Home Blog Page 67

বাজেট প্রস্তুতি বহুমাত্রিক চাপেও ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট সংসদের অধিবেশন বসছে আজ

আগামী অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের পরিকল্পনা করেছে সরকার। বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে ব্যয় বৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং সরকারি কর্মচারীর প্রস্তাবিত নতুন বেতন কাঠামোর সুপারিশ আংশিক বাস্তবায়নের কারণে ব্যয়ের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে।

এদিকে, আজ রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হচ্ছে। বিকেল ৩টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট অধিবেশন। আগামী বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের চেয়ে সাত হাজার কোটি টাকা কমিয়ে সাত লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার, যা পরে সংশোধিত হয়ে সাত লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকায় নেমে আসে। সে সময় উন্নয়ন খরচ কমিয়ে ভর্তুকি ও অনুন্নয়ন ব্যয় বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসাবে আগামী বাজেট চলতি অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৮ শতাংশ বড় হতে যাচ্ছে। যদিও অতীতে সাধারণত বাজেটের আকার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের অর্থনীতি সামষ্টিক, আর্থিক, খাতভিত্তিক ও সামাজিক-বহুমাত্রিক চাপের মুখে রয়েছে। অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতা এবং বৈশ্বিক নানা ধাক্কার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং প্রত্যাশিত হারে রাজস্ব আদায় না হওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ। এ পটভূমিতে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের জন্য রাজস্ব আয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা অনেকের কাছে উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মনে হচ্ছে। তবে সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্যই এসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও প্রায় দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ঘাটতি বাজেটের বড় চ্যালেঞ্জ। এই ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে এক লাখ আট হাজার কোটি টাকা, সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা, বৈদেশিক ঋণ থেকে এক লাখ ১১ হাজার কোটি টাকা এবং পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুদান নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্যে ৯ হাজার ৬০০ কোটি, বিদ্যুতে ৩৭ হাজার কোটি এবং অন্যান্য খাতে ২৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ভর্তুকি রাখা হচ্ছে। জিডিপির ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ বিনিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে বেসরকারি খাতে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানির মূল্য সমন্বয় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় এক লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও বিভিন্ন ভাতা কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত আরও এক হাজার ৮৫৭ জনকে ভাতার আওতায় আনা হবে। নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য বাড়তি ৩৫ হাজার কোটি টাকা রাখা হতে পারে। শিক্ষা খাতে ৫০ হাজার ৩০২ কোটি এবং স্বাস্থ্য খাতে ৪৩ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, চলচ্চিত্র, সংগীত, ক্রীড়া ও গ্রামীণ সংস্কৃতিভিত্তিক ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ বিকাশে বিশেষ তহবিল ও প্রণোদনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইআরএফের সেমিনারে তথ্যমন্ত্রী ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ছাড়া কোনো পথ নেই

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, পরিবর্তন ও মেরামত আমরা করবই। এটা ছাড়া কোনো পথ নেই। আমি যদি গণমাধ্যম সংস্কার, দুর্নীতি দমন ক্ষেত্রে কমিশন এবং প্রশাসন সংস্কারের কথা বলতে পারি। তাহলে ব্যাংকিং খাতের মতো এরকম গুরুত্বপূর্ণ খাত কেন সংস্কার করবো না। আমরা এটা করবোই।

আজ রোববার রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যালয়ে আয়োজিত ‘ব্যাংকখাতে সুশাসন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. মাসরুর রিয়াজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান জাহিদ এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ।

ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমকালের বিশেষ প্রতিনিধি ওবায়দুল্লাহ রনি ও প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার সানাউল্লাহ সাকিব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ব্যাংকিং খাতের সুশাসন কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়; দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ও রাষ্ট্র যদি সামগ্রিক সুশাসন নিশ্চিত করতে না পারে, তবে কেবল গণমাধ্যমের উপস্থিতিতে এই খাতে শৃঙ্খলা আসবে না। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় পরিসংখ্যানকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বা ‘পলিটিক্যাল রেটরিক’ হিসেবে ব্যবহারের জন্য তথ্য ম্যানিপুলেশন বা জালিয়াতি করা হয়েছিল বিগত আমলে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে ছিলো যেখানে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের প্রয়োজনে পরিসংখ্যান পরিবর্তন করে দিনের বেলাকে রাত আর রাতকে দিন হিসেবে প্রচার করছে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া তথ্য বা পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান এভাবে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

দেশের অর্থনীতির ঐতিহাসিক বিবর্তনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অর্থনীতির যে দ্বার উন্মোচন করেছিলেন, তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে বেসরকারি খাতের পরিধি বেড়েছে। পুঁজির উৎস হিসেবে তিনি কেবল ব্যাংকের ওপর নির্ভরশীল না থেকে শেয়ারবাজারকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, যারা ব্যাংকের আমানত আত্মসাৎ করেছে, সেই একই গোষ্ঠী শেয়ার বাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের অর্থও আত্মসাৎ করেছে।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামদুদুর রশীদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক দশকে এ খাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের মুখোমুখি হয়েছে। অন্যান্য অনেক ব্যাংকের মতো ইউসিবিও বর্তমানে আর্থিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এই চাপের প্রধান কারণ হলো সুশাসনের অভাব। তবে যেসব ব্যাংক সুশাসন নিশ্চিত করতে পেরেছে, তারা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে।

স্বপন বলেন, সুশাসনের তিনটি মৌলিক উপাদান রয়েছে। প্রথমত, জবাবদিহিতা। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা—উভয়কেই জবাবদিহিতার আওতায় থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্বচ্ছতা। ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা জনগণের সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। স্বচ্ছতার অভাবের কারণেই দীর্ঘদিন খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র গোপন ছিল। ২০২৩ সালে পুরো ব্যাংকিং খাতে রিপোর্ট করা খেলাপি ঋণের হার ছিল ১১ শতাংশ, যা ২০২৪ সালে ২৫ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৩৫ শতাংশে উন্নীত হয়। আমার মতে, এই বৃদ্ধি মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় প্রকৃত তথ্য স্বচ্ছভাবে প্রকাশের ফল। এটি এক বছরের অবনতির চিত্র নয়; বরং দীর্ঘদিনের বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন। তৃতীয়ত, নৈতিকতা। রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ যখন ব্যাংক ব্যবস্থাপনার ওপর প্রভাব বিস্তার করে, তখন নৈতিক স্খলন ঘটে। এর ফলে কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সম্ভব হয় না। ব্যাংকিং খাতের বর্তমান সংকট ও অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ এটিই।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনীতি আজকের যে অবস্থানে এসেছে অর্থায়নের ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা রেখেছে ব্যাংক খাত। এখানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদি অধিকাংশ অর্থায়ন আসে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। কারণ, দেশের পুঁজিবাজার চাহিদামতো পুঁজি জোগান দিতে পারেনি। আর বন্ড বাজারকেও আস্থার জায়গায় নেওয়া যায়নি।
ফলে ব্যাংকিং খাতের সুশাসনের সঙ্গে পুরো অর্থনীতির ভালো মন্দের বিষয়টি সম্পৃক্ত। একটি কার্যকর ও শক্তিশালী আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং নিয়মকানুনের কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। নানা কারণে দেশের ব্যাংক খাতের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক কমেছে। এখন কোনোভাবে যেন আরও তলানিতে না নামে সে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখা জরুরি।

সুশাসন নিশ্চিত করতে ও দুর্নীতি প্রতিরোধে গণমাধ্যম ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। যদিও যারা সরকারে থাকেন অনেক ক্ষেত্রে তারা গণমাধ্যমের ভূমিকাকে কখনো-কখনো খারাপ দৃষ্টিতে দেখেন। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা না করে তোয়াজ করে চলুক—এ রকম প্রত্যাশা করেন। আর, এ কারণে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের নানা চেষ্টা আমরা ইতঃপূর্বে দেখেছি।

এতে আর বলা হয়েছে, দেশের ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্তত ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান মানুষের জমানো টাকা সময় মতো ফেরত দিতে পারছে না। ২০১৯ সাল থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এই দূরবস্থা প্রথম সামনে আসে। ২০২১ সাল থেকে কয়েকটি ব্যাংকও মানুষের টাকা ফেরত দিতে পারছে না। বর্তমানে সম্মিলিত পাঁচ ইসলামী ব্যাংকসহ অন্তত ১৪টি ব্যাংক চাহিদা মতো আমানত ফেরত দিতে পারছে না। কোনোভাবে এ সংখ্যা আরও বাড়লে অর্থনীতিতে বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমানতকারীর আস্থা ধরে রাখার জন্য সুশাসন নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।

বাজেট অধিবেশনের জন্য জামায়াত এমপিদের প্রশিক্ষণ

বাজেটে অধিবেশনের জন্য দলীয় এমপিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর জোট। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক দুই দিনের এ কর্মশালা আজ শনিবার শেষ হয়েছে। এতে জামায়াত, এনসিপিসহ বিরোধী জোটের ৭৭ এমপি অংশগ্রহণ নেন।
জামায়াতের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাজেট বিষয়ে এমপিদের অর্থনৈতিক ও জননীতিবিষয়ক জ্ঞান ও সংসদীয় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই কর্মশালা হয়।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জোটের এমপিদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে সংসদ সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত ও বক্তব্য হতে হবে গণমুখী। আসন্ন বাজেট অধিবেশনে দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনে বলিষ্ঠ ও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মশালায় বক্তৃতা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তারা সংসদীয় রীতিনীতি ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় এমপিদের আরও দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

দুই দিনব্যাপী এ কর্মশালায় অর্থনীতিবিদ, বাজেট বিশ্লেষক ও নীতি-নির্ধারকগণ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ‘বাজেট, অর্থনীতি ও জননীতি: সংসদ সদস্যদের সক্ষমতা উন্নয়ন’ বিষয়ক বিশেষ সেশনগুলোতে দেশের বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনকল্যাণমূলক বাজেট প্রণয়নের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সংসদীয় দলের সভা বিরোধী আসনে উন্নয়ন তদারক করবে বিএনপির নারী এমপিরা

জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্যদের (এমপি) আসনে উন্নয়ন তদারকি এবং রাজনৈতিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিদের। গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় দলটির ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব বণ্টন করে দেওয়া হয়েছে।

সভা সূত্র সমকালকে এ তথ্য জানিয়েছে। সভায় অংশ নেওয়া একাধিক নেতা জানান, কোনো নারী এমপিকে একটি আসনে, কাউকে দুটি এবং কয়েকজনকে সর্বোচ্চ চারটি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজনকে পুরো জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যেখানে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির নেতারা এমপি হয়েছেন। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে বিদ্রোহী হয়ে জিতে আসা স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আসনেও দায়িত্ব হয়েছে সরকারদলীয় নারী এমপিকে।

সভা সূত্র জানায়, বিএনপির এমপিদের কোনো আসনের দায়িত্ব সংরক্ষিত আসনের কোনো এমপিকে দেওয়া হয়নি। চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের জেতা একমাত্র আসনেও দায়িত্ব হয়েছে। তবে বাকি ছয় স্বতন্ত্র এমপি; যারা বিএনপির সঙ্গে রয়েছেন বলে মনে করা হয়, তাদের আসনের দায়িত্ব কাউকে দেওয়া হয়নি। বিরোধী জোটের ১৩ নারী এমপিও এ রকম কোনো দায়িত্ব পাননি।
সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেন জামায়াতে ইসলামীর ৬৮, এনসিপির ৬, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ২, খেলাফত মজলিস ও ইসলামী আন্দোলনের একজন করে এমপি।

এদিকে গতকাল সংসদীয় দলের সভায় সভাপতিত্ব করা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাত মন্ত্রীর কাছে তাঁদের দপ্তরের ১০০ দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতে চান। এমপিদের নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হওয়া, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন। জনকল্যাণে সরকারের গৃহীত কর্মসূচির বাস্তবায়ন এবং সরকারের মধ্যে দল হারিয়ে না যায়, সে বিষয়ে এমপিদের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

সংসদ নেতা তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টায় সভা শুরু হয়। শেষ হয় সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। সভা পরিচালনা করেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি। সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, দলের ৩৬ নারী এমপিকে বিরোধী দলের ৭৯টি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের আসনের উন্নয়ন তদারকিতে বিএনপির নারী এমপিদের এসব এলাকার জন্য ডিও লেটার বা আধা সরকারি পত্র দিতে পারবেন বলে সভায় জানানো হয়। এ ছাড়া অন্যান্য কার্যক্রমেও নারী সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি সরকার। তবে বিএনপির কোনো নেতা এ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

বিরোধীদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া
নবম সংসদে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াত, এলডিপি এবং বিজেপির ৩৪টি আসনে ‘উন্নয়নের’ দায়িত্ব দিয়েছিলেন সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগের নারী এমপিদের। এই উদাহরণ দিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ গতকাল রাতে সমকালকে বলেন, বিএনপি প্রমাণ করল তারাও শেখ হাসিনার পথে হাঁটছে, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি করতে চাইছে।

২০০৯ সালে গঠিত নবম সংসদে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতের এমপি ছিলেন হামিদুর রহমান। ওই আসনে শেখ হাসিনা প্রথমে দায়িত্ব দেন সংরক্ষিত আসনের এমপি গায়িকা মমতাজ বেগমকে। পরে দায়িত্ব দেন মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী পিনু খানকে। এ তথ্য জানিয়ে হামিদুর রহমান আযাদ সমকালকে বলেন, এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল বিরোধী দলের এমপি যাতে কোনো কাজ করতে না পারেন। একজন এমপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত। তাঁর আসনে সংরিক্ষত আসনের নারী এমপিকে চাপিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, নির্বাচিত এমপিকে কাজ করতে না দেওয়া। এটি অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী চিন্তা। অতীতে এর ফল ভালো হয়নি, ভবিষ্যতেও ভালো হবে না।

সরকারি দলের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামও। তিনি সমকালকে বলেন, বিরোধী দলকে সরকার সব জায়গায় দমন করছে, বিরোধীদের আসনের দায়িত্ব সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া তারই ধারবাহিকতা। বিরোধীদলীয় এমপিরা কোনো উন্নয়ন কাজ করলেও প্রচার করবে বিএনপির নারী এমপিরা করেছেন।

নাহিদ আরও বলেন, এতে নির্বাচনী এলাকায় অনর্থক সংঘাত তৈরি হবে। শুধু বিরোধীদলীয় এমপির সঙ্গে নয়, বিএনপির যারা স্থানীয় নেতৃত্ব রয়েছে, তাদের সঙ্গেও নারী এমপিদের বিরোধ তৈরি হবে। আর সরকারের উদ্দেশ্য যদি মহৎ থাকত, তাহলে বিরোধী দলের নারী এমপিদেরও আসন বণ্টন করে দেওয়া হতো। কিন্তু তারেক রহমানের বিএনপি শেখ হাসিনার দেখানো পথেই চলছে।

কোন আসনে কে দায়িত্বে
ঢাকা-১২, ১৫ ও ১৬ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিএনপির নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। তিনটি আসনই জামায়াতের। এর মধ্য ঢাকা-১৫ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঢাকা-১২ আসনের এমপি জামায়াতের নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। ঢাকা-১৬ আসনে দলটির এমপি হলেন কর্নেল (অব.) আবদুল বাতেন।

ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তাঁর আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শাম্মী আক্তারকে। পাশাপাশি তিনি সিলেট-৫ আসনের দায়িত্বও পালন করবেন। এই আসনের এমপি খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নাদিয়া পাঠান পাপনকে। রুমিন বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র নির্বাচন করে জয়ী হন।

পাবনা-১, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে আরিফা সুলতানা রুমাকে। সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বীথিকা বিনতে হোসাইনকে। তাঁর বাড়ি লক্ষ্মীপুরে। তিনি লক্ষীপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।

পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদীর আসনে সেলিনা সুলতানা জুঁইকে, আর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংরক্ষিত আসনের এমপি সেলিমা রহমানকে বরগুনা-১ ও পটুয়াখালী-৩ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বরগুনা-১ আসনে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সংসদ সদস্য মুফতি মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ এবং পটুয়াখালী-৩ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ রয়েছেন।

জামায়াতের এমপি থাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১, ২ ও ৩ আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সানজিদা ইয়াসমিন তুলিকে। তিনি গুমের শিকার পরিবারের সংগঠন মায়ের ডাকের উদ্যোক্তা।

সেলিনা সুলতানা নিশিতাকে দেওয়া হয়েছে গাজীপুর-৪ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের দায়িত্ব। ময়মনসিংহ ২ ও ৪ আসনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিলোফার চৌধুরী মনিকে। শওকত আরা ঊর্মিকে মেহেরপুর-১ ও ২ আসনে, মাহমুদা হাবিবাকে রাজশাহী-১ ও ৪ আসনে, রাশেদা বেগম হীরাকে কুমিল্লা–৪ ও ১১ আসনে, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদকে যশোর-১, ২, ৪ ও ৫ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানাকে ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নিপুণ রায় চৌধুরীকে নড়াইল ও মাগুরা জেলায়, জেবা আমিন ও ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাকে রংপুর জেলার ছয়টি আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নেওয়াজ হালিমা আরলিকে চুয়াডাঙ্গা, ফরিদা ইয়াসমীনকে কুষ্টিয়া-৩ আসনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রেহেনা আক্তারকে নীলফামারী, ফাহমিদা হককে খুলনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সাত মন্ত্রীকে জবাবদিহির আওতায় আনলেন প্রধানমন্ত্রী 
বাজেট অধিবেশন শুরুর আগের দিন অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় সরকারের ১০০ দিনে মন্ত্রীরা কী কী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছেন, তা জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। সাত মন্ত্রী নিজেদের দপ্তরের কর্মকাণ্ডের হিসাব দেন। পরে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য সংসদ সদস্যদেরও বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। বৈঠকে উপস্থিত সূত্র জানায়, সাত মন্ত্রণালয় হলো স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; আইন, বিচার ও সংসদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, সভায় সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, স্পর্শকাতর কয়েকটি মামলায় দ্রুততম সময়ে আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, মাদক ও জুয়া বন্ধে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করা হবে বলে জানান আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘মানবাধিকার কমিশন ও গুম কমিশন নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করেছি। আমাদের পর্যালোচনায় বিদেশিরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। মানবাধিকার ও গুম কমিশনকে কার্যকর কমিশনে পরিণত করা হবে। এ জন্য এ দুই কমিশন নিয়ে আমরা দ্রুতই সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারব।’

সভায় শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে নানা প্রশ্ন করেন দলের সংসদ সদস্যরা। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের পেনশন, চলমান মিড ডে মিল কর্মসূচি যাতে সঠিকভাবে সারাদেশে বাস্তবায়িত হয়– এসব বিষয় মন্ত্রীর নজরে আনা হয়। মিড ডে মিলের খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন সংসদ সদস্যরা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মিড ডে মিলের বিষয়ে আগে যে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামনে খাবারের মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সভায় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পরিবর্তিত পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। বাজেট প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বাজেট হবে জনবান্ধন ও ব্যবসাবান্ধব। বাজেটে সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আশ্বস্ত হবে। মানুষের ওপর নতুন করে কোনো দুর্ভোগ তৈরি করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা বিবেচনায় রাখা হবে।

জরিমানার অর্থ ভিকটিমের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড ভিকটিমের পরিবারের আইনগত উত্তরাধিকারীরা পাবেন। ক্ষতিপূরণ না দিলে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভিকটিমের পরিবারের আইনগত উত্তরাধিকারীদের দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে আসামি সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। এরপর ৮টা ৫০ মিনিটে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে আনা হয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানাকে। এ সময় তাঁদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় নেওয়া হয়। রায় ঘোষণার আগে দুজনকেই এজলাসে তোলা হয়। বেলা ১১টার পর রায় পড়া শুরু করেন বিচারক।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। অতিরিক্ত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও তৎপর থাকতে দেখা গেছে।

পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যায় আসামি সোহেল-স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আজ রোববার আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে দুজনকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় প্রদান করা হয়।

এদিন বেলা ১১টা পাঁচ মিনিট থেকে ১১টা ৩৮ মিনিট পর্যন্ত রায় পড়েন বিচারক। রায় ঘোষণার পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে শুরু করেন দুই আসামি।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঢাকা মহানগর আদালতে আনা হয়। পরে দুই আসামিকে এজলাসে তোলা হয়।

মামলার রায়কে ঘিরে আদালতপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এসময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার আসামিদের উপস্থিতিতে এই দিন ঠিক করেন বিচারক। হত্যাকাণ্ডের ১৯ দিনের মাথায় এ মামলার রায় ঘোষণা করলেন আদালত।

এ সময় রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলার বিশেষ পিপি আজিজুর রহমান দুলু, আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ, ঢাকা মহানগর জজ আদালতের পিপি ওমর ফারুক ফারুকীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্কুল পড়ুয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল রানা শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেন। এরপর গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন। এরপর পুলিশ স্বপ্নাকে আটক করে।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দুইজনকে আসামি করে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করেন। পরে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোহেল রানা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেন।

পাঁচ দিন তদন্ত করে গত ২৪ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। সেখানে সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আসামি করা হয়।

আলোচিত এ মামলার বিচার দ্রুত শেষ করতে অভিযোগপত্র জমার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত করে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক। এরপর একদিনেই ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়। বুধবার আত্মপক্ষ সমর্থন এবং বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে আসে।

কক্সবাজারে পাহাড় ধসে ২ শ্রমিকের মৃত্যু

কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় একটি ব্রিজ নির্মাণকালে পাহাড়ের মাটিচাপায় দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত দুই শ্রমিক হলেন- চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার মোহাম্মদ ইলিয়াস ও মোহাম্মদ রাকিব। আহত শ্রমিক মোহাম্মদ শাহজাহানও একই উপজেলার বাসিন্দা।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোর্শেদ হোসেন জানান, দরিয়ানগরে অবস্থিত ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাতায়াতের সড়কে পাহাড়ি পানি চলাচলের জায়গায় একটি ব্রিজ নির্মাণকাজ করছে লাকি এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ওখানে পাহাড়ের পাশের মাটি কাটা হয়েছে। কাজ করার সময় পাহাড়ের মাটি ভেঙে ৩ শ্রমিক মাটিচাপা পড়েন। অন্য শ্রমিকরা ৩ জনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দল ঘটনাস্থলে যায়।

কালভার্টটির নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকি এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি আবদুর রহিম মজুমদার বলেন, ‘শ্রমিকেরা নিরাপত্তাবিধি মেনেই কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাটিধসে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিরা সবাই প্রায় এক মাস ধরে এই প্রকল্পে কাজ করে আসছেন।’

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সুবক্তগীন মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘গুরুতর অবস্থায় তিন শ্রমিককে সদর হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে দুজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা গেছেন।’

কক্সবাজার সদর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হিমেল রায় বলেন, ‘নিহত ব্যক্তিদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

লক্ষ্মীপুরে পুকুর থেকে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী যুবকের মরদেহ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সকালে নাশতা করে বের হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুকুরে ভাসতে দেখা গেল আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃতদেহ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের তোরাবগঞ্জ বাজারসংলগ্ন সেলিম চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের পুকুর থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হলেও পরিবার-সংসারের দায়িত্ব নিয়ে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, নিহত আরিফ কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লুতু মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা মাওলানা আক্তার হোসেনের ছেলে। তিনি স্থানীয় তোরাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে চকলেট ও চানাচুরের ভ্রাম্যমাণ দোকান পরিচালনা করতেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট সংসার।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আরিফ হোসেন মানসিকভাবে কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ও সহজ-সরল প্রকৃতির ছিলেন। প্রতিদিনের মতো ঘটনার দিন সকালেও তিনি তোরাবগঞ্জ বাজারে এসে একটি দোকানে নাশতা করেন। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তাঁর ব্যবহৃত লুঙ্গি, জুতা ও গেঞ্জি পড়ে থাকতে দেখে সন্দেহ করেন। খোঁজ নিতে গিয়ে পুকুরে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখেন তাঁরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের মামা সুলতান আহাম্মদ টিপু জানান, আরিফ দীর্ঘদিন ধরে মৃগী রোগে (এপিলেপ্সি) আক্রান্ত ছিলেন এবং নিয়মিত ওষুধ সেবন করতেন। বুধবার রাতেও তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন। প্রতিবন্ধী হলেও তিনি সংসারের প্রতি অত্যন্ত দায়িত্বশীল ছিলেন। তবে কী কারণে তিনি পুকুরে গিয়েছিলেন বা কীভাবে এ ঘটনা ঘটেছে, তা পরিবারের কারও জানা নেই।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করছে।’

নেতানিয়াহু ভুল করছেন, ট্রাম্পকে ‘না’ বলুন: ইসরায়েলি মন্ত্রী

লেবাননের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলের নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তাঁর মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘না’ বলার সাহস রাখাটা জরুরি। তা না হলে ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হিজবুল্লাহকে মোকাবিলা করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় বুধবার যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। কট্টর ডানপন্থী বেন-গভির এই সিদ্ধান্তের সমালোচনায় এক্সে লিখেছেন, ‘উপদেষ্টাদের অলীক কল্পনা প্রধানমন্ত্রীকে (বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু) ভুল সিদ্ধান্তের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।’

যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে। তবে বেন-গভির বলছেন, এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। লেবানন সরকারকে বিশ্বাস করা যায় না। হিজবুল্লাহ লিতানি নদীর দক্ষিণাঞ্চল ছাড়েনি। লেবাননের সেনাবাহিনীর পক্ষে তাদের সেখান থেকে সরানো কোনোভাবেই সম্ভব নয়। লেবানন রাষ্ট্রটাই হিজবুল্লাহর অংশীদার।

নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে বেন-গভির আরও লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিত ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বলা- আমরা আপনাকে পছন্দ করি। কিন্তু ইসরায়েল একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র।’

ইসরায়েলের নিরাপত্তামন্ত্রী আরও লিখেছেন, এমন কিছু মুহূর্ত আসে যখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকেও ‘না’ বলার সাহস রাখতে হয়। এখনই সেটা না করা হলে ভবিষ্যতে হিজবুল্লাহ আরও শক্তিশালী ও বিপজ্জনক হয়ে সামনে আসবে।

হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্যের পর এবার রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হলো পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং।

অভিযোগপত্রে অভিযোগকারীর দাবি, ‌মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জনমনে ঘৃণা তৈরির অপচেষ্টা করেছেন। এছাড়া, বাংলাদেশের একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভারত সরকার ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জড়িয়ে তাঁর মন্তব্য আন্তর্জাতিক স্তরে দেশের সম্মান ক্ষুণ্ণ করেছে এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে কূটনৈতিক সংকট তৈরি করতে পারে। এই মন্তব্য দুই দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই মমতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১৫২, ১৫৩, ১৫৩ (এ), ১৯১, ১৯২, ১৯৬, ৩৫১, ৩৫২, ৩৫৩সহ একাধিক ধারায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বিএনএস ১৫২ ধারা হলো- ভারতের নতুন ফৌজদারি আইন, যা ভারতের সার্বভৌমত্ব, একতা ও অখণ্ডতাকে বিপন্নকারী বা ক্ষুণ্ণকারী কার্যকলাপকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।বিএনএস ১৫৩ ধারা অনুযায়ী, ভারত সরকারের সাথে শান্তিতে থাকা কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা, যুদ্ধ করার চেষ্টা করা বা যুদ্ধে সহায়তা করা একটি গুরুতর অপরাধ। বিএনএস ১৫৩ ধারা অনুযায়ী- ধর্ম, বর্ণ, ভাষা বা জন্মস্থানের ভিত্তিতে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা বা বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সম্প্রীতি নষ্ট করার অপরাধে মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আইনজীবী রিংকু চ্যাটার্জি সিং বলেছেন, অবিলম্বে মমতার এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তিনি জানিয়েছেন, ৮ জুন হাইকোর্ট খুললেই সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবিতে মামলা করবেন।

প্রসঙ্গত, বিধানসভার নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর মঙ্গলবার প্রথম রাজনৈতিক কর্মসূচিতেই ওসমান হাদি হত্যা প্রসঙ্গ টেনে বিস্ফোরক দাবি করেন মমতা। রাজনৈতিক সভা থেকে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন মমতা। মমতার দাবি- হাদি হত্যাকারীদের রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন পান মমতা। তাকে বলা হয়, বিষয়টি যেন বাইরে না জানানো হয়।

মমতা আরও দাবি করে বলেন , ‘বাংলাদেশের একজন বড় খুনিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল, যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না। আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হলো- ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব। কিন্তু তারপর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজে আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন, আপনি রাজ্য পুলিশকে জানিয়ে দিন এটা যেন বাইরে না যায়। কারণ এটা দেশের ব্যাপার।’

অমিত শাহকে মমতার প্রশ্ন, ‘কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়ে ছিল? আজকে সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভান্ডার। তথ্য ভান্ডার।’

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘কিন্তু এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচার শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলবো না।’