Home Blog Page 60

বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ

জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারাদেশে ৮২ কমিটির মধ্যে এখন ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। নীতিনির্ধারকরা ব্যস্ত রাষ্ট্র পরিচালনায়। জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে। লবিং-তদবিরেও ব্যস্ত অনেকে। শিগগির এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে সামনে সরকার ও দলের জন্য কঠিন সময় তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারাদেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। বরিশাল, খুলনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েক নেতা জানান, দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতায় ভাটা পড়েছে। এতে সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এক সময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, মাত্র তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। একটু গুছিয়ে খুব শিগগিরই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কমিটি স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটির। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে আরও আগে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি কাউন্সিল প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সারাদেশে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। এজন্য বেশির ভাগ জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি।

গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০১৭ সালের কমিটি দিয়েই চলছে। আহ্বায়ক কমিটির মতো অনেক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও বছরের পর বছর মেয়াদহীন। ২০১৭ সালে গঠিত নড়াইল, কিশোরগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ রয়ে গেছে। আবার ২০১৮ সালের পর কয়েকটি জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও বেশির ভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা ও ফরিদপুরে একটিরও মেয়াদ নেই
এ দুই বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট ১৭টি। একটিরও কমিটির মেয়াদ নেই। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতাকে আহ্বায়ক করে এবং অন্য ৬ জনকে সদস্য করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় চার মাস পর মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করে ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সেটিও এখন মেয়াদোত্তীর্ণ।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে সংগঠনের সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ দল থেকে বহিষ্কৃত। ঢাকা জেলা কমিটি গঠন করা হয় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর। মেয়াদোত্তীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা কমিটির কার্যক্রমও তেমন চলছে না। একইভাবে চলছে ২০২২ সালে গঠিত নরসিংদী জেলা আহ্বায়ক কমিটি।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় একটি ছাড়া সব মেয়াদোত্তীর্ণ
এ দুই বিভাগে ১৫টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাদে সব জেলা কমিটিই মেয়াদহীন। ২০২২ সালে চাঁদপুর ও রাঙামাটিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও সেসবের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালে কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি করা হয় শাহজাহান চৌধুরীকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় শামীম আরা স্বপ্নাকে।

২০২৫ সালের ৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এ কমিটি গঠনের আগে কাউন্সিল করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোন্দলের কারণে তা হয়নি। পরে তারেক রহমান বর্তমান কমিটির ঘোষণা দেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের ওই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কোন্দলের কারণে এই জেলা কমিটি ২০১৪ সালের মার্চের পর আর কখনও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি।

রাজশাহী ও খুলনায় ৭টির মেয়াদ নেই
রাজশাহী বিভাগে ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের ২টি জেলা বাদে সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। রাজশাহী বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ নেই একটিরও। ২০১৯ সালের ৮ মে রুমানা মাহমুদকে সভাপতি এবং সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আমিরুল ইসলাম আলীমকে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিতকে অন্তর্ভুক্ত করায় তখন তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর সময় পার হলেও কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষণ দেখা যায়নি।

খুলনা বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে গত বছর যশোর ও খুলনা মহানগর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর বাইরে অন্য সব জেলা কমিটি রয়েছে মেয়াদের বাইরে।

বরিশালে সংগঠনের অবস্থা নড়বড়ে
৮টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির মধ্যে একমাত্র পটুয়াখালী জেলার মেয়াদ রয়েছে। গত বছরের ৩ জুলাই এই জেলাতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন কমিটি স্থগিতের পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ডিসেম্বরে জেলায় ৬টি উপজেলা, ৪টি পৌর কমিটি, প্রতিটি পৌরসভায় ৯টি; মোট ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি; ৪২টি ইউনিয়ন কমিটি ও প্রতিটি ইউনিয়নে ৯টি; ৩৭৮টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ৬ মাসের অধিক সময় পার হলেও তৃণমূলের এসব কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

জেলা সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০২০ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি জেলা কমিটিও আছে আহ্বায়ক কমিটির ব্যানারে।

রংপুর ও সিলেটের অবস্থাও ভালো নয়
রংপুর বিভাগে ১০টি এবং সিলেট বিভাগে ৫টি সাংগঠনিক ইউনিট। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হয়। এর বাইরে ২০২২ সালে দিনাজপুর, ২০২৩ সালে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব জেলা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে।

সিলেট বিভাগের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের প্রস্তুতিমূলক কোনো কাজ শেষ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, সেটিই চলছে। ২০২২ ও ২৩ সালে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ময়মনসিংহের মেয়াদ আছে দুটির 
এ বিভাগে ৬টি সাংগঠনিক ইউনিট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মধ্যেই শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে ওই কমিটি স্থগিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পায়নি। এই বিভাগে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ও ৩১ সেপ্টেম্বর জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই জেলা ছাড়া আর কোনো জেলা কমিটির মেয়াদ নেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েও সাড়া মেলে না যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল সম্পর্কে জানেন না শিক্ষার্থীরা

প্রথম বর্ষ ভালোভাবে শেষ করলেও দ্বিতীয় বর্ষে এসে বিড়ম্বনার মুখে পড়েন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী পুতুল (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ জেলার এক শিক্ষার্থীর দ্বারা তিনি নিয়মিত হয়রানির শিকার হন। একপর্যায়ে মোবাইল নম্বর বদলাতেও বাধ্য হন পুতুল। এতেও কোনো সুরাহা না হলে পরে বিভাগীয় সিনিয়রদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। যদিও এর মধ্যে দীর্ঘ সময় আতঙ্কে কেটেছে পুতুলের।

এ ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে দীর্ঘদিন বিরক্ত করত। টিউশনিতে যাওয়ার পথে আমার পিছু নিত।
হলের পাশেও দাঁড়িয়ে থাকত। দীর্ঘদিন আমাকে এসব ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। নিজের সম্মান রক্ষায় প্রকাশ্যে কারও কাছে অভিযোগও করতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী সেলে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে পুতুল বলেন, ‘নিপীড়নবিরোধী সেল আছে, সেটাই তো জানতাম না। কখনও কেউ বলেনি। এ বিষয়ে কোনো প্রচারণাও দেখিনি।’

পুতুলের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই লোকলজ্জার ভয়ে এ ধরনের হয়রানি নীরবে সহ্য করেন। তারা নিপীড়নবিরোধী সেল নিয়ে জানেন না। ফলে অনেক ঘটনাই থেকে যায় আড়ালে।

অভিযোগ বাক্স খোলাই হয় না
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে সাতজন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন রেজিস্ট্রার অফিসের প্রতিনিধি রয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘রফিক ভবন, উপাচার্য ভবনসহ কয়েকটি স্থানে অভিযোগ বাক্স থাকলেও সেগুলো নিয়মিত খোলা হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিবা নাওমি বলেন, ‘এই সেল সম্পর্কে খুব কম শিক্ষার্থীই জানে। আমিও জানতাম না। অনেক আগে আমার এক সিনিয়র আপু বাক্সে অভিযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটার কোনো সাড়া নাকি পাওয়া যায়নি।’

শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ নিয়ে দ্বিমত জানিয়ে সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক পারভীন আক্তার জেমি সমকালকে বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরুতে আমি এর দায়িত্ব নেই। অভিযোগ বাক্স দীর্ঘদিন খোলা হয়নি- এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বাক্সের চাবি ছাত্রকল্যাণ দপ্তর বা রেজিস্ট্রার অফিসের কাছে থাকায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আয়োজিত কর্মশালার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলোর তদন্ত চলমান।’

জকসুর উদ্যোগও শূন্য
জকসু নির্বাচনের আগে বিজয়ী প্যানেলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। নির্বাচনের পাঁচ মাস পরও নারী শিক্ষার্থীবান্ধব সেমিনার এবং নিপীড়নবিরোধী উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তবে সামনে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওই প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে পুরান ঢাকার শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’

উপাচার্য যা বললেন 
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগে অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

আমিরের নির্দেশ অমান্য ‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা দুই জেলা কমিটি বাতিল

জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তাদের কেউ দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন না। করলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর দলটির নেতাকর্মীরা তা মেনে চললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু নেতার মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সাংগঠনিক নিয়ম অমান্যের ফলে ‘বড় দল’ হয়ে উঠতে চাওয়া জামায়াতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় জামায়াতের তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সব নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ‘লবিং’ করছেন তৃণমূলের নেতারা।

এই প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে– এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন।’

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, জামায়াত এত বছর ছিল একটি ক্যাডারভিত্তিক রেজিমেন্টেড দল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না থাকায় প্রধান দুই দলের একটিতে পরিণত হয়েছে জামায়াত। এতে দলটির দ্রুত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতে জামায়াত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী মানুষ কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় অনুশাসন ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে।

জামায়াত আগের মতোই ক্যাডারভিত্তিক দল থাকলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না, আবার ক্ষমতায় যেতে সবার জন্য দল উন্মুক্ত করলে আদর্শিক দল থাকতে পারবে না বলে মনে করেন আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, বাজার দখল নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মারামারি; আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছে। এগুলো প্রচলিত দলে পরিণত হওয়ার লক্ষণ। আবার আগের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে গেলে ছোট দল হয়ে থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জামায়াত এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।

ক্যাডারভিত্তিক দল নাকি বড় দল 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন। কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সংসদের ৬৮ আসনে জয়ী জামায়াত, আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে– এ ধারণা থেকে অনেকেই দলে যোগ দিতে চান; স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু তারা জামায়াতের আদর্শ কতটা মেনে চলবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা আদর্শ নয়, ক্ষমতার অংশ হতে দলে আসতে চান।

জ্যেষ্ঠ নেতারা সমকালকে বলেছেন, যদি জামায়াতে প্রবেশের সুযোগ আগের মতোই ‘দাওয়াতি কার্যক্রম’নির্ভর হয়, তাহলে নির্বাচনমুখী দল হয়ে ওঠার মতো কর্মী বৃদ্ধি পাবে না। আবার সবার জন্য দলে দরজা উন্মুক্ত করলে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে না। আগের মতো ক্যাডারভিত্তিক থাকলে ১৭-১৮ আসনের ছোট দল থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে চাইলে সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। তাদের দায়ও নিতে হবে।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম স্বীকার করেন, জাতীয় নির্বাচনে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। একটি পদের জন্য দলের একজনকে সমর্থন জানানো হবে। এর বিরুদ্ধে যে যাবেন, শাস্তি পাবেন। শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জামায়াতে নেতা-প্রার্থী হওয়ার কী নিয়ম
জামায়াতে সরাসরি কেউ যোগ দিতে পারেন না। প্রথমে তাদের দৃষ্টিতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করানো হয়। তারপর তাঁকে দলের দেওয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বই পড়তে হয়। এতে উত্তীর্ণ হলে একজন সহযোগী সদস্য কর্মী হন। কর্মীকে রুকন (সদস্য) হতে নামাজ, অধ্যয়ন, কোরআন পাঠ এবং দলের কাজের রিপোর্ট রাখতে হয়। রুকন সিলেবাসের ৩৭টি বই পড়তে হয়। কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হতে হয়। জামাতে নামাজ আদায় করতে হয়। আরও কয়েকজনকে কর্মী বানাতে হয়। এরপর তিনি রুকন হতে পারেন। তারপর তিনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব পান।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংগঠনের মতো জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভার আমিররা রুকনদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সংগঠনেও কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা নির্বাচিত হন। তবে এসব নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। নিজের বা অন্য কারও জন্য ভোট চাইতে পারেন না। দলের সব রুকনই প্রার্থী, সবাই ভোটার। রুকনরা গোপন ভোটে এসব পদে নির্বাচিত করেন। কর্মপরিষদের পরামর্শে সেক্রেটারিসহ অন্যান্য পদে নেতাদের দায়িত্ব দেন আমির। নির্বাচনে প্রার্থীও একইভাবে ঠিক করা হয়। দলের অনুমোদন ছাড়া কেউ নিজেকে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা ও প্রচার চালাতে পারেন না।

‘বড় দল’ হতে নিয়ম শিথিল
জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, ৫ আগস্টের পর এই নিয়ম ভেঙে যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে, বাছবিচার ছাড়াই সহযোগী সদস্য পূরণ করে দলে নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সব আসনে জামায়াত জয়ী হওয়া একটি জেলার আমির সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যাদের দলের সহযোগী সদস্য বানানো যায়নি, মাসিক ১০০ টাকা চাঁদা (ইয়ানত) পাওয়া যায়নি, একটি মিছিলের জন্য বারবার ডেকে আনা যায়নি– তারা এখন উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তদবির করছেন। দলের অনুমতি ছাড়াই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে পোস্টার লাগাচ্ছেন। মানাও করা যাচ্ছে না, কারণ তারা জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক তরুণ তিনটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই তরুণকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। কারণ, জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী বোরহানউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ নির্বাচনের প্রচারের সময় ওই তরুণ এসে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন।

জামায়াতের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে কারা কারা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, তা অতীতের মতো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ভোটে জিততে সবাইকে প্রচারে নেওয়া হয়েছিল। এদের অনেকের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের দায় এখন জামায়াতকে নিতে হচ্ছে।

গত ২০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে আহত স্থানীয় জামায়াত নেতা সামিউল ইসলাম ১০ দিন পর মারা যান। তিনি পৌর জামায়াতের অফিস সম্পাদক ছিলেন। সাংগঠনিক তদন্তের পর কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতারা বলেছেন, ওই সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ ছিল না। দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো বাজারের ইজারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

এমপি ঘিরে বলয়
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য এবং অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে ‘সমান্তরাল’ সংগঠন তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, একটি আসনে ভোটে জিততে আট-দশ হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকের বাহিনী লাগে। কিন্তু একটি আসনে রুকন, কর্মী, সহযোগী সদস্য মিলিয়ে জামায়াতের জনবল খুব বেশি হলে এক হাজার। বাকিরা সরাসরি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অতীতে জামায়াত ৩০-৩৫টি আসনে নির্বাচন করত। ফলে দলীয় কর্মী কিংবা জোটের মিত্র দল বিএনপির সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারত। এবার নিজেই ছিল বিএনপি প্রতিপক্ষ জোটের প্রধান দল। তাই বিএনপিবিরোধী সবাইকে নিতে হয়েছে। তারা এখন জামায়াত এমপিদের ঘিরে দলের বাইরে বলয় তৈরি করছেন।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাঙ্গালা ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেন। তারা সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবদল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এ ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অতীতে যারা এ দুই ইউনিয়নে জামায়াতের রাজনীতি করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন আসা দুজনকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে দলটি।

শাস্তিতেও কাজ হচ্ছে না ‘বলয়ের’ কারণে
সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসন জোট শরিক নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু জামায়াতের জেলা আমির তোফায়েল আহমদ শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের করেননি। নেতাকর্মীর চাপ রয়েছে দাবি করে নির্বাচনে থেকে যান।

একই চিত্র ছিল নরসিংদী-২ আসনে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাঁকে জামায়াত আমির ঢাকায় ডাকলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এনসিপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনের সাত দিন আগে নেতাকর্মীর চাপের কথা বলে ভোটের মাঠে নামেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসন কেন্দ্রীয়ভাবে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও জামায়াত প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। জামায়াত আমিরের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে থেকে যান। তিনি বোয়ালখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়ের সমকালকে বলেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই– এই বার্তা দিতে শুধু প্রার্থী নন, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। কমিটির প্রত্যেক নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। সাংগঠনিক অঞ্চল দায়িত্বশীলরা দেখভাল করছেন। চট্টগ্রামের প্রার্থীর রুকনিয়াত বাতিল করে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়েছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির জসিমউদ্দিন। তিনি জামায়াতের ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থী। কুমিল্লা-৭ আসনে দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকরা মারামারি করায় শাস্তি হিসেবে আসনটি জোটকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত।

গতকাল শনিবার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির এমবি বাকেরকে। তাঁকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে নির্বাচন-সংক্রান্ত কারণে।
স্থানীয় নির্বাচনেও এ রকম বিরোধ-বিদ্রোহের শঙ্কা রয়েছে কিনা– প্রশ্নে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেন, মানুষ হিসেবে অনেকের মধ্যে পদের জন্য আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। এটিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ছাড়া দেওয়া হবে না। তাতে যদি জামায়াত তথাকথিত বড় দল হতে না পারে, তবুও নয়।

আজকের দিনটি ব্যস্ততায় কাটবে ক্রীড়াপ্রেমীদের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশ। রোববার (১৪ জুন) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। একইদিন নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বকাপে আজ ভোর থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত রয়েছে ৬টি ম্যাচ। সবমিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দিনটি ব্যস্ততায় কাটবে।

এক নজরে দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি-

  • বিশ্বকাপ ফুটবল

হাইতি-স্কটল্যান্ড
সকাল ৭টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক
সকাল ১০টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

জার্মানি-কুরাসাও
রাত ১১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

নেদারল্যান্ডস-জাপান
রাত ২টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

আইভরিকোস্ট-ইকুয়েডর
আগামীকাল ভোর ৫টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

সুইডেন-তিউনিসিয়া
আগামীকাল সকাল ৮টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

  • ৩য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
বেলা ১১টা, নাগরিক টিভি ও টি স্পোর্টস

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস
বেলা ৩-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

ভারত-পাকিস্তান
সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না, মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের কোচ

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে চিরচেনা ছন্দেও দেখা যায়নি সেলেসাওদের। শিষ্যদের এমন পারফরম্যান্সে খুশি নন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অকোপটেই স্বীকার করেছেন, প্রথমার্ধে দলের খেলা পছন্দ হয়নি তার। একইসঙ্গে আনচেলত্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারিত হয় না।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, প্রথমার্ধের খেলাটা আমাদের ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। দল ভালো খেলেনি, ভারসাম্যে কিছু সমস্যা ছিল। অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেছি, অনেক বল হারিয়েছি। এই জায়গাগুলোয় আমাদের উন্নতি করতে হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে শিষ্যরা খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন আনচেলত্তি। তার ভাষ্য, দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। প্রথম ম্যাচের পর আমরা ভাবতে পারি না যে দলটি নিখুঁত। এই ফল আমরা মেনে নিচ্ছি, যা মোটেও খারাপ নয়। পরের ম্যাচে আমরা আরও লড়াই করব। বিশ্বকাপ তো প্রথম ম্যাচেই জেতা যায় না।

প্রথমার্ধে খারাপ খেলার পেছনে স্নায়ুচাপকেও দায়ী করেন ব্রাজিলের এই ইতালিয়ান কোচ। তিনি বলেন, আমার মনে হয় প্রথমার্ধটা কঠিন ছিল। দল কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। ম্যাচটাও ছিল কঠিন। তবে আমি বিশ্বাস করি, পরের ম্যাচে দল আরও উন্নতি করবে।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন ভিনিসিয়াস। তার পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে আনচেলত্তি বলেছেন, ভিনি ভালো খেলেছে, সে বিপজ্জনক ছিল। তার যে মান ও সামর্থ্য, আমি বিশ্বাস করি সে দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটাবে।

ম্যাচের কোন দিকটি ভালো লেগেছে জানতে চাইলে আনচেলত্তির বলেন, দল শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়েছে। ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা এখন পরিষ্কার। আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং আক্রমণভাগে আরও আগ্রাসী দল গড়ে তুলতে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের সমালোচনা তিনি বলেন, দল ভালো খেলতে না পারলে আপনাকে অবশ্যই সমালোচনা মেনে নিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়ের সমালোচনা করি না। সমালোচনা পুরো দলের। কারণ, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলেনি।

আলিয়াকে হেয় করার চেষ্টা, অভিনেত্রীর পক্ষ নিলেন শহীদ কাপুর

চরিত্র যেমনই হোক, তা দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে দারুণ পারদর্শী আলিয়া ভাট। যার সুবাদে সিনেমাপ্রেমীদের ভালোবাসা যেমন কুড়িয়েছেন, তেমনি অল্প সময়ে নিজের জায়গা করে নিয়েছেন বলিউডের শীর্ষ তারকাদের কাতারে। তারপর সাফল্য পেলেও বিড়ম্বনা পিছু ছাড়ছে না আলিয়ার।

‘জীবনে যত সাফল্য আসবে, তত শত্রু বাড়বে’ প্রচলিত এই কথাটিই সত্যি বলে প্রমাণিত হয়েছে এই বলিউড তারকার জীবনে। যে কারণে অভিনয়ের বাইরে যখনই যা কিছু করুন না কেন, তা নিয়ে সতর্ক থাকতে হয়। এরপরও নন্দিত এই অভিনেত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে চলেছে একটি মহল।

আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিনসহ ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার উপস্থিতির বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নেতিবাচক খবর প্রচার করা হয়েছিল। আলিয়াকে হেয় করতেই এই প্রচেষ্টা। যদিও এ বিষয়ে অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ আসেনি, কিন্তু তাঁর সহশিল্পীদের অনেকে পক্ষ নিয়েছিলেন। তাদের একজন অভিনেতা শহীদ কাপুর। এ নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করতেও দ্বিধা করেননি এই বলিউড তারকা।

480716450 1198200275004919 8029949932782078899 n 1781338463আলিয়া ভাটের ‘শানদার’ ও ‘উড়তা পঞ্জাব’ সিনেমার সহশিল্পী শহীদের কথায়, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো কথা বা অভিযোগ সহজে বিশ্বাস করেন না, যদি না তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকেন বা নিজের চোখে তা দেখে থাকেন। তাঁর মতে, অন্যের কথা অন্ধের মতো বিশ্বাস করলে মানুষ সহজেই প্রভাবিত বা বিভ্রান্ত হতে পারে।

শহীদ বলেন, ‘বিনোদন জগতে সাফল্য ও ব্যর্থতার চাপ এত বেশি যে, অনেক সময় শিল্পীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে পারেন। অভিনেতার মতে, বর্তমান সময়ে দর্শককে বিভ্রান্ত করা আগের তুলনায় অনেক কঠিন। তিনি বলেন, ‘শিল্পীদের নিজেদের আসল রূপই দর্শকের সামনে তুলে ধরা উচিত। মানুষ এখন খুব সহজেই বুঝতে পারে যে, কেউ নিজের সম্পর্কে কৃত্রিম ভাবমূর্তি তৈরি করার চেষ্টা করছেন কিনা।’

এ কথার পাশাপাশি আলিয়াকে উদ্দেশ্য করে শাহিদ এই পরামর্শ দিয়েছেন, ‘আপনি নিখুঁত না হলেও বা আপনার মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা থাকলেও সেটি লুকিয়ে রাখার দরকার নেই। মানুষকে আপনার প্রকৃত রূপ দেখতে দিন। যখন দর্শক বুঝতে পারেন যে, আপনি তাদের সামনে একটি নির্দিষ্ট ভাবমূর্তি তুলে ধরতে চাইছেন, তখন তারা বিরক্ত হন। কারণ খ্যাতি ও সাফল্যের সঙ্গে নেতিবাচক সমালোচনাও অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। তাই জনপ্রিয়তার সঙ্গে যেমন ভালবাসা আসে, তেমনই সমালোচনা ও নেতিবাচকতাও জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।’

478253544 1216207173202343 8447982693420931491 n 1781338567

এদিকে কান চলচ্চিত্র উৎসবে আলিয়ার অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে যেমন নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে একটি মহল, অন্যদিকে অভিনেত্রীর মুক্তি প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘আলফা’ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে সিনেমাপ্রেমীদের মাঝে। কারণ একটাই, অ্যাকশনধর্মী এই সিনেমা অনেকে মত প্রকাশ করেছেন, এটি শাহরুখ-সালমানদের টেক্কা দেওয়ার মতো একটি প্রজেক্ট। যেখানে নতুন অবতারে আবির্ভূত হতে চলেছেন আলিয়া। তাই যশরাজ ফিল্মসের ‘পুরুষতান্ত্রিক’ স্পাই ইউনিভার্সের ভিড়ে ‘আলফা’ হতে চলেছে বলিউডের ব্যতিক্রমী সংযোজন। যেখানে  ‘আলফা ওম্যান’ অবতারে শত্রুনিধন করবেন আলিয়া।

হলিউড সিনেমা ‘হার্ট অফ স্টোন’-এর পর আবার ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ ভূমিকায় দেখা যাবে তাঁকে। এরই মধ্যে সিনেমার ঝলক প্রকাশ্যে এসেছে; যার মাধ্যমে দর্শকমহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন আলিয়া ভাট। একই সঙ্গে আলোচনায় আছেন সিনেমার আরও দুই তারকা ববি দেওল ও শর্বরী ওয়াঘ।

আপনি কি আমার খেলা দেখেননি, সাংবাদিককে রোনালদোর প্রশ্ন

এক বিশ্বকাপ ছাড়া ক্যারিয়ারে প্রায় সবই জিতেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পর্তুগালের জার্সিতে ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামার অপেক্ষায় থাকা রোনালদোর হাতে শিরোপা ধরা দেবে কি-না, সেটা সময়ই বলে দেবে। কিন্তু বিশ্বকাপে মাঠে নামার আগেই প্রশ্ন উঠেছে রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে। তবে ফিটনেস নিয়ে ওঠা সব প্রশ্ন উড়িয়ে ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিশ্বকাপের জন্য তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

রোনালদো তার পুরো ক্যারিয়ারে ফিটনেস দিয়ে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। কিন্তু কয়েকদিন ধরে ফিটনেস নিয়েই কানাঘুষা শুনতে হচ্ছে এই পর্তুগিজ তারকাকে। তার উপর বল পায়ে ছন্দটাও যেন ঠিকঠাক মিলছে না। পর্তুগালের জার্সিতে সবশেষ ২ ম্যাচে কয়েকটি সহজ সুযোগ পেয়েও নষ্ট করেছেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনে ফিটনেস নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হলেন তিনি।

বিশ্বকাপ খেলতে যুক্তরাষ্ট্রে রওনা দেওয়ার আগে লিসবনে একটি সংবাদ সম্মেলন করেছে পর্তুগাল। শুক্রবার বিকেলে সেই সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা রোনালদোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে রোনালদো বলেন, ‘শারীরিক অবস্থা? আমি ভালো আছি। আপনি কি আমার ম্যাচগুলো দেখেননি?’

পর্তুগাল কখনো বিশ্বকাপ জেতেনি। বিশ্বমঞ্চে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ১৯৬৬ সালে তৃতীয় হওয়া। এবার সেটি ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা পর্তুজিদদের। টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী স্কোয়াড তাদের। এমন দল নিয়ে অধরা বিশ্বকাপ ট্রফিটা ছুঁতে পারবেন কি-না জানতে চাইলে রোনালদো বলেন, টুর্নামেন্ট শেষেই দেখা যাবে। আমরা খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের মতো বিশ্বকাপও বিশেষ টুর্নামেন্ট, আমরা অনেক আশা নিয়ে সেখানে যাচ্ছি।

পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী আরও বলেন, আমাদের এই ফুটবল প্রজন্মটা দারুণ। তবে ম্যাচের কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। জয় বা পরাজয়ই এখানে আসল বিষয়। আমি বিশ্বাস করি, এই প্রজন্মের ফুটবলাররা পর্তুগালের মানুষদের অনেক আনন্দ দেবে।

দলের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে রোনালদো বলেন, প্রস্তুতি ভালো হয়েছে, তবে ক্লান্তিকরও ছিল। কারণ আমরা অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। ম্যাচগুলোতে আমরা ভালো খেলেছি। তবে আসল বিষয় হলো ১৭ তারিখে, প্রথম ম্যাচে যখন বল মাঠে গড়াতে শুরু করবে এবং চাপ সত্যিকার অর্থে বাড়তে থাকবে, তখনই আসল চ্যাম্পিয়নরা বেরিয়ে আসবে।

আগামী ১৭ জুন কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পর্তুগাল। ‘কে’ গ্রুপে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়া। ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা।

মোটরসাইকেলে এসে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ পলাশের মাথায় দুটি গুলি চালায় হামলাকারীরা

রাজধানীর রামপুরায় দিনদুপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছেন ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ। গতকাল শুক্রবার দুপুরে তাঁর বাসার অদূরে এ ঘটনা ঘটে। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক মাস আগেই তিনি জামিনে কারাগার থেকে মুক্ত হন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে তাঁর ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পলাশের গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাস্থলটি রামপুরা ও হাতিরঝিল থানার সীমান্ত-সংলগ্ন এলাকায় পড়েছে। হাতিরঝিল থানার ওসি মো. আসাদুজ্জামান সমকালকে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জুমার নামাজ পড়ে বাসায় ফিরছিলেন পলাশ। দুপুর পৌনে ২টার দিকে রামপুরায় বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনের উল্টো দিকে বাসার কাছেই তাঁকে গুলি করা হয়। হামলাকারীরা একটি মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে ওই মোটরসাইকেল বা আরোহীদের ছবি এখনও পাওয়া যায়নি। গুলির ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।

এদিকে স্থানীয় সূত্র বলছে, একটি মোটরসাইকেলে দুজন এসেছিলেন। তাদের একজন মোটরসাইকেল চালান, অপরজন নেমে গুলি ছোড়েন। পলাশের মাথায় দুটি গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত হাতিরঝিলের দিকে পালিয়ে যান। তাদের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক ছিল। স্থানীয়দের সহায়তায় পলাশকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাঁর শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীর বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী ইব্রাহিম মিয়া সাংবাদিকদের জানান, পলাশের মাথায় গুলি করার পর একজন অদূরে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেলে গিয়ে ওঠেন। এরপর ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যান। হামলাকারীদের তারা চিনতে পারেননি।

পুলিশ সূত্র জানায়, পশ্চিম রামপুরার বাসায় থাকেন পলাশ। তিনি হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। এক সময় তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে। মিজান হত্যা মামলায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পরে উচ্চ আদালতে আপিল করা হলে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ আসে। প্রায় দেড় দশক তিনি কারাগারে ছিলেন।

সূত্র বলছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও বিভিন্ন ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিদেশে থাকা এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে পলাশের বিরোধ ছিল। এর জেরে ওই সন্ত্রাসীর অনুসারীরা পলাশকে গুলি করে থাকতে পারে।

বার কাউন্সিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ জাইমা রহমান

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের (এমসিকিউ) পরীক্ষায় পাস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। একইসঙ্গে পাস করেছেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের মেয়ে ব্যারিস্টার আদিবা রুহুল।

শনিবার বার কাউন্সিলের একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের (এমসিকিউ) পরীক্ষার ফল শুক্রবার রাতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী। পরীক্ষার ফল রাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

এদিকে শুক্রবার রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে জাইমা রহমান নিজে এ তথ্য জানিয়েছেন। ফেসবুকে তার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে তিনি লিখেছেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি আপনাদের কাছে ছোট একটি ব্যক্তিগত সাফল্যের কথা শেয়ার করতে চাই। আমার দেশে আইন প্র্যাকটিসের জন্য আজ বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিই। আল্লাহর রহমতে সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছি।’

জানা গেছে, এবারের পরীক্ষায় প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। শুক্রবার সকালে ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এবারের এমসিকিউ পরীক্ষায় আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৩৭ হাজার ৮০ জন। মূলত তিন ধাপের নৈর্ব্যক্তিক, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করতে পারেন। একবার লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে তারা তিনবার সরাসরি মৌখিক পরীক্ষার জন্য বিবেচিত হন। বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি পরীক্ষার বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে।

বাজেট ২০২৬-২৭ মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপ বিলুপ্ত করা হয়েছে। এর পরিবর্তে ১০ শতাংশ করের প্রাথমিক ধাপ ঠিক করা হয়েছে। বাজেটের এ প্রস্তাবে মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে। অন্যদিকে, বিনিয়োগ করলে ব্যক্তি করদাতারা যে রেয়াত পান, তাও কমানো হয়েছে। এটিও মধ্যবিত্তের করের চাপ বাড়াবে।

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রথম পৌনে চার লাখ টাকা করমুক্ত। পরবর্তী তিন লাখে ১০ শতাংশ, পরের চার লাখে ১৫ শতাংশ, পরের পাঁচ লাখে ২০ শতাংশ এবং পরের ২০ লাখ টাকা আয়ে ২৫ শতাংশ আয়কর দিতে হবে। অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বেড়ে ২০৩০-৩১ অর্থবছরে গিয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা হবে এবং সর্বোচ্চ কর হার ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় করমুক্ত আয় আরও বাড়ানোর পক্ষে বলছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তি করদাতাদের প্রকৃত বিনিয়োগের ওপর কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব কার্যকর হলে, মধ্যবিত্ত ও সৎ করদাতারা সঞ্চয় ও বিনিয়োগে নিরুৎসাহিত হতে পারেন।

গতকাল বাজেট পেশ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নতুন কর প্রস্তাবে ব্যক্তি করদাতার জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে পৌনে চার লাখ টাকা করা হয়েছে। তবে এ সামান্য স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে ৫ শতাংশের প্রাথমিক কর ধাপের বিলোপ। এর সঙ্গে বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করায় করদাতার প্রকৃত দায় আরও বেড়েছে। সিপিডি মনে করে, বিদ্যমান বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বাড়ানো উচিত ছিল।

ব্যবসায়ী সংগঠন এমসিসিআই বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রভাব প্রস্তাবিত সীমায় পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত হয়নি। সংগঠনটির মতে, কর স্ল্যাব সাতটি থেকে ছয়টিতে নামিয়ে আনা এবং সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ বিলুপ্ত করে ১০ শতাংশ নির্ধারণের ফলে করদাতাদের একটি বড় অংশের ওপর তাৎক্ষণিক করের চাপ বাড়বে।

করদায় কেমন হবে

কর বিশেষজ্ঞ ও এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেসের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া সমকালকে বলেন, ৫ শতাংশের কর ধাপটি বিলুপ্ত করা এবং নির্দিষ্ট বিনিয়োগে কর রেয়াত ৫ শতাংশ কমানোর কারণে মাসিক ৭৪ হাজার বেতনের নাগরিকের করভার সর্বাধিক ৪৯ শতাংশ বাড়বে।

এর ব্যাখ্যায় তিনি জানান, যার মাসিক আয় ৭৪ হাজার টাকা, তার উৎসব বোনাসসহ তার বার্ষিক করযোগ্য আয় হবে ৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এই আয় ধাপে থাকা একজন করদাতার করযোগ্য আয় দাঁড়ায় ছয় লাখ ৪২ হাজার টাকা। এ আয়ে বিদ্যমান কর দায় ছিল মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। প্রস্তাবিত কর কাঠামোতে এ কর দায় সরাসরি বেড়ে দাঁড়াবে সাত হাজার ৪৫৪ টাকায়। এতে কর দায় বাড়ছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এ স্তরের করদাতার করভার প্রায় অর্ধেক বেড়ে গেছে।

তিনি জানান, যার মাসিক আয় ৯৮ হাজার টাকা, তার বার্ষিক করযোগ্য আয় হবে পৌনে ১৩ লাখ। এই আয় ধাপে করদাতার করযোগ্য আয় হবে সাড়ে আট লাখ টাকা। আগের কর দায় ছিল ১৯ হাজার ৫০৪ টাকা, যা বেড়ে দাঁড়াবে ৩০ হাজার ৭৫৪ টাকা।

এ ক্ষেত্রে করভার বাড়বে ৫৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যার মাসিক আয় এক লাখ ৩৮ হাজার ৪৬৫ টাকা, তার করযোগ্য বর্তমানের সাড়ে ৭৩ হাজার টাকা বা সাড়ে ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৬ হাজার টাকা হবে। আর যার মাসিক আয় আড়াই লাখ টাকা বা তার বেশি, তাদের কর দায় তিন লাখ ৬২ হাজার টাকা থেকে সাড়ে ১০ শতাংশ বেড়ে চার লাখ টাকা হবে। অর্থাৎ, আয় যত বেশি, করভার তত কম বাড়বে।

স্নেহাশীষ বড়ুয়ার মতে, উচ্চ আয়ের মানুষরা টাকার অঙ্কে কর বেশি দেন। তা সত্ত্বেও তাদের সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার মতো যথেষ্ট অর্থ থাকে। অন্যদিকে, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা চালিয়ে নেওয়াই কষ্ট। এ অবস্থায় সরকার যদি এভাবে করভার চাপায়, তাহলে অনেকেই কর দিতে চাইবেন না। দেশে বর্তমানে কর দেওয়া মানুষের চেয়ে করযোগ্য মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ার কারণ এটি বলে মনে করেন তিনি।