Home Blog Page 62

স্বৈরাচার পতনের পর গুপ্ত বাহিনীর আত্মপ্রকাশ: প্রধানমন্ত্রী শরিক নেতাদের সঙ্গে নৈশভোজ

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান  বলেছেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে। বিগত আন্দোলনে তাদের কোথাও দেখা যায়নি। অনেকে পালিয়ে ছিল। নির্বাচনের পর এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি। এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে।’সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএনপির শরিক নেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আগে সংক্ষিপ্ত মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের যুগপৎ আন্দোলনে শরিক দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা থাকতে পারে কিন্তু কোনো বিভেদ নেই।  বিএনপি ও শরিকরা প্রতিটি আন্দোলনে সামনে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে আছি, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও একসঙ্গে থাকব। আমাদের মধ্যে ডিফরেন্স অব অপিনিয়ন হতে পারে, কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কোনো কারণ আমাদের মধ্যে আছে বলে আমি মনে করি না। ৩১ দফার মাধ্যমে আমরা একটি জায়গায় একত্র হয়েছি। আমাদের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য এক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেহেতু আমাদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য এক। আমাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকতে পারে যেমন একটি দফা কীভাবে বাস্তবায়ন করব– এই ব্যাপারে আপনার একটা মত থাকতে পারে, আমার একটি মত থাকতে পারে। এখানে হয়তো কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। কিন্তু আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমাদের মধ্যে যেহেতু কোনো বিভেদ নেই, আমাদের ৩১ দফার আলোকে হোক এবং জুলাই সনদের আলোকে হোক আমরা দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব।’
‘গুপ্তদের রাজপথে দেখা যায়নি’

অতীতের আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একটু পেছনে যাই– আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলাম। কারও নাম আমি উল্লেখ করতে চাই না– যাদের একটি শব্দ ‘গুপ্ত’ ব্যবহার করলেই সাধারণ মানুষও তাদের চেনে। এদের কিন্তু ওই সময়ে আমরা অনেক খুঁজেছি, তাদের আমরা পাইনি, আমি পাইনি দূরে থেকে। আপনারা কি কেউ পেয়েছিলেন রাজপথে তাদের? তাদের কিন্তু রাজপথে আমরা দেখিনি।

বিভিন্ন সময়ে তাদের দেখেছি, যারা পালিয়ে গেছে এই দেশ থেকে তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে আমরা দেখেছি। রাজপথে দেখিনি, শেষের দিকে কিছু কিছু জায়গায় তাদের দেখেছি। কিন্তু ১৭ বছর বিভিন্ন জায়গায় আমরা তাদের দেখিনি। কাজেই দেশের মানুষ আমাদের ওপরই আস্থা রেখেছে যে এরাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে– এটি আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।”

মানুষের আস্থা ধরে রাখতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমাদের যে কোনো মূল্যে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখার জন্য আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করব। কারণ জনগণের প্রত্যাশা আমাদের কাছে। জনগণ প্রত্যাশা নিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। আসুন, আগে আমরা দায়িত্বটা পালন করি। তারপর আমরা নিজেদের নিয়ে ভাবি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে আমরা ৩১ দফা উপস্থাপন করেছিলাম। আপনাদের নিশ্চয়ই এটাও স্মরণ আছে যে ৩১ দফা– রাষ্ট্র মেরামতের যে দফাগুলো আমরা উপস্থাপন করেছিলাম, সেটিকে আমরা সংস্কারই বলি। সেটিকে আমরা রাষ্ট্র মেরামতের দফা বলি। তখন বাংলাদেশের অন্য অনেক রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন পর্যায়ে যারা পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে সংস্কার নিয়ে অনেক বড় বড় কথা বলেছেন, এই মানুষগুলোকে বা এই রাজনৈতিক দলগুলোকে তখন সংস্কারের ‘স’ বলতে দেখিনি। কিন্তু আজকে আমরা এই প্যান্ডেলের নিচে যারা বসে আছি একত্রে, আমরা কিন্তু তখন স্বৈরাচারের চোখরাঙানি উপেক্ষা করে রাষ্ট্র সংস্কারের দফাগুলো দিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, নির্বাচনে জনগণ ৩১ দফার পক্ষে রায় দিয়েছে। এখন এই ৩১ দফা শুধু আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো নয় বরং বাংলাদেশের জনগণের ৩১ দফা হয়ে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হয়েছিল। স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পরে একটি গুপ্ত বাহিনী আগস্টের ৫ তারিখের পরে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিল। আপনাদের পরিষ্কার মনে আছে যে তারা ১২ তারিখের নির্বাচনে এবং নির্বাচনের আগে কি স্বৈরাচারী কায়দায় ডিজিটাল ওয়েতে তারা কীভাবে তাদের কাজগুলো চালিয়েছিল? কীভাবে তারা চেষ্টা করেছিল বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সব সময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে কখনও ভুল করেনি।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা 
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এক উপদেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন আগে আমার সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলছিলেন, তারা যে ১৮ মাসের মতন দেশ পরিচালনা করেছেন, এই ১৮ মাস তারা কত অসহায়ের মতো ছিলেন। তিনি (উপদেষ্টা) বলছেন,  সরকারের ৬০ শতাংশের ওপরে সেই গুপ্ত বাহিনীর প্রভাব ছিল।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘নির্বাচনের পরে এই গুপ্ত বাহিনীকে দিশাহারার মতো বক্তব্য রাখতে দেখেছি এবং এখনও তারা বিভিন্ন রকম বক্তব্য রাখছে। আমরা পত্রপত্রিকায় দেখছি, সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখছি। সেই ব্যক্তির (উপদেষ্টার) বক্তব্য হচ্ছে, এরা দিশাহারা হয়ে গেছেন– ১৮ মাস তারা এমনভাবে পুরা জিনিসটাকে ব্যবহার করেছে তাদের পক্ষে। কিন্তু ১২ তারিখে যখন জনগণ তাদের রায় প্রদান করেছে, তারপর থেকে তাদের মাথা খারাপ হয়ে গেছে।’ ক্ষমতাচ্যুত সরকারের ১৬-১৭ বছরের রেখে যাওয়া বিধ্বস্ত অর্থনীতি, বিধ্বস্ত জ্বালানি বা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তুলে ধরেন এবং তা মোকাবিলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শরিকদের নিয়ে একসঙ্গে চলার প্রত্যয় 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এতদিন একসঙ্গে ছিলাম। আমরা একসঙ্গেই থাকব। চলতে গেলে এদিক-ওদিক হতেই পারে। আপনি দেখেন এই ‍ঢাকা শহর এখন পরিষ্কার করতেই সমস্যা। যে দিকে তাকাবেন ময়লা। কেউ একজন বলেছেন, এটা কি ফেয়ারওয়েল ডিনার কিনা? কেন ফেয়ারওয়েল হবে? ফেয়ারওয়েল ডিনার যদি দিতে হয় গুপ্ত-সুপ্তদের বলতে পারি, স্বৈরাচারকে বলতে পারি। কিন্তু আমরা যারা ছিলাম। আমরা ইনশাল্লাহ একসঙ্গে থাকব।’

দুঃখ প্রকাশ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেক দিন বসার সুযোগ হয়নি সেজন্য আজকে এই আয়োজনটি করেছি। আমি জানি, মুরুব্বিরা যা বলেছেন তার সঙ্গে আমি মোটেও দ্বিমত করব না। তাদের মনে এই কষ্ট আছে– সেগুলো আমি জানি। স্বাভাবিক। বয়সে তারা আমার থেকে বড়– আমি ছোট ভাই হিসেবে বড় ভাইদের সব বিষয় মেনে নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমি শুধু এতটুকুই অনুরোধ করব, আমাদের সবাইকে একটু ধৈর্য ধরতে হবে। কারণ বিভিন্ন সময় মান্না (মাহমুদুর রহমান মান্না) ভাই তাঁর বক্তব্যে বলেছেন, জনগণের প্রত্যাশা অনেক। আসুন আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করি জনগণের প্রত্যাশাটাকে আগে আমরা অ্যাড্রেস করি।’

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় যমুনার অনুষ্ঠানস্থলে এসে প্রধানমন্ত্রী টেবিলে টেবিলে গিয়ে শরিক নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। কুশল বিনিময়ের পর নেতাদের নিয়ে রাতে খাবার টেবিলে বসেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক সাইফুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম বক্তব্য দেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকতাটা ভালো হয়েছে; কিন্তু আলোচনার প্রশ্ন যদি বলেন, কোনো এজেন্ডা ছিল না। কেউ বক্তৃতা করেছেন, কেউ কেউ সরকারের অংশ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এ রকম বলেছেন যে, আমরা অংশীদার হতে চাই ক্ষমতার। কেউ কেউ এ রকম বলেছেন যে, যারা যারা যেভাবে চালাচ্ছেন, সেগুলো আমরা কিছুই জানি না। আমরা অংশ নিতে পারছি না।’

বিরোধী দলের কঠোর আন্দোলন ও ৩১ দফার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা এবং বিএনপির শরিকদের নিয়ে সামনের কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মান্না বলেন, ‘এটা আমি সবার পক্ষ থেকে বলতে পারব না। নিজের পক্ষ থেকে বলি যে বিরোধী দল যে কর্মসূচি দিচ্ছে বা দেবে, সেটা দেখব। তাদের প্রধান অভিযোগ যে বিএনপি বা ক্ষমতাসীন যারা আছে তারা সংস্কার করছে না, তারা জুলাই সনদ মানে না এবং তারা এখন একেবারে নতুন একটা পথে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে, সচিবালয় নিয়ে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় নিয়ে, বিচারকদের নিয়োগের বিষয় নিয়ে… বহু ব্যাপারে প্রশ্ন করার মতো আছে। আমাদের যে ঐক্যবদ্ধ সংস্কার প্রস্তাব ছিল, বিএনপির প্রস্তাব বর্তমানে বা তার কার্যকলাপ তার সঙ্গে যায় না। কিন্তু এগুলো এখানে আলোচনা হয়নি। সে আলোচনা করার সুযোগ নেই।’

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘আমরা আন্দোলনে আছি, কিন্তু আমরা এই সরকারের সাফল্য চাই। সরকার যেন তার যোগ্যতা দিয়ে সফলতা অর্জন করে। এটা নয় যে ওনারা ক্রাইসিসে পড়ে আমাদের ডাকলেন আর আমরা তাদের সহযোগিতা করতে এগিয়ে গেলাম। এ রকম কোনো সভা এটা হয়নি।’

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন অ্যান্ডি বার্নহাম

এক দশকের মধ্যে সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেল যুক্তরাজ্য। সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়েছেন সদ্য লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়া অ্যান্ডি বার্নহাম। রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাতের পর লন্ডনে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণও দিয়েছেন।

বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটে আসার কয়েক মুহূর্ত আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সামনে বিদায়ী ভাষণ দেন কিয়ার স্টারমার। এ সময় উল্লেখ করেন, তিনি নিজের ওপর থাকা দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভরাডুবি ও অর্থনৈতিক সংকটের যে চাপের মুখে স্টারমার দায়িত্ব ছাড়লেন, একই পরিস্থিতিতে ক্ষমতায় বসলেন বার্নহাম।

ডাউনিং স্ট্রিটে দেওয়া ভাষণের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্রিটেনের জন্য একটি ‘সার্কিট-ব্রেকার’ বা আমূল পরিবর্তনের সূচনা করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, আগামীতে তিনি গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো সামনে নিয়ে আসবেন। এর মধ্যে আছে, গৃহহীনদের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করা। এটিকে তিনি প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

বার্নহাম বলেন, ‘আমি জানি দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত। আমি আপনাদের কথা শুনতে পাচ্ছি। আপনাদের সঙ্গে সৎ থাকতে চাই। এতদিন আমরা যথেষ্ট ভালো কিছু করতে পারিনি। সামনের দিনগুলোতে তা করতে হবে।’

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগে বার্নহাম বাকিংহাম প্যালেসে যান। সেখানে রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে দেখা করেন। এরপর স্ত্রী মারি-ফ্রান্স ভন হিলের সঙ্গে প্রাসাদ ত্যাগ করেন। এ সময় বাইরে থাকা জনতা করতালি দিয়ে তাদের অভিবাদন জানান।

মিত্রদের সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক আজ

যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেওয়া মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আজ সোমবার বৈঠক করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকার গঠনের পর এই প্রথম তিনি যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠকটি হওয়ার কথা রয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

বিএনপির সূত্রগুলো বলছে, শুভেচ্ছা বিনিময় করতে সব শরিকদের ডাকা হয়েছে এই বৈঠকে। এমনকি নির্বাচনের আগে দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেওয়া নেতাদেরও ডাকা হয়েছে। পরস্পরের সঙ্গে হৃদ্যতা বাড়ানোই এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। সবার মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে কীভাবে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়, মূলত সে ব্যাপারেই শরিকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

এদিকে বিএনপি ও শরিকদের একাধিক সূত্র বলছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিক দলগুলোর মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে যে অসন্তোষ রয়েছে, বৈঠকে তা গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি যুগপৎ আন্দোলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়েও মতবিনিময় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

শরিক দল ও জোটগুলোর একাধিক নেতা মনে করছেন, নির্বাচন ও সরকার গঠনের ৫ মাসে অনেক ক্ষেত্রেই বিএনপির ‘একলা চলো নীতি’ পরিলক্ষিত হয়েছে। এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে সরকারি দলের মনোভাব বোঝার চেষ্টা করা হবে। দেন-দরবারের চেয়ে এই বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তারা। মনোভাব বোঝা গেলে সে অনুযায়ী শরিকদের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্কের ধারা ঠিক হবে বলেও মনে করেন তারা।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে সরকার এবং বিএনপির মনোভাব সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব। শরিকদের সঙ্গে তারা কি সম্পর্ক শেষ করবেন, নাকি নতুন যাত্রা শুরু করবেন– এটা আমাদের জানা জরুরি।

ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ৩১ দফা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা বিএনপির চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলব। জাতীয় সরকার গঠনের বিষয়েও কথা বলব।

বছরের সেরা টেকসই কোম্পানি ইউনিলিভার বাংলাদেশ

এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ ‘মোস্ট সাসটেইনেবল কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ ও ‘মোস্ট সাসটেইনেবল এফএমসিজি কোম্পানি অব দ্য ইয়ার’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউবিএল)। একই সঙ্গে ‘সহযাত্রা: কো-ক্রিয়েটিং ইমপ্যাক্ট’ উদ্যোগের জন্য সাসটেইনেবল পার্টনারশিপস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনস বিভাগে এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন পুরস্কার জিতেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ছাড়া আরও দুই বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতিসহ এবারের আয়োজনে মোট পাঁচটি সম্মাননা অর্জন করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।

ইউবিএল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত শনিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সাসটেইনেবিলিটি সামিটের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডস দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যক্রম, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও কার্যকর প্রভাবের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে ভূমিকা রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। তিনটি বিভাগে বিজয়ী হওয়ার পাশাপাশি ইউনিলিভার বাংলাদেশ ‘স্মার্ট কাস্টমার লজিস্টিকস অ্যান্ড ট্রেড’ উদ্যোগের জন্য ইন্ডাস্ট্রি, ইনোভেশন অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগে এবং ‘ইউ-রিফিল ২.০ অ্যান্ড রি-ইঞ্জিনিয়ারিং প্যাকেজিং’ উদ্যোগের জন্য রেসপনসিবল কনজাম্পশন অ্যান্ড প্রডাকশন বিভাগে সম্মানজনক স্বীকৃতি পেয়েছে।

কার্যকর অংশীদিরত্ব ও ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্বশীল উৎপাদন ও ব্যবহারের চর্চা প্রসারে সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং অন্যান্য অংশীজনের সঙ্গে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। এসব প্রচেষ্টার লক্ষ্য বৃহৎ পরিসরে দীর্ঘস্থায়ী ইতিবাচক প্রভাব তৈরি করা।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের পক্ষে পুরস্কারগুলো গ্রহণ করেন প্রতিষ্ঠানটির হিউম্যান রিসোর্স ডিরেক্টর সৈয়দা দুরদানা কবির এবং কাস্টমার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট হেড মো. শাদমান সাদেকীন।

রান্না করেন খিচুড়ি-গোশত, কিন্তু আর্জেন্টিনা হারার পর উদ্ধার হলো মরদেহ

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রিয় দল আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় সুমন হোসেন (৩০) নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। আজ সোমবার ভোরে উপজেলায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

সুমন ওই এলাকার আফজাল হোসেনের একমাত্র ছেলে। তিনি ভ্যান চালাতেন।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন। রোববার রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখেন তিনি। প্রিয় দলকে সমর্থন জানিয়ে বন্ধুদের জন্য নিজে খিচুড়ি ও গোশত রান্নার আয়োজনও করেছিলেন। খেলা শেষে ভোর ৪টার দিকে বাড়ি ফিরে নিজের কক্ষে যান তিনি।

সুমনের স্ত্রী জেমি খাতুন জানান, বাড়ি ফেরার পর সুমন কিছুক্ষণ মোবাইল দেখছিলেন। পরে তাকে ঘুমাতে বলে নিজেও ঘুমিয়ে পড়েন। ভোর ৫টা ২০ মিনিটের দিকে উঠে স্বামীকে কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের বন্ধু রিপন আলী বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার খুব বড় ভক্ত ছিল। গত রাতে সে আমাদের জন্য খাওয়ার আয়োজনও করেছিল। আমরা একসঙ্গে খেলা দেখতাম। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছি না।’

সুমনের বাবা আফজাল হোসেন বলেন, ‘সুমন খেলা দেখে বাড়িতে ফেরার সময় আমি মাঠে যাচ্ছিলাম। পরে আমার ভাই মাঠে গিয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর দেয়। আমার পরিবারে দুটি ছোট বাচ্চা আছে। এখন তাদের কী হবে, সেটাই ভাবছি।’

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে পারেনি। এ কারণে হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।’

ভেড়ামারা থানার ওসি মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান বলেন, ‘সুমন আর্জেন্টিনার বড় ভক্ত ছিলেন বলে শুনেছি। খেলা উপলক্ষে তিনি খাওয়ার আয়োজনও করেছিলেন। হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।’

ঋণের কিস্তি তুলতে এসে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, এনজিওকর্মী আটক

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে ৬ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে রাকিবুল ইসলাম (২৩) নামে এক এনজিওকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। আজ সোমবার এ ঘটনা ঘটে।

ভোলাহাট থানার ওসি আব্দুল বারেক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আটক  রাকিবুল ইসলাম পিরোজপুরের সদর উপজেলার শাড়িকতলা ইউনিয়নের কালিটাটি বটতলা (পশ্চিম ডুবুরি তলা) গ্রামের মো. দেলোয়ার তালুকদারের ছেলে। তিনি ভোলাহাটে ‘রিক’ নামের একটি এনজিওতে মাঠকর্মী হিসেবে কর্মরত।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। ঋণের কিস্তির টাকা তুলতে এসে রাকিবুল ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করে। বিষয়টি স্থানীয় জানতে পেরে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। পুলিশ এসে অভিযুক্তকে আটক করে।

এ বিষয়ে ভোলাহাট থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা দায়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মামলা হলে অভিযুক্ত রাকিবুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

চার প্রতিষ্ঠানের ৮ ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

বাংলাদেশ মান অনুযায়ী নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় চার প্রতিষ্ঠানের আট ভেরিয়েন্টের পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। পরীক্ষায় এসব পণ্যে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি এবং নির্ধারিত মানের ব্যত্যয় পাওয়া গেছে।

আজ সোমবার বিএসটিআই থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন এগ্রো রিসোর্সেসের আমের আচারে মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে। কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বেলিসিমো ব্র্যান্ডের আইসক্রিমে টোটাল মিল্ক সলিড নন-ফ্যাটের পরিমাণ বাংলাদেশ মানের চেয়ে বেশি পাওয়া যায়।

এ ছাড়া অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন ও অ্যালোভেরা স্কিন লোশন, অলিভ ও লাবণ্য ব্র্যান্ডের ফেসওয়াশ মোরিংগা মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী এবং লাবণ্য ব্র্যান্ডের অ্যালোভেরা ভ্যারিয়েন্টের শ্যাম্পুতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর অনুজীবের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

ডেকো ফুডস লিমিটেডের ডেকো ফ্রুট ফান্ডা ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ ভ্যারিয়েন্টের সফট ড্রিংক পাউডারে বাংলাদেশ মানের তুলনায় ভিটামিন ‘সি’ কম পাওয়া গেছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্য পণ্যগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যানপত্র দেওয়া হয়েছে। পণ্যের লাইসেন্স নবায়ন বা অনুমোদন না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রয় ও বিতরণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জনস্বার্থ ও ভোক্তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের উৎপাদিত এসব পণ্য দেশের সব পরিবেশক, ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, তা তদারকি করবে বিএসটিআই।

বিএসটিআই জানিয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হক বলেন, জনগণ যাতে মানসম্মত পণ্য কিনতে পারে, সে বিষয়ে বিএসটিআই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মানসম্মত পণ্য পাওয়া জনগণের অধিকার। পণ্য কেনার আগে বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন, লাইসেন্স নম্বর, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন তিনি।

কোনো পণ্যের মান, ভেজাল, প্রতারণা বা বিএসটিআইয়ের মানচিহ্নের অপব্যবহার নিয়ে অভিযোগ থাকলে দ্রুত বিএসটিআইকে জানানোর আহ্বানও জানান মহাপরিচালক।

দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণ মেসি রূপকথার করুণ সমাপ্তি, খলনায়ক আর্জেন্টিনা

০

ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে নিজের শেষ আলোটুকু ছড়াতে নেমেছিলেন লিওনেল মেসি। একটি অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দেবেন- এমন প্রত্যাশা ছিল কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। কিন্তু নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের পশ্চিম গ্যালারির পেছনে সূর্য যখন হেলে পড়ছিল, তখন ক্রমশই স্পষ্ট হতে থাকে, টুর্নামেন্টজুড়ে মেসির পায়ে যে জাদু ছিল, সেটি হঠাৎ উধাও। স্পেন ধীরে ধীরে যখন ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিচ্ছিল, তখন কঠিন এক বাস্তবতার মুখোমুখি আর্জেন্টিনা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে তারা যেন সমস্ত আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন।

টুর্নামেন্টের আগের ম্যাচগুলোতে যে আর্জেন্টিনা বা যে মেসিকে আমরা দেখেছি, ফাইনালের ম্যাচে সেই দলটির চেহারা সম্পূর্ণ বিপরীত। দু-একটি ব্যতিক্রম ছাড়া এই বিশ্বকাপে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর দল ছিল এই আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষকে কীভাবে ধূলিসাৎ করা যায়, সেটি তাদের জানা। তার চেয়ে বড় কথা, গোল করার সঠিক সময় নিখুঁতভাবে নির্বাচন করতে তারা সিদ্ধহস্ত। সে অভিজ্ঞতা দিয়েই দুটি ম্যাচে অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের কাছে হেরে যাওয়ার মুখ থেকে ফিরে তারা ট্রফি জয়ের দৌড়ে নিজেদের শক্তিশালী করে তোলে।

বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচগুলো বরাবরই নীরস হয়। তবে সেই মানদণ্ডেও এবারের ফাইনালের গতি ও ধরণ হতাশাজনক। প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয়ার্ধে স্প্যানিশ রক্ষণভাগ ধীরে ধীরে ম্যাচের লাগাম টেনে ধরে। তবে অতিরিক্ত সময়ে গিয়ে তারা কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায়, যা ছিল একেবারেই প্রত্যাশিত।

কিন্তু আর্জেন্টিনা? বিশ্বকাপের প্রায় শতবছরের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল ম্যাচের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলপোস্টে একটি শটও তারা নিতে পারেনি! এমনকি অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পাওয়ার পরও তারা স্পেনের জন্য সামান্যতম হুমকিও তৈরি করতে পারেনি।

আর লিওনেল মেসি? এই ফাইনালের আগ পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলকে দারুণ কিছু দেখার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। কোনো ধরনের চাপ ছাড়াই সেটি তার স্বাভাবিক ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ। আর, ৩৯ বছর বয়সে এসে মেসির অর্জনের খাতা এতটাই পরিপূর্ণ যে- ব্যক্তিগত, ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে তার অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তোলার সাহস কারও নেই। রোববার রাতের পরাজয় তার সেই ক্যারিয়ারে সামান্য আঁচড়ও কাটবে না, সেটি ঠিক। তবে ম্যাচটি জিতলে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে তার অবস্থান আরও শক্তিশালী হতো- সেটি নির্দ্বিধায় বলা যায়।

দিনশেষে এ সত্যটাও স্বীকার করতে হবে, গোটা টুর্নামেন্টে যে মেসি একাই দলকে টেনেছেন, ফাইনালের পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি একেবারে নগন্য। এর বড় কারণ অবশ্যই স্প্যানিশ রক্ষণভাগের মাস্টারক্লাস পারফরম্যান্স। তবে কেবল রক্ষণ দিয়ে তো আর্জেন্টিনা অধিনায়ককে আটকে রাখা সবসময় সম্ভব নয়। তাই সবদিক থেকে আর্জেন্টিনাকে পরিষ্কার টেক্কা দিয়েছে স্পেন, মেসিকেও নিষ্ক্রিয় করে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

%E0%A7%AA 1784549528

মাঠে মেসির কাছে সময় বরাবরই একটি আপেক্ষিক বিষয়। কারণ প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানাতে তিনি নিজের মতো করে সময়ের গতি যখন-তখন আটকে দিতে পারেন। এই বয়সে এসেও তিনি সময়ের দেয়াল ভেঙে দর্শকদের নিয়ে গেছেন বার্সেলোনায় কাটানো সেই সোনালি দিনগুলোতে। অনেকে মনে করেন, সময় মেসিকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি, বরং তিনি সময়ের পাশাপাশি হেঁটেছেন। কখনও হয়তো দু-এক কদম পিছিয়ে পড়েছেন, কিন্তু আবার তা পুনরুদ্ধার করেছেন।

কিন্তু ফাইনাল ম্যাচটি আমাদের একটি বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। মেসি অধ্যায়ের কী সমাপ্তি ঘটল? তাকে নিয়ে এমন সংশয়ের কথা বলা হয়েছিল ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জেতানোর পর, আবার ২০১৬ সালে কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারের পর মেসি যখন ক্ষোভে জাতীয় দল থেকে সাময়িক অবসর নেন, সেই সময়ও।

তখনকার দিনে আলোচনা হতো, বার্সেলোনার হয়ে মেসি যেভাবে খেলেন, আর্জেন্টিনার হয়ে ঠিক সেভাবে খেলতে পারবেন না। এমনকি জীবনের বড় একটি অংশ স্পেনে কাটানোর কারণে তিনি ‘যথেষ্ট আর্জেন্টাইন’ নন বলেও গুঞ্জন ছিল। ঠিক ১০ বছর পর, সেই বিতর্ককে কেবল কৌতুকই মনে হয়েছে।

আর্জেন্টিনার হতাশাজনক পারফরম্যান্স দেশের মানুষ কীভাবে গ্রহণ করবে, তা সময়ই বলে দেবে। কেননা তাদের প্রত্যাশার পারদ ছিল আকাশচুম্বী। ফাইনাল ম্যাচের আগে অবশ্য প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি, এমনকি মেসি নিজেও দীর্ঘ আলাপে জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে যতটা অর্জন করেছেন তাতেই তৃপ্ত। দুজনের কথার সুর এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছিল, ফাইনালের ফলাফল তাদের সাফল্যগাথাকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারবে না। তবে সেটি ছিল মাঠে নামার আগের কথা।

মেসির মতোই স্কালোনির গৌরবোজ্জ্বল ক্যারিয়ার এই ফাইনালের আগেই নিশ্চিত হয়ে গেছে। আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকা ট্রফি উপহার দেওয়া কোচ তিনি। তবু এই ফাইনাল ছিল তার সেই সাম্রাজ্যকে আরও সুদৃঢ় করার সুযোগ। দুটি সত্য এখানে পাশাপাশি- স্কালোনি নিঃসন্দেহে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অন্যতম সেরা কোচ, একই সঙ্গে এটি তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বাজে কৌশল ও ফলাফল।

সবকিছুর ঊর্ধ্বে এখন যা স্পষ্ট, তা হলো- গভীর এক হতাশা। আর্জেন্টিনা ও মেসির রূপকথাকে নিখুঁত সমাপ্তি দিতে না পারার কষ্ট। সোনালি সুযোগ কাজে লাগানো তো দূরের কথা, মাঠের পারফরম্যান্সে অযাচিতভাবেই তারা পুরো গল্পের খলনায়ক।

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

দেশে ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, শুধু চিকিৎসাসেবা বাড়িয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গু-জ্বর সচেতনতামূলক সাইন্টিফিক সেমিনার’-এ এসব কথা বলা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনডিএফের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে যশোর-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ বলেন, দেশে ডেঙ্গু মোকাবিলায় শুধু চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। তিনি স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অবদানের প্রশংসা করেন এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এনডিএফের উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি সংসদ সদস্য মারজিয়া বেগম বলেন, ডেঙ্গু একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। তিনি গুজব ও অপচিকিৎসা থেকে বিরত থেকে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. জাহাঙ্গীর-উল আলম (সোহেল)। তিনি ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, এডিস মশার জীবনচক্র, রোগের লক্ষণ, সতর্ক সংকেত, রোগ নির্ণয়, আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং জটিলতা প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, অপ্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা নিতে দেরি করা রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আলোচনায় অংশ নেন বিসিএস হেলথ ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মাহবুব ইসলাম মজুমদার এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুল্লাহ সাঈদ খান।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়; এটি দেশের জনস্বাস্থ্যের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসার পাশাপাশি কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। তিনি জনগণের পাশে থেকে চিকিৎসকদের সেবামূলক ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

সেমিনারে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষক, স্বাস্থ্য পেশাজীবী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে কোর্ট মার্শালে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর আগে বিজিবি সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার অন্য সহযোগীদের বিচার তখন সামরিক আদালতে হয়েছে। সেখানে কিছু পর্যবেক্ষণ আছে। তিনি দীর্ঘদিন ভিন্ন পরিচয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দেশে পলাতক ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে সেনা আইনে বিচার করার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছি। জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে তার বিচারটা নিশ্চিত করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন, একই রায়ে তার বিষয়ে কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সেটি জেনারেল কোর্ট মার্শাল দেখবে।’

তার বিরুদ্ধে সিভিল আইনে কোন মামলা করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সিভিল আইনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করাটা কতটা আইনসম্মত হবে, পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেখা যাবে। এখন নয়। একই ব্যক্তিকে একই অপরাধে দুই ভিন্ন আইনে দুইবার বিচার করা যায় না।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৪৫ বছর ধরে পলাতক মেজর (অব.) মোজাফফরকে (৭৭) ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করার কথা জানায় ডিবি। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ল্যান্ড মাইন বিস্ফোরণ ও সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়ার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ল্যান্ড মাইন খুজে বের করার জন্য আমরা কিছু যন্ত্রপাতি বিজিবিকে সরবরাহ করেছি। সেগুলো দিয়ে বিজিবি কাজ করছে, যাতে ল্যান্ড মাইন দুর্ঘটনা আর না হয়। আর কাঁটা তারের বেড়া বিষয়টি হল– বিভিন্ন কারণে মায়ানমারের সীমান্তটা আমাদের জন্য এখন খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়েছে। এটার সঙ্গে অন্য দেশের সীমান্তে কাঁটা তারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। আমরা মিয়ানমার সীমান্তে দেখেছি, আরাকান আর্মির সঙ্গে মিয়ানমার সরকারের সবসময় একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, যার মধ্যে আমরা সেন্ডুইস হচ্ছি অনেকটা। তার মধ্যে আরো কিছু বিদ্রোহী গ্রুপ আছে, আরসা, আরএসও সহ বিভিন্ন সংগঠন আছে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সময় সংঘর্ষ হয়, যার প্রভাবটা আমাদের এখানেও আসে। যার কারণে মাদক চোরাচালান, অস্থীতিশীল অবস্থা এবং অনেক সময় গোলাগুলির কারণে সীমান্তে আমাদের নাগরিকরাও মৃত্যুবরণ করেছে। সেজন্য আমাদের প্রস্তাব আছে সেসব সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া নির্মাণের জন্য।

তিনি বলেন, আমরা একজনকেও অবৈধভাবে এখানে পুশইন হতে দেইনি। বিজিবি ও জনগণের সহায়তায় আমরা সফলভাবে এখনো পর্যন্ত সেটা ঠেকাতে সক্ষম হয়েছি। কিছু কিছু অবৈধ অনুপ্রবেশ করেছিল, তার সংখ্যা বেশি নয়। সেটা আমরা অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কিন্তু কাউকে অবৈধভাবে পুশইন করতে দেই নাই। পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডার কারণে তারা হয়তো করতে চেয়েছে। কিন্তু আমরা কথা বলবো কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে। আমরা বলেছি যদি সেখানে এমন কোনো বাংলাদেশি নাগরিক থাকে সেটা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। আমরা সেগুলো যাচাই বাছাই করবো, যদি সত্যতা পাওয়া যায় আমরা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা ফেরত নিয়ে আসবো। এ ছাড়া অন্য কোনো উপায় আমরা কাউকে অনুমোদ করবো না।