Home Blog Page 623

কবিতা/এই ছড়াটি মার্চে পড়ো

এই ছড়াটি মার্চে পড়ো

বিল্লাল মাহমুদ মানিক

এই ছড়াটি মার্চে পড়ো মহান নেতার জন্য,

শেখ মুজিবের জন্মদিনে এ মাস অগ্রগণ্য;

সতেরো মার্চ, ১৯২০ তারিখ জাতি ধন্য।

এই ছড়াটি মার্চে পড়ো ভাষণ শুনে শুনে,

সাতই মার্চ, একাত্তরে স্বপ্নের জাল বুনে

ভাষণ দিয়েছিলেন মুজিব কণ্ঠিত আগুনে।

এই ছড়াটি মার্চে পড়ো কালরাত্রির কালে –

পঁচিশে মার্চ, একাত্তরে পাকবাহিনীর জালে

আটকে যাওয়া বাঙালিদের স্বপ্ন জয়ের তালে।

এই ছড়াটি মার্চে পড়ো স্বাধীনতার দিনে,

ছাব্বিশে মার্চ, একাত্তরে যা নিয়েছি কিনে;

স্বাধীনতার ঘোষক মুজিব রেখো সবাই চিনে।

বিল্লাল মাহমুদ মানিক

৬৮/১, ইশামা হাউজ (৫ম তলা)

ফুলবাড়িয়া রোড বাইলেন, আকুয়া হাজী বাড়ি

ময়মনসিংহ মহানগর, ময়মনসিংহ

মোবাইল : ০১৮৪১১৫৪২৮০।

কবিতা/স্বাধীনতা কতটা স্বাধীন

স্বাধীনতা কতটা স্বাধীন

নবী হোসেন নবীন

আমার ঝর্ণা কলম যতটা স্বাধীন

স্বাধীনতা ঠিক যেন তত পরাধীন।

আমি যাহা ভাবি নিজ কল্পলোকে

কলম তা উগরে দেয় কাগজের বুকে।

স্বাধীনতা যেন এক খরস্রোতা নদী

বাঁকা পথে বয়ে যায় ধেয়ে নিরবধি।

আপনার সাধ্য নেই সোজা পথে চলে

সাগরের স্রোত বয় তার নিজ জলে।

মানচিত্রের কারাগারে নিজে হয়ে বন্দি

রাষ্ট্রের সাথে খানিক করে নেয় সন্ধি।

আপন কৃপায় রাষ্ট্র যাহা দিতে চায়

স্বীয় ভোগে স্বাধীনতা ততটুকু পায়।

ভূখণ্ডের পর হচ্ছে ভূখণ্ড স্বাধীন

মুক্তি পায়নি মানুষ আছে পরাধীন।

স্বাধীন মানুষ তার স্বাধীনতা ভুলে

রাষ্ট্রের হাতে দিয়েছে স্বীয় বলগা তুলে।

স্বাধীনতা কোনোদিন হবে না স্বাধীন

রাষ্ট্রের কাছে রবে সে চির পরাধীন।

মানুষ পাবে না কভু বিহঙ্গের ডানা

মন পারে না স্বাধীন মনের ঠিকানা।

গ্রাম-বাঁশিল,ডাকঘর-কাঠালী

উপজেলা-ভালুকা,ময়মনসিংহ

মোবাইল-০১৬১৬১৭৮৮৩১

কবিতা/স্বাধীনতা 

স্বাধীনতা 

মুহাম্মদ আলম জাহাঙ্গীর

পঁচিশ মার্চ কালো রাতে ঘুমন্ত বাঙ্গালির উপর,

নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায় পাপিষ্ঠ পাক হায়েনা।

ওরা হত্যা করে শিশু-কিশোর নারী-পুরুষ ছাত্র-শিক্ষক কবি সাহিত্যিক কৃষক শ্রমিক রহ রহ।

স্টেনগানের গোলায় ঝাঁঝড়া করে অজস্র দেহ।

বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে উপড়ে ফেলে চোখ।

ওরা হায়েনা ওরা পাপিষ্ঠ নেই ওদের কোনো শোক।

ওরা বাঙ্গালির কোটি কোটি বসত ঘর জ্বালিয়ে দেয় পেট্রোল গোলার আগুনে,

লেলিহান অগ্নিশিখায় তা নিমিষেই জ্বলে যেমন- জ্বলে শিমুল পলাশ ফাগুনে।

হত্যা লুট ধর্ষণ করেও ক্ষ্যান্ত হয় না। করে গণধর্ষণ বাঙ্গালি মা বোনদের,

হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিষ্টান অযুত নিযুত ঢের।

দেশের দুর্দিনে মুজিব জিয়ার স্বাধীনতার ডাকে,

ঝাঁপিয়ে পড়ে ছাত্র-শিক্ষক আমজনতা পুলিশ ইপিআর আনসার বাংলার বাঁকে বাঁকে।

সবার একতায় গড়ে ওঠে মুক্তিসংগ্রাম,চলে অবিরত প্রতিরোধ। 

মুক্তিফোর্স গঠন করে আমরা করি দেশ স্বাধীন।

একতার ফলে পাই মা মাটি ভাষা আর কাঙ্খিত স্বাধীনতা।

নতুন পানিসারা,ডাকঘর: পেঁচুল, উপজেলা: শেরপুর,জেলা: বগুড়া 

কবিতা/ বিজয় এলো শেষে

বিজয় এলো শেষে 

আতিকুর রহমান 

পাক বাহিনীর অত্যাচারে 

আকাশ যখন ভারি

বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনে 

জাগলো পুরুষ নারী।

ধরল হাতে অস্ত্র সবাই 

দেশকে স্বাধীন করতে

নির্দ্বিদা তেই নেমেছিল 

মায়ের জন্য মরতে।

স্বাধীনতার স্বপ্ন চোখে 

সাহস ছিলো বুকে

যুদ্ধ দারুন চালিয়ে যায় 

কে বা তাদের রুখে!

হার মেনেছে পাক বাহিনী 

যুদ্ধে অবশেষে

লক্ষ্য ভাইয়ের প্রাণের দামে 

বিজয় এলো শেষে।

________________________

আতিকুর রহমান 

বি-পাড়া, কুমিল্লা ।

কবিতা/তীর্থযাত্রা

তীর্থযাত্রা
সাজু কবীর

যুগের জোয়ালে নত মাথার ওপর
অজানা তপ্ত দুপুর। পাখির গোটানো
ডানায় বাজে গ্রীষ্ম-নূপুর। রোদেরা
মায়ার আঁচল খোঁজে ছায়া সুনিবিড়
বনশ্রীর…

ইট-সিমেন্টের আনাগোনা চিরচেনা
বনে-যেখানে একদা মা আমার লাউবীজ
পেয়েছিলো। পাশে প্রবাহিত নদীগর্ভে
ডুব দিয়ে তুলে এনেছিল সন্তানের
সরল সভ্যতা…

বনের বাহার খুঁড়ে এনে সাজুগুজু
করে শহুরে-সভ্যতা। বেলকনি, ছাদ
উঠোনে-আঙিনায় সবুজ ভালোবাসা,
বুক ভরে শ্বাস নেয় তোমার আমার
তৃষ্ণার্ত আধুনিকতা;

নাগরিক মন আজ প্রকৃতির টানে
প্রয়োজনে তীর্থযাত্রী সেজেছে ঐ বনে…
————————————-
বাহার কাছনা, রংপুর
০১৭১৬২৭৬২৯৬

কবিতা/ ঘাটে এসে অঘটন

ঘাটে এসে অঘটন 

মজনু মিয়া 

জীবনের একটা সময়, মনে হয় যেনো 

সফলতা পেয়ে গেছি,কিন্তু আসলে নয়;

উঁচু সিঁড়ি থেকে হঠাৎ পড়ে গেলে যেমন

আৎকে উঠে মন, বিচলিত হয় জীবন। 

তরী তীরে এসে যেমন ডুবে যায় আচমকা! 

জীবনের কিছু সময় তেমন কূলে কূল হারা;

ভুল পথে হাঁটতে গিয়ে ফসকে যায় কূল

সঠিক পথে চললে নিরাশ হতে হয় না। 

একদা শূন্য থেকে শুরু করে চলছি সদা 

কখনো মুঠো ভরে সফলতা আসলেও তা

জীবন অবসানান্তে হারিয়ে যায় ভুলে

শেষ ঠিকানা হয় গিয়ে কান্না নদীর কূলে।

মির্জাপুর ,টাংগাইল,বাংলাদেশ। 

০১৭২৬০৩৯৮৭০.

বাঙালি কন‍্যা সঞ্চারী দাস মল্লিকের অস্কার জয়!

কলকাতা প্রতিবেদকঃ মহান চিত্র নির্মাতা সত‍্যজিৎ রায়ের অস্কার জয়ের অনেক বছর অতিবাহিত হয়েছে। উল্ল‍েখ‍্য অজস্র অর্জনে ভরপুর বিশ্ববরেণ্য এ নির্মাতার ক্যারিয়ার। প্রথম বাঙালি চলচ্চিত্রকার হিসেবে সত্যজিৎ রায় বিশ্ব চলচ্চিত্রের সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার অর্জন করে বিশ্ব চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলা চলচ্চিত্রের উজ্জল দিপালী শিখা প্রজ্জ্বলন করেন। এই মহান চলচ্চিত্রকারের সম্মানে ও ভালোবাসায় সেজে উঠেছিল সেদিন বিশ্বমঞ্চের মহান আসর অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড বা অস্কার এর মঞ্চ। অনেকের মধ্যে একটি ভুল ধারণা প্রচলিত আছে যে, সত্যজিৎ রায় তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘পথের পাঁচালি’র জন্য অস্কার পেয়েছিলেন। এ তথ্যটি সঠিক নয়। তিনি কোনো নির্দিষ্ট চলচ্চিত্রের জন্য অস্কার আসরের বর্ণময় মঞ্চে আরোহন করেননি। তাঁর আরো অনেক মহান অর্জনকে সম্মান জানাতে এই অস্কার আসর তাঁকে সম্মানিত করে। তাঁর চলচ্চিত্র পরিচালনার অসাধারণ দক্ষতা শৈলী, সংলাপ, চিত্রধারণ কুশলতা, শতভাগ সঠিক পরিবেশ সৃষ্টির পর চিত্র ধারণ, আলোর সঠিক ব‍্যবহার, সত‍্যিকার পরিবেশের সাথে মিশে চিত্রনাট্য তৈরী, জীবন্ত অভিনয় ধারা সৃষ্টি, সংগীতের জীবনমুখী প্রকাশ, অভিনয়ে সত‍্যের ছোঁয়া ও পরিচালনাসহ চলচ্চিত্রের বিভিন্ন শাখায় অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯১ সালে অস্কার কমিটি তাঁকে ‘আজীবন সম্মাননা’ দেয়। অসুস্থতার কারণে তিনি পুরস্কার মঞ্চে উপস্থিত থাকতে পারেননি বাংলা চলচ্চিত্রের এই দিকপাল। মৃত্যুশয্যায় তার অস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতির ভিডিও ধারণ করে পরবর্তীকালে অস্কার অনুষ্ঠানে দেখানো হয়। এই পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী অড্রে হেপবার্ন।

অস্কারের আসরের কথা যখন বাঙ্গালীরা ভুলতেই বসেছিল। আর ঠিক সেই মুহুর্তে এই মহান দিকপালের পথ ধরে আরেক মেধাবী বাঙ্গালী কন‍্যা সঞ্চারী দাস মল্লিকের অস্কার জয়ের গল্প আনন্দের জোয়ার এনেছে বাংলা সংস্কৃতির অঙ্গন জুড়ে। দেশে বিদেশে ও বিশ্ব চলচ্চিত্র মঞ্চে। অগণিত প্রাণে আজ প্রীতির স্পন্দন তোমাকে ঘিরে। সাবাস সঞ্চারী এগিয়ে যাও দীপ্তপায়ে প্রত‍্যাশার দিগন্তজুড়ে। গড়ে তোল আপন ভূবন নবীণ সক্ষমতায়। সাজিয়ে দাও পথে রেখা নারীর নারায়ণী শক্তি ও মমতায়। মূর্ত হোক তোমার ক্ষমতা বিশ্বের নান্দনিক শিল্প ও চলচ্চিত্র বিজ্ঞানের অঙ্গনে। সাহস ও কর্মের স্বর্ণালী আভা ছড়িয়ে পড়ুক পূর্বশার প্রান্ত রেখায়। সৃষ্টি হোক নবীণ অধ‍্যায় বাংলা চলচ্চিত্রের হারানো গৌরবের তীর্থভূমিতে।

বাঙ্গালী মেয়ের কর্মের ঝংকারে আজ বিশ্ব আলোড়িত! এগিয়ে চলার দীপ্ত বাণী অনুরণিত হচ্ছে বিশ্ব অঙ্গনে চলচ্চিত্রের মহাআকাশ জুড়ে। বাঙ্গালীর নতুন স্বপ্নের সারথী আজ নবীণা সঞ্চারী দাস! দীপ্ত প্রত‍্যয় আজো বাঙ্গালী মনে দেদীপ‍্যমান। প্রাণবন্ত সঞ্চারী তার প্রমাণ। সুন্দর বর্ণময় কর্মের সাধনা আজো বাঙ্গালী মনে প্রাঞ্জল। যা অহর্নিশি স্বপ্ন আঁকে মনে শত উদ্দীপনায়। সোনালী স্বপ্নের পথ ধরে এ যাত্রা ক্রমাগত বর্ণময় আবির ছড়াবে আরো নতুন জয়ের দিগন্ত রচনায়; আর নতুন অর্জন ভীড় জমাবে আমাদের শ‍্যামল আঙ্গিনয় দেবী লক্ষীতুল‍্যা সঞ্চারীর মত আরো অনেকের হাত ধরে। যে স্বপ্ন সঞ্চারী সাজিয়েছেন মমতায়, কর্মে ও নব উদ্দীপনায় তা আরও অনেকের নতুন স্বপ্ন সাজিয়ে তোলবে বাংলার প্রান্তরে প্রান্তরে আবার। স্বপ্ন সাজাবে সন্ধ‍্যাপূজার তুলসীতলায় মঙ্গল প্রদীপ আলপনায়!

কলকাতার এই মেধাবী তরুণীর আজ অর্জন করেছেন অস্কার আসরের শিরোপা। সঞ্চারীর এই মহৎ অর্জনে সবাই গর্বিত। হাজারো আশির্বাদে সঞ্চারী আজ ধন‍্য। এমনই হোক পথচলা আরো অনেকের নতুন উদ্দীপনায় কর্মের নতুন জগত সাজাতে। সবার অকৃত্রিম আশির্বাদ ও ভালোবাসা এ পথকে প্রসন্ন স্নিগ্ধতায় সাজিয়ে দিবে এই আমার বিশ্বাস। এক্ষেত্রে আবার যেন বিজ্ঞানী ডা. সুভাষ মুখার্জীর মত অবস্হা না হয়। যিনি ছিলেন এশিয়ায় প্রথম ও বিশ্বে দ্বিতীয় টেষ্ট টিউব বেবীর জনক। যাকে চরম অবহেলা, নিগ্রহ ও পাহাড়তুল‍্য মানসিক নির্যাতনের মধ‍্য দিয়ে এই বাঙ্গালীরা তাঁকে হত‍্যা করেছে। অথচ তাঁর অবদান স্বীকার করে তাঁকে একটু সহযোগিতা করলে একটা নবেল পুরস্কার আসতে পারতো বাঙ্গালীদের ঘরে। তা না করে তাঁকে চরম মানসিক নির্যাতন করে মেরেই ফেলল এই আত্মঘাতী গুণীজন বাঙ্গালীরা! হায়রে বাঙ্গালী গুণীজন! এত হীনমন‍্যতা? নিজেকে সম্মান দিতে শিখনি? কে দিবে এর উত্তর?

‘দ্য এলিফ্যান্ট হুইসপারারস’ স্বল্পদৈর্ঘ‍্য তথ্যচিত্রের জন্য সঞ্চারী এ বিরল সম্মান অর্জন করেছেন। শ্রেষ্ট পথ ধরে অগ্রগামী বাঙালী আবারো শ্রেষ্ট আসর সাজাবে বিশ্ব আঙ্গিনায়। নিজের সংস্কৃতি, সাহিত‍্য, সঙ্গীত, ভাষা ও শিল্পকর্মের প্রতি অধিক যত্নশীল হওয়া জরুরী। অতুল সম্ভাবনার রত্নভান্ডার এই বাংলা সংস্কৃতিকে কোনভাবেই অবহেলা করা যাবে না। সংস্কৃতিকে জ‍্যোতির্ময় পথে নবীণ উদ‍্যমে সগৌরবে আবারো পথচলা শিখিয়েছেন বিশ্ববরেণ‍্য বাঙ্গালী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যার প্রকাশ ঘটেছে তাঁর অনন‍্য অসাধারণ সংস্কৃতি ভাবনায়। যা মুলত: সংস্কৃতিময় বাঙ্গালী প্রাণের মমতা, ভালোবাসা ও সৌন্দর্য‍্য থেকে উৎসারিত। তাঁর পরম মমতায় সাজানো সংস্কৃতির ভাবনায় বলেছেন “কথায় মাধুর্য‍্য, কর্মে কল‍্যাণবোধের ব‍্যঞ্জণা আর আচরণে সুরুচির সামগ্রিক লাবণ‍্যই সংস্কৃতি।” কি নেই এর মধ‍্যে? মানুষের মননের সাথে আধ‍্যাত্মিক জ‍্যোতিস্নাত ক্ষমতার অপূর্ব মিলন না হলে এমন ভাবনার জন্ম হয় না। সংস্কৃতির এমন নান্দনিক উপস্হাপন আমার জানামতে আর কোন ভাষায় ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেই। এখানেই বাঙ্গালী সংস্কৃতির শ্রেষ্টত্ব ও বিশালত্ব। এর মধ‍্যে কি সম্পদ লুকিয়ে আছে যে এ অঙ্গনে বিচরণ করে সেই জানে। অন‍্য ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চা করায় কোন আপত্তি নেই। কিন্তু বাংলা সংস্কৃতি আমাদের অস্হিত্ব। আমাদের প্রাণর স্পন্দন, আমাদের নিশ্বাসে প্রশ্বাসে উপলব্দির অনুভূতি। কিন্তু দুঃখের বিষয় অনেক অভিনেতা অভিনেত্রী বোম্বে চলচ্চিত্রে পা রেখেই বলেন আমি বাংলা বলতে পারিনা। এক্ষেত্রে মুখার্জী পরিবার এগিয়ে। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসার জন‍্য বাঙ্গালী সংস্কৃতি বরিষায় আবারো স্নাত হওয়া প্রয়োজন। আমাদের অস্হিত্বের প্রতি; পরিচয়ের প্রতি অবহেলা করা যাবে না। এর সঠিক যত্ন নিলে অবশ‍্যই আরো সঞ্চারী সৃষ্টি হবে এই সংস্কৃতির অঙ্গনে। শুধু প্রয়োজন পরম শ্রদ্ধায় বাংলা সংস্কৃতির সেবা ও আনুগত‍্য। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বলয় থেকে নিজেকে মুক্ত রাখতে হবে; মুক্ত রাখতে হবে আমাদের সংস্কৃতিকে। আর মনে সাজিয়ে তোলতে হবে বাংলা সংস্কৃতির বিশালত্বের ছবি। নিজের ভাষা, সংস্কৃতি ও সাহিত‍্যকে শীর্ষাসনে প্রতিষ্টিত করার মন্ত্রে দীক্ষীত হতে হবে মনে প্রাণে। পরশ্রীকাতরতা থেকে মুক্ত হয়ে প্রতিভার মূল‍্যায়নে ও সম্মান প্রদানে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রয়াশে শিল্প, সংস্কৃতি এগিয়ে নিয়ে যাবার দীপ্ত বাসনায় উজ্জিবিত হওয়া খুবই জরুরী। যার ফলে আমরা চিনতে ও সম্মান দিতে শিখব নবীণা সঞ্চারী দাস ও অনাদরে হারিয়ে যাওয়া বিজ্ঞানী প্রথম এশিয়ান টেষ্ট টিউব বেবীর আবিষ্কর্তা ডা: সুভাষ মুখার্জীকে।

প্রতিভার সাথে বাঙ্গালীদের প্রাণের মিলন সুদীর্ঘকালের। শুধু প্রয়োজন প্রতিভার যত্ন নেয়া। সমাদরে ও উৎসাহে প্রতিভার কাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দেয়া। এর জন‍্য ভালোবাসা ও দায়িত্বশীলতা দু’টি গুণের সমন্বয় খুব প্রয়োজন। এ দু’য়ের সমন্বয়ে ভালোবাসার পূর্ণতর রুপের প্রকাশ ও বিকাশ ঘটে। আর এই পটভূমিতে গুণের সমাদর হয় সঠিক তাৎপর্য ও মানে। সাম্রাজ্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের কারণে নিজের অজান্তেই আমরা আমাদের সাংস্কৃতিক সক্ষমতাকে ভুলে গিয়ে অন‍্য পথে পা বাড়িয়েছি বারে বারে। এখানে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ বিষয়ে একটু আলোকপাত করা দরকার। কোন একটি দেশের, অঞ্চলের বা জনগোষ্টীর সংস্কৃতি যখন অন‍্য বা অন্যান্য সংস্কৃতি দ্বারা আক্রান্ত হয় বা অন‍্য সংস্কৃতি যখন প্রতিষ্টিত সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলকে ধ্বংস করে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চায় এবং নিজের সংস্কৃতির স্থান যখন অন‍্য সংস্কৃতি দখল করে নেয় তখন সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই অবস্হাকে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলা হয়। আ যখন প্রতিষ্টিত সাংস্কৃতিক বলয়ে অন‍্য সংস্কৃতি আধিপত‍্য বিস্তার করে তাকে বলা হয় সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ।

এ নেশায় যখন মানুষ একবার হাবুডুবু খায় তখন সে নিজের ঐতিহ্য ও অস্হিত্বকে ভুলে যায়। নিজ কাননে পুষ্ফুটিত কুসুমের সুবাস ভুলে অন‍্যের কৃত্রিম সুগন্ধে বিভোর হয়। ঠিক তেমনিভাবে অনেকক্ষেত্রে আমরা ভুলে গেছি পরধন ও পরসংস্কৃতি কখনও আপন ধন ও আপন সংস্কৃতি হয় না। বেলা শেষে ফিরে আসা আপন আলয়ে। সুখোর্জন বিহীন ক্লান্ত পথিকের মত। শুধু পথি মধ‍্যে সময়ের অপচয়; অনাদরে অবহেলায় পথ চলা। অগ্নিসম তপ্ত এ যন্ত্রনা বাংলা মহাকাব‍্যের কবি মাইকেল মধুসুধন দত্ত ছাড়া কে বা জানে এর মর্মবদনা অন্তর দিয়ে? তাই আসুন আমাদরে এলোমেলো সাংস্কৃতিক পদযাত্রা সমাপ্ত করে বর্ণিল আবেশে পরম আন্তরিকতায় আবারও সাজিয়ে তুলি আমাদের আপন সাংস্কৃতিক পরিমন্ডল। উদ্দীপ্ত হই আপন কর্ম ও সধনায়। সত‍্যিকার সাধনার পথ কেউ রুখতে পারেনা। সোনালী অর্জন অবশ‍্যই হাতছানি দিবে স্বপ্ন জয়ের বিশ্বাঙ্গনে। আমাদের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রা কেউ রুদ্ধ করতে পারবে না। এ প্রচেষ্টা হোক দুই বঙ্গের একত্রে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাঙ্গালীদের সমন্বয়ে। তাহলেই অর্জিত হবে আমাদের সাংস্কৃতিক বিজয়। আর বাঙ্গালী সংস্কৃতি নেতৃত্ব দিবে বিশ্ব সাংস্কৃতিক অঙ্গন। জন্ম নিবে শিল্প, বিজ্ঞান, সাহিত‍্য, সিনেমা ও সঙ্গীত অঙ্গনে মেধাবী সঞ্চারী দাসেরা। আজ থেকে এটিই হোক আমাদের ব্রত।

শৈলেন কুমার দাশ, কলকাতা

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীকে সক্ষম করে গড়ে তোলা হচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে এমনভাবে গড়ে তুলছে, যেন বাংলাদেশ কোনোভাবে আক্রান্ত হলে তারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করব না। তবে যদি কখনো তেমন পরিবেশ-পরিস্থিতি হয়, তাহলে যেন আমরা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পারি, সেভাবে আমাদেরও দক্ষতা অর্জন করতে হবে এবং সেভাবেই আমরা আমাদের বাহিনীগুলোকে তৈরি করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার (২০ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনির্মিত ‘বানৌজা শেখ হাসিনা’ সাবমেরিন ঘাঁটির কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।

তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কক্সবাজারের পেকুয়ায় নবনির্মিত ঘাঁটির সাথে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।

জাতির পিতার দিয়ে যাওয়া পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে বৈরিতা নয়’ এর উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমর ওই নীতিতেই বিশ্বাস করি, আমরা কারো সাথে যুদ্ধ করতে চাই না। তবে আমাদের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের প্রতীক। তারা সকল ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করুক, সেটাই আমরা চাই।

তিনি বলেন, জাতিসঙ্ঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশাল ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। সেখানে কর্তব্য পালনে তারা যেন কোনোভাবেই পিছিয়ে না থাকে, সেভাবেই আমরা এই বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি আশা করি, দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্য পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন- ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, এই সমুদ্রসীমায় আমাদের যে বিশাল সম্পদ রয়েছে, ওই সমুদ্রসম্পদ যেন আমাদের অর্থনীতিতে কাজে লাগে, সেজন্য ‘ব্লু ইকোনমি’ নীতি বাস্তবায়ন করছে সরকার। তাছাড়া এক্ষেত্রে আমাদের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা থেকে শুরু করে অনেক সুযোগ রয়েছে কাজ করার।

সরকার প্রধান দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেন, বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্রসীমা সুরক্ষিত রাখতে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরো জোরালো হবে।

অনুষ্ঠানে বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটি থেকে নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রীয় সালাম জানায়।

নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মাদ শাহীন ইকবাল অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ দেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে নৌবাহিনী প্রধান বানৌজা শেখ হাসিনা ঘাঁটির প্রধান কমোডর এম আতিকুর রহমানের কাছে কমিশনিং ফরমান হস্তান্তর করেন। এরপরই ঘাঁটিতে প্রথমবারের মতো পতাকা উত্তলন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সাবমেরিন ঘাঁটির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত অডিও ভিজ্যুয়াল প্রেজেন্টেশনও প্রদর্শিত হয়।

সূত্র : বাসস

চীনা প্রেসিডেন্ট রাশিয়া পৌঁছেছেন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাষ্ট্রীয় সফরে আজ সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কো পৌঁছেছেন।

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উভয়েই সোমবার পৃথক নিবন্ধে দুদেশের বিদ্যমান সম্পর্কের ব্যাপারে তাদের লক্ষ্যের কথা উপস্থাপন করেছেন এবং একে অন্যের প্রশংসা করেছেন।

চীনা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে চীনের প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। আর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তার ‘পুরাতন ভালো বন্ধুর’ আগমনে অনেক আশান্বিত।

পুতিনের আমন্ত্রণে শি জিনপিং আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবার পর্যন্ত মস্কো সফর করবেন।

সর্বশেষ গত বছর চীনে দুজনের দেখা হয়েছিল। সে সময় পুতিন বেইজিংয়ে শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। এছাড়া সেপ্টেম্বরে উজবেকিস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনেও উভয়ের দেখা হয়।

কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় : জি এম কাদের

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জি এম কাদের) বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে স্বাভাবিকভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। কিন্তু বর্তমান সরকার সকল ক্ষেত্রে দলীয়করণ করে কর্তৃত্ববাদী সরকার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকারের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। কারণ, নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট ও প্রশাসনকে সরকার দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। এমন অবস্থায় বা এমন কাঠামোতে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

সোমবার (২০ মার্চ) জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ৯৪তম জন্মদিন উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জি এম কাদের।

রাজধানীর কাকরাইলে পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়েদলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জাপা চেয়ারম্যান তার বড় ভাই মরহুম এরশাদের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন।

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া বা না নেয়ার বিষয়ে কথা বলার সময় এখনো আসেনি। কারণ, সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা এমনই রাখবে নাকি কিছু পরির্বতন করবে তা আমরা এখনই জানি না। সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে নির্বাচনের আগে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জি এম কাদের বলেন, নির্বাচনকেন্দ্রিক সঙ্কট শুরু হয়ে গেছে। দুটি দল নিজের অবস্থানে অটল আছে। এমন অবস্থা থেকে তাদের বেরিয়ে আসার কোনো উপায় নেই। দল দুটি মনে করছে, তারা ছাড় দিলে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে। তারা ভাবছে, ছাড় দিলে নির্বাচনে তারা টিকবে না এবং তাদের রাজনীতি টিকবে না। তাই, সামনের দিকে বাঁচার জন্য দুটি দল জীবনপণ লড়াই করবে। দেশে সহিংসতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার দিকে দেশ ধাবিত হচ্ছে।

কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক সঙ্কট থেকে উত্তরোনের জন্য আমাদের সুপারিশমালা আছে আমরা তা সময় মত জানাবো। আমাদের সুপারিশমালা যদি গ্রহণ করার মত পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তবেই আমরা সুপারিশমালা দেবো। ৩০০ আসনে প্রার্থী দেয়ার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যহত আছে।’

এ সময় জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এমপি, কো-চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু এমপি, এস এম আব্দুল মান্নান, সুনীল শুভ রায়, মীর আব্দুস সবুর আসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও দুপুরে চেয়ারম্যানের বনানীস্থ কার্যালয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদের জন্মদিন উপলক্ষে জাতীয় পার্টি ও বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন কেক কেটে জন্মদিন পালন করেন।