টানটান উত্তেজনায় গতকাল ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে। তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন জোট এনডিএ। তবে ভারতীয় জনতা পার্টি-বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় সরকার গঠনের জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে জোটের ওপর। এতেই ডালপালা মেলতে শুরু করেছে ভাঙাগড়ার সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা।
চমক দেখিয়ে এককভাবে ১০০ আসনে বিজয়ী হয়েছে কংগ্রেস। ভারতের লোকসভা নির্বাচনে উত্তর থেকে দক্ষিণ, রায়বেরেলি থেকে ওয়েনাডেতে একসঙ্গে দুটি কেন্দ্র থেকেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়ে নজির গড়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী।
অন্য বিরোধী দলগুলোরও গত নির্বাচনের চেয়ে এবার জয়ের পরিসংখ্যান ঊর্ধ্বমুখী। তাই এবার সরকার গঠনের জন্য এনডিএ’র শরিক চন্দ্রবাবু নাইডুর টিডিপি ও নীতীশ কুমারের জেডিইউর সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে নরেন্দ্র মোদির দল বিজেপিকে। ২০১৪ ও ২০১৯ সালের ফলের বিপরীতে এবার বিজেপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। জোট হিসেবে ২৯৩-এর কিছু বেশি আসনে বিজয়ী হয়েছে এনডিএ। গতকাল রাত পর্যন্ত পাওয়া খবরে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। বিজয়ী হয়েছে ২৪২ আসনে। ২০১৯ সালের নির্বাচনে বিজেপি পেয়েছিল একাই ৩০৩ আসন। এ কারণে এবার নির্ভর করতে হবে জোটের শরিক বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার এবং অন্ধ্রপ্রদেশের তেলেগু দেশম দলের চন্দ্রবাবু নাইডুর ওপর। আজ বিজেপি নেতৃত্বের এনডিএ’র বৈঠকে সিদ্ধান্ত হবে মোদির প্রধানমন্ত্রিত্ব নিয়ে। কংগ্রেসও ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠক ডেকেছে আজ। রাহুল গান্ধী বলেছেন, তারাও বিবেচনা করবেন সরকার গঠন করা যায় কি না। ইন্ডিয়ার আসন সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৩৩। তবে প্রধানমন্ত্রী মোদি টুইট করে বলেছেন, তিনি তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করবেন।
এবার লোকসভা ভোটের চমক হলো আমেথি কেন্দ্র থেকে মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির পরাজয়। খোদ রামমন্দির যে শহরে সেই ফৈজাবাদ কেন্দ্রে হেরেছে বিজেপি। ফলাফলের এ সমীকরণ দেখে বিজেপির হিন্দুত্ব রাজনীতি কোনো প্রভাব ফেলেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, এনডিএ সম্মিলিতভাবে জয়ী হয়েছে ২৯৩ আসনে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে বেশি। এ আসনসংখ্যা ধরে রাখতে পারলে তৃতীয়বার মোদির পক্ষে প্রধানমন্ত্রী হতে বাধা থাকার কথা নয়। কিন্তু এখানেই কাহিনিতে বেধেছে প্যাঁচ। এখন পর্যন্ত যা প্রবণতা, তাতে এনডিএ’র ঝুলিতে ২৯৩ আসনের মধ্যে দুই ‘এন’ যথাক্রমে নাইডু ও নীতীশের দখলে যেতে চলেছে অন্তত ৩০ আসন। এনডিএ’র ঝুলি থেকে সেই ৩০ আসন কমে গেলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবেন মোদি। তাই রাতারাতি দর বেড়ে গেছে নাইডুর। নির্বাচন কমিশনের দেওয়া শেষ তথ্য বলছে, অন্ধ্রপ্রদেশে এ মুহূর্তে মোট ২৫ আসনের মধ্যে নাইডুর তেলেগু দেশম পার্টি (টিডিপি) এগিয়ে রয়েছে ১৬টিতে। নীতীশের জেডি (ইউ) এগিয়ে রয়েছে ১২ আসনে। দুই ‘এন’-এর দুই দল মিলিয়ে প্রায় ৩০ আসন। দিনের শেষে এ অঙ্কেই থমকে রয়েছে এনডিএ’র জয়ের পাটিগণিত।
লোকসভার সঙ্গেই অন্ধ্রে হয়েছিল বিধানসভা ভোটও। সে ভোটেও বাজিমাত করেছেন নাইডু। পরিস্থিতি এমন যে, দুপুরের আগেই হার স্বীকার করে রাজ্যপালের কাছে দেখা করার সময় চেয়ে বসেছেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই এস জগন্মোহন রেড্ডি। শোনা যাচ্ছে, তিনি ইস্তফা দিতে চলেছেন। এ পরিস্থিতিতে রাতারাতিই চন্দ্রবাবু শিরোনামে চলে এলেন। এখন প্রশ্ন হলো-নাইডু এনডিএতেই থেকে যাবেন, নাকি অতীতের মতোই শিবির বদলে আবার ‘ইন্ডিয়া’র মঞ্চে দেখা যাবে তাকে?
ফলাফল স্পষ্ট হতেই গতকাল প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ফোন করেছিলেন নাইডুকে। সূত্রের খবর, সেখানে বিজেপির শীর্ষ দুই নেতার সঙ্গে কথা হয় নাইডুর। লোকসভা ভোটে এনডিএ’র ভালো ফলের জন্য নাইডু মোদিকে অভিনন্দনও জানান। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছে, এ ফোনের মধ্য দিয়েই হয়তো জাতীয় রাজনীতিতে আবার শুরু হলো জোট-দৌত্য। অতীতে এ দুই দলের নেতাদেরই একাধিকবার এনডিএ ত্যাগ এবং ফিরে আসার ইতিহাস রয়েছে। এবার তাঁরা কী করেন সেদিকেই নজর সবার।
এবারের নির্বাচনে ১০০ আসন ছুঁইছুঁই কংগ্রেসের। গত দুটি লোকসভা নির্বাচনের তুলনায় এবার যথেষ্ট ভালো ফল করতে চলেছে শতাব্দীপ্রাচীন এ দলটি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে কংগ্রেসের দখলে ছিল ৪৪ আসন, ২০১৯ সালে ৫২ আসনে জয় পায় তারা। দেশজুড়েই গতকাল সকাল ৮টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয় লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা। শুরুতে পোস্টাল ব্যালটের গণনা, এরপর ইভিএম গণনা। কিন্তু গণনা শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত জোর টক্কর ছিল এনডিএ ও ইন্ডিয়ার মধ্যে। দেশটির ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে মোট সাত দফায় এ ভোট গ্রহণ পর্ব চলে। ১৯ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট হয়, শেষ দফার ভোট হয় ১ জুন।
নরেন্দ্র মোদি যদি সরকার গঠন করতে পারেন তাহলে লেখা হবে নতুন ইতিহাস। এর আগে এ কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী কংগ্রেস নেতা প্রয়াত জওহরলাল নেহরু। তবে নেহরুকন্যা ইন্দিরা গান্ধী তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জয় পেলেও একটানা তিনবার দলকে লোকসভার নির্বাচনে জেতাতে পারেননি। সরকারি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে বেশি মেয়াদের জন্য দায়িত্বে ছিলেন জওহরলাল নেহরু। ১৯৪৭ থেকে ১৯৬৪ পর্যন্ত টানা ১৭ বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নেহরু। ১৯৫৭ সালে নেহরুর নেতৃত্বে ৩৭১ আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। দেশটির নির্বাচনি ইতিহাসে সেবারই প্রথম কোনো একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে এত বেশিসংখ্যক আসনে জয় পেয়েছিল কংগ্রেস। ২০১৪ সালের পর ২০১৯ সালের নির্বাচনেও মোদি ম্যাজিকের ওপর ভর করে বিজেপি একাই ২৭২-এর ম্যাজিক ফিগার ছুঁয়েছিল। কিন্তু এবার কালঘাম ছুটিয়েও সেই টার্গেট ছুঁতে পারল না। ইভিএম খুলতেই এক্সিট পোল ভুল প্রমাণিত হলো। অবশ্য বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের কেউই এক্সিট পোলের এ ভবিষ্যদ্বাণী মানতে রাজি হননি। রাহুল গান্ধী, মমতা ব্যানার্জি, অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রত্যেকেই একে ‘ভুয়া’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
দিল্লির মসনদ আবারও কি মোদির
কোহলি হবেন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক : স্মিথ
ভারতের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে আজ বুধবার থেকে। বিশ্বমঞ্চে নামার আগে ভারত বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ খেললেও তাদের তারকা ব্যাটার বিরাট কোহলি ছিলেন না। তবে মঙ্গলবার নেটে অনুশীলন করেছেন তিনি। ডানহাতি ব্যাটার এই টুর্নামেন্ট শেষে রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার উপরে থাকবেন বলে মনে করেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ।
আইসিসির ডিজিটাল প্রোগ্রামে স্মিথ বলেন, কোহলি হবে এই টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। দুর্দান্ত এক আইপিএল কাটিয়ে এসেছে সে এবং অসাধারণ ফর্মে আছে। আমি মনে করি, সে-ই হবে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবশেষ আসরেও সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ছিলেন কোহলি। ৬ ম্যাচে ৪ ফিফটিসহ ৯৮.৬৬ গড়ে ২৯৬ রান করেছেন তিনি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসেরই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ভারতীয় এই ব্যাটার। ২৭ ম্যাচে ৮১.৫০ গড়ে ১ হাজার ১৪১ রান এসেছে তার ব্যাট থেকে। ১ হাজার ১৬ রান নিয়ে দুইয়ে আছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে।
ফ্রান্স দলে জায়গা হলো না এমবাপ্পের!
আসন্ন গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের জন্য ২৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ফ্রান্স। এই প্রাথমিক দল নেই কিলিয়ান এমবাপ্পে। যদিও এই তারকা ফুটবলার এবারের আসরে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।
দল ঘোষণার দিন সোমবার ফ্রান্স কোচ অঁরি বলেন, সবার জন্য দরজা খোলা আছে। তবে আপাতত যাদের পাওয়া যাবে তাদের নিয়েই একটি দল সাজিয়েছেন তিনি। অঁরি বলেন, ‘আমি আশার দরজা বন্ধ করছি না; আমরা জানি না কী হবে। তবে আমাকে একটা বাস্তবসম্মত তালিকা দিতে হবে। তালিকাটি সবার জন্য উন্মুক্ত।’
তবে আগামী ৩ জুলাই পর্যন্ত এ স্কোয়াডে পরিবর্তন আনতে পারবে দল। তাই খেলয়াড় বদলের দরজা খোলা থাকছে অঁরির জন্য। তিনি বলেন, ‘এটা এখনকার জন্য তালিকা এবং ৩ জুলাই পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে। হ্যাঁ বা না বলার ক্ষমতা ক্লাবগুলোর আছে।’
আগামী ২৪ জুলাই অলিম্পিকে ফুটবল ইভেন্ট শুরু হচ্ছে। ফ্রান্সের গ্রæপের রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, নিউজিল্যান্ড ও গিনি।
অলিম্পিক ফুটবলে ফ্রান্সের প্রাথমিক স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: লুকাস শেভালিয়ের, ওবেদ এনকাম্বাদিও, গুইলামে রেস্টেস, রবিন রাইসার।
ডিফেন্ডার: বাফদে দিয়াকাইতে, ম্যাক্সিম এস্তেভে, ব্র্যাডলি লোকো, ক্যাসিলো লুকেবা, কিলিয়ান সিলদিল্লিয়া, আদ্রিয়েন ত্রুফার্ট, লেনি ইয়োরো।
মিডফিল্ডার: ম্যাগনেস আক্লিঔচে, জরিস চোটার্ড, ডিজায়ার দৌয়ি, মানু কোনে, এনজো মিলোত, খেপরান থুরাম, লেসলি উগোচৌকুও, ওয়ারেন জাইরে এমরি।
ফরোয়ার্ড: ব্র্যাডলি বারকোলা, আরনুদ কালিমুয়েন্দো, আলেক্সান্দ্রে লাকাজাতে, জ্যাঁ-ফিলিপ্পে মাতেটা, মাইকেল ওলিসে ও মাথিয়াস তেল।
রাজনীতির মাঠে নেমেই ছক্কা হাকালেন ইউসুফ পাঠান
ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হলেন ইউসুফ পাঠান। ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতির মাঠে অংশ নিয়েই চমক দেখান বিশ্বকাপজয়ী সাবেক এই তারকা ক্রিকেটার।
পশ্চিমবঙ্গের মুশির্দাবাদ জেলার বহরমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস থেকে অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে ৮৬ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন সংসদ সদস্য হন পাঠান।
ভোটে জয় লাভ করার পর ভারতীয় সাবেক এই তারকা অলরাউন্ডার বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে, এই জয় আমাদের সবার। আমি খুব খুশি।
তার সঙ্গে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করে হেরে যাওয়ায় অধীর রঞ্জন চৌধুরী সম্পর্কে পাঠান বলেন, ‘উনি সিনিয়র নেতা, আমি ওনাকে সম্মান করি। আগামীতেও সম্মান করব।’
ইউসুফ পাঠান ভারতের হয়ে ৫৭টি ওয়ানডে আর ২২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেন। ব্যাট হাতে তিনি সংগ্রহ করেন দুই ফিফটিতে ১ হাজার ৪৬ রান। আর বল হাতে শিকার করেন ৪৬ উইকেট।
আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে ২০১২ ও ২০১৪ সালে শিরোপাও জিতেন। ২০১৪ সালের আইপিএলে মাত্র ১৫ বলে রেকর্ড দ্বিতীয় দ্রæততম ফিফটি হাঁকান।
অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে নেমেই সফল তারকা
অভিনয় থেকে রাজনীতির মাঠে নেমেই সফল ভারতের অনেক তারকা। এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক তারকারা লড়াই করেছেন।
এবারের লোকসভা নির্বাচনে একাধিক তারকা প্রার্থী লড়াই করেছেন। ভারতের হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপি প্রার্থী হয়ে লড়াই করেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াত। প্রথমবার রাজনীতির মাঠে নেমেই চমক দিলেন তিনি।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরাতে জয়ের হাসি হাসলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী হেমা মালিনী। তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন।
ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাট থেকে প্রতিদ্ব›িদ্বতা করেছেন অরুণ গোভিল। তিনি ভোট গণনায় প্রথমে পিছিয়ে থাকলেও পরে বেশ লিড নেন।
বিজেপির আরেক প্রার্থী রবি কিষানও জয়ী হয়েছেন এবারের ভোটে। তবে বিহারের কারাকাট কেন্দ্র থেকে জিততে পারেননি ললিপপ লাগেনু গানের গায়ক পবন সিং।
অন্যদিকে বাংলায় বিজেপির দুই প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় এবং লকেট চট্টোপাধ্যায় দুজনেই পরাজিত হয়েছেন। দেব বিপুল ভোটে হিরণকে হারিয়ে আবারও ঘাটাল কেন্দ্রে জয়ী হলেন। অন্যদিকে হুগলি কেন্দ্রে প্রথমবার লড়াইয়ে নেমেই জয়ী হলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরাজিত করলেন লকেটকে।
দক্ষিণ কলকাতার যাদবপুর থেকে জয়ী হয়েছেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। জুন মালিয়াও বিজেপির অগ্নিমিত্রা পালকে হারিয়ে মেদিনীপুরে জয়ী হয়েছেন। শতাব্দী রায় বীরভূমে আবারও জয়ী হয়েছেন।
চমক দিয়ে এবার বহরমপুরে জয়ী হয়েছেন ইউসুফ পাঠান। আসানসোল কেন্দ্রে শেষ পর্যন্ত জয়ের হাসি হাসলেন শত্রুঘ্ন সিনহা।
তাহলে কি অভিনয় ছেড়ে দিচ্ছেন কঙ্গনা
বলিউড থেকে রাজনীতির মাঠে এসে প্রথমবারই বাজিমাত করেছেন অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন অভিনেত্রী।
এদিকে ১৯ মে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় ঘোষণা দিয়েছিলেন ভোটে জিতলে অভিনয় ছেড়ে দেবেন। যেহেতু তিনি নির্বাচনে জয় লাভ করেছেন সেহেতু কথা রাখতে পারেন কঙ্গনা।
কেননা কঙ্গনা যেকোনো বিষয় নিয়ে স্পষ্ট কথা বলতে স্বচ্ছন্দবোধ করেন। তাকে ঠোঁট কাটা হিসেবে সবাই জানে। কেননা তিনি যেকোনো কথাই অকপটে বলে ফেলেন।
এর আগে গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাণ্ডির বিজেপি প্রার্থী কঙ্গনাকে প্রশ্ন করা হয়, যদি মাণ্ডি আসন থেকে তিনি জয়ী হন তাহলে কি জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি ধীরে ধীরে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে সরে আসবেন?
জবাবে কঙ্গনার সাফ কথা, ‘হ্যাঁ অবশ্যই।’
তিনি এও বলেন, ‘একাধিক চলচ্চিত্র নির্মাতা আমায় বলেছেন- আমি একজন ভালো অভিনেত্রী। আমি যেন অভিনয় না ছাড়ি। আমি ভালো অভিনয় করি ঠিকই। সবটাই আমি প্রশংসা হিসেবে নিই।’
প্রসঙ্গত, হিমাচল প্রদেশের মান্ডি আসনে নিকটতম প্রার্থী কংগ্রসের বিক্রমাদিত্য সিংকে ৭৪ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন কঙ্গনা রানাউত।
চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অভিনেত্রী সীমানা
শেরপুরের নকলার পৌর শহরের কায়দা বাজারদী গোরস্থানে অভিনেত্রী রিশতা লাবনী সীমানা চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে নকলার কায়দা বাজারদী কবরস্থান মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে বাজারদী কবরস্থানে এই অভিনেত্রীকে সমাহিত করা হয়। এ সময় নকলা উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান দেশের গুণী অভিনেত্রী সীমানা। মৃত্যুকালে সীমানা স্বামী, দুই ছেলে রেখে গেছেন। সীমানার বাড়ি নকলা পৌরসভাধীন কায়দা বাজারদী এলাকায়। তার বাবা সেকান্দার আলী অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সীমানা ছিলেন সবার বড়।
জানা গেছে, গত ২১ মে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে আট দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন সীমানা। অবস্থার অবনতি হলে ২৯ মে এই অভিনেত্রীকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে ভেন্টিলেশনে শেষ চেষ্টা হিসেবে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। কিন্তু আর ফেরা হলো না সীমানার।
উল্লেখ্য, নকলা ললিতকলা একাডেমি, খেলাঘর, কোর্টফিল্ড, কমল ওস্তাদজী, শিল্পকলায় অভিনয় চর্চা করতেন। এরপরে বিটিভিতে কাজ করা শুরু করেন। তারপর ২০০৬ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজে পা রাখেন সীমানা। এরপর থেকে তিনি নাটক, বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করেন। তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ‘দারুচিনি দ্বীপ’ তার প্রথম সিনেমা। ‘রোশনী’ নামের একটি সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন। সীমানার উল্লেখযোগ্য নাটকের মধ্যে সাকিন সারিসুরি, কলেজ স্টুডেন্ট।
সবাই এখন আওয়ামীলীগ করতে চায়: ড.হাছান মাহমুদ
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন সবাই এখন আওয়ামীলীগ করতে চায়। কিন্তু আমাদেরকে হিসাব করে নৌকায় যাত্রী উঠাতে হয়। কারণ বেশি যাত্রী উঠলে নৌকা ডুবে যেতে পারে এটাও স্মরণ রাখতে হবে। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় গুলশান টেরেসে নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রবাসীদেরও সহযোগিতার প্রয়োজন। তাই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার জন্য প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, আজ ৩০ মে বিএনপি দেশ-বিদেশে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুদিবস পালন করছেন। জিয়ার মৃত্যুতে তার পরিবারই বেশি লাভবান হয়েছেন। তা না হলে সোয়া দুই বছর ক্ষমতায় থেকেও তারা জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বিচার করলেন না কেন। নিশ্চয় ‘ডাল মে কুচ কালা হ্যায়’। জিয়া হত্যাকাণ্ডে তার কাছের ও পরিবারের কারো হাত ছিল কি না সে প্রশ্নও তুলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রথম প্রতিবাদ আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনাই জানিয়েছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, জিয়া হত্যায় তার পরিবার যেভাবে লাভবান হয়েছিল তা নজিরবিহীন। বেগম জিয়া পেয়েছিলেন ৭ একর জমির ওপর বাড়ি ও বিপুল ব্যাংক সুবিধা আর জাতিকে দেখানো জিয়াউর রহমানের ছেঁড়া গেঞ্জি আর ভাঙা সুটকেস থেকে পরে বেরিয়ে এসেছিল বহু জাহাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্য।
তিনি আরও বলেন, গত নির্বাচনের পর বিশ্ব সম্প্রদায় নতুন সরকারকে কী বলে বিএনপিসহ তাদের মিত্ররা চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিল। এ পর্যন্ত ৮০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়েছে। এটা দেখে বিএনপি আর কোন কথা বলেন না।
তিনি বলেন আমার ঠিকানা সরকার না, আমার ঠিকানা হল দল। আর বিএনপির বিএনপির ঠিকানা কই? তাদের ঠিকানা নয়া পল্টন, আর রাতে বিভিন্ন অ্যাম্বেসি। দেশের মানুষের সাথে তাদের কোনো দেন-দরবার নেই। ক্ষমতার মালিক কোনো বিদেশি রাষ্ট্র নয়, কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রদূতরা নয়। দেশের জনগণই ক্ষমতার মালিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশে বসে বিএনপি-জামাতের এজেন্টরা দেশ ও সরকারের বিরুদ্ধে অব্যাহত ষড়যন্ত্র চালাচ্ছেন। তদের এসব ষড়যন্ত্র রুখে দিতে হবে। এসব ষড়যন্ত্রের জবাব দিতে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর, স্টেট সিনেটরসহ আইন প্রণেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি। প্রয়োজনে পাল্টা এজেন্ট নিয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রণেতাদের কাছে শেখ হাসিনার সরকারের ১৫ বছরের কর্মকান্ডসহ দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরারও আহবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির নেতারা ঢাকা ফ্লাইওভার আর পদ্মা সেতু দিয়ে পার হয়ে বলেন দেশে কোন উন্নয়ন হয় নাই। তারা দেশের কোন উন্নয়নেই দেখতে পান না। যারা চোখ থাকতে অন্ধ আর কান থাকতে বধির তাদের আল্লাহ যেন হেদায়েত করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-নিউ ইয়র্ক ফের বিমান চলাচল প্রসঙ্গে বলেন এ বিষয় নিয়ে সরকার কাজ করছে। শিগিগির একটি ভালো খবর জানতে পারবেন। এছাড়াও দূতাবাস কর্মকর্তারা জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন। যত দ্রুত সম্ভব দূতাবাস থেকে প্রবাসীদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বারবার মৃত্যু উপত্যকা থেকে ফিরে এসে জনগণের জন্য সংগ্রামে অবিচল বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে ও দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার রুখতে সকলকে তৎপর ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করারা আহবান জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.হাছান মাহমুদ।
নিউ ইয়র্ক স্টেট আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান মিয়ার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহীন আজমলের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ আজাদ, আ. নেতা নিজাম চৌধুরী, এম ফজলুর রহমান ও এমদাদ চৌধুরী প্রমুখ।
নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ আবদুল মুহিত, ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস মোহাম্মদ ইমরান, নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, ডেপুটি কনসাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান, বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, দূতাবাস, কনস্যুলেটের কর্মকর্তা কর্মচারী, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, পেনসিনভানিয়া, নিউ ইংল্যান্ড, ওয়াশিংটন মেট্রো স্টেট আওয়ামীলীগ ও বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
ডালাসে ব্যান্টের বৈশাখী মেলায় দর্শকশ্রোতা মাতালেন জনপ্রিয় সোলস ব্যান্ড
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস মাতিয়ে গেলেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সোলস ব্যান্ড। বৃহস্পতিবার (৩০ মে) বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাস (ব্যান্ট) এর আয়োজনে ডালাসের প্লানো এম্পিথিয়েটারে বিশাল আয়োজনে বৈশাখী মেলায় সোলস ব্যান্ড তাদের জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে দর্শকশ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন।
স্থানীয় প্রায় ৬৫ জনের অধিক শিল্পী উক্ত মেলায় গান, নৃত্য, কবিতা, ফ্যাশন শোতে অংশ নেন। বিকেলে শুরু হয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয় চলে রাত ১১ পর্যন্ত। প্রথম দিকে স্থানীয় ডালাসের শিল্পীদের অনুষ্ঠান ছিল এবং রাত সাড়ে রাত নটার পর থেকে সোলস তাদের অনুষ্ঠান শুরু করেন। এবারে সোলস ব্যান্ডের ৭ সদস্যদের নেতৃত্ব দেন পার্থ বড়ুয়া। মেলায় তাদের জনপ্রিয় গান মন শুধু মন ছুঁয়েছে, এমন পরিচয়, দেখা হবে বন্ধু কারণে আর অকারণে এমন সবকাল জয়ী গান গেয়ে দর্শকদের উপহার দেন। দর্শকরাও তাদের সাথে নেচে গেয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন। আগের দিন সন্ধায় স্হানীয় স্পাইস অফ রিচার্ডসন রেস্টুরেন্টে মিট এন্ড গ্রীটে অংশ নিয়ে স্হানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্পন্সর ও ব্যান্ট কার্যকরী কমিটির সম্মাননা গ্রহন করেন।
স্থানীয় শিল্পীদের অনুষ্ঠানে প্রথমে তাসকীর আলী খানের নেতৃত্বে বৈশাখী আনন্দ শোভাযাত্রা দিয়ে শুরু হয়। এবার মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ৩০ এর অধিক ভেন্ডর, ৬টি রেস্টুরেন্ট এবং স্পন্সর ব্যান্টের প্রতি তাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটিকে একটি ভিন্ন মাত্রায় উপনিত করেন।
এই প্লানো এম পি থিয়েটারে বিগত বেশ কয়েক বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করে এবার ২২০০ র অধিক স্থানীয় অধিবাসী মেলা, শিল্পী ও এবং সোলস্ এর ব্যান্ড সংগীত উপভোগ করেন।

উল্লেখ্য ব্যান্ট এর ১৩ সদস্য বিশিস্ট নতুন কার্যকরী কমিটি সাগর শামসুদ্দোহার নেতৃত্বে বিগত পাঁচ মাস যাবত কমিউনিটির দেশীয় কালচার, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন সেবা মূলককার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে আসছে। কমিটি তাদের ‘ব্যান্ট বাংলাদেশ সেন্টার’ ও ‘ব্যান্ট বাংলা স্কুল’ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। রাতে লেজার শো, এলইডি স্ক্রিনের ডিসপ্লে এবং রেস্টুরেন্ট এর সকল মজাদার খাবার উপস্থিত দর্শকরা মন ভরে আনন্দে উপভোগ করেছেন। একই জায়গায় বসে খাওয়া আর উন্মুক্ত খোলা একই জায়গায় বসে দর্শদের অনুষ্ঠান দেখার আনন্দই ছিল আলাদা।
ডালাসের স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠানের মূল পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কালচারাল সেক্রেটারী ফারহানাজ রেজা এবং সম্পূর্ণ বৈশাখী মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন সভাপতি সাগর শামসুদ্দোহা, সহ-সভাপতি ফাহিম খান ও সাধারণ সম্পাদক শেখ রশিদ লীমন। ব্যান্টের সভাপতি আগামী বছর বৈশাখী মেলা ১৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বলে ঘোষনা দিয়ে কমিউনিটির সকলকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বোস্টনে জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাত বার্ষিকী পালন
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাই নন তিনি ছিলেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তক। তাঁর ঘটনাবহুল কর্মময় জীবনের কারণেই মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর দেশপ্রেম, পরিশ্রমপ্রিয়তা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তাসহ প্রভৃতি গুণাবলী এদেশের গণমানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ক্যামব্রিজের দারুল কাবাব রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় নিউ ইংল্যান্ড (বোস্টন) বিএনপির নেতারা এসব কথা বলেন। দিবসটি উপলক্ষে দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী।
নিউ ইংল্যান্ড বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সিনিয়র সহসভাপতি সোহরাব এইচ খানের সভাপতিত্বে এবং সাধারন সম্পাদক আলী হায়দার মনসুর ও সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় উক্ত দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের বক্তারা বলেন, শহীদ জিয়ার প্রবর্তিত কালজয়ী দর্শন ‘বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ’ ও তাঁর অবিনাশী আদর্শে এ দেশের মানুষকে উদ্দীপ্ত করে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের চলমান আন্দোলন সফল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন বেলাল আহমেদ।
প্রধান অতিথি আব্দুল মালেক বলেন, শহীদ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং তার পরবর্তী দেশ পরিচালনায় দক্ষতা ও সফলতায় কিভাবে জনগণের নয়নের মণি হয়ে উঠেছিলেন যেকারণে উনার মৃত্যু শোক আজও জাতি কাটিয়ে উঠতে পারে নাই বলে উল্লেখ করেন। তারেক জিয়ার ত্যাগ ও নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য আব্দুল লতিফ সম্রাট উল্লেখ করে বলেন, বোস্টন প্রবাসী সোহরাব এইচ খান নিউইংল্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিরলস ভাবে জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত প্রত্যেকই পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রবাসে সংগঠন ও দলের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালনকালে এ কমিটিকে নিজেই উক্ত কমিটির অনুমোদন দিয়েছিলেন।
সভায় বিশেষ অতিথি সাবেক এমপি হাসনা জসীম উদ্দিন মওদুদ বলেন, বিএনপিকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দল উল্লেখ করে আন্দোলন সংগ্রাম করেই বিএনপি আবারো দেশে গণতান্ত্রিক ধারা ফিরিয়ে আনবে সেই লক্ষে তারেক জিয়ার গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে সর্বশক্তি নিয়ে শরিক হওয়ার আহবান জানান।

উপদেষ্টা শাহাদাত সোরওর্দী বলেন, এই বাকশালী শ্বাসন থেকে দেশকে মুক্ত করার কোন বিকল্প নাই তাই অধিক শক্তি নিয়ে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পরতে হবে।উপদেষ্টা মোজাম্মেল হোসাইনী তার বক্তব্যে বলেন, শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবনের ইতিহাস তুলে ধরেন।বেলাল আহমেদ বলেন, সময় লাগলেও তারেক জিয়ার নেতৃত্বেই হাসিনার দুঃশাসন থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে। সাধারন সম্পদক আলী হায়দার মনসুর নিজেদের ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করেন তার বক্তব্যে।
সহসভাপতি আবুল বশর তারেক জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সাংগঠনিক সম্পাদক রাজ্জাক হোসেন তারেক জিয়ার যেকোন নির্দেশের অপেক্ষায় দল উল্লেখ করে বলেন শত নির্যাতন মামলা হামলার মধ্যেও বিএনপি ছিলো আছে থাকবে এবং গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে।
যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী নিশো খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আন্দোলন ও সরকারের উপর চাপ প্রয়োগের কথা উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে সোহরাব এইচ খান সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন, গত ২৮শে এপ্রিল ইউএসএ’র ১৮টি কমিটির শীর্ষ ৫ সদস্যদের মিটিং এ আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন ঘোষণা করেন, ১৮টি কমিটির মধ্যে ২টি কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে যার একটি নিউ ইংল্যান্ড বিএনপি। তিনি নতুনদের যুক্ত করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে নতুন কমিটি গঠনের মত ব্যক্ত করেন। যাতে করে সত্যিকার অর্থেই একটি শক্তিশালী নিউইংল্যান্ড বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায় এবং বাংলাদেশে নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কিছুটা মন্থর আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরো জোরালো আন্দোলনের দিকে নিয়ে যেতে ভূমিকা রাখতে পারে। আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের এমন সিদ্ধান্তের জন্য তার ভূয়সী প্রশংসা করেন উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মীরা।
সভায় উপস্থিত উপদেষ্টা মন্ডলীর মধ্যে ছিলেন রবিউল চৌধুরী ফরহাদ, তারেক আহমেদরুবেন, মাহমুদুর রহমান, পারভেজ চৌধুরী, মাহবুবুল হক ডিউক, মাহাবুবুর রহমান অপু, মুনির রহমান, প্রফেসর আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি ও বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আব্দুল মালেক, প্রধান বক্তা ও বিশেষ অতিথি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ, বিশেষ অতিথি ডঃ কায়ছার খান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শরাফত হোসেন বাবু জুম ও ফোনে আলোচনায় অংশ নেন।
এছাড়াও আফতাব আহমেদ, আকাতুল্লাহ ইসলাম, মাহবুবে খোদা খোকা, মোঃ সালাউদ্দিন খান ইমন, সৈয়দ সালাম শীলু, মোঃ গোলাম মোস্তফা, সালাউদ্দিন চৌধুরী, মেজর (অব.) রাকিবুল রহমান, মেজর (অব.) ইমরান, ইলিয়াস জাকারিয়া, মনির হোসেন, অনুজ কুমার শাহা, রবি শংকর, ওয়ালি উল্লাহ, মোঃ বাদল, মুসাভি ফারদিন, সাদাত সিয়াম, জাকির আলী, বেলাল উদ্দিন, শাকেরা বেগম, ফারুক তালুকদার, পিংকি ফারুক, আব্দুল্লাহ, ফয়জুল, মানিক, মোহন, রেজ্জাকুল,ইকরাম চৌধুরী, ইকবাল চৌধুরী, মুছাম্মৎ হালিমা, ফয়সাল চৌধুরী, মোঃ আজাদ, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ তায়েব, মোঃ নাজমুল আলম, কামরুল হাসান, মোযাম্মেল হোসাইন, আফরিন রাজ্জাক, ইলা দে, আবু তারেক, রাহুল দে, তাজ ফরহাদ, কাইসার খান, গিয়াস উদ্দিন, নাহিয়ান আলী, শরীফুল ইসলাম প্রমুখ উক্ত সভায় উপস্থিত ছিলেন।


