ঢাকা: বান্দরবানের রুমা ও থানচিতে তিনটি সরকারি ব্যাংকে ডাকাতি, অস্ত্র লুট, গোলাগুলি এবং ব্যাংক ম্যানেজার অপহরণের ঘটনায় জড়িত সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে সম্ভাব্য এলাকাগুলোতে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হচ্ছে। এদিকে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-১৫ সদস্যরা গতকাল ভোর রাতে বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারনপাড়ায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে চেওসিম বম (৫৫) নামে কেএনএফের প্রধান সমন্বয়কসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে ব্যাংকের শাখা বন্ধ থাকায় ঈদের আগে গ্রাহকদের ভোগান্তি বেড়েছে।
থানচি ও রুমায় কয়েক দফা সন্ত্রাসী হামলার পর সেখানে কেএনএফের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনে যৌথ বাহিনী চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। গতকাল সকালে বান্দরবানে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। এ সময় তিনি বলেন, ইতোমধ্যে চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন বাহিনী যৌথভাবে এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
এদিকে ব্যাংকে হামলার পর পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব; যাদের মধ্যে একজন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী বলে দাবি করেছে র্যাব। গ্রেফতার কেএনএফ নেতার নাম চেওসিম বম। তিনি বান্দরবান সুয়ালক ইউনিয়ন পরিষদের চার নম্বর ওয়ার্ডের শ্যারনপাড়ার বাসিন্দা। গতকাল বিকালে বান্দরবান জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১৫ এর ক্যাম্প কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন এসব তথ্য জানান। হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন আরও যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তাদের পরিচয় জানায়নি র্যাব। এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, চেওসিম বম কেএনএফের প্রধান নাথান বমের আত্মীয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার নেতা শামীম মাহফুজ ও নাথান বমের মধ্যে অর্থের বিনিময়ে প্রশিক্ষণের চুক্তি শ্যারনপাড়ার চেওসিম বমের বাড়িতেই হয়েছিল। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুয়ালক ইউনিয়নের শ্যারনপাড়ায় চেওসিম বমের বাড়িতে অভিযান চালানো হয় জানিয়ে র্যাবের ক্যাম্প কমান্ডার বলেন, ঘরের মধ্যে একটি লোহার লকারের ভিতর তাকে পাওয়া যায়। তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। লকারটি বাইরে থেকে তালা দেওয়া ছিল। তালা ভেঙে তাকে বের করে গ্রেফতার করা হয়।
পরে বান্দরবান সদর উপজেলার পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে র্যাব দুটি আগ্নেয়াস্ত্রও উদ্ধার করে। তবে এগুলো গত ২ এপ্রিল রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় ডাকাতির সময় সেখানকার পুলিশ ও আনসার সদস্যদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র কি না- তা এখনো জানা যায়নি।
বান্দরবানে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের কাছ থেকে লুট হওয়া ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলির হদিস পাঁচ দিনেও মেলেনি।
এদিকে থানচি, রোয়াংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সোনালী ব্যাংক ও কৃষি ব্যাংকের তিনটি করে ছয়টি শাখার কার্যক্রম গত বুধবার থেকে নিরাপত্তার কারণে বন্ধ রয়েছে। এ কারণে তিনটি উপজেলার বাসিন্দারা লেনদেন করতে না পারায় আর্থিক কষ্টে রয়েছেন। তিনটি উপজেলায় দুটি ব্যাংকের এ ছয়টি শাখা ছাড়া আর অন্য কোনো ব্যাংকের শাখা নেই। রুমায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় গত মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে হামলা করে অস্ত্রধারীরা ভল্টে থাকা ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা নিতে পারেনি। তবে ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক (ম্যানেজার) নিজাম উদ্দিনকে জিম্মি করে নিয়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রুমা থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব। ওইদিন পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস্ত্র ও ৪১৫টি গুলি লুট করে অস্ত্রধারীরা। এলাকাবাসীর মুঠোফোনও নিয়ে গেছে তারা। পরদিন বুধবার থানচি থানার দুটি ব্যাংকের শাখা থেকে সাড়ে ১৭ লাখ টাকা লুট করে অস্ত্রধারীরা। এ ঘটনায় রুমা ও থানচি থানায় পৃথক ছয়টি মামলা হয়।
এদিকে গত মঙ্গল ও বুধবার ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলা ও ব্যাংক ম্যানেজারকে অপহরণ ঘটনার পর থেকে রুমা উপজেলার জনজীবন থমকে আছে। হাটবাজারের দোকানপাট তেমন একটা খুলছে না। খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বের হচ্ছে না কেউ। এর ফলে বিকালের পর থেকেই উপজেলাজুড়ে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় অভ্যন্তরীণ রুটগুলোতে যানবাহন চলছে না।
অন্যদিকে শনিবার থেকে রুমা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় র্যাবের দুটি ইউনিট তল্লাশি চালাচ্ছে। এতে বম অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ছে। তবে র্যাব বলেছে, এই তল্লাশি অভিযানে নির্দোষ কোনো ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে না।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ মোজাহিদ উদ্দিন বলেন, ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা আরোপ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। এর ফলে জনজীবন ক্রমশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। বান্দরবানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান কাজেমী জানান, লুট হয়ে যাওয়া অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য আমরা চেষ্টা করছি। বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে এসব অস্ত্র কোথায় রয়েছে তার অনুসন্ধান চালাচ্ছি। আশা করছি, চলমান বিশেষ অভিযানে এসব অস্ত্র উদ্ধার করা যাবে।
চলছে চিরুনি অভিযান: কেএনএফের প্রধান সমন্বয়কসহ পাঁচজন গ্রেফতার
মসজিদ মিশন সেন্টারের কমিউনিটি ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কের হাজী ক্যাম্প মসজিদ হিসেবে পরিচিত জ্যামাইকার মসজিদ মিশন সেন্টারের উদ্যোগে কমিউনিটি ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রতি বছরের মতো এবছরও গত ৫ এপ্রিল শুক্রবার সেন্টারে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও নিয়মিত মুসল্লী সহ সর্বস্তরের সাড়ে চার শতাধিক ধর্মপ্রাণ নারী-পূরুষ অংশ নেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও এতে অংশ নেন। নিউইয়র্ক সিটি ছাড়াও লং আইল্যান্ড থেকেই অনেকে যোগ দেন এই মাহফিলে।

মাহফিলে মানব জাতির কল্যানে পবিত্র রমজানের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন মসজিদ মিশন সেন্টারের ইমাম মঞ্জুরুল করীম ও মুফতি আব্দুল মালেক। এছাড়াও বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন সেন্টারের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ রফিকুল ইসলাম।

মাহফিলে বক্তারা রমজানের শিক্ষা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং পবিত্র আল কোরআনের আলোকে জীবন গড়ার জন্য মুসল্লীদের প্রতি আহ্ববান জানান।
নারায়ণগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় মাওলানা মামুনুল হকের জামিন
ঢাকা: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ থানায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালত এ জামিন মঞ্জুর করেন। এদিন আসামিপক্ষে এডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়নসহ অন্য আইনজীবীরা মামুনুল হকের জামিনের শুনানি করলে আদালত শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। তবে জামিন শুনানির সময়ে মামুনুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এ বিষয়ে এডভোকেট একেএম ওমর ফারুক নয়ন বলেন, আমরা জামিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছি। মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্ট তুলে ধরেছি। রিপোর্টে বাদী বলেছেন স্বেচ্ছায় শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। মামুনুল হকের সঙ্গে আমার বিবাহের সম্পর্ক চলমান। এছাড়া বাদীর ছেলে আদালতে সাক্ষী দিয়েছেন তার মায়ের সঙ্গে মামুনুল হকের বিবাহ হয়েছে। আদালত আমাদের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেছেন। এদিকে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে করা ধর্ষণ মামলায় সাক্ষী ও জেরা চলমান রয়েছে।
১৯শে মার্চ নারায়ণগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক নাজমুল হক শ্যামলের আদালতে মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর এসএম শফিকুল ইসলামকে তৃতীয় দফায় জেরা করা হয়। জেরা শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আরও একদিন জেরার জন্য সময় চাইলে আদালত ২৩শে এপ্রিল পরবর্তী জেরার দিন ধার্য করেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩রা এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে রয়েল রিসোর্টে এক নারীর সঙ্গে অবস্থান করছিলেন মামুনুল হক। ওই সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এসে তাকে ঘেরাও করেন। পরে স্থানীয় হেফাজতের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এসে রিসোর্টে ব্যাপক ভাঙচুর করেন এবং তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। ঘটনার পর থেকেই মামুনুল হক মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহ্মানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসায় অবস্থান করে আসছিলেন। এরপর ২০২১ সালের ১৮ই এপ্রিল মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহ্মানিয়া আরাবিয়া মাদরাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মামুনুলকে। পরে ৩০শে এপ্রিল সোনারগাঁ থানায় মামুনুল হকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ মামলা করেন ওই নারী। তবে ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে আসছিলেন মামুনুল হক।
জমজমাট ঈদ কেনাকাটা
ঢাকা: ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ক্রেতাদের ভিড়ে জমজমাট হয়ে উঠেছে রাজধানীর বাজারগুলো। নামিদামি শপিং মল থেকে শুরু করে মাঝারি এবং ছোট পরিসরের দোকানেও জমে উঠেছে কেনাকাটা। গতকাল রাজধানীর নিউমার্কেট, গাউসিয়া, বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মৌচাক মার্কেটের বিপণিবিতানগুলো ক্রেতাদের উপস্থিতিতে ছিল সরগরম।
এবার ঈদের আমেজের মধ্যেই আসছে পয়লা বৈশাখ। চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে ঈদের দুই দিন বাদেই বাংলা নববর্ষ আসছে। যে কারণে এবার ঈদ ও বৈশাখের কেনাকাটা একসঙ্গে কিনছেন অনেকেই। গরম এবং উৎসবের কথা মাথায় রেখে পাতলা নরম কাপড়ের মধ্যে বাহারি রঙের পোশাক কিনছেন অধিকাংশ ক্রেতা। পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনকে উপহার দিতে চলছে কেনাকাটা।
ঈদ কেনাকাটায় রাজধানীবাসীর আস্থার জায়গা বসুন্ধরা সিটি শপিং মল। গতকাল শপিং মল ঘুরে দেখা যায়, আট তলা মার্কেটের প্রতিটি তলাই লোকে লোকারণ্য। সবচেয়ে বেশি ভিড় পোশাকের দোকানগুলোতে। শপিং মলে পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে আজই প্রথম কেনাকাটা করতে এলাম পরিবার নিয়ে। সব বয়সী মানুষের বিভিন্ন দামের পোশাক থেকে শুরু করে চাহিদামতো সব সামগ্রীই এখানে পাওয়া যায়।
ঈদ বাজারের বিক্রির বিষয়ে ফ্যাশন হাউস দর্জিবাড়ির বিক্রয়কর্মী জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবার রোজার শুরু থেকেই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। আমরা যতটা আশা করছি তার চেয়ে বেশি ক্রেতাদের সাড়া পাচ্ছি। আমাদের আরও আউটলেট রয়েছে সারা দেশে তবে বসুন্ধরা সিটিতেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। আমাদের এখানে পাঞ্জাবি সবচেয়ে বেশি চলছে। পাশাপাশি ক্যাজুয়াল শার্টও বিক্রি হচ্ছে।
জ্যোতি ফ্যাশনের ম্যানেজার আরিফ হোসেন বলেন, গত বছর থেকে এই বছর ঈদ উপলক্ষে বসুন্ধরা সিটিতে কেনাবেচা বেশি হচ্ছে। শুক্র-শনিবার বা ছুটির দিনগুলোতে ভালো বেচাকেনা হয়। এ বছর অরগাঞ্জা, মসলিনের ওপর শাড়িগুলো অনেক বেশি চলছে। পাশাপাশি গাদওয়াল, কাঞ্জিপুরাম শাড়িগুলো ক্রেতারা খুব পছন্দ করছে। পার্টি লেহেঙ্গা, গাউনও বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কাপল ড্রেস ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার, গাউন ১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার, সারারা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকায়।
বসুন্ধরা সিটিতে জুতার দোকানগুলোতেও ছিল নানান বয়সী মানুষের ভিড়। বাটার বিক্রয়কর্মী জমসেদ মজুমদার জানান, রমজানের শুরু থেকেই তাদের কেনাবেচা একেবারে খারাপ ছিল না। তবে এখন ঈদের সময় যত ঘনিয়ে আসছে বিক্রি তত বাড়ছে। সামনে বিক্রি আরও বাড়বে বলে জানান তিনি।
নিউমার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যবসায়ীদের যেন দম ফেলার ফুসরত নেই। নিউমার্কেট থেকে মেয়ের জন্য থ্রিপিস কিনেছেন হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় দাম কমপক্ষে ১৫ শতাংশ বেশি মনে হয়েছে পোশাকের। তবে কষ্ট করে হলেও ঈদের সময় পরিবারের সদস্যদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে হবে।’
স্বল্পমেয়াদি ঋণ বাড়ছে, শ্রীলঙ্কা এ ফাঁদেই পড়েছিল: রেহমান সোবহান
ঢাকা: সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর রেহমান সোবহান বলেছেন, দেশে স্বল্প মেয়াদি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে, আর শ্রীলঙ্কা এই ঋণের ফাঁদেই পড়েছিল। গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে সিপিডি ও এশিয়া ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা’ শীর্ষক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রফেসর রেহমান সোবহান বলেন, শ্রীলঙ্কা স্বল্পমেয়াদি ঋণের ফাঁদে পড়েছিল, বাংলাদেশেও এমন ঋণ বাড়ছে। দেশের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলো বিদেশি ঋণে করা হচ্ছে। এসব প্রকল্পে প্রয়োজনের চেয়ে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি ব্যয় হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শ্রীলঙ্কা স্বল্পকালীন ঋণের ফাঁদে পড়েছিল। রপ্তানি কমে আসায় এসব ঋণ যথাযথভাবে পরিশোধ করতে পারেনি দেশটি। আফ্রিকার কিছু দেশেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ তেমন অবস্থানে নেই। কিন্তু দেশে স্বল্প মেয়াদি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। এমন অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে করের মাধ্যমে সরাসরি অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।
এ ছাড়া কর ব্যয় এবং প্রণোদনা পর্যালোচনা, করের আওতা বাড়ানো, কর ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো-টলারেন্স নীতি অনুসরণ, তহবিলের নতুন উৎস খোঁজা, উন্নয়ন অর্থের উৎস বৈচিত্র্যকরণ, বেসরকারি খাতের ঋণে সতর্কতা, নমনীয় বিনিময় হার এবং প্রকল্প নির্বাচনে সতর্কতা, ঋণ পুনর্গঠনের সুবিধা গ্রহণ, প্রধান আমদানিকারক উৎস থেকে বাণিজ্য অর্থায়নের জন্য রেয়াতযোগ্য ঋণের সন্ধান করার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন প্রমুখ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ঋণ ও পরিশোধের বাধ্যবাধকতা বাড়ছে যা সরকারকে অপর্যাপ্ত রাজস্ব আদায়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধের জন্য ক্রমাগত নতুন ঋণ নিতে বাধ্য করছে। প্রকৃতপক্ষে আমরা পাবলিক ও পাবলিকলি গ্যারান্টিযুক্ত ঋণের দায়বদ্ধতার একটি বড় অংশ পরিশোধের জন্য ঋণ নিচ্ছি। তাই দ্রæত অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ বাড়ানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। জিডিপি, রাজস্ব আয়, রপ্তানি, রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সঙ্গে তুলনা করলে বৈদেশিক ঋণ ও ঋণ পরিশোধের দায়বদ্ধতার দ্রæত বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এর সঙ্গে ঋণ বহনের সক্ষমতা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা উদ্বেগ তৈরি করেছে। দিন শেষে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ গুরুত্বপূর্ণ, যা অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি উভয় ঋণ পরিশোধের জন্য বিবেচনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, অভ্যন্তরীণ সম্পদের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ দেশি ও বিদেশি ঋণের মূল ও সুদ পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে। বৈদেশিক ও অভ্যন্তরীণ ঋণ প্রসঙ্গে ড. দেবপ্রিয় বলেন, তিন বছর আগে মানুষের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ টাকা। এখন তা দেড় লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
জনসেবা করে ভবিষ্যতের ভোট নিশ্চিত করুন: প্রধানমন্ত্রী
ঢাকা: জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত। জনগণের সেবা যদি নিশ্চিত করতে পারেন ভবিষ্যতে আপনাদের ভোটের কোনো চিন্তা থাকবে না। মানুষই আপনাদের ওপর আস্থা রাখবে, বিশ্বাস রাখবে।
গতকাল সকালে তেজগাঁও কার্যালয়ের শাপলা হলে কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ দুই সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র, পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধিদের জনকল্যাণে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস কোনোভাবেই হারাবেন না। তাই তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেই অনুযায়ী মানুষের জন্য কাজ করুন। তিনি বলেন, সরকার দেশের প্রতিটি এলাকার উন্নয়ন করেছে। তৃণমূলের মানুষকে ঘিরেই এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে এবং বর্তমান উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, কভিড-১৯ এর মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, স্যাংশন-কাউন্টার স্যাংশন, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি; প্রত্যেকটা খাদ্যপণ্যের দাম বেড়ে গেছে। ভোজ্য তেলের দাম বেড়ে গেছে, জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে, গ্যাসের দাম বেড়েছে, পরিবহন খরচ বেড়েছে। এগুলো যদি না হতো, আমরা কিন্তু আরও দ্রæত এগিয়ে যেতে পারতাম। আমাদের দারিদ্র্যের হার আরও কমাতে পারতাম।
সরকারপ্রধান বলেন, ইতোমধ্যে দেশের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। যেটা আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। এ পরিবর্তন ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে জনগণের কাছে দেওয়া ওয়াদা আপনাদের রক্ষা করতে হবে। জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরী গড়ে তোলা তাঁর সরকারের লক্ষ্য। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা দিয়েছি ‘আমার গ্রাম, আমার শহর।’ অর্থাৎ গ্রামের মানুষ সব নাগরিক সুবিধা পাবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্নাতক অর্জন কার্যকর।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত প্রথম নারী মেয়র তাহসিন বাহার সূচনা এবং ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাচিত মেয়র ইকরামুল হক টিটুকে শপথবাক্য পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হবিগঞ্জ- এই পাঁচ জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের শপথবাক্য পাঠ করান।
পাঁচ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হলেন : কুড়িগ্রামের এ এন এম ওবায়দুর রহমান, ঠাকুরগাঁওয়ের আবদুল মজিদ, সিরাজগঞ্জের শামীম তালুকদার লাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিল্লাল মিয়া ও হবিগঞ্জের আলেয়া আক্তার। পরে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সাধারণ ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত ৪৪ জন কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত নারী আসনের কাউন্সিলররাও একই অনুষ্ঠানে শপথ নেন। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহাম্মদ ইব্রাহিম।
গত ৯ মার্চ সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে বিজয়ী হন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের মেয়ে তাহসিন বাহার সূচনা। তিনিই কুমিল্লার প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র হলেন। একই দিনে অনুষ্ঠিত ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন ইকরামুল হক টিটু।
বান্দরবানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী: পাহাড়ে ভয়ংকর কুকি-চিন
ঢাকা ডেস্ক: পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) শান্তির পাহাড়ে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। পরপর দুই দিনে তিনটি সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় ঢুকে টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাহাড়ে শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে অনেকগুলো ভার্চুয়াল বৈঠকের পর গত বছরের ৫ নভেম্বর শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ও কেএনএফের প্রথম সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গত ৬ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক। এর মধ্যে পাহাড়ে বড় ধরনের কোনো সশস্ত্র তৎপরতা দেখা যায়নি। হঠাৎ করে পরপর তিনটি ব্যাংকে ডাকাতির ঘটনায় কেএনএফ সম্পর্কে অনেক প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। এর আগে সর্বশেষ গত বছরের শুরুতে দুর্গম পাহাড়ে অস্ত্রের গর্জন শোনা যায়। গত বছরের ৭ এপ্রিল বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে কেএনএফ সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় আটজন নিহত হন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, কেএনএফের সশস্ত্র শাখা কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মির (কেএনএ) সদস্যরা স¤প্রতি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের ওপর নির্বিচারে হামলা, লুটপাট ছাড়াও সরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্তদের খুন, জখম ও অপহরণের ঘটনাও ঘটায় কুকি সন্ত্রাসীরা। স্থানীয় নিরীহ পাহাড়ি বাসিন্দাদেরও হুমকি-ধমকি ও নির্যাতন করে তারা। কেএনএফের এ তাণ্ডবের কারণে জীবন বাঁচাতে নিজ পাড়া বা বসতভিটা ছেড়ে উপজেলা সদরে আশ্রয় নিয়েছেন বহু পাহাড়ি বাসিন্দা। স্থানীয় পর্যায়ে আতঙ্ক ছড়াতে পাহাড়ের শান্তি-শৃঙ্খলা ও স¤প্রীতি রক্ষায় নিয়োজিত সেনাবাহিনীর টহল দলের ওপরও তারা অতর্কিত সশস্ত্র হামলা চালায়। কিন্তু গত মঙ্গল ও বুধবার তিনটি সরকারি ব্যাংকের শাখায় ঢুকে নগদ টাকা লুটে নেওয়ার ঘটনায় নতুন বার্তা পাওয়া যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। টাকার অভাবে কেএনএফ লুটপাটে জড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, ব্যাংক লুটের আগে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে থানচি বাজারে গুলি ছুড়তে ছুড়তে দোকানগুলো থেকে মোবাইল সেট ও নগদ টাকা কেড়ে নেয় অস্ত্রধারীরা। পরে সোনালী ব্যাংক এবং কৃষি ব্যাংকে ঢুকে ক্যাশ কাউন্টার থেকে টাকা লুটতরাজ করে চলে যায়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, পাহাড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ক্রমাগত অভিযানের পর কথিত বিচ্ছিন্নতাবাদী কেএনএফের কুকিল্যান্ডের সেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। কেএনএফের সশস্ত্র শাখা ‘কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ)’ পার্বত্য এলাকায় যেসব আস্তানা গেড়েছিল সেগুলোর অধিকাংশই এখন সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। ফলে সশস্ত্র তৎপরতার শক্তি ও সুযোগ হারিয়ে কুকি সন্ত্রাসীরা এখন বিচ্ছিন্নভাবে চাঁদাবাজি ও মুক্তিপণের জন্য অপহরণের ঘটনা ঘটাচ্ছে। বাজারে হামলা ও ব্যাংক লুটের ঘটনা তারই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও বেশকিছু অপহরণ ও চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে কেএনএফ বা কেএনএর সম্পৃক্ততা পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কেএনএফ বা কেএনএ ছাড়াও পার্বত্য তিন জেলায় চাঁদাবাজির আধিপত্য নিয়ে জেএসএস, ইউপিডিএফসহ অন্য আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোও বেপরোয়া সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি তৎপরতা গত এক বছর ধরে সক্রিয় ছিল। তারই অংশ হিসেবে গত ৫ নভেম্বর প্রথম সরাসরি বৈঠক করে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি ও সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ)। বৈঠকে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির পক্ষে নেতৃত্ব দেন কমিটির আহŸায়ক ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা। গত ৬ মার্চ দ্বিতীয় সরাসরি বৈঠক হয় তাদের সঙ্গে। দ্বিতীয় দফা সরাসরি আলোচনায় ৭টি বিষয় নিয়ে সমঝোতা হয়েছিল। এর মধ্যে কেএনএফের মামলা প্রত্যাহার, জেলে আটক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া, মিজোরামে পালিয়ে যাওয়া নাগরিকদের ফিরিয়ে এনে পুনর্বাসন করা, চাঁদাবাজি বন্ধ, কেএনএফ সদস্যদের স্বাভাবিক জীবনে নিয়ে এসে চাকরি দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকে সন্ত্রাসী হামলার পর গতকাল কেএনএফের সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করেছে শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটি। ১৯ সদস্যের শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম মনু গতকাল বিকালে বলেন, আমরা অনেকগুলো বৈঠক করে শান্তি প্রতিষ্ঠার সংলাপ ভালোই এগিয়ে নিচ্ছিলাম। এই সময়ে কোনো বড় ঘটনাও ঘটেনি। তিনি বলেন, হঠাৎ তাদের এই কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে, কমান্ড পর্যায়ে কোনো পরিবর্তন এসেছে। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে সশস্ত্র এই সংগঠনটি। নগদ টাকার প্রয়োজন থেকেই তারা বাজার ও ব্যাংক ডাকাতির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নেমেছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতায় তাদের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটা পর্যুদস্ত অবস্থায় রয়েছে। তারা হয়তো মনে করছে, পৃথক কুকিল্যান্ডের স্বপ্নপূরণ সম্ভব নয়। সেজন্যই তারা শক্তির জানান দিতে চাইছে। এদিকে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অপহৃত সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার নিজাম উদ্দিন রাসেলকে অপহরণের দুই দিন পর গতকাল সন্ধ্যায় উদ্ধার করা হয়েছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ধরতে নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে পার্বত্য গণপরিষদের উদ্যোগে বান্দরবান প্রেস ক্লাব চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মুজিবুর রহমান অবিলম্বে পার্বত্য চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সভাপতি কাজী মুজিবুর রহমান বলেন, পার্বত্য এলাকায় তারা (কেএনএ) এখনো তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের তাণ্ডবের কারণে রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচি উপজেলায় যাতায়াত ও পর্যটকদের চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সবখানেই একটা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপত্তা বাহিনীর মোটামুটি শক্ত অবস্থান রয়েছে। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ ও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। পার্বত্য অঞ্চলের স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে আরও অনেক সেনা ক্যাম্প চালু করা এখন সময়ের দাবি। যেসব স্থান থেকে একসময় সেনা ক্যাম্প প্রত্যাহার করা হয়েছিল সেগুলোও দ্রæত চালু করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ দিয়ে পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
অটিস্টিক শিশুদের অধিকার, মর্যাদা এবং মঙ্গল নিশ্চিতকরণে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান জানালেন রাষ্ট্রদূত মুহিত
নিউ ইয়র্ক: জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস পালনকালে অটিস্টিক শিশুদের অধিকার, মর্যাদা এবং মঙ্গল নিশ্চিতকরণে সচেতনতা বাড়াতে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত মুহিত।
বাংলাদেশ, ঘানা, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, কাতার ও জাম্বিয়া যৌথভাবে, অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সাথে নিয়ে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই ইভেন্টের আয়োজন করে। এই ইভেন্টেটি দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকালে অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং বিকালের দ্বিতীয় পর্বে অটিস্টিক শিশুদের চিত্রকলা ও ফ্যাশন সামগ্রী নিয়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত এবং ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত ম্যানুয়েল এল. ল্যাগডেমিও যৌথভাবে ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে, বিশ্বে অটিজমের প্রবনতা বৃদ্ধিতে অটিস্টিক শিশু ও তাদের পরিবার যে সকল প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে তা মোকাবেলায় সচেতনতা বৃদ্ধিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ ত্বরান্বিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে বাংলাদেশ। ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি ১০০ জনে ১ জনের অটিজম সনাক্ত হচ্ছে উল্লেখ করে তাদের সার্বিক মঙ্গল নিশ্চিতকরণ ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রচেষ্টা বৃদ্ধির বিষয়টিও তুলে ধরে বাংলাদেশ।
এছাড়াও, ২০১১ সালের “অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার ও ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার” বিষয়ক ঢাকা ঘোষণার উল্লেখ করে বাংলাদেশ জানায় বিশ্বের মোট অটিজমে সনাক্ত মানুষের ১৫ শতাংশ দক্ষিণ এশিয়ায় বসবাস করে এবং এই অঞ্চলে অটিজম বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমূহ অগ্রগতি হয়েছে। এক্ষেত্রে যারা স্বতঃপ্রনোদিত হয়ে অটিস্টিক শিশুদের সেবা প্রদান করছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে, তাঁদের অনন্য ভূমিকার বিষয়টি বাংলাদেশ সামনে নিয়ে আসে। ঢাকা ঘোষণা এবং তদ্পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে অটিস্টিক শিশুদের অন্তর্ভুক্তি, অংশগ্রহণ ও কমিউনিটি ভিত্তিক সেবা প্রদানে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলেও বাংলাদেশ উল্লেখ করে।
বিশ্বে বিশেষত উন্নয়নশীল দেশসমূহে অটিস্টিক শিশুদের সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা, সহযোগিতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণে বিদ্যমান ঘাটতির বিষয়টি উল্লেখ করে, অটিস্টিক শিশুদের শিক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি, এবং মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে পারস্পরিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আহবান জানায় বাংলাদেশ।
আলোচনা পর্বের পর অটিস্টিক শিশুদের চিত্রকলা ও ফ্যাশন সামগ্রী নিয়ে আয়োজিত প্রদর্শনীতে কূটনীতিবিদ, স্বতঃপ্রনোদিত অটিজম বিষয়ক কর্মী, অভিভাবক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং অটিস্টিক শিশুসহ বিপুল সংখ্যক দর্শক অংশগ্রহণ করেন।
নিউ জার্সিতে কৃষ্ণাঙ্গ ভাড়া করে হত্যার হুমকিতে আতঙ্কিত বাংলাদেশি পরিবার
ইমা এলিস/ নিউ ইয়র্ক: যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে এসে স্ত্রীসহ তার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশি এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ অব্যাহত হত্যার হুমকি দিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ওয়েস্ট বার্লিন পুলিশের ‘ধরিয়ে দিন’ তালিকাভুক্ত বাংলাদেশি যুবক গৌরব সাঞ্জারি। স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার ও জামিন পাওয়া গৌরবের বিরুদ্ধে নিউ জার্সি সুপরিয়র আদালত থেকে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পুলিশের হাতে পুনঃ গ্রেপ্তারের ভয়ে প্রায় এক বছর আগে বাংলাদেশে পালিয়ে যায় গৌরব।
বাংলাদেশে বসেই স্ত্রী ও তার পরিবারকে অব্যাহত হত্যার হুমকির পাশাপাশি ভয়ানক কল্পকাহিনী সাজিয়ে গণমাধ্যমকে বোকা বানাচ্ছেন। তিনি অজ্ঞাত (নম্বর বিহীন) ফোন নম্বর ব্যবহার করে নিউ জার্সির ওয়েস্ট বার্লিন পুলিশকেও হয়রানি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গৌরব সাঞ্জারি বাংলদেশে গিয়ে কিছু বেসরকারি টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাম্প্রতি তার স্ত্রী কনিকা মজুমদার ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। অভিযোগে বলেন, স্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায় একটি মানবপাচার চক্র। এমনকি দেহ ব্যবসায়ও বাধ্য করা হয় তাকে। একপর্যায়ে মুক্তিপণ হিসেবে দেশে থাকা পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে ওই চক্রটি।
গৌরব সাঞ্জারির এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে তার স্ত্রী কনিকা মজুমদার এ প্রতিনিধিকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রে যৌনকর্ম পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকাকালীন সময়ে কখনই পুলিশের কাছে কিংবা আমাকেও জানায়নি এ ধরনের অভিযোগের কথা। উল্টো অভিযোগ করে গৌরবের স্ত্রী বলেন, পাইলস অপারেশনের এক্স-রে ও কোলনোস্কোপির ছবি দেখিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে বলে বেড়াচ্ছেন। এসব করে গৌরব আমাকে এবং আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্নই করেননি, কলঙ্কিতও করেছেন। তার এসব বক্তব্যকে সম্পূর্ন কাল্পনিক, বাস্তবের সঙ্গে এর কোনো মিল নেই বলে দাবি করেন তিনি।
কনিকা মজুমদার আরও বলেন, নিউ জার্সির ক্যামডেন সুপরিয়র আদালত থেকে গত ১৬ নভেম্বর ২০২৩ সালে ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে (মামলা নম্বর-২২০০৪৪৫৫)। যুক্তরাষ্ট্র থেকে পলাতক একজন দাগী আসামিকে আশ্রয় দিয়েছে বাংলাদেশ। পালিয়ে থেকে তিনি ই-মেইলে কৃষ্ণাঙ্গদের ভাড়া করে পরিবারের সব সদস্যদের মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। তার হুমকির ফলে পরিবারের সবাইকে নিয়ে আতঙ্কে দিন পার করছেন কনিকার পরিবার। এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশ ডিপার্টমেন্টেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।
কনিকা আরও বলেন, গৌরব সাঞ্জারির দেশের বাড়ি চট্টগ্রামের জুবলি রোডে। বাবা শিবু শীল একজন লোহালক্কড় ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে নিউ জার্সি স্টেটের ক্যামডেন কাউন্টি ফ্যামিলি কোর্টের চূড়ান্ত আদেশের শুনানিতে নানা অজুহাত দেখিয়ে অনুপস্থিত থাকছেন। এর ফলে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়াও গৌরবের বিরুদ্ধে নিউ জার্সি সুপরিয়র আদালত থেকে বিভিন্ন অভিযোগে ১৬ নভেম্বর ২০২৩ আরও ৮টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
ক্যামডেন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিসও গৌরব সাঞ্জারির বিরুদ্ধে প্রাক-অভিযোগ শুনানির দিন ধার্য করেন। গৌরব প্রাক-অভিযোগ শুনানির দিনেও অনুপস্থিত ছিলেন। তাই, ক্যামডেন কাউন্টি প্রসিকিউটর অফিস থেকেও তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। বর্তমানে গৌরব যুক্তরাষ্ট্রে একজন পলাতক আসামি। আমেরিকান মার্শাল অফিস এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে তাকে গ্রেপ্তা্রের জন্য ‘রেড এলার্ট জারি’ করা হয়।
গৌরব প্রতিদিন বিভিন্ন নম্বর ব্যবহারের মাধ্যমে ফোন করে কনিকার পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং তার বন্ধুদের হুমকি দেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার যেমন ডিজিএফআই, এনএসআই নামও ব্যবহার করছেন ফোন করার সময়। ফোন করেই বলেন ‘হ্যালো আমি ডিজিএফআই, এনএসআই অফিস থেকে বলছি।’
কনিকা দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার পরিবারকে হেয় করতে গৌরবের বাবা শিবু শীল চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি আমিসহ পরিবারের সদস্যদের নামে একটি মানব পাচার মামলা করেন। এ মামলার অভিযোগ খুবই হাস্যকর। মামলাটি মানব পাচার আইনে হলেও অভিযোগ করা হয়েছে যৌন নির্যাতনের।
এছাড়াও গৌরব তার ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করে আমার দুলাভাইকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের অপরিচিতদের ফোন ব্যবহার করে মিথ্যা মামলা করার ভয় দেখাচ্ছেন। স্বজনদের মেয়েদের কিডন্যাপ করার হুমকি দিচ্ছেন।
কনিকার বড় বোন শিল্পী মজুমদার বলেন, গৌরব আমার পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয় কাগজপত্র ও কিছু ডলার নিয়ে যায়। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বড় ভাইয়ের স্ত্রীর (প্রণিতা মজুমদার) বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানা ফৌজদারি মামলা করে তার কপি ঢাকার আমেরিকান দূতাবাসে পাঠিয়েছেন।
গৌরবের বাবা বাদী হয়ে চট্রগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন মেজিস্ট্রেট কোর্টে কনিকার বড় ভাইয়ের স্ত্রী, তার বড় ভাইকে আসামি করে আরেকটি ফৌজদারি মামলা করেন। এজাহারে উল্লেখ করেন, তার ছেলে গৌরব সাঞ্জারি কোথায় আছেন তিনি জানেন না।
কনিকার বড় ভাই রাজিব মজুমদার বলেন, গৌরব বেশ কয়েকটি মামলা দিয়ে দেশে আমার পরিবারকে হয়রানি করছে। ভুয়া মামলা্র কাগজ দেখিয়ে আমার স্ত্রী সন্তানের যুক্তরাষ্ট্রে আসার ভিসা বাতিল করার সব বন্দোবস্ত সে করেছে। দেশে আমার পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
কনিকার মা বীণা মজুমদার বলেন, আমেরিকায় যা ঘটেছে এর জন্য দেশে আমার ছেলে পরিবারকে জীবন নাশের হুমকিসহ ছোট নাতি নাতনিরা কেন তার খেশারত দেবে। তাদের ভবিষ্যৎ জীবনটাকে নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। আমি এসব ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তসহ আমেরিকা থেকে পলাতক আসামীর গ্রেপ্তার দাবি করছি।
২০১৮ সালের নভেম্বর বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় ফেরার সময় কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিউইয়র্কগামী একটি ট্রানজিট (সংযোগ) স্থলে প্রথম দেখা হয় গৌরব-কনিকার। এরপর দীর্ঘদিনের পারিবারিক আলোচনার মধ্যে উভয়ের সম্মতিতে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর তাদের বিয়ে হয়। নিয়ম অনুসারে কনিকার স্বামী গৌরব সাঞ্জারির অভিবাসন ভিসা নিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন।
কিছুদিন দাম্পত্য জীবন ভালই ছিল। গ্রীন পাবার পর থেকেই সংসারে কলহ শুরু হয়। প্রথমে বাজে আচরণ করতে থাকেন। অশ্লীল ভাষায় গালিগাল শুরু করেন কনিকাকে। এক পর্যায়ে দিন দিন এর মাত্রা বেড়ে যেতে থাকে। মারধর করা শুরু করেন। অত্যাচারের মাত্রা সীমার বাইরে চলে যায়।
২০২২ সালের ২৪ জুলাই কনিকাকে বেদম মারধর করেন। গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার চেষ্টা করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে রক্ষা করেন। পরে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এ ঘটনার পর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুইদিন পর গৌরব সাঞ্জারি জেল থেকে জামিন নিয়ে বের হন। নিউ ইয়র্কে কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে যান।
ধর্মান্তরিত হয়েছেন বিশ্বের যেসব তারকা
বিশ্বজুড়ে গত কয়েক দশকে সংস্কৃতি জগতের অনেক তারকাই ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। হলিউড কিংবা বলিউড হোক, পরিবেশ পরিস্থিতি ও দর্শনগত কারণে তাদের এ ধর্মান্তর হওয়া। এক্ষেত্রে তারা কোন ধর্ম থেকে এসেছেন সেটা মুখ্য নয়। শুধু জানিয়ে দিচ্ছি-কারা এই তারকা।
জেনিফার গ্রাউত : আমেরিকান কণ্ঠশিল্পী জেনিফার গ্রাউত। ইসলাম ধর্ম নিয়ে গবেষণা করতে করতে তিনি এ ধর্মের ভক্ত হয়ে যান ও তা গ্রহণ করে এর অনুসারী হন। ২০১৩ সালে ‘আরব গট ট্যালেন্ট’-এর ফাইনালিস্ট হয়েছিলেন তিনি। আরবি গানেই তিনি তার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন।
টিয়ারা জ্যাকুলিনা : ১৯৮৮ সালে মালয়েশিয়ান সিনেমায় অভিষেক হয়েছিল টিয়ারা জ্যাকুলিনার। ১৯৯৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বেয়ন্ড রেঙ্গুন’ ছিল তার সুপারহিট সিনেমা। ২০০৪-এর পর আর সিনেমায় অভিনয় করেননি তিনি। ১৯৯৩ সালে অভিনেতা মানি মোহসিনকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এই তারকা। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়িও হয়।
দিপিকা কক্কর : ভারতীয় অভিনেত্রী দিপিকা কক্কর ২০১৮ সালে সহ-অভিনেতা শোয়েব ইব্রাহীমকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম ধারণ করেন দিপিকা ইব্রাহীম ফাইজা। মূলত তিনি টিভি অভিনেত্রী হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছিলেন।
রাখি সাওয়ান্ত : ভারতীয় মডেল, অভিনেত্রী ও নৃত্যশিল্পী রাখি সাওয়ান্ত মুসলিম হন ২০২২ সালে। তার প্রথম স্বামী নন-রেসিডেন্ট ইন্ডিয়ান রিতেশের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর আদিল খান দুররানিকে বিয়ে করতে ধর্মান্তরিত হন। পরে তার নাম হয় ফাতিমা দুররানি।
এ.আর. রহমান : ভারতের বিখ্যাত সংগীত তারকা এ.আর. রহমানের পূর্ব নাম ছিল এ.এস. দিলিপ কুমার মুধালিয়া। ১৯৮৯ সালে তিনি পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে ধর্মান্তরিত হয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। এরপরই নিজের নাম রাখলেন আল্লা রাখা রহমান, যা সংক্ষেপে এ.আর. রহমান।
কবির সুমন : ১৯৯২ সালে ডেইব্যু অ্যালবাম তোমাকে চাই দিয়ে সংগীতশিল্পী হিসাবে দুই বাংলায় পরিচিতি পান কলকাতার সুমন চট্টোপাধ্যায়। ২০০০ সালে বাংলাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি। পরে তার নাম হয় কবির সুমন। বসে আঁকো, ইচ্ছে হলো, গানঅলা, ঘুমাও বাউন্ডুলে, চাইছি তোমার বন্ধুতা, নিষিদ্ধ ইশতেহার তার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি অ্যালবাম।
শর্মিলা ঠাকুর : ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেট তারকা মনসুর আলী খানকে বিয়ে করে ১৯৬৮ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। এরপরই তার নাম হয় আয়েশা সুলতানা। ৫০টিরও বেশি সিনেমার এই অভিনেত্রীর ছেলে সাইফ আলী খান, মেয়ে সোহা আলী খানও বলিউডে প্রতিষ্ঠিত। আরেক মেয়ে সাবা আলী খান মনোযোগী হন ব্যবসায়।
মাইকেল জ্যাকসন : পাশ্চাত্যের কিংবদন্তি পপতারকা মাইকেল জ্যাকসন ২০০৮ সালে ৫০ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মিকাইল নাম ধারণ করেন। সে সময় দি সান পত্রিকা জানিয়েছিল টুপি ও জুব্বা পরে আরব শেখদের মতো কুরআন হাতে নিয়ে ইমামের সামনে বসেছিলেন। পরের বছর ২৫ জুন তার মৃত্যু হয়। এ কিংবদন্তি শিল্পীর উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে- গট টু বি দেয়ার, বেন, মিউজিক অ্যান্ড মি, থ্রিলার, ব্যাড, ডেঞ্জারাস প্রভৃতি।
জেনেট জ্যাকসন : মাইকেল জ্যাকসনের বোন আমেরিকান কণ্ঠশিল্পী জেনেট জ্যাকসন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন ২০১২ সালে। মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিলিয়নেয়ার উইসাম আল মানাকে বিয়ে করে মুসলমান হন। কিন্তু তার নামটি বিখ্যাত হয়ে যাওয়ায় সে নাম আর পরিবর্তন করেননি তিনি। তার উল্লেখযোগ্য অ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে-ড্রিম স্ট্রিট, অল ফর ইউ, ডিসিপ্লিন, আনব্রেকেবল প্রভৃতি।
ধর্মেন্দ্র-হেমা মালিনী : শোলে সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে প্রেমে হাবুডুবু খান ধর্মেন্দ্র ও হেমা মালিনী। তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলে বাদসাধে হিন্দু প্রথা। ধর্মেন্দ্রকে দ্বিতীয় বিয়ে করতে হলে ধর্মান্তরিত হতে হবে। তারা যৌথ সিদ্ধান্তে ১৯৭৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং ১৯৮০ সালে বিয়ে করেন। ধর্মেন্দ্র হয়ে যান দিলওয়ার খান এবং হেমা মালিনী হন আয়েশা।
অমৃতা সিং : ৮০-৯০ দশকের সাড়া জাগানো অভিনেত্রী অমৃতা সিং ১৯৯১ সালে সাইফ আলী খানকে বিয়ে করতে গিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মার্দ, চামেলি কি শাদি, খুদগার্জ, আয়না, বেতাব প্রভৃতি সিনেমা দিয়ে তারকায় পরিণত হয়েছিলেন অমৃতা সিং। সাইফের চেয়ে ১২ বছরের বড় অমৃতা। তাদের ঘরে জন্ম নেয় মেয়ে সারা আলি খান ও ছেলে ইব্রাহিম আলি খান।
আয়শা তাকিয়া : মিশ্র সংস্কৃতিতে জন্ম হওয়া ও বেড়ে ওঠা আয়শার বাবা ছিলেন গুজরাটি হিন্দু, মা ছিলেন অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান। বলিউডে আত্মপ্রকাশের আগে মডেল হিসাবে সুনাম কুড়িয়েছেন। টারজান, সালাম-ই-ইশক, ওয়ান্টেড, নো স্মোকিং তার অভিনীত আলোচিত সিনেমা। ২৩ বছর বয়সে ২০০৯ সালে ফারহান আজমীকে বিয়ে করার সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। বিয়ের পরই তিনি অভিনয় জগৎকে বিদায় জানান।
মমতা কুলকার্নি : ভারতের সুন্দরী অভিনেত্রী মমতা কুলকার্নি ‘ঘটক’ সিনেমার মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৩ সালে ভিকি গোস্বামীকে বিয়ে করার সময় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে ভিকি একটি মাদক চোরাচালান মামলায় ২৫ বছরের সাজা পান। আরব আমিরাতের ওই মামলার শাস্তি কমানোর জন্য ভিকি আগেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। পরে সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ২০১২ সালে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
শন ও’কনর : আইরিশ কণ্ঠশিল্পী শিনাড ও’ কনর ১৯৯০ সালে বিখ্যাত হয়েছিলেন ‘নাথিং কম্পেয়ার্স টু ইউ’ গানটির জন্য। নিছক ধর্মবিশ্বাসের কারণে ধর্মান্তরিত হন ২০১৮ সালে। আর ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই তিনি মুসলিম নাম ধারণ করেন। তিনি তার নাম রাখেন শুহাদা সাদাকাত। এরপরই তিনি তার টুইটার অ্যাকাউন্টে একের পর এক ইসলামি কনটেন্ট আপলোড দিতে থাকেন।
লিল জন : আমেরিকার বিখ্যাত র্যাপার লিল জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এ বছর। ১৬ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলেসের কিং ফাহাদ মসজিদের এক বিশাল জমায়েতের সামনে প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭২ সালে জর্জিয়ার আটলান্টায় জন্ম নেওয়া এ র্যাপার ২০১০ সালে একক অ্যালবাম ‘ক্রাঙ্ক রক’-এর মাধ্যমে পশ্চিমা সংগীত জগতে পরিচিত হয়ে ওঠেন।


