Home Blog Page 635

আবারো বাড়ল বিদ্যুতের দাম

বিদ্যুতের দাম আবারো বাড়ানো হয়েছে। সরকারের নির্বাহী আদেশে এ মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আগামীকাল বুধবার থেকে নতুন এ দাম কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুচরা পর্যায়ে শতকরা ৫ শতাংশ বাড়িয়ে বিদ্যুতের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ দফায় আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে শূন্য থেকে ৫০ ইউনিটের দাম ৩ টাকা ৯৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৩৫ পয়সা, শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিটের দাম ৪ টাকা ৪০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৮৫ পয়সা, ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা, ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৯৫ পয়সা, ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিটের দাম ৬ টাকা ৬৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৩৪ পয়সা, ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিটের দাম ১০ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১ টাকা ৫১ পয়সা এবং ৬০০ ইউনিটের দাম ১২ টাকা ৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ২৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে দুই দফায় বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম। এটি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুই ভাগে কার্যকর হয়েছে। সর্বশেষ ৩০ জানুয়ারির প্রজ্ঞাপনে খুচরা পর্যায়ে ৫ শতাংশ ও পাইকারি পর্যায়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয় বিদ্যুতের দাম।

বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির চাপ সামলাতে এ বছর প্রতি মাসে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় করছে সরকার। আজ বাড়ানোর মাধ্যমে গত ১৪ বছরে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার ও খুচরা পর্যায়ে ১৩ বার বাড়ানো হলো বিদ্যুতের দাম।

আগে গণশুনানির মাধ্যমে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করত এ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আইন সংশোধন করে এ ক্ষমতা হাতে নিয়েছে সরকার। এর পর থেকে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়াচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

চীনা প্রস্তাবে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হবে কি

রাশিয়া-ইউক্রেন সঙ্ঘাতের প্রথম বার্ষিকীতে, বেইজিং ‘ইউক্রেন সঙ্কটের রাজনৈতিক মীমাংসার বিষয়ে চীনের অবস্থান’ শিরোনামে একটি অবস্থানপত্র প্রকাশ করেছে। ১২ দফায় চীনের অবস্থানকে বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। চীনের প্রস্তাবে সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা, শীতল যুদ্ধের মানসিকতা পরিত্যাগ, শত্রুতা বন্ধ, শান্তি আলোচনা আবার শুরু করা, মানবিক সঙ্কটের সমাধান, বেসামরিক ও যুদ্ধবন্দীদের রক্ষা করা, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিরাপদ রাখা, কৌশলগত ঝুঁকি হ্রাস করা, শস্য সরবরাহ বজায় রাখা, রফতানিতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা, শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল রাখা এবং দ্বন্দ্ব-পরবর্তী পুনর্গঠনের কাজ শুরু করার কথা বলা হয়েছে।

ইউক্রেনের আগ্রহ কতটা
যেকোনো শান্তি প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রধান পক্ষ হিসেবে ইউক্রেনের মনোভাব গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক টুইট করে বলেছেন, যেকোনো শান্তি পরিকল্পনায় যদি শুধু একটি যুদ্ধবিরতির কল্পনা করা হয় এবং রাশিয়াকে ইউক্রেনের যেকোনো অংশে দখল চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয় তার অর্থ শান্তি প্রতিষ্ঠা নয়, যুদ্ধকে স্থগিত করা। ইউক্রেন মনে করে দেশটির ভূখণ্ড থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার ছাড়া কার্যকর শান্তি সম্ভব নয়।

আত্মসমর্পণের মতো পরাজিত হবার অবস্থা ইউক্রেনের কোনোভাবেই এখনো সৃষ্টি হয়নি, যাতে তারা রুশ দখল বজায় থাকা অবস্থায় যুদ্ধ বন্ধের বিষয় মেনে নেবে। পূর্ব ইউক্রেনের ফ্রন্টলাইনে কিয়েভ সৈন্যদের মনোবল এখনো উচ্চে। ডনেটস্কের পূর্বাঞ্চলে ‘কুক’ কল সাইন দিয়ে যাওয়া একজন সৈনিক বলেছেন, ‘ঈশ্বর আমাদের সাহায্য করছেন। কেউ ভাবেনি যে ইউক্রেন তার অবস্থান ধরে রাখবে, আমি জানি অলৌকিক ঘটনা ঘটে।’

এর মানে হলো ইউক্রেনিয়ানদের অনেকে এখনো বিশ্বাস করে রাশিয়া পরাজিত হতে পারে। কারণ রুশ জয় মানে ইউরোপের পরাজয়। এরপরও ইউক্রেন চীনের এই প্রচেষ্টাকে একবারে খারিজ করে দেয়নি। প্রস্তাবের বিস্তারিত জানতে চীনা নেতাদের সাথে কথা বলার আগ্রহ ব্যক্ত করেছেন ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি।

পাশ্চাত্যের মনোভাব
ইউক্রেনের মিত্ররা চীনা প্রস্তাবের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সিএনএন-এ বলেন যে, প্রস্তাবের প্রতি তার প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল যে, ‘যুদ্ধটি এক পর্যায়ে থামতে পারে, যদি সব জাতির সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা হয়।’ তিনি উল্লেখ করেন : ‘রাশিয়া যদি ইউক্রেনে আক্রমণ করা বন্ধ করে এবং তার বাহিনী প্রত্যাহার করে তবে এই যুদ্ধ আগামীকাল শেষ হতে পারে… এটি ছিল একটি তৈরি করা যুদ্ধ।’

জার্মান ইউক্রেন সঙ্ঘাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। জার্মান সরকারের মুখপাত্র উলফগ্যাং বুচনার বলেছেন যে, চীনা প্রস্তাবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে, তবে এতে একটি মূল বিষয় অনুপস্থিত রয়েছে সেটি হলো : ‘প্রথম এবং সর্বাগ্রে ইউক্রেন থেকে রাশিয়ান সৈন্য প্রত্যাহার।’

ইউক্রেনের এই যুদ্ধ পশ্চিমাদের জন্য ভূখণ্ড লাভ বা হারানোর চেয়ে অনেক বেশি কিছু। ইউক্রেনীয় জাতি, একটি ইউরোপীয় জাতি, তারা বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করছে। ইউরোপীয়দের আশঙ্কা পুতিন যে সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শ যা অন্য জাতির অস্তিত্বকে অস্বীকার করে আগ্রাসন শুরু করেছে তা কেবল একটিতেই থেমে থাকবে না। রাশিয়াকে যদি আগ্রাসনের সুফল পেতে দেওয়া হয়, যুদ্ধের শিখা আরো ইউরোপীয় দেশে জ্বলবে এবং স্বৈরাচার গ্যাংগ্রিনের মতো ছড়িয়ে পড়বে সবখানে।

রুশ প্রতিক্রিয়া
চীনা প্রস্তাবের পর প্রাথমিকভাবে মস্কো চুপচাপ ছিল। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া ঝাখারোভা বলেছেন, চীনের এই পরিকল্পনার অর্থ হলো ‘ইউক্রেনে পশ্চিমারা যে অস্ত্র ও ভাড়াটে সৈন্যের জোগান দিচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া।’ তিনি আরো বলেন, এই পরিকল্পনার অভিপ্রায় হলো, ‘হিংসার অবসান, ইউক্রেনের নিরপেক্ষ অবস্থানে ফিরে যাওয়া, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন হিসেবে যে নতুন সীমানার বিন্যাস তৈরি হয়েছে, তার স্বীকৃতি প্রদান এবং ইউক্রেনকে নিরস্ত্রীকরণ ও নাৎসিমুক্ত করা ও ইউক্রেন ভূখণ্ড থেকে যে ধরনের হুমকি সৃষ্টি হয়েছে, তার অপসারণ।’ রাশিয়ার এই বক্তব্য সঠিক হলে এটি স্পষ্টত মনে হয় বেইজিং রাশিয়ার সাথে আলোচনা করে এই প্রস্তাব দিয়েছে।

আর রাশিয়ার বাস্তবতা হলো সামরিক বাধা এবং নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও, ৭০ বছর বয়সী পুতিন পশ্চিমাদের নব্য-নাৎসি বাহিনীকে সমর্থন করার অভিযোগ এনে এবং রাশিয়ার বেঁচে থাকাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে দাবি করে পিছু হটতে অস্বীকার করছেন। পুতিন তার রাষ্ট্রীয় ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমরা মানুষের জীবন রক্ষা করছি, এটি (ইউক্রেন) আমাদের আদি বাড়ি, আর পশ্চিমের লক্ষ্য অবিরাম শক্তি প্রয়োগ করা।’ পুতিন এর আগেও একাধিক বার ইউক্রেনকে রাষ্ট্র হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পতিনের কথায় তারই প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
ইউক্রেনের ওপর পুতিনের আক্রমণ এবং এরপর সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে এটি ১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর রাশিয়ার সবচেয়ে বড় গণপ্রস্থান হতে পারে। অনেক রাশিয়ান কিন্তু অর্থনৈতিক সমস্যা এবং বহুসংখ্যক হতাহতের পরও পুতিনের পিছনে সমর্থন বজায় রেখেছেন। মস্কোর ৪৮ বছর বয়সী নিরাপত্তা প্রহরী লিউবভ ইউডিনা বলেছেন, ‘দেশটি সত্যিই উন্নতির জন্য পরিবর্তিত হচ্ছে।’ এর উল্টোটাও রয়েছে। ২৮ বছর বয়সী শিক্ষক রুসলান মেলনিকভ হতাশ হয়ে বলেছেন,‘আমি (রাশিয়ার) এখন কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছি না।’

পুতিন অবশ্য এখন সম্ভবত বুঝতে শুরু করেছেন, ইউরোপ ও ন্যাটোর ওপর বিজয় অর্জন করা মস্কোর পক্ষে অসম্ভব। এজন্য চীনের সাথে অপ্রকাশ্য আলোচনা করে শান্তি প্রস্তাবে তিনি সবুজ সঙ্কেত দিয়েছেন। তবে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করতে চাইলেও অধিকৃত ইউক্রেনীয় অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো ইঙ্গিত দেননি। বরং দখল বজায় রাখার পুনরুল্লেখই করেছেন।

যুদ্ধ কি শেষ হবে?
যুদ্ধ সম্পর্কে বলা হয়, ‘এটি আপনি শুরু করতে পারেন নিজের সিদ্ধান্তে কিন্তু তা আপনি চাইলে শেষ করতে পারেন না।’ একটি পুরনো চীনা প্রবাদ আছে: ‘অসুস্থতা আসে ভূমিধসের মতো, অসুস্থতা যায় সুতোর মতো টানা ধীরগতিতে।’ বেইজিংও উল্লেখ করেছে, আমাদের কারো এমন একটি জাদু-সমাধান নিয়ে আসার আশা করা উচিত নয় যা অবিলম্বে ইউক্রেন সঙ্কট সমাধান করবে। কোনো ব্যক্তি, দেশ বা আন্তর্জাতিক সংস্থা এটি অর্জন করতে পারে না। জটিল সমস্যার সহজ সমাধান নেই। তবে, সমস্যা যত জটিলই হোক না কেন, সংলাপ ও আলোচনার পথ ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়; বিরোধ যতই তীক্ষ্ম হোক না কেন, রাজনৈতিক সমাধানের জন্য অবিচল থাকা উচিত; আর পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন, শান্তির সুযোগ দেয়া উচিত।

চীনের শান্তি প্রস্তাব নিয়ে পশ্চিমারা উচ্ছাস বা গুরুত্ব কোনোটাই দিয়েছে বলে গত কয়েক দিনে মনে হয়নি। বর্তমানে আমেরিকা ও তার মিত্ররা রাশিয়ার সাথে চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নিয়েই প্রশ্ন তুলছে, যদিও চীন বলেছে ইউক্রেন সঙ্কট সমাধানের জন্য পশ্চিমের পক্ষ থেকেই চীনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে বেইজিং যেন রাশিয়ার সাথে তার সম্পর্ককে ব্যবহার করে। পশ্চিমা সূত্রগুলোই বলছে, পুতিন ইউক্রেনে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে চীন ও ভারতের অনুরোধে। এখানে সমস্যাটি হলো যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টি করে না এমন কোনো সমাধান ভালো নয়। অন্য দিকে পশ্চিমারা লাভবান হয় চীন এমন কোন নিষ্পত্তি প্রত্যাশা করে না।

ফ্রান্স টিমারম্যানস এর মতো অনেক বিশ্লেষকই মনে করেন, পুতিন এই যুদ্ধে জিতবে না। আসলে, তিনি ইতোমধ্যে এতে হেরে গেছেন। তবে তিনি এটিকে দীর্ঘায়িত করতে পারেন বা একটি আধা-হিমায়িত সঙ্ঘাত তৈরি করতে পারেন যদি ইউক্রেন রাশিয়ান বাহিনীকে বহিষ্কারের জন্য যা প্রয়োজন তা থেকে বঞ্চিত হয়। যে কোনো শান্তি স্থায়ী হওয়ার জন্য, তা অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত হতে হবে। আর ন্যায়সঙ্গত হতে হলে, এটি অবশ্যই ইউক্রেনের আন্তর্জাতিক সীমানা, এর গণতন্ত্র, এর রাষ্ট্রত্ব এবং নিজের ভাগ্য বেছে নেয়ার অধিকারকে সম্মান করতে হবে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ রাশিয়ার আগ্রাসনের ন্যায্যতা ইউক্রেনের রাষ্ট্রত্ব অস্বীকারের ওপর ভিত্তি করে। এ ধরনের দাবিগুলো একটি রাশিয়ান জাতীয়তাবাদী এবং সাম্রাজ্যবাদী মতাদর্শের জন্ম দেয় যা একটি স্বতন্ত্র ইউক্রেনীয় পরিচয়ের ধারণাকে বাতিল করে।

যুদ্ধ বন্ধ সম্ভব যদি-
এ সময়ে এসে যুদ্ধ সব পক্ষ বন্ধ করতে চায় বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয়। তবে তারা নিজেদের জয়ও একই সাথে নিশ্চিত করতে চায়। চীনা প্রস্তাবের ইতিবাচক দিক হলো, এখানে একটি মধ্যপন্থার সন্ধান করা হয়েছে। ভৌগোলিক অখণ্ডতার স্বীকৃতি এতে রয়েছে আবার রাশিয়ার ওপর আরোপিত একপাক্ষিক (জাতিসঙ্ঘে ছাড়া) বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে আর এখন এটি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ দুটি বিষয়কে নিষ্পত্তি করা ছাড়া ইউক্রেন নিয়ে কার্যকর সমঝোতা হবে বলে মনে হয় না। এ ক্ষেত্রে ডনবাস অঞ্চলকে ছাড়তে হবে রাশিয়াকে আর ক্রিমিয়ার ওপর রাশিয়ার দখলদারিত্বকে মেনে নিতে হবে কিয়েভকে। তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও ইউক্রেনের অধিকৃত অঞ্চল থেকে রাশিয়ান সৈন্য প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে। ইউক্রেনের অবকাঠামো পুনর্বাসনে রাশিয়াকে ক্ষতিপূরণের মাধ্যমে অংশ নিতে হবে। দনবাসে মিনসক চুক্তি অনুসারে ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা যেতে পারে। যেটি নিশ্চিত করতে পারে জাতিসঙ্ঘ বাহিনী মোতায়েনের মাধ্যমে। এই মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য হলে বাকি বিষয়গুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত হয়ে যেতে পারে। তবে মধ্যস্থতার এই প্রক্রিয়ায় কেবলমাত্র চীনের সম্পৃক্ততাই সমাধানে উন্নীত হতে সহায়তা করবে না। এখানে তুরস্ক বা ইউরোপের কোনো দেশকেও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজন হতে পারে। কারণ শান্তি প্রতিষ্ঠায় চীনের একক কৃতিত্ব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না তার প্রতি প্রতিদ্ব›দ্বীসুলভ মনোভাবের কারণে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের চীন সফরের পরিকল্পনার সাথে এর কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকতেও পারে।

mrkmmb@gmail.com

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন ওবায়দুল কাদের

স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ বুধবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি।

বুধবার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার শেখ ওয়ালিদ ফয়েজ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ০৫৮৪ ফ্লাইট যোগে সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ওবায়দুল কাদের ঢাকা ত্যাগ করেন।

সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে আগামী ৩ মার্চ তিনি ঢাকায় ফিরবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ২ জানুয়ারি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

যুদ্ধের নতুন মোড় : রাশিয়ায় ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইউক্রেন!

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাশিয়া অভিযোগ করেছে, ইউক্রেন তার দেশের ওপর ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনের সাথে তার সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার ইউক্রেনের একটি ড্রোন মস্কোর থেকে ১০০ কিলোমিটার (৬০ মাইল) দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বিধ্বস্ত হয়। এটি রুশ প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য বেশ কঠিন ঘটনা বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

রুশ রাজধানীতে বক্তৃতাকালে পুতিন সুনির্দিষ্ট কোনো হামলার কথা উল্লেখ না করলেও পশ্চিম ও দক্ষিণ রাশিয়ার কয়েকটি এলাকায় ড্রোন হামলার পর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া কর্তৃপক্ষ সেন্ট পিটার্সবার্গের আকাশপথ বন্ধ করে দিয়েছে।

এছাড়া মঙ্গলবার বেশ কয়েকটি রুশ টেলিভিশন স্টেশন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্ক ঘণ্টা বাজায়। তবে পরে বলা হয়, এটি হ্যাকিংয়ের কারণে হয়েছে।

ড্রোন হামলায় কেউ হতাহত না হলেও তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে ইউক্রেনে হামলার এক বছর পূর্তি হয়। এই প্রেক্ষাপটেই ড্রোন হামলা হচ্ছে রাশিয়ায়।

এ ব্যাপারে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তারা আগেও এ ধরনের হামলা ও অন্তর্ঘাতের বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছে।

সূত্র : আল জাজিরা

গ্রিসে ২ ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ২৬, আহত ৮৫

গ্রিসে দুটি ট্রেনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত এবং ৮৫ জন আহত হয়েছে। গ্রিসের উত্তরাঞ্চলে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় ব্রডকাস্টার ইআরটি জানিয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

গ্রিসের দমকল বাহিনী জানায় মঙ্গলবার মধ্যরাতের সামান্য আগে ৩৫০ জনের বেশি যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় মালবাহী একটি ট্রেনের।

এতে আরো বলা হয়, যাত্রীবাহী ট্রেনটি রাজধানী অ্যাথেন্স থেকে থেরালোনিকি যাচ্ছিল।

সূত্র : সিএনএন

অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশকে কি থামাতে পারবে ইংলিশ সিংহরা?

রাত পোহালেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। দীর্ঘ সাত বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বাঘেদের ডেরায় বাঘেদের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা। বাঘ-সিংহের এই লড়াই অনুষ্ঠিত হবে শের-ই-বাংলায়, খেলা শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ১২টায়।

বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন দল হয়েও বাংলাদেশকে নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় ইংল্যান্ড। কারণটাও অবশ্য যুক্তিসঙ্গত, দেশের মাটিতে বাঘ নামধারী বাংলাদেশ দলটাকে যে সত্যিকার বাঘ রূপেই দেখা মেলে। আর ফরম্যাট যখন ওয়ানডে, তখন সাকিব-তামিমদের যে গুণতেই হচ্ছে ইংল্যান্ড দলের।

২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল যেন হয়ে উঠেছে অপ্রতিরোধ্য। বিশেষ করে দেশের মাটিতে। গত সাত বছরে দেশের মাটিতে ১৫টি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে টাইগাররা, যার মাঝে ১৪টি সিরিজেই জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ। যেখানে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো পরাশক্তি ছাড়াও ভারতকে একাধিকবার সিরিজ হারিয়েছে তামিম-সাকিবরা।

২০১৪ সালের নভেম্বরের পর দেশের মাটিতে দ্বিপক্ষীয় ও ত্রিদেশীয় সিরিজ মিলে মোট ৪৬টি ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ। যেখানে ৩৮টি ম্যাচেই শেষ হাসি হেসেছে টাইগাররা। আর হার মাত্র একটা সিরিজে। ইংল্যান্ড দল সেখানেই খুশী হয়ে উঠতে পারে, একমাত্র সিরিজ হারটা যে ছিল তাদেরই বিপক্ষে; ২০১৬ সালে। সাত বছর আগে সেবার ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল টাইগাররা।

সাম্প্রতিক ফর্মও অবশ্য টাইগারদের পক্ষেই কথা বলে। সদ্যই আরেক পরাশক্তি ভারতকে বাংলাদেশ দল নাকানিচুবানি খাইয়ে ছেড়েছে। সুবাদে আত্মবিশ্বাসের চূড়াতেই আছে তামিম বাহিনী। বিপরীতে বিশ্বকাপ শিরোপাধারীদের আকাশে দুশ্চিন্তার কালো মেঘ দানা বেঁধেছে। শেষ ১২ ওয়ানডে ম্যাচে থ্রি লায়ন্সরা মাত্র তিনটি জয়ের মুখ দেখেছে। আর শেষ সাত ম্যাচে মাত্র একটি!

এখন দেখার বিষয় এই সিরিজেও এমন অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা ধরে রাখতে পারে কিনা বাংলাদেশ। নাকি ফের টাইগারদের রুখে দেবে ইংলিশ সিংহের দল?

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে বাসায় খালেদা জিয়া

ঢাকা ডেস্ক : নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে গুলশানের বাসায় ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার বিকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে নেওয়া হয়। এরপর এক্স-রে, ইসিজি, আল্ট্রসনোগ্রাফিসহ কিছু পরীক্ষা করানো হয়। প্রাথমিকভাবে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে মেডিকেল বোর্ড তাকে ভর্তি না করিয়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন। এর আগে ২২ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পর ২৮ আগস্ট ফের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ভর্তি করানো হয়। দুদিন হাসপাতালে থাকার পর ৩১ আগস্ট বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘদিন পর চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে-এমন খবরে সোমবার দুপুর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তার গুলশানের বাসার সামনে জড়ো হতে থাকেন। বাসার সামনে এবং আশপাশের সড়কে অবস্থান নেন বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যও। বিকাল সোয়া ৪টায় বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় হাসপাতালে পৌঁছান খালেদা জিয়া। প্রিয় নেত্রীকে একনজর দেখার জন্য সেখানেও ভিড় করেন নেতাকর্মীরা। চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে হাসপাতালের সামনের সড়কে মিছিল করেন তারা। দেন সরকারবিরোধী নানা স্লোগান। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে হাসপাতাল থেকে বাসার উদ্দেশে রওয়ানা দেয় খালেদা জিয়ার গাড়িবহর। পৌঁছে সোয়া ৮টায়। তার গাড়ির সামনে-পেছনে ছিলেন বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী। পুরো সময় তারা তাকে কর্ডন করে রাখে।
খালেদা জিয়া বাসায় পৌঁছার পর সেখানে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক এজেডএম জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে এভারকেয়ার হাসপাতালে চেয়ারপারসনকে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন ধরনের যেসব পরীক্ষা করা দরকার, সেগুলো করা হয়েছে। ওই পরীক্ষার রিপোর্ট কাল পাওয়া যেতে পারে। এরপর চিকিৎসকরা বসে পরবর্তী সময়ে ম্যাডামের চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। এক্ষেত্রে চিকিৎসার ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।’
বর্তমানে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি আগের মতোই আছেন। শারীরিক অবস্থা আগের মতো আছে। অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, যুগ্মমহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্ববায়ক আমান উল্লাহ আমান, সদস্য সচিব আমিনুল হক, বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, যুবদলের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম নিরব, যুবদলের সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোনায়েম মুন্না, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জাহাঙ্গীর, মামুন হাসান, মাহবুবুল হাসান ভুঁইয়া পিংকু, ইসহাক সরকার, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
১০ জুন গভীর রাতে বুকে ব্যথা নিয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের অধীনে ভর্তি হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। পরে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে তার হার্টে একটি রিং বসানো হয়। হার্টের দুটো ব্লক এখনো রয়ে গেছে।
খালেদা জিয়া হার্টের সমস্যা, লিভারসিরোসিস ছাড়াও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, দাঁত ও চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতা রয়েছে তার। কারাগার থেকে বেরোনোর পর চিকিৎসার জন্য কয়েক দফা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন তিনি।

মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করেছি: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা মানুষের ভাতের ব্যবস্থা করেছি। আজ মঙ্গলবার কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন সরকারপ্রধান। এ সময় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভূয়সী প্রশংসা করেন তিনি। এর আগে দুই যুগ পর কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সকাল ১১টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে মিঠামইনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাসে অবতরণ করেন তিনি। পরে তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ সেনানিবাস উদ্বোধন ও পতাকা উত্তোলন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
আবদুল হামিদ সেনানিবাসটি ২৭৫ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে হাওড়ে উৎসমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সফরকালে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে অতিথি হয়ে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উপজেলা সদরের কামালপুর গ্রামে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বাড়িতে দুপুরের খাবারের নিমন্ত্রণে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে সেখানে অপেক্ষায় থাকবেন রাষ্ট্রপতি।

আলুর যত অজানা গুণ

ঢাকা ডেস্ক: আলু যে শুধু রসনাতৃপ্তি দেয়, তা কিন্তু নয়। শরীরের যত্ন নিতেও এই সবজির জুড়ি মেলা ভার। আলুতে রয়েছে ভরপুর পটাশিয়াম। কিন্তু সোডিয়ামের পরিমাণ অত্যন্ত কম। উচ্চ রক্তচাপ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে সোডিয়াম। তাই হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে ভরসা রাখতে পারেন আলুর ওপরে। চিকিৎসকদের মতে, বেশ কিছু শাকসবজি ক্যানসার প্রতিরোধ করতে পারে। সেই তালিকায় অন্যতম হলো আলু। সেই জন্য ডায়াবিটিস বা এই ধরনের কোনো ক্রনিক সমস্যা না থাকলে, প্রতি দিনের খাদ্য তালিকায় আলু রাখার কথা বলে থাকেন পুষ্টিবিদরা।
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হৃদরোগ থাকলে প্রতি দিনই খেতে পারেন আলু। পুষ্টিবিদদের মতে, আলুতে কোলেস্টেরল বা স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ একেবারে কম। নেই বললেই চলে। হার্ট অ্যাটাকের আশঙ্কা বাড়াতে এই দু’টি উপাদানই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। তাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে রোজ খেতেই পারেন আলু। এতে সুফল পাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে উত্তাপ বাড়াচ্ছে গ্যাসের চুলা

নিউইয়র্ক ডেস্ক : রান্নার কাজে সারা বিশ্বেই গ্যাসের ব্যবহার রয়েছে। তবে রান্নায় গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সমপ্রতি উত্তপ্ত বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভক্তি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাসের চুলার ব্যবহার বন্ধ নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য ইকোনমিস্ট। গত ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সংস্থা কনজ্যুমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশনের (সিপিএসসি) অন্যতম কমিশনার রিচার্ড ট্রুমকা জুনিয়র জানান, তারা গ্যাস হাব নিষিদ্ধের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এটিকে ‘গোপন বিপদ’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি। কিন্তু তার এই মন্তব্যে ফুঁসে ওঠেন রক্ষণশীলরা। অনেকেই এর জন্য সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে দায়ী করেছেন। টেক্সাসের রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান রনি জ্যাকসন টুইটারে ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, ‘হোয়াইট হাউসের উন্মাদরা যদি চুলা কেড়ে নিতে আসে, তারা আমার মৃতের মতো ঠাণ্ডা হাত থেকে সেটি ছিনিয়ে নিতে পারে। এসো, নিয়ে যাও!’ অ্যান্ড্রু নামে টেলিভিশনের এক তারকা শেফ ওই পরিকল্পনার প্রতিবাদে টেপ দিয়ে নিজেকে চুলার সঙ্গে বাঁধেন। এমনকি কিছু ডেমোক্র্যাটও ক্ষোভপ্রকাশ করেন। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার সিনেটর জো মানচিন এই নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনাকে ‘বিপর্যয়ের রেসিপি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। কিন্তু কেন গ্যাসের চুলা যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতির যুদ্ধের অংশ হয়ে গেল – এবং গ্যাসের চুলা আসলেই বন্ধ করা হবে কি না?
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩৮ শতাংশ পরিবারে গ্যাসের চুলা রয়েছে। যদিও রাজ্যভেদে এর হার ভিন্ন হতে পারে। অনেকের মতে, এগুলো বৈদ্যুতিক চুলার তুলনায় সস্তা এবং বেশি কার্যকরী, এমনকি গ্যাসের চুলায় রান্না করা খাবারের স্বাদও নাকি বেশি ভালো। ১৯৩০-এর দশক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে একটি বিজ্ঞাপনে ‘কুকিং উইথ গ্যাস’ (গ্যাস দিয়ে রান্না)। এটি মার্কিনিদের মনে পাকাপোক্ত আসন করে নিয়েছে। আমেরিকান গ্যাস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বাণিজ্যিক সংগঠন কুকিং উইথ গ্যাস ডট অর্গ ওয়েবসাইটে নিয়মিত রেসিপি প্রকাশ করে থাকে। স্পনসর করা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে দেশটির ইনফ্লুয়েন্সাররাও তাদের গ্যাসের চুলা নিয়ে উচ্ছ¡াস প্রকাশ করেন। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব চুলা নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইডসহ বিভিন্ন দূষণকারী পদার্থ নির্গত করে এবং হাঁপানিসহ স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত নানা ঝুঁকি তৈরি করে। ভেন্টিলেশন বা বায়ু চলাচলের উন্নত ব্যবস্থা থাকলে এসব বিপদের ঝুঁকি হয়তো কিছুটা কমানো সম্ভব। কিন্তু তাতেও অভ্যন্তরীণ দূষণ খুব একটা কমে না। জ্বলন্ত গ্যাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড ও মিথেনসহ নানা গ্রিনহাউস গ্যাসও নির্গত হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রাহকদের গ্যাসের চুলার পরিবর্তে বৈদ্যুতিক চুলা ব্যবহারের জন্য প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। এতে ৮৪০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। কিন্তু দেশটিতে যেহেতু ৬০ শতাংশ বিদ্যুৎই গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর মাধ্যমে উত্পাদিত হয়, তাই গ্যাসের চুলার বিকল্পও পুরোপুরি সবুজ বা নিরাপদ থাকছে না। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানোর চেষ্টায় বেশ কিছু ডেমোক্র্যাট-শাসিত সিটি কাউন্সিল গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে আইন পাস করেছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম শহর হিসেবে নতুন ভবনগুলোতে হিটিং ও রান্নার কাজে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বার্কলে। সে সময় ক্যালিফোর্নিয়ার রেস্তোরাঁ অ্যাসোসিয়েশন নগর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করেছিল (পরে এক বিচারক মামলাটি খারিজ করে দেন)।
চলতি বছর নিউইয়র্ক সিটিতে কিছু নতুন ভবনে গ্যাসের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের জন্য প্রস্তাবিত অনুরূপ পরিকল্পনাটি গত বছর আইনসভায় পাস হতে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২০টির বেশি রাজ্য স্থানীয় নিষেধাজ্ঞাগুলো আটকানোর জন্য আইন চালু করেছে। এসব রাজ্যের মধ্যে বেশিরভাগই রিপাবলিকান-শাসিত এবং কিছু রাজ্য গ্যাস উত্পাদকও। আপাতত মার্কিনিদের রান্নার অভ্যাসে কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ অবশ্যম্ভাবী নয়। গত ১১ জানুয়ারি হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন, এই মুহূর্তে বাইডেন প্রশাসনের গ্যাসের চুলা নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই। স্বাধীন সংস্থা সিপিএসসি-ও ‘কারো গ্যাসের চুলা কেড়ে নিতে আসছে না’ বলে টুইটারে জানিয়েছেন কমিশনার ট্রুমকা।
এরপরও জাতীয়ভাবে যদি কখনো কোনো নিষেধাজ্ঞা আসে, সেটি হতে পারে বড়জোর নতুন কুকারের ওপর, পুরোনো গ্যাসের চুলায় নয়। সিপিএসসি’র বর্তমান অগ্রাধিকার হলো নতুন পণ্যের মান উন্নত করা। এটি গ্যাসের চুলা ‘রক্ষাকারীদের’ কিছুটা হলেও স্বস্তি দেওয়া উচিত।