Home Blog Page 604

‘সরকার ভিন্নমত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে না’ অভিযোগ ড. মঈন খানের

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, সরকার ভিন্ন মত প্রকাশের সুযোগ দিচ্ছে না। আজকে কেউ আওয়ামী লীগ করবে, কেউ বিএনপি করবে, কেউ অন্য দল করবে। এভাবেই তো সারা দুনিয়া চলে আসছে। আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছিল গণতন্ত্রের জন্য। কিন্তু সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে দূরে সরে দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছে- এটা সারা দুনিয়া বলছে। তাহলে আমরা এদেশে কিভাবে বাস করব।

শনিবার রাজধানীর মগবাজারে নির্যাতিত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের বাসায় পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার সময় সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মঈন খান বলেন, আমরা আশা করব, সরকার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করবে। মানুষকে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দিবে। ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিবে। সরকার মুখে যা বলে বাস্তবে তা প্রমাণ করবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত তিনটি নির্বাচনের ইতিহাস দেখুন। দেশের ১২ কোটি ভোটার এই নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। কিন্তু সরকার গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছে। সরকারকে মানুষের ভোটের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা মুক্ত পরিবেশে বসবাস করতে চাই। কথা বলার স্বাধীনতা চাই।

ক্ষমতার জন্য বিএনপি বিদেশীদের ধরনা দিচ্ছে- আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের বিষয়ে মঈন খান বলেন, সরকারের অভিযোগ সত্যি নয়। বিএনপি যদি বিদেশীদের ওপর নির্ভর করতো তাহলে সারাবছর এসি রুমে বসে সিনেমা দেখতো। কিন্তু বিএনপি রাজপথে আন্দোলন করছে, সভা-সমাবেশ করছে। সারাদেশে পদযাত্রা করেছে। সরকারের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।

রবিউল ইসলাম নয়নের বাবা আক্কাস শেখ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আজকে ১৫ বছর ধরে আমার ছেলে বাসায় থাকতে পারে না। ছেলের চেহারা দেখতে পারি না। কোথায় আছে জানি না। রাজনীতি করার কারণে দুইবার আমার ছেলেকে গুলি করা হয়েছে। একবার গুলি করার পর মৃত ভেবে নয়নকে মর্গে নিয়ে যায় পুলিশ। নয়নের বিরুদ্ধে আড়াই শতাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। এক শ’র বেশি দিন রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। হাত পায়ের নখ তুলে ফেলা হয়েছে। বিএনপির রাজনীতি করাই আমার ছেলের অপরাধ। এসময় নয়নের শাশুড়ি শিরিনা পারভীন ও স্ত্রী শাম্মাী আক্তার মুগ্ধ উপস্থিত ছিলেন।

আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব নয় : বুয়েট ভিসি

ছাত্ররাজনীতি বন্ধে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ভিসি অধ্যাপক ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেছেন, ‘তাদের সাথে বুয়েট প্রশাসন ঐক্যমত পোষণ করে। কিন্তু কারো পক্ষেই আইনের বাইরে গিয়ে কিছু করা সম্ভব নয়।’

শনিবার (৩০ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ভিসি বলেন, ‘তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৮ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এরপর একাডেমিক কাউন্সিল বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবে। ভিসি শুধু হল থেকে বহিষ্কার করতে পারে। শৃঙ্খলা ভঙের ব্যবস্থা নেবে একাডেমিক কাউন্সিল। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বুয়েট প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আজ অনেক বিভাগের পরীক্ষা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীরা সে পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় সেখানে তাদের অনুপস্থিত দেখানো হবে। নিয়ম মতো রিটেক হয়ে যাবে। তবে পুনরায় পরীক্ষার জন্য আবেদন করলে একাডেমিক কাউন্সিল বিবেচনা করতে পারে।’

‘বহিরাগতরা বুয়েটে প্রবেশের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালকের (ডিএসডব্লিউ) অনুমতি নেয়নি। কাজেই শিক্ষার্থীদের দাবি করা ডিএসডব্লিউ’র পদত্যাগের দাবি অবান্তর,’ বলেন তিনি।

এর আগে দ্বিতীয় দিনের মতো সকাল থেকেই ছয় শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারসহ বিভিন্ন দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সাড়ে ১২টায় দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন সমাপ্ত করেন তারা। তবে দাবি মেনে না নেয়া হলে আগামীকাল সকালে তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করা হবে বলেও জানান শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ দিবাগত রাত ১টার দিকে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি, দফতর সম্পাদকসহ অনেকেই বুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করানোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বুয়েট শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ রাব্বি। ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ হওয়ার পর বুয়েটে এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নতুন করে রাজনীতি শুরুর পাঁয়তারা হিসেবে দেখছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসে পুনরায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু হওয়া ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তারা আন্দোলন শুরু করেন।

পরে আন্দোলনের মুখে গতকাল রাতে ইমতিয়াজ রাব্বিকে হল থেকে বহিষ্কার করে বুয়েট প্রশাসন। তবে সকল দাবি মেনে না নেয়ায় আজ দ্বিতীয় দিনের মতো ফের আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা।

‘শিশুদের জন্য গাজার কোনো স্থান নিরাপদ নয়’

জাতিসঙ্ঘে শিশু তহবিল ইউনিসেফ জানিয়েছে, শিশুদের বসবাসের জন্য গাজার কোনো স্থান এখন আর নিরাপদ নয়।

শনিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিসেফ গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছে যে- এর মাধ্যমে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত ছিটমহলে ‘জীবন বাঁচানোর, দুর্ভোগের অবসান এবং জীবন রক্ষাকারী সহায়তার জরুরি বিতরণ সক্ষম করার সর্বোত্তম সুযোগ প্রদান করবে’।

এর আগে গতকাল জাতিসঙ্ঘের শিশু তহবিলের মুখপাত্র জেমস এল্ডার বলেন যে- গাজায় তিনি যার মুখোমুখি হন তার কাছ থেকে একটিই বার্তা পান, তা হলো- ‘আমাদের খাবার চাই’।

ডেমোক্রেসি নাও-এর সাথে এক সাক্ষাত্কারে দক্ষিণ গাজার রাফাহ থেকে এল্ডার বলেন, ‘তারা আমার কাছে এই একটি কথাই বলতে চায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘তারা এটা বলছে কারণ তাদের অনুমান বিশ্ব জানে না, বিশ্ব জানলে কিভাবে এটি ঘটতে দেয়া হচ্ছে?’

এদিকে বেলজিয়ামের উন্নয়ন সহযোগিতা ও নগর নীতি বিষয়ক মন্ত্রী ক্যারোলিন জেনেজ বলেছেন, ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বজায় রাখতে হবে এবং গাজার ‘বেসামরিক ও শিশুদের ক্ষুধার্ত হওয়া বন্ধ করতে হবে’।

একই কথা বলেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। আইসিজে গাজা ভূখণ্ডে ইসরাইলকে খাদ্য, পানি, জ্বালানি চিকিৎসা সরবরাহসহ মৌলিক পরিষেবা এবং মানবিক সহায়তার ‘অবাধ প্রবেশ’ নিশ্চিত করতে ‘বিলম্ব না করার’ জন্য বলেছে।

৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩২ হাজার ৭০৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ৭৫ হাজার ৯২ জন আহত হয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা

ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়ে দিন শেষ করল শ্রীলঙ্কা

লক্ষ্য সিরিজ বাঁচানো। কিন্তু দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে শুরুতেই টস ভাগ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে যায়। চট্টগ্রামে টসে হেরে ফিল্ডিং করতে নেমে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের শুধু ব্যাটিংটাই দেখে গিয়েছে স্বাগতিকরা। ক্যাচ মিস, অযথা রিভিউ নষ্ট করা যেন প্রথম দিনের নিয়মিত কাজ হয়ে দাঁড়ায় বাংলাদেশের। লঙ্কানদের দাপটের দিনে হাসান মাহমুদ-সাকিবদের প্রাপ্তি শেষ সেশনে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে থাকা দিমুথ করুনারত্নে ও কুশল মেন্ডিসের উইকেট। বাংলাদেশী বোলারদের খাটুনির দিনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করে দাপট দেখিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা।

প্রথম টেস্ট হারের পর চট্টগ্রামে সাকিব আল হাসান একাদশে ফিরেছেন। টাইগার অলরাউন্ডার ফেরার দিনে টেস্ট অভিষেক হয়ে পেসার হাসান মাহমুদের। দিনের শুরুতে পেসাররা পিচ থেকে সহায়তা পেলেও লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের উইকেট নিতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশের বোলাররা।

প্রথম সেশনে বোলাররা উইকেট না পাওয়ার পেছনের কারিগর বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। স্লিপে মাহমুদুল হাসান জয় ও বাউন্ডারিতে সাকিবের হাত মিসে প্রথম সেশনে বিনা উইকেটে ৮৮ রান তোলে লঙ্কানরা। দ্বিতীয় সেশনেও সফরকারী ব্যাটসম্যানরা ছিলেন ছন্দে। তবে ওপেনার নিশান মাদুশকা ব্যক্তিগত ফিফটির পর বাংলাদেশকে উইকেট উপহার দিয়েছেন রান আউট হয়ে। ২৯ তম ওভারে বাংলাদেশ প্রথম উইকেটের পতন ঘটায়। তবে এরপর আবারো সেই একই চিত্র লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের দাপট, বাংলাদেশের বোলারদের খাটুনি।

উইকেটে তেমন কোন সুবিধা পাচ্ছিলেন না বোলাররা। দ্বিতীয় সেশন শেষে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে ছিলে ওপেনার করুনারত্নে। তবে তৃতীয় সেশনের শুরুতেই হাসান মাহমুদের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে ইন সাইড ইজ হয়ে বোল্ড হন লঙ্কান ওপেনার। ৮৬ রানে ফেরার সময় শুধু আক্ষেপই সঙ্গী করতে পেরেছেন করুনারত্নে। তৃতীয় উইকেটে ক্রিজে নামেন আঞ্জেলা ম্যাথিউস।

অভিজ্ঞ এই অলরাউন্ডারকে সাথে নিয়ে নিজের সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যেতে থাকেন কুশল মেন্ডিস। করুনারত্নে ব্যর্থ হলেও মেন্ডিস সহজেই যে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। মেন্ডিস যখন সেঞ্চুরির পথে ঠিক এর আগ মুহূর্তে ৬৭তম ওভারে আবারো স্লিপে দিনে তৃতীয়বারের মতো ক্যাচ ফেলে দেই বাংলাদেশ। মিরাজের বলে শাহাদাত হোসেন দিপু ম্যাথিউসের সহজ ক্যাচ হাতছাড়া করেন।

ম্যাথিউস জীবন পেলেও এক বছর পর টেস্ট ফেরা সাকিবের ঘূর্ণি জাদুতে ৯৩ রান করেই মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন মেন্ডিস। দলীয় ২৬৩ রানে ৩ উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে দীনেশ চান্দিমালকে নিয়ে ইনিংসের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতেন ম্যাথিউস। তবে ৮০ ওভার পর নতুন বল হাতে নিয়ে ম্যাথিউসকে ফেরান হাসান মাহমুদ। ৭১ বলে ২৩ রান করে স্লিপে মিরাজের হাতে তালুবন্দি হন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান।

দিনের শেষ দিকে অধিনায়ক ধনঞ্জয়া ডি সিলভা আর উইকেট পরতে দেননি। চান্দিমালকে সাথে নিয়ে দলীয় ৩০০ রান পার করেন। প্রথম দিনের খেলা শেষে ৯০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৪ রান সংগ্রহ করেছে শ্রীলঙ্কা।

দিন শেষে চান্দিমাল ও ডি সিলভা ৩৪ ও ১৫ রান করে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের হয়ে ২টি উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ।

ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘গণহত্যা দিবস’ পালিত: রাষ্ট্রদূত ইমরান

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যাকে স্মরণ করে আজ (সোমবার) ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় “গণহত্যা দিবস” পালিত হয়েছে ।
১৯৭১ সালের ঐদিন কালরাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে নির্মমভাবে নিহত সকল শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে দূতাবাস বিস্তারিত কর্মসূচির আয়োজন করে। দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়।
পরে রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত বাণী পাঠ করে শোনান ডিফেন্স অ্যাটাচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ শাহেদুল ইসলাম ও মিনিস্টার (পলিটিক্যাল) মোঃ রাশেদুজ্জামান।
এরপর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যা ও নৃশংসতার ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন এবং দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান ‘একাত্তরের গণহত্যা’ শীর্ষক সেমিনারের ওপর আলোচনায় অংশ নেন এবং কাউন্সেলর (পলিটিক্যাল) আরিফা রহমান রুমা এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাষ্ট্রদূত ইমরান সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহিদের মহান আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে মানব ইতিহাসের অন্যতম জঘন্যতম গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সামরিক জান্তা মুক্তিপাগল বাঙালিদের স্বাধীনতা আন্দোলনকে দমন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের ক্ষমতা গ্রহণকে প্রতিহত করার নীলনকশা বাস্তবায়নের জন্য ঢাকাসহ সারা বাংলাদেশে বর্বরোচিত গণহত্যা এবং ধ্বংসলীলা চালায়।
রাষ্ট্রদূত ইমরান ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে ঐদিনে এবং পরবর্তী নয় মাসে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতার বিষয়টি বিশ্ব স¤প্রদায়ের সামনে তুলে ধরার জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিসহ সকলের প্রতি আহবান জানান ।
তিনি বলেন, পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বর্বরোচিত গণহত্যার পর ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের পাশাপাশি ২০৪১ সালের মধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় যোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূত সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে আরিফা রহমান রুমা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ও পরবর্তী নয় মাসে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক জান্তা কর্তৃক সংঘটিত বর্বরোচিত গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। তিনি পাক হানাদার বাহিনীর এই নিষ্ঠুর গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের সকল শহিদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এক বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। কর্মসূচী পরিচালনা করেন ফার্স্ট সেক্রেটারি (পাসপোর্ট ও ভিসা উইং) মুহাম্মদ আব্দুল হাই মিলটন।

এক ইসরাইলির পুরস্কার গ্রহণ করে ড. ইউনূস গণহত্যার পক্ষ নিয়েছেন: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী হয়েও ড. ইউনূস ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হত্যাযজ্ঞে নিশ্চুপ রয়েছেন। আর একজন ইসরায়েলির দেওয়া পুরস্কার নিয়েছেন। এটা করে তিনি প্রকারান্তরে গণহত্যায় সমর্থন দিয়েছেন। ইউনূস সেন্টার এটিকে ইউনেস্কোর পুরস্কার বলে মিথ্যাচার করছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আমি ড. ইউনূসের প্রতি যথাযথ সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, ইউনূস সেন্টারের মিথ্যাচারে আমি বিস্ময়ে হতবাক। স¤প্রতি আজারবাইজানের বাকুতে একটি সম্মেলনে মিজ হেদভা সের নামে একজন ভাস্কর, যিনি ইসরায়েলি নাগরিক, তিনি ড. ইউনূসকে একটি পুরস্কার দিয়েছেন। এই পুরস্কার ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে তো নয়ই, একজন ব্যক্তির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। ইউনূস সেন্টার যেটিকে ইউনেস্কোর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলে মিথ্যা ও অপপ্রচার করেছে। তবে এটি প্রথম নয়, এর আগেও এ ধরনের মিথ্যাচার ইউনূস সেন্টারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূস শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু গাজায় আজ নির্বিচারে মানুষ হত্যা করা হয়েছে, নারী ও শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। এটি নিয়ে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি বা প্রতিবাদ করেননি। বরং এই সময়ে তিনি একজন ইসরায়েলির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন।
সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদ : এ সময় ২৫ মার্চ মধ্যরাতে লালমনিরহাট ও ২৬ মার্চ ভোরে নওগাঁ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় বিজিবির মাধ্যমে প্রতিবাদ জানানো এবং সীমান্তে ফ্ল্যাগ মিটিংও হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন অনেকদিন ধরেই আমরা ভারতের সঙ্গে এ বিষয়টি আলোচনা করে আসছি। স¤প্রতি ভারত সফরের সময়ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকগুলোতে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই প্রেক্ষিতে সীমান্তে এখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নন-লেথাল বা প্রাণঘাতী নয় এমন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রাবার বুলেটে অনেকে আহত হন, কিন্তু প্রাণহানি কমে এসেছে। তবে আমাদের লক্ষ্য প্রাণহানিকে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসা।
নাবিক ও জাহাজ উদ্ধারে নানামুখী তৎপরতা ও যোগাযোগ অব্যাহত : সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, সোমালি জলদস্যুদের কবল থেকে বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আব্দুল্লাহর নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার ও জাহজকে মুক্ত করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জাহাজ সম্পর্কে শুধু এটুকু বলতে চাই, নাবিকদের মুক্ত করার জন্য আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগে আছি। নানামুখী তৎপরতা চালাচ্ছি এবং আমাদের উদ্দেশ্য হলো নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা। জাহাজ উদ্ধার করা। আমরা অনেক দূর এগিয়েছি।

চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপরতার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

এলডিসি থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেই সঙ্গে এ প্রক্রিয়ায় কী কী সুবিধা পাওয়া যাবে সেগুলো নিয়েও তৎপরতার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
গতকাল শেরেবাংলানগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) আবদুস সালাম ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. শহীদুজ্জামান সরকার সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
একনেক সভায় ১১টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৮ হাজার ৪২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৭ হাজার ৯৩৯ কোটি ৮৭ লাখ এবং প্রকল্প ঋণ থেকে পাওয়া যাবে ৪৮৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর কী সুবিধা মিলবে আর কী চ্যালেঞ্জ আসবে সেগুলো নিয়ে এখন থেকেই তৎপর থাকতে হবে। এ ছাড়া যেসব প্রকল্প শেষ পর্যায়ে আছে, দ্রæত অর্থ ছাড় করে সেগুলো সমাপ্ত করার নির্দেশনা দেন তিনি।
একনেক সভায় মিসরে চ্যান্সারি হাউস নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রবাসীদের সেবাদানের জন্য বুথ ও অপেক্ষার জায়গা রাখার জন্য বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশের সব জেলায় ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রæত শেষ করার পাশাপাশি সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁত বোর্ডের নতুন কমপ্লেক্সে নারীদের প্রশিক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে কুড়িগ্রামের সব উপজেলার নদী ভাঙন রোধ, রাস্তাঘাট নির্মাণে ভাঙনের ঝুঁকি মাথায় রেখে কাজ করতে নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
একনেক সভায় অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে : বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ (প্রথম সংশোধিত), কাশিনাথপুর-দাশুরিয়া-নাটোর-রাজশাহী-নবাবগঞ্জ-কানসাট-সোনামসজিদ-বালিয়াদিঘী বর্ডার (এন-০৬) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (নবাবগঞ্জ অংশ), বিদ্যমান সরকারি মৎস্য খামারগুলোর সক্ষমতা ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম পর্যায়), ইমপ্রুভমেন্ট অব ফিশ ল্যান্ডিং সেন্টার অব বাংলাদেশ ফিশারিজ ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন ইন কক্সবাজার ডিস্ট্রিক্ট প্রকল্প, বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের জেলাগুলোর পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প, আট বিভাগীয় শহরে পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং কিডনি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ (প্রথম সংশোধিত) ইত্যাদি।

১৮ মাস পর বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে ইফতার

দীর্ঘ ১৮ মাস পর একসঙ্গে দেখা গেল বিএনপি ও তাদের এক সময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামীকে। গতকাল রাজধানীর ইস্কাটন লেডিস ক্লাবে বিএনপি আয়োজিত ইফতারে এক টেবিলে বসেন দুই দলের নেতারা। তার আগে একই মঞ্চে ভাষণ দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ ছাড়া সংসদের বিরোধী দল- জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান ও পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন ভূঁইয়াসহ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২-দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট নেতারা অংশ নেন।
রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্টজনদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন সময় অতিক্রম করছি। আমাদের সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। আমরা যারা গণতন্ত্র চাই, যারা চাই কল্যাণমূলক দেশ, তাদের অবশ্যই ৩১ দফা সামনে রেখে আন্দোলন করতে হবে। এক দফা আন্দোলন যে শুরু করেছিলাম, ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা শেষ করতে হবে। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সংগ্রামে ভেদাভেদ বা বিরোধ নয়, মানুষের মুক্তির জন্য আসুন ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চালিয়ে যাই; বিজয় আমাদের হবেই। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, রাজনৈতিকভাবে মানুষ সংঘবদ্ধ। আরও বেশি ঐক্য করে, আরও বেশি আন্দোলনে যাব। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমাদের আন্দোলনের একটি পর্যায় অতিক্রম করেছি। আমরা ঐক্যে বিশ্বাস করি। ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব। স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, আমরা গভীর সংকটে আছি। কৌশল ও নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে আমরা আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকার হটাব। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, আহমেদ আযম খান, কেন্দ্রীয় নেতা ডা. শাহেদা রফিক, বিজন কান্তি সরকার, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জহির উদ্দিন স্বপন, আবদুস সালাম আজাদ, সেলিম ভুইয়াসহ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, জেএসডি সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) আহসান হাবিব লিংকন, এবি পার্টির আহŸায়ক এ বি এম সোলায়মান চৌধুরী, বিকল্প ধারার আহŸায়ক অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারী, এনডিএমের ববি হাজ্জাজ, সমমনা জোটের নেতা খন্দকার লুৎফুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন্দ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক হারুন চৌধুরী, জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান, বিএফইউজে (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, জাতীয় দলের সৈয়দ এহসানুল হুদা, জমিয়তের মহিউদ্দিন ইকরাম, গণঅধিকার পরিষদের একাংশের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ফারুক হাসান, অপরাংশের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। ইফতারের আগে দোয়া পরিচালনা করেন ওলামা দলের মাওলানা শাহ মো. নেছারুল হক।

শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ জয় বাংলা, বললেন লু

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপনে বাংলাদেশি আমেরিকানদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু। বাংলাদেশের ৫৪তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ২৬ মার্চ সন্ধ্যায় ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে ডোনাল্ড লু এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আমেরিকানের কথা উল্লেখ করে ডোনাল্ড লু বলেন, তাদের শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রম আমাদের দুটি মহান জাতির মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি আমেরিকানরা দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে যেভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তার জন্য আমরা গর্বিত। এ প্রসঙ্গে ডোনাল্ড লু বাংলাদেশি আমেরিকান উদ্যোক্তাদের কথা উল্লেখ করেন যারা তাদের অনন্য উদ্ভাবনী শক্তি ও ধারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছেন। ‘শুভ জন্মদিন বাংলাদেশ, জয় বাংলা’ বলে বক্তব্য শেষ করেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। সবার সমৃদ্ধির জন্য একটি মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। পরে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত যৌথভাবে অতিথিদের উপস্থিতিতে কেক কাটেন। অনুষ্ঠানে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্টের ফরেন মিশন অফিস ডিরেক্টর রেবেকা গঞ্জালেস, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকবৃন্দ, মার্কিন সরকার, ইউএসএআইডিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক মুখ্যসচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনুষ্ঠানে ছিলেন। এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। পরে বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চলে গেলেন নোবেলজয়ী কাহনেম্যান

নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেম্যান ৯০ বছর বয়সে মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটি ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের মৃত্যুর কথা ঘোষণা করেছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি ১৯৯৩ সাল থেকে কাজ করছিলেন।
কাহনেম্যান ১৯৩৪ সালে ফিলিস্তিনের (বর্তমান ইসরাইলের) তেল আবিবে জন্মগ্রহণ করেন। জীবনের বেশিরভাগ সময় তিনি নাৎসি-অধিকৃত ফ্রান্সে কাটিয়েছেন। সেখানে তার বাবা একটি রাসায়নিক কারখানায় গবেষণার প্রধান হিসাবে কাজ করতেন। ইসরাইল রাষ্ট্র সৃষ্টির ঠিক আগে ১৯৪৮ সালে কাহনেম্যানের পরিবার ব্রিটিশ শাসিত ফিলিস্তিনে ফিরে আসে।
১৯৫৪ সালে ইসরাইলের জেরুজালেমে হিব্রæ ইউনিভার্সিটি থেকে কাহনেম্যান মনস্তত্ত¡বিদ্যায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে তিনি ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনীতে যোগ দেন। সেখানে সেনা নিয়োগে মানসিকতা যাচাই করতে তিনি বিশেষ ব্যবস্থা তৈরি করেন।
পরে আমেরিকার বার্কলেতে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফর্নিয়া থেকে পিএইচডি করার পরে ফের হিব্রæ ইউনিভার্টিসিতে যোগ দেন অধ্যাপক হিসাবে। ২০১১ সালে কাহনেম্যানের বিখ্যাত বই ‘থিংকিং ফাস্ট অ্যান্ড স্লো’ প্রকাশিত হয়।
মানুষের অভ্যাস, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন কীভাবে ব্যয় এবং তার হাত ধরে অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে (বিহেভেরিয়াল ইকনমিক্স) তা নিয়ে গবেষণা করেছেন কাহনেম্যান। বিশেষত অনেক কিছুই না জেনে কীভাবে একজন সিদ্ধান্ত নেন বা নেন না, কেমন আয়ের মানুষ বেশি খুশি থাকেন-এসব ঘিরেই আবর্তিত ছিল তার কাজ। আর এটিই পাল্টে দিয়েছে অর্থনীতি সম্পর্কে বহু চিরাচরিত ধ্যান-ধারণাকে। ‘প্রসপেক্ট থিয়োরি’ (অনিশ্চয়তার মধ্যে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া) নিয়ে গবেষণার জন্য ২০০২ সালে তিনি নোবেল পান।