Home Blog Page 65

ইলেকট্রিক বাস কিনতে ৪শ কোটি টাকা চায় বিআরটিসি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১০০টি নতুন ইলেকট্রিক বাস কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব বাস কেনা এবং এর আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে ৪০০ কোটি টাকা অনুদান বা ইকুইটি হিসেবে বরাদ্দ চেয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিসি শাখা থেকে অর্থ সচিবের কাছে এ বিষয়ে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বিআরটিসির পক্ষ থেকে এই ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হলে সরকারের ব্যয়সাশ্রয়ী নীতি ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় অর্থ বিভাগ সরাসরি অনুদান না দিয়ে একটি ‘উন্নয়ন প্রকল্প’ হিসেবে গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছিল। অর্থ বিভাগের যুক্তি ছিল, ঋণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

বিআরটিসি পুনরায় অনুদানের দাবি জানিয়ে যুক্তি দিয়েছে যে বর্তমান আর্থিক সক্ষমতা ও নিজস্ব তহবিলের সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের বোঝা নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা তাদের জন্য সম্ভব নয়। জনস্বার্থে পরিচালিত একটি সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঋণের সুদ ও মূলধন পরিশোধের চাপ প্রতিষ্ঠানের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা তৈরি করবে। এ প্রেক্ষাপটে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকে ৪০০ কোটি টাকা সরাসরি ‘অনুদান’ বা ‘ইকুইটি’ হিসেবে দেওয়ার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়েছে বিটিআরসি।

চিঠিতে জানানো হয়, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি সমন্বিত, দক্ষ ও ‘সবুজ পরিবহন করিডোর’ নির্মাণের লক্ষ্যে বিআরটিসির বহরে ইলেকট্রিক বাস সংযোজন এখন সময়ের দাবি। এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, আমদানি করা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ সাশ্রয় করা এবং নাগরিকদের জন্য আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

ইলেকট্রিক বাস আমদানিসহ আনুষঙ্গিক খাতের সম্ভাব্য ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা ১০০টি বাসের প্রতিটির সম্ভাব্য দাম দুই কোটি ৪০ লাখ টাকা হিসেবে মোট ২৪০ কোটি টাকা। বাসের ব্যাটারি চার্জ করার জন্য ২৫টি চার্জিং স্টেশন স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি টাকা। প্রতিটি স্টেশন নির্মাণে খরচ হবে দুই কোটি টাকা। এ ছাড়া যন্ত্রাংশের জন্য ৩৫ কোটি টাকা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার জন্য ২০ কোটি টাকা, বাসের পরিবহন ও রেজিস্ট্রেশন ব্যয়ের জন্য ২৫ কোটি টাকা এবং বিআরটিসির ডিপোতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামতের জন্য ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

বিআরটিসি জানিয়েছে,  বৈদ্যুতিক বাসগুলো মূলত ঢাকা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ রুট এবং বিভাগীয় শহরগুলোর আন্তঃনগর রুটে চলাচল করবে। ঢাকার তীব্র বায়ুদূষণ রোধে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিআরটিসির দাবি, প্রাথমিক বিনিয়োগ কিছুটা বেশি মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনার ব্যয় প্রচলিত ডিজেল বা সিএনজিচালিত বাসের তুলনায় অনেক কম। ফলে এটি দীর্ঘ মেয়াদে রাষ্ট্রীয় সাশ্রয় নিশ্চিত করবে এবং যাত্রীদের যাতায়াতের মান আরও উন্নত হবে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকারি আর্থিক বিধিবিধান এবং ক্রয় আইন কঠোরভাবে অনুসরণ করেই বরাদ্দ করা অর্থ ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে সরকারি গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক সমকালকে বলেন, গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সারাবিশ্বেই এ ধরনের রাষ্ট্রীয় সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকার ভর্তুকি বা অনুদান দিয়ে পরিচালনা করে থাকে। কারণ এখানে সরাসরি বাণিজ্যিক মুনাফার চেয়ে সামাজিক কল্যাণ বেশি জড়িত।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক বলেন, অনুদানের ক্ষেত্রে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন জনগণের করের টাকার কোনো অপচয় না হয়। বাস কেনা থেকে শুরু করে অবকাঠামো নির্মাণে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিসিকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নিতে হবে, যেন ভবিষ্যতে যে কোনো নতুন উদ্যোগ বা বাস কিনতে তাদের বারবার সরকারের কাছে অনুদান না নিতে হয়।

এলডিসি উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা

এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের প্রাক্কালে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আজ রোরবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় অতিক্রম করছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পূর্ববর্তী ফেইজসমূহে যে সুপারিশ দিয়ে আসছে, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে সেই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখানে ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যার প্রতিটিই বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।’

বাণিজ্য সচিব বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, এর সফল বাস্তবায়নই মূল বিষয়। তিনি বলেন, ‘স্টাডির পাশাপাশি বাস্তবায়ন পর্যায়ে কীভাবে সংস্কারগুলো কার্যকর করা যায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রান্তিক পর্যায় পর্যন্ত এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছাতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ডব্লিউটিওর এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসি দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ কয়েকটি উন্নয়ন সহযোগী দেশ অর্থায়ন করে থাকে।

তিনি জানান, বাংলাদেশ এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর আওতায় ইতোমধ্যে দুটি পর্যায়ে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে এবং শেষ হয় ২০১৫ সালে। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা ২০২৪ সালে শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হবে। তৃতীয় পর্যায়ের জন্য প্রস্তুত করা কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ অর্থায়ন সহায়তা পাবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এই কার্যক্রম চলতি বছর থেকেই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ডিটিআইএস, রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি, বাণিজ্য নীতি, ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন অ্যাগ্রিমেন্ট এবং বিনিয়োগ সুবিধা বিষয়ক উদ্যোগ থেকে প্রাধান্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে উন্নয়ন সহযোগীদের সম্ভাব্য সহায়তা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতা বিবেচনা করে সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-এর ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার, অতিরিক্ত সচিব (আইআইটি) শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন, এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক-এর তৃতীয় পর্যায়ের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের পরও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইসিতে হিসাব জমা এবারও ব্যয়ের চেয়ে আয় বেশি বিএনপির

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) তাদের বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে বিএনপি। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।

রোববার দুপুর ১২টার পর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল এই হিসাব জমা দেন। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও সহ-দপ্ত‌র সম্পাদক মনির হোসেন।

তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।

বিএনপির আয়ের হিসাব অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় ২০২৬ সালে দলটির আয় ও ব্যয় উভয়ই বেড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএনপির মোট আয় ১৫ কোটি ৬৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৪২ টাকা। একই সময়ে দলটির ব্যয় ৪ কোটি ৮০ লাখ ৪ হাজার ৮২৩ টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে বিএনপির আয় হয়েছিল ১ কোটি ১০ লাখ ৮০ হাজার ১৫১ টাকা। ব্যয় হয়েছিল ৩ কোটি ৬৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৭০ টাকা।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পরপর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।

সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।

শিশুর কান্না নিয়ে ‘মজা’, নির্যাতনের ভিডিও নিজেই পোস্ট করলেন শিক্ষক

মাদ্রাসায় পড়তে আসা একটি শিশুকে নির্যাতন করার দৃশ্য ভিডিও করে নিজেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন এক শিক্ষক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এক শিশুর মুখে বারবার বেত ঢুকিয়ে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে।’

ভিডিওটি প্রকাশের সঙ্গে জড়িত ইমরান হোসেন নামের এক সাবেক মাদ্রাসাশিক্ষক পরে লাইভে এসে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। সমালোচনার মুখে ইমরান হোসেন ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, শিশুটিকে আঘাত করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। তবে নিজের আচরণ ভুল ছিল বলে স্বীকার করে তিনি ক্ষমা চান।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় দুই মাস আগে ইমরান হোসেনকে প্রতিষ্ঠান থেকে বরখাস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, অকারণে শাস্তি দেওয়া এবং অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া শিশুদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের অভিযোগ ছিল।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বিষয়টি পুলিশের নজরে এসেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক সংগঠন আলফা স্টারের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ হওয়া উচিত। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

মানবাধিকারকর্মী জাকির মাহমুদ জুয়েল বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ শিশুর মর্যাদা ও অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও কার্যকর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

হামের উপসর্গে আরও চার শিশুর মৃত্যু

দেশে হামের উপসর্গে আজ রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৩ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ও আক্রান্ত হয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৮৮ জনে।

আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে তিনজন ঢাকায় এবং একজন সিলেট বিভাগে মারা গেছে।

অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট মৃত ৭৮৮ জনের মধ্যে পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়ে মারা গেছে ৯৫ শিশু। বাকি ৬৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে হামের উপসর্গে সবচেয়ে বেশি ৩০২ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর সিলেটে ৯৮, রাজশাহীতে ৮৯, ময়মনসিংহে ৬৬, চট্টগ্রামে ৫৫, বরিশালে ৪৩, খুলনায় ৩১ এবং রংপুর বিভাগে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১৩৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৬ হাজার ৫২১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৪৮। এ সময় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৪৩১ জনের শরীরে।

ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শরীরে বিষধর সাপ ছেড়ে স্বামীকে হত্যার অভিযোগ

ভারতের উত্তর প্রদেশের মিরাটে স্বামীকে হত্যায় বিষধর সাপ ব্যবহার করার অভিযোগে এক নারী ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, ২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং তাদের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতেই এ হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।

নিহত অতুল পানওয়ার স্ত্রী দামিনীর সঙ্গে হস্তিনাপুরে একটি শিশু বিদ্যালয় পরিচালনা করতেন। ২০১৯ সালে তাদের বিয়ে হয়।

পুলিশের দাবি, বিদ্যালয়ের চালক তুষার ওরফে নিক্কির সঙ্গে দামিনীর সম্পর্ক ছিল। প্রথমে তারা সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে অতুলকে হত্যার চেষ্টা করেন। সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে নতুন কৌশল নেন।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ঘটনার রাতে দামিনী স্বামীর দুধে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। অতুল অচেতন হয়ে পড়লে তার বিছানায় একটি বিষধর সাপ ছেড়ে দেওয়া হয়। সাপের কামড়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ জানায়, প্রথমে ঘটনাটি স্বাভাবিক সাপের কামড়ে মৃত্যু বলে মনে হলেও পরে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য ও আলামত বিশ্লেষণ করে কথিত হত্যার ষড়যন্ত্রের সূত্র পাওয়া যায়।

পুলিশের ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দুটি উদ্দেশ্য ছিল-২০ লাখ রুপির বিমার অর্থ দাবি করা এবং পরকীয়ার সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া। এ ঘটনায় দামিনী ও তুষারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

পুলিশ আরও জানায়, তুষারও বিবাহিত। অভিযোগ, তিনি নিজের স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন।

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। শনিবার রাতে ইরানের উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েতে থাকা দুটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইরান। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে শুক্রবার মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপে থাকা উপকূলীয় নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে বাহরাইন জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা কয়েকটি আকাশীয় হামলা প্রতিহত করেছে।

গত কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বেড়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার অভিযোগ তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বন্দর অবরোধ কার্যকর করেছে। অন্যদিকে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করেছে। ফলে গত জুনে হওয়া প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে।

রোববার আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় দুটি জাহাজ ‘দুর্ঘটনার’ শিকার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবাধীন এবং ‘অনিরাপদ নৌপথ’ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোও একই ধরনের পরিণতির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে তারা।

এদিকে জর্ডানের রাজধানী আম্মানে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, ‘নির্দিষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য হুমকির’ কারণে দেশটির কর্তৃপক্ষ আকাবা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর খালি করেছে। একই সঙ্গে মার্কিন নাগরিকদের ওই এলাকায় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সেন্টকম জানিয়েছে, টানা অষ্টম রাতের মতো পরিচালিত এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি দেওয়ার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য দায়ী আইআরজিসি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জর্ডানে নিহত দুই সেনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, তাদের আত্মত্যাগ যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করেছে।

এই সংঘাতে নিখোঁজ থাকা মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলটকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলমান সংঘাতে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সিলিন্ডারের মেয়াদ শেষ, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বিভিন্ন একাডেমিক ভবন ও হলের দেয়ালে স্থাপন করা অধিকাংশ অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের মেয়াদ আট মাস আগে শেষ হয়েছে। সেগুলো সরিয়ে নতুন সিলিন্ডার রাখার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এ বিষয়ে কিছুই জানে না। এর ফলে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা।

তারা বলছেন, আবাসিক হলগুলোর প্রতিটি কক্ষেই ইলেকট্রিক চুলায় রান্নার সুবিধা আছে। এই চুলা থেকে যে কোনো দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। এর প্রাথমিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার। আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হলেও এ বিষয়ে উদাসীন প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রতিটি আবাসিক হলে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার স্থাপন করে প্রশাসন। এক বছর মেয়াদি এই সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ ছিল গত বছরের ২ অক্টোবর পর্যন্ত। প্রায় আট মাস আগে মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডারগুলো পুনঃস্থাপনের জন্য এখনও সরিয়ে নেওয়া হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডার আছে ছয়টি, সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনে আটটি, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ একাডেমিক ভবন ও মমতাজ উদ্দীন একাডেমিক ভবনে আছে সাতটি করে। এ ছাড়া হলগুলোতে প্রতিটি ব্লকের আলাদা আলাদা তলায় একটি করে সিলিন্ডার রয়েছে। এর মধ্যে সৈয়দ আমীর আলী হল, শাহ মখদুম হল, নবাব আব্দুল লতিফ হল ও শহীদ ড. শামসুজ্জোহা হল। ওই চারটি একাডেমিক ভবনের মোট ২৫টি অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। প্রতিটি সিলিন্ডার ‘বেঙ্গল ফায়ার টেকনোলজি’ সরবরাহ করেছে।
শাহ মখদুম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী দুলাল সরকার বলেন, আমাদের হলের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারের  মেয়াদ শেষ। আমাদের ব্লকের সিলিন্ডারটি একদিন চেক করার জন্য আমরা লক খুলে পুশ করি। কিন্তু মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় কোনো গ্যাস বের হয়নি।

উদ্বেগ প্রকাশ করে সৈয়দ আমীর আলী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক বলেন, আমাদের ১৭টি হলে প্রায় ১২ হাজার শিক্ষার্থী থাকেন। তাদের প্রত্যেকের কক্ষের সামনে চুলার ব্যবস্থা আছে। এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার সৃষ্টি হতে পারে। অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলো প্রাথমিকভাবে আমাদের নিরাপত্তা দেয়। কিন্তু সব জায়গার সিলিন্ডারেরই মেয়াদ শেষ।
প্রশাসনের উদাসীনতা নিয়ে শহীদ শামসুজ্জোহা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী পুশরাম চন্দ্র বলেন, এটা একটা শোপিসের মতো সাজানো রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে প্রশাসন বরাবরই উদাসীন। তাদের এ বিষয়ে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাধ্যক্ষ পরিষদের আহ্বায়ক ও মাদার বখশ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহ হুসাইন আল মাহদী সমকালকে বলেন,  অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হয়েছে– এটি আমার জানা ছিল না। আমি দ্রুতই পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সুপারিশ করব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, হল ও একাডেমিক ভবনের অগ্নিনির্বাপণ সিলিন্ডারগুলোর মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না। আমরা খুব শিগগিরই সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে সিলিন্ডারগুলো রিফিলের ব্যবস্থা করব।

অনশনের ২০তম দিনে হাসপাতালে নেওয়া হলো সোনম ওয়াংচুককে

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ২০ দিন ধরে অনশনরত পরিবেশকর্মী ও উদ্ভাবক সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তি করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে তাকে সেখান থেকে সরিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে নেওয়া হয়।

দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওয়াংচুককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক বর্তমানে সচেতন রয়েছেন এবং তার শারীরিক গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো স্থিতিশীল।

এদিকে যন্তর মন্তরে অবস্থানরত বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে স্থান ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। তাদের দাবি, আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে গিয়ে কিছু বিক্ষোভকারী বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে পুলিশ সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে।

শুক্রবার ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা চিকিৎসকেরা তার অবস্থাকে জরুরি বলে উল্লেখ করেন। তাদের আশঙ্কা, অনশন অব্যাহত থাকলে তার বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। নিয়মিত স্বাস্থ্য বুলেটিনে জানানো হয়েছে, গত কয়েক দিনে তার ওজন ৮ কেজির বেশি কমেছে এবং শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে।

দুই দিন আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য প্রতিদিন পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ‘যেকোনো নাগরিকের জীবনই মূল্যবান।’ একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ওয়াংচুক শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশন করছেন। তার অভিযোগ, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত।

গত কয়েক দিনে কংগ্রেস নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ বিরোধী দলের কয়েকজন নেতা ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করে তার প্রতি সংহতি জানান। একই সঙ্গে তারা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে অনশন ভাঙার আহ্বান জানান।

যন্তর মন্তরের এই আন্দোলনের আয়োজক অনলাইন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। সংগঠনটির দাবি, নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে এবং ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে।

লাল-নীলে ভাগ হয়ে আছে নিউইয়র্ক

০

কানাডার গহন অরণ্য থেকে ধেয়ে আসা দাবানলের কালচে কুয়াশা আর ধোঁয়ার চাদরে আচ্ছন্ন নিউইয়র্কের আকাশ। যদিও এই আকাশ দেখে বিগ অ্যাপলকে চেনা অসম্ভব; এই মায়াবী শহরকে তার প্রকৃত স্বরূপে ছুঁতে তাকাতে হয় নির্ঘুম টাইমস স্কয়ারের সেই সুবিশাল, দেদীপ্যমান বিজ্ঞাপনী দেয়ালগুলোর দিকে। সেখানে এখন নিয়ন আলোর তীব্র ছটায় ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপ ফুটবলের এক আসন্ন মহাযুদ্ধের পটভূমি– একদিকে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মায়াবী আকাশি-নীল, অন্যদিকে লামিনে ইয়ামালদের স্পেনের উদ্ধত, তপ্ত লালের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। এখানকার লোকেরা বলে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের তীব্র ডামাডোলের লগ্নেই নাকি কেবল এমন আড়াআড়ি লাল আর নীলে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এই কসমোপলিটন নগরী। একদিকে রিপাবলিকানদের চেনা ‘লাল’, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের ‘নীল’। ব্যালট বাক্সের সেই চিরন্তন বিভাজনটাই যেন এবার নেমে আসছে ফুটবল মাঠে। নিউইয়র্কের ধমনিতে এখন বইছে স্প্যানিশ আর্মাডা বনাম মেসি-সাম্রাজ্যের এক অনন্য ফুটবলীয় ‘ইলেকশন ডে’।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ে নিউইয়র্ক বরাবরই নীল দাপটের অটল দুর্গ। কিন্তু রাজনীতির সেই চেনা নীল স্রোতকে এবার ওলটপালট করে দিয়ে, স্প্যানিশ আর্মাডার রক্তাভ লাল আর লাতিন ফুটবলের চিরন্তন আকাশি-নীল রঙে এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক দ্বৈরথে মেতেছে ঘুমহীন মহানগরী নিউইয়র্ক। সকার থেকে একটু একটু করে যেন ফুটবলের মায়ায় জড়িয়ে পড়েছে এই শহরটা। এক মাস আগের কথা। জেএফকে এয়ারপোর্টের এক কোণে ‘ফুটবলে একটা কিক মারো’ বিজ্ঞাপনী ক্যাম্পেইনের বুথটার সামনে যখন সুনসান নীরবতা, কাকপক্ষীও গলত না– গতকাল সেখানে রাজ্যের ভিড় ঠেলে ছেলে-বুড়ো সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে চামড়ার গোলকটায় লাথি মারার জন্য ব্যাকুল!

আর্জেন্টিনা-স্পেনের ফাইনাল ঘিরে উন্মাদনার আসল বিস্ফোরণটা অবশ্য টের পাওয়া যাচ্ছে শহরের পাব আর রেস্টুরেন্টগুলোতে। ম্যানহাটানের স্যালুন কিংবা কুইন্সের স্প্যানিশপাড়ার বারগুলোতে পা ফেলার জায়গা নেই। একদিকে সানগ্রিয়ার গ্লাসে চুমুক দিয়ে স্প্যানিশ গিটারের দ্রুত লয়ে মেতে উঠেছে যুবসমাজ, অন্যদিকে আর্জেন্টিনার চেনা ড্রামের তালে ‘মুচাচোস’ গানের সুরে ভারী হয়ে উঠছে বাতাস। উবার চালক থেকে শুরু করে ক্যাফের ওয়েটার– সবার মুখেই এক অদ্ভুত উত্তেজনার চোরাস্রোত। বিগ অ্যাপলের ধমনিতে এখন আর কোনো আমেরিকান কেতাবি ভাব নেই, সেখানে এখন রাজত্ব করছে লাতিন আমেরিকার তীব্র আবেগ আর ইউরোপীয় ফুটবলের অহংকারী আভিজাত্য।

শহরের এই তুমুল উৎসবের আলো-আঁধারির মাঝেই ম্যানহাটানের রাস্তায় চোখে পড়ে কিছু বিষণ্ন, ছন্নছাড়া অবয়ব। তারা আর কেউ নন, সাতসমুদ্র পাড়ি দিয়ে আসা একঝাঁক ইংলিশ সমর্থক। সেমিফাইনালের মহারণে থ্রি-লায়ন্সদের বুকভাঙা বিদায়ের পর থমকে গেছে তাদের সব স্বপ্ন। অথচ ফাইনালের টিকিটটা তারা পকেটস্থ করে রেখেছিলেন অনেক আগেই, বুক বেঁধেছিলেন ইউরোর অধরা ট্রফিটা এবার অন্তত ঘরে ফিরবেই। লন্ডনের পাব ছেড়ে নিউইয়র্কের রাস্তায় এখন তারা ঘুরছেন ঠিক যেন ‘বিবাহ আসর থেকে বর পালিয়ে যাওয়া’ কোনো হতভাগ্য নিমন্ত্রিতের মতো। লাখ টাকা খরচ করে কেনা সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের অমূল্য টিকিটগুলো এখন তাদের কাছে তপ্ত কয়লার মতো হাত পোড়াচ্ছে। না পারছেন ফেলে দিতে, না পারছেন সইতে। টাইমস স্কয়ারের কোনো স্পোর্টস বারের কোণে বসে মলিন মুখে বিয়ারের গ্লাসে চুমুক দেওয়া ছাড়া এখন আর কোনো গতি নেই এই ব্রিটিশদের। অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার ‘মুচাচোস’ কিংবা স্প্যানিশ ফ্লামেনকোর সেই করতালির উৎসব যেন তাদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। বিশ্বকাপ ফাইনালের আঁচ পড়েছে এখানকার মিডিয়াতেও।

নিউইয়র্কের নামি দৈনিকগুলোর ‘পেজ থ্রি’ এখন আর কেবল গ্ল্যামার দুনিয়ার খামখেয়ালিপনার গল্প বলছে না, সেখানে এখন রীতিমতো চাঁদের হাট বসার উপক্রম। জেএফকে বিমানবন্দর থেকে শুরু করে ম্যানহাটানের রুফটপ লাউঞ্জ– সবখানেই ফিসফাস, রোববারের ফাইনালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি বক্সে বসবেন কারা? হলিউডের তাবড় মহাতারকা টম ক্রুজ, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও থেকে শুরু করে ব্র্যাড পিট আর ডেভিড বেকহামের মতো ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে গ্ল্যামারের যে সুনামি বইবে, তা নিয়ে ইতোমধ্যে খবরের কাগজগুলো পাতার পর পাতা ভরিয়ে ফেলছে। এমনকি মাঠের সেই হাই-ভোল্টেজ ড্রামার আগে ৯০ মিনিটের সমাপনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপাতে আসছেন পপসম্রাজ্ঞী ম্যাডোনা, শাকিরার মতো তারকারা, যা দেখার জন্য ফুটবলপ্রেমীদের আকাঙ্ক্ষার পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী।

তবে শুধু সেলিব্রিটিদের ঝলকানিই নয়, ম্যানহাটানের টাইমস স্কয়ার থেকে ব্রুকলিনের স্পোর্টস বারগুলোর দেয়াল ঢেকে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর বেটিং সাইটগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপনে। কে হাসবে শেষ হাসি? বাজির দুনিয়ায় জুয়াড়িরা কিন্তু ইতোমধ্যেই নিজেদের পছন্দের ছক সাজিয়ে ফেলেছেন। বাজিকরদের খাতায় স্পেন এই মুহূর্তে কিছুটা এগিয়ে, ট্রফি ছোঁয়ার দৌড়ে তাদের সম্ভাবনা প্রায় ৫৮ শতাংশ। ওয়াল স্ট্রিটের করপোরেট নিউইয়র্কের বুক চিরে এখন যেন এক আদিম জুয়ার উন্মাদনা খেলা করছে; প্রতিটি ডলারের চাল, প্রতিটি বিজ্ঞাপনের স্লোগান যেন মনে করিয়ে দিচ্ছে– বিগ অ্যাপল এখন আক্ষরিক অর্থেই এক আন্তর্জাতিক ফুটবল যুদ্ধক্ষেত্রের কেন্দ্রবিন্দু।

সেখানে জ্যাকসন হাইটস, ওজোন পার্ক কিংবা ব্রঙ্কসের বাঙালি পাড়াগুলোতে ফাইনালের হাওয়া বইছে প্রবলভাবেই। প্রবাসী বাংলাদেশিদেরও সরব উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। নিউইয়র্কের এই মিনি বাংলাদেশও এখন আড়াআড়ি দুই ভাগে বিভক্ত। তবে এখানে স্পেনের ‘লাল’ রঙের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে এক চিরন্তন আবেগের লড়াই– আর্জেন্টিনা বনাম ‘আর্জেন্টিনা ঠেকাও’ দল! চায়ের কাপে ঝড় তুলে একদল যখন লিওনেল মেসির শেষ নৃত্যের বন্দনায় মগ্ন, অন্যদল তখন কোমর বেঁধে নেমেছে কীভাবে লাতিন এই পরাশক্তিকে মাটিতে নামানো যায়, তার হিসাব কষতে। সব ক্লান্তি ভুলে মেতে উঠেছে সেই চিরন্তন ট্রল আর তর্কে; যেখানে মেসিবন্দনার উল্টো পিঠেই তৈরি হচ্ছে এক তীব্র, অলিখিত প্রতিরোধ। সব মিলিয়ে জমজমাট এক ফাইনালের জন্য তৈরি নিউইয়র্ক।