আজ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদি দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। শুক্রবার সকাল ৯টায় শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গণনা শেষে আজই ফল প্রকাশ করতে হবে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল থেকে নায়ক, নায়িকাসহ শিল্পীদের আগমনে এফডিসি প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠছে।
২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির এই নির্বাচনে ৬ জন স্বতন্ত্রসহ দুটি প্যানেল থেকে ৪৮ প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্যানেল দুটি হলোÑ মিশা-ডিপজল ও মাহমুদ কলি-নিপুণ। এ উপলক্ষ্যে রমজান মাসব্যাপী প্রচার চালিয়েছেন দুই প্যানেলের প্রার্থীরা। যদিও এবার নির্বাচন ঘিরে নেই তেমন কোনো উত্তেজনা।
এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ৫৭১ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার হয়েছেন ৫০ জন। জায়েদ-মিশা প্যানেল ক্ষমতায় থাকাকালে অনেকের ভোটাধিকার বাতিল হয়েছিল। এর পর কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল বিজয়ী হয়ে এলে উচ্চ আদালত থেকে ১০৩ জন ভোটাধিকার ফিরে পান। নতুন ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া ১৫৩ জন ভোটার এবার নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু
জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন
নিউইয়র্ক: প্রতিবারের মতো এবারও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটির শুরুতে মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদসহ জাতীয় চার নেতা, এ সরকারের প্রয়াত সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অত:পর দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

বাঙ্গালির মুক্তির ইতিহাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে ২৩ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করেছিল। আর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। ঠিক সে সময়ে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের নামে পাকিস্তানী বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে ২৬ মার্চে জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে। ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আইনগত ভিত্তি স্থাপনে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অসামান্য”।
মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব, কৌশল ও সময়োপযোগী দিক-নির্দেশনার ফলে মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায় মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, “মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে বিশ্ব জনমতকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা যা তারা অত্যন্ত সফলতার সাথে করতে পেরেছিল। এই সরকার বিশ্ব সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পক্ষে আনতে বেশ কিছু সময়োযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকরা যেন দ্রুত পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেন, সে উদ্যোগ গ্রহণ করে”। এসময় তিনি মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যও তুলে ধরেন।
প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে মুজিবনগর সরকারের ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মুহিত। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে আমরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করে যাবো, মুজিবনগর দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার”।
উন্মুক্ত আলোচনাপর্বে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন আলোচকগণ। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনের এই অনুষ্ঠানে মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি অংশগ্রহণ করেন।
সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামি থেকে ফিরে এলো টাইম স্কয়ারের বাঙালি উৎসব
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে এসেছে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাঙালিদের বাংলা বর্ষবরণ উৎসব। গত বছর (১৪৩০) বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে রাধাকৃষ্ণ(উলু) ধ্বনি, সুর্য পূজাসহ শিল্পী ও দোয়ার্কি (সহশিল্পী)রা সূর্য পূজা লীলা কীর্তনের আদলে বাংলা গানের আয়োজন করেছিলো। দেশ ও প্রবাসের গুণী ব্যক্তি ও শিল্পীদের সামনেই এসব ঘটলেও কেউ টু-শব্দ করার সাহস পাননি। বিষয়টি ঐসময় বেশ সমালোচিত হলে এবারের (১৪৩১ সালের) বর্ষবরণ উৎসবে এসব ধর্মীয় গোঁড়ামি বাতিল করে অসাম্প্রদায়িকতায় ফিরে আসে টাইম স্কয়ারের বাঙালি উৎসব।
গত বছর (২০২৩) ১৪ এপ্রিল সকালে সুর্য ওঠার সাথে সাথেই ফুল দিয়ে তৈরি করা সুর্য নিয়ে টাইমস স্কয়ারে ছুটে যান সনাতন ধর্মাবলম্বী কতিপয় নারী-পুরুষ। প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী ও দোয়ার্কি(সহশিল্পী)রা সূর্য পূজা লীলা কীর্তনের আদলে বাংলা গানের আয়োজন করেন। এ সময় কিছু মহিলা দোয়ার্কি(সহশিল্পী)র মুখে শোনা যায় উলুধ্বনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবাসী মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতারা।
গত ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরণের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। তবে বাংলার লোকগানে হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন প্রখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস উদ্বোধনের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় নৃত্য শিল্পীরা তাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন। বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে দেশাত্ববোধক ও লোকগান। টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করেন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নামের একটি সংগঠন।
নাটোরের সিংড়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীসহ তিনজন অপহৃত, পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার
উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি : নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক দেলোয়ার হোসেন, তাঁর ভাইসহ তিনজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকালে ও বিকেলে তাঁরা অপহরণের শিকার হন। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। আহত দেলোয়ার ও তাঁর ভাইকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ ও মারধর করার সঙ্গে জড়িত অন্তত ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তাঁদের শনাক্ত করেছেন।
শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবীবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও গাড়িচালকও রয়েছেন। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি।
গতকাল সোমবার বিকেল চারটার কিছুক্ষণ পর নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার কিছু পরে দুর্বৃত্তরা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর গ্রামের বাড়ির (সিংড়ার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রাম) সামনে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিংড়ার দুজন সাংবাদিক ও একজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ভিডিও ফুটেজে সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহন আলীকে (পাঞ্জাবি পরা) ঘটনার সময় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিচতলায় সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদারকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে কলাপাতা রঙের গেঞ্জি পরা দেখা যায় কলম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনকে (কাজল)। আকাশি রঙের গেঞ্জি পরে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপনের ভাগনে সরলকে ঘটনার সময় দেখা যায়। আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরেছিলেন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী পিয়াস।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবীবের ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদ হাসানকে সাদা গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট পরে অপহরণে অংশ নিতে দেখা যায়। এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেতু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদার, সিংড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুল হক বাবু, শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন।
এ ছাড়া লুৎফুল হাবীবের গাড়িচালক সুজনকে (ইটালি গ্রামের নিতাইয়ের ছেলে) কালো গেঞ্জি পরে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত কালো মাইক্রোবাসের চালকের আসনে বসতে দেখা যায়। পরে তিনিই মাইক্রোবাসটি চালিয়ে নিয়ে যান।
ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’
দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের আগে গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর ভাই এমদাদুল হক ও সহযোগী আলাউদ্দিন মুন্সিকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। তখন দেলোয়ার হোসেন লুৎফুল হাবীবের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন।
লুৎফুল হাবীব রুবেল একাধারে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী পলকের শ্যালক। দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনিই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন। যদিও লুৎফুল হাবীব ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এ ঘটনায় খবর ও ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পরপরই পুলিশ আহত প্রার্থীর মেজ ভাই মজিবুর রহমানকে সদর থানায় ডেকে নেয়। সেখানে তিনি বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে এটি সদর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরই পুলিশ কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে দুর্বৃত্তদের আটক এবং অপহৃত দেলোয়ার ও তাঁর ভাইদের উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁদের কলম বাজারে ফেলে যায়। এ বিষয়ে তাঁদের নাটোর থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আহত দেলোয়ার হোসেন ও এমদাদুল হককে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা জানান, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন স্থানে চৌকি বসিয়ে ওই মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তদন্ত করে এ ঘটনার সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোটে নির্বাচিত হয়েও কমিটির অনুমোদন পাচ্ছেন না ভার্জিনিয়া স্টেট বিএনপি
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: সুষ্ঠ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েও কমিটির অনুমোদন পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য স্টেট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদকের নির্দেশে গত বছর (২০২৩) ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। ভার্জিনিয়া বিএনপির ৫টি পদের জন্য দু’টি প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উক্ত নির্বাচনে গ্রিন প্যানেলকে নির্বাচিত করেন তিন সদস্যের নির্বাচিত কমিশন। ৬ মাস আগে অনুষ্ঠিত উক্ত নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদকের সন্তোষজনক না হওয়ায় দীর্ঘদনেও মেলেনি কেন্দ্রিয় কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভার্জিনিয়া স্টেট বিএনপির নির্বাচনে গ্রিন ও লাল দু’টি প্যানেল অংশ গ্রহণ করেন। মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৮ জন ভোটার গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনী ফলাফলে ৫টি পদে গ্রিন পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন সভাপতি জহির খান (৩০ ভোট), সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ (৩৫ ভোট), সহ-সভাপতি নিজাম আহমেদ (৩৪ ভোট), যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মানিক (৩২ ভোট) ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম জসিম (৩৪ ভোট)। অপর দিকে পরাজিত লাল প্যানেলের পরাজিত প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি পদে নাসের আহমেদ (২৪ ভোট), সাধারন সম্পাদক পদে কামরুন নাহার কণা (১৯ ভোট), সহ-সভাপতি পদে আবুল কালাম আজাদ (২০ ভোট), যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (২২ ভোট) ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহিদ এ চৌধুরী (২০ ভোট) ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, এটিএম আলম ও মহিউদ্দিন আনোয়ার বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে সনদপত্র প্রদান করেন।
বিজয়ী প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ভোট গণনা শেষে থেকে কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন নির্বাচন কমিশনারদের ফোন করে ফলাফল সংগ্রহ করেন। তাঁর মনোনীত লাল প্যানেল নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি কথা শেষ হবার আগেই ফোন কেটে দেন। এরপর অনেকেই তাঁর সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করলে ওইদিন তিনি কারো ফোনই আর ধরেননি। কিছুদিন পর উভয় প্যানেলের প্রার্থী ও অন্যান্য বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করেন। উক্ত সভায় নতুন আহবায়ক কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন করে পুনঃভোট গ্রহনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা ও একচেটিয়া এমন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য স্টেট বিএনপির নেতাকর্মীরা। তিনি অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে একই স্টাইলে একচেটিয়া কমিটি বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে চরমভাবে বিতর্কিত করেছেন। অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মীদের তীব্র ক্ষোভ থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। ফলে কমিটি বাণিজ্যের মাত্রা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে বলে বলে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন।
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন
ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণ উদযাপন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সহস্র কন্ঠে দেশের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। তবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগানে হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন প্রখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ।

বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস উদ্বোধনের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পীরা ছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় নৃত্য শিল্পীরা তাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন। বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে দেশাত্ববোধক ও লোকগান। টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করেন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নামের একটি সংগঠন। অনুষ্ঠানের আহবায়ক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হাসান ইমাম, নৃত্য শিল্পী লায়লা হাসান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক আইএফআইসি ব্যাংক-এ সিইও শাহ আলমসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কানেকটিকাটের মিডল টাউনে বাংলা নববর্ষ উদাযাপন
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের মিডল টাউনে উদাযাপন হয়েছে বাংলা নববর্ষ। স্থানীয় সময় রবিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মিডল টাউনের বাংলাদেশি মালিকানাধীন তন্দুর রেস্তোরাঁয় বাংলা নববর্ষ পালনের আয়োজন করেন স্থানীয় বাংলাদেশিরা।
সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত নববর্ষ পালনের এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশাজীবি বাংলাদেশি পরিবার পরিজনসহ শিশু কিশোরদের কলতানে, পান্তা ইলিশ আর বাংলা গানের অসাধারণ আয়োজনে একটি অত্যন্ত সুন্দর সন্ধ্যার আয়োজন করেন তন্দুর রেস্তোরাঁ। মিডে টাউনের সুপরিচিত মুখ বাংলাদেসশি কমিউনিটি নেতা মোস্তাক মাহমুদ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অতিথিদের আপ্যায়ন করেন। অনুষ্ঠানে খিচুড়ি, ইলিশ, চিকেন কারী, বিফ ভুনা, পান্তা ভাত, শুঁটকির দোপেঁয়াজা, বেগুন ভর্তা, আলু ভর্তা, টোম্যাটো ভর্তা, রসগোল্লা, চা, তেঁতুল ও আমের ফ্রেশ পানীয়, পান সুপারিসহ পহেলা বৈশাখের বাংলাদেশি সমস্ত খাবারের পাশাপাশি মেন্যু থেকে যে কোনো খাবার অর্ডার দেবার ব্যবস্থা ছিল। বাংলাদেশি অতিথিদের আনন্দ প্রদানের জন্য সংগীত শিল্পীদের দ্বারা গানের ব্যবস্থা ও বিনোদনে ব্যবস্থা করা হয়।
কানেকটিকাটের বাংলাদেশি আমেরিকান সিপিএ শ্রাবনী তার পুত্র কৃষকে নিয়ে উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, তন্দুর রেস্তোরাঁয় তিনি বহু দিন ধরে আসা যাওয়া করেন।সম্প্রতি বাংলাদেশি মালিকানাধীনে নতুন করে রেস্তোরাঁটির যাত্রা শুরু হয়। এ রেস্তোরাঁয় সব খাবার সম্পূর্ণ হালাল। ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত আছেন রেস্তোরাঁর মালিক কর্তৃপক্ষ। নিজেরা উপস্থিত থেকে সবসময় খুব সুন্দর ভাবে তারা সব কিছু পরিচালনা করেন।

মোস্তাক মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রী দুজনেই নিজ নিজ পেশায় নিয়োজিত। তাদের দুই সন্তানের এ দেশেই জন্ম। কিন্তু তাদের ব্যবহার এবং পরিবেশন শতভাগ বাঙালি। কোথাও কোনো ত্রুটি নেই। এই প্রসঙ্গে মোস্তাক মাহমুদের স্ত্রী বলেন, বহু দিন ধরে তারা মিডল টাউনের বাসিন্দা কিন্তু বাংলাদেশি হালাল খাবার পেতে খুব কষ্ট হতো। তাই কম্যুনিটির চাহিদার কথা মাথায় রেখে তারা এই রেস্তোরাঁটি খোলার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, পুরো রমজান মাসজুড়ে এ রেস্তোরাঁয় ইফতারির আয়োজন করা হয়। এখানে বুট পিয়াজুর পাশাপাশি তেহারি জিলাপির ব্যবস্থা ছিল। বিভিন্ন মসজিদে ও কমিউনিটির অনুষ্ঠানে সুলভে ক্যাটারিং করা হয় তন্দুর রেস্তোরাঁ থেকে। তাছাড়া বাংলা নববর্ষ, ভ্যালেন্টাইন ডে, স্বাধীনতা দিবস কিংবা নিউ ইয়ার এরকম সব কটি বিশেষ দিনে অত্যন্ত সুলভ মূল্যে বহু আইটেমসহ বিশেষ বাফের আয়োজন করা হয়। প্রতিটি অনুষ্ঠানেই মূলধারার কাস্টমারদের জন্যে রেস্তোরাঁয় এ সমস্ত ব্যবস্থা থাকে তবে বাংলাদেশি কম্যুনিটির জন্যে থাকে বিশেষ চমক এবারের পহেলা বৈশাখের দিন তাই বাংলাদেশি কম্যুনিটির জন্যে হৃদয়গ্রাহী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় তন্দুর রেস্তোরাঁয়।
সিপিএ শ্রাবনী জানান কম্যুনিটির অনেকেই যখন হিংসা দ্বিধা বিভক্তিতে কিংবা নিজ নিজ স্বার্থ উদ্ধারে মগ্ন, তখন মিডল টাউনের তন্দুর রেস্তোরাঁয় ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করে উদাহরণ সৃষ্টি করেন তিনি।
তিনি বলেন ছোটবেলা থেকেই রান্না করতে পছন্দ করেন। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী মার্কেট থেকে গ্রোসারি সামগ্রী আনা হতো তাদের চট্টগ্রামের বাসায় পহেলা বৈশাখের দিনে তাছাড়া মিষ্টি থেকে স্পেশাল অর্ডারে শত শত মিষ্টির প্যাকেট আনা হতো। সেগুলো তার মা-বাবার আত্মীয় স্বজন প্রতিবেশী পাড়া থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম কলেজ এর প্রিন্সিপাল কিংবা মেয়র মহিঊদ্দিন আংকেলের বাড়িতে তাদের কর্মচারীরা দিয়ে আসতেন। তার মায়ের অনেক কলিগ ছিলেন বিহারি। তিনি মোগলাই রান্না থেকে শুরু করে ফ্রেঞ্চ বেকিং সবকিছুতে পারদর্শী ছিলেন। তাই রান্না করার প্রতি ছোট বেলা থেকেই আগ্রহ। কিন্তু ক্যারিয়ার এর ব্যস্ততায় আমেরিকায় রান্না করার সুযোগ হয়ে ওঠেনা তার। তাই হরেক রকমের রেস্তোরাঁয় ছেলেকে নিয়ে ডাইনিং আউট করে থাকেন তিনি।
ট্যাক্স সিজনে কানেকটিকাটের বাংলাদেশি খাবা্রের ক্রেভিং হলে এখন আর নিউ ইয়র্ক যেতে হয়না। মিডল টাউনে তার অতি প্রিয় মেইন স্ট্রিটে এখন বাংলাদেশি খাবার পাওয়া যায়। ছেলেকে দেশীয় সংস্কৃতির সাথে সম্পৃক্ত রাখতে চান শ্রাবনী।
ভিপি নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা এক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে চট্টগ্রামের একটি আদালত।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক জহিরুল কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ জুন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক আইন সম্পাদক শাহরিয়ার ইয়াসির আরাফাত চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১ জুন নুর বাংলা নিউজ বিডি নামের একটি পেজ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী, ছাত্রলীগ ও যুবলীগকে নিয়ে কটূক্তি করেন এবং ফেসবুকে তা পোস্ট করেন। পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে।
আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে নির্দেশ দেন। সম্প্রতি তদন্ত শেষে সিআইডি ভিপি নুরের বিরুদ্ধে আদালতে প্রতিবেদন দেয়। সোমবার আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করে নুরের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মির্জা ফখরুলের দাবি নাকচ করলেন ওবায়দুল কাদের
কারাবন্দী বিএনপি নেতাকর্মীদের সংখ্যার বিষয়ে মির্জা ফখরুলের সাথে একমত নন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি এসব নেতাকর্মীর তালিকা চেয়েছেন বিএনপি মহাসচিবের কাছে।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব বিষয়ে কথা বলেন।
বিএনপির ৬০ লাখ নেতাকর্মী কারাবন্দী- দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন দাবি নাকচ করে দিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিএনপি মহাসচিবকে এ বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি বিএনপির এসব কারাবন্দীর তালিকা চান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি মির্জা ফখরুল ইসলামকে চ্যালেঞ্জ করছি। ছিল ২০ হাজার, হয়ে গেলো ৬০ লাখ! অবিলম্বে ৬০ লাখ বন্দীর তালিকা প্রকাশ করুক। না হয় মিথ্যাচারের জন্য জাতির কাছে মির্জা ফখরুলকে ক্ষমা চাইতে হবে।’
বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করার জন্য বিএনপির জন্ম মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি বাংলাদেশের অস্তিত্বের মূলে আঘাত করতে চায়। একাত্তরে তাদের যে ভূমিকা, হঠাৎ করে বাঁশিতে ফুঁ দিয়ে এমনিই তিনি ঘোষক হয়ে গেলেন! ২৪ বছরের যে আন্দোলন, এসবের কোনো দাম নেই?
বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘১৭ এপ্রিল মুজিব নগর দিবস। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ দিবস, সেই দিনটিকে তারা অস্বীকার করে। ১০ এপ্রিল প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের সরকার গঠন হয়, সেটা অস্বীকার করে। বিএনপি বাঙালি সংস্কৃতির চেতনা নিয়ে ইতিবাচক রাজনীতি করবে, এটা আমি বিশ্বাস করি না।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, বি এম মোজাম্মেল হক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন ও উপ-দফতর সম্পাদক সায়েম খান।
সূত্র : বাসস
সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদীচীর অনুষ্ঠান, যা বললেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
জননিরাপত্তার স্বার্থে সরকারের জারি করা নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদীচীর অনুষ্ঠান করা ও নেতিবাচক বিবৃতি দেয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে তার দফতর কক্ষে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক সংস্থা পহেলা বৈশাখের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যে নির্দেশনা জারি করেছিল সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠান করা ছিল হঠকারী ও দুঃখজনক। তাদের এই আচরণে সরকার খুবই ব্যথিত ও মর্মাহত।’
তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখে রমনা বটমূলে এবং যশোরের উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় অনেক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং অনেকে পঙ্গু হয়েছে। হলি আর্টিজান, শোলাকিয়া ময়দান ও সিলেটে ঈদের জামাতের জঙ্গি হামলা প্রতিরোধ করতে গিয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং জনগণের জীবন বাঁচিয়েছেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানে সরকার জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দিতে সবসময় সতর্ক থাকায় অতীতে মতো বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি হামলা বা সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটতে পারেনি। এই বিষয়ে সরকার সকলের সহযোগিতা কামনা করে।’
তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৩ সালে ১৪০০ বঙ্গাব্দে, বাংলা শতবর্ষ বরণ করার সময় বেগম খালেদা জিয়া সরকার বাধা দিয়েছিল। তাদের বাধা দেয়ার উদ্দেশ্য ছিল নিরাপত্তাজনিত নয় বরং বাঙালির সার্বজনীন, অসাম্প্রদায়িক এই উৎসবকে নিরুৎসাহিত করা। বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল সংগঠনসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা আমরা সকলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করেছিলাম।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা দেয়া সরকারের কর্তব্য। আশা করব এক্ষেত্রে সবাই সবসময় সহযোগিতা করবেন যাতে আনন্দের অনুষ্ঠান বিষাদে পরিণত না হয়ে যায়।
সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে অনুষ্ঠান উদীচী করেছে সেখানে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটতো তার দায়-দায়িত্ব কে নিতো- এ প্রশ্ন রেখে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘আমরা মনে করি নিয়ম বা নির্দেশ না মেনে অনুষ্ঠান যারা করবেন তাদেরকেই সেই দায়-দায়িত্ব নিতে হবে।’
আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগে যথাযথভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয় উল্লেখ করে এ সময় মোহাম্মাদ আলী আরাফাত আরো যোগ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার পহেলা বৈশাখ উদযাপনের জন্য বাংলা নববর্ষ ভাতা ব্যবস্থা করেছে। তার সরকারের সময়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসঙ্ঘের অঙ্গসংস্থা ইউনেস্কো ২০১৬ সালে বাংলাদেশের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’-কে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।’
সূত্র : বাসস


