Home Blog Page 588

ইসরাইলে ইরানের হামলার পর কমেছে তেলের দাম

ইসরাইলের ওপর ইরানের হামলা ব্যর্থ হওয়ার পর তেলের দাম কমেছে বলে আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ইসরাইলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে ব্যর্থ হওয়ার পর তেলের দাম কমেছে এবং মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে- তারা ইরানের সাথে বৃহত্তর যুদ্ধকে সমর্থন করে না।

বিশ্লেষকরা বলেছেন যে- তেলের দামের প্রধান ঝুঁকি হলো- গাজা যুদ্ধের কারণে যদি সংঘর্ষ বাড়তে থাকে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান তেল সরবরাহ ব্যাহত করে।

মার্কিন অবস্থান এবং ইরানের গৃহীত অবস্থান নির্দেশ করে যে- প্রতিশোধমূলক স্ট্রাইকের মাধ্যমে বিষয়টি ‘সমাপ্ত বলে মনে করা যেতে পারে’।

এদিকে তেল ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে, তারা আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমিয়ে ব্যারেল প্রতি ৮৯ দশমিক ৮২ ডলারে করেছে। এটি সপ্তাহান্তে হামলার আগে শুক্রবার ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি ছিল।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, যে ঝুঁকিগুলি দাম বাড়াতে পারে তার মধ্যে রয়েছে ইরানের তেল স্থাপনার ইসরাইলি হামলা বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার কঠোর প্রয়োগ।

এসএন্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষকরা বলেছেন, ‘ইসরাইলের যেকোনো প্রতিশোধ, বিশেষ করে যেটি ইরানের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হয়। এটি জ্বালানি বাজারের জন্য বড় প্রভাব ফেলবে।’
সূত্র : আল-জাজিরা

জয়া বচ্চনের জন্মদিনে খোলা চিঠি অমিতাভের, নীরব ঐশ্বরিয়া

সত্তরের দশকের মিষ্টি বাঙালি মেয়ে থেকে বলিউডের বচ্চন পরিবারের দাপুটে অভিনেত্রী হয়ে ওঠা জয়া ৭৬-এ পা দিলেন। ১৯৭৩ সালের জুন মাসে সাত পাকে বাঁধা পড়েছিলেন জয়া এবং অমিতাভ বচ্চন।
‘শোলে’, ‘অভিমান’, ‘মিলি’, ‘চুপকে চুপকে’, ‘সিলসিলা’র মতো ছবিতে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। শ্বেতা এবং অভিষেকের জন্মের পর থেকে কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছিলেন জয়া। তবে পরবর্তী সময়ে ‘কাল হো না হো’, ‘কাভি খুশি কাভি গাম’, ‘লাগা চুনরি মে দাগ’, ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’-র মতো ছবিতে দেখা গিয়েছে তাকে। জন্মদিনের সকালে মায়ের সাদাকালো ছবি পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছেলে অভিষেক বচ্চন। তবে স্ত্রীর জন্মদিনে খোলা চিঠিতে জয়ার উদ্দেশে কী লিখলেন ‘শাহেনশাহ’?
অমিতাভ জয়াকে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন, ‘এমন একটা জন্মদিন, যার কোনও উল্লেখ প্রয়োজন নেই। এটা পারিবারিক উদযাপন। অর্ধাঙ্গিনীর জন্মদিন। পারিবারের ভালবাসায় পরিপূর্ণ বিশেষ এই দিনটা।’
বচ্চন পরিবারের কর্ত্রীর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পরিবারের অন্য সদস্যরাও। তবে এই দিনেও নিশ্চুপ বৌমা ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। শাশুড়ির জন্মদিনে কোনো শুভেচ্ছাবার্তাই আসেনি অভিনেত্রীর তরফে।
গত বছর থেকেই বচ্চনদের পরিবারের অন্দরের কলহ নিয়ে সরগরম মায়ানগরী। এই নিয়ে অবশ্য নানা মুনির নানা মতও রয়েছে। তবে এই প্রসঙ্গে কখনোই কোনো মন্তব্য করেননি বচ্চনরা।
তবে চলতি বছর দোলে অবশ্যে গোটা পরিবার একজোট হয়ে হোলিকাদহন করেছিলেন। তাই বচ্চনদের অন্দরের সমীকরণ ঠিক কার সঙ্গে কেমন, তা বোঝা দায়।

চারপাশে খারাপ লোকের সংখ্যাই বেশি : নোরা ফাতেহি

ঢাকা : ক্যারিয়ারের লম্বা সময়ে একাধিক মানুষের সঙ্গে নাম জড়ালেও কোনো সিরিয়াস সম্পর্কে দেখা যায়নি বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহিকে। অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী হিসেবে সফল হলেও সংসার করতে চান তিনি। স¤প্রতি ‘কানেক্ট এফএম কানাডা’র সঙ্গে একটি সাক্ষাৎকারে এমনটাই জানিয়েছেন নোরা।
তিনি জানালেন জীবন সঙ্গী পছন্দের সময় কোনো জিনিসে গুরুত্ব দেন। নোরা বলেন, আমি এমন একজন মানুষকে খুঁজছি যে সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করে এবং যার লালন-পালন খুব ভালো হয়েছে। এর পরে অর্থ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা আসে।
নোরা বলেন, আমার এমন একজন দরকার যে ভেতর থেকে সত্যিই ভালো। কারণ বর্তমানে চারপাশে খারাপ লোকের সংখ্যাই বেশি। যারা সুবিধাবাদি ও আপনাকে ব্যবহার করে। মিথ্যাবাদীও আছে। কিছু লোক বছরের পর বছর আপনার সঙ্গে থাকবে। কিন্তু আপনাকে চাইবে না। তারা আপনার টাকা, আপনার জনপ্রিয়তা বা আপনার নেটওয়ার্ক চাইবে। চারপাশে সত্যিই অদ্ভুত মানুষ আছে। ভালো মনের কাউকে পেলে আমি খুশি হব।
দেখতে কেমন জীবনসঙ্গী চান এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এত কিছুর পরে আসলে সুন্দর চেহারা আসে। আমি বলতে চাইছি, আমার ভালো জেনেটিক্স দরকার, কারণ আমি সুন্দর বাচ্চা পেতে চাই।
নোরা বলেন, পাঁচ বছর আগে থেকে তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উচ্চতা ও চেহারার মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নজর দিয়ে নিজের জন্য জীবনসঙ্গী খোঁজা। গত কয়েক বছরের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় তার ভাবনা-চিন্তা বদলেছে। এখন তিনি তার অগ্রাধিকারকে গুরুত্ব দেন।

নিউইয়র্কে জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপির সংবর্ধনা

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্কে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিল সোমবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসে মুনলাইট গ্রীল রেস্টুরেন্টের মিলনায়তনে এই সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখা এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত ফরিদা ইয়াসমিন এমপি এ সময় প্রবাসীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমি যখনই নিউইয়র্কে আসি তখনই আপনাদের উষ্ণ আতিথেয়তায় আপ্লুত হয়। এবার নতুন পরিচয়ে এসেও একইভাবে আপনাদের আন্তরিক আতিথেয়তায় আমি অভিভূত এবং গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের আরো অনেক অনুষ্ঠানে আমি এসেছি। প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালে, সভাপতি হবার পর যখনই নিউইয়র্কে এসেছি আপনাদের সাথে মিলিত হয়েছি। সমাবেশে কথা বলেছি।
জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি বলেন, আমরা যেখানেই থাকি না কেন, আমাদের শেকড় কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ। আমাদের আদর্শ হলেন বঙ্গবন্ধু। আমাদের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। যে চেতনায় আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, একাত্তরের ৭ মার্চের যাদুকরি বক্তব্যে সারা বাংলার সাধারণ মানুষেরাও মুক্তিযুদ্ধে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। আর এটিই হচ্ছে আমাদের মূল শেকড়। আর আপনারা যারা এই প্রবাসে আছেন, তাদের প্রত্যেকের হৃদয়েই কিন্তু একখণ্ড বাংলাদেশ বাস করছে। সে তাগিদেই অনেক কিছু ত্যাগ করে আপনারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন ও ধারণ করছেন, এই চেতনাকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করছেন, এটি আসলেই অনেক বড় ব্যাপার। দেশকে ভালো না বাসলে এটা সম্ভব হতো না।
এই সংসদ সদস্য বলেন, যারা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্যে নিবেদিত, তাদেরকে প্রধানমন্ত্রী চলমান উন্নয়ন অভিযাত্রা ত্বরান্বিত করতে কাজে লাগাচ্ছেন। আমি মনে করি যে, আমাকে তিনি সংসদ সদস্য মনোনীত করে সাংবাদিকদেরকেই সম্মানীত করেছেন, সাংবাদিক সমাজকে মূল্যায়ন করেছেন, বিশেষ এক মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন। এজন্যে দেশ ও প্রবাসের সকল গণমাধ্যম কর্মীর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা বলেন, গণমাধ্যমকর্মীদেরকে আমার সহকর্মী হিসেবে স্ট্যাকহোল্ডার হিসেবে পাশে রাখতে চাই। আমরা যারা মানুষের সেবার দায়িত্বে আছি, তাদের সাথে গণমাধ্যমের একটি সুন্দর সম্পর্ক থাকা খুবই জরুরি। কারণ আমরা যে কাজগুলো করছি তা গণমানুষের কাছে পৌঁছানো অথবা আমরা যদি কোন ভুল করে থাকি সেগুলোর শোধরানোর অভিপ্রায়ে পয়েন্টআউট করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সে দৃষ্টিকোণ থেকেই আমরা কাজ করছি। নাজমুল হুদা সংসদ সদস্যা ফরিদা ইয়াসমিনকে নিউইয়র্ক কন্স্যুলেট পরিভ্রমণের অনুরোধ জানান।
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের হ্যাড অব চ্যান্সেরী শুয়েব আব্দুল্লাহ বলেন, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন এবং সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ-৭১ এর কর্মকান্ডে নিউইয়র্কের অনেকে সময় দিচ্ছেন এবং সংসদ সদস্যও উৎসাহিত করছেন। পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে এসেছেন বলে সংসদ সদস্যকেও গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এসব সংগঠন টিকে থাকলেই বিদেশের মাটিতে আমাদের চেতনা, আমাদের ঐতিহ্য অটুট থাকবে।
কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব ইঞ্জিনিয়ার মো. ফজলুল হক বলেন, আমরা আশা করছি আপনার বিচক্ষণতাপূর্ণ কর্মকান্ডে বাংলাদেশ তার অভীষ্ঠ লক্ষ্যে উপনীত হবে। এ সময় তিনি ঢাকা এয়ারপোর্টে প্রবাসীদের হয়রানি চিরতরে অবসানে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিনের প্রতি আহŸান জানান।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন হোস্ট সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া। তিনি তাঁর সমাপনী বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিনের মত সাদামনের মানুষকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য এবং তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করার জন্যে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাস। তিনি বলেন, ফরিদা ইয়াসমিনরা জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত থেকে। বাকিটা জীবন গুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্বে শেখ হাসিনার স্বপ্নের স্মার্ট বাংলাদেশ রচনায়ও অপরিসীম ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করছি।
‘প্রিয় মানুষ ফরিদা ইয়াসমিন এমপিকে নিউইয়র্কে অভিনন্দন-শুভেচ্ছা’ ব্যানারে এ অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা ও পরিচালনায় ছিলেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের কম্যুনিকেশন্স ডাইরেক্টর বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর নারী বিষয়ক সম্পাদক ও বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের প্রধান সবিতা দাস, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সুব্রত তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, ব্রæকলীন কম্যুনিটি বোর্ড-১২ এন নবনির্বাচিত সেক্রেটারি মামুনুনুল হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিব রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ ভোরে রোম থেকে নিউইয়র্কে এসেছেন ফরিদা ইয়াসমিন। ব্যক্তিগত সফরে তিনি ৬ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন।

নিউইয়র্কে নবীগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার মাহফিল

নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে ধর্মীয় উৎসব আমেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে নবীগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র ইফতার ও দোয়া মাহফিল। ব্রঙ্কসের আল আকসা পার্টি হলে গত ৮ এপ্রিল সোমবার অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নবীগঞ্জবাসীর এ সংগঠনের ইফতার মাহফিল। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।
সংগঠনের সভাপতি শেখ জামাল হোসেনের সভাপত্বিতে এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইমরান আলী টিপুর পরিচালনায় ইফতার মাহফিলে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত, রমজানের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা ও দোয়া পরিচালনা করেন বাংলাবাজার জামে মসজিদের খতীব মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া।
ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা মুবাশ্বির হোসেন চৌধুরী, দেওয়ান শাহেদ চৌধুরী, হাসান আলী, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ডা. মাসুদুল হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ চৌধুরী, মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ এন মজুমদার, স্টারলিং ডায়াগনস্টিকস অ্যান্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার এর সিইও আব্দুর ওয়াহিদ চৌধুরী জাকি, বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন নবীগঞ্জ উপজেলা ওয়েলফেয়ার সোসাইটি ইউএসএ’র উপদেষ্টা মজলু হোসাইন, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনক এর উপদেষ্টা মোঃ আব্দুর রব দলা মিয়া, সভাপতি সামাদ মিয়া জাকারিয়া, সহ সভাপতি প্রফেসার আমিনুল হক চুন্নু, জালালাবাদ এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন কামালী, সাধারণ সম্পাদক মইনুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান চৌধুরী শেফাজ, মোহাম্মদ লায়েক, বাংলাদেশী-আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনের সভাপতি সারওয়ার চৌধুরী, বিবিএর সাধারণ সম্পাদক এ ইসলাম মামুন, চুনারুঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ জেলা সদর সমিতির সভাপতি মিয়া এম আসকির, সাধারণ সম্পাদক আমির আলী, সার্জেন্ট বিলাল ইসলাম, সিনিয়র সিটিজেন ফোরাম অব বাংলাদেশী কমিউনিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী রবি-উজ-জামান, কমিউনিটি এক্টিভিস্ট মোহাম্মদ আলী, মোঃ মামুন, আফজল আলী. বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস নিউইয়র্ক ইনক এর আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক কাজিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মছনুর রহমান, সদস্য হুমায়ূন কবির সোহেল, আয়োজক সংগঠনের সহ সভাপতি আজমান আলী, কোষাধ্যক্ষ গোলাম মুহিত, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সদস্য আক্তার হোসেন নানু প্রমুখ। সহযোগিতায় ছিলেন সহ সভাপতি মামুন আলী ও সদস্য আবুল হাছনাত সাজু প্রমুখ।
মাহফিলে মাওলানা আবুল কাশেম এয়াহইয়া বলেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সকল ইবাদাত-বন্দেগী থেকে সিয়ামকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছেন। এর সমমর্যাদার আর কোন আমল নেই। রোজা এমন একটি আমল যাতে লোক দেখানো ভাব থাকে না। মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু সিয়াম শুধু আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য, তিনিই তার প্রতিদান দেবেন। মুনাজাতে দেশ, প্রবাস ও বিশ্ব মানবতার শান্তি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গসহ বিপুল সংখ্যক প্রবাসী নবীগঞ্জবাসী এ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

নিউইয়র্কে বিশ্ব শান্তি বিষয়ে জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে সেন্টার ফর এনআরবি’র আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠান

নিউইয়র্ক: সকলের জন্য বাসযোগ্য ও নিরাপদ পৃথিবী গঠনের আহŸানের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে সেন্টার ফর এনআরবির আলোচনা ও জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের সম্মানে আন্তধর্মীয় ইফতার। এনআরবি সেন্টারের ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ ২০২৪ এর অংশ হিসেবে ৮ এপ্রিল সোমবার কুইন্সের জয়া পার্টি হলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনআরবি চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী। অতিথিদের মধ্য উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের বিচারপতি খিজির আহমদ, নিউইয়র্ক কুইন্স কোর্টের প্রেসিডেন্ট সোমা সাইদ, জাতিসংঘে রাষ্ট্রদূত ও জি১০০ গ্রæপ যুক্তরাষ্ট্রের সভাপতি সীমা কারাতনায়া, রাষ্ট্রদূত ডঃ আন্দ্রেই বাস ও নিউইয়র্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা।
অনুষ্ঠানে নিধার্রিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক ইসলামী স্কলার ইন্দোনেশিয়ার ডঃ শামসী আলী, খৃষ্টানিটি স্কলার ডঃ ফ্রান্ক কাউফম্যান, জাতিসংঘের সাবেক সুপারিনডেন্ট মোহামেদ সুলায়মান ইয়ার, নিউইয়র্ক মেয়রের নিরাপত্তা প্রধান হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশী আমেরিকান পেশাজীবী ব্যাংকার ওয়াসেফ চৌধুরী, সফ্টওয়ার ইন্জিনিয়ার মোজাফ্ফর আহমদ, এটর্নী জিনাত জাহান টিবিএন ২৪ চ্যানেলের মার্কেটিং প্রধান আফম জামান, জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের নির্বাহী সদস্য জুলকার হায়দার, এওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রবাসী সানওয়ার চৌধুরী প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণী এবং অথর্নৈতিক বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টা ডঃ মশিউর রহমানের লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।
অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি খিজির আহমদ বলেন, যথেষ্ট হয়েছে আর না, এবার বিশ্বশান্তি নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে রাজনীতিবিদদের, হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।
কনসাল জেনারেল নাজমুল হুদা বলেন, রাজনীতিবিদদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, করণীয় ঠিক করে দিতে হবে তবেই না আমরা কুটনীতিকরা দায়িত্ব পালন করতে পারবো।জাতিসংঘ তার সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত হয় সুতরাং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ইসলামী চিন্তাবিদ ডঃ শামসী আলী বলেন, একজন মানুষের মৃত্যু মানে মানবতার মৃত্যু, সুতরাং মৃত্যু রোধ করতে না পারলে মানবতা বিপন্ন হবে।
খৃষ্টানিটি চিন্তাবিদ ডঃ ফ্রাঙ্ক কাউফম্যান বলেন, কোন মৃত্যু গ্রহন যোগ্য হতে পারেনা।
সভাপতির বক্তব্যে এনআরবি চেয়ারপার্সন এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, দেশে দেশে সংঘাত, সংখ্যা লঘুদের নির্মূল প্রয়াস, ধর্মীয় বিরোধ, জাতিগত দাঙ্গা ও ক্ষমতাবানদের অত্যাচার বন্ধে জাতিসংঘের বলিষ্ট ভূমিকা নিতে হবে। রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে দূবর্লদের অত্যাচার নিরসনে জাতিসংঘের মধ্যস্থতা ও পরামর্শ পালনে শক্তিমানদের বাধ্য করতে সকলকে একযোগে কায্যর্কর পদক্ষেপ গ্রহনে করতে হবে। সকলের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করতে ধর্মীয় ও বিভিন্ন জাতিগোষ্টি এবং স¤প্রদায়গুলোকে পরষ্পরের প্রতি সহনশীল ও ন্যায্য আচরণের মাধ্যমে বিশ্ব শান্তি ও স¤প্রীতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের লাগসই ও ন্যায়সংগত পদক্ষেপ নিতে হবে। জাতিসংঘ তার করণীয় দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সবলের অত্যাচারে বিশ্বময় সুশীল রাষ্ট্র ব্যবস্থা ও আন্তÑরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক হুমকির মুখে পড়বে। বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের কাযর্ক্রম ও কর্মীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে সবাইকে ঐকমত্যে আসতে হবে যাতে উপদ্রæত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কাজ নির্বিগ্নে পালন করা যায়।
এওয়ার্ড প্রাপ্তীর অনুভূতি প্রকাশ করে সানওয়ার চৌধুরী বলেন, দেশে বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি উন্নয়নে আমার সামান্য অবদান রাখতে পেরে আমি খুশী, এই এওয়ার্ড আমাকে আরো ভূমিকা রাখতে অনুপ্রাণিত করবে।
আলোচনা, ইফতার ও নৈশভোজ অনুষ্ঠানে প্রবাসী আমেরিকান, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, পেশাজীবী, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিকগণ অংশগ্রহন করেন।

‘মোদীর উন্নয়নে শামিল বাংলা’, জেতা বা হারা সব আসনে একই সুর চাই

ঢাকা: লোকসভা নির্বাচনে তিনিই যে বিজেপির ‘মুখ’, তা এত স্পষ্ট করে এর আগে নিজের মুখে বলেননি নরেন্দ্র মোদী। তৃতীয় বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে নিজের সরকারের নাম নিজেই ‘মোদী’ বলে উল্লেখ করছেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদীর ছবি বড়। প্রার্থীর ছবি তুলনায় ছোট। নরেন্দ্র মোদীর কাজের প্রচার বড় করে। প্রার্থীর পরিচয় ছোট করে। এটাই দিল্লিবাড়ির লড়াইয়ে বিজেপির প্রচারমন্ত্র। এমন মন্ত্র ঠিক করে দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা দেশে এই নীতিতেই হতে হবে লোকসভা ভোটের নির্বাচনী প্রচার। কারণ, বিজেপি মনে করছে, জয় আসবে একমাত্র নরেন্দ্র মোদীর মুখচ্ছবিতেই। প্রার্থী নন।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ছ’টি সভা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রথম চারটি ভোট ঘোষণার আগে। সব ক’টিতেই দেখা গিয়েছে, মোদীর ভাষণে মোটামুটি চারটি ভাগ রয়েছে। প্রথমটিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কোন কোন প্রকল্প চালু রয়েছে। কী কী উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। দ্বিতীয়, বাংলায় কোন কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা পেয়েছে দিল্লি। এর মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের কথা বেশি করে বলেছেন তিনি। তৃতীয়, বাংলার শাসকদল তৃণমূলকে আক্রমণ। আর চতুর্থ তথা শেষ ভাগে নেতা কর্মীদের কাছে তাঁর আর্জি। প্রতি সভায় শপথ নেওয়াচ্ছেন এই বলে যে, ‘‘নিজের নিজের এলাকায় ভোটারদের কাছে গিয়ে বলবেন, মোদী আপনাকে প্রণাম জানিয়েছে।’’ প্রতিটি ভাগেই কম পক্ষে এক বার ‘মোদীর গ্যারান্টি’র কথা শোনাচ্ছেন মোদী।
মোদী তাঁর নিজের বক্তৃতাতেও কেন্দ্রের যে কোনও প্রকল্পের কথা বলতে গিয়ে নিজের নামই নিচ্ছেন। ‘মোদী গরিবের কথা ভাবে’ থেকে ‘মোদী মানে দুর্নীতির বিরুদ্ধ লড়ে’Ñ বলছেন মোদী নিজেই। প্রচারের এই সুর সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে চায় কেন্দ্রীয় বিজেপি। বাংলায় ইতিমধ্যেই ৪০ জন প্রার্থীর কাছে চলে এসেছে সেই নির্দেশ। জেতা আসনে তো বটেই, ২০১৯ সালে জয় মেলেনি এমন কেন্দ্রেও প্রচারে জোর দিতে হবে সেই এলাকার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাবদে পাওয়া বিভিন্ন সুবিধার উপর। প্রচার পুস্তিকা থেকে হোর্ডিং-ব্যানারে বলতে হবে রেল থেকে সড়ক নির্মাণ, আবাস যোজনা থেকে বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্পে কেন্দ্র কত টাকা ওই এলাকার জন্য খরচ করেছে। আর ২০১৯ সালে জেতা আসনের জন্য নির্দেশ আরও কড়া।
হেরে যাওয়া আসনে কেমন প্রচার হবে? উদাহরণ হিসাবে ধরা যাক বর্ধমান পূর্ব লোকসভা কেন্দ্রের কথা। ২০১৯ সালে ওই আসনে তৃণমূলের কাছে বিজেপি হেরেছিল প্রায় ৯০ হাজার ভোটে। এর পরেও যে বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার ওই আসনের এলাকার উন্নয়নে সচেষ্ট হয়েছে, সেই বিষয়টির প্রচারে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রকল্পের সুবিধা কত মানুষ পেয়েছেন বা কেন্দ্র ওই এলাকার জন্য ঠিক কত খরচ করেছে, তার হিসাব নিয়ে ভোটারদের কাছে যেতে হবে প্রার্থীদের। জলজীবন মিশন থেকে উজ্জ্বলা প্রকল্পে রান্নার গ্যাসের সুবিধাÑ সবই জানাতে হবে। এর পরে রয়েছে কেন্দ্রের উদ্যোগে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ ওই এলাকায় হয়েছে, তার খতিয়ান। সেখানে বলতে হবে খড়্গপুর-বর্ধমান-মোরগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে থেকে খড়্গপুর-শিলিগুড়ি অর্থনৈতিক করিডরের কথা। আবার বর্ধমান রেল স্টেশনের নতুন রূপের খরচ থেকে কোথায় ডবল লাইন হয়েছে বা কোথায় কত টাকার সেতু বানিয়েছে রেল, সে সবও লিখতে হবে প্রচার পুস্তিকায়।
রাজনৈতিক সভায় প্রচারে এর সঙ্গেই উল্লেখ করতে হবে, কোন কোন প্রকল্প ‘রাজ্যের বাধায়’ এখনও করা যাচ্ছে না সেই অভিযোগ। দলের তেমনই নির্দেশ। যেমন বর্ধমান পূর্বের প্রার্থী অসীম সরকারের প্রচারে বলতে হবে, সেখানে রেলের মোট প্রকল্প ৫৪ হলেও রাজ্যের জন্য কাজ আটকে আছে ২৮টিতে। আটক প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা আছে ২১,১৪৮ কোটি টাকা। এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকারের কোন প্রকল্পের সুবিধা থেকে ওই এলাকার কত মানুষ ‘বঞ্চিত’ তা-ও বলতে হবে। পাশাপাশি বলতে হবে, কেন্দ্রের প্রকল্প নয়, ‘মোদীর প্রকল্প’ থেকে বঞ্চিত। তেমনই চান বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
জেতা আসনে কী করতে হবে? গত লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ১৮ আসনে জিতলেও এখন তাদের হাতে ১৭। বাবুল সুপ্রিয়র ছেড়ে আসা আসানসোল ছাড়া বাকি সর্বত্র সাংসদ তহবিলের কত টাকা কোন খাতে কোথায় খরচ হয়েছে, তার বিবরণ ভোটারদের হাতে হাতে পৌঁছে দিতে হবে। দলের যা নির্দেশ, তাতে শুধু গোটা লোকসভা আসন নয়, তার ভিতরে থাকা প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক কেমন উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট সাংসদ করেছেন, তা-ও জানাতে হবে। মনে রাখতে হবে, সাংসদ তহবিলের অর্থও ‘মোদীর উন্নয়নে শামিল বাংলা’ প্রচারের অঙ্গ।
এই ভাবে যে প্রচারের পরিকল্পনা রয়েছে, তা মেনে নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘‘সাংসদ তহবিলের টাকা তো কেন্দ্রেরই। মোদীজি একটা নিয়ম করে দিয়েছেন যে, সব সাংসদকে তাঁর মেয়াদ শেষের আগে পাঁচ বছরের খরচের হিসাব দিতে হবে। ভোটের প্রচারেও সেটা সর্বত্র উল্লেখ করা হবে।’’ সুকান্ত জানান, করোনার কারণে কিছু দিন সাংসদ তহবিলের টাকা দেওয়া বন্ধ থাকলেও গত পাঁচ বছরে ১৭ কোটি টাকা করে পেয়েছেন বিজেপি বা অন্য দলের সকল সাংসদ। সুকান্তের বালুরঘাটে ভোটগ্রহণ দ্বিতীয় দফায়। ইতিমধ্যেই তিনি বিধানসভা পিছু কত টাকা কোন খাতে খরচ করেছেন, তার বিস্তারিত হিসাবের হ্যান্ডবিল ভোটারদের দিচ্ছেন। সুকান্তের কথায়, ‘‘এটাই মোদীজির স্বচ্ছতা। বিরোধীরা কি এর থেকে শিখবেন, যে মানুষের টাকা মানুষের জন্য খরচ করলেও তার হিসাব দেওয়াটাই নৈতিকতা? তৃণমূলের সাংসদেরা তো দূরের কথা, রাজ্য সরকারই হাজার হাজার কোটির হিসাব দেয়নি কেন্দ্রকে!’’
বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব জেতা আসনে প্রার্থী বদল হয়েছে, সেখানেও একই নীতি কার্যকর হচ্ছে। যেমন রায়গঞ্জ বা মেদিনীপুরের প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী এবং দিলীপ ঘোষ অন্য আসনে লড়ছেন। কিন্তু তাঁদের আসনে যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন, তাঁদেরও বিদায়ী সাংসদের কাজের হিসাব সামনে এনেই প্রচার করতে হবে।

ঈদে মধ্যবিত্তরা মুখ লুকিয়ে কাঁদছে: রিজভী

ঢাকা : সরকারি দলের লোকজনের লুটপাট আর দুর্নীতির কারণে জনগণের ঈদের উৎসব ম্লান হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতিতে নিম্ন আয়ের মানুষের আর্তি শোনা যাচ্ছে। ঈদের আনন্দ উদযাপনের বিপরীতে মধ্যবিত্ত মানুষেরা মুখ লুকিয়ে কাঁদছেন।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। ঈদযাত্রা, শ্রমিকদের বেতন-বোনাস, দলের নেতা-কর্মীদের নিপীড়নসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, দ্রব্যমূল্যের লাগাম না টেনে সিন্ডিকেটের হোতা ও সরকারের আস্থাভাজন ব্যক্তিরা ব্যস্ত লুটপাট, দুর্নীতি ও বিরোধী মতকে দমন-পীড়নে। সমাজে তৈরি হয়েছে ধনী ও গরিবের বিশাল ব্যবধান। অধিকাংশ মানুষের সামান্য প্রয়োজন মেটানোই এখন দুঃস্বপ্ন। জনজীবনের ঈদ উৎসব ম্লান হয়ে হয়ে গেছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ঈদের প্রাক্কালে বিভিন্ন পথে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে ঘরমুখী যাত্রীরা দুর্বিষহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। আর বিমানের ভাড়া কল্পনাতীত এবং ট্রেনে মানুষ টিকিট পাচ্ছেন না।
রিজভী বলেন, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলছেন, সড়ক-মহাসড়কে কোনো যানজট বা হয়রানি নেই। মন্ত্রীর এ বক্তব্য জনগণের সঙ্গে তামাশা।
ঈদযাত্রায় অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের প্রসঙ্গে রুহুল কবির বলেন, এবারের ঈদযাত্রায় ঢাকা ছাড়তে ৯৮৪ কোটি টাকা অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হবে যাত্রীদের। ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের আশীর্বাদপুষ্ট হওয়ায় বাসের টিকিটের দাম আকাশছোঁয়া। পরিবহন খাত আপাদমস্তক অনিয়ম-দুর্নীতির কারখানা। ঈদ উপলক্ষে সড়কে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চলছে।
তৈরি পোশাক খাতের ৬০ শতাংশ কারখানার শ্রমিকরা সোমবার বিকেল পর্যন্ত মার্চ মাসের বেতন পাননি দাবি করে রুহুল কবির বলেন, ঈদের উৎসব ভাতা বা বোনাস পাননি ১৪ শতাংশ কারখানার শ্রমিক। শ্রমিকেরা বেতন না পেয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। তাঁদের ঈদের আনন্দ চোখের পানিতে ভাসছে।
বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এবারও পরিবার ছাড়া ঈদ উদযাপন করতে হবে জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ছয় বছরের বেশি সময় ধরে অসুস্থ অবস্থায় বন্দি রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। সরকার গায়ের জোরে গুরুতর অসুস্থ খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত চিকিৎসা নিতে দিচ্ছে না।
বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতিদিনই নির্যাতন-হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে রুহুল কবির বলেন, নেতা-কর্মীর মধ্যে কেউ কারাগারে, কেউ মানবেতর অবস্থায় ঘরছাড়া হয়ে জীবন যাপন করছেন। ৭ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আকরাম হোসেনকে পুলিশ বিনা কারণে গ্রেপ্তার করে নির্যাতন করে। গতকাল তাঁর মৃত্যু হয়। ফেনী জেলার কালীদহ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির ইফতার ও দোয়া মাহফিলে আওয়ামী লীগের রুবেল মেম্বারের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়। ইউনিয়ন বিএনপি নেতা জাফর ইকবালসহ প্রায় ১০ নেতা-কর্মীকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়।

আজ ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস

ঢাকা : বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল দিন আজ বুধবার। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল অর্থাৎ এই দিনে গঠিত হয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম সরকার।আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রও পাঠ করা হয় সরকার গঠনের পর। এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাকে দেওয়া হয় অনুমোদন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলা গ্রামের আম্রকাননে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে।
শপথ গ্রহণের পর ওই সরকারে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন ৭ জন। এ সময় মুজিবনগর সরকারের কাঠামো ছিল- রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (পাকিস্তান সামরিক শাসকদের হাতে বন্দি), উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং পদাধিকারবলে সশস্ত্র বাহিনী ও মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়কের দায়িত্ব গ্রহণ), প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী এএইচএম কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমাদ, প্রধান সেনাপতি কর্নেল (অব.) এমএজি ওসমানী, চিফ অব আর্মি স্টাফ লে. কর্নেল (অব.) আবদুর রব। সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ এই বৈদ্যনাথতলাকেই তখন ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর’ হিসেবে নামকরণ করেন। সেই থেকে কলকাতায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার মানুষের কাছে ‘মুজিবনগর সরকার’ নামে পরিচিত ছিল। এ সরকারের নেতৃত্বেই পুরো মুক্তিযুদ্ধ পরিচালিত হয়।
প্রতিবছর নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মুজিবনগর সরকার গঠন দিবস উদযাপন করা হয়। তবে এবার ঈদের ছুটির কারণে কর্মসূচি পালনে কিছুটা বিঘœ ঘটছে। ঈদের ছুটির পর আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি উদযাপন করবে বলে জানা গেছে।

বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ হয় কি করে, পথচেয়ে ২৩ নাবিকের পরিবার

ঢাকা : অতিকুল্লাহ খাঁনের বাসা নগরীর নন্দনকাননে। সোমালিয়ান জলদস্যুদের কাছে জিন্মি থাকা ২৩ নাবিকের একজন তিনি। প্রধান কর্মকর্তার পদে থাকা আতিক এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে উঠেছেন মাস চারেক আগে। এর মধ্যেই জলদস্যুদের কবলে পড়েছে তাদের জাহাজ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে আতিকুল্লাহ খাঁনের পরিবারে ততই গাড় হচ্ছে যেন বিষাদের ছায়া। তাঁর ষাটোর্ধ মা শাহনূর আক্তার ছেলের জন্য কিনেছেন ঈদের পায়জামা ও পাঞ্জাবি। কিন্তু ঈদের আগে আর ফিরছে না ছেলে। তাই শাহনূর আক্তারের চোখ করছে ছলছল।
চোখ মুছতে মুছতে শাহনূর আক্তার বলেন, ‘আশা ছিল, ছেলে আসবে ঈদের আগেই। জাহাজের মালিকপক্ষ সেই আশ্বাসই দিয়েছিলেন শুরুতে। কিন্তু এখন বলছে ঈদের পরে আসবে। ছেলে আসার দিনই হবে আমাদের ঈদ। ঈদের শাড়িও পড়বো সেদিন।’
আতিকুল্লাহর বাড়ি চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলায়। সপরিবারে বসবাস করেন নগরীর নন্দনকাননের রথেরপুকুর পাড় এলাকায়। সেখানেই কথা হয় তার পরিবারের সঙ্গে। কথার ফাঁকে ফাঁকে সদস্যদের কান্না ঠুকরে বের হয়। ছবি হাতে বাবাকে খুঁজে ফিরছে আতিকের ছোট ছোট তিন মেয়ে। বাবাকে নিয়ে তাদের প্রশ্নের জবাব দিতে বুক ভেঙে যায় দাদির। আতিকুল্লাহর স্ত্রী সন্তানসম্ভবা। ভেঙে পড়েছেন তিনি। আত্মীয়স্বজন সান্ত¡না দিলেও অশ্রুবাণ থামছে না মা ও স্ত্রীর।
আতিকুল্লাহর বাবা বেঁচে নেই। দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি বড়। মা, ভাই, স্ত্রী ও তিন মেয়ে নিয়ে শহরের নন্দনকানন এলাকায় থাকেন তিনি। ছোট ভাইয়ের পড়ালেখা শেষ হয়নি। তিন মেয়ের মধ্যে বড় ইয়াশা ফাতিমা পড়ে তৃতীয় শ্রেণিতে। মেজো মেয়ে উমাইজা মাহাবিন প্রথম শ্রেণিতে। আর ছোট মেয়ে খাদিজা মাহাবিনের বয়স মাত্র দুই বছর।
এমভি আবদুল্লাহ জাহাজের প্রধান কর্মকর্তা আতিকুল্লাহ খানের সঙ্গে আরও ২২ নাবিক জিম্মি। গত ১২ মার্চ তাদের ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি করে সোমালিয়ার সশস্ত্র জলদস্যুরা।
প্রহর গুনছেন জান্নাতুল
এমভি আবদুল্লাহর চতুর্থ প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ ও নাবিক নুরউদ্দিনের পরিবারে ঈদ কাটবে অশ্রুসজল। তানভীরের মা জোছনা বেগম বলেন, ‘সবাই ছেলের অপেক্ষায় আছি। ঈদের আগেই ফিরবে- শুরুতে জাহাজের মালিকপক্ষ আশ্বাস দিলেও, এখন হাল ছেড়ে দিয়েছে। দস্যুর ডেরায় ছেলেকে রেখে ঈদ করব কীভাবে?’
অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছেন নাবিক নুরউদ্দিনের স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। স্বামীর সন্ধানে কবির গ্রæপের কার্যালয়ে ঘুরেছেন কর্ণফুলীর লিচুতলার বাড়িতে আড়াই বছরের সন্তান রেখে। জান্নাতুল বলেন, জিম্মি করার পরপরই এক অডিও বার্তায় নুরউদ্দিন বলেছিল- ‘ফাইনাল কথা, এখানে টাকা না দিলে একজন একজন করে মেরে ফেলবে বলছে।’ মুক্তি পাওয়ার আগ পর্যন্ত ভয় রয়েই গেছে। চিন্তায় ঘুম আসে না। ছোট্ট সন্তান বাবা ছাড়া ঈদ করবে, ভাবতেই বুকে কেঁপে ওঠে।
বুকের ধন জিম্মি রেখে কি করে হয় ঈদ
খুলনা ব্যুরোপ্রধান মামুন রেজা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর দ্বিতীয় প্রকৌশলী খুলনার তৌফিকুল ইসলামের পরিবারে নেই আনন্দ। নগরীর সোনাডাঙ্গার করিমনগর এলাকার বাড়িটি এখন নিষ্প্রাণ। কারও জন্য কেনা হয়নি পোশাক। তৌফিকের মা দিল আফরোজা বলেন, ‘ছেলের জন্য দুশ্চিন্তা তো আছেই। না পারছি কাছে যেতে; না পারছি দেখতে। বুকের ধন জিম্মি রেখে ঈদ আনন্দ কি থাকে? কারও জন্য কেনাকাটা করা হয়নি। ওর মেয়ে তাসফিয়া নামাজ পড়ে দোয়া করে। ছোট ছেলে মুসাফি বলে, আমি গিয়ে যুদ্ধ করে বাবাকে ছাড়িয়ে আনব।’
গত রোববার তিনি বলেন, ‘ছেলে বলেছে, তারা ভালো আছে। জামাতে তারাবি নামাজ ও রোজা রাখতে পারছে। দুর্ব্যবহার না করলেও বেশিক্ষণ ফোনে কথা বলতে দেয় না। পাশে জলদস্যুরা দাঁড়িয়ে থাকে। আগে সবাইকে এক কক্ষে রাখলেও এখন কেবিনে থাকতে পারছে।’ তৌফিকের স্ত্রী জোবাইদা নোমান বলেন, ‘আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়ে খুব কষ্টে আছে। বাবার জন্য তারা অস্থির হয়ে উঠেছে।’
সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না
নওগাঁ প্রতিনিধি কাজী কামাল হোসেন জানিয়েছেন, শহরের পলিটেকনিক অ্যাভিনিউর দুবলহাটি রোডে এমভি আবদুল্লাহর প্রধান প্রকৌশলী এ এস এম সাইদুজ্জামানের পরিবারে চলছে নীরব কান্না। ঈদের দিন ঘনিয়ে এলেও করেনি কোনো কেনাকাটা, নেই রান্নাবান্নার প্রস্তুতি।
সাইদুজ্জামানের বাবা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, সুস্থভাবে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় আছি। একটা সময় খুব ভয় পেয়েছিলাম। এখন সান্ত¡না পাই, মাঝে মধ্যে কথা বলতে পারছি। জলদস্যুরা যোগাযোগে কোনো বাধা দিচ্ছে না। মা কোহিনূর বেগম বলেন, আমাদের কারও মাঝে ঈদের আনন্দ নেই। ছেলেকে ছাড়া কিছুই ভালো লাগে না। কবে ফিরবে আমার বুকের ধন? সরকার যেন দ্রæত উদ্যোগ নেয়।
সাইদুজ্জামানের স্ত্রী মান্না তাহরিন শতধা বলেন, স্বামী ফিরে এলে এবার ঈদ হতো সবচেয়ে আনন্দের। এখন নিজেরা নিজেদের সান্ত¡না দিচ্ছি- বেঁচে আছে, এক দিন আল্লাহ আমাদের কাছে তাকে ফেরত দেবে।
ছেলে নাই, টাকা পাঠানোরও কেউ নাই
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম খান রানা জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর নাবিক নাজমুল হকের সিরাজগঞ্জের কামারখন্দের চর-নুরনগর গ্রামের বাড়িতে নেই প্রাণচাঞ্চল্য। কাঁদতে কাঁদতে চোখের পানি শুকিয়ে গেছে বাবা আবু সামা ও মা নার্গিস খাতুনের।
গত শনিবার বাড়িতে বসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নার্গিস বলেন, ‘ছেলে যেখানেই থাকুক, ঈদ এলে টাকা পাঠাত। সময় পেলে নিজে কিনে দিত। এবার আমার ছেলেও নাই, টাকা পাঠানোর কেউ নাই। সারাক্ষণ মনে হয়, নাজমুল এসে মা মা বলে ডাকছে। ওদের সবাই ঈদের আগে মুক্তি পেলে সবচেয়ে খুশি হতাম। নাজমুলের বাবা আগেই অসুস্থ। ছেলের জন্য কাঁদতে কাঁদতে আরও অসুস্থ হয়ে গেছে। তাকে নিয়েও চিন্তা হচ্ছে।’
সাব্বির কল করবে, ফোন হাতে অপেক্ষায় বাবা
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি আবদুর রহিম জানিয়েছেন, এমভি আবদুল্লাহর মার্চেন্ট কর্মকর্তা সাব্বির হোসেনের পরিবারে নেই ঈদের আনন্দ। একমাত্র ছেলের জন্য কেঁদে কেঁদে ফিরছেন মা সালেহা বেগম। প্যারালাইসড বাবা হারুন-অর রশিদ সারাদিন মোবাইল ফোন হাতে বসে থাকেন, ছেলের ফোন পাওয়ার আশায়।
সরেজমিন টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গা ধলাপাড়া গ্রামে গিয়ে সাব্বিরের বাড়িতে সুনসান নীরবতা পাওয়া যায়। ডাকাডাকির এক পর্যায়ে আসেন একমাত্র বোন মিতু আক্তার। তিনি জানান, ভাই জিম্মি হওয়ার পর থেকে সবাই উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। মা-বাবা কেঁদেই চলেছেন। ভাইয়ের কিছু হলে তাদের বাঁচানো যাবে না। ঈদের আনন্দ আমাদের কাছে বিষাদে পরিণত হয়েছে।
হারুন-অর রশিদ বলেন, জিম্মি হওয়ার পর এক দিন সাব্বিরের সঙ্গে কথা বলেছি। তার পর আর কোনো যোগাযোগ নেই। আমি ও আমার স্ত্রী ফোন হাতে বসে থাকি, কখন সাব্বির কল দিয়ে বলবে- বাবা, ভালো আছি, তোমরা চিন্তা করো না। গত বছর একসঙ্গে ঈদ করেছি। এবার পারব না, ভাবতে পাজর ভেঙে যাচ্ছে।
জানতে চাইলে এমভি আবদুল্লাহর মালিকপক্ষের প্রতিনিধি কেএসআরএমের গণমাধ্যম উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের আগে নাবিকদের মুক্ত করতে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এখন আর সম্ভব নয়। আমাদের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে। ঈদের পরে তারা মুক্ত হবেন।’