Home Blog Page 610

৩২ বছর পর মুক্তি পেলেন ‘জল্লাদ’ শাহজাহান

বাংলাদেশের আলোচিত ২৬ জনের ফাঁসি কার্যকর করা ‘জল্লাদ’ শাহজাহান মুক্তি পেয়েছেন। প্রায় ৩২ বছর কারাভোগের পর রোববার বেলা ১১টা ৪৭ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি।

জল্লাদ শাহজাহানের পুরো নাম শাহজাহান ভূঁইয়া। তিনি নরসিংদী জেলার পলাশ থানার ইছাখালী গ্রামের মৃত হাছেন আলীর ছেলে। ৭৩ বছর বয়সী শাহজাহান ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত। কারাগারে তার কয়েদি নম্বর ছিল ২৫৮৯/এ এবং মুক্তির আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রধান জল্লাদ ছিলেন।

কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, শাহজাহান ভূইয়া ১৯৯১ সালে গ্রেফতার হন। তাকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারে রাখা হয়। কারাগারে ভালো কাজ ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফাঁসির রায় কার্যকর করতে জল্লাদের দায়িত্ব পালনের জন্য তার সাজার মেয়াদ ১০ বছর মওকুফ (রেয়াত) করা হয়। পাশাপাশি শাহজাহানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ তার জরিমানার ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ ৩১ বছর ছয় মাস দুই দিন কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দিজীবন কাটানোর পর এখন তিনি মুক্ত।

কারাগারের তথ্যানুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৬ জনের ফাঁসির দড়ি টেনেছেন শাহজাহান। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় ঘাতক, ছয়জন যুদ্ধাপরাধী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদ শিকদার, জঙ্গি নেতা বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানী, শারমীন রীমা হত্যার আসামি খুকু, মনির, ডেইজি হত্যা মামলার আসামি হাসান ছিলেন।

এর আগে শনিবার রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে (কেরানীগঞ্জ) সিনিয়র জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জল্লাদ শাহজাহানের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদ থেকে বরখাস্ত আইনানুগ ছিল না : হাইকোর্ট

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের প্রক্রিয়া আইনানুগ ছিল না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে জাহাঙ্গীর আলম পদত্যাগ করায় মেয়র পদে ফেরার আর সুযোগ নেই বলেও উল্লেখ করেছেন আদালত।

রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে (১৮ জুন) হাইকোর্টের বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো: বশির উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শুরু হয়।

এর আগে গত বছরের ২৩ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে জাহাঙ্গীর আলমকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি মো: আক্তারুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। স্থানীয় সরকার সচিবসহ সংশিষ্টদের দুই সপ্তহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

রিটের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ বলেন, যে অভিযোগে জাহাঙ্গীর আলমকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগেও একই অভিযোগ আনা হয়েছিল। তখন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পায়নি।

গত বছরের ১৪ আগস্ট গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া জাহাঙ্গীর আলম পদ ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিটে তাকে সাময়িক বরখাস্তের আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়।

ব্যারিস্টার মশিউর রহমান সবুজ জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এ রিট দায়ের করেন।

২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হওয়া জাহাঙ্গীর আলমকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

সরকারি ক্যাডাররা ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’, ‘টার্গেট কিলিং’য়ে মেতে আছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকারি ক্যাডাররা এখন ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’, ‘টার্গেট কিলিং’য়ে মেতে আছে। সন্ত্রাসকে জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলে মনে করছে।

আজ রোববার দুপুরে নয়া পল্টন দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী অভিযোগ করেন, ‘দেশবাসী ভোট, পার্লামেন্ট হারিয়েছে, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন হারিয়েছে, হারিয়েছে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। শেষমেষ হারাতে বসেছে জীবন ও স্বাধীনতা। যারা গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতাসহ নাগরিক স্বাধীনতা ফিরে পাওয়ার জন্য সংগ্রাম করছে তারা বর্তমান মারাত্মক দুর্দিনের মধ্যে দিনযাপন করছে। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনগণ কর্তৃক ধিকৃত হয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির টালমাটাল অবস্থার সৃষ্টি করে সহিংসতা আর হত্যাকেই শ্রেষ্ঠ সমাধান হিসেবে মনে করছে। বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী মানুষদের বিরুদ্ধে সরকারী ক্যাডাররা এখন ‘কন্ট্রাক্ট কিলিং’, ‘টার্গেট কিলিং’য়ে মেতে আছে। সন্ত্রাসকে জীবনের শ্রেষ্ঠ কীর্তি বলে মনে করছে। এরা হত্যা, জখম নিষ্পন্ন করে কয়েকদিন পর আবার আরেকটি খুন-জখমের জন্য উন্মাদ হয়ে ওঠে। অবৈধ সরকারের দুঃশাসনের প্রোডাক্ট হচ্ছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাস তাদের মানসিক-ব্যাধি।’

তিনি বলেন, ‘দুই দিন আগে জামালপুরের বকশিগঞ্জে মানবজমিনের সাংবাদিক গোলাম রব্বানী নাদিম আওয়ামী লীগের নেতা মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সত্য সংবাদ প্রকাশের কারণে তাকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে নাদিমসহ দু’জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১৭ মে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে বাবু চেয়ারম্যান। মামলাটি আদালতে খারিজ হয়ে গেলে মাহমুদুল আলম বাবু চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে মাথায় আঘাত করার পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়। একদিকে সরকারী ক্ষমতা, অন্যদিকে উর্ধ্বতন একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাই হওয়ায় বাবু চেয়ারম্যান এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। মৃত্যু যেন তার কাছে খেলা।’

রিজভী বলেন, ‘আমরা আগেই জানিয়েছিলাম চট্টগ্রামের তারুণ্যের সমাবেশ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মীরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় ছাত্রদল নেত্রী নাদিয়া নুসরাতকে নির্যাতন ও গ্রেফতার করে জেলহাজতে প্রেরণের ঘটনা। সেখানে নির্যাতনের খবর পেয়ে নুসরাতের মা কহিনুর বেগম ছুটে গেলে তাকেও বেধড়ক মারধর করা হয়। জোরারগঞ্জ থানার ওসি জাহিদ হোসেন ও ডিউটি অফিসার সঞ্জয় কুমার সাহা তার অভিযোগ গ্রহণ না করে উল্টো নাদিয়া নুসরাতের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের একটি গায়েবি মামলায় তাকে জড়িত করে। বিষ্ফোরক দ্রব্য আইনে গ্রেফতার করা হয়। একটি মনুষ্যত্বহীন সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই নারীরা আজ আতঙ্কের এক ভয়াল বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বাস করছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল

ঢাকা-১৭ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

রোববার মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে (১৮ জুন) তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ঢাকা জেলার জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা মুনীর হোসাইন খান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) আগারগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন অফিসে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দেন হিরো আলম।

গত ১৫ মে চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠানের (ফারুক) মৃত্যু হলে আসনটি শূন্য হয়। সংসদের কোনো আসন শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে উপনির্বাচন করতে হয়। এই হিসেবে আসনটিতে ১২ আগস্টের মধ্যে উপনির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি।

সংবিধান অনুযায়ী, সেই সময় ধরে পরবর্তী পাঁচ বছর মেয়াদ ধরলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠানের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। অর্থাৎ আসনটিতে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি পাঁচ মাসের মতো সময়ের জন্য সংসদ সদস্য হবেন।

ইতিহাস গড়া জয় পেল বাংলাদেশ

ইতিহাস গড়েই জিতলো বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রানে জয় পেল টাইগাররা। সিরিজের একমাত্র টেস্টে আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ৫৪৬ রানে।

বড় নাটকীয় ছিল জয়ের শেষ মুহূর্তটা। তাসকিনের এক ওভারে দুইবার বেঁচে যায় আফগান ব্যাটার জহির খান। প্রথমে জহির খানকে কট-বিহাইন্ড দিয়েছিলেন আম্পায়ার, তাসকিন ছুঁয়ে ছিলেন ৫ উইকেট। সেজদাও দিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু রিভিউ নিয়ে রক্ষা পান। পরের বলে দেন স্ট্যাম্প ভেঙে। তবে এবার নো বলের কবলে পড়ে জয় উদযাপন দীর্ঘায়িত হয়।

জয় নিশ্চিত হয়েই ছিল, শুধুই বাকি ছিল আনুষ্ঠানিকতা। অপেক্ষা ছিল কত আগে সেই জয় ধরা দেয়। অপেক্ষা অবশ্য বেশীক্ষণ করতে হয়নি, আফগানদের অলআউট করতে প্রথম সেশনও লাগেনি। ২২ ওভারে শেষ ৮ উইকেট হারিয়েছে সফরকারীরা। তাদের ইনিংস থেমেছে ৩৩ ওভারে মোটে ১১৫ রানে।

২ উইকেটে ৪৬ রান নিয়ে আজ চতুর্থ দিন শুরু করে আফগানিস্তান। এই দিন আর দাঁড়াতেই পারেনি তারা। টাইগার পেসারদের দাপটে প্রতিনিয়ত ধুঁকেছে তারা। গুনেছে হারের জন্য প্রতিক্ষার প্রহর।

শনিবার মাত্র ৩ রান যোগ করতেই তৃতীয় উইকেট হারায় তারা। জামাল নাসিরকে ফেরান এবাদত হোসেন। এরপর আফসার জাজাইকে নিজের শিকার বানান শরিফুল ইসলাম। জামাল ও জাজাই দুজনেই আউট হন ৬ রান করে। এরপর তাসকিনের আঘাত, ফেরেন ৩০ রান করে ফেলা রহমত শাহ। তাকে লিটন দাসের ক্যাচ বানান তিনি। আর দলীয় ৯৮ রানে করিম জানাতের উইকেট ভাঙেন এই পেসার।

এরপর আর ১৭ রান যোগ করে আফগানিস্তান দল। বলার মতো রান পায়নি আর কেউ। পারেনি দুই অংকের ঘর স্পর্শ করতে। ফলে ১১৫ রানেই থামে তাদের ইনিংস।

প্রথম ইনিংসে নিজেকে হারিয়ে খুঁজা তাসকিন এই ইনিংসে শিকার করেছেন ৪ উইকেট। ৩টি উইকেট যায় শরিফুলের ঝুলিতে। অন্য দুটো মিরাজ ও এবাদতের।

অবশ্য এই জয়ের ভিত গড়া হয়ে গেছে আগের তিন দিনেই। মিরপুরে নিজেদের প্রথম ইনিংস থেকে বাংলাদেশ দল লিড পায় ২৩৬ রানের। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নাজমুল হোসেন শান্তর ১৪৬ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৩৮২ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে আফগানিস্তান গুটিয়ে যায় ১৪৬ রানে।

ফলোঅন করানোর সুযোগ থাকলেও স্বাগতিকরাই দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ে নামে। এবার ছাপিয়ে যায় আগের ইনিংসকেও। জোড়া শতক হাঁকান মুমিনুল হক ও শান্ত। ফিফটি করেন জাকির হাসান ও লিটন দাস। বাংলাদেশ দল থামে ৪ উইকেটে ৪২৫ রান তুলে। বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ৬৬১ রান।

এই ম্যাচে জোড়া শতক হাঁকান নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম ইনিংসে ১৪৬ ও দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১২৪ রান। শতক হাঁকান মুমিনুল হকও, তার ব্যাটে আসে ১২১ রান।

বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : কাদের

বর্তমান সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে আবারো মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।

তিনি বলেন, এটা বারবার প্রমাণিত হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ধারণা যে সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনের নির্ভুলতা নষ্ট করা হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীতে নিজ কার্যালয়ে দলের সাংস্কৃতিক শাখা ‘জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি’র প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দলের প্রেস সেক্রেটারি-২ খন্দকার দেলোয়ার জালালীর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সংসদে বিরোধী দলের উপনেতা কাদের বলেন, নির্বাচনের সময় বিভিন্ন এজেন্সি মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি ছড়ায় এবং ইভিএমের মাধ্যমে ভোট কারচুপিও করা হয়।

তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে না দেয়ায় তাদের ভীতি প্রদর্শন করছে।

দলীয় চেয়ারম্যান কাদের জানান, তারা শুধু ক্ষমতা ও সামর্থ্যের মূল্যায়ন করতেই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে দেশে কিভাবে নির্বাচনী ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং ভোটাররা এখন বলতে পারেন যে তারা ভোট কেন্দ্রে গিয়ে এবং নির্বাচনে আমাদের অংশগ্রহণ সত্ত্বেও তাদের ভোট দিতে পারেনি।’

জবাবদিহিমূলক সরকারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, তিনি দেশ ও জাতির চাহিদা মেটাতে রাজনীতি করছেন।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জবাবদিহিমূলক সরকার নিশ্চিত করা যায়।

সাংস্কৃতিক শাখার সভাপতি ও সংসদ সদস্য শেরফা কাদেরের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শোভ রায়, মোস্তফা আল মাহমুদ প্রমুখ। সূত্র : ইউএনবি

২০২৬ বিশ্বকাপে মূল পর্বে ৪৮ দল, কোন মহাদেশের কোটায় কত দল?

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোকে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার অধিকার দেয়ার যে সিদ্ধান্ত ফিফা নিয়েছে তার ফলে আমরা ২০২৬ বিশ্বকাপে ৪৮ দলের একটি টুর্নামেন্ট দেখতে পাব। এত দল নিয়ে এর আগে কোনো বিশ্বকাপ হয়নি। কিন্তু এটা কিভাবে হবে?

একটি ওয়ার্ড কাপ প্লে-অফ টুর্নামেন্টসহ নতুন যোগ্যতা সিস্টেম

৪৮ দলের বিশ্বকাপ ফিফায় জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর মূল নীতিগুলোর একটি। এর ফলে প্রতিটি কনফেডারেশন থেকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা পাওয়া দলগুলোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। এতে করে নতুন একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে ওশিয়ানিয়ার সামনে। এই নতুন নিয়মে প্রতি বছর সেখান থেকে অন্তত একটি দল মূল পড়বে জায়গা পাবেই। বিভিন্ন মহাদেশের জন্য নতুন বরাদ্দ হওয়া সংখ্যা কত?


এশিয়া : আটটি দল। আগে ছিল ৪.৫টি।

আফ্রিকা : নয়টি দল। আগে ছিল ৫টি।

উত্তর এবং মধ্য আমেরিকা : ছয়টি দল। এর মধ্যে তিনটি হোস্ট দল। আগে ছিল ৩.৫টি।

দক্ষিণ আমেরিকা : ছয়টি দল। এর আগে ছিল ৪.৫টি।

ওশিয়ানিয়া : একটি দল। আগে ছিল ০.৫টি।

ইউরোপ : ১৬টি দল। আগে ছিল ১৩টি দল।

এছাড়াও একটি নতুন বিশ্বকাপ প্লে-অফ মিনি-টুর্নামেন্ট থেকে দুটি ফাইনাল স্পট পাওয়া যাবে।

কোন মহাদেশ থেকে কীভাবে মূল পর্বে আসবে দল

ইউরোপ

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৫৫। চার অথবা পাঁচ দলের ১২টি গ্রুপ করা হবে। ১২ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। সেরা চার রানার্সআপ বিশ্বকাপে যাবে নাকি প্লে-অফ থেকে বাছাই করা হবে চার দল, সেটি এখনো ঠিক হয়নি।

ওশিয়ানিয়া

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১১। এবারই প্রথম ওশিয়ানিয়া অঞ্চল থেকে একটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে। আর একটি দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে। কিভাবে খেলা হবে, সেটি এখনো ঠিক করেনি ওএফসি।

দক্ষিণ আমেরিকা

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১০। আগের মতোই ডাবল লিগ পদ্ধতিতে খেলবে এই মহাদেশের ১০টি দল। সেরা ৬টি দল সরাসরি ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ পাবে। পয়েন্ট তালিকার সপ্তম দল সুযোগ পাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে খেলার।

উত্তর আমেরিকা

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৩২। তিন হোস্ট দেশ কানাডা, মেক্সিকো ও আমেরিকা সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপে।

প্রথম রাউন্ড

আগামী নভেম্বরে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে মহাদেশের শেষ চার দল দুই লেগের দুটি প্লে-অফ খেলবে। জয়ী দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডে যাবে।

দ্বিতীয় রাউন্ড

৩০টি দলকে ৬টি গ্রুপে ভাগ করা হবে। সিঙ্গল লিগের শেষে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপরা তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে।

তৃতীয় রাউন্ড

১২টি দল ৩ গ্রুপে ভাগ হয়ে খেলবে। ডাবল রাউন্ড রবিন লিগের শেষে তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন তিন দল বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। সেরা দুই রানার্স আপ দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

আফ্রিকা

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৫৪।

প্রথম রাউন্ড

৫৪ দলকে ৯ গ্রুপে ভাগ করা হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে রাউন্ড রবিন লিগ শেষে প্রতি গ্রুপের একটি করে চ্যাম্পিয়ন সরাসরি পাবে ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট।

দ্বিতীয় রাউন্ড

সেরা চার গ্রুপ রানার্স আপ দল প্লে-অফ খেলবে। নকআউট প্লে-অফ শেষে একটি দল সুযোগ পাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

এশিয়া

মোট অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৭।

সবচেয়ে জটিল বাছাইপর্ব রয়েছে এই এশিয়া মহাদেশেই। মোট পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ার বাছাইপর্ব।

প্রথম রাউন্ড

২৭ জুলাই ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শেষে থাকা এই মহাদেশের ২২ দল হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিতে দুই লেগের প্লে-অফ খেলবে। জয়ী ১১ দল যাবে দ্বিতীয় রাউন্ডে।

দ্বিতীয় রাউন্ড

র‌্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার সেরা ২৫ দলের সঙ্গে যোগ দেবে প্রথম রাউন্ড পেরোনো ১১ দল। এই ৩৬ দলকে ৯ গ্রুপে ভাগ করা হবে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে রাউন্ড রবিন লিগের শেষে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দল তৃতীয় রাউন্ডে উঠবে।

তৃতীয় রাউন্ড

১৮ দলকে ৩ গ্রুপে ভাগ করা হবে এখানে। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে রাউন্ড রবিন লিগের পরে এই তিন গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স আপ দল ২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। গ্রুপে তৃতীয় ও চতুর্থ হওয়া ছয় দল যাবে চতুর্থ রাউন্ডে।

চতুর্থ রাউন্ড

ছয়টি দলকে দুই গ্রুপে ভাগ করা হবে। সিঙ্গল লিগের শেষে দুই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বিশ্বকাপের টিকিট পাবে।

পঞ্চম রাউন্ড

চতুর্থ রাউন্ডের দুই গ্রুপ রানার্স আপ প্লে-অফ খেলবে। জয়ী দল যাবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে।

আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফ

প্লে-অফের ছয় দলের মধ্যে র‌্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা শেষ চারটি দল দুটি নকআউট ম্যাচ খেলবে। জয়ী দুই দল র‌্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকা দুই দলের সঙ্গে নকআউট ম্যাচ খেলবে। জয়ী দুই দল বিশ্বকাপের মূল পর্বে যাবে।

মোট কত দেশ খেলবে আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে

আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে এশিয়া থেকে থাকবে ১ দল, উত্তর আমেরিকা থেকে ২ দল, আফ্রিকা থেকে ১ দল। একইসাথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে থাকবে ১ দল এবং অশিয়ানিয়া থেকে থাকবে ১ দল।
সূত্র : জি নিউজ

ইতিহাস গড়লেন শান্ত, টানা দ্বিতীয় শতক

ইতিহাসের পাতায় নাজমুল হোসেন শান্ত। দ্বিতীয় বাংলাদেশী হিসেবে এক টেস্টের উভয় ইনিংসেই শতকের রেকর্ড গড়লেন তিনি। ক্রিকেট বিশ্ব এই কীর্তির সাক্ষী অহরহ হলেও, বাংলাদেশ ক্রিকেটে মোটে দ্বিতীয়বার। মুমিনুল হকের পরেই এই কীর্তি তার।

উদযাপনটাও তাই ছিল দেখার মতো। এমন মুহূর্ত কি আর বারবার আসে, হাশমতউল্লাহর বলে লেগ সাইডে খেলে সিঙ্গেল নিয়েই হেলমেট খুলেছেন, খানিকটা দৌড়ে এরপর উড়েছেন, দিয়েছেন লাফ। এরপর সেই ট্রেডমার্ক, উড়ন্ত চুমু।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও শতকের দেখা পেয়েছেন শান্ত। ওয়ানডে মেজাজে মাত্র ১১৫ বলে এবার তিন অঙ্কের ঘর স্পর্শ করেছেন তিনি।

অবাক করা বিষয় হলো, শান্ত যখন এই কীর্তি গড়লেন, তখন অপরপ্রান্তেই ছিলেন মুমিনুল হক। যিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০১৮ সালে গড়েছিলেন একই কীর্তি। প্রথম ইনিংসে ১৭৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছিলেন ১০৫ রানের ইনিংস।

যাহোক, শান্তর শতকে দ্বিতীয় ইনিংসেও ভালো অবস্থানে বাংলাদেশ। ৪২ ওভার শেষে ২ উইকেটে ২২৪ রান এসেছে স্কোরবোর্ডে। বাংলাদেশের লিড ৪৬০ রানের।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাংলাদেশী-আমেরিকান এবং মুসলমান নারী ফেডারেল বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একজন ফেডারেল বিচারকের পদে প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশী-আমেরিকান এবং মুসলমান নারী হিসেবে নুসরাত জাহান চৌধুরীর নাম নিশ্চিত করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আসনের জন্য তার নির্বাচনের কথা সিনেট নিশ্চিৎ করেছে।

৪৬ বছর বয়স্কা নুসরাত চৌধুরী দীর্ঘকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি নাগরিক অধিকার রক্ষা-সংক্রান্ত আইনজীবী সংগঠন এসিএলইউ-এ কাজ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বাহিনীসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিগত বৈষম্যের বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে তিনি প্রচুর কাজ করেছেন।

এর আগে তিনি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং ইয়েল ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রি নেন।
সূত্র : ভয়েস অব আমেরিকা

আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুস্পষ্টভাবে বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে, জনগণ তাদের ভোট দেবে, জনগণ তাদের ভোটের একমাত্র মালিক হিসেবে তারা যাকে ইচ্ছা তাকে ভোট দেবে, আর যে জনগণের ভোট পাবে, সে সরকার গঠন করবে। এটা গণতান্ত্রিক ধারা এবং তা অব্যাহত থাকবে।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জেনেভায় হিলটন হোটেলে সুইজারল্যান্ড প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেয়া এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি এটা ভালো করেই জানে যে তাদের খারাপ কর্মকাণ্ডের জন্য তারা জনগণের কোনো ভোট পাবে না। ওই কারণে তারা এখন নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে পিছু হটার বাহানা খুঁজছে।

তিনি বলেন, ‘আসলে তারা (বিএনপি) চোরের ও ভোট কারচুপিকারীদের দল। ভোট ডাকাতি করা ছাড়া তাদের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব না।’

তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে তারা দেশের সম্পদ বিক্রি করার পূর্ব শর্ত মেনে নিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করেছিল।

তিনি আরো বলেন, ‘সুতরাং জনগণ তাদের (বিএনপি) আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। ওই কারণেই তারা জনগণের ভোট পায় না।

আওয়ামী লীগ সরকার পতনের জন্য বিএনপির বারবার হুমকি প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এতটা দুর্বল নয়।

তিনি বলেন, ‘১০ ডিসেম্বর নিয়ে হৈ চৈ ছিল। তারা সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে, আমরা এমন দুর্বল পর্যায়ে নেই যে তারা আমাদের পতন ঘটাবে, আমাদের সাথে জনগণ আছে, আমাদের শক্তি আমাদের জনগণ।’

নির্বাচনকালীন তত্ত্ববাবধায়ক সরকার গঠনের বিষয়ে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা সম্পূর্ণ স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি। কিন্তু বিএনপি এখনো তত্ত্ববাবধায়ক সরকারের দাবি করছে।

বিএনপি কি পাগল নাকি শিশু হয়ে গেল প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একবার খালেদা জিয়া দাবি করেছিলেন, পাগল বা শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয়।

তিনি আরো বলেন, চোরদের, স্বাধীনতাবিরোধীদের ও খুনিদের ক্ষমতায় এনে এনে আমরা বাংলাদেশকে অন্যের কাছে মাথা নত হতে দেব না।

বিএনপি এখন নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে নানা ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে, নোংরা কৌশল অবলম্বন করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা দিবালোকে মানুষ হত্যা করেছে, যারা লুটপাট করেছে, দুর্নীতি করেছে, দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়েছে, এটাই এখন মূল ইস্যু যে তারা দণ্ডিত ব্যক্তির নেতৃত্বে নির্বাচনে যাবে কিনা।’

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে যে গণতান্ত্রিক ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা আমাদের আন্দোলনের ফসল। এজন্য আমার দলের নেতাকর্মীরা জীবন দিয়েছেন। আর আমি গ্রেনেড হামলা থেকে অল্পের জন্য বেঁচে গেছি।’

গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতার সুফল তুলে ধরে তিনি বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গণতান্ত্রিক ধারায় দেশ বদলেছে, আজ দেশ উন্নত হয়েছে, আজ বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছে।

‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ আজ যে মর্যাদা পেয়েছে তা নিয়েই এগিয়ে যাবে। আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, উন্নত ও সমৃদ্ধ স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ে তুলব।’

বাংলাদেশের যেকোনো সঙ্কটে প্রবাসীদের ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখে।

তিনি প্রবাসীদেরকে হুন্ডির মাধ্যমে দেশে রেমিট্যান্স না পাঠিয়ে বৈধ মাধ্যমে টাকা পাঠানোর আহ্বান জানান।

তিনি বিদেশে যেতে আগ্রহীদের দালালদের সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন এবং নিবন্ধনের মাধ্যমে বৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে সুইজারল্যান্ডসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস