Home Blog Page 609

এবার গণ অধিকার পরিষদ থেকে নুর-রাশেদকে অব্যাহতি

গণ অধিকার পরিষদে রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুরের রেষারেষি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। এবার সংগঠনের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো: রাশেদ খানকে অব্যাহতি দিয়েছেন রেজা কিবরিয়াপন্থী নেতারা।

মঙ্গলবার (২০ জুন) রাতে গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার সই করা এবং পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য শাহাবুদ্দিন ‍শুভর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অব্যাহতির কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গণ অধিকার পরিষদের গঠনতন্ত্র, ২১ দফা কর্মসূচি, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং মূলনীতি বিরোধী কাজ করা, সরকারের সংবিধান, মানি লন্ডারিং আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠা, ইসরাইলসহ বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগাযোগ, অনৈতিক আর্থিক লেনদেন, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে সভা আয়োজন, অবৈধভাবে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনোনয়ন করা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিষদের নেতাদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক পোস্ট দিয়ে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে সদস্য সচিব মো: নুরুল হককে কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হলো।

একইসাথে এই প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করায় কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক মো: রাশেদ খানকে সাময়িক অব্যাহতি দেয়া হলো। তাদের দুজনকেই দলের দফতর বরাবর আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়া হলো।

বিজ্ঞপ্তিতে রেজা কিবরিয়া বলেন, একইসাথে আমি ড. রেজা কিবরিয়া, গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে সাংগঠনিক ক্ষমতাবলে পরবর্তী নির্বাহী সংসদের সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সদস্য সচিব হিসেবে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ও অধিকার পরিষদের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা হাসান আল মামুনকে (মো: আল মামুন) ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব হিসেবে মনোনীত করছি। দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি এবং নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের আন্দোলন বেগবান করার জন্য এসব নির্দেশনা দেয়া হলো।

এদিকে, গণঅধিকার পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, নুরুল হক নুরের সাথে ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের যোগাযোগ, আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ নানা কারণে বিরক্ত সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা। সর্বশেষ মোসাদের সাথে নুরুল হক নুরের টাকা লেনদেনের বিষয়টি সামনে এলে দলের অভ্যন্তরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে নুরের স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না থাকায় ভালোভাবে নেননি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।

পরে মঙ্গলবার (২০ জুন) দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেন গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা। সভায় সংগঠনটির বেশিরভাগ যুগ্ম আহ্বায়ক, যুগ্ম সদস্য সচিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অংশ নেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে অবস্থান করা ড. রেজা কিবরিয়া।

এর আগে, গত রোববার সন্ধ্যায় গুলশান ২ নম্বর সেক্টরের ৫৫ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়িতে দলের আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়ার বাসার ছাদে গণ অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সংসদের বৈঠক বসে। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হয়ে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত আড়াই ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।

দলের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর বৈঠকে আসেন সাড়ে ৮টার দিকে। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রেজা কিবরিয়া। তিনি বলেন, ৭টার বৈঠকে কেন সদস্য সচিব সাড়ে ৮টায় উপস্থিত হবেন? এর পর থেকেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে। যার রেশ থাকে শেষ পর্যন্ত। রাত ৯টা নাগাদ এক পর্যায়ে রাগ করে উঠে বাসায় চলে যান রেজা কিবরিয়া।

এ ঘটনায় সোমবার (১৯ জুন) রাতে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি দেন ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নুর।

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ : রাষ্ট্রপতি

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক করতে নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন।

সোমবার (১৯ জুন) বঙ্গভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান।

পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে ভোটের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক সহযোগিতা দেয়া হবে।’

তিনি ভোট গ্রহণ নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক করতে ভোটের তারিখের পূর্ব থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন দেশের সকল নির্বাচন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

সাক্ষাৎকালে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন জানানো হয়।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার হাবিবুল আউয়াল জানান, তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে স্থানীয় সরকারসহ সকল নির্বাচন নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিছু কারিগরি ত্রুটি ছাড়া নির্বাচনে সফলভাবে ইভিএম ব্যবহার করা যাচ্ছে। এছাড়া নির্বাহী বিভাগের সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরো জানান, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান আছে।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন তিনি।

এ সময় তিন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: আহসান হাবিব খান (অব.), বেগম রাশেদা সুলতানা, মো: আলমগীর ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতির সচিবরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস

সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে, এর কোনো অর্থ নেই : জিএম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন করতে হবে, এর কোনো অর্থ নেই। কারণ ১৯৯১ সালে ও ২০০৮ সালে সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হয়নি। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া সব সময় সংবিধান মানেননি। তত্ত্বাবধায়ক সরকার যে ব্যবস্থা ছিল তাও এখন বাতিল হয়েছে। তাই, এখন একটি নতুন ব্যবস্থা করা জরুরি, কোনো সরকার যাতে নির্বাচন ব্যবস্থা প্রভাবিত করতে না পারে। সরকার যদি আগ্রহ দেখায় অথবা সবাই যদি একটি ফর্মুলায় আসতে চায় তবে আমরাও একটি প্রস্তাব দেবো। আমরা যে প্রস্তাব দেবো তা হয়তো শতভাগ গ্রহণযোগ্য হতে নাও পারে। তবে, সবার আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য একটি চিরস্থায়ী ব্যবস্থা হতে পারে। সেজন্য সরকারকে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে রাজধানীর বনানীস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে আলোচনাকালে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

জি এম কাদের বলেন, দেশের বর্তমান শাসন পদ্ধতিতে শতকরা একশো ভাগ ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে। মন্ত্রিসভা ও সংসদ পরিবর্তন করে কোনো লাভ নেই। নিজের অধিনে নির্বাচনে কেউ পরাজিত হতে চাইবে এটা আশা করা পাগলামি। বর্তমান পদ্ধতিতে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। নির্বাচন ব্যবস্থা সরকারের ক্ষমতার বাইরে আনতে হবে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র নেই। যদি গণতন্ত্র সংজ্ঞায়িত করি গভর্নমেন্ট অফ দ্যা পিপল, বাই দ্যা পিপল, ফর দ্যা পিপল। আর রাজতন্ত্র যদি হয় গভর্নমেন্ট অফ দ্যা কিং, বাই দ্যা কিং, ফর দ্যা কিং। তাহলে এখন আমাদের দেশে গভর্নমেন্ট অফ দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস, বাই দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস, ফর দ্যা আওয়ামী লীগ প্লাস।

একটাই দাবি শেখ হাসিনার পদত্যাগ : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ লড়াই নয়। তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। তাহলে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করতে স্লোগান ধরেন,‘এক দফা, এক দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ’।

সোমবার (১৯ জুন) বগুড়া সেন্ট্রাল স্কুল মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব এ কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মকেও জাগ্রত করতে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬ জেলার তারুণদের নিয়ে এ সমাবেশের আয়োজন করে জাতীয়াতাবাদী যুবদল, স্বেচ্চাসেবক ও ছাত্রদল।

আমাদের স্বাধীনতা বিপন্ন, কোনো মানবাধিকার নেই, সেই স্বাধীনতা আজ তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকেই উদ্ধার করতে হবে এমন আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, গণতন্ত্র ছিল না, সেই গণতন্ত্রকে উদ্ধার করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। আজ আবার সেই গণতন্ত্রকে খেয়ে ফেলেছে এই আওয়ামী লীগ। আজ ফের তোমাদের দায়িত্ব নিতে হবে এই গণতন্ত্রকে উদ্ধারে। যেমন নেতৃত্ব দিয়ে উদ্ধার করেছিলেন দুলু সাহেবরা।

সমাবেশে আসা এক মেয়ের কথা তুলে ধরে তিনি বলে, তারা আমার মেয়ে, ছেলের মতো। তাদেরকে এই সরকার চাকরি দেয়নি। কারণ তারা আওয়ামী লীগ করে না বলে। পরিবার বিএনপি হওয়ার কারণে। যে সরকার রাজনৈতিক কারনে চাকরি দেয় না। যে সরকার বেকারদের চাকরি দিতে পারে না। দেশের মেধাবীদের একটা কর্মসংস্থান করে দিতে পারে না। এরা আবার উন্নয়নের কথা বলে।

‘আওয়ামী লীগ বলে উন্নয়ন নাকি দেখতেই পারি না আমরা, এমন মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এক-দু’টি উড়াল সেতু করাই কি উন্নয়ন। যে দেশের মানুষ দু’মুঠো ভাত খেতে পারে না। তারা তাদের ছেলে-মেয়েদের ভালো ভাবে পড়াতে পারে না। এটাকে কি উন্নয়ন বলা যায়?

আওয়ামী লীগের প্রশংসা পত্র না থাকলে চাকরি হয় না অভিযোগ করে তিনি বলেন, তাদের লোক বলেছে, দেশটা প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, গিলে খেয়েছে এই আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের কথা তুলে ধরেন তিনি। উনি তো তাদের লোক।

হীরক রাজার কথা বলে তিনি বলেন, ‘দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান’। এই সরকার এত কাপুরুষ, এত ভীতু, তারা এ সমাবেশের কারণে গাড়ি চলতে দেয়নি। গাড়ি চললে বগুড়াতে এত লোক হতো যাদের জায়গা দেয়া সম্ভব হতো না।

‘আমরা লুট বন্ধ করতে চাই, মানুষের অধিকার ফিরে দিতে চাই। আপনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেন,‘অনেক করছেন দেশের মানুষের জন্য’। কী করেছেন? তিস্তার পানি বণ্টন আনতে পারেন নাই, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে পারেন নাই। কি করলেন তাহলে!’

মির্জা ফখরুল বলেন, কিছু দিন আগে বললেন বিদ্যুৎ ফেরি করে বিক্রি করবেন, কিন্তু এখন সেই বিদ্যুৎ কই গেল? সব লুট করে, পাচার করেছে এই আওয়ামী লীগ সরকার। এরা সব খেয়ে শেষ করে দিয়েছে।

আমরা মানুষের অধিকার, ভাতের, ভোটের লড়াই করছি। এটা আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এ লড়াই নয় জানিয়ে তিনি বলেন, তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম আছো তাদেরকে রাজপথে নামতে হবে। তাহলে এই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করা সম্ভব। এ সময় মির্জা ফখরুল স্লোগান ধরেন, ‘দফা এক, দাবি এক শেখ হাসিনার পদত্যাগ’।

‘আজ পরিষ্কার কথা, নির্বাচন অবশ্যই এ দেশে হবে, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি দিতে হবে। আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে আসতে দিতে হবে। আমাদের নেতাকর্মীদের সব মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। তারপর নির্বাচন হবে এ দেশে।’

মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে মোবাইলে ১০০ টাকা ভরলে ৩০ টাকা আওয়ামী লীগের পকেটে চলে যায়। বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে ১ হাজার টাকা রিচার্জ করলে ৩০০ টাকা কেটে নেয়।

তিনি বলেন, আজকে সরকার বিদ্যুৎ নাকি তারা খুবই উত্পাদন করেছে। তাহলে বিদ্যুৎ গেল কোথায়? আসলে এরা পুরো দেশটাকে খেয়ে ফেলেছে। তাই বলবো আজকে সময় হলো তরুণদের। তরুণ প্রজন্মকে আবারো ভোটাধিকার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভাতের অধিকার আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমাদের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমান।

মির্জা ফখরুল বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনের মাধ্যমে নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে। এর ফয়সালা হবে রাজপথে। আমরা এই ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবো না। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই আগামী নির্বাচন হবে এবং ওই নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে। তার আগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ৪০ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, আব্দুল খালেক, শাহিন শওকত, আবু বকর সিদ্দিক, আব্দুল মতিন, আমিনুল ইসলাম, ফজলুর রহমান খোকনসহ স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা দলের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদারের পক্ষ থেকে দু’শতাধিক মানুষের একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত হন।

উল্লেখ্য, স্কুলের শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা থাকায় সমাবেশস্থলে নেতাকর্মীরা দুপুর আড়াইটা থেকে মাঠে প্রবেশ করেন। রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ১৬টি জেলার প্রায় সব জেলার নেতাকর্মীরা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

তরুণ সমাবেশের আয়োজকেরা জানান, রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বেশ কয়েকটি জেলার বেশকিছু উপজেলা থেকে রিজার্ভ করা গাড়ি সমাবেশে আসতে দেয়া হয়নি। বগুড়ায় এই তারুণ্যের সমাবেশের জন্য প্রথমে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আয়োজনের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। একইদিনে জেলা যুবলীগ শহরের সাতমাথায় শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যুবলীগ আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে গাড়ি পার্কিংয়ে সমাবেশের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তারুণ্যের সমাবেশ সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে আয়োজনের অনুমতি দেয়া হয়। যুবলীগও সোমবারের বদলে রোববার শান্তি সমাবেশ করেছে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে প্রায় ৪ কোটি ৭০ লাখ নতুন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। আওয়ামী লীগ না করার কারণে অনেক মেধাবীদের চাকরি হচ্ছে না। তাদের বিরুদ্ধে কথা বললে গুম-খুন করা হচ্ছে। জামালপুরে একজন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। কারণ তিনি আওয়ামী লীগের সত্য ঘটনা প্রকাশ করেছেন। আওয়ামী লীগ দিনের ভোট রাতেই করে। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সরকারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘরে ফিরবো না মর্মে উপস্থিত সব নেতাকর্মীকে শপথবাক্য পাঠ করান টুকু।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান বলেন, আমাদের তরুণ সমাবেশ ঘিরে সারাদেশে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো বাধা বিপত্তি তরুণদেরকে দমাতে পারেনি। ইনশাআল্লাহ তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই বর্তমান অবৈধ সরকারের পতন ঘটাবে।

স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল।

আজ সোমবার বিকেলে বগুড়া শহরের সেন্ট্রাল হাইস্কুল মাঠে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের এই ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ হয়। তরুণ সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসান, ছাত্রদলের সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, বগুড়া জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রিগ্যান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসান, জেলা যুবদলের সাবেক নেতা মাহফুজুর রহমান রিটন, জাহাঙ্গীর হোসেন, রাকিবুল ইসলাম শুভ প্রমুখ। এছাড়াও তরুণ সমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি তথা চাকরি থেকে বঞ্চিত ছাত্র মওদুদ আহমেদ, এইচ এম ফজলে রাব্বি, জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় মাকসুদুল আলম, গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দিতে না পারা ফারজানা ইয়াসমিন তুলি, নির্বাচন কমিশন থেকে চাকরি হারানো উপজেলা নির্বাচনী অফিসার নাজমুল ইসলাম সুমন, বক্তব্য রাখেন।

মুশফিক উপহার পাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা

বিসিবি থেকে ১০ লাখ টাকা উপহার পাচ্ছেন মুশফিকুর রহিম। মাঠের ক্রিকেটে দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে অসামান্য অবদান রাখায় কৃতজ্ঞতা স্বরূপ মুশফিককে বিশেষ এই সম্মাননা দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

২০০৫ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মুশফিকুর রহিমের। সময়ের আবর্তে মুশফিক এখন জাতীয় দলের ব্যাটিং ভরসার নাম। নামের সামে আছে ১৪ হাজারেরও বেশি রান। বাংলাদেশ দলের উত্থান-পতনের সঙ্গীও তিনি।

দেশের ক্রিকেটে তার অনস্বীকার্য অবদানের জন্য সম্মাননা স্বরূপ এই ক্রিকেটারকে ১০ লাখ টাকা দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি। এর আগে বাংলাদেশের কোনো ক্রিকেটার এই সম্মাননা পাননি। ভবিষ্যতেও যে সহজে পাচ্ছেন না কেউ, তাও পরিষ্কার বলে দিয়েছেন পাপন।

সোমবার (১৯ জুন) একটি গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে নাজমুল হাসান বলেন,‘একদিন মুশফিক খেলা শেষ করে আমাকে বলছিল, আপনি আমাকে কোনোদিন কিছু দেননি। এটা শুনে আমিও চিন্তা করে দেখলাম আসলে ওকে তো আমি কোনোদিন আলাদা করে কিছু দেইনি। সে জন্য ওকে দেয়া হয়েছে।’

তবে সহসাই যে এমন মোটা অঙ্কের পুরস্কার কেউ যে পাচ্ছেন না তাও স্পষ্ট বিসিবি সভাপতির পরের মন্তব্যে। যেখানে তিনি বলেন,‘মুশফিককে দেয়া হয়েছে, কিন্তু এটা তো এখন মিডিয়াতে আসবে। তাহলে হয়ত সবাই চাইবে। তাই এবারই শেষ আর কাউকে দেবো না।’

তাছাড়া দেশের স্বার্থে প্রায়শই বিশ্বের বড় বড় লিগ থেকে আসা বিভিন্ন ফ্রাঞ্চাইজির মোটা অঙ্কের অফার পেয়েও দেশকে প্রাধান্য দেয়ায় ক্রিকেটারদের আর্থিক অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যার পরিমাণ ৭০ লাখ ৫১ হাজার ২৮২ টাকা।

যদিও কবে নাগাদ তা দেয়া হবে এ নিয়ে নিশ্চিত কিছু জানা যায়নি। তবে এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি এরা হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রাণ। এর আগেও অনেকে ছিল, এখনো আছে। কিন্তু এদের একটা বিশেষ ব্যাপার আছে। তাই মনে হয়েছে ওদের জন্য কিছু করা উচিত।’

দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে দেশে সুনামের সাথে শান্তিরক্ষায় নিয়োজিত দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি অপপ্রচার চালাচ্ছে। আর এ কাজে তারা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালকে (টিআইবি) ব্যবহার করছে।

সোমবার (১৯ জুন) বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সামনের জাতীয় নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে মেরুকরণ হচ্ছে। পরস্পরবিরোধী মতের প্রদর্শন হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা দেশে একটা শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করতে চাই। কিন্তু বিএনপির নেতৃত্বে একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায়। নিজেরা ব্যর্থ হয়ে বিদেশী শক্তিকে কাজে লাগাতে চায়। এজন্য তারা ষড়যন্ত্র করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনার উদ্যোগে নির্বাচন ব্যবস্থা অনেক কর্তৃত্বপূর্ণ ও স্বাধীন করার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। আজকে এই বিরোধী দল বিএনপির নেতৃত্বে যারা রয়েছে তারা জানে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হলে তাদের হেরে যাওয়ার ভয় আছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বোঝে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত জনপ্রিয়। এই অবস্থায় নির্বাচন হলে তারা জয়লাভ করতে পারবে না। কাজেই এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ, বাধাগ্রস্ত করাই তাদের এখন কাজ। এজন্য তারা প্রথমে বিদেশীদের কাছে নালিশে গেছে। এখন লবিস্ট নিয়োগ করেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশে। সর্বশেষ ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল এর অপপ্রচারের সাথে তাদের অপপ্রচার একাকার হয়ে গেছে।

আগামী নির্বাচন খুবই চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, লড়াই করতে হবে অশান্তির বিরুদ্ধে যাতে কেউ নির্বাচনে বাধা দিতে না পারে। অতীতের সন্ত্রাস, আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি যেন নির্বাচনি পরিবেশকে বিঘ্নিত করতে না পারে সেজন্য আগামী নির্বাচন পর্যন্ত আমারা মাঠে থাকব। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করব।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সঙ্কট থেকে উত্তরনের একমাত্র উপায় শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে নিশ্চয়তা দিয়েছেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। বিএনপির ব্যাপারটা হলো তারা না জিতলে এই নির্বাচন কোনদিন অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না।

ওবায়দুল কাদের জানান, আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহীত মাসব্যাপী সকল কর্মসূচি উদযাপন করা হবে সাদামাটা, স্বতঃস্ফূর্ত ও বহুমাত্রিকভাবে।

সভায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, মাহবুব উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, এস এম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, প্রচার সম্পাদক ড.আবদুস সোবহান গোলাপ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, দফতর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, উপ-প্রচার সম্পাদক সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়নি : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা রোধকল্পে বা গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়নি।

সোমবার (১৯ জুন) সংসদে সরকারি দলের সদস্য হাবিবুর রহমানের টেবিলে উপস্থাপিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

শিগগিরই এই আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী জানান, ‘জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে একটি ‘টেকনিক্যাল নোট’ দিয়েছে। সেটির পর্যালোচনাও প্রায় শেষ।’

তিনি বলেন, সাইবার অপরাধ দমনের জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি করা হয়েছে। এ আইনের অপব্যবহার যাতে না হয় সেজন্য সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।

সূত্র : বাসস

বাংলাদেশ কখনো বাইরের হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই বাইরের কোনো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করবে না।

রোববার স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আয়োজিত বিশেষ দরবার (সমাবেশ) অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কারো হস্তক্ষেপের কাছে মাথা নত করব না। এটা আমাদের সিদ্ধান্ত।’

বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা একটি স্বাধীন জাতি। আমরা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের দেশ অর্জন করেছি।’

বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রণীত ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব এবং কারো সাথে বৈরিতা নয়’ নীতি অনুসরণ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গুরুত্বপূর্ণদের সাথে বন্ধুত্ব করতে কাজ করছে। দেশের উন্নয়নে যা যা প্রয়োজন তা করছে।

তিনি বলেন, অনেক বাধা ও ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এগিয়ে যাবে।

বাংলাদেশ বারবার প্রতিবন্ধকতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু সফলতার সাথে সেগুলো কাটিয়ে উঠেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখনো অনেক বাধা এবং ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। কারণ একটি দেশ যখন দ্রুত অগ্রগতি করে, তখন অনেকেই তা সহ্য করতে পারে না। তারা বিভিন্ন ঝামেলা শুরু করে।’

একটি স্বাধীন ও বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দেশের সকল মানুষকে আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা নিয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এগুলো (বাধা-বিপত্তি) নিয়ে বিচলিত হওয়র কিছু নেই।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এসএসএফ মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান তার স্বাগত বক্তব্যে বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে এসএসএফ এবং এর কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মেজর জেনারেল মোঃ মজিবুর রহমান সংকলিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭৫টি বাণী সম্বলিত ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর উক্তি’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন।

১৯৮৬ সালের ১৫ জুন রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বাহিনী (পিএসএফ) গঠিত হয়, যা পরবর্তীতে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর ১৯৯১ সালে বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) নামে নামকরণ করা হয়।

রাষ্ট্রপতি যেখানেই থাকুন না কেন এবং ভিআইপি, রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান বা সরকার কর্তৃক ভিআইপি হিসাবে ঘোষিত যেকোনো ব্যক্তিসহ উভয় ভিআইপিকেই ‘শারীরিক নিরাপত্তা’ প্রদানের উদ্দেশ্যে এই বাহিনী গঠন করা হয়।

সংসদীয় ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পর এটির প্রাথমিক কাজ রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যান্য ভিআইপিদের সুরক্ষা দেয়া।

সূত্র : বাসস

সৌদি আরবে ঈদুল আজহা ২৮ জুন

সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের নতুন চাঁদ দেখা গেছে। সেই হিসাবে আগামী ২৮ জুন দেশটিতে পবিত্র পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার (১৮ জুন) দেশটিতে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যায় বলে জানিয়েছে গালফ নিউজ।

হিজরি মাসের শুরু চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল। রোববার সৌদি আরবের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা গেছে। এর ফলে জিলহজ মাসের প্রথম দিন হবে ১৯ জুন।

ইসলামী ক্যালেন্ডার অনুসারে, জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা পালিত হয়। আরাফাহ দিবস পালিত হবে ২৭ জুন। এদিন মক্কায় আরাফাতের ময়দানে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সমবেত হবেন হাজিরা। এর পরদিনই দেশটিতে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

এর আগে মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ইন্দোনেশিয়া পবিত্র ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেছে। দেশগুলোতেও জিলহজের চাঁদ দেখা যায়নি। এই তিনটি দেশে ২৯ জুন ঈদ পালন করা হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ঈদুল আজহার তারিখ ঘোষণা করেনি।

মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায় ঈদুল আজহা উদযাপন করবে। মহান আল্লাহর অপার অনুগ্রহ লাভের আশায় ঈদুল আজহার জামাত শেষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সামর্থ্য অনুযায়ী পশু কোরবানি করে থাকেন।

সাধারণত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ঈদুল আজহা উদযাপনের একদিন পর বাংলাদেশে মুসলমানদের অন্যতম এ উৎসব পালিত হয়। চাঁদ দেখার ওপর নির্ভরশীল এই উৎসবের তারিখ নির্ধারণে সোমবার (১৯ জুন) সভা করবে বাংলাদেশের জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।

ডলারের বাজারে বিশৃঙ্খলা

ডলারের নানা রেট এবং এই সুযোগে ব্যাংকগুলো বেশি দামে ডলার বিক্রি করে অতিরিক্ত আয় করছে বলে অভিযোগ। আর কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম আরো চড়া। সব মিলিয়ে ডলার নিয়ে বাংলাদেশে অনেকটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি চলছে।

যদিও রোববার নতুন মুদ্রানীতিতে ডলারের দাম বাজারের ওপর ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

চড়া দামে ডলার বিক্রির অভিযোগে গত বছরের আগস্টে ছয়টি ব্যাংককে চিহ্নিত করেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা ডলারের প্রচলিত রেটের চেয়ে বেশি দামে ডলার বিক্রি করে লাভবান হচ্ছিল।

ওই ঘটনার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থাও নেয়া হয়। এরপর সর্বশেষ ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সভাপতি মো: জসিমউদ্দিন ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, ‘ডলার বিনিময় হারের নামে ব্যাংকগুলো লুটাপাট চালাচ্ছে।’

তার কথায়, ‘ডলারের দাম বাড়িয়ে লুটের মালের মতো প্রতি ডলারে ১১৪ থেকে ১১৫ টাকা রাখছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ডলার সঙ্কট দেখা দেয়ায় তা মোকাবেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের বিভিন্ন রেট করে দেয়। এখন আমদানিতে প্রতি ডলার ১০৬, রফতানিতে ১০৭ এবং প্রবাসী আয়ে ১০৮.৫ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১০৬ টাকা দরে ডলার বিক্রি করছে।

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, বাস্তবে আমদানিকারকরা এ রেটে ব্যাংক থেকে ডলার পাচ্ছেন না। ডলার সঙ্কটের কারণে এলসির চাহিদার বিপরীতে পর্যাপ্ত ডলার নেই। এ সুযোগ নিচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। তারা বেশি দামে ডলার বিক্রি করছে। কারণ তারা ডলারের চাহিদা মিটাতে ভিন্ন উৎস থেকেও ডলার সংগ্রহ করে। ব্যাংকগুলো ১১৪ থেকে ১১৫ টাকায় ডলার বিক্রি করছে। আর কার্ব মার্কেটে ডলারের দাম ১১৭ থেকে ১১৮ টাকা।

ডলার সঙ্কটের কারণে যারা ছোট ব্যবসায়ী তারা এলসি খুলতে পারছে না। কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, এলসি খুলতে না পেরে তাদের ব্যবসা বন্ধের পথে। কারণ ব্যাংকগুলো বড় ব্যবসায়ী ও বিশেষ সুবিধা না পেলে ডলার দেয় না। তাদের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। অনেক সময় ব্যংক ডলারের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংকে জমা রাখার শর্ত জুড়ে দেয়।

জানা গেছে, ব্যাংক ও ব্যবসায়ী দু’পক্ষই ওয়ান টু ওয়ান সমঝোতার ভিত্তিতে ডলার দাম নির্ধারণ করে। আবার কেনো কোনো ব্যবসায়ীর অনুরোধে তারা নানা উৎস থেকে বেশি দামে ডলার সংগ্রহ হরে তার ওপর লাভ হিসাব করে বিক্রি করে। ফলে ডলারের দাম আসলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত হারের মধ্যে নেই।

যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো: নুরুল আমিন বলেন, ‘আসলে ডলারের বাজারে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার অভাব দেখা দিয়েছে। ডলারের চাহিদা বেশি, কিন্তু সরবরাহ কম। ফলে কোনো কোনো ব্যাংক এর সুবিধা নিচ্ছে। আর একই ডলারের ভিন্ন ভিন্ন রেটও এক ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অস্বচ্ছতা তৈরি করেছে। প্রবাসী আয়ের রেট বেশি। রফতানি আয়ের কম। তাহলে রফতানি আয়ের ডলার কি খারাপ?’

তিনি বলেন, ‘বড় ব্যবসায়ীরা ছাড়া ছোট ব্যবসায়ীরা তো এখন ডলার পায় না। তাদের ব্যবসাও চলছে না। বড় ব্যবসায়ীরা তাদের সম্পর্ক এবং প্রভাবে ডলার পাচ্ছে। আর রেট আসলে তারাই নির্ধারণ করে নিচ্ছে। বেশি রেটে ডলার কিনে পণ্য আমদানি করায় মূল্যস্ফীতি বাড়ছে।’

তার কথায়, ‘দেশ থেকে টাকা পাচার হওয়ার কারণেও ডলারের দাম বাড়ছে। কারণ তাদের কাছে ডলারের রেট কোনো বিষয় নয়। তারা ১৩০ টাকা রেটেও ডলার কিনছে।’

পলিসি রিচার্স ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেডের চেয়ারম্যান অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘ডলারের ভিন্ন ভিন্ন রেট থাকা উচিত না। এটা বাজারের ওপর ছেড়ে দিতে হবে। ফলে বিভিন্ন খাতে ডলারের দামের পার্থক্য যে কিছুটা হবে না তা নয়। যা হবে তা যৌক্তিক।’

তার মতে, ‘মূল সমস্যা হচ্ছে ডলারের সঙ্কট। আর ব্যাংকগুলো তার সুযোগ নিচ্ছে। অর্থ পাচারকারীরাও ডলারের সঙ্কট তৈরি করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক যে ডলার বিক্রি করছে তা অনুচিত। এর কারণে রিজার্ভ আরো কমে যাবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, ‘ডলারের ভিন্ন ভিন্ন রেট আর থাকবে না। বাজারের ওপর ডলারের রেট ছেড়ে দেয়া হবে।’

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এটা যত দ্রুত কার্যকর হয় ততই ভালো।

মো: নুরুল আমিন বলেন, ‘গত আগস্টে ব্যাংকগুলোর বেশি দামে ডলার বিক্রি করার ঘটনা প্রকাশ পায়। তারপর আর কোনো ব্যবস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক নেয়নি। ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়েছে।’
সূত্র : ডয়চে ভেলে