রেজা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর দ্বিতীয় প্রকৌশলী খুলনার তৌফিকুল ইসলামের পরিবারে নেই আনন্দ। নগরীর সোনাডাঙ্গার করিমনগর এলাকার বাড়িটি এখন নিষ্প্রাণ। কারও জন্য কেনা হয়নি পোশাক। তৌফিকের মা দিল আফরোজা বলেন, ‘ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা তো আছেই। না পারছি কাছে যেতে; না পারছি দেখতে। বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ আনন্দ কি থাকে? কারও জন্য কেনাকাটা করা হয়নি। ওর মেয়ে তাসফিয়া নামাজ পড়ে দোয়া করে। ছোট ছেলে মুসাফি বলে, আমি গিয়ে যুদ্ধ করে বাবাকে ছাড়িয়ে আনব।’
গত রোববার তিনি বলেন, ‘ছেলে বলেছে, তারা ভালো আছে। জামাতে তারাবি নামাজ ও রোজা রাখতে পারছে। দুর্ব্যবহার না করলেও বেশিক্ষণ ফোনে কথা বলতে দেয় না। পাশে জলদস্যুরা দাঁড়িয়ে থাকে। আগে সবাইকে এক কক্ষে রাখলেও এখন কেবিনে থাকতে পারছে।’ তৌফিকের স্ত্রী জোবাইদা নোমান বলেন, ‘আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খুব কষ্টে আছে। বাবার জন্য তারা অস্থির হয়ে উঠেছে।’
সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না
নওগাঁ প্রতিনিধি কাজী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শহরের পলিটেকনিক অ্যাভিনিউর দুবলহাটি রোডে এমভি আবদুল্লাহর প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না। ঈদের দিন ঘনিয়ে এলেও করেনি কোনো কেনাকাটা, নেই রান্নাবান্নার প্রস্তুতি।
সাইদুজ্জামানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সুস্থভাবে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছি। একটা সময় খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন সান্ত¡না পাই, মাঝে মধ্যে কথা বলতে পারছি। জলদস্যুরা যোগাযোগে কোনো বাধা দিচ্ছে না। মা কোহিনূর বেগম বলেন, আমাদের কারও মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। ছেলেকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না। কবে ফিরবে আমার বুকের ধন? সরকার যেন দ্রæত উদ্যোগ নেয়।
সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মান্না তাহরিন শতধা বলেন, স্বামী ফিরে এলে এবার ঈদ হতো সবচেয়ে আনন্দের। এখন নিজেরা নিজেদের সান্ত¡না দিচ্ছি- বেঁচে আছে, এক দিন আল্লাহ আমাদের কাছে তাকে ফেরত দেবে।
ছেলে নাই, টাকা পাঠানোরও কেউ নাই
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর নাবিক নাজমুল হকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চর-নুরনগর গ্রামের বাড়িতে নেই প্রাণচাঞ্চল্য। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে বাবা আবু সামা ও মা নার্গিস খাতুনের।
গত শনিবার বাড়িতে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিস বলেন, ‘ছেলে যেখানেই থাকুক, ঈদ এলে টাকা পাঠাত। সময় পেলে নিজে কিনে দিত। এবার আমার ছেলেও নাই, টাকা পাঠানোর কেউ নাই। সারাক্ষণ মনে হয়, নাজমুল এসে মা মা বলে ডাকছে। ওদের সবাই ঈদের আগে মুক্তি পেলে সবচেয়ে খুশি হতাম। নাজমুলের বাবা আগেই অসুস্থ। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে আরও অসুস্থ হয়ে গেছে। তাকে নিয়েও চিন্তা হচ্ছে।’
সাব্বির কল করবে, ফোন হাতে অপেক্ষায় বাবা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর মার্চেন্ট কর্মকর্তা সাব্বির হোসেনের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। একমাত্র ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে ফিরছেন মা সালেহা বেগম। প্যারালাইসড বাবা হারুন-অর রশিদ সারাদিন মোবাইল ফোন হাতে বসে থাকেন, ছেলের ফোন পাওয়ার আশায়।
সরেজমিন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামে গিয়ে সাব্বিরের বাড়িতে সুনসান নীরবতা পাওয়া যায়। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে আসেন একমাত্র বোন মিতু আক্তার। তিনি জানান, ভাই জিম্মি হওয়ার পর থেকে সবাই উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। মা-বাবা কেঁদেই চলেছেন। ভাইয়ের কিছু হলে তাদের বাঁচানো যাবে না। ঈদের আনন্দ আমাদের কাছে বিষাদে পরিণত হয়েছে।
হারুন-অর রশিদ বলেন, জিম্মি হওয়ার পর এক দিন সাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেছি। তার পর আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে বসে থাকি, কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে- বাবা, ভালো আছি, তোমরা চিন্তা করো না। গত বছর একসঙ্গে ঈদ করেছি। এবার পারব না, ভাবতে পাজর ভেঙে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কেএসআরএমের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে নাবিকদের মুক্ত করতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। আমাদের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ঈদের পরে তারা মুক্ত হবেন।’
ভারতের যেসব এলাকায় ঈদ বুধবার
ঢাকা : ভারতের কেরালা, লাদাখ এবং জম্মু-কাশ্মীরের আকাশে শাওয়ালের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে বুধবার এসব এলাকায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। কিন্তু লক্ষ্ণৌ, দিল্লি, বেঙ্গালুরুসহ দেশটির বাকি অংশে চাঁদ দেখা যায়নি। তাই বৃহস্পতিবার এসব এলাকায় ঈদ উদযাপিত হবে। অর্থাৎ সেসব অঞ্চলে রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হবে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, মঙ্গলবার ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশজুড়ে মুসলমানেরা শাওয়ালের চাঁদ দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। এর মধ্যে বাংলাদেশের আকাশে তা দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে বৃহস্পতিবার ঈদ হবে।
এছাড়া সোমবার সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, মিসর, তুরস্ক, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমের অন্যান্য দেশে শাওয়ালে চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে বুধবার এসব দেশে ঈদ উদযাপিত হবে। একই দিনে ঈদের ঘোষণা দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশের চাঁদপুরসহ কয়েকটি জায়গায় ঈদ উদযাপন করা হবে। সাধারণত সৌদির একদিন পর দেশে চাঁদ দেখা যায়। এবার রোজাও শুরু হয়েছিল দেশটির একদিন পরে।
বিশ্বের একমাত্র মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার ঈদ
ঢাকা: সিয়াম-সাধনার মাস রমজান শেষে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে দেখা গেছে শাওয়াল মাসের চাঁদ। মধ্যপ্রাচ্যের সব দেশ, পূর্ব এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তান ও ভারতের কিছু অঞ্চলে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।তবে এরমধ্যে মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশে বৃহস্পতিবার পালিত হবে ঈদ।
মুসলিম দেশগুলোতে ঈদ উদযাপন এবং কতগুলো রোজা পালন করল সেটির একটি তালিকা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান যুবাইর এহসান হক।
তার দেওয়া তথ্যমতে- ইন্দোনেশিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, মালয়েশিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, পাকিস্তানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, আরব আমিরাতে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, কাতারে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, সৌদি আরবে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, ইয়েমেনে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি।
এছাড়া ওমানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, জর্ডানে বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি, ফিলিস্তিনে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, মিশরে বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি, তিউনিসিয়ায় বুধবার ঈদ এবং রোজা ৩০টি এবং মরক্কোয় বুধবার ঈদ এবং রোজা ২৯টি।
হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে নারীদের নিরাপত্তা চায় মার্কিন নারী নেত্রীরা
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: হামাস-ইসরাইল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের সকল মুসলিম নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ ও যুদ্ধের সময় শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট টেকনোলজি (এমআইটি)তে পৃথক দু’টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত উক্ত সেমিনারে শান্তি প্রতিষ্ঠাসহ নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করণের দাবি জানানো হয়।
সোমবার বিকেলে প্রথম ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট টেকনোলজি (এমআইটি)তে এবং সন্ধ্যার পর বোস্টনের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় সেমিনার দুটি অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দু’জন নারীসহ পাকিস্তান ও শ্রীলংকান আরও দু’জন মুসলিম নারী অংশ নেন। এরা হলেন-এএমএমডাবিøউইসি এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আনিলা আলী, নিউ ইংল্যান্ড বাংলাদেশি আমেরিকান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ফারহানা খোরশেদ, মুসলিম উমেন স্পীকার্সের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোরায়া ডীন ও এএমএমডাবিøউইসি এর নির্বাহী বোর্ড এর সদস্য জেবুন্নেসা জেবা জুবায়ের।
তারা বলেন, আমাদের সমাজের মধ্যে শান্তি, আস্থা এবং সহযোগিতার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা একটি জরুরি বিষয়। এই প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি প্রত্যাশা করি এই অঞ্চলের সমস্ত জাতির জন্য আরও প্রতিশ্রæতিশীল ভবিষ্যত গড়তে সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করবো।
বক্তারা বলেন, হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ [আরব] উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলির এগিয়ে যাওয়ার কৌশল। ছোট দেশগুলো শুরু করবে, তারপর বড় দেশগুলো এগিয়ে যাবে সৌদি আরবের নেতৃত্বে। যেখানে সৌদি আরব হল পবিত্র শহর মক্কা, ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে একটি, ইসরায়েল বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি ধর্মের পবিত্র স্থানগুলির আবাসস্থল যেখানে প্রায় দুই মিলিয়ন আরব ইজরায়েলকে বাড়িতে ডাকে। যদিও দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তি আগে কখনো হয়নি, তবে আমরা আশাবাদী।
তারা বলেন, আমরা ওয়েস্টার্ন ওয়াল এবং আল আকসার মতো স¤প্রদায় এবং ধর্মীয় স্থান দেখতে গিয়েছিলাম। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল কৌতূহল। এই কৌতূহলটি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে সম্ভব হয়েছিল। যখন ইসরাইল, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইন আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নামে একটি দ্বিপাক্ষিক স্বাভাবিককরণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে মরক্কোতে যোগ দেই। আমাদের একে অপরের সাথে সহযোগিতা করা দরকার বলে মনে করেন বক্তারা।
বক্তারা বলেন, আমাদের অতীতের দ্ব›দ্ব বা অতীতের সংঘাতের একতরফা উপলব্ধির দ্বারা পরিচালিত হতে পারে না, যা এই অঞ্চলটিকে পিছিয়ে রাখে। তাই আমরা শান্তির পক্ষে ওকালতি করে ইসরায়েলি, বাহরাইনি, ইহুদি এবং মুসলমানদের মধ্যে সেতু তৈরি করতে চাই। অবিলম্বে হামাস-ইসরাইল যুদ্ধের অবসানসহ মুসলিম নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করণ ও যুদ্ধের সময় শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন বক্তারা। উক্ত সেমিনারের ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ বিষয়ক দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন নারী নেত্রীরা। সেমিনারটির উদ্যোক্তা ছিলেন বি কালেকটিং।
ঈদে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে দেশ
ঢাকা : আসন্ন ঈদুল ফিতরে যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় সারা দেশ নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশ, র্যাব ছাড়াও আনসার সদস্যরা এ সময় মাঠে থাকবে। ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জেলার পুলিশ সুপারসহ (এসপি) সব অপারেশনাল ইউনিটকে ৩৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্ক ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, এবার ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চসংখ্যক পুলিশ সদস্য দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে। এজন্য পুলিশ সদস্যদের ছুটিও সীমিত করা হয়েছে।
এছাড়া র্যাব দেশের অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে রেড ও ইয়েলো জোনে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রস্তুত করেছে। র্যাবের অন্তত ৮ হাজার সদস্য ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় মাঠে থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬৫ হাজার সদস্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তায় মাঠে থাকবে। রাজধানীকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আলাদা নিরাপত্তা ছক এঁকেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া ৩৪ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ঈদ ও বাংলা নববর্ষসহ টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটিতে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামমুখী হবেন। এ সময়ে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও জাল টাকার ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। সার্বিক নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস; অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ঈদের ছুটির সময় সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ সময় মানুষ গ্রামে চলে যাওয়ায় বাসাবাড়ি ফাঁকা হয়ে যাবে। এই সুযোগে চোর ও ছিনতাইকারীরা সক্রিয় হয়। এ বিষয়েও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ঈদের পরই পহেলা বৈশাখ। এদিন মঙ্গল শোভাযাত্রাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে হতে পারে সে লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। ঢাকার রমনা বটমূল, বিআইসিসিসহ যেখানে যেখানে বর্ষবরণকেন্দ্রিক অনুষ্ঠান হবে প্রত্যেকটা জায়গাতে স্যুইপিং করা, আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর দিয়ে চেক করাসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
র্যাবের পক্ষ থেকেও ছয় স্তরের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, ঈদে মানুষের নিরাপত্তায় এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা কার্যক্রম ও টহল জোরদার করা হয়েছে। এ সময় ইউনিফর্মের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাবের মোট আট হাজার সদস্য তৎপর থাকবে। কিছু কিছু এলাকাকে আমরা রেড জোন ও ইয়েলো জোনে ভাগ করেছি। নির্জন এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর রেড জোনের মধ্যে রয়েছে-রামপুরা, বাড্ডা, মোহাম্মদপুর, তেজগাঁওসহ বেশ কিছু এলাকা। তিনি জানান, র্যাবের ৬ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। সেগুলো হলো-গোয়েন্দা, ফুট প্যাট্রোল, মোবাইল প্যাট্রোল (মোটরসাইকেল বা পিকআপ নিয়ে), সাইবার ওয়ার্ল্ডের নজরদারি, স্পেশাল ফোর্স ও যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় হেলিকপ্টার প্রস্তুত থাকবে। ফাঁকা ঢাকায় অনেকে উৎসব করতে গিয়ে মাদক সেবন করে। এগুলো ঠেকাতে র্যাবের মোবাইল টিম কাজ করবে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নিরাপত্তায় ৬০ থেকে ৬৫ হাজার সাধারণ ও ব্যাটালিয়ন আনসার সদস্য সারা দেশে মোতায়েন থাকবে। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল একেএম আমিনুল হক বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অপারেশনে আমরা ব্যস্ত আছি। এরপরও ঈদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসকের কাছে আমাদের যে সাধারণ আনসার ও ব্যাটালিয়ন আনসার আছে তারা সার্বক্ষণিক প্রস্তুত আছে।
রাজধানীতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ছক তৈরি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ডিএমপির অপারেশন্স বিভাগ প্রণীত এ ছকে প্রাধান্য পাচ্ছে ঈদগাহ মাঠ, বিপণিবিতান, মার্কেট, ব্যাংক এবং এটিএম বুথ। এছাড়া গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তৈরি করা হয়েছে আলাদা নিরাপত্তা ছক। নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসাবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের দেহ ও অন্যান্য বস্তু তল্লাশি করবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ঈদগাহ প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় যাতে ভিক্ষুক বা হকার ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে পুলিশ কন্ট্রোলরুম বা হাইকোর্ট অভ্যন্তরে স্থাপিত সাব-কন্ট্রোলরুমে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের দিন থেকে বিপণিবিতান এবং স্বর্ণের দোকানে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। ব্যাংক এবং এটিএম বুথের নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হবে। আবাসিক এলাকায় পুলিশের মোবাইল প্যাট্রোল লোকজনের গমনাগমনে দৃষ্টি রাখাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাকে ফুট প্যাট্রোলের আওতায় আনবে। মোটরসাইকেলবিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে। চেকপোস্ট, তল্লাশি ও গাড়ি চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করবে ট্রাফিক বিভাগ। এছাড়া ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে রাজধানীবাসীকে ১৪ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-গ্যাস সিলিন্ডার অথবা গ্যাসের লাইন, পানির লাইনসহ সব ধরনের লাইট, ফ্যানের সুইচ, বৈদ্যুতিক প্লাগ বন্ধ করে বাসা থেকে বের হওয়া। বাসাবাড়িতে সিসি ক্যামেরা বসাতে এবং পূর্বে বসানো সিসি ক্যামেরা সচল আছে কিনা পরীক্ষা করা। রাতে কিংবা দিনে একসঙ্গে মুখে মাস্ক এবং মাথায় ক্যাপ পরিহিত অপরিচিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গতিবিধি নজরদারি করা এবং প্রয়োজনে ৯৯৯ ফোন দেওয়া।
পহেলা বৈশাখ : অতীত থেকে বর্তমান
বাংলা নববর্ষে আমরা সাধারণত দুটি শব্দ ব্যবহার করে থাকি। একটাকে ‘সন’ বলি, আরেকটাকে ‘সাল’ বলি। ‘সাল’ হলো ‘ফারসি’ আর ‘সন’ হলো ‘আরবি’ শব্দ। বাংলা ভাষায় প্রচুর আরবি, ফারসি শব্দ আছে। বাংলাদেশ নামটিও বাংলা নয়; বাংলা এবং দেশ ফারসি শব্দ। বাংলা সন বা সাল প্রচলনের ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি অভিমত আছে। প্রথমত, তিব্বতি রাজা ‘সংস্রন’ এ বাংলা সনের প্রবর্তক। এর যুক্তিটা হলো, প্রাচীনকালে বেশ কিছুদিন তিব্বতি রাজাদের অধীন ছিল বাংলা; বিশেষ করে উত্তর বাংলা। তিব্বত সেই সময় অনেক বড় সাম্রাজ্য ছিল। এমনকি অনেক ইতিহাসবিদ মনে করেন, তিব্বতি শব্দ ‘বন্স’ থেকে ‘বাংলা’ বা ‘বাঙগালা’ শব্দটি হয়েছে। ‘বন্স’ শব্দের অর্থ হলো ‘ভেজা মাটির দেশ’। বাংলাদেশ নদী-নালার দেশ, তাই ভেজা মাটির দেশই বটে। আর একটি অভিমত হচ্ছে, বাংলা ভূখণ্ডের প্রথম স্বাধীন বাঙালি রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শশাংক ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। শশাংককে বলা হয় তিনি ‘শকাব্দ’ চালু করেছিলেন। আবার অনেক সময় অনেক ইতিহাসবিদ বলেন, সুলতান আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ্, যিনি স্বাধীন বাংলার সুলতান ছিলেন ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯, তিনি বাংলা ‘সন’ চালু করেন। সর্বশেষ অভিমতটি সম্রাট আকবর করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধোপে টিকেছে সম্রাট আকবর তত্ত¡টি। সম্রাট আকবর তত্ত¡টি সম্পর্কে ১৯৫৪ সালে ভারতে পঞ্জিকা সংস্কার কমিটির প্রধান বিজ্ঞানী ড. মেঘনাদ সাহা অঙ্ক কষে ফর্মুলা তৈরি করে প্রমাণ করেছেন আকবরই হচ্ছে বাংলা সনের প্রবর্তক এবং তার সপক্ষে মন্তব্য দিয়েছেন ওড়িশার প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ কাশীপ্রসাদ জয়াসওয়াল এবং সর্বশেষ ড. অমর্ত্য সেন। আমরা মনে করি আকবরই এ বাংলা সন প্রবর্তন করেছেন।
আকবর লক্ষ করলেন, বাংলাদেশে যারা চাষি তারা ‘সৌর বছর’ অনুসরণ করে ফসল বুনে এবং ফসল তোলে, কিন্তু আকবরের সময় প্রচলিত ছিল হিজরি সন, চান্দ্র সন। এতে ফসলের খাজনা আদায়ে সমস্যা হতো, সেজন্য আকবর তার নবরতেœর অন্যতম রতœ আমির ফতেউল্লাহ্ সিরাজীকে অনুরোধ করেছিলেন, এর একটি সমাধান বের করতে। তার কারণ হলো, আমির ফতেউল্লাহ্ সিরাজী ছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী। আকবরের দরবারের ৯ জনই ছিল জ্ঞানে-পাণ্ডিত্যে রতœ। তিনি হিসাব করে বের করলেন যে আকবর ১৫৫৬ সালে সিংহাসনে এসেছিলেন আর ওই বছরটি ছিল হিজরি সন ৯৬৩। তিনি ৯৬৩ সনকেই বাংলা প্রথম সন করে ফেললেন। আকবরের রাজত্বকালের ২৯তম বর্ষে ১৫৮৫ সালে এটি জারি করা হলো; কিন্তু এর কার্যকারিতা নির্ধারণ করা হলো ১৫৫৬ থেকেই। আকবর এটাকে ‘ফসলি সন’ নাম দিলেন। তিনি রাজস্ব আদায়ের সুবিধার জন্য এ সন চালু করেছিলেন। কিন্তু আমরা জানি যে সারা পৃথিবীতে প্রায় সব স¤প্রদায় তাদের বছরের প্রথম দিন উদযাপন করেন, সেই সুবাদে আমাদের মধ্যেও উদযাপন এসে গেল।
বাঙালির জীবনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন সম্পর্কে যে ইতিহাস আছে তাতে দেখা যায়, মুর্শিদাবাদের নবাব মুর্শিদকুলি খাঁর সময় থেকেই এ উদযাপনটি শুরু হয়েছিল। তবে বাংলাদেশে উদযাপন শুরু হয় সেই সময়ের পাকিস্তান আমল থেকে। বাংলাদেশে ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী পালনের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানপন্থি বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের রোষানল ছিল, বেশ কঠিন অবস্থান ছিল। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বাঙালিরা রবীন্দ্রসংগীত সম্মেলন করেছিল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে; সেই প্রতিবাদী ঘটনার প্রেক্ষাপটে জন্ম নিয়েছিল ছায়ানট; রবীন্দ্রসংগীতকে জনপ্রিয় করে তোলার উদ্দেশ্যে। ছায়ানট ১৯৬৪ থেকে বলদা গার্ডেনে প্রথম পহেলা বৈশাখ উদযাপন শুরু করে, কিন্তু প্রতিবছর জনসমাগম বাড়তে থাকে বলে বলদা গার্ডেনে আর স্থান সংকুলান হয় না। ১৯৬৭ থেকে রমনার বটমূলে বৃহত্তর পরিসরে বৈশাখ উদযাপন শুরু হয়। যদিও বলা হয়, বটমূল; কিন্তু ওটা অশ্বথ গাছ; লোকমুখে শুনতে শুনতে প্রচলিত হয়ে গেছে বটমূল। বিত্তবানরা আশির দশকের সূচনায় পান্তাভাত আর ইলিশ মাছ খাওয়া শুরু করেন। এটা আমি মনে করি আমাদের দরিদ্র জনগোষ্ঠী, যারা পান্তাভাত খেয়ে সকালে খেতে যান, কাজ করতে যান, তাদের সঙ্গে মশকরা করা হয়। আর তারা পান্তাভাত খান কাঁচা মরিচ ও পেঁয়াজ দিয়ে, এটি স্বাস্থ্যকর; পান্তাভাতের সঙ্গে ইলিশ চলে না, এটি অস্বাস্থ্যকর খাবার। কিন্তু আমাদের বিত্তবানের কাছে পহেলা বৈশাখের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে পান্তাভাত ও ইলিশ। ১৯৮৫ থেকে পহেলা বৈশাখ উদযাপন আরও বড় পরিসরে শুরু হলো। সেখানে দেখা গেল ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ যুক্ত করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী। সবাই মিলে বিভিন্ন ধরনের মুখোশ বানিয়ে শোভাযাত্রা শুরু করেন। মঙ্গল শোভাযাত্রা যখন শুরু হয়, তখন বাংলাদেশের বাঙালির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল এরশাদের স্বৈরাচার। তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসাবেই এ মঙ্গল শোভাযাত্রা শুরু হলো, অশুভর বিরুদ্ধে শুভ, অমঙ্গলের বিরুদ্ধে মঙ্গল, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র, এ চেতনা নিয়ে। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এ মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ করে নেয়। পহেলা বৈশাখ শুধু বাঙালির উদযাপনের দিন নয়, এটি অসা¤প্রদায়িক এবং ধর্মবণনির্বিশেষে সবার জন্য উদযাপনের দিন; এর মধ্যে প্রতিবাদ আছে, আছে দ্রোহ ও চেতনাও।
ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন :অধ্যাপক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চেয়ার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)
ঈদ মুবারক, মুবারক ঈদ
সারা মুসলিম জাহান রাতভর ইবাদত বন্দেগির মাধ্যমে শবেকদরের রজনী অতিক্রম করেছে। যে রজনী হাজার রজনীর চাইতে উত্তম। আল্লাহতায়ালা শবেকদরে এত ফজিলত দান করেছেন, যা হাজার রজনীর ফজিলতকেও অতিক্রম করে। জানি না পরের রমজান পাব কি না, আবার শবেকদরের রহমতের বরকতের ফজিলতের রাত জীবনে আসবে কি না। তবে অশান্ত পৃথিবীর এই কোলাহলে বড় কষ্টে মন ভরে যায়। গত কয়েক মাস ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের বর্বরোচিত আক্রমণ, যাতে শত শত বেসামরিক লোক জীবন হারাচ্ছে, শিশুরা খাদ্যের অভাবে, পুষ্টির অভাবে মারা যাচ্ছে। সভ্যসমাজ অসভ্যতার পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞের প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে। জানি না ইসরায়েলের নেতানিয়াহু কোন ধাতুতে গড়া। আল্লাহর দুনিয়ায় নেতানিয়াহুর মতো মানুষ জন্মায় ভাবতেও কেমন অবাক লাগে। পৃথিবীর বহু দেশে যুদ্ধ হয়েছে, যুদ্ধ হচ্ছে এবং যুদ্ধ হবে। কিন্তু সেখানে কখনো শুধু বেসামরিক লোক নিহত হয় না, হবে না। কিন্তু গাজা এক ব্যতিক্রমী স্থান। যেখানে ইসরায়েলরা একজন হামাস যোদ্ধাকে আহত করতে পেরেছে কি না কোনো খবর নেই। কিন্তু শত শত বেসামরিক লোক নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-শিশু অকাতরে প্রাণ হারাচ্ছে, সভ্য দুনিয়া চেয়ে চেয়ে দেখছে। কোনো প্রতিকার, কোনো প্রতিরোধের সর্বোপরি শান্তি স্থাপনে ক্ষমতাবানদের কারও কোনো আগ্রহ নেই। এরকম অবস্থায় রমজান শেষে পবিত্র ঈদ। আমরা কতটা কী আনন্দ উপভোগ করতে পারব কিছুই বুঝতে পারছি না। গাজাতে যেমন ইসরায়েলি আক্রমণে প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবন হারাচ্ছে, আমাদের দেশেও তেমনি বিশৃঙ্খল সড়ক দুর্ঘটনা, কল-কারখানায় একের পর এক আগুন ও নানা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে প্রতিদিন কত সম্ভাবনাময় সংসার জ্বলে-পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। কারও কোনো মাথাব্যথা নেই সড়কে যে প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে লোক মারা যাচ্ছে। সেতুমন্ত্রীকে একসময় খুবই দায়িত্বশীল মনে করতাম। কিন্তু কই তার মধ্যে কোনো আকার-বিকার দেখছি না। রেলগাড়ি লাইনচ্যুত হচ্ছে, দুর্ঘটনায় প্রতিনিয়ত পতিত হচ্ছে, প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেই। আগে মাননীয় রেলমন্ত্রী ছিলেন একসময় দিনাজপুর পরে ঠাকুরগাঁও জেলার সিরাজ ভাইর ছোটভাই আমাদেরও ছোটভাই নুরুল ইসলাম সুজন। এখন মন্ত্রী হয়েছেন রাজবাড়ী পাংশার মো. জিল্লুল হাকিম। জিল্লুল হাকিম আমাদের বহুদিনের পরিচিত কর্মী নেতা। তার উপজেলার মাছপাড়া, মৃগী আরও অনেক জায়গায় গেছি। একবার সাজেদা চৌধুরীর সঙ্গে জিল্লুল হাকিমের পাংশার বাড়িতে গিয়েছিলাম। বহুদিন বহু বছর যাবৎ জিল্লুল হাকিমকে চিনি জানি। তার আন্তরিকতায় কখনো কোনো খাদ দেখিনি। রেল মন্ত্রণালয়ের যদি গতি আনতে পারেন, উন্নতি করতে পারেন তাহলে সেটা হবে তার জন্য সর্বোপরি দেশের জন্য এক পরম সাফল্য।
একসময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বোন শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি আনার জন্য এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির স্বাক্ষর করেছিলেন চিফ হুইপ আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর হাত দিয়ে। এজন্য একসময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম কদিন চিৎকার-চেঁচামেচি করছিলেন, নোবেল শান্তি পুরস্কার অধ্যাপক ইউনূসকে নয়, নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত ছিল যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমাকে। যার যেমন চিন্তা-চেতনা সে তেমনই বলে। সরকার তাকে অ্যাটর্নি জেনারেল বানিয়েছিল। কী যোগ্যতা দক্ষতার কারণে বানিয়েছিল তা সরকারই জানে। কিন্তু তাকে নানা সময় কোর্টে বিচারপতিদের সামনে সওয়াল জবাব করতে দেখে তেমন যোগ্য মনে হয়নি। সে যাক, শান্তিচুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় অনেক রাস্তাঘাট হয়েছে, উন্নতিরও কিছুটা ছোঁয়া লেগেছে। তবে পাহাড়ি দরিদ্র জাতিগোষ্ঠীর কতটা কি একেবারে গোড়ার দিকে উন্নতি হয়েছে স্বস্তি এসেছে সেটা বলতে পারব না। সন্তু লারমা কখন কীভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামের নেতা হয়ে ওঠেন জানতাম না। তবে মানবেন্দ্র লারমা ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের মূল নেতা। তিনি পিছিয়ে পড়া জাতিগোষ্ঠীর জন্য আন্দোলন করেছিলেন, কথা বলেছিলেন। তাকে একসময় হত্যা করা হয়েছে। সব সময় এমনই হয়। মূল নেতাকে পাতিনেতারা হত্যা করে অথবা হত্যার মতোই কিছু একটা করে। পার্বত্য চট্টগ্রাম আগাগোড়াই অবহেলিত এবং দ্বিধাদ্ব›েদ্ব দোদুল্যমান। ’৪৭-এ স্বাধীনতা বলব না, ভারত বিভক্তি বলব। কোনটা বলা ঠিক এখনো আমি পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারিনি। পাকিস্তান-ভারত যেভাবে ব্রিটিশের হাত থেকে অব্যাহতি পেয়েছে বা মুক্তি পেয়েছে তাকে স্বাধীনতা বলে না, মুক্তি বলে না। সে সময় পার্বত্য চট্টগ্রামে ভারতের পতাকা তোলা হয়েছিল। যা ছিল তিন দিন। ’৬৫ সালে আমি যখন বেঙ্গল রেজিমেন্টে ছিলাম তখন শীতকালীন মহড়ায় হায়াকু, করেরহাট এসব এলাকায় পায়ে হেঁটেছি। অন্যদিকে ’৬২ সালে বাড়ি পালিয়ে কাপ্তাই গিয়েছিলাম। সেই আমার প্রথম কাপ্তাই দেখা, কাপ্তাই হ্রদ দেখা। বড় সুন্দর ঐশ^রিক দৃশ্যপট। পৃথিবীর স্বর্গরাজ্য ভারতের কাশ্মীর। কাশ্মীরে আমি যাইনি। কিন্তু এখন নানা ধরনের ইলেকট্র্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে কাশ্মীরের যেসব ছায়াছবি দেখি তাতে আমার পার্বত্য চট্টগ্রামকে কখনো কাশ্মীরের চাইতে কম মনে হয়নি। এক হৃদয়কাড়া মনোমুগ্ধকর ভূস্বর্গের নাম খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান। যারা চোখে না দেখেছে তারা সেই প্রাকৃতিক দৃশ্য কোনো ছায়াছবি দেখে অনুভব করতে পারবে না। পার্বত্য চট্টগ্রাম আমার চোখে ভূস্বর্গ। সেখানকার স্থায়ী বাসিন্দারা যদি কষ্টে থাকে অস্তিত্ব নিয়ে, তাদের কৃষ্টি-সভ্যতা নিয়ে শঙ্কায় থাকে তাহলে তো এ দুনিয়ায় স্বর্গের কোনো মানে হয় না। তাই সবকিছু তলিয়ে দেখা দরকার। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে যতটা শান্তি-স্বস্তি উন্নতি হওয়ার কথা ছিল সত্যিই কি তা হয়েছে? আমার তো তেমন মনে হয় না। আবুল হাসানাত আবদুল্লাহরা যেমন অবহেলিত তেমনি তার হাতে সম্পাদিত চুক্তি অনেক ক্ষেত্রেই অবহেলিত। আগেই বলেছি, রাস্তাঘাট হয়েছে, দালানকোঠাও হয়েছে। কিন্তু মানুষ যদি স্বস্তিতে না থাকে তাহলে এসবের কোনো মানে হয় না। একসময় বীরউত্তম জিয়াউর রহমান পার্বত্য চট্টগ্রামে হাজার হাজার বাঙালি বসতি স্থাপন করেছিলেন। হয়তো তিনি একটি জাতীয় ভারসাম্য আনতে চেয়েছিলেন। ব্যাপারটা ঠিক হয়নি, ভালো হয়নি। অমন হওয়া ভালো না। একদিকে আদিবাসী পাহাড়ি, অন্যদিকে বাঙালি এ তো সংঘাতের নামান্তর মাত্র। কোনো জায়গায় শান্তি স্থাপন করতে চাইলে হয় তাদের ধ্বংস করে ফেলতে হয়, না হয় তাদের শিক্ষা সাংস্কৃতি সামাজিক ন্যায়বিচারে সর্বতো সহযোগিতা করতে হয়। বাধানিষেধে কোনো শান্তি নয়। শান্তির নামে অশান্তির নামান্তর। রাষ্ট্র পরিচালনায় কিছু দিলাম কিছু নিলাম এরকম না করে দিলে পুরোটাই দিতে হয় আর নিলে সবকিছুই নিতে হয়। পৃথিবীতে যারা দিতে শিখেছে তারাই বেশি ক্ষেত্রে জয়ী হয়েছে। সত্যকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা অন্যের অস্তিত্বকে বিলুপ্ত করার চেষ্টা একেবারেই মূর্খতা। কোনকালে কেউ কোনো জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। কেউ হয়তো শত বছরে কেউ হয়তো হাজার বছরে তাদের চাওয়া-পাওয়া তাদের অধিকার অর্জন করেছে। যেমনি আমরা করেছি। আমাদের পূর্বপুরুষ কতজন কতভাবে জীবন দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে।
স্বাধীনতা বা আত্মমর্যাদা অর্জনের লড়াই আজকের নয়, হাজার বছর আগে থেকেই আমরা লড়ে চলেছি। সে চেঙ্গিস খাঁর সময়ের আগে থেকে, হালাকু খাঁর সময় থেকে, সুলতানি আমল, মুঘল, ব্রিটিশ কারও বিরুদ্ধে আমাদের কম লড়াই করতে হয়নি, জীবন দিতে হয়নি। ’৪৭ সালে ব্রিটিশের কাছ থেকে ভারতবর্ষ খন্ডিত হয়ে তথাকথিত স্বাধীনতা অর্জন করে। তারপরও মাকে মা ডাকতে আমরা রক্ত দিয়েছি। আমাদের যে কোনো অধিকারের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে, রক্ত দিতে হয়েছে, জীবন দিতে হয়েছে। ’৭১-এর স্বাধীনতার পরও আমরা ভালো থাকতে পারিনি। মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় আমরা আমাদের নেতাকে পিতাকে হারিয়েছি। তাই কখনো কোথাও কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে কারও প্রতি কোনো জুলুম হলে বড় বেশি বুকে বাধে। সে জাতি ধর্মে যাই হোক, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান মুসলমান আমার কাছে বিবেচ্য নয়, আমার কাছে বিবেচ্য তারা মানুষ। গা এলিয়ে দেওয়ার মতো গদাই লস্করির চালে রাষ্ট্র চলছে। সবকিছুতে বোন হাসিনা। সরকারি বড় বড় পদে থেকে রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে কেউ কোনো দায়িত্ব ঘাড়ে নিতে চায় না। এর চাইতে বড় অবক্ষয় আর কিছুই হতে পারে না। সেদিন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কতটা কী করতে পারবেন জানি না। তবে লোকটিকে আমি ভীষণ ভালোবাসি, পছন্দ করি। তিনি একটি সত্য কথা বলেছেন, উপযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বলেছেন। তা হলো, ‘ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের আমরা খুঁজে বের করব এবং যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও সুস্থিতির জন্য এরপরও আলোচনার দরজা সবার জন্য খোলা।’ এটি একটি সত্যিই মূল্যবান কথা, রাষ্ট্রের নেতার মতো কথা। তবে দিনের পর দিন একের পর এক যা ঘটছে জিনিসগুলোর ওপর নজর দেওয়া উচিত। পার্বত্য চট্টগ্রামের এই ঘটনা বাতাসে উড়ে আসার মতো নয়। নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও স্বার্থ আছে, কারও না কারও ইন্ধন আছে। সেসব খতিয়ে দেখা উচিত। সময় থাকতে আমরা যদি সঠিক জিনিস খুঁজে বের করতে না পারি, পরে বিপদে পড়তে হতে পারে। মনে হয় সরকার এবং সরকারি যন্ত্র নিশ্চয়ই গা ভাসিয়ে দেবেন না। তারা যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। লাইলাতুল কদরের রাত খুব যে খারাপ গেছে তা যেমন বলা ঠিক হবে না, তেমনি তেমন ভালো যায়নি। তবে সুরা তওবা আর সুরা ইউনুস পাঠ করেছি। এ নিয়ে কতবার হলো বলতে পারব না। তবে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত আমার কোরআন সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। এর ওর কাছ থেকে যা শুনেছি তাই ছিল মূল সম্বল। তবে একটা কথা বলতেই হবে, মুক্তিযুদ্ধ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে জুলাই মাসে হতেয়ায় শাহ সুফি হজরত সামান উল্যাহকে পেয়েছিলাম। লাল গেরুয়া পরে উদাম পেট ভাসিয়ে চলতেন। হাতে থাকত খমক। তাতে টুংটাং করতেন, ইচ্ছেমতো গান গাইতেন, মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করতেন। শুনেছি, তিনি মাটি খুঁড়ে ১২ বছর গর্তে বাস করেছেন। গোসল-আসল, পেশাব-পায়খানা ছাড়া একমুহূর্তের জন্য বাইরে বের হতেন না। লোকজন যা দিত তাই খেতেন, না দিলে না খেয়ে থাকতেন। সেই সামান ফকির মুক্তিযুদ্ধ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী আমাকে দিনের পর দিন কোরআনের বয়ান শুনিয়েছেন। সে এক অসাধারণ বাচনভঙ্গি এবং তার বয়ান পদ্ধতি। পরে যখন যেখানে কোরআন পড়েছি, এখনো পড়ি মনে হয় এসব যেন আমার আগে থেকেই জানা। যদি বয়স থাকত আগের মতো মনে রাখার ক্ষমতা থাকত তাহলে সামান্য চেষ্টা করলেই কোরআনে হাফেজ হয়ে যেতে পারতাম। এখন আগের মতো মনে থাকে না। সুরা তওবা কোরআনের নবম সুরা, ১৬ রুকু, আয়াত ১২৯। শুরুটা এভাবে “(হে বিশ্বাসীগণ!) তোমরা শরিককারীদের সঙ্গে যে চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, আল্লাহ ও তাঁর রসুলের তরফ থেকে তা বাতিল করা হলো। ২. অতএব (হে শরিককারীরা!) তোমরা আল্লাহর জমিনে চার মাস ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা কর, কিন্তু জেনে রাখ, তোমরা কখনো আল্লাহর আওতার বাইরে যেতে পারবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের লাঞ্ছিত করবেন। ৩. হজের বড় দিনে আল্লাহ ও তাঁর রসুলের পক্ষ থেকে সমগ্র মানবজাতির জন্য সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে যে, আল্লাহর সঙ্গে যারা শরিক করে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহ ও তাঁর রসুল পুরোপুরি দায়মুক্ত। তোমরা যদি তওবা কর, তবে তা তোমাদের জন্যই কল্যাণ বয়ে আনবে। আর তোমরা যদি সত্যবিমুখ হও, তবে জেনে রাখ, আল্লাহর আওতা থেকে তোমাদের পালানোর কোনো পথ নেই। তাই (হে নবী!) সত্য অস্বীকারকারীদের নিদারুণ শাস্তির সংবাদ দাও। ৪. তবে শরিককারীদের মধ্যে যারা তোমাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ এবং চুক্তির শর্তাবলি মেনে চলেছে এবং তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকে সাহায্য করেনি, তাদের সঙ্গে মেয়াদ পুরো না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি মেনে চলবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ-সচেতন মানুষকেই আল্লাহ পছন্দ করেন। ৫. (প্রচলিত রীতি অনুযায়ী) সংঘাত নিষিদ্ধ মাসসমূহ পার হওয়ার পর (বিবদমান) শরিককারীদের যেখানে পাও, সেখানে ওদের বিনাশ কর। সম্ভাব্য প্রতিটি স্থানে ওত পেতে থেকে (বিবদমান) শরিককারীদের পাকড়াও কর, অবরুদ্ধ কর। কিন্তু যদি তারা তওবা করে, নামাজ কায়েম করে এবং জাকাত আদায় করে, তবে তাদের মুক্ত করে দাও। মনে রেখ, আল্লাহ অতীব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। ২৪. হে নবী! বলো, ‘তোমাদের পিতা, সন্তান, ভাই, স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন, সগোত্র, অর্জিত ধনসম্পত্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য, যার মন্দার আশঙ্কা কর আর তোমাদের পছন্দের বাড়িঘর যদি আল্লাহ, তাঁর রসুল এবং আল্লাহর পথে প্রাণান্ত সংগ্রাম করার চেয়ে বেশি প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর (সেদিন পর্যন্ত) যখন আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা তোমাদের সামনে উপস্থিত হবে। (জেনে রাখো) আল্লাহ সত্যত্যাগীদের কখনো সৎপথ প্রদর্শন করেন না।’ ৩৭. মাস পিছিয়ে দেওয়া ওদের দিক থেকে সত্য অস্বীকার করার আরেকটি উদাহরণ। এ প্রক্রিয়ায় সত্য অস্বীকারকারীরা আরও বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত হয়। ওরা এক বছর একটি মাসকে নিষিদ্ধ করে আবার আরেক বছর একে বৈধ করে। ওদের উদ্দেশ্য একটাই। তা হচ্ছে, আল্লাহ যা নিষিদ্ধ করেছেন, তাকে যেন ওরা বৈধ করতে পারে। এভাবে মাস গণনা হলো আবার নিষিদ্ধ মাস বৈধও হলো। ওদের মন্দ কাজগুলোও ওদের কাছে আকর্ষণীয় ও চাকচিক্যময় হয়ে ওঠে। আসলে আল্লাহ সত্য অস্বীকারকারীদের সৎপথ প্রদর্শন করেন না। ৯৪. (অভিযান শেষে) তুমি যখন ফিরে যাবে, তখন ওরা তোমার কাছে নানা ধরনের অজুহাত পেশ করবে। (হে নবী!) তখন ওদের স্পষ্ট করে বলো, ‘অজুহাত পেশ করে কোনো লাভ নেই। আমি তোমাদের কোনো কথাই বিশ^াস করি না। কারণ তোমাদের আসল অবস্থান আল্লাহ আমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। এখন আল্লাহ ও তাঁর রসুল তোমাদের তৎপরতা লক্ষ্য করবেন। তারপর তোমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবে, যিনি দৃশ্যমান ও অদৃশ্য, প্রকাশ্য ও গোপন সবকিছুরই জ্ঞান রাখেন। তখন তোমরা সারা জীবন যা করেছিলে, সে রেকর্ড তোমাদের দেখাবেন।’
অন্যদিকে কোরআনের দশম সুরা ইউনুস। রুকু ১১ আয়াত ১০৯। ‘১১. পার্থিব ভালো জিনিস পাওয়ার জন্য মানুষ যেভাবে তাড়াহুড়া করে, আল্লাহ যদি মানুষের পাপের শাস্তিদানে সে-রকম তাড়াহুড়া করতেন, তবে সহসাই তারা শেষ হয়ে যেত। তাই যারা বিশ্বাস করে না যে, পরকালে আমার সামনে হাজির হতে হবে, তাদেরও আমি কিছু সময়ের জন্য ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, অবাধ্যতা ও সীমা লঙ্ঘনের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের ন্যায় ঘুরপাক খাওয়ার জন্য। ১২. মানুষ যখন কষ্ট ও বিপদে পড়ে তখন শুয়ে, বসে বা দাঁড়িয়ে আমাকে ডাকে। তারপর আমি যখন তার কষ্ট ও বিপদ দূর করে দিই, তখন সে এমনভাবে চলাফেরা করে যেন তার বিপদের সময় সে কখনো আমাকে ডাকেনি! আসলে যারা নিজেদের বিনষ্ট করে, তাদের কাছে তাদের কাজকর্মই মনপছন্দ হয়ে ওঠে।’
লেখক : বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, রাজনীতিক
হেলেনা জাহাঙ্গীরকে এক হাত নিলেন ডিপজল
ঢাকা ডেস্ক : চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন জয়াযাত্রা আইপি টিভির সত্ত¡াধিকারী হেলেনা জাহাঙ্গীর। তিনি আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী। ক্যাসিনোয় অভিযানের সময় তিনি গ্রেফতার হন। প্রতারণা ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগে জেল ফেরত হেলেনা জাহাঙ্গীর নির্বাচনে আসায় প্রশ্ন তুলেছেন চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা।
তিনি অভিনয়ের সঙ্গে কবে থেকে জড়িত সেই প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
হেলেনা জাহাঙ্গীর মাহমুদ কলি ও নিপুণ পরিষদ থেকে ভোট করছেন। ভোট করার কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন,‘আমার গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রি আছে। এ অঙ্গনের যাদের চাকরি লাগবে তাদের আমি চাকরি দিতে পারব। এজন্য কলি-নিপুণ পরিষদে যে, অফার ছিল তা লুফে নিয়েছি।’
হেলেনার এই বক্তব্যে ভালোভাবে নেননি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
ডিপজল এবার নিপুণের সঙ্গে সম্পাদক পদে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।হেলেনা জাহাঙ্গীরকে চেনেন না দাবি করে ডিপজল বলেন, প্রথমত তাকে (হেলেনা জাহাঙ্গীর) আমি চিনি না। তিনি সিনেমা করেছেন বলে আমার জানা নেই, চলচ্চিত্রে কোনোদিন দেখিনি। তিনি যদি শিল্পীদের গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলে থাকেন, তা কোনোভাবেই একজন শিল্পীর কথা হতে পারে না। কারণ, যিনি শিল্পী হয়েছেন, তিনি অভিনয়ের জন্যই শিল্পী হয়েছেন। এটা তার পেশা-নেশা। একজন শিল্পী না খেয়ে থাকলেও সে শিল্পী। এখানেই তার রিজিক।
ডিপজল আরও বলেন, আল্লাহ যাকে যেখানে রিজিক দিয়েছেন, সে সেখান থেকেই রিজিক পাবে। যিনি গার্মেন্টসে কাজ করেন, রিকশা চালান, ব্যবসা করেন, চাকরি করেন, তার সেখানেই রিজিক। শিল্পীরও অভিনয়ের মাধ্যমে রিজিক আসে। তবে শিল্পীদের পেশাটা অন্যদের চেয়ে আলাদা। শিল্পী কাজ না করলেও সে শিল্পী। এর বাইরে তার যাওয়ার সুযোগ খুব কম।
হেলেনার কড়া সমালোচনায় এই অভিনেতা আরও বলেন, হেলেনা জাহাঙ্গীর যে কথা বলেছেন, তা শিল্পীদের জন্য অবমাননাকর। আমি বলছি না, গার্মেন্টসে কাজ করা খারাপ। অবশ্যই সেটা ভালো। তবে যার যেটা পেশা নয়, সে অন্য পেশায় গিয়ে তা করতে পারবে না। হেলেনা জাহাঙ্গীর কি অভিনয় করতে পারবে? পারবে না। আর শিল্পী সমিতি তো আর গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংগঠন নয় যে, সদস্যদের গার্মেন্টসে চাকরি দেবে।
ডিপজল বলেন, এটা কেমন কথা! কোথায় সিনেমা নির্মাণ করে শিল্পীদের কাজে লাগাবে, তা না, অন্য পেশায় শিল্পীদের কাজে লাগাতে চায়। তাহলে, শিল্পী সমিতি ও শিল্পীদের কাজ কি? কলি-নিপুণ পরিষদ এমন অফার হেলেনা জাহাঙ্গীরকে দেয় কী করে! তারা যদি তাকে সিনেমা বানানোর অফার দিয়ে শিল্পীদের কাজের ব্যবস্থার কথা বলত, তাহলে একটা কথা হতো। আমি তাদের অভিনন্দন জানাতাম।
এসময় গতবারের কথা উল্লেখ করে ডিপজল বলেন, যদিও গতবার ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল ছয়টি সিনেমা বানাবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, নির্বাচিত হওয়ার পর সেই প্রতিশ্রুতি তারা পালন করেনি। এবার শিল্পীদের গার্মেন্টসে চাকরি দেওয়ার কথা বলছে! হেলেনা জাহাঙ্গীরের কথা শুনে প্রশ্ন জেগেছে, কলি-নিপুণ পরিষদ কি শিল্পী সমিতিকে গার্মেন্টস সমিতি বানাতে চায়? আমি গার্মেন্টস শিল্পের প্রতি সম্মান রেখে বলছি, একজন শিল্পী হিসেবে এমন কথায় আমি লজ্জিত। যারা শিল্পী তারা যদি গার্মেন্টসে চাকরি করতে চাইত, তাহলে সিনেমায় আসত না। গার্মেন্টস বা অন্য পেশায় কাজ করত।
সিঙ্গেল থাকার রহস্য ফাঁস করলেন পায়েল
ঢাকা ডেস্ক : একটা সময় পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে পায়েলের প্রেম ছিল ওপেন সিক্রেট। সেই প্রেম ভাঙার পর এক দশক কেটেছে, তবু এখন বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন না পায়েল?
সদ্য মুক্তি পেয়েছে পায়েল অভিনীত ‘আবার অরণ্যের দিনরাত্রি’। ছবি মুক্তির সপ্তাহেই দাদাগিরির মঞ্চে দেখা মিলেছে নায়িকার।
সৌরভের মুখোমুখি হয়েই নিজের সিঙ্গেল থাকার কারণ ফাঁস করলেন পায়েল।
দাদাগিরি-র মঞ্চে এসে পায়েল অকপটে বলেন, বাঙালি পরিবারে যেমন মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া কঠিন, সমান কঠিন বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়াও। আমি কেবল নিজের কেন, বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলেও খুঁজে এনে দিচ্ছি না। কারণ যে কোনো ছেলে খুঁজে আনলেই তার জন্য প্রচুর প্রশ্ন সাজাচ্ছেন বাবা-মা।
প্রেম করতে চাইলেও কেন প্রেমটা হচ্ছে না পায়েলের! নায়িকার জবাব শুনে হাঁ হয়ে যান সৌরভ। নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খোলামেলা উত্তর দিলেন নায়িকা।
দাদাগিরি-র মঞ্চে এসে পায়েল জানান, ‘অনেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি এখনও কেন সিঙ্গেল। আসলে বাঙালি পরিবারে মেয়ের বাবারা এত পজেসিভৃ.।
পায়েলকে মাঝখানে থামিয়ে সৌরভ জানতে চান, ‘তাহলে বলছো তুমি সিঙ্গেল বাবা-মায়ের জন্য’।
সম্মতি জানিয়ে অভিনেত্রী যোগ করেন,যেমন মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া কঠিন, তার চেয়েও বেশি কঠিন বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলে খুঁজে পাওয়া। আমার কথা তো ছেড়ে দাও, বাবা-মায়ের মনের মতো ছেলেও খুঁজে পাচ্ছি না।
সেইসঙ্গে পায়েল সৌরভকে যোগ করেন, ধরো, সানা বড় হচ্ছে। ও যদি তোমার সামনে এসে বলে ও কাউকে ভালোবাসে, দেখবে তোমার পৃথিবী উল্টোপাল্টা হয়ে যাবে।
উত্তরে সৌরভ বলেন, নাহ সেটা হবে না। হ্যাঁ আমিও তার জন্য কিছু প্রশ্ন সাজাব বটে, কিন্তু পৃথিবী এদিক ওদিক হবে না মোটেই।
উত্তর শুনে পায়েল অবাক হয়ে বলেন, অদ্ভুত.. তাহলে তো বলতেই হয় সানা ভীষণ লাকি।


