Home Blog Page 612

যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই : মেনন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের ওয়াকার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন।

বুধবার (১৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আলোচনায় তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যারা বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন নেই। বেশ কিছু সময় আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে তার বাগে রাখতে স্যাংশন দিয়েছে। এখন নির্বাচনকে উপলক্ষ করে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে। এটা কেবল, দূরভিসন্ধিমূলকই নয়, তাদের ‘রেজিম চেঞ্জে’র কৌশলের অংশ। তারা সেন্টমার্টিন চায়, কোয়াডে বাংলাদেশকে চায়। আর তার জন্য শেখ হাসিনাকে সরিয়ে দেয়া প্রয়োজন। এটা তাদের পুরান নীতির ধারাবাহিকতা।

মেনন বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে ছিনিয়ে নিতে আমেরিকা বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌ-বহর পাঠিয়েছিল। তীব্র খাদ্য সংকটের সময় বঙ্গবন্ধুর সরকারকে বিব্রত করতে মধ্যসমুদ্র থেকে গমের জাহাজ ফিরিয়ে নিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর হত্যার পেছনে তাদের কালো হাত ছিল।

সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, এখন আবার বর্তমান সরকারকে হটানোর লক্ষ্যে তারা সবকিছু করছে। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন করে আমি বলতে চাই বাইডেন সাহেব ট্রাম্পকে সামলান। আমাদের ঘর আমরা সামলাবো। নির্বাচন হবে। শেখ হাসিনার সরকারকে রেখেই হবে। বিএনপির উচিত হবে নির্বাচনে অংশ নেয়া।

তিনি বলেন, তারেক রহমান নির্বাচন না করে ২০২৯-এর জন্য অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু বিএনপি এর মধ্যে অস্তিত্বহীন হয়ে পড়বে। তার সেই স্বপ্নও পূরণ হবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে, এগিয়ে যাবে। উন্নত সমৃদ্ধ অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ পৃথিবীতে মাথা উচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে।

রাশেদ খান মেনন আরো বলেন, জামাতের রাজনীতি নিষিদ্ধ করার জন্য আইনমন্ত্রী মাঝে মাঝেই সরকারের উদ্যোগের কথা বলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই আমরা দেখলাম যে, সেই জামাতকে পুলিশ বেশ সমাদর করে অন্যের সভা সরিয়ে নিতে বাধ্য করে, জামাতকে ১০ বছর পর প্রকাশ্য সভা করার অনুমতি দিয়েছে। এটা কিসের আলামত আমরা জানি না। এটা স্পষ্ট করে বলা প্রয়োজন জামাত যুদ্ধাপরাধীর দল, ঘাতক দল। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে একথা বলেছে। এর জন্য নতুন করে আদালতের রায়ের প্রয়োজন নাই। জামাত কিন্তু তার অবস্থান থেকে এক চুলও সরে নাই। ওই সমাবেশ করে নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছে। বিএনপির সাবেক নেতা নাজমুল হুদা বলেছিলেন বিএনপি-জামাত একই বৃন্তের দু’টি ফুল। যে কথাটা আমি সবসময় বলি, এখনো বলছি সাপের মুখে চুমু খেলে সাপ ছোবলই মারে। জামাত-হেফাজতের সাথে তোষামোদ-সমঝোতা সেই ফলই দেবে। আমেরিকার ক্ষেত্রে একই কথা বলা যায়।

ভিসা নীতিতে সরকারের হাঁটু কাঁপছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের কারণে আজকে ভিসা নীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ তারা বলছে তারা নাকি ভয় পাই না। এমন ভয় পেয়েছে যে তাদের হাঁটু কাঁপতে শুরু করেছে। কারণ তাদের তো সবাই বিদেশে, টাকা পাচার করেছে বিদেশে। ভিসা নীতি এমন হয়েছে, এবার যদি তুমি আবার ভোট কারচুপি করতে যাও, এবার যদি দিনের ভোট রাতে কর, তাহলে এবার রেহাই নাই।

বুধবার (১৪ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজির দেউরি মোড়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত তারুণ্যের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফখরুল ইসলাম বলেন, কী করেছে দেশটাকে দেখেন, কোথায় নিয়ে ফেলেছে! লজ্জায় আমরা মুখ দেখাতে পারি না, কি কারণে স্যাংশন এসেছে। আমেরিকা থেকে স্যাংশন, কেন? র‌্যাবকে কেন স্যাংশন দেয়া হয়েছে? র‌্যাবকে কারা আমাদের ভাইদের গুম করতে, খুন করতে বলেছে? এ সরকার এসব করতে বলেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লড়াই করছে না, মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করছে। বেকারদের চাকরির অধিকারের জন্য লড়াই করছে। মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারের জন্য লড়াই করছে।

জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিভাগীয় তারুণ্য সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, গোলাম আকবর খোন্দকার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, সদস্য সচিব আবুল হাশেম বক্কর, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী, যুবদলের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম মিল্টন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শাহেদ, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এইচ এম রাশেদ খান ও সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন বুলু, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মো: সাইফুল আলম, সদস্য সচিব শরিফুল ইসলাম তুহিনসহ চট্টগ্রাম বিভাগ, জেলা ও মহানগর প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মির্জা ফখরুল বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী এখনো জেলে ররেছে উল্লেখ করে বলেন, আসলাম চৌধুরী এখনো জেলে বন্দী। তারা অনেককে গুম করেছে, খুন করেছে। সারাদেশে ৬০০-র বেশি দলীয় লোককে গুম করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আওয়ামী লীগ দেশকে এমন পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছেন কোথাও কোনো স্বস্তি নেই, শান্তি নেই। এদেশের মানুষের গলা টিপে ধরেছে এ সরকার। এই দেশ কি আমরা চেয়েছিলাম? এই দেশ কি জিয়াউর রহমান চেয়েছিল? আমরা চেয়েছিলাম একটা গণতান্ত্রিক দেশ, যেখানে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সমানে বলে বেড়ান এ দেশে নাকি গণতন্ত্র আছে, এ দেশে নাকি সবচেয়ে ভাল ভোট হয়, এ দেশে নাকি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার আছে। আমরা খুব পরিস্কার বলতে চাই, অনেক হয়েছে ১৪ বছর আপনি আমাদের বহু কিছু কেড়ে নিয়েছেন, আমাদের ন্যায় বিচার পাওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। আমরা কোর্টে যেতে পারি না, কোর্টে গেলে আমদেরকে সরাসরি জেলে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। কোন বিচার হয় না, মিথ্যা মামলা দিয়ে, গায়েবি মামলা দিয়ে আমাদেরকে আটক করে রাখা হয়। এর পরে আমরা হাইকোর্টে গিয়ে আগাম জামিন নিয়ে লোয়ার কোর্টে গেলে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই শেষ না কারাগার থেকে যখন হাইকোর্টে জামিন নিতে যাই, তখন আরেকটা নতুন মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার কত ভীরু, কাপুরুষ, খুব লম্বা লম্বা কথা বলে। বলে ক্ষমতায় আমরা যাব, ক্ষমতায় কিভাবে যাবা? ওই পুলিশ, ওই বিডিআর, ওই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে তোমরা ক্ষমতায় যাবা!

ফখরুল বলেন, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আমরা জনগণকে ক্ষমতায় নিতে চাই। আমরা ভোটের অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।

ফখরুল বলেন, এ সরকারকে আর সময় দেয়া যাবে না। আজকে আমার দেশের সমস্ত সম্পদ লুট করে তারা বিদেশে পাচার করেছে। বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কেন টাকা তো নিয়েছেন সব? টাকা একবার না, তিনবার, চারবার বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই না অতিরিক্তচার্জ নিচ্ছেন। বিদ্যুতের কার্ডে ১ হাজার টাকা ঢুকালে ৩০০ টাকা নাই। এই টাকা কোথায় গেল? শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগের ঘরে গেল। এই জনগণের টাকা দিয়ে তুমি উন্নয়ন, মেগা প্রজেক্ট করছ।

চট্টগ্রামের টানেলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এটার দরকার আছে সত্য, কিন্তু আগে তো মানুষের বাঁচার দরকার আছে। আগে ছেলে মেয়েদের লেখাপড়ার বিষয় নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার ব্যাপার আছে, আগে তো আমার চাকরি পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কলকারখানা কোথায়? নতুন কলকারখানা তো হচ্ছে না, উপরন্তু যা ছিল তা থেকে কমে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামের বেশিরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী, আমদানি করেন। এখন ব্যবসায়ী ভাইয়েরা কি আমদানি করতে পারছেন? কেন পারছেন না, ডলার নাই। ডলার নাই কেন? সব তো পাচার করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ সরকার শুধু ভোট চুরি নয়, জনগণের সম্পদ চুরি করেছে। আমার বাংলাদেশ ব্যাংক চুরি করে নিয়ে গেছে। আমার ব্যাংকগুলোকে চুরি করে খালি করে দিয়েছে। এ রকম লুটেরা, এ রকম চোর যদি সরকারে আর একদিনও থাকে দেশের ক্ষতি হয়ে যাবে। এটা আমার একার কথা নয়, আজকে বিদেশী পত্রিকায়ও একই কথা বের হচ্ছে। ভারতীয় একটি পত্রিকা গতকাল লিখেছে যে বাংলাদেশকে বলা হতো উন্নয়নের রোল মডেল, সেই বাংলাদেশ নাকি এখন মরিচিকা দেখছে। কারণ উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে লুটপাট করা হয়েছে, উন্নয়নের নামে বাংলাদেশকে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আমদের সমস্ত অধিকারকে কেড়ে নেয়া হয়েছে। আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। আজকে আমরা আদালতে গিয়ে যে ন্যায় বিচার পাব, সেই ন্যায় বিচার থেকে আমরা বঞ্চিত হচ্ছি। পার্লামেন্টকে শেষ করে দিয়েছে।

সমাবেশে আগত তরুণদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, এই দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব আপনাদের। আমাদের বয়স হয়ে গেছে। আমরা যখন যুবক ছিলাম, আমরা এই দেশটাকে স্বাধীন করেছি। আমরা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়ে তাকে আটক করে রাখা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত অসুস্থ। তাকে কারাগারে অনেকদিন আটক করে রাখা হয়েছিল। আমরা বারবার বলেছি তাকে মুক্তি দিন। আমরা জানি না সেখানে তাকে স্লো পয়জনিং করা হয়েছে কিনা? কারণ তিনি এখন যে অসুস্থ হয়েছেন তা হবার কথা নয়। তিনি এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়াই করছেন। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসনে পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, যেদেশে ৪০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয়, সেদেশে গণতন্ত্র থাকতে পারে? তরুণ নেতৃত্ব তারেক রহমানের নেতৃত্বে এই বাংলাদেশকে আবার স্বাধীন করব, আবার মুক্ত করব। আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করব।

তিনি বলেন, তরুণ ভাইয়েরা তোমাদের দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করো। তোমাদের ভোটের অধিকারকে রক্ষা করো, তোমাদের মাকে মুক্ত করো। এ জন্য সকলকে ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে দাড়াতে হবে এবং এই দেশের মানুষকে মুক্ত করতে হবে। এটাই হওয়া উচিত আজকের তারুণ্য সমাবেশের একমাত্র শপথ।

তিনি বলেন, এই মাটি থেকে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। ইতোমধ্যে এই লুটেরা সরকার বিরোধী আন্দোলনে আমাদের ১৭ জন জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্তের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমাদের দেশকে মুক্ত করতে হবে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।

তিনি বলেন, এদেরকে নির্বাচনে বিশ্বাস করা যায়? এদেরকে বিশ্বাস করা যায় না। সেজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, সমস্ত মানুষকে শামিল করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এক করতে হবে। সবাইকে এক করে দেশকে রক্ষা করার জন্য, মানুষকে রক্ষ করার জন্য।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন মানুষ বাজারে যেতে পারে না, বাজারে আগুন। চালের দাম বেড়ে গেছে, তেলের দাম বেড়েছে, সবজির দাম বেড়ে গেছে। লবন, চিনি, ডিম, মুরগীসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে। মানুষ ভাল নেই। তারা তো ভাল আছে। তারা বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে সেই টাকা বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে। তারা গুম করেছে, খুন করেছে, সমস্ত গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। মামলা হামলা চালিয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃত্বকে প্রতিদিন মামলা দিয়ে হয়রানি করছে।

সমাবেশে তিনি প্রশ্ন রাখেন এমন কেউ কি আছেন যার বিরুদ্ধে মামলা নেই? তিনি নিজের বিরুদ্ধে ৯৬টি মামলা থাকার কথাও জানান।

ভারতের সাথে বিরোধ মেটাতে বাংলাদেশ পর্যন্ত করিডোরের কথা ভাবছে নেপাল

নেপাল থেকে সরাসরি বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত একটি করিডোরের জন্য ভারত যদি নেপালকে জমি হস্তান্তর করে, তাহলে নেপালও ভারতকে ৩১০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা হস্তান্তর করতে পারে। নেপাল-ভারত সীমান্ত বিবাদ মেটাতে এমনই একটা বিকল্পের কথা সামনে এসেছে।

এখন ভারতের ভূখণ্ড দিয়েই নেপাল আর বাংলাদেশের মধ্যে পণ্য চলাচল করে। তবে নেপাল চাইছে, ‘চিকেন নেক’ বলে পরিচিত ভারতের ওই এলাকা যদি নেপালকে হস্তান্তর করে দেয়া হয়, তাহলে তারাও পশ্চিম নেপালের যেসব এলাকা নিয়ে তাদের সাথে ভারতের বিরোধ আছে, ওই অঞ্চল ভারতকে দিয়ে দিতে পারে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ডার সাম্প্রতিক ভারত সফরের পরে দু’দেশের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে এমনই একটা বিকল্পের কথা ভাবছেন নেপালি বিশেষজ্ঞরা।

তবে ভারতীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পশ্চিম নেপালের কালাপানি, লিপুলেখ নদী অঞ্চল ও পশ্চিমবঙ্গের চিকেন নেক করিডোর দুটিই ভারতের কাছে সামরিকভাবে অতি গুরুত্বপূর্ণ, তাই ভারত সম্ভবত এমন বিকল্পে রাজি হবে না।

প্রচন্ডার ভারত সফরের পরেই বিকল্পের খোঁজ
সম্প্রতি ভারত সফরে আসা নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দহল প্রচন্ডা বলেছেন, তার দেশ শুরু থেকেই বাংলাদেশে সরাসরি একটি রুট চায়।

নেপালে ফিরে যাওয়ার পর প্রচন্ডা বলেছিলেন, তিনি নেপালি সীমান্ত বিশেষজ্ঞদের সাথে বেশ কয়েকটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু তার পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি।

নেপালের সীমান্ত বিশেষজ্ঞ বুধিনারায়ণ শ্রেষ্ঠা বলেন, কালাপানি এলাকা নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ গত ছয় দশক ধরে চলে আসছে।

তার কথায়, ‘যে মানচিত্র নিয়ে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ, তার সমাধানের একটা উপায় হতে পারে আন্তর্জাতিক রীতি মেনে এলাকা বিনিময় করা। লিপুলেখকে সীমান্ত নদী হিসেবে বিবেচনা করে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের ৩১০ বর্গকিলোমিটার জমি ভারতের জন্য ছেড়ে দেয়া যেতে পারে। আবার ভারতের কাছ থেকে পূর্বদিকের ৩১০ বর্গকিলোমিটার জমি নিয়ে একটি করিডোর করা যেতে পারে, যাতে পূর্ব নেপালের কাকরভিট্টা সীমান্ত থেকে সরাসরি বাংলাদেশের বাংলাবান্ধা সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছনো যায়।’

সীমান্ত বিরোধে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিভঙ্গি
ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি একটি গুরুতর সমস্যা এবং ভারত বিশ্বাস করে যে তারা এমন কোনো পদক্ষেপ নিবে না যেন চীনের সাথে ভারতের বর্তমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের নিজেদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়।

অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল এস বি আস্থানা বলেছেন, ‘এই সমস্যাটি সমাধানের জন্য সঠিক সময় নয় এটা। আমরা অন্য অনেক সমস্যার সাথে লড়াই করছি।’

ভারত ও চীনা সেনারা বেশ কিছুদিন ধরে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর মুখোমুখি অবস্থান করছে।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী প্রচন্ডা মনে করেন, ভূমি বিনিময়ের মাধ্যমে ভারতের সাথে নেপালের সীমান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

তবে ভারতের সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তাদের মনে হয় না যে এখনই কোনো বিকল্প নিয়ে আদৌ আলোচনা করা হচ্ছে।

তা সত্ত্বেও, তাদের মতে, প্রচন্ডা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠকে দেয়া প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে যদি দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ মেটানোর কোনো ব্যবস্থাপনা কাজ শুরু করে, তা হবে বিরাট সাফল্য।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রচন্ডার সাথে দেখা করার পর বলেছিলেন যে ওই বৈঠক ভারত ও নেপালের মধ্যে সম্পর্ককে হিমালয়ের উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং দু’দেশের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ তাদের জনগণের অনুভূতির ভিত্তিতে সমাধান করা হবে।

ভারত, নেপাল ও কালাপানি বিরোধ
নেপালি সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় প্রচন্ডা বলেছিলেন, ভারত ও নেপালের মধ্যে সীমান্ত বিরোধ সমাধানের জন্য অন্য বিকল্প পথ খোঁজা যেতে পারে।

কালাপানি এলাকার মালিকানা নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

নেপাল ও ভারতের মধ্যে ১৮১৬ সালে সুগৌলি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আওতায় মহাকালী নদীকে ভারত ও নেপালের সীমান্ত হিসেবে বিবেচনা করা হতো। দীর্ঘদিন ধরে এর উৎস নিয়ে দু’দেশের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে।

নেপালের কর্মকর্তারা বলছেন, ভারতের স্বাধীনতার পর বেশ কিছু বছর কালাপানি এলাকা নেপালের অধীনে ছিল। স্থানীয় জনগণ নেপাল সরকারকে রাজস্ব দিত, তাদের কাছে এর প্রমাণও রয়েছে।

ভারতীয় বাহিনীকে সেখানে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেয়া হয়েছিল।

২০১৯ সালে ভারত শাসিত কাশ্মিরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করার সময়ে যে নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে ভারত, সেখানে কালাপানিকে ভারতীয় ভূখণ্ডে দেখানো হয়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় নেপাল তার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রে কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরাকে তাদের নিজেদের অঞ্চল হিসেবে দেখিয়েছিল।

ভারতের জন্য সামরিক কৌশলগত এলাকা
ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল এস বি আস্থানার মতে, ভারতের কাছে ওই অঞ্চলটির কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। এটি চীনের সীমান্তের কাছে অবস্থিত লিপুলেখ গিরিপথ আর কৈলাস মানস সরোবরের সংযোগকারী রাস্তার সাথে যোগাযোগের পথ।

তিনি বলেন, ‘ভারত ও নেপাল উভয়েরই নিজস্ব যুক্তি রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, নেপালের উদ্বেগগুলো নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও সেগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। ভারতকেও অনেক ভাবতে হবে। কারণ প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপারেই চীনা সেনারা অবস্থান করছে।’

ভারতীয় সেনাবাহিনীর আরেক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল অশোক মেহতা, যিনি নেপাল-ভারত সম্পর্কের ওপর নজর রাখেন, তিনি মনে করেন, উভয়পক্ষই সীমান্ত বিরোধ সমাধান করতে আলোচনা চালানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা খুবই ইতিবাচক। কিন্তু সম্ভাব্য দর কষাকষিটা সহজ হবে না। এ নিয়ে যথেষ্ট জটিলতা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নেপাল একতরফাভাবে বিতর্কিত এলাকাগুলোকে মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে সংবিধান পরিবর্তন করেছে। কিন্তু ওই জমি ভারতের দখলে রয়েছে। এখন এটি একটি নিরপেক্ষ এলাকার বদলে অনেকটা যেন কাশ্মিরের মতো পরিস্থিতি তৈরি করে দিয়েছে। তাই কোথা থেকে আলোচনাটা শুরু হবে, তা বড় প্রশ্ন।’

চিকেন নেক করিডোরের ভূমিকা
২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যখন প্রথমবারের মতো কাঠমন্ডু সফর করেছিলেন, তখনই বলা হয়েছিল যে কালাপানি ও লাদাখের আলছি এলাকা নিয়ে যেসব বিরোধ আছে, তা নিয়ে পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় সমাধান বের করা হবে।

কিন্তু ওই উদ্দেশে একটি বৈঠকও হয়নি।

নেপালের কয়েক কর্মকর্তা বলছেন, মানচিত্র নিয়ে বিরোধ অব্যাহত থাকলেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার প্রযুক্তিগত কাজও খুবই ধীরগতিতে চলছে।

যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে প্রচন্ডা ও নরেন্দ্র মোদি দুজনেই কিছুটা আলোচনা করেন। কিন্তু ভারতের দেয়া ২৪ দফা প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এর কোনো উল্লেখ ছিল না।

আবার জমি হস্তান্তর নিয়ে নেপালে যে বিতর্ক চলছে, তা নিয়েও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মতামত দেয়া হয়নি।

আস্থানা বলেন, বাংলাদেশের সাথে নেপালের সংযোগকারী সড়কটি শিলিগুড়ি করিডোরের কাছাকাছি এবং এটি ভারতের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে ভারত কখনই এ নিয়ে আপস করবে না।

ওই করিডোরকে চিকেন নেকও বলা হয়। ওই এলাকা মাত্র ১৭ কিলোমিটার চওড়া। যা পশ্চিমবঙ্গকে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলোর সাথে যুক্ত করেছে এবং নেপাল, বাংলাদেশ ও ভুটান- তিনটি দেশের সীমান্তেরই খুব কাছে। আবার উত্তর-পূর্ব ভারতের সাথে বাকি দেশের সংযোগ রক্ষা করে ওই অংশটিই।

তাই একে উত্তর-পূর্বের জীবন-রেখাও বলা হয়।

ওই এলাকার রেলওয়ে নেটওয়ার্ক ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভারত-চীন সীমান্তের কাছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা পর্যন্ত পৌঁছাতে সাহায্য করে।

জেনারেল আস্থানা বলেছেন, কোনো সন্দেহ নেই যে শিলিগুড়ি করিডোর ভারতের জন্য ব্যাপক গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটা নিয়ে ভারত আপস করবে না।

ভারত, নেপাল ও বাংলাদেশের সমীকরণ
আস্থানা বলেন, ‘আমরা শুধু ভারতীয় ভূখণ্ডে চীনা সেনাদের থামাইনি। আমরা ভুটানের ভূখণ্ডে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বুঝতেই পারছেন, ভারত ওই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানকে কতটা গুরুত্বের সাথে দেখে।’

তিনি বলেন, ওই করিডোর নিয়ে যেকোনো ধরনের চুক্তি হলে তা হবে ভারতকে দু’ভাগে ভাগ করার মতো। কারণ উত্তর-পূর্বের সাথে ভারতের যোগাযোগের এটাই একমাত্র পথ।

কাকড়ভিট্টা-ফুলবাড়ি-বাংলাদেশ ট্রানজিট রুট সম্পর্কে নেপাল ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৭ সালে।

এরপর বাংলাদেশ নেপালকে মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারের অনুমতি দেয়।

জেনারেল মেহতা বলেছেন, শিলিগুড়ি করিডোরের কৌশলগত গুরুত্ব সম্পর্কে ভারতের সবাই জানে

তিনি আরো বলছিলেন, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন যে তিনি সীমান্ত ইস্যুতে কোনো চাপের মুখে পড়েননি। তিনি ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তারা ভারতের সাথে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

তিনি জানান, ‘আমার মনে হয় যে পররাষ্ট্র সচিবদের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। অন্তত মানুষ বুঝবে যে আলাপ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে আমার মনে হয় না যে আলোচনাটা খুব সহজ হবে।’
সূত্র : বিবিসি

সরকার কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না: কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকার কোনো চাপের কাছে মাথা নত করেনি, এখনো করবে না।

বুধবার (১৪ জুন) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ যৌক্তিক বলে বিবেচিত হয় না। এছাড়া খালেদা জিয়ার বিষয়টি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র প্রসঙ্গে মন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ৬ জানুয়ারি সেখানে গণতন্ত্রের নামে ৬ জানুয়ারি কী হলো? ৬ জন প্রাণ হারালেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনো নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেননি।

বাংলাদেশে বিদ্যমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় কিছু ত্রুটির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা করছেন, আর নির্বাচন কমিশন স্বাধীন।

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির কতটা জনপ্রিয়তা আছে তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচনে অংশ নিতে হবে।

তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে এবং তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাদ দিয়েছে, বিএনপির এই অভিযোগ দু’টি মিথ্যা।

জামায়াতে ইসলামীর বিষয়ে সরকারের অবস্থান সম্পর্কে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইসি এই দলের নিবন্ধন বাতিল করলেও বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন।

জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের চিঠির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা কি জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কমিশনের নির্দেশ ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী কাজ করি?

সড়ক ও জনপথ বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপরাধ ও অপারেশন) আতিকুল ইসলাম এবং বিআরটিএ চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।

সূত্র : ইউএনবি

মার্কিন কংগ্রেসম্যান ও ইইউ এমপিদের চিঠি সরকারের জন্য কতটা উদ্বেগের?

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন ‘নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু এবং পক্ষপাতহীন অনুষ্ঠানের জন্য ভূমিকা রাখতে’ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্টের কাছে সোমবার চিঠি পাঠিয়েছেন ছয়জন এমইপি।

একই দিন আরেক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যেন জাতিসঙ্ঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের মানবাধিকার রেকর্ড যাচাই-বাছাই করা হয়।

এ মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্যও এরকম দাবি তুলে প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন। সেখানে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধে’ এবং ‘জনগণকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ করে দিতে’ উদ্যোগ নেয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসব বক্তব্য আসছে এমন সময়, যখন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। কিন্তু গত দুইটি সাধারণ নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে ওই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে বিভিন্ন মহলে।

এই বছরের শেষ নাগাদ বা সামনের বছরের শুরুতে বাংলাদেশের যে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে, সেই সময়ের সরকারব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে ক্ষমতাসীন দল এবং বিরোধীদের মধ্যে। নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন কংগ্রেসম্যান বা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের চিঠি সরকারের জন্য কতটা উদ্বেগের?

উদ্বেগের কারণ কতটা?
বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিদেশী আইন প্রণেতারা বা কূটনৈতিকরা মন্তব্য করলেও সম্প্রতি সেই প্রবণতা অনেক তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, জাপানসহ একাধিক দেশের কূটনীতিকরা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচনের দিকে সারা বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘’বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, সেজন্য আমরা তো অবশ্যই, সারা বিশ্ব তাকিয়ে আছে।”

এর একমাস পরেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন ছয় কংগ্রেসম্যান।

কূটনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, কংগ্রেসম্যান বা পার্লামেন্ট সদস্যদের এ ধরনের চিঠিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ফলাফল দেখা না গেলেও এসব চিঠি খতিয়ে দেখার জন্য সেসব দেশের সরকারের ওপর চাপ তৈরি হয়। ফলে তারা নানারকম ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’বাংলাদেশের সরকারের নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো বিষয় আছে। যদিও তারা ভাব দেখাচ্ছেন যে, এতে তাদের কিছু আসে যায় না, এরকম চিঠিই আসে। কিন্তু উদ্বেগ না থাকলে যে দৌড়ঝাঁপ আমরা দেখেছি, তা দেখা যেতো না।‘’

তিনি মনে করেন, ছয়জন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য বা ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ছয় এমপি হয়তো সেখানকার সরকারের কেউ নন। কিন্তু ওসব দেশের সরকারব্যবস্থা এমন যে, পার্লামেন্ট সদস্যরা কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তুললে বা উদ্বেগ জানালে সরকার বা সংস্থা সরাসরি এড়িয়ে যেতে পারে না। ফলে তাদের ওপরেও একটা চাপ তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’ইউরোপীয় সমাজ বলেন বা মার্কিনীদের সমাজ বলেন, সেখানে গর্ভন্যান্সকে নীতির সাথে সম্পৃক্ত রাখে। সেখানে একটা ভয়েজও যদি যুক্তিসঙ্গত হয়, তাহলে সেটা শোনা হয়। সুতরাং বিষয়টা কতটা বস্তুনিষ্ঠ, তার ওপরে নির্ভর করে তাদের কথাগুলো রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ে কতটা শোনা হবে।‘’

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কতটা আমলে নিচ্ছে?
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার বা নেতারা দৃশ্যত এসব চিঠি বা উদ্বেগ প্রকাশকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না বলে বক্তব্য দিয়েছেন।

মার্কিন কংগ্র্যাসম্যানদের চিঠির এক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, চিঠিতে অতিরঞ্জন ও অসঙ্গতি রয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘’এরকম চিঠি অতীতেও এসেছে, ভবিষ্যতে আরো বড় আকারে আসতে পারে। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এই ধরনের কার্যক্রম তত বাড়তে থাকবে।‘’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ’’বিদেশে কারো কাছে ধর্না দিয়ে বা কারো চাপে পড়ে বা কারো সাথে সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতেই হবে- এরকম কোনো নীতির প্রতি অগ্রসর হয়ে বাংলাদেশের মানুষকে পেছনে ফেলে দেয়ার নীতিতে আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে না।‘’

তবে যে মার্কিন সদস্যরা এই চিঠি পাঠিয়েছেন, তাদের সাথে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা কথা বলবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন। তাদের বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে নিয়মিত জানানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশের বিরোধী দলগুলোর তদবিরের কারণেই বিদেশে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে এসব আলোচনা বা চিঠি পাঠানো হচ্ছে। ফলে এসব বক্তব্য তারা আমলে নিতে চান না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বিবিসি বাংলাকে বলেন, ‘’বিএনপি-জামায়াত এই সরকারের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের যুদ্ধাপরাধীদের রায় হওয়ার পর থেকেই লবিস্ট নিয়োগ করে সরকারের বিরুদ্ধে নানান ধরনের মিথ্যাচার করে আসছে। যদি অর্থের বিনিময়ে কোথাও কোনো ব্যক্তি বিবৃতি দেয়, সেটা নিয়ে আমাদের কি এখানে আমলে নেয়ার কোনো প্রয়োজন আছে?’’

আওয়ামী লীগের নেতারা যাই বলুক, এসব বক্তব্য যে তাদের মধ্যে একটা উদ্বেগ তৈরি করছে। এ কারণেই কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে নানারকম তদবির বা চেষ্টা করা হয়েছে। ভিসা কড়াকড়ি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কোনো কোনো নেতা।

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ নিরসনে বাংলাদেশের তরফ থেকে একাধিকবার আশ্বস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আমাদের জন্য চিন্তার কারণ, কারণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আমাদের যে ভাবমূর্তি আছে, এগুলো তার সাথে সম্পর্কিত, অর্থনীতির সাথেও সম্পর্কিত।‘’

যদিও নির্বাচনের এখনো ছয় থেকে সাত মাস বাকি আছে। কিন্তু তার আগে বিভিন্ন দেশ থেকে একটার পর একটা উদ্বেগ জানানো হচ্ছে, কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার পর ভিসা নিয়ে কড়াকড়ির মতো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন, ‘’এসব উদ্বেগের ফলে অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠতে পারেন। কারণ বেশিরভাগ নিষেধাজ্ঞা আসবে ব্যক্তির ওপরে। ফলে যারাই নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনায় জড়িত থাকবে, তারা খানিকটা চিন্তায় থাকবেন যে, সেখানে কোনো উল্টাপাল্টা কিছু হলে তাদের সমস্যা হবে কিনা।‘’

এর আগে ২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন দেশের তরফ থেকে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল।

কিন্তু এবার নির্বাচনের প্রায় একবছর আগে থেকেই বিভিন্ন দেশ থেকে বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষকরে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে নির্বাচনের ওপর নজর থাকার কথা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

এসব কারণে বাংলাদেশের সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভের প্রকাশও করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘’যুক্তরাষ্ট্র চাইলে যেকোনো দেশের ক্ষমতা উল্টাতে-পাল্টাতে পারে। তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে, আবার দুর্নীতিতে সাজাপ্রাপ্তদের পক্ষ হয়েই ওকালতি করে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকে বাদ দিয়ে এখানে এমন একটা সরকার আনতে চাচ্ছে যাতে গণতান্ত্রিক কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। অগণতান্ত্রিক ধারা।‘’

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলছেন, ‘’বাংলাদেশে সংবিধান আছে। সংবিধান অনুযায়ী সরকার চলছে, দেশ পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কে কী চাইলো, কোথায় আপত্তি করলো, তা তো আমাদের দেখার বিষয় না। আর আমাদের দেশের বিষয়ে বাইরের লোকজন কেন কথা বলবে? তারা যদি কিছু বলেও, সেটা নিয়ে আমাদের চিন্তা করার কোনো দরকার দেখি না।‘’

ফের শান্তিরক্ষী বাহিনী ইস্যু?
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সোমবার জাতিসঙ্ঘের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, বাংলাদেশে থেকে যাদের জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে নেয়া হয়, তাদের নিয়োগের পূর্বে যেন মানবাধিকারের বিষয়গুলো যাচাই করা হয়।

বিরোধী দলগুলোর আপত্তি সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ইয়াজউদ্দিন আহমেদ যখন ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে একরোখা ছিলেন, সেই সময়েও এমন একটি বক্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল যে, জাতিসঙ্ঘে শান্তিরক্ষী নিয়োগ ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা করছে জাতিসঙ্ঘ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ২০০৭ সালের সেই ঘটনাকে মনে রেখেই হয়তো শান্তিরক্ষী বাহিনীর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, এই ক্ষেত্রে অবশ্য কোনো বিবৃতি খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারে না।

‘’জাতিসঙ্ঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যারা অংশগ্রহণ করে, এমনিতেই তাদের ক্ষেত্রে জাতিসঙ্ঘ একটা স্ট্যান্ডার্ড রক্ষা করে। যেমন মানবাধিকার ইস্যু, নারী বিদ্বেষী হলে বা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আছে কিনা, সেটার এক ধরনের যাচাই করা হয়। হয়তো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই কথাটা আমরা আগে শুনিনি বলে আমাদের কাছে নতুন বলে মনে হচ্ছে,’’ তিনি বলেন।

কূটনীতিকরা বলছেন, ২০০৭ সালের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা বলে তাদের মনে হচ্ছে। কারণ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে, এটা বাংলাদেশের জন্য নতুন। ফলে সরকার স্বীকার না করলেও তাদের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এবার আর সেই রকম কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ।

‘’২০০৭ সালের প্রেক্ষাপট আর এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। ওই সময় বিএনপি জামাত জোট সরকার ক্ষমতা আটকে রেখে সংবিধান লঙ্ঘন করে অসাংবিধানিক পন্থায় গিয়েছিল, ফলে একটা সাংবিধানিক সংকটের তৈরি হয়েছিল। সেই কারণেই আমরা দেখেছিলাম, সামরিক সমর্থিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়েছিল, কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডে খুব বেশি সুফল আসেনি, অনেক বিতর্ক সৃষ্ট হয়েছিল।‘’

‘’এটা একবার এই বাংলাদেশে ঘটে গেছে, দ্বিতীয়বার এই বাংলাদেশে ঘটার কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমরা মনে করি না। কারণ বাংলাদেশের মানুষ আর সেই ধরনের সরকার দেখতে চায় না। বাংলাদেশের মানুষ যেটা চায় না, সেটা অন্য কেউ জোর করে চাপিয়ে দিয়ে খুব একটা সুবিধা করতে পারবে না বা কোনো ফল আসবে না,’’ তিনি বলেন।

মঙ্গলবার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘’এখন আবার বিদেশী শক্তিকে দিয়ে ওয়ান-ইলেভেনের মতো দুই বছরের জন্য নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী তত্ত্বাবধায়ক একটা বসাবে। আর আমরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ললিপপ খাব? কেমনে এটা মনে করলেন? সব খবর আমরা রাখি। কোথায় কোথায় ষড়যন্ত্র হচ্ছে? ওয়ান-ইলেভেনের দুঃস্বপ্ন দেখে আর লাভ নেই।‘’

লবিংয়ের দাবি কতটা যৌক্তিক?
সরকারি দলের নেতারা দাবি করছেন, লবিং করার মাধ্যমে বা অর্থের বিনিময়ে তদবির করার কারণেই মার্কিন বা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট থেকে এসব বিবৃতি দেয়া হয়েছে।

আওয়ামী লীগ নেতা মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, ‘’এটা প্রচলিত আছে, পশ্চিমা দেশের অনেক দেশের পার্লামেন্ট মেম্বারদের অনেককেই অর্থ দিলে, যে অর্থ দেয় তার পক্ষে কথা বলে। লবিস্ট নিয়োগ করে। লবিস্টদের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে অনেকে কথা বলে।‘’

তবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলছেন, এসব বিবৃতির পেছনে লবিং করা হয়েছে কিনা তার জানা নেই। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোয় লবিং নতুন কিছু নয়।

‘’আমি যতটুকু জানি, যুক্তরাষ্ট্রে লবিং খুব সাধারণ একটা বিষয়। সেখানে লবিংয়ের মাধ্যমেই অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু কোনো কারণে যদি লবিংয়ের কারণেও এসব চিঠি লেখা হয়ে থাকে, সেটারও কিন্তু একটা প্রভাব থাকবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে অনেক সিদ্ধান্তই লবিংয়ের কারণে নেয়া হয়ে থাকে।‘’

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির অবশ্য বলছেন, অনেক ক্ষেত্রে যেমন লবিং করা হয়ে থাকে, অনেক সময় কংগ্রেসের সদস্যরা নিজে থেকেই বক্তব্য দিয়ে থাকেন।

‘’তাদের নিজস্ব গবেষণা থাকে। বিভিন্ন দেশ সম্পর্কিত স্বার্থের ব্যাপার থাকে। লবিং যেমন হয়, অনেক সময় নিজেদের গবেষণা থেকেও তারা বক্তব্য বা চিঠি দিতে পারেন,’’ তিনি বলেন।

বাংলাদেশের নির্বাচন বা রাজনীতি ঘিরে বিদেশী পার্লামেন্ট বা সংসদীয় কমিটির উদ্বেগ প্রকাশ এবারই প্রথম নয়।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তা জানতে চেয়ে ২০১৯ সালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছিল মার্কিন কংগ্রেসের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটি।

ওয়াশিংটনে সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির বলছেন, এখানে লবিং হয়েছে কিনা, কারা লবিং করেছে, তার চেয়ে বড় বিষয় হলো, সেখানে যেসব বক্তব্য তোলা হয়েছে, সেসবের বাস্তবতা কতটা রয়েছে।

হুমায়ুন কবির বলছেন, ‘’আমি জানি না, এখানে কী হয়েছে। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের ভালো কাজের জন্য যেমন বাহবা পাই, তেমনি তারা কেন এসব অভিযোগ তুলছে, আমাদের কোনো ঘাটতি আছে কিনা, সেটাও আমাদের ভেবে দেখা দরকার। সেসব কারণ যদি আমরা মিটিয়ে ফেলতে পারি, তাহলে এখানেও কিন্তু বাহবা পেতে পারি।‘’

‘’লবিংয়ের কারণেই তারা বড় ব্যবস্থা নেবে, সেটা মনে করা হলে সরলীকরণ করা হয়ে যাবে। আবার তারা ব্যবস্থা নিলে কিছু হবে না, সেটা ভাবাও ভুল। আমি বলবো, বিষয়গুলোর বস্তুনিষ্ঠতার দিকে মনোযোগী হলে এ ধরনের জটিলতার বাইরে থাকা যাবে। আর আমরা যদি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাই, অন্যরা করেছে উস্কানি দিয়ে, তাহলে যে কারণে সমস্যাটা হয়েছে, সেটাকে যথাযথভাবে অ্যাড্রেস করতে পারবো না, ‘’তিনি বলেন। সূত্র : বিবিসি

আ’লীগ সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি : সংসদে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে বলেছেন, তার সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে দেশে একটি উচ্চ মান স্থাপনে সক্ষম হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন ওঠেনি। নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আমরা একটি উচ্চ মান স্থাপন করতে পেরেছি। বিএনপি সরকারের আমলে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের মতো কখনো হয়নি এবং আওয়ামী লীগের আমলে সেটা হবেও না।

বুধবার (১৪ জুন) আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য কাজিম উদ্দিন আহমেদের (ময়মনসিংহ-১১) এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে বর্তমানে সুইজারল্যান্ডে অবস্থানরত প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্ব উত্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব সংসদ নির্বাচন উপ-নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের নির্বাচর ও উপ-নির্বাচন নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন তার নিরঙ্কুশ ক্ষমতা বলে এ সকল নির্বাচন আয়োজন করেছে।

তিনি আরো বলেন,‘আওয়ামী লীগ কখনো জোড় করে ক্ষমতায় আসেনি। বরং জনগণকে তাদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে এসেছে, যাতে জনগণ তাদের পছন্দমতো সরকার নির্বাচন করতে পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যখনই সরকার গঠন করেছে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনে সকল প্রকার সহায়তা দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে স্বচ্ছ, অবাধ, নির্ভীক, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে নির্বাচন কমিশনকে সার্বিক সহায়তা দেয়াসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

আওয়ামী লীগ জনগণের ম্যান্ডেটে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কে দেশ চালাবে তা জনগণই ঠিক করবে।

তিনি আরো বলেন, এটাই জনগণের শক্তি। আমাদের সরকার জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি বলেন, তার সরকার ‘প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন ২০২২’ প্রণয়ন করেছে এবং আইন অনুযায়ী ছয় সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে সিইসি ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী, নিরপেক্ষ এবং প্রশাসনিক ও আর্থিকভাবে স্বাধীন।

সরকার প্রধান বলেন, নির্বাচন সংক্রান্ত সব সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকবে।

তিনি বলেন,‘নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে স্বাধীনভাবে কাজ করবে এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করবে।’

আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তারা দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের আমন্ত্রণ জানাবেন।
তিনি বলেন,‘যে কেউ পর্যক্ষেক পাঠাতে চাইলে পাঠাতে পারে। আমাদের সরকার জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সূত্র : বাসস

‘আল্লাহ আকবর’ ধ্বনিতে মুখরিত ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিরোধ, আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমানসহ জাতীয় নেতা ও আলেম-ওলামাদের মুক্তি এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দাবিতে সমাবেশে ডেকেছে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।

শনিবার এ সমাবেশে অংশ নিতে রাজধানী রমনা এলাকায় ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে আসছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশনে ভেতরে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠছে। নেতাকর্মীরা ‘লিল্লাহি তাকবীর, আল্লাহ আকবর,’ ‘বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী, জিন্দাবাদ, জিন্দাবাদ,’ ‘এই মুহূর্তে দরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ নানা স্লোগান দিয়ে যাচ্ছে। নেতাদের মুক্তির দাবিতেও স্লোগান দিচ্ছে।

এর আগে ৫ জুন সমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়ে ডিএমপিতে যান জামায়াত ইসলামীর সমর্থিত আইনজীবীরা। ডিএমপিতে প্রবেশ করার আগে তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ২ ঘণ্টা পর তাদেরকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

৫ জুন কর্মদিবস থাকার কারণে তাদের সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি বলে জানায় পুলিশ। তাই এবার ছুটির দিন শনিবার দেখে তারা অনুমতির আবেদন করে। পরে এখানে করার অনুমতি মেলে।

আজকের সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর নায়েবে আমীর আব্দুলাহ মোহাম্মদ তাহের। সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমীর নুরুল ইসলাম বুলবুল।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার অনুমতি পায় দলটি। এরপর থেকে দলটিকে কোনো বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের অনুমতি দেয়নি পুলিশ।

দেশে সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমলো

সরকার ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১০ টাকা কমিয়েছে। লিটার প্রতি বোতলজাত সয়াবিন তেলের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৯৯ টাকা থেকে ১৮৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে খোলা তেলের দাম কমিয়ে লিটার ১৬৭ টাকা করা হয়েছে। পাম তেলের দাম ২ টাকা কমিয়ে ১৩৩ টাকা করা হয়েছে।

রোববার (১১ জুন) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ এ কথা জানান।

এ সময় বাণিজ্য সচিব আরো বলেন, পাঁচ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। এসব পেঁয়াজ এলে দাম আরো কমবে।

এর আগে গত ৪ মে বোতলজাত সয়াবিনের দাম প্রতি লিটারে ১২ টাকা বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এ সময় ৫ লিটারের বোতলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৯৬০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ৯ টাকা বাড়িয়ে ১৭৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া প্রতি লিটার পামতেলের দাম ১৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জামায়াতকে দোষী বলা যাবে না : আইনমন্ত্রী

বিচার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে দোষী বলা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। প্রচলিত আইন ও বিধান অনুযায়ী বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না।’

আজ রোববার ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) আয়োজিত মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এলআরএফ সভাপতি আশুতোষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা। এ সময় আইনমন্ত্রী সমসাময়িক রাজনৈতিক বিষয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

জামায়াতে ইসলামীকে দীর্ঘ ১০ বছর পর সমাবেশের অনুমতি দেয়া কতটা আইনসঙ্গত হয়েছে- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আইন সংশোধনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিচার নিষ্পত্তি হয়নি। এমন অবস্থায় জামায়াতকে সভা-সমাবেশের অনুমতি দেয়াটা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।’

উগান্ডা ও নাইজেরিয়ার পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা নীতি ঘোষণায় জাতিকে বিব্রত ও হেয় করেছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিষয়টি একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের কারো জন্যই মর্যাদার নয়। এ নীতি আমাকে হেয় করেছে।’

‘সর্বোচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার অসাংবিধানিক ও অবৈধ ঘোষণা করায় সংবিধান থেকে বাতিল হয়ে যায়’ উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছিল, সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সে প্রতিশ্রুতি পূরণ করবে।’

সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হয়রানির কোনো মামলা নয় : সংসদে আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বৃহস্পতিবার (৮ জুন) সংসদে বলেছেন, আসন্ন সাধারণ নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করায় কোনো সরকারি সংস্থা হয়রানির জন্য মামলা করবে না।

গণফোরামের সংসদ সদস্য (সিলেট-২) মোকাব্বির খানের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠানকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে। চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

১১ দফা সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে কোনো সরকারি সংস্থার দ্বারা হয়রানির জন্য মামলা দায়ের না করা; প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, সমর্থক, তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের হামলা প্রতিরোধ করা এবং এ ধরনের হামলা হলে আইন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা নিশ্চিত করা।

অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে সরকারের কাছে প্রস্তাবনা যাতে সব রাজনৈতিক দল অবাধে নির্বাচনী কার্যক্রম চালাতে পারে; বিশিষ্ট নাগরিক ও রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে মতবিনিময় বৈঠকে সংবিধান ও নির্বাচনী আইন অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠদের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা; যোগ্য ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগ; এবং দেশী-বিদেশী নির্বাচন পর্যবেক্ষক নিয়োগসহ আইনানুগ প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি আরো বলেন, বাকি সিদ্ধান্তগুলো হলো নির্বাচনের সাথে জড়িত সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদফতর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রধানদের সাথে বৈঠক করে এবং তারা যাতে নিষ্ঠার সাথে ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া। নির্বাচন; ভোটকেন্দ্র এবং নির্বাচনী এলাকায় অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মোতায়েন করা; নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে কার্যকর করার জন্য নির্বাহী ও বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ এবং নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ এবং নির্বাচনী আচরণ বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, যেহেতু আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যে করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তাই এ লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন একটি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে।

তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন দৃঢ়ভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখতে নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সবার জন্য ওয়েবসাইটে প্রকাশ, পর্যাপ্ত সংখ্যক দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি সংবাদ তথ্য অবাধে নিতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াকে সুযোগ-সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের ফলাফল যেন সব ভোটার এবং অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের কাছে গ্রহণযোগ্য হয় সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন সকল প্রার্থীর সাথে সমান আচরণ করবে, নির্বাচন কমিশনের আরো যোগ্য কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেবে, নিরপেক্ষ প্রিজাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করবে যারা পক্ষপাতমূলক নির্বাচন থেকে মুক্তি দেবে এবং কর্মকর্তারা নির্বাচনী আইন ও বিধি লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।

সূত্র : ইউএনবি