পা ভেঙেছে, তাতে কী! শুটিং তো আর বন্ধ থাকবে না। ‘শো মাস্ট গো অন’-এমন ব্রতই মানেন বলিউড খিলাড়িখ্যাত অভিনেতা অক্ষয় কুমার। সেটার প্রমাণ আরও একবার দেখিয়েছেন। ভাঙা পা নিয়েই অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন তিনি। ‘বড়ে মিয়া ছোটে মিয়া’ নামে তার অভিনীত একটি সিনেমা মুক্তি পেতে যাচ্ছে ঈদ উপলক্ষ্যে। সময়মতো যাতে প্রযোজক এটি মুক্তি দিতে পারেন, তাই রীতিমতো পায়ের চোট নিয়েই শুটিং করেছিলেন। আলি আব্বাস জাফর পরিচালিত এ সিনেমার একটি অ্যাকশন দৃশ্য শুটিং করতে গিয়েই পা ভেঙে ফেলেন অক্ষয় কুমার। আর ভাঙা পা নিয়ে বাকি শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমায় অক্ষয় কুমারের সঙ্গে প্যারালাল চরিত্রে রয়েছেন টাইগার শ্রফ। তাদের নায়িকা সাবেক বিশ্বসুন্দরী মানসী চিল্লার। আগামী ১০ এপ্রিল ঈদ উপলক্ষ্যে এটি মুক্তি পাবে।
এদিকে একই সময় ঈদ উপলক্ষ্যে মুক্তি পাবে অজয় দেবগন অভিনীত ‘ময়দান’। সিনেমাটি ফুটবল কোচ সৈয়দ আবদুল রহিমের সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত। এই মুহূর্তে অজয় দেবগনের জীবনে এক ‘অন্য মুহূর্ত’ বলা চলে। বর্তমানে সিনেমা হলে চলছে তার অভিনীত সিনেমা ‘শয়তান’। বক্স অফিসে যে সিনেমার আয় নজরকাড়া। এবার আসছেন ময়দান নিয়ে। এটি নিয়েও যে বক্স অফিস দখলে রাখবেন সেটা অনেকটা আন্দাজ করা যায়। এর অবশ্য কারণও আছে। গত কয়েক বছর ধরে অক্ষয়ের বাজার ভালো যাচ্ছে না। সেটা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু এতে যে অজয় বাগড়া দেবেন সেটা নিশ্চিত। কারণ ব্যাক টু ব্যাক হিটের অপেক্ষায় তিনি। তাই তো অক্ষয় ‘ভাঙা পা’ নিয়েই চালিয়ে গেছেন শুটিং। যদি দর্শকের সহানুভূতি পাওয়া যায়! তাই টাইগারকে সঙ্গে নিয়ে জমিয়ে এই প্রচার করছেন নিজের সিনেমার। অন্যদিকে অজয়ও বসে নেই। যেখানেই যাচ্ছেন ‘শয়তান’র পাশাপাশি ‘ময়দান’কেও তুলে ধরছেন।
বলিউডে ঈদযুদ্ধ , অজয় বনাম অক্ষয়
ঈদে এবারও নতুন চমক নিয়ে আসছেন ড. মাহফুজুর রহমান
প্রতি বছর ঈদেই এটিএন বাংলা চ্যানেলের ঈদ আয়োজনে এটিএন বাংলা ও এটিএন নিউজের চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের একক গানের অনুষ্ঠান থাকে। তার গান দর্শকদের কাছে যেন অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে তিনি বাংলা গানের পাশাপাশি গাইবেন হিন্দি গানও।
২০১৬ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে এটিএন বাংলায় প্রচার হচ্ছে তার গাওয়া গান নিয়ে একক সংগীতানুষ্ঠান। এবার একটি নয়, দুটি গানের আয়োজন নিয়ে হাজির হচ্ছেন তিনি।
এটিএন বাংলায় ঈদের দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে একক সংগীতানুষ্ঠান ‘তুমি শুধু আমারই থেকো’। অনুষ্ঠানে রয়েছে মোট ১০টি গান। অ্যালবামের গানগুলোতে সুরারোপ করেছেন মান্নান মোহাম্মদ ও রাজেশ ঘোষ। বাংলা গানের পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকছে জনপ্রিয় কয়েকটি গজল। অ্যালবামে রয়েছে আমায় ভালোবাসো না, তোমার চোখ দুটি, তুমি যে শুধু আমার, যাবে যদি চলে যাও এবং বুকের মাঝে রাখবো শিরোনামের গান। গজলের মধ্যে রয়েছে মেরে মিতুয়া, ম্যায় জিস দিন, জানে কাহা, ম্যায় সায়ের তো নেহি এবং চিটঠি আয়ি হ্যায়।
ঈদের পর দিন রাত ১০টা ৩০ মিনিটে প্রচার হবে সংগীতানুষ্ঠান ‘লেকে পেহেলা পেহেলা পেয়ার’। একক এবং ডুয়েট হিন্দি গান দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অনুষ্ঠানটি। অনুষ্ঠানে থাকছে দিল কিয়া কারে, মেরে মেহেবুব, রাজাকো রানি সে পেয়ার, লেকে পেহেলা পেহেলা পেয়ার, বারিস মে তু, তুহি এ মুঝকো বাতাদে, ধীরে ধীরে সে, হামকো হামিসে, ম্যায় জিস দিন ভুলাদু এবং মিলে হো তুম হামকো শিরোনামের গান। ডুয়েট গানগুলোতে ড. মাহফুজুর রহমানের সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন সামিয়া জাহান, নীলিমা, ভাবনা আহমেদ ও মারিয়া চৌধুরী।
উল্লেখ্য, এটিএন বাংলার পাশাপাশি এবারের ঈদেও এটিএন নিউজে প্রচার হবে ড. মাহফুজুর রহমানের একক সংগীতানুষ্ঠান ‘দু চোখে শুধু তুমি’।
ঈদে হানিফ সংকেতের নাটক ‘আলোকিত অন্ধকার’,
প্রতি ঈদেই বর্ণাঢ্য ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র পাশাপাশি একটি নাটক নির্মাণ করেন নন্দিত নির্মাতা হানিফ সংকেত। এবারের ঈদে তার নাটকের নাম ‘আলোকিত অন্ধকার’।
নাটকে বিষয়বস্তু সম্পর্কে হানিফ সংকেত জানান, বাবা-মা, সন্তান, পুত্রবধূ মিলে অত্যন্ত সুখী একটি পরিবার। পুত্রবধূর যেমন শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সবার সাথে চমৎকার সম্পর্ক, তেমনি পুত্রবধূকেও শ্বশুর বাড়ির সবাই নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে। আর এই হাসি-আনন্দের মধ্যেই ঘটে বিপর্যয়, নেমে আসে আলোকিত পরিবারে অন্ধকার। এইসব নিয়েই গড়ে উঠেছে ‘আলোকিত অন্ধকার’ নাটকের কাহিনি।
নাটকটিতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আবুল হায়াত, ডলি জহুর, মীর সাব্বির, তারিন জাহান, শুভাশিস ভৌমিক, সাবেরী আলম, নূরে কাঞ্চন, সুর্বনা মজুমদারসহ অনেকে।
নাটকের সূচনা সংগীতের কথা লিখেছেন মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান। সুর করেছেন হানিফ সংকেত, সংগীতায়োজন করেছেন মেহেদি, কণ্ঠ দিয়েছেন অয়ন চাকলাদার।
উল্লেখ্য, ঈদের নাটকের ভিড়ে সবাইকে সব চ্যানেলে একাধিকবার দেখা গেলেও ঈদের দিন হানিফ সংকেতের নাটক দেখা যায় শুধু এটিএন বাংলায়। কারণ প্রতি বছর দুই ঈদে দু’টি নাটক নির্মাণ করেন তিনি এবং সেটি দীর্ঘ দেড় দশক ধরে শুধু এটিএন বাংলাতেই প্রচারিত হয়ে আসছে।
এটিএন বাংলা কর্তৃপক্ষ জানায়, ঈদের দিন সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে প্রচার হবে ‘আলোকিত অন্ধকার’ নাটকটি।
মেসির চেয়ে এগিয়ে রোনালদো
আর্জেন্টিনার তারকা ফুটবলার লিওনেল মেসির চেয়ে এখনো এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি, ভিডিও, ফটো শেয়ারিংয়ে ইনস্টাগ্রামে সর্বাধিক ফলোয়ার রোনালদোর। ফলোয়ারের তালিকায় আর্জেন্টাইন তারকার চেয়ে একধাপ এগিয়ে পর্তুগিজ তারকা।
ফোর্বস ইন্ডিয়ার মতে ইনস্টাগ্রামে রোনালদোর ফলোয়ার সংখ্যা ৬২৭ মিলিয়ন আর মেসির ফলোয়ার ৫০২ মিলিয়ন।
৩৯ বছর বয়সি রোনালদো বর্তমানে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন। তিনি ইনস্টাগ্রামে যাই পোস্ট করেন তার ভক্তদের মন ছুঁয়ে যায়।
অন্যদিকে ৩৬ বছর বয়সি বার্সেলোনার সাবেক তারকা ক্রিকেটার লিওনেল মেসি পিএসজি ছেড়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মিয়ামির হয়ে খেলছেন। মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। তিনি প্রায় সময় তার পরিবারের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। তার সেই ছবি, ভিডিও ভক্তদের নজর কাড়ে। ইনস্টাগ্রামে বিশ্বব্যাপী তার কোটি কোটি সক্রিয় ভক্ত রয়েছে।
চট্টগ্রাম টেস্টে ‘সাকিব প্রত্যাশার চেয়ে ভালো খেলেছে’ বলছেন শান্ত
প্রায় ১ বছর পর শ্রীলংকার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে ফেরেন সাকিব আল হাসান। তবে প্রত্যাবর্তনের টেস্টে আশানুরূপ পারফরম্যান্স হয়নি তার।
দুই ইনিংসে ব্যাট করে ৫১ রান করার পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেন ৪ উইকেট। বিশ্বসেরা একজন অলরাউন্ডারের কাছ থেকে পাওয়া এমন পারফরম্যান্সের পরও তার ভূঁয়সী প্রশংসা করেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
আজ চট্টগ্রামে দ্বিতীয় টেস্টের পঞ্চম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘তিনি অনেক দিন খেলার পর মনেই হয়নি যে তার বয়স ৩৭ বছর। প্রায় ১ বছর পরে খেলছেন। যতটুকু মনে পড়ে, প্রথম ইনিংসে ৩৭ ওভার বোলিং করেছেন। ৩টা উইকেটও নিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংটা যেভাবে করলেন। যতটুকু আশা করেছিলাম, সেটার চেয়ে বেশি পেয়েছি তার কাছ থেকে।’
টেস্ট ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৬৭তম ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। চট্টগ্রাম টেস্টে যে একাদশ নিয়ে বাংলাদেশ খেলে, সেখানে সাকিবের ম্যাচ সংখ্যাই বেশি। সাকিবের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড় থাকলে দলের উপকার হয় বলে মনে করেন শান্ত। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটে এমন অভিজ্ঞ প্লেয়ার থাকলে অবশ্যই অনেক উপকার হয়। মাঠে প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ফিডব্যাকও দিয়েছেন। আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।’
শান্ত আরও বলেন, ‘সাকিব ভাইয়ের টেস্ট খেলার ব্যাপারে আমরা আগে থেকেই জানতাম যে তিনি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবেন। হ্যাঁ, অবশ্যই আগে থেকে জানতে পারলে ভালো হবে দলের জন্য। আমি আশা করব যে আগে থেকেই জানতে পারব। তখন স্পষ্ট পরিকল্পনা থাকে।’
সৌদি সুন্দরীর অংশগ্রহণ নিয়ে যা বলল মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একজন সৌদি সুন্দরীর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যোগদান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে একাধিক বিশ্ব গণমাধ্যম। দাবি করা হয়েছিল, রুমি আলকাহতানি নামে ২৭ বছর বয়সী ওই সুন্দরী পেশায় একজন মডেল। অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবেও খ্যাতি রয়েছে তার। ইনস্টাগ্রামে ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তার ১০ লাখ অনুসারী রয়েছে। গত ২৫ মার্চ মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ এবারের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে তার নাম ঘোষণা করেছে বলেও দাবি করা হয়েছিল।
তবে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় সৌদি সুন্দরীর অংশগ্রহণ নিয়ে প্রকাশিত খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা। শুধু তাই নয়, প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য তারা সৌদি আরবে এবার কোনো বাছাই প্রক্রিয়াই পরিচালনা করেনি তারা। তবে এ বিষয়ে দেশটিতে একটি ‘কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া’ চলছে বলে উল্লেখ করেছে মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষ।
মিস ইউনিভার্স কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতির বরাত দিয়ে খবরটি জানিয়েছে আল-আরাবিয়া ও খালিজ টাইমস। মিস ইউনিভার্সের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরব এখনো এই বছর অংশগ্রহণের বিষয়ে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে নেই। বর্তমানে আমরা একটি কঠোর যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি যেন দেশটির একজন সম্ভাব্য প্রার্থীকে ভোটাধিকার প্রদানের জন্য যোগ্য এবং প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জাতীয় পরিচালক নিয়োগ করা হয়। এটি চূড়ান্ত এবং আমাদের অনুমোদন কমিটি দ্বারা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৌদি আরব আমাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতায় যোগদানের সুযোগ পাবে না।
আলকাহতানির মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় যোগদানের বিষয় গণমাধ্যমগুলোর মাতামাতি শুরু হয়েছিল মূলত তাঁরই একটি ইনস্টাগ্রাম পোস্টের সূত্র ধরে। ইনস্টাগ্রামে আরবি ভাষায় দেওয়া এক পোস্টে আলকাহতানি লিখেছিলেন, ২০২৪ সালের মিস ইউনিভার্সে সৌদি আরবের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।
ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সৌদি আরবের জাতীয় পতাকা হাতে একটি ছবিও জুড়ে দেন রিয়াদে জন্ম নেওয়া আলকাহতানি। ছবিতে তিনি একটি ঝলমলে গাউন, মাথায় মুকুট এবং ‘মিস ইউনিভার্স সৌদি আরব’ লেখা স্যাস পরে ছিলেন। তবে আল-আরাবিয়া দাবি করেছে, ইনস্টাগ্রামে এমন ঘোষণার পর আলকাহতানির সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা। তবে ওই সুন্দরীর কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রযোজকের কাছে ধর্ষণ থেকে বেঁচে ফেরার গল্প শোনালেন ইন্দ্রানী
টালিউডের অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদার। শতাধিক জনপ্রিয় ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। এই সফল অভিনেত্রীও হয়েছেন যৌন নির্যাতনের শিকার। ২০ বছর বয়সে ধর্ষণের ভয়াবহ একটি ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। সেই বিষয়ে দীর্ঘদিন পর মুখ খুললেন ইন্দ্রানী।
জীবনের শুরুতেই বেশ সংগ্রাম করতে হয়েছে অভিনেত্রী ইন্দ্রানী হালদারকে। দক্ষতার জোরে মাত্র ২০ বছর বয়সে কাজ পেয়েছিলেন মুম্বাইয়ের একটি সিনেমায়। প্রযোজক ছিলেন মুম্বাইয়েরই একজন।
এ ছবিতে কাজ পেয়ে উচ্ছ¡সিত ছিলেন ইন্দ্রানী; কিন্তু এটিই যে তার জীবনে কালো অন্ধকারের ছাপ এঁকে দেবে তা বুঝতে পারেননি তিনি।
ইন্দ্রানী বলেন, ‘সিনেমায় অনেক নামিদামি শিল্পী ছিলেন। শুটিং হয়েছিল মুম্বাইয়ে। প্রথম লটে আমার মা গিয়েছিলেন সঙ্গে। দ্বিতীয় লটের শুটিং হবে বলে আমার টিকিট কাটা হলো সকালের ফ্লাইটে। কিন্তু বাবারটা কাটা হলো বিকালে। আমি বুঝে উঠতে পারিনি কেন? প্রথমবার আমাদের রাখা হয়েছিল কম দামি একটা হোটেলে। কিন্তু দ্বিতীয়বারের শুটিংয়ের জন্য ঠিক হলো ফাইভস্টার হোটেলে।’
তিনি বলেন, আমি পৌঁছালাম হোটেলে। সেদিন আমার কোনো কাজ নেই। তখন নতুন নতুন মোবাইল ফোন উঠেছে। হঠাৎ আমার রুমে ফোন এলো প্রডিউসার আমার সঙ্গে দেখা করতে আসছেন। আমি তো ঘাবড়ে গেলাম। তিনি কেন রুমে আসবেন! আমি তখনই আমার ডিরেক্টরকে ফোন করলাম। উনি আমাকে অভয় দিলেন, কিছু হবে না।’
ইন্দ্রানীর ভাষায়, ‘প্রডিউসার রুমে এলেন, কথা বলতে বলতে একপর্যায় উনি আমার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি জোরপূর্বক আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে লাগলেন। এর পর উনার ফোনে একটি কল এলো। ফোনটি করেছিলেন উনার স্ত্রী। ফোনটি ধরতে ধরতে আমি বুদ্ধি করে দরজার লক খুলে দিলাম। তার স্ত্রীকে ভয়েস শোনানোর জন্য কাশতে শুরু করলাম। এভাবে একটি অন্ধকার পৃথিবী থেকে যেন বেঁচে ফিরলাম।’
তিনি বলেন, ‘পরে অন্যান্য জায়গাতে ওই প্রডিউসারের সঙ্গে দেখা হয়েছে; কিন্তু উনি আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে কথা বলতে পারেনি। আমি উনার নাম বলতে চাই না। আর বলাটা উচিতও হবে না। উনি এখন প্রয়াত। তবে ওই কালো অভিজ্ঞতা আমার জীবনে কনফিডেন্ট তৈরি করতে সহায়তা করেছিল। কারণ উনি আমাকে বলেছিলেনÑ আমি কখনো ভালো কাজ পাব না। পরে আমি আমার জীবন দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছিÑ মানুষ সব পারে।’
‘বিজেপির দরজা খোলা, না এলে এ বার তিহাড়’! ইডি নতুন মামলা দায়ের করতেই কটাক্ষ মহুয়ার
তৃণমূলের মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এ মামলা দায়ের করেছে ইডি। বিদেশি মুদ্রা বিনিময় (ফেমা) আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ওই কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপ বিরোধী আইন (পিএমএলএ)-এর আওতাধীন মামলা যুক্ত করেছে ইডি। এই প্রেক্ষিতে সংসদে ‘টাকা নিয়ে প্রশ্ন’ কাণ্ডে তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ তথা কৃষ্ণনগরের তৃণমূল প্রার্থী ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করলেন সমাজমাধ্যমে। একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম তুলে ধরে মহুয়ার কটাক্ষ, ‘‘খুলে হ্যায় বিজেপি কে দ্বার/ আ যাও নহি তো অব কে বারÑ তিহাড় (বিজেপির দরজা খোলা আছে। চলে এস, নইলে এই বার ঠিকানা তিহাড়)।’’ এই মুহূর্তে আম আদমি পার্টির প্রধান তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল তিহাড় জেলে বন্দি। আবগারি মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় সংস্থা। কয়েক মাস ধরে মেয়ের সঙ্গে তিহাড় জেলে রয়েছেন তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলও। মহুয়ার অভিযোগ, এটা বিজেপির প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, যে বিরোধী নেতার বিরুদ্ধে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা, যেই তিনি বিজেপিতে যোগ দেন, সেই তদন্তের গতিপ্রক্রিয়া শ্লথ হয়ে যায়। মহুয়া যে প্রতিবেদনের শিরোনাম এক্স হ্যান্ডল (সাবেক টুইটার) থেকে শেয়ার করেছেন, তাতে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তার পর তাঁদের দলবদলের বিষয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে রয়েছে, মোদী সরকারের জমানায় গত ২০১৪ সাল থেকে মোট ২৫ জন এমন বিরোধী নেতা রয়েছেন, যাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর তাঁরা দলবদল করেছেন। সেই তালিকায় আছেন কংগ্রেসের ১০ নেতা, এনসিপি এবং শিবসেনার চার জন, টিডিপির ২ নেতা, সমাজবাদী পার্টি এবং ওয়াইএসআরসিপি-র এক জন করে নেতা। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর ২৩ জনই দুর্নীতি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন। এ নিয়েই কটাক্ষ করেছেন মহুয়া।
রবিবার মহুয়ার সমর্থনে কৃষ্ণনগরে সভা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহুয়াকে পাশে নিয়ে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে দিয়ে ভোটের আগে বিরোধীদের হয়রানি করা হচ্ছে। মমতা তাঁর দলের নেতাদের উদ্দেশে এ-ও জানান, ভোটের সময় কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব এলে সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেন তাঁরা বলে দেন যে, ভোটের পর দেখা যাবে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এবং তাঁর বাসভবন এবং অফিসে কেন্দ্রীয় সংস্থার হানা নিয়ে মহুয়া নিজে বলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হলে সেটা হবে ‘ব্যাজ অফ অনার’। এই প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার তৃণমূলের ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এ মামলা দায়ের করেছে ইডি।
গত সপ্তাহে মহুয়াকে দিল্লিতে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। কিন্তু মহুয়া জানিয়েছিলেন, তিনি ভোটের আগে তাঁর কেন্দ্র কৃষ্ণনগরে থাকবেন। তিনি ভোটের প্রচারে ব্যস্ত। তার মধ্যে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা নতুন করে সমন জারি করেছে মহুয়া এবং তাঁর পরিচিত দুবাইয়ের ব্যবসায়ী দর্শন হীরানন্দানিকে। ইডি সূত্রে খবর, দু’জনকেই বিদেশি মুদ্রা বিনিময় (ফেমা) আইন লঙ্ঘনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।
রামের দলে রাধিকা, চমক লোকসভা ভোটের মুখে! রাজ্য বিজেপির নতুন ‘মুখ’ জমিদার বংশের দুহিতা
রাজ্য বিজেপির নতুন মুখপাত্র হয়ে আসছেন মুম্বইয়ের বাসিন্দা রাধিকা। কর্মসূত্রে বাংলার বাইরে থাকলেও রাজ্যের সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান। সেই সঙ্গে বাংলার ঐতিহ্যশালী দুই পরিবারের প্রতিনিধি তিনি।
রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ হয়েছেন। তিনি তো বটেই, তাঁর দলে থাকা পদ্মশিবিরের বাকি মুখপাত্রেরাও মূলত রাজনীতিক এবং সাধারণ পরিবার থেকে এসেছেন। সেই দলে এ বার এসেছেন নতুন এক সদস্যা। রামের দলের সেই রাধিকার পরিচয়Ñ তিনি পিতৃকুল, মাতৃকুল দু’দিক থেকেই বনেদি রক্ত বহন করছেন। এক দিকে মুর্শিদাবাদের জমিদার বংশের পরিচয়। অন্য দিকে, জাহাজ ব্যবসায়ীর বনেদিয়ানা।
পুরো নাম রাধিকা ভট্টাচার্য শাহ। বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজ্যে যখন দিলীপ ঘোষ সভাপতি। বেশ কয়েক বছর আগে দিলীপের হাত থেকে পতাকা নিলেও সদ্য দায়িত্ব পেলেন সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নড্ডার থেকে। বাংলার অন্যতম মুখপাত্র হলেন রাধিকা। রাজনীতি নয়, পেশায় কর্পোরেট জগতের আন্তর্জাতিক বিষয়ের পরামর্শদাতা। কাজ করেছেন রাষ্ট্রপুঞ্জেও। সেই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামীণ শিক্ষা নিয়ে কাজ করেন নিজস্ব বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে।
তাঁকে রাজ্যের অন্যতম মুখপাত্রের দায়িত্ব দেওয়ার পরে আনন্দবাজার অনলাইনকে রাধিকা বলেছেন, ‘‘আমি সারাজীবন অনেক কাজ করেছি। মানুষের সেবা করেছি। এখন আমি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাজের সঙ্গেও যুক্ত হতে চাই। সেই কারণেই রাজনীতির আঙিনায়।’’ পারিবারিক পরিচয় নিয়ে যে তিনি গর্বিত, তা তাঁর কথায় কথায় স্পষ্ট। মূলত মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও তিনি এখন বাংলার মুখপাত্র। তাই সম্ভবত রাধিকা বারে বারে বোঝাতে চাইলেন, বাংলাই তাঁর মূল। বললেন, ‘‘আমি এমন দু’টি পরিবারের সদস্য, যাদের কথা ‘বংশপরিচয়’ নামের বইয়ে উল্লেখ রয়েছে।’’ সেই সূত্রেই রাধিকা জানালেন, তাঁর পিতামহ ছিলেন জমিদার। রায়সাহেব নগেন্দ্রকুমার ভট্টাচার্য মুর্শিদাবাদের নবাব বাহাদুরের জায়গির পেয়েছিলেন। নগেন্দ্রকুমার বহরমপুরের উল্লেখযোগ্য জমিদারও ছিলেন।
ইতিহাস বলছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৩ সালে আইন বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন নগেন্দ্রকুমার। ১৯৩৪ সালে ‘রায়সাহেব’ উপাধি পাওয়া নগেন্দ্রকুমার বহরমপুর পুরসভার কমিশনার ছিলেন ১৯৩২ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত। ১৯৫৬ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত তিনি নির্দল প্রতিনিধি হিসাবে ছিলেন রাজ্যের বিধান পরিষদের সদস্য। শুধু পিতামহ নন, রাধিকার ঠাকুরমার বাবা কেদারনাথ চৌধুরিও ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পেয়েছিলেন। রাধিকা বলেন, ‘‘এখন বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার বামোইয়ের জমিদার ছিলেন বাবার মাতামহ। তিনি অবিভক্ত বাংলার প্রথম জেলা এবং সেশন কোর্টের বিচারপতি হয়েছিলেন ১৯০১ সালে।’’
এ তো গেল পিতৃকুল। রাধিকার মাতৃকুলও কম যায় না। তাঁর কথায়, ‘‘আমার মায়ের বাবা প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতার বালিগঞ্জে এখনও প্রাসাদোপম বাড়ি রয়েছে। তাঁর বাবা সন্তোষচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ও বড় জাহাজ ব্যবসায়ী ছিলেন। বিজ়নেস টাইকুন বলতে পারেন। শিপিং ম্যাগনেট বলা হত। আমি দীর্ঘদিন বিদেশেও ছিলাম। কিন্তু যেখানেই থাকি না কেন, বাংলার মাটির সঙ্গে আমার যোগ গভীর।’’ বৈবাহিক সূত্রেও বড় পরিচয়ের অধিকারী রাধিকা। স্বামী প্রকাশ শাহ জাপান, ভেনেজ়ুয়েলায় ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। মূলত গুজরাতের বাসিন্দা প্রকাশ রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিও ছিলেন দীর্ঘসময়। দেশে-বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। তবে অবসরের পরে স্ত্রী রাধিকার সঙ্গে সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকলেও রাজনীতির সঙ্গে প্রকাশের কোনও সম্পর্ক নেই। জানালেন স্ত্রী রাধিকাই।
লোকসভা নির্বাচনের আগে আগেই দায়িত্ব পেয়েছেন রাজ্য বিজেপির। কলকাতায় আসার কথা দু’এক দিনের মধ্যেই। তার পরে বিজেপির সাংবাদিক বৈঠকে বা চ্যানেলের সান্ধ্য বিতর্কে দেখা যেতে পারে ‘নবাগতা’ রাধিকাকে। এত দিন বাংলার বাইরে থেকে রাজ্য রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে অসুবিধা হবে না? রাধিকার জবাব, ‘‘বাংলার বাইরে আবার কী! যেখানেই থাকি বাংলার সঙ্গেই থাকি। এখানকার রাজনীতির কথাও রোজ জানি, শুনি। আর বিজেপি তো শুধু বাংলার কথা বলে না। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এখন বিশ্বের নেতা। তিনি নতুন ভারত গড়ছেন। সেই কথাই তো বলব।’’একই সঙ্গে রাধিকা জানান বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি তো বটেই, তিনি গুজরাতি, মরাঠি, পাঞ্জাবি এবং উর্দুতেও অনর্গল কথা বলতে পারেন।
কিন্তু রাধিকার মতো ‘হাই প্রোফাইল’ মুখপাত্র রাজ্য বিজেপির জন্য? দলের এক রাজ্য নেতা বলেন, ‘‘আসলে নতুন বিজেপির সব কিছুই নতুন। এখন রাজ্য কমিটি থেকে মোর্চা নেতৃত্বÑ সর্বত্রই চিকিৎসক, অধ্যাপক, আইনজীবীদের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই ছাপ রয়েছে দলের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থিতালিকাতেও।’’ এই প্রসঙ্গে রাধিকা বলেন, ‘‘বিজেপি যে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে, তা তো মানতেই হবে। আমাদের প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো মানুষ।’’
রাজ্যে তৃণমূল ইদানীং বিজেপিকে ‘জমিদারের দল’ বলে উল্লেখ করে। এ বার খোদ জমিদার বংশের কন্যা দলের মুখপাত্র! এর জবাবও তো দিতে হবে? রাধিকা জানালেন, তিনি তৈরি। বললেন, ‘‘জমিদার মানেই খারাপ নাকি! সবেতেই খারাপ-ভাল রয়েছে। তা ছাড়া কে কী বললেন, তাতে যে কিছু আসে-যায় না, সেটা দেশকে বুঝিয়ে দিয়েছেন মোদীজি। ওঁকে কম আক্রমণ করা হয়েছে? কিন্তু দেশের উন্নয়নের লক্ষ্য থেকে কি সরানো গিয়েছে মোদীজিকে?’’
মোদী, মমতার সভায় ভিড়ে টেক্কা দিতে লড়াই উত্তরে
মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে মাথাভাঙার গুমানির হাটে। তৃণমূলের দাবি, মাথাভাঙা বিধানসভার মধ্যে থাকা প্রতিটি অঞ্চল থেকে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যেতে হবে।
রাত পোহালেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা কোচবিহারে। আর একই দিনের ওই সভায় লোক জমায়েতে কে কাকে টেক্কা দেবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধীর জোর লড়াই।
দুই শিবিরের সূত্রেই জানা গিয়েছে, সভাস্থলে যত বেশি সংখ্যক কর্মী-সমর্থক হাজির করতে অঞ্চলে অঞ্চলে কার্যত ‘হুইপ’ জারি করা হয়েছে। কোনও অঞ্চল থেকে এক হাজার, কোথাও দেড় হাজার, কোথাও থেকে আবার দুই হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সে ভাবেই বাস-গাড়িও জোগাড় করা হচ্ছে।
তৃণমূল অবশ্য দাবি করেছে, বিজেপি প্রধানমন্ত্রীর সভার জন্য অসম থেকেও লোক নিয়ে আসবে। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিকের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী এর আগে কোচবিহারে এসে যা-যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তার কোনওটি পূরণ করতে পারেননি। তাই প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোক হবে না। সে জন্য অসম থেকে লোক নিয়ে এসে মাঠ ভরাবে বিজেপি। আর আমরা একটি বিধানসভা এলাকার মানুষকে নিয়েই সভা করব।” বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি সুকুমার রায় পাল্টা বলেন, “আসলে তৃণমূল বুঝে গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক হবে না। আর প্রধানমন্ত্রীর সভায় লোকে ভাসবে। সে জন্য এমন কথা বলছে।” বৃহস্পতিবার কোচবিহারের রাসমেলার মাঠে সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুরের পরে ওই সভায় তাঁর যোগ দেওয়ার কথা। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ‘স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ’ (এসপিজি)-এর নিরাপত্তাকর্মীরা কোচবিহারে পৌছে মাঠ পরিদর্শন করেছেন। রাজ্য পুলিশের এডিজি অজয় নন্দও পৌঁছেছেন জেলায়।
দলীয় সূত্রে খবর, ওই সভায় এক লক্ষ দশ হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্য নিয়েছে বিজেপি। তাতে কোচবিহারে বিজেপির দখলে থাকা নাটাবাড়ি, মাথাভাঙা, শীতলখুচি বিধানসভা থেকে কুড়ি হাজার করে কর্মী-সমর্থক জমায়েতের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বিজেপির দখলে থাকা কোচবিহার উত্তর ও দক্ষিণ থেকেও পনেরো হাজার করে কর্মী-সমর্থক জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দিনহাটা ও সিতাই থেকে আরও কুড়ি হাজার জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আলিপুরদুয়ার থেকে চল্লিশ হাজার কর্মী-সমর্থক আনা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে প্রায় প্রত্যেক অঞ্চল থেকে এক হাজারের বেশি মানুষকে সভাস্থলে নিয়ে যেতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর সভা হবে মাথাভাঙার গুমানির হাটে। তৃণমূলের দাবি, মাথাভাঙা বিধানসভার মধ্যে থাকা প্রতিটি অঞ্চল থেকে সেখানে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে যেতে হবে। সব মিলিয়ে পঞ্চাশ থেকে ষাট হাজার মানুষের জমায়েতের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাথাভাঙা বিধানসভার লাগোয়া এলাকা থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর সভায় লোক নিয়ে যাওয়া হবে। অভিজিৎ বলেন, “একাধিক বিধানসভায় সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রত্যেকটি সভায় পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ থাকবেন।”


