Home Blog Page 588

ইসরায়েলি হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনে অনৈতিক হামলা অব্যাহত রাখার প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত দুই বিশ্ববিদ্যালয় অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছেন এ দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা ক্যাম্পাসে তাঁবু টানিয়ে বিক্ষোভ করছেন।
স্থানীয় সময় গত বুধবার লন্ডনের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভের সূচনা করেন কয়েক শ শিক্ষার্থী। বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এক গুচ্ছ দাবিও উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ইসরায়েলকে সব ধরনের অর্থায়ন বন্ধ, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ নীতি সংস্কার, ইসরায়েলকে বর্জন, গাজায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনর্র্নিমাণসহ বেশকিছু দাবি রয়েছে। এরপর এ বিক্ষোভ আরও জোরদার হয়ে উঠেছে। গতকালও অক্সফোর্ডের মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্টোরি ও ক্যামব্রিজের কিংস কলেজের সামনে তাঁবু টানিয়ে বিক্ষোভ হয়। ‘গাজায় গণহত্যা থামাও’ ‘ইসরায়েলকে সহযোগিতা বন্ধ করো’-এমন স্লোগানসংবলিত প্লাকার্ড ও ফিলিস্তিনের পতাকা দেখা যায় শিক্ষার্থীদের হাতে। বিক্ষোভকারীদের কারও কারও মাথায় ছিল ঐতিহ্যবাহী কেফায়া (ফিলিস্তিনিরা সাদা-কালো যে স্কার্ফ পরেন)। অক্সফোর্ড অ্যাকশন ফর ফিলিস্তিন ও ক্যামব্রিজ ফর ফিলিস্তিন এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েল সরকারকে আর্থিক ও নৈতিক সমর্থন দেওয়া বন্ধ করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহŸান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ফিলিস্তিনিদের জীবনের বিনিময়ে মুনাফা করতে পারে না অক্সব্রিজ (অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ)। ইসরায়েলের অপরাধ আড়াল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি গড়ে উঠতে পারে না।’ উল্লেখ্য, গাজায় যুদ্ধ বন্ধ ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবিতে গত ১৭ এপ্রিল আমেরিকার নিউইয়র্কের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে দেশটির দেড় শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এখন এ বিক্ষোভ চলছে ইউরোপের অন্তত ১২টি দেশে।

সালমানের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন সাবেক প্রেমিকা

সব সময়ই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে থাকতে হয় বলিউড অভিনেতা সালমান খানকে। প্রায়ই গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের তরফ থেকে আসতে থাকে খুনের হুমকি। স¤প্রতি সালমানের বাড়ির বাইরে গুলিও চলেছে। ঘটনায় বেশ চিন্তিত সালমানের শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা। এ বার অভিনেতার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করলেন তারই সাবেক প্রেমিকা। খবর আনন্দবাজার অনলাইনের।
এক সময়ে সালমানের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা। কিন্তু সালমান আজ যে কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তার জন্য চিন্তিত তার সাবেক প্রেমিকা সোমি আলিও। সোমি প্রায়ই সালমানের সঙ্গে তার তিক্ত অভিজ্ঞতা সামনে এনেছেন। উগরে দিয়েছেন ক্ষোভ। কিন্তু সালমানের কাছে খুনের হুমকি আসায় তিনিও পাশে দাঁড়িয়েছেন। যেভাবে সালমানের কাছে বার বার খুনের হুমকি আসছে, সেই ঘটনার নিন্দাও করেছেন তিনি। জানিয়েছেন, কোনো শত্রুর সঙ্গেও যেন এমন না হয়, সেটাই চান তিনি।
সোমি জানিয়েছেন, সালমানের সঙ্গে তার সম্পর্ক হয়তো কখনোই ঠিক হবে না। কিন্তু সাবেক প্রেমিকের এই অবস্থাও তিনি সমর্থন করেন না। তিনি বলছেন, ‘কোনো শত্রুর সঙ্গেও যেন এমন না হয়। এ অবস্থা কারো প্রাপ্য নয়।’ অভিনেত্রী সালমানের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।
শোনা যাচ্ছে বাড়ির বাইরে গুলি চলার ঘটনার পরে সালমান স্থির করেছেন, তিনি বাসস্থান বদল করবেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি অভিনেতার তরফ থেকে। কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যেই তিনি আছেন বলে জানা যাচ্ছে।
অন্যদিকে, সালমান এখন তার পরবর্তী ছবি ‘সিকন্দরের’ কাজ নিয়ে ব্যস্ত। এ ছবিতে তার বিপরীতে রয়েছেন রাশমিকা মন্দানা। এছাড়া, শাহরুখ খানের সঙ্গে ‘টাইগার ভার্সেস পাঠান’ ছবিতেও অভিনয় করবেন তিনি।

বিচ্ছেদের পর ছেলেকে যেভাবে মানুষ করছেন মালাইকা

বলিউড অভিনেতা আরবাজ খানের সঙ্গে মালাইকা অরোরার বিবাহবিচ্ছেদের বেশ কয়েক বছর হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সৌজন্যের সম্পর্ক এখনো বজায় রেখেছেন তারা। আর অন্যতম কারণ ছেলে আরহান। আরহানের জন্য এখনো দেখসাক্ষাৎ হয় মালাইকা-আরবাজের মধ্যে। জানা যায়, আরহানের সঙ্গে বন্ধুর মতোই মেশেন মালাইকা।
অভিনেত্রী মনে করেন, সন্তানদের সঙ্গে যত খোলামেলা ভাবে মেশা যায়, তারা ততই ভালো থাকে। তাই আরহান যাতে তার কাছে নিরাপদ ও স্বাধীন বোধ করেন, সেই চেষ্টাই চালিয়ে যান মালাইকা। স¤প্রতি আরহানের পডকাস্টে মা-ছেলের কথোপকথন মুগ্ধ করেছে নেটাগরিকদের। সেই কথাবার্তা থেকেই স্পষ্ট মালাইকা-আরহানের মধ্যে সম্পর্ক কতটা বন্ধুত্বপূর্ণ।
মালাইকা সেই পডকাস্টে বলছেন, ‘মা ও ছেলের সম্পর্ক হল সবচেয়ে দামি। প্রত্যেক সন্তানের সঙ্গে তাদের মায়ের সম্পর্ক ভিন্ন রকমের হয়। কোনো মা হন বন্ধুর মতো, কেউ হন পরামর্শদাতার মতো, আবার কোনো কোনো মা খুব কড়া হন। কিন্তু, আমি আমার ছেলের বন্ধু হয়েই থাকতে চাই। এমন হলে সন্তান মন খুলে সব কথা বলতে পারে।’
অভিনেত্রী আরও বলছেন, ‘আমার বন্ধুরাও বাড়িতে এসে আমায় আর আরহানকে একসঙ্গে দেখলে খুব আনন্দ পায়। আমি আর আরহান পরস্পরের সঙ্গে মজা করি, পেছনে লাগি। আমার বন্ধুরা বলে, ওরা টিকিট কেটে বাড়ি এসে এই কমেডি শো দেখবে।’ মালাইকা মনে করেন, বাবা-মায়ের কাছে সন্তানের সমস্ত কিছু নির্ভয়ে বলতে পারা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মালাইকার কথায়, ‘খোলামেলা কথা বললে বোঝা যায়, সন্তানদের জীবনে ঠিক কী চলছে। এমন একটা পরিসর থাকা দরকার, যেখানে ওরা নির্ভয়ে সব কিছু বলতে পারে। আবার কিছু বলার জন্য ওদের জোর করাও ঠিক নয়। বিশেষ করে আজকের যুগের বাচ্চাদের জীবনে কী চলছে, তা জানা খুব দরকার। আমি নিজেকে অন্ধকারে রাখার থেকে পুরোটা জানতেই পছন্দ করব।’
আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে অভিনেতা অর্জুন কাপুরের সঙ্গে সম্পর্কে আছেন মালাইকা। অন্য দিকে কিছু দিন আগেই আরবাজ বিয়ে করেছেন মেকআপশিল্পী সুরা খানকে।

বিএনপি ভারতের সাথে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল : ওবায়দুল কাদের

বিএনপি ভারতের সাথে শত্রুতা করে অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ‘ভারতের সাথে শত্রুতা করে বিএনপি দেশের ক্ষতি করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ভারতের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে।’

শনিবার (১১ মে) বিকেলে মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা বন্ধুত্ব চাই। শত্রুতা আমাদের ক্ষতি করেছে। আমরা সে অবস্থায় আর ফিরে যেতে চাই না। ভারত আমাদের বন্ধু। তাই আমরা অনেক কিছু দেশটির কাছ থেকে আদায় করতে পেরেছি।’

তিনি বলেন, ‘ভারতবিরোধিতা বিএনপির দ্বিচারিতা। তারা নিজেরাই যে ভারতের দালাল, এর অসংখ্য উদাহরণ আছে। আওয়ামী লীগের শক্তি বাংলাদেশের জনগণ, বিদেশী কোনো দেশ আওয়ামী লীগের শক্তির উৎস নয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারতের সাথে ২১ বছর শত্রুতা করে আমাদের লাভ হয়নি। বিএনপি শত্রুতা করে সংশয়, অবিশ্বাস সৃষ্টি করেছিল। সে কারণে সম্পর্কের উন্নতি হয়নি। শেখ হাসিনা সে অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে দিয়েছেন।’

ভারতের সাথে বিভিন্ন চুক্তির কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা বলতে চাই, গঙ্গার পানি শেখ হাসিনাই এনেছেন। পানি চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা। সীমান্ত সমস্যার চুক্তি কে করেছেন? শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের মতো আরেকটি বাংলাদেশ আমরা সমুদ্র পেয়েছি আদালতের মাধ্যমে।’

বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার পল্টনে গয়েশ্বর চন্দ্র এক পসরা মিথ্যাচার করে গেছেন। গয়েশ্বর বাবু কোথায় ছিলেন এতদিন? কোথা থেকে এলেন? কোথায় পালিয়ে ছিলেন? ভারতে? মাথায় উঠেছে গান্ধী টুপি। এখন ভন্ডামি শুরু করেছেন। গয়েশ্বর কাল পল্টনে দাঁড়িয়ে আমাদের বলে ভারতের দালাল। এই অপবাদ তো আইয়ুব খান, ইয়াহিয়া দিয়েছে। ভারতে গিয়ে গঙ্গার পানির কথা ভুলে গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া, সাংবাদিকরা জিজ্ঞেস করল, আপনি ভারত সফর করলেন গঙ্গার পানির কি হলো? তিনি বললেন আমি তো ভুলে গেছি। দালাল কারা?’

নির্বাচনে ৪২ শতাংশ লোক ভোট দিয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার উন্নয়ন অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়েছে বাংলাদেশের ৪২ শতাংশ ভোটার। এই নির্বাচনে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। উপজেলা নির্বাচন জনগণ নাকি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাহলে ৩৬ থেকে ৪০ শতাংশ লোক ভোট দিলো তারা কারা? তারা এই দেশের জনগণ। তারা উন্নয়নে, অর্জনে মুগ্ধ।’

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমানের সভাপতিত্বে সমাবেশে দলের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম ও আফজাল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লায়লী এবং দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়াও বক্তব্য রাখেন।

সূত্র : বাসস

আ’লীগ নয়, দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে নিজ দেশে থেকে আমরা পরবাসী হয়েছি। আজকে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে গেলে বা এলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে বসিয়ে রাখা হয়। আসলেই কি দেশ আওয়ামী লীগ চালাচ্ছে? তারা নয়, দেশ চালাচ্ছে অদৃশ্য শক্তি।

তিনি বলেন, আজকে সারাদেশ কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া চাকরি হয় না। বিসিএস পাশ করার পরও চাকরি হচ্ছে না। আজকে চাকরির জন্য ডিএনএ টেস্ট করা হয়, তারা বিএনপি করে কিনা।

শনিবার বিকেলে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদল আয়োজিত বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারেক রহমানের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ রাজবন্দীদের মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে রাজধানী ঢাকা বিভিন্ন ওয়ার্ড, থানাসহ আশপাশের জেলার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া শুধু নির্যাতিত নেত্রী নন, তিনি গণতন্ত্রের অতন্দ্র পহরী। সারাজীবন যিনি দেশ ও জনগণের জন্য ত্যাগ শিকার করেছেন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন আজকে দানবীয় সরকারের প্রতিহিংসার বশবিত হয়ে তাকে বন্দী করে রেখেছেন। যার সাজা হয়েছিল ৫ বছর। উচ্চ আদালতে তা ১০ বছর করা হয়েছে। এরকম মামলায় অনেককে জামিন পেলেও তাকে দেয়া হয়নি। তিনি অসুস্থ। দেশ-বিদেশ থেকে সবাই তার মুক্তি দাবি করলেও দেয়া হচ্ছে না। কারণ তিনি মুক্ত হলে তার ডাকে সারা দিয়ে জনগণ সকল শৃঙ্খল ভেঙে ফেলবে, উপরে ফেলবে সকল সকল অন্যায় ও অবিচার।

তিনি বলেন, আটক রাখা হয়েছে হাজারো নেতা-কর্মীদের। অনেককে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালতকে দলীয় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ঈশ্বরদীতে নয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। আদালতকে ব্যবহার করে এরা ক্ষমতার টিকে থাকতে চায়। কি নিদারুণভাবে ২৮ অক্টোবরের শান্তিপূর্ণ সমাবেশ পণ্ড করা হয়েছে। অন্যায় করে জুলুম করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা যখন যুবক ছিলাম লড়াই করে এ দেশ স্বাধীন করেছিলাম। কিন্তু আজ সে স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত। ২০০৮ সাল থেকে মানুষ আর ভোট দিতে পারে না। অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। সরকার আবারো ভিন্ন মেড়কে বাকশাল কায়েম করতে চায়।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গতকাল ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আবার সন্ত্রাস করবেন না, তাহলে ডাবল শিক্ষা দিবো। সন্ত্রাস বিএনপি করে না। আপনারা করেন। সন্ত্রাসের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের জন্ম। মওলানা ভাসানীকে পিটিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে বের করে দিয়েছিলেন। ডেপুটি স্পীকারকে পিটিয়ে আপনারাই হত্যা করেছেন।

তিনি বলেন, আজকে দুর্ভাগ্য যে জাতি গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা জন্য যুদ্ধ করেছিল সে অধিকার থেকে বাংলাদেশ আজ বঞ্চিত। আজকে প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ছে। ট্রেনের ভাড়া, বাস ভাড়া বিদ্যুৎ-পানি-গ্যাস-পানির দাম বেড়েই চলছে। অপরদিকে লুটপাট হচ্ছে দেশের অর্থনীতি, লুটপাট হচ্ছে ব্যাংক। আজকে নতুন নতুন আইন করছে লুটেরাদের স্বার্থে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। নতুন নতুন ফর্মুলা করা হচ্ছে। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের নাম ডামি নির্বাচন। ডামি নির্বাচনে গৃহপালিত দলগুলোর সাথে চলে দেনদরবার। এত আসন না পেলে সেদলগুলো আবার নির্বাচন না যাওয়ারও হুমকি দেয়।

তিনি বলেন, সরকার বলে তারা নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। তারা যদি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন তাহলে এরশাদ ও ইয়াহিয়া কি করেছেন? তাদের আসলে কোনো লজ্জা-শরম নেই। দেশটাকে তাদের পৈতৃক সম্পত্তি মনে করে। যেমনি চাইবে তেমনি চলবে। কিন্তু তা হবে না। জনগণ যা চাইবে সেভাবেই দেশ চলবে।

যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসানের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নার সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব রফিকুল আলম মজনু, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, যুবদলের সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন প্রমুখ।

৭ শ’ উইকেটের দ্বারপ্রান্তে সাকিব

বর্ণাঢ্য ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আরো একটি মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে ৭ শ’ উইকেট পূর্ণ করতে আর মাত্র দুই উইকেট প্রয়োজন সাকিবের।

অনন্য এই মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে আগামীকাল মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবেন সাকিব।

১০ মাস পর গতকাল প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামেন সাকিব। ম্যাচে ব্যাট হাতে ১ রান করলেও, বল হাতে দারুণ পারফরমেন্স করেন তিনি। ৩৫ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে বড় অবদান রাখেন সাকিব। এতে তিন ফরম্যাট মিলিয়ে উইকেট সংখ্যাটা ৬৯৮-এ নিয়ে গেছেন তিনি।

এখন পর্যন্ত ৬৭ টেস্টে ২৩৭, ২৪৭ ওয়ানডেতে ৩১৭ এবং ১১৮টি টি-টোয়েন্টিতে ১৪৪টি উইকেট শিকার করেছেন সাকিব। সব মিলিয়ে ৪৩২ ম্যাচে ২৮ দশমিক ১৫ গড় এবং ৩ দশমিক ৯০ ইকোনমি রেটে ৬৯৮ উইকেট আছে তার। এর মধ্যে ২৫ বার পাঁচ উইকেট এবং দু’বার ১০ উইকেট শিকার করেছেন তিনি।

বাংলাদেশী অন্যান্য বোলারদের চেয়ে অনেক এগিয়ে সাকিব। মাশরাফি বিন মর্তুজা ৩৮৯ উইকেট নিয়ে দ্বিতীয় এবং মোস্তাফিজুর রহমান ৩০৫ উইকেট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন।

বিশ্বের সপ্তম স্পিনার হিসেবে ৭ শ উইকেট শিকারের মাইলফলক স্পর্শ করার সুযোগ সাকিবের সামনে। অবশ্য কেবলমাত্র বাঁ-হাতি স্পিনারদের পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেট্টোরির পরই আছেন সাকিব। ৪৪২ ম্যাচে ভেট্টোরি ৭০৫ উইকেট নিয়েছেন।

তাই অলৌকিক কিছু না ঘটলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, খুব শীঘ্রই ভেট্টোরিকে টপকে ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল বাঁ-হাতি স্পিনার বনে যাবেন সাকিব।

আগস্টে ৩ দিনের ফোবানা সম্মেলন

আগামী ৩০ আগস্ট থেকে আমেরিকায় শুরু হচ্ছে ৩ দিনের ফেডারেশন অব বাংলাদেশী এসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা, ফোবানা সম্মেলন।

এ উপলক্ষে গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মলনে বক্তব্য রাখেন সম্মেলনের কনভেনার জাহাঙ্গীর কবীর বাবু, কমিটির সদস্য ও ট্রেজারার ফিরোজ আহমেদ ও অন্তর শো-বিজের চেয়ারম্যান স্বপন চৌধুরী।

এতে বলা হয়, বিশ্ব বাঙালীর এক মহামিলন মেলার নাম ফোবানা। ফোবানা সবার কাছে, বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালীদের কাছে এক আবেগের নাম, অনুভূতির নাম, এক মহামিলনের নাম।

এই মিলনমেলা প্রতিবছরই উত্তর আমেরিকার কোনো না কোনো শহরে ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে গত ৩৭ বছর ধরে।

১৯৮৭ সালে বৃহত্তর ওয়াশিংটনের কিছু মানুষ উত্তর আমেরিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বাঙালীদের একটি ছাদের নিচে নিয়ে আসার লক্ষ্য নিয়ে গঠন করেন নর্থ আমেরিকা বাংলাদেশ কনভেনশন এনএবিসি। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল বিশ্ব বাঙালীদের মিলন আর অনাবিল আনন্দে মেতে থাকা।

ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক, বোস্টোন, ডালাস সম্মেলন শেষে এই সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ফেডারেশন অফ বাংলাদেশী অ্যাসোসিয়েশন ইন নর্থ আমেরিকা ফোবানা।

আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট এবং ১ সেপ্টেম্বর হোটেল হিলটন, ওয়াশিংটন ডিসি, গেইতিজবারগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই সংগঠনটির ৩৮তম কনভেনশন।

তিন দিনব্যাপী জমকালো ও জাঁকালো এই কনভেনশনে উপস্থিত থাকবে বাংলাদেশ ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও বাংলাদেশী বিজনেস পারসনদের জন্য রয়েছে আমেরিকাসহ সারা পৃথিবী থেকে আগত বিজনেস পারসনদের সাথে ওপেন ডিসকাশন, বিজনেস আইডিয়া শেয়ার ও বিজনেস এক্সচেঞ্জের অবাধ সুযোগ।

পুরো কনভেনশন জুড়ে মিউজিকাল কনসার্টে থাকবে বিখ্যাত ও জনপ্রিয় শিল্পীরা।

এতে থাকবে ফ্যাশন শো সেমিনার, কমেডি শো, ট্রেড ফেয়ার বুক ফেয়ার, বাংলাদেশী ফিল্ম ফেস্টিভাল ও আকর্ষণীয় অনুষ্ঠান।

ফোবানার পক্ষ থেকে এই ৩৮তম কনভেনশনের অরগানাইজ ও সম্পূর্ণভাবে সফল করার দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশী আমেরিকান ফাউন্ডেশন। এক্সক্লুসিভ ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে শোবিজ বিগত ১২ বছর যাবত এই ফোবানার সাথে সম্পৃক্ত আছে। আছে অন্তর শোবিজ।

ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাওয়ে বাধা, বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বর্বর হামলার প্রতিবাদে গতকাল রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ছাত্র-জনতার ব্যানারে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও করতে গেলে পুলিশি বাধায় তা প- হয়ে যায়। পরে শাহজাদপুরে রাস্তায় অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সেখানে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি তোলেন তারা। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা ইসরায়েলের গণহত্যায় মদদ দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিন্দা জানিয়ে সারা বিশ্বকে ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার আহŸান জানান। এর আগে স্লোগানে স্লোগানে নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে গণহত্যা বন্ধের দাবি নিয়ে গতকাল দুপুর ১২টায় উত্তর বাড্ডার সুবাস্তু টাওয়ারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করা হয়। এরপর মার্কিন দূতাবাস অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এতে রাস্তায় থাকা সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই তাদের কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। পরে বিক্ষোভকারীরা উত্তর বাড্ডার প্রগতি সরণির জামালপুর টুইন টাওয়ারের বিপরীতে রাস্তায় সমাবেশ করেন। মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশের কারণে প্রায় এক ঘণ্টা সড়কের এক পাশের যান চলাচল বন্ধ থাকে। সমাবেশে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ফিলিস্তিনের গাজায় যে গণহত্যা চলছে, তা চলতে দেওয়া হলে পুরো মানবসভ্যতা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রকে বলতে চাই, ইসরায়েলকে গণহত্যার জন্য সহায়তা বন্ধ করুন। ফিলিস্তিনকে মুক্ত করুন। সমাবেশে উপস্থিত থেকে সংহতি জানান সংগীতশিল্পী সায়ান, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার, ছাত্রলীগ জেএসডির সভাপতি তৌফিকুজ্জামান, বাসদ মার্কসবাদীর কেন্দ্রীয় সদস্য জয়দেব ভট্টাচার্যসহ বামপন্থি বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধিরা।

সংঘর্ষে রণক্ষেত্র হবিগঞ্জ নিহত ৩, আহত ৫০

হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড দখল নিয়ে দুই পক্ষে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটেছে। এতে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক। গুরুতর অবস্থায় তাদের হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষ চলে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতরা হলেন বানিয়াচং উপজেলার আগুয়া গ্রামের শুকুর মিয়ার ছেলে সিএনজিচালক কাদির মিয়া (৩৫), বজলু মিয়ার ছেলে সিরাজ মিয়া (৩৬) ও আলী রাজার ছেলে লিলু মিয়া (৩৭)।
পুলিশ জানায়, আগুয়া বাজারের সিএনজিস্ট্যান্ড নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্ট্যান্ডের ম্যানেজার বদির মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের সোহেল মেম্বারসহ তার লোকজনের বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে দুপুর ১২টার দিকে ওই স্ট্যান্ডে গাড়ির সিরিয়াল নিয়ে বদির মিয়ার সঙ্গে সিএনজিচালক কাদির মিয়ার কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে দুই পক্ষে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। দুই ঘণ্টাব্যাপী তুমুল সংঘর্ষে বল্লম ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই কাদির মিয়া ও সিরাজ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া লিলু মিয়া ও আনু মিয়াকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক লিলু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে সংঘর্ষে নিহতের ঘটনায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে আগুয়া গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বানিয়াচং থানার (ওসি) দেলোয়ার হোসেন জানান, ফের সংঘর্ষসহ অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জড়িতদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।

২৫ বছর পর নায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার রায়

নব্বই দশকের চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলায় ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই ওরফে আব্দুল আজিজসহ তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনসহ ছয়জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ২৫ বছর পর বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় দেওয়া হয়েছে। ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অরুণাভ চক্রবর্তী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, সাক্ষীরা গা বাঁচিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাদের মধ্যে পক্ষপাতদুষ্টতা ছিল। অনেক সাক্ষী মারাও গেছেন। দীর্ঘকাল একটা মামলার বিচার চলতে পারে না। প্রতিটি মৃত আত্মাই তার বিচার চায়। আদালত আরও বলেন, আজিজ মোহাম্মদের সঙ্গে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর পূর্বশত্রুতা ছিল। বান্টি ঘটনাস্থলে ছিলেন, এটা প্রমাণিত। সোহেল চৌধুরী কোনো অপরিচিত ব্যক্তি নন।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া অপর দুই আসামি হলেন-ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক আফাকুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলাম ও আদনান সিদ্দিকী। যাবজ্জীবনের পাশাপাশি তাদের দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও ১ মাসের কারাভোগ করতে হবে। খালাস পাওয়া অপর আসামিরা হলেন-তারেক সাঈদ মামুন, সেলিম খান, হারুন অর রশীদ ওরফে লেদার লিটন, ফারুক আব্বাসী ও শীর্ষ সন্ত্রাসী আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরী।
রায় ঘোষণার আগে ইমনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আসামি আশিষ রায় জামিনে থেকে হাজিরা প্রদান করেন। অপর আসামিরা পলাতক ছিলেন।
রায় ঘোষণার পর ইমন বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি সঠিক বিচার পেয়েছি। এর আগে ২৯ এপ্রিল ঢাকার দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক অরুণাভ চক্রবর্তী রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার ধার্য করেন।
১৯৯৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীতে ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তার ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী গুলশান থানায় মামলা করেন। সোহেল চৌধুরী নিহত হওয়ার পরপরই এ হত্যাকাণ্ডে চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের কয়েক মাস আগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সঙ্গে সোহেল চৌধুরীর কথা কাটাকাটি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে সোহেল চৌধুরীকে হত্যা করা হয়। ঘটনার রাতে সোহেল তার বন্ধুদের নিয়ে ট্রাম্পস ক্লাবে ঢোকার চেষ্টা করেন। তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। রাত আড়াইটার দিকে আবারও তিনি ঢোকার চেষ্টা করেন। তখন সোহেলকে লক্ষ্য করে ইমন, মামুন, লিটন, ফারুক ও আদনান গুলি চালায়।
মামলার তদন্ত শেষে ১৯৯৯ সালের ৩০ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার আবুল কাশেম ব্যাপারী ৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করেন। ২০০১ সালের ৩০ অক্টোবর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। এর ২ বছর পর মামলাটির বিচার দ্রæত নিষ্পত্তির জন্য ঢাকার দুই নম্বর দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
মামলা দ্রæত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আসামি আদনান সিদ্দিকী ২০০৩ সালের ১৯ নভেম্বর হাইকোর্টে রিট করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০০৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রুলসহ আদেশ দেন।
বিচারপতি মো. রূহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ শুনানি শেষে ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট রায় দেন। রায়ে রুলটি খারিজ করে দেওয়া হয় এবং হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়। মামলায় ১০ জনের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে।