Home Blog Page 61

মেসির সারা

০

ফিরিয়ে দেওয়া সোনালি ট্রফিটার পাশ দিয়ে যখন তিনি হেঁটে যাচ্ছেন, অবয়বে অদ্ভুত এক নির্লিপ্ততা; যেন বিশ্বজয়ের ওই প্রগাঢ় আলোকবৃত্তও তাঁকে আর স্পর্শ করতে পারছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে যখন মেডেলটা গলায় পরছেন, তখনও ঠোঁটের কোণে ধরে রেখেছেন এক যান্ত্রিক, অতিমানবিক স্বাভাবিকতা। কিন্তু নিয়তি বোধহয় তাঁর জন্য অন্য এক নাটকের চিত্রনাট্য লিখে রেখেছিল। যখনই গ্যালারির ওই অতলান্ত নীল-সাদার মহাসমুদ্র থেকে হাজারো কণ্ঠের ‘মেসি, মেসি’ গর্জন আছড়ে পড়ল, ঠিক তখনই অলক্ষ্যে কোনো এক অদৃশ্য বাঁধ ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। ভেতরে এতক্ষণ ধরে জমিয়ে রাখা আবেগের অতলান্ত পুকুরটা যেন নিমেষেই উথলে উঠল চোখের কোণে। বেয়ে নামল এক নিস্তব্ধ ভাঙনের শ্রাবণ। এ কোনো সাধারণ কান্না নয়, এ যেন এক জমে থাকা অভিমানের একলা মেঘমল্লার। নিথর, স্তব্ধ হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে রইলেন প্রায় ১০টি মিনিট।

অপলক চেয়ে রইলেন সেই গ্যালারির দিকে, যেখানে তাঁর জীবনের শেষ বিশ্বকাপের শেষ ধুলোবালি উড়ছে। কোনো হুংকার নেই, কোনো নাটকীয়তা নেই; শুধু নির্বাক, অপলক চোখে তাকিয়ে রইলেন ওই গ্যালারির দিকে। তখনও মাঠের এক পাশে ট্রফি বিতরণ চলছিল, লাউড স্পিকারে বারবার স্প্যানিশ ফুটবলারদের নাম শোনা যাচ্ছিল। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন বোধ ছিল না তাঁর। তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন স্থির হয়ে সেই আর্জেন্টিনার গ্যালারির সামনে। তাঁর পাশে এরপর এসে দাঁড়িয়েছিলেন তাঁর দলের সবাই। কোনো কথা নেই, হাত নাড়ানো নেই, শুধু মাথা তুলে গ্যালারির দিকে অপলক তাকিয়ে থাকা। ওই ১০টি মিনিট আসলে নিছক কোনো সময় ছিল না, ওটা ছিল নিজের জীবনের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচের বালুচরে দাঁড়িয়ে ফেলে আসা দুই দশকের অবিস্মরণীয় মহাকাব্যের পাতা ওল্টানো। ফুটবল দুনিয়ার অলিখিত ব্যাকরণ বলে, মহাতারকাদের নাকি কাঁদতে নেই, তাদের আবেগের প্রকাশ হতে হয় ইস্পাতকঠিন। নিয়মের নিগড় ভেঙে আজ মনে হলো, ঈশ্বরের বরপুত্রও দিন শেষে রক্ত-মাংসের এক নশ্বর মানুষ।

ম্যাচের পর দর্শকদের সঙ্গে হৃদয় ভাঙার ব্যথাটা শেয়ার করে আর মিডিয়ার সামনে আসেননি মেসি। তাঁর দলেরও কেউ না। নিয়ম থাকায় শুধু এসেছিলেন তাদের কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনিও শেষ করতে পারেননি সংবাদ সম্মেলন। এটাই মেসির শেষ ম্যাচ ছিল কিনা? প্রশ্নটি করেছিলেন বুয়েন্স আয়ার্সের এক সাংবাদিক। উত্তর দিতে গিয়ে স্কালোনি শুধু বলেছেন, ‘তিনি এই ব্যাপারে কথা বলেননি মেসির সঙ্গে। ওর এখন ৩৯ বছর বয়স, এটা সত্যিই ভাবা যায় না, অকল্পনীয়। এই বিশ্বকাপে ও যা করেছে, তা অবিশ্বাস্য। আশা করি, সবাই তাঁর অর্জনের জন্য তাঁকে নিয়ে গর্বিত হবে, কারণ সে ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এটা নিয়ে আমার মনে বিন্দুমাত্র সংশয় নেই।’ আগামী বিশ্বকাপে মেসির বয়স হবে ৪৩। অঙ্কটা মেলানো সত্যিই কঠিন। রোনালদো ফিটনেস ধরে রেখে এবার একচল্লিশে খেলেছেন।

অফিসিয়াল ঘোষণা না দিলেও নিজের একটি ইচ্ছার কথা তিনি বিশ্বকাপের আগে এক সাক্ষাৎকারেই বলেছিলেন। তাহলো আর্জেন্টিনার কোনো ঘরের মাঠ থেকে তিনি বিদায় নিতে চান প্রিয় গ্যালারির কাছ থেকে। তবে স্কালোনি জানুক আর না জানুক এটা অন্তত সবাই জেনে গেছে যে আর্জেন্টিনার একটা ‘সোনালি অধ্যায়’ এবং সোনালি প্রজন্মের বিদায় হয়ে গেল স্পেনের কাছে এই ফাইনাল হেরে। নিউ জার্সির মিডিয়া সেন্টারে বসা অনেক আর্জেন্টাইন সাংবাদিক বলাবলি করছিলেন স্কালোনি-মেসি জুটির সমাপ্তি দেখে নিয়েছে সবাই। আর যাই হোক স্কালোনিকে কোচ হিসেবে আর রাখা হচ্ছে না। ২০১৮ সালে স্কালোনি আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই মানিকজোড় আলবিসেলেস্তেদের দীর্ঘ ট্রফিখরা কাটিয়ে মোট চারটি প্রধান আন্তর্জাতিক শিরোপা উপহার দিয়েছেন; যার মধ্যে রয়েছে ২০২১ ও ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকা, ২০২২ সালের ইউরোপ-আমেরিকা শ্রেষ্ঠত্বের ফিনালিসিমা এবং ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর কাতার ২০২২-এর ফিফা বিশ্বকাপ।

এর আগেও মারাকানার ঐতিহাসিক মাঠে যখন বিষাদের সুর বেজেছিল, তখন অঝোরে কেঁদেছিলেন মেসি; নিউ জার্সির এই স্টেডিয়ামেও এর আগে ঝরেছে তাঁর চোখের জল–তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের এই কান্নাটি ছিল একেবারেই নিস্তব্ধ, এক অদ্ভুত পাথরচাপা নীরবতায় ঘেরা। ৩৯ বছর বয়সে এসেও টুর্নামেন্টজুড়ে তিনি যেভাবে একাই ৮টি গোল করলেন ও ৪টি অ্যাসিস্ট সাজালেন, খাদের কিনারা থেকে দলকে মহাবীরের মতো কামব্যাক করালেন এবং এক অতন্দ্রপ্রহরীর মতো নেতৃত্ব দিলেন; তাতে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ পুরস্কারটি নিঃসন্দেহে তাঁরই প্রাপ্য ছিল। চিরকাল একদল সমালোচক মুখিয়ে থাকে এটা বলার জন্য যে ফিফা নাকি সবসময় মেসিকে বাড়তি সুবিধা দেয় বা নিজেদের দিকে টানে। কিন্তু ট্র্যাজিক ফাইনালের পর পুরস্কার মঞ্চে সবাই দেখল, বিশ্বমঞ্চে বীরোচিত লড়াইয়ের পরও সেই মেসিই কীভাবে সবচেয়ে বড় উপেক্ষার শিকার হলেন, যখন তাঁর হাত ফসকে স্পেনের রদ্রির কাছে চলে গেল শ্রেষ্ঠত্বের সম্মান। এই অবিচার দেখে ক্ষুব্ধ ফুটবল আইকন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ স্পষ্ট ভাষায় ফিফার দ্বিমুখী নীতিকে কাঠগড়ায় তুলে বলেছেন, ‘গোল্ডেন বল জিততে মেসিকে আর ঠিক কী করতে হতো? আমি তো এদের বিচারবুদ্ধির কোনো ব্যবচ্ছেদই খুঁজে পাই না! ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ না জিতেও লুকা মড্রিচ যদি টুর্নামেন্টসেরা হতে পারে, তবে এবার কোন নিয়মে মেসির মাপকাঠি বদলে গেল?’ ইব্রার এই বিস্ফোরক মন্তব্যই প্রমাণ করে, নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় ট্রফি ভাঙলেও এই জাদুকরের শ্রেষ্ঠত্ব আর ফুটবলীয় আত্মত্যাগ খোদ ফুটবল-বিধাতার চেয়েও অনেক বেশি মহিমান্বিত।

হাঁটু- কনুইয়ের কালচে ,খসখসে ভাব দূর করুন ঘরোয়া পদ্ধতিতে

খাবারে স্বাদ বাড়াতে পাতে লেবু খাওয়া হয় প্রায় প্রতিদিনই। এছাড়া চা, শরবত ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের খাবারের স্বাদ বাড়াতে লেবুর জুড়ি নেই। বেশিরভাগ সময়ই রস বের করে লেবু খোসা ফেলে দেওয়া হয়। অনেকের হয়তো জানা নেই, ত্বক চর্চার এক দুর্দান্ত প্রাকৃতিক উপাদান লেবুর খোসা। যারা দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও হাঁটু, কনুই কিংবা পায়ের  কালচে দাগ উঠাতে পারছেন না তারা ভরসা করতে পারেন এই উপাদানের উপর।

লেবুর খোসায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। এসব উপাদান ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে এবং ম্লান হয়ে যাওয়া উজ্জ্বলতা ফেরাতে অত্যন্ত সাহায্য করে। হাত-পায়ের খসখসে ভাব কাটাতে নিয়মিত রূপচর্চার অংশ করতে পারেন লেবুর খোসা। তবে মুখে ব্যবহারের আগে অবশ্যই ‘প্যাচ টেস্ট’করে নেওয়া জরুরি।

কীভাবে বানাবেন ঘরোয়া স্ক্রাব?

রস বের করে নেওয়া লেবুর খোসা ১টি, চিনি ১ চা চামচ, বেকিং সোডা ১ চিমটে

তৈরির নিয়ম:

লেবুর উল্টানো খোসার ভেতরের অংশে চিনি ও সামান্য বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন। তৈরি হয়ে যাবে প্রাকৃতিক স্ক্রাব।

ব্যবহারের পদ্ধতি

কনুই, হাঁটু বা পায়ের যে যে অংশে কালচে দাগ বা ময়লা জমে রয়েছে, সেখানে লেবুর খোসাটি দিয়ে হালকা হাতে ১ থেকে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। মিশ্রণটি ত্বকে অন্তত ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। নির্দিষ্ট সময় পর পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার এই পদ্ধতি মেনে চললেই ধীরে ধীরে পার্থক্য চোখে পড়বে।

নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতে রাখার দাবি

০

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন রাজশাহীবাসী। এ সময় বক্তারা দাবি করেন, প্রধান কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর হেতেম খাঁ এলাকায় নেসকোর প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীবাসী’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সভাপতি শামসুল ইসলাম মিলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি নজরুল হুদা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোয়ালিয়া থানা (পূর্ব) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন, বোয়ালিয়া থানা (পশ্চিম) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বজলুজ্জামান মহন, চন্দ্রিমা থানা বিএনপির আহ্বায়ক ফাইজুল ইসলাম ফাহি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি জাকির হোসেন রিমন, মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এখান থেকে নেসকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয় অন্যত্র স্থানান্তরের উদ্যোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমে যাবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তারা আরও বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হলে রাজশাহীবাসী কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। প্রয়োজনে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

নেসকোর নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) আফাজ উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে বলা হয়, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের খবরে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রাজশাহীর প্রশাসনিক গুরুত্ব কমার পাশাপাশি কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখা থেকে গত ১৬ জুলাই নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরে সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে মতামত দিতে বলা হয়। ওই চিঠি প্রকাশের পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজশাহীতে উদ্বেগ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

রদ্রি যেন দুর্ভেদ্য দেয়াল

০

বিরল এক কীর্তি গড়েছেন রদ্রি। ইতিহাসের মাত্র চতুর্থ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ব্যালন ডি’অর ও বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে গোল্ডেন বল জিতেছেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। যে তালিকার বাকি তিনজন হলেন পাওলো রসি, জিনেদিন জিদান ও লিওনেল মেসি। চোটে পড়ে প্রায় নিঃশেষ হতে বসা একজন খেলোয়াড়ের এমন দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন আগামী প্রজন্মকে উৎসাহিত করবে বলে মনে করছেন রদ্রি।

রদ্রির বিশ্বকাপসেরা হওয়া নিয়ে একটা বিতর্কও তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ৮টি গোল ও ৪টি অ্যাসিস্ট করা লিওনেল মেসিকে বাদ দিয়ে তাঁকে গোল্ডেন বল দেওয়ায় অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। গত রোববার বিকেলে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে গোল্ডেন বলের জন্য রদ্রির নাম ঘোষণা হতেই গ্যালারিতে থাকা আর্জেন্টাইন সমর্থকরা মেসির নামে জয়ধ্বনি শুরু করেন। তা দেখে মেসিও কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। এই জয়ধ্বনি যে ফিফার এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ, তা বুঝতে পারা যাচ্ছিল। এই প্রশ্ন তোলাদের তালিকায় রয়েছেন দুই সাবেক তারকা ফুটবলার ইব্রাহিমোভিচ ও আনহেল ডি মারিয়া। সুইডিশ কিংবদন্তি ইব্রা একটি টিভি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘গোল্ডেন বলের জন্য মেসিকে আর কী করতে হতো? ২০১৮ সালের ফাইনালে ক্রোয়েশিয়া হারার পরও লুকা মডরিচকে গোল্ডেন বল দেওয়া হয়েছিল। তা হলে মেসি কেন পাবে না?’ সাবেক আর্জেন্টাইন তারকা ডি মারিয়া তো ফিফার দিকে আঙুল তুলেছেন।

তবে রদ্রির পারফরম্যান্সের দিকে নজর দিলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, কেন তাঁর হাতে উঠল এই পুরস্কার। স্পেনের বিশ্বজয়ের কারিগর এই ৩০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। আটটি ম্যাচেই শুরু থেকে দলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর হাতে। বল দখলে রাখা, নিখুঁত পাস, অসাধারণ পজিশনিং ও ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে রদ্রি ছিলেন অনন্য। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পাস খেলেছেন এবার রদ্রি, সে সঙ্গে সবচেয়ে বেশি দূরত্ব দৌড়ানো এবং সবচেয়ে বেশি খেলায় সম্পৃক্ত থাকার কৃতিত্ব তাঁর দখলে। যেমন রক্ষণে সহায়তা করেছেন, তেমনই তাঁর পায়ে গড়ে উঠেছে আক্রমণ। হতে পারে তিনি কোনো গোল করেননি, কোনো অ্যাসিস্টও করেননি। এমনকি ফাইনালে যে জয়সূচক গোলটি হয়েছে, সেটিও তিনি মাঠ থেকে উঠে যাওয়ার পর। তাতেও রদ্রির অবদান কমে যায় না। বিশ্বকাপে যে শুধু বেশি গোল ও অ্যাসিস্ট করলেই গোল্ডেন বল জেতা যায়, তা নয়। ফিফার টেকনিক্যাল কমিটি দেখে পুরো টুর্নামেন্টে কে সবচেয়ে ভালো খেলেছে। সেই কারণেই ২০০২ বিশ্বকাপে জার্মানি রানার্সআপ হওয়ার পরও গোলরক্ষক অলিভার কান সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। ২০০৬ বিশ্বকাপে জিতেছিলেন ইতালির ডিফেন্ডার ফ্যাবিও ক্যানাভারো। রদ্রিও যেভাবে পুরো টুর্নামেন্টে সফলভাবে একটি দলকে চালনা করে চ্যাম্পিয়ন করেছেন, তাতে যোগ্য হিসেবেই তাঁকে গোল্ডেন বলের জন্য বেছে নিয়েছে ফিফা।

রদ্রির এই সেরা হওয়া অন্য একটি কারণে বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ। ২২ মাস আগে অসাধারণ ফর্মে থাকার সময় ভয়াবহ চোটে পড়েছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার সিটির ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ের পর ২০২৪ সালে স্পেনের ইউরো জয়েও বড় অবদান ছিল তাঁর। ম্যানসিটির ৭৪ ম্যাচের অপরাজেয় যাত্রার নায়ক ছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আর্সেনালের বিপক্ষে একটি ম্যাচে থমাস পার্টির সঙ্গে সংঘর্ষে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় তাঁর। ওই মৌসুমে আর মাঠে নামতে পারেননি তিনি। পরের মৌসুমে ফিরলেও আগের সেই ধার ছিল না তাঁর খেলায়। বিশ্বকাপেও এসেছিলেন সেই সংশয়কে সঙ্গী করেই। কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য যেন নিজের সেরাটা তুলে রেখেছিলেন এ তারকা। ম্যাচের পর ম্যাচ দুর্ভেদ্য এক দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রতিপক্ষের সামনে। এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে মাত্র একটি গোল হয়েছে, সেটির বড় কৃতিত্ব তাঁর।

এই পুরস্কার পেয়ে ভীষণ আপ্লুত রদ্রি। ভয়ানক চোট থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ের সেই কঠিন দিনগুলোর কথা স্মরণ করেছেন তিনি। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে তরুণ প্রজন্মের জন্য উদাহরণও মনে করছেন রদ্রি, ‘মনে হচ্ছে যেন নিখুঁত এক চিত্রনাট্য। আমি এটা একেবারেই আশা করিনি। আমি চাই নতুন প্রজন্ম দেখুক, একজন ফুটবলার সাফল্যের শিখরে পৌঁছেও যিনি নরকে পতিত হন, তিনি আবার উঠে দাঁড়াতে পারেন। এটি প্রতিকূলতা জয় করার একটি উদাহরণ এবং সবার জন্য শিক্ষা, সবসময় বিশ্বাস রাখতে হবে।’ সেরা হওয়ার পেছনে তাঁর ভালো করার তীব্র তাড়নার কথাও বলেছেন রদ্রি, ‘এটাই এই দলের (সাফল্যের) রহস্য। আমরা সবসময় জয়ের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ি। শেষ পর্যন্ত ঈশ্বরই তাঁর পুরস্কার দেন।’

সিএনএনের বিশ্লেষণ ইরানে মার্কিন অভিযান আসলে দীর্ঘ সংঘাতের দিকে যাত্রা

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে তৈরি হওয়া উত্তেজনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতির বড় ফাঁকফোকরগুলো সামনে নিয়ে এসেছে। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান তীব্রতা এবং একের পর এক মার্কিন সেনার মৃত্যু সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিন্তু এই সামরিক পদক্ষেপের পেছনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্য আসলে কী, তা এখনও ধোঁয়াশায় ঢাকা।

সোমবার সিএনএনের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুদ্ধের চূড়ান্ত লক্ষ্যের অস্পষ্টতা ট্রাম্পের নীতিকে এক বিপজ্জনক ও দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের চক্রে ঠেলে দিচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাম্পের জেদ
এই দফায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সামরিক তৎপরতার কারণ মূলত হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের আধিপত্য হজম করতে না পারা। বিশ্ব অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে থাকা ট্রাম্পের জন্য ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিকভাবে পরাজয়। কিন্তু এবারের হামলা কেন আগেরবারের চেয়ে সফল হবে, সে বিষয়ে মার্কিন জনগণকে কোনো স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি তিনি।

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নাকি অনন্ত যুদ্ধ?
ট্রাম্প বরাবরই মধ্যপ্রাচ্যের ‘অনন্ত যুদ্ধ’ থেকে মার্কিন সেনাদের দূরে রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতি হয়তো সেই স্তরে পৌঁছায়নি, তবে এটি কোনোভাবেই সীমিত বা সুনির্দিষ্ট মেয়াদের অভিযান নয়। ইরানের শাসন ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না এলে শুধু বিমান হামলা চালিয়ে তাদের দুর্বল করা অসম্ভব। এ অবস্থায় ট্রাম্প সংঘাত অব্যাহত রেখে আসলে কোন লক্ষ্য অর্জন করতে চাচ্ছেন, তাও স্পষ্ট নয়।

কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক উদাসীনতা
এই দফায় মার্কিন হামলাকে অনেকেই ট্রাম্পের নীতিগত ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। যুদ্ধের আগে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত ছিল, তা এখন অবরুদ্ধ। ট্রাম্প যদি হরমুজকে আগের অবস্থায় আনতে না পারেন, তবে এটি তাঁর মেয়াদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত ভুল হিসেবে গণ্য হবে।

ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ বিতর্ক
জর্ডান ও উত্তর ইরাকে সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সেনাদের মৃত্যু ওয়াশিংটনে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। যদিও এই প্রাণহানির সংখ্যা আফগান বা ইরাক যুদ্ধের তুলনায় কম, তবুও প্রতিটি মৃত্যু এই যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উসকে দেয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান যেভাবে বিশ্ব বাণিজ্যকে জিম্মি করছে, তাদের এই ক্ষমতাকে দুর্বল করা এবং দেশটিকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য। কিন্তু রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের কাছ থেকে কোনো আসন্ন হুমকি না থাকা সত্ত্বেও এই যুদ্ধ শুরু করে ট্রাম্প নিজেই একটি দুষ্টচক্রে জড়িয়ে পড়েছেন।

বের হওয়ার উপায় আছে কি?
এই জটিল পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার কোনো সহজ রাস্তা মার্কিন প্রশাসনের সামনে নেই বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। স্টিভেন কলিনসনের মতে, হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে হয়তো সাময়িকভাবে ইরানকে চাপে ফেলা যাবে, কিন্তু ড্রোনের এই যুগে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ অবস্থায় রাজনৈতিক চাপে ট্রাম্প যদি পিছু হটেন, তাহলে তেহরান তাদের অস্তিত্ব রক্ষার অজুহাতে আরও স্বৈরাচারী পদক্ষেপ নিতে পারে। আর কূটনৈতিকভাবেও ইরান কোনো ছাড় দেবে বলে মনে হচ্ছে না।

অর্থাৎ, স্পষ্ট ও দূরদর্শী কোনো লক্ষ্য ছাড়া শুধু তাৎক্ষণিক উত্তেজনা বৃদ্ধির এই মার্কিন কৌশল প্রমাণ করে, ট্রাম্পের হাতে পরাজয় বরণ করা অথবা অনন্ত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। সাবেক মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের খুব ভালো সামরিক সক্ষমতা না থাকলেও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধটি তারা বেশ ভালোভাবেই লড়ছে। এই পরিস্থিতি অতীতের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতগুলোর কথাই মনে করিয়ে দেয়।

কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি হওয়া প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, কানাডা মার্কিন তৈরি গাড়ি, অ্যালকোহল ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করছে। নতুন এই শুল্ক আগামী ১৯ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ ব্যবহার করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী আগে প্রণীত এই ধারার মাধ্যমে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এবারই প্রথম শুল্ক আরোপ করলেন।

নতুন শুল্কের আওতায় পড়ছে কানাডার বিভিন্ন পণ্য। এর মধ্যে রয়েছে ওয়াইন, দুগ্ধজাত পণ্য, সিমেন্ট, হকি স্টিক, সুইমিং পুল, আসবাব, মাছ ধরার সরঞ্জাম, বীজ, পোশাক ও উইগসহ নানা ভোগ্যপণ্য।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় আমদানির ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র কানাডা থেকে মোট ৩৮২ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছিল। নতুন শুল্ক সেই আমদানির প্রায় ৫ দশমিক ২ শতাংশের ওপর কার্যকর হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, অন্যান্য অংশীদার দেশের তুলনায় কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের শিল্প সুরক্ষা ও বাণিজ্য ভারসাম্য আনার প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখেছে। তাই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে তার সরকার ইতিমধ্যে বিস্তৃত প্রস্তাব দিয়েছে। তার দাবি, অতীতে ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা শুল্ক উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ) লঙ্ঘন করেছে।

এক বিবৃতিতে কার্নি বলেন, ‘এই বাণিজ্য বিরোধের কারণে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলোর ব্যয় বেড়েছে। বাকি থাকা সমস্যাগুলোর সমাধানে পারস্পরিক স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে কানাডা প্রস্তুত।’

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের সেকশন ৩৩৮ এমনভাবে তৈরি হয়েছিল, যাতে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক শুল্কনীতি অনুসরণ করলে তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করা যায়। তবে আইনটি কার্যকর হওয়ার পর এতদিন কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এটি ব্যবহার করেননি।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা জন ভেরোনো বলেন, অতীতে কয়েকজন প্রেসিডেন্ট এ ধারা ব্যবহারের কথা বিবেচনা করলেও বাস্তবে কখনো তা প্রয়োগ করা হয়নি। তাঁর মতে, প্রতিশোধমূলক শুল্কের জবাবে আবার এই আইন ব্যবহার করা আইনের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নতুন শুল্ক ইউএসএমসিএর আওতায় থাকা ছাড়প্রাপ্ত পণ্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি, পটাশ, মাছ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং আগে থেকেই সেকশন ২৩২-এর আওতায় থাকা কিছু পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া কানাডার দুগ্ধ খাতের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন গাড়ির ওপর শুল্ক ও কোটা এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ রাখার বিষয়গুলোও নতুন শুল্ক আরোপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে হোয়াইট হাউস।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, গত এক বছরে কানাডায় মার্কিন মোটরযান আমদানি ২২ শতাংশ এবং মার্কিন অ্যালকোহলজাত পণ্যের আমদানি ৮১ শতাংশ কমেছে।

তবে সাবেক কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর উপদেষ্টা ডায়মন্ড ইসিঙ্গার বলেন, বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রি পুনরায় চালুর বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা সীমিত। কারণ, এ সিদ্ধান্ত মূলত সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক সরকারের হাতে।

দেশের বাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।

অভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানের স্বীকৃতি দিতে হবে: নাহিদ ইসলাম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, ১৭ জুলাই আন্দোলন স্তিমিত হয়ে পড়লে দুটি শক্তি পুনর্জাগরণ ঘটায়- মাদ্রা‌সা এবং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত কয়েক দশক ধরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জুব্বা রক্তাক্ত হয়েছে। এই জুব্বা বিদ্রোহ এবং লড়াইয়ের প্রতীক। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, মাদ্রা‌সা শিক্ষার্থীদের ত্যাগকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিএমএ ভবন মিলনায়তনে জুলাইয়ের রক্তাক্ত জুব্বা: মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের অবদান শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন,  জুলাই কেউ বিক্রি করছে না। জুলাই আকাঙ্খার বাংলাদেশ চাইলেই বলা হয়, চেতনার ব্যবসা। জনগণ প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার চায়। এটাই জুলাই চেতনা।

অবিলম্বে সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে নাহিদ বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী হয়নি। বিপ্লবের পরে আকাঙ্ক্ষা এবং আদেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন এবং গণভোট হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সরকার সংবিধান সংশোধন কমিটির নামে যে প্রহসন করছে সেখান থেকে সরে এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ওলামায়ে কেরামসহ জুলাইয়ের সকল শক্তি রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

সেমিনারে প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাষ্ট্র চিন্তক ফরহাদ মজহার, চিন্তক মুসা আল হাফিজ, এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন আওয়ামী লীগ নেতাদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের প্রস্তাবে ইসির ‘না’ দ্বৈত নাগরিক ও আইসিটিতে অভিযুক্তরা প্রার্থী হতে পারবেন না

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণার  প্রস্তাবে সায় নেই নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। নির্দলীয় নির্বাচন হওয়ায় তাদের পক্ষে এমন আইন করা সম্ভব নয় বলে মনে করছে সংস্থাটি। তবে জাতীয় সংসদের মতো স্থানীয় সরকারের ভোটেও দ্বৈত নাগরিক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অভিযুক্ত আসামির প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার প্রস্তাব যাচ্ছে সরকারের কাছে। এ ছাড়া ঋণখেলাপির জামিনদার এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকরাও প্রার্থী হতে পারবেন না- এমন বিধান করতে চাইছে ইসি।

পাশাপাশি এক সদস্যের নির্বাচনী আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব দিচ্ছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান একজন বিচারপতি ও একজন বিচার বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তার (যুগ্ম জজ বা সহকারী জজ) বদলে শুধু উচ্চ আদালতের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালগুলো গঠন করা হবে। দুই সদস্যের হওয়ায় যে কেউ দ্বিমত জানালে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের তৃতীয় কোনো বেঞ্চে যাওয়ায় আপিল নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময় ও আইনি জটিলতা তৈরি হয়। এমন জটিলতা এড়াতেই এক সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব আনছে ইসি।

এসব আইন ও বিধি সংশোধনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে আজ মঙ্গলবার কমিশন সভায় বসতে যাচ্ছে ইসি। সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠেয় সভায় একই সঙ্গে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণবিধিমালার খসড়া অনুমোদনের কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের (সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ) জন্য আইন ও বিধিমালার সংশোধনী প্রস্তাব চূড়ান্ত করে সরকারের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। তবে আচরণ বিধিমালা সংশোধন ইসির নিজস্ব এখতিয়ার হওয়ায় এজন্য সরকারের অনুমোদনের প্রয়োজন পড়বে না।
এর আগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে ইসিকে প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইসি প্রণীত খসড়া আচরণবিধিমালার ওপর মতামত দিতে গিয়ে সম্প্রতি ওই প্রস্তাব দেয় দলটি। তাদের প্রস্তাবে ছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতাকর্মী নির্বাচনে অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান নির্বাচনী আচরণ বিধিমালায় যুক্ত করতে হবে।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হচ্ছে। ফলে কোনো দলের নেতাদের অংশগ্রহণ করতে না দেওয়ার এখতিয়ার ইসির নেই। স্থানীয় সরকারের যেসব পদে নির্বাচন হবে, সেগুলোতে প্রার্থী হতে যোগ্যতার শর্ত পূরণ করলেই যে কেউ দাঁড়াতে পারবেন। এখানে কে কোন দলের সেটা বিবেচনায় আনবে না ইসি।
তিনি জানান, এরই মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আইন ও বিধির বেশ কিছু সংশোধনী প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে। এসব প্রস্তাব আজ কমিশন সভায় আলোচনার পর চূড়ান্ত করা হবে। এরপর সরকারের অনুমোদন পেলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
এই ইসি বলেন, এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের আচরণবিধিমালার খসড়াও চূড়ান্ত হয়েছে। এসব বিধিমালাও কমিশন সভায় অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।

চার ক্যাটাগরির ব্যক্তির প্রার্থিতা নিষিদ্ধ 
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন করে আইসিটি মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির প্রার্থী হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। ইসি স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও এই আইন চালু করতে চায়।
ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, আইসিটি আইনের ২০সি ধারায় অভিযোগপত্রভুক্ত ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান আগে থেকেই রয়েছে। তবে এটি স্থানীয় সরকার আইনে যুক্ত না থাকায় আইনি জটিলতায় পড়তে হতে পারে। এই কারণে বিধানটি স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রেও চালু করা হবে। ফলে অভিযোগপত্রভুক্ত কেউ স্থানীয় সরকারের মেয়র, চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান কাউন্সিলর বা সদস্য পদে নির্বাচন করতে পারবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল থেকে অব্যাহতি বা খালাস পেলে সেই অযোগ্যতা আর থাকবে না।

ইসির প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুমোদন হলে দ্বৈত নাগরিকরাও প্রার্থী হতে পারবেন না। কমিশন মনে করে, যারা অন্য দেশের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন, তারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার উপযুক্ত নন। এ ছাড়া সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দ্বৈত নাগরিকরা সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। ওই কারণ দেখিয়ে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তারা যাতে প্রার্থী হতে না পারেন, ওই বিধান যুক্ত করতে সরকারকে সুপারিশ করতে যাচ্ছে ইসি।

এদিকে, ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার পরিচালক এবং ঋণখেলাপির জামিনদারদের প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার প্রস্তাবও রয়েছে ইসির। জাতীয় নির্বাচনে আইনের ফাঁক গলে ঋণখেলাপিদের কেউ কেউ নির্বাচিত হয়ে গেছেন এবং স্থানীয় সরকারে এটা ঠেকাতে এই বিধান কঠোর করার লক্ষ্যেই এমন প্রস্তাব দিচ্ছে ইসি।

এ ছাড়া এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য চাওয়া হয়েছে। ইসি মনে করে, স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে যেমন অন্য শিক্ষকের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, আবার এসব শিক্ষক জয়ী হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়ে। তাই এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে চাকরি ছেড়ে করার পক্ষে তারা।

আরও যেসব প্রস্তাব
ইসির প্রস্তাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রয়েছে। যাতে স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে যুক্ত করার সুযোগ থাকে। অবশ্য প্রয়োজন না হলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন না করার পক্ষে ইসি।

স্বতন্ত্র প্রার্থিতার ক্ষেত্রে মোট ভোটারের ১ শতাংশের সমর্থন সূচক স্বাক্ষরের বিধান বাতিল ও জামানতের পরিমাণ বাড়ানোসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ইসির তরফে। এ ছাড়া হলফনামায় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের বিধানও যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

বাড়ছে উজানের পানির চাপ সিলেট-ময়মনসিংহে বন্যার শঙ্কা, ৩ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আবারও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের বাকি সাত বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া গতকাল সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

গতকাল আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার সাত বিভাগেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন মেঘমালা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।

এদিকে রাজধানীতেও আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি বলেন, সোমবার ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার মিরপুর ও কাজীপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই অস্থায়ীভাবে হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে আগামী দুদিন বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, কুশিয়ারা কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে নদী দুটির পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় বন্যা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, সারিগোয়াইন ও ভুগাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গতকাল অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই উজানের পানি আগামী কয়েক দিনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানিও মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ছাতক উপজেলায় ইতোমধ্যে সুরমা, চেলা ও পিয়ান নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। উপজেলার ইসলামপুর, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত ২০টি স্থানে সড়ক তলিয়ে ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নলছাপড়া বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গেছে। গজারমারী-খারনৈ সড়কের বিভিন্ন অংশও ভেঙে পড়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর কৃষিজমিতে বালু জমেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সকালে ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এ সময় দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। গতকাল নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়েছেন সুনামগঞ্জ, ছাতক (সুনামগঞ্জ), নালিতাবাড়ী (শেরপুর) ও কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি]