Home Blog Page 66

এসএসসির ফল ২০ জুলাই: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সাটিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ সোমবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জাতীয় পর্যায়ের স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম, প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।

ফল প্রকাশ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এসএসসির রেজাল্ট ২০ জুলাই আউট করবে, সেই নির্দেশনা আমরা দিয়েছি।’

ফল প্রকাশের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক (ডিজি) ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী উপস্থিত ছিলেন।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিতের ঘোষণা ইরানের

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সামরিক বাহিনী। তবে সতর্ক করে তারা বলেছে, তেল আবিব লেবাননে আগ্রাসন শুরু করলে আরও কঠোরভাবে আঘাত হানা হবে।

ইরানি আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এমন তথ্য জানিয়েছে। ইরানের এই ঘোষণার কিছু সময় আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবিলম্বে হামলা বন্ধ ও যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।

রোববার রাতে দুই দেশের মধ্যে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি হুমকির মুখে পড়েছিল। সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেন, ইরান ও ইসরায়েল এখন ‘অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির দিকে এগোচ্ছে।’ কারও বোকামি বাধা হয়ে না দাঁড়ালে শান্তি প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত আলোচনা এগিয়ে চলছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বলেছে, সবশেষ অভিযান থেকে জায়নবাদী শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সমর্থকদের অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। যদি আগ্রাসন ও শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকে তাহলে আগের চেয়ে আরও অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে ইসরায়েলে অভিযান চালানোর জন্য ইরান ও ইয়েমেনকে ধন্যবাদ দিয়েছে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, জায়নবাদী শক্তি ও তাদের লাগামহীন আগ্রাসনই অঞ্চলিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়ার কারণ।

ইসরায়েলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এর আগে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছিলেন, তাঁর দেশ ইরানে বেশ কয়েকদিন ধরে অভিযান চালানোর মতো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

বাজেট ২০২৬-২৭ স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের জন্য টার্নওভার কর কমছে

দেশের স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের টার্নওভার কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে দশমিক ৫০ শতাংশ করার পরিকল্পনা করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ খাত থেকে সঠিকভাবে আয়কর আদায়ের লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এমন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এনবিআর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশে প্রায় ৫০ হাজার স্বর্ণ ব্যবসায়ী আছে। যাদের মধ্যে বাজুসের সদস্য প্রায় ৪০ হাজার। কিন্তু বেশির ভাগ স্বর্ণ ব্যবসায়ী তাদের আয়কর ফাইলে আয়ের সঠিক হিসাব দেখান না। কেউ কেউ কর ফাঁকি দেওয়ার জন্য আয়কর ফাইলে নিজের আসল পেশাও উল্লেখ করেন না। কর কমলে বাজুসের সদস্যরা সঠিকভাবে আয়কর ফাইলে স্বর্ণ বিক্রি থেকে আয় সঠিকভাবে দেখাবেন এবং কর দিতে আগ্রহী হতে পারেন।

টার্নওভার কর কমানোর জন্য জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছিল। এই কর কমাতে চলতি বছর প্রাক-বাজেট আলোচনায় দাবি তোলার পর এনবিআরকে চিঠিও দিয়েছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এ বিষয়ে এনবিআরের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এই উদ্যোগের ফলে হয়তো দ্রুতই বিশাল পরিমাণ রাজস্ব আয় আসবে না। তবে ব্যবসায়ীরা করজালের আওতায় আসবেন।

বাজুসের সভাপতি এনামুল হক খান সমকালকে বলেন, ‘এটা ভালো উদ্যোগ। তবে আমাদের অন্যতম দাবি ছিল ভ্যাট কমানো। কারণ ক্রেতারা যথাযথভাবে ভ্যাট দেয় না।’ উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ভোক্তা পর্যায়ে পাঁচ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। কেউ ১০ ভরি স্বর্ণ কিনলে বর্তমান দাম অনুযায়ী তাঁকে ভ্যাট দিতে হবে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু ভারতে ভ্যাট মাত্র তিন শতাংশ। এর মধ্যে বিদেশি ক্রেতাদের জন্য সেখানে ভ্যাট মওকুফ। ফলে যারা বেশি পরিমাণে স্বর্ণ কেনেন তারা ভ্যাটবাবদ বাড়তি অর্থ খরচ না করে ভারত থেকে স্বর্ণ নিয়ে আসেন। এতে দেশের টাকা বিদেশে চলে যায়।’

এদিকে স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স আরোপের চিন্তা করছে এনবিআর। করদাতাদের অনেকেই তাদের আয়কর ফাইলে সক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি স্বর্ণ দেখান। যদিও অনেকে ক্রয় করে, উত্তরাধিকার সূত্রে বা উপহার হিসেবে স্বর্ণ পান। এনবিআর বলছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্বর্ণ বিক্রি থেকে সরকার কোনো কর পায় না। যদিও স্বর্ণ বিক্রি করে করদাতারা নিয়মিত হারে কর দিয়ে তার মূলধন বাড়াতে পারেন। আসন্ন বাজেটে করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রি কর ফাইলে সঠিকভাবে দেখাতে ১৫ শতাংশ গেইন ট্যাক্স চালু করা হতে পারে।

জেলায় জেলায় ভুয়া কমিটি, সতর্ক করল বিএনপির মিডিয়া সেল

দেশের বিভিন্ন জেলায় ভুয়া কমিটি গঠন ও প্রচারের অভিযোগে সতর্কবার্তা দিয়েছে বিএনপির মিডিয়া সেল। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিডিয়া সেলের নামে পরিচালিত বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ ও কমিউনিটি সম্পর্কে নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ সোমবার সকালে বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি কিছু জেলায় বিএনপি মিডিয়া সেলের নামে ভুয়া কমিটি ঘোষণা ও প্রচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির মিডিয়া সেলের নামে বিভিন্ন ভুয়া পেজ, গ্রুপ, কমিউনিটি সক্রিয় রয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিএনপি মিডিয়া সেলের কেন্দ্রীয় কমিটি ছাড়া সারাদেশে জেলা বা মহানগর পর্যায়ে এ নামে কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি। যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মিডিয়া সেলের অনুমোদিত কমিটি দাবি করছে, তাদের সঙ্গে বিএনপি মিডিয়া সেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

একই সঙ্গে অননুমোদিত ও ভুয়া কমিটি প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হবে বলে সতর্ক করা হচ্ছে। এ ছাড়া সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের এসব বিভ্রান্তিকর তথ্য ও তালিকা থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

একসঙ্গে ছড়াচ্ছে হাম ও ডেঙ্গু, বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ

দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না এলেও মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। এর মধ্যেই বিভিন্ন জেলায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ডেঙ্গুর বিস্তার নতুন করে তৈরি করেছে উদ্বেগ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ও ডেঙ্গুর ফলে জনস্বাস্থ্যে একসঙ্গে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সংখ্যাটি এখনও উদ্বেগজনক। অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন ৫০ জনের বেশি নতুন রোগী শনাক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দুই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে। ফলে সংক্রামক এই দুই রোগের চাপ সামাল দিতে স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে বাড়তি সতর্কতার মধ্যে থাকতে হচ্ছে।
এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে দুই রোগের চাপ আরও বেড়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় সংকট তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ঈদের ছুটিতে দুই দিনের স্বস্তির পর গতকাল আবারও হামের উপসর্গযুক্ত রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গতকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬২০-তে। তাদের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৫২৯ জন এবং হামে ৯১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮৮ হাজার ৬৯৮ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ৬৬ জনের। এতে মোট নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৬৮৬-তে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৮ হাজার ২৬৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৬০ হাজার ৮৪ জন।

টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি

হাম-রুবেলা নির্মূল জাতীয় যাচাই কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি প্রতিদিন বৈঠক করে করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করত এবং জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা হতো। তবে সরকার এখনও হামের বর্তমান প্রাদুর্ভাবকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা না করায় সে ধরনের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

ডেঙ্গুর বিস্তার বাড়ছে

এদিকে হাম পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৫৭ জেলায় ইতোমধ্যে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১০৭ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে তিন হাজার ৭১১ জন এবং মারা গেছে ছয়জন। মাসভিত্তিক হিসাবে জানুয়ারিতে আক্রান্ত ছিল এক হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪ ও জুনের প্রথম সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছে ৫১৪ জন।

ডেঙ্গু আক্রান্তদের প্রায় ৭৬ শতাংশই ঢাকার বাইরের বাসিন্দা। সবচেয়ে বেশি রোগী পাওয়া যাচ্ছে বরিশাল, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও কক্সবাজারে। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর– এই পাঁচ জেলাতেই ঢাকার বাইরের মোট রোগীর প্রায় ৪১ শতাংশ শনাক্ত হয়েছে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার শঙ্কা

ডেঙ্গু পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডেঙ্গু মোকাবিলার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি একদম আপনাদের কসম কেটে বলছি, আমি খুব নার্ভাস হয়ে গেছি। খুব দুর্বল হয়ে গেছি। আমি কীভাবে এটা ফাইট করব? প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।’

গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) আয়োজিত ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আয়োজনে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এ সংকট মোকাবিলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রত্যেক নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে। যে কোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে সমন্বিত যুদ্ধ আখ্যা দিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ এলাকা ও কচুরিপানায় ভরা স্থান পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এ সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ। চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপরই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।

পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থার ওপর জোর

একই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং পূর্বপ্রস্তুতিমূলক কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ পরিস্থিতি বড় আকার ধারণের আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে।

বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক রোগী ডায়রিয়া ও বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এতে দ্রুত পানিশূন্যতা তৈরি হয়ে শকের ঝুঁকি বাড়ছে।

যুদ্ধ ছড়াল লোহিত সাগরে, আরেক প্রণালি বন্ধ ঘোষণা

একদিন আগেই যুদ্ধ সম্প্রসারণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মহসেন রেজাই। সোমবার ইরান ও ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় সে চিত্র দেখা যাচ্ছে। ইসরায়েলের ওপর হামলায় ইরানের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ইয়েমেন। হামলা ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে লোহিত সাগর ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে।

গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুদ্ধে এই দুটি অঞ্চল বাইরে ছিল। হরমুজ প্রণালির মতোই লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মাঝে অবস্থিত জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালি। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণকারী ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সোমবার ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি দিয়েছে।

লোহিত সাগরে ইসরায়েলি জাহাজ চলাচলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইয়েমেনের এই গোষ্ঠী। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে পুনরায় বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। হুতির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা লোহিত সাগরে ইসরায়েলি সামুদ্রিক নৌযান চলাচলের ওপর সম্পূর্ণ ও সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ফিলিস্তিন, গাজা, ইরান, লেবানন ও ইরাকে ‘জিহাদ ও প্রতিরোধ অক্ষের’ সাধারণ মানুষের ওপর যে অন্যায় অবরোধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেটির মুখে তারা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না।

ইসরায়েলের গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল (টিওআই) জানিয়েছে, হুতিরা এরইমধ্যে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে। তবে প্রতিবেদনে নির্দিষ্ট জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়নি। আলজাজিরা তাদের প্রতিবেদনে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে জাফা অঞ্চলের কথা উল্লেখ করেছে।

টিওআই আরও জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি বসতির বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলছে, সোমবার সকালে ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েল লক্ষ্য করে ছোড়া সব ক্ষেপণাস্ত্র তারা ভূপাতিত করেছে। পশ্চিম তীরে যে আঘাতের ঘটনাটি ঘটেছে, তা মূলত প্রতিহত করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ইরানি গণমাধ্যম মেহর নিউজের তথ্য অনুযায়ী, নতুন হামলা শুরু হলে গত শনিবারই যুদ্ধ পারস্য উপসাগরের বাইরে টেনে নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন মহসেন রেজাই। তিনি বলেছিলেন, সম্ভাব্য সামরিক অভিযানগুলো হরমুজ প্রণালি থেকে ভারত মহাসাগর, বাব এল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

বিশ্বকাপ শেষ আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডারের

তারকা ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর চোট নিয়ে এমনিতে গলদ্‌ঘর্ম অবস্থা আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির। প্রায় ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও টটেনহ্যামের এই সেন্টার-ব্যাক এখনও ফিট হয়ে ওঠেননি। এর মধ্যে অনুশীলনে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন আরেক ডিফেন্ডার লিওনার্দো বালের্দি। তাঁর বদলে বোর্নমাউথ ডিফেন্ডার মার্কোস সেনেসি ডাক পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্কালোনির ভাবনায় হয়তো আর্জেন্টিনার সেরা একাদশে বালের্দি নেই। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, নিকোলাস ওতামেন্দি ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ হয়তো রক্ষণে কোচের প্রথম পছন্দ। কিন্তু রোমেরো এখনও ম্যাচ খেলার মতো ফিট হয়ে ওঠেননি বলেই বালের্দি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিলেন কোচের কাছে।

কিন্তু গত শুক্রবার অনুশীলনের সময় ডান পায়ের মাংসপেশিতে চোট পেয়ে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে ফরাসি ক্লাব মার্শেইয়ের এই ডিফেন্ডার। আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন তাঁর চোটের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে তিনি অনুশীলন শেষ করতে পারেননি। মাঝপথেই মাঠে থেকে উঠে যান। পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় তাঁর চোট গুরুতর এবং সেরে উঠতে সময় লাগবে। এরপরই তাঁকে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে বাদ দেন স্কালোনির নেতৃত্বাধীন কোচিং স্টাফরা। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে ১১টি ম্যাচ খেলা বালের্দির বদলে সেনেসি ডাক পেতে পারেন। ২৬ জনের স্কোয়াডে প্রথমে সেনেসিই ফেভারিট ছিলেন।

‘খাবার পানি নেই, জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে’

ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার নারী ও শিশুসহ দুই পরিবারের ১০ জন গত তিনদিন ধরে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ী সীমান্তের শূন্যরেখায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝড়-বৃষ্টি, প্রচণ্ড রোদ এবং ফসলি মাঠের কাদা-পানির মধ্যেই খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করায় তাদের মধ্যে অসুস্থতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে তারা চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পঞ্চগড়ের হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ী সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫৮-এর ৫ নম্বর সাব-পিলার এলাকায় ওই ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। শুক্রবার ভোরে স্থানীয়দের সহায়তায় বিজিবির বাধার মুখে তারা দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখায় অবস্থান নেন।

পরবর্তীতে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। সর্বশেষ বৈঠকে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে বিজিবি জানিয়েছে, রাতের আঁধারে পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং প্রকৃত নাগরিকত্ব যাচাই করে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী সমাধান হওয়া উচিত।

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নারী ও শিশুসহ ওই দুই পরিবারের সদস্যরা প্লাস্টিকের আশ্রয়ে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। কাদা-পানির মধ্যে তাদের বসবাস করতে হচ্ছে। অনেকে শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন এবং খাদ্য ও পানির অভাবে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

পুশইনের শিকার আব্দুস সালাম বলেন, ‘কাদা-পানির মধ্যেই দুইটা রাত পার হয়ে গেল। রাতে বৃষ্টি আর দিনে প্রচন্ড রোদ আর গরম থাকে। এখানে ঠিকমতো খাবার নেই, খাবার পানি নেই। মাঝেমধ্যে ফসলের মাঠে জমে থাকা কাদামাখা পানি পান করতে হচ্ছে। বিএসএফের পক্ষ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়না। বিজিবি কিছু শুকনো খাবার ও পানি দিলেও বেঁচে থাকার জন্য তা যথেষ্ট নয়।

স্থানীয় হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইয়েদ নুরে আলম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করে এভাবে মানুষকে সীমান্তে পুশইন করা অমানবিক। তিনি দ্রুত দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানান।

বড়বাড়ী সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম জানান, সীমান্তে চলমান পরিস্থিতির কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নারী ও শিশুরা কাদা-পানির মধ্যে মানবেতর অবস্থায় থাকলেও তাদের সহায়তা করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।

নীলফামারীর বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পতাকা বৈঠক করা হয়েছে এবং বিএসএফকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, সীমান্তে নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।

ভঙ্গুর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি রাডারে হামলার জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান

চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই পারস্য উপসাগরে আবারও বড় ধরনের সংঘাতে জড়াল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং শান্তি আলোচনায় নিজেদের পাল্লা ভারী করতে দুই দেশই আক্রমণাত্মক পথ বেছে নিয়েছে। খবর রয়টার্স ও আলজাজিরার।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দিকে ধেয়ে আসা ইরানের চারটি আত্মঘাতী ড্রোন ভূপাতিত করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। দেশটির সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, এই ড্রোনগুলো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছিল। ড্রোন ভূপাতিত করার পরপরই মার্কিন বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্টেশন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কুশ ও কেশম দ্বীপে অবস্থিত আইআরজিসির যোগাযোগ কেন্দ্রে বিমান হামলা চালায়।

যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ইরানের ইসলামী রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন বিমানঘাঁটি ‘আলি আল সালেম’ এবং বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের প্রধান সদরদপ্তর লক্ষ্য করে সাতটি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। তাদের দেশের সীমানার ভেতরে মার্কিন আগ্রাসনের জবাব দিতেই এই পাল্টা হামলা বলে জানিয়েছে আইআরজিসি।

কুয়েত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করা হলেও এর বড় বড় ধ্বংসাবশেষ বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় পড়েছে। এতে দুটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কুয়েত এই ঘটনাকে ‘নগ্ন আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

যুদ্ধ নাকি শান্তিচুক্তি : কোন পথে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে প্রায় ১০০ দিনে পা দিয়েছে। পাকিস্তানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তির চেষ্টা চলছে। তবে মার্কিন গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির শর্তে কিছু আকস্মিক পরিবর্তন চাওয়ায় আলোচনা বর্তমানে পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করছে এবং একের পর এক পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে আনছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা তাদের বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ থাকা ২৪ বিলিয়ন ডলারের তেল বিক্রির তহবিল ফেরত চায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চায় ইরান।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিবারই যখন দুই দেশ একটি চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছায়, তখনই কোনো না কোনো সামরিক হামলা আলোচনার টেবিলকে ভেস্তে দেয়। ফলে এই অঞ্চল স্থায়ী শান্তি নাকি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, তা এখনও অনিশ্চিত।

ইরানের কাছে এখনও ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে: ট্রাম্প
ইরানের বর্তমান সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের অধিকাংশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তাদের কাছে এখনও প্রায় ২১ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত অক্ষত রয়েছে।

চুক্তির টেবিলে ইরানের অনমনীয় মনোভাবের কারণ ব্যাখ্যা করে ট্রাম্প বলেন, ইরানি নেতৃত্ব অত্যন্ত গর্বিত ও শক্তিশালী। তাই তারা সহজে ছাড় দিতে চাচ্ছে না। তবে তাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই এবং অবশেষে তারা চুক্তিতে আসতে বাধ্য হবে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এ হিসাব গত মাসের চেয়ে বেশি। মে মাসে তিনি এ হার ১৮ শতাংশ বলে উল্লেখ করেছিলেন। যদিও ট্রাম্প প্রায়ই দাবি করে থাকেন, তিনি ইরানের যুদ্ধ করার সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছেন।

ইরানি ড্রোন মোকাবিলায় মার্কিন ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ কিনছে কুয়েত
গত বুধবার কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানি ড্রোনের এক ভয়াবহ হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। ওই হামলায় আন্তর্জাতিক টার্মিনালটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এই ঘটনার পর কুয়েত নিজের আকাশসীমা সুরক্ষিত করতে এবং ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভবিষ্যৎ হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম’ বা আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভাঙন ঠেকাতে পুরোনো নেতাদের তৃণমূলের দায়িত্বে ফেরালেন মমতা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের পর দলত্যাগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের ৬০ জন বিধায়ক। এরই মধ্যে খবর আসছে, সংসদের নিম্নকক্ষ তথা লোকসভায়ও ভাঙনের মুখে পড়তে চলেছে দলটি। তবে ভাঙন ঠেকাতে সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছেন দলের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পুরোনো ও বিশ্বস্ত নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরিয়ে এনেছে দলটি।

গতকাল শনিবার দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়, সমালোচনা সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল রেখেছেন। তবে অভিষেকের একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা কমাতে এবং বিদ্রোহীদের শান্ত করতে রাজ্যসভার দুই সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে দলের যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক করা হয়েছে। গত শুক্রবার কলকাতার কালীঘাটে মমতার বাসভবনে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।

সম্প্রতি বিধানসভায় তৃণমূলের দলত্যাগী ৬০ জন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘নতুন তৃণমূল কংগ্রেস’ নামে একটি পৃথক দল গঠন করেছেন। এই ঘটনার পরই তাৎক্ষণিকভাবে দলের সব কমিটি ও শাখা ভেঙে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এরই ধারাবাহিকতায় রাজ্য কমিটির দীর্ঘদিনের সভাপতি সুব্রত বকশীকে সরিয়ে সেই পদে আনা হয়েছে মমতাঘনিষ্ঠ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। সুব্রত বকশীকে করা হয়েছে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসভাপতি, রাজ্য সহসভাপতি করা হয়েছে সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বাতী খন্দকারকে।

রাজ্য সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবর আলি, পুলক রায় ও অসীমা পাত্র। রাজ্য কমিটিতে ফেরানো হয়েছে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও গৌতম দেবের মতো পুরোনোদের। তবে নতুন এই সাংগঠনিক কাঠামোয় জায়গা পাননি কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া ফিরহাদ হাকিম। দুই দশক ধরে মমতার বিশ্বস্ত এবং দলের অন্যতম প্রধান সংখ্যালঘু মুখ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বাদ পড়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেছেন বিশ্লেষকরা।

শাখা সংগঠনগুলোর মধ্যে যুব তৃণমূলে সায়নী ঘোষ এবং মহিলা তৃণমূলে মালা রায়কে সভানেত্রী পদে বহাল রাখা হয়েছে। ছাত্র পরিষদ সভাপতি পদ থেকে তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে সরিয়ে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক সংগঠনে মলয় ঘটক, হকার্স উইংয়ে মদন মিত্র, কৃষক সংগঠনে বেচারাম মান্না এবং ক্ষেত মজুর সংগঠনে পুর্ণেন্দু বসুকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের প্রধান চার মুখপাত্র করা হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কুনাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে। এ ছাড়া সুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।

গত শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে ডাকা ওই বৈঠকে ৬০ বিদ্রোহী বিধায়কের কেউই যাননি। বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম নেতা মোশাররফ হোসেন বলেছেন, তারা মমতাকে নেত্রী মানলেও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব মানতে নারাজ। মূল বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তাদের আর ফেরার পথ নেই। বিধানসভার স্পিকার এরই মধ্যে তাদের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।