Home Blog Page 66

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে যুক্তরাষ্ট্র

তিন মাসেরও বেশি সময় যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তির একটি খসড়ায় সম্মত হয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যেতে পারে। গতকাল শনিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এ তথ্য জানান। তবে পাল্টা মন্তব্য এসেছে ইরানের পক্ষ থেকে। ফলে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

গতকাল শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যম এক্সে এক পোস্টে লেখেন, ‘আমরা অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় শান্তিচুক্তির খুব কাছে রয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সব চূড়ান্ত হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি। তাৎক্ষণিকভাবে ইলেকট্রনিক পন্থায় শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমরা আত্মবিশ্বাসী, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির ভিত্তি রচনা করবে।’

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্বাক্ষর আজ রোববার হবে না বলে জানায় ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমায়েল বাঘায়ি বলেন, আগামী দিনগুলোতে সমঝোতা স্বাক্ষরের সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সাক্ষরের দিনক্ষণ নিয়ে কোনো মন্তব্য করার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে অপর পক্ষের দ্বিধার কারণে। বাঘায়ির দেওয়া তথ্যানুসারে, ইসলামাবাদ বা জেনেভায় আগামী এক দিন বা দুই দিনের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য কোনো আলোচক দল পাঠানোর পরিকল্পনাও নেই ইরানের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হয় যুদ্ধ। ইরানে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। পরে পাল্টা জবাব দেয় তেহরানও।
চুক্তির বিষয়ে যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি গত শুক্রবার জানান, চুক্তিতে যদিও পরিবর্তন আসা সম্ভব, তার পরও এ সংঘাতের মধ্য দিয়ে তাঁর দেশের অবস্থান দৃঢ় হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ যুদ্ধে জয়ী হয়েছে ইরান।’

এক সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, আরাঘচির এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হতে থাকা ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানায়, ওই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক নৌযানের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করছিল। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডও পরে ওই হামলার খবর নিশ্চিত করেছে। পাশাপাশি তারা জানিয়েছে, জলপথ খোলা রয়েছে।

যুদ্ধ অবসানের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষ এরই মধ্যে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতায় হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা এ চুক্তির পরে শুরু হবে। সব মিলিয়ে ৬০ দিন আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। প্রস্তাবে তেহরানের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও রয়েছে বলে জানা গেছে।

জুলাইয়ে দাফন করা হবে আলি খামেনিকে
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে আগামী ৯ জুলাই দাফন করা হবে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে তথ্যটি। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তেহরানে ৪ ও ৫ জুলাই বিদায়ী অনুষ্ঠান হবে, জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুলাই। আর কোমে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে ৭ জুলাই। ৯ জুলাই আরেকটি জানাজার পর মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে দাফন করা হবে।

খামেনির জানাজা ও দাফনের সূচি ঘোষণা করল ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতা আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরানে শুরু হবে। তিন দিনব্যাপী এ কর্মসূচি শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।

খামেনির দাফন প্রথমে মার্চ মাসে হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় তা স্থগিত করা হয়। নতুন সূচি অনুযায়ী, ৪ জুলাই থেকে তেহরানে তিন দিনব্যাপী জানাজার অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ৭ জুলাই পবিত্র নগরী কোমে আরেকটি স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারিতে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

১৯৮৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর দেশের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন খামেনি। এর এক দশক আগে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন খোমেনি, যার মাধ্যমে ইরানে পাহলভি রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। খামেনি ছিলেন ইসলামি বিপ্লবের প্রধান আদর্শিক রূপকার। অন্যদিকে খামেনির নেতৃত্বে ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক কাঠামো আরও শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে।

খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনি উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা দিয়েছেন।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, চলমান আলোচনায় মোজতবা খামেনি গুরুত্বপূর্ণ ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলে মনে হচ্ছে।

অপ্রদর্শিত ব্যয়ের খোঁজে ‘টাইম মেশিনে’ এনবিআর পুরোনো কোনো ব্যয় আয়কর রিটার্নে উল্লেখ না করলে জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব অর্থবিলে

এবারের বাজেটে অর্থবিলে অতীতের যে কোনো বছরের অপ্রদর্শিত ব্যয় খুঁজে পেলে, তার ওপর জরিমানাসহ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য অর্জনে মরিয়া কর কর্মকর্তারা যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে অতীতের পুরোনো নথি দেখতে চাওয়ার ক্ষমতা পাবেন। এতে করদাতাদের হয়রানির শিকার হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এর আগে ২০২৩ সালের আয়কর আইনে ছয় বছর পর্যন্ত কোনো লুকানো বা অপ্রদর্শিত সম্পদের খোঁজ কর কর্মকর্তারা পেলে তার ওপর কর আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। এবার ওই ধারা সংশোধন করে সম্পদের সঙ্গে করযোগ্য ব্যয়ও সংযুক্ত করে কর কর্মকর্তাকে ওই ব্যয়ের ওপরও সরাসরি করারোপ করার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এ আইন এনবিআরের হাতে একটি ‘টাইম মেশিন’ বা অতীত-সন্ধানী ক্ষমতা তুলে দেওয়ার মতো ঘটনা। আগে সম্পদের ক্ষেত্রে এমন বিধান ছিল। এখন ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একই আইন করার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।

অর্থবিলে যা আছে
এবারের অর্থবিলের ২১২ ধারার ৪(খ) উপধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির এমন কোনো অপ্রদর্শিত আয়, ব্যাখ্যাহীন ব্যয় বা লুকানো সম্পদ থাকে, যা আয়কর আইনের সাধারণ ছয় বছরের ‘লুকব্যাক পিরিয়ড’ বা অতীত অনুসন্ধানের সীমারও পুরোনো, তবে আইনত ধরে নেওয়া হবে, ওই আয়, ব্যয় বা সম্পদ সেই ষষ্ঠ (সবচেয়ে পুরোনো সচল বছর) কর বছরেই সংঘটিত হয়েছে।

অর্থবিলে এই ধারা পাস হলে ছয় বছর আগেরও কোনো করযোগ্য ব্যয় পেলে কর কর্মকর্তা ওই ব্যয়কে পেছনের ষষ্ঠ বছরের ব্যয় হিসাবে গণনা করে ওই বছরের কর আইন অনুযায়ী কর ধার্য করবেন। এর পর টানা ছয় বছর তা অপরিশোধিত থাকায় বার্ষিক ১০ শতাংশ হারে জরিমানাসহ কর পরিশোধের নোটিশ দিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ পর্যবেক্ষণ 
কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া এ পরিবর্তনের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে একটি উদাহরণ দিয়েছেন। তিনি জানান, যদি কোনো করদাতা আজ থেকে আট বছর আগে কোনো খাতে ১০ লাখ টাকা ব্যয় করে থাকেন, যা তখন তিনি আয়কর নথিতে দেখাননি, তাহলে বর্তমান আইনে কর কর্মকর্তা সেই ব্যয়টিকে ষষ্ঠ বছরের আয় হিসেবে গণ্য করে বর্তমান সময়ে করহারে কর আরোপ করতে পারবেন। ফলে আয়কর নথিতে জীবনযাপন সংশ্লিষ্ট ব্যয়ের সঠিক তথ্য প্রদানই ভবিষ্যতে আপনাকে বড় ধরনের করভার থেকে বাঁচাতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

কোম্পানি-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তারা ভয় করছেন, বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নে বড় রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে কর কর্মকর্তারা পুরোনো অনেক নথি চাইতে পারেন। এ নিয়ে হয়রানির স্বীকার হওয়ার শঙ্কার কথাও জানান তারা।

পেশাদার চার্টার্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং কর বিশেষজ্ঞ এমবিএম লুৎফুল হাদী মনে করেন, যারা আইন মেনে চলেন, তাদের এ বিধান নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। তবে এটাও ঠিক, আগে সবার মধ্যে এ ধারণা বদ্ধমূল ছিল, ছয় বছর আগের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না। এ প্রস্তাব সে ধারণা ভেঙে দিয়েছে।

এই কর বিশেষজ্ঞ সমকালকে বলেন, ফৌজদারি অপরাধের বিচারের কোনো সময়সীমা থাকে না, এটা ঠিক। কিন্তু আর্থিক ক্ষেত্রে এর একটা সীমা থাকা উচিত।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে 
শুধু আইনি বিধান করেই নয়, এ বিধান প্রয়োগের জন্য এনবিআরের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্য ‘সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশন’ ব্যবস্থা চালুর কথা রয়েছে। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা এবং সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। ফলে এনবিআর চাইলে জানতে পারবে, করদাতা তার আয় বা ব্যয় বা সম্পদ-সম্পর্কিত কোনো তথ্য লুকাচ্ছে কিনা।

অর্থমন্ত্রী জানান, এ ডিজিটাল সংযোগের ফলে কর ফাঁকি রোধ করা এবং করদাতার প্রকৃত সম্পদ ও ব্যয়ের চিত্র বের করা সহজ হবে। এ ছাড়া কর ফাঁকি শনাক্ত করতে এনবিআর এখন থেকে ঝুঁকিভিত্তিক পদ্ধতি ব্যবহার করবে, যেখানে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অডিট নির্বাচন করা হবে।

বাজেট বিশ্লেষণ স্বাস্থ্য বাজেটের ‘স্বাস্থ্য ভালো’ বাস্তবায়ন দুর্বল

প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে গেলবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বরাদ্দের ঘোষণা এসেছে। টাকার অঙ্কে তা ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি। উপজেলা হাসপাতালে শয্যা ও জনবল বাড়ানো, বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং জরুরি রোগী পরিবহনে হেলিকপ্টার সেবা চালুর মতো বেশ কয়েকটি বড় উদ্যোগের পরিকল্পনা করেছে সরকার।

তবে স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বরাদ্দ বাড়ানো যতটা গুরুত্বপূর্ণ, এর চেয়ে বেশি জরুরি সেই টাকা যথাযথভাবে খরচ করা। কারণ, বছরের পর বছর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ খরচ করতে পারেনি। ফলে নতুন বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, এবার বরাদ্দের একটি টাকাও ফেরত না যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা জিডিপির শূন্য দশমিক ৫৮ শতাংশ ছিল। স্বাস্থ্য বাজেটে সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ৪৬২ উপজেলা সদর হাসপাতালকে ধাপে ধাপে ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করা। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা পর্যায়ে শয্যা ও জনবল সংকটের কারণে রোগীকে জেলা শহর ও রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে। শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ভবন বা শয্যা বাড়ালেই হবে না। চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্ট ও সহায়ক কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত না হলে এসব হাসপাতাল কার্যকরভাবে পরিচালনা সম্ভব নয়।

বন্ধ শিশু হাসপাতাল চালু হচ্ছে
প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি আটটি ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ১৮টি এক হাজার শয্যার সাধারণ হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজধানীকেন্দ্রিক বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ কিছুটা কমতে পারে। বর্তমানে ক্যান্সার চিকিৎসা, শিশুস্বাস্থ্য ও জটিল রোগ ব্যবস্থাপনায় ঢাকার ওপর নির্ভরতা অনেক বেশি।

এক লাখের বেশি জনবল নিয়োগ
প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। জনবল সংকটে থাকা স্বাস্থ্য খাতের জন্য এটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট নার্সিং ইনস্টিটিউট অ্যান্ড কলেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং সাইক নার্সিং কলেজের চেয়ারম্যান আবু হাসনাত মো. ইয়াহিয়া বলেন, জনস্বাস্থ্যের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নিয়োগে সুষম বণ্টনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। শুধু চিকিৎসক, নার্স বা কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মী নয়; অপটোমেট্রিস্ট, ফিজিওথেরাপিস্ট, অকুপেশনাল থেরাপিস্ট (ওটি), স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপিস্ট (এসএলটি) এবং পুষ্টিবিদের জন্যও পর্যাপ্ত পদ সৃষ্টি করতে হবে।

পুরোনো সমস্যা: বরাদ্দ আছে, ব্যয় নেই
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, স্বাস্থ্য খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা বরাদ্দের পরিমাণ নয়, বরং সেই টাকা ব্যয়ের সক্ষমতা। তিনি বলেন, সংশোধিত বাজেটে যেন বরাদ্দ কমানো না হয় এবং বছর শেষে যেন দেখা যায়, বরাদ্দের পুরো টাকা ব্যয় হয়েছে। তাহলেই মানুষ বাজেট বাড়ার সুফল পাবে।

মাঝপথে বরাদ্দ কমার শঙ্কা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বলেন, অভিজ্ঞতা বলছে, বরাদ্দ বাড়লেও যদি প্রকল্পগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পাবে না।

‘এক টাকাও ফেরত যাবে না’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। এটি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার। তিনি বলেন, উপজেলার সব হাসপাতালে শয্যা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালুর প্রস্তুতি চলছে। জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য আধুনিক অ্যাম্বুলেন্সের পাশাপাশি হেলিকপ্টার সেবাও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা বলল জাপার একাংশ

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে সম্ভাবনার আলোকবর্তিকা এবং বাস্তবায়নের এক কঠিন পরীক্ষা বলে আখ্যা দিয়েছে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশ। দলটির চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, বিদ্যমান কঠিন সময়কে মোকাবিলার লক্ষ্যে বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

আজ শনিবার গুলশানের বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে জাপার একাংশের চেয়ারম্যান প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘাটতি ও ঋণ নির্ভরও বলেন। তিনি বলেছেন, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রতি গুরুত্ব রয়েছে। অন্যদিকে এর প্রধান দুর্বলতা রাজস্ব আহরণের অনিশ্চয়তা, বড় ঘাটতি, ঋণনির্ভর অর্থায়ন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অস্পষ্টতা।

জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাপা ছেড়ে একই নামে পৃথক দল গঠন করা আনিসুল ইসলাম বলেছেন, সার্বিক বিবেচনায় এ বাজেট জনগণকে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ দিয়েছে। কিন্তু সেই স্বপ্ন কতটা বাস্তবে রূপ নেবে, তা নির্ভর করবে সরকারের দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপর।

সংবাদ সম্মেলনের জাপার এই অংশের মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের জন্য শুধু অর্থনৈতিক পরিকল্পনা যথেষ্ট নয়। সুশাসন, আইনের শাসন, মানবাধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

রুহুল আমিন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জাতীয় পার্টির অনেক নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।  বিশ্বাস করতে চাই, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অবিলম্বে মামলা ও নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাপার পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু, সিনিয়র কো- চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশিদ, কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, মুসলিম লীগ সভাপতি মহসিন রশীদ, ইসলামিক মহাজোট চেয়ারম্যান আবু নাসের অহেদ ফারুক প্রমুখ।

বিএনপির ৮২ কমিটির ৭২টিই মেয়াদোত্তীর্ণ

জাতীয় নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করলেও সাংগঠনিক তৎপরতায় পিছিয়ে পড়ছে বিএনপি। সারাদেশে ৮২ কমিটির মধ্যে এখন ৭২টি মেয়াদোত্তীর্ণ। নীতিনির্ধারকরা ব্যস্ত রাষ্ট্র পরিচালনায়। জেলা পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ব্যস্ত এমপি-মন্ত্রীদের নিয়ে। লবিং-তদবিরেও ব্যস্ত অনেকে। শিগগির এ অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে সামনে সরকার ও দলের জন্য কঠিন সময় তৈরি হবে বলে আশঙ্কা করছেন দলটির নেতাকর্মীরা।

শুধু সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি নয়; সারাদেশে বিএনপির থানা-উপজেলা এমনকি ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটিও এখন প্রায় নিষ্ক্রিয়। বরিশাল, খুলনা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের বেশ কয়েক নেতা জানান, দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সাংগঠনিক তৎপরতায় ভাটা পড়েছে। এতে সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাসের মাথায় রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন এক সময়ের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সমকালকে বলেন, মাত্র তো আমরা ক্ষমতায় এসেছি। একটু গুছিয়ে খুব শিগগিরই সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করা হবে।

জানা গেছে, সারাদেশে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিটগুলোর মধ্যে ৪৯টি আহ্বায়ক কমিটি এবং ৩১টিতে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি। এসব কমিটির মধ্যে মেয়াদ রয়েছে মাত্র ৮ জেলা ও মহানগর কমিটির। ৭২টি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। কমিটি স্থগিত রয়েছে শেরপুর জেলা কমিটির। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে আরও আগে।

দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, প্রতিটি জেলা ও মহানগর কমিটির মেয়াদ দুই বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার তিন মাসের মধ্যে কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর মধ্যে ব্যর্থ হলে যুক্তিসংগত কারণ দেখিয়ে আরও তিন মাস সময় নিতে পারবে। এই সময়েও কমিটি গঠনে ব্যর্থ হলে পূর্ববর্তী কমিটি বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে। এরপর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের শর্তে তিন মাসের জন্য আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দেবে কেন্দ্র। যদি আহ্বায়ক কমিটিও ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে কেন্দ্র কমিটি গঠন করে দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।

বিএনপির নেতারা জানান, ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে দল ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি কাউন্সিল প্রক্রিয়াকে প্রাধান্য দিয়ে সারাদেশে কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন। এজন্য বেশির ভাগ জেলা কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। তিন মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে গঠন করা হয় আহ্বায়ক কমিটি। কিন্তু সেই সময় পেরিয়ে বছরের পর বছর পার হলেও নতুন কমিটি আর হয়নি।

গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০১৭ সালের কমিটি দিয়েই চলছে। আহ্বায়ক কমিটির মতো অনেক জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটিও বছরের পর বছর মেয়াদহীন। ২০১৭ সালে গঠিত নড়াইল, কিশোরগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ রয়ে গেছে। আবার ২০১৮ সালের পর কয়েকটি জেলায় কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও বেশির ভাগেরই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।

ঢাকা ও ফরিদপুরে একটিরও মেয়াদ নেই
এ দুই বিভাগে বিএনপির সাংগঠনিক ইউনিট ১৭টি। একটিরও কমিটির মেয়াদ নেই। গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আফরোজা খানম রিতাকে আহ্বায়ক করে এবং অন্য ৬ জনকে সদস্য করে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির কমিটি ঘোষণা করা হয়। এর প্রায় চার মাস পর মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আংশিক আহ্বায়ক কমিটিকে বর্ধিত করে ৬১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। সেটিও এখন মেয়াদোত্তীর্ণ।

গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা সম্প্রতি মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে সংগঠনের সদস্য সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ দল থেকে বহিষ্কৃত। ঢাকা জেলা কমিটি গঠন করা হয় ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর। মেয়াদোত্তীর্ণ গুরুত্বপূর্ণ এই জেলা কমিটির কার্যক্রমও তেমন চলছে না। একইভাবে চলছে ২০২২ সালে গঠিত নরসিংদী জেলা আহ্বায়ক কমিটি।

চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় একটি ছাড়া সব মেয়াদোত্তীর্ণ
এ দুই বিভাগে ১৫টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটি রয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাদে সব জেলা কমিটিই মেয়াদহীন। ২০২২ সালে চাঁদপুর ও রাঙামাটিতে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হলেও সেসবের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ২০১৭ সালে কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি করা হয় শাহজাহান চৌধুরীকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয় শামীম আরা স্বপ্নাকে।

২০২৫ সালের ৯ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এ কমিটি গঠনের আগে কাউন্সিল করার একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও কোন্দলের কারণে তা হয়নি। পরে তারেক রহমান বর্তমান কমিটির ঘোষণা দেন।

অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সংঘর্ষের জেরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ২০২৫ সালের ২৯ জুলাই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও এখন পর্যন্ত নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। ২০২০ সালের ২২ ডিসেম্বর গোলাম আকবর খন্দকারকে আহ্বায়ক করে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির ৪৪ সদস্যের ওই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। কোন্দলের কারণে এই জেলা কমিটি ২০১৪ সালের মার্চের পর আর কখনও পূর্ণাঙ্গ হতে পারেনি।

রাজশাহী ও খুলনায় ৭টির মেয়াদ নেই
রাজশাহী বিভাগে ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের ২টি জেলা বাদে সবই মেয়াদোত্তীর্ণ। রাজশাহী বিভাগের ৯টি সাংগঠনিক ইউনিটের মেয়াদ নেই একটিরও। ২০১৯ সালের ৮ মে রুমানা মাহমুদকে সভাপতি এবং সাইদুর রহমান বাচ্চুকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি পুনর্গঠনের জন্য গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি আমিরুল ইসলাম আলীমকে আহ্বায়ক করে ১৮ সদস্যবিশিষ্ট সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে বেশ কয়েকজন বিতর্কিতকে অন্তর্ভুক্ত করায় তখন তৃণমূলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর সময় পার হলেও কাউন্সিল আয়োজনের লক্ষণ দেখা যায়নি।

খুলনা বিভাগের ১১টি জেলার মধ্যে গত বছর যশোর ও খুলনা মহানগর কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের বছর ২০২৪ সালের ২৩ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গা জেলা কমিটির কাউন্সিলে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এর বাইরে অন্য সব জেলা কমিটি রয়েছে মেয়াদের বাইরে।

বরিশালে সংগঠনের অবস্থা নড়বড়ে
৮টি সাংগঠনিক ইউনিট কমিটির মধ্যে একমাত্র পটুয়াখালী জেলার মেয়াদ রয়েছে। গত বছরের ৩ জুলাই এই জেলাতে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন কমিটি স্থগিতের পর গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ডিসেম্বরে জেলায় ৬টি উপজেলা, ৪টি পৌর কমিটি, প্রতিটি পৌরসভায় ৯টি; মোট ৩৬টি ওয়ার্ড কমিটি; ৪২টি ইউনিয়ন কমিটি ও প্রতিটি ইউনিয়নে ৯টি; ৩৭৮টি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ৬ মাসের অধিক সময় পার হলেও তৃণমূলের এসব কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।

জেলা সদস্য সচিব হুমায়ুন হাসান শাহীন বলেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা পেলেই সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ২০২০ সাল থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বাকি জেলা কমিটিও আছে আহ্বায়ক কমিটির ব্যানারে।

রংপুর ও সিলেটের অবস্থাও ভালো নয়
রংপুর বিভাগে ১০টি এবং সিলেট বিভাগে ৫টি সাংগঠনিক ইউনিট। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটি গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত হয়। এর বাইরে ২০২২ সালে দিনাজপুর, ২০২৩ সালে সৈয়দপুর জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এসব জেলা কমিটির মেয়াদও শেষ হয়েছে।

সিলেট বিভাগের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ এই কমিটি এখন পর্যন্ত কাউন্সিলের প্রস্তুতিমূলক কোনো কাজ শেষ করতে পারেনি। ২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, সেটিই চলছে। ২০২২ ও ২৩ সালে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। ওইসব জেলা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

ময়মনসিংহের মেয়াদ আছে দুটির 
এ বিভাগে ৬টি সাংগঠনিক ইউনিট। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার মধ্যেই শেরপুর জেলা বিএনপির ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় সংঘাত-সংঘর্ষের জের ধরে ওই কমিটি স্থগিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরুর অনুমতি পায়নি। এই বিভাগে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ও ৩১ সেপ্টেম্বর জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এই দুই জেলা ছাড়া আর কোনো জেলা কমিটির মেয়াদ নেই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানির অভিযোগ দিয়েও সাড়া মেলে না যৌন নিপীড়নবিরোধী সেল সম্পর্কে জানেন না শিক্ষার্থীরা

প্রথম বর্ষ ভালোভাবে শেষ করলেও দ্বিতীয় বর্ষে এসে বিড়ম্বনার মুখে পড়েন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী পুতুল (ছদ্মনাম)। বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ জেলার এক শিক্ষার্থীর দ্বারা তিনি নিয়মিত হয়রানির শিকার হন। একপর্যায়ে মোবাইল নম্বর বদলাতেও বাধ্য হন পুতুল। এতেও কোনো সুরাহা না হলে পরে বিভাগীয় সিনিয়রদের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। যদিও এর মধ্যে দীর্ঘ সময় আতঙ্কে কেটেছে পুতুলের।

এ ঘটনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওই ছেলে আমাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে দীর্ঘদিন বিরক্ত করত। টিউশনিতে যাওয়ার পথে আমার পিছু নিত।
হলের পাশেও দাঁড়িয়ে থাকত। দীর্ঘদিন আমাকে এসব ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। নিজের সম্মান রক্ষায় প্রকাশ্যে কারও কাছে অভিযোগও করতে পারিনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নবিরোধী সেলে অভিযোগ করেছেন কি না জানতে চাইলে পুতুল বলেন, ‘নিপীড়নবিরোধী সেল আছে, সেটাই তো জানতাম না। কখনও কেউ বলেনি। এ বিষয়ে কোনো প্রচারণাও দেখিনি।’

পুতুলের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই লোকলজ্জার ভয়ে এ ধরনের হয়রানি নীরবে সহ্য করেন। তারা নিপীড়নবিরোধী সেল নিয়ে জানেন না। ফলে অনেক ঘটনাই থেকে যায় আড়ালে।

অভিযোগ বাক্স খোলাই হয় না
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়নবিরোধী সেলে সাতজন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে চারজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং একজন রেজিস্ট্রার অফিসের প্রতিনিধি রয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ‘রফিক ভবন, উপাচার্য ভবনসহ কয়েকটি স্থানে অভিযোগ বাক্স থাকলেও সেগুলো নিয়মিত খোলা হয় না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদিবা নাওমি বলেন, ‘এই সেল সম্পর্কে খুব কম শিক্ষার্থীই জানে। আমিও জানতাম না। অনেক আগে আমার এক সিনিয়র আপু বাক্সে অভিযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সেটার কোনো সাড়া নাকি পাওয়া যায়নি।’

শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ নিয়ে দ্বিমত জানিয়ে সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক পারভীন আক্তার জেমি সমকালকে বলেন, ‘২০২৫ সালের শুরুতে আমি এর দায়িত্ব নেই। অভিযোগ বাক্স দীর্ঘদিন খোলা হয়নি- এমন অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়। তবে বাক্সের চাবি ছাত্রকল্যাণ দপ্তর বা রেজিস্ট্রার অফিসের কাছে থাকায় কিছুটা সময় লাগতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি আয়োজিত কর্মশালার লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবহিত করা। ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযোগ জমা পড়েছে। সেগুলোর তদন্ত চলমান।’

জকসুর উদ্যোগও শূন্য
জকসু নির্বাচনের আগে বিজয়ী প্যানেলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। নির্বাচনের পাঁচ মাস পরও নারী শিক্ষার্থীবান্ধব সেমিনার এবং নিপীড়নবিরোধী উদ্যোগ দেখা যায়নি।

তবে সামনে বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ওই প্যানেল থেকে নির্বাচিত সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগিরই একটি অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম চালু করা হবে, যার মাধ্যমে পুরান ঢাকার শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যায় পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ জানাতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মটি সংশ্লিষ্ট থানা ও প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।’

উপাচার্য যা বললেন 
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন সমকালকে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি বিভাগে অ্যান্টি-হ্যারাসমেন্ট অভিযোগ বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্সে জমা পড়া অভিযোগ প্রতি মাসে সংশ্লিষ্ট ডিন অফিসে পাঠানো হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌন হয়রানির বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স।’

আমিরের নির্দেশ অমান্য ‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা দুই জেলা কমিটি বাতিল

জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তাদের কেউ দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন না। করলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর দলটির নেতাকর্মীরা তা মেনে চললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু নেতার মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সাংগঠনিক নিয়ম অমান্যের ফলে ‘বড় দল’ হয়ে উঠতে চাওয়া জামায়াতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় জামায়াতের তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সব নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ‘লবিং’ করছেন তৃণমূলের নেতারা।

এই প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে– এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন।’

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, জামায়াত এত বছর ছিল একটি ক্যাডারভিত্তিক রেজিমেন্টেড দল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না থাকায় প্রধান দুই দলের একটিতে পরিণত হয়েছে জামায়াত। এতে দলটির দ্রুত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতে জামায়াত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী মানুষ কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় অনুশাসন ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে।

জামায়াত আগের মতোই ক্যাডারভিত্তিক দল থাকলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না, আবার ক্ষমতায় যেতে সবার জন্য দল উন্মুক্ত করলে আদর্শিক দল থাকতে পারবে না বলে মনে করেন আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, বাজার দখল নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মারামারি; আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছে। এগুলো প্রচলিত দলে পরিণত হওয়ার লক্ষণ। আবার আগের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে গেলে ছোট দল হয়ে থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জামায়াত এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।

ক্যাডারভিত্তিক দল নাকি বড় দল 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন। কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সংসদের ৬৮ আসনে জয়ী জামায়াত, আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে– এ ধারণা থেকে অনেকেই দলে যোগ দিতে চান; স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু তারা জামায়াতের আদর্শ কতটা মেনে চলবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা আদর্শ নয়, ক্ষমতার অংশ হতে দলে আসতে চান।

জ্যেষ্ঠ নেতারা সমকালকে বলেছেন, যদি জামায়াতে প্রবেশের সুযোগ আগের মতোই ‘দাওয়াতি কার্যক্রম’নির্ভর হয়, তাহলে নির্বাচনমুখী দল হয়ে ওঠার মতো কর্মী বৃদ্ধি পাবে না। আবার সবার জন্য দলে দরজা উন্মুক্ত করলে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে না। আগের মতো ক্যাডারভিত্তিক থাকলে ১৭-১৮ আসনের ছোট দল থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে চাইলে সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। তাদের দায়ও নিতে হবে।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম স্বীকার করেন, জাতীয় নির্বাচনে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। একটি পদের জন্য দলের একজনকে সমর্থন জানানো হবে। এর বিরুদ্ধে যে যাবেন, শাস্তি পাবেন। শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জামায়াতে নেতা-প্রার্থী হওয়ার কী নিয়ম
জামায়াতে সরাসরি কেউ যোগ দিতে পারেন না। প্রথমে তাদের দৃষ্টিতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করানো হয়। তারপর তাঁকে দলের দেওয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বই পড়তে হয়। এতে উত্তীর্ণ হলে একজন সহযোগী সদস্য কর্মী হন। কর্মীকে রুকন (সদস্য) হতে নামাজ, অধ্যয়ন, কোরআন পাঠ এবং দলের কাজের রিপোর্ট রাখতে হয়। রুকন সিলেবাসের ৩৭টি বই পড়তে হয়। কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হতে হয়। জামাতে নামাজ আদায় করতে হয়। আরও কয়েকজনকে কর্মী বানাতে হয়। এরপর তিনি রুকন হতে পারেন। তারপর তিনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব পান।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংগঠনের মতো জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভার আমিররা রুকনদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সংগঠনেও কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা নির্বাচিত হন। তবে এসব নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। নিজের বা অন্য কারও জন্য ভোট চাইতে পারেন না। দলের সব রুকনই প্রার্থী, সবাই ভোটার। রুকনরা গোপন ভোটে এসব পদে নির্বাচিত করেন। কর্মপরিষদের পরামর্শে সেক্রেটারিসহ অন্যান্য পদে নেতাদের দায়িত্ব দেন আমির। নির্বাচনে প্রার্থীও একইভাবে ঠিক করা হয়। দলের অনুমোদন ছাড়া কেউ নিজেকে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা ও প্রচার চালাতে পারেন না।

‘বড় দল’ হতে নিয়ম শিথিল
জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, ৫ আগস্টের পর এই নিয়ম ভেঙে যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে, বাছবিচার ছাড়াই সহযোগী সদস্য পূরণ করে দলে নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সব আসনে জামায়াত জয়ী হওয়া একটি জেলার আমির সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যাদের দলের সহযোগী সদস্য বানানো যায়নি, মাসিক ১০০ টাকা চাঁদা (ইয়ানত) পাওয়া যায়নি, একটি মিছিলের জন্য বারবার ডেকে আনা যায়নি– তারা এখন উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তদবির করছেন। দলের অনুমতি ছাড়াই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে পোস্টার লাগাচ্ছেন। মানাও করা যাচ্ছে না, কারণ তারা জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক তরুণ তিনটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই তরুণকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। কারণ, জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী বোরহানউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ নির্বাচনের প্রচারের সময় ওই তরুণ এসে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন।

জামায়াতের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে কারা কারা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, তা অতীতের মতো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ভোটে জিততে সবাইকে প্রচারে নেওয়া হয়েছিল। এদের অনেকের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের দায় এখন জামায়াতকে নিতে হচ্ছে।

গত ২০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে আহত স্থানীয় জামায়াত নেতা সামিউল ইসলাম ১০ দিন পর মারা যান। তিনি পৌর জামায়াতের অফিস সম্পাদক ছিলেন। সাংগঠনিক তদন্তের পর কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতারা বলেছেন, ওই সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ ছিল না। দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো বাজারের ইজারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

এমপি ঘিরে বলয়
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য এবং অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে ‘সমান্তরাল’ সংগঠন তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, একটি আসনে ভোটে জিততে আট-দশ হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকের বাহিনী লাগে। কিন্তু একটি আসনে রুকন, কর্মী, সহযোগী সদস্য মিলিয়ে জামায়াতের জনবল খুব বেশি হলে এক হাজার। বাকিরা সরাসরি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অতীতে জামায়াত ৩০-৩৫টি আসনে নির্বাচন করত। ফলে দলীয় কর্মী কিংবা জোটের মিত্র দল বিএনপির সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারত। এবার নিজেই ছিল বিএনপি প্রতিপক্ষ জোটের প্রধান দল। তাই বিএনপিবিরোধী সবাইকে নিতে হয়েছে। তারা এখন জামায়াত এমপিদের ঘিরে দলের বাইরে বলয় তৈরি করছেন।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাঙ্গালা ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেন। তারা সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবদল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এ ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অতীতে যারা এ দুই ইউনিয়নে জামায়াতের রাজনীতি করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন আসা দুজনকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে দলটি।

শাস্তিতেও কাজ হচ্ছে না ‘বলয়ের’ কারণে
সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসন জোট শরিক নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু জামায়াতের জেলা আমির তোফায়েল আহমদ শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের করেননি। নেতাকর্মীর চাপ রয়েছে দাবি করে নির্বাচনে থেকে যান।

একই চিত্র ছিল নরসিংদী-২ আসনে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাঁকে জামায়াত আমির ঢাকায় ডাকলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এনসিপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনের সাত দিন আগে নেতাকর্মীর চাপের কথা বলে ভোটের মাঠে নামেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসন কেন্দ্রীয়ভাবে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও জামায়াত প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। জামায়াত আমিরের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে থেকে যান। তিনি বোয়ালখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়ের সমকালকে বলেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই– এই বার্তা দিতে শুধু প্রার্থী নন, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। কমিটির প্রত্যেক নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। সাংগঠনিক অঞ্চল দায়িত্বশীলরা দেখভাল করছেন। চট্টগ্রামের প্রার্থীর রুকনিয়াত বাতিল করে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়েছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির জসিমউদ্দিন। তিনি জামায়াতের ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থী। কুমিল্লা-৭ আসনে দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকরা মারামারি করায় শাস্তি হিসেবে আসনটি জোটকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত।

গতকাল শনিবার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির এমবি বাকেরকে। তাঁকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে নির্বাচন-সংক্রান্ত কারণে।
স্থানীয় নির্বাচনেও এ রকম বিরোধ-বিদ্রোহের শঙ্কা রয়েছে কিনা– প্রশ্নে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেন, মানুষ হিসেবে অনেকের মধ্যে পদের জন্য আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। এটিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ছাড়া দেওয়া হবে না। তাতে যদি জামায়াত তথাকথিত বড় দল হতে না পারে, তবুও নয়।

আজকের দিনটি ব্যস্ততায় কাটবে ক্রীড়াপ্রেমীদের

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত বাংলাদেশ। রোববার (১৪ জুন) সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দুই দল। একইদিন নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নামবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে ফুটবল বিশ্বকাপে আজ ভোর থেকে আগামীকাল সকাল পর্যন্ত রয়েছে ৬টি ম্যাচ। সবমিলিয়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের জন্য দিনটি ব্যস্ততায় কাটবে।

এক নজরে দেখে নিন আজকের খেলার সময়সূচি-

  • বিশ্বকাপ ফুটবল

হাইতি-স্কটল্যান্ড
সকাল ৭টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

অস্ট্রেলিয়া-তুরস্ক
সকাল ১০টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

জার্মানি-কুরাসাও
রাত ১১টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

নেদারল্যান্ডস-জাপান
রাত ২টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

আইভরিকোস্ট-ইকুয়েডর
আগামীকাল ভোর ৫টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

সুইডেন-তিউনিসিয়া
আগামীকাল সকাল ৮টা, বিটিভি, টি স্পোর্টস ও সময়

  • ৩য় ওয়ানডে

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া
বেলা ১১টা, নাগরিক টিভি ও টি স্পোর্টস

  • নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডস
বেলা ৩-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

ভারত-পাকিস্তান
সন্ধ্যা ৭-৩০ মি., স্টার স্পোর্টস ১

প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না, মনে করিয়ে দিলেন ব্রাজিলের কোচ

বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে চিরচেনা ছন্দেও দেখা যায়নি সেলেসাওদের। শিষ্যদের এমন পারফরম্যান্সে খুশি নন ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অকোপটেই স্বীকার করেছেন, প্রথমার্ধে দলের খেলা পছন্দ হয়নি তার। একইসঙ্গে আনচেলত্তি মনে করিয়ে দিয়েছেন, প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারিত হয় না।

ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি বলেন, প্রথমার্ধের খেলাটা আমাদের ভালোভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। দল ভালো খেলেনি, ভারসাম্যে কিছু সমস্যা ছিল। অপ্রয়োজনীয় ফাউল করেছি, অনেক বল হারিয়েছি। এই জায়গাগুলোয় আমাদের উন্নতি করতে হবে।

দ্বিতীয়ার্ধে শিষ্যরা খেলায় উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন আনচেলত্তি। তার ভাষ্য, দ্বিতীয়ার্ধে ভালো খেলেছি, আত্মবিশ্বাস হারানো যাবে না। প্রথম ম্যাচের পর আমরা ভাবতে পারি না যে দলটি নিখুঁত। এই ফল আমরা মেনে নিচ্ছি, যা মোটেও খারাপ নয়। পরের ম্যাচে আমরা আরও লড়াই করব। বিশ্বকাপ তো প্রথম ম্যাচেই জেতা যায় না।

প্রথমার্ধে খারাপ খেলার পেছনে স্নায়ুচাপকেও দায়ী করেন ব্রাজিলের এই ইতালিয়ান কোচ। তিনি বলেন, আমার মনে হয় প্রথমার্ধটা কঠিন ছিল। দল কিছুটা স্নায়ুচাপে ভুগেছে। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা অনেক ভালো খেলেছি। ম্যাচটাও ছিল কঠিন। তবে আমি বিশ্বাস করি, পরের ম্যাচে দল আরও উন্নতি করবে।

মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিলের হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন ভিনিসিয়াস। তার পারফরম্যান্সের মূল্যায়নে আনচেলত্তি বলেছেন, ভিনি ভালো খেলেছে, সে বিপজ্জনক ছিল। তার যে মান ও সামর্থ্য, আমি বিশ্বাস করি সে দারুণ একটি বিশ্বকাপ কাটাবে।

ম্যাচের কোন দিকটি ভালো লেগেছে জানতে চাইলে আনচেলত্তির বলেন, দল শেষ মিনিট পর্যন্ত লড়েছে। ইতিবাচক বিষয় হলো, আমাদের কোথায় উন্নতি করতে হবে, সেটা এখন পরিষ্কার। আরও ভারসাম্যপূর্ণ এবং আক্রমণভাগে আরও আগ্রাসী দল গড়ে তুলতে আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে ভক্তদের সমালোচনা তিনি বলেন, দল ভালো খেলতে না পারলে আপনাকে অবশ্যই সমালোচনা মেনে নিতে হবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো খেলোয়াড়ের সমালোচনা করি না। সমালোচনা পুরো দলের। কারণ, প্রথমার্ধে দল ভালো খেলেনি।