Home Blog Page 61

চার দফা কমার পর বাড়ল স্বর্ণের দাম

টানা চার দফা কমানোর পর দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে বাড়ানো হয়েছে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা। এর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

শনিবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাজুস। নতুন মূল্য তালিকা এদিন সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস নির্ধারিত নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকা।

গত ১১ জুন সকালে দেশের বাজারে সর্বশেষ স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে বাজুস। ওই দিন ৪ হাজার ৪৩২ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

টানা চার দফায় স্বর্ণের দাম কমিয়েছে বাজুস। এতে ভরিপ্রতি স্বর্ণের দাম মোট ১৯ হাজার ৭৭১ টাকা কমেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পতন হিসেবে দেখা হচ্ছিল। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ৩৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৩৬ দফা। সব মিলিয়ে এ বছর ৭৪ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণের মতো টানা চার দফা কমানোর পর রুপার দামও প্রতি ভরিতে ২৯১ টাকা বাড়িয়েছে বাজুস। ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম হয়েছে ৫ হাজার ১৩২ টাকা। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

সকালে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রুপার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির ভরি হয়েছে দাম ৩ হাজার ১৪৯ টাকা।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্মতিতে শান্তি চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে: শাহবাজ শরিফ চুক্তি স্বাক্ষরের ভেন্যু হতে পারে জেনেভা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্মতিতে শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো চূড়ান্ত হওয়া বাকি।

সব ঠিক থাকলে এ চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অবসান হতে পারে গত কয়েক মাস ধরে চলে আসা রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনার। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার জানান, ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তি অতি সন্নিকটে এবং যে কোনো সময় এটি স্বাক্ষরের দিনক্ষণ জানানো হতে পারে। এ কারণে ইরানে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়িত হওয়ার সবচেয়ে কাছে রয়েছে। তিনি গণমাধ্যমকে চুক্তিতে কী আছে, তা অনুমান করতে মানা করেন।
এদিকে, চুক্তির খসড়া চূড়ান্তের বিষয়গুলো সামনে এলেও এখনও লেবানন ইস্যুর কোনো সুরাহা হয়নি।

 ইরানের চুক্তিতে লেবানন ইস্যু
এসব খবর সামনে আসার আগে পশ্চিমা এক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের একটি সমঝোতা আগামীকাল রোববারের মধ্যেও স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে জেনেভা।
সূত্র সেই সময় আরও জানায়, সমঝোতার ভাষা নিয়ে কাজ চলছে। ইরান আগের অবস্থান ধরে রেখেছে যে, তাদের সঙ্গে হওয়া চুক্তির আওতায় লেবানন থাকবে এবং সেখানেও যুদ্ধ থামাতে হবে।

 যা জানা গেছে চুক্তি সম্পর্কে 
ইরানের গণমাধ্যমে গতকাল শুক্রবার চুক্তির খসড়ার বিষয়ে কিছু তথ্য দেওয়া হয়েছিল। বলা হয়েছিল, খসড়ায় ইরানের তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, বিদেশে তাদের জব্দ থাকা শত শত কোটি ডলারের তহবিল অবমুক্ত করে দেওয়া, লেবাননসহ সব ধরনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের মধ্যে লড়াই থামানোর বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
তবে ইরান এত ছাড় পেলেও যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে ঠিক কী পাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলেই উল্লেখ করেছিল বার্তা সংস্থা রয়টার্স। তবে গতকাল শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, চুক্তি সম্পর্কে ইরানি গণমাধ্যমে ভুয়া খবর ছড়ানো হচ্ছে। তিনি বিষয়টি নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

লেবাননে যুদ্ধবিরতি 
আলজাজিরার খবর বলছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দেশটির টায়ার জেলায় আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি বলছে, মাজদান জৌন ও মারাক্কেহ শহরে বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, টায়ার জেলার চামা শহরে ইসরায়েলি বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে তারা। সেখান থেকেও কোনো হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল নতুন করে দক্ষিণ লেবাননের তিন গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য সরে যাওয়ার নির্দেশনা জারি করেছে।

ভারতে পাচার হওয়া ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল দিয়ে ফেরত

ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে পাচার হওয়া ১৪ জন বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে হস্তান্তর করে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে নারী ও পুরুষ রয়েছেন। তাদের বাড়ি সুনামগঞ্জ, যশোর ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায়।

বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কর্মকর্তা সৈয়দ মোর্তজা আলী জানান, প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর ফেরত আসা ১৪ বাংলাদেশিকে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ও মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য তাদের গ্রহণ করেছে মানবাধিকারভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের বেনাপোল শাখার প্রতিনিধি শরিফুল ইসলাম জানান, উন্নত জীবনের আশায় এবং ভালো কাজের প্রলোভনে পড়ে এসব বাংলাদেশি দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্ত পথে ভারতে যান। সেখানে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে তারা দেশটির পুলিশের হাতে আটক হন।

তিনি জানান, আটক হওয়ার পর ভারতীয় পুলিশ তাদের আদালতে সোপর্দ করে। পরে ভারতীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে আদালতের মাধ্যমে তাদের মুক্ত করে শেল্টার হোমে রাখা হয়। পরে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিশেষ ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করা হলে তারা দেশে ফেরার সুযোগ পান।

জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে ফেরত আসা এসব বাংলাদেশিকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসনমূলক সহযোগিতা দেওয়া হবে।

যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি হলে খুলে দেওয়া হবে হরমুজ প্রণালি: ইরান

হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়াসহ ইরানে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে তিনি বলেছেন, এই চুক্তির মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টিও রয়েছে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে শুরু হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারাও চুক্তির কিছু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তাদের মতে, ইরান চুক্তির শর্তগুলো পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালালে যুদ্ধের সূচনা হয়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেয়।

এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাঝে মাঝে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে চলতি সপ্তাহে উভয় পক্ষ দুই দফা পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলা বাতিল করেছেন, কারণ আলোচনাকারীরা ‌‘মাত্রই একটি চমৎকার সমঝোতায় পৌঁছেছেন’। তার মতে, চুক্তিটি খুব শিগগিরই স্বাক্ষরিত হতে পারে। শুক্রবার ইরানের গণমাধ্যমে কথিত ১৪ দফা চুক্তির কিছু বিবরণ প্রকাশ করা হয়।

তবে ট্রাম্প এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে যে শর্তগুলোতে সম্মতি হয়েছে তার ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ এবং সেগুলো ‘বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’। এর কয়েক ঘণ্টা পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং এখন এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্যদের মধ্যে এই সর্বশেষ চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে ‘সমর্থক ও বিরোধী’ উভয় পক্ষই রয়েছে। তবে আরাঘচি বলেছেন যে, সম্মিলিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এ মুহূর্তে আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। অনুমোদন পাওয়া গেলে চুক্তিটি দূরবর্তীভাবে স্বাক্ষর করা হবে, বলেন তিনি।

যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা শুরু করার লক্ষ্যে যে আলোচনা চলছে, তাতে ইসরায়েল অংশ নিচ্ছে না। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টার অভিযোগ করে আসছে। তবে ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে যে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়- বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং গবেষণার জন্য। শুক্রবার বিকেলে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই চুক্তির আওতায় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নেবে।

এসব পদক্ষেপ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই কার্যকর হবে। এরপর দুই মাসের বা ৬০ দিনের একটি আলোচনাকাল শুরু হবে, যেখানে মূলত গুরুত্ব পাবে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম। এটি পারমাণবিক বোমা তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অন্যতম প্রধান উপাদান। মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, এই আলোচনার ফল হিসেবে ওই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের ভেতরেই ধ্বংস করা হবে এবং পরে দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।

অর্থনৈতিক দিক থেকে, ইরানকে আগাম কোনো অর্থ বা আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না। যদিও ইরানি গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা শুরু হওয়ার আগেই ইরানের কিছু জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করে দেওয়া হবে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এর পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানকে ধাপে ধাপে বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

চুক্তিতে ইরানকে তার সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত হেজবুল্লাহ এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ইরানের অন্যান্য মিত্র বা প্রক্সি সংগঠনগুলোর কথা বোঝানো হয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এই সমঝোতা স্মারক কোনো বিশ্বাস বা মৌখিক প্রতিশ্রুতির ওপর ভিত্তি করে নয়; বরং এটি ‘কার্যকর বাস্তবায়নের’ ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ ইরান যে পদক্ষেপগুলো গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলো বাস্তবে কার্যকর করেছে বলে যাচাই করা গেলে তবেই দেশটি অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করা কাতার- সব পক্ষের মধ্যেই সতর্ক প্রত্যাশা আছে, তারপরেও চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে এখনো কিছুটা পথ বাকি আছে। গত এক-দুই মাসে এই ধরনের চুক্তির বিভিন্ন সংস্করণ কয়েকবার চূড়ান্ত হওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিল, কিন্তু শেষ পর্যায়ে গিয়ে তা ভেস্তে গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, এবার পার্থক্য হলো- চুক্তি সফল হওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ অনেক বেশি এবং চুক্তির বিষয়বস্তু সম্পর্কেও আগের তুলনায় অনেক বেশি খোলামেলা আলোচনা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘আমাদের আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই চুক্তি স্বাক্ষর এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা হবে।’ অর্থাৎ তার বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার শেষ ধাপগুলো সফলভাবে শেষ হলেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে এবং জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্বাস আরাঘচি বলেছেন , ‘এটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটতে পারে। আমি খুবই আশাবাদী।’ তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, সমঝোতা স্মারক এর প্রথম এবং প্রধান বিষয় হলো ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার।

আর হরমুজ প্রণালি সম্পর্কে আরাঘচি বলেছেন, এর পরিচালনা ব্যবস্থা ‘আগের মতো থাকবে না’। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার পর থেকে ইরান সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে ফি আদায়ের দাবি করে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো- এই নৌপথে সব জাহাজের অবাধ ও বিনামূল্যে চলাচলের অধিকার থাকা উচিত। বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এর প্রায় ২০ শতাংশ সাধারণত এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।

ইরানের এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরও জানান যে, সমঝোতা স্মারকে ইসরায়েল ও হেজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসানের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যে লেবানন সংক্রান্ত বিষয় এই চুক্তির অংশ নাও হতে পারে। যদিও ইরান এটি অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দিয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন যে, যদি হেজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাবে।

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের ঘটনায় ২ পুলিশ সদস্য বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় এসআই শফিকুল ও কনস্টেবল রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সিএমপি কমিশনার শওকত আলী। ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশের সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেপ্তা‌র করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমান।

সিএমপি কমিশনার শওকত আলী বলেন, ইতোমধ্যে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে থাকা সোর্স সোহেল রানাকে গ্রেপ্তা‌র করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান। মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান দাবি করেন, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম তাকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।

তবে নাঈমের অভিযোগ, ওসি আরিফও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এক পর্যায়ে তাকে চোখ নামিয়ে কথা বলার নির্দেশও দেন।

দক্ষ মানবসম্পদ গড়ার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছে: মির্জা ফখরুল

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, কোনো জাতি এমনি এমনি উন্নত হতে পারে না। শিক্ষা, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার মাধ্যমেই একটি দেশ উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে পারে। আজকের চীন নিজেদের প্রচেষ্টা, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশে পরিণত হয়েছে।

আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঠাকুরগাঁও শহরের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী উদ্যোগে স্কুলব্যাগ ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের উদ্দেশ্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও শিশুদের নিয়ে কাজ করতে চান। শিশুদের ভালোভাবে লেখাপড়া করাতে চান, তাদের উন্নত করতে চান। এ জন্য তিনি কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন, শিক্ষার্থীদের পোশাক, শিক্ষাসামগ্রী, ফ্রিতে বিতরণ করার উদ্যোগ। সেইসঙ্গে শিশুরা যাতে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে; সেই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, দেশের শিশু-কিশোরদের সঠিক শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সব স্তরের মানুষকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। শিশুরা যাতে ভবিষ্যতে দেশের সম্পদে পরিণত হয় এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে, সে লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। চীন বাংলাদেশের উন্নয়নে বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে আসছে। ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চীন সহযোগিতা করবে। তাই, চলতি বছরের ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য চীনের প্রতিনিধি দল ঠাকুরগাঁও ভিজিট করতে আসবেন।

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের শিক্ষার উন্নয়নে সহায়তা করতে পেরে চীন সরকার আনন্দিত। শিক্ষা উপকরণ বিতরণের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহ জোগাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

চীনের রাষ্ট্রদূত জানান, প্রতিবছর বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাই করতে চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসে চীন থেকে একটি প্রতিনিধি দল সফরে আসবে। তারা এলাকাটি পরিদর্শন করে সম্ভাব্য বিনিয়োগের ক্ষেত্রগুলো মূল্যায়ন করবে।

ইয়াও ওয়েন বলেন, আগামী বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ঠাকুরগাঁওসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকার শিক্ষার্থীদের চীন সফরের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দুই দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, সংস্কৃতি ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।

‘তরুণ মেধার বিকাশ, উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর মাঝে স্কুলব্যাগ, খাতা, কলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পায়গাম আলী, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারতের জনগণের সম্পর্ক আমার একমাত্র অগ্রাধিকার: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‌‘আমার একমাত্র অগ্রাধিকার হলো বাংলাদেশ ও ভারতের জনগণের সম্পর্ক। আমরা সবাই ভাই-বোন। আমাদের পথ ভুল হওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজন শুধু ভালোবাসা ও পারস্পরিক আন্তরিকতা। তাহলেই সব সমস্যার সমাধান সম্ভব।’

ঢাকাস্থ দূতাবাসে যোগ দিতে শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে সড়কপথে বাংলাদেশে পৌঁছে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে এই প্রথম নবনিযুক্ত কোনো ভারতীয় হাইকমিশনার সড়ক পথে বাংলাদেশে আসলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক শুধু সীমান্তের নয়। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। যারা আমাদের ভাই-বোন ও মা-তাদের কল্যাণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বেলা ১২টার দিকে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সম্পন্ন করেন নবনিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার ও তার সহধর্মিণী মিসেস মিনাল ত্রিবেদী। এ সময় বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসী দাস বাধে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি চিফ অব প্রটোকল অফিসার আরিফ মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন। তারা নবনিযুক্ত হাইকমিশনারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান।

আগমনের পর ইমিগ্রেশন ও প্রটোকল কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে তাকে গন্তব্যস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা করেন। ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পবনকুমার তুলসী দাস তাকে বরণ করে নেন। তিনি বলেন, তার আগমনে আমরা আনন্দিত।

তুলসী দাস আরও বলেন, আমাদের যা পপুলেশন আছে ১৪০ কোটি। তার সঙ্গে ২০ কোটি অ্যাড করেছি অর্থাৎ, ১৬০ কোটি। আমি এখানে যা করতে চাই; তা সব একসঙ্গে হবে। আলাদাভাবে ভাবছি না। আমার মনে হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশে। দেখছেন না আমি হেটে চলে এসেছি। একই আকাশ, বাতাসও একই। আমরা মিলেমিশে ভিসার সমাধান করবো। শুধু অভিন্ন সীমান্ত নেই, অভিন্ন স্বপ্নও আছে।

গত এপ্রিলে ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দীনেশ ত্রিবেদীকে (৭৫) বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো রাজনীতিবিদকে ঢাকায় হাইকমিশনার হিসেবে পাঠালেন দিল্লি।

বাংলাভাষী দীনেশ ত্রিবেদী শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বা কাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কেই নন, সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতি সম্পর্কেও সম্যক অবহিত। কংগ্রেস, জনতা দল হয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং পরে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দীনেশ ত্রিবেদীর রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির সঙ্গেও দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।

শাকিরার রেকর্ড ভেঙে কানাডা মাতাতে প্রস্তুত নোরা ফাতেহি

মেক্সিকো সিটির পর এবার উত্তর আমেরিকার আরেক আয়োজক কানাডায় বসছে ফিফা বিশ্বকাপের জমকালো উদ্বোধনী আসর। টরন্টো স্টেডিয়ামের এই রাজকীয় মঞ্চে আজ মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বলিউড সেনসেশন নোরা ফাতেহি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ১১টা ৩০ মিনিটে এই অনুষ্ঠানটি শুরু হবে।

কানাডার উদ্বোধনী মঞ্চে পা রাখার আগেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে নোরার নতুন ফিফা অফিশিয়াল গান ‘সির সির’। মুক্তির মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২০ মিলিয়নেরও (২ কোটি) বেশি ভিউ পার করে রেকর্ড গড়েছে এই গানটি।

এর মাধ্যমে নোরা ভেঙে দিয়েছেন শাকিরার এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’এর রেকর্ড। শাকিরার গানটি প্রথম ২৪ ঘণ্টায় ভিউ পেয়েছিল ৮.২ মিলিয়ন। শাকিরাকে প্রায় দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবধানে পেছনে ফেলে ‘সির সির’ এখন ফিফার ইতিহাসে প্রথম দিনে সবচেয়ে বেশি দেখা থিম সং।

গানটির অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ান সংযোগ। নোরা ফাতেহির এই গানে তার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন ফরাসি গায়ক ভেজিড্রিম এবং ক্যালিফোর্নিয়া প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকান জনপ্রিয় মিউজিক প্রডিউসার ও ডিজে সঞ্জয়। আজ টরন্টোর মঞ্চে ভেজিড্রিম ও ডিজে সঞ্জয়কে সঙ্গে নিয়েই লাইভ পারফর্ম করবেন নোরা।

এই বৈশ্বিক অর্জন নিয়ে উচ্ছ্বসিত নোরা ফাতেহি বলেন, ‘এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি মুহূর্ত। এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আমি আমার মরক্কান এবং কানাডিয়ান শিকড়ের পাশাপাশি ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের ভালোবাসাকে এক সুতোয় বাঁধতে পেরেছি। পর্দার পেছনের শক্তিশালী ভারতীয় প্রতিনিধিত্ব আমাদের এই কাজকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য করে তুলেছে। এটি সংগীতের মাধ্যমে পূর্ব ও পশ্চিমকে এক করার একটি প্রয়াস।’

কানাডার বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ফুটিয়ে তুলতে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নোরার পাশাপাশি সুরের মূর্ছনা ছড়াবেন বিশ্বখ্যাত তারকা অ্যালানিস মরিসেট, অ্যালেসিয়া কারা, এলিয়ানা, জেসি রেয়েজ, মাইকেল বুলে এবং উইলিয়াম প্রিন্স।

সিপিডির প্রতিক্রিয়া বাজেট বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ বাস্তবসম্মত ভিত্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে উচ্চ প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ‘প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা’ ও ‘বাস্তবসম্মত ভিত্তির’ বড় ধরনের অভাব রয়েছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। সংস্থাটির মতে, বাজেটের প্রাক্কলনগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: সিপিডির পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার থেকে বাজেটে শুল্ক ছাড় ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো ভালো কিছু প্রস্তাব দিলেও, সেগুলো বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সুশাসনের অভাব বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিতে পারে।

ভিত্তিহীন প্রাক্কলন ও শৃঙ্খলার অভাব
ড. মোস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, বাজেট প্রাক্কলনের জন্য যে ভিত্তি ধরা হয়েছে, তা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়। চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে রপ্তানি, রাজস্ব আদায় এবং বেসরকারি খাতের ঋণে একটি বৈপ্লবিক ও অলৌকিক পরিবর্তন আসবে ধরে নিয়ে আগামী বছরের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি যেখানে ঋণাত্মক (-১.৮%), সেখানে আগামী বছর ৮.৭% প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে। এই দুর্বল ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বাজেট প্রাক্কলন করা বাজেটের শৃঙ্খলার পরিপন্থী।

রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ও ঋণের ঝুঁকি
বাজেটে প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকার বাড়তি সম্পদ আহরণের যে লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন। ড. মোস্তাফিজুর বলেন, এক বছরের মধ্যে এই বিশাল রাজস্ব আদায় অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। যদি রাজস্ব আদায় কম হয় এবং সরকারি ব্যয় অপরিবর্তিত থাকে, তবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর চাপ আরও বাড়বে। বিশেষ করে বৈদেশিক ঋণের বড় লক্ষ্যমাত্রা এবং তা পরিশোধের চাপ সামষ্টিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অবকাঠামো
কেবল শুল্ক ছাড় বা বিশেষ সুবিধা দিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো সম্ভব নয় বলে মনে করেন এই অর্থনীতিবিদ। তিনি বলেন, বিনিয়োগ চাঙ্গা করতে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ বা নীতিগত সুবিধার চেয়েও গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা বেশি জরুরি। তার মতে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও তা সঠিকভাবে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও সংস্কারের বিষয়ে বাজেটে পর্যাপ্ত দিকনির্দেশনা নেই।

এসএমই ও কর্মসংস্থান
প্রস্তাবিত বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) খাতের জন্য বন্ড সুবিধা ও ব্যাংক গ্যারান্টির মতো কিছু ইতিবাচক প্রস্তাব রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ে এর সুফল পৌঁছাতে হলে বিশেষ প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রয়োজন। এছাড়া কর্মসংস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, কেবল অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বরং দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে বৈদেশিক শ্রমবাজারে পাঠানোর ওপরও বিশেষ নজর দেওয়া দরকার, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহকে আরও শক্তিশালী করবে।

সিপিডি মনে করে, বাজেটের সফল বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়, সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, একটি ভালো বাজেট পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও তা সাধারণ মানুষের কল্যাণে আসবে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, প্রস্তাবিত এই বাজেট সরকারের প্রথম বাজেট। এই বাজেটটি এমন সময়ে দেওয়া হয়েছে যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে এবং গত প্রায় চার বছর থেকে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজমান। পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি দুর্বল হয়ে পড়েছে, দুর্বল ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান হচ্ছে না, রাজস্ব আহরণে ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাত দুর্বল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ মোটামুটি অবস্থায় রয়েছে, প্রেসারে ছিল কিন্তু মোটামুটি ভালো হয়েছে। তবে এখন ক্রিটিক্যাল হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি সংকট।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের অন্তর্নিহিত দর্শন হলো মানব উন্নয়ন, বেসরকারি খাতনির্ভর প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক সুরক্ষার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করা। ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং জনকল্যাণমূলক খাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সিপিডির মতে, বাজেটের এই দৃষ্টিভঙ্গি অনেকাংশ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করা, ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণ, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং সামাজিক খাতের উন্নয়নের বিষয়গুলোতে মিল রয়েছে। তবে বাজেটের সাফল্য আকারের ওপর নয়, বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে। কারণ অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও দুর্বল বাস্তবায়নের কারণে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি।

সিপিডি বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলছে, বাজেটের লক্ষ্য অর্জনে শক্তিশালী ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান অপরিহার্য। এমন প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন, যেগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারবে এবং জনগণের কাছে দৃশ্যমান ফলাফল পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই বাজেট নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও বটে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা প্রদর্শনের এটিই সরকারের প্রথম বড় সুযোগ। বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার যদি কাঠামোগত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ দিতে পারে, তাহলে তা দেশের অর্থনীতিকে আরও টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে সিপিডি।

ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমাতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন

বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশের বাজেট ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ ধীরে ধীরে কমিয়ে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণের সুযোগ বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রোগ্রামিং ও বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকার আগের প্রচলিত ধারা থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির প্রেক্ষাপট দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা, বিনিয়োগের ধরন ও বিনিয়োগ মূল্যায়নের মানদণ্ডও বদলে যাচ্ছে। এ কারণে দেশের সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার (পাবলিক ফাইন্যান্স) বিদ্যমান কাঠামোতেও পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণ বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ সংকুচিত করে। অর্থনীতির ভাষায় যাকে ‘ক্রাউডিং আউট’ বলা হয়। স্থানীয় ব্যাংকগুলোর মূল গ্রাহক হওয়া উচিত বেসরকারি খাত, কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারের ঋণ গ্রহণের কারণে সেই ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে রাতারাতি বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত দেড় দশকে গড়ে ওঠা পরিস্থিতি একদিনে বদলানো যাবে না। তবে সরকার ধীরে ধীরে সেই পথে এগোচ্ছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, চলতি বাজেটে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। এর মাধ্যমে একটি নতুন প্রবণতা বা ধারা তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখা গেলে ভবিষ্যতে স্থানীয় ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ গ্রহণ আরও কমে আসবে। ফলে ব্যাংকিং খাতের ঋণের বড় অংশ বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রবাহিত হবে, যা উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের লক্ষ্য হলো এমন একটি আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, যেখানে বেসরকারি খাত অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারবে এবং ব্যাংকিং খাতেও সরকারি ও বেসরকারি ঋণের মধ্যে একটি স্বাস্থ্যকর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

একই প্রশ্নের উত্তরে এর আগে অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, সরকার ধীরে ধীরে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অর্থায়নের উৎস জোরদার করার পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার অর্থনীতিতে সরকারি বিনিয়োগ (পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট) বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। অতীতে যেখানে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৮ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে ছিল, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৩ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তার মতে, সরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রাজস্ব আয়ও বাড়াবে।

ব্যাংক ঋণ প্রসঙ্গে অর্থ সচিব জানান, চলতি অর্থবছরে সরকারের ব্যাংক ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা। নতুন বাজেটে তা কমিয়ে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, সরকারের সামনে এখন বিকল্প অর্থায়নের বেশ কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সরকার ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সুকুক বন্ড ইস্যু করেছে, যা ব্যাপক সাড়া পেয়েছে। এ বন্ডের বিপরীতে প্রায় ৭২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়েছে। এতে বোঝা যায়, বাজারে বিকল্প বিনিয়োগ মাধ্যমের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

অর্থ সচিব বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে ধীরে ধীরে ইক্যুইটি ও বাজারভিত্তিক অর্থায়নের দিকে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রিন বন্ড, অরেঞ্জ বন্ডসহ বিভিন্ন ধরনের বন্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক বাজারকে আরও গভীর ও কার্যকর করার প্রচেষ্টা চলছে।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এসব সংস্কার ও নতুন অর্থায়ন কাঠামোর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সরকারের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং অর্থায়নের উৎস আরও বহুমুখী হবে।