Home Blog Page 64

‘রাষ্ট্র সংস্কার থমকে আছে’ সিরাজুল আলম খানের মৃত্যুবার্ষিকীর সভায় বক্তারা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বেহাত হয়ে গেছে এবং পুরোনো রাষ্ট্রীয় বন্দোবস্ত ভাঙার যে ন্যূনতম সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা ক্রমেই সংকুচিত করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।

রাজনৈতিক তাত্ত্বিক সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তারা এসব কথা বলেন।

‘গণভোট, রাষ্ট্র সংস্কার ও সিরাজুল আলম খানের প্রাসঙ্গিকতা’ শীর্ষক সভায় জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র পুনর্গঠনের যে বাস্তবতা তৈরি হয়েছিল, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ তাঁর পক্ষে মত দিয়েছিল। গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিক, রিকশাচালক ও শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ঝরলেও পরবর্তী সময়ে গঠিত সংস্কার কমিশনে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়নি।’  সীমান্ত পরিস্থিতি, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শহীদ উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছে। অর্থনৈতিক সূচক নিম্নমুখী, তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি কমছে। একই সঙ্গে খুন, গুম ও নারী-শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে।’

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ‘সিরাজুল আলম খানের ‘অংশীদারিত্বের গণতন্ত্র’ ধারণা মূলত জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণভিত্তিক রাষ্ট্রচিন্তার প্রতিফলন।’ তিনি শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নির্বাচনের প্রস্তাব রাখেন সভায়।

সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, ‘সিরাজুল আলম খান আজীবন শোষিত ও মেহনতি মানুষের পক্ষে জাতীয় ঐক্যের রাজনীতির কথা বলেছেন। বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে স্বৈরাচারের পতন সম্ভব হলেও রাষ্ট্রব্যবস্থার আমূল সংস্কার না হলে নতুন স্বৈরাচারের জন্মের ঝুঁকি থেকেই যাবে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু রাজনৈতিক দলের ক্ষমতায়ন নয়, রাষ্ট্র পরিচালনায় কৃষক, শ্রমিক ও পেশাজীবী মানুষের কার্যকর অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় গণতন্ত্রের পরিবর্তে দলতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে।’

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেএসডির নেতা শহীদুল্লাহ ফরায়জী। এ ছাড়া বক্তব্য দেন ডা. হেলালুজ্জামান, চর্চার সম্পাদক সোহরাব হোসেনসহ অন্যরা।

কর ছাড় কমিয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির ছায়া বাজেট দিল জামায়াত

কর ছাড় কমিয়ে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি ৮ লাখ ৩৯ হাজার ৫০৫ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব করেছে। এতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে ‘জনমুখী বাজেট প্রস্তাবনা ২০২৬-২৭’ নামে এই ছায়া বাজেট তুলে ধরেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান।
এতে অটোমেশন, করজাল বৃদ্ধিতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বরকে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বরে (টিআইএন) রূপান্তরের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা দিলেও করপোরেট ট্যাক্স কমানো, করযোগ্য আয়সীমা বৃদ্ধি করে সাড়ে চার লাখ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

ছায়া বাজেটে উন্নয়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার টাকা ৫১ কোটি টাকা। পরিচালন ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ৭১২ কোটি টাকা। ঘাটতি জিডিপির ২ দশমিক ৫১ শতাংশ বা ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা।

জ্বালানির দামের আকস্মিক পরিবর্তনে উচ্চ মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে বাংলাদেশ। এ থেকে উত্তরণে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাস, কর হার যৌক্তিকীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্প খাতে পরিষেবার দাম স্থিতিশীল রাখার মাধ্যমে বিনিয়োগ বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে এ ছায়া বাজেটে।

জামায়াত বলছে, বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৬ দশমিক ৭, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় কম। রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ধাপে ধাপে ১৪ শতাংশে উন্নীত করতে দলটি কর ফাঁকি রোধ এবং করজাল সম্প্রসারণে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের এনআইডিকে টিআইএন নম্বরে রূপান্তর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে করযোগ্য আয় না থাকলেও প্রত্যেক ব্যক্তিকে রিটার্ন দাখিল করতে হবে। যাতে করযোগ্য কোনো ব্যক্তি করের আওতার বাইরে না থাকতে পারেন, তা নিশ্চিত হবে। বর্তমানে ৪০ লাখ নাগরিক রিটার্ন দাখিল করেন। এই সংখ্যাকে পৌনে ১৩ কোটিতে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছে জামায়াত।
ভ্যাট আয় বৃদ্ধিতে জামায়াত পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন ও সব পণ্যের বিক্রয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনবিআরের সার্ভারে রেকর্ডিংয়ের জন্য কম্পিউটারাইজড সিস্টেম চালুর প্রস্তাব করেছে জামায়াত।
এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দুর্নীতি বন্ধ করতে এবং সৎভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ ‘ঝুঁকি ভাতা’ বা প্রণোদনা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের প্রায় ৪৫ শতাংশ অর্থনীতি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের অন্তর্ভুক্ত তথ্য দিয়ে জামায়াত এগুলোকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে বার্ষিক কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি  ভ্যাট আদায়ের প্রস্তাব করেছে।

শিক্ষা ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে গণ্য করে আয়করে ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করেছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, যদি কোনো পরিবারের আয় সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি হয়, সেই পরিবারের কোনো সদস্য, পোষ্যের বার্ষিক শিক্ষায় ব্যয় ৫০ হাজার টাকা বেশি হলে, তা আয়কর থেকে বাদ যাবে। দুই পরিবারের আয় যদি সমান হয়, তাহলে যে পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা পোষ্যপ্রতি বছরে ৫০ হাজার টাকা কর রেয়াত করার প্রস্তাব করেছে জামায়াত। দেশের দুই হাজার ডিগ্রি কলেজকে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে শিক্ষা খাতে গবেষণায় জিপিডির দশমিক ৫ শতাংশ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। শিক্ষা সহায়তা তহবিল থেকে জাকাত পাওয়ার যোগ্য দরিদ্র শিক্ষার্থীদের মাসে তিন হাজার টাকা অনুদান এবং স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাসে ১০ হাজার টাকা সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ছায়া বাজেটে।

চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বাংলাদেশিরা বছরে বিদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যান জানিয়ে জামায়াতের বাজেটে দেশে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে আটটি বিশ্বমানের হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বেকার ও কর্মসংস্থান প্রত্যাশীদের ডেটাবেজ তৈরি করে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি করে উদ্যোক্তা তৈরির প্রস্তাব করা হয়েছে ছায়া বাজেটে। কৃষিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হেক্টরপ্রতি কৃষি উৎপাদন অস্ট্রেলিয়া, তুরস্কের অন্তত অর্ধেকে উন্নীত করতে গবেষণায় বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বয়স্ক, বিধবা, মা ও শিশু এবং অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর ভাতা চলতি অর্থবছর থেকেই মাসে এক হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে জামায়াত। ধাপে ধাপে তা তিন হাজার টাকা নির্ধারণের পরিকল্পনা জানিয়েছে।

আষাঢ় শুরুর আগেই বরিশাল চট্টগ্রাম সিলেটে বর্ষা তিন-চার দিনের মধ্যে সারাদেশে মৌসুমি বায়ুর বিস্তার

পঞ্জিকার পাতায় আষাঢ়ের প্রথম দিন আসতে এখনও চার দিন বাকি। এরই মধ্যে দেশের তিন বিভাগে পৌঁছে গেছে মৌসুমি বায়ু। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগ পর্যন্ত মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার দিনের মধ্যে এটি সারাদেশে বিস্তার লাভ করতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের পাঁচ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একই সময়ে দেশের পাঁচ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম বলেন, মৌসুমি বায়ু এখনও সারাদেশে পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। তবে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে এটি মোটামুটি সক্রিয় রয়েছে। এ কারণে ওই অঞ্চলগুলোতে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও মৌসুমি বায়ুর বিস্তার ঘটবে এবং বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর, উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ অবস্থায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

এদিকে আগামী ১৩ জুনের মধ্যে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার ঝুঁকির আভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে সিলেট ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।

তিনি আরও জানান, স্থানভেদে পাঁচ দিনে সর্বোচ্চ ২৫০ থেকে ৩০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়তে পারে এবং ১১ জুনের মধ্যে সিলেট জেলায় এসব নদীতে পানি সতর্কসীমা বা বিপৎসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সময়ে রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদের পানিসমতলও বৃদ্ধি পেতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্য বলছে, আষাঢ় মাস শুরুর আগেই দেশে বর্ষার প্রভাব জোরালো হতে শুরু করেছে। আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত আরও বাড়লে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতা ও সাময়িক প্লাবনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

বিজিবি-বিএসএফ বৈঠক পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা অব্যাহত

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণহানি, গুলির ঘটনা নিয়ে সমালোচনা দীর্ঘদিনের। এরপরও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি সীমান্ত হত্যা। প্রাণহানির ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। তবে সম্প্রতি পুশইন (ঠেলে পাঠানো) সীমান্তে উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনও বেআইনিভাবে পুশইনের চেষ্টার সমালোচনা করছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই গত সোমবার থেকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের মধ্যে চার দিনের সীমান্ত সম্মেলন। দুই বাহিনীর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের এই আলোচনায় পুশইন-পুশব্যাক ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন চলাকালেও পুশইনের চেষ্টা থেমে নেই। গতকাল মঙ্গলবার রাতে বিজিবির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে বলেন,  চলমান সীমান্ত সম্মেলনে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয় বাংলাদেশের তরফে জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এবারের আলোচ্যসূচির প্রধান বিষয় পুশইন ইস্যু।

গত ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রামের রৌমারী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সীমান্তে অন্তত ১০টি এলাকা দিয়ে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা রুখে দিয়েছে বিজিবি। এসব পয়েন্ট দিয়ে তারা শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সীমান্তে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর আবার পুশইনের চেষ্টা শুরু করে বিএসএফ। এই দফায় ৩০ মে যশোর সীমান্ত হয়ে প্রথম ১৩ জনকে এপারে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এর পর থেকে গত ১০ দিনে সীমান্তের ৩৬টি পয়েন্টে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবি বলছে, শক্ত নজরদারি ও প্রতিরোধের কারণে একজনকেও ঠেলে পাঠানো সম্ভব হয়নি। ঠেলে পাঠানো মোকাবিলায় অনেক স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা সতর্ক অবস্থানে ছিল। ২০২৬ সালে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করতে পারেনি।

বিজিবির একাধিক সূত্র বলছে, পুশইনের ঘটনায় বিভিন্ন ব্যাটালিয়ন থেকে একাধিক প্রতিবাদলিপি বিএসএফকে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া চলমান সীমান্ত সম্মেলনে পুশইন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপের প্রস্তাবনার বিষয়টি বিজিবির পক্ষ থেকে আলোচনায় আছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর (অব.) এমদাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক প্রচারণার অন্যতম বিষয় ছিল কথিত বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করা। বিজেপি সেখানে জয়লাভের পর পুশইনের বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে– এটি তারা দেখাতে চায়।
এমদাদুল ইসলাম আরও বলেন, লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে যখন আমরা আশ্রয় দিয়েছিলাম, তখন তাদের পুশব্যাকের চেষ্টা করা হয়নি। কারণ, আমরা সব সময় রোহিঙ্গা সংকটকে কূটনৈতিকভাবে সমাধান বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে আসছি। এ ছাড়া ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত কারণে রোহিঙ্গাদের পুশব্যাক করার মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না।

পুশইন বিষয়ে জানতে চাইলে ভারতের মানবাধিকারকর্মী কিরীটি রায় সমকালকে বলেন, যে প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা চলছে, এটি বেআইনি। ভারতের আইন ও সংবিধান এটি সমর্থন করে না। বিএসএফ ও পুলিশ বিচারকের ভূমিকায় থাকতে পারে না। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে অভিযোগ থাকলে আদালতে পাঠানো হবে। আদালত ঠিক করবেন– কে দোষী, কে নির্দোষ।
কেউ কেউ মনে করছেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ। তবে এতে ভারত সই করেনি। বাংলাদেশ সেই কনভেনশনের নীতিমালা অনুসরণ করে। তাই রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন বিবেচনায় নিতে হয়েছে।

বিজিবি সূত্র বলছে, সীমান্ত সম্মেলনে যে ১৭টি এজেন্ডা বাংলাদেশের তরফে আলোচ্যসূচিতে আছে, এর মধ্যে পুশইন ও সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয় উল্লেখযোগ্য। সম্মেলনে এ নিয়ে বাংলাদেশ তাদের যুক্তির বিষয় তুলে ধরেছে। সেখানে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা ও ন্যায্যতার বিষয়ও এসেছে।
এর আগে গত রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছিলেন, ভারতের এই বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা, বিশেষ করে অবৈধ পুশইন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হবে।

২০২৫ সালে ২,৩৫৬ পুশইন 
ভারত থেকে ২০২৫ সালে ‘অবৈধ অভিবাসী’ বা ‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে বাংলাভাষী ও বিভিন্ন গোষ্ঠীর মানুষকে জোর করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া শুরু হয়। ওই বছর নভেম্বর পর্যন্ত সেটি চলতে থাকে। বিজিবির কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর দুই হাজার ৩৫৬ জনকে পুশইন করা হয়। তাদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ১৩৪, রোহিঙ্গা ২২৬ ও বাংলাদেশি নাগরিক এক হাজার ৯৯৬ জন। তাদের মধ্যে দুই হাজার ১৫৬ জনকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল বিজিবি। ভারতীয় নাগরিকদের তাদের দেশে পুশব্যাক করা হয়।
এ ছাড়া ভারতের ইউএনএইচসিআর কার্ডধারীদেরও সে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বিজিবি জানায়, চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে ৬২ জন, মেহেরপুর ১১৬, সাতক্ষীরা ৩২, কুষ্টিয়া ৯, ঝিনাইদহ ২৬, ফেনী ৬৯, মৌলভীবাজার ৫৮০, ময়মনসিংহ ৩৩, নেত্রকোনা ৭৬, পঞ্চগড় ১৯৬, লালমনিরহাট ১৫০, কুড়িগ্রাম ৯১, খাগড়াছড়ি ১৫৩, ঠাকুরগাঁও ১০, দিনাজপুর ৫২, জয়পুরহাট ৪, কুমিল্লা ১৩, সিলেট ২৮৯, হবিগঞ্জ ৪১, সুনামগঞ্জ ৭৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৯২, নওগাঁ ৪৬, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৭ ও শেরপুর দিয়ে ৩১ জনকে পুশইন করা হয়।

১০ দিনে ৩৬ সীমান্তে উত্তেজনা 
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর দ্বিতীয় দফায় আবার পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। ৩০ মে প্রথম যশোর সীমান্ত দিয়ে ১৩ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করে বিজিবি। এরপর গত ১০ দিনে ৩৬ সীমান্তে পুশইন নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক সীমান্তে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ-শিশুর শূন্যরেখায় ফেলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, নীলফামারী, নেত্রকোনা, মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, মহেশপুরসহ বেশ কিছু সীমান্তে পুশইনের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে।

৭২ ঘণ্টায় শতাধিক ব্যক্তি ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা
কুড়িগ্রামের রৌমারী, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের অন্তত ১০টি পুশইনের অপচেষ্টা রুখে দিয়েছে জামালপুর বিজিবি। রোববার থেকে গতকাল পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টায় শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা হয়। এমন সময় এসব পয়েন্ট দিয়ে পুশইনের চেষ্টা চলে যখন নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলন চলছে।
বিজিবি জানায়, রোববার রাত ৮টার দিকে কুড়িগ্রামের রৌমারীর খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ভারত থেকে কাঁটাতারের পকেটগেট ব্যবহার করে এক ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা চালায়। এমন তথ্য পাওয়ার পর বিজিবি টহল দল এবং স্থানীয় জনগণ সেই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরদিন সকাল পৌনে ১০টার দিকে খেয়ারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তের বিপরীতে সদরটিলা বিএসএফ ক্যাম্পের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ১০-১২ ব্যক্তিকে জড়ো করে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি টহল দল ও স্থানীয় জনগণের সতর্ক অবস্থান এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।

এদিকে সোমবার রাতে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জের পাথরেরচর ও বাঘারচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ১৮ ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করে প্রতিপক্ষ ১৬০ বিএসএফ। এ উদ্দেশ্যে ভারতের অভ্যন্তরে লুকাইয়েরচর এলাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জড়ো করা হয়। বিজিবির বিশেষ সতর্কতা, নজরদারি ও টহল জোরদারের কারণে সেটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়। সোমবার মধ্যরাতে কুড়িগ্রামের রৌমারীর দাঁতভাঙ্গা, মোল্লারচর, ইজলামারী ও খেয়ারচর বিওপি এবং জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার পাথরেরচর, বাঘারচর ও ঝাউডাঙ্গা বিওপি এবং বকশীগঞ্জের সাতানীপাড়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ সমন্বিতভাবে একাধিক পুশইনের চেষ্টা করে।

এসব ঘটনায় বিএসএফ সদস্যরা ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন স্থানে ট্রাকযোগে ও দলবদ্ধভাবে লোকজনকে সীমান্তে নিয়ে আসে। কয়েকটি স্থানে পুশইনের সুবিধার্থে সীমান্ত এলাকার আলোকসজ্জা (লাইট) বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজিবির টহল দল ও স্থানীয় জনগণ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়। ফলে বিএসএফের সব পুশইন চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
জামালপুর বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে দেওয়ানগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা করছে। স্থানীয় জনগণের সহায়তা নিয়ে বিজিবি তা ব্যর্থ করে দেয়। বাঘারচর গ্রামের বাসিন্দা রবিউল ইসলাম বলেন, বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসী সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

পুশইন ইস্যু আলোচনা করতে চায় না ভারত
তথাকথিত ‘সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিকদের’ বাংলাদেশে জোর করে ঠেলে পাঠানোর বিষয়টি মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের তরফে আলোচনায় রাখা হয়নি। ভারতীয় গণমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, চার দিনের এ বৈঠকের এজেন্ডায় ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের কথিত পুশইন নীতির বিষয়টি উল্লেখ করেনি। এক বিবৃতিতে বিএসএফ জানিয়েছে, ‘সীমান্ত-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এবং দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয় প্রতিষ্ঠার’ লক্ষ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। বিএসএফের বিবৃতি অনুযায়ী, আলোচনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বাংলাদেশি অপরাধীদের ভারতে প্রবেশ এবং বাংলাদেশি নাগরিকের মাধ্যমে সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া লঙ্ঘনের বিষয়গুলো উঠে আসবে। বিবৃতিতে কোথাও পুশইন বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।

‘পুশইনের একটা সমাধান দ্রুত হবে’
সীমান্তের বিভিন্ন অংশ দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে পুশইন চেষ্টা ঘিরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, দ্রুত এর একটা সমাধান হবে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সরকারের কর্মকাণ্ডের তথ্য তুলে ধরতে গতকাল সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সীমান্তে পুশইন নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা নিশ্চয় পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ফলো করেছি। সেখানে নির্বাচনে একটা ইস্যু ছিল। এটা তাদের একটা অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটার খানিকটা চাপ আমাদের ওপরে আসছে। আমি এভাবে মনে করি না যে, বাংলাদেশের সঙ্গে কোনো একটা টেনশন তৈরির জন্য ভারতীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার দায়িত্বে এসেছে নির্বাচিত হয়ে, তাদের নির্বাচনের এক ধরনের প্রতিশ্রুতি ছিল। তাদের একটা রাজনীতি আছে। সেটারই এক ধরনের বহিঃপ্রকাশ এটা।’

গোছা গোছা চুল উঠছে? ঘরেই বানান বিশেষ হেয়ার মাস্ক

চুল পড়া সমস্যায় কমবেশি সবাই ভোগেন। তবে কারও কারও মাথায় চিরুনি দিলেই গোছা গোছা চুল উঠে এসে। চুল পড়ার আসল কারণ হল চুলের গোড়ার দুর্বলতা। এজন্য চুলে গোড়া শক্ত করা জরুরি। সেক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারেন দুইটি উপকরণ- কারিপাতা আর টক দই। এই দুই উপাদানের মিশ্রণে চুল ঝরা কমাতে পারে।

কীভাবে বানাবেন হেয়ার মাস্ক?
বাজার থেকে এক মুঠো তাজা কারিপাতা এনে প্রথমে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর পাটা বা বেলন্ডারে পাতাগুলি পিষে মসৃণ পেস্ট বানান। এবার সেই বাটা পাতার সঙ্গে  দুই চামচ ঘন টক দই মিশিয়ে দিন। চামচ দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিলেই বিশেষ এই হেযার মাস্কটি তৈরি হবে।

চুলে ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
গোসলের আগে একটু সময় নিয়ে এই মিশ্রণটি মাথার ত্বকে আলতো হাতে লাগিয়ে নিন। চুলের গোড়া থেকে ডগা পর্যন্ত যেন সমানভাবে এই মিশ্রণ পৌঁছায় সেদিকে লক্ষ্য রাখুন। এভাবে তিরিশ থেকে চল্লিশ মিনিট রেখে দিন। দই আর কারিপাতার পুষ্টিগুণ চুলে বসে যাওয়ার জন্য এই সময়টুকু দেওয়া জরুরি। তারপর কোনও মৃদু শ্যাম্পু দিয়ে মাথা ধুয়ে ফেলুন।

সপ্তাহে ক’দিন ব্যবহার করবেন
সপ্তাহে মাত্র দু’দিন নিয়ম করে এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করুন। কারিপাতা চুলের অকালপক্বতা রোধ করে, আর টক দই খুশকি দূর করে। এই দুই উপাদানের মিশ্রণে মাথার ত্বক যেমন সুস্থ থাকে, তেমনি চুলের গোড়া হয় শক্ত। চুলের রুক্ষতা দূর হয়ে চুল হয নরম, মসৃণ।

ভূমিকম্পে ফিলিপাইনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩২ থেকে বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। এমন তথ্য জানিয়েছে দেশটির গণমাধ্যম জিএমএ নিউজ।

সিভিল ডিফেন্স দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মোট ৪৫৬ জন আহত হয়েছেন। আরও চারজন নিখোঁজ আছেন।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিন্দানাও দ্বীপে স্কুল, হাসপাতাল ও আবাসিক ভবনসহ প্রায় ১ হাজার ৯০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি ভবন প্রকৃতির এই তাণ্ডবে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

মিন্দানাও দ্বীপের জেনারেল সান্তোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে সান্তোস শহরে।

এবার নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের

ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওই সময় নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়া বন্ধের হুমকি দেন ট্রাম্প।

দুই নেতার মধ্যে ওই ফোনালাপ হয় সোমবার। যা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম অ্যাক্সিওস। ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প নিজে অ্যাক্সিওসকে বলেছেন,  ‘তিনি (নেতানিয়াহু) যদি আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ান তাহলে একাকী লড়াই করতে হবে।’ কথাটি তিনি নেতানিয়াহুকেও জানিয়ে দিয়েছেন।

লেবাননে ইসরায়েলের বারবার বিমান হামলার প্রতিবাদে সম্প্রতি শান্তি আলোচনা স্থগিতের ঘোষণা দেয় ইরান। এরপর নেতানিয়াহুর সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। একটি আলাপে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি ‘উন্মাদ’ বলে অ্যাখ্যা দেন।

সোমবারের ফোনালাপের বিষয়ে ট্রাম্প বিবিসির উত্তর আমেরিকা বিষয়ক সম্পাদক সারাহ স্মিথকেও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সারাহ জানিয়েছেন, ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কাণ্ডজ্ঞান ব্যবহারের তাগিদ দিয়েছেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে একটি শক্তিশালী চুক্তি স্বাক্ষরের একেবারে কাছাকাছি থাকার কথাও উল্লেখ করেছেন।

একটি শান্তি চুক্তির জন্য ইরানের দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান ঘটানো। গত মার্চ মাসের শুরুতে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েল বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে লেবাননে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ মানুষ নিহত হয়েছেন।

গোপালগঞ্জে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার ২

গোপালগঞ্জে ৬৫০ পিস ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মান্দারতলা ইসলামাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মানিক মিয়া মোল্লারহাট উপজেলার শের আলী মোল্লার ছেলে এবং সজিব খান মান্দারতলা এলাকার গোলাম মোস্তফা খানের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মান্দারতলা ইসলামাবাদ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনের বাসা থেকে তার সহযোগী মানিক মিয়া ও সজিব খানকে ইয়াবা ও বিদেশি মদসহ গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. হাসানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার দুজন মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনের সহযোগী। তারা বাধনের কাছ থেকে কম দামে ইয়াবা ও মদ কিনে বেশি দামে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মাদক কারবারি হাফিজুর রহমান বাধনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক নিহত

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার রেজু আমতলী সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. আব্দুল খালেক (৩৫) নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রেজু আমতলী সীমান্তের ৩৯ নম্বর পিলার সংলগ্ন একটি কলাবাগানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল খালেক উখিয়ার ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি-ব্লকের বাসিন্দা মো. আনুর ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতে সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

কক্সবাজারে দায়িত্বপ্রাপ্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৩৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, রেজু আমতলী বর্ডার অবজারভেশন পোস্টের (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার ৩৯ নম্বর সীমান্ত পিলার থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শাহ আলমের কলাবাগানে কাজ করতে যান আব্দুল খালেক। এ সময় মাটির নিচে পুঁতে রাখা একটি স্থলমাইন বিস্ফোরিত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় জনসাধারণের চলাচলে সতর্কতা জোরদার করেছে বিজিবি। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে স্থলমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো স্থলমাইনের কারণে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দাদের সীমান্ত এলাকায় অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এ লক্ষ্যে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং স্থলমাইনজনিত দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয়দের মাঝে সতর্কতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস ও বিএলএফের প্রতিষ্ঠাতা সিরাজুল আলম খানের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। ২০২৩ সালের ৯ জুন তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পরিবার, সিরাজুল আলম খান স্মৃতি পরিষদসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মরণসভাসহ নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

১৯৪১ সালের ৬ জানুয়ারি নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলীপুর গ্রামে জন্ম সিরাজুল আলম খানের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগে মাস্টার্সে পড়াকালীন ‘কনভোকেশন মুভমেন্ট’-এ অংশ নেওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তিনি ১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬২ সালে ছাত্রলীগের ভেতরে যে গোপন রাজনৈতিক সংগঠন ‘নিউক্লিয়াস’ (স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী পরিষদ) গড়ে ওঠে, তিনিই ছিলেন এর মূল উদ্যোক্তা।

১৯৬২ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ছাত্র আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার আন্দোলন, ১১ দফা আন্দোলন পরিকল্পনা ও কৌশল প্রণয়ন, সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পড়ে নিউক্লিয়াসের রাজনৈতিক উইং বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স বা মুজিব বাহিনী (বিএলএফ) ও সামরিক ইউনিট ‘জয় বাংলা বাহিনী’ গড়ে তোলা হয়।

মুক্তিযুদ্ধ শেষে আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে বিপ্লবী জাতীয় সরকার গঠন প্রশ্নে সিরাজুল আলম খানের মতভেদ হয়। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত ও তৎপরতায় গঠিত হয় স্বাধীন দেশের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। আর্থসামাজিক বিশ্লেষণে তাঁর তাত্ত্বিক উদ্ভাবন তাঁকে দেশ-বিদেশে ‘রাজনৈতিক তাত্ত্বিক’ হিসেবে পরিচিত করে তোলে।