Home Blog Page 64

দেশে ৮২ লাখ মানুষ মাদকে আসক্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাদক মামলার জট কমাতে হচ্ছে আলাদা ট্রাইব্যুনাল

দেশের ৮২ লাখ মানুষ বিভিন্ন ধরনের মাদকে আসক্ত বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এজন্য মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তাদের অস্ত্র দেওয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ১৫ টি বেসরকারি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রকে অনুদানের চেক হস্তান্তর করা হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকসংক্রান্ত প্রায় ৮০ হাজার মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, পাশাপাশি প্রথাগত আদালতেও এর বিচার কাজ চলবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন দিয়ে কার্যকরভাবে মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাচ্ছে না। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেরই সশস্ত্র গ্রুপ রয়েছে, অথচ অভিযানে যাওয়া অধিদপ্তরের পরিদর্শকদের কাছে কোনো অস্ত্র নেই। এ পরিস্থিতিকে তিনি ‘ঢাল-তলোয়ারবিহীন নিধিরাম সর্দারের’ সঙ্গে তুলনা করেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, মাদক শনাক্তকরণে পর্যাপ্ত পরীক্ষাগার নেই। ফলে জব্দ হওয়া মাদকের দ্রুত পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও সমস্যা হচ্ছে। অন্যদিকে মামলা পরিচালনায় বিদ্যমান আদালতগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারের পর থানায় হস্তান্তরের আগে রাখার জন্য অধিদপ্তরের নিজস্ব কোনো হাজতখানা নেই। সংশোধিত আইনে হাজতখানা নির্মাণ, পরিবহন সুবিধা, ডগ স্কোয়াড এবং আধুনিক অস্ত্র সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। এসব সক্ষমতা বৃদ্ধির পর আরও জোরালো অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে তোলা হবে বলে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, অপরাধের ধরন বদলে গেছে। এখন অনলাইনে মাদক কেনাবেচা হচ্ছে, সেই অর্থ অবৈধ পথে পাচার হচ্ছে এবং মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করা হচ্ছে। এসব অপরাধ মোকাবিলায় শক্তিশালী আইনি কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা চালু হচ্ছে রোববার

বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় ভারতীয় ভিসা সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন দেশটির নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য আবার ট্যুরিস্ট ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হবে।

এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে পরিচয়পত্র পেশ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা মিশনের দায়িত্ব শুরু করেন তিনি। এরপর ভারতীয় ভিসা সেন্টারে যান। সেখানে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডব্লিউইএফের সিইওর সাক্ষাৎ জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশের জন্য সহায়তার আহ্বান

সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশসহ বদ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

গতকাল মঙ্গলবার চীনের দালিয়ানে ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলোইস জুইংগির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে এই বৈঠক হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের বিবৃতি ও ইউএনবি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বৈঠকের শুরুতে আলোইস জুইংগি বাংলাদেশের সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ডব্লিউইএফের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

পরিবেশ রক্ষায় বাংলাদেশের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল পুনর্খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পে উৎসাহের কথা জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে। গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে বিনিয়োগ করছে এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করেছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষিতে সহায়তা ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর ওপর পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি ব্যাপক মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারাজকেও আধুনিকীকরণ করছি।’
তারেক রহমান আরও জানান, বাংলাদেশে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসাহিত করতে সরকার কর রেয়াত সুবিধা দিচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়। আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সবাই মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সংগত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।’ তিনি বলেন, জলবায়ু সহনশীলতার অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কপ৩১ এবং কপ৩২ (আগামী নভেম্বরে তুরস্কের আন্তালিয়া এবং আগামী বছর ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলনের অধিবেশন)-এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য, অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনা; দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য ও চাহিদাসাপেক্ষ করা, যার মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ত্বরান্বিত হয়; তৃতীয়ত, বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন শুধু নীতিগত বিকল্প নয়, এটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডির মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।’

জলবায়ু মোকাবিলায় তারেক রহমানের অভিজ্ঞতা ও উদ্যোগগুলো বৈশ্বিক পর্যায়ে কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন ডব্লিউইএফ প্রধান।
ডব্লিউইএফ প্রধান বলেন, জলবায়ু সহনশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।
বাংলাদেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করেছে, তা যথাযথভাবে বিবেচনা করা হবে বলে ডব্লিউইএফ প্রধান আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ফোরামের পক্ষ থেকে সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠেয় ডব্লিউইএফের বার্ষিক সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান ডব্লিউইএফ প্রধান।
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে মালয়েশিয়া থেকে সোমবার রাতে চীনের বন্দরনগরী দালিয়ানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর দ্বিতীয় দেশ সফর। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে তিনি এ সফরে গেছেন।

চীনে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানসূচি 
দালিয়ানে দুদিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চীনের লিয়াওনিং প্রদেশে ২৩ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের ‘নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এর ১৭তম বার্ষিক সভা হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী অংশ নিচ্ছেন। গতকাল সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত এক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
আজ বুধবার সকালে কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পরে অন্যান্য কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিকেলে তিনি ট্রেনে করে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের মূল আনুষ্ঠানিকতাগুলো বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে তিনি দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং পরদিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে তাঁর।

প্রথমবার এক নাটকে বরেণ্য তিন অভিনয়শিল্পী

প্রথমবারের মতো এক নাটকে অভিনয় করেছেন দেশের তিন বরেণ্য অভিনয়শিল্পী দিলারা জামান, আবুল হায়াত ও ডলি জহুর। প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের ইতিবাচক-নেতিবাচক প্রভাবকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটকটিতে দর্শকদের জন্য সচেতনতামূলক বার্তা রয়েছে বলেন জানান নির্মাতা।

রাহাত কবিরের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত ‘দাদি ভয়ংকর’ নাটকের শুটিং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

নাটকের গল্প নিয়ে রাহাত কবির বলেন, ‘ইন্টারনেট-এর ভালো দিকও আছে খারাপ দিকও আছে। আমরা চাইলে ভালো দিকটা ব্যবহার করতে পারি আবার খারাপ দিকটাও ব্যবহার করতে পারি। নাটকে ভালো খারাপ দুটো দিকই দেখানো হয়েছে। কিন্তু ভালো দিকটা কীভাবে ব্যবহার করা যায়-সেই বিষয়টাই অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখানো হয়েছে।’

আবুল হায়াত বলেন, ‘ভীষণ ভালো লেগেছে নাটকটিতে কাজ করে। কারণ, সিনিয়র কয়েকজন শিল্পীকে এক করে নাটক নির্মাণ করা খুব কঠিন একটি কাজ। নির্মাতা সেটা করতে পেরেছেন।’

দিলারা জামান বলেন, ‘প্রযুক্তি আমাদের যতোটা স্বচ্ছন্দ দিচ্ছে ঠিক ততোটা বিপদও ডেকে আনছে। সেই ব্যাপারে মূলত নাটকের মধ্য দিয়ে সবাইকে সাবধান করে দেওয়া। খুব ভালো লেগেছে একসঙ্গে একই নাটকে অভিনয় করে। আমার তো বারবার সেই শেষ পত্রের দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিলো।’

ডলি জহুর বলেন, ‘অনেক বছর আগে আবুল হায়াত ভাইয়ের পরিচালনায় আমরা চারজন একসঙ্গে অভিনয় করেছিলাম, তারমধ্যে শর্মিলী আপা আমাদের মাঝে নেই। আসলে দিলারা আপা, হায়াত ভাইয়ের সঙ্গে এক নাটকে কাজ করাটা এটা যে আসলে কতোটা ভালোলাগার বিষয় তা ভাষায় প্রকাশের নয়।’

আবুল হায়াত, দিলারা জামান ও ডলি জহুর ছাড়াও এই নাটকে অভিনয় করেছেন নাদের চৌধুরী, করভী মিজান, আরশ খান ও প্রিয়ন্তী উর্বী। শিগগিরই একটি ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রচার হবে।

গরমকালে হজমশক্তি দুর্বল হয় কেন? প্রতিকারে যা করবেন

গরমের দিন তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে অনেকেই হজমের সমস্যায় ভুগতে শুরু করেন। তবে কী কারণে এমন হয় অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। অধিকাংশ মানুষেরই প্রচণ্ড গরমের সময় অ্যাসিডিটি, পেট ফাঁপা, গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, বমি বমি ভাব এবং ক্ষুধামন্দার মতো সমস্যাগুলো বেড়ে যায়।

‘ইন্ডিয়া টিভি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়ুর্বেদ অনুসারে, এই উপসর্গগুলির মূল কারণ শরীরের পাচনশক্তির মধ্যে নিহিত। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ আচার্য মনীশের মতে, গ্রীষ্মকালে অতিরিক্ত গরম, পানিশূন্যতা এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে । এর ফলে শরীর ঠিকমতো খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।

গ্রীষ্মের তাপ কীভাবে আপনার হজমতন্ত্রকে প্রভাবিত করে
আয়ুর্বেদ অনুসারে, গ্রীষ্ম ঋতু এমন একটি সময় যা স্বাভাবিকভাবেই হজমশক্তিকে দুর্বল করে দেয়। ঘন ঘন ঘাম, পানিশূন্যতা, ঘুমের অভাব, মানসিক চাপ এবং অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস পাকস্থলী এবং এর কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে, গরম আবহাওয়ায় হজম ব্যবস্থা কম কার্যকর হয়ে পড়ে।

খাবার সঠিকভাবে হজম না হলে কী হয়?
আয়ুর্বেদ অনুসারে, খাবার সঠিকভাবে হজম না হওয়ার ফলে শরীরে টক্সিন পর্দার্থ জমা হতে থাকে। এর ফলে ক্লান্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, দুর্বল বিপাক, অ্যাসিডিটি এবং হজমের অস্বস্তি হতে পারে। যেহেতু শরীরের প্রতিটি টিস্যু হজমের মাধ্যমে প্রাপ্ত পুষ্টির উপর নির্ভরশীল, তাই শরীরে সুস্থতার জন্য হজম ব্যবস্থা স্বাস্থ্যকর হওয়া দরকার বলে মনে করা হয়।

 যা হজমের অবনতি ঘটাতে পারে
আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানও স্বীকার করে যে, গ্রীষ্মকালে পানিশূন্যতা এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিমাণে প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজা খাবার, কার্বনেটেড পানীয়, চা, কফি এবং অনিয়মিত খাবার গ্রহণ হজমের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সেই সঙ্গে মানুষকে অলস ও ক্লান্ত বোধ করাতে পারে।

তবে, আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, গরম আবহাওয়ায় কয়েকটি সাধারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন হজমশক্তি এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করতে পারে। যেমন-

সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা
ডাবের পানি, ঘোল এবং লেবুর পানি পান করা
হালকা, তাজা তৈরি খাবার খাওয়া
ভাজা, মসলাদার এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলা
তরমুজ, খরমুজ, শসা এবং ডালিমের মতো পানিযুক্ত ফল খাওয়া
অতিরিক্ত খাওয়া এড়িয়ে চলা এবং হজম ক্ষমতা অনুযায়ী খাওয়া
যোগব্যায়াম এবং প্রাণায়াম 
আয়ুর্বেদ চিকিৎসায় হজমের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য যোগব্যায়াম, ধ্যান এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়। প্রাণায়ামসহ বেশ কিছু আসন স্বাভাবিকভাবে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করতে পারে। সকালের হাঁটা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত দৈনন্দিন রুটিনও গ্রীষ্মকালে বিপাকক্রিয়াকে সচল রাখতে এবং শক্তির মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ঢাকায় গ্রেপ্তার ৪৪, সারাদেশে শতাধিক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নাশকতার শঙ্কায় সরকার ছয় জেলায় সেনাবাহিনী ও পাঁচ জেলায় বিজিবি মোতায়েনসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছিল। কর্মসূচি ঘিরে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর ঢাকাসহ সারাদেশে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থাকলেও বড় কোনো সহিংসতা হয়নি। গত দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সারাদেশে এই আটকের সংখ্যা শতাধিক।

রাজধানীতে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে সেভাবে মাঠে দেখা যায়নি। তবে দেশের কয়েকটি জেলা থেকে মিছিলের খবর পাওয়া গেছে। আর আওয়ামী লীগের তৎপরতা ঠেকাতে সারাদেশে তৎপর ছিল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দল ও সংগঠন।

রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জামায়াতের কর্মসূচি থেকে হামলা চালিয়ে চার সাংবাদিককে আহত করা হয়েছে। পরে এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তদন্ত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে দলটি। সাংবাদিকরাও এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন।

রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান
গতকাল ঢাকা মহানগরজুড়ে পুলিশ-র‍্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর অবস্থান দেখা যায়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ১৮ হাজারের বেশি সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে ডিএমপির পক্ষে নাশকতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করতে দেখা যায়।

গতকাল সকাল থেকে গুলিস্তানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনের সড়কের দুপাশে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। একই অবস্থা দেখা গেছে ধানমন্ডি ৩/এ সড়কের আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয় ও তেজগাঁও দলীয় কার্যালয়ের সামনেও। র‍্যাব-পুলিশকে বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট বসিয়ে ব্যক্তি কিংবা যানবাহনে তল্লাশিসহ টহল দিতে দেখা যায়। সকাল থেকে রাস্তায় গণপরিবহন কিছুটা কম দেখা গেলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা বাড়ে।

নাশকতার শঙ্কায় পুলিশ সোম ও মঙ্গলবার দুদিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে নিরাপত্তার কড়াকড়ির মধ্যে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করায় সাখাওয়াত হোসেন নামে একজনকে আটক করে পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দল (আওয়ামী লীগ) তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে মিছিল, সমাবেশ বা জমায়েত করে সরকারকে বিব্রত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করার পরিকল্পনা করেছিল। তাদের এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।

তবে গতকাল রাত পৌনে ৯টার দিকে দারুস সালাম এলাকার টেকনিক্যাল মোড়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) দারুস সালাম অঞ্চলের সহকারী কমিশনার মো. ইমদাদ বলেন, ধারণা করা হচ্ছে চলন্ত বাস থেকে ককটেলটি ছুড়ে মারা হয়। তবে এতে কেউ আহত হননি। জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

সরব বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি
গতকাল সকাল থেকে মাঠে সরব ছিলেন বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এনসিপির নেতাকর্মীরাও আওয়ামী লীগবিরোধী মিছিল-সমাবেশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, প্রেস ক্লাব, শাহবাগ, ফার্মগেট, ধানমন্ডি, শেওড়াপাড়া, মিরপুরসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, মোটরসাইকেল শোডাউনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন এসব দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

নয়াপল্টনের দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো প্রতিবাদ মিছিল করে। পরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সুযোগ নেই। জনগণ ও গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ আছে।

জামায়াতের মিছিল শেষে হামলা, আহত ৪ সাংবাদিক
গতকাল সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ চলাকালে হামলা চালিয়ে অন্তত চার সাংবাদিককে আহত করা হয়। গুরুতর আহত দৈনিক সকালের স্টাফ রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশিরকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্য আহতরা হলেন– দৈনিক কালবেলার সংবাদকর্মী আব্দুর রহমান ইশান, দ্য নিউজের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মারুফ হোসেন ও যমুনা টিভির রিপোর্টার রাব্বী সিদ্দিকী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোন আয়োজিত মিছিল শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনের সড়কে সমাবেশ চলছিল। এ সময় শুধু দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য দেওয়ার জন্য একজন সাংবাদিক অনুরোধ জানালে ক্ষুব্ধ হন দলটির নেতারা। এ নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডার জেরে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সংক্রান্ত ভিডিওতে জামায়াত নেতা মুস্তাফিজুর রহমান, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, আনিসুজ্জামান, জাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় নেতাকর্মীদের হামলায় অংশ নিতে দেখা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং তখনই সেটা নিষ্পত্তি হয়ে যায় বলে শুনেছি।

সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি দায়ী নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের গতকাল এক বিবৃতিতে এ কথা জানান। এ ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে এই ভুল বোঝাবুঝির সূত্রপাত, তা খতিয়ে দেখতে দলের পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় জামায়াত।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এক বিবৃতিতে এই হামলাকে বর্বরোচিত, গণতন্ত্রবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী অপশক্তির কাজ বলে অভিহিত করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এক বিবৃতিতে একাধিক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর সংঘটিত এই হামলা, হেনস্তা ও লাঞ্ছনার ঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।

জামায়াতের কর্মসূচি চলাকালে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এমআরএ)। গতকাল বিকেলে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেন সংগঠনের সভাপতি ফখরুল ইসলাম।

সারাদেশে ঝটিকা মিছিল, ভাঙচুর
গোপালগঞ্জে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও জেলা প্রশাসন ও পুলিশের কঠোর নজরদারিতে জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত ছিল। এরই মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের দীঘারকুল গ্রামের একটি গ্রামীণ সড়কে পৌর ছাত্রলীগের ব্যানারে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক রিপনের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জন সংক্ষিপ্ত মিছিল ও কেক কাটার আয়োজন করে। গতকাল দুপুরের এই কর্মসূচির ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সুপার মো. হাবীবুল্লাহ জানান, জেলা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নাশকতার আশঙ্কায় নারায়ণগঞ্জের প্রবেশপথসহ সাইনবোর্ড, শিমরাইল মোড়, ফতুল্লা, সৈয়দপুর, সোনারগাঁ, কাঁচপুরসহ গুরুত্বপূর্ণ ১০ স্থানে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। পাশাপাশি বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দেন।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার সাতটি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গা ও নগরকান্দার সীমান্তবর্তী শুয়াদি এলাকায় গতকাল বেলা ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ঝটিকা মিছিল বের করেন। স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগে দুজনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

বিকেলে ভাঙ্গার আলগী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী আরেকটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ধাওয়া দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া তিনজনকে আটক করে মারধর করেন এবং পরে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ছাড়া ফরিদপুরের নগরকান্দা-ভাঙ্গা সীমান্তে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে দুই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে বিএনপি।

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে যুবলীগ নেতা রুহুল আমিন শাকিল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আল আমিনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পিজিপি কেজি স্কুল মাঠে কেক কেটে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সজিব ও বিল্লাল নামে দুই কর্মীকে আটক করেছে।

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় তেলিখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রাঙামাটিতে দুদিনের বিশেষ অভিযানে যুবলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতাসহ ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করে গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের নলমুড়ি ইউনিয়নের হাটুরিয়া বাজারে ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে মধ্যরাতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার রাতে ওই কার্যালয়ে দুর্বৃত্তরা ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই ঘটনায় আওয়ামী লীগ জড়িত দাবি করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে উপজেলা বিএনপি।

বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের মিছিল
আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দেশজুড়ে অপপ্রচার ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে দেশের বিভিন্ন স্থানে মিছিল ও সমাবেশ করেছেন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। গোপালগঞ্জ, মুকসুদপুর ও কোটালীপাড়ায় ফ্যাসিবাদবিরোধী মিছিল এবং নারায়ণগঞ্জে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ ছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিবদমান দুই পক্ষ পৃথকভাবে সতর্ক অবস্থান ও বিক্ষোভ করেছে। কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা বিএনপির সমাবেশ থেকে যুবদল নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দোসররা রাস্তায় নামলে পিঠের চামড়া থাকবে না।

সাতক্ষীরায় জেলা ও পৌর যুবদলের যৌথ উদ্যোগে বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে, যেখানে নেতারা নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার যে কোনো অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্র রাজপথে রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় ছয়টি ইউনিয়নে একযোগে পথসভা এবং মেহেরপুর, লক্ষ্মীপুর ও রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। এ ছাড়া যশোরে জেলা যুবদলের প্রতিবাদ মিছিল শেষে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত প্রতিটি ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে সকাল-সন্ধ্যা সতর্ক পাহারায় থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যুরো, অফিস ও প্রতিনিধি)

আবার নীতি শিথিলতা ব্যাংক খাতে, অপব্যবহারের শঙ্কা

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কৃত্রিমভাবে আর্থিক চিত্র ভালো দেখানোর কৌশল থেকে বেরিয়ে ব্যাংক খাতের প্রকৃত চিত্র সামনে আনা হয়। ফলে খেলাপি ঋণ এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। ঋণ আদায়ে কঠোরতার পথ বেছে নেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন নীতি শিথিলতার পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এর উদ্দেশ্য হিসেবে খেলাপি ঋণ কমানো এবং ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করার কথা বলা হচ্ছে।
তবে এ ধরনের শিথিল নীতির অপব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ ও খাত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা বলছেন, আগে এ ধরনের শিথিলতার কারণে ব্যাংক খাতের অবস্থা দুর্বল হয়েছে।

ব্যাংকাররা জানান, করোনার সময় এক লাখ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়ন হয়। ওই সময়ে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের একটি অংশ নানা উপায়ে কম সুদের ঋণ নিয়ে ফেরত দেননি। সম্প্রতি একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের দাবির মুখে কৌশলে ব্যাংক খাতের একক গ্রাহকের ঋণসীমা বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে। বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে নতুন করে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কম সুদের ঋণ পেতে রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানোর অনেক ঘটনা রয়েছে অতীতে। এ কারণে এসব বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ ব্যাংকাররা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উচ্চ পর্যায়ের দুজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম কাজ। নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে ভারসাম্য রক্ষা করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। কিন্তু ব্যবসায়ীদের দাবির কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিজ্ঞতা ভালো নয়।

কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগের প্রথম মেয়াদে ব্যাংক খাতের নিয়মকানুন আন্তর্জাতিক মানের ছিল। ২০১৪ সালে একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের খুশি করতে বিশেষ সুবিধায় ঋণ পুনঃতপশিল শুরু হয়। সেখান থেকে আর কঠোরতায় ফিরতে পারেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০১৮ সালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে হোটেলে বসে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা সংরক্ষণ (সিআরআর) কমানোর সিদ্ধান্ত

এবং সুদহার নয়-ছয় নির্ধারণ করা হয়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, বন্ধ কারখানা সচল করতে প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণার উদ্দেশ্য হয়তো ভালো। তবে কতটুকু স্বচ্ছতার সঙ্গে এই ঋণ দেওয়া যাবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। শুধু ঋণ দিলেই হবে না; গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, বাজার চাহিদার বিষয় দেখতে হবে।
মাহবুবুর রহমান বলেন, ব্যাংকগুলোর উচ্চ খেলাপি ঋণের মূলে রয়েছে বড় গ্রহীতারা। এখন এলএনজি আমদানিসহ কিছু ক্ষেত্রে সুবিধা দিতে ঋণসীমা হয়তো বাড়ানো হয়েছে। তার মানে এই নয়, ব্যাংকগুলো বড় ঋণ বাড়িয়ে ফেলবে। বিশেষ ছাড়ে ঋণ পুনঃতপশিলের মেয়াদ বারবার বাড়লেও ইচ্ছাকৃত খেলাপিকে সুবিধা দেওয়া ঠিক হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে উচ্চ ঝুঁকির দুর্দশাগ্রস্ত ঋণ বেড়ে ১০ লাখ ৮৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকায় ঠেকেছে, যা মোট ঋণের ৫৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ। গত বছর প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতের নিট লোকসান দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকায়। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মূলধন ঘাটতি ঋণাত্মক, ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমেছে। অনেক ব্যাংক আমানত ফেরত দিতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই বলছেন, দুর্বল ব্যাংক খাতকে পুনরুদ্ধার করা অর্থনীতির জন্য জরুরি হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান সমকালকে বলেন, ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থানেই রয়েছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বন্ধ কারখানা চালুর সুযোগ দিতে বিভিন্ন নীতি-সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগের মতো কেউ যেন অনিয়ম-জালিয়াতি করতে না পারে, সে জন্য তদারকি জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে।

১ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ
খেলাপি ঋণ অস্বাভাবিক বাড়তে থাকায় নামমাত্র ডাউন পেমেন্ট দিয়ে খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিলের সুযোগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। আগের সব রেকর্ড ভেঙে গত বছর এক লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনঃতপশিল হয়েছে। পুনঃতপশিলের মেয়াদ গত বছর শেষ হয়ে যায়। তবে গত ৭ মে অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে বিশেষ পুনঃতপশিলের মেয়াদ আরেক দফা বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে আগামী জুন পর্যন্ত দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১০ বছরের জন্য পুনঃতপশিল করা যাবে। এর মধ্যে ১ শতাংশ দিতে হবে পুনঃতপশিলের সময়। বাকি অর্থ ছয় মাস পর দিলে চলবে।
বেসরকারি একটি ব্যাংকের ঋণ আদায় বিভাগের প্রধান সমকালকে বলেন, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে দুই বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ পুনঃতপশিল সুবিধার কারণে ঋণ আটকে যাচ্ছে। কারণ, এ সময়ের জন্য অন্তত এক টাকাও পরিশোধ করতে হচ্ছে না। এতে অর্থপ্রবাহ কমে অর্থনৈতিক গতি ধীর হচ্ছে।

একক গ্রাহকের ঋণসীমায় বড় ছাড়
একটি ব্যাংক একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ কত শতাংশ ঋণ দিতে পারবে, ব্যাংক কোম্পানি আইনে তা সুনির্দিষ্ট করা আছে। সম্প্রতি এ ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ঋণসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে এলসি বা গ্যারান্টিসহ বিভিন্ন নন-ফান্ডেড ১০০ টাকা দায়ের রূপান্তর হার ধরা হতো ৫০ টাকা। এখন ধরা হবে ২৫ টাকা। এভাবে একটি ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের পুরোটাই ফান্ডেড তথা সরাসরি ঋণ দিতে পারবে। এতদিন যা সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ ছিল।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, একজন আমদানিকারকের সুপারিশে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই শিথিলতা দিয়েছে। ব্যাংক খাতের বর্তমান দুরবস্থার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রথমে এর বিপক্ষে মত দেন। এরপর এ সিদ্ধান্ত জারির আগে আর্থিক সূচকে ভালো অবস্থানে থাকা কয়েকটি ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সেখানে একক গ্রাহকের ঋণসীমা না বাড়ানোর পক্ষে সব ব্যাংক মত দেয়। তবে গত ১৪ মে ঋণসীমায় ছাড় দিয়ে সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দণ্ড সুদ কমিয়ে এক-তৃতীয়াংশ
ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ঋণের সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর আমানতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ দেওয়া যাবে বলে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয়। পরে যা সুদহারে ‘নয়-ছয়’ হিসেবে পরিচিতি পায়। তবে আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার পর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে ঋণের সুদহার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করা হয়। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ঋণ বা কিস্তি সম্পূর্ণ বা আংশিক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে যে সময়ের জন্য মেয়াদোত্তীর্ণ হবে; ওই সময়ের জন্য চলমান বা তলবি ঋণের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ঋণস্থিতির ওপর এবং মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ কিস্তির ওপর সর্বোচ্চ দেড় শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংক। ঋণ পরিশোধের ওপর চাপ তৈরির জন্য এই দণ্ড সুদের বিধান করা হয়েছিল।
ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিএবির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মে এক নির্দেশনার মাধ্যমে এই নিয়মে শিথিলতা আনা হয়েছে। এখন দণ্ড সুদ তিন ভাগের এক ভাগ কমিয়ে মাত্র দশমিক ৫০ শতাংশে নামানো হয়েছে।

প্রণোদনা প্যাকেজ
গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ না পাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমাসহ বিভিন্ন কারণে এখন ঋণ চাহিদা তলানিতে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে নেমেছে। এ অবস্থায় বন্ধ কারখানা সচল, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো ও চলতি মূলধন ঋণ সুবিধা দিতে নতুন করে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৩ মে ঘোষিত নতুন তহবিল থেকে ব্যবসায়ীরা ৭ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। করোনার সময়কার মতোই এ ক্ষেত্রে সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে কম সুদের এ ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, করোনার সময়ে ব্যাংকগুলোকে চাপ দিয়ে তহবিল বিতরণে বাধ্য করা হয়। তখন বারবার বৈঠক করে এক ধরনের চাপ তৈরি করা হতো। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই চাপাচাপির সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিরা কম সুদের ঋণ নিয়ে অপব্যবহার করেছেন। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অর্থ পাচার হয়েছে করোনা-পরবর্তী সময়ে। যে কারণে তখন ৮৪ টাকার ডলার এক লাফে ১২০ টাকায় ঠেকেছিল। ২০২১ সালের আগস্টের ৪৮ বিলিয়নের ওপরে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০ বিলিয়নে নেমেছিল।

জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা র‍্যাপিডের চেয়ারম্যান ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, প্রণোদনা সরকার বিভিন্ন কারণে দিতে পারে। তবে বন্ধ কারখানা সচলের জন্য প্রণোদনা কাজ করবে কিনা, তা দেখার বিষয়। কেননা যে কারখানা বন্ধ হয়েছে, তার বাজার আছে কিনা, তাও বিবেচ্য। আবার কারখানা হয়তো ভেতরের অদক্ষতা বা ব্যবস্থাপনার ঘাটতি কিংবা গ্যাস-বিদ্যুৎ না পাওয়ার কারণে বন্ধ হয়েছে। ফলে ঋণ দিলেই ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চয়তা নেই।

ড. এম এ রাজ্জাক বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়; বিশ্বের কোনো দেশেই শুধু প্রণোদনা শিল্প খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করেনি। কেননা, শিল্পের জন্য প্রণোদনার চেয়ে বেশি দরকার পুনর্গঠন, নীতি-পদ্ধতি, অবকাঠামো ইত্যাদি। করোনার সময় ইউরোপ ও আমেরিকায় ভোক্তা পর্যায়ে প্রণোদনা দেওয়া হয়। তারা জানত, প্রণোদনার ফলে একটা মূল্যস্ফীতি তৈরি হবে। পরবর্তী সময়ে সুদহার অনেক বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে তারা।

এম এ রাজ্জাক বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যে কারণে সরকার হয়তো এখন অস্থায়ী ভিত্তিতে কিছু নীতি গ্রহণ করছে। সরকারের হয়তো এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ কোনো কৌশল থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে দেখা যায়নি। সমস্যা সমাধান করতে হলে সুস্পষ্ট রূপরেখা থাকতে হবে।

 

সাপাহার সীমান্তে ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতায় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বুধবার ভোর ৪টা ১০ মিনিটে নওগাঁ ব্যাটালিয়নের (১৬ বিজিবি) অধীন আদাতলা বিওপির সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত পিলার ২৪৪/এমপি দিয়ে ভারতের ২৯ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের এলেনপুর ক্যাম্পের সদস্যরা ৯ ব্যক্তিকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, তিনজন নারী ও তিনজন শিশু রয়েছে।

খবর পেয়ে আদাতলা বিওপির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিদের সীমান্তের শূন্য লাইনের ভেতরে দেখতে পায়। পরে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পরপরই বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সীমান্তের শূন্য লাইনের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’

এ ঘটনায় সেখানে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সীমান্তে পুশইনের অভিযোগের বিষয়ে কূটনৈতিক ও সীমান্তরক্ষী পর্যায়ে যোগাযোগ চলছে।

ইরানে হামলা চালানো থেকে ট্রাম্পকে বিরত রাখার প্রস্তাব সিনেটে পাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান-সংক্রান্ত সামরিক ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের লক্ষ্যে দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ সিনেটে একটি বিল পাস হয়েছে। বিলটিতে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযান চালানোর আগে প্রেসিডেন্টকে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে অথবা চলমান সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সিনেটে বিলটি ৫০-৪৮ ভোটে পাস হয়। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রতিনিধি পরিষদে এটি ২১৫-২০৮ ভোটে অনুমোদিত হয়েছিল। পরে চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য বিলটি সিনেটে পাঠানো হয়। সিনেটে রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও দলটির চার সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বিলটির পক্ষে ভোট দেন। তারা হলেন লুইজিয়ানার বিল ক্যাসিদি, আলাস্কার লিসা মুরকোওস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স এবং কেন্টাকির র্যান্ড পল। অন্যদিকে রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল ও ডেভ ম্যাককরমিক ভোটদানে বিরত ছিলেন।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে শুধু পেনসিলভেনিয়ার সিনেটর জন ফেটারম্যান বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন। তবে সিনেটে বিলটি পাস হলেও এর মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি ঠেকানো যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কারণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিতে ভেটো দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভেটো অকার্যকর করতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

ভোটাভুটির পর সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সীমিত করতে এটি ছিল সিনেটে তাদের দশম প্রচেষ্টা। অবশেষে ‘যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত’ প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কথা বলে এলেও তার নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্টরা। সেই সমঝোতার ভিত্তিতে সুইজারল্যান্ডে দুই পক্ষের মধ্যে শান্তি আলোচনা চলছে। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জনশক্তি রপ্তানি শিগগির খুলছে না মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বিদ্যমান সমঝোতার মেয়াদ শেষ এ বছরে

বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবার চালু করতে চলমান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের সময় এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।

বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। দ্রুত সংশোধন করা না হলে নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
অবশ্য দুই দেশই মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমাতে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী করতে একমত হয়েছে। এতে কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমে আসবে। তবে এসব প্রক্রিয়া শেষ করে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে সময় লাগবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত রোববার মালয়েশিয়া সফরে যান। পরদিন সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ (জেডব্লিউজি) গঠনের কথা বলা হয়। ওয়ার্কিং গ্রুপ বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) পর্যালোচনা করবে এবং বর্তমান বাস্তবতা ও দুই দেশের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) প্রণয়নের ভিত্তি তৈরি করবে। তবে দ্রুত শ্রমবাজার খুলতে বাংলাদেশ চায় সমঝোতা স্মারকের সংশোধন।
জনশক্তি রপ্তানিকারকরা সমকালকে বলেন, নতুন করে সমঝোতা স্মারক সই করার প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ। চলমান সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করতে দুই বছর ধরে আলোচনা করতে হয়েছে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে পাঁচ বছরের জন্য তা স্বাক্ষরিত হয়।

যদিও প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী গতকাল মঙ্গলবার সংসদে জানিয়েছেন, সরকার মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কাজ করছে। আশা করা যায়, দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সমকালকে বলেন, ‘মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।’

গত সোমবার মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বাংলাদেশিদের জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানান। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে। আমরা একমত হয়েছি, নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং সাশ্রয়ী হতে হবে, যাতে মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমে এবং কর্মীদের খরচ হ্রাস পায়।’

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে প্রতারণা, প্রতিশ্রুত চাকরি ও বেতন না দেওয়া এবং অমানবিক পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করায় মালয়েশিয়া বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার সমালোচনার মুখে রয়েছে। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশি কর্মীদের শোষণ, তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ বা শুধু কোম্পানির লাভের জন্য তাদের ব্যবহার করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। কর্মী নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া ন্যায্য ও মানবিক করা এবং শ্রমিক ও তাদের পরিবারের স্বার্থ রক্ষায় জোর দিয়েছেন আনোয়ার ইব্রাহিম।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধ থাকে বেশি
জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক সংশোধন করে দ্রুত শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা সম্ভব। নতুন সমঝোতা স্মারক সই করতে সময় লাগবে। সে ক্ষেত্রে শিগগিরই কর্মী পাঠানো যাবে না।

বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান গুরুত্ব দিচ্ছেন শ্রমবাজার যেন টেকসই হয়। তিনি বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকেই মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য যতদিন খোলা থাকে; বন্ধ থাকে এর চেয়ে বেশি। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানো ২০০৯ সালে বন্ধ হয়। এরপর ২০১৫ সালে সমঝোতা স্মারক সই হলে ২০১৬ সালে কর্মী পাঠানো শুরু হয়। ২০১৮ সালে কর্মী পাঠানো আবার বন্ধ হয়ে যায়। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে আবার সমঝোতা স্মারক হয়। ২০২২ সালের আগস্টে কর্মী পাঠানো শুরু হয়ে ২০২৪ সালের মে মাসে আবার বন্ধ হয়। কর্মী পাঠানো এখনও বন্ধ আছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর মাসে শেষ হবে। তাই এমন একটি পদ্ধতি নির্ধারণ করা হোক, যখন অন্যান্য দেশ থেকে মালয়েশিয়া কর্মী নেবে, তখন বাংলাদেশ থেকেও নিয়োগ দেবে।
জনশক্তি ব্যবসায়ীরা জানান, ১৪টি দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ করে মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ থাকলেও বাকি ১৩ দেশ থেকে কর্মী নিয়োগ চালু থাকে। শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কখনও খোলা, কখনও বন্ধ থাকে। এর কারণ দুদেশের জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী ও আমলাদের সিন্ডিকেট।

২০২১ সালে স্বাক্ষরিত সমঝোতার স্মারকের বর্ধিতাংশের ৫, ৬ ও ৭ ধারা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ায় পাঠাবে। মালয়েশিয়া সরকার সেখান থেকে ঠিক করবে কোন কোন এজেন্সি কর্মী পাঠাতে পারবে।

২০২২ সালে বাংলাদেশ দেড় হাজার রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা দিয়েছিল। মালয়েশিয়ার তৎকালীন সরকার ২৫ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দিয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে বাছাই করা হয়েছিল, তা কখনও ব্যাখ্যা করেনি তারা। এই ২৫ প্রতিষ্ঠানকে তখন ‘সিন্ডিকেট’ বলা শুরু হয়। ২০১৫ সালেও সিন্ডিকেট নামে পরিচিতি পাওয়া ১০ এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর কাজ দেওয়া হয়। তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টির এমপি, মন্ত্রী, নেতারা ছিলেন অধিকাংশ এজেন্সির মালিক।

এবার কী হবে
শ্রমবাজার খোলার আলোচনা করতে আগামী মাসে মালয়েশিয়ার মানব সম্পদমন্ত্রী আর. রামানান ঢাকা সফরে আসতে পারেন। তিনি সোমবার এক বিবৃতিতে বলেছেন, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়াকে শোষণ, বৈষম্য ও আর্থিক লেনদেনমুক্ত রাখতে মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের যৌথ অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সুশাসন, শ্রমিক কল্যাণ এবং নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন, যা উভয় দেশের জন্যই উপকারী হবে।

ঢাকার জনশক্তি রপ্তানিকারকদের দাবি, কর্মী নিয়োগের সিন্ডিকেটের ‘গোড়া’ মালয়েশিয়া। সে দেশের সরকারের প্রভাবশালী অংশ এর নিয়ন্ত্রক। বাংলাদেশে থাকা প্রভাবশালীরা তাদের সহযোগী। তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফরে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও সর্বোচ্চ পর্যায়ে শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে কথা বলেছেন। শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণে এদের অনেকের প্রভাব থাকে।
বিভিন্ন সূত্র সমকালকে জানায়, মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগে কাজ করে ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (এফডব্লিউসিএমএস) নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান বেস্টিনেট। এর মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক আমিনুল ইসলাম নুর। তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ আছে। বাংলাদেশ অংশে এর নেতৃত্বে ছিলেন ২৫ এজেন্সির ‘সমন্বয় করা’ ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক রুহুল আমিন স্বপন।

২০২২ সালের আগস্টে নিয়োগের সময় প্রত্যেক কর্মীর ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা। কিন্তু মালয় শ্রমিক ইউনিয়নের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা আদায় করা হয়। হাজারো কর্মী এত টাকা খরচ করে মালয়েশিয়া গিয়েও প্রতিশ্রুত চাকরি পাননি। অনেককে ভুয়া চাকরির চাহিদাপত্র দিয়ে নেওয়া হয়।

সমকালে ওই সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সেবার সিন্ডিকেটে থাকা এজেন্সিগুলোকে কর্মীপ্রতি দেড় লাখ টাকা দিতে হয়েছিল বেস্টিনেটকে। প্রত্যেক কর্মীর চাহিদাপত্রের জন্য মালয়েশিয়ায় থাকা মধ্যস্বত্বভোগীকে দিতে হয় ছয় হাজার রিঙ্গিত, যা ওই সময়ের বিনিময় মূল্যে দেড় লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকায় সিন্ডিকেটে প্রবেশের চাঁদা ছিল কর্মীপ্রতি এক লাখ সাত হাজার টাকা।
নিয়োগকারীদের দেওয়া চাহিদাপত্র এফডব্লিউসিএমএসে ‘অটো রোটেশন’-এর মাধ্যমে বণ্টন করা হয়েছিল। এমপি-মন্ত্রীদের প্রতিষ্ঠান অটো রোটেশনে পাওয়া চাহিদাপত্র ‘বিক্রি’ করে কোটি টাকা কামিয়ে নেয় বলেও অভিযোগ ওঠে।

এসব অনিয়ম বন্ধ করতে বিদ্যমান এমওইউ সংশোধন করে এজেন্সি বাছাই ও অটো রোটেশনের শর্ত বাতিল করলে সিন্ডিকেট সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন জনশক্তি ব্যবসায়ীরা।