Home Blog Page 59

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে প্রশাসক নিয়োগ

চলমান সংকট কাটাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পুরো পর্ষদ বাতিল করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রোববার রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এখন থেকে তিনি পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আগের পর্ষদ ভেঙে বাংলাদেশ ব্যাংকই এই পর্ষদ গঠন করেছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আমানতকারীদের স্বার্থে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন গভর্নর। এদিন ব্যাংকটিকে বিশেষ ধার হিসেবে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিতর্ক শুরু হয়। তাঁকে অপসারণসহ ৭ দফা দাবিতে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে আন্দোলন করে আসছে একটি পক্ষ। এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে টাকা তুলে নিচ্ছেন আমানতকারীরা। দৈনিক যে পরিমাণ টাকা জমা হচ্ছে তার চেয়ে অনেক বেশি তুলে নেওয়ার কারণে তারল্য সংকটে অনেক সেবা সীমিত করতে হয়েছে ব্যাংকটিকে। ব্যাংকটির অনলাইন স্থানান্তর, এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনসহ অনেক ধরনের সেবা মিলছে না। গত সপ্তাহে গভর্নরের সঙ্গে ব্যাংকগুলোর এমডিদের এক বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের এ সংকট অন্য ব্যাংকে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। গ্রাহকদের চাপ সামলাতে ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে গত সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার চেয়ে আবেদন করে।

রোববার সন্ধ্যায় ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে শীর্ষ নির্বাহীদের নিয়ে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এরপর রাত ১০টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়, ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ সব পর্ষদ সদস্যের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৫ ধারা ও ৪৭(৩) ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং ব্যাংক-কোম্পানি, আমানতকারী ও জনসাধারণের স্বার্থে বাংলাদেশ ব্যাংক এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৭(৩) ধারায় বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেন পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন।

ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইনের নেতৃত্বে রোববার বিকেল ৪টায় ব্যাংকটির শীর্ষ নির্বাহীরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান। সন্ধ্যা ৭টার পর তারা বের হন। ওই সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দিক থেকে নানা দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে ব্যাংকটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যে কোনো ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক শেষে ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হুসাইন সাংবাদিকদের বলেন, চলমান পরিস্থিতির মধ্যে নগদ জমা ও উত্তোলন প্রায় সমান সমান। তবে আরটিজিএস, ইএফটিসহ অনলাইন মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর বেড়ে যাওয়ায় কিছু ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রোববার প্রথম তাদের আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিয়েছে। এই অর্থ পাওয়ার পর লেনদেনের বর্তমান অবস্থা এবং তা দিয়ে কতটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।

গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, ‘গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে চাই– লেনদেনে কোনো সমস্যা হবে না। আমানতকারীরা সময়মতো টাকা ফেরত পাবেন। দ্রুত এটিএম বুথ, ইন্টারনেট ব্যাংকিংসহ সব লেনদেন স্বাভাবিক হবে।’ চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে বর্তমান পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা– জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে কেন আলোচনা হবে? এটা কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেখবে। আমরা শুধু পরিচালনাগত দিক নিয়ে আলোচনা করেছি।’

পবিত্র ঈদুল আজহার আগে শেষ কর্মদিবসে গত ২৪ মে খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরের পদ হারান। এর আগে গত ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে এমডিকে ৩১ মে পর্যন্ত বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায় পর্ষদ। বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর গত ১৭ মার্চ ব্যাংকটিতে নিয়োগ পাওয়া জামায়াতপন্থি হিসেবে পরিচিত পরিচালক আব্দুল জলিলকে অপসারণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ রকম পরিস্থিতির মধ্যে ১ জুন থেকে গ্রাহক ফোরামের ব্যানারে চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, এমডি ওমর ফারুক খানের পুনর্বহালসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। এর পেছনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন আছে বলে আলোচনা আছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০২২ সাল থেকে ইসলামীসহ শরিয়াহভিত্তিক ছয়টি ব্যাংক তারল্য সংকটে চলছিল। ওই সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে চলতি হিসাব ঘাটতি রেখেও বিশেষ জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে এ রকম সুযোগ বন্ধ করে দেয়। নতুন করে টাকা উত্তোলনের চাপ সামলাতে তখন ব্যাংকগুলোকে বিশেষ ধার হিসেবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বিশেষ ধার হিসেবে নেওয়া ১৩ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিলেও অন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ৫২ হাজার কোটি টাকা আটকে আছে। এ রকম অবস্থায় এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, গ্লোবাল ইসলামী ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ইসলামী ব্যাংকের চলমান পরিস্থিতি শুরুর আগে গত মে মাস শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব দেনা পরিশোধ করে ব্যাংকটির চলতি হিসাবে সাত হাজার কোটি টাকার বেশি স্থিতি ছিল। তবে গত কয়েক দিনে প্রচুর টাকা উত্তোলনের কারণে চলতি হিসাবে স্থিতি প্রায় শূন্যে নেমে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ধার দেওয়ায় আবার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। এখন সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশা করেন।

ইসলামী ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে, চলমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ব্যাংকটির পরিচালকরা ব্যাংকে আসতে পারছিলেন না। যে কারণে নীতিনির্ধারণী কোনো সভা হচ্ছিল না। নতুন চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে অনলাইনে একটি সভা হলেও তা নিয়ম মেনে হয়নি। ওই পর্ষদ সভায় ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আবার কোনো এজেন্ডা উপস্থাপন করা হয়নি। এ রকম অবস্থায় ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত আটকে আছে। আবার ব্যাংকটিতে এখন নিয়মিত এমডি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তারা আশা করেন।

ইসলামী ব্যাংকের সংকট পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা জানিয়ে গত সপ্তাহে ব্যাংকের এমডিদের সংগঠন এবিবি উদ্বেগ জানায়। গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক থেকে দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের অনুরোধ জানান সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন। ইসলামী ব্যাংক নিয়ে জাতীয় সংসদেও সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে বিতর্ক হয়।

ইসলামী ব্যাংক এক সময় জামায়াতপন্থিদের হাতে ছিল। তবে ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ তুলে দেয় এস আলম গ্রুপের হাতে।

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা হারানোর পর ইসলামীসহ মোট ১৭টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে উঠে আসে নামে-বেনামে শুধু এস আলম গ্রুপ ইসলামী ব্যাংক থেকে ৮৫ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। যার বড় অংশই বিভিন্ন দেশে পাচার হয়েছে– এমন অভিযোগ তদন্ত করছে সরকার।

নয়াদিল্লি বিমানবন্দর থেকে ফেরত এলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ভারতের নয়াদিল্লির বিমানবন্দর থেকে ফেরত এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ইন্ডিয়ান ওশেন রিম অ্যাসোসিয়েশন (আইওআরএ) সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি রোববার ঢাকা থেকে দিল্লি গিয়েছিলেন। সেখানে অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে ক্ষোভ দেখিয়ে তিনি ফেরত আসেন। উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটি সমকালকে জানায়, ঘণ্টাখানেক বসিয়ে রেখে বিভিন্ন প্রশ্ন করার পর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা পদে থাকা জাহেদ উর রহমানকে ভারতের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আচরণ যথাযথ না হওয়ায়, উপদেষ্টা ভারতে প্রবেশে অস্বীকৃতি জানান। তিনি ভারত থেকে অন্য দেশ হয়ে বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। রোববার দিবাগত রাত ১টায় এই প্রতিবেদন লেখার সময়ে উপদেষ্টা দেশের পথে ছিলেন।

উপদেষ্টা জাহেদ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার যোগ্য। তবে উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্রটি সমকালকে জানায়,  তিনি রোববার বিকেল তিনটা ২০ মিনিটে সাধারণ পাসপোর্টে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যাত্রা করেছিলেন। দিল্লির বিমানবন্দরে নামার পর তাকে ভারতের নজরদারি তালিকা অনুযায়ী আটকে দেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ১৮ সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের নাম ভারতের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নজরদারি তালিকায় ছিল। দিল্লি বিমানবন্দরে নিয়মিত তল্লাশির সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা তাঁকে শনাক্ত করেন। এরপর যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আটক করা হয়।

সূত্রটি নিউজ১৮-কে জানায়, প্রশাসনিক ত্রুটির কারণে জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে অসঙ্গতি শনাক্ত ও সমাধান করার পর কর্মকর্তারা তাঁকে ছাড়পত্র দেন।

প্রসঙ্গত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারত বাংলাদেশের কয়েকজন ইনফ্লুয়েন্সারের ইউটিউব চ্যানেল ব্লক করে ভারত। দেশটির কর্তৃপক্ষের দাবি, এসব ইনফ্লুয়েন্সারের বক্তব্য ভারতবিরোধী। এই তালিকায় জাহেদ উর রহমানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্ষার প্রথম ডাক মেঘ, মাটি আর মানুষের অনন্ত সম্পর্ক

আষাঢ়ের দুয়ারে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। আকাশের নীল বিস্তারে ধীরে ধীরে জমে উঠছে কালো মেঘের দল। দূর-দিগন্তে শোনা যাচ্ছে মৃদু মেঘের গর্জন। বাংলার জীবন, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক সভ্যতার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক চিরন্তন অনুভূতির নাম বর্ষা।

বাংলা পঞ্জিকার আষাঢ়-শ্রাবণ, এ দুই মাস নিয়ে বর্ষা ঋতুর বিস্তার। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে জলীয় বাষ্প ভরা মেঘমালা দেশের আকাশ ঢেকে ফেলে।

আবহাওয়াবিদদের ভাষায় তা প্রাকৃতিক জলবায়ুগত প্রক্রিয়া। আর সাধারণ মানুষের কাছে বর্ষা মানে প্রথম বৃষ্টির গন্ধ, কদম ফুলের হাসি, টিনের চালে বৃষ্টির ছন্দ আর ভিজে মাটির আবেশ। দেশের খাল-বিল-নদী-হাওর ও জলাভূমি বর্ষার পানিতে প্রাণ ফিরে পেলে শুকিয়ে যাওয়া মাঠঘাটে শুরু হয় সবুজের সমারোহ। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে বর্ষা। আমন ধানের চাষ, পাট উৎপাদন, মাছের প্রজনন এবং জলাভূমির পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় বর্ষার ভূমিকা অপরিসীম।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, দেশের মোট খাদ্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ মৌসুমি বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। সময়মতো বৃষ্টি হলে কৃষক আশাবাদী হন। যদিও অতিবৃষ্টি কিংবা অনিয়মিত বর্ষণ কৃষকের জন্য উদ্বেগও ডেকে আনে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ুর পরিবর্তন বর্ষার স্বাভাবিক ছন্দেও বড় পরিবর্তন ডেকে এনেছে। কখনও দীর্ঘ সময় বৃষ্টিবিহীন, কখনও স্বল্প সময়ে অতিবৃষ্টি– এই দুই চরম প্রবণতা কৃষি ও জনজীবনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। তবু বর্ষা মানে বৃষ্টিধারায় ধুলোমাখা পত্রপল্লবের ধুয়েমুছে উজ্জ্বল হয়ে ওঠা। বর্ষা মানে বাতাসে ফিরে আসা সতেজতার স্পর্শ।

মধ্যযুগের পদাবলী থেকে শুরু করে আধুনিক কবিতাতেও বর্ষা এক অনিবার্য অনুষঙ্গ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বর্ষার গান, কাজী নজরুল ইসলামের মেঘ-বৃষ্টির কবিতা কিংবা জীবনানন্দ দাশের প্রকৃতিচিত্র– সবখানেই বর্ষা নতুন ব্যঞ্জনা নিয়ে আছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষা ঘিরে রয়েছে অসংখ্য লোকগান, পালাগান ও আঞ্চলিক ঐতিহ্য। নৌকাবাইচ, ভাটিয়ালি কিংবা হাওরাঞ্চলের জীবনধারা বর্ষার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী জড়িত। নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের স্মৃতি ও সংস্কৃতিতে বর্ষা এক জীবন্ত উপস্থিতি।

তবে নগরজীবনে বর্ষার অভিজ্ঞতা অনেক সময় ভিন্ন। রাজধানী ঢাকা ও অন্যান্য বড় শহরে বৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত হয় জলাবদ্ধতা, যানজট ও নাগরিক দুর্ভোগের চিত্র। কয়েক ঘণ্টার টানা বর্ষণেই ডুবে যায় অনেক সড়ক। নগর পরিকল্পনা ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা বর্ষাকে স্বস্তির বদলে ভোগান্তির কারণ করে তোলে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নগর অবকাঠামোকে আরও সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব করে তোলার বিকল্প নেই।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। কৃষকরা আমন মৌসুমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন; নদীগুলো ধীরে ধীরে পূর্ণতা ফিরে পাচ্ছে; আর প্রকৃতি অপেক্ষা করছে বর্ষার পূর্ণ আবির্ভাবের। কারণ বর্ষা শেখায় পুনর্জন্মের গল্প। দগ্ধ মাটিতে যেমন নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়, তেমনি ক্লান্ত জীবনের ভেতরে জেগে ওঠে নতুন প্রত্যাশা। বৃষ্টি ঝরে আকাশ থেকে, কিন্তু তার স্পর্শ পৌঁছে যায় মানুষের স্মৃতি, সংস্কৃতি ও অস্তিত্বের গভীরে। বর্ষা ঋতু যেন বাংলার মানুষের অনুভবের এক চিরসবুজ ভূগোল।

শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান: শাহবাজ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা, নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পও

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ বন্ধে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছেছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তার এই ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে শাহবাজ শরিফ বলেন, নিবিড় আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয়েছে। উভয় পক্ষ সব ফ্রন্টে, লেবাননসহ, সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে চলতি সপ্তাহে মধ্যস্থতাকারীদের উদ্যোগে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

বিবৃতিতে তিনি মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় সহায়তার জন্য কাতারের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে সৌদি আরব ও তুরস্কের নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশংসা করেন।

শাহবাজ শরিফের ঘোষণার অল্প সময় পর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে লেখেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে চুক্তি এখন সম্পন্ন হয়েছে।’

ট্রাম্প আরও জানান, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধও অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিজের পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করো। তেল প্রবাহিত হতে দাও।’

ট্রাম্পের এই ঘোষণার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলো। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

শান্তিচুক্তির খবরে কমলো তেলের দাম, বিশ্ব শেয়ারবাজারে বড় উত্থান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি এবং ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। দীর্ঘ চার মাসের সংঘাতের অবসানের খবরে স্বস্তি ফিরেছে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে। জ্বালানি তেলের দাম কমার পাশাপাশি বিশ্বের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা গেছে।

সোমবার দিনের শুরুতেই এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের শেয়ারবাজারে শক্তিশালী ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জাপানের নিক্কেই-২২৫ সূচক ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে যায়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক বৃদ্ধি পায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া তাইওয়ানের তাইএক্স সূচক ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অস্ট্রেলিয়ার এএসএক্স-২০০ সূচক প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল। হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচকও দিনের শুরুতে প্রায় ১ শতাংশ বেড়েছে।

এই ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে মার্কিন শেয়ারবাজারেও। নিয়মিত লেনদেন শুরুর আগেই এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ১ শতাংশ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নাসদাক ফিউচার ১ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এএনজেড (ANZ)-এর এশিয়া গবেষণা বিভাগের প্রধান খুন গো বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়ার পর থেকেই বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেড়েছে।’

শান্তিচুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৮৩ দশমিক ৪০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে।

রোববার ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে চুক্তির ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন। তিনি লেখেন, ‘বিশ্বের জাহাজগুলো, ইঞ্জিন চালু করুন। তেল সরবরাহ আবার শুরু হোক।’

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছিল, যা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশায় বাজারে স্বস্তি ফিরেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম কমে আসায় বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য ইতিবাচক সংকেত।

তবে শান্তিচুক্তির ঘোষণার পরও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন নৌ-পরিবহন খাতের বিশেষজ্ঞরা।

নরওয়েজিয়ান শিপ ওনার্স মিউচুয়াল ওয়ার রিস্কস ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সভেন রিংবাক্কেন বলেন, ‘সংঘাতের কারণে হাজার হাজার জাহাজ এই অঞ্চলে এবং আশপাশের জলসীমায় আটকে রয়েছে। পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম চালালেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। এছাড়া সাগরে মাইন পাতা থাকলে তা অপসারণ করতেও দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক শিপিং কোম্পানি সেফসি গ্রুপের চেয়ারম্যান এসভি আনচানও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘কাগজে-কলমে শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। সমুদ্রের মাইন অপসারণ, বিমা কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নয়ন-সবকিছু বিবেচনায় নিলে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।’

ইরানের বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। চুক্তির আওতায় লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি, ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আটকে থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করার বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

তিন মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির একটি খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ তথ্য জানান। তবে পাল্টা মন্তব্য এসেছে ইরানের পক্ষ থেকে। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শান্তিচুক্তির খুব কাছে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক পন্থায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি রচনা করবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর আজ রোববার হবে না বলে জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাক্ষরের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে। বাঘায়ির দেওয়া তথ্যানুসারে, ইসলামাবাদ বা জেনেভায় আগামী এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো আলোচক দল পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যুদ্ধ। ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরে পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও।
চুক্তির বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার জানান, চুক্তিতে যদিও পরিবর্তন আসা সম্ভব, তার পরও এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান।’

এক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরাঘচির এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও পরে ওই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, জলপথ খোলা রয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ এরই মধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এ চুক্তির পরে শুরু হবে। সব মিলিয়ে ৬০ দিন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে তেহরানের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জুলাইয়ে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই বিদায়ী অনুষ্ঠান হবে, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই। আর কোমে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুলাই। ৯ জুলাই আরেকটি জানাজার পর মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

খামেনির জানাজা ও দাফনের সূচি ঘোষণা করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কোমে আরেকটি স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোমেনি, যার মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। খামেনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের প্রধান আদর্শিক রূপকার। অন্যদিকে খামেনির নেতৃত্বে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা দিয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

অপ্রদর্শিত ব্যয়ের খোঁজে ‘টাইম মেশিনে’ এনবিআর পুরোনো কোনো ব্যয় আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করলে জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব অর্থবিলে

এবারের বাজেটে অর্থবিলে অতীতের যে কোনো বছরের অপ্রদর্শিত ব্যয় খুঁজে পেলে, তার ওপর জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া কর কর্মকর্তারা যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অতীতের পুরোনো নথি দেখতে চাওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এতে করদাতাদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ছয় বছর পর্যন্ত কোনো লুকানো বা অপ্রদর্শিত সম্পদের খোঁজ কর কর্মকর্তারা পেলে তার ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এবার ওই ধারা সংশোধন করে সম্পদের সঙ্গে করযোগ্য ব্যয়ও সংযুক্ত করে কর কর্মকর্তাকে ওই ব্যয়ের ওপরও সরাসরি করারোপ করার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আইন এনবিআরের হাতে একটি ‘টাইম মেশিন’ বা অতীত-সন্ধানী ক্ষমতা তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আগে সম্পদের ক্ষেত্রে এমন বিধান ছিল। এখন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একই আইন করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থবিলে যা আছে
এবারের অর্থবিলের ২১২ ধারার ৪(খ) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির এমন কোনো অপ্রদর্শিত আয়, ব্যাখ্যাহীন ব্যয় বা লুকানো সম্পদ থাকে, যা আয়কর আইনের সাধারণ ছয় বছরের ‘লুকব্যাক পিরিয়ড’ বা অতীত অনুসন্ধানের সীমারও পুরোনো, তবে আইনত ধরে নেওয়া হবে, ওই আয়, ব্যয় বা সম্পদ সেই ষষ্ঠ (সবচেয়ে পুরোনো সচল বছর) কর বছরেই সংঘটিত হয়েছে।

অর্থবিলে এই ধারা পাস হলে ছয় বছর আগেরও কোনো করযোগ্য ব্যয় পেলে কর কর্মকর্তা ওই ব্যয়কে পেছনের ষষ্ঠ বছরের ব্যয় হিসাবে গণনা করে ওই বছরের কর আইন অনুযায়ী কর ধার্য করবেন। এর পর টানা ছয় বছর তা অপরিশোধিত থাকায় বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে জরিমানাসহ কর পরিশোধের নোটিশ দিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ 
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া এ পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, যদি কোনো করদাতা আজ থেকে আট বছর আগে কোনো খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকেন, যা তখন তিনি আয়কর নথিতে দেখাননি, তাহলে বর্তমান আইনে কর কর্মকর্তা সেই ব্যয়টিকে ষষ্ঠ বছরের আয় হিসেবে গণ্য করে বর্তমান সময়ে করহারে কর আরোপ করতে পারবেন। ফলে আয়কর নথিতে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সঠিক তথ্য প্রদানই ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ধরনের করভার থেকে বাঁচাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা ভয় করছেন, বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নে বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কর কর্মকর্তারা পুরোনো অনেক নথি চাইতে পারেন। এ নিয়ে হয়রানির স্বীকার হওয়ার শঙ্কার কথাও জানান তারা।

পেশাদার চার্টার্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কর বিশেষজ্ঞ এমবিএম লুৎফুল হাদী মনে করেন, যারা আইন মেনে চলেন, তাদের এ বিধান নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এটাও ঠিক, আগে সবার মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল, ছয় বছর আগের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এ প্রস্তাব সে ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

এই কর বিশেষজ্ঞ সমকালকে বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিচারের কোনো সময়সীমা থাকে না, এটা ঠিক। কিন্তু আর্থিক ক্ষেত্রে এর একটা সীমা থাকা উচিত।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে 
শুধু আইনি বিধান করেই নয়, এ বিধান প্রয়োগের জন্য এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য ‘সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশন’ ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ফলে এনবিআর চাইলে জানতে পারবে, করদাতা তার আয় বা ব্যয় বা সম্পদ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য লুকাচ্ছে কিনা।

অর্থমন্ত্রী জানান, এ ডিজিটাল সংযোগের ফলে কর ফাঁকি রোধ করা এবং করদাতার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের চিত্র বের করা সহজ হবে। এ ছাড়া কর ফাঁকি শনাক্ত করতে এনবিআর এখন থেকে ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করবে, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিট নির্বাচন করা হবে।

বাজেট বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য বাজেটের ‘স্বাস্থ্য ভালো’ বাস্তবায়ন দুর্বল

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে গেলবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। টাকার অঙ্কে তা ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি। উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ও জনবল বাড়ানো, বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে হেলিকপ্টার সেবা চালুর মতো বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

তবে স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এর চেয়ে বেশি জরুরি সেই টাকা যথাযথভাবে খরচ করা। কারণ, বছরের পর বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ খরচ করতে পারেনি। ফলে নতুন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এবার বরাদ্দের একটি টাকাও ফেরত না যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। স্বাস্থ্য বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ৪৬২ উপজেলা সদর হাসপাতালকে ধাপে ধাপে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ে শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে রোগীকে জেলা শহর ও রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ভবন বা শয্যা বাড়ালেই হবে না। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত না হলে এসব হাসপাতাল কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়।

বন্ধ শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আটটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১৮টি এক হাজার শয্যার সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসা, শিশুস্বাস্থ্য ও জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় ঢাকার ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি।

এক লাখের বেশি জনবল নিয়োগ
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। জনবল সংকটে থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট নার্সিং ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাইক নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত মো. ইয়াহিয়া বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়োগে সুষম বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসক, নার্স বা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নয়; অপটোমেট্রিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ওটি), স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (এসএলটি) এবং পুষ্টিবিদের জন্যও পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি করতে হবে।

পুরোনো সমস্যা: বরাদ্দ আছে, ব্যয় নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং সেই টাকা ব্যয়ের সক্ষমতা। তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে যেন বরাদ্দ কমানো না হয় এবং বছর শেষে যেন দেখা যায়, বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় হয়েছে। তাহলেই মানুষ বাজেট বাড়ার সুফল পাবে।

মাঝপথে বরাদ্দ কমার শঙ্কা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, অভিজ্ঞতা বলছে, বরাদ্দ বাড়লেও যদি প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না।

‘এক টাকাও ফেরত যাবে না’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি বলেন, উপজেলার সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি হেলিকপ্টার সেবাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা বলল জাপার একাংশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা এবং বাস্তবায়নের এক কঠিন পরীক্ষা বলে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলটির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিদ্যমান কঠিন সময়কে মোকাবিলার লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

আজ শনিবার গুলশানের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাপার একাংশের চেয়ারম্যান প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণ নির্ভরও বলেন। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতি গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে এর প্রধান দুর্বলতা রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অস্পষ্টতা।

জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা ছেড়ে একই নামে পৃথক দল গঠন করা আনিসুল ইসলাম বলেছেন, সার্বিক বিবেচনায় এ বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

সংবাদ সম্মেলনের জাপার এই অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

রুহুল আমিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবিলম্বে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুসলিম লীগ সভাপতি মহসিন রশীদ, ইসলামিক মহাজোট চেয়ারম্যান আবু নাসের অহেদ ফারুক প্রমুখ।