Home Blog Page 573

ঈদের ৪টি স্পেশাল রেসিপি

গরুর রেজালা
যা লাগেব : গরুর মাংস ২ কেজি, আস্ত ধনিয়া ১ চা চামচ, আস্ত জিরা ১ চা চামচ, ধনিয়া গুঁড়া ১/২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ, পেঁয়াজ কুচি ১ কাপ, আদা বাটা ১ টেবিল চামচ, রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ, গরম মসলা ১/২ চা চামচ, লালমরিচ ৫-৬টি, তেজপাতা ২-৩টি, হলুদ গুঁড়া ১/২ চা চামচ, তেল ১ কাপ, টকদই ১ কাপ, লবণ স্বাদমতো।
যেভাবে করবেন: প্রথমেই মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে পানি ঝরিয়ে রেখে দিন। আস্ত ধনিয়া এবং জিরা ভেজে গুঁড়া করে নিন। এবার একটি হাঁড়িতে তেল দিয়ে এতে এক এক করে পেঁয়াজ কুচি, আদা বাটা, রসুন বাটা, লালমরিচ, তেজপাতা, হলুদ গুঁড়া ও লবণ দিয়ে মাখিয়ে চড়িয়ে দিন এবং পানি শুকিয়ে না আসা পর্যন্ত মাঝারি আঁচে রান্না করুন। কষানো হলে ৩-৪ কাপ পানি দিয়ে মাঝারি আঁচে ঝোল ঘন হয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। ঝোল ঘন হয়ে এলে ভাজা ধনিয়া এবং জিরা গুঁড়া দিয়ে নেড়ে আরও ৪-৫ মিনিট রান্না করে নিন। নামিয়ে পরিবেশন করুন মজাদার বিয়ে বাড়ির স্বাদে গরু মাংসের রেজালা।

কাটা মাসালা মাংস
যা লাগবে: এক কেজি মাংস টুকরা করা, দুই কাপ পেঁয়াজ কুচি, এক টেবিল চামচ রসুন কুচি, এক টেবিল চামচ আদা কুচি, এক চা চামচ ধনিয়া গুঁড়া, আধা চা চামচ মরিচ গুঁড়া, ছয়-সাতটি শুকনামরিচ, এক চা চামচ হলুদ গুঁড়া, এক চা চামচ জিরা গুঁড়া, লবণ পরিমাণমতো, এক কাপ সয়াবিন তেল, চার-পাঁচটি এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, দুই-তিনটি তেজপাতা, আধা কাপ টকদই, আধা চা চামচ চিনি।
যেভাবে করবেন: চিনি বাদ দিয়ে সব উপকরণ মিশাতে হবে। এখন ৩০ মিনিট মেরিনেট করে একটি গরম সসপ্যানে মিশ্রণটি ঢেলে দিন এবং উচ্চ তাপে ২০ মিনিট রান্না করুন। রান্নার সময় বারবার নাড়তে হবে। যখন পানি শুকিয়ে যাবে এবং তেল ওপরে উঠে আসবে তখন আরও দুই কাপ পানি যোগ করুন। এবার চুলা থেকে নামিয়ে ওপরে চিনি ছিটিয়ে পরিবেশন করুন।

কাচ্চি বিরিয়ানি
যা লাগবে: বাসমতী চাল এক কেজি, খাসির মাংস দুই কেজি (মাঝারি টুকরা, হাড়সহ) আদা বাটা দুই টেবিল চামচ, রসুন বাটা এক টেবিল চামচ, দারুচিনি তিন-চারটি, সবুজ এলাচ আট-দশটি, কালো এলাচ চার-পাঁচটি, লবঙ্গ ১/২ চা চামচ, জয়ত্রী গুঁড়া এক চা চামচ, জায়ফল ১/২ চা চামচ, টকদই এক কাপ, ঘি তিন-চার কাপ, শাহি জিরা ১/২ চা চামচ, আলু (মাঝারি) চার-পাঁচটি, পেঁয়াজ কুচি এক কাপ, পানি ছয় কাপ, লবণ স্বাদমতো, গুঁড়াদুধ দুই টেবিল চামচ, জাফরান এক চিমটি, আলুবোখারা ১০-১২টি, ময়দা দুই কাপ।
যেভাবে করবেন: প্রথমেই চাল ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার মাংস ধুয়ে লবণ দিয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। ২০ মিনিট পর ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এবার শুকনো মরিচ, দারুচিনি, এলাচ, জিরা, লবঙ্গ, জয়ত্রি, জায়ফল, কাবাব চিনি এবং শাহি জিরাসহ সব মসলা গুঁড়া করে নিন।
এবার একটি হাঁড়িতে মাংস, গুঁড়া করে রাখা মসলা এবং দই মাখিয়ে ৩০ মিনিট রেখে দিন। এবার অন্য একটি হাঁড়িতে ৬ কাপ পানি ফুটিয়ে নিন। পানি ফুটে ওঠামাত্র চাল দিন। চাল একটু ফুটে এলেই পানি ঝরিয়ে একটি পাত্রে সংরক্ষণ করুন। জাফরান কুসুম গরম পানিতে গুলিয়ে নিতে হবে। চাল ঝরানো গরম পানিতে ঘি মিশিয়ে নিতে হবে। মাংসের হাঁড়িতে এবার এক এক করে ভাজা আলু, পেঁয়াজ বেরেস্তা, আলুবোখারা এবং ঘিমিশ্রিত গরম পানি দিতে হবে। এবার ওপরে চাল দিয়ে জাফরানের মিশ্রণ ঢেলে দিন এবং বাকি ঘিমিশ্রিত গরম পানি দিন। মনে রাখতে হবে, পানি যেন চালের ওপরে না আসে। এবার ময়দা গুলিয়ে হাঁড়ির ঢাকনা দিয়ে ভালোমতো সিল করে চুলায় চড়িয়ে দিন। কোনো ফাঁকা যেন না থাকে ময়দার গোলা একটু নরম করে নিয়ে তবেই ঢাকনা সিল করতে হবে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা মাঝারি আঁচে রান্না করুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল বিয়ে বাড়ির কাচ্চি বিরিয়ানি। কাবাব এবং চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন মজাদার কাচ্চি বিরিয়ানি।

গোলাপজাম
যা লাগবে: গুঁড়াদুধ ১ কাপ, ঘি ২ টেবিল চামচ, তরল দুধ ১/২ কাপ, ময়দা ৪ টেবিল চামচ, বেকিং সোডা ১ চা চামচ, এলাচ গুঁড়া ১/৪ চা চামচ, তরল দুধ ১ কাপ (মাখানোর জন্য)।

সিরার জন্য
চিনি ২ কাপ, পানি ১ কাপ, আস্ত এলাচ ৩-৪টি।
যেভাবে করবেন: একটি ফ্রাইপ্যানে ঘি দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এবার তরল দুধ দিয়ে ভালো করে নেড়ে আরও কিছুক্ষণ রাখতে হবে। এবার গুঁড়াদুধ একটু একটু করে দিতে হবে যেন দানা দানা না হয়, নাড়া থামানো যাবে না। হালকা আঁচে নাড়তে হবে। এক সময় প্যান থেকে নরম হয়ে উঠে আসবে, সঙ্গে সঙ্গে নামিয়ে ঠান্ডা করে নিতে হবে। এবার অন্য একটি হাঁড়িতে চিনি এবং পানি দিয়ে সিরা তৈরি করে নিতে হবে। সিরা হালকা আঁচে চুলায় রেখে দিতে হবে। এবার ঠান্ডা করে রাখা মিশ্রণটিতে ময়দা ও দুধ দিয়ে ছেনে নিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যেন দানা দানা না হয়ে থাকে। ছানা হয়ে গেলে গোল গোল মিষ্টি আকারে বানিয়ে গরম ঘিয়ে ভেজে, সরাসরি মিষ্টির সিরায় দিয়ে দিতে হবে এবং ঢেকে রাখতে হবে। ৩-৪ ঘণ্টা পর পরিবেশন করুন মজাদার ঘিয়ে ভাজা নরম নরম গোলাপজাম।

মুস্তাফিজে ভর করে হেসেখেলে জয় পেল চেন্নাই

ঢাকা ডেস্ক: মুস্তাফিজের চূড়ায় ওঠার দিনে হেসেখেলে জয় পেল চেন্নাই। অন্যদিকে জয়ের হ্যাটট্রিকে আসর শুরুর পর প্রথম হারের মুখ দেখল কলকাতা নাইট রাইডার্স।
যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ভিসার কাজ সারতে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফেরায় চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে একটি ম্যাচ খেলতে পারেননি মোস্তাফিজুর রহমান। এর মধ্যে আইপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলারদের তালিকায় মোস্তাফিজকে ছাড়িয়ে যান রাজস্থান রয়্যালসের যুজবেন্দ্র চাহাল।
তবে চেন্নাই সুপার কিংস একাদশে ফিরেই আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্সের আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যাটারকেও নাকানি চুবানি খাওয়ালেন, আউট করলেন কলকাতার অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারকেও।
মোস্তাফিজ আর রবীন্দ্র জাদেজার দারুণ বোলিংয়েই ৯ উইকেটে ১৩৭ রানেই আটকে যায় কলকাতা।
সোমবার এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে শুরু ও মাঝে জাদেজা ও তুষার দেশপান্ডের দারুণ বোলিংয়ের পর শেষটা রাঙান মুস্তাফিজ। জাদেজা ও তুষার তিনটি করে উইকেট পেয়েছেন। এ ছাড়া দুটি উইকেট পেয়েছেন মুস্তাফিজ।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে চেন্নাইয়ের ঘরের মাঠ এম চিদাম্বরম স্টেডিয়ামে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২টি উইকেট, ইকোনমি ৫.৫০। ৪ ম্যাচে খেলে ৯ উইকেট নিয়ে এবার আইপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি বোলার এখন মোস্তাফিজ।
সোমবার কলকাতার ইনিংসের শেষ ওভারে মোস্তাফিজের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে আউট হয়েছেন কলকাতার অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও মিচেল স্টার্ক। আন্দ্রে রাসেলের উইকেটও নিতে পারতেন মোস্তাফিজ। ১৮তম ওভারে মোস্তাফিজের কাটারে পুল করতে গিয়ে বল রাসেলের ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটের পেছনে। চেন্নাইয়ের উইকেটকিপার এম এস ধোনি বলটি গøাভসবন্দী করতে পারেননি।
হাতের নাগালে থাকা টার্গেট তাড়ায় খুব একটা বেগ পেতে হলোনা স্বাগতিক চেন্নাইকে। রুতুরাজ গায়কোয়াড়ের দারুণ ফিফটিতে ১৪ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের বড় জয় পেয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
৫ ম্যাচে তৃতীয় জয়ে মোট ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে চতুর্থ চেন্নাই। ৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় কলকাতা। চেন্নাইয়ের (০.৬৬৬) সঙ্গে রানরেটে এগিয়ে কলকাতা (১.৫২৮)।

রাতের পার্টিতে আরিয়ান-লারিসা

বলিউডের ‘বাদশা’ শাহরুখ খানের পুত্র আরিয়ান খানের পেশাগত জীবনের থেকে ব্যক্তিগত জীবন সব সময়ই থাকে আতশকাচের তলায়। বড় পর্দায় অভিনয় করে যিনি দর্শকদের ‘রোম্যান্স’-এর শিক্ষা দিয়েছেন, তার ছেলে কাকে মন দিয়েছেন, তা নিয়ে কৌতূহল সবারই। তবে বলিপাড়ার কোনো অভিনেত্রী নন, এক মডেলকেই নাকি মন দিয়ে ফেলেছেন শাহরুখ-পুত্র। বলিপাড়ার অন্দরমহলের খবর, আরিয়ান খানের নতুন বান্ধবী ভারতীয় নন। ব্রাজিলের নাগরিক তিনি। নাম লারিসা বনেসি। এবার এক রাতের পার্টিতে ধরা পড়লেন আরিয়ান-লারিসা। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
আরিয়ান ও লারিসার প্রেমের খবর পাঁচকান হতে না হতেই একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানেই একেবারে অন্য মেজাজে ধরা দিলেন বাদশা-পুত্র। মার্টিন গ্যারিক্সের পাশে আরিয়ান, আর ঠিক পেছনেই লারিসা। গানের তালে নাচছেন লারিসা। ঘন ঘন উড়ন্ত চুমু ছুড়ছেন আরিয়ানকে। এমন কাণ্ড দেখে হাসি আরিয়ানের ঠোঁটে। যদিও ক্যামেরা দেখতেই সাবধান হয়ে যান তিনি।
স¤প্রতি আরিয়ানের ইনস্টাগ্রামের পাতায় লক্ষ্য করে দেখা গিয়েছে, তিনি লারিসাকে অনুসরণ করেন। শুধুমাত্র লারিসাকেই নন, তার গোটা পরিবারকেই সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করেন বাদশা-পুত্র। লারিসার সামাজিক মাধ্যমের পাতাতেও উঁকি দিয়েছেন বলিপাড়ার একাংশ। আরিয়ানকে তো বটেই, তার পাশাপাশি শাহরুখ, শাহরুখ-পতœী গৌরী খান এবং শাহরুখ-কন্যা সুহানাকেও ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেন লারিসা।
আরিয়ানের পুরো পরিবারের সঙ্গে ইনস্টাগ্রামে যোগসূত্র রাখলেও শাহরুখ এবং গৌরীÑ দুজনের কেউই লারিসাকে অনুসরণ করেন না। শুধুমাত্র আরিয়ানের বোন সুহানা সামাজিক মাধ্যমে অনুসরণ করেন লারিসাকে। শাহরুখ-পুত্রের সঙ্গে ব্রাজিলের এই মডেলের সম্পর্কের গুঞ্জন শুধুই গুজব, নাকি রয়েছে কোনো ভিত্তি, তা সময়ই বলবে।

আবাসিক হোটেল থেকে পরিচালক সোহানুর রহমানের মেয়ের লাশ উদ্ধার

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় একটি আবাসিক হোটেল থেকে চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার নাম সামিয়া রহমান সৃষ্টি (৩০)।
রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী এলাকার রংধনু আবাসিক হোটেলের ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মধুসূদন দাস।
তিনি জানান, সন্ধ্যার পর হোটেল কর্তৃপক্ষের খবর পেয়ে ওই হোটেলের দ্বিতীয় তলার ২১০ নম্বর কক্ষ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রুমের জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছিলেন তিনি। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এএসপি মধুসূদন দাস জানান, সামিয়া রহমান উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ২ নম্বর রোডে স্বামী তানিমের সঙ্গে থাকতেন। তার বাবা চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। রোববার দুপুরে ওই আবাসিক হোটেলে উঠেন সামিয়া। ইফতারের আগে হোটেল বয়কে টাকা দিয়ে ইফতারি আনতে বলেন। পরে তিনি ইফতার নিয়ে এসে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজার ফাঁক দিয়ে দেখেন তার লাশ ঝুলে আছে। পরে পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সোহানুর রহমানের স্ত্রী প্রিয়া রহমান মারা যান। স্ত্রীর মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সোহানকেও মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আজ সেই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দিন হবে রাতের মতো

ঢাকা ডেস্ক : আজ ৮ এপ্রিল সূর্যগ্রহণ। এটি হবে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণের সাক্ষী থাকবেন অনেকে। মূলত মেক্সিকো, আমেরিকা ও কানাডায় দেখা যাবে সূর্যগ্রহণ। ইতোমধ্যে বিরল এ সূর্যগ্রহণ দেখতে প্রস্তুত এসব দেশের কোটি মানুষ। তবে আশঙ্কা রয়েছেÑ বিরল এই সূর্যগ্রহণটি মেঘ ও বজ্রঝড়ে ঢাকা পড়তে পারে। উত্তর আমেরিকার স্থানীয় সময় আজ দুপুর বেলাতেই আকাশে নজর টানবে দুই গ্রহ, শুক্র ও বৃহস্পতি। সব মিলিয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জন্য এই দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তবে সূর্যগ্রহণের এই সময় বাংলাদেশে রাত হওয়ায় বাংলাদেশ বা এশিয়ার অন্য জায়গা থেকে এটি দেখা যাবে না।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সোমবারের গ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। এ ধরনের গ্রহণ সচরাচর দেখা যায় না। অপেক্ষাকৃত বেশি সময় ধরে এই গ্রহণ স্থায়ী হবে। টানা চার মিনিট চাঁদের ছায়ায় সম্পূর্ণ ঢেকে থাকবে সূর্য, যা গত ৫০ বছরে কখনো কোনো গ্রহণেই হয়নি। গ্রহণের সময়ে ওই চার মিনিট ধরে সূর্যের বাহ্যিক স্তর করোনার আভা স্পষ্ট দেখা যাবে বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
এই পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে মেক্সিকো, আমেরিকার কয়েকটি রাজ্য ও কানাডার নির্দিষ্ট কিছু স্থান থেকে। এ ছাড়া স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ কয়েকটি দেশ থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, মেক্সিকো, আমেরিকার ১৫টি রাজ্য ও কানাডার নির্দিষ্ট স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর মধ্যে টেক্সাসে সবচেয়ে দীর্ঘ ৪ মিনিট ২৩ সেকেন্ড পর্যন্ত দেখা যাবে এটি।
সোমবার সকালে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে সূর্যগ্রহণ শুরু হবে। এর পর মেক্সিকো ও আমেরিকার পর বিকালে কানাডা ও উত্তর আটলান্টিক অতিক্রম করবে। এদিন ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি কলম্বিয়া, ভেনিজুয়েলা, স্পেন, যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড, পর্তুগাল ও আইসল্যান্ডের নির্দিষ্ট স্থান থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এ সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানোর বিষয়ে সতর্ক করেছেন জ্যোর্তিবিজ্ঞানীরা।
রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনউইচের জ্যোতির্বিজ্ঞানী জেক ফস্টার বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো অনেক বিপজ্জনক। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মির বিকিরণে চোখের কোমল টিস্যু নষ্ট হয়ে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এটি দেখতে হলে বিশেষ সানগøাস পরা উচিত।

লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল

ঢাকা ডেস্ক : ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির উত্তর ফ্রন্ট, লেবানন সীমান্তে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতির আরেকটি ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। রোববার ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে।
প্রতিরক্ষা থেকে আক্রমণে স্থানান্তরের প্রস্তুতি শিরোনামের এক বিবৃতিতে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর বৃহত্তর সেনা সমাবেশের সরঞ্জামকেন্দ্রিক প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে। খবর রয়টার্সের।
গত বছরের ৮ অক্টোবর থেকে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ইসরাইলের সঙ্গে গোলা বিনিময় করে আসছে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী। গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যুদ্ধের প্রতিবাদে ও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসরাইলি ভূখণ্ডে নিয়মিত রকেট হামলা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। ইসরাইলও লেবাননে গোষ্ঠীটির অবস্থানে পাল্টা হামলা চালিয়ে আসছে।
ইসরাইলি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ও রিজার্ভ ইউনিটের সেনারা যেকোনও ডাকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সাড়া ও সজ্জিত হতে এবং প্রতিরক্ষা ও আক্রমণ অভিযানে সম্মুখভাগে মোতায়েনে প্রস্তুত থাকবে।
গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে ইসরাইল-হামাসের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। ওইদিন সকালে আচমকাই সীমানা পেরিয়ে ইসরাইলে ঢুকে পড়ে হামাসের যোদ্ধারা। অন্তত ১১৭০ জন ইসরাইলির মৃত্যু হয় এই হামলায়। শতাধিক ইসরাইলিকে পণবন্দি করে হামাস।
এ ঘটনার পরে হামাসকে নিঃশেষ করতে বিশেষ অভিযান শুরু করেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হাজারো বিরোধিতা, নিন্দার ঝড় সত্তে¡ও নিজের অবস্থানে অনড় তিনি।
ছয় মাস ধরে চলতে থাকা এ সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ হাজার ১৭৫ জন ফিলিস্তিনির মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলের দাবি, ১২ হাজার হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে তাদের সেনা। যদিও হামাসের পক্ষ থেকে এ সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ২৬০ জন ইসরাইলি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ইসরাইলি পণবন্দিদের মধ্যে ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার মধ্যে ১২ জনের দেহ ফেরত পাঠিয়েছে হামাস।

কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারে ভারতে ব্যাপক বিক্ষোভ

ঢাকা ডেস্ক : আবগারি নীতি দুর্নীতি মামলায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল ‘আম আদমি পার্টি’র (আপ) জাতীয় কনভেনার অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে দিল্লিতে দিনব্যাপী অনশন করেছেন আপের কর্মী, সমর্থকরা। এই অনশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘সামুহিক উপবাস’।
গতকাল সকাল ১০টা থেকে দিল্লির যন্তরমন্তরে উপবাসে বসেন আপের কর্মী, সমর্থকরা। এ ছাড়া ভারতের ২৫টি রাজ্যের পাশাপাশি নিউইয়র্ক, বস্টন, লসঅ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, টরন্টো, মেলবোর্ন এবং লন্ডনেও আপের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।
আবগারি নীতি মামলায় গত অক্টোবরে গ্রেফতার আপ নেতা সঞ্জয় সিং ৪ এপ্রিল কারাগার থেকে মুক্তি পান। তিনি গতকাল দিল্লির অনশন মঞ্চ থেকে বলেন, ‘অরবিন্দ কেজরিওয়াল মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, আছেন এবং আগামী দিনেও থাকবেন। আপনারা কি আমাকে দেখাতে পারবেন যে, কোথায় একজন সৎ মুখ্যমন্ত্রীকে মিথ্যে মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে? এরকম একটি উদাহরণ থাকলে তিনি অবশ্যই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অবসর নেবেন।’ বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার হওয়া আপের নেতা রাগ্রত এক বছর ধরে জামিন পাচ্ছেন না বলেও তিনি অভিযোগ করেন। দিল্লির ক্যাবিনেট মন্ত্রী অতিশী বলেন, ‘কেজরিওয়ালের গ্রেফতারের ঘটনায় গোটা দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। যদি দিল্লির কথা বলেন, সেখানকার মানুষ জানতে চান, কবে কেজরিওয়াল জেল থেকে মুক্তি পাবেন? আসলে তারা কেজরিওয়ালকে ভালোবাসেন, তারা তাকে শুধু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ভাবেন না। তারা তাদের ভাই বা ছেলে হিসেবে ভাবেন কেজরিওয়ালকে। কারণ এই মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যুৎ দিয়েছেন, ভালো স্কুল দিয়েছেন, স্বাস্থ্যপরিষেবা দিয়েছেন। দেশের সবাই চাইছেন কেজরিওয়াল মুক্তি পান।’

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে : ফখরুল

ঢাকা : পার্বত্য চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ঘটনায় দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর তা প্রকাশ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
গতকাল রোববার গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে বাংলাদেশ সীমান্ত ভয়াবহভাবে আক্রান্ত। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে। গত দুই-তিন দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাংক লুট হয়েছে, থানা আক্রমণ হয়েছে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের! এখন পর্যন্ত আমাদের সরকার বলতে পারছে না যে, কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অনেকে বলেছেন যে, মিয়ানমারের কট্টর সংগঠন, কেউ কেউ বিরোধী দলের দিকে ইঙ্গিত করে বলছে যে জঙ্গিরা এর সঙ্গে জড়িত। যখন কোনো কিছু করতে পারে না, বের করতে পারে না তখন অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে হয়। তখন জঙ্গি খুঁজে বের করা হয়। এই ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের নিরাপত্তাব্যবস্থা কত ভঙ্গুর।
সরকার ভারতের সাথে পানি সমস্যার সমাধান করতে পারেনি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেনি, মানুষের কর্মসংস্থান করতে পারেনি উল্লেখ করে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব।
রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকার ব্যর্থ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী বলেন, এরা (সরকার) সব দিক দিয়ে ব্যর্থ। এরা রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে, এরা জনগণকে পথ দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। স্বাস্থ্যব্যবস্থা আজ চরমভাবে ভেঙে পড়েছে, শিক্ষাব্যবস্থাকে তারা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠনের সন্ত্রাসের কবলে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজকে এমন কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নেই, যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। একটা মাত্র বাকি আছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়-বুয়েট। সেটির ওপরেও তারা হিংস্ররূপ ধারণ করেছে।
তিনি বলেন, আমরা ছাত্ররাজনীতির বিরোধী নই। আমরা ছাত্ররাজনীতি করে এসেছি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে, তার আগে ভাষা আন্দোলনে সবকিছুই ছাত্ররা করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভয়াবহ সন্ত্রাসের রাজত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৃষ্টি করেছে । ছাত্র লীগ হত্যা-খুন সবকিছু চালিয়ে যাচ্ছে।
দেশের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তরুণ-য্ ুসমাজকে জেগে ওঠার আহŸানও জানান বিএনপি মহাসচিব।
তিনি বলেন, তরুণসমাজকে বলব, আর কতকাল তোমরা এভাবে নির্যাতিত হবে। কতদিন আর আমাদের এই দৃশ্য দেখতে হবে যে, মা তার ছেলের জন্য কাঁদছে, ছোট্ট শিশু তার বাবাকে দেখতে চায়। আমাদের তো বয়স শেষ দিকে, এখন তো আমাদের রাস্তায় নেমে কাজ করা সম্ভব নয়। এখন যুবকদের-তরুণদের প্রতিজ্ঞা নিয়ে আসতে হবে যে, আমরা দেশমাতৃকাকে মুক্ত করব, আমরা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনব।
তিনি বলেন, আমরা নিজেরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করছি না। আমরা মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করছি, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন করছি। আমরা সবাই দুঃখ-কষ্টের মধ্যে আছি; কিন্তু এই দুঃখ-কষ্টকে আমাদেরকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে হবে। মানুষের জন্য আমরা সংগ্রাম করব, আন্দোলন করব, বিজয়কে ছিনিয়ে আনব ইনশাআল্লাহ।
গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(এ্যাব)-এর উদ্যোগে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া মাহফিল এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন নিহত নেতাকর্মীদের পরিবারের ঈদ উপহার প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান হয়।
লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন।
এ্যাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে ইফতারপূর্ব আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আ ন হ আখতার হোসেন এবং এ্যাবের মহাসচিব প্রকৌশলী হাছিন আহমেদ, এ্যাবের কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তফা জামাল সেলিম, আসাদুজ্জামান চুন্ন, নূরে আলম ভূঁইয়া, শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল মতিন খান, মো: হানিফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শাম্মী আখতার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বিভিন্ন সময়ে নিহত ৪০ নেতাকর্মী পরিবারের সদস্যদের হাতে তারেক রহমানের ঈদ উপহার তুলে দেন বিএনপি মহাসচিব।

ঈদের আগেই গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি বিএনপির

ঢাকা : মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আগে দলের আটক নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
গতকাল রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
রিজভী বলেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে বিএনপি নেতারা জামিনের জন্য আদালতে হাজির হন। এরপর সরকারের ‘আজ্ঞাবহ আদালত’ তাদের কারাগারে পাঠান।
তিনি বলেন, ‘বাকশাল-২ (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) সরকারের জুলুম-নির্যাতনে জনগণ কষ্ট পাচ্ছে। দেশে সভা-সমাবেশ করার সব সুযোগ-সুবিধা শুধু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগই ভোগ করছে। এখানে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর এটা করার অধিকার নেই।’ তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে কলুষিত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, আওয়ামী সন্ত্রাস তার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। রিজভী বলেন, গণতন্ত্রের মূলনীতিকে কবর দিয়ে আওয়ামী লীগ দেশকে একটি সর্বগ্রাসী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এ অবস্থায় মানুষের মন থেকে ঈদের আনন্দের অনুভূতি উধাও হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, বিশেষ করে এবারের ঈদ মধ্য ও নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য নিরানন্দের।
তিনি বলেন, দেশের সর্বত্র নির্যাতন, ডাকাতি হচ্ছে। রাষ্ট্রক্ষমতা ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জুলুম-নির্যাতন, গুম, হত্যা, বিরোধী দলের বিরুদ্ধে গায়েবি ও মিথ্যা মামলা দায়ের অব্যাহত রেখেছে।
বিএনপির এই নেতা আরো বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দেড় লাখ মিথ্যা মামলা দিয়েছে। সূত্র : ইউএনবি।

বাংলাদেশ সীমান্ত আজ ভয়াবহভাবে আক্রান্ত:মির্জা ফখরুল

ঢাকা : ‘বাংলাদেশ সীমান্ত আজ ভয়াবহভাবে আক্রান্ত, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে’Ñএ মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘গত কয়েক দিনে পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্যাংক লুট হয়েছে, থানা আক্রান্ত হয়েছে। কী দুর্ভাগ্য আমাদের, এখন পর্যন্ত সরকার বলতে পারছে না যে কারা এটার সঙ্গে জড়িত।’
রোববার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক ইফতার মাহফিলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বান্দরবানে সশস্ত্র হামলা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
ইফতার মাহফিলের আগে বর্তমান সরকারের আমলে নির্যাতনের শিকার বিএনপির নেতা-কর্মীদের পরিবারের হাতে ঈদ উপহার তুলে দেওয়া হয়। এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব)।
পার্বত্য চট্টগ্রামে হামলাকারীদের প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, অনেকে বলছেন মিয়ানমারের ভেতরের বড় কোনো সংগঠন, অনেকে ইঙ্গিত করে বলছেন জঙ্গিরা এর সঙ্গে জড়িত। সরকার যখন কোনো কিছু করতে পারে না, বের করতে পারে না, যখন দোষ চাপাতে হয়, তখন জঙ্গি খুঁজে বের করে। এ ঘটনা প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর। আওয়ামী লীগ সরকার সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে পারেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘সন্ত্রাসী রাজত্ব’
দেশে এমন একটা বিশ্ববিদ্যালয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে ছাত্রলীগের সন্ত্রাস নেইÑএ অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভয়াবহ একটি সন্ত্রাসী রাজত্ব তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সৃষ্টি করেছে। সেখানে একটি প্রতিষ্ঠান আছে বুয়েট, যেখানে কিছুটা জ্ঞানের চর্চা হচ্ছে। এখন তারা সেটাকেও গ্রাস করতে চায়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আর কতকাল আমাদের এ দৃশ্য দেখতে হবে যে মা তার ছেলের জন্য কাঁদছেন। ছোট্ট শিশু তার বাবাকে দেখতে চায়, যেতে চায় বাবার কাছে।’
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশা জেগে উঠেছিল যে বোধ হয় পরিবর্তন হবেÑএ মন্তব্যও করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘হয়তো কিছু সময়ের জন্য হলেও আমরা একটু থেমে গেছি। কিন্তু আমরা জানি আমাদের ভেতরে আগুন জ্বলছে। আমাদের অধিকার ফিরিয়ে আনব। সব অন্যায়কে দূর করব।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইফতার মাহফিল ও ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ। এ্যাবের সভাপতি আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব আসাদুজ্জামান চুন্নু।