Home Blog Page 619

বিএনপির চিন্তাধারা ছিল দেশকে পরনির্ভরশীল করা : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যারা বারবার ক্ষমতায় এসেছে, তারা এ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিএনপির চিন্তাধারা ছিল দেশকে পরনির্ভরশীল করা।
গতকাল দুপুরে শেরেবাংলা নগরে পুরাতন বাণিজ্য মেলা মাঠে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৪ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬ সালে আমি যখন সরকার গঠন করলাম, তখন দেখলাম ৪০ লাখ টন খাদ্য ঘাটতি। তখন রিজার্ভ মানিও তেমন ছিল না। এশিয়াতে তখন খাদ্য মন্দা। আমাদের লক্ষ্য ছিল, আমরা কারও কাছে হাত পেতে চলব না। নিজের ফসল নিজে উৎপাদন করব। তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সব সময় বলতেন- আমরা কারও কাছে ভিক্ষা চাইব না, কারণ ভিক্ষুক জাতির ইজ্জত থাকে না। আমরা মানসম্মান নিয়েই বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে চলতে চাই। সেই আদর্শে আমরা দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছি।
গতকাল সকাল ১০টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আবদুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম উদ্দিন। এ ছাড়া দেশের ডেইরি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ডেইরি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিডিএফএ) সভাপতি ইমরান হোসেন এবং পোলট্র্রি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) যুগ্ম আহŸায়ক মশিউর রহমান। প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে গতকাল থেকে শুরু হয়ে আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। এ ছাড়া দেশব্যাপী ৬৪টি জেলার ৪৬৬টি উপজেলায় এ প্রদর্শনী একযোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এসব প্রদর্শনীতে স্ব স্ব উপজেলা থেকে উন্নত জাতের এবং অধিক উৎপাদনশীল জাতের গবাদিপশু যেমন- গাভী, বাছুর, ষাঁড়, মহিষ, ছাগল, ভেড়া, মুরগি, হাঁস, দুম্বা, কবুতর, শৌখিন পাখি, পোষা প্রাণী এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
কৃষি গবেষণা ও উৎপাদনে সফলতার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, এখন অন্তত বলতে পারি, মাছ-ভাতের অভাবটা নাই, ডাল-ভাতেরও অভাব নাই। তবে মানুষের চাহিদা এখন মাংস। তিনি বলেন,?আমাদের আগে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, যেমন খালেদা জিয়া ঘোষণা দিল যে দেশের মানুষকে ডাল-ভাত খাওয়াবে। সেই ডাল-ভাত খাওয়াতেও কিন্তু ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর ২০০৭ সালে আসল তত্ত¡াবধায়ক সরকার। ফখরুদ্দীন প্রধান উপদেষ্টা, ইয়াজউদ্দিন রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান মইনউদ্দিন। মইনউদ্দিন আবার ঘোষণা দিলেন আলু খাওয়ার জন্য। হাজার পদের আলুর নানা রকমের তালিকা তৈরি করা হলো এবং তার আবার প্রদর্শনী হলো। বেশ উন্নত হোটেলে। মানুষ ভাত পাচ্ছে না তাতে কী! আলু খাবে। তিনি বলেন, কেউ আমাদের ডাল-ভাত খাওয়াতে চাইল, কেউ আমাদের আলু খাওয়াতে চাইল, মাছে-ভাতে বাঙালি আমরা; মাছ-ভাত পেলেই তো যথেষ্ট। সেটাই তো আমরা চাই। সেটাই তো আমাদের লক্ষ্য। কাজেই আমরা সেদিকে দৃষ্টি দিয়েছি। এখন অন্তত বলতে পারি, মাছ-ভাতের অভাবটা নাই, ডাল-ভাতেরও অভাব নাই। তবে মানুষের চাহিদা এখন মাংস। শেখ হাসিনা আরও বলেন, অনেক হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ গবেষকরা গবেষণা করে করে সেগুলো কিন্তু আজকে উৎপাদন করছেন। আমরা আমাদের অনেক প্রায় বিলুপ্ত মাছ আবার ফিরে পাচ্ছি। গবেষণা ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে আসতে পারে না, এটাই হলো বড় কথা। তাছাড়া মুরগির ক্ষেত্রেও গবেষণা করে করে বিভিন্ন ধরনের পাখি এখন উৎপাদন হচ্ছে। শুধু ডিমই না, মাংসও এখন মানুষ খেতে পারছে। বাংলাদেশ এখন মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এত খাল-বিল, নদী-নালার দেশ আমরা। আমাদের দেশের মানুষের কেন আমিষের কষ্ট হবে! খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। সমুদ্রসম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করেছি। আজকে এই সমুদ্রসম্পদ আমাদের কাজে লাগানোর জন্য আমরা সুনীল অর্থনীতি ঘোষণা দিয়েছি। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, গভীর সমুদ্রের সম্পদ এখনো আমরা আহরণ করতে পারিনি। আসলে উদ্যোক্তাও পাওয়া যাচ্ছে না, এটা হলো বাস্তবতা। তবে মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে আমরা এখন কিন্তু স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ উৎপাদন আমরা আরও বাড়াতে চাই।
দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, এখন দেখি জিনিসের দাম নিয়ে চিন্তিত, পিঁয়াজের দাম বাড়ল কেন? আমাদের কিন্তু ৯০ ভাগ পিঁয়াজই আনতে হতো ভারত থেকে, সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ছিলাম। ভোজ্য তেল ৯০ ভাগ আনতে হয় বিদেশ থেকে। কেন আনতে হবে? নিজের দেশে আমরা তো উৎপাদন বাড়াতে পারি। তবে এবার সুখবর হলো, আমাদের গবেষণার মধ্য দিয়ে সরিষার উন্নত জাত নিয়ে আসা হয়েছে। আজকে আমাদের সরিষা উৎপাদন ভালো হচ্ছে। তিনি বলেন, সরিষার তেল হচ্ছে, যেটা হার্টের জন্য সব থেকে নিরাপদ। সেই সঙ্গে আমাদের চালের তুষ থেকে যে তেলটা হয়, সেটা হচ্ছে। তিলের তেল, আমরা আরও বহুমুখী করতে পারি বা করার সে সুযোগ আরও আছে। আমরা এখন করেও যাচ্ছি।
গভীর সমুদ্রসম্পদ আহরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে শেখ হাসিনা বলেন, এটা দুঃখজনক, বাংলাদেশ বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন করলেও এখনো সমুদ্রসম্পদ আহরণ করতে সক্ষম হয়নি। বাস্তবতা হলো এই সেক্টরে উদ্যোক্তা পাওয়া যাচ্ছে না। সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য খাদ্য নিরাপত্তা, তারপর পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ লক্ষ্যে কৃষিতে ভর্তুকি দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। কৃষিতে আরও গবেষণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের হামলা, যা বলল যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের বিরুদ্ধে ইসরাইল ‘সামরিক অভিযান’ চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন কর্মকর্তা। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তারা।
সিএনএনের বরাত দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এ হামলা বিশ্বের জন্য অতিবিপজ্জনক। এর ফলে ওই অঞ্চলটি সংঘাতের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, ইসরাইল বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বাইডেন প্রশাসনকে জানিয়েছিল যে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আঘাত (ইরানে) আসছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ ওয়াশিংটনকে আশ্বস্ত করেছিল যে, হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।
এদিকে ইসরাইল শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে ইরানে ‘ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ চালিয়েছে বলে খবর দিয়েছে আলজাজিরা, এবিসি নিউজসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে এমন খবরের পর তেহরান বলছে, তারা বেশ তিনটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে এবং দেশটিতে ‘এখনো কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা’ হয়নি।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের মহাকাশ সংস্থার মুখপাত্র হোসেইন দালিরিয়ান বলেছেন, এয়ার ডিফেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে। আপাতত কোনো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর নেই।
বার্তা সংস্থা ফারস জানিয়েছে, ইরানের ইসফাহান শহরের কাছে অবস্থিত শেখারি সেনা বিমানঘাঁটির কাছে ‘তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ’ শোনা গেছে।
এর আগে ইরান ইসরাইলে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করার পর ইসরাইল সতর্ক করেছিল যে, তারা পাল্টা আঘাত করবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এবিসি এবং সিবিএস নিউজ জানায়, ইসরাইল ইরানে হামলা চালিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বা পেন্টাগন থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ইসফাহানের কাছে বিস্ফোরণের পর ইরানের কয়েকটি শহরে আকাশ প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মোদি আবার নাকি রাহুল? ভাগ্য নির্ধারণ করবে ৫ ইস্যু

ভারতের লোকসভা নির্বাচন আজ থেকে শুরু হয়েছে। সাত দফায় বিশ্বের বৃহৎ এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট শেষে নির্বাচনের ফল ঘোষণা হবে ৪ জুন।
এই নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যা ৯৬ কোটি ৯০ লক্ষ।ভারতের এবারের ভোটারদের মধ্যে ৪৯ কোটি ৭০ লাখ পুরুষ এবং ৪৭ কোটি ১০ লক্ষ নারী।
প্রথমবার ভোট দেবেন, অর্থাৎ যাদের বয়স ১৮-১৯ বছর, এমন ভোটার ১ কোটি ৮০ লক্ষ।
প্রবীণ ভোটার, যাদের বয়স ৮৫ থেকে ৯৯ বছর, এরকম ৮২ লাখ মানুষের নাম আছে ভোটার তালিকায়।
নিরাপত্তা আর ভোটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণেই নানা দফায় ভোট করানো হচ্ছে।
ভারতীয় ভোটাররা কিসের ভিত্তিতে এবার ভোট দেবেন? নরেন্দ্র মোদির তুরুপের তাস কী হবে? নতুন গড়ে তোলা বিশালাকার রাম মন্দির? অর্থনীতি, কর্মসংস্থানের চিন্তা বা কল্যাণকারী প্রকল্পগুলোর ওপরে ভিত্তি করেই কি ভোটাররা সিদ্ধান্ত নেবেন? নাকি জাত আর ধর্মের ভিত্তিতে ভোট দেবেন তারা?
রাম মন্দির
মনে করা হচ্ছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর অযোধ্যায় গড়ে ওঠা হিন্দুদের ভগবান রামের মন্দিরটি এবারের নির্বাচনী দৌড়ে নরেন্দ্র মোদিকে কিছুটা ঐশ্বরিক সহায়তা দিতে পারে।
হিন্দুত্ববাদীরা ১৯৯২ সালে যে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করে দিয়েছিল, সেই জায়গাতেই গড়ে উঠেছে এই মন্দিরটি। সেই ঘটনার পরে যে দাঙ্গা বেঁধেছিল, নিহত হয়েছিলেন প্রায় দুহাজার মানুষ।
এবছর জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রী ওই মন্দিরটির উদ্বোধন করেন।
সেই অনুষ্ঠান টিভিতে সরাসরি স¤প্রচারিত হয়েছিল। স্কুল, কলেজ আর বেশিরভাগ অফিসও সেদিন ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়েছিল যাতে মানুষ ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটা দেখতে পারেন।
অর্থনীতি
ভারতের স্বাধীনতার শতবর্ষ ‘২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশ’ হিসাবে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি, তা কি ভোটারদের মনে কোনো দাগ ফেলতে পারবে?
বিশ্বের সবথেকে দ্রæত বাড়তে থাকা অর্থনীতির দেশ ভারত। দেশটির জিডিপি এখন সাড়ে তিন লক্ষ কোটি মার্কিন ডলার। গত বছর যুক্তরাজ্যকে টপকিয়ে বিশ্বের পঞ্চম সবথেকে বড় অর্থনীতি হয়ে উঠেছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ভারতের অর্থনীতি হয়তো পৌঁছিয়ে যাবে সাত লক্ষ কোটি মার্কিন ডলারে। আর সেটা সম্ভব হলে জাপান এবং জার্মানিকেও পেরিয়ে যাবে ভারতের অর্থনীতি। তাদের আগে থাকবে মাত্র দুটি দেশ – যুক্তরাষ্ট্র আর চীন।
তবে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ফল হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। অর্থনৈতিক অসাম্য চোখে পড়ার মতো। বৈশ্বিক জনপ্রতি আয়ের দিক থেকে হিসাব করলে ভারতের স্থান ১৪০ নম্বরে। দেশটির তিন কোটি ৪০ লাখ মানুষ দিনে ১৭৯ ভারতীয় টাকারও কম আয় করেন। যদিও সরকারি নথিতে বলা হয় যে ‘চরম দারিদ্র্য’ অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে।
কর্মসংস্থান
অনেক ভোটারের মাথাতেই কর্মসংস্থান বিষয়টা থাকবে। তরুণ ভারতীয়দের মধ্যে থেকে ৭০-৮০ লাখ জন প্রতিবছর চাকরির বাজারে প্রবেশ করে থাকেন। কিন্তু আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ কোনও কাজ জোটাতে পারেন না।
সা¤প্রতিক সরকারি তথ্য অবশ্য বলছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা কমছে এবং শ্রমিকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বিশ্লেষকরা অবশ্য বলছেন যে নতুন সৃষ্টি হওয়া বেশিরভাগ কাজই খুব কম বেতনের চাকরি।
মানুষ যে সঙ্কটে আছেন, তার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যখন দেখা যায় যে লাখ লাখ মানুষ সরকারের গ্রামীণ রোজগার প্রকল্পে নাম লেখাচ্ছেন। ওই প্রকল্পে কাজ করলে প্রতিদিন প্রায় আড়াইশো ভারতীয় টাকা পাওয়া যায়। আবার কয়েক হাজার মানুষ যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশগুলিতেও কাজ করতে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন।
নির্বাচনি বণ্ড
নির্বাচনের অর্থায়নে স্বচ্ছতা আনতে যে নির্বাচনি বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল, স¤প্রতি ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সেটিকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কারা ওই নির্বাচনী বণ্ড কিনেছে আর কোন দল কত অর্থ পেয়েছে, সেই তথ্যও প্রকাশ করার জন্য সরকারি ব্যাংক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়াকে নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
সেই তথ্য সামনে আসতেই দেখা যায় যে নির্বাচনি বণ্ড থেকে সবথেকে লাভবান হয়েছে বিজেপি। দলটি ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যে ১২ শো কোটি ভারতীয় টাকার নির্বাচনি বণ্ড বিক্রি হয়েছিল, তার অর্ধেকই পেয়েছিল বিজেপি।
নানা কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মুখে পড়া অনেক সংস্থাই নির্বাচনি বণ্ডের মাধ্যমে বিজেপিকে অর্থ যুগিয়েছিল বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে। বিরোধী দলগুলি নির্বাচনী বণ্ডের ব্যবস্থাকে ‘ভারতের ইতিহাসে সবথেকে বড় দুর্নীতি’ বলে আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করে যে এজেন্সিগুলিকে দিয়ে তোলাবাজি করানো হয়েছে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা অবশ্য সেই সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কল্যাণমুখী প্রকল্প
ভারতের কল্যাণমুখী প্রকল্পগুলো পরিমাণ দেখলে বিস্মিত হতে হয়। নরেন্দ্র মোদির সরকার দাবি করে যে তারা প্রায় ৯০ কোটি গরীব মানুষকে সহায়তা দেওয়ার জন্য কয়েক লক্ষ কোটি ভারতীয় টাকা খরচ করেছে। বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও কল্যাণমুখী প্রকল্পে প্রচুর অর্থায়ন করে থাকেন।
কিন্তু ওই বিনামূল্যের এক বস্তা চাল বা টয়লেট বানানোর জন্য অর্থ সহায়তা কি একটি দলকে ভোট এনে দেবে? বিশ্লেষকরা অবশ্য বলেন যে এধরণের প্রকল্প হয়তো ভোট পেতে সহায়তা করে, কিন্তু তা একমাত্র ফ্যাক্টর না হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি।

বন্যায় ভেসে গেল মরুর দেশ দুবাই

সবাইকে হতবাক করে দিয়ে প্রবল বৃষ্টিজনিত বন্যা ডুবিয়ে দিয়েছে মরুভূমির দেশ দুবাইকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এই দেশটির রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে শপিং মল ও বিমানবন্দর ডুবে গেছে পানিতে। এতেকরে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বিমান চলাচলসহ সব পরিবহন পরিষেবা।
প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত শনিবার থেকে সবাইকে বিস্মিত করে শুরু হয় প্রবল বৃষ্টি। দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার পানি বিমানবন্দরের ভিতরে ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ কারণে বহির্গামী সব ফ্লাইটের সময় পেছানো ও স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবিতে দেখা গেছে, বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্যার পানিতে ডুবে আছে। দেশটির আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিন এই ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে।
এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভয়াবহ বন্যার প্রভাবে দুবাই ও শারজাহ থেকে ঢাকামুখী ৯টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল সকাল পর্যন্ত এয়ার অ্যারাবিয়ার ৫টি ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এ ছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইনসের ২টি ও ফ্লাই দুবাইয়ের ২টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়। আরেক খবরে বলা হয়েছে, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক দেশের ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে দুবাই বিমানবন্দর। এতে বিপাকে পড়েছেন বহু যাত্রী। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার শতাধিক উড়োজাহাজ অবতরণের কথা ছিল বিশ্বের ব্যস্ততম এ বিমানবন্দরে। কিন্তু ঝড়-বৃষ্টির কারণে তা বিঘিœত হয়েছে। আর যেসব ফ্লাইট ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সেগুলোও স্থগিত করা হয়।
এমন নজিরবিহীন বন্যার কারণ : এমন রেকর্ড বন্যায় নানা গুঞ্জন উঠেছে শহরটির কৃত্রিমভাবে তৈরি বৃষ্টি বা ক্লাউড সিডিং নিয়ে। অনেকেই মনে করছেন, কৃত্রিমভাবে তৈরি বৃষ্টির ফলেই এই অবস্থা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ক্লাউড সিডিং হল কৃত্রিম উপায়ে বৃষ্টিপাত ঘটানোর একটি বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়া। এর জন্য উড়োজাহাজ বা ড্রোনের সাহায্যে মেঘের মধ্যে মিশিয়ে দেওয়া হয় সিলভার আয়োডাইড বা পটাশিয়াম আয়োডাইড। এই আয়োডাইড মেঘে ঘনত্ব বাড়াতে কাজ করে। মেঘে ঘনত্ব বাড়লে বৃষ্টিকণা তৈরি হয়, ফলে বৃষ্টি বা বরফপাত হয়। কিন্তু এই প্রক্রিয়া সবসময় কাজ করে না। প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, দুবাই সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে অবস্থিত এবং সাধারণত খুবই শুষ্ক অঞ্চল। যদিও এখানে সারা বছরে গড়ে ১০০ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হয়, তবে মাঝেমধ্যে ভারী বর্ষণও হয়ে থাকে। রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়াবিদ অধ্যাপক মার্টেন অ্যাম্বাউম বলেন, পৃথিবীর এই অংশটি দীর্ঘ সময় ধরে বৃষ্টিপাতহীন থাকার এলাকা। তবে এখানে অনিয়মিতভাবে বৃষ্টিপাত হয়ে থাকে। তবে এখন যে বৃষ্টিপাতের ঘটনা- তা একেবারেই বিরল। তিনি বলেন, এ জন্য জলবায়ু পরিবর্তন কতটা ভূমিকা পালন করেছে- তা সঠিকভাবে পরিমাপ করা এখনো সম্ভব নয়। এর জন্য প্রাকৃতিক এবং মানবিক কারণগুলোর একটি সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন। যার জন্য কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তবে রেকর্ড বৃষ্টিপাত অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। জলবায়ু বিজ্ঞানের অধ্যাপক রিচার্ড অ্যালান বলেন, বৃষ্টির তীব্রতার রেকর্ড ভাঙার সঙ্গে উষ্ণতাপূর্ণ জলবায়ুর সম্পর্ক রয়েছে। উষ্ণ বাতাস বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারে, ফলে এর সঙ্গে ভারী বৃষ্টিপাতের ঘটনা এবং বন্যা সম্পৃক্ত। সা¤প্রতিক একটি সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেশির ভাগ অংশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যার কারণ উষ্ণতা বৃদ্ধি পাওয়া। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের জলবায়ু বিজ্ঞানের সিনিয়র লেকচারার ড. ফ্রেডরিক অটো বলেছেন, ‘মানুষ যদি তেল, গ্যাস এবং কয়লা পোড়াতে থাকে- তাহলে জলবায়ু উষ্ণ হতে থাকবে, বৃষ্টিপাত বাড়তে থাকবে এবং বন্যায় মানুষ প্রাণ হারাতে থাকবে।’

শিল্পী (বিএফডিসি) সমিতির নির্বাচন: কে লড়ছেন কোন পদে

০

আজ শুক্রবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (বিএফডিসি) আজ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটিতে ঠাঁই পেতে এবারের নির্বাচনে ৬ জন স্বতন্ত্রসহ দুটি প্যানেল থেকে মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে দুই প্যানেলের একটিতে আছেন অভিনেতা মিশা সওদাগর ও মনোয়ার হোসেন ডিপজল আর অন্যটিতে আছেন সোনালি দিনের নায়ক মাহমুদ কলি ও চিত্রনায়িকা নিপুণ আক্তার।
মিশা-ডিপজল পরিষদ
মিশা-ডিপজল পরিষদের হয়ে নির্বাচনে সহসভাপতির পদে লড়বেন মাসুম পারভেজ রুবেল ও ডিএ তায়েব। এ ছাড়া সহসাধারণ সম্পাদক পদে আরমান, সাংগঠনিক সম্পাদক জয় চৌধুরী, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক আলেকজান্ডার বো, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক জ্যাকি আলমগীর, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক ডন এবং কোষাধ্যক্ষ পদপ্রার্থী কমল।
এ ছাড়া কার্যকরী পরিষদের সদস্যপদে নির্বাচন করছেন অভিনেত্রী সুচরিতা, রোজিনা, আলীরাজ, সুব্রত, দিলারা ইয়াসমিন, শাহনূর, নানা শাহ, রতœা কবির, চুন্নু, সাঞ্জু জন, ফিরোজ মিয়া।
মাহমুদ কলি-নিপুণ পরিষদ
মাহমুদ কলি-নিপুণ প্যানেলের প্রার্থী হয়েছেনÑ সহসভাপতি পদে ড্যানি সিডাক ও অমিত হাসান। সহসাধারণ সম্পাদক বাপ্পি সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জনা রহমান, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মারুফ আকিব, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক কাবিলা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক মামনুন হাসান ইমন ও কোষাধ্যক্ষ পদে অভিনেতা আজাদ খান।
কার্যকরী পরিষদের সদস্যপদ হিসেবে থাকছেন সুজাতা আজিম, নাদের চৌধুরী, পীরজাদা হারুন, পলি, জেসমিন আক্তার, তানভীর তনু, মো. সাইফুল, সাদিয়া মির্জা, সনি রহমান, হেলেনা জাহাঙ্গীর ও সাইফ খান।
এবারের নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে থাকছেন খোরশেদ আলম খসরু। সদস্য হিসেবে আছেন এজে রানা ও বিএইচ নিশান। মোট ভোটার সংখ্যা ৫৭১ জন। তারাই বেছে নেবেন আগামী দুই বছরের চলচ্চিত্র শিল্পীদের নেতা-অভিভাবক।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু

০

আজ বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০২৪-২৬ মেয়াদি দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। শুক্রবার সকাল ৯টায় শিল্পী সমিতির কার্যালয়ে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মাঝে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে চলবে বিকাল ৫টা পর্যন্ত।
গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, গণনা শেষে আজই ফল প্রকাশ করতে হবে। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে সকাল থেকে নায়ক, নায়িকাসহ শিল্পীদের আগমনে এফডিসি প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে উঠছে।
২১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির এই নির্বাচনে ৬ জন স্বতন্ত্রসহ দুটি প্যানেল থেকে ৪৮ প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। প্যানেল দুটি হলোÑ মিশা-ডিপজল ও মাহমুদ কলি-নিপুণ। এ উপলক্ষ্যে রমজান মাসব্যাপী প্রচার চালিয়েছেন দুই প্যানেলের প্রার্থীরা। যদিও এবার নির্বাচন ঘিরে নেই তেমন কোনো উত্তেজনা।
এবার নির্বাচনে মোট ভোটার ৫৭১ জন। এর মধ্যে নতুন ভোটার হয়েছেন ৫০ জন। জায়েদ-মিশা প্যানেল ক্ষমতায় থাকাকালে অনেকের ভোটাধিকার বাতিল হয়েছিল। এর পর কাঞ্চন-নিপুণ প্যানেল বিজয়ী হয়ে এলে উচ্চ আদালত থেকে ১০৩ জন ভোটাধিকার ফিরে পান। নতুন ও ভোটাধিকার ফিরে পাওয়া ১৫৩ জন ভোটার এবার নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন

নিউইয়র্ক: প্রতিবারের মতো এবারও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে ঐতিহাসিক ‘মুজিবনগর দিবস’ উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানটির শুরুতে মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উপ-রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রী তাজ উদ্দিন আহমেদসহ জাতীয় চার নেতা, এ সরকারের প্রয়াত সদস্য এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লাখ শহীদ এর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অত:পর দিবসটি উপলক্ষ্যে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শুনানো হয়।

02 5

বাঙ্গালির মুক্তির ইতিহাসে ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুষ্ঠানটিতে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। তিনি বলেন, জাতির পিতার নেতৃত্বে ২৩ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম বাঙালি জাতিকে মহান মুক্তিযুদ্ধের দিকে পরিচালিত করেছিল। আর ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে বাঙালি জাতি নিজেদেরকে প্রস্তুত করতে শুরু করে। ঠিক সে সময়ে ২৫ মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের নামে পাকিস্তানী বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়। পরবর্তীতে ২৬ মার্চে জাতির পিতার স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে বাঙালি জাতি ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে। ১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ও আইনগত ভিত্তি স্থাপনে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা ছিল অসামান্য”।

মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্ব, কৌশল ও সময়োপযোগী দিক-নির্দেশনার ফলে মুক্তিযুদ্ধ দ্রুততম সময়ে সফল সমাপ্তির দিকে এগিয়ে যায় মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুহিত বলেন, “মুজিবনগর সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে বিশ্ব জনমতকে বাংলাদেশের পক্ষে আনা যা তারা অত্যন্ত সফলতার সাথে করতে পেরেছিল। এই সরকার বিশ্ব    সম্প্রদায়কে বাংলাদেশের পক্ষে আনতে বেশ কিছু সময়োযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পাকিস্তানী দূতাবাসে কর্মরত বাঙালি কূটনীতিকরা যেন দ্রুত পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে মুজিবনগর সরকারের পক্ষে আনুগত্য প্রকাশ করেন, সে উদ্যোগ গ্রহণ করে”।  এসময় তিনি মুজিবনগর সরকারের কূটনৈতিক সাফল্যও তুলে ধরেন।

প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে মুজিবনগর সরকারের ইতিহাস, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তাৎপর্য তুলে ধরার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মুহিত। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে আমরা স্ব-স্ব অবস্থান থেকে কাজ করে যাবো, মুজিবনগর দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার”।

উন্মুক্ত আলোচনাপর্বে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন আলোচকগণ। ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস উদযাপনের এই অনুষ্ঠানে মিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারি অংশগ্রহণ করেন।

সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামি থেকে ফিরে এলো টাইম স্কয়ারের বাঙালি উৎসব 

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: সাম্প্রদায়িকতার গোঁড়ামি থেকে বেরিয়ে এসেছে নিউ ইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বাঙালিদের বাংলা বর্ষবরণ উৎসব। গত বছর (১৪৩০) বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে রাধাকৃষ্ণ(উলু) ধ্বনি, সুর্য পূজাসহ শিল্পী ও দোয়ার্কি (সহশিল্পী)রা সূর্য পূজা লীলা কীর্তনের আদলে বাংলা গানের আয়োজন করেছিলো। দেশ ও প্রবাসের গুণী ব্যক্তি ও শিল্পীদের সামনেই এসব ঘটলেও কেউ টু-শব্দ করার সাহস পাননি। বিষয়টি ঐসময় বেশ সমালোচিত হলে এবারের (১৪৩১ সালের) বর্ষবরণ উৎসবে এসব ধর্মীয় গোঁড়ামি বাতিল করে অসাম্প্রদায়িকতায় ফিরে আসে টাইম স্কয়ারের বাঙালি উৎসব।
গত বছর (২০২৩) ১৪ এপ্রিল সকালে সুর্য ওঠার সাথে সাথেই ফুল দিয়ে তৈরি করা সুর্য নিয়ে টাইমস স্কয়ারে ছুটে যান সনাতন ধর্মাবলম্বী কতিপয় নারী-পুরুষ। প্রথম দিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিল্পী ও দোয়ার্কি(সহশিল্পী)রা সূর্য পূজা লীলা কীর্তনের আদলে বাংলা গানের আয়োজন করেন। এ সময় কিছু মহিলা দোয়ার্কি(সহশিল্পী)র মুখে শোনা যায় উলুধ্বনি। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে। এ নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রবাসী মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতারা।  
গত ১৩ এপ্রিল শনিবার দুপুরে মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরণের গান পরিবেশন করেন স্থানীয় শিল্পীরা। তবে বাংলার লোকগানে হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাদের মাতিয়ে তোলেন প্রখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী মমতাজ।
বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন নিউ ইয়র্কের কনসাল জেনারেল মোঃ নাজমুল হুদা। নিউ ইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক অ্যাডামস উদ্বোধনের কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি অনুষ্ঠানে আসেননি।
অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি শিল্পী ছাড়াও বিভিন্ন দেশীয় নৃত্য শিল্পীরা তাদের দেশীয় ঐতিহ্যবাহী নৃত্য পরিবেশন করেন। বিকেল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে দেশাত্ববোধক ও লোকগান। টাইমস স্কয়ারে বাংলা বর্ষবরণের আয়োজন করেন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড নামের একটি সংগঠন। 

নাটোরের সিংড়ায় সম্ভাব্য প্রার্থীসহ তিনজন অপহৃত, পরে আহত অবস্থায় উদ্ধার

উত্তরবঙ্গ প্রতিনিধি : নাটোরের সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক দেলোয়ার হোসেন, তাঁর ভাইসহ তিনজনকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার সকালে ও বিকেলে তাঁরা অপহরণের শিকার হন। পরে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে। আহত দেলোয়ার ও তাঁর ভাইকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নাটোর জেলা নির্বাচন কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সিংড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণ ও মারধর করার সঙ্গে জড়িত অন্তত ১১ জনের পরিচয় জানা গেছে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে স্থানীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা তাঁদের শনাক্ত করেছেন।

শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বেশির ভাগ যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মী। তাঁদের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবীবের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক ও গাড়িচালকও রয়েছেন। তবে পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করেনি।

গতকাল সোমবার বিকেল চারটার কিছুক্ষণ পর নাটোর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভেতর থেকে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেনকে মারধর করতে করতে একটি কালো মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। বিকেল পাঁচটার কিছু পরে দুর্বৃত্তরা তাঁকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁর গ্রামের বাড়ির (সিংড়ার কলম ইউনিয়নের পারসাঐল গ্রাম) সামনে ফেলে রেখে যায়। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিংড়ার দুজন সাংবাদিক ও একজন আওয়ামী লীগ নেতা জানান, ভিডিও ফুটেজে সিংড়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহন আলীকে (পাঞ্জাবি পরা) ঘটনার সময় জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের নিচতলায় সিঁড়ির নিচে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদারকে অপহরণ কাজে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। সেখানে কলাপাতা রঙের গেঞ্জি পরা দেখা যায় কলম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেনকে (কাজল)। আকাশি রঙের গেঞ্জি পরে উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক স্বপনের ভাগনে সরলকে ঘটনার সময় দেখা যায়। আর হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পরেছিলেন স্থানীয় যুবলীগ কর্মী পিয়াস।

প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী লুৎফুল হাবীবের ব্যক্তিগত সহকারী জাহিদ হাসানকে সাদা গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট পরে অপহরণে অংশ নিতে দেখা যায়। এ ছাড়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি সেতু সরকার, সাধারণ সম্পাদক মজনু তালুকদার, সিংড়া মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুস সাত্তার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য আনোয়ার হোসেন, পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া নাজমুল হক বাবু, শেরকোল ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি সানোয়ার হোসেন।

এ ছাড়া লুৎফুল হাবীবের গাড়িচালক সুজনকে (ইটালি গ্রামের নিতাইয়ের ছেলে) কালো গেঞ্জি পরে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত কালো মাইক্রোবাসের চালকের আসনে বসতে দেখা যায়। পরে তিনিই মাইক্রোবাসটি চালিয়ে নিয়ে যান।

ওই ঘটনায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের জড়িত থাকার বিষয়ে সংগঠনের জেলা কমিটির সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’

দেলোয়ার হোসেনকে অপহরণের আগে গতকাল বেলা পৌনে ১১টার দিকে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে থেকে তাঁর ভাই এমদাদুল হক ও সহযোগী আলাউদ্দিন মুন্সিকে অপহরণের ঘটনা ঘটে। তখন দেলোয়ার হোসেন লুৎফুল হাবীবের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ করেছিলেন।

লুৎফুল হাবীব রুবেল একাধারে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মন্ত্রী পলকের শ্যালক। দেলোয়ার হোসেনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগে তিনিই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে একমাত্র প্রার্থী ছিলেন। যদিও লুৎফুল হাবীব ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় খবর ও ভিডিও সংবাদমাধ্যমে প্রচারের পরপরই পুলিশ আহত প্রার্থীর মেজ ভাই মজিবুর রহমানকে সদর থানায় ডেকে নেয়। সেখানে তিনি বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। পরে এটি সদর থানায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার এজাহারে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পরই পুলিশ কয়েক দলে বিভক্ত হয়ে দুর্বৃত্তদের আটক এবং অপহৃত দেলোয়ার ও তাঁর ভাইদের উদ্ধারের জন্য তৎপরতা শুরু করে। পরে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁদের কলম বাজারে ফেলে যায়। এ বিষয়ে তাঁদের নাটোর থানায় অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আহত দেলোয়ার হোসেন ও এমদাদুল হককে রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আবু নাছের ভূঞা জানান, তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি পুলিশ সুপারকে বিভিন্ন স্থানে চৌকি বসিয়ে ওই মনোনয়নপ্রত্যাশী প্রার্থীকে উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। তদন্ত করে এ ঘটনার সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোটে নির্বাচিত হয়েও কমিটির অনুমোদন পাচ্ছেন না ভার্জিনিয়া স্টেট বিএনপি

ইমা এলিস, নিউইয়র্ক: সুষ্ঠ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েও কমিটির অনুমোদন পাচ্ছেন না যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য স্টেট বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদকের নির্দেশে গত বছর (২০২৩) ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় এ নির্বাচন। ভার্জিনিয়া বিএনপির ৫টি পদের জন্য দু’টি প্যানেলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উক্ত নির্বাচনে গ্রিন প্যানেলকে নির্বাচিত করেন তিন সদস্যের নির্বাচিত কমিশন। ৬ মাস আগে অনুষ্ঠিত উক্ত নির্বাচনের ফলাফল বিএনপির আন্তর্জাতিক সম্পাদকের সন্তোষজনক না হওয়ায় দীর্ঘদনেও মেলেনি কেন্দ্রিয় কমিটির চূড়ান্ত অনুমোদন। ফলে হতাশ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গোপন ব্যালটের মাধ্যমে ভার্জিনিয়া স্টেট বিএনপির নির্বাচনে গ্রিন ও লাল দু’টি প্যানেল অংশ গ্রহণ করেন। মোট ৬১ জন ভোটারের মধ্যে ৫৮ জন ভোটার গোপন ব্যালটের মাধ্যমে তাদের ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনী ফলাফলে ৫টি পদে গ্রিন পূর্ণ প্যানেলে জয়লাভ করেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা হলেন সভাপতি জহির খান (৩০ ভোট), সাধারন সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ (৩৫ ভোট), সহ-সভাপতি নিজাম আহমেদ (৩৪ ভোট), যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক শরিফুল ইসলাম মানিক (৩২ ভোট) ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির আলম জসিম (৩৪ ভোট)। অপর দিকে পরাজিত লাল প্যানেলের পরাজিত প্রার্থীরা হলেন-সভাপতি পদে নাসের আহমেদ (২৪ ভোট), সাধারন সম্পাদক পদে কামরুন নাহার কণা (১৯ ভোট), সহ-সভাপতি পদে আবুল কালাম আজাদ (২০ ভোট), যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান (২২ ভোট) ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহিদ এ চৌধুরী (২০ ভোট) ভোট পেয়ে পরাজিত হন। ভোট গণনা শেষে নির্বাচন কমিশন মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, এটিএম আলম ও মহিউদ্দিন আনোয়ার বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে সনদপত্র প্রদান করেন।
বিজয়ী প্রার্থীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, ভোট গণনা শেষে থেকে কেন্দ্রিয় কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন নির্বাচন কমিশনারদের ফোন করে ফলাফল সংগ্রহ করেন। তাঁর মনোনীত লাল প্যানেল নির্বাচিত না হওয়ায় তিনি কথা শেষ হবার আগেই ফোন কেটে দেন। এরপর অনেকেই তাঁর সাথে কথা বলার অনেক চেষ্টা করলে ওইদিন তিনি কারো ফোনই আর ধরেননি। কিছুদিন পর উভয় প্যানেলের প্রার্থী ও অন্যান্য বিএনপি নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি জুম মিটিংয়ের আয়োজন করেন। উক্ত সভায় নতুন আহবায়ক কমিটি ও নির্বাচন কমিশন গঠন করে পুনঃভোট গ্রহনের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা ও একচেটিয়া এমন সিদ্ধান্তে হতাশ হয়ে পড়েন ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্য স্টেট বিএনপির নেতাকর্মীরা। তিনি অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোতেও দীর্ঘদিন ধরে একই স্টাইলে একচেটিয়া কমিটি বাণিজ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে চরমভাবে বিতর্কিত করেছেন। অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মীদের তীব্র ক্ষোভ থাকলেও কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না। ফলে কমিটি বাণিজ্যের মাত্রা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে বলে বলে বিএনপির বেশ কিছু নেতাকর্মী অভিযোগ করেছেন।