Home Blog Page 611

হিরো আলমের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হিরো আলমের পেইজ ব্যবহার করে গালাগালির অভিযোগে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন রিয়া চৌধুরী নামের এক নায়িকা। শুক্রবার ডিএমপির বাড্ডা থানায় এই জিডি করেন তিনি। জিডি নম্বর ৬৪৪।

শনিবার রাতে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, একটি জিডি হয়েছে। তবে, এটা সাইবার সংক্রান্ত অভিযোগ হওয়ায় জিডিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাইবার ইউনিটে পাঠানো হবে।

জিডিতে রিয়া অভিযোগ করেন, গত ৭ জুন বিকেলে হিরো আলমের ফেসবুক পেইজ ‘হিরো আলম বগুড়া’ থেকে তার সহযোগী রিয়া মনি (২৭) নামের একটি মেয়ে অশ্লীল গালাগালি করেছে। এতে হিরো আলমের ইন্ধন আছে। যার কারণে আমি সামাজিকভাবে মানহানি ও আমার মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য উপাত্ত না থাকার কারণে আপাতত বিষয়টি সাধারাণ ডায়েরি করা হলো। ভবিষ্যতে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে প্রয়োজন সাপেক্ষে মামলার জন্য আবেদন করা হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হিরো আলম বলেন, আমার পেইজ থেকে একটি ভিডিও আপলোড হয়েছে। এতে যে বক্তব্য আছে তাতে রিয়া চৌধুরীর নাম বলা হয়নি। কিন্তু সে অভিযোগ করছে তাকে নাকি গালিগালাজ করা হয়েছে। আর পেইজ তো আমি চালাই না পেজের এডমিনরা চালায়। ‌সে প্রমাণ করুক যে আমি তাকে গালিগালাজ করেছি। আর এছাড়া জিডি কোনো ফ্যাক্টর নাকি।

জিডির বাদি রিয়া চৌধুরীর বাসা রাজধানীর পশ্চিম মেরুল বাড্ডায়। ‘টোকাই’ চলচ্চিত্রে হিরো আলমের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন রিয়া চৌধুরী।

পিকে এখন অতীত,বললেন পপ সম্রাজ্ঞী শাকিরা

অতীত ভুলে ভবিষ্যতের পথে হাঁটাই এখন শাকিরার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। স্প্যানিশ ফুটবল তারকা জেরার্ড পিকে এখন অতীত। শোনা যাচ্ছে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন ‘পপ সম্রাজ্ঞী’ শাকিরা। সম্প্রতি আলোচিত প্রেমিকের সাথে ক্যামেরাবন্দি হন তিনি। শাকিরার মতো তারকার সাথে সম্পর্কে জড়ানোর অর্থ তিনি আলাদা করে প্রচারের আলোয় চলে আসবেন। কিন্তু মজার বিষয় শাকিরার সাথে যাকে দেখা গেছে তিনিও কিন্তু নেহাত অখ্যাত কোনো ব্যক্তি নন। কে সেই সৌভাগ্যবান পুরুষ?

শাকিরার যে ছবি আপাতত নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে সেখানে কলম্বিয়ান পপ তারকার পাশে দেখা গেছে বিশ্বখ্যাত ফর্মুলা ওয়ান ব্যক্তিত্ব লুইস হ্যামিল্টনকে! রোববার মায়ামিতে ফর্মুলা ওয়ান রেসে অংশ নেন লুইস। রেসের শেষে শাকিরার সাথে ডিনার করতে দেখা যায় এই ব্রিটিশ ফর্মুলা ওয়ান তারকা ড্রাইভারকে। তবে শুধু একবার নয়, বেশ সাম্প্রতিক অতীতে বেশ কয়েকবার লুইসের সাথে শাকিরাকে দেখা গেছে। যেমন স্প্যনিশ গ্রাঁ প্রি-তে দ্বিতীয় স্থানে রেস শেষ করেন লুইস। ওই সাফল্য উদ্‌যাপনে বন্ধুদের তরফে বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়। সেখানেও লুইসের পাশে ছিলেন শাকিরা। গত মাসে মায়ামিতে লুইসের সঙ্গে প্রমোদতরীতে সময় কাটাতেও দেখা গেছে শাকিরাকে।

২০১১ সালে পিকে’র সাথে সম্পর্কে জড়ান শাকিরা। কিন্তু পরবর্তীকালে পিকের বিরুদ্ধে সম্পর্কে প্রতারণার অভিযোগ আনেন ‘ওয়াকা ওয়াকা’র গায়িকা। গত বছর জুন মাসে শাকিরা এবং পিকে তাদের সম্পর্কে ইতি টানেন। চলতি বছরেই ক্লারা চিয়া মার্টি নামের এক প্রচার সহায়কের সাথে সম্পর্কে জড়ান পিকে। এবার বছর ঘুরতেই শাকিরার জীবনে ফের প্রেমের আগমন? উত্তর জানতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় শিল্পীর অনুরাগীরা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

শাহিদ এবং করিনার প্রেম

শাহিদ এবং করিনার প্রেম একসময় বলিউডের অন্যতম আলোচিত বিষয় ছিল। সময়ের সাথে ওই সম্পর্কে ভাঙন ধরে। আলাদা হয়ে যায় যুগলের পথ।

শাহিদ কাপুর এবং কারিনা কাপুরের প্রেম পর্ব নিয়ে এখনো বলিপাড়ার অন্দরে কথা হয়। প্রায় পাঁচ বছর তারা সম্পর্কে ছিলেন। ওই সময় জুটি বেঁধে ‘জব উই মেট’, ‘ফিদা’, ‘চুপ চুপ কে’র মতো ছবিতে দর্শকের মন জয় করেছিলেন। পরে অবশ্য এই সম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। দু’জনেই জীবনসঙ্গিনী হিসেবে অন্য মানুষকে বেছে নেন। কিন্তু শাহিদ এবং কারিনার কিন্তু একে অপরের প্রতি সম্মান এখনো অটুট। দু’জনকে একসাথে বলিউডের কোনো অনুষ্ঠানে দেখা না গেলেও একে অপরের বিরুদ্ধে কখনো কোনো রকম কটু কথা তাদের বলতে শোনা যায়নি। ২০১৬ সালে দু’জনকে একসঙ্গে ‘উড়তা পাঞ্জব’ ছবিতে দেখেছিলেন দর্শক। এবার এক সাক্ষাৎকারে নিজের প্রাক্তনকে নিয়ে মন্তব্য করলেন শাহিদ।

একাধিক অভিনেতা প্রসঙ্গে শাহিদকে প্রশ্ন করা হয়। তার পর আসে করিনার নাম। অভিনেতাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে সুযোগ পেলে অভিনেত্রীর কোন গুণটি তিনি পেতে চাইবেন। উত্তরে শাহিদ জানান, যে প্রথম ছবি থেকেই কারিনার মধ্যে তিনি একজন সুপারস্টার হওয়ার লক্ষণ দেখেছিলেন। এই গুণটিই তিনি পেতে চাইবেন।

এখানেই শেষ নয়, শাহিদের দিকে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয় যে সাইফের সাথে কখনো দেখা হলে তিনি কী করবেন। উত্তরে শাহিদ জানান যে তিনি সাইফকে হ্যালো বলবেন। এই প্রসঙ্গে শাহিদ জানান, এক সময় একই জিমে সাইফের সাথে নিয়মিত শরীরচর্চা করতেন শাহিদ। সময়টা ছিল ২০১৭ সাল। ‘রেঙ্গুন’ ছবির শুটিং করছিলেন শাহিদ। মীরা রাজপুতের সাথে বিয়ের পর এখন ভরা সংসার শাহিদের। আগামী ৭ জুলাই দম্পতির অষ্টম বিবাহবার্ষিকী।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

ঘুমের মধ্যে পায়ের পেশিতে টান ধরতে পারে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতিতে

শারীরবৃত্তীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য প্রয়োজন বিভিন্ন খনিজের। গুরুত্বপূর্ণ খনিজের তালিকায় ক্যালশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, সোডিয়াম, পটাশিয়া বেশ জনপ্রিয় হলেও ম্যাগনেশিয়ামের ভূমিকা কিন্তু কম নয়। দেহে প্রতিনিয়ত হয়ে চলা বিভন্ন রকম রাসায়নিক প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে এই ম্যাগনেশিয়াম।

নামে খুব একটা পরিচিত না হলেও এ খনিজটির অভাব কিন্তু শরীর বিভিন্নভাবে বুঝিয়ে দেয়।

চিকিৎসকেরা বলছেন, অবসাদ, ক্লান্তির মতো সাধারণ কিছু বিষয়ের সাথেও ম্যাগনেশিয়ামের যোগ থাকতে পারে।

শরীরে বেশ কিছু লক্ষণ দেখলে হতে হবে সতর্ক।

১। পেশিতে টান
এই ধরনের সমস্যাকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে চায় না অনেকেই। সারাদিন পানি খাওয়া কম হলে পায়ের পেশিতে হঠাৎ করে টান লাগতে পারে।এ সমস্যা কিন্তু সাময়িক। চিকিৎসকেরা বলছেন, এমন পেশিতে টান লাগার সমস্যা যদি নিয়মিত হয়, তা ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে।

২। অবসাদ ও উদ্বেগ
তেমন কোনো বিষয় ছাড়াই মন খারাপ হওয়ার কোনো কারণই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তবু মন খারাপ হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই সমস্যার নেপথ্যেও রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম। স্নায়ুর কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে ম্যাগনেশিয়াম। বিভিন্ন সমীক্ষা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হার্ভাডের একটি রিপোর্টেও একই কথা বলা হয়েছে।

৩। অনিয়ন্ত্রিত হৃদস্পন্দন
ঘড়ির কাটার মতো হৃদ্স্পন্দেরও একটা ছন্দ আছে। সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষের হৃদ‌যন্ত্র ওই ছন্দ মেনেই চলে। তবে রক্তে ম্যাগনেশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে কারো হৃদস্পন্দনের হার বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় এ রোগ ‘অ্যারিদমিয়া’ নামে পরিচিত।

৪। ভঙ্গুর হাড়
অনেকেই মনে করে, হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি দু’টি উপাদান হল ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি। তবে বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা গেছে, এই দু’টি উপাদানের পাশাপাশি হাড়ের যত্নে ম্যাগনেশিয়াম যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম না থাকলে অস্টিয়োপোরোসিসের সমস্যাও বেড়ে যেতে পারে।

৫। ক্লান্তি
পরিশ্রম করলে ক্লান্ত লাগা স্বাভাবিক। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পর যদি ঘুম পায়, ক্লান্ত লাগে, তা সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খুব একটা স্বাভাবিক নয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই ক্লান্তির কারণও হতে পারে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

মিষ্টি খেলেই ডায়াবেটিস হয় না, নেপথ্যে ৫ অভ্যাসও

মিষ্টির প্রতি প্রবল আকর্ষণ ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ- এই ধারণা কিন্তু একেবারেই ঠিক নয়। অত্যধিক মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে, এটা ঠিক। কিন্তু মিষ্টি খাওয়া ছাড়াও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসেও ডায়াবেটিস বাসা বাঁধে শরীরে। তাই ঝুঁকি এড়িয়ে নিয়মে বদল আনা জরুরি। অভ্যাসও বদলে ফেলা প্রয়োজন।

সারাক্ষণ কাজ করা

কাজ নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকেন অনেকেই। ব্যস্ততা মানেই নানা রকম চিন্তা, উদ্বেগও থাকে মন জুড়ে। সেগুলোর প্রভাব পড়ে শরীরে। কাজের চাপে খাবার খাওয়ার কথাও মনে থাকে না অনেক সময়। দীর্ঘক্ষণ পেট খালি থাকলে শর্করার মাত্রাও বাড়তে থাকে। এই অভ্যাস দূর করা জরুরি।

পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান

পানির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান। ডায়াবেটিসও সেই তালিকায় রয়েছে। সারা দিন কাজের চাপে পানি খাওয়ার কথা মনে থাকে না অনেকেরই। সেজন্য কাজের টেবিলে চোখের সামনে পানির বোতলটি রাখুন। যাতে পানি খাওয়ার কথা ভুলে না যান। শরীরে আর্দ্রতার অভাবেই ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

কম ঘুমোনো

আধুনিক ব্যস্ততম জীবনে ঘুমের জন্য আলাদা করে সময় পাওয়া দুষ্কর। এই অপর্যাপ্ত ঘুম নানা রোগবালাই ডেকে আনে। শরীর সুস্থ রাখতে যে পরিমাণ ঘুমের প্রয়োজন, তার চেয়ে কম হলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি থেকে যায়। ঘুম যাতে পর্যাপ্ত হয়, সে দিকে অতি অবশ্যই খেয়াল রাখা জরুরি।

হরমোনজনিত সমস্যা

হরমোনের ভারসাম্য বজায় না থাকলে শরীর বিগড়োতে শুরু করে। হরমোনের এই ধারাবাহিক ভারসাম্যহীনতা ডায়াবিটিসের জন্ম দিতে পারে। তাই হরমোনজনিত কোনো সমস্যা থেকে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অসুখ ফেলে রাখলে সেই সূত্র ধরে নতুন কিছু সমস্যা দেখা দিতে শুরু করে।

শারীরিক পরীক্ষা না করানো

কয়েক মাস অন্তর শারীরিক পরীক্ষা করানো সুস্থ থাকার নিয়মগুলোর মধ্যে পড়ে। কিন্তু অনেকেই সময়ের অভাবে শরীরের প্রতি অবহেলা করে থাকেন। ফলে শরীরের অন্দরে কোনো সমস্যা হয়ে থাকলেও তা সঠিক সময়ে ধরা পড়ে না। আর কিছু না হোক, মাঝেমাঝে রক্ত পরীক্ষা করিয়ে ডায়াবেটিস হলো কি না, তা জেনে নেয়া জরুরি।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

১৪ বছরে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নিহত হয়েছে : বিএফইউজে সভাপতি

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি এম আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘এ সরকারের আমলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। স্বাধীনতা নেই সাংবাদিকেরও। গত ১৪ বছরে অর্ধশতাধিক সাংবাদিক নিহত হয়েছে। নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার সাংবাদিক। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।’

বুধবার সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর (জেইউজে) দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি দিগন্ত টেলিভিশনসহ বন্ধ সকল গণমাধ্যম খুলে দেয়ারও দাবি জানান।

প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সাধারণ সভায় সংগঠনের সভাপতি এম আইউবের সভাপতিত্বে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএফইউজের মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট গবেষক ও সাংবাদিক বেনজীন খান, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রাশিদুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য এইচ এম আলাউদ্দিন, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাধারণ সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান ও বিএফইউজের সাবেক সহকারী মহাসচিব নুর ইসলাম।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সম্পাদক আহসান কবীর, সাইফুল ইসলাম সজল, তৌহিদ জামান ও সাইফুর রহমান সাইফ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান। কোরআন তেলাওয়াত করেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সাইফ।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিজনেস সেশন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেশনে সাধারণ সম্পাদক আকরামুজ্জামান সেক্রেটারির রিপোর্ট ও কোষাধ্যক্ষ এম এ আর মশিউর রিপোর্ট পেশ করেন। সংগঠনের সভাপতি এম আইউবের সভাপতিত্বে সদস্যরা সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের রিপোর্টের ওপর আলোচনা করেন।

কোটিপতিরা দলে দলে ভারত ছাড়ছে

ধনী ভারতীয়দের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। বাড়ছে প্রথম বিশ্বে গিয়ে স্থায়ী হওয়ায় তৎপরতা।

হেনলি প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিপোর্ট ২০২৩ জানিয়েছে, গত এক বছরের হিসাব অনুযায়ী দেশ ছেড়েছে অন্তত সাড়ে ছয় হাজার ‘মিলিয়নেয়ার’ ভারতীয়। যাদের সম্পদের পরিমাণ অন্তত ১০ লাখ ডলার বা আট কোটি ভারতীয় রুপি।

গত ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা হেনলি এবং পার্টনার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, রাশিয়া, চীন ও ভারতের কোটিপতিদের মধ্যে দেশ ছাড়ার প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরে দ্রুত বেড়েছে।

সাম্প্রতিক রিপোর্ট অবশ্য জানাচ্ছে, ওই প্রবণতা গত এক বছরে সামান্য হলেও কমেছে। কারণ, তার আগের এক বছরে দেশ ছেড়েছিলেন সাড়ে সাত হাজার ভারতীয় কোটিপতি।

চলতি বছরে তা অন্তত হাজার কমতে চলেছে। ওই তালিকায় প্রথম স্থানে থাকা চীন থেকে গত এক বছরে সাড়ে ১৩ কোটিপতি ভিনদেশে পাড়ি দিতে চলছে।

সমীক্ষা সংস্থার রিপোর্ট বলছে, দেশত্যাগী ভারতীয় কোটিপতিদের মূল গন্তব্য দুবাই ও সিঙ্গাপুর। কর-সংক্রান্ত সুযোগ সুবিধার কারণেই তারা ওই দু’দেশে যাচ্ছে। তাছাড়া নতুন গন্তব্য হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অস্ট্রেলিয়াও।

নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের গবেষণা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলসের দাবি, ভারতীয় কোটিপতিদের দেশ ছাড়ার এ প্রবণতা তেমন উদ্বেগজনক নয়। কারণ, অনেক ধনী ভারতীয় দেশ ছাড়লেও তারই পাশাপাশি তৈরি হয়েছে অনেক নতুন কোটিপতি। ফলে শূন্যস্থান পূরণ হয়েছে দ্রুত।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

এক দফার আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি

এক দফার আন্দোলনে যাচ্ছে বিএনপি। ১০ দফা দাবিতে গত ছয় মাস নানা কর্মসূচি পালনের পর দলটির নীতিনির্ধারণী ফোরাম দ্রুত সময়ের মধ্যে এক দফার আন্দোলনে নামার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শরিক দলগুলোর সাথেও বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছেন। জানা গেছে, কোরবানির ঈদের আগে না হলে এর পররপরই ঢাকায় বিশাল সমাবেশ করে এক দফার ঘোষণা দেয়া হবে। এক দফায় থাকছে সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্নুর্বহাল ।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় এক দফার আন্দোলনে নামার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের ‘যৌথ রূপরেখা’ চূড়ান্তকরণ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগের কয়েকটি বৈঠকের মতো এ বৈঠকেও রূপরেখার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা হয়েছে। তবে বেশির ভাগ নীতিনির্ধারক বৈঠকে বলেছেন, বিএনপির সামনে সময় খুবই কম। তাই যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে সময় ক্ষেপণের সুযোগ নেই। এখন সময় এসেছে এক দফার আন্দোলনে যাওয়ার। আলোচনার মাধ্যমে ‘যৌথ রূপরেখা’ ইস্যুর সমাধান হলে ভালো, না হলে যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।

বৈঠকে এক দফার আন্দোলনে নামতে শীর্ষ নেতারা সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়েছেন। কেউ কেউ ঈদের আগেই এক দফার ঘোষণা দেয়ার কথা বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, ঈদের আগে এক দফা ঘোষণা করা হলে ঈদের ছুটির কারণে তা ছন্দ হারাতে পারে। এ কারণে তারা ঈদের পর ঢাকায় বড় শোডাউন দিয়ে এক দফার ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান এ প্রসঙ্গে বলেছেন, এখন দফা একটাই। সরকার পরিবর্তন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার। সব দলেরই এখন সেই দফায় সরাসরি চলে যাওয়া উচিত। বিএনপি দ্রুত এক দফার আন্দোলনে নামার বিষয়ে চিন্তা করছে বলে জানান তিনি।
জানা গেছে, গতকাল শুলশান কার্যালয়ে ১২ দলীয় জোটের সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি। এক দফার ঘোষণা নিয়ে জোট নেতাদের মতামত নিতেই এ বৈঠক ডাকা হয়। বৈঠকে জোট নেতারা ঈদের পর এক দফার ঘোষণা দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনের ভিত্তি হিসেবে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ দ্রুত চূড়ান্ত করে এক দফার আন্দোলনে যেতে চায় বিএনপি। তার আগে আলোচনার মাধ্যমে এ ইস্যুতে গণতন্ত্র মঞ্চের সাথে সৃষ্ট মতানৈক্য দূর করতে চান নীতিনির্ধারকরা। তবে ঘোষণাপত্র নিয়ে শেষপর্যন্ত ঐকমত্য না হলে দলটি তার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম থেকে এক দফার আন্দোলন শুরু করতে পারে। আর সে ক্ষেত্রে দাবি আদায়ে মিত্ররা যার যার অবস্থান থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।

বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চ সূত্রে জানা গেছে, মোটা দাগে তিনটি দফায় আটকে রয়েছে বিএনপির প্রণীত ৩১ দফা খসড়া যৌথ রূপরেখা। সেগুলো হলো : সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার উচ্চকক্ষের নির্বাচন পদ্ধতি ও এমপিদের ক্ষমতা এবং নির্বাচনকালীন সরকারের কার্যক্রম। এর আগে এটা নিয়ে একাধিক বৈঠক হলেও উভয় পক্ষ নিজ অবস্থানে অনড় থাকায় সঙ্কট কাটেনি। তবে দেশ ও জাতির স্বার্থে প্রয়োজনীয় ছাড় দিয়ে ন্যূনতম ঐকমত্যের জায়গাগুলো নির্দিষ্ট করে ‘যৌথ ঘোষণাপত্র’ চূড়ান্তকরণের ব্যাপারে একমত হন তারা। এ ব্যাপারে এখন আলোচনা চলছে।

‘যৌথ রূপরেখা’ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, যৌথ ঘোষণাপত্র চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে যেসব দফা নিয়ে গণতন্ত্র মঞ্চের আপত্তি রয়েছে, সেগুলো সমাধানের সম্ভাব্য উপায় লিখিত আকারে বিএনপিকে জানানোর কথা রয়েছে। সেটি জানালে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
জানা গেছে, এক দফার আন্দোলনকে সামনে রেখে কিছুদিন ধরে দলের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ নেতা, দলের সাবেক এমপি-মন্ত্রী এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে ধানের শীষের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের সাথে বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এর বাইরে দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সাথেও কয়েক দফা সমন্বয় বৈঠক হয়েছে। এসব বৈঠকে সবাইকে দ্রুত এক দফার আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ১০ দফার ভিত্তিতে গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। গত ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত যুগপৎভাবে গণমিছিল, গণ-অবস্থান, মিছিল, বিক্ষোভ সমাবেশ, গণসমাবেশ, মানববন্ধন, পদযাত্রার মতো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হয়। তবে ঈদের পর থেকে বিএনপি এককভাবে কর্মসূচি করছে। সর্বশেষ গত ১৭ মে থেকে ২৭ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী পদযাত্রা ও জনসমাবেশ করে দলটি। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদে গত ৮ জুন জেলায় জেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি দেয়। আগামীকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম ও খুলনা মহানগরে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিকে বিএনপির কর্মসূচির মধ্যেই ঢাকাসহ দেশের ছয়টি বড় শহরে ১১ দফার ভিত্তিতে তারুণ্যের সমাবেশ শুরু করেছে দলটির প্রধান তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল। আন্দোলনে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের সমাবেশের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই ঢাকায় সমাবেশের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে।
বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে, সরকারবিরোধী চলমান আন্দোলন সফল করতে হলে রাজধানী ঢাকায় বড় আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ কারণে তারা রাজধানীতে নিয়মিত কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, কোরবানির ঈদের পর আন্দোলন ক্রমেই জোরালো হবে। তখন ঢাকামুখী কর্মসূচির দিকে যাবে দলটি। সে ক্ষেত্রে ‘চলো চলো ঢাকা চলো’, ঢাকা ঘেরাও কিংবা টানা অবস্থানের মতো কর্মসূচি দেয়া হতে পারে। তবে হরতাল-অবরোধের মতো কোনো কর্মসূচি দেয়ার চিন্তা দলটির এখনও নেই বলে জানা গেছে।

আইসিবি ছেড়ে দিল ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের (আইবিবিএল) সকল শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বুধবার (১৪ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ইসলামী ব্যাংকের মোট ২ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ছিল সরকারি প্রতিষ্ঠান আইসিবির। এর পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছে আইসিবি। একই সাথে ব্যাংকটির পরিচালনা পরিষদে থাকা প্রতিনিধিকেও সরিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ইসলামী ব্যাংকের পরিষদে পরিচালক হিসেবে ছিলেন আইসিবির উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) আবু তাহের মো: আহমেদুর রহমান। গত ৩১ মে থেকে তিনি আর ব্যাংকটিতে পরিচালক হিসেবে নেই।

আইসিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ধারাবাহিক শেয়ার বিক্রি ও ক্রয় করে থাকে আইসিবি। এরই অংশ হিসেবে ব্যাংকটির শেয়ার ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইসিবি তাদের পুরো শেয়ার ছেড়ে দিয়েছে। গত মে মাসে আইসিবি ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৬৮ হাজার ৯৫৬টি শেয়ার বিক্রি করে দেয়।

রুশ হামলায় আবার লণ্ডভণ্ড বন্দর শহর ওডেসা

রাশিয়ার সমুদ্র থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনের বন্দর শহর ওডেসাতে আঘাত হেনেছে। নিহত হয়েছে তিনজন এবং আহতের সংখ্যা ১৩। হতাহতরা একটা দোকানের গুদামঘরের ভেতর ছিল, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আগুন ধরে যায়।

সেখান থেকে মানুষজনকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে এবং উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তুপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের কাজ করছে।

রুশ মিসাইল ওডেসা শহরের কেন্দ্রে একটি ব্যবসা কেন্দ্র, একটি কলেজ, কিছু দোকানপাট, রেস্তোরাঁ ও কিছু আবাসিক ভবনে আঘাত হেনেছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে। ওই হামলায় আহত হয়েছে ছয়জন।

আরেকটি পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পূর্ব দোনেৎস্ক এলাকার ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত অংশে তিন বেসামরিকের মৃত্যু হয়েছে।

ইউক্রেন বলছে রাতভর ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১০টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে, তবে বেশিরভাগই গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

ওডেসা সামরিক প্রশাসনের মুখপাত্র সেরহি ব্রাটচুক টেলিগ্রাম মেসেজিং অ্যাপে একটি ভিডিও এবং কিছু ছবি পোস্ট করেছেন। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে কয়েকটি বহুতল ভবনের দেয়াল ধসে গুঁড়িয়ে গেছে এবং জানলার কাঁচ উড়ে গেছে। একটি গুদামে লাগা আগুন আয়ত্তে আনতে হিমশিম খাচ্ছে দমকলকর্মীরা।

যেভাবে আক্রমণ হলো
দক্ষিণাঞ্চলীয় অপারেশন কমান্ডের বরাত দিয়ে কিয়েভে একটি টিভির খবরে বলা হয়েছে, কৃষ্ণ সাগরে একটি জাহাজ থেকে ওডেসা লক্ষ্য করে চারটি ক্যালিবার ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।

ওয়ান প্লাস ওয়ান নামে ওই টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র গুলি করে ভূপাতিত করেছে। একটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি দোকানের গুদামের ওপর গিয়ে পড়লে সেখানে আগুন ধরে যায়। তারা জানায় গুদামের তিন কর্মী নিহত ও সাতজন আহত হয়েছে।

সেনা কমান্ড থেকে জানানো হয়েছে, আরো মানুষ গুদামের ধ্বংসস্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকতে পারে।

সেনা কমান্ড থেকে আরো বলা হয়েছে, রাতের বেলা ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে শহর কেন্দ্রে একটি ব্যবসা কেন্দ্র, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, একটি আবাসিক ভবন, কয়েকটি কাফে ও রেস্তোরাঁ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ওডেসা বন্দর কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের শস্য রফতানির জন্য ওই বন্দর খুবই গুরুত্বপূর্ণ পানিপথ। যুদ্ধ চলাকালীন ওই বন্দরের ওপর একাধিকবার হামলা হয়েছে।

ওডেসার ওপর ও হামলা হলো এমন সময় যখন ইউক্রেনও এলাকা পুনর্দখলের জন্য পাল্টা লড়াই চালাচ্ছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা দাবি করছে, গত তিন দিনে তারা এক বর্গ মাইল এলাকা পুনর্দখল করেছে।

রুশ প্রতিক্রিয়া
রাশিয়া ওডেসার ওপর তাদের সর্বসাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।

তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন মঙ্গলবার দাবি করেছেন, ইউক্রেনের পাল্টা হামলা ব্যর্থ হয়েছে এবং ইউক্রেন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

যুদ্ধ-বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে এক বৈঠকে পুতিন বলেছেন, কিয়েভের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ রাশিয়ার তুলনায় ১০ গুণ বেশি।

তবে ইউক্রেনের পাল্টা হামলা ব্যর্থ হয়েছে এমন কথা মানতে রাজি নন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

মঙ্গলবার রাতে এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেছেন, ‘আমাদের সৈন্যরা আগাচ্ছে।’

একই মন্তব্য করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ ভ্যালেরি জালুঝনিও। টেলিগ্রাম তিনি লিখেছেন,. ‘কিছু সাফল্য এসেছে, আমরা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি, অগ্রগতি হচ্ছে।’

দু’পক্ষই প্রতিদিন শত্রু পক্ষের ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান দিচ্ছে, কিন্তু নিরপেক্ষভাবে ওই সব তথ্য যাচাই করা অসম্ভব।

পুতিন যুদ্ধ সংবাদদাতাদের সাথে তার বৈঠকে যেসব বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে মূলত রাশিয়ার জয়গান থাকলেও তিনি স্বীকার করেছেন যে ইউক্রেন সম্প্রতি তাদের সীমান্তের ভেতর থেকে রাশিয়ার ওপর যে হামলা চালিয়েছে তা রাশিয়ার আগে থেকে ধরতে পারা উচিত ছিল।

তিনি বলেন, ইউক্রেনের ভূখণ্ডে এমন একটা ব্যূহ গড়ে তোলার কথা তিনি বিবেচনা করছেন, যাতে দূরত্ব থেকে ইউক্রেনের পক্ষে রাশিয়ায় ঢোকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।

তিনি আরো বলেন, গত বছর অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পরেও রাশিয়ার হাতে যথেষ্ট সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানার সামরিক সরঞ্জাম, যোগাযোগের যন্ত্রপাতি, বিমান এবং ড্রোন নেই।

বিবিসির ইউরোপ-বিষয়ক ডিজিটাল সম্পাদক পল কারবি বলছেন, এই যুদ্ধের শুরু থেকেই ওডেসা রাশিয়ানদের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু এবং মাঝেমাঝেই ওডেসার ওপর রুশরা ধ্বংসাত্মক ও প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে।

তিনি বলছেন, সর্বসাম্প্রতিক এ বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা স্পষ্টতই চালানো হয়েছে আরো পূর্বদিকে ইউক্রেনের সামরিক হামলার জবাবে। রাশিয়া প্রমাণ করতে চাইছে যে ইউক্রেনের বড় বড় শহরগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা তাদের এখনো রয়েছে।

এর আগে পর্যন্ত রাশিয়া শুধু ওডেসা বন্দরকেই টার্গেট করেছে।

কিন্তু মঙ্গলবার রাতে তারা আবাসিক এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে। তবে ঐতিহাসিক শহরটির একেবারে কেন্দ্রস্থল বড়ধরনের ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে গেছে বলে পল কারবি জানাচ্ছেন।

গত বছর সেখানে দুটি শিল্পকলা যাদুঘরে আঘাত হানা হয়েছে। কিন্তু শহরের অপেরা ও ব্যালে থিয়েটার হল অক্ষত রয়েছে এবং সেখানে পুরো গ্রীষ্ম মৌসুমে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান চলছে। ওই শহরে বাস করেন মিশ্র জাতি বর্ণের মানুষ।
সূত্র : বিবিসি